বাংলাদেশ
টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন ঢাকা গড়ার পরিকল্পনা প্রধানমন্ত্রীর
ঢাকাকে টোকিওর মতো পরিচ্ছন্ন শহরে পরিণত করার পরিকল্পনা তুলে ধরেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পরিচ্ছন্ন পরিবেশ, উন্নত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা ও বায়ুদূষণ কমানোর মাধ্যমে মানুষকে সুস্থ রাখা সম্ভব হবে বলে তিনি মনে করেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানের টোকিওতে হোটেল নিউ ওতানিতে বাংলাদেশ কমিউনিটি আয়োজিত প্রবাসী বাংলাদেশিদের সঙ্গে মতবিনিময় অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, তিনি তার সফরসঙ্গীদের একজনকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন, টোকিও তার কেমন লেগেছে। ওই ব্যক্তি জানিয়েছেন, তিনি রাস্তায় কোনো ময়লা দেখেননি। কিন্তু ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় বর্জ্য ছড়িয়ে-ছিটিয়ে থাকে।
তারেক রহমান বলেন, সরকার ঢাকা ও দেশের অন্যান্য এলাকা পরিচ্ছন্ন করার চেষ্টা করছে। রাজধানীর বায়ুদূষণ নিয়ে সংবাদমাধ্যমে নিয়মিত খবর প্রকাশিত হচ্ছে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
সরকার বায়ুর মান উন্নত করতে চায়, যেখানে সম্ভব দূষিত বাতাস পরিশোধনের ব্যবস্থা করতে চায় এবং বিভিন্ন এলাকায় গাছ লাগাতে চায় বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চারদিকে ময়লা-আবর্জনা জমতে থাকলে মানুষ ধীরে ধীরে অসুস্থ হয়ে পড়বে। জমে থাকা বর্জ্য থেকে জীবাণু ছড়াতে পারে, রোগব্যাধি দেখা দিতে পারে। মানুষকে সুস্থ রাখতে হলে পরিবেশ পরিচ্ছন্ন করতে হবে এবং বর্জ্য যথাযথভাবে অপসারণ করতে হবে।
সাধারণ মানুষের জন্য পরিচ্ছন্ন শহর ও স্বাস্থ্যকর পরিবেশ নিশ্চিত করাকে বড় ধরনের সংস্কার হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। তার মতে, এ ধরনের উদ্যোগ মানুষের জীবন সরাসরি উন্নত করতে পারে।
তারেক রহমান বলেন, মানুষ যাতে বর্জ্যমুক্ত পরিবেশে চলাচল করতে পারে, ময়লার কারণে অসুস্থ না হয় এবং দেশের বাতাস দূষিত না থাকে—এর চেয়ে ভালো সংস্কার আর কী হতে পারে?
তিনি আরও বলেন, শিশু, নারীসহ দেশের অন্য নাগরিকদের সুস্থ রাখতে নেওয়া পদক্ষেপগুলোই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার হবে, যদি ঢাকাকে টোকিওর মতো, জাপানের মতো পরিচ্ছন্ন করা যায়।
প্রবাসীদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান জাপানি ভাষা শিক্ষা, স্বাস্থ্যসেবা, খেলাধুলাসহ বিভিন্ন কার্যক্রমের মাধ্যমে শিশুদের বিকাশ, ব্যবসা সহজীকরণ, বন্ধ শিল্পকারখানা, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান নিয়েও সরকারের পরিকল্পনা তুলে ধরেন।
‘সরকারের বিরুদ্ধে পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে’
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, প্রান্তিক মানুষের উপকারে আসবে—এমন সংস্কার যাতে বিএনপি সরকার বাস্তবায়ন করতে না পারে, সে জন্য পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা চলছে।
অনুষ্ঠানে সরাসরি উপস্থিত এবং অনলাইনে যুক্ত হয়ে বক্তব্য শোনা বাংলাদেশিদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সরকার এসব সংস্কার বাস্তবায়ন করতে পারলে তারা ও তাদের সন্তানরা উপকৃত হবেন।
তারেক রহমান বলেন, যারা সরকারের কাজে বাধা দেওয়ার চেষ্টা করছেন, তাদের ক্ষেত্রে আপনারা কাকে সমর্থন করবেন? আমি ভোট দিতে বলছি না। যদি মনে করেন, আমরা সঠিক কাজগুলো করার চেষ্টা করছি, তাহলে অন্তত এসব উদ্যোগকে সমর্থন দিন, যাতে আমরা সেগুলো বাস্তবায়ন করতে পারি।
এ সময় প্রবাসীরা জোরে করতালি দিয়ে তাকে সমর্থন জানান।
সফরসঙ্গী হিসেবে জাপানে যাওয়া আম জনতা দলের সদস্য সচিব মো. তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যঙ্গ-বিদ্রূপের সমালোচনা করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, দেশের অনেক বাস্তব সমস্যা নিয়ে খুব কমই আলোচনা হচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য ও পরিবেশ নিয়ে তিনি যেসব সংস্কার করতে চাইছেন, সেগুলো সমাজের সব শ্রেণির মানুষের উপকারে আসবে। রিকশাচালক, সিএনজিচালিত অটোরিকশার চালক, চিকিৎসক, আইনজীবী, চাকরিজীবী, ব্যবসায়ী ও শিক্ষক—সবাই এসব উদ্যোগের সুফল পাবেন।
তিনি আরও বলেন, অন্য যেসব সংস্কারের প্রস্তাব নিয়ে আলোচনা হচ্ছে, সেগুলো বাস্তবায়িত হলে দেশের বা মানুষের কোনো উপকার হবে না—এমন কথা তিনি বলছেন না। তবে কিছু সংস্কারে হয়তো সীমিতসংখ্যক মানুষ উপকৃত হবেন। তার অগ্রাধিকার হলো, সাধারণ ও খেটে খাওয়া মানুষ যাতে সরাসরি উপকৃত হন, তা নিশ্চিত করা।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একজন রাজনীতিবিদ হিসেবে আমি সংস্কার বলতে এমন পরিবর্তনকে বুঝি, যার সুফল প্রান্তিক মানুষ পায়। সংস্কার নানা ধরনের হতে পারে—কিছু সংস্কার শীতাতপনিয়ন্ত্রিত কক্ষে থাকা মানুষের উপকারে আসতে পারে, আবার কিছু সংস্কার খেটে খাওয়া মানুষের জীবনকে আরও উন্নত করতে পারে।
নির্বাচনে জনগণের সমর্থন চাইতে হয়—এ কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, খেটে খাওয়া মানুষের জীবনমান উন্নত করাই তার অগ্রাধিকার।
এ সময় কাঙ্ক্ষিত বাংলাদেশ গড়ে তুলতে প্রবাসী ও দেশের গণতন্ত্রকামী মানুষের সহযোগিতা চান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, এ লক্ষ্য অর্জনে কঠোর পরিশ্রম, ধৈর্য, ঐক্য ও সম্মিলিত প্রচেষ্টা প্রয়োজন। এ জন্য প্রবাসী বাংলাদেশিদের সহযোগিতা ও দোয়া চান তিনি।
অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির সদস্য আবদুস সাত্তার পাটোয়ারী।
এ সময় প্রধানমন্ত্রীর স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, বাংলাদেশ বিনিয়োগ কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী এবং সফরসঙ্গী দলের অন্য সদস্যরা উপস্থিত ছিলেন।
অনুষ্ঠানে জাপান বিএনপির পক্ষ থেকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও ডা. জুবাইদা রহমানকে আলোকচিত্র উপহার দেওয়া হয়।
৩৬ মিনিট আগে
বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে চায় জাপান
বাংলাদেশকে আকর্ষণীয় বিনিয়োগ গন্তব্য হিসেবে বিবেচনা করে বিনিয়োগ বাড়াতে জাপান আগ্রহী বলে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে জানিয়েছেন সে দেশের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পমন্ত্রী আকাজাওয়া রিয়োসেই।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) জাপানে অনুষ্ঠিত প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে বৈঠকে আকাজাওয়া দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও উন্নত করা এবং বাংলাদেশে জাপানি বিনিয়োগ সম্প্রসারণে তার দেশের আগ্রহের কথা জানান। প্রধানমন্ত্রীর উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন এ তথ্য জানিয়েছেন।
এ সময় উন্নত ও সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গঠনে অব্যাহত সমর্থন ও সহযোগিতার জন্য জাপান সরকারকে ধন্যবাদ জানান তারেক রহমান।
তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মধ্যে সাম্প্রতিক দ্বিপক্ষীয় শীর্ষ বৈঠকে আলোচিত সহযোগিতার বিভিন্ন খাত এগিয়ে নেওয়া এবং দুই দেশের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার করতে উভয় পক্ষ একমত হয়।
বাংলাদেশে আরও জাপানি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে দেশটির ব্যবসায়ী নেতাদের মধ্যে বিদ্যমান আগ্রহকে কাজে লাগানোর ওপরও গুরুত্ব দেন তারা।
২ ঘণ্টা আগে
স্থানীয় সরকারে দরপত্র ও ক্রয়প্রক্রিয়া চালুর নির্দেশ
‘পাবলিক প্রকিউরমেন্ট (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৬’-এর অধীনে নতুন বিধিমালা প্রণয়ন ও রেট শিডিউল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত সরকারি দরপত্র ও ক্রয়প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ প্রত্যাহার করেছে স্থানীয় সরকার বিভাগ।
একই সঙ্গে রাষ্ট্রীয় জরুরি বিষয় ছাড়াও সব ধরনের কার্য, সেবা ও পণ্য সরবরাহ-সংক্রান্ত দরপত্র ও ক্রয়প্রক্রিয়া প্রচলিত নিয়মে চালু রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
সম্প্রতি স্থানীয় সরকার বিভাগ এ-সংক্রান্ত নতুন নির্দেশনা জারি করেছে।
এর আগে গত ১৫ অক্টোবর জারি করা এক নির্দেশনায় নতুন বিধিমালা প্রণয়ন ও রেট শিডিউল প্রকাশ না হওয়া পর্যন্ত রাষ্ট্রীয় জরুরি বিষয় ছাড়া সব ধরনের কার্য, সেবা ও পণ্য সরবরাহ-সংক্রান্ত দরপত্র ও ক্রয়প্রক্রিয়া স্থগিত রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তবে ২৬ অক্টোবর জারি করা নতুন নির্দেশনায় ১৫ অক্টোবরের ওই নির্দেশনার কার্যক্রম স্থগিত করা হয়েছে।
স্থানীয় সরকার বিভাগ জানিয়েছে, নতুন নির্দেশনাটি সব সিটি করপোরেশনের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, ওয়াসার ব্যবস্থাপনা পরিচালক, স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর ও জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী, জেলা প্রশাসক, জেলা পরিষদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, উপজেলা পরিষদের প্রশাসক ও পৌরসভার প্রশাসকদের কাছে পাঠানো হয়েছে।
২ ঘণ্টা আগে
পদ্মা থেকে ঢাকায় অতিরিক্ত ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহ হবে: শাহে আলম
সরকার পদ্মা নদী থেকে ঢাকা শহরে অতিরিক্ত ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বনানী বিদ্যানিকেতন স্কুল অ্যান্ড কলেজ মিলনায়তনে বিশ্ব হাত ধোয়া দিবস উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা জানান।
ঢাকার নাগরিক সেবা ও পানি সরবরাহের বিষয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ঢাকা ওয়াসা প্রতিদিন প্রায় ৩১৪ কোটি লিটার পানি সরবরাহ করে। এর মধ্যে ৭৪ শতাংশ পানি ভূগর্ভস্থ উৎস থেকে এবং ২৬ শতাংশ নদীর পানি শোধন করে সরবরাহ করা হয়।
তিনি আরও বলেন, ভূগর্ভস্থ পানির ওপর চাপ কমানো এবং ভূমিকম্পের ঝুঁকি এড়াতে আগামী ছয় মাস থেকে এক বছরের মধ্যে পদ্মা নদী থেকে ঢাকা শহরে অতিরিক্ত ১০০ কোটি লিটার পানি সরবরাহের নতুন প্রকল্প হাতে নিয়েছে সরকার।
এ সময় শিক্ষার্থীদের পানির অপচয় রোধে সচেতন হওয়ার আহ্বান জানান প্রতিমন্ত্রী।
হাত ধোয়া ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলার মাধ্যমে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়ার গুরুত্ব তুলে ধরে মীর শাহে আলম বলেন, ডায়রিয়া ও খাদ্যবাহিত রোগ প্রতিরোধে খাবার আগে এবং বাথরুম ব্যবহারের পর সাবান দিয়ে হাত ধোয়া অত্যন্ত জরুরি।
ফাস্টফুড খাওয়ার সময় হাত ধোয়ার সুযোগ না থাকলে হ্যান্ড স্যানিটাইজার ব্যবহারের পরামর্শ দেন তিনি।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, নিয়মিত হাত পরিষ্কার রাখা এবং স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলা ব্যক্তিগত সুস্বাস্থ্যের জন্য অপরিহার্য। এসব ভালো অভ্যাস নিয়মিত চর্চার মাধ্যমে সুস্থ প্রজন্ম গড়ে ওঠে।
শিক্ষার্থীদের পড়াশোনার পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার ওপর গুরুত্ব দিয়ে তিনি বলেন, বর্তমান প্রজন্মের অনেকের মধ্যে ভিটামিন ডির ঘাটতির কারণে ক্লান্তি দেখা যায়। তাই চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী ভিটামিন ডি গ্রহণের পাশাপাশি পুষ্টির দিকেও নজর দেওয়া উচিত।
এছাড়া সুস্থ থাকার জন্য শিক্ষার্থীদের খেলাধুলায় সম্পৃক্ত হওয়ার পরামর্শ দেন তিনি।
স্থানীয় সরকার বিভাগের সিনিয়র সচিব মো. শহীদুল হাসানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ইউনিসেফের ডেপুটি রিপ্রেজেন্টেটিভ মালালাই আহমাদজাই, বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার বাংলাদেশ প্রতিনিধি (ওআইসি) ডা. রাজেশ নারওয়াল ও ইউনিসেফের চিফ অব ওয়াশ পিটার মায়েস।
অতিথিরা বিশ্ব হাত ধোয়া দিবসের তাৎপর্য তুলে ধরে নিয়মিত হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার ওপর গুরুত্ব দেন।
পরে শিক্ষার্থীদের হাত ধোয়া ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতা বজায় রাখার শপথ পাঠ করানো হয়।
জনস্বাস্থ্য প্রকৌশল অধিদপ্তর, ইউনিসেফ ও বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা যৌথভাবে অনুষ্ঠানটির আয়োজন করে।
২ ঘণ্টা আগে
হাম উপসর্গে আরও ২ মৃত্যু, আক্রান্ত ১,৪১২
দেশে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪১২ শিশু।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ২ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ১ হাজার ১৩৭ শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০৫ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ১ হাজার ২৪২ শিশু মারা গেছে।
এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৯০ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৩২২। এই সময়ে ১ হাজার ১৯২ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৮৮ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ২৫ হাজার ১০৬, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ৬৩১। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ২ লাখ ৩১৯ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৯২ হাজার ১৭৮ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
২ ঘণ্টা আগে
জ্বালানি, রেল, প্রযুক্তিসহ গুরুত্বপূর্ণ খাতে জাপানি বিনিয়োগের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
অটোমোবাইল উৎপাদন, জ্বালানি, প্রযুক্তি ও মহাকাশ এবং দ্রুতগতির রেল ও সরবরাহব্যবস্থাসহ বাংলাদেশের অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত খাতগুলোতে বিনিয়োগের জন্য জাপানি কোম্পানিগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। পাশাপাশি ব্যবসার পরিবেশ উন্নয়নে সরকারের সহায়তা ও সংস্কারের আশ্বাসও দিয়েছেন তিনি।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) টোকিওতে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) সদর দপ্তরে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক ফোরাম সংলাপে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সইয়ের পর বাণিজ্য ও বিনিয়োগের মাধ্যমে দুই দেশের দীর্ঘদিনের সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়া উচিত। এ ধরনের চুক্তি সইয়ের ক্ষেত্রে এটিই বাংলাদেশের প্রথম অভিজ্ঞতা।
জাপানে অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাসের সহযোগিতায় জেটরো ও জাপান-বাংলাদেশ কমিটি ফর কমার্শিয়াল অ্যান্ড ইকোনমিক কো-অপারেশন (জেবিসিসিইসি) যৌথভাবে এ সংলাপের আয়োজন করে।
অনুষ্ঠানে সূচনা বক্তব্য দেন জেটরোর প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকা। অতিথি বক্তা হিসেবে ছিলেন জাপানের অর্থনীতি, বাণিজ্য ও শিল্পবিষয়ক পার্লামেন্টারি ভাইস-মিনিস্টার শিনজি ওয়াকায়ামা।
অনুষ্ঠানে সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) বিনিময়ের পাশাপাশি বিনিয়োগ ও সহযোগিতার বিভিন্ন প্রকল্প ঘোষণা করা হয়।
বাংলাদেশের বাজারে ১৮ কোটির বেশি মানুষ রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের কর্মক্ষম জনগোষ্ঠীর বড় অংশই তরুণ এবং জনসংখ্যার মধ্যম বয়স ২৭ বছর।
২০৩০ সালের মধ্যে বাংলাদেশ বিশ্বের নবম বৃহত্তম ভোক্তা অর্থনীতিতে পরিণত হবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এছাড়া সচ্ছল মধ্যবিত্ত শ্রেণির ক্রমবর্ধমান বিকাশের ফলে ২০৩৪ সালের মধ্যে বার্ষিক মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) এক ট্রিলিয়ন মার্কিন ডলার ছাড়িয়ে যাওয়ার আশা করা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে সই হওয়া ইপিএর আওতায় বাংলাদেশের সাত হাজার ৩৭৯টি পণ্য জাপানে শুল্কমুক্ত প্রবেশাধিকার পাবে বলে জানান তারেক রহমান। অন্যদিকে ইস্পাত, অটোমোবাইলের যন্ত্রাংশ ও ইলেকট্রনিক উপাদানসহ জাপানি পণ্য বাংলাদেশে অগ্রাধিকারমূলক প্রবেশাধিকার পাবে।
তিনি বলেন, দুই দেশের বিনিয়োগকারীরাই বিনিয়োগ, সেবা ও শুল্কসংক্রান্ত প্রক্রিয়ায় সম্প্রতি চালু হওয়া সহজ ও উন্নত নিয়মের সুবিধা পাবেন।
জাপানের অটোমোবাইল নির্মাতা, বড় খুচরা বিক্রেতা, কৃষিযন্ত্র তৈরির প্রতিষ্ঠানসহ আরও অনেক কোম্পানি আড়াইহাজারে জাপানিজ ইকোনমিক জোনে কারখানা স্থাপনের উদ্যোগ নিচ্ছে জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এ ক্ষেত্রে সরকার সব ধরনের সহায়তা দেবে।
তিনি আরও বলেন, জাপানি কোম্পানিগুলো তিনটি বিষয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে—নির্ভরযোগ্য জ্বালানি সরবরাহ, দক্ষ অবকাঠামো এবং পূর্বানুমানযোগ্য শুল্ক ছাড়করণ ও করব্যবস্থা। সরকার ইতোমধ্যে এসব উদ্বেগের কিছু সমাধান করেছে এবং বাকি বিষয়গুলো সমাধানে কাজ করছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমি বুঝি, ব্যবসার ক্ষেত্রে নিশ্চয়তা প্রয়োজন। বিনিয়োগকারীদের আস্থা দরকার। এই দুটো নিশ্চিত করার উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করাই আমাদের কাজ।’
এ উদ্যোগে সরকার সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেবে বলেও জানান তিনি।
বাংলাদেশকে বৈশ্বিক উৎপাদনকেন্দ্রে রূপান্তরিত করাই দেশের লক্ষ্য উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশে কারখানা স্থাপন করলে আপনারা শুধু বড় ও ক্রমবর্ধমান অভ্যন্তরীণ বাজারে সরাসরি প্রবেশের সুযোগই পাবেন না, বরং বিশ্বের অন্যান্য দেশে পণ্য রপ্তানির জন্য উৎপাদনের দক্ষ উপাদানগুলোর সুবিধাও নিতে পারবেন।’
২ ঘণ্টা আগে
৩১ অক্টোবর থেকে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা শুরু
মালয়েশিয়ায় কাজ করতে ইচ্ছুক কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা আগামী ৩১ অক্টোবর থেকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোতে শুরু হবে। এর আগে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো হলে তা গ্রহণযোগ্য হবে না এবং অভিবাসন ছাড়পত্রের জন্যও বিবেচনা করা হবে না।
সম্প্রতি প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ কর্মকর্তা মো. শরীফুল ইসলাম স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারগুলোর তালিকা শিগগিরই মন্ত্রণালয়ের ওয়েবসাইটে প্রকাশ করা হবে। এ কারণে কর্মীদের নিয়মিত ওয়েবসাইটে তালিকা যাচাই করার অনুরোধ জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়েছে, সরকারি নির্দেশনা পরিপালন ও সক্ষমতার ভিত্তিতে কোনো মেডিকেল সেন্টার তালিকা থেকে বাদ পড়তে পারে কিংবা নতুন কোনো প্রতিষ্ঠান যুক্ত হতে পারে।
এদিকে সম্প্রতি কিছু দালাল ও অসাধু রিক্রুটিং এজেন্সি অনুমোদন ছাড়াই স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানোর কথা বলে কর্মীদের কাছ থেকে পাসপোর্ট ও টাকা নেওয়ার চেষ্টা করছে বলে মন্ত্রণালয়ের নজরে এসেছে।
এ অবস্থায় সরকারি অনুমোদন ছাড়া কোনো মেডিকেল সেন্টার বা রিক্রুটিং এজেন্সিকে মালয়েশিয়াগামী কর্মীদের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা বা করানোর সুযোগ দেওয়া হবে না বলে সতর্ক করেছে মন্ত্রণালয়।
কর্মীদের এ ধরনের প্রস্তাবে সাড়া না দিতে এবং সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানের অনুমোদন নিশ্চিত না হয়ে কারও কাছে পাসপোর্ট বা টাকা জমা না দিতেও সতর্ক করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পরবর্তী নির্দেশ না দেওয়া পর্যন্ত জনশক্তি কর্মসংস্থান ও প্রশিক্ষণ ব্যুরোর (বিএমইটি) ছাড়পত্রের জন্য আবেদনকারী রিক্রুটিং এজেন্সিগুলোকে অনুমোদিত মেডিকেল সেন্টারে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কাগজপত্র ও ভিডিআর ভিসার নথি জমা দিতে হবে।
নির্দেশনা অমান্যকারী মেডিকেল সেন্টার ও রিক্রুটিং এজেন্সির বিরুদ্ধে প্রচলিত আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে। প্রয়োজনে সংশ্লিষ্ট মেডিকেল সেন্টারের কার্যক্রম বন্ধ, রিক্রুটিং এজেন্সির বিদেশে কর্মী নিয়োগ কার্যক্রম স্থগিত এবং মন্ত্রণালয়ের অনুমোদন বাতিল করা হতে পারে বলেও জানিয়েছে মন্ত্রণালয়।
এছাড়া অনুমোদনহীন স্বাস্থ্য পরীক্ষা বা এ ধরনের অনিয়মের তথ্য পাওয়া গেলে ঘটনার তারিখ, স্থান এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি বা প্রতিষ্ঠানের নামসহ প্রমাণ মন্ত্রণালয়কে জানানোর অনুরোধ করা হয়েছে। এ জন্য [email protected] ঠিকানায় ইমেইল করা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
কর্মীদের নিরাপত্তা ও স্বার্থ রক্ষায় এ ধরনের অনিয়ম বন্ধে নজরদারি অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে মন্ত্রণালয়। একই সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কর্মী, রিক্রুটিং এজেন্সি ও মেডিকেল সেন্টারগুলোকে সরকারি নির্দেশনা মেনে চলতে বলা হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে
কুমিল্লায় অনুপস্থিত ৫ চিকিৎসকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
কুমিল্লার মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে অনুপস্থিত চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন।
বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকালে স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সটিতে আকস্মিক পরিদর্শনে গিয়ে পাঁচ চিকিৎসককে অনুপস্থিত দেখে ক্ষোভ প্রকাশ করেন মন্ত্রী। এ ঘটনায় সংশ্লিষ্ট চিকিৎসকদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে মন্ত্রণালয়কে নির্দেশনা দেন তিনি।
এ সময় মুরাদনগর উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সকে ১৫১ শয্যায় উন্নীত করার ঘোষণা দেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, হাসপাতালে ১০টি ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপন, প্রসূতিদের জন্য ২০ শয্যার ওয়ার্ড, নবজাতকদের জন্য ২০ শয্যার ব্যবস্থা, পুরুষ ও নারীদের জন্য পৃথক ফিজিওথেরাপি সেবা ও ব্রেস্টফিডিং সেন্টার চালুর পরিকল্পনা রয়েছে।
আগামী ১৫ থেকে ১৬ দিনের মধ্যে এ প্রকল্পের দরপত্র প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার পরিকল্পনা রয়েছে বলেও জানান মন্ত্রী।
এছাড়া আগামী ১ নভেম্বর নতুন করে যোগ দিতে যাওয়া ৪৮ জন চিকিৎসকের মধ্য থেকেও মুরাদনগর হাসপাতালে চিকিৎসক পদায়নের আশ্বাস দেন তিনি।
হাসপাতালের সার্বিক ব্যবস্থাপনায় আগের তুলনায় উন্নতি দেখলেও বর্জ্য ও আবর্জনা ব্যবস্থাপনা নিয়ে অসন্তোষ প্রকাশ করেন সাখাওয়াত হোসেন।
পরিদর্শন শেষে তিনি বলেন, উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান আগের চেয়ে কিছুটা উন্নত হয়েছে। তবে পরিদর্শনে কিছু অনিয়ম ও অসংগতি ধরা পড়েছে। ডেপুটেশনে থাকা চিকিৎসকদের হাসপাতালে উপস্থিত থাকার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
মুরাদনগর স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের সেবার মান উন্নয়নের বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, এ জনপদের মানুষের স্বাস্থ্যসেবা নিশ্চিত করতে সরকারের পক্ষ থেকে বিভিন্ন উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
বর্তমান সরকার নারীদের চিকিৎসাসেবায় বিশেষ গুরুত্ব দিচ্ছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
পাশাপাশি শিশুদের জন্য পৃথক চিকিৎসাসেবার ব্যবস্থা করা হচ্ছে এবং এ লক্ষ্যে খুব শিগগিরই দরপত্রের মাধ্যমে কাজ শুরু হবে বলেও আশ্বস্ত করেন তিনি।
৫ ঘণ্টা আগে
রপ্তানি বহুমুখীকরণে জাপানকে সহযোগিতার আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণ এবং বাণিজ্য ও বিনিয়োগের সুযোগ সম্প্রসারণে জাপানের সহযোগিতা চেয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। দুই দেশ অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার করার উদ্যোগ নেওয়ার মধ্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
টোকিওতে স্থানীয় সময় বুধবার (২৮ অক্টোবর) সকাল ১১টা ৪৫ মিনিটে জাপান এক্সটার্নাল ট্রেড অর্গানাইজেশনের (জেটরো) প্রেসিডেন্ট সুসুমু কাতাওকার সঙ্গে বৈঠকে প্রধানমন্ত্রী এ আহ্বান জানান বলে জানিয়েছেন তার উপ-প্রেস সচিব শাহাদাৎ হোসেন স্বাধীন।
দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও অর্থনৈতিক সম্পর্ক আরও জোরদার করার লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশের বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ানোর আহ্বান জানান, বিশেষ করে উন্নত উৎপাদনশিল্প, তথ্য ও যোগাযোগপ্রযুক্তি (আইসিটি), অটোমোবাইল, নবায়নযোগ্য জ্বালানি ও কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ খাতে জাপানের বিনিয়োগ বাড়ানোর ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বাংলাদেশে জাপানের বিনিয়োগ সম্প্রসারণে জেটরোর ভূমিকার প্রশংসা করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশে জাপানি কোম্পানিগুলোর জন্য নতুন নতুন সুযোগ তৈরি হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারে বাংলাদেশ-জাপান অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে উভয় পক্ষ একমত হয়েছে।
এছাড়া দক্ষতা উন্নয়ন কর্মসূচি এবং বাংলাদেশে জাপানি ভাষা প্রশিক্ষণকেন্দ্র প্রতিষ্ঠায় জাপানের সহযোগিতা চান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, এ ধরনের উদ্যোগ জাপানে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে এবং দুই দেশের দীর্ঘমেয়াদি অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব জোরদারে সহায়তা করবে।
৫ ঘণ্টা আগে
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের গডফাদারদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থার নির্দেশ পুলিশ সদর দপ্তরের
মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত গডফাদারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দিয়েছে পুলিশ সদর দপ্তর।
মঙ্গলবার (২৭ অক্টোবর) পুলিশ সদর দপ্তরে মাসিক অপরাধ পর্যালোচনা সভায় এ নির্দেশনা দেওয়া হয়।
সভায় বক্তব্য দিতে গিয়ে অতিরিক্ত পুলিশ মহাপরিদর্শক (ক্রাইম অ্যান্ড অপারেশন) মো. সায়েদুর রহমান বলেন, মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের বিরুদ্ধে বাংলাদেশ পুলিশের জিরো টলারেন্স নীতি রয়েছে।
এ সময় তিনি মাদক ও কিশোর গ্যাংয়ের সঙ্গে জড়িত গডফাদারদের চিহ্নিত করে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে মাঠপর্যায়ের পুলিশ কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেন।
সেই সঙ্গে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের সততা, নিষ্ঠা ও পেশাদারত্বের মাধ্যমে পুলিশের ভাবমূর্তি আরও উজ্জ্বল করার আহ্বান জানান অতিরিক্ত আইজিপি।
দায়িত্ব পালনের সময় সাধারণ জনগণের সঙ্গে মানবিক আচরণ করার ওপরও তিনি গুরুত্ব দেন।
পুলিশ কর্মকর্তাদের ডাকাতির মামলা নথিভুক্ত করতে এবং দ্রুত ঘটনার রহস্য উদঘাটন করে অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনতে নির্দেশ দেন অতিরিক্ত আইজিপি।
সাজার হার বাড়াতে ধর্ষণ মামলার তদন্ত নিবিড়ভাবে তদারকির নির্দেশও দেন তিনি।
এছাড়া সার্বিকভাবে মামলা নিষ্পত্তির হার বাড়ানোর ওপর জোর দেন করেন সায়েদুর রহমান।
অতিরিক্ত আইজিপি সমাজের সুনামধারী ব্যক্তিদের সম্পৃক্ত করে কার্যকর ও অন্তর্ভুক্তিমূলক কমিউনিটি ও বিট পুলিশিং কার্যক্রম পরিচালনার আহ্বান জানান।
এ সময় সম্প্রতি শেষ হওয়া দুর্গাপূজা নিরাপদ ও শান্তিপূর্ণভাবে উদযাপন নিশ্চিত করায় আইজিপির পক্ষ থেকে মাঠপর্যায়ের পুলিশ সদস্যদের ধন্যবাদ জানান তিনি।
সভায় মেট্রোপলিটন পুলিশ কমিশনার, রেঞ্জ ডিআইজি ও জেলার পুলিশ সুপাররা ভার্চুয়ালি যুক্ত হন।
ডিআইজি (ক্রাইম ম্যানেজমেন্ট) মোহাম্মদ আবু সুফিয়ানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
সভায় গত সেপ্টেম্বর মাসের সার্বিক অপরাধ পরিস্থিতি এবং ওই মাসে সংঘটিত উল্লেখযোগ্য ঘটনাগুলো পর্যালোচনা করা হয়।
এছাড়া ছিনতাই, ডাকাতি, হত্যা, ধর্ষণ, পুলিশের ওপর হামলা ও অপহরণের মামলা; মুলতবি গ্রেপ্তারি পরোয়ানা, তদন্ত ও বিচারের ফলাফল এবং সাজার হার নিয়ে আলোচনা হয়।
২৩ ঘণ্টা আগে