বাংলাদেশ
যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি অন্যান্য দেশের সঙ্গে তুলনা করে দেখার আহ্বান পররাষ্ট্রমন্ত্রীর
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র পারস্পরিক বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে সমালোচনার জবাব দিয়ে পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান বলেছেন, এ ধরনের চুক্তিকে বৈশ্বিক প্রেক্ষাপটে দেখে মূল্যায়ন করা উচিত।
তার ভাষ্যে, ‘বাংলাদেশের চুক্তিটি যখন পাঠ করবেন, তখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, অন্যান্য যারা চুক্তি করেছে, তাদেরটা পাশে নিয়ে পাঠ করলে পরে আপনি জিনিসটা ভালো করে বুঝবেন।’
মঙ্গলবার (৫ মে) যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
চুক্তির শর্ত নিয়ে এক প্রশ্নের জবাবে পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, এটা নিয়ে আলোচনা হওয়া খুব ভালো এবং মুক্ত আলোচনা হওয়াই উচিত, যেকোনো চুক্তিরই। আর আপনি যেটা বললেন, বাংলাদেশ ১৩১টাতে ‘শ্যাল’ বলেছে না? আমরা তো একা এই চুক্তি করিনি, বিশ্বের অন্য দেশগুলো করেছে। ইন্দোনেশিয়া ২৩১টাতে এইরকম ‘শ্যাল’ বলেছে। সুতরাং বাংলাদেশের চুক্তিটি যখন পাঠ করবেন, তখন ইন্দোনেশিয়া, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, অন্যান্য যারা চুক্তি করেছে, তাদেরটা পাশে নিয়ে পাঠ করলে পরে আপনি জিনিসটা ভালো করে বুঝবেন।
এদিকে, বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির একই দিনে বলেন, ‘যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুই পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এতে উভয় পক্ষের স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। কাজেই এই চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই।’
সকালে নিজ মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে ব্রেন্ডান লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী নয়, তবে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে। এটি একটি বাস্তবতা এবং আমরা সেটিকে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে চাই।
চুক্তি বাতিলের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। কোনো চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তা সংশোধনের সুযোগ সেই চুক্তির মধ্যেই রয়েছে।
তিনি এটিকে ‘সেলফ কারেক্টিং এলিমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তির মধ্যেই সংশোধন বা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে। তাই এটি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।
১০ ঘণ্টা আগে
জঙ্গিবাদ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও আমার বক্তব্যে খুব বেশি ভিন্নতা নেই: ডা. জাহেদ
জঙ্গিবাদ নিয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও তার বক্তব্যের মধ্যে খুব বেশি ভিন্নতা নেই বলে দাবি করেছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও জঙ্গিবাদের অস্তিত্বের কথা স্বীকার করেছেন বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলনকক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
গত ২৮ এপ্রিল দেশে জঙ্গি রয়েছে স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান বলেছিলেনন, সরকার এটাকে শূন্যে নামিয়ে আনার চেষ্টা করছে। একই দিন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, দেশে কোনো জঙ্গিবাদ নেই। এ নিয়ে দেশের গণমাধ্যমসহ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে আলোচনা শুরু হয়।
তথ্য উপদেষ্টার বক্তব্যের বিষয়ে গতকাল (সোমবার) জানতে চাইলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘সেটা উনি কীভাবে বলেছেন জানি না। হয়তো আপনাদের লেখার মধ্যেও মিস-ইন্টারপ্রেট (ভুল ব্যাখ্যা) হয়ে যেতে পারে। কিন্তু যেটা ডিসিপ্লিন এবং সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় কী বলেছে, সেটাই তো শুনতে হবে।’
এ নিয়ে আজ সাংবাদিকের প্রশ্নের জবাবে ডা. জাহেদ বলেন, ‘আমি একটা মন্তব্য করেছি (দেশের জঙ্গিবাদের অস্তিত্ব আছে), প্রায় একই সময়ে বা একটু পরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলছেন, দেশে কোনো জঙ্গি নেই। আপনারা যদি পড়ে দেখেন, দেখবেন উনার বক্তব্য আর আমার বক্তব্যের মধ্যে খুব বেশি ভিন্নতা ছিল না; এটা হলো প্রথম কথা।’
তিনি বলেন, “আমি এভাবে বলেছি যে, জঙ্গিবাদ একটা অতিরঞ্জন ছিল আওয়ামী লীগের সময়। তারা এটা দিয়ে ক্ষমতায় থাকার ‘ন্যারেটিভ’ তৈরি করেছে। আবার কেউ কেউ ‘কিছুই নেই আমাদের দেশে’ এ ধরনের কথা বলে; দুটোই কিন্তু নেগেটিভ! স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও কিন্তু বলেছেন যে কিছু এক্সট্রিমিজমের (উগ্রবাদের) অস্তিত্ব আছে। মানে এই যে জঙ্গিবাদ, আসলে উনি শব্দটা ব্যবহার করতে চাননি, মোটামুটি আমি যা বলেছি, উনার বক্তব্যের সঙ্গে আসলে খুব বেশি ভিন্নতা নেই।
“তাই এটাকে আপনি জঙ্গিবাদ নামে বলুন অথবা উগ্রবাদ নামে বলুন, একটা লো ইনটেনসিটি (সীমিত পরিসরে) তো আছে, না হলে তো আমরা এই এলার্ট (সতর্ক) করতাম না, আনতাম না। এটা (জঙ্গিবাদ) আছে, এটা স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীও স্বীকার করেছেন।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে সমালোচনার বিষয়ে তিনি বলেন, ‘প্রচুর কার্টুন-টার্টুন হয়েছে যে আমি নাকি উনার চাইতে বেশি গোয়েন্দা তথ্য রাখি। ঠিক আছে, আমার ভালো লেগেছে দেখে।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, কিন্তু রেড এলার্ট যেহেতু এখনও আছে, তার মানে, আপনাকে একটা জিনিস বুঝতে হবে যে এই ধরনের ঘটনায় সবসময় যে সব কথা সরকার প্রকাশ্যে বলবে, সেটা সবসময় হবে না। সরকার এগুলোর যে ঝুঁকি আছে, এগুলোর ব্যাপারে যে পদক্ষেপ নেওয়ার, সেগুলো নিচ্ছে। আমি ব্যক্তিগতভাবে এটা জানি। সুতরাং যখন গ্রেপ্তার বা এ ধরনের কোনো ঘটনা ঘটলে যেটা সরকার মনে করবে আপনাদের জানাবে, সেটা সময়মতো জানানো হবে।
তিনি বলেন, আমি এটুকু বলতে পারি, যে ঝুঁকির কথা আগে বলা হয়েছিল, সেটি নিশ্চয়ই এখন তার চাইতে অনেক কম এবং আরও কমে যাচ্ছে।
তবে এই জায়গাগুলো অনেক বেশি সংবেদনশীল উল্লেখ করে তিনি বলেন, এ কারণেই এখন পর্যন্ত এটা (সতর্কতা) বহাল রাখা হয়েছে। তবে এটা খুব বেশিদিন থাকবে বলে আমি মনে করি না।
১১ ঘণ্টা আগে
তোফায়েল আহমেদসহ তিনজনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি
আওয়ামী লীগের সাবেক মন্ত্রী তোফায়েল আহমেদসহ দুই জনের বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করেছেন আদালত ।
মঙ্গলবার (৫ মে) ঢাকা বিভাগীয় স্পেশাল জজ বেগম শামীমা আফরোজ এ আদেশ দেন।
অবৈভাবে ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা অর্থ আত্মসাতের অভিযোগের মামলায় আজ অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ছিল। তবে তোফায়েল আহমেদের অসুস্থতার কথা জানিয়ে সময়ের আবেদন করেছেন তার আইনজীবী খায়ের উদ্দিন শিকদার।
তিনি বলেন, তোফায়েল আহমেদের বয়স ৮২ বছর। তিনি বার্ধ্যক্যজনিত নানা জটিলতা নিয়ে ঢাকার স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি আছেন। তিনি কাউকে চিনতে পারেন না। তার স্মৃতিশক্তি নেই। আদালতে উপস্থিত হয়ে মামলার কার্যক্রমে অংশগ্রহণ করতে তিনি শারীরিকভাবে অক্ষম।
তার মানসিক অবস্থা পরীক্ষার অনুরোধ জানিয়ে শুনানি পেছানোর আবেদন করেছেন তার আইনজীবী। তবে আদালত আবেদন নামঞ্জুর করে বৃহস্পতিবার (৭ মে) অভিযোগ গঠনের বিষয়ে শুনানির দিন ধার্য করেন।
এই মামলার অন্য দুই আসামি হলেন—মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং মোশাররফ হোসেন। তিন আসামির মধ্যে মোশারফ হোসেন জামিনে থেকে আদালতে হাজিরা দেন।
২০০২ সালে অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ এনে তৎকালীন দুর্নীতি দমন ব্যুরোর পরিদর্শক কাজী শামসুল ইসলাম মামলাটি করেছিলেন।
মামলার অভিযোগে বলা হয়, তোফায়েল আহমেদ ক্ষমতার অপব্যবহার করে ম্যাডোনা অ্যাডভারটাইজিং লিমিটেডের প্রধান হিসাবরক্ষক মোহাম্মদ আনোয়ারুল ইসলাম এবং ভোলার মোশারফ হোসেনের সঙ্গে যোগসাজশে সোনালী ব্যাংকের মতিঝিল করপোরেট শাখা থেকে বিভিন্ন সময়ে মোট ১ কোটি ২৫ লাখ টাকা স্থানান্তর করেছেন। পরবর্তীতে ওই অর্থ উত্তোলন করা হয়েছে বলে এজাহারে দাবি করা হয়েছে। মামলাটি তদন্ত শেষে তিন জনকে অভিযুক্ত করে আদালতে অভিযোগপত্র দেওয়া হয়। তবে আওয়ামী লীগ সরকার ক্ষমতায় আসার পর উচ্চ আদালতের নির্দেশে মামলার কার্যক্রম দীর্ঘদিন স্থগিত ছিল।
১১ ঘণ্টা আগে
শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে ৫৮ নিহতের পরিচয় শনাক্ত: চিফ প্রসিকিউটর
২০১৩ সালে হেফাজতের আন্দোলনে সারা দেশে ৫৮ জন নিহতের পরিচয় শনাক্ত করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন চিফ প্রসিকিউটর আমিনুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ সরকারের ঊর্ধ্বতনদের সংশ্লিষ্টতা পাওয়া গেছে। এই মামলায় প্রধান আসামি হবেন শেখ হাসিনা।
মঙ্গলবার (৫ মে) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তিনি এসব কথা বলেন।
আমিনুল ইসলাম বলেন, শাপলা চত্বর হত্যাকাণ্ডে তৎকালীন সরকারের উদ্দেশ্য ছিল হেফাজতে ইসলামকে নিধন করা। এ ঘটনায় ৯০ শতাংশ তদন্ত সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ৭ জুনের মধ্যে ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করবে প্রসিকিউশন। মামলায় ৩০ জনের বেশি আসামি হতে পারে বলেও জানান তিনি।
কোরআন ও মহানবী (সা.)-এর প্রতি অবমাননার প্রতিবাদ এবং ১৩ দফা দাবিতে ২০১৩ সালের ৫ মে ‘ঢাকা অবরোধ’ কর্মসূচি ঘোষণা করে হেফাজতে ইসলাম। ওই দিন দেশের বিভিন্ন স্থান থেকে আলেম, মাদরাসাশিক্ষার্থী ও সমর্থকরা রাজধানীতে সমবেত হন। কর্মসূচি শেষে তারা মতিঝিলের শাপলা চত্বরে অবস্থান নেন।
সেদিন দিনভর ওই এলাকায় উত্তেজনা বিরাজ করছিল। সন্ধ্যার আগেই দুজনের মরদেহ সমাবেশস্থলের অস্থায়ী মঞ্চের সামনে আনা হয়। পরে মধ্যরাতে যৌথবাহিনী অভিযান চালালে পরিস্থিতি সহিংস রূপ নেয়। গুলি, টিয়ার শেল ও সাউন্ড গ্রেনেড নিক্ষেপের মধ্যে ছত্রভঙ্গ হয়ে যায় সমাবেশ। এতে বহু হতাহতের ঘটনা ঘটে বলে বিভিন্ন সূত্রে জানা গেছে।
এ ঘটনার নিহতের সংখ্যা নিয়ে শুরু থেকেই ভিন্ন ভিন্ন তথ্য সামনে আসে। ২০২৫ সালের ৫ মে হেফাজতে ইসলাম তাদের পক্ষ থেকে ৯৩ জনের একটি প্রাথমিক তালিকা প্রকাশ করে। তারা জানিয়েছিল, যাচাই-বাছাই শেষে এ সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
এর আগে, ২০২১ সালের ১০ জুন মানবাধিকার সংগঠন অধিকার তাদের এক প্রতিবেদনে এ ঘটনায় নিহত ৬১ জনের নাম সংগ্রহের কথা জানায়। ২০১৪ সালে ‘শহিদনামা’নামে একটি গ্রন্থে ৪১ জন নিহতের তথ্য তুলে ধরা হয়।
ঘটনার ১৩ বছর পার হলেও এখনো বিচার সম্পন্ন হয়নি। তবে সাম্প্রতিক রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর বিষয়টি আবারও আলোচনায় এসেছে। জুলাইয়ের অভ্যুত্থানের পর গঠিত অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে হেফাজতে ইসলামের যুগ্ম মহাসচিব আজিজুল হক ইসলামাবাদী আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে একটি অভিযোগ করেন।
ওই অভিযোগে সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ও গণজাগরণ মঞ্চের মুখপাত্র ইমরান এইচ সরকারসহ মোট ৫৪ জনকে আসামি করা হয়েছে। তাদের মধ্যে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহীউদ্দীন খান আলমগীর, সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামসুল হক টুকু, মেজর জেনারেল (অব.) জিয়াউল আহসান, সাবেক তিন পুলিশপ্রধান হাসান মাহমুদ খন্দকার, বেনজীর আহমেদ ও এ কে এম শহিদুল হক এবং পুলিশের সাবেক উপ-মহাপরিদর্শক মোল্যা নজরুল ইসলামও রয়েছেন।
আজিজুল হক ইসলামাবাদী বলেন, তৎকালীন সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের একাধিক কর্মকর্তা ও রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব বর্তমানে কারাগারে আছেন এবং বিচারপ্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। সাক্ষ্য-প্রমাণ সংগ্রহও এগিয়ে চলছে। শাপলা চত্বরের ঘটনায় দায়ীদের বিচারের মুখোমুখি করা সম্ভব হবে বলে আশা করেন তিনি।
এর আগে, রবিবার (৩ মে) চিফ প্রসিকিউটর বলেছিলেন, ঢাকায় হত্যাকাণ্ডের শিকার ৩২ জনের পরিচয় শনাক্ত হয়েছে। নারায়ণগঞ্জে ২০ জন এবং চট্টগ্রামে পাঁচজন হত্যাকাণ্ডের শিকার হয়েছেন বলে সন্ধান পাওয়া গেছে। নারায়ণগঞ্জ ও চট্টগ্রামে নিহত ব্যক্তিদের পরিচয় শনাক্তের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে ট্রাইব্যুনালের তদন্ত সংস্থা। আজ তিনি মোট ৫৮ জনের পরিচয় শনাক্তের তথ্য দিলেন।
১১ ঘণ্টা আগে
স্বাস্থ্যসেবা প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার: জুবাইদা রহমান
স্বাস্থসেবা কোনো সুবিধা নয়, বরং এটি প্রতিটি মানুষের মৌলিক অধিকার বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর সহধর্মিণী ডা. জুবাইদা রহমান। তিনি বলেছেন, দেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিন ধরে অবহেলার শিকার হয়েছে। তবে সরকার এমন একটি ব্যবস্থা গড়ে তুলতে কাজ করছে, যাতে কোনো নাগরিক প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসেবা থেকে বঞ্চিত না হন।
মঙ্গলবার (৫ মে) রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত ‘স্বাস্থ্যসেবার সমতা প্রতিষ্ঠায় ঢাকা-১৭ এর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন’ স্লোগানে শীর্ষক এক মতবিনিময় সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জুবাইদা রহমান বলেন, বাংলাদেশের স্বাস্থ্যখাত দীর্ঘদিনের অবহেলার শিকার। কড়াইল, ভাসানটেক ও সাততলা বস্তিবাসীর জন্য সাধ্যমতো সর্বাত্মক স্বাস্থ্যসেবা প্রদান করতে আজকে আমরা এখানে একত্রিত হয়েছি।
তিনি বলেন, সরকারি হাসপাতালগুলো অতিরিক্ত চাপের মুখে। স্বাস্থ্যকর্মীরা নিরুসাহিত ও অসমভাবে বঞ্চিত। মানসম্মত সেবায় প্রবেশাধিকার প্রতিদিন লাখও মানুষের কাছে এক অসময় লড়াই। স্বাস্থ্য ব্যয়ের ৭২ শতাংশ সরাসরি জনগণ বহন করে। ফলে অসুস্থতা এখন দারিদ্র্যের অন্যতম প্রধান কারণ।
প্রধানমন্ত্রী সহধর্মিণী বলেন, বাংলাদেশ একটি সুস্থ, বেশি উৎপাদনশীল, আত্মনির্ভর ও সার্বভৌম দেশ। আর কোনোদিন কড়াইল-ভাসানটেক ও সাততলার জনগণ চিকিৎসাসেবা থেকে যেন বঞ্চিত না হয়; নবজাতক শিশু থেকে শুরু করে বয়োজেষ্ঠ্য সবাই যেন সুচিকিৎসা পায়; অন্তঃসত্ত্বা মা-বোনেরা জটিল সমস্যার সমাধান এবং তারা যেন দ্রুত ও সহজে চিকিৎসা পায়, সে লক্ষ্যে কাজ করছে সরকার।
তিনি বলেন, এই এলাকায় মূলত যাদের বসবাস, তারা এই শহরের জীবনযাত্রা চলমান রেখেছে। পোশাকশিল্পকে উজ্জ্বল করেছে। তাদের অসাধারণ শ্রম প্রতিটি কর্মক্ষেত্রকে সচল রেখেছে। কিন্তু তাদের মধ্যে ৪২ দশমিক ৬ শতাংশ এলাকাবাসী প্রতিদিনের স্বাস্থ্য সমস্যার সমধান খুঁজতে স্থানীয় ফার্মেসির শরণাপন্ন হন। তারা আসলে যেকোনো মূল্যে সুস্থ হতে চান, যেন অসুস্থতার জন্য চাকরি বা ব্যবসায় থেকে ছুটি না নিতে হয়। বিষয়টি সত্যিই অভাবনীয়!
ডা. জুবাইদা বলেন, আমাদের এই এলাকাবাসীর মধ্যে কয়েকজন নিবেদিতপ্রাণ স্বেচ্ছাসেবী প্রয়োজন, যারা এই চিকিৎসাসেবা প্রদানকারী প্রতিষ্ঠানের নাম সবাইকে অবহিত করবেন। সেই নাম কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতাল। আমি আশাবাদী, ঢাকা-১৭ আসনের অন্তর্গত স্বেচ্ছাসেবী ও কুর্মিটোলার সদস্যরা একত্রিত হয়ে বহু প্রাণ বাচাঁতে সক্ষম হবে। এখানকার স্বাস্থ্যসেবা সম্পূর্ণ বিনামূল্যে। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, স্বাস্থ্য সেবা কোনো সুবিধা নয়, এটি মানুষের মৌলিক অধিকার।
এর আগে ডা. জুবাইদা রহমান কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের প্যাথলজি প্যাভিলিয়ন, গ্যাস্ট্রোলিভার সেন্টার ও ৫০ শয্যা আইসিইউর উদ্বোধন করেন।
উদ্বোধনের পর তিনি আইসিইউতে ভর্তি রোগীদের চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং চিকিৎসা সেবার মান সম্পর্কে সংশ্লিষ্টদের সঙ্গে কথা বলেন। রোগীদের সর্বোচ্চ সেবা নিশ্চিতে চিকিৎসকদের প্রতি তিনি আহ্বান জানান।
কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. সাইদুর রহমানের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বকুল, তথ্য ও সম্প্রচারমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন, জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী, স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, প্রধানমন্ত্রীর স্বাস্থ্য বিষয়ক বিশেষ সহকারী এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগের সচিব মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী, বিএনপির ঢাকা-১৭ নির্বাচনি পরিচালনা কমিটির যুগ্ম সমন্বয়ক অধ্যাপক ডা. ফরহাদ হালিম ডোনার, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস ও স্বাস্থ্য শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. নাজমুল হোসেন বক্তব্য রাখেন।
অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বকুল বলেন, প্রধানমন্ত্রীর পরিবারের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সদস্য (ডা. জুবাইদা রহমান) যিনি আজকে আপনাদের সামনে এসেছেন। এটা দায়বদ্ধাতার প্রতিফলন। এই আসাটা জনগণের মধ্যে আশার আলো সৃষ্টি করবে। বুঝতে হবে, আমাদের প্রধানমন্ত্রী দেশে একটা দায়বদ্ধতার রাজনীতির মেরুকরণ নতুনভাবে সৃষ্টি করতে চান।
সবার জন্য সুস্বাস্থ্য, এটা আমাদের প্রধানমন্ত্রীর চ্যালেঞ্জ উল্লেখ করে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, এই মতবিনিময়, এটাকে রাজনৈতিক নতুন মেরুকরণের দিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য আমাদের প্রধানমন্ত্রী শিক্ষা দিচ্ছেন।
বর্তমান সরকারের আমলে বাংলাদেশে চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে গুনগত পরিবর্তন আসবে, এমন আশা প্রকাশ করে তথ্যমন্ত্রী জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে আমাদের এই আমলে চিকিৎসা সেবার ক্ষেত্রে দ্রুত একটা গুণগত পরিবর্তন আসবে। সরকার ইতোমধ্যে বিভিন্ন পদক্ষেপের মধ্যে তা প্রমাণ করেছেন।
তিনি বলেন, ইতিহাস থেকে জানি, আমাদের শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান সরকারের সময়ে কৃষি ও সেচব্যবস্থার উন্নতির ফলে খাদ্য উৎপাদন উল্লেখযোগ্য হারে বৃদ্ধি এবং বাংলাদেশ খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণতা অর্জন করেছিল। এখন আমরা চিকিৎসা এবং শিক্ষার ক্ষেত্রে যদি এরকম দ্রুত সময়ের মধ্যে একটা পরিবর্তন আনতে পারি, সেটাই হবে বড় সফলতা।
হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সাইদুর রহমান জানান, নতুন আইসিইউ ইউনিটে অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি, প্রশিক্ষিত জনবল এবং সার্বক্ষণিক চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করা হয়েছে। এর ফলে গুরুতর রোগীরা দ্রুত ও মানসম্মত চিকিৎসা পাবেন।
১২ ঘণ্টা আগে
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৪৪৫
দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৪৫টি শিশু।
মঙ্গলবার (৫ মে) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৪ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ২টি শিশুর।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ২৬৩টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৫৪টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৩১৭টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ২৫৯টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ১৮৬। এই সময়ে ৯৮৯টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ২১৭টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৪২ হাজার ৯৭৯, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৫ হাজার ৭২৬। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ২৯ হাজার ৮৩১ রোগী, যাদের মধ্যে ২৬ হাজার ৩৬৮ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
চলতি বছরের শেষের দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু: তথ্য উপদেষ্টা
চলতি বছরের শেষের দিকে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচারবিষয়ক উপদেষ্টা ডা. জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (৫ মে) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের (পিআইডি) সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা এ কথা জানান।
স্থানীয় সরকার নির্বাচন এ বছরে শেষ হবে কি না— জানতে চাইলে উপদেষ্টা বলেন, ‘না। বলা হয়েছে যে নির্বাচনটা ১০ মাস থেকে এক বছর লাগবে শুরু হওয়ার পর। নির্বাচন শুরু হবে এ বছরের শেষের দিকে, কিছু প্রস্তুতির প্রয়োজন আছে, সেটাও ওই মন্ত্রণালয় থেকে আগে জানানো হয়েছে।’
উপজেলা পরিষদে এমপিদের বসার জায়গা হয়েছে, সরকার কি উপজেলা পরিষদ বিলুপ্ত করতে চায়? এ বিষয়ে তিনি বলেন, উপজেলা বাতিল করে দেওয়ার কোনো সিদ্ধান্ত এই সরকার নেয়নি। কার্যালয় দেওয়াতে উপজেলাকে খর্ব করা হচ্ছে, ব্যাপারটা আমার কাছে এরকম মনে হয় না। বরং আইনগতভাবেই যদি খেয়াল করেন, উপজেলা পরিষদ আইনের ধারা ২৫—এটা নিয়ে আমরা একসময় প্রচুর বলেছি, লিখেছি—সেখানে তো একজন সংসদ সদস্য উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা হিসেবেই বৈধ আছেন।
জাহেদ উর রহমান আরও বলেন, যদি তিনি বৈধভাবে থাকেন, এখন কেউ বলতে পারেন যে এটা থাকা উচিত কি না, উপদেষ্টা থাকা—সেটা একটা ভিন্ন বিতর্ক। কিন্তু কার্যালয় রাখার মাধ্যমে আসলে সেটাকে যে নতুন করে অনেক বেশি খারাপ করে ফেলা হলো, মোটেও ব্যাপারটা সেরকম না। কারণ আমরা যদি এভাবে তর্কটা বা যুক্তিটা দেই যে, একজন এমপি যেহেতু উপজেলা পরিষদের উপদেষ্টা, তার তো উপজেলা পরিষদে একটা কার্যালয় থাকা উচিতই। আবারও বলছি, এই আলাপ সমাজে আছে, কেউ করতে পারেন যে তার (সংসদ সদস্য) আদৌ উপদেষ্টা থাকা উচিত কি না। উপজেলাকে নিয়ে এই ধরনের কোনো—অর্থাৎ এটাকে খাটো করা বা আরও বেশি অক্ষম করে তোলার কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই।
১৬ ঘণ্টা আগে
বগুড়ায় বিমানবন্দরের পাশাপাশি পাইলট তৈরির ‘ফ্লাইং একাডেমি’ হবে: মন্ত্রী
বগুড়ায় বিমান বন্দরের পাশাপাশি পাইলট তৈরির ‘ফ্লাইং একাডেমি’ স্থাপন করা হবে বলে জানিয়েছেন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী আফরোজা খানম (রিতা) ও প্রতিমন্ত্রী এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের প্রথম অধিবেশন শেষে তারা সাংবাদিকদের এ কথা জানান। সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রণালয় এবং বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এই অধিবেশন হয়।
বেশকিছু বিমানবন্দর চালুর ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে জানিয়ে পর্যটনমন্ত্রী বলেন, সৈয়দপুর (বিমানবন্দর) নিয়ে আমরা ইতোমধ্যে কাজও শুরু করেছি। বেশকিছু বিমানবন্দর চালুর ব্যাপারে উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে; ঠাকুরগাঁও, তারপর বগুড়া। আমরা ৭ তারিখে বগুড়া যাচ্ছি দেখার জন্য। আমরাও চাচ্ছি বগুড়ায় এয়ারপোর্ট হবে। পাশাপাশি ওখানে আমরা ‘ফ্লাইং একাডেমি’ও করতে চাচ্ছি, যাতে আমরা পাইলট বানাতে পারি। আমাদের অনেক পাইলটের প্রয়োজন। গরিব, মেধাবী ছাত্রদেরও পাইলট হওয়ার ইচ্ছা থাকলে তারা সেখানে পড়াশোনা করতে পারবে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমরা একাডেমির সম্ভাব্যতা যাচাইয়ের জন্য ৭ তারিখে (মে) যাচ্ছি। সেখানে একাডেমিটা খুব তাড়াতাড়ি হবে। শুধু এখানেই নয়, নীলফামারীতেও একটা একাডেমি আছে, ছোট একাডেমি। সেখানেও আমরা চেষ্টা করব।
তিনি বলেন, বিমানের যে পাইলট আছে, একটা পাইলট বানাতে অনেক টাকা লাগে। এই পাইলটগুলি বাংলাদেশের খুব বেশি কাজ করেন না; তারা বিদেশে চলে যান এবং বিদেশি এয়ারলাইন্সগুলোতে চাকরি করেন। আগে পাইলটের একটা অংশ ছিল শুধু পাইলটের ছেলে বা পাইলটের আত্মীয়-স্বজন। এখন আমরা চাচ্ছি যে সাধারণভাবে সবাই যাতে এই এভিয়েশন খাতে আসতে পারে, পাইলট হতে পারে। তারা শুধু বিমানে নয়, বিদেশের এয়ারলাইন্সগুলোতেও গিয়ে চাকরি করতে পারে। এতে করে আমাদের বৈদেশিক মুদ্রা আয় হবে অনেক বেশি। সেজন্য খুবই গুরুত্ব দিয়ে আমরা একাডেমি দুইটা করছি।
রশিদুজ্জামান মিল্লাত বলেন, আমাদের পর্যটন সম্বন্ধে অনেক কথা হয়েছে; বিশেষ করে কক্সবাজার, কুয়াকাটা এবং বড় বড় স্থাপনা যেগুলো আছে পর্যটনের, কীভাবে আমরা কাজ করতে পারি সম্মিলিতভাবে। এটা সম্পূর্ণ আপনার বোঝার ব্যাপারে আর কি। আমাদের নির্দেশনা অনুযায়ী, তারা (জেলা প্রশাসক) যেভাবে কাজ করবেন, সেই নির্দেশনাগুলি তাদের দিয়েছি। তারা যাতে নিজেরা উৎসাহিত হন, সে ব্যাপারে আমরা তাদের বলেছি, আপনারা আগের মতো কাজ না করে এই গণতান্ত্রিক সরকার যেভাবে দেশটা দেখতে চান, আপনাদের নিয়ে আমরা সবাই মিলে একসঙ্গে এই দেশটাকে একটা কার্যকরী দেশে পরিণত করব।
১ দিন আগে
দেশের সব মহাসড়ক সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে: পরিবহনমন্ত্রী
জাতীয়, আঞ্চলিক ও জেলা পর্যায়ের সব মহাসড়ক সিসি ক্যামেরার আওতায় আনা হবে বলে জানিয়েছেন সড়ক পরিবহন, রেল এবং নৌপথমন্ত্রী শেখ রবিউল আলম।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে ডিসি সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের পঞ্চম অধিবেশন শেষে তিনি সাংবাদিকদের এ কথা জানান। সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ, রেলপথ মন্ত্রণালয় এবং নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে এ কার্য-অধিবেশন হয়।
মন্ত্রী বলেন, আমরা চাচ্ছি অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে জাতীয় মহাসড়কগুলোকে সিসি ক্যামেরায় আওতায় নিয়ে আসতে। এরপরে আঞ্চলিক মহাসড়ক, তারপর জেলা মহাসড়কগুলোকে সিসি ক্যামেরার আওতায় আনতে পদক্ষেপ নিয়েছি।
তিনি বলেন, হাইওয়েতে থ্রি হুইলার (তিন চাকার) চলাচল ঠেকানোর প্রচেষ্টা আছে। কিন্তু আমাদের হাইওয়েতে এসব বাহন উঠে আসার সুযোগ যেহেতু রয়েছে, যার ফলে এটা নিয়ন্ত্রণ করা যাচ্ছে না। তবে আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে এটা একটু বেশি নিয়ন্ত্রণ করা গেছে। এটাকে কীভাবে পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ করা যায়, সেই ব্যবস্থাগুলো নিয়ে কথা হয়েছে। আশা করি, থ্রি হুইলার বাহন পর্যায়ক্রমে নিয়ন্ত্রণ হবে।
সড়ক পরিবহনমন্ত্রী বলেন, রাস্তার প্রশস্ত করার চাহিদা বাংলাদেশে আছে, প্রয়োজনও আছে। এই দুই মাসে সংসদ সদস্যরা যে ডিও লেটার (সুপারিশপত্র) দিয়েছেন, তাতে রাস্তা প্রশস্ত করতে ৩ লাখ কোটি টাকা লাগবে। বাজেটে পাওয়া যাবে সর্বোচ্চ ৪০ হাজার কোটি টাকা, এর আগের বাজেটের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি। ফলে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে আমাদের কাজ করতে হবে। সেই জায়গায় স্বচ্ছতার সঙ্গে, নিরপেক্ষভাবে, অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে সরকার প্রকল্প বাস্তবায়ন করতে চাইছে।
১ দিন আগে
আমদানি-নির্ভর পণ্যের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ গড়ে তোলা হচ্ছে: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাটমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানি-নির্ভর পণ্যের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’ বা কৌশলগত মজুত গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
সোমবার (৪ মে) রাজধানীর ওসমানী স্মৃতি মিলনায়তনে জেলা প্রশাসক (ডিসি) সম্মেলনের দ্বিতীয় দিনের চতুর্থ অধিবেশন শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এসব কথা বলেন তিনি।
এর আগে বাণিজ্য, শিল্প এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে জেলা প্রশাসকদের অধিবেশন অনুষ্ঠিত হয়।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, দেশের শিল্প খাতকে পুনরুজ্জীবিত করা, বাজারকে স্থিতিশীল রাখা এবং জরুরি পণ্যের নিরাপদ সরবরাহ নিশ্চিত করতে সরকার একটি সমন্বিত ও সময়োপযোগী কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়নে এগিয়ে যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, রুগ্ন ও বন্ধ শিল্পকারখানা পুনরায় চালু করে উৎপাদন ও কর্মসংস্থান বাড়ানো সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, বস্ত্র ও পাট খাতের প্রায় ৫০টি বন্ধ ও রুগ্ন মিলকে পর্যায়ক্রমে বেসরকারি খাতে হস্তান্তরের প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে নতুন বিনিয়োগ আকৃষ্ট হবে, উৎপাদন বাড়বে এবং ব্যাপক কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে। আগামী এক বছরের মধ্যে এ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করার লক্ষ্যে কাজ চলছে।
জেলা প্রশাসকদের প্রস্তাবনা প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘ডিসিরা নিজ নিজ জেলার বাস্তবতা তুলে ধরে শিল্প পুনরুজ্জীবন, নতুন শিল্পাঞ্চল গড়ে তোলা, বন্ধ চিনিকল পুনরায় চালু এবং ডিসটিলারি স্থাপনের মাধ্যমে রপ্তানি সম্ভাবনা বাড়ানোর মতো কার্যকর ও বাস্তবভিত্তিক প্রস্তাব দিয়েছেন। সরকার এসব প্রস্তাব গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।’
বাজার ব্যবস্থাপনায় কাঠামোগত পরিবর্তনের ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, উৎপাদক থেকে খুচরা পর্যায় পর্যন্ত মূল্য ব্যবধান কমাতে সরকার আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর (এআই-ভিত্তিক) সাপ্লাই চেইন (সরবরাহ শৃঙ্খল) পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থা চালুর পরিকল্পনা নিয়েছে। এই ব্যবস্থার মাধ্যমে আমদানি, মজুত, পাইকারি ও খুচরা প্রতিটি ধাপ নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করা সম্ভব হবে, যা বাজারে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করবে।
তিনি আরও বলেন, আন্তর্জাতিক বাজারে অস্থিরতা মোকাবিলায় আমদানি-নির্ভর পণ্যের জন্য ‘স্ট্র্যাটেজিক রিজার্ভ’গড়ে তোলা হচ্ছে। এর ফলে বৈশ্বিক সরবরাহ ব্যাহত হলেও দেশের বাজারে পণ্যের ঘাটতি তৈরি হবে না এবং মূল্য স্থিতিশীল রাখা সম্ভব হবে।
ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের (টিসিবি) কার্যক্রম প্রসঙ্গে বাণিজ্যমন্ত্রী জানান, একটি শক্তিশালী উপদেষ্টা পরিষদ গঠন করা হবে, যেখানে সরকারি ও বেসরকারি খাতের অভিজ্ঞ বিশেষজ্ঞরা অন্তর্ভুক্ত থাকবেন। এর মাধ্যমে টিসিবির বাজার হস্তক্ষেপ আরও কার্যকর, সময়োপযোগী ও লক্ষ্যভিত্তিক হবে।
আসন্ন কোরবানির ঈদ উপলক্ষে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণে বিশেষ কর্মপরিকল্পনার কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, একটিও চামড়া যাতে নষ্ট না হয়, সে লক্ষ্যে জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের মাধ্যমে মসজিদ-মাদরাসা-সংশ্লিষ্টদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। সরকারিভাবে লবণ সরবরাহ, সচেতনতামূলক লিফলেট বিতরণ এবং গণমাধ্যমে প্রচারণা চালানো হবে। এছাড়া, কোরবানি-পরবর্তী সাত দিন চামড়া পরিবহন নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে স্থানীয় সংরক্ষণ নিশ্চিত করার কথাও জানান তিনি।
বাজার স্থিতিশীল রাখতে জেলা প্রশাসকদের আরও সক্রিয় ভূমিকার ওপর জোর দিয়ে মন্ত্রী বলেন, ‘প্রশাসন ও নির্বাচিত সরকার সম্মিলিতভাবে কাজ করে সরবরাহ ব্যবস্থা সচল রাখা এবং ভোক্তার স্বার্থ রক্ষা করবে, এটাই আমাদের অঙ্গীকার।’
ব্রিফিংয়ে বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী মো. শরিফুল আলম, শিল্প সচিব, বাণিজ্য সচিব এবং বস্ত্র ও পাট সচিব প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১ দিন আগে