বাংলাদেশ
বিআইডব্লিউটিএ’র নতুন চেয়ারম্যান মুহিদুল ইসলাম
নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষের (বিআইডব্লিউটিএ) নতুন চেয়ারম্যান হিসেবে নিয়োগ পেয়েছেন মো. মুহিদুল ইসলাম।
মুহিদুল ইসলামকে প্রেষণে এই পদে নিয়োগ দিয়ে তাঁর চাকরি নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ে ন্যস্ত করে মঙ্গলবার (২ জুন) প্রজ্ঞাপন জারি করেছে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়।
বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যানের পদে রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফার স্থলাভিষিক্ত হবেন তিনি।
এর আগে তিনি বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। পাশাপাশি বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের সদস্য (নিরাপত্তা) হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন। এছাড়া মাঠ প্রশাসনের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ পদে দায়িত্ব পালনের পাশাপাশি কিশোরগঞ্জ ও রাজবাড়ীসহ বিভিন্ন জেলায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্বে ছিলেন তিনি।
মুহিদুল ইসলাম ইন্টারন্যাশনাল মেরিটাইম অর্গানাইজেশনের অধীন বিশ্ব নৌ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মেরিটাইম অ্যাফেয়ার্স বিষয়ে উচ্চতর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
১৭ দিন আগে
রোহিঙ্গাদের দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদী উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ দেশ মিয়ানমারে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২ জুন) বাংলাদেশ সচিবালয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের অফিসকক্ষে বাংলাদেশে নিযুক্ত নরওয়ের রাষ্ট্রদূত হাকোন আরাল্ড গুলব্র্যান্ডসেনের সঙ্গে এক সৌজন্য সাক্ষাতকালে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
বৈঠকে উভয় দেশের পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিভিন্ন বিষয়, দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য, নবায়নযোগ্য জ্বালানিসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ সহযোগিতা, জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবিলা এবং রোহিঙ্গা সংকট নিয়ে ফলপ্রসূ আলোচনা হয়।
বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ১৯৭২ সালে স্বাধীন রাষ্ট্র হিসেবে বাংলাদেশকে নরওয়ের প্রারম্ভিক স্বীকৃতি এবং বাংলাদেশের আর্থ-সামাজিক উন্নয়নে ধারাবাহিক সমর্থনের জন্য কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তিনি বলেন, বর্তমান সরকারের বৈদেশিক নীতিতে জাতীয় স্বার্থ, সার্বভৌমত্ব এবং নিরাপত্তাকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে, যার মূল ভিত্তি হলো গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ, মানবাধিকার এবং আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা।
সাক্ষাতকালে রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশের সাম্প্রতিক আর্থ-সামাজিক অগ্রগতির ভূয়সী প্রশংসা করেন। তিনি জানান, নরওয়ে এখন চিরাচরিত উন্নয়ন সহযোগিতা থেকে সরে এসে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির দিকে বিশেষভাবে মনোযোগ দিচ্ছে।
মন্ত্রী নরওয়ের এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বাংলাদেশ থেকে নরওয়েতে রপ্তানি পণ্য বহুমুখীকরণের ওপর জোর দেন।
তিনি নরওয়ের বাজারে বাংলাদেশের ওষুধ শিল্প, চামড়াজাত পণ্য, আইটি সেবা, পাটজাত পণ্য এবং হস্তশিল্পের মতো উচ্চমূল্যের পণ্য রপ্তানির বিপুল সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন। একইসঙ্গে, বাংলাদেশের নবায়নযোগ্য জ্বালানি, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি, জাহাজ নির্মাণ এবং প্যাকেজিং শিল্পে নরওয়ের উদ্যোক্তাদের বড় আকারের বিনিয়োগ করার আহ্বান জানান সালাহউদ্দিন আহমদ।
জলবায়ু পরিবর্তনের বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় নরওয়ের আন্তর্জাতিক নেতৃত্বের প্রশংসা করে মন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ জলবায়ু ঝুঁকির মধ্যে থাকা অন্যতম প্রধান দেশ। গ্রিন ক্লাইমেট ফান্ড এবং নরওয়ের ক্লাইমেট ইনভেস্টমেন্ট ফান্ডের মাধ্যমে বাংলাদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানি এবং পরিবেশবান্ধব ও কম কার্বন প্রযুক্তির প্রকল্পসমূহে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও বৃদ্ধির ওপর তিনি গুরুত্বারোপ করেন।।
এ ছাড়াও, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দুই দেশের মধ্যে শিক্ষা, প্রযুক্তিগত সহযোগিতা, ডিজিটাল উদ্ভাবন, বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণ এবং গবেষণা ক্ষেত্রে প্রাতিষ্ঠানিক বিনিময় বৃদ্ধির আহ্বান জানিয়ে নরওয়ের শিক্ষাবৃত্তির আওতা বাংলাদেশি শিক্ষার্থীদের জন্য আরও সম্প্রসারণের অনুরোধ জানান।
রোহিঙ্গা সংকটের বিষয়ে মন্ত্রী কক্সবাজারে আশ্রয় নেওয়া জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মিয়ানমারের নাগরিকদের (রোহিঙ্গা) প্রতি নরওয়ের ধারাবাহিক মানবিক সহায়তা এবং নরওয়েজিয়ান রিফিউজি কাউন্সিলের সক্রিয় কার্যক্রমের জন্য ধন্যবাদ জানান।
এ সময় তিনি জোর দিয়ে বলেন, এই বিশাল জনগোষ্ঠীর দীর্ঘমেয়াদি উপস্থিতি বাংলাদেশের নিরাপত্তা ও অর্থনীতির জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। রোহিঙ্গা নাগরিকদের নিরাপদ, মর্যাদাপূর্ণ এবং টেকসই উপায়ে নিজ দেশে প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে নরওয়ে এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও জোরালো ভূমিকা রাখার অনুরোধ জানান তিনি।
নরওয়ের রাষ্ট্রদূত বাংলাদেশ ও নরওয়ের মধ্যকার অভিন্ন মূল্যবোধের কথা উল্লেখ করে আশ্বস্ত করে বলেন, জাতিসংঘসহ বিভিন্ন আন্তর্জাতিক ফোরামে পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয়ে দুই দেশের একাত্মতা ও সহযোগিতা আগামীতেও অব্যাহত থাকবে এবং বাংলাদেশের সামগ্রিক উন্নয়ন ও সুরক্ষায় নরওয়ে সবসময় পাশে থাকবে।
সাক্ষাৎকালে নরওয়েজিয়ান দূতাবাসের রাজনৈতিক উপদেষ্টা সারোয়ার জাহান চৌধুরী, স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের রাজনৈতিক অনুবিভাগের অতিরিক্ত সচিব ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ, রাজনৈতিক-১ অধিশাখার যুগ্মসচিব রেবেকা খান এবং রাজনৈতিক-৩ শাখার উপসচিব মো. আমিনুল ইসলাম প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৭ দিন আগে
বেসরকারি হাসপাতালে ডেঙ্গু পরীক্ষায় ৮০ শতাংশ ছাড়, ডাক্তারের ফি না নেওয়ার নির্দেশ স্বাস্থ্যমন্ত্রীর
দেশে ডেঙ্গুর প্রকোপ মোকাবিলায় বেসরকারি হাসপাতালগুলোর জন্য একগুচ্ছ নির্দেশনা দিয়েছে স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রণালয়। স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষণ করবে। এসব রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ভিজিট ফি নেওয়া হবে না। পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২ জুন) ডেঙ্গু প্রতিরোধে করণীয় নির্ধারণে সভা শেষে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
সভায় উপস্থিত ছিলেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ প্রতিমন্ত্রী এম এ মুহিত ও প্রধানমন্ত্রীর বিশেষ সহকারী (স্বাস্থ্যবিষয়ক) এস এম জিয়াউদ্দিন হায়দার।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বেসরকারি হাসপাতালগুলো ডেঙ্গু রোগীদের জন্য ১০ শতাংশ বেড সংরক্ষণ করবে। এসব রোগীর ক্ষেত্রে চিকিৎসকদের ভিজিট ফি নেওয়া হবে না। রোগীকে শুধু ওষুধ ও খাবারের খরচ বহন করতে হবে। পাশাপাশি ডেঙ্গু রোগীদের বিভিন্ন পরীক্ষা-নিরীক্ষার ব্যয়ে ৮০ শতাংশ পর্যন্ত ছাড় দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, আগামী তিন দিনের মধ্যে প্রতিটি বেসরকারি হাসপাতালকে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য কতটি শয্যা বরাদ্দ রাখা হয়েছে, কী পরিমাণ স্যালাইন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় তরলজাতীয় চিকিৎসা উপকরণ মজুত রয়েছে এবং ভবিষ্যতে কত সংগ্রহ করা হবে, তার বিস্তারিত তথ্য স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়কে জানাতে হবে।
ডেঙ্গুর ভ্যাকসিন প্রসঙ্গে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, বিশ্বের কয়েকটি দেশে ডেঙ্গুর টিকা ব্যবহার হলেও এটি এখনো সর্বজনীনভাবে স্বীকৃত নয়। তাই আন্তর্জাতিক সংস্থা ও বিশেষজ্ঞদের মতামত ছাড়া বাংলাদেশে তাৎক্ষণিকভাবে টিকাদান কর্মসূচি শুরু করা হবে না। এ বিষয়ে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও), ইউনিসেফসহ আন্তর্জাতিক সংস্থাগুলোর সঙ্গে আলোচনা করা হবে।
সভায় ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে গণমাধ্যম ও বেসরকারি হাসপাতালগুলোর সহযোগিতা কামনা করেন মন্ত্রী। টেলিভিশন চ্যানেলগুলোকে তাদের বিভিন্ন অনুষ্ঠানের ফাঁকে ডেঙ্গু প্রতিরোধবিষয়ক সচেতনতামূলক বার্তা প্রচারের আহ্বান জানান তিনি।
এ সময় সিটি করপোরেশনগুলোকে পরিত্যক্ত শৌচাগার, গ্যারেজ ও অন্যান্য স্থানে জমে থাকা পানিতে মশার প্রজননরোধে বিশেষ অভিযান পরিচালনার পরামর্শ দেন সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। তিনি বলেন, যারা পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা নিজেদের থেকে করবে না তাদের বিরুদ্ধে ভ্রাম্যমাণ আদালতের মাধ্যমে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মোকাবিলা শুধু সরকারের একার দায়িত্ব নয়, এটি সবার সম্মিলিত দায়িত্ব। করোনার সময়ের মতো সবাইকে একযোগে কাজ করতে হবে। চিকিৎসক, নার্স, হাসপাতাল মালিক, গণমাধ্যম ও স্থানীয় প্রশাসনের সমন্বিত উদ্যোগেই ডেঙ্গু পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হবে।
ডেঙ্গু রোগীর সেবা কার্যক্রম তদারকিতে রোগীদের সঙ্গে সরাসরি যোগাযোগ করে হাসপাতালগুলো ঘোষিত সুবিধা দিচ্ছে কি না, তা পর্যবেক্ষণ করা হবে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আগামী শনিবার সকাল ১০টায় ঢাকা সিটি উত্তর, ঢাকা সিটি দক্ষিণ এবং সকল বিভাগীয় শহর, সকল জেলা শহরে একযোগে আমরা ব্যানার নিয়ে ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সচেতনতা সৃষ্টির লক্ষ্যে র্যালি করব। টিভি ও পত্রিকায়ও আমরা বিজ্ঞপ্তি দিতে যাচ্ছি। মাইকিং করব পুরো শহরে।
তিনি আরও বলেন, গানের সৃষ্টি করা হচ্ছে ঢাকার দুটা সিটি করপোরেশনে। গানের তালে তালে মানুষকে আকৃষ্ট করার জন্য ডেঙ্গু সচেতনতা সৃষ্টি করব। কমিউনিটি মিটিংয়ের মাধ্যমে, উঠান বৈঠক করে আমাদের সিটি করপোরেশনের কর্মকর্তারা জনসচেতনতা সৃষ্টি করবেন। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে সামাজিক লড়াই, সামাজিক আন্দোলনও করতে হবে।
আগামী শনিবার থেকে তিন মাস ব্যাপী এ কর্মসূচি চলবে বলে জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
১৭ দিন আগে
হাম ও উপসর্গে মৃত্যু বেড়ে ৫৯৪, ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬ প্রাণহানি
দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৩৪টি শিশু।
মঙ্গলবার (২ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫০৪টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯০টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৫৯৪টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৪২টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৯২। এই সময়ে ১ হাজার ২০৪টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ৯০টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৭৩ হাজার ৩৬২, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ১৩৬। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৫৯ হাজার ১০৫ রোগী, যাদের মধ্যে ৫৪ হাজার ৮১২ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
১৭ দিন আগে
ইসলামী ব্যাংকের সামনে টানা দ্বিতীয় দিন বিক্ষোভ কর্মসূচি
ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের একদল গ্রাহক নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান খুরশীদ আলম এবং ব্যাংকের পরিচালনা পর্ষদের সকল সদস্যের পদত্যাগের দাবিতে টানা দ্বিতীয় দিনের মতো মতিঝিলের দিলকুশায় ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে বিক্ষোভ অব্যাহত রেখেছেন।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকাল ৯টার দিকে ‘ইসলামী ব্যাংক সচেতন গ্রাহক ফোরাম’-এর ব্যানারে বিক্ষোভকারীরা বিভিন্ন প্ল্যাকার্ড হাতে ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হন।
তাদের অভিযোগ, ব্যাংকের শীর্ষ ব্যবস্থাপনায় সাম্প্রতিক পরিবর্তনে অনিয়ম হয়েছে। তারা স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে এবং গ্রাহকদের স্বার্থ রক্ষায় চেয়ারম্যানসহ পুরো পরিচালনা পর্ষদ অবিলম্বে প্রত্যাহারের দাবি জানান। এই প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত বিক্ষোভ চলছিল।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখতে পুলিশ জলকামান, সাঁজোয়া যান এবং অতিরিক্ত সদস্য মোতায়েন করেছে।
বিক্ষোভকারীরা খুরশীদের বিরুদ্ধে চট্টগ্রামভিত্তিক এস আলম গ্রুপের সঙ্গে সম্পর্ক থাকার অভিযোগ তোলেন এবং তাকে অবিলম্বে বরখাস্তের দাবি জানান।
এর আগে, গতকাল (সোমবার) ইসলামী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের বাইরে বিক্ষোভকারীদের ছত্রভঙ্গ করতে পুলিশ জলকামান, টিয়ার শেল এবং সাউন্ড গ্রেনেড ব্যবহার করে। এতে উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সৃষ্টি হয়, যার ফলে বিক্ষোভকারী এবং পুলিশ সদস্যসহ বেশ কয়েকজন আহত হন।
১৭ দিন আগে
আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়: রামিসার বাবা
রাজধানীর পল্লবীতে আট বছরের শিশু রামিসা আক্তারকে ধর্ষণ ও হত্যার ঘটনায় দায়ের করা মামলায় প্রথম সাক্ষী হিসেবে আদালতে সাক্ষ্য দিয়েছেন শিশুটির বাবা ও মামলার বাদী আব্দুল হান্নান মোল্লা। এ সময় ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করে আসামিদের সর্বোচ্চ সাজার দাবি জানিয়েছেন তিনি।
মঙ্গলবার (২ জুন) সকালে ঢাকার মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে সাক্ষ্য দিতে এসে তিনি মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনের সর্বোচ্চ শাস্তি প্রত্যাশা করে বলেছেন, ‘আর কোনো বাবা-মায়ের বুক যেন এভাবে খালি না হয়।’
আব্দুল হান্নান বলেন, ‘আমি আদালতের কাছে আমার নিষ্পাপ সন্তানের ওপর সংঘটিত নৃশংস হত্যাকাণ্ড ও বর্বরোচিত ধর্ষণের ঘটনার সুষ্ঠু ও ন্যায়বিচার প্রত্যাশা করি। একইসঙ্গে এই বিচারের দ্রুত কার্যকর বাস্তবায়ন দেখতে চাই।’
তিনি বলেন, ‘আমি চাই না, আর কোনো বাবা-মায়ের বুক এভাবে খালি হোক, কোনো পরিবার সন্তান হারানোর বেদনায় ভেঙে পড়ুক কিংবা বিচার চেয়ে আদালতের বারান্দায় দাঁড়াতে বাধ্য হোক।
সরকার ও রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি অনুরোধ জানিয়ে এই সন্তানহারা বাবা বলেন, ‘এমন একটি আইন প্রণয়ন করা হোক যাতে কোনো আসামি স্বীকারোক্তি দিলে এক মাসের মধ্যেই মামলার রায় দেওয়া এবং তা কার্যকর করার ব্যবস্থা থাকে। দেশের মানুষও দ্রুত ও কার্যকর বিচার প্রত্যাশা করে। আমিও সেই প্রত্যাশাই করছি।’
এদিন ট্রাইব্যুনালে সাক্ষ্য দেওয়ার সময় আবেগাপ্লুত হয়ে পড়েন আব্দুল হান্নান মোল্লা। কাঠগড়ায় দাঁড়িয়ে বক্তব্য দেওয়ার সময় কিছু ধরে দাঁড়ানোর চেষ্টা করলে পরে তাকে বসার জন্য একটি চেয়ার দেওয়া হয়।
তিনি জানান, ঘটনার দিন সকালে তিনি অফিসের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হন। তার অফিস কাকলি এলাকায় হওয়ায় ক্যান্টনমেন্ট হয়ে সেখানে যাচ্ছিলেন। সকাল আনুমানিক ১০টা থেকে সোয়া ১০টার মধ্যে তার স্ত্রী পারভীন আক্তার ফোন করে জরুরি ভিত্তিতে তাকে বাসায় ফিরতে বলেন।
আদালতকে তিনি বলেন, ‘ফোন পাওয়ার পর বাসায় ফিরতে আমার ২৫ থেকে ৩০ মিনিট সময় লাগে। এসে দেখি আমাদের ফ্ল্যাটের সামনে অনেক মানুষ জড়ো হয়েছে। দ্রুত ওপরে উঠে যাই। তখন আমার স্ত্রী অনেকক্ষণ ধরে পাশের ফ্ল্যাটের দরজায় ডাকাডাকি করছিল, কিন্তু কেউ দরজা খুলছিল না।’
হান্নান মোল্লা জানান, পরে তিনি নিজেও দরজা খোলার চেষ্টা করেন। একপর্যায়ে হাতুড়ি দিয়ে দরজার লক ভেঙে ফ্ল্যাটে প্রবেশ করেন। তার কথায়, ‘ভেতরে ঢুকে টয়লেটের সামনে সামান্য রক্ত দেখতে পাই।’
সাক্ষ্যগ্রহণকালে তিনি আদালতকে আরও জানান, ঘটনার আগে তিনি আসামিদের চিনতেন না। ‘আমি আসামিকে জীবনেও দেখিনি’, বলেন তিনি।
সাক্ষ্য শেষে রাষ্ট্রপক্ষ ও আসামিপক্ষের আইনজীবীরা তাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করেন। পরে আদালত পরবর্তী সাক্ষীর সাক্ষ্যগ্রহণ শুরু করেন।
আদালত সূত্রে জানা গেছে, এ মামলায় মোট ১৭ জন সাক্ষী রয়েছেন। রামিসার বাবার পাশাপাশি আদালতে মামলার বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ সাক্ষীরা সাক্ষ্য দেবেন। এসব সাক্ষীর মধ্যে রয়েছেন সোহেল রানার স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি রেকর্ড করা ম্যাজিস্ট্রেট, চিকিৎসক, আলামত সংগ্রহকারী কর্মকর্তা এবং স্থানীয় প্রতিবেশীরা। সাক্ষ্যগ্রহণের ধারাবাহিকতায় পর্যায়ক্রমে অন্যান্য সাক্ষীদের জবানবন্দিও গ্রহণ করা হবে।
আজ সকাল পৌনে ৯টার দিকে মামলার প্রধান আসামি সোহেল রানাকে কেরানীগঞ্জ কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না খাতুনকে কাশিমপুর কারাগার থেকে আদালতে হাজির করা হয়। তাদের ঢাকা মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় রাখা হয়েছে। সাক্ষ্যগ্রহণের সময় তাদের এজলাসে তোলা হবে।
এর আগে, সোমবার (১ জুন) মামলার দুই আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর আদেশ দেন একই আদালত। মামলায় সাক্ষ্য দিতে ১৭ সাক্ষীকে আদালতে হাজির হতে সমন জারি করা হয়।
গতকাল (সোমবার) আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিৎকার করে সোহেল রানা বলেন, ‘ধর্ষণ করছে, মারছে ডলার, ওরে ধরেন। ডলার দুই লাখ টাকা দিচ্ছে।’
নতুন নাম আসা এই ডলারের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে সোহেল রানা জানান, ‘সে মিরপুর ১১ নম্বর রোডের এক বাড়ির অনেক টাকাওয়ালা লোক।’ এ সময় নিজের ডিএনএ টেস্ট না করিয়েই ‘অটোমেটিক’ সব লেখা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন এই আসামি।
গত ১৯ মে দুপুরে পল্লবীর ১১ নম্বর সেকশনের বি ব্লকের একটি ভবনের ফ্ল্যাট থেকে শিশু রামিসার মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
পুলিশ জানায়, ওইদিন সকালে পাশের ফ্লাটের বাসিন্দা ৩২ বছরের সোহেল শিশুটিকে গলা কেটে হত্যার পর মাথা শরীর থেকে বিচ্ছিন্ন করেন। এরপর ফ্ল্যাটের সাবলেট এই ভাড়াটে গ্রিল কেটে পালিয়ে যান। তবে তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তার ঘরেই ছিলেন।
পুলিশ বাসা থেকে স্বপ্নাকে আটক করে। পরে সন্ধ্যায় সোহেলকে নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থেকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এ ঘটনায় রামিসার বাবা আব্দুল হান্নান মোল্লা দুইজনকে আসামি করে সেদিনই পল্লবী থানায় মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে গত ২৪ মে তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অহিদুজ্জামান দুইজনের বিরুদ্ধে আদালতে অভিযোগপত্র জমা দেন।
ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আশরাফুল হকের আদালত অভিযোগপত্রটি দেখে বিচারের জন্য প্রস্তুত হওয়ায় বদলির আদেশ দেন। মামলাটি ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে পাঠানো হয়। ওইদিনই বিচারক মাসরুর সালেকীন অভিযোগপত্র গ্রহণ করেন।
শুরুতে সোহেল রানা আদালতে দোষ স্বীকার করে জবানবন্দি দিলেও তিনি ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি শুরুর পর গতকাল বিকেলে সাংবাদিকদের কাছে নতুন দাবি করেন তিনি।
১৭ দিন আগে
রামিসা হত্যা মামলায় নতুন মোড়, চাঞ্চল্যকর দাবি আসামি সোহেলের
রাজধানীর পল্লবীতে সাত বছরের শিশু রামিসাকে ধর্ষণের পর নৃশংস হত্যার ঘটনায় এবার নতুন মোড় নেওয়ার চেষ্টা করছেন প্রধান আসামি সোহেল রানা। রামিসাকে ধর্ষণ ও হত্যার দায় ‘ডলার’ নামের অন্য এক ব্যক্তির ওপর চাপানোর চেষ্টা করেছেন তিনি।
সোমবার (১ জুন) আলোচিত এই মামলায় গ্রেপ্তার আসামি সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে চার্জগঠন শুনানি শুরু হয়।
আজ (সোমবার) বেলা ১১টার পরে উভয়কে ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালের বিচারক মাসরুর সালেকীনের আদালতে তোলার পর সাংবাদিকদের সামনে সোহেল রানা এই চাঞ্চল্যকর দাবি করেন। একইসঙ্গে নিজের স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে সম্পূর্ণ নির্দোষ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আদালত প্রাঙ্গণে সাংবাদিকদের উদ্দেশে চিৎকার করে সোহেল রানা বলেন, ‘ধর্ষণ করছে, মারছে ডলার, ওরে ধরেন। ডলার দুই লাখ টাকা দিচ্ছে।’
নতুন নাম আসা এই ডলারের পরিচয় জানতে চাওয়া হলে সোহেল রানা জানান, ‘সে মিরপুর ১১ নম্বর রোডের এক বাড়ির অনেক টাকাওয়ালা লোক।’ এ সময় নিজের ডিএনএ টেস্ট না করিয়েই ‘অটোমেটিক’ সব লেখা হয়েছে বলেও অভিযোগ তোলেন এই আসামি।
এর আগে, সকাল পৌনে ৮টার দিকে কড়া পুলিশি পাহারায় আসামি সোহেলকে কেরানীগঞ্জ কারাগার থেকে এবং তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারকে কাশিমপুর কারাগার থেকে মহানগর দায়রা জজ আদালতের হাজতখানায় এনে রাখা হয়।
এই হত্যাকাণ্ডের পর গত ২৪ মে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা পল্লবী থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আহিদুজ্জামান ঢাকার চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে সোহেল রানা ও তার স্ত্রী স্বপ্না আক্তারের বিরুদ্ধে অভিযোগপত্র জমা দেন।
তদন্ত কর্মকর্তা জানান, সোহেল রানার বিরুদ্ধে ধর্ষণের পর হত্যার এবং স্বপ্নার বিরুদ্ধে অপরাধে সহায়তার অভিযোগ প্রমাণিত হয়েছে। মামলাটিতে মোট ১৮ জনকে সাক্ষী করা হয়েছে।
অভিযোগপত্র জমা দেওয়ার দিনই মামলাটি বিচারের জন্য ঢাকা মহানগর শিশু সহিংসতা দমন ট্রাইব্যুনালে বদলি করা হয় এবং আদালত আজ চার্জ গঠনের শুনানির তারিখ নির্ধারণ করেন। এর মাধ্যমে মামলার প্রাথমিক তদন্ত, ডিএনএ পরীক্ষা, অভিযোগপত্র দাখিল এবং তা আদালতে আমলে নেওয়ার প্রধান চারটি ধাপ শেষ হলো।
দ্রুত বিচার নিশ্চিত করার বিষয়ে মামলার রাষ্ট্র নিযুক্ত আইনজীবী সরকারি কৌঁসুলি (পিপি) আজিজুর রহমান দুলু বলেন, মামলাটি যেন দ্রুত শেষ হয়, সে বিষয়ে তিনি নিজের দায়িত্ব পালন করবেন এবং বাকি সিদ্ধান্ত ট্রাইব্যুনাল নিবেন।
প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর দ্রুত বিচারের আশ্বাসের ব্যাপারে তিনি কোনো রাজনৈতিক মন্তব্য না করে শুধু নিজের আইনি দায়িত্ব পালনের কথা জানান।
এদিকে, মামলার রায় ও তা কার্যকর করার প্রক্রিয়া নিয়ে ঢাকার জেলা লিগ্যাল এইডের নিয়মিত আইনজীবী রায়হানা নাজনীন জুঁই জানান, রামিসার মামলার রায় দ্রুত শেষ হবে মনে হলেও এটি কার্যকর করাটাই আসল চ্যালেঞ্জ যা মূলত উচ্চ আদালতে গিয়ে থমকে যায়। তবে নিম্ন আদালতের পর কারাগারের জেলার এবং প্রধান বিচারপতির হস্তক্ষেপ পেলে এটি দ্রুত শেষ হবে, না হলে ডেথ রেফারেন্স সংগ্রহসহ বিভিন্ন ধাপ শেষ করতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে।
মামলার বিবরণ থেকে জানা গেছে, গত ১৯ মে সকাল সাড়ে ৯টার দিকে পপুলার মডেল হাই স্কুলের দ্বিতীয় শ্রেণির ছাত্রী রামিসা আক্তার ঘর থেকে বের হলে আসামি স্বপ্না আক্তার তাকে কৌশলে নিজের ফ্ল্যাটে নিয়ে যান। খোঁজাখুঁজির একপর্যায়ে রামিসার পরিবার ও প্রতিবেশীরা দরজা ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করে শয়নকক্ষের মেঝেতে রামিসার মস্তকবিহীন মরদেহ এবং বাথরুমে বালতির ভেতর থেকে তার কাটা মাথা উদ্ধার করেন।
ঘটনার পরপরই জানালার গ্রিল কেটে প্রধান অভিযুক্ত সোহেল রানা পালিয়ে গেলেও পরবর্তী সময়ে নারায়ণগঞ্জ থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
আদালতে আসামিরা ইতোমধ্যে স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দি দিলেও আজ শুনানির দিনে এসে প্রধান আসামি নতুন করে দায় এড়ানোর চেষ্টা করলেন।
১৮ দিন আগে
ঈদ ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান উন্নতি এনেছে সরকারের ১০ উদ্যোগ: প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়
ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সরকারের নেওয়া ১০টি জনমুখী উদ্যোগ ঈদ ব্যবস্থাপনায় দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এনেছে এবং জবাবদিহিতামূলক ও জনকল্যাণমুখী প্রশাসনের প্রতিফলন ঘটিয়েছে বলে জানিয়েছে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়।
সোমবার (১ জুন) প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের করবী হলে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন এ কথা জানান।
মাহদী আমিন বলেন, এবারের ঈদুল আজহাকে কেন্দ্র করে সরকারের কার্যক্রমে ১০টি গণমুখী বিষয়ে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশনায় ঈদ উদযাপন নির্বিঘ্ন করতে এসব উদ্যোগ নেওয়া হয় বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা নিশ্চিতকরণ, শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ, দেশীয় পশুর বাজার সুরক্ষা, দ্রুত বর্জ্য অপসারণ, গণপরিবহণে শৃঙ্খলা, চাঁদাবাজি ও সিন্ডিকেট দমন, নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ সরবরাহ, জননিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, চামড়া খাতের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের বাজার স্থিতিশীল রাখা ছিল প্রধানমন্ত্রীর অন্যতম নির্দেশনা।
এসব উদ্যোগের সমন্বিত বাস্তবায়ন ঈদ ব্যবস্থাপনার বিভিন্ন ক্ষেত্রে দৃশ্যমান ইতিবাচক পরিবর্তন এনে দিয়েছে এবং রাষ্ট্রীয় সেবাকে আরও জনসম্পৃক্ত করার প্রচেষ্টার প্রতিফলন ঘটিয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
মাহদী আমিন বলেন, জনগণের ভোটে নির্বাচিত প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সরকারের মাত্র তিন মাস পূর্ণ হয়েছে। এই সংক্ষিপ্ত সময়ের মধ্যেই আমরা রাষ্ট্র পরিচালনায় স্বচ্ছতা, সুশাসন, জনকল্যাণ এবং মানুষের প্রত্যাশা পূরণের লক্ষ্যে নিরলসভাবে কাজ করে যাচ্ছি। কারণ আমরা বিশ্বাস করি, জনগণের আস্থা ও বিশ্বাসই একটি সরকারের সবচেয়ে বড় শক্তি।
তিনি বলেন, ফ্যাসিবাদী ১৬ বছরের প্রাতিষ্ঠানিক অবক্ষয় ও ধ্বংসস্তূপ মাত্র তিন মাসে সম্পূর্ণরূপে দূর করা সম্ভব নয়, এই কঠিন বাস্তবতা দেশবাসী অনুধাবন করে। তবু দীর্ঘদিনের দুঃশাসনে ক্লান্ত জনগণ এবারের ঈদে উপলব্ধি করেছে যে, রাষ্ট্র তাদের প্রতি সংবেদনশীল এবং প্রশাসন কেবল ক্ষমতার কেন্দ্র নয়, বরং জনসেবার কার্যকর ও দায়িত্বশীল মাধ্যম।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র জানান, বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর অনুষ্ঠিত প্রথম ঈদুল আজহা উদযাপনের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনায় সরকারের সব মন্ত্রী, প্রতিমন্ত্রী, উপদেষ্টা, সংসদ সদস্যসহ সব মহলে আন্তরিকতা ও দায়বদ্ধতা ছিল সর্বোচ্চ। তবু কোথাও কোনো প্রশাসনিক ঘাটতি বা সমন্বয়হীনতা পরিলক্ষিত হলে তা চিহ্নিত করে দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিরসনে সরকার কাজ চালিয়ে যাবে বলে জানান তিনি।
ঈদযাত্রা ও ট্র্যাফিক ব্যবস্থাপনা প্রসঙ্গে মাহদী আমিন বলেন, নিয়মিত সাপ্তাহিক ছুটির সঙ্গে সমন্বয় করে সরকারি ছুটি এক সপ্তাহ পর্যন্ত বর্ধিত করা হয়। ফলে সরকারি উদ্যোগেই পরিবার-পরিজনদের সঙ্গে আমরা এবার ছুটিতে কিছুটা বেশি সময় থাকতে পেরেছি। ঘরমুখো মানুষের যাত্রা নির্বিঘ্ন করতে ও সার্বিক শৃঙ্খলা বজায় রাখতে সার্বক্ষণিক মনিটরিং ও বিশেষ ব্যবস্থাপনা গ্রহণ করা হয়েছে। যে কারণে ঈদের আগের দিনগুলোতে মহাসড়কে একযোগে যানবাহনের চাপ অনেকটাই কমে এসেছে।
তিনি বলেন, প্রতিবছরের চেনা ছবি, কিলোমিটারের পর কিলোমিটার যানজট এবং ঘণ্টার পর ঘণ্টা ভোগান্তি, এবারের ঈদযাত্রায় তুলনামূলক নিয়ন্ত্রণে ছিল। তারপরও যতটুকু হয়েছে, সরকার সচেষ্ট থাকবে আগামীতে সেটারও সমাধানের জন্য।
তিনি আরও বলেন, এবার সামগ্রিক ট্রাফিক ব্যবস্থাপনা যথেষ্ট উন্নতি এবং অতীতের তুলনায় সড়ক দুর্ঘটনা কম হলেও, এর আড়ালে কিছু পরিবারের ঈদ আনন্দ রূপ নিয়েছে আজীবনের কান্নায়। প্রশাসনের নজরদারি সত্ত্বেও মহাসড়কে বেপরোয়া গতি আর অসচেতনতার জেরে এবারও বেশ কিছু মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনা ঘটেছে, কেড়ে নিয়েছে তাজা প্রাণ। ঘটনাগুলো আমাদেরকে প্রচণ্ডভাবে ব্যথিত করেছে। ভবিষ্যতের যেকোনো উৎসবে যেকোনো মূল্যে জনসচেতনতা বাড়িয়ে মানুষের জীবনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতেই হবে বলে এ সময় মন্তব্য করেন তিনি।
পোশাক খাতের শ্রমিকদের বেতন ও বোনাস পরিশোধের বিষয়ে তিনি বলেন, তৈরি পোশাক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতের শ্রমিকদের ঈদের আগে বকেয়া বেতন ও বোনাস নিশ্চিত করতে সরকারের উদ্যোগে সকল ব্যাংক এবং অংশীজনদের সঙ্গে কথা বলে কারখানার শ্রমিক, মালিক ও বিভিন্ন সংগঠনকে সম্পৃক্ত করা হয়েছে। বিভিন্ন কৌশল ও পরিকল্পনায় একটি সুষ্ঠু, সুন্দর ও আনন্দঘন পরিবেশে শিল্প-কারখানার শ্রমিকদের ঈদ আনন্দ নিশ্চিত করা হয়েছে।
তিনি দাবি করেন, এর ফলে ঈদের ঠিক আগে বকেয়া বেতনের দাবিতে মহাসড়ক অবরোধ বা শিল্পাঞ্চলে সেই রকম বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়নি, যা ছিল বিগত সময়ের নিয়মিত ঘটনা। প্রায় সকল কারখানায় সময়মতো শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ সম্ভব হয়েছে, নিশ্চিত করা হয়েছে উৎসবমুখর ঈদের পরিবেশ। এর ফলে দেশের শিল্পাঞ্চলজুড়ে বিরাজ করেছে শান্তিপূর্ণ, স্থিতিশীল ও উৎসবমুখর পরিবেশ।
১৮ দিন আগে
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
ডেঙ্গু মোকাবিলায় সরকার সব রকমের প্রস্তুতি গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণ মন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এরই অংশ হিসেবে দেশের উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (১ জুন) মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে স্বাস্থ্যমন্ত্রীর সভাপতিত্বে ডেঙ্গু মোকাবিলায় প্রস্তুতি বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের নিয়ে এক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে মন্ত্রী বলেন, যেহেতু দুয়েকজন করে ডেঙ্গুর রোগী পাওয়া যাচ্ছে এবং এই সময়ে ডেঙ্গু হয়, সেজন্য আমরা কালক্ষেপণ করতে চাই না। আমরা ডেঙ্গু মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি নিচ্ছি। উপজেলা স্বাস্থ্যকেন্দ্রগুলোতে ডেঙ্গু কর্নার করা হচ্ছে। আক্রান্তদের চিকিৎসা দিতে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতাল ক্যাম্পাসে ফিল্ড হাসপাতাল প্রস্তুত আছে। প্রয়োজনে দেশের বিভিন্ন জায়গায় আরও ফিল্ড হাসপাতাল করা হবে।
তিনি বলেন, ডেঙ্গুর চিকিৎসা পরিকল্পনাসহ বিস্তারিত প্রশিক্ষণ দিবে সোসাইটি অব মেডিসিন। এতে ইউনিসেফসহ বিভিন্ন সংস্থাও সহায়তা করছে। কাল থেকেই প্রশিক্ষণের কাজ শুরু হচ্ছে। সারা দেশে ঢাকার বাইরে ৭টি বিভাগে এবং জেলাগুলোতে চিকিৎসক ও নার্সদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হবে। রিএজেন্ট, টেস্টিং কীটস এবং ফ্লুইড স্যালাইনসহ বিভিন্ন প্রয়োজনীয় উপকরণ কিছু সংগ্রহে আছে। চাহিদা অনুযায়ী আমরা পর্যাপ্ত পরিমাণে এসব উপকরণ সংগ্রহের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
ডেঙ্গুর মূল উৎপত্তি নিয়ে পদক্ষেপ জানতে চাইলে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, আমরা এ নিয়ে সিটি করপোরেশনের সঙ্গে দুমাস আগে থেকেই কাজ শুরু করেছি। আগামীকাল আবার সিটি করপোরেশন ও সংশ্লিষ্টদের নিয়ে বসব।
আজকের সভায় ডেঙ্গুবিষয়ক একটি অ্যাপ চালু করার ব্যাপারে আলোচনা করা হয় এবং ডেঙ্গুবিষয়ক গবেষণা বাড়ানোর বিষয়ে গুরুত্বারোপ করা হয়।
এ সময় সভায় উপস্থিত ছিলেন, স্বাস্থ্য প্রতিমন্ত্রী ড. এম এ মুহিত, অতিরিক্ত সচিব এটিএম সাইফুল ইসলাম, স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. প্রভাত চন্দ্র বিশ্বাস, অতিরিক্ত মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. জাহিদ রায়হান, পরিচালক (রোগ নিয়ন্ত্রণ) ডা. হালিমুর রশীদ, পরিচালক (হাসপাতাল) ডা. এএইচএম মইনুল আহসান ও সোসাইটি অব মেডিসিনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
১৮ দিন আগে
লিবিয়া থেকে দেশে ফিরেছেন আরও ১৭৪ বাংলাদেশি
লিবিয়ার ত্রিপোলি থেকে আরও ১৭৪ জন অনিয়মিত বাংলাদেশি নাগরিককে দেশে ফিরিয়ে আনা হয়েছে।
সোমবার (১ জুন) ভোর ৫টার দিকে বুরাক এয়ারের একটি ফ্লাইটে তারা বাংলাদেশে পৌঁছান।
লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এবং প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ের সমন্বয়ে দেশটির সরকার ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সহযোগিতায় তাদের এ প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, ফিরে আসা বাংলাদেশিদের বেশিরভাগই সমুদ্রপথে অবৈধভাবে ইউরোপে যাওয়ার উদ্দেশ্যে মানবপাচারকারীদের প্ররোচনা ও সহযোগিতায় লিবিয়ায় অনুপ্রবেশ করেছিলেন। তাদের অনেকেই সেখানে বিভিন্ন সময়ে অপহরণ ও নির্যাতনের শিকার হয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
আজ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়সহ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার কর্মকর্তাগণ প্রত্যাবাসিত বাংলাদেশি নাগরিকদের বিমানবন্দরে অভ্যর্থনা জানান।
জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে তাদের এই দুর্বিষহ অভিজ্ঞতা সকলের সঙ্গে বিনিময় করার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে তাদের অনুরোধ জানানো হয়েছে।
আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার পক্ষ থেকে প্রত্যাবাসিত প্রত্যেককে পথখরচা, কিছু খাদ্যসামগ্রী, প্রাথমিক চিকিৎসা এবং প্রয়োজনে অস্থায়ী বাসস্থানের ব্যবস্থা করা হয়েছে।
লিবিয়ায় বিভিন্ন ডিটেনশন সেন্টারে আটক বাংলাদেশি নাগরিকদের নিরাপদে প্রত্যাবাসনের ব্যবস্থা করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়, লিবিয়ায় অবস্থিত বাংলাদেশ দূতাবাস, প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং আর্ন্তজাতিক অভিবাসন সংস্থা একযোগে কাজ করে যাচ্ছে।
১৮ দিন আগে