বাংলাদেশ
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ৪ জনের, আক্রান্ত ১১৭৪
দেশে আজ শুক্রবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৭৪টি শিশু।
শুক্রবার (১৯ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৭৭টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬৭০টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৯৬টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১০৭৮। এই সময়ে ৯৭২টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৯৩টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৯০ হাজার ৯৮২, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৮৬৯। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৭৫ হাজার ১৫৬ রোগী, যাদের মধ্যে ৭১ হাজার ৩৯৬ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে জোরালো বৈশ্বিক পদক্ষেপের আহ্বান বাংলাদেশের
বেসামরিক জনগণের সুরক্ষা নিশ্চিতকরণ, আন্তর্জাতিক মানবিক আইন সমুন্নত রাখা এবং রোহিঙ্গাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসনের লক্ষ্যে আরও কার্যকর আন্তর্জাতিক পদক্ষেপ গ্রহণের আহ্বান জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদরদপ্তরে অনুষ্ঠিত ২০২৬ সালের ইকোসক হিউম্যানিটারিয়ান অ্যাফেয়ার্স সেগমেন্টের উচ্চপর্যায়ের প্যানেল আলোচনায় বক্তব্য প্রদানকালে এ আহ্বান জানান তিনি।
আন্তর্জাতিক মানবিক আইন লঙ্ঘনের জন্য জবাবদিহিতা নিশ্চিতকরণ, সংঘাত প্রতিরোধে অধিক বিনিয়োগ এবং মানবিক, শান্তি ও উন্নয়ন কার্যক্রমের মধ্যে সমন্বয় জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করে পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী নারী ও কিশোরীদের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমান প্রযুক্তিনির্ভর হয়রানি ও অপব্যবহারের বিষয়টি তুলে ধরে এ ধরনের হুমকি মোকাবিলায় একটি বৈশ্বিক প্ল্যাটফর্ম প্রতিষ্ঠার আহ্বান পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রতিমন্ত্রী রোহিঙ্গা নারী ও কিশোরীদের ওপর চলমান অর্থায়ন সংকটের নেতিবাচক প্রভাব নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেন। রোহিঙ্গা সংকটের টেকসই সমাধানে আন্তর্জাতিক সহযোগিতা অব্যাহত রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদের নিজ দেশ মিয়ানমারে দ্রুত প্রত্যাবর্তনের আহ্বান জানান তিনি।
অনুষ্ঠানের ফাঁকে শামা ওবায়েদ ভিয়েতনামের উপ-পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. নগুয়েন মিন ভুর সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেন।
বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়, দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা এবং বহুপাক্ষিক অঙ্গনে সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে মতবিনিময় করেন।
১৬ ঘণ্টা আগে
অসুস্থতা কাটিয়ে বাসায় ফিরেছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল
স্বাস্থ্যগত জটিলতা কাটিয়ে সম্মিলিত সামরিক হাসপাতালে (সিএমএইচ) চিকিৎসা শেষে বাসায় ফিরেছেন রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
বুধবার (১৭ জুন) ফেসবুকে দেওয়া এক পোস্টে মুশফিকুল ফজল আনসারী জানান, গত সোমবার বুকে ব্যথা ও হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়ায় তাকে ঢাকার সিএমএইচে ভর্তি করা হয়। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা ও চিকিৎসা শেষে চিকিৎসকদের পরামর্শ অনুযায়ী তিনি বাসায় ফিরেছেন।
পোস্টে তিনি বলেন, চিকিৎসাধীন অবস্থায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান তার স্বাস্থ্যের খোঁজখবর নিয়েছেন এবং প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দিয়েছেন। প্রধানমন্ত্রীর এই আন্তরিকতা ও সহমর্মিতার জন্য তিনি ও তার পরিবার কৃতজ্ঞ।
এছাড়া প্রধানমন্ত্রীর সামরিক উপদেষ্টা, সেনাবাহিনী প্রধান, অন্যান্য বাহিনী প্রধান, প্রধানমন্ত্রীর ব্যক্তিগত চিকিৎসক এবং বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদকের সহযোগিতা ও আন্তরিকতার জন্য ধন্যবাদ জানান তিনি।
মুশফিকুল ফজল আনসারী বিশেষভাবে সিএমএইচের কার্ডিওলজি বিভাগের প্রধান প্রফেসর ব্রিগেডিয়ার জেনারেল আলেয়া সুলতানার সার্বক্ষণিক তত্ত্বাবধান, পেশাদারিত্ব ও মানবিক আচরণের প্রশংসা করেন।
তিনি আরও বলেন, সিএমএইচে অবস্থানকালে অন্যান্য বিভাগের জ্যেষ্ঠ চিকিৎসক, কর্মকর্তা ও সৈনিকদের আন্তরিকতা, ভালোবাসা ও সম্মান তাকে আবেগাপ্লুত করেছে। দেশ-বিদেশে অবস্থানরত আত্মীয়-স্বজন, বন্ধু, সহকর্মী, শুভানুধ্যায়ী ও সাধারণ মানুষের দোয়া এবং শুভকামনার জন্যও কৃতজ্ঞতা জানান তিনি।
পোস্টের শেষে মুশফিকুল ফজল আনসারী জানান, তার ভেরিফায়েড ফেসবুক অ্যাকাউন্ট বর্তমানে কার্যকর না থাকায় আপাতত একটি বিকল্প পেজের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখার চেষ্টা করছেন।
১ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র উপদেষ্টার সঙ্গে আইআরসি প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ
প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্রবিষয়ক উপদেষ্টা হুমায়ুন কবিরের সঙ্গে সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছে ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির (আইআরসি) একটি প্রতিনিধিদল।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) প্রধানমন্ত্রীর তেজগাঁও কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়৷ বৈঠকে বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি, ঝুঁকি হ্রাস এবং জলবায়ু পরিবর্তনজনিত চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করা হয়।
প্রতিনিধিদলের নেতৃত্ব দেন আইআরসির এশিয়া অঞ্চলের আঞ্চলিক উপপরিচালক হাসিনা রহমান। প্রতিনিধিদলে আরও উপস্থিত ছিলেন ইন্টারন্যাশনাল রেসকিউ কমিটির আঞ্চলিক অ্যাডভোকেসি বিশেষজ্ঞ এবং অ্যাডভোকেসি ও কমিউনিকেশন প্রধান শাবিরা নূপুর।
এ সময় বাংলাদেশে দুর্যোগ প্রস্তুতি ও ঝুঁকি ব্যবস্থাপনা কার্যক্রম আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে আইআরসির সঙ্গে একটি সমঝোতা স্মারক স্বাক্ষরের মাধ্যমে প্রাতিষ্ঠানিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার আগ্রহ প্রকাশ করেন উপদেষ্টা হুমায়ুন কবির।
তিনি বলেন, ‘দুর্যোগ মোকাবিলায় জনগণের সক্ষমতা বাড়ানো, সচেতনতা বৃদ্ধি এবং স্থানীয় পর্যায়ে সহনশীলতা গড়ে তোলার মাধ্যমে প্রাণহানি ও জীবিকার ক্ষয়ক্ষতি কমিয়ে আনা সম্ভব।’
আলোচনায় উভয় পক্ষ দুর্যোগ-পূর্ব প্রস্তুতি জোরদার করা, জনসচেতনতা বৃদ্ধি, জলবায়ুজনিত দুর্যোগ ও অন্যান্য জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় কমিউনিটির সক্ষমতা উন্নয়ন এবং টেকসই সহনশীলতা গড়ে তোলার ক্ষেত্রে যৌথ উদ্যোগ গ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
বাংলাদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা অগ্রাধিকারসমূহ বাস্তবায়নে ঘনিষ্ঠ সহযোগিতা অব্যাহত রাখা এবং ভবিষ্যতের সম্ভাব্য ঝুঁকি ও অভিঘাত মোকাবিলায় দেশের সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করার বিষয়ে দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তারা।
সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে অনুষ্ঠিত বৈঠকটি বাংলাদেশ ও আইআরসির মধ্যকার সহযোগিতার নতুন ক্ষেত্র উন্মোচনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন সংশ্লিষ্টরা।
১ দিন আগে
নেপাল-বাংলাদেশ দ্বিপাক্ষিক বৈঠক: পিটিএ দ্রুত সম্পন্ন করার তাগিদ
নেপালে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. শফিকুর রহমান নেপালের শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের সচিব কৃষ্ণ বাহাদুর রাউতের সঙ্গে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে মিলিত হন। বৈঠকে শফিকুর রহমান দুই বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) নেপালের শিল্প, বাণিজ্য ও সরবরাহ মন্ত্রণালয়ের সচিব কৃষ্ণ বাহাদুর রাউতের কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে উভয় পক্ষ পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে বিশদ আলোচনা করেন। আলোচনায় বাংলাদেশ ও নেপালের মধ্যকার অনিষ্পন্ন অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ), বিদ্যমান বাণিজ্য প্রতিবন্ধকতা ও চ্যালেঞ্জ এবং দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন ক্ষেত্র অনুসন্ধানের সুযোগ বিশেষভাবে গুরুত্ব পায়।
বৈঠকে রাষ্ট্রদূত শফিকুর রহমান দুই বন্ধুপ্রতিম প্রতিবেশী দেশের মধ্যে অর্থনৈতিক সহযোগিতার পূর্ণ সম্ভাবনা কাজে লাগানোর লক্ষ্যে অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তিটি দ্রুত সম্পন্ন করার ওপর জোর দেন।
উভয় পক্ষই একমত হন যে দীর্ঘদিনের বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক, ভৌগোলিক নৈকট্য এবং চমৎকার দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক থাকা সত্ত্বেও দুই দেশের মধ্যকার বর্তমান বাণিজ্যের পরিমাণ সম্ভাবনার তুলনায় অনেক কম। বাণিজ্য সহজীকরণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি, সংযোগ উন্নয়ন এবং উভয় দেশের ব্যবসায়ী সম্প্রদায়ের মাঝে সম্পৃক্ততা বৃদ্ধির লক্ষ্যে সহযোগিতা আরও জোরদার করার প্রয়োজনীয়তার বিষয়ে উভয় পক্ষ ঐকমত্য পোষণ করেন।
একইসঙ্গে, তারা আশা প্রকাশ করেন, অব্যাহত প্রচেষ্টা এবং ঘনিষ্ঠ সহযোগিতার মাধ্যমে আগামী বছরগুলোতে বাংলাদেশ-নেপাল অর্থনৈতিক সম্পর্ক উল্লেখযোগ্যভাবে সম্প্রসারিত হবে।
১ দিন আগে
সাগর-রুনি হত্যা মামলা: তদন্ত প্রতিবেদন পিছালো ১২৭ বার
সাংবাদিক দম্পতি সাগর সরওয়ার ও মেহেরুন রুনি হত্যা মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দেওয়া সময় আবারও পিছিয়ে ২২ জুলাই দিন ধার্য করেছেন আদালত। তবে এ নিয়ে মামলার প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১২৭তম বারের মত পেছাল।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) মামলার তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের দিন ধার্য ছিল, তবে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনের (পিবিআই) অতিরিক্ত পুলিশ সুপার আজিজুল হক প্রতিবেদন দাখিল করতে পারেননি।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিষ্টেট আরিফুল ইসলাম ২২ জুলাই পুনরায় প্রতিবেদন দাখিলের জন্য দিন ধার্য করেন।
তবে এ নিয়ে মামলার প্রতিবেদন দাখিলের সময় ১২৭তম বারের মত পেছাল।
এ মামলার আসামিরা হলেন— রফিকুল ইসলাম, বকুল মিয়া, মাসুম মিন্টু, কামরুল ইসলাম ওরফে অরুন, আবু সাঈদ, সাগর-রুনির বাড়ির দুই নিরাপত্তারক্ষী পলাশ রুদ্র পাল ও এনায়েত আহমেদ এবং তাদের ‘বন্ধু’ তানভীর রহমান খান।
২০১২ সালের ১১ ফেব্রুয়ারি রাজধানীর পশ্চিম রাজাবাজারের ভাড়া করা বাসায় খুন হন সাংবাদিক দম্পতি মাছরাঙা টেলিভিশনের বার্তা সম্পাদক সাগর সারোয়ার ও এটিএন বাংলার জ্যেষ্ঠ প্রতিবেদক মেহেরুন রুনি।
নিহত রুনির ভাই নওশের আলম রোমান বাদী হয়ে শেরেবাংলা নগর থানায় এ হত্যা মামলাটি করেন।
রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর ২০২৪ সালের ৩০ সেপ্টেম্বর মামলার তদন্তের দায়িত্ব থেকে র্যাবকে বাদ দেওয়া হয় এবং বিভিন্ন বাহিনীর অভিজ্ঞ তদন্ত কর্মকর্তাদের সমন্বয়ে উচ্চ ক্ষমতাসম্পন্ন টাস্কফোর্স গঠন করে এ তদন্ত কাজ শেষ করতে ছয় মাস বেঁধে দেন হাইকোর্ট।
এরপর ২০২৪ সালের ১৭ অক্টোবর হাইকোর্টের নির্দেশে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জননিরাপত্তা বিভাগ থেকে টাস্কফোর্স গঠন করে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়।
পিবিআই প্রধানকে আহ্বায়ক করে ৪ সদস্যের এই উচ্চপর্যায়ের টাস্কফোর্স কমিটি কাজ করছে।
তৃতীয় দফায় গত ২৬ এপ্রিল আরও ছয় মাস সময় পেয়েছে এই টাস্কফোর্স।
১ দিন আগে
নিরাপত্তার ঘেরাটোপে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে দেবেন না—এসএসএফকে প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনীকে (এসএসএফ) আহ্বান জানিয়ে বলেছেন, সরকারপ্রধান হিসেবে জনগণের বিশ্বাস এবং ভালোবাসার ওপরই আমার সবচেয়ে বেশি নির্ভরতা। নিরাপত্তার ঘেরাটোপ যাতে সরকারপ্রধানকে জনগণ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, একটি সফিসটিকেটেড বাহিনী হিসেবে সেদিকে বিশেষভাবে লক্ষ্য রাখার জন্য আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাই।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) তেজগাঁও প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে স্পেশাল সিকিউরিটি ফোর্স (এসএসএফ)-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠা বার্ষিকী উপলক্ষ্যে আয়োজিত অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, জনগণের আস্থা ও ভালোবাসাই তার শক্তির সবচেয়ে বড় উৎস। সরকারপ্রধান হিসেবে আমার সবচেয়ে বড় ভরসা মানুষের আস্থা ও ভালোবাসার ওপর। তাই একটি অত্যাধুনিক বাহিনী হিসেবে আমি আপনাদের প্রতি আহ্বান জানাচ্ছি, নিরাপত্তা বেষ্টনী যেন সরকারপ্রধানকে জনগণের কাছ থেকে দূরে ঠেলে না দেয়, তা নিশ্চিত করবেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, চার দশক আগে এই বাহিনী প্রতিষ্ঠার পর থেকে নিরাপত্তা পরিবেশ উল্লেখযোগ্যভাবে পরিবর্তিত হয়েছে; আর্থ-সামাজিক, রাজনৈতিক ও ভূ-রাজনৈতিক উন্নয়নের পাশাপাশি প্রযুক্তির দ্রুত অগ্রগতি বহুমাত্রিক নিরাপত্তা চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে।
তিনি এসএসএফ কর্মীদের আধুনিক ও যুগোপযোগী প্রশিক্ষণের মাধ্যমে প্রস্তুত থাকার প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দিয়ে বলেন, একটি বিশেষায়িত বাহিনীর সাহস, দক্ষতা, কৌশল বা প্রযুক্তিতে পিছিয়ে থাকার কোনো সুযোগ নেই।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির সাধারণ নির্বাচনের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের ক্ষমতা গ্রহণের কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, নতুন প্রশাসন গত ১৭ ফেব্রুয়ারি দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে রাষ্ট্রীয় বিধিমালা অনুযায়ী এসএসএফ সরকারপ্রধানকে সার্বিক নিরাপত্তা দিয়ে আসছে।
তিনি উল্লেখ করেন, জনগণের দুর্ভোগ কমাতে এবং ট্রাফিক চলাচল আরও সুগম করতে তিনি তার মোটর শোভাযাত্রার (মোটরকেড) আকার ছোট করেছেন, যার ফলে এসএসএফ-কে জনবল বাড়ানোর চেয়ে দক্ষতা ও নিরাপত্তা কৌশলের ওপর বেশি জোর দিতে হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘একটি গণতান্ত্রিক সরকারের প্রধান হিসেবে আমি প্রায়শই ঢাকা এবং দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে জনসভা ও রাষ্ট্রীয় কর্মসূচিতে অংশ নিই। বিপুল জনসমাগমের মধ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা একটি কঠিন কাজ।’
তিনি বলেন, এসএসএফ-কে সরকারপ্রধানের সুরক্ষা এবং নাগরিকদের স্বাচ্ছন্দ্য ও সুবিধা নিশ্চিত করার মধ্যে একটি সূক্ষ্ম ভারসাম্য বজায় রাখতে হবে। এই ধরনের পরিস্থিতি তারা কতটুকু কার্যকরভাবে পরিচালনা করছে, তার মাধ্যমেই বাহিনীর পেশাদারিত্ব ফুটে ওঠে।
তারেক রহমান এসএসএফ-এর জন্য একটি নবনির্মিত অত্যাধুনিক ফায়ারিং রেঞ্জেরও উদ্বোধন করেন এবং একটি প্রদর্শনী মহড়া প্রত্যক্ষ করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন যে, এই সুবিধা বাহিনীর পেশাদার সক্ষমতা বাড়াতে অবদান রাখবে এবং সদস্যদের তাদের কর্মক্ষমতা আরও উন্নত করতে সহায়তা করবে।
প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের ওপর আলোকপাত করে মন্ত্রী বলেন, সমসাময়িক প্রয়োজনীয়তা পূরণের জন্য ২০০২ সালের পর এই প্রথমবারের মতো এসএসএফ-এর ‘রেড বুক’ সংশোধন ও আধুনিকায়ন করা হয়েছে। এই হালনাগাদ করা নির্দেশিকাটি কেবল পরিচালনগত দিকনির্দেশনাই প্রদান করে না, বরং বাহিনীর কার্যক্রম পরিচালনাকারী আইনি কাঠামোকেও শক্তিশালী করে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এসএসএফ সদস্যদের নির্দেশিকায় উল্লিখিত নীতিগুলো কঠোরভাবে মেনে চলতে হবে এবং একইসঙ্গে পরিবর্তিত পরিস্থিতির ওপর ভিত্তি করে দ্রুত সিদ্ধান্ত নিতে সক্ষম হতে হবে।
তিনি পেশাদারিত্ব, সততা, আনুগত্য, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড বা নেতৃত্বের আদেশ মেনে চলার গুরুত্বের ওপর জোর দেন।
তারেক রহমান আরও গুরুত্ব সহকারে বলেন, রাষ্ট্রপ্রধান, সরকারপ্রধান এবং অন্যান্য রাষ্ট্রীয়ভাবে নির্ধারিত গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার বিষয়টি জাতীয় নিরাপত্তার সঙ্গে ওতপ্রোতভাবে জড়িত, যার জন্য নিরাপত্তা বাহিনী, গোয়েন্দা সংস্থা এবং সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে নিবিড় সমন্বয় প্রয়োজন।
তিনি এসএসএফ বাহিনীকে আশ্বাস দেন যে, বর্তমান বৈশ্বিক মানদণ্ডের সঙ্গে সঙ্গতি রেখে এর পেশাদার সক্ষমতা আরও জোরদার করতে সরকার প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেওয়া অব্যাহত রাখবে।
প্রধানমন্ত্রী এসএসএফ সদস্যদের দায়িত্ব পালনের সময় নাগরিকদের সঙ্গে শ্রদ্ধাশীল আচরণ করারও আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিদের নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়ার পাশাপাশি আপনাদের নিশ্চিত করতে হবে যেন সাধারণ মানুষ কোনো ধরনের দুর্ব্যবহারের শিকার না হয়।’
তারেক রহমান এই নিরাপত্তা বাহিনীর প্রতি আস্থা প্রকাশ করে এর সদস্যদের দায়িত্ব পালনে দেশপ্রেম, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং পেশাদারিত্বের সর্বোচ্চ মানদণ্ডে অবিচল থাকার আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া যখন ক্ষমতায় ছিলেন এবং অতি সম্প্রতি যখন তিনি জীবনের শেষ দিনগুলোতে এভারকেয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন ছিলেন, তখন তার নিরাপত্তা নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে অত্যন্ত আন্তরিকতা ও পেশাদারিত্বের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করার জন্য তিনি এসএসএফ-কে ধন্যবাদ জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘বেগম খালেদা জিয়ার ইন্তেকালের পর, কেবল বাংলাদেশেই নয়, বিশ্বের ইতিহাসেও অন্যতম বৃহত্তম জানাজা আয়োজনে প্রধান সমন্বয়কারী সংস্থা হিসেবে এসএসএফ গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল। আমার এবং আমার পরিবারের পক্ষ থেকে আমি আবারও এসএসএফ-কে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।’
প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে তিনি এসএসএফ-এর সঙ্গে অতীতে যুক্ত থাকা এবং বর্তমানে নিষ্ঠার সঙ্গে কর্মরত সকল সদস্যকে শুভেচ্ছা জানান।
১ দিন আগে
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ৫, আক্রান্ত ১১৪৮
দেশে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ১৪৮টি শিশু।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৭৩টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯৩টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬৬৬টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৩৯টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ৯। এই সময়ে ৯০৭টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮১৫টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৮৯ হাজার ৯০৪, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ১০ হাজার ৭৭৩। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৭৪ হাজার ১৮৪ রোগী, যাদের মধ্যে ৭০ হাজার ৫০৩ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
১ দিন আগে
আড়াই বছরের মধ্যে ঢাকার বাইরে যাবে চার বাস টার্মিনাল: সড়কমন্ত্রী
দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে চারটি আন্তঃজেলা বাস টার্মিনাল ঢাকার বাইরে সরিয়ে নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন ও সেতু, নৌপরিবহন এবং রেলপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) সচিবালয়ে গণমাধ্যম কেন্দ্রে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ) আয়োজিত ‘বিএসআরএফ সংলাপ’-এ তিনি এ কথা বলেন। টার্মিনালগুলো হল— গাবতলী বাস টার্মিনাল, মহাখালী বাস টার্মিনাল, সায়েদাবাদ বাস টার্মিনাল এবং ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, ‘আমরা দেখেছি বাস টার্মিনালগুলোতে সারাদিন বাস থাকে। ওখানে ওয়ার্কশপ হয়ে গিয়েছে। একটি বাস আট-দশ দিন ধরে ওখানে রং করছে, ডেন্ট করছে, ইঞ্জিন ডাউন দিয়ে আবার সেটা রিসেট করছে—এরকম চলছে। এটা ওখানে চলবে না। আমরা ডিপো করার জন্য পরিকল্পনা নিয়েছি, একটা ৩০০ ফিটে। একটা হচ্ছে কাঁচপুরে। কাঁচপুরে যেটা আমরা ডিপো করছি, সেটা টার্মিনালই হয়ে যাবে। সায়েদাবাদ টার্মিনাল আস্তে আস্তে কাঁচপুরে চলে যাবে। ফুলবাড়িয়া টার্মিনালটা চলে যাবে কেরানীগঞ্জে, জেলখানার ঠিক বিপরীতে। গাবতলী বাস টার্মিনাল চলে যাবে হেমায়েতপুরে।’
তিনি বলেন, এভাবে টার্মিনাল শিফট হবে, কিন্তু এখনই হচ্ছে না। এখন ডিপো হিসেবে ওখানে ব্যবহার হবে। আর এখান থেকে গাড়ি ছাড়বে, কিন্তু গাড়িগুলো (টার্মিনালে) আসবে আবার কখন? গাড়ি ছাড়ার যে সময় আছে, তার আগে আসবে। আসবে এবং গাড়ি এখান থেকে ছেড়ে যাবে।
মন্ত্রী বলেন, গাবতলী, মহাখালী, সায়েদাবাদ ও ফুলবাড়িয়া বাস টার্মিনাল হিসেবে ব্যবহার হবে, বাসের ওই ডিপো হিসেবে ব্যবহার হবে না। আলাদা ডিপো করে আমরা ওখানে পর্যায়ক্রমে দুই থেকে আড়াই বছরের মধ্যে বাস টার্মিনালগুলো সরিয়ে নেব।
তিনি বলেন, গাবতলীরটা হেমায়েতপুর, মহাখালীরটা উত্তরা, আব্দুল্লাহপুরের কাছাকাছি ওখানে ৫০ বিঘা জায়গা অ্যাকোয়ার করতে চলেছি আমরা ইতোমধ্যে। তার আগ পর্যন্ত ডিপোটা হবে ৩০০ ফিটে। কাঁচপুরে চলে যাবে সায়েদাবাদ টার্মিনাল। ফুলবাড়িয়ারটা চলে যাবে কেরানীগঞ্জে।
শেখ রবিউল আলম বলেন, ‘আর এটা আমরা এনসিওর (নিশ্চিত) করতে চাচ্ছি যে কলাবাগান, কল্যাণপুর—যে সমস্ত জায়গায় কাউন্টার, এসি কাউন্টারকে বা অনেকগুলি বেসরকারি বাসের কাউন্টারকে কেন্দ্র করে টেম্পোরারি টার্মিনালের মতো হয়েছে, রাস্তার পাশে বাস দাঁড়িয়ে থাকে, তারা কাউন্টারগুলি পর্যায়ক্রমে সরিয়ে নেবে। আর অবশ্যই কাউন্টারের সামনে বাস এনে যাত্রী উঠাতে পারবে না—আমরা মোটামুটি এই পদক্ষেপ নিয়েছি।’
মন্ত্রী বলেন, ঢাকায় নানা ধরনের যানবাহন চলাচল করে। একটা নগরীতে এরকম চলে না। রেল আছে, মেট্রোরেল আছে, মনোরেল আছে, বাস আছে—এইটাই হলো মৌলিক। আর ব্যক্তিগত গাড়ি আছে। আমরা ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছি যে বাস ব্যক্তি মালিকানায় একই রুটে, দুই-চার-দশজন মালিকের বাস বিচ্ছিন্নভাবে চলবে না। যেটা প্রতিযোগিতা হয়, কেউ টার্মিনালে থামে না, টার্মিনালও নির্দিষ্ট না, লোক যেখানে হাত তোলে সেখানে থামিয়ে দেয়। এই পদ্ধতিতে আমরা বাস আর চালাব না।
প্রত্যেক রুটের বাস মালিকদের নিয়ে কোম্পানি গঠন করা হবে জানিয়ে পরিবহনমন্ত্রী বলেন, নির্দিষ্ট বাস, একই কালারের, নির্দিষ্ট মানের, ফিটনেস রেখে, ফ্যাসিলিটিজ রেখে চালাতে হবে। সেক্ষেত্রে আমরা ইলেকট্রিক ভেহিকেলকে উৎসাহিত করছি। এই কাজ অনেক দূর এগিয়ে গিয়েছে। মালিকরা কোন রুটে কোন কোম্পানি করবে, সে ব্যাপারেও তারা কিন্তু কাজ করছে। প্রথমত, আমরা চাচ্ছি যে বাস ব্যবস্থাপনা এবং চলাচলের ক্ষেত্রে একটা শৃঙ্খলা আনতে। দ্বিতীয়ত হচ্ছে রুট, তৃতীয়ত হচ্ছে ট্রাফিক সিগন্যাল অথবা নির্দিষ্ট টার্মিনালে থামবে এবং নির্দিষ্ট টার্মিনাল থেকে উঠবে—এই ব্যবস্থাপনাটা।
ঢাকার ভেতরে যত্রতত্র গড়ে ওঠা বাস কাউন্টার ঈদের এক এক-দেড় মাস আগে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছিল জানিয়ে মন্ত্রী বলেন, পরবর্তী সময়ে মালিক সমিতি, শ্রমিক সংগঠন, সিটি করপোরেশন, মেট্রোপলিটন পুলিশ, যোগাযোগ মন্ত্রণালয়, বিআরটিএ, আমার মন্ত্রণালয়ে আমরা সভা করেছি। সে সভায় আমরা তিন মাসের জন্য একটা সময় নির্ধারণ করেছিলাম। ঈদের আগে অথবা এই মুহূর্তে, যেভাবেই বলেন না কেন, এই রাস্তার পাশে যে কাউন্টারগুলি আছে, সেটা হঠাৎ করে বন্ধ করে দিলে যাত্রী দুর্ভোগ হবে। কারণ যাত্রীরা এখানেই এসে, এই প্রক্রিয়ায় অভ্যস্ত।
শেখ রবিউল আলম বলেন, তাদের সময় দেওয়া দরকার। আমাদের বাস টার্মিনালগুলি এখনও পর্যন্ত ভালো মানের বাস, এসি বাস অথবা যেখানে অনেক বেশ কিছু সুযোগ-সুবিধা নিশ্চিত করে, একজন যাত্রী আরাম অনুভব করে, এই বাসগুলি বাস টার্মিনাল থেকে ছাড়ার উপযুক্ত কাঠামো এবং ব্যবস্থাপনা বাস টার্মিনালগুলিতে নেই। সায়েদাবাদ, মহাখালী, গাবতলী কোথাও এ ব্যবস্থাপনা নেই। যাত্রীরা যেতে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করেন না তার একটা কারণ হলো পরিবেশগত, আরেকটা হলো ফ্যাসিলিটিজগত (সুবিধাগত)।
তিনি বলেন, আমরা সিদ্ধান্ত নিয়েছি বাস টার্মিনালগুলোতে এই সুবিধাগুলো সিটি করপোরেশন নিশ্চিত করবে। টয়লেট, ফ্যানগুলি যাতে চলে, অপেক্ষার জন্য বড় রুম—এসব সুবিধার ব্যবস্থা করা হবে। তবে তাদেরও কিছুটা সময় লাগবে। এটা হয়ে গেলে তিন মাস পর তারা ওখানে যাবে। এটা প্রিভিউ মিটিং দুই-তিন দিন আগে হয়েছে মাত্র। সেখানে এই সময়টা আর এক মাস বাড়িয়ে করার বার্তা দেওয়া হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, বাস মালিক সমিতির লোকেরা বলেছে, তারা ওই পরিবেশ পেলে, জায়গা পেলে তারা নিজেরাই অবকাঠামো করে নেবে বাস টার্মিনালে। তারা একমত পোষণ করেছে। আমি কিন্তু তাদের সহযোগিতা এখানে পেয়েছি। সিটি করপোরেশন ডেভেলপ করে দিতে চেয়েছে, আর মেট্রোপলিটন পুলিশ দায়িত্ব নিয়েছে, তারা পরিবেশটা নিশ্চিত করবে। মানুষ যাতে নিরাপদ থাকে সেজন্য পর্যাপ্ত সড়কবাতি থাকবে, সিসি ক্যামেরা থাকবে—তাহলে মানুষ উৎসাহিত হবে ওখানে যেতে।
তিনি আরও বলেন, এই পদক্ষেপ নিয়ে আমরা এগোচ্ছি। মনে হচ্ছে, চার থেকে ছয় মাসের মধ্যে পরিপূর্ণ না হলেও একটা পরিবর্তন আপনারা এই বাস টার্মিনালগুলিতে দেখবেন।
বিএসআরএফের সভাপতি মাসউদুল হকের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত সংলাপ সঞ্চালনায় ছিলেন সাধারণ সম্পাদক উবায়দুল্লাহ বাদল।
১ দিন আগে
দ্রুত সময়ের মধ্যে নন্দিনী হত্যার বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে: ত্রাণমন্ত্রী
দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু বলেছেন, দ্রুত সময়ের মধ্যে চার্জশিট দিয়ে নন্দিনী হত্যা মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) দুপুরে লালমনিরহাটের আদিতমারী উপজেলার ভেলাবাড়ী ইউনিয়নের ফলিমারী গ্রামে নন্দিনীর বাড়িতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
আসাদুল হাবিব দুলু বলেন, প্রধানমন্ত্রী বাজেট অধিবেশন থেকে আমাদের নির্দেশ দিয়েছেন শিশু নন্দিনীর পরিবারের পাশে দাঁড়াতে এবং যত ধরনের সহযোগিতা প্রয়োজন তা করতে। আমরা প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশে জেলার তিনজন সংসদ সদস্য ও জেলা শীর্ষ কর্মকর্তাদের সঙ্গে এসেছি।
মন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে অভিযুক্তকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। যতদূর শুনেছি, গ্রেপ্তার ব্যক্তি হত্যার দায় স্বীকার করেছে। কিছু পরীক্ষা-নিরীক্ষা রয়েছে, তা সম্পন্ন করে চার্জশিট দিয়ে দ্রুত সময়ের মধ্যে এ হত্যা মামলার বিচারকার্য সম্পন্ন করা হবে। যারা এতটুকু একটি ছোট শিশুকে হত্যা করতে পারে, তারা মানুষ নয়, নরপিশাচ। তাদের এমন দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি দিতে হবে, যাতে তা উদাহরণ হয়ে থাকে, এমন কাজে আর কেউ যেন যুক্ত হতে সাহস না পায়।
তিনি বলেন, প্রশাসনের কর্মকর্তা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্য এবং আমাদের রাজনৈতিক নেতাকর্মীরা ঘটনাস্থলে এসেছিলেন। তারা আসামিকে গ্রেপ্তার করে শান্তিপূর্ণভাবে ফিরছিলেন। সেই শান্তিপূর্ণ পরিবেশ কার ইন্ধনে, কার উসকানিতে, কার প্ররোচনায় প্রশাসনকে আক্রমণ করা হলো—সেটিও পুলিশ তদন্ত করে দেখছে।
তিনি আরও বলেন, সাধারণ মানুষ যারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িত নয়, তারা নিশ্চিন্তে বাড়িতে থাকবে। কিন্তু যারা অপরাধী, যারা প্রশাসনকে আক্রমণ করে মব সৃষ্টি করেছে, তারা অপরাধী। আমরা বলেছি, যারা এ অপরাধের সঙ্গে জড়িত যারা, তাদের গ্রেপ্তার করতে হবে।
গত মঙ্গলবার সকালে নিজ বাড়ির পাশের ভুট্টাক্ষেত থেকে সাত বছরের শিশু নন্দিনীর লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। এ মামলায় গ্রেপ্তার বিধান চন্দ্র দায় স্বীকার করেছেন। এ ঘটনার পর শিশু নন্দিনীর পরিবারের কাছে যান ত্রাণমন্ত্রী আসাদুল হাবিব দুলু। মন্ত্রী শিশুটির পরিবারের সদস্যদের খোঁজখবর নেন, সমবেদনা জানান এবং এ হত্যার দৃষ্টান্তমূলক বিচারের প্রতিশ্রুতি দেন।
এ সময় লালমনিরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য রোকন উদ্দিন বাবুল, লালমনিরহাট-১ আসনের সংসদ সদস্য ব্যারিস্টার হাসান রাজীব প্রধান, জেলা প্রশাসক রাশেদুল হক প্রধান, পুলিশ সুপার আসাদুজ্জামান, জেলা পরিষদ প্রশাসক এ কে এম মমিনুল হক উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে