বিশেষ-সংবাদ
পশুখাদ্যের দাম বাড়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় খামারিরা, ভারতীয় গরু প্রবেশ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপের দাবি
পবিত্র ঈদুল আজহাকে সামনে রেখে চাঁপাইনবাবগঞ্জে কোরবানির পশুর প্রস্তুতি প্রায় সম্পন্ন হলেও পশুখাদ্যের দাম অস্বাভাবিকভাবে বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন খামারিরা। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরুর অবৈধ প্রবেশ বন্ধে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন তারা।
জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, এবার জেলায় কোরবানির জন্য প্রস্তুত করা হয়েছে ২ লাখ ২৬ হাজার ৫০টি পশু। এর মধ্যে রয়েছে গরু, ছাগল, ভেড়া ও মহিষ। জেলার মোট চাহিদা ১ লাখ ৬৭ হাজার ২০২টি হলেও অতিরিক্ত রয়েছে ৫৮ হাজার ৮৪৮টি পশু।
জেলার বিভিন্ন এলাকা ঘুরে দেখা গেছে, খামার ও বাড়িতে চলছে পশুর নিবিড় পরিচর্যা। খামারিরা জানান, প্রাকৃতিক উপায়ে পুষ্টিকর খাবার খাইয়ে পশু মোটাতাজা করা হচ্ছে। তবে পশুখাদ্যের দাম বৃদ্ধিতে উৎপাদন খরচ বেড়ে যাওয়ায় লাভ নিয়ে শঙ্কায় রয়েছেন তারা। পাশাপাশি সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় গরু প্রবেশ করলে স্থানীয় খামারিরা আর্থিক ক্ষতির মুখে পড়বেন বলেও আশঙ্কা করছেন তারা।
১৬৬ দিন আগে
আজ থেকে বাজারে মিলছে সাতক্ষীরার ‘হিমসাগর’ আম
প্রশাসনের নির্ধারিত ‘আম ক্যালেন্ডার’ অনুযায়ী সাতক্ষীরার জনপ্রিয় আম ‘হিমসাগর’ আজ থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বাজারে উঠতে শুরু করেছে। শুক্রবার সকাল থেকে জেলার বাগানগুলোতে এই সুস্বাদু আম সংগ্রহের উৎসবে মেতেছেন চাষিরা।
বর্তমানে স্থানীয় বাজারে প্রতি মণ হিমসাগর আম পাইকারি দরে ২,৩০০ থেকে ২,৪০০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে।
স্থানীয় চাহিদ মিটিয়ে সাতক্ষীরার এই আম এখন বিদেশের মাটিতেও সুবাস ছড়াচ্ছে। শহরের কুকরালী এলাকার আম চাষি হাফিজুল ইসলাম খোকার বাগান থেকে হিমসাগর আম ইংল্যান্ড ও ইতালিতে রপ্তানি শুরু হয়েছে। হাফিজুল ইসলাম জানান, আজ তার বাগান থেকে চার টন আম বিদেশের উদ্দেশ্যে পাঠানো হচ্ছে।
সাতক্ষীরা সদর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা মনির হোসেন জানান, হিমসাগর আম এখন পুরোপুরি পরিপক্ব এবং বাজারজাতকরণের উপযোগী। তিনি আরও জানান, সরকারি সময়সূচি অনুযায়ী আগামী ২৭ মে ল্যাংড়া এবং ৫ জুন থেকে আম্রপালি জাতের আম সংগ্রহ ও বিক্রি করতে পারবেন চাষিরা।
উল্লেখ্য, গত ৫ মে গোবিন্দভোগ ও গোপালভোগ জাতের আম সংগ্রহের মধ্য দিয়ে জেলায় এ বছরের আম মৌসুম শুরু হয়। এ বছর সাতক্ষীরা জেলায় মোট ৭০ হাজার টন আম উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। এর মধ্যে অন্তত ১০০ মেট্রিক টন আম বিদেশে রপ্তানির আশা করছে কৃষি বিভাগ।
১৬৬ দিন আগে
বদরগঞ্জে গুদামে নষ্ট হচ্ছে জব্দ হওয়া চাল, ব্যবস্থা নিতে খাদ্য বিভাগের ‘টালবাহানা’
রংপুরের বদরগঞ্জে প্রায় এক বছর আগে জব্দ করা সরকারি সিলমোহরযুক্ত ১৮৩ বস্তা চাল গুদামে পড়ে থেকে নষ্ট হচ্ছে। উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) একাধিকবার অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা করার নির্দেশ দিলেও রহস্যজনক কারণে তা কার্যকর করেনি খাদ্য বিভাগ। পাঁচ মাস আগে তৎকালীন ইউএনও বদলি হয়ে যাওয়ার পর বিষয়টি কার্যত ধামাচাপা পড়ে যায়। এদিকে অভিযুক্ত ব্যবসায়ীর সরকারি গুদামে অবাধ যাতায়াত এবং চাল রদবদলের নতুন অভিযোগে জনমনে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।
ঘটনার প্রেক্ষাপট
জানা গেছে, গত বছরের ২০ মে বদরগঞ্জ সরকারি গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তার যোগসাজশে ট্রলিযোগে ১৫৬ বস্তা চাল পাচার করে মধুপুর ইউনিয়নের বোর্ডঘরা এলাকার চাল ব্যবসায়ী বাপ্পী সাহার গদিতে নেওয়া হচ্ছিল। ওই সময় গদিঘরের উঠানে ট্রলিভর্তি চাল আটক করেন স্থানীয় ছাত্র সমন্বয়ক ও এলাকাবাসী। খবর পেয়ে তৎকালীন ইউএনও মিজানুর রহমান ঘটনাস্থলে গিয়ে সরকারি সিলমোহরযুক্ত ১৫৩ বস্তা চাল জব্দ করেন।
পরদিন আবারও অভিযান চালিয়ে ওই গদিঘর থেকে আরও ২৭ বস্তা সরকারি চাল জব্দ করা হয়। দুই দিনে জব্দ করা মোট ১৮৩ বস্তা চাল পুনরায় সরকারি গুদামে জমা রাখা হয়। তবে দীর্ঘদিনেও মামলা না হওয়ায় পার পেয়ে যাচ্ছেন অভিযুক্ত ওই ব্যবসায়ী।
খাদ্য বিভাগের রহস্যজনক ভূমিকা
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক স্থানীয় কয়েকজন চালকল মালিকের অভিযোগ, চাল ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা হলে গুদাম কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রকও ফেঁসে যেতে পারেন। মূলত নিজেদের রক্ষা করতেই খাদ্য বিভাগ মামলা করতে টালবাহানা করছে।
তারা আরও জানান, ওই ব্যবসায়ীর দোকান গুদামের পাশেই হওয়ায় তিনি অধিকাংশ সময় গুদামেই অবস্থান করেন। অভিযোগ রয়েছে, গুদাম কর্মকর্তা ও উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক আর্থিক সুবিধা নিয়ে তার মাধ্যমে গুদামের ভালো চাল বাইরে পাচার করে নিম্নমানের চাল ঢোকাচ্ছেন। এ কারণে ওই ব্যবসায়ী কর্মকর্তাদের অত্যন্ত আস্থাভাজন হয়ে উঠেছেন।
অভিযুক্ত ও কর্মকর্তারা যা বলছেন
অভিযুক্ত ব্যবসায়ী বাপ্পী সাহা অবশ্য দাবি করেছেন, চালগুলো তার নিজের কেনা। তৎকালীন ইউএনও তার কোনো কথা না শুনেই চালগুলো জব্দ করে গুদামে নিয়ে গেছেন বলে তিনি অভিযোগ করেন।
বদরগঞ্জ সরকারি গুদামের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি-এলএসডি) রায়হান কবির বলেন, ‘চালগুলো প্রায় এক বছর ধরে গুদামে পড়ে নষ্ট হচ্ছে। মামলা না হওয়ায় এর কোনো সুরাহা করা যাচ্ছে না।’ তবে ব্যবসায়ীর সঙ্গে সখ্যতা বা চাল রদবদলের অভিযোগ তিনি অস্বীকার করেন।
উপজেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক বিপ্লব কুমার সিং বলেন, ‘ইউএনও মামলা করতে বললেও চালগুলো বাস্তবে ওই ব্যবসায়ীর কেনা ছিল। এ কারণেই তার বিরুদ্ধে মামলা করা হয়নি।’
প্রশাসনের অবস্থান
তৎকালীন ইউএনও মিজানুর রহমান মুঠোফোনে জানান, ‘সরকারি সিলমোহরযুক্ত বস্তা জব্দ করার পর আমি খাদ্য নিয়ন্ত্রককে মামলা করার স্পষ্ট নির্দেশ দিয়েছিলাম। চালগুলো ব্যক্তিগত নাকি সরকারের, তা আদালতেই প্রমাণিত হতো। কিন্তু খাদ্য নিয়ন্ত্রক কেন মামলা করেননি, তা আমার বোধগম্য নয়।’
বর্তমান ইউএনও আঞ্জুমান সুলতানা বলেন, ‘আমি এখানে যোগ দেওয়ার পর বিষয়টি সম্পর্কে অবহিত ছিলাম না। এখন বিষয়টি খতিয়ে দেখে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।’
রংপুরের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রুহুল আমিন জানান, তিনি জেলায় নতুন এসেছেন এবং বিষয়টি তার জানা নেই। তবে দ্রুতই খাদ্য অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকে এ বিষয়ে বিস্তারিত খোঁজ নেবেন বলে তিনি আশ্বাস দেন।
১৬৮ দিন আগে
মাদকের আখড়া থেকে ‘গোলাপী শিশুপার্ক’: বদলে গেছে কুমিল্লার এক জরাজীর্ণ স্কুল
একসময় জরাজীর্ণ দশা আর মাদকসেবীদের অভয়ারণ্য হিসেবে পরিচিত ছিল কুমিল্লা রেলওয়ে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়। ছিল না ব্যবহারের উপযোগী কোনো শৌচাগার; শৌচাগারের বর্জ্য আর মাঠের ডোবার পানি মিশে একাকার হয়ে থাকত সবসময়। বিদ্যালয়ের শ্রেণিকক্ষেও পানি জমত। এমন অস্বাস্থ্যকর ও নোংরা পরিবেশের কারণে শিক্ষার্থীরা স্কুলে আসতে চাইত না, ফলে বাড়তে থাকে ঝরে পড়ার হার। তবে সেই প্রায় পরিত্যক্ত স্কুলটিই এখন গোলাপী রঙে রাঙানো এক দৃষ্টিনন্দন শিশুপার্কে রূপান্তরিত হয়েছে।
আগে যেখানে কেবল নিম্নবিত্ত পরিবারের সন্তানরা আসত, এখন পরিবেশের আমূল পরিবর্তন দেখে মধ্যবিত্ত পরিবারের অভিভাবকরাও তাদের সন্তানদের এখানে পাঠাচ্ছেন।
সরেজমিন পরিদর্শনে দেখা যায়, স্কুলের উত্তর-পূর্ব কোণে স্থাপন করা হয়েছে দোলনা ও স্লিপার। সেখানে খুদে শিক্ষার্থীদের হুড়োহুড়ি আর উচ্ছ্বাস বাতাসে আনন্দের ঢেউ তুলছে। মাঠের লেকে ফুটেছে লাল শাপলা, আর ফুলের বাগানে পাখিদের কলকাকলিতে মুখরিত চারপাশ। বিদ্যালয়ের আঙিনায় পতপত করে উড়ছে লাল-সবুজের জাতীয় পতাকা। শিক্ষার্থী ও অভিভাবকদের বসার জন্য তৈরি করা হয়েছে আধুনিক বেঞ্চ। পরিবেশের দিক থেকে অভিভাবকরা এখন এটিকে কুমিল্লা জেলার অন্যতম সেরা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় হিসেবে দাবি করছেন।
১৬৮ দিন আগে
কচুয়ায় উদ্বোধনের আগেই সেতুর সংযোগ সড়কে ধস, জনমনে ক্ষোভ
চাঁদপুরের কচুয়া উপজেলায় নির্মাণাধীন একটি গার্ডার সেতুর উদ্বোধন হওয়ার আগেই এর সংযোগ সড়কে (অ্যাপ্রোচ রোড) ধস দেখা দিয়েছে। একইসঙ্গে সড়কের মাটি ও প্রতিরক্ষা দেওয়াল (গার্ডওয়াল) সরে গিয়ে সেতুর মূল কাঠামো ঝুঁকির মুখে পড়েছে। নিম্নমানের কাজের অভিযোগে স্থানীয় বাসিন্দাদের মধ্যে চরম ক্ষোভ ও অসন্তোষ বিরাজ করছে।
স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) সূত্রে জানা গেছে, বাংলাদেশ সরকার ও বিশ্বব্যাংকের যৌথ অর্থায়নে ‘প্রোগ্রাম ফর সাপোর্টিং রুরাল ব্রিজেস’ প্রকল্পের আওতায় এই কাজ বাস্তবায়িত হচ্ছে। উপজেলার বিতারা ইউনিয়নের মাঝিগাছা-নিন্দপুর রঙের বাজার সংযোগ সড়কের হরিপুর গ্রামে প্রায় ১২ মিটার দীর্ঘ এই আরসিসি গার্ডার সেতু ও সংযোগ সড়ক নির্মাণের দায়িত্ব পায় ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান মেসার্স হারুন অ্যান্ড সন্স। প্রকল্পে ব্যয় ধরা হয়েছে ২ কোটি ৩১ লাখ ৭১ হাজার ১১৬ টাকা।
সরেজমিনে দেখা যায়, সেতুর দুই পাশের গার্ডওয়ালের নিচের মাটি সরে বড় বড় গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। সংযোগ সড়কের বিভিন্ন স্থানে বিশাল ফাটল দেখা দিয়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই মাটি ধুয়ে কার্পেটিং নষ্ট হয়ে যাচ্ছে। ফলে সেতুটি চলাচলের জন্য পুরোপুরি উপযোগী হওয়ার আগেই ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দা হযরত আলী ও জিলানী ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, সেতুর কাজ এখনো শেষ হয়নি, এর মধ্যেই যদি রাস্তা ভেঙে পড়ে, তাহলে বর্ষাকালে কী হবে? কোটি কোটি টাকা ব্যয়ে এমন নিম্নমানের কাজ কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না। আমরা এর সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করছি।
এ বিষয়ে ঠিকাদার মো. হারুনুর রশিদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হলে তিনি বলেন, বৃষ্টির কারণে সেতুর সংযোগ অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে, যা বর্তমানে মেরামত করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে কোনো সমস্যা হলে সেটিও সংস্কার করে দেওয়া হবে।
কচুয়া উপজেলা প্রকৌশলী আব্দুল আলীম লিটন বলেন, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টির কারণে সেতুর কিছু অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বিষয়টি আমরা তদন্ত করছি। তদন্তে কোনো গাফিলতি বা অনিয়ম পাওয়া গেলে জড়িতদের বিরুদ্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, ঠিকাদারকে এখনও চূড়ান্ত বিল দেওয়া হয়নি। কাজের গুণগত মান যাচাই করার পর বিধি অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৭০ দিন আগে
নওগাঁয় আম সংগ্রহের সময়সূচি নির্ধারণ: লক্ষ্যমাত্রা ৪ হাজার কোটি টাকা
নওগাঁয় চলতি মৌসুমে নিরাপদ ও পরিপক্ব আম বাজারজাত নিশ্চিত করতে আম সংগ্রহের সময়সূচি (ম্যাঙ্গো ক্যালেন্ডার) ঘোষণা করেছে জেলা প্রশাসন। সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ মে থেকে পর্যায়ক্রমে বিভিন্ন জাতের আম বাগান থেকে নামাতে পারবেন চাষিরা।
নওগাঁ জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে রবিবার (১০ মে) বিকেলে আয়োজিত এক মতবিনিময় সভায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
সভায় জানানো হয়, জেলায় এ বছর ৩০ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আম বাগান রয়েছে। উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৮৭ হাজার ২৩৫ টন। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে জেলা থেকে এবার প্রায় ৪ হাজার কোটি টাকার আম বিক্রির সম্ভাবনা রয়েছে।
কবে কোন জাতের আম
প্রশাসনের নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ২২ মে থেকে সব ধরনের গুটি জাতের আম সংগ্রহ করা যাবে। উন্নত জাতের আমের মধ্যে ৩০ মে থেকে গোপালভোগ, ২ জুন ক্ষীরসাপাত বা হিমসাগর, ৫ জুন নাক ফজলি এবং ১০ জুন থেকে ল্যাংড়া ও হাঁড়িভাঙা আম সংগ্রহের অনুমতি দেওয়া হয়েছে।
এছাড়া ১৫ জুন আম্রপালি, ২৫ জুন ফজলি ও ব্যানানা ম্যাঙ্গো এবং আগামী ৫ জুলাই থেকে আশ্বিনা, বারি আম-৪, গৌড়মতি ও কাটিমন আম পর্যায়ক্রমে বাজারে আসবে।
সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ সাইফুল ইসলাম। তিনি জানান, অপরিপক্ব আম বাজারজাতকরণ ঠেকাতে প্রতি বছরের মতো এবারও সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে। তবে বিশেষ কোনো দুর্যোগ বা প্রাকৃতিক কারণে কোনো বাগানের আম আগে পেকে গেলে, সেক্ষেত্রে সংশ্লিষ্ট উপজেলা প্রশাসনের অনুমতি নিয়ে তা সংগ্রহ করা যাবে।
অধিক মুনাফার আশায় অসাধু উপায়ে নির্ধারিত সময়ের আগে আম না নামানোর জন্য চাষি ও ব্যবসায়ীদের সতর্ক করা হয়েছে। নওগাঁর আমের সুনাম রক্ষায় বাগান ও হাটগুলোতে প্রশাসনের পক্ষ থেকে কঠোর নজরদারি চালানো হবে বলেও সভায় জানানো হয়।
মতবিনিময় সভায় জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোছা. হোসনে আরা মন্ডলসহ জেলা-উপজেলার কৃষি কর্মকর্তা, আমচাষি ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
১৭০ দিন আগে
সীমান্তে মাদকের বিষাক্ত নিশ্বাস: ফুলবাড়ীতে বাড়ছে অপরাধ ও আত্মহত্যার প্রবণতা
উত্তরের সীমান্তঘেঁষা জেলা কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলায় উদ্বেগজনক হারে বাড়ছে মাদকাসক্তি। মরণনেশার এই করাল গ্রাসে বিপথগামী হচ্ছে তরুণ ও যুবসমাজ, বাদ যাচ্ছে না স্কুল-কলেজপড়ুয়া শিক্ষার্থীরাও। মাদকাসক্তির জেরে চুরি, ছিনতাইসহ পাল্লা দিয়ে বাড়ছে সামাজিক অপরাধ। ফলে চরম উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন কাটছে অভিভাবক, শিক্ষক ও সচেতন নাগরিকদের।
স্থানীয়দের অভিযোগ, সীমান্তবর্তী এলাকাগুলোতে মাদক সহজলভ্য হয়ে পড়ায় তরুণদের নিয়ন্ত্রণে রাখা কঠিন হয়ে যাচ্ছে। প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত থাকলেও পরিস্থিতির দৃশ্যমান কোনো উন্নতি হচ্ছে না। এই অবস্থায় মাদকবিরোধী কঠোর পদক্ষেপের দাবি তুলেছেন স্থানীয়রা।
নেশার বলি চন্দন: একটি পরিবারের স্বপ্নভঙ্গ
সম্প্রতি ফুলবাড়ীর কুরুষাফেরুষা গ্রামের বাসিন্দা চন্দন কুমার রবিদাসের (৩৫) আত্মহত্যার ঘটনা পুরো উপজেলাকে নাড়িয়ে দিয়েছে। পেশায় স্বর্ণকার চন্দন এক ছেলে ও দুই মেয়ের জনক ছিলেন। বালারহাট বাজারে তিল তিল করে গড়ে তুলেছিলেন নিজের জুয়েলারি দোকান। কিন্তু মাদকাসক্তি তার সাজানো সংসার তছনছ করে দিয়েছে।
পারিবারিক সূত্রে জানা যায়, উপার্জনের সিংহভাগই তিনি ব্যয় করতেন নেশার পেছনে। পরিবারের শত চেষ্টাতেও তাকে ফেরানো সম্ভব হয়নি। নেশার ঘোরে প্রায়ই স্ত্রী-সন্তান ও বাবা-মায়ের সঙ্গে অশান্তি লেগে থাকত। গত ৮ মে তিনি গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করেন।
চন্দনের বাবা দ্বীনেশ কুমার রবিদাস কান্নাজড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘মাদক আমার ছেলেকে শেষ করে দিল। কয়েকবার চিকিৎসা করিয়েও তাকে ফেরাতে পারিনি। এখন তার ছোট ছোট সন্তানদের আহাজারি সইতে পারছি না। আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়!’
বালারহাট বাজারের ব্যবসায়ী কিশোর কুমার ভট্টাচার্য বলেন, ‘চন্দন অত্যন্ত ভদ্র ও হাসিখুশি মানুষ ছিল। তার আত্মহত্যা আমরা কেউ মেনে নিতে পারছি না। মাদক তাকে ধীরে ধীরে শেষ করে দিয়েছে।’
আড়ালে থাকা অন্য ট্র্যাজেডি
চন্দনের মৃত্যুর দিনই উপজেলার নাওডাঙ্গা এলাকায় এক বিধবা নারী আত্মহত্যা করেন। স্থানীয়দের দাবি, একমাত্র ছেলের মাদকাসক্তি ও তাকে সুপথে ফেরাতে ব্যর্থ হয়ে চরম হতাশায় তিনি আত্মহননের পথ বেছে নেন।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, নাওডাঙ্গা ইউনিয়নসহ পুরো উপজেলার বহু তরুণ বর্তমানে বিভিন্ন মাদক নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসাধীন। দরিদ্র কৃষিনির্ভর পরিবারগুলো ভিটেমাটি বিক্রি করেও সন্তানের চিকিৎসার ব্যয় মেটাতে হিমশিম খাচ্ছে।
গোরকমন্ডল এলাকার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক ভুক্তভোগী বলেন, ‘মাদক এখন পরিবার ধ্বংসের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। আমার ছোট ভাইও মাদকাসক্ত হয়ে পড়েছে। তাকে রংপুরের একটি নিরাময় কেন্দ্রে চিকিৎসা দিতে প্রতি মাসে প্রায় ৪০ হাজার টাকা খরচ হচ্ছে। একজন কৃষকের পক্ষে এটা বহন করা খুব কঠিন।’
নাওডাঙ্গা ইউনিয়নের বাসিন্দা আব্দুল মজিদ মানিক বলেন, ‘আমার নিজের ছেলেও একসময় মাদকে জড়িয়ে পড়েছিল। তাকে বাঁচাতে দুই দফায় নিরাময় কেন্দ্রে রাখতে হয়েছে। এমনকি, একপর্যায়ে পুলিশের হাতেও তুলে দিতে বাধ্য হয়েছি।’ সমাজের সবাই একসঙ্গে কাজ না করলে মাদক ঠেকানো সম্ভব নয় বলে মন্তব্য করেন এই পিতা।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য ও সামাজিক উদ্বেগ
নাওডাঙ্গা স্কুল অ্যান্ড কলেজের অধ্যক্ষ আব্দুল হানিফ সরকার বলেন, ‘সীমান্ত এলাকায় মাদকের বিস্তার এখন ভয়াবহ। অনেক শিক্ষার্থীও এর সঙ্গে জড়িয়ে পড়ছে। আমরা সচেতনতামূলক কাজ করছি, তবে সামাজিক প্রতিরোধ ছাড়া এটি নির্মূল করা কঠিন।’
তিনি আরও বলেন, ‘মাদকাসক্তির কারণে অনেক তরুণ চুরি-ছিনতাইসহ বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে পড়ছে। এটি শুধু ব্যক্তি নয়, পুরো সমাজের জন্য হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
নাওডাঙ্গা ইউপি চেয়ারম্যান মো. হাছেন আলী মনে করেন, পরিবারের উদাসীনতাও এর জন্য দায়ী। তিনি বলেন, ‘বাড়ির ছেলে হঠাৎ দামী খাবার বা জিনিস নিয়ে এলে পরিবার আনন্দিত হয়, কিন্তু সেই টাকা কোথা থেকে আসছে তা খোঁজ নেয় না। এই অসচেতনতাই বিপদ ডেকে আনছে।’
ফুলবাড়ী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মাহমুদ হাসান নাঈম জানান, মাদক নির্মূলে পুলিশের অভিযান চলমান রয়েছে এবং প্রাপ্ত তথ্যের ভিত্তিতে নিয়মিত ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) দিলারা আক্তার বলেন, ‘সীমান্তবর্তী এলাকায় মাদকের প্রভাব বেশি। বিশেষ করে বালারহাট এলাকায় একটি স্থায়ী পুলিশ চেকপোস্ট স্থাপনের প্রয়োজনীয়তার বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে জানানো হয়েছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘শুধু প্রশাসনের উদ্যোগ যথেষ্ট নয়। পরিবারকে আরও সচেতন হতে হবে। সন্তান কোথায় যাচ্ছে, কার সঙ্গে মিশছে—এসব বিষয়ে অভিভাবকদের নজরদারি বাড়াতে হবে।’
স্থানীয় সচেতন মহলের আশঙ্কা, এখনই কার্যকর ও সমন্বিত উদ্যোগ না নিলে ফুলবাড়ীর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম এক ভয়াবহ বিপর্যয়ের মুখে পড়বে।
১৭১ দিন আগে
রংপুরে আলুর দামে ধস: লোকসান ও সংরক্ষণের অভাবে রাস্তায় ফেলছেন কৃষক
রংপুর অঞ্চলে আলুর কাঙ্ক্ষিত দাম না পাওয়ায় এবং সংরক্ষণের অভাবে চরম বিপর্যয়ের মুখে পড়েছেন চাষিরা। বাজারে বর্তমানে প্রতি কেজি আলু মাত্র ৫-৬ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে, যা উৎপাদন খরচের তুলনায় সামান্য। লোকসান এড়াতে ও পচন ধরায় অনেক কৃষক বাধ্য হয়ে বস্তাভর্তি আলু রাস্তার ধারে ফেলে দিচ্ছেন। কৃষি বিভাগের আশঙ্কা, এ মৌসুমে এই অঞ্চলে আলুর ক্ষতি প্রায় ৬ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যেতে পারে।
কৃষকদের তথ্যমতে, বর্তমানে পাইকারি বাজারে আলুর দর ৬ থেকে ৮ টাকা কেজি, তবে মাঠপর্যায়ে কৃষকের কাছ থেকে কেনা হচ্ছে ৪ থেকে ৫ টাকা কেজিতে। অথচ প্রতি কেজি আলু উৎপাদনে কৃষকের খরচ দাঁড়িয়েছে ১৮ থেকে ১৯ টাকা। গত বছরও উৎপাদন খরচের চেয়ে কম দামে (৮-১০ টাকা) আলু বিক্রি করতে হয়েছিল, তবে এ বছর পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ। কেজিতে ১০ থেকে ১৫ টাকা পর্যন্ত লোকসান গুনতে হচ্ছে চাষিদের।
কৃষি বিভাগের রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও লালমনিরহাটের ৯টি উপজেলার চাষিরা আলু সংরক্ষণ নিয়ে চরম বিপাকে পড়েছেন। বিশেষ করে গঙ্গাচড়া উপজেলায় সংকট সবচেয়ে বেশি। উপজেলার একমাত্র হিমাগারটির ধারণক্ষমতা ১ লাখ ৫০ হাজার বস্তা, যা এরই মধ্যে পূর্ণ হয়ে গেছে। ফলে কৃষকরা বাধ্য হয়ে বাড়িতে আলু মজুত করেন। কিন্তু সাম্প্রতিক টানা বৃষ্টি ও বৈরী আবহাওয়ার কারণে সেই আলুতেও দ্রুত পচন ধরেছে।
বৃহস্পতিবার (৭ মে) গঙ্গাচড়ার সদর ইউনিয়নের চেংমারী ও কুরিয়ার মোড় এলাকা ঘুরে দেখা যায়, শত শত বস্তাভর্তি পচা আলু রাস্তার ধারে ফেলে রাখা হয়েছে। কোথাও কোথাও স্তূপ করা আলু থেকে দুর্গন্ধ ছড়াচ্ছে।
কৃষক ও ব্যবসায়ীদের দাবি, দাম পড়ে যাওয়ায় বিক্রি করতে না পারায় এবং সংরক্ষণের অভাবে এসব আলু পচে নষ্ট হয়ে যাওয়ায় তারা বাধ্য হয়ে ফেলে দিচ্ছেন।
উপজেলা কৃষি অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, এ বছর গঙ্গাচড়ায় ৫ হাজার ৩১০ হেক্টর জমিতে আলু চাষ হয়েছে। উৎপাদন হয়েছে প্রায় ১ লাখ ৫৪ হাজার ২০৭ টন আলু, যা স্থানীয় চাহিদার তুলনায় বেশি। অতিরিক্ত উৎপাদন ও বাজার ব্যবস্থাপনায় ভারসাম্য না থাকায় আলুর দাম কমে গেছে।
১৭২ দিন আগে
হাইমচরে এক কিলোমিটার সড়ক এখন ‘মরণফাঁদ’
চাঁদপুরের হাইমচর উপজেলার আলগী দুর্গাপুর উত্তর ইউনিয়নের একটি গুরুত্বপূর্ণ সড়ক এখন স্থানীয়দের কাছে আতঙ্কের নাম হয়ে দাঁড়িয়েছে। ২ ইউনিয়নের ৭ নম্বর ওয়ার্ডের ছৈয়াল মোড় থেকে মরহুম আব্দুর রহমান চেয়ারম্যানের এতিমখানা মসজিদ পর্যন্ত এক কিলোমিটার দীর্ঘ এই সড়কটি বর্তমানে সংস্কারের অভাবে ‘মরণফাঁদে’ পরিণত হয়েছে।
সরেজমিনে দেখা যায়, মাত্র তিন বছর আগে নির্মিত এই সড়কটির কার্পেটিং উঠে গিয়ে বিশাল বিশাল গর্তের সৃষ্টি হয়েছে। বৃষ্টি হলে এসব খানাখন্দ ছোটখাটো পুকুরে রূপ নেয়। বিশেষ করে ছৈয়াল বাড়ি-সংলগ্ন পুকুরপাড় এলাকাটি এতটাই ঝুঁকিপূর্ণ যে, সেখান দিয়ে সাধারণ মানুষের চলাচল এখন দুঃসাধ্য। প্রতিনিয়ত ছোটবড় যানবাহন উল্টে এখানে নিয়মিত দুর্ঘটনা ঘটছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, সড়কের এই করুণ দশার পেছনে মূল কারণ ধারণক্ষমতার অতিরিক্ত বালু ও ইটবাহী অবৈধ ট্রাক্টর ও পাওয়ার ট্রলি। নিয়মিত এসব ভারী যানবাহন চলাচলের কারণে সড়কটির স্থায়িত্ব নষ্ট হয়ে গেছে। খানাখন্দের কারণে ভুক্তভোগী এলাকাবাসীর মধ্যে তীব্র ক্ষোভ বিরাজ করছে।
অটোরিকশাচালকরা জানান, এই রাস্তায় যাত্রী নিয়ে চলাচল করা এখন অসম্ভব হয়ে পড়েছে। কয়েকবার গাড়ি উল্টে যাত্রী আহত হওয়ার ঘটনায় অনেক চালক এখন এই পথে গাড়ি চালাতে ভয় পাচ্ছেন। বিশেষ করে রাতের অন্ধকারে এই সড়কে যাতায়াত সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিপূর্ণ।
সড়কটির বেহাল দশার কারণে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে স্কুল-কলেজ ও মাদ্রাসাগামী শত শত শিক্ষার্থী। সিয়াম ও হাফিজাসহ কয়েকজন শিক্ষার্থী জানায়, ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে কোনো যানবাহন এই পথে আসতে চায় না, আসলেও কয়েকগুণ বেশি ভাড়া দাবি করে। ফলে বাধ্য হয়ে তাদের দীর্ঘ পথ হেঁটে বিকল্প রাস্তায় যাতায়াত করতে হচ্ছে, যার কারণে সঠিক সময়ে ক্লাসে পৌঁছানো অনেক সময় সম্ভব হচ্ছে না। এছাড়া রাস্তার বালু উড়ে শ্বাসকষ্ট ও সর্দি-কাশির মতো স্বাস্থ্যঝুঁকিও বাড়ছে।
জনদুর্ভোগের বিষয়টি স্বীকার করে উপজেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ও সমাজসেবী মাজহারুল ইসলাম শফিক পাটওয়ারী বলেন, আমরা সমস্যাটি সম্পর্কে অবগত আছি। নির্বাচনের পর বরাদ্দ আসায় এই রাস্তাটিকে অগ্রাধিকার দিয়ে প্রকৌশলীর মাধ্যমে এস্টিমেট (প্রস্তাব) প্রস্তুত করে প্রধান নির্বাহী প্রকৌশলীর কার্যালয়ে পাঠানো হয়েছে। সরকারি প্রক্রিয়া শেষ হলেই দ্রুত কাজ হওয়ার ব্যাপারে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
উপজেলা স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তরের (এলজিইডি) প্রকৌশলী আশরাফুল হাসান জানান, চট্টগ্রাম বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ গ্রাম সড়ক শক্তিশালীকরণ প্রকল্পের আওতায় মহজমপুর ঈদগাহ থেকে ছৈয়াল বাড়ি পর্যন্ত সাড়ে ৮ কিলোমিটার সড়কটির সংস্কারের প্রস্তাবনা ইতোমধ্যে পাঠানো হয়েছে। এটি এলজিইডি আইডিভুক্ত সড়ক। অনুমোদন পেলেই দ্রুত কাজ শুরু করা সম্ভব হবে।
দীর্ঘদিন ধরে চলা এই অবর্ণনীয় কষ্ট লাঘবে আর কোনো কালক্ষেপণ না করে দ্রুত বাস্তবভিত্তিক পদক্ষেপ দেখতে চায় হাইমচরের এই জনপদের ভুক্তভোগী মানুষ।
১৭৩ দিন আগে
আর এক মাসের অপেক্ষা, হাঁড়িভাঙা আম ঘিরে রংপুরে ২৫০ কোটির বাণিজ্যের হাতছানি
রংপুরের ঐতিহ্য আর আভিজাত্যের প্রতীক হিসেবে বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পাওয়া ‘হাঁড়িভাঙা’ আমের জন্য অপেক্ষা আর মাত্র এক মাস। স্বাদ ও গন্ধে অতুলনীয় এই আমটি এখন জিআই (ভৌগোলিক নির্দেশক) পণ্য হিসেবে স্বীকৃত। আবহাওয়া অনুকূলে থাকলে চলতি মৌসুমে এই আমকে কেন্দ্র করে রংপুর অঞ্চলে ২৫০ কোটি টাকারও বেশি বাণিজ্যের সম্ভাবনা দেখছেন কৃষি কর্মকর্তারা।
কৃষি সংশ্লিষ্টরা বলছেন, হাঁড়িভাঙা আম এক বছর কম ফলন দেয়, পরের বছর আবার ভালো ফলন দেয়। যে বছর কম ফলন হয়, সেই বছরকে বলা হয় ‘অফ ইয়ার’। যে বছর ভালো ফলন দেয়, সেই বছরকে কৃষিবিদদের ভাষায় বলা হয়ে থাকে ‘অন ইয়ার’।
কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর রংপুর অঞ্চলের অতিরিক্ত পরিচালক সিরাজুল ইসলাম বলেন, আমরা আশা করছি, এ বছর ২৫০ কোটিরও বেশি টাকার বাণিজ্য হবে এই আমে। এবার হাঁড়িভাঙা আমের ‘অন ইয়ার’, অর্থাৎ এবার গাছে প্রচুর আম ধরেছে, যা গত বছরের চেয়ে অনেক বেশি বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
হাঁড়িভাঙা আমের বৈশিষ্ট্য
আঁশবিহীন, মিষ্টি ও সুস্বাদু এই আমের অন্যতম বৈশিষ্ট্য হলো এর পাতলা ছাল ও অত্যন্ত ছোট আঁটি। প্রতিটি আমের ওজন সাধারণত ২০০ থেকে ৩০০ গ্রাম পর্যন্ত হয়ে থাকে।
২০২৪ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি হাঁড়িভাঙা আম রংপুরের নিজস্ব জিআই পণ্য হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি লাভ করে।
উৎপাদন ও আবাদের চিত্র
রংপুর কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর জেলায় প্রায় সাড়ে ৩ হাজার হেক্টর জমিতে আম আবাদের লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। এর মধ্যে ৩ হাজার হেক্টরের বেশি জমিতে কেবল হাঁড়িভাঙা আমের চাষ হয়েছে। প্রতি হেক্টরে গড় ফলন ১০ থেকে ১২ টন হিসেবে মোট উৎপাদন ও বাজারমূল্য ২৫০ কোটি টাকা ছাড়িয়ে যাবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
কৃষি বিভাগ জানায়, গত কয়েক সপ্তাহের বৃষ্টি আম বড় ও রসালো হতে বিশেষ সাহায্য করেছে। যদিও মাঝখানে কিছু এলাকায় শিলাবৃষ্টি ও ঝোড়ো হাওয়ায় সামান্য ক্ষতি হয়েছে, তবে সার্বিকভাবে ফলন গত বছরের চেয়ে ভালো হওয়ার আশা করা হচ্ছে।
বাজারজাতকরণের সময়সূচি
কৃষি অফিসের তথ্য অনুসারে, এবার ডিসেম্বরের প্রথম দিক থেকেই গাছে আমের মুকুল আসতে শুরু করে। ফলে এ বছর ঠিক সময়ে গাছ থেকে আম পাড়া শুরু হবে বলে আশা করছে কৃষি বিভাগ।
কৃষিবিদ ও আমচাষিরা বলছেন, সাধারণত জুন মাসের মাঝামাঝি সময় থেকে পরিপক্ব হাঁড়িভাঙা আম বাজারে পাওয়া যাবে। এর আগে বাজারে আসা আমগুলো মূলত অপরিপক্ব থাকে। একটু বেশি দামের আশায় একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ী নিয়ম ভঙ্গ করে অপরিপক্ব আম বিক্রি করলেও প্রকৃত স্বাদ পেতে জুনের মাঝামাঝি পর্যন্ত অপেক্ষা করার পরামর্শ দিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
চাষিদের প্রত্যাশা ও শঙ্কা
মিঠাপুকুরের পদাগঞ্জ এলাকার আমচাষি ও তরুণ উদ্যোক্তা নাজমুল ইসলাম জানান, তিনি ১২ একরের বেশি জমিতে আমের চাষ করেছেন। সাম্প্রতিক শিলাবৃষ্টি ও ঝড়ে বাগানের কিছুটা ক্ষতি হলেও শেষ পর্যন্ত আবহাওয়া ভালো থাকলে আশানুরূপ ফলন পাওয়ার স্বপ্ন দেখছেন তিনি।
স্থানীয় পাইকারি ব্যবসায়ী আব্দুল মালেক বলেন, ঢাকা, চট্টগ্রাম ও সিলেটসহ দেশের বিভিন্ন স্থানের বড় বড় ব্যবসায়ীরা ইতোমধ্যেই যোগাযোগ শুরু করেছেন। এবার আমের দাম ও চাহিদা দুটোই সন্তোষজনক হবে বলে তার প্রত্যাশা।
জিআই স্বীকৃতি ও সম্ভাবনা
সুশাসনের জন্য নাগরিক (সুজন)-এর রংপুর জেলা সভাপতি অধ্যক্ষ ফখরুল আনাম বেঞ্জু বলেন, “হাঁড়িভাঙা আম এখন আর কেবল দেশের গণ্ডিতে সীমাবদ্ধ নেই। মালয়েশিয়া, সিঙ্গাপুরসহ দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার বিভিন্ন দেশে এই আম রপ্তানি হচ্ছে। জিআই পণ্য হিসেবে স্বীকৃতি পাওয়ার পর এর ‘ব্র্যান্ড ভ্যালু’ অনেক বেড়েছে। পাশাপাশি দেশের ভেতরে ফেসবুক ও ই-কমার্স প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি বাগান থেকে আম সরবরাহের হার গত কয়েক বছরে কয়েক গুণ বেড়েছে।
তিনি আরও বলেন, বিশাল এই বাণিজ্যের সম্ভাবনা থাকলেও হিমাগার বা আধুনিক সংরক্ষণ ব্যবস্থার অভাব নিয়ে চাষিদের কিছুটা দুশ্চিন্তা রয়েছে। আমটি দ্রুত পচনশীল হওয়ায় পরিবহনের জন্য বিশেষ ট্রেন বা দ্রুতগামী যানবাহনের ব্যবস্থা করার দাবি জানান তিনি।
১৭৪ দিন আগে