বিশেষ সংবাদ
লোডশেডিংয়ে নওগাঁর কারখানাগুলোতে কমছে উৎপাদন, ব্যাহত হচ্ছে সেচ
চাহিদার তুলনায় সরবরাহ কম থাকায় নওগাঁ পল্লী বিদ্যুৎ সমিতি ও নর্দান ইলেক্ট্রিসিটি সাপ্লাই কোম্পানির (নেসকো) আওতাধীন এলাকায় তীব্র লোডশেডিং দেখা দিয়েছে। এতে নওগাঁর কারখানাগুলোতে আগের তুলনায় কমছে উৎপাদন। এছাড়া, শহরের বাইরের এলাকায় দিনে ৭ থেকে ৮ ঘণ্টা পর্যন্ত বিদ্যুৎ না থাকায় ব্যাহত হচ্ছে কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম।
লোডশেডিংয়ের কারণে প্রচণ্ড গরমে অতিষ্ঠ হয়ে পড়েছে জনজীবন। এর ফলে কারাখানার উৎপাদন কমছে, কৃষিজমিতে সেচ কার্যক্রম ব্যহত হচ্ছে। আবার ঘাটতি মোকাবিলায় অনেক প্রতিষ্ঠান ডিজেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন অব্যাহত রাখায় উৎপাদন খরচও বেড়ে যাচ্ছে।
ধান-চাল উৎপাদনে প্রসিদ্ধ নওগাঁ জেলায় বর্তমানে ৭০০-এর বেশি চালকল রয়েছে। এছাড়া জেলায় খাদ্য ও খাদ্যজাত পণ্য, কৃষি যন্ত্রাংশ, প্লাস্টিক, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ ছোট-বড় অসংখ্য কারখানা রয়েছে।
নেসকোর আওতাধীন নওগাঁ পৌরসভার সুলতানপুর এলাকায় অবস্থিত ঘোষ অটোমেটিক রাইস মিল। কারখানাটিতে গতকাল (বুধবার) দুপুর ১২টা থেকে আজ (বৃহষ্পতিবার) বেলা ১১টা পর্যন্ত প্রায় ৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ ছিল না। ফলে ডিজেল ব্যবহার করে মেশিন চালু রাখায় বেড়ে গেছে উৎপাদন খরচ। এতে লোকসানের মুখে পড়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
চালকল কারখানাটির মালিক দ্বীজেন ঘোষ বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। গত ২৪ ঘণ্টায় ৫ থেকে ৬ বার লোডশেডিং হয়েছে। একবার বিদ্যুৎ গেলে প্রায় ১ ঘণ্টা পর আসে।
তিনি বলেন, লোডশেডিংয়ের কারণে ডিজেল দিয়ে মেশিন চালানোর ফলে উৎপাদন খরচ বহুগুণ বেড়ে গেছে। বাধ্য হয়ে চাহিদা থাকা সত্ত্বেও ডিজেল খরচ কমানোর জন্য কারখানা বন্ধ রাখতে হচ্ছে। এভাবে লোডশেডিং চলতে থাকলে কারখানা চালু রাখা সম্ভব হবে না।
নওগাঁ বিসিক (বাংলাদেশ ক্ষুদ্র ও কুঠির শিল্প করপোরেশন) পল্লীতে অবস্থিত নাসিম ব্রাদার্স অটোমেটিক রাইস মিল। কারখানাটির ব্যবস্থাপক সাইফুল ইসলাম বলেন, প্রতিদিন ৫ থেকে ৬ ঘণ্টা লোডশেডিং হচ্ছে। একবার বিদ্যুৎ চলে গেলে ১ থেকে দেড় ঘণ্টা লোডশেডিং থাকছে। এতে তাদের কারখানায় উৎপাদন প্রায় ৩০ শতাংশ কমে গেছে। জেনারেটর চালিয়ে উৎপাদন অব্যাহত রাখার ব্যবস্থা থাকলেও ডিজেলের খরচ কমাতে সবসময় জেনারেটর চালু রাখা সম্ভব হচ্ছে না।
৭ ঘণ্টা আগে
উত্তরাঞ্চলে টিএসপি সারের সংকট, কৃষকের অসচেতনতাকে দুষছে কর্তৃপক্ষ
আমনের ভরা মৌসুমে ইউরিয়া ও ডাই-অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) সার চাহিদামতো সরবরাহ পাওয়া গেলেও ট্রিপল সুপার ফসফেট (টিএসপি) সার পেতে হিমশিম খেতে হচ্ছে রংপুর অঞ্চলের কৃষকদের। এমনকি বাড়তি দাম দিতে চাইলেও অনেক ক্ষেত্রে চাহিদামতো টিএসপি সার পাওয়া যাচ্ছে না। এতে চরম হতাশয় দিন পার করছেন কৃষকরা।
কৃষকদের দাবি, অতিরিক্ত দামেও সার পাওয়া যাচ্ছে না। সবচেয়ে বেশি বেকায়দায় পড়েছেন উত্তরের ৮৮৩টি চরের কৃষকেরা। চর এলাকায় সারের কোনো ব্যবসায়ী না থাকায় চরম বিপাকে পড়তে হচ্ছে তাদের।
লালমনিরহাট সদর উপজেলার বনগ্রাম এলাকার কৃষক নজরুল ইসলাম বলেন, তিনি আট বিঘা জমিতে রোপা আমন ধান লাগিয়েছেন। ধানখেতে ছিটানোর জন্য তার ১০০ কেজি টিএসপি সারের প্রয়োজন। কিন্তু ছয়টি সার বিক্রয়ের দোকানঘুরে মাত্র ৪৫ কেজি টিএসপি সার সংগ্রহ করতে পেরেছন তিনি। তার মধ্যে ১৫ কেজি সার কিনেছেন সরকারের নির্ধারিত ২৭ টাকা কেজি দরে। বাকি ৩০ কেজি কিনতে প্রতি কেজিতে তাকে ৩-৪ টাকা বাড়তি খরচ করতে হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ধান গাছে শিকড় শক্ত ও গাছ দ্রুত বেড়ে ওঠার জন্য টিএসপি সারের প্রয়োজন। কিন্ত তিনি চাহিদামতো সার সংগ্রহ করতে না পারায় চরম হতাশ হয়ে পড়েছেন। তবে ইউরিয়া ও ডিএপি সারের সরবরাহ চাহিদামতো রয়েছে। চাহিদামতো টিএসপি সার ধানখেতে ছিটাতে না পারলে আমনের আশানুরুপ ফলন পাওয়া যাবে না। টিএসপি সারের এতটাই সঙ্কট দেখা দিয়েছে যে বাড়তি টাকা দিয়েও এ সার সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না বলে তিনি অভিযোগ করেন।
রংপুর অঞ্চলের ৫ জেলা লালমনিরহাট, রংপুর, কুড়িগ্রাম, গাইবান্ধা ও নীলফামারীতে একই চিত্র দেখা যাচ্ছে। গ্রামের কৃষকরা এখন আমন ধানের চারা রোপণে ব্যস্ত। এর মধ্যে অনেক কৃষক দুই সপ্তাহ আগেই চারা রোপণ শেষ করেছেন।
লালমনিরহাটের কালীগঞ্জ উপজেলার চর শৈলমারী এলাকার কৃষক বাবলু মিয়া জানান, তিনি এ বছর ১২ বিঘা জমিতে আমন ধান চাষ করেছেন, কিন্তু চাহিদার ২০ শতাংশও টিএসপি সারের সরবরাহ পাওয়া যাচ্ছে না। ইউরিয়া ও ডিএপি সার সরবরাহ থাকলেও তাদের প্রতি কেজি সার কিনতে ২ থেকে ৩ টাকা বাড়তি খরচ করতে হচ্ছে।
তিনি বলেন, আমার ১৭০ কেজি টিএসপি সারের প্রয়োজন রয়েছে, কিন্তু সংগ্রহ করেছি মাত্র ৫০ কেজি। দোকানে গেলে ডিলাররা বলছেন, টিএসপি সারের সরবরাহ নেই। বাড়তি দাম দিতে চেয়েও এই সার সংগ্রহ করা যাচ্ছে না। সময়মতো টিএসপি সার ধানখেতে ছিটানো না গেলে ধান গাছের শিকড় শক্ত হবে না এবং দ্রুত গাছ বেড়ে উঠতে পারবে না।
গংগাচড়া উপজেলার মহিপুর তিস্তা চরের কৃষক মোন্নাফ মিয়া বলেন, টিএসপি সার সংগ্রহ করতে তিনি ৩ দিন সার বিক্রেতাদের দোকানে ধরনা দিয়েছেন, কিন্তু চাহিদামতো সার না পেয়ে চরম হতাশ তিনি।
এই কৃষক বলেন, ১০ বিঘা জমিতে আমন ধানের চাষ করেছি। আপাতত ১৫০ কেজি টিএসপি সারের চাহিদা থাকলেও মাত্র ৫০ কেজি সংগ্রহ করতে পেরেছি, তাও নির্ধারিত মূল্যে থেকে বাড়তি টাকা খরচ করে।
তিনি বলেন, আগের বছরগুলোতে টিএসপি সার চাহিদামতো সরবরাহ পেতাম, কিন্তু এ বছর তা পাচ্ছি না। সার বিক্রেতাদের বাড়তি টাকা দিয়েও সার পাওয়া যাচ্ছে না।
কুড়িগ্রামের উলিপুর উপজেলার বজরা এলাকার সার ডিলার জুলহাস হোসেন জানান, কৃষকদের মাঝে বর্তমানে টিএসপি সারের ব্যাপক চাহিদা, কিন্তু তাদের চাহিদা অনুযায়ী এই সার দেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি বলেন, আমার দোকানে প্রতি সপ্তাহে কমপক্ষে ১০ হাজার কেজি টিএসপি সারের চাহিদা। তবে আমি সরকারিভাবে বরাদ্দ পেয়েছি মাত্র ৫০০ কেজি। সরকার সারের বরাদ্দ না দিলে আমরা কীভাবে কৃষকের চাহিদা পূরণ করব?
১ দিন আগে
একসময়ের জলাবদ্ধ পতিত জমি এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্র
কুমিল্লার দাউদকান্দি উপজেলার বিস্তীর্ণ প্লাবনভূমি এখন দেশের অন্যতম বৃহৎ মৎস্য উৎপাদন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি পেয়েছে। এক সময় বছরের অধিকাংশ সময় জলাবদ্ধতায় পড়ে থাকা এসব জমিতে এখন বছরে উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় আড়াই হাজার কোটি টাকার মাছ। ফলে বদলে গেছে পুরো এলাকার অর্থনৈতিক চিত্র।
উপজেলার ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়ক-সংলগ্ন ইলিয়টগঞ্জ, আদমপুর, পুটিয়া, বাসরা, রায়পুর, সিংগুলা, লক্ষ্মীপুর ও সুহিলপুরসহ বিভিন্ন গ্রামে গড়ে উঠেছে অন্তত ১১৫টি মৎস্য প্রকল্প। এসব প্রকল্পে বছরে প্রায় ৫০ হাজার হেক্টর জমিতে উৎপাদিত হচ্ছে প্রায় ২ লাখ টন মাছ। এখানে রুই, মৃগেল, কাতলা, সিলভার কার্প, সরপুঁটি ও তেলাপিয়াসহ নানা প্রজাতির মাছ চাষ করা হয়।
সরেজমিনে দেখা যায়, ভোর থেকেই জমে ওঠে মাছের বাজার। পাইকারদের কাছে তাজা মাছ মেপে দিচ্ছেন ব্যবসায়ীরা। সূর্যের আলোয় ঝকঝক করছে মাছের শরীর, চারদিকে হাঁকডাক আর ব্যস্ততায় মুখর পরিবেশ। পিকআপ ও ট্রাকভর্তি মাছ যাচ্ছে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে। নগদ টাকায় মাছ বিক্রি করে সন্তুষ্ট স্থানীয় চাষি ও ব্যবসায়ীরা।
স্থানীয় সূত্র জানায়, আগে এসব জমি জলাবদ্ধতার কারণে বছরে আট থেকে নয় মাস পতিত পড়ে থাকত। এক ফসলের বেশি উৎপাদন সম্ভব হতো না। ১৯৮৬ সালে উপজেলার বানুয়াখোলা গ্রামের সুনীল কুমার রায় প্রথম প্লাবনভূমিতে বাণিজ্যিকভাবে মাছ চাষ শুরু করেন। তার পথ অনুসরণ করে ধীরে ধীরে গড়ে ওঠে আজকের এই বিশাল মৎস্য খাত।
স্থানীয় মৎস্য প্রকল্প পরিচালক ও স্বত্বাধিকারী মো. নুরুদ্দীন আহমেদ জানান, গত আট বছর ধরে তিনি মাছ চাষের সঙ্গে জড়িত। ছোট পরিসর থেকে শুরু করে বর্তমানে প্রায় ৬০০ বিঘা জমিতে তার প্রকল্প বিস্তৃত।
তিনি বলেন, যেসব জমিতে আগে এক ফসল হতো, সেগুলো এখন মাছ চাষের আওতায় এসেছে। তবে মাছের খাবারের দাম তিনগুণ বেড়ে যাওয়ায় লাভ করা কঠিন হয়ে পড়েছে। সরকার যদি এই খাতে নজর দিত এবং সিন্ডিকেট ভেঙে দিত, তাহলে আমরা আরও ভালো অবস্থানে যেতে পারতাম।
১ দিন আগে
গারো পাহাড়ে বাড়ছে হাতির সংখ্যা, বাড়ছে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্বও
আজ ১২ আগস্ট, বিশ্ব হাতি দিবস। শেরপুরের গারো পাহাড়ের বনাঞ্চলে বন্যহাতির সংখ্যা বাড়লেও সংকুচিত হচ্ছে তাদের বিচরণক্ষেত্র। অবাধে গাছ কাটা, অবৈধভাবে বালি-পাথর উত্তোলন, বন দখল করে বসতি স্থাপন এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাবে পাহাড়ি ঝিরি-ঝরণা শুকিয়ে যাওয়ায় হাতির আবাসস্থল ও খাদ্যভান্ডার কমে গেছে। ফলে খাদ্যের সন্ধানে লোকালয়ে হাতির নেমে আসার ঘটনা বাড়ছে। একই সঙ্গে মানুষের অসচেতনতা এবং সাম্প্রতিক সময়ে কনটেন্ট ক্রিয়েটরদের আগ্রাসী ভূমিকার কারণে বাড়ছে মানুষ-হাতি দ্বন্দ্বও।
এই দ্বন্দ্বে যেমন মানুষের হতাহত ও সম্পদহানি ঘটছে, তেমনি ঝুঁকির মুখে পড়ছে বন্যহাতির জীবনও। গুলি, ধারালো অস্ত্রের আঘাতে কিংবা বৈদ্যুতিক ফাঁদে পড়ে হাতি মারা পড়ছে।
একসময় ভারতের আসাম ও মেঘালয়ের জঙ্গল থেকে সীমান্ত পার হয়ে শেরপুরের বনাঞ্চলে বিচরণ করত বন্যহাতির দল। কিন্তু সাম্প্রতিককালে শেরপুর অঞ্চলে বিচরণকারী হাতির দল এখন আর ভারতের জঙ্গল থেকে থেকে আসা ‘পরিযায়ী’ হাতি নয়। বেশকিছু হাতি স্থায়ীভাবেই এখানে বসবাস ও বিচরণ করছে। এজন্য বন্যহাতি সুরক্ষায় শেরপুরের পাহাড়ি জনপদে হাতির অভয়াশ্রম গড়ে তোলা এখন সময়ের দাবি বলে মনে করছেন পরিবেশ ও প্রকৃতিপ্রেমীরা।
এমন বাস্তবতায় আজ পালিত হচ্ছে বিশ্ব হাতি দিবস। আনুষ্ঠানিক বৈশ্বিক প্রচারণার এবারের প্রতিপাদ্য হলো ‘বিশ্বজুড়ে ঐক্য গড়ি, হাতির জীবন রক্ষা করি’। মানুষের মধ্যে পারস্পরিক সংযোগ ও বিশ্বব্যাপী বন্যপ্রাণী সুরক্ষার বিষয়টিকে অনুপ্রাণিত করার লক্ষ্যে এবারের প্রচারণাটি বন্য পরিবেশে হাতিদের প্রদর্শিত মৌলিক গুণাবলি, যেমন: সহমর্মিতা, প্রজ্ঞা, দৃঢ় পারিবারিক বন্ধন, সহনশীলতা এবং সচেতন ও দায়িত্বশীল তত্ত্বাবধান নিজ জীবনে ধারণ করার ওপর গুরুত্বারোপ করছে।
গারো পাহাড় অঞ্চলে বন্যহাতি সুরক্ষা, সংরক্ষণ, মানুষ-হাতি সহাবস্থান ও সংঘাত নিরসনে জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে শেরপুর জেলার পাহাড়ি জনপদের তিন উপজেলায় আজ (বুধবার) নানা কর্মসূচি পালিত হচ্ছে।
ঝিনাইগাতী উপজেলার রাংটিয়া রেঞ্জ, শ্রীবরদীর বালিজুড়ি রেঞ্জ এবং নালিতাবাড়ীর মধুটিলা রেঞ্জে ‘হাতির খবরাখবর ও সচেতনতা’ গ্রুপ, শেরপুর বার্ড কনজারভেশন সোসাইটি, বনবিভাগসহ বিভিন্ন সংগঠনের পক্ষ থেকে আলোচনা সভা, মানববন্ধন ও পদযাত্রাসহ বিভিন্ন কর্মসূচির আয়োজন করা হয়েছে।
২ দিন আগে
জলাবদ্ধতায় কাজে আসেনি ১৪০ কোটি টাকার প্রকল্প, ডুবছে ভবদহ
খুলনা ও যশোর অঞ্চলের ভবদহ অববাহিকায় দীর্ঘদিনের জলাবদ্ধতা নিরসনে ১৪০ কোটি টাকা ব্যয়ে নদী পুনঃখনন প্রকল্প বাস্তবায়ন করা হলেও কাঙ্ক্ষিত সুফল পাচ্ছেন না স্থানীয় বাসিন্দারা। বরং অপরিকল্পিতভাবে নদী খননের কারণে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।
স্থানীয়দের দাবি, জোয়ার-ভাটার নদীতে বাঁধ দিয়ে পানি প্রবাহ রুদ্ধ করে খননকাজ পরিচালনা করায় খর্ণিয়া থেকে ভাটি অঞ্চলের প্রায় ৭ কিলোমিটার নদীপথ পলিতে ভরাট হয়ে গেছে। ফলে উজান থেকে নেমে আসা বৃষ্টির পানি সাগরে পৌঁছাতে না পেরে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হচ্ছে।
স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, ভবদহ অঞ্চলের জলাবদ্ধতা নিরসনে হরি-তেলিগাতি, আপার ভদ্রা, টেকা ও শ্রীনদীর প্রায় সাড়ে ৮১ কিলোমিটার পুনঃখনন প্রকল্প সেনাবাহিনীর তত্ত্বাবধানে বাস্তবায়ন হচ্ছে। প্রকল্পের কাজ গত ৩০ জুনের মধ্যে শেষ হওয়ার কথা থাকলেও নির্ধারিত সময়ে তা সম্পন্ন হয়নি। ফলে বর্ষা শুরু হওয়ার পর থেকেই এর বিরূপ প্রভাব স্পষ্ট হতে থাকে।
অভিযোগ রয়েছে, খর্ণিয়া সেতুসংলগ্ন এলাকায় বাঁধ নির্মাণ করে এক্সকাভেটর দিয়ে নদী খনন করায় জোয়ারের পানির সঙ্গে আসা বিপুল পলি নদীর তলদেশে জমতে থাকে। এতে খর্ণিয়া থেকে তেলিগাতি পর্যন্ত প্রায় ৭ কিলোমিটার নদীপথ ভরাট হয়ে যায়।
স্থানীয়দের ভাষ্য, যে নদীর গভীরতা এক বছর আগেও প্রায় ৩০ ফুট ছিল, বর্তমানে তার অনেকাংশই প্রায় সমতল ভূমিতে পরিণত হয়েছে।
এর ফলে খর্ণিয়ার বিল, বিল সিঙ্গা, ডোমবার বিল, বিল তাওয়ালিয়া, আগরঘাটি, ভায়না, বরুনা, সালাতিয়া, দহকুলা, নাদিয়া, জোয়ারেরডাঙ্গা, বামুন্দিয়া, গোনালীসহ যশোর ও খুলনা অঞ্চলের অন্তত ৩০টি বিল ও অর্ধশতাধিক গ্রামে জলাবদ্ধতা দেখা দিয়েছে। পানিবন্দি হয়ে পড়েছেন কয়েক লাখ মানুষ। কৃষিজমি, মৎস্যঘের ও গ্রামীণ সড়কও ক্ষতির মুখে পড়েছে।
স্থানীয় কৃষক ওহিদ শেখ ক্ষোভ প্রকাশ করে বলেন, নদী খননের নামে যে ক্ষতি হয়েছে, তা অন্য কোনো দুর্যোগেও হতো না। ‘জোয়ার-ভাটা বন্ধ করে নদী খননের এমন উদাহরণ আগে দেখিনি। এর মাশুল এখন সাধারণ মানুষকে দিতে হচ্ছে।’
২ দিন আগে
আইসিইউর অপেক্ষায় রমেক হাসপাতালে মৃত্যুর মিছিল
একজন মুমূর্ষু রোগীর জীবন বাঁচাতে যেখানে প্রতিটি মিনিট গুরুত্বপূর্ণ, সেখানে রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতালে আইসিইউ শয্যার জন্য অপেক্ষা করতে হচ্ছে ঘণ্টার পর ঘণ্টা, এমনকি দিনের পর দিন। অনেক ক্ষেত্রে চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দিলেও শয্যা না থাকায় অপেক্ষমাণ তালিকাতেই থেকে যাচ্ছেন রোগীরা। শেষ পর্যন্ত আইসিইউতে যাওয়ার আগেই কারও কারও মৃত্যু হচ্ছে।
রংপুর বিভাগের আট জেলার ১ কোটি ৮০ লাখ ৭৪ হাজার মানুষের চিকিৎসাসেবার অন্যতম প্রধান ভরসা রংপুর মেডিকেল কলেজ (রমেক) হাসপাতাল। প্রতিদিন গড়ে দুই থেকে তিন হাজার রোগী এখানে ভর্তি থাকেন। হাসপাতাল সূত্র বলছে, ভর্তি রোগীদের অন্তত ১০ শতাংশের আইসিইউ সেবার প্রয়োজন হয়। অথচ হাসপাতালটির আইসিইউতে শয্যা রয়েছে মাত্র ১০টি।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, প্রতিদিন অন্তত ১৫ থেকে ২০ জন রোগীর জন্য আইসিইউ শয্যার অনুরোধ আসে। বিপরীতে ১০টি শয্যা থাকায় চাহিদার বড় একটি অংশই পূরণ করা সম্ভব হয় না। ফলে অনেক রোগী অপেক্ষমাণ তালিকায় নাম লিখিয়েও শয্যা পাওয়ার আগেই মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়ছেন।
আইসিইউ বিভাগের পরিদর্শক ডা. তৌহিদ সরকার ডলার বলেন, ‘প্রতিদিন বহু রোগীর আইসিইউর জন্য রিকোয়েস্ট আসে। আমরা সব রোগীর অনুরোধ রাখতে পারি না। অনেক রোগী আইসিইউ সেবা থেকে বঞ্চিত হচ্ছেন। বেডের সঙ্গে আইসিইউতে জনবল এবং বিভাগের জায়গা বাড়ানো প্রয়োজন। তাহলে উত্তরবঙ্গের এই বিশাল জনগোষ্ঠী সেবা বঞ্চিত হওয়া থেকে রক্ষা পাবেন।’
১০ শয্যার আইসিইউতে বিপুল চাপ
ইউএনবির হাতে আসা রমেক হাসপাতালের আইসিইউতে অপেক্ষমাণ ১২ জন রোগীর তালিকা পর্যালোচনা করে দেখা যায়, তাদের অধিকাংশই আইসিইউ শয্যা না পেয়ে মারা গেছেন। তাদের কয়েকজনের স্বজনের সঙ্গে কথাও বলেছে ইউএনবি।
রংপুর নগরীর ধাপ সাতগাড়া এলাকার মহসেনা বেগমের মেয়ের জামাই শফিক জানান, বুকে প্রচণ্ড ব্যথা নিয়ে তার শাশুড়িকে হৃদরোগ বিভাগে ভর্তি করা হয়। পরে তার শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে চিকিৎসকেরা জরুরি ভিত্তিতে তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন।
শফিক বলেন, ‘আইসিইউর রোগী ১০ মিনিট বাইরে রাখার সুযোগ নেই। অথচ তিন দিন অপেক্ষার পরও আইসিইউ বেড না পেয়ে প্রাইম মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করাই। কয়েক দফা রোগীকে নিয়ে হাসপাতালে ছোটাছুটি করেছি। গত বুধবার শাশুড়ি মারা গেছেন। আমার রোগীটা সময়মতো আইসিইউ সাপোর্ট পেলে হয়তো আরও কিছু দিন বেঁচে থাকতেন।’
কুড়িগ্রামের ৭২ বছর বয়সী রহিচা বেগম স্ট্রোকের পর প্রথমে রংপুর কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি হন। সেখানে চিকিৎসাসেবায় অসন্তুষ্ট হয়ে স্বজনরা তাকে রমেক হাসপাতালে নিয়ে আসেন। চিকিৎসকের পরামর্শে তাকে আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ নেওয়া হয়।
তার ছেলে আরমান ফেরদৌস বলেন, ‘ভর্তির তিন দিন পর অচেতন অবস্থায় আমার মাকে কোনো কারণ জানানো ছাড়া রিলিজ দিয়ে বলা হয় আইসিইউ সাপোর্ট লাগবে না। আবার এক দিন পর নেফ্রোলজির চিকিৎসকরা আইসিইউতে নেওয়ার পরামর্শ দেন। কিন্তু আইসিইউতে সিট আর পাইনি। আমার মা মারা গেছে।’
কুড়িগ্রামের চিলমারীর রমনা গড়াতিপাড়া থেকে মুমূর্ষু অবস্থায় ৪৫ বছর বয়সী বিউটি বেগমকে রমেক হাসপাতালের ১৫ নম্বর ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল। গত ২ জুন জরুরি ভিত্তিতে তাকে অস্ত্রোপচার বিভাগে নেওয়া হয়। চিকিৎসকেরা জানান, অস্ত্রোপচারের পর তাকে আইসিইউতে নিতে হবে এবং আইসিইউ শয্যা নিশ্চিত না হওয়া পর্যন্ত অস্ত্রোপচার করা সম্ভব নয়।
চিকিৎসকের অনুমতিপত্র নিয়ে দফায় দফায় চেষ্টা করেও আইসিইউ শয্যা মেলেনি। পরদিন ৩ জুন দুপুর ১২টায় মারা যান বিউটি বেগম।
তার ভাতিজির জামাই নূর আলম বলেন, ‘আইসিইউ পেলে শাশুড়িকে বাঁচাতে পারতাম। বেসরকারি হাসপাতালে আইসিইউতে অনেক খরচ। রোগী মারা যাওয়ার পরও ওরা (বেসরকারি হাসপাতাল) রেখে দেয়। এ জন্য বাইরের হাসপাতালে নিয়ে যাইনি। আমার রোগী ভর্তি থাকা অবস্থায় তিনটা আইসিইউ বেড ফাঁকা হয়েছিল। কিন্তু আমার রোগীকে নেয়নি। যাদের বড় বড় লোক আছে, তারাই আইসিইউতে বেড পায়।’
কুড়িগ্রামের ভূরুঙ্গামারী এলাকার ৮০ বছর বয়সী মো. সোবহান সড়ক দুর্ঘটনায় গুরুতর আহত হলে তাকে রমেক হাসপাতালের নিউরোসার্জারি বিভাগে ভর্তি করা হয়। গত ১ জুন সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় চিকিৎসক তাকে জরুরি ভিত্তিতে আইসিইউতে নেওয়ার নির্দেশ দেন। কিন্তু ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও আইসিইউ শয্যা না পেয়ে পরদিন ২ জুন রাত ৩টায় মারা যান তিনি।
তার নাতনি হ্যাপি বেগম বলেন, ‘দাদুকে আইসিইউতে নেওয়া প্রয়োজন ছিল। আমরা খুব চেষ্টা করেছি। কিন্তু আইসিইউ ফাঁকা ছিল না। সময়মতো আইসিইউতে নিতে না পারায় আমার দাদু মারা গেছে। এত বড় একটা হাসপাতাল। এখানে মাত্র ১০টা আইসিইউ দিয়ে কীভাবে চলে।’
৩ দিন আগে
বছরের ৮ মাসই জলাবদ্ধতা, ব্রিটিশ আমলের টানেলে জনদুর্ভোগ চরমে
ঘটনা ছোট, কিন্তু সমস্যা পাহাড়সম। মাত্র ২০ মিটার পাকা সড়ক, অথচ বছরের ৮ থেকে ১০ মাস সেখানে জমে থাকে হাঁটুসমান পানি। ফলে চরম ভোগান্তি আর দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে কুষ্টিয়ার কুমারখালী উপজেলার কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের প্রায় এক লাখ মানুষকে।
উপজেলার নন্দলালপুর ইউনিয়নের হাতিসাকোঁ এলাকার এই চিত্র যেন উন্নয়নের মাঝে এক অনাকাঙ্ক্ষিত ভোগান্তি। ব্রিটিশ আমলে যোগাযোগের জন্য নির্মিত টানেলটি এখন স্থানীয়দের কাছে ‘গলার কাঁটা’ হয়ে দাঁড়িয়েছে। ড্রেনেজ ব্যবস্থা না থাকায় এবং পরিকল্পনাহীন ভরাটের কারণে সামান্য বৃষ্টিতেই এই সড়ক পরিণত হয় মরণফাঁদে।
কয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. আলী হোসেন জানান, তার ইউনিয়নের প্রায় ৭০ হাজার মানুষের উপজেলা সদরে যাওয়ার একমাত্র পথ এটি। কিন্তু পানি বের হওয়ার পথ না থাকায় সড়কের ওই অংশে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়। আবার রাস্তা উঁচু করলে টানেলে যানবাহন বেঁধে যায়। ফলে ব্রিটিশ আমলের উন্নয়ন এখন আধুনিক যুগের ভোগান্তিতে পরিণত হয়েছে। তার ভাষ্য, প্রশাসনকে বারবার জানিয়েও কোনো লাভ হয়নি।
স্থানীয়রা জানান, ব্রিটিশ আমলে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ টানেলটি নির্মাণ করে। যুগ যুগ ধরে টানেলের নিচ দিয়ে কয়া ও নন্দলালপুর ইউনিয়নের মানুষের নিত্যদিনের চলাচল। কিন্তু গত এক দশকে আশপাশের ফাঁকা জায়গাগুলো ভরাট করে বাড়িঘর, দোকানপাটসহ বিভিন্ন স্থাপনা গড়ে ওঠায় বন্ধ হয়ে গেছে পানি নিষ্কাশনের একমাত্র প্রাকৃতিক পথ।
৫ দিন আগে
প্রধান শিক্ষক ছাড়াই চলছে কুমিল্লার ৮৯৪টি প্রাথমিক বিদ্যালয়
কুমিল্লার প্রায় অর্ধেক সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় দীর্ঘদিন ধরে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক ছাড়াই পরিচালিত হচ্ছে। জেলার ২ হাজার ১০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের মধ্যে ৮৯৪টিতে প্রধান শিক্ষক নেই। একই সঙ্গে সহকারী শিক্ষকেরও ৯৭০টি পদ শূন্য থাকায় শিক্ষা কার্যক্রম, প্রশাসনিক ব্যবস্থাপনা এবং শিক্ষার্থীদের পাঠদানে বিরূপ প্রভাব পড়ছে।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে সহকারী শিক্ষকদের নিয়মিত শ্রেণি পাঠদানের পাশাপাশি প্রশাসনিক কাজও সামলাতে হচ্ছে। ফলে মানসম্মত শিক্ষা নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।
কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তার কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, জেলার ২ হাজার ১০৭টি সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বিপরীতে অনুমোদিত প্রধান শিক্ষকের পদও ২ হাজার ১০৭টি। এর মধ্যে বর্তমানে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ১ হাজার ২১৩ জন। ফলে ৮৯৪টি পদ দীর্ঘদিন ধরে শূন্য রয়েছে। অর্থাৎ জেলার প্রায় ৪২ দশমিক ৪২ শতাংশ বিদ্যালয়ে স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। অন্যদিকে, সহকারী শিক্ষকের অনুমোদিত ১৩ হাজার ৩৮৯টি পদের মধ্যে বর্তমানে কর্মরত আছেন ১২ হাজার ৪১৯ জন। ফলে ৯৭০টি পদ বর্তমানে শূন্য রয়েছে। এতে অনেক বিদ্যালয়ে শিক্ষকসংকট প্রকট হয়ে উঠেছে।
সংকটের বাস্তব চিত্র দেখা যায় কুমিল্লা সদর উপজেলার উত্তর রসুলপুর সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে। শতবর্ষী এ বিদ্যালয়ে প্রায় এক দশক ধরে কোনো স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নেই। এই সময়ে পর্যায়ক্রমে পাঁচজন সহকারী শিক্ষক ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমানে দায়িত্বে রয়েছেন সহকারী শিক্ষক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম। বিদ্যালয়টিতে বর্তমানে ২২৫ জন শিক্ষার্থীর বিপরীতে কর্মরত রয়েছেন মাত্র ছয়জন শিক্ষক।
ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক মোহাম্মদ মঞ্জুরুল আলম বলেন, ‘নিয়মিত শ্রেণি পাঠদানের পাশাপাশি বিদ্যালয়ের প্রশাসনিক, আর্থিক ও দাপ্তরিক সব দায়িত্ব পালন করতে হয়। দুটি দায়িত্ব একসঙ্গে সামলাতে গিয়ে স্বাভাবিকভাবেই পাঠদানে সময় ও মনোযোগ কমে যায়। এতে শিক্ষার্থীরা প্রত্যাশিত মানের শিক্ষা থেকে বঞ্চিত হয়।’ শিক্ষার্থীদের স্বার্থে দ্রুত স্থায়ী প্রধান শিক্ষক নিয়োগ এবং প্রয়োজনীয় সংখ্যক সহকারী শিক্ষক দেওয়া জরুরি বলে মন্তব্য করেন তিনি।
জেলার অধিকাংশ উপজেলাতেই একই চিত্র বিরাজ করছে। দেবিদ্বার, মুরাদনগর, নাঙ্গলকোট, চৌদ্দগ্রাম, দাউদকান্দি, বরুড়া, ব্রাহ্মণপাড়া, চান্দিনা, তিতাস, মেঘনা, মনোহরগঞ্জ, সদর দক্ষিণ, আদর্শ সদর, লাকসাম ও হোমনাসহ প্রায় সব উপজেলায় উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রধান শিক্ষক ও সহকারী শিক্ষকের পদ শূন্য রয়েছে।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে বাংলাদেশ সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় সহকারী শিক্ষক সমিতি, কুমিল্লা জেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মিয়া বলেন, ‘প্রধান শিক্ষক না থাকলে সহকারী শিক্ষকদের ওপর অতিরিক্ত চাপ পড়ে। প্রশাসনিক কাজ সামলাতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে যথেষ্ট সময় দেওয়া সম্ভব হয় না। এতে পাঠদানের মান ক্ষতিগ্রস্ত হয়। তাই প্রতিটি বিদ্যালয়ে দ্রুত প্রধান শিক্ষক নিয়োগের পাশাপাশি একজন করে হেড ক্লার্ক নিয়োগ দেওয়া জরুরি।’
লাল-সবুজ উন্নয়ন সংঘের কেন্দ্রীয় সভাপতি কাওসার আলম সোহেল বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন জেলার শত শত প্রাথমিক বিদ্যালয়ে কাজ করতে গিয়ে দেখেছি, শিক্ষকসংকট একটি বড় সমস্যা। প্রধান শিক্ষক না থাকলে সহকারী শিক্ষকদের অতিরিক্ত দায়িত্ব নিতে হয়, যার প্রভাব সরাসরি শিক্ষার্থীদের ওপর পড়ে। শিক্ষার মান ধরে রাখতে দ্রুত শূন্য পদ পূরণ করা জরুরি।’
এ বিষয়ে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের রসায়ন বিভাগের বিভাগীয় প্রধান অধ্যাপক ড. মো. শাহাদাৎ হোসেন বলেন, ‘প্রাথমিক শিক্ষা একজন শিক্ষার্থীর জীবনের ভিত্তি। এই পর্যায়ে প্রধান শিক্ষক না থাকলে প্রশাসনিক ও অ্যাকাডেমিক নেতৃত্ব দুর্বল হয়ে পড়ে। সহকারী শিক্ষকরা অতিরিক্ত দায়িত্ব পালন করতে গিয়ে শ্রেণিকক্ষে যথাযথ মনোযোগ দিতে পারেন না। এর প্রভাব পরবর্তী শিক্ষাজীবনেও পড়ে। তাই শিক্ষকসংকট দ্রুত নিরসন করা উচিৎ।’
তবে কুমিল্লা জেলা প্রাথমিক শিক্ষা কর্মকর্তা মনছুর আলী চৌধুরী বলেন, ‘২০১৯ সালের পর থেকে জ্যেষ্ঠ সহকারী শিক্ষকদের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষকের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এতে শিক্ষাকার্যক্রমে বড় ধরনের কোনো সমস্যা হচ্ছে বলে আমরা মনে করি না। তারপরও শূন্য পদ পূরণের বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের বিবেচনায় রয়েছে।’
শিক্ষাবিদদের মতে, প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়ন ও টেকসই শিক্ষা ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে দ্রুত শূন্য পদে নিয়োগ, বিদ্যালয়ভিত্তিক শিক্ষকসংকট দূর করা এবং প্রশাসনিক কাঠামো শক্তিশালী করার বিকল্প নেই। তা না হলে ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার ভিত্তি আরও দুর্বল হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
৬ দিন আগে
বেইলি সেতু ধসে মতলব-দাউদকান্দি সড়ক যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন, দুর্ভোগে কয়েক উপজেলার মানুষ
চাঁদপুর-মতলব-দাউদকান্দি-ঢাকা সড়কে দাউদকান্দির খামারপাড়ায় খিরাই নদের ওপর দীর্ঘদিনের জরাজীর্ণ বেইলি সেতু হঠাৎ ধসে পড়ায় চাঁদপুর, মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ, হাইমচরের ঢাকাগামী লাখ লাখ লোকের দুর্ভোগ চরমে ।
শনিবার (১ আগস্ট) রাতে হঠাৎ এ সেতুটি ধসে পড়ে। সেই থেকে এ গ্রামের মানুষগুলোর চলাচলের সীমাহীন কষ্ট।
সরেজমিন পরিদর্শনকালে স্থানীয় মজনু মিয়া, আবুল কাসেমসহ অনেকে জানান, গত শনিবার রাতে হঠাৎ এ সেতুটি হুমমুড় করে নিচে ধসে পড়ে। সে সময় নিচ দিয়ে ধীরে ধীরে চলা কয়েক হাজার ইটভর্তি একটি বাল্কহেডের ওপর সেতু পড়ায় সেটি নদীতে তলিয়ে যায়। দুর্ঘটনার পর বাল্কহেডের ১৬/১৭ জন শ্রমিক কোনোভাবে সাঁতরে তীরে উঠে প্রাণ বাঁচান।
তারা আরও জানান, ওই শ্রমিকদের মোবাইল ফোন, টাকা-পয়সাসহ অনেক মুল্যবান জিনিসপত্র নদীতে হারিয়ে যায়।
সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুটি ভেঙে পড়ার পর থেকে স্থানীয় লোকজন ও শিক্ষার্থীরা দেশি নৌকা দিয়ে নদী পারাপার হচ্ছেন।
রেন্ট-এ-কারের ড্রাইভার মফিজ বকাউল, ফারুক মিয়া ও কবির হোসেনসহ দুর্ভোগে পড়া অন্যান্য যাত্রীরা বলেন, চাঁদপুর, মতলব দক্ষিণ, মতলব উত্তর, ফরিদগঞ্জ, হাজীগঞ্জ ও হাইমচরের এলাকার কয়েক লাখ মানুষ ও হাজার হাজার যানবাহন মতলব দক্ষিণ উপজেলার মাধ্যমে রাজধানীতে স্বল্প সময়ে সরাসরি গুরুতর রোগী নিয়ে যেতে ও ফিরতে দৈনিক যাতায়াত করত। তবে সেতুটি ধসে পড়ার পর থেকে তাদের এখন ১৫-২০ কিলোমিটার ঘুরে ভিন্ন পথে গৌরীপুর হয়ে ঢাকায় যাতায়াত করতে হচ্ছে। এর ফলে ব্যায় হচ্ছে অতিরিক্ত সময়, জ্বালানি তেল; লাগছে অতিরিক্ত ভাড়া।
চাঁদপুর জেলা সদর হাসপাতালের অ্যাম্বুলেন্সচালক আব্দুল হামিদও একই কথা জানান।
এ ব্যাপারে স্থানীয় দাউদকান্দি উপজেলা এলজিইডি প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম ইউএনবিকে জানান, এখানে নতুন পাকা সেতু হবে। এটির জন্য সরকার ৬ কোটি টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। প্রাথমিক কাজ ইতোমধ্যেই শুরু হয়েছে বলে তিনি আশ্বস্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, নড়বড়ে বেইলি সেতুটির নাটবল্টু খোলার জন্য একজন ঠিকাদারকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছিল। ওই ঠিকাদারের কাজের ত্রুটির জন্য এ দুর্ঘটনা ঘটেছে বলে দাবি করেন এলজিইডি প্রকৌশলী মোজাহিদুল ইসলাম।
তবে কবে নাগাদ যোগাযোগব্যবস্থা পুনরায় চালু হবে, তা নিশ্চিত করে বলতে পারেননি তিনি।
ভুক্তভোগী লোকজন জনস্বার্থে ভাঙা এ সেতুর পাশে একটি অস্থায়ী বিকল্প সেতু নির্মাণ করার জন্য সংশ্লিষ্ট কৃর্তৃপক্ষের প্রতি বিশেষভাবে আহ্বান জানিয়েছেন।
৮ দিন আগে
সুরমার ভাঙনে বিলীন ছাতকের স্কুল-মসজিদ, আতঙ্কে বাউসা-কেশবপুরের হাজারো মানুষ
সুনামগঞ্জের ছাতক উপজেলার সদর ইউনিয়নের বাউসা-কেশবপুর গ্রামে সুরমা নদীর ভয়াবহ ভাঙন যেন থামছেই না। একের পর এক বসতভিটা, ফসলি জমি, গাছপালা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও ধর্মীয় স্থাপনা নদীগর্ভে বিলীন হয়ে যাচ্ছে। ইতোমধ্যে শতবর্ষী পূর্ব বাউসা কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ এবং বাউসা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় নদীগর্ভে হারিয়ে গেছে। প্রতিদিনই নতুন করে ভাঙছে নদীর পাড়, আর সেই সঙ্গে ভেঙে পড়ছে মানুষের স্বপ্ন, স্মৃতি ও ভবিষ্যৎ।
স্থানীয়দের ভাষায়, এটি শুধু নদীভাঙন নয়—এ যেন একটি জনপদের ধীরে ধীরে মৃত্যুর গল্প। বর্ষা এলেই সুরমা নদী ভয়ংকর রূপ ধারণ করে। প্রবল স্রোত আর তীব্র ঢেউয়ের আঘাতে নদীতীরের মাটি ধসে পড়ে নদীর বুকে। বছরের পর বছর ধরে চলা এই ভাঙনে বাউসা ও কেশবপুর গ্রামের বিস্তীর্ণ এলাকা নদীগর্ভে চলে গেছে। অথচ স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা না থাকায় প্রতিবছরই নতুন নতুন এলাকা ঝুঁকির মধ্যে পড়ছে।
গ্রামের প্রবীণ বাসিন্দারা জানান, যে স্থানে আজ নদীর উত্তাল ঢেউ আছড়ে পড়ছে, কয়েক বছর আগেও সেখানে ছিল সবুজ ধানের ক্ষেত, ফলের বাগান, শিশুদের খেলার মাঠ, মানুষের বসতঘর এবং গ্রামের ঐতিহ্যবাহী মসজিদ। এখন সেখানে শুধু অথৈ পানি আর নদীর গর্জন।
স্থানীয় কৃষকরা জানান, একসময় নিজেদের জমিতে চাষাবাদ করে স্বচ্ছলভাবে সংসার চালাতেন। কিন্তু নদী তাদের সব কেড়ে নিয়েছে। জমি হারিয়ে অনেকেই নিঃস্ব হয়ে পড়েছেন। বাধ্য হয়ে কেউ দিনমজুর, কেউ রিকশাচালক, আবার কেউ শহরে গিয়ে শ্রম বিক্রি করে পরিবার চালাচ্ছেন। পূর্বপুরুষের ভিটেমাটি হারিয়ে অনেক পরিবার অন্যত্র আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছে।
৯ দিন আগে