বিশেষ-সংবাদ
পীরগঞ্জের চতরাহাটের জায়গা বেদখল, বাজার বসছে সড়কে
রংপুরের পীরগঞ্জ উপজেলার চতরা ইউনিয়নের চতরাহাটের প্রায় ১০ একর সরকারি জমির বড় অংশ দীর্ঘদিন ধরে অবৈধ দখলে রয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। ফলে কাঁচাবাজারের অনেক ব্যবসায়ীকে চতরা ডিগ্রি কলেজ মাঠ এবং ধাপেরহাট-চতরা সড়কের দুই পাশে দোকান বসাতে হচ্ছে।
ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, কয়েকশ ব্যক্তি হাটের জমি দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় হাটের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এতে সরকারের রাজস্ব আদায় কমে যাওয়ার পাশাপাশি ব্যবসায়ী ও সাধারণ মানুষের দুর্ভোগও বেড়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।
চতরা ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, ইকলিমপুর মৌজায় অবস্থিত চতরাহাটের নামে সিএস ও এসএ রেকর্ডভুক্ত আটটি দাগে মোট ৯ একর ৮০ শতক জমি রয়েছে। ২০২৩ সালের ২৮ আগস্ট ভূমি কার্যালয় থেকে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে পাঠানো এক প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, হাটের উল্লেখযোগ্য অংশ বিভিন্ন ব্যক্তি দখল করে সেখানে স্থাপনা নির্মাণ করেছেন। ফলে হাটের কার্যক্রম মূল নির্ধারিত জায়গার বাইরে সড়ক ও আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়েছে।
ভূমি কার্যালয়ের প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, হাটের ৭৮ নম্বর দাগের ১৬ শতক এবং ১৭০ নম্বর দাগের ৯ শতক জমি নীতিমালা অনুসরণ না করে বন্দোবস্ত দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ রয়েছে। তবে এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
ইউনিয়ন ভূমি কার্যালয়ের তহশিলদার নূরে আলম বলেন, হাটের জমি বর্তমানে অন্তত ৪০০ জনের দখলে রয়েছে। ২০২৩ সালে ৩০৮ জনকে অবৈধ দখলদার হিসেবে তালিকাভুক্ত করে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হয়েছে।
তার ভাষ্য, প্রকৃত ব্যবসায়ীদের মধ্যে পরিকল্পিতভাবে দোকান বরাদ্দ দেওয়া গেলে হাটের ব্যবস্থাপনা উন্নত হওয়ার পাশাপাশি সরকারি রাজস্বও বাড়তে পারে।
স্থানীয় ব্যবসায়ীরা জানান, হাটের নির্ধারিত জায়গা দখলে থাকায় কাঁচাবাজারের অনেক ব্যবসায়ীকে চতরা ডিগ্রি কলেজ মাঠ এবং ধাপেরহাট-চতরা সড়কের দুই পাশে দোকান বসাতে হচ্ছে। তাদের দাবি, সড়কের ওপর হাট বসায় প্রায়ই যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে এবং দুর্ঘটনার ঝুঁকি তৈরি হয়।
সরকার পতনের পর ২০২৪ সালে স্থানীয় ব্যবসায়ী হাবিবুর রহমান এক বছরের জন্য ৯৩ লাখ ৭৫ হাজার টাকায় হাটটির ইজারা নেন। তিনি বলেন, হাটের দখলমুক্ত জমি বুঝিয়ে দেওয়ার জন্য উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে একাধিকবার আবেদন করেছিলেন। পরে এ বিষয়ে উচ্চ আদালতে রিটও করেন। তবে জমি বুঝে না পাওয়ায় তিনি পরবর্তী সময়ে ইজারা নবায়ন করেননি।
তার দাবি, হাটটি দখলমুক্ত করা গেলে ইজারামূল্য উল্লেখযোগ্যভাবে বাড়তে পারে।
চতরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এনামুল হক শাহীন বলেন, ২০২০ সালে জেলা প্রশাসনের উদ্যোগে হাটের সীমানা নির্ধারণ এবং অবৈধ দখল উচ্ছেদের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছিল। সে সময় প্রকৃত ব্যবসায়ীদের পুনর্বাসনের জন্য প্রায় ৪০০ দোকান নির্মাণের পরিকল্পনাও ছিল। তবে সেটি বাস্তবায়িত হয়নি।
অবৈধ স্থাপনা অপসারণ করে পরিকল্পিতভাবে দোকান বরাদ্দ দেওয়া গেলে সরকারের রাজস্ব বৃদ্ধি পাবে বলে তার ধারণা।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) মাহমুদুল হাসান বলেন, সহকারী কমিশনার (ভূমি) সরেজমিনে বিষয়টি তদন্ত করছেন। তদন্ত শেষে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য জেলা প্রশাসকের কাছে প্রতিবেদন পাঠানো হবে।
২১ ঘণ্টা আগে
দুটি সেতুর অভাবে বিচ্ছিন্ন পদ্মার চরাঞ্চলের প্রায় এক লাখ মানুষ
স্বাধীনতার সাড়ে পাঁচ দশক পেরিয়ে গেলেও কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার সীমান্তঘেঁষা পদ্মা নদীর চরাঞ্চলে কাঙ্ক্ষিত উন্নয়নের ছোঁয়া লাগেনি। শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, বিদ্যুৎ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্যসেবাসহ নানা অবকাঠামো গড়ে উঠলেও দুটি সেতুর অভাবে রামকৃষ্ণপুর ও চিলমারী ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষ এখনও মূল ভূখণ্ড থেকে কার্যত বিচ্ছিন্ন। ফলে নাগরিক সুবিধার অনেকটাই তাদের কাছে রয়ে গেছে অধরাই।
স্থানীয়দের অভিযোগ, ভাগজোত ও সুখারঘাটে সেতু না থাকায় বছরের পর বছর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে চরবাসীকে। বর্ষাকালে উত্তাল পদ্মা নদী পারাপারে তাদের একমাত্র ভরসা নৌকা। আর শুষ্ক মৌসুমে মাইলের পর মাইল বালুচর পাড়ি দিতে হয় ভ্যান, ট্রলি, মোটরসাইকেল কিংবা ঘোড়ার গাড়িতে। এতে শিক্ষা, চিকিৎসা, কৃষি ও ব্যবসা-বাণিজ্য—সব ক্ষেত্রেই প্রতিনিয়ত ভোগান্তির শিকার হচ্ছেন তারা।
উপজেলা সদর থেকে প্রায় ৩০ কিলোমিটার দূরের এই চরাঞ্চলের ভেতরে কিছু সড়ক নির্মিত হলেও মূল ভূখণ্ডের সঙ্গে সরাসরি কোনো সেতু না থাকায় যোগাযোগ ব্যবস্থা এখনও অত্যন্ত নাজুক। ফলে বিদ্যমান অবকাঠামোর পূর্ণ সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা।
সবচেয়ে বেশি দুর্ভোগে পড়তে হয় জরুরি রোগীদের। মুমূর্ষু রোগীকে উপজেলা বা জেলা শহরের হাসপাতালে নিতে ঘণ্টার পর ঘণ্টা সময় লেগে যায়। অনেক সময় পথেই রোগীর অবস্থার অবনতি ঘটে। একই সঙ্গে কৃষকদের উৎপাদিত ধান, পাট, ভুট্টা, সবজি ও অন্যান্য কৃষিপণ্য সময়মতো বাজারে নিতে না পারায় ন্যায্যমূল্য থেকেও বঞ্চিত হতে হচ্ছে।
২১ ঘণ্টা আগে
কুশিয়ারা নদীর তলদেশে জমছে বিষাক্ত ধাতু, ঝুঁকিতে স্থানীয় জনজীবন
বিষাক্ত ভারী ধাতু ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের ভাগাড়ে পরিণত হচ্ছে সিলেটের বিয়ানীবাজার উপজেলার প্রাণ কুশিয়ারা নদীর তলদেশ। ১০ থেকে ২০ সেন্টিমিটার গভীরতার পলি মাটিতেও প্লাস্টিকের ক্ষুদ্র কণা বা মাইক্রোপ্লাস্টিক ও ক্যাডমিয়াম-সিসার মতো ভারী ধাতুর উপস্থিতি পরিবেশবিদদের উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। এর প্রভাবে স্থানীয় পরিবেশ ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে উঠছে।
সম্প্রতি এনভায়রনমেন্টাল সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি বিভাগের এক গবেষণায় এই ভয়াবহ চিত্র উঠে এসেছে। গবেষণার জন্য কুশিয়ারা নদীর ৯টি জনবহুল পয়েন্ট থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীর পর্যন্ত নমুনা সংগ্রহ করা হয়। এসব স্থানের নমুনা পরীক্ষায় দেখা গেছে, প্রতি কেজি পলি মাটিতে সর্বোচ্চ ৪ হাজার ৩০০টি পর্যন্ত মাইক্রোপ্লাস্টিক কণা রয়েছে। গড়ে এই সংখ্যা ২ হাজার ৮০০টি।
গবেষণায় দেখা গেছে, নমুনায় নদীর তলদেশের ১০ থেকে ৩০ সেন্টিমিটার গভীরতায়ও মাইক্রোপ্লাস্টিকের উপস্থিতি পাওয়া গেছে। মাইক্রোপ্লাস্টিকের পাশাপাশি নদীর তলদেশে ক্রোমিয়াম, নিকেল, কপার, সিসা এবং ক্যাডমিয়ামের মতো ভারী ধাতুর বিষক্রিয়া উচ্চমাত্রায় ধরা পড়েছে। মাছ ও অন্যান্য জলজ প্রাণী এসব মাইক্রোপ্লাস্টিক খাবার হিসেবে গ্রহণ করছে। এর ফলে বিষাক্ত ভারী ধাতুগুলো মানুষের খাদ্যশৃঙ্খলে প্রবেশ করছে, যা ক্যানসারসহ নানা জটিল রোগের কারণ হতে পারে।
জানা গেছে, বিয়ানীবাজারের নদী তীরবর্তী এলাকা থেকে প্রচুর বর্জ্য পড়ছে কুশিয়ারা নদীতে। বিভিন্ন খাল-নালা থেকেও নদীতে মিশছে বর্জ্য। ফলে দিন দিন বিষাক্ত ধাতুতে ভারী হয়ে উঠছে নদীর তলদেশ।
পরিবেশগত ঝুঁকি সূচক অনুযায়ী, এই নদীর পলিতে দূষণের মাত্রা ‘অত্যন্ত উচ্চ’ বা ‘ক্লাস ভি’ পর্যায়ের। ক্যাডমিয়াম ও নিকেলের আধিক্য নদীটির জীববৈচিত্র্য ধ্বংসের মুখে ঠেলে দিচ্ছে। প্লাস্টিক বর্জ্য এবং সরাসরি নর্দমার সংযোগ নদীর স্বাস্থ্যকে এমন পর্যায়ে নিয়ে গেছে যে, দ্রুত ব্যবস্থা না নিলে এই নদীর স্বাভাবিক বাস্তুসংস্থান পুনরুদ্ধার করা অসম্ভব হয়ে পড়বে।
দুই দশকের বেশি সময় ধরে উপজেলার বৈরাগীবাজার এলাকার মৎস্যজীবী জাবেদ বলেন, ‘দিন দিন নদীর মাছ কমছে। পানি ভালো না। জাল নিয়ে নদীতে এলে মাছ পেতাম। এখন আর সেই অবস্থা নেই। বেঁচে থাকাই কষ্ট।’
বিয়ানীবাজার উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা হাসিবুল হাসান বলেন, কুশিয়ারা নদীতে প্রতিনিয়ত বিভিন্ন ধরনের বর্জ্য বাধাহীনভাবে পড়ছে। তিনি এ অবস্থা থেকে পরিবেশ ও প্রতিবেশ রক্ষায় কার্যকর উদ্যোগ জরুরি বলে উল্লেখ করে বলেন, আধুনিক ও বিজ্ঞানভিত্তিক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা, নদীর দূষণমুক্ত ও অবাধ প্রবাহ নিশ্চিত করতে হবে। না হলে আমাদের বড় ধরনের বিপর্যয়ের মুখোমুখি হতে হবে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড সিলেটের উপবিভাগীয় প্রকৌশলী আমির হোসাইন খান জানান, কুশিয়ারা নদীর স্রোতের বেগ হ্রাস পাওয়ায় ক্ষয়সাধন ও পরিবহন ক্ষমতাও হ্রাস পেয়েছে। এ কারণে গভীরতাও কমেছে। নদীর আবর্জনা সরিয়ে ফেলতে উদ্যোগ গ্রহণ করা প্রয়োজন। আর সবচেয়ে বেশী দরকার নদী তীরবর্তী মানুষের সচেতনতা। তিনি বলেন, এখন থেকে নদীতে বর্জ্য ফেলা বন্ধ করতে হবে।
১ দিন আগে
ফোন দিলেই পৌঁছে যাচ্ছে মাদক, দৌলতপুর সীমান্তজুড়ে সক্রিয় একাধিক সিন্ডিকেট
ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলায় মাদকের বিস্তার উদ্বেগজনক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। সীমান্ত গলে অবৈধভাবে মাদক প্রবেশের পাশাপাশি সংঘবদ্ধ সিন্ডিকেটের মাধ্যমে তা উপজেলাসহ দেশের বিভিন্ন প্রান্তে পৌঁছে যাচ্ছে।
আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও স্থানীয়দের ভাষ্যমতে, এখন আর মাদকসেবীদের নির্দিষ্ট স্থানে যেতে হয় না; একটি ফোন কলেই ‘হোম ডেলিভারি’ পদ্ধতিতে চাহিদা অনুযায়ী মাদক হাতে হাতে পৌঁছে যাচ্ছে।
পুলিশের একটি গোয়েন্দা সূত্রের দাবি, এই অবৈধ বাণিজ্যের সঙ্গে সমাজের প্রভাবশালী ও অসাধু কিছু ব্যক্তি জড়িত। এদের মধ্যে খোদ আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর দুর্নীতিগ্রস্ত কিছু সদস্য, নামধারী সাংবাদিক এবং রাজনৈতিক প্রভাব কাজে লাগানো ব্যক্তিদেরও সংশ্লিষ্টতা রয়েছে।
বিজিবি ও পুলিশের গোয়েন্দা সূত্র জানায়, চিলমারী ইউনিয়নের বাংলাবাজার সীমান্ত এবং উদয়নগর বিওপি-সংলগ্ন পদ্মা নদীর তীব্র ভাঙনে সীমান্তের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে বিলীন হয়েছে। নদীর গতিপথ পরিবর্তনের কারণে সীমান্তের একটি অংশ ভারতের অভ্যন্তরে চলে যাওয়ায় কয়েকটি এলাকায় দুই দেশের সীমান্তরক্ষী বাহিনীর টহল কার্যক্রম ব্যাহত হচ্ছে। এই পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে উদয়নগর সীমান্তকে মাদক পাচারের অন্যতম রুট হিসেবে ব্যবহার করছে চোরাকারবারিরা।
এছাড়া আদাবাড়িয়া ইউনিয়নের ধর্মদহ ও পশ্চিম ধর্মদহ, প্রাগপুর ইউনিয়নের জামালপুর ও বিলগাতুয়া, রামকৃষ্ণপুর ইউনিয়নের চল্লিশপাড়া ও ভাগযোতসহ পদ্মা নদীর বিভিন্ন নৌপথ ব্যবহার করেও দেশে মাদক প্রবেশ করছে বলে দাবি সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর।
একটি নির্ভরযোগ্য সূত্র জানিয়েছে, দৌলতপুরে প্রতি মাসে প্রায় পাঁচ কোটি টাকার মাদকের লেনদেন হয়ে থাকে।
সংশ্লিষ্টদের ভাষ্য, বর্তমানে মাদক কারবারিদের প্রধান লক্ষ্য ১৭ থেকে ৩৫ বছর বয়সী তরুণ ও যুবকেরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক মাদক কারবারি জানান, ইয়াবা, ট্যাপেন্টাডল ও বিভিন্ন নেশাজাতীয় ট্যাবলেটের চাহিদা বর্তমানে সবচেয়ে বেশি। আকারে ছোট হওয়ায় এসব মাদক সহজে বহন করা যায় এবং প্রশাসনের নজর এড়াতে সরাসরি বেচাকেনার পরিবর্তে ফোনের মাধ্যমে ‘হোম ডেলিভারি’ সিস্টেমে কেনা বেচা করা হচ্ছে।
বিজিবির দাবি, ভারতের সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে ৫৫ পয়সায় সংগ্রহ করা এসব নেশাজাতীয় ট্যাবলেট দেশে এনে ১৫০ থেকে ৩০০ টাকা পর্যন্ত মূল্যে বিক্রি করা হচ্ছে।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্ত এলাকায় বহিরাগত মোটরসাইকেল আরোহী ও অপরিচিত মানুষের আনাগোনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। বিশেষ করে বিকেল ও সাপ্তাহিক ছুটির দিনগুলোতে সীমান্ত এলাকায় তরুণদের মাদকসেবনের প্রবণতা বাড়ে, যা স্থানীয়দের মধ্যে নিরাপত্তা উদ্বেগ সৃষ্টি করছে।
সীমান্তে বিজিবি ও পুলিশের নিয়মিত অভিযান অব্যাহত থাকলেও মাদকের প্রবেশ পুরোপুরি বন্ধ করা সম্ভব হয়ে উঠছে না।
কুষ্টিয়া ৪৭ বিজিবি ব্যাটালিয়নের তথ্যমতে, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ২৯ জুলাই পর্যন্ত বিভিন্ন অভিযানে প্রায় ১৭ কোটি ৭৫ লাখ টাকা মূল্যের মাদকদ্রব্য উদ্ধার করা হয়েছে।
১ দিন আগে
দারিদ্র্যে আটকে আছে জয়নব ও উম্মে কুলসুমের নতুন জীবনের স্বপ্ন
কুষ্টিয়ার দৌলতপুরে জন্ম নেওয়া জোড়া লাগা যমজ কন্যাশিশু জয়নব ও উম্মে কুলসুমের নতুন জীবনের স্বপ্ন এখন দারিদ্র্যের মাঝে আটকে আছে। বুক থেকে পেট পর্যন্ত একসঙ্গে যুক্ত এই দুই শিশুকে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে আলাদা করার সম্ভাবনা দেখছেন চিকিৎসকেরা। তবে প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসার ব্যয় বহনের সামর্থ্য না থাকায় তাদের ঢাকায় নিয়ে গিয়ে চিকিৎসা করানো সম্ভব হচ্ছে না। অসচ্ছল পরিবারটি এখন সরকারি সহায়তা ও সমাজের বিত্তবান মানুষের সহযোগিতার আশায় দিন গুনছেন।
দূর থেকে দেখলে মনে হবে সাধারণ দুই কন্যাশিশু। কিন্তু কাছে গেলেই চোখ আটকে যায়—বুক থেকে পেট পর্যন্ত একসঙ্গে জোড়া লাগানো যমজ বোন জয়নব ও উম্মে কুলসুম। জন্মের পর থেকেই তাদের প্রতিটি নিঃশ্বাস, প্রতিটি নড়াচড়া যেন একে অপরের সঙ্গে অবিচ্ছেদ্যভাবে জড়িয়ে আছে। একজন কাঁদলে অন্যজনও কেঁদে ওঠে, একজন নড়লে অন্যজনও ব্যথায় কুঁকড়ে যায়।
কুষ্টিয়ার দৌলতপুর উপজেলার প্রাগপুর ইউনিয়নের বিলগাথুয়া গ্রামের বাসিন্দা নাহিদ হাসান ও সানজিদা আক্তার দম্পতির ঘরে গত ৪ মে ঢাকার বাংলাদেশ মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে (বিএমইউ) সিজারিয়ান অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে জন্ম হয় এই বিরল যমজ শিশুর।
পরিবারের সদস্যরা জানান, চিকিৎসকেরা আশা দিয়েছেন যে অস্ত্রোপচারের মাধ্যমে শিশু দুটিকে আলাদা করা সম্ভব। তবে তার আগে প্রয়োজন একাধিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা, বিশেষজ্ঞ চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণ এবং নিয়মিত চিকিৎসা। জন্মের তিন মাস পর আবার ঢাকায় নিয়ে যাওয়ার পরামর্শ দেওয়া হলেও চরম আর্থিক সংকটের কারণে এখনও পরিবারটির পক্ষ থেকে তা সম্ভব হয়ে ওঠেনি।
শিশুদের বাবা নাহিদ হাসান একসময় রাজধানীতে পোশাক কারখানায় শ্রমিক হিসেবে কাজ করতেন। বর্তমানে তিনি স্থানীয় একটি দোকানে কর্মচারী হিসেবে কর্মরত। মাসে মাত্র ৯ থেকে ১০ হাজার টাকা আয়ে কোনোমতে সংসার চালাতে হয় তাকে। এরই মধ্যে শিশুদের দুধ, ওষুধ ও চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে গিয়ে ঋণের বোঝাও বেড়েছে।
কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাহিদ হাসান বলেন, ‘ডাক্তাররা আশা দিয়েছেন, আমার মেয়েদের আলাদা করা সম্ভব, কিন্তু সেই চিকিৎসার খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার নেই। এখন তাদের দুধ কেনার টাকাই জোগাড় করতে হিমশিম খেতে হচ্ছে।’
মা সানজিদা আক্তার বলেন, ‘ওদের আলাদাভাবে কোলে নেওয়া যায় না। একজন একটু নড়লেই অন্যজন কষ্ট পায়। চিকিৎসার জন্য নিয়মিত ঢাকায় যেতে হবে, কিন্তু যাতায়াত ও পরীক্ষার খরচ জোগানোর সামর্থ্য আমাদের নেই।’
তাদের স্বজন মাহতাব উদ্দিন বলেন, ‘এই দুই শিশুকে বাঁচাতে হলে সরকার, সমাজের বিত্তবান মানুষ এবং মানবিক সংগঠনগুলোর এগিয়ে আসা জরুরি। সবার সহযোগিতা পেলে হয়তো ওরা স্বাভাবিক জীবন ফিরে পাবে।’
স্থানীয় চিকিৎসকদের মতে, জোড়া লাগা যমজ শিশু জন্ম নেওয়া অত্যন্ত বিরল একটি জন্মগত অবস্থা। আধুনিক চিকিৎসায় সফল অস্ত্রোপচারের সম্ভাবনা থাকলেও এর জন্য দীর্ঘমেয়াদি প্রস্তুতি, অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক দল এবং উন্নত চিকিৎসা ব্যবস্থার প্রয়োজন।
দৌলতপুর উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা.তৌহিদুল হাসান তুহিন বলেন, ‘চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী দ্রুত পরবর্তী চিকিৎসা শুরু করা জরুরি। যথাসময়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও বিশেষজ্ঞদের তত্ত্বাবধানে থাকলে শিশু দুটির চিকিৎসার সম্ভাবনা আরও উজ্জ্বল হবে।’
দৌলতপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) অনিন্দ্য গুহ জানান, ‘শিশু দুটির চিকিৎসায় উপজেলা সমাজসেবা দপ্তরের মাধ্যমে দ্রুত আর্থিক সহায়তার উদ্যোগ নেওয়া হবে। পাশাপাশি প্রয়োজনীয় সরকারি সহায়তা নিশ্চিত করার বিষয়েও আমরা কাজ করছি।’
দারিদ্র্যের সঙ্গে প্রতিনিয়ত লড়াই করা এই পরিবারের এখন একটাই স্বপ্ন—জয়নব ও উম্মে কুলসুম একদিন আলাদা দুটি স্বাভাবিক জীবন পাবে। সেই স্বপ্ন বাস্তবায়নে সরকারি সহায়তার পাশাপাশি সমাজের বিত্তবান ও মানবিক মানুষের সহযোগিতা হতে পারে নিষ্পাপ এই শিশু দুটির নতুন জীবনের সবচেয়ে বড় আশার আলো।
৩ দিন আগে
প্রশাসনের নির্দেশনা উপেক্ষায় ঝালকাঠির ভিমরুলি পেয়ারাবাগানে বিশৃঙ্খলা, বাড়ছে দুর্ঘটনা
ঝালকাঠির সদর উপজেলার কীর্তিপাশা-ভিমরুলিসহ বিভিন্ন পেয়ারাবাগান এলাকায় পর্যটকদের চলাচল ও নৌভ্রমণে উচ্চশব্দে গান বাজানো, অশালীন আচরণ এবং বেপরোয়া ট্রলার চলাচল নিয়ন্ত্রণে একাধিকবার নির্দেশনা ও সতর্কতা জারি করেছে উপজেলা প্রশাসন। তবে প্রশাসনের এসব নির্দেশনা কার্যত উপেক্ষিত হচ্ছে বলে অভিযোগ করেছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
তাদের দাবি, বারবার আহ্বান ও বিধিনিষেধ জারি করা হলেও এক শ্রেণির ভ্রমণপিপাসু নির্ধারিত নিয়ম মানছেন না। ফলে এলাকার পরিবেশ, জনশৃঙ্খলা, জীববৈচিত্র্য এবং স্থানীয়দের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা ব্যাহত হচ্ছে। দ্রুতগতির ট্রলারের সৃষ্ট ঢেউয়ে পেয়ারাবোঝাই ডিঙি নৌকা ডুবে যাওয়ার ঘটনাও ঘটেছে। এছাড়া পর্যটকদের বেপরোয়া আচরণের কারণে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।
প্রতি শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে ঝালকাঠি সদর উপজেলার ভিমরুলি ভাসমান হাটে ইঞ্জিনচালিত ট্রলার নিয়ে পর্যটকদের আগমন শুরু হয়। এ সময় অনেক ট্রলারে সাউন্ড বক্সে উচ্চশব্দে গান বাজানো হয় যা পুরো পরিবেশকে ভারী করে তোলে। দ্রুতগতির ট্রলারের ঢেউয়ে এরই মধ্যে পেয়ারাবোঝাই কয়েকটি ডিঙি নৌকা ডুবে যাওয়ার মতো দুর্ঘটনাও ঘটেছে বলে স্থানীয়রা দাবি করেছেন।
গত ১৭ জুলাই ভ্রমণে গিয়ে একটি আমগাছ থেকে খালে লাফ দিয়ে নিখোঁজ হয় সানি (১৩) নামে এক কিশোর। প্রায় পাঁচ ঘণ্টা পর তার মরদেহ উদ্ধার করা হয়।
এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়ানো এবং পরিবেশ, প্রকৃতি, জনশৃঙ্খলা ও জীববৈচিত্র্য রক্ষায় সম্প্রতি একটি নির্দেশনামূলক নোটিশ জারি করেছে ঝালকাঠি সদর উপজেলা প্রশাসন।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) সেগুফতা মেহনাজ স্বাক্ষরিত ওই নোটিশে উল্লেখ করা হয়, ঝালকাঠি সদর উপজেলার কীর্তিপাশা ইউনিয়নের ভিমরুলি পেয়ারাবাগান ও ভাসমান পেয়ারার বাজার দেশি-বিদেশি পর্যটকদের কাছে অত্যন্ত সমাদৃত একটি স্থান। এ অঞ্চলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, বাগানের স্বাভাবিক পরিবেশের পরিবেশগত ভারসাম্য (ইকোলজিক্যাল ব্যালেন্স) এবং স্থানীয় জনগণের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা বজায় রাখতে কয়েকটি নির্দেশনা অনুসরণ করতে হবে।
নোটিশে বলা হয়েছে, পেয়ারাবাগান ভ্রমণের সময় ডিজে সিস্টেম, লাউডস্পিকার বা উচ্চমাত্রার শব্দের কোনো সাউন্ড সিস্টেম ব্যবহার করা যাবে না, কারণ তা স্থানীয় মানুষের স্বাভাবিক জীবনযাত্রা এবং বন্যপ্রাণীর নিরাপদ আবাসস্থলের জন্য হুমকিস্বরূপ।
এছাড়া ইঞ্জিনচালিত বড় ট্রলার নিয়ে ভাসমান পেয়ারার বাজার বা বাগানে প্রবেশ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। প্রশাসনের মতে, বড় ট্রলার বাগানের স্বাভাবিক পরিবেশ নষ্ট করে এবং জলজ ও স্থলজ প্রাণীর জন্য ক্ষতিকর পরিস্থিতি সৃষ্টি করে।
পর্যটকদের ছোট ও মাঝারি আকারের ইঞ্জিনবিহীন নৌযান ব্যবহারের অনুরোধ জানানো হয়েছে, যাতে বাগানের স্বাভাবিক পরিবেশ ও পরিবেশগত ভারসাম্য বজায় থাকে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, পর্যটকদের সঙ্গে আনা খাবারের উচ্ছিষ্ট, পলিথিন, প্লাস্টিকের বোতলসহ কোনো ধরনের বর্জ্য পানিতে ফেলা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ। প্রতিটি নৌযানে অন্তত একটি করে ডাস্টবিন রাখার নির্দেশনাও দেওয়া হয়েছে।
পর্যটকদের নিরাপত্তার স্বার্থে প্রতিটি ট্রলার বা নৌযানে পর্যাপ্ত লাইফ জ্যাকেট ও লাইফ বয়া রাখা বাধ্যতামূলক করা হয়েছে। একই সঙ্গে নৌযানের ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত যাত্রী বহন নিষিদ্ধ করা হয়েছে, কারণ অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই নৌযান যেকোনো সময় দুর্ঘটনার কারণ হতে পারে।
নোটিশে অনুমতি ছাড়া পেয়ারাবাগানে প্রবেশ, পেয়ারা বা আমড়া সংগ্রহ এবং গাছের ডালপালা ভাঙা সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ করা হয়েছে। পাশাপাশি পর্যটকদের সুশৃঙ্খল আচরণ, শালীনতা বজায় রাখা, ইভটিজিং থেকে বিরত থাকা এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষায় সহযোগিতার আহ্বান জানানো হয়েছে।
এতে স্পষ্টভাবে উল্লেখ করা হয়েছে, আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, ‘আসুন সবাই মিলে ভাসমান পেয়ারা বাজার ও পেয়ারা বাগানের পরিবেশ সুন্দর, পরিচ্ছন্ন ও পর্যটকবান্ধব রাখি। এ বাগান আমাদের সম্পদ। এ সম্পদ রক্ষায় আসুন সবাই সচেতন হই। পর্যটন এলাকার সুন্দর ও নান্দনিক পরিবেশ বজায় রাখা, প্রাকৃতিক ভারসাম্য রক্ষা করার জন্য সবার সচেতনতা ও সহযোগিতা একান্ত কাম্য।’
তবে স্থানীয়দের ভাষ্য, প্রশাসনের নির্দেশনা সত্ত্বেও অনেক পর্যটক বিধিনিষেধ না মেনেই ভ্রমণ করছেন। অনেক নৌযানে উচ্চ শব্দে গান বাজানো এবং অশোভন আচরণের কারণে এলাকায় শব্দদূষণ বাড়ছে। পাশাপাশি প্লাস্টিকের প্যাকেট, পানির বোতল, খাবারের মোড়কসহ বিভিন্ন বর্জ্য খাল, নদী ও আশপাশের জলাশয়ে ফেলে পরিবেশ দূষণ করা হচ্ছে।
তাদের আশঙ্কা, এভাবে চলতে থাকলে পেয়ারাবাগানের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও জীববৈচিত্র্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে। এছাড়া অতিরিক্ত ভিড়, অনিয়ন্ত্রিত নৌচলাচল এবং প্রশাসনের নির্দেশনা অমান্যের কারণে পর্যটন এলাকার নিরাপত্তা ও শৃঙ্খলা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
এ পরিস্থিতিতে স্থানীয়দের একটি অংশের দাবি, শুধু সতর্কীকরণ নয়, নিয়ম অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে মোবাইল কোর্ট পরিচালনা, জরিমানা এবং প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে। তাদের মতে, কার্যকর আইন প্রয়োগের মাধ্যমে প্রশাসনের নির্দেশনা বাস্তবায়ন নিশ্চিত করা গেলে পর্যটন এলাকায় শৃঙ্খলা বজায় রাখা, পরিবেশ রক্ষা এবং দর্শনার্থীদের নিরাপদ ভ্রমণ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে।
এ বিষয়ে ইউএনও সেগুফতা মেহনাজ বলেন, ‘পরিবেশ ও শৃঙ্খলা রক্ষায় নোটিশ জারি করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
স্থানীয়দের প্রত্যাশা, ভিমরুলির পর্যটন আকর্ষণ, পরিবেশগত ভারসাম্য এবং দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেবে।
৪ দিন আগে
বিশ্ব বাঘ দিবস আজ, প্রাণহানির উদ্বেগের মধ্যেও সুন্দরবনে বাড়ছে বাঘের সংখ্যা
দেশের জাতীয় পশু রয়েল বেঙ্গল টাইগারের একমাত্র আবাসস্থল সুন্দরবন। তবে নিজের এই প্রাকৃতিক আবাসস্থলেই নানা হুমকির মুখে রয়েছে বাঘ। চোরাশিকারী চক্র, জলবায়ু পরিবর্তন, বনদস্যুদের তৎপরতা এবং সুন্দরবনের ওপর ক্রমবর্ধমান পরিবেশগত চাপ বাঘের অস্তিত্বের জন্য ঝুঁকি তৈরি করছে। বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত ২৫ বছরে সুন্দরবনে ৬১টি বাঘের মৃত্যু হয়েছে।
তবে আশার খবর হলো, নানা প্রতিকূলতার মধ্যেও সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ধীরে ধীরে বাড়ছে। গত কয়েক দফার ক্যামেরা ট্র্যাপিংভিত্তিক জরিপে দেখা গেছে, প্রতি জরিপে গড়ে প্রায় ১০টি করে বাঘ বেড়েছে। বনজীবী, বনকর্মী ও পর্যটকদের ভাষ্যেও আগের তুলনায় সুন্দরবনে বাঘের উপস্থিতি এখন বেশি চোখে পড়ছে। সম্প্রতি বন বিভাগের ক্যামেরায়ও একাধিক বাঘ ধরা পড়েছে।
বুধবার (২৯ জুলাই) বিশ্ব বাঘ দিবস। সুন্দরবনসংলগ্ন জেলার মানুষকে সম্পৃক্ত করতে গত কয়েক বছর ধরে ঢাকার বাইরে জাতীয়ভাবে দিবসটি পালন করা হচ্ছে। এবারের প্রতিপাদ্য ‘সবাই হই সচেতন, বাঘ করি সংরক্ষণ’।
চলতি বছরের ৪ জানুয়ারি সুন্দরবনে চোরাশিকারীদের পেতে রাখা ফাঁদ থেকে একটি বাঘিনীকে উদ্ধার করে বন বিভাগ। কয়েকদিন ধরে ফাঁদে আটকে থাকায় প্রায় ১০ বছর বয়সী বাঘিনীটির অবস্থা সংকটাপন্ন হয়ে পড়েছিল।
চিকিৎসার মাধ্যমে তাকে সুস্থ করে তোলার পর বন থেকে উদ্ধারের ছয় মাস পর গত ১২ জুলাই সুন্দরবনে অবমুক্ত করা হয়।
ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ে বাড়ছে বাঘের সংখ্যা
বন বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গত কয়েক বছর ধরে ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে সুন্দরবনে বাঘ গণনা করা হচ্ছে।
২০১৫ সালে প্রথম ক্যামেরা ট্র্যাপিংয়ের মাধ্যমে গণনায় সুন্দরবনে বাঘের সংখ্যা ছিল ১০৬টি। ২০১৮ সালে একই পদ্ধতিতে পরিচালিত জরিপে এ সংখ্যা দাঁড়ায় ১১৪টি। সর্বশেষ ২০২৪ সালের অক্টোবর মাসের জরিপে সুন্দরবনের বাংলাদেশ অংশে বাঘের সংখ্যা পাওয়া যায় ১২৫টি।
সাম্প্রতিক সময়েও সুন্দরবনে বাঘের উপস্থিতির একাধিক প্রমাণ মিলেছে। গত শুক্রবার (২৪ জুলাই) বিকেলে সুন্দরবনের আন্ধারমানিক ইকোট্যুরিজম কেন্দ্র এলাকায় একটি বাঘকে ঘুরে বেড়াতে দেখা যায়। এছাড়া ওই এলাকায় সম্প্রতি স্থাপন করা ২০টি ট্র্যাপ ক্যামেরায় এক সপ্তাহে ধারণ করা ছবি বিশ্লেষণ করে পৃথক তিনটি বাঘ শনাক্ত করেছে বন বিভাগ।
বন বিভাগ বলছে, আগের তুলনায় বাঘের লোকালয়ে চলে আসার প্রবণতা কমেছে। একই সঙ্গে মানুষ ও বাঘের সংঘাতও কমেছে। বনকর্মী ও পর্যটকদের অনেকেই এখন জোড়া জোড়া বাঘ দেখতে পাচ্ছেন।
৫ দিন আগে
ছয় বছরে হয়েছে ২ শতাংশ কাজ, অনিশ্চয়তায় ঝিনাইদহ-যশোর ৬ লেন প্রকল্প
বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে উইকেয়ার ফেজ-১-এর আওতায় ঝিনাইদহ-যশোর মহাসড়ক (এন-৭) ছয় লেনে উন্নীতকরণ প্রকল্পে ভূমি অধিগ্রহণ করে প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তরের পরও ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের গাফিলতি ও ধীরগতির কারণে নির্মাণকাজ কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে। উল্টো মহাসড়কজুড়ে খোঁড়াখুঁড়ি ও খানাখন্দের কারণে জনভোগান্তি চরম আকার ধারণ করেছে।
চলতি বছরের ডিসেম্বরেই প্রকল্পের বর্ধিত মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা থাকলেও কাজের অগ্রগতি অত্যন্ত ধীর। প্রথম লটে অগ্রগতি প্রায় ১০ শতাংশ এবং দ্বিতীয় ও তৃতীয় লটে মাত্র ২ শতাংশ। ফলে নির্ধারিত সময়ে প্রকল্প শেষ হওয়ার সম্ভাবনা প্রায় নেই বলেই মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। ডিসেম্বর ২০২৬-এর পর বিশ্বব্যাংক আর অর্থায়ন করবে কি না, তা নিয়ে অনিশ্চয়তা রয়েছে। ফলে প্রকল্পটির বাস্তবায়ন বড় ধরনের অনিশ্চয়তার মুখে পড়েছে।
সূত্র জানিয়েছে, ঝিনাইদহ জেলা প্রশাসনের ভূমি অধিগ্রহণ শাখা কালীগঞ্জ এলাকায় প্রায় ৪৫ শতাংশ এবং ঝিনাইদহ সদর এলাকায় প্রায় ৫০ শতাংশ জমি অধিগ্রহণ করে সড়ক ও জনপথ অধিদপ্তরের প্রকল্প কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করেছে। প্রশাসনিক সহায়তা ও জমি বুঝিয়ে দেওয়ার পরও নির্মাণকাজে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি না হওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দায়িত্বশীলতা নিয়ে।
প্রকল্পের ধীরগতির জন্য শুরুতে জমি অধিগ্রহণকে দায়ী করা হলেও বর্তমানে মূল অভিযোগের তীর লট-২ ও ৩-এর ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান আব্দুল মোনায়েম লিমিটেড এবং লট-১-এর দায়িত্বে থাকা ম্যাক্স (এলআর বিসি-মিল জেভি, চীন)-এর স্থানীয় প্রতিনিধিদের দিকে। অভিযোগ রয়েছে, প্রয়োজনীয় জমি পাওয়ার পরও তারা কাজ এগিয়ে নিতে চরম গড়িমসি করছে।
প্রকল্প-সংশ্লিষ্টরা জানান, জমি অধিগ্রহণে সরকারের ছয়টি বিভাগের সমন্বয় প্রয়োজন হওয়ায় জরিপ ও পরিদর্শন প্রতিবেদনে বিলম্ব হয়েছিল। এতে শুরুতে অধিগ্রহণের গতি কিছুটা কম থাকলেও বর্তমানে জেলা প্রশাসন দ্রুতগতিতে জমির মালিকদের ক্ষতিপূরণ পরিশোধ করছে।
ঝিনাইদহের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (রাজস্ব) সুবীর কুমার দাশ বলেন, ‘আগামী তিন সপ্তাহের মধ্যে জমি অধিগ্রহণের কাজ ৬০ শতাংশ ছাড়িয়ে যাবে। আমাদের কোনো গাফিলতি নেই। বরং দ্রুততার সঙ্গে কাজ এগিয়ে চলছে। প্রকল্পটি যাতে এ অঞ্চলের মানুষের ভাগ্যোন্নয়নে সহায়ক হয়, সেভাবেই আমরা অধিগ্রহণের কাজ এগিয়ে নিচ্ছি।’
৬ দিন আগে
ব্রুসেলোসিসে কমছে গাভীর দুধ, বছরে আড়াই কোটি টাকার ক্ষতি: বাকৃবির গবেষণা
বাংলাদেশের দুগ্ধ খাতে ব্রুসেলোসিস একটি নীরব কিন্তু বড় অর্থনৈতিক হুমকি হয়ে উঠেছে। এ রোগে আক্রান্ত দুগ্ধবতী গাভীর দৈনিক গড়ে প্রায় এক লিটার দুধ উৎপাদন কমে যায়। প্রায় ২ হাজার ৭০০ গাভীর ওপর পরিচালিত এক গবেষণায় দেখা গেছে, এ কারণে খামারিরা প্রতিবছর প্রায় আড়াই কোটি টাকার অর্থনৈতিক ক্ষতির মুখে পড়ছেন।
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের (বাকৃবি) একদল গবেষক দুই বছর ধরে পরচালিত গবেষণায় এ তথ্য পেয়েছেন।
সরকারের লাইভস্টক অ্যান্ড ডেইরি ডেভেলপমেন্ট প্রজেক্ট (এলডিডিপি)-এর অর্থায়নে এবং প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের সহযোগিতায় পরিচালিত গবেষণাটি সম্প্রতি আন্তর্জাতিক গবেষণা সাময়িকী অ্যানিমেল ডিজিজ-এ প্রকাশিত হয়েছে।
গবেষক দল ইউএনবিকে জানান, খামারিরা সাধারণত গাভীর গর্ভপাত হলেই ব্রুসেলোসিসের কথা ভাবেন। কিন্তু লক্ষণহীন সুপ্ত সংক্রমণেও গাভীপ্রতি দৈনিক গড়ে প্রায় আধা লিটার এবং সক্রিয় সংক্রমণে প্রায় এক লিটার বা তারও বেশি দুধ উৎপাদন কমে যায়। ফলে খামারিরা না বুঝেই প্রতিদিন বড় ধরনের আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হচ্ছেন।
গবেষকরা পরামর্শ দেন, খামারে গর্ভপাত, গর্ভফুল আটকে যাওয়া, গাভী গরম না হওয়া বা বারবার প্রজননে ব্যর্থতার মতো লক্ষণ দেখা দিলে দ্রুত ভেটেরিনারিয়ানের পরামর্শ নিয়ে পরীক্ষা করানো উচিত।
গবেষণার নেতৃত্ব দেন বাকৃবির মেডিসিন বিভাগের ল্যাবরেটরি অব এপিডেমিওলজি অ্যান্ড প্রিভেন্টিভ মেডিসিনের অধ্যাপক ড. এ কে এম আনিসুর রহমান। গবেষক দলে ছিলেন একই বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. সিদ্দিকুর রহমান, অধ্যাপক ড. এম আরিফুল ইসলাম, জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ও পিএইচডি গবেষক ডা. মো. শফিউল আলম, মাস্টার্স শিক্ষার্থী মো. নাজমুল ইসলাম লিজান, বিশ্ব জ্যোতি অধিকারী, শান্তা ইসলাম, আর এস মাহমুদ হাসান এবং মিল্কভিটার ভেটেরিনারি কর্মকর্তা ও পিএইচডি গবেষক মুহাম্মদ আকতারুজ্জামান।
অধ্যাপক ড. এ কে এম আনিসুর রহমান বলেন, সক্রিয় ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত একটি গাভী সুস্থ গাভীর তুলনায় দৈনিক গড়ে ১ দশমিক ০১ লিটার এবং সুপ্ত সংক্রমণে আক্রান্ত গাভী ০ দশমিক ৫৩ লিটার কম দুধ দেয়।
গবেষণা পদ্ধতি সম্পর্কে তিনি জানান, ২০২৩ সালের জানুয়ারি থেকে ২০২৪ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের প্রধান দুধ উৎপাদনকারী অঞ্চলের ১৭টি বড় বাণিজ্যিক খামারের ২ হাজার ৬৯৬টি দুগ্ধবতী গাভীর তথ্য ও দুধের নমুনা সংগ্রহ করা হয়। আধুনিক ল্যাব পরীক্ষার পাশাপাশি ‘বায়েসিয়ান মিক্সড-ইফেক্টস মাল্টিনোমিয়াল রিগ্রেশন’ পদ্ধতি ব্যবহার করে গাভীগুলোকে সুস্থ, সুপ্ত সংক্রমণ এবং সক্রিয় ব্রুসেলোসিসে আক্রান্ত—এই তিন শ্রেণিতে ভাগ করা হয়।
তিনি বলেন, সাধারণত ব্রুসেলোসিসকে শুধু ‘সুস্থ’ বা ‘আক্রান্ত’—এই দুইভাবে বিবেচনা করা হলেও এ গবেষণায় প্রথমবারের মতো সুপ্ত সংক্রমণকে আলাদাভাবে চিহ্নিত করা হয়েছে। বাইরে থেকে সুস্থ মনে হলেও এ ধরনের গাভীর দুধ উৎপাদন কমে যায় এবং পরবর্তীতে রোগটি সক্রিয় হওয়ার ঝুঁকি থাকে।
রোগ শনাক্তে ব্যবহৃত আধুনিক গাণিতিক বিশ্লেষণে বাকৃবির গবেষকদের সঙ্গে যৌথভাবে কাজ করেছেন গ্রিসের থেসালি বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞ লেফটেরিস মেলেটিস ও পলিক্রোনিস কস্তুলাস।
গবেষণার অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, বড় বাণিজ্যিক ডেইরি খামারগুলোতে শুধু ব্রুসেলোসিসের কারণে বছরে গড়ে প্রায় ২ কোটি ৪১ লাখ টাকার ক্ষতি হতে পারে, যার বড় অংশই দুধ উৎপাদন কমে যাওয়ার কারণে হয়।
ক্ষতি কমানোর উপায় নিয়ে অধ্যাপক আনিসুর রহমান বলেন, অর্থনৈতিক বিশ্লেষণে পরিকল্পিত গণটিকাদানকে সবচেয়ে লাভজনক পদ্ধতি হিসেবে পাওয়া গেছে। এতে প্রতি ১ টাকা বিনিয়োগে গড়ে ৮ টাকা ১৪ পয়সা পর্যন্ত ক্ষতি এড়ানো সম্ভব। তবে আক্রান্ত গরু শনাক্ত করে খামার থেকে বাদ দেওয়ার পদ্ধতি সরকারি ভর্তুকি ছাড়া সাধারণ খামারিদের জন্য ব্যয়বহুল।
গবেষক দলের সদস্য ও জেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. মো. শফিউল আলম বলেন, ব্রুসেলোসিস মানুষের জন্যও একটি বিপজ্জনক জুনোটিক রোগ। আক্রান্ত গরুর কাঁচা দুধ পান করা বা সংক্রমিত প্রাণীর সংস্পর্শে এলে মানুষও এ রোগে আক্রান্ত হতে পারে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশে ব্রুসেলোসিস নিয়ন্ত্রণে উচ্চ ঝুঁকির গাভী দ্রুত শনাক্তকরণ, নিয়মিত রোগ নজরদারি, প্রজননস্বাস্থ্য ব্যবস্থাপনা জোরদার এবং বড় খামারের পাশাপাশি ছোট খামারগুলোতেও এ বিষয়ে আরও বিস্তৃত গবেষণার প্রয়োজন রয়েছে।
৮ দিন আগে
লালমনিরহাটে সড়ক খুড়ে লাপাত্তা ঠিকাদার, জনদুর্ভোগে স্থানীয়রা
লালমনিরহাটের আদিতমারীতে একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়কের সংস্কারকাজ শুরু করে পাঁচ মাস ধরে ফেলে রেখেছে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান। কয়েক দফা চিঠি দিয়েও তাদের কাজে ফেরাতে পারেনি স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি)। বর্ষায় খোঁড়াখুঁড়ি অবস্থায় পড়ে থাকা সড়কটি এখন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়েছে, ফলে চরম দুর্ভোগে পড়েছেন পথচারী ও স্থানীয় বাসিন্দারা।
জানা গেছে, আদিতমারী উপজেলার মহিষখোচা, ভাদাই ও পলাশী ইউনিয়নের মানুষের উপজেলা সদরের সঙ্গে যোগাযোগের প্রধান সড়ক মহিষখোচা-বুড়িরহাট জেসি দীর্ঘদিন সংস্কার না হওয়ায় খানাখন্দে ভরে যায়। স্থানীয়দের দীর্ঘদিনের দাবির পর গ্রামীণ সড়ক মেরামত ও সংরক্ষণ প্রকল্পের আওতায় প্রায় পাঁচ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটি সংস্কারের উদ্যোগ নেয় এলজিইডি।
দরপত্রের মাধ্যমে ২ কোটি ৫৫ লাখ টাকায় কাজ পায় লালমনিরহাট সদর উপজেলার ভোলার চওড়া এলাকার মেসার্স শাকিল ট্রেডার্স।
এলজিইডি সূত্রে জানা যায়, নিয়মানুযায়ী দরপত্র শেষে গত ১২ জানুয়ারি ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি স্বাক্ষর হয়। চুক্তি মোতাবেক ১৮ জানুয়ারি কাজ শুরু করে ২৬ জুনের মধ্যে শেষ করার কথা ছিল। কিন্তু সড়ক খুঁড়ে, কিছু গাইডওয়াল নির্মাণ করে এবং প্রায় ২০ শতাংশ কাজ সম্পন্নের পর প্রথম বিল হিসেবে ১৮ লাখ টাকা উত্তোলন করে কাজ বন্ধ করে দেয় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান।
এরপর পাঁচ মাস পেরিয়ে গেলেও কাজ আর শুরু হয়নি। ফলে বর্ষার বৃষ্টিতে সড়কের বিভিন্ন অংশ আরও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং জনদুর্ভোগ বেড়েছে। জনদুর্ভোগ লাঘব ও এলজিইডির সুনাম রক্ষায় একাধিকবার চিঠি দিয়েও কাজে ফেরাতে পারেনি স্থানীয় প্রকৌশল দপ্তর।
স্থানীয় একটি সূত্রের দাবি, মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান থেকে ১১ শতাংশ লাভে কাজটি কিনে নিয়ে উপজেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি আমিনুর ইসলামের ভাই আলম কাজ শুরু করেছিলেন। কিন্তু ওই লাভের হিসাব ধরে কাজ করলে লোকসান হবে বুঝতে পেরে তিনি কাজ বন্ধ করে দেন। এ কারণে মূল ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানও এলজিইডির কোনো চিঠির জবাব দিচ্ছে না। ফলে কাজটি বাস্তবায়ন করা অনিশ্চিত হয়ে পড়েছে।
এদিকে, সড়কের বিভিন্ন স্থানে বড় বড় গর্ত সৃষ্টি হওয়ায় প্রতিদিনই ছোট-বড় দুর্ঘটনা ঘটছে। যানবাহনের পাশাপাশি ব্যবসায়ীদের পণ্যও ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। স্থানীয়দের দাবি, ঠিকাদারের জামানত বাজেয়াপ্ত করে নতুন ঠিকাদার নিয়োগ দিয়ে দ্রুত সড়কটির সংস্কার শেষ করা হোক।
স্থানীয় স্কুলছাত্রী সোনিয়া সুলতানা বলেন, ‘প্রতিদিন অটোরিকশায় এ পথ দিয়ে বিদ্যালয়ে যেতে হয়। অটোরিকশায় উঠলেই ভয় লাগে। অটোরিকশা শুধু কাঁপে; কখন যে গর্তে পড়ে হাত পা ভেঙে যায়, সেই আশঙ্কায় থাকি।’
স্থানীয় স্কুলশিক্ষক শাওন বলেন, তিন-চার বছর ধরে ভাঙা সড়ক দিয়ে চলাচল করেছি। দীর্ঘ দাবির পরিপ্রেক্ষিতে সংস্কারকাজ শুরু হওয়ায় স্বস্তি পেয়েছিলাম। কিন্তু কাজ শুরুর পরই ঠিকাদার চলে যাওয়ায় এখন আগের চেয়েও কয়েকগুণ দুর্ভোগ বেড়েছে। এখন মনে হয়, আগের খানাখন্দরই ভালো ছিল, মাঝে মধ্যে গর্ত থাকলেও কিছু স্থান ভাল ছিল; এখন পুরো পথেই চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়েছে। দ্রুত সড়কটির সংস্কারের দাবি করেন তিনি।
মহিষখোচার ব্যবসায়ী গোলাম কবির বলেন, সড়কটি খুড়ে রাখায় ৫ মাস ধরে বড় ট্রাক ঢুকছে না। ফলে ছোট ট্রাকে পণ্য আনতে হচ্ছে। এতে খরচ বেড়ে গেছে। একটি সড়ক সংস্কার করতে যদি ৬ মাস সময় লাগে। তাহলে ব্যবসা বাণিজ্য করব কীভাবে?
অভিযোগের বিষয়ে নির্মাণকাজ পরিচালনাকারী আলম বলেন, ‘বৃষ্টির কারণে আপাতত কাজ বন্ধ রাখা হয়েছে। বৃষ্টি শেষ হলে আবার কাজ শুরু করা হবে।’
আদিতমারী উপজেলা প্রকৌশলী একেএম ফজলুল হক বলেন, আমরা ঠিকাদারী প্রতিষ্ঠানকে কয়েক দফায় চিঠি দিয়েছি কাজ সমাপ্ত করার জন্য, কিন্তু তারা সাড়া দিচ্ছে না। কাজটি দ্রুত সমাপ্ত করতে ঠিকাদারের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
লালমনিরহাট এলজিইডির নির্বাহী প্রকৌশলী কাওছার আলম বলেন, জনদুর্ভোগের বিষয়টি জেনেছি। আমি ব্যাক্তিগত ভাবে ওই ঠিকাদারকে অফিসে ডেকে এনে চাপ প্রয়োগ করেছি। তিনি আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে পুনরায় কাজ শুরু করে দ্রুত শেষ করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন। আশা করছি, দ্রুতই মানুষের দুর্ভোগ লাঘব হবে।
১২ দিন আগে