বিশেষ-সংবাদ
কুমিল্লা বোর্ডের ৮ কলেজে নেই কোনো এইচএসসি পরীক্ষার্থী
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষায় ৮টি কলেজ থেকে একজন শিক্ষার্থীও অংশ নিতে পারছে না। এর মধ্যে ৪টি কলেজে কোনো শিক্ষার্থী নিবন্ধনই করেনি, বাকি ৪টি কলেজে নিবন্ধিত ৩৫ জন শিক্ষার্থী চূড়ান্ত পরীক্ষার জন্য উত্তীর্ণ হতে পারেনি। বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন শিক্ষা সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা মাধ্যমিক ও উচ্চ মাধ্যমিক শিক্ষা বোর্ড সূত্রে জানা গেছে, পরীক্ষার্থী শূন্য এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে চারটি ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার, তিনটি কুমিল্লা জেলার এবং একটি ফেনী জেলার। কলেজগুলো হলো— ফেনীর নোবেল কলেজ, কুমিল্লার বেগম জহুরা মহিলা কলেজ, ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ ও সিসিএন মডেল কলেজ, ব্রাহ্মণবাড়িয়ার সাতগাঁও আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজ, কৃষ্ণনগর আব্দুল জব্বার স্কুল অ্যান্ড কলেজ, তিতাস মডেল কলেজ এবং উলুকান্দি কলেজ।
এ বছর কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের অধীনে কুমিল্লা, নোয়াখালী, ফেনী, ব্রাহ্মণবাড়িয়া, চাঁদপুর ও লক্ষ্মীপুর জেলার ৪৬৪টি শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান থেকে মোট ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিচ্ছে। এর মধ্যে ছাত্রী ৫৭ হাজার ১৯৬ জন এবং ছাত্র ৩৭ হাজার ৬০৬ জন। অর্থাৎ ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা ছাত্রদের তুলনায় ১৯ হাজার ৫৯০ জন বেশি।
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের উপ-পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক (উচ্চ মাধ্যমিক) মো. সালাহউদ্দিন বলেন, ‘এ বছর বোর্ডের অধীনে ৪৬৪টি প্রতিষ্ঠান থেকে ৯৪ হাজার ৮০২ জন শিক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করছে। তবে আটটি প্রতিষ্ঠানের স্বীকৃতি থাকলেও কোনো পরীক্ষার্থী পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না। এছাড়া গত বছর শূন্য থেকে ৫ শতাংশ পাসের হার থাকা ১৩টি প্রতিষ্ঠানের কলেজ শাখার স্বীকৃতি বাতিল করা হয়েছে, ফলে সেগুলোও এ বছর পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না।’
তিনি আরও বলেন, ‘প্রতি বছরের মতো এবারও ছাত্রী পরীক্ষার্থীর সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এটি নারী শিক্ষার অগ্রগতির ইতিবাচক দিক হলেও ছাত্রদের সংখ্যা তুলনামূলক কম হওয়ার কারণ অনুসন্ধান করা হচ্ছে।’
কুমিল্লার ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার ষাইটশালা আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয় অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ শিবু চন্দ্র সরকার জানান, ‘২০১২ সাল থেকে প্রতিষ্ঠানটিতে কলেজ শাখা চালু রয়েছে। কিন্তু এবারই প্রথম কোনো শিক্ষার্থী এইচএসসি পরীক্ষায় অংশ নিতে পারছে না।
‘তিনি বলেন, গত কয়েক বছর ধরে শিক্ষার্থীর সংখ্যা কমে আসছিল। এ বছর ১০ জন শিক্ষার্থী একাদশ শ্রেণিতে ভর্তি হয়েছিল, কিন্তু তারা কেউই পরীক্ষার জন্য যোগ্যতা অর্জন করতে পারেনি। আর্থিক সংকট ও শিক্ষক সংকটের কারণে নতুন শিক্ষার্থী ভর্তির প্রচারণাও যথাযথভাবে চালানো সম্ভব হয়নি।’
কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের সাবেক চেয়ারম্যান অধ্যাপক মো. জামাল নাসের বলেন, অনেক ক্ষেত্রে উচ্চ বিদ্যালয়ের সঙ্গে কলেজ শাখা চালু করা হলে তা কার্যকরভাবে পরিচালনা করা সম্ভব হয় না। এর ফলে আর্থিক সংকট তৈরি হয়, শিক্ষার মান কমে এবং প্রতিষ্ঠানের সুনাম ক্ষুণ্ন হয়। পরিকল্পিতভাবে এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামো নিশ্চিত করে আলাদা কলেজ প্রতিষ্ঠা ও পরিচালনা করা হলে এ ধরনের পরিস্থিতি এড়ানো সম্ভব।
এ বিষয়ে কুমিল্লা শিক্ষা বোর্ডের পরীক্ষা নিয়ন্ত্রক অধ্যাপক ড. মো. শফিকুল ইসলাম বলেন, ‘যেসব কলেজ থেকে কোনো পরীক্ষার্থী অংশ নিতে পারেনি, তাদের বিষয়ে বিস্তারিত তদন্ত করা হবে। কেন এমন পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে, তা খতিয়ে দেখা হবে। পাশাপাশি প্রতিষ্ঠানগুলোর মানোন্নয়ন কিংবা প্রয়োজনীয় প্রশাসনিক ব্যবস্থা গ্রহণের সুযোগ আছে কি না, সেটিও পর্যালোচনা করা হবে।’
১৬ ঘণ্টা আগে
বাজারে আসছে হাঁড়িভাঙা আম, উত্তরাঞ্চলে জমে উঠেছে কোটি টাকার বাণিজ্য
উত্তরাঞ্চলের খ্যাতিমান সুস্বাদু ও রসালো হাঁড়িভাঙা আম এবার আগেভাগেই বাজারে এসেছে। ভিন্ন স্বাদ ও গুণগত মানের কারণে ভোক্তাদের কাছে জনপ্রিয় এ আম কিনতে হাট-বাজারে দেখা যাচ্ছে ক্রেতাদের উপচেপড়া ভিড়। দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসছেন পাইকাররা। ভালো দাম পাওয়ায় হাসি ফুটেছে আমচাষিদের মুখে।
রংপুরের মিঠাপুকুর উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকাজুড়ে এখন সারি সারি আমগাছে ঝুলছে থোকায় থোকায় হাঁড়িভাঙা আম। একসময় অভাব-অনটনে থাকা অনেক কৃষকের জীবন বদলে দিয়েছে এই আম। হাঁড়িভাঙা আম চাষকে ঘিরে উত্তরাঞ্চলের গ্রামীণ অর্থনীতিতে এসেছে নতুন গতি।
রংপুরের ভৌগোলিক নির্দেশক (জিআই) পণ্যখ্যাত হাঁড়িভাঙা আমের আনুষ্ঠানিক বাজারজাতকরণ সাধারণত ২০ জুন শুরু হলেও এবার তীব্র তাপপ্রবাহের কারণে চাষিরা আগেভাগেই আম সংগ্রহ শুরু করেন। সোমবার (১৫ জুন) মিঠাপুকুর উপজেলার পদাগঞ্জ এলাকার একটি বাগান থেকে আম পেড়ে আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন। এরপরই পুরোদমে শুরু হয় আম সংগ্রহ ও বিপণন।
শুধু পদাগঞ্জ হাট নয়, হাঁড়িভাঙা আমের প্রধান উৎপাদন এলাকা খোড়াগাছ, পাইকারহাট, ময়েনপুর, চ্যাংমারী, বালুয়া মাসুমপুর, কুতুবপুর, গোপালপুর, লোহানীপাড়া, রামনাথপুর ও কালুপাড়াসহ বিভিন্ন এলাকায় এখন আম বিক্রির ধুম চলছে। হাট-বাজারের চিত্র দেখে যে কারও মনে হতে পারে, পুরো এলাকা যেন হাঁড়িভাঙা আমের রাজ্যে পরিণত হয়েছে।
২ দিন আগে
এক ঘণ্টার বৃষ্টিতেই পানির নিচে বিদ্যালয়, ব্যাহত হচ্ছে পাঠদান
মাত্র এক ঘণ্টার টানা বৃষ্টিতেই সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার ৬৭ নম্বর গোবিন্দগঞ্জ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে তীব্র জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হচ্ছে। বিদ্যালয়ের মাঠ, চলাচলের পথ এবং শ্রেণিকক্ষের আশপাশ পানিতে তলিয়ে যাওয়ায় ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক পাঠদান কার্যক্রম। দীর্ঘদিনের এ সমস্যায় শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও শিক্ষকদের মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রতিষ্ঠানটিতে ৪৬৭ জন শিক্ষার্থী অধ্যয়ন করছে। তাদের পাঠদানের দায়িত্বে রয়েছেন একজন প্রধান শিক্ষক ও নয়জন সহকারী শিক্ষক-শিক্ষিকা। কিন্তু সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয় প্রাঙ্গণে পানি জমে যাওয়ায় শিক্ষার্থীদের বিদ্যালয়ে আসা-যাওয়া এবং শ্রেণিকক্ষে উপস্থিত হওয়া কঠিন হয়ে পড়ে।
সম্প্রতি সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের মাঠজুড়ে জমে আছে বৃষ্টির পানি। পানির সঙ্গে কাদা ও আবর্জনা মিশে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশের সৃষ্টি হয়েছে। অনেক শিক্ষার্থীকে জুতা হাতে নিয়ে কাদা মাড়িয়ে বিদ্যালয়ে প্রবেশ করতে দেখা যায়। কেউ কেউ ভেজা কাপড় নিয়েই শ্রেণিকক্ষে বসতে বাধ্য হচ্ছে।
অভিভাবক ও স্থানীয়দের অভিযোগ, বিদ্যালয়ে কার্যকর পানি নিষ্কাশন ব্যবস্থা না থাকায় সামান্য বৃষ্টিতেই জলাবদ্ধতার সৃষ্টি হয়। ফলে শিক্ষার্থীদের ভোগান্তির পাশাপাশি পানিবাহিত রোগ, চর্মরোগ এবং মশাবাহিত রোগের ঝুঁকিও বাড়ছে।
অভিভাবক নিলিমা নাসরিন বলেন, ‘আমার মেয়ে প্রথম শ্রেণিতে পড়ে। বৃষ্টি হলে সে স্কুলে যেতে চায় না। এক ঘণ্টা বৃষ্টি হলেই ক্লাসরুমে পানি ঢুকে যায়। এতে শিশুদের পড়াশোনার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে।’
স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এলাকার গুরুত্বপূর্ণ এ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানটি বছরের পর বছর ধরে একই সমস্যায় ভুগছে। অপর্যাপ্ত ড্রেনেজ ব্যবস্থা এবং বিদ্যালয়ের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করার কারণে পরিস্থিতি আরও খারাপ হয়েছে। তারা দ্রুত পানি নিষ্কাশনের ব্যবস্থা, স্থায়ী ড্রেন নির্মাণ এবং বিদ্যালয়ের মাঠ উঁচুকরণের দাবি জানিয়েছেন।
বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মোস্তাক আহমদ বলেন, ‘বৃষ্টি হলেই শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশ করে। এতে পাঠদান কার্যক্রম পরিচালনা করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে। বিদ্যালয়ের চারপাশে ময়লা-আবর্জনা ফেলে ভরাট করার কারণেও সমস্যা আরও বেড়েছে।’
উপজেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মোহাম্মদ শাহজাহান আহমদ বলেন, ‘বৃষ্টি হলে বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষে পানি প্রবেশের বিষয়টি শুনেছি। ঘটনাটি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।’
ছাতক উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মহি উদ্দিন বলেন, ‘বিষয়টি সম্পর্কে খোঁজখবর নিয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সঙ্গে আলোচনা করে সমস্যা সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে।’
এদিকে, সচেতন মহল ও এলাকাবাসীর দাবি, শিশুদের জন্য নিরাপদ, স্বাস্থ্যসম্মত ও শিক্ষাবান্ধব পরিবেশ নিশ্চিত করতে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন। তাদের মতে, জলাবদ্ধতা নিরসনে স্থায়ী সমাধান না হলে শিক্ষার্থীদের পাঠদান কার্যক্রম এবং স্বাস্থ্যঝুঁকি উভয়ই আরও বাড়বে।
৩ দিন আগে
পাঁচ বছরেও শেষ হয়নি সেতুর কাজ, দুর্ভোগে পটুয়াখালীর আট গ্রামের ১০ হাজার মানুষ
পটুয়াখালীর সদর উপজেলার লোহালিয়া ইউনিয়নের কুড়িপাইকা গ্রামের সঙ্গে ভুরিয়া ইউনিয়নের যোগাযোগের একমাত্র সেতুর নির্মাণকাজ শুরু হয়েছিল ২০২১ সালে। স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) উদ্যোগে প্রায় সাড়ে তিন কোটি টাকা ব্যয়ে ২৪ মিটার দীর্ঘ আরসিসি গার্ডার সেতুটি নির্মাণের কাজ শুরু হলেও দীর্ঘ পাঁচ বছরেও তা শেষ হয়নি। মূল কাঠামোর অধিকাংশ কাজ সম্পন্ন হলেও সংযোগ সড়ক নির্মাণ না হওয়ায় সেতুটি এখনো ব্যবহার উপযোগী হয়নি। ফলে আশপাশের অন্তত আট গ্রামের প্রায় ১০ হাজার মানুষ প্রতিদিন চরম দুর্ভোগের শিকার হচ্ছেন।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সেতুর দুই প্রান্তে সংযোগ সড়ক না থাকায় কাঠের অস্থায়ী মই ব্যবহার করে ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করতে হচ্ছে। বিশেষ করে বয়স্ক ব্যক্তি, নারী, শিশু ও রোগীদের জন্য এই পথ অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠেছে। প্রায়ই ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা।
কুড়িপাইকা গ্রামের বাসিন্দা রমজান আলী বলেন, ‘আমি অসুস্থ হয়ে চিকিৎসার জন্য পটুয়াখালী সদর হাসপাতালে যাচ্ছিলাম। ব্রিজে উঠতে গিয়ে কাঠের মই থেকে পা পিছলে পড়ে যাই। ভাগ্য ভালো বড় ধরনের আঘাত পাইনি। কিন্তু সেদিন আর হাসপাতালে যেতে পারিনি। আমাদের মতো বৃদ্ধ মানুষের জন্য এই ব্রিজ পার হওয়া খুবই কষ্টকর।’
স্থানীয় বাসিন্দা মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, ‘ব্রিজের কাজ শুরু হওয়ার পর আমরা ভেবেছিলাম কয়েক বছরের মধ্যেই যোগাযোগ ব্যবস্থার উন্নতি হবে। কিন্তু পাঁচ বছরেও কাজ শেষ হয়নি। এখন ব্রিজ আছে, কিন্তু ব্যবহার করা যায় না। এতে মানুষের দুর্ভোগ আরও বেড়েছে।’
এলাকাবাসী জানান, কুড়িপাইকা, ভুরিয়া, পশ্চিম কুড়িপাইকা, পূর্ব কুড়িপাইকা, কমলাপুর, সৌলাসহ আশপাশের অন্তত আট গ্রামের মানুষ প্রতিদিন এই পথ ব্যবহার করেন। শিক্ষার্থী, কৃষক, জেলে, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও চাকরিজীবীদের জন্য এটি অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ যোগাযোগ মাধ্যম।
কুড়িপাইকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী তানিয়া আক্তার বলে, ‘প্রতিদিন স্কুলে যেতে ব্রিজ পার হতে হয়। মই বেয়ে উঠানামা করতে ভয় লাগে। বৃষ্টি হলে আরও বেশি সমস্যা হয়। অনেক সময় স্কুলে যেতে দেরি হয়ে যায়।’
একজন অভিভাবক আব্দুল মালেক বলেন, ‘ছোট ছোট ছেলেমেয়েরা ঝুঁকি নিয়ে স্কুলে যায়। আমরা সব সময় আতঙ্কে থাকি। কখন যে কোনো দুর্ঘটনা ঘটে যায়, সেই ভয় কাজ করে।’
৪ দিন আগে
রংপুর বিভাগের ৮ জেলায় মাত্র ৫ ডুবুরি, এক মাসে পানিতে ডুবে অর্ধশতাধিক প্রাণহানি
নদ-নদী, পুকুর, খাল-বিলবেষ্টিত রংপুর বিভাগের আটটি জেলার জন্য ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের ডুবুরি রয়েছেন মাত্র পাঁচজন। বিশাল এ অঞ্চলের জন্য এ সংখ্যা শুধু অপ্রতুলই নয়, বরং উদ্বেগজনক বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
সবচেয়ে বিস্ময়কর বিষয় হলো, বিভাগের কোনো জেলা বা উপজেলা পর্যায়ে ডুবুরির নির্দিষ্ট কোনো পদ নেই। ফলে পানিতে ডুবে কেউ নিখোঁজ হলে রংপুর বিভাগীয় কার্যালয়ের এই পাঁচ ডুবুরির ওপরই নির্ভর করতে হয় পুরো বিভাগের মানুষকে।
সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলো বলছে, চলতি বছরের বর্ষা মৌসুম শুরুর পর থেকে পানিতে ডুবে মৃত্যুর ঘটনা আশঙ্কাজনকভাবে বেড়েছে। গত এক মাসেই রংপুর বিভাগের আট জেলায় অর্ধশতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। কিন্তু ডুবুরি সংকটের কারণে অধিকাংশ ক্ষেত্রেই উদ্ধার অভিযান শুরু হওয়ার আগেই নিভে যাচ্ছে বেঁচে থাকার সম্ভাবনা।
রংপুর বিভাগের অন্তর্ভুক্ত রংপুর, গাইবান্ধা, কুড়িগ্রাম, লালমনিরহাট, নীলফামারী, দিনাজপুর, পঞ্চগড় ও ঠাকুরগাঁও—এই আটটি জেলা ভৌগোলিকভাবে নদীমাতৃক অঞ্চল। বর্ষা মৌসুমে নদীর পানি বৃদ্ধি, নৌকাডুবি, বন্যা ও বিভিন্ন জলাশয়ে দুর্ঘটনার ঝুঁকি এখানে বেশি। কিন্তু সেই ঝুঁকির তুলনায় উদ্ধার সক্ষমতা অত্যন্ত সীমিত।
ফায়ার সার্ভিস কর্মকর্তারা বলছেন, পঞ্চগড় কিংবা ঠাকুরগাঁওয়ের মতো দূরবর্তী জেলা থেকে জরুরি কল এলে রংপুর থেকে ঘটনাস্থলে পৌঁছাতে দুই থেকে আড়াই ঘণ্টা সময় লেগে যায়। ততক্ষণে নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা প্রায় শেষ হয়ে যায়। ঘটনাস্থলে পৌঁছে স্থানীয় মানুষের ক্ষোভের মুখেও পড়তে হয় উদ্ধারকর্মীদের।
রংপুর ফায়ার সার্ভিস সূত্রে জানা গেছে, চলতি বছরের জানুয়ারি থেকে ৬ জুন পর্যন্ত ২২টি উদ্ধার-সংক্রান্ত কল পেয়েছে বিভাগীয় ডুবুরি দল। এসব ঘটনায় পানিতে ডুবে যাওয়া ২৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তবে বাস্তবে পানিতে ডুবে মৃত্যুর সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি।
গত এক মাসে বিভাগের বিভিন্ন জেলায় একের পর এক মর্মান্তিক ঘটনা ঘটেছে। ৩ মে দিনাজপুরের ঘোড়াঘাটে নীরব নামে তিন বছরের এক শিশু, ১২ মে লালমনিরহাটের পাটগ্রামে চার বছর বয়সী এক শিশু, ১৬ মে তিস্তা নদীতে ডুবে দুই ভাই, ২০ মে দিনাজপুরের ফুলবাড়ীতে সাবিয়া জান্নাত (৬) ও সিয়াম (৪), ২৭ মে গঙ্গাচড়ায় রুশা মনি (১৫) ও তার ভাই সাইফ (৫), ২৮ মে ঠাকুরগাঁওয়ের রানীশংকৈলে মোমিন আলী, ২৯ মে রংপুরের তারাগঞ্জে অহিদ ইসলাম (১৫) ও মাসুদ রানা (১৬), ৩ জুন দিনাজপুরের খানসামায় আত্রাই নদীতে মান্না ইসলাম (৪৫) ও সাদ্দাম হোসেন (৩২), ৩১ মে কুড়িগ্রামের রাজিবপুরে চার বছরের এক শিশু, ১ জুন গাইবান্ধার সুন্দরগঞ্জে সৃজন কুমার (৬) ও বৃন্দা রানী (৫) এবং ৬ জুন সাদুল্লাপুরে সিনথিয়া আক্তার (১১) পানিতে ডুবে মারা যায়।
এছাড়া ৩ জুন থেকে ৬ জুনের মধ্যে রংপুরের পীরগাছায় ছয় শিশু, ৫ জুন ঘাঘট নদীতে নেমে বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থী, ৭ জুন পঞ্চগড় সদর উপজেলায় দুই মাদরাসাছাত্র এবং একই দিনে নীলফামারীর ডিমলায় রুপাইয়া (৪) ও আশফিকা (৪) নামে দুই চাচাতো বোনের মৃত্যু হয়। সর্বশেষ ৭ জুন লালমনিরহাটে ধরলা নদীতে গোসল করতে নেমে নিখোঁজ দুই ভাইয়ের মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
ফায়ার সার্ভিস সূত্র জানায়, ১৯৯০ সালে ২৫ সদস্যের একটি ডুবুরি ইউনিট গঠনের মাধ্যমে উদ্ধার কার্যক্রম শুরু হয়। পরে তাদের দেশের বিভিন্ন ফায়ার সার্ভিস স্টেশনে পদায়ন করা হয়। সে সময় রংপুরে দুইজন ডুবুরি দায়িত্ব পান। প্রায় তিন দশক দুই ডুবুরি দিয়ে কাজ চালানোর পর ২০১৯ সালে আরও তিনজন যোগ দিলে মোট সংখ্যা দাঁড়ায় পাঁচে। এরপর আর কোনো জনবল বাড়েনি। ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের অবকাঠামোগত সক্ষমতা বাড়লেও ডুবুরি সংকট কাটেনি।
ফায়ার সার্ভিসের বিভাগীয় কার্যালয় সূত্র জানায়, পানি বহনকারী গাড়ি, ফোম টেন্ডার, মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন সরঞ্জাম যুক্ত হয়েছে। কিন্তু জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে ডুবুরির কোনো পদ সৃষ্টি না হওয়ায় সংকট আগের মতোই রয়ে গেছে।
বর্তমানে রংপুর বিভাগীয় ফায়ার সার্ভিসে কর্মরত ডুবুরি আবুল কালাম আজাদ বলেন, ‘পঞ্চগড় থেকে কল এলে রংপুর থেকে যেতে অন্তত দুই-আড়াই ঘণ্টা লাগে। ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর পর স্থানীয়রা প্রশ্ন করেন, এত দেরি হলো কেন। কিন্তু দূরত্বের বাস্তবতা তো অস্বীকার করা যায় না।’
তিনি জানান, অনেক সময় পঞ্চগড়ে কয়েক ঘণ্টা কাজ শেষ করে গাইবান্ধায় যেতে হয়। আবার সেখান থেকে লালমনিরহাট বা অন্য জেলায় ছুটতে হয়। কখনও টানা পাঁচ থেকে সাত দিন এক জেলা থেকে আরেক জেলায় উদ্ধার কাজে ব্যস্ত থাকতে হয়। ডুবুরির সংখ্যা বাড়লে এ ভোগান্তি অনেকটাই কমবে।
রংপুর নগরীর কটকিপাড়ার বাসিন্দা ও সাবেক রোভার স্কাউট সদস্য সাব্বির আহমেদ বলেন, ফায়ার সার্ভিস বর্তমানে দেশের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ জরুরি সেবা প্রতিষ্ঠান। কিন্তু পঞ্চগড়ে কোনো দুর্ঘটনা ঘটলে রংপুর থেকে ডুবুরি পৌঁছাতে দুই ঘণ্টার বেশি সময় লাগে। এ সময়ে একজন মানুষের পানির নিচে বেঁচে থাকার সুযোগ থাকে না। ফলে ডুবুরিরা গিয়ে কেবল মরদেহ উদ্ধারের কাজই করতে পারেন। এ অবস্থায় ডুবুরির মতো গুরুত্বপূর্ণ পদে জনবল সংকট অযৌক্তিক।
বিশেষজ্ঞরা বলছেন, ডুবুরি সংকটের পাশাপাশি সচেতনতার অভাবও পানিতে ডুবে মৃত্যুর অন্যতম কারণ। শিশুদের একা না রাখা, জলাশয়ের আশপাশে নজরদারি বাড়ানো এবং সাঁতার শেখানোর মাধ্যমে অনেক দুর্ঘটনা প্রতিরোধ করা সম্ভব।
পীরগাছা উপজেলার কান্দি ইউনিয়নের শিক্ষক আমিনুল ইসলাম বলেন, সাঁতার না জেনে পানিতে নামা উচিত নয়। একই সঙ্গে অভিভাবকদের আরও সচেতন হতে হবে। শিশুদের কোনো অবস্থাতেই একা ছেড়ে দেওয়া ঠিক নয়।
বাংলাদেশ স্কাউটসের লিডার ট্রেইনার সিদ্দিকুর রহমান বলেন, দুর্ঘটনার পর স্থানীয় ফায়ার সার্ভিস সদস্যরা দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছালেও ডুবুরি না থাকায় পানির নিচে উদ্ধার অভিযান শুরু করা সম্ভব হয় না। রংপুর বা অন্য জেলা থেকে ডুবুরি আসতে যে সময় লাগে, সেটিই অনেক ক্ষেত্রে প্রাণহানির কারণ হয়ে দাঁড়ায়।
তার মতে, রংপুর বিভাগের প্রতিটি জেলায় অন্তত একটি পূর্ণাঙ্গ ডুবুরি ইউনিট থাকা প্রয়োজন, যেখানে পাঁচ থেকে ছয়জন প্রশিক্ষিত ডুবুরি থাকবেন। পাশাপাশি সরকারি ও বেসরকারি উদ্যোগে ব্যাপক সাঁতার প্রশিক্ষণ কার্যক্রম চালু করা জরুরি। অন্যথায় ডুবুরি সংকটের এই মূল্য রংপুরবাসীকে আরও দীর্ঘ সময় ধরে দিতে হবে।
রংপুর ফায়ার সার্ভিস ও সিভিল ডিফেন্সের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেন, ডুবুরিদের কোনো জেলা পর্যায়ের পদ নেই। তারা বিভাগীয় কার্যালয়ে কর্মরত থাকেন এবং সেখান থেকেই বিভিন্ন জেলায় দায়িত্ব পালন করেন। বর্তমান জনবল দিয়ে এত বড় অঞ্চলের চাহিদা পূরণ করা সম্ভব নয়। বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে এবং নতুন ডুবুরি নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে বলে তারা জেনেছেন।
রংপুর ফায়ার সার্ভিসের সহকারী পরিচালক মো. আনোয়ারুল হক বলেন, ‘বারবার ডুবুরি চেয়ে অধিদপ্তরে আবেদন করা হয়েছে। এখনও সংকট কাটেনি। তবে আশা করছি, খুব দ্রুতই নতুন ডুবুরি পাওয়া যাবে।’
৭ দিন আগে
বাণিজ্যিক আম চাষে সম্ভাবনার নতুন দুয়ার খুলছে ফরিদপুর
একসময় ধান ও পাট উৎপাদনের জন্য পরিচিত ফরিদপুর এখন ধীরে ধীরে বাণিজ্যিক আম চাষের সম্ভাবনাময় অঞ্চলে পরিণত হচ্ছে। আধুনিক চাষাবাদ পদ্ধতি, কৃষি বিভাগের কারিগরি সহায়তা এবং লাভজনক বাজার ব্যবস্থার কারণে জেলার বিভিন্ন উপজেলায় দ্রুত সম্প্রসারিত হচ্ছে আমের বাগান। ফলে কৃষকদের পাশাপাশি নতুন উদ্যোক্তারাও আগ্রহী হয়ে উঠছেন এই ফল চাষে।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর (ডিএই) সূত্রে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে ফরিদপুরে প্রায় ২০০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এ বছর প্রায় ২ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে, যার সম্ভাব্য বাজারমূল্য ১৬ কোটিরও বেশি টাকা। উৎপাদিত আম স্থানীয় চাহিদা মেটানোর পাশাপাশি দেশের বিভিন্ন জেলায় সরবরাহ করা হবে।
জেলার মধুখালী, বোয়ালমারী ও ফরিদপুর সদর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় গড়ে উঠেছে বিস্তীর্ণ আমবাগান। বর্তমানে এসব বাগানে গাছে গাছে ঝুলছে পাকা ও আধাপাকা আম। কৃষি বিভাগের পরামর্শে উন্নত জাতের আম চাষ এবং আধুনিক পরিচর্যার ফলে উৎপাদন ও গুণগত মান দুটোই বেড়েছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।
মধুখালীর জাহাপুর এলাকার আমচাষি কামাল হোসেন বলেন, অন্যান্য অনেক ফসলের তুলনায় আম চাষে উৎপাদন খরচ কম হলেও লাভের সম্ভাবনা বেশি। অনুকূল আবহাওয়া থাকলে ভালো ফলন পাওয়া যায়। এ কারণে প্রতিবছর নতুন নতুন কৃষক ও উদ্যোক্তা আম চাষে যুক্ত হচ্ছেন।
১০ দিন আগে
ঈদের পর চাঙা হচ্ছে চাঁপাইনবাবগঞ্জের আম বাজার
বরেন্দ্রভূমির প্রখর রোদ, আমবাগানের ছায়া আর গাছভর্তি পাকা ফলের সুবাস—সব মিলিয়ে চাঁপাইনবাবগঞ্জে শুরু হয়েছে বছরের সবচেয়ে ব্যস্ত সময়। দেশের ‘আমের রাজধানী’ খ্যাত এ জেলায় বাজারে উঠতে শুরু করেছে মৌসুমের প্রথম দিকের গোপালভোগ, খিরসাপাত ও গুটি আম। তবে আমের মৌসুম শুরু হলেও এখনও পুরোপুরি প্রাণ ফিরে পায়নি জেলার ঐতিহ্যবাহী আম বাজারগুলো।
বর্তমানে মানভেদে গোপালভোগ ও খিরসাপাত আম প্রতি মণ ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা এবং গুটি আম ৭০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। কিন্তু মৌসুমের শুরুতে প্রত্যাশিত দাম না পাওয়ায় কিছুটা উদ্বেগে রয়েছেন চাষিরা। অন্যদিকে ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, আগামী সাত দিনের মধ্যে অন্যান্য জেলা থেকে পাইকারদের আগমন বাড়লে আমের সরবরাহ ও বেচাকেনা দুটোই উল্লেখযোগ্যভাবে বৃদ্ধি পাবে।
আমই চাঁপাইনবাবগঞ্জের প্রধান অর্থকরী ফসল। জেলার বিপুলসংখ্যক মানুষের জীবিকা প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষভাবে এই খাতের ওপর নির্ভরশীল। এখানে ফজলি, খিরসাপাত, গোপালভোগ, লক্ষ্মণভোগ, ল্যাংড়া, আম্রপালি, আশ্বিনা, বারি-৪ ও গুটি আমসহ প্রায় আড়াইশ’ জাতের আম উৎপাদিত হয়। জেলার আম দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে ব্যাপক চাহিদা পূরণ করে, পাশাপাশি বিদেশেও রপ্তানি হয়।
প্রতি বছর আমের মৌসুমে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে ব্যবসায়ীরা চাঁপাইনবাবগঞ্জে ভিড় করেন। তখন জেলার আম বাজারগুলো হয়ে ওঠে উৎসবমুখর। জেলা শহরের পুরাতন আম বাজার, কানসাট, রহনপুর ও ভোলাহাটের বাজারগুলোকে কেন্দ্র করে জমে ওঠে কোটি টাকার বাণিজ্য। এর মধ্যে কানসাট আম বাজারকে জেলার সবচেয়ে বড় আম বাজার হিসেবে ধরা হয়।
তবে মৌসুমের শুরুতে সেই চেনা ব্যস্ততা এখনও চোখে পড়ছে না। বর্তমানে বাজারে গোপালভোগ, খিরসাপাত ও গুটি আমের সরবরাহ থাকলেও দেশের বিভিন্ন প্রান্তের বড় পাইকারদের উপস্থিতি সীমিত। ফলে খুচরা ও পাইকারি—২ বাজারেই বেচাকেনা তুলনামূলক কম।
সদর উপজেলার আম চাষি আব্দুর রাকিব বলেন, ‘এবার মৌসুমের শুরুতে আবহাওয়া ভালো থাকায় প্রচুর মুকুল এসেছিল। পরে বৈরী আবহাওয়ার কারণে কিছু গুটি ঝরে গেলেও ফলন ভালো হয়েছে। বর্তমানে মানভেদে গোপালভোগ ২ হাজার থেকে ২ হাজার ৩০০ টাকা, খিরসাপাত ২ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা এবং গুটি আম ৬০০ থেকে ১ হাজার ২০০ টাকা মণ দরে বিক্রি হচ্ছে। বেচাকেনা বাড়লে দামও বাড়বে বলে আশা করছি।’
তিনি আরও বলেন, ‘এ বছর বাগান পরিচর্যার জন্য প্রয়োজনীয় প্রায় সব উপকরণের দাম বেড়েছে। ফলে উৎপাদন খরচ অনেক বেশি হয়েছে। আমের দাম না বাড়লে খরচ তোলা কঠিন হবে। এ নিয়ে চাষিদের মধ্যে উদ্বেগ রয়েছে।’
আরেক আম চাষি কামরুল ইসলাম বলেন, ‘বাজারের অবস্থা ভালো না। এভাবে দাম থাকলে উৎপাদন খরচই উঠবে না।’
১১ দিন আগে
নওগাঁয় মৌসুমে নষ্ট হচ্ছে ৩০০-৪০০ কোটি টাকার আম, আমভিত্তিক শিল্প গড়ে তোলার দাবি
থোকায় থোকায় গাছে ঝুলছে আম। বাগানে শেষ সময়ের পরিচর্যায় ব্যস্ত সময় পার করছেন আমচাষিরা। নানা প্রতিকূলতা কাটিয়ে এবারও ভালো ফলনের আশা করছেন নওগাঁর কৃষকরা। চলতি মাসের মাঝামাঝি কিংবা শেষ দিকে বাজারে আসতে শুরু করবে এ অঞ্চলের সবচেয়ে বেশি উৎপাদিত আম্রপালি জাতের আম।
দেশের অন্যতম প্রধান আম উৎপাদনকারী জেলা নওগাঁ। তবে বিপুল উৎপাদন হলেও এই খাতকে ঘিরে গড়ে ওঠেনি কোনো বড় শিল্প প্রতিষ্ঠান। ফলে প্রতিবছর মৌসুমে বিপুল পরিমাণ আম নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হচ্ছেন চাষিরা।
আমচাষিদের অভিযোগ, উৎপাদন ব্যয় ও শ্রমিকের মজুরি ধারাবাহিকভাবে বাড়লেও সেই তুলনায় বাড়ছে না আমের দাম। আবার ফলন বেশি হলে ব্যবসায়ীদের একটি অংশ সিন্ডিকেট করে বাজারমূল্য কমিয়ে দেয়। এতে কৃষকদের বাধ্য হয়ে কম দামে আম বিক্রি করতে হয়। বড় ধরনের সংরক্ষণাগার বা আমভিত্তিক শিল্প প্রতিষ্ঠান না থাকায় প্রতিবছর শত শত কোটি টাকার আম নষ্ট হয়ে যায়।
জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি মৌসুমে নওগাঁয় ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আমের আবাদ হয়েছে। এ বছর উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৫০ হাজার টন। গত বছর ৩০ হাজার ৩০০ হেক্টর জমিতে আমের চাষ হয়েছিল এবং উৎপাদন হয়েছিল ৩ লাখ ৭৫ হাজার টন।
১২ দিন আগে
কালজানির ভাঙনে তিন দিনে বিলীন ৭০ বসতভিটা, ঘুম উড়েছে দুই গ্রামের মানুষের
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী উপজেলার শিলখুরি ইউনিয়নের উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকায় কালজানি নদীর তীব্র ভাঙনে গত তিন দিনে অন্তত ৭০টি বসতভিটা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। ভাঙনের ঝুঁকিতে রয়েছে আরও অর্ধশতাধিক পরিবার। ঘরবাড়ি, গাছপালা ও ফসলি জমি রক্ষার শেষ চেষ্টা হিসেবে অনেক পরিবার এখন বসতঘর সরিয়ে নিতে ব্যস্ত সময় পার করছেন।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সীমান্তঘেঁষা উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকায় নদীর স্রোত সরাসরি আঘাত হানায় কয়েকটি স্থানে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। নদীতীরজুড়ে আতঙ্ক ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করছে। কেউ টিন খুলছেন, কেউ ঘরের খুঁটি উপড়ে অন্যত্র নেওয়ার চেষ্টা করছেন। অনেক পরিবার গবাদিপশু ও প্রয়োজনীয় মালামাল নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিচ্ছে। শিশু ও বৃদ্ধদের মধ্যে উদ্বেগ আরও বেশি।
স্থানীয়দের মতে, ভারতের উজান থেকে নেমে আসা পাহাড়ি ঢল ও কয়েক দিনের টানা বৃষ্টিতে কালজানি নদীর পানি বেড়েছে। এর সঙ্গে তীব্র হয়েছে নদীভাঙন।
তাদের অভিযোগ, দীর্ঘদিন ধরে কালজানি নদীর ভাঙন অব্যাহত থাকলেও স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তোলা হয়নি। ফলে প্রতি বর্ষায় নদীতীরবর্তী মানুষকে ঘরবাড়ি ও জমিজমা হারানোর আতঙ্কে দিন কাটাতে হয়। দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া না হলে উত্তর ঢলডাঙ্গা ও কাজিয়ার চর এলাকার আরও অনেক পরিবার গৃহহীন হয়ে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন তারা।
ভাঙনের শিকার তোফাজ্জল মিয়া বলেন, ‘এর আগেও কয়েকবার নদীভাঙনে সর্বস্ব হারিয়েছি। কষ্ট করে আবার ঘর তুলেছিলাম। এখন আবার নদী ঘরের কাছাকাছি চলে এসেছে। কীভাবে পরিবার নিয়ে বাঁচব, বুঝতে পারছি না।’
আরেক বাসিন্দা শাজাহান আলী বলেন, ‘দিনরাত ঘর সরানোর কাজ করছি। নদী কখন কী নিয়ে যায়, সেই ভয়ে আছি। সন্তানদের নিয়ে কোথায় আশ্রয় নেব, কোনো উপায় খুঁজে পাচ্ছি না।’
১৪ দিন আগে
তাপপ্রবাহের দাপটে বিপর্যস্ত কৃষিনির্ভর উত্তরাঞ্চলের জনজীবন
কয়েকদিনের টানা তীব্র তাপপ্রবাহে উত্তরাঞ্চলের জনজীবন বিপর্যস্ত হয়ে উঠেছে। প্রচণ্ড রোদ ও ভ্যাপসা গরমে সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়েছেন কৃষক ও কৃষিশ্রমিকরা। মাঠে কাজ করতে গিয়ে তারা টানা এক ঘণ্টাও টিকতে পারছেন না। কিছুক্ষণ কাজ করেই গাছের ছায়া কিংবা খড়ের গাদার পাশে গিয়ে বিশ্রাম নিতে হচ্ছে। এতে কৃষিকাজের গতি কমে যাওয়ার পাশাপাশি কমেছে শ্রমিকদের দৈনিক আয়ও।
বর্তমানে রংপুর অঞ্চলের মাঠে বোরো ধান ও ভুট্টা কাটার শেষ পর্যায়ের কাজ চলছে। পাশাপাশি কাটা ফসল শুকিয়ে ঘরে তোলার কাজেও ব্যস্ত সময় পার করছেন কৃষকরা। তবে তাপপ্রবাহের কারণে এসব কাজে ধীরগতি দেখা দিয়েছে।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার কাকিনা চাঁপারতল গ্রামের কৃষিশ্রমিক এন্তাজ আলী বলেন, ‘আমাদের এলাকায় কয়েকদিন আগেও টানা বৃষ্টির কারণে মাঠে নামতে পারিনি। এখন বৃষ্টি নেই, কিন্তু গত পাঁচ দিন ধরে এমন গরম পড়েছে যে জীবন অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছে। মাঠে টানা এক ঘণ্টা কাজ করলেই শরীর জ্বলে ওঠে। বাধ্য হয়ে গাছের নিচে গিয়ে বিশ্রাম নিতে হয়।’
একই গ্রামের কৃষিশ্রমিক আলম মিয়া বলেন, ‘এখন ধান ও ভুট্টা কাটার মৌসুম চলছে। আমরা চুক্তিভিত্তিক জমিতে ধান ও ভুট্টা কাটার কাজ করি। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে ছয়জনের একটি দল দুই ঘণ্টায় এক বিঘা ধান এবং তিন ঘণ্টায় এক বিঘা ভুট্টা কাটতে পারে। কিন্তু তীব্র গরমের কারণে এখন একই কাজ করতে প্রায় তিনগুণ বেশি সময় লাগছে। ফলে আয়ও কমে গেছে। মাঠে কিছুক্ষণ কাজ করলেই ছায়ায় গিয়ে বসতে হচ্ছে।’
১৬ দিন আগে