বিশেষ-সংবাদ
পদ্মায় পানি বাড়ায় ফেরি চলাচল ব্যাহত, পাটুরিয়ায় ফেরি-লঞ্চে ওঠানামায় বেড়েছে দুর্ভোগ
পদ্মা নদীতে পানি বৃদ্ধি ও তীব্র স্রোতের কারণে পাটুরিয়া-দৌলতদিয়া নৌরুটে ফেরি চলাচল মারাত্মকভাবে ব্যাহত হচ্ছে। এতে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের ২১ জেলার যাত্রী ও যানবাহন পারাপারে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
উজান থেকে নেমে আসা ঢলে পদ্মার পানি বেড়ে যাওয়ায় মানিকগঞ্জের পাটুরিয়ার পাঁচটি ফেরিঘাটের মধ্যে তিনটির পন্টুন ডুবে গেছে। ফলে ওই তিনটি ঘাট দিয়ে যানবাহন পারাপার বন্ধ রয়েছে। বর্তমানে শুধু ২ ও ৪ নম্বর ঘাট দিয়ে ফেরিতে যানবাহন ওঠানামা করছে। ঘাটের সংখ্যা কমে যাওয়ায় পারাপারে বিলম্ব হচ্ছে এবং ঘাট এলাকায় দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি হয়েছে। এতে দুর্ভোগে পড়েছেন যাত্রী ও যানবাহন চালকরা।
২৩ দিন আগে
দেড় বছর ধরে অচল সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের একমাত্র অ্যাম্বুলেন্স, ভোগান্তি চরমে
হাওরবেষ্টিত সুনামগঞ্জ জেলার মানুষের চিকিৎসার অন্যতম ভরসা ২৫০ শয্যার সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতাল। প্রতিদিন জেলার বিভিন্ন উপজেলা ও দুর্গম হাওরাঞ্চল থেকে শত শত রোগী চিকিৎসা নিতে এ হাসপাতালে আসেন। অথচ হাসপাতালের একমাত্র সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি প্রায় দেড় বছর ধরে অকেজো হয়ে পড়ে থাকায় জরুরি রোগী, প্রসূতি ও চিকিৎসকদের অন্য হাসপাতালে স্থানান্তরের পরামর্শ দেওয়া রোগীদের পরিবহনে চরম দুর্ভোগ সৃষ্টি হয়েছে।
জীবনরক্ষাকারী এ সেবা বন্ধ থাকায় অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হচ্ছেন রোগী ও তাদের স্বজনরা।
খোঁজ নিয়ে জানা গেছে, সদর হাসপাতাল থেকে উন্নত চিকিৎসার জন্য প্রতিদিনই রোগীদের সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ বিভিন্ন বিশেষায়িত হাসপাতালে পাঠানো হয়। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় রোগীদের বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করতে হচ্ছে। এতে কয়েক হাজার টাকা অতিরিক্ত ব্যয় হচ্ছে, যা নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের জন্য বড় ধরনের আর্থিক চাপ হয়ে দাঁড়িয়েছে। অনেক পরিবার চিকিৎসা ব্যয়ের পাশাপাশি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া জোগাতে ধারদেনাও করতে বাধ্য হচ্ছে।
হাসপাতাল সূত্রে জানা যায়, সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি একটি সড়ক দুর্ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার পর থেকেই অকেজো হয়ে পড়ে আছে। পরে এটি মেরামতের উদ্যোগ নেওয়া হলেও সচল করা সম্ভব হয়নি। পরবর্তীতে একটি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স হাসপাতালে আনা হলেও প্রয়োজনীয় মেরামতের অভাবে সেটিও এখন পর্যন্ত সেবায় যুক্ত করা যায়নি।
শান্তিগঞ্জ উপজেলার জয়কলস গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল হক বলেন, আমার এক আত্মীয়কে গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় সদর হাসপাতালে নিয়ে এসেছিলাম। পরে চিকিৎসক সিলেটে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় অনেক ভোগান্তিতে পড়তে হয়েছে। শেষ পর্যন্ত বেশি ভাড়া দিয়ে বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সে নিতে হয়েছে।
আরেক রোগীর স্বজন তোফাজ্জল হোসেন বলেন, সরকারি অ্যাম্বুলেন্স না থাকায় রোগী নিয়ে আমরা চরম ভোগান্তিতে পড়েছি। বেসরকারি অ্যাম্বুলেন্সের ভাড়া জোগাড় করতেই অনেক সময় চলে যায়। গরিব মানুষের জন্য এই খরচ বহন করা খুবই কঠিন।
জেলার সচেতন নাগরিকদের দাবি, হাওরাঞ্চলের মানুষের চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে দ্রুত সদর হাসপাতালের জন্য নতুন সরকারি অ্যাম্বুলেন্স বরাদ্দ এবং বিকল্প অ্যাম্বুলেন্স চালুর ব্যবস্থা নেওয়া জরুরি। একটি অ্যাম্বুলেন্সের অভাবে যেন কোনো রোগীর জীবন ঝুঁকিতে না পড়ে, সে বিষয়টি সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে বিবেচনা করা উচিত।
এ বিষয়ে সুনামগঞ্জ সদর হাসপাতালের তত্ত্বাবধায়ক ডা. মাহবুবুর রহমান বলেন, পুরোনো সরকারি অ্যাম্বুলেন্সটি অকেজো হয়ে যাওয়ায় বর্তমানে হাসপাতালে সরকারি কোনো অ্যাম্বুলেন্স নেই। একটি পুরোনো অ্যাম্বুলেন্স আনা হয়েছে, তবে সেটি এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি। নতুন একটি অ্যাম্বুলেন্সের জন্য ইতোমধ্যে চাহিদাপত্র পাঠানো হয়েছে।
২৪ দিন আগে
জলাবদ্ধতা ও অবকাঠামোগত সংকটে পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী বিদ্যালয়
একটি বিদ্যালয় শুধু পাঠদানের স্থান নয়; এটি শিশুদের নিরাপদ বেড়ে ওঠা, শারীরিক-মানসিক বিকাশ এবং ভবিষ্যৎ গঠনের ভিত্তি। কিন্তু পটুয়াখালীর ঐতিহ্যবাহী শেরেবাংলা বালিকা মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে দীর্ঘদিন ধরে জলাবদ্ধতা ও জরাজীর্ণ ভবনের কারণে সেই পরিবেশ ব্যাহত হচ্ছে। ফলে শুধু ভবনের ঝুঁকিই নয়, নিয়মিত পাঠদান, খেলাধুলা এবং সহশিক্ষা কার্যক্রমও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে। এতে শিক্ষার্থীদের শেখার সময় কমে যাচ্ছে এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের সুযোগ থেকেও তারা বঞ্চিত হচ্ছে।
১৯৬৯ সালে প্রতিষ্ঠিত দক্ষিণাঞ্চলের অন্যতম প্রাচীন এই বিদ্যালয়ে বর্তমানে ৮৫৭ জন শিক্ষার্থী এবং ৩০ জন শিক্ষক-কর্মচারী রয়েছেন। পাঁচটি ভবন থাকলেও এগুলোর অধিকাংশই বহু বছর আগে নির্মিত। সর্বশেষ ১৯৯৬ সালে শিক্ষা প্রকৌশল অধিদপ্তরের মাধ্যমে একটি অ্যাকাডেমিক ভবন নির্মাণ করা হয়। এরপর প্রায় ২৯ বছরেও নতুন কোনো ভবন নির্মিত হয়নি।
সরেজমিনে দেখা যায়, বিদ্যালয়ের বিভিন্ন ভবনের দেওয়ালে বড় বড় ফাটল, ছাদের পলেস্তারা খসে পড়া এবং বারান্দার বিভিন্ন অংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে পড়েছে। সামান্য বৃষ্টিতেই বিদ্যালয়ের মাঠ, চলাচলের পথ এবং শ্রেণিকক্ষের সামনের অংশ পানিতে তলিয়ে যায়। কার্যকর ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় কয়েকদিন ধরে পানি জমে থাকে। বাধ্য হয়ে শিক্ষার্থীদের পানি মাড়িয়ে শ্রেণিকক্ষে যেতে হয়। অনেক সময় সাপ, বিচ্ছু ও অন্যান্য বিষধর প্রাণীর আতঙ্কও তৈরি হয়।
২৬ দিন আগে
হাওরে ফসলহানি: ক্ষতিগ্রস্ত অনেকে পায়নি মানবিক সহায়তা, তালিকায় জনপ্রতিনিধি ও নেতাকর্মীদের ‘ঘনিষ্ঠজনেরা’
গেল মার্চের স্বস্তির বৃষ্টি অতিবৃষ্টিতে রূপ নিলে জলাবদ্ধতার কবলে পড়ে গোটা হাওরাঞ্চল। দেড় মাসের টানা বৃষ্টিতে কমবেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে সুনামগঞ্জের লক্ষাধিক কৃষক পরিবার। দুর্যোগ মোকাবিলায় ক্ষতিগ্রস্তদের মানবিক সহায়তা দেওয়ার ঘোষণা দেয় সরকার। কিন্তু সহায়তার তালিকা প্রণয়নে ব্যাপক অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতির অভিযোগে হাওরাঞ্চলে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, সুনামগঞ্জের ক্ষতিগ্রস্ত অধিকাংশ কৃষকই সরকারি মানবিক সহায়তার চাল ও নগদ অর্থ পাননি। অভিযোগ রয়েছে, ক্ষয়ক্ষতি হয়নি কিংবা কৃষিকাজের সঙ্গে সম্পৃক্ত নন—এমন ব্যক্তিদের নাম তালিকাভুক্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বঞ্চিত করা হয়েছে। এ নিয়ে বিভিন্ন এলাকায় প্রতিবাদ, বিক্ষোভ ও মানববন্ধনের পাশাপাশি স্থানীয় প্রশাসনের কাছে লিখিত অভিযোগ দিয়েছেন ক্ষতিগ্রস্তরা।
সুনামগঞ্জ কৃষি বিভাগ সূত্রে জানা যায়, জেলার ১২ উপজেলায় মানবিক সহায়তার জন্য ৬৪ হাজার ৩৮৪টি ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারকে চূড়ান্ত করা হয়েছে। এর মধ্যে সুনামগঞ্জ সদরে ৪ হাজার ৬৩০, বিশ্বম্ভরপুরে ২ হাজার ৪৬৬, জামালগঞ্জে ৫ হাজার ১০৩, শান্তিগঞ্জে ২ হাজার ৭০৩, তাহিরপুরে ৯ হাজার ১৫৯, ছাতকে ১ হাজার ৯৪, দিরাইয়ে ১১ হাজার ৭৫৬, জগন্নাথপুরে ৩ হাজার ৬০৩, দোয়ারাবাজারে ১ হাজার ৪০, শাল্লায় ১০ হাজার ১২৫, ধর্মপাশায় ৫ হাজার ৪৩৪ এবং মধ্যনগরে ৭ হাজার ২৭১টি পরিবার রয়েছে।
অভিযোগ রয়েছে, চূড়ান্ত তালিকাভুক্ত ৬৪ হাজার ৩৮৪ জনের মধ্যে বড় একটি অংশের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এলাকায় বসবাস করেন না, একই পরিবারের একাধিক সদস্যের পাশাপাশি নিকটাত্মীয়, ঘনিষ্ঠজন এবং পছন্দের লোকজনের নাম তালিকায় অন্তর্ভুক্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের বাদ দেওয়া হয়েছে। তালিকা প্রণয়নে সরকারদলীয় কিছু নেতাকর্মী এবং চেয়ারম্যান-মেম্বারদের বিরুদ্ধে অনিয়ম, স্বজনপ্রীতি ও স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগও উঠেছে।
তথ্য অনুসন্ধানে দেখা যায়, জামালগঞ্জ উপজেলার বেহেলী ইউনিয়নের পাঁচ নম্বর ওয়ার্ডে মানবিক সহায়তার চূড়ান্ত তালিকায় স্থান পাওয়া ৮২ জনের মধ্যে অন্তত ৫০ জনের কোনো ক্ষয়ক্ষতি হয়নি। এমনকি জমিজমা নেই বা বোরো আবাদই করেননি—এমন ব্যক্তিদেরও সহায়তার আওতায় আনা হয়েছে। স্থানীয়দের দাবি, প্রায় প্রতিটি উপজেলাতেই একই ধরনের অনিয়ম ও স্বজনপ্রীতি হয়েছে।
গোপালপুর গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক কালীকৃষ্ণ দাস বলেন, ‘জমি করছিলাম ১৫ কিয়ার। আমার ৮ কিয়ারের ক্ষতি হইছে। এইডি এক্কেবারে তলাইয়া গেছে, কাটতে পারছি না। আমারে কিচ্ছু দিছে না, অথচ আমরার গ্রামের যারার ক্ষতি হইছে না, তারারে দিতাছে। আমরার ওয়ার্ডের মানিক মেম্বারে দেইখ্যা দেইখ্যা নাম দিছে। আমার নাম নাই।’
গত ২১ জুন জগন্নাথপুর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তার কাছে চিলাউড়া-হলদিপুর ইউনিয়নের বাউধরন গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকেরা অভিযোগ দেন। ১০ জনের স্বাক্ষরিত অভিযোগে গ্রামের প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্ত কৃষকদের বাদ দিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত নন—এমন ১২ জনের নাম অন্তর্ভুক্ত করার অভিযোগ তুলে তদন্ত করে প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকাভুক্ত করার আবেদন জানানো হয়।
ওই গ্রামের ক্ষতিগ্রস্ত কৃষক মো. তুরুক মিয়া বলেন, ‘যে সাহায্য আইছে, এইডা মনে করৌক্কা যেরা পাইতো এরা পাইছে না। যেরার খেত নাই, এরা পাইছে। এক বাড়িতে তিন-চাইট্টা নাম। কোনো জমিজমা করছে না। এরার হাবিগোষ্ঠী লন্ডন। কিন্তু ক্ষতি হইলেও আমরার নাম নাই।’
কৃষি বিভাগের তথ্য অনুযায়ী, গেল বোরো মৌসুমে জেলার ছোট-বড় ১৯৩টি হাওরে ২ লাখ ২৩ হাজার ৫১১ হেক্টর জমিতে আবাদ হয়েছে। জেলায় কৃষি কার্ডধারী কৃষকের সংখ্যা ৩ লাখ ৬৫ হাজার ৭৭৭ হলেও প্রায় ৪ লাখ কৃষক চাষাবাদ করেছেন। এর মধ্যে ১ লাখ ২৯ হাজার ৫৫৯ জন কৃষকের ৪৩ হাজার ৭৪৭ হেক্টর জমির বোরো ধান পানিতে তলিয়ে যায়। এতে ক্ষতির পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৬৯২ কোটি ৮৪ লাখ ৬৪ হাজার ২০১ টাকা। চালের হিসাবে ক্ষতি হয়েছে ১ লাখ ৪১ হাজার ৩৯৭ টন।
হাওরের কৃষি ও কৃষক রক্ষা সংগ্রাম পরিষদ সুনামগঞ্জের আহ্বায়ক অধ্যাপক চিত্তরঞ্জন তালুকদার বলেন, ‘অনিয়ম-স্বজনপ্রীতির বিরুদ্ধে বিভিন্ন জায়গায় বিক্ষোভ-মানববন্ধন হচ্ছে। ক্ষতিগ্রস্ত হলেও এসব সহায়তায় প্রান্তিক কৃষক উপকৃত হয় না। এগুলো কৃষকের নাম ভাঙিয়ে ফাঁকিবাজি ছাড়া কিছুই না। এসব বাদ দিয়ে কৃষকদের ফসল বীমার আওতায় আনার দাবি জানাচ্ছি।’
সুনামগঞ্জ কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপপরিচালক মোহাম্মদ ওমর ফারুক বলেন, ‘মাননীয় সংসদ সদস্যের প্রতিনিধি, ইউএনওর প্রতিনিধি, জনপ্রতিনিধি ও কৃষি বিভাগ মিলে মানবিক সহায়তার তালিকা করা হয়েছে। এককভাবে কেউ তালিকা করেনি। ভুলত্রুটি হলে উপজেলা কমিটি খতিয়ে দেখবে।’
সুনামগঞ্জের অতিরিক্ত জেলা প্রশাসক (সার্বিক) মো. মতিউর রহমান খান বলেন, মে, জুন ও জুলাই—এই তিন মাসের জন্য ক্ষতিগ্রস্তদের জনপ্রতি ৩ হাজার টাকা ও ১৫ কেজি করে চাল সহায়তা দেওয়ার চূড়ান্ত অনুমোদন হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্তদের তালিকা উপজেলা থেকে হয়েছে। এক্ষেত্রে যেসব জায়গায় অনিয়মের অভিযোগ আছে, উপজেলা প্রশাসনকে তদন্তপূর্বক ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।’
২৭ দিন আগে
দুই বছর আগে পরিত্যক্ত হয়েছে বিদ্যালয়ের ঝুঁকিপূর্ণ ভবন, মন্দিরের বারান্দায় চলছে পাঠদান
লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার তালুক দুলালী রাজকাছারী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একটি ভবন দুই বছর আগে ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হলেও এখনও নতুন ভবন নির্মাণের উদ্যোগ না নেওয়ায় মন্দিরের বারান্দায় চলছে কোমলমতি শিক্ষার্থীদের পাঠদান।
উপজেলার ভারতীয় সীমান্তঘেঁষা তালুক দুলালী গ্রামে শিক্ষার প্রসারে স্থানীয়দের উদ্যোগে ১৯৭৮ সালে বিদ্যালয়টি প্রতিষ্ঠিত হয়। পরে সরকার বিদ্যালয়টিতে দুটি ভবন নির্মাণ করে এবং ২০১৩ সালে এটি জাতীয়করণ করা হয়। বর্তমানে ২৫৩ জন শিক্ষার্থী ও ছয়জন শিক্ষক নিয়ে বিদ্যালয়টি শিক্ষার্থী সংখ্যার দিক থেকে উপজেলায় তৃতীয় অবস্থানে রয়েছে। দুই শিফটে পাঠদান পরিচালিত হলেও শ্রেণিকক্ষ সংকটে ব্যাহত হচ্ছে স্বাভাবিক শিক্ষা কার্যক্রম।
বিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, দুই বছর আগে উপজেলা প্রকৌশল দপ্তরের তদন্তে বিদ্যালয়ের একটি ভবন ঝুঁকিপূর্ণ ঘোষণা করা হয়। এরপর থেকে ভবনটি পরিত্যক্ত অবস্থায় পড়ে আছে। অন্য ভবনের তিনটি কক্ষের একটি প্রধান শিক্ষকের কার্যালয় হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। বাকি দুটি কক্ষে দুই শিফটের সব শ্রেণির পাঠদান সম্ভব না হওয়ায় বাধ্য হয়ে পাশের তালুক দুলালী রাজকাছারী দুর্গা মন্দিরের বারান্দায় ক্লাস নেওয়া হচ্ছে।
২৭ দিন আগে
চুয়াডাঙ্গায় ছড়িয়ে পড়ছে বিষাক্ত পার্থেনিয়াম, ঝুঁকিতে মানুষ, ফসল ও গবাদিপশু
দেখতে অনেকটা ধনিয়াগাছের মতো। দুই থেকে তিন ফুট উচ্চতার সবুজ গাছে ছোট ছোট সাদা ফুলও ফোটে। তবে আকর্ষণীয় এই আগাছার আড়ালেই লুকিয়ে আছে ভয়ঙ্কর বিপদ। এর নাম পার্থেনিয়াম। চুয়াডাঙ্গাসহ দেশের বিভিন্ন জেলার মাঠ-ঘাট, রাস্তার ধারে, ফসলি জমি ও পতিত ভূমিতে দ্রুত বিস্তার লাভ করছে বিষাক্ত এই উদ্ভিদ, যা জনস্বাস্থ্য, কৃষি, পরিবেশ ও গবাদিপশুর জন্য ক্রমেই বড় হুমকিতে পরিণত হচ্ছে।
কৃষিবিদ ও স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞদের ভাষ্য, পার্থেনিয়াম (Parthenium hysterophorus) মূলত উত্তর ও দক্ষিণ আমেরিকার উদ্ভিদ। ধারণা করা হয়, বিভিন্ন উপায়ে এটি প্রতিবেশী ভারত থেকে বাংলাদেশে প্রবেশ করে এবং পরে দ্রুত বিস্তার লাভ করে। সময়মতো নিয়ন্ত্রণ করা না গেলে এর প্রভাব আরও ভয়াবহ হতে পারে।
খোঁজ নিয়ে জানা যায়, চুয়াডাঙ্গার সদর, আলমডাঙ্গা, দামুড়হুদা ও জীবননগর উপজেলার বিভিন্ন এলাকায় দিন দিন বাড়ছে পার্থেনিয়ামের উপস্থিতি। বিশেষ করে সীমান্তবর্তী অঞ্চল, রাস্তার দুই ধারে, রেললাইনের পাশ, খালি জমি এবং ফসলের মাঠসংলগ্ন এলাকায় ব্যাপকভাবে জন্মাতে দেখা যাচ্ছে গাছটি। তবে অধিকাংশ মানুষই এর নাম কিংবা ক্ষতিকর প্রভাব সম্পর্কে অবগত নন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এটি একটি আক্রমণাত্মক ও বিষাক্ত আগাছা। জীবনকাল মাত্র তিন থেকে চার মাস হলেও এ সময়ের মধ্যে একাধিকবার ফুল ও বীজ উৎপাদন করে। একটি গাছ থেকেই হাজার হাজার বীজ ছড়িয়ে পড়ে, যা বাতাস, পানি, যানবাহন ও পশুপাখির মাধ্যমে নতুন এলাকায় বিস্তার লাভ করে।
দামুড়হুদা উপজেলার হোগলডাঙ্গা গ্রামের কৃষক লুৎফর হোসেন বলেন, ‘কয়েক বছর আগেও এ আগাছা তেমন দেখা যেত না। এখন অনেক কৃষিজমির আশপাশে জন্মাচ্ছে। এতে ফসলের স্বাভাবিক বৃদ্ধি ব্যাহত হচ্ছে।’
৩১ দিন আগে
দখল-দূষণে মৃতপ্রায় চুয়াডাঙ্গার ঐতিহ্যবাহী মাথাভাঙ্গা নদী
একসময় খরস্রোতা রূপে পরিচিত ছিল মাথাভাঙ্গা নদী। যে নদীর বুক চিরে চলত নৌযান, যেখানে সাঁতার কেটে বেড়াত স্থানীয়রা, সেই নদী আজ দখল, দূষণ ও অব্যবস্থাপনায় অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।
চুয়াডাঙ্গা জেলা শহরকে দ্বিখণ্ডিত করে প্রবাহিত ১২৫ কিলোমিটার দীর্ঘ আন্তঃসীমান্ত এই নদী এখন মৃতপ্রায়। জেলার ঐতিহ্য, সভ্যতা ও সংস্কৃতির ধারক মাথাভাঙ্গা বর্তমানে যেন আবর্জনা ও দূষণের খালে পরিণত হয়েছে। দখল ও দূষণের কারণে নদীটি এখন চরম অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। নদীর অধিকাংশ অংশই দখলদারদের কবলে চলে গেছে। বর্ষা মৌসুমে কখনও কখনও পানি দেখা গেলেও শুষ্ক মৌসুমে নদীটি পরিণত হয় মৃতপ্রায় খালে।
সরেজমিনে দেখা গেছে, চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার অধিকাংশ প্রধান ড্রেন সরাসরি গিয়ে পড়েছে মাথাভাঙ্গা নদীতে। দিন-রাত শহরের নোংরা পানি, হোটেল-রেস্তোরাঁর বর্জ্য, প্লাস্টিক ও বাজারের পচা আবর্জনা মিশছে নদীর পানিতে। ফলে নদীর স্বচ্ছ পানি কালচে হয়ে গেছে। নদীর তীর ঘেঁষে হাঁটলেই ভেসে আসে উৎকট দুর্গন্ধ।
এছাড়া নদীর দুই তীরে গড়ে উঠেছে ছোট-বড় অবকাঠামো। বিভিন্ন স্থানে নদীর জায়গা দখল করে স্থাপনা নির্মাণ করায় নদীর স্বাভাবিক প্রবাহ ব্যাহত হচ্ছে। পলি জমে ও যথাযথ খননের অভাবে নদী ক্রমেই সংকুচিত হয়ে পড়ছে।
নদীপাড়ের বাসিন্দা রিমন আলী বলেন, আগে বন্ধুদের সঙ্গে এই নদীতে সাঁতার কাটতাম। তখন নদীতে প্রচুর পানি আর স্রোত ছিল। এখন নদীর পাশে দাঁড়ানোই কঠিন হয়ে গেছে দুর্গন্ধের কারণে। আগের সেই মাথাভাঙ্গা আর নেই।
স্থানীয় বাসিন্দা রবিউল মিয়া বলেন, ছোটবেলায় নদীর স্রোত দেখে ভয় পেতাম। তখন জাহাজ চলত। এখন নদী ভরাট হয়ে নালার মতো হয়ে গেছে। নদীটির এই অবস্থা দেখে খুব কষ্ট হয়।
‘মাথাভাঙ্গা নদী বাঁচাও আন্দোলন’-এর সাবেক সাধারণ সম্পাদক অধ্যক্ষ শাহজাহান আলী বলেন, সরকারি-বেসরকারি বিভিন্ন প্রভাবশালী প্রতিষ্ঠান নদীর জায়গা দখল করে রেখেছে। অনেক সরকারি-বেসরকারি প্রতিষ্ঠানও নদীর সীমানা ঘেঁষে গড়ে উঠেছে। এতে নদী তার স্বাভাবিক রূপ হারাচ্ছে।
সংগঠনটির আহ্বায়ক অধ্যক্ষ হামিদুল হক মুন্সি বলেন, মাথাভাঙ্গা নদীর সবচেয়ে বড় ক্ষতি করছে পৌরসভার বর্জ্য ব্যবস্থাপনা। নদীকে কার্যত ড্রেনে পরিণত করা হয়েছে। প্রশাসনের কঠোর পদক্ষেপ ছাড়া নদী রক্ষা সম্ভব নয়।
চুয়াডাঙ্গা পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী আরিফ আহমেদ বলেন, মাথাভাঙ্গা নদী দখল ও দূষণের শিকার হয়েছে। নদী পুনরুদ্ধারে সরকারি বিভিন্ন পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। বিষয়টি মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।
চুয়াডাঙ্গা পৌরসভার প্রশাসক ও স্থানীয় সরকারের উপপরিচালক শারমিন আক্তার বলেন, পৌরসভার কিছু ড্রেন নদীতে গিয়ে পড়েছে। বিষয়টি জানার পর সংশ্লিষ্ট বিভাগকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, মাথাভাঙ্গা শুধু একটি নদী নয়, এটি চিত্রা, নবগঙ্গা ও ভৈরবসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ নদীর উৎস। ফলে মাথাভাঙ্গা নদী পুরোপুরি মৃত হয়ে গেলে এ অঞ্চলের নদীনির্ভর পরিবেশ ও জীববৈচিত্র্যের ওপর ভয়াবহ প্রভাব পড়বে।
৩১ দিন আগে
বঙ্গোপসাগরের পটুয়াখালী উপকূলে অবৈধ ট্রলিং বোটের বিস্তার, হুমকিতে পরিবেশ ও উপকূলের অর্থনীতি
সরকারি নিষেধাজ্ঞা ও আইন অমান্য করে পটুয়াখালীর কলাপাড়া উপজেলার মহিপুর, আলীপুর, কুয়াকাটা ও আশাখালী মৎস্য বন্দর-সংলগ্ন বঙ্গোপসাগরে অবাধে চলছে অবৈধ ও রূপান্তরিত ‘আর্টিসানাল ট্রলিং বোটের’ তাণ্ডব। নিষিদ্ধ সূক্ষ্ম জাল ও আধুনিক প্রযুক্তির যথেচ্ছ ব্যবহারে ধ্বংস হচ্ছে সামুদ্রিক পরিবেশ ও মাছের প্রজননক্ষেত্র। এর ফলে সাগরে মাছের উৎপাদন আশঙ্কাজনক হারে কমে যাওয়ায় উপকূলীয় অঞ্চলের হাজার হাজার প্রান্তিক জেলে চরম জীবিকা ও অর্থনৈতিক সংকটে পড়েছেন।
স্থানীয় জেলে ও মৎস্য সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মহিপুর-আলীপুর অঞ্চলে গত বছর প্রায় ৪০ থেকে ৪৫টি রূপান্তরিত ট্রলিং বোট সক্রিয় ছিল। চলতি বছরে সেই সংখ্যা বেড়ে প্রায় ৬০টিতে পৌঁছেছে। প্রতিনিয়ত নতুন নতুন কাঠের ট্রলারকে অবৈধভাবে ট্রলিং বোটে রূপান্তর করা হচ্ছে। দ্রুত অধিক মুনাফার আশায় একটি সাধারণ ট্রলারকে ৩০ থেকে ৪০ লাখ টাকা ব্যয়ে ট্রলিং বোটে রূপান্তর করা হচ্ছে বলে অভিযোগ রয়েছে।
সাধারণ নিয়ম অনুযায়ী, এসব বড় ট্রলিং বোট গভীর সমুদ্রে মাছ শিকার করার কথা থাকলেও বাস্তবে তারা উপকূলীয় অগভীর জলসীমায় প্রবেশ করে মাছ শিকার করছে।
স্থানীয় মৎস্যজীবীরা জানান, অনেক সময় এসব বোট উপকূল থেকে কয়েক নটিক্যাল মাইলের মধ্যেই জাল ফেলে। ফলে উপকূলীয় প্রজননক্ষেত্র ও মাছের অভয়াশ্রমগুলো সরাসরি ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, ট্রলিং বোটে ব্যবহৃত ‘বটম ট্রলিং’ পদ্ধতি সমুদ্রের তলদেশের পরিবেশের জন্য অত্যন্ত ক্ষতিকর। ভারী জাল সমুদ্রের তলদেশ ঘষে ঘষে প্রবাল, সামুদ্রিক ঘাস, শামুক-ঝিনুকের আবাসস্থল এবং বিভিন্ন অণুজীবের বাস্তুতন্ত্র ধ্বংস করে দেয়। এতে সামুদ্রিক খাদ্যশৃঙ্খল ভেঙে পড়ে এবং দীর্ঘমেয়াদে মাছের প্রজনন ও উৎপাদন মারাত্মকভাবে ব্যাহত হয়।
এছাড়া, এসব ট্রলিং বোটে ফিস ফাইন্ডার, জিপিএস, রাডার, ইকো সাউন্ডার, উইঞ্চ মেশিনসহ আধুনিক প্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে। যার ফলে মাছের ঝাঁক সহজেই শনাক্ত করে ব্যাপক হারে আহরণ করা সম্ভব হচ্ছে। এতে ছোট নৌকা ও সাধারণ ট্রলারনির্ভর জেলেরা প্রতিযোগিতায় টিকতে পারছেন না।
মহিপুর ও আলীপুর বন্দরের সাধারণ জেলেরা অভিযোগ করে বলেন, বড় ট্রলিং বোটগুলো প্রায়ই তাদের জালের ওপর দিয়ে চলে যায়। এতে লাখ লাখ টাকার জাল ছিঁড়ে যায় এবং ক্ষতির মুখে পড়েন ক্ষুদ্র জেলেরা। অনেক ক্ষেত্রে প্রতিবাদ করলে হুমকি-ধমকি ও ভয়ভীতি প্রদর্শনের ঘটনাও ঘটে।
মহিপুরের জেলে আনোয়ার হোসেন বলেন, আমরা দিনের পর দিন সমুদ্রে গিয়ে মাছ না পেয়ে খালি হাতে ফিরে আসি। অথচ কিছু প্রভাবশালী ট্রলার মালিক অবৈধ ট্রলিংয়ের মাধ্যমে সাগরের মাছ ও পোনা নিধন করছে। প্রশাসন চাইলে একদিনেই এসব বন্ধ করতে পারে।
জেলে আবুল কাশেম বলেন, ছোট মাছ বড় হওয়ার আগেই ধ্বংস হয়ে যাচ্ছে। লাখ লাখ রেণু প্রতিদিন নিধন হচ্ছে। এভাবে চলতে থাকলে ভবিষ্যতে জেলেদের মাছ ধরার মতো কিছুই থাকবে না।
মৎস্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন, সমুদ্র দূষণ এবং অবৈধ ট্রলিং—এই তিন কারণে সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদ বর্তমানে চরম ঝুঁকিতে রয়েছে। বিশেষ করে ডিমওয়ালা মা মাছ ও পোনা নিধনের ফলে মাছের প্রাকৃতিক পুনরুৎপাদন বাধাগ্রস্ত হচ্ছে। এর ফলে শুধু ইলিশ নয়, লাক্ষা, পোয়া, রূপচাঁদা, চিংড়িসহ বিভিন্ন অর্থনৈতিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ মাছের উৎপাদন কমে যেতে পারে। একই সঙ্গে দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, রপ্তানি আয় এবং সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনাও হুমকির মুখে পড়বে।
জেলেদের অভিযোগ, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের কিছু অসাধু কর্মকর্তা এবং নৌ পুলিশের একটি অংশের পরোক্ষ সুবিধার কারণেই বছরের পর বছর এসব অবৈধ ট্রলার প্রকাশ্যে সাগরে মাছ শিকার করছে। তবে এই অভিযোগের পক্ষে সুনির্দিষ্ট কোনো প্রমাণ পাওয়া যায়নি।
মহিপুর মৎস্য আড়ৎ মালিক সমিতির সহ-সভাপতি রাজু আহমেদ রাজা বলেন, অবৈধ ট্রলিং বন্ধে একাধিকবার আলোচনা হয়েছে কিন্তু এতে তেমন কোনো ফল হয়নি। বরং আগের তুলনায় দিন দিন বাড়ছে। প্রশাসনের কঠোর নজরদারি না থাকলে এটি বন্ধ হওয়ার সম্ভাবনায় নেই।
এ বিষয়ে মৎস্য কর্মকর্তা বখতিয়ার আহমেদ বলেন, অবৈধ জালের কারণে ডিমওয়ালা মাছ ও পোনা নিধন হচ্ছে। ফলে মাছের উৎপাদন কমে যাচ্ছে এবং মৎস্যসম্পদ হুমকির মুখে পড়ছে। দেশের খাদ্য নিরাপত্তা, জীববৈচিত্র্য ও লাখও মানুষের জীবিকা রক্ষায় অবৈধ জাল বন্ধ এবং কঠোর আইন প্রয়োগ জরুরি।
কুয়াকাটা নৌ-পুলিশ ফাঁড়ির ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মনিরুজ্জামান বলেন, ট্রলিং বোট নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। আমরা অবৈধ মৎস্য শিকার ও নিষিদ্ধ জালের বিরুদ্ধে তৎপর রয়েছি। তবে গভীর সমুদ্রে অভিযান পরিচালনার ক্ষেত্রে কিছু লজিস্টিক সীমাবদ্ধতা রয়েছে বলে জানান তিনি।
পটুয়াখালী জেলা মৎস্য কর্মকর্তা বিজন কুমার নন্দী বলেন, ট্রলিং বোটের বিষয়টি অত্যন্ত গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। এ নিয়ে আদালতে মামলা চলমান রয়েছে। কোস্টগার্ড, নৌ-পুলিশ, সংশ্লিষ্ট সংস্থা, জনপ্রতিনিধি ও জেলে প্রতিনিধিদের সমন্বয়ে নজরদারি ও অভিযান আরও জোরদার করা হবে।
স্থানীয় সচেতন মহল মনে করছে, অবৈধ ট্রলিং বন্ধে দ্রুত কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে বঙ্গোপসাগরের উপকূলীয় মৎস্যসম্পদ ভয়াবহ সংকটের মুখে পড়বে এবং ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি বড় পরিবেশগত ও অর্থনৈতিক বিপর্যয় ডেকে আনবে।
৩৩ দিন আগে
তিস্তায় পানি কমে বাড়ছে ভাঙন, পানিবন্দি অন্তত ২০ হাজার পরিবার
তিস্তার পানি কমতে শুরু করলেও কমেনি দুর্ভোগ। নদী তীরবর্তী এলাকার অন্তত ২০ হাজার পরিবার এখনও পানিবন্দি অবস্থায় রয়েছে। বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছে চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা। পানি নামার সঙ্গে সঙ্গে বিভিন্ন এলাকায় দেখা দিয়েছে নদী ভাঙন।
গত দুদিনে রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা রংপুর, লালমনিহাট, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে ৬৫টি পরিবার নদী ভাঙ্গনের শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছেন রংপুর অঞ্চলের পানি উন্নয়ন বোর্ডের (পাউবো) তত্ত্বাবধায়ক প্রকৌশলী আহসান হাবীব।
এদিকে, বন্যা পূর্বাভাস ও সতর্কীকরণ কেন্দ্রের তথ্য অনুযায়ী, আবারও পানি বাড়ার শঙ্কা থাকায় উৎকণ্ঠায় দিন কাটাচ্ছেন তিস্তা তীরবর্তী চরাঞ্চলের বাসিন্দারা। চরবাসীকে সতর্ক থাকার জন্য মাইকিং করা হয়েছে বলেও জানিয়েছেন পাউবোর এই কর্মকর্তা।
রংপুর পানি উন্নয়ন বোর্ড জানায়, গতকাল (মঙ্গলবার) রাত ৯টায় দেশের বৃহত্তম সেচ প্রকল্প তিস্তা ব্যারাজের ডালিয়া পয়েন্টে পানিপ্রবাহ রেকর্ড করা হয়েছে ৫১ দশমিক ৮৫ মিটার, যা বিপৎসীমার ৩০ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছিল। গত ১২ ঘণ্টায় এ পয়েন্টে পানি ১৩ সেন্টিমিটার কমেছে। এখানে বিপৎসীমা ধরা হয় ৫২ দশমিক ১৫ মিটার। একই সময়ে কাউনিয়া তিস্তা সেতু পয়েন্টে পানি বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার নিচ দিয়ে প্রবাহিত হয়েছে।
এদিকে, হঠাৎ তিস্তা নদীর পানি বৃদ্ধি পাওয়ায় রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার তিস্তা সেতু রক্ষাবাঁধ ও ডানতীর সংরক্ষণে নির্মিত গ্রোয়েন এলাকায় ভাঙন দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি কোলকোন্দ ও লক্ষ্মীটারী ইউনিয়নের বিস্তীর্ণ নিম্নাঞ্চল প্লাবিত হয়েছে। এতে বেশ কয়েকটি পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে এবং চরাঞ্চলের যোগাযোগ ব্যবস্থা বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে। তলিয়ে গেছে পাট, চিনাবাদাম ও আমনের বীজতলা। পাশাপাশি লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রামের ধরলা, দুধকুমার নদীর তীব্র ভাঙ্গনে দিশারায় পড়েছে নদী পারের মানুষ। বিপৎসীমার উপরে বইছে দুধকুমারও।
চলতি মৌসুমে গত ২৩ জুন প্রথমবারের মতো তিস্তার পানি বিপৎসীমার ১ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়। তবে পরদিনই তা বিপৎসীমার নিচে নেমে আসে। এরপর ২৯ জুন সন্ধ্যায় আবারও পানি বৃদ্ধি পেয়ে বিপৎসীমার ৭ ও ১৭ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হতে থাকে।
উত্তরের ৫ জেলায় পানিবন্দি ২০ হাজার পরিবার
তিস্তা, ধরলা ও দুধকুমার নদীর পানি কখনও বাড়ছে আবার কমছে। এ পরিস্থিতিতে ৫ জেলার নিম্নাঞ্চলে নদীর কোলঘেষা অন্তত ২০ হাজার পরিবার পানিবন্দি হয়ে পড়েছে। একইসঙ্গে মহিপুর এলাকায় দ্বিতীয় তিস্তা সড়ক সেতু রক্ষা বাঁধে নতুন করে ভয়াবহ ভাঙন দেখা দিয়েছে। ভাঙছে তিস্তার লালমনিরহাট ও কুড়িগ্রাম অংশেও। ৫ জেলার বিভিন্ন এলাকার শত শত বাড়িঘর, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, গ্রামীণ সড়ক ও ফসলি জমি এখন হাঁটু পানির নিচে। আমন ধানের বীজতলা নষ্ট হওয়ার আশঙ্কাসহ গবাদি পশু খাদ্যের সংকট, বিশুদ্ধ খাওয়ার পানিসহ খাদ্য সংকটে পড়েছে এসব এলাকার মানুষ।
৩৩ দিন আগে
পাঁচ নদীর তাণ্ডবে ভয়াবহ বিপর্যয়ে কুড়িগ্রাম, ৩৬ পয়েন্টে ভাঙন, ঘরছাড়া ৫ শতাধিক পরিবার
বর্ষা মৌসুমের শুরুতেই একদিকে আকস্মিক বন্যা, অন্যদিকে তীব্র নদীভাঙনের দ্বিমুখী আঘাতে লণ্ডভণ্ড হয়ে পড়েছে কুড়িগ্রাম জেলার বিস্তীর্ণ জনপদ। জেলার প্রধান পাঁচটি নদ-নদী—ব্রহ্মপুত্র, ধরলা, দুধকুমার ও কালজানী নদীতে একযোগে শুরু হওয়া আগ্রাসী ভাঙনে প্রতিদিন নদীগর্ভে বিলীন হচ্ছে বসতভিটা, আবাদি জমি, গ্রামীণ সড়ক ও গাছপালা। জনপ্রতিনিধিদের তথ্যমতে ইতোমধ্যে জেলার প্রায় পাঁচ শতাধিক পরিবার তাদের শেষ সম্বল হারিয়ে নিরাপদ আশ্রয়ে চলে যেতে বাধ্য হয়েছে।
পানি উন্নয়ন বোর্ড (পাউবো) সূত্রে জানা গেছে, জেলার ৩৬টি পয়েন্টে মোট ১১ দশমিক ২৪৫ কিলোমিটার এলাকাজুড়ে বর্তমানে তীব্র ভাঙন চলছে। ভাঙন আতঙ্কে নদীপাড়ের বাসিন্দারা রাত জেগে ঘরবাড়ি পাহারা দিচ্ছেন।
স্থানীয় জনপ্রতিনিধি ও পাউবোর তথ্য অনুযায়ী, জেলার পাঁচটি নদীর বিভিন্ন পয়েন্টে ভাঙনের চিত্র অত্যন্ত ভয়াবহ:
দুধকুমার নদী: এই নদীর পানি বর্তমানে বিপৎসীমার ২৩ সেন্টিমিটার ওপর দিয়ে প্রবাহিত হচ্ছে। তীব্র স্রোতে সদর উপজেলার খাড়ুয়ারপাড় ও বানিয়াপাড়া; নাগেশ্বরীর বেপারীর চর, সাপখাওয়া, মাঝিপাড়া, কুটিরচর, মণ্ডলপাড়া, বলরামপুর ও দামালগ্রাম এলাকায় প্রতিনিয়ত ফসলি জমি ও ঘরবাড়ি নদীগর্ভে তলিয়ে যাচ্ছে।
ধরলা নদী: সদর উপজেলার হলোখানা ইউনিয়নের সাটকালুয়া ও জগমনের চর, ফুলবাড়ী উপজেলার গোরকমণ্ডপ এবং বড়ভিটার পশ্চিম ধনিরাম এলাকায় তীব্র ভাঙন অব্যাহত রয়েছে।
ব্রহ্মপুত্র নদ: সদর উপজেলার গোয়াইলপরী ও পার্বতীপুর; নাগেশ্বরীর ঝাউকুটি, পাগলার বাজার ও বালারহাট; উলিপুরের দইখাওয়ার চর, রসুলপুর ও জলঙ্গারকুটি; চিলমারীর কাচকোল; রৌমারীর সোনাপুর, গেন্দার আলগা, খেদাইমারী ও সুখেরবাতি এবং রাজিবপুর উপজেলার সাজাই, পাইকানটারী ও বল্লবপাড়াসহ বিস্তীর্ণ এলাকায় ভাঙন চলছে।
তিস্তা নদী: রাজারহাট উপজেলার হাঁসারপাড়, রামহরি, চর বিদ্যানন্দ এবং উলিপুর উপজেলার হোকডাঙ্গা ও গোড়াইপিয়ার এলাকায় নদীর আগ্রাসন দিন দিন বাড়ছে।
কালজানী নদী: ভূরুঙ্গামারী উপজেলার উত্তর ধলডাঙ্গা ও বউবাজার এলাকায় নতুন করে ভাঙন আতঙ্ক ছড়িয়েছে। এছাড়া সদরের সারোডোব ও ভূরুঙ্গামারীর পাইকডাঙ্গাসহ বেশ কিছু নতুন এলাকায় ভাঙন শুরু হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
ভাঙনের মুখে পড়া মানুষের মাঝে চরম হাহাকার দেখা দিয়েছে। সদর উপজেলার সাটকালুয়া গ্রামের বাসিন্দা আব্দুল কাদের বলেন, ‘প্রতিদিন নদী কয়েক হাত করে এগিয়ে আসছে। ঘরের টিন খুলে রেখেছি। কখন বাড়িটা নদীতে চলে যায়, সেই ভয়ে পরিবার নিয়ে রাত জেগে থাকি।’
একইভাবে নিজের ক্ষোভ ও দুঃখ প্রকাশ করেন উলিপুরের গোড়াইপিয়ার এলাকার কৃষক নুর ইসলাম। তিনি বলেন, ‘জমি নদীতে গেছে, এখন বাড়িও যাবে। আমাদের মতো মানুষের বাঁচার আর কোনো উপায় নেই।’
কুড়িগ্রাম পাউবোর নির্বাহী প্রকৌশলী রাকিবুল হাসান জানান, ভাঙন প্রতিরোধে ইতোমধ্যে ৩ কোটি ৯ লাখ টাকা ব্যয়ে ১ লাখ বালুভর্তি জিওব্যাগ ফেলে ৫ দশমিক ৩৫ কিলোমিটার এলাকায় জরুরি প্রতিরক্ষামূলক কাজ চালানো হচ্ছে। তবে বর্তমান পরিস্থিতি মোকাবিলায় আরও জরুরি বরাদ্দের প্রয়োজন।
কুড়িগ্রামের চর উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সভাপতি শফিকুল ইসলাম বেবু বলেন, ‘একদিকে বন্যা, অন্যদিকে নদীভাঙন—এই দুই দুর্যোগে চরাঞ্চলের মানুষ চরম মানবিক সংকটে পড়েছে। উন্নত দেশগুলোতে নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের দ্রুত ক্ষতিপূরণ দেওয়া হয়। কিন্তু আমাদের দেশে মানুষ সর্বস্ব হারানোর পরও অনেক সময় কোনো খোঁজ নেওয়া হয় না।’
জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা বেনজির রহমান জানিয়েছেন, নদীভাঙনে ক্ষতিগ্রস্তদের পূর্ণাঙ্গ তালিকা তৈরির জন্য ইতোমধ্যে সব উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের (ইউএনও) কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে। তবে তাৎক্ষণিক জরুরি সহায়তা হিসেবে জেলায় নদী ভাঙন ও বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য ২৭৫ টন চাল, ১ লাখ ৬২ হাজার টাকা এবং ১ হাজার প্যাকেট শুকনো খাবার (যার মধ্যে চাল, ডাল, সয়াবিন তেল ও বিভিন্ন ধরণের মশলা রয়েছে) বরাদ্দ করা হয়েছে।
কুড়িগ্রাম জেলা উন্নয়ন ও বাস্তবায়ন পরিষদের সাধারণ সম্পাদক সাংবাদিক সাইয়েদ আহমেদ বাবু বলেন, ‘শুধু সাময়িক জিওব্যাগ ফেলে এই স্থায়ী সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়। ভাঙন থেকে কুড়িগ্রামকে বাঁচাতে স্থায়ী নদীশাসন ব্যবস্থা গ্রহণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য দ্রুত উপযুক্ত ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা হোক।’
৩৫ দিন আগে