বাংলাদেশ
শুধু চাকরি নয়, তরুণদের কৃষি উদ্যোক্তা হয়ে ওঠার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
শুধু চাকরির পেছনে না ছুটে কৃষিভিত্তিক শিল্প, অ্যাগ্রো বিজনেস ও উদ্ভাবনী কৃষি উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের উদ্যোক্তা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করার জন্য শিক্ষার্থীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
তিনি বলেছেন, দেশের কৃষি খাতে অপার সম্ভাবনা কাজে লাগিয়ে তরুণরা উদ্যোক্তা হিসেবে আত্মপ্রকাশ করলে কর্মসংস্থান সৃষ্টির পাশাপাশি জাতীয় অর্থনীতিতেও গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখা সম্ভব।
রবিবার (২৬ জুলাই) রাজধানীর শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শেকৃবি) শিক্ষার্থীদের নবীন বরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব বলেন।
মন্ত্রী বলেন, কৃষিতে পড়াশোনা করলেই সবাইকে শুধু সরকারি চাকরিতে যেতে হবে—এমন নয়। কৃষির সঙ্গে সম্পর্কিত ব্যবসা, শিল্প ও প্রযুক্তিনির্ভর উদ্যোগের মাধ্যমে নিজেদের কর্মসংস্থানের পাশাপাশি অন্যদের জন্যও কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি করতে হবে।
তিনি বলেন, শিক্ষিত তরুণদের কর্মসংস্থান বর্তমানে বড় চ্যালেঞ্জ। তাই শুধু ডিগ্রি অর্জন নয়, দক্ষতা, সৃজনশীলতা ও উদ্ভাবনী চিন্তার বিকাশ ঘটিয়ে নতুন উদ্যোগ নিয়ে এগিয়ে আসতে হবে। একই সঙ্গে কৃষিকে আধুনিক, প্রযুক্তিনির্ভর ও উৎপাদনশীল খাতে রূপান্তরের ওপর গুরুত্ব দিতে হবে।
তিনি আরও বলেন, দেশের খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কৃষি গবেষণায় বিনিয়োগ বাড়ানো এবং নতুন প্রযুক্তি কৃষকের কাছে পৌঁছে দেওয়া প্রয়োজন। কৃষির উন্নয়নে শিক্ষার্থী, শিক্ষক, গবেষক ও মাঠপর্যায়ের কৃষকদের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা উপদেষ্টা ড. মাহ্দী আমিন বলেন, বাংলাদেশের কৃষি উৎপাদন বৃদ্ধি ও কৃষি গবেষণায় শেরেবাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের গুরুত্বপূর্ণ অবদান রয়েছে। খাদ্যে স্বয়ংসম্পূর্ণ বাংলাদেশ গড়ার ক্ষেত্রে নবীন শিক্ষার্থীরা ভবিষ্যতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে।
শেকৃবির উপাচার্য ড. মো. আব্দুল লতিফের সভাপতিত্বে আয়োজিত অনুষ্ঠানে মাদারীপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য আনিছুর রহমান, সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য সানজিদা ইসলাম তুলিসহ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও আমন্ত্রিত অতিথিরা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
চলতি অর্থবছরে ৬৩৪০ কোটি ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ
চলতি ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৬৩ দশমিক ৪ বিলিয়ন বা ৬ হাজার ৩৪০ কোটি ডলারের রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করেছে সরকার। এর মধ্যে পণ্য রপ্তানির লক্ষ্য ৫ হাজার ৫২০ কোটি ডলার ও সেবা রপ্তানির লক্ষ্য ৮২০ কোটি ডলার। উভয় খাতেই ১৫ শতাংশ প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য নির্ধারণ করা হয়েছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত এক প্রেস ব্রিফিংয়ে এ ঘোষণা দেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির।
এ সময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আতাউর রহমান খান এবং রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর (ইপিবি) ভাইস চেয়ারম্যান মোহাম্মদ হাসান আরিফ উপস্থিত ছিলেন।
খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেন, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, চলমান ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা এবং আন্তর্জাতিক বাজারের চ্যালেঞ্জ সত্ত্বেও বাংলাদেশের রপ্তানি খাত ঘুরে দাঁড়ানোর বাস্তব সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ সৃষ্টি, বিনিয়োগ সহজীকরণ এবং সরকারি সেবার প্রক্রিয়া সরলীকরণের মাধ্যমে রপ্তানিতে নতুন গতি আনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
তিনি জানান, দক্ষিণ কোরিয়া ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তির (এফটিএ) আলোচনা শেষ পর্যায়ে রয়েছে। পাশাপাশি আরও কয়েকটি দেশের সঙ্গে চলতি বছরের মধ্যেই এফটিএ সম্পন্ন করার লক্ষ্য রয়েছে। ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গেও মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে আনুষ্ঠানিক আলোচনা শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেন তিনি।
রপ্তানি বহুমুখীকরণের ওপর গুরুত্ব দিয়ে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমানে দেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮৫ শতাংশই তৈরি পোশাক খাতনির্ভর। এই নির্ভরতা কমাতে সরকার চামড়া ও চামড়াজাত পণ্য, ফুটওয়্যার, জাহাজ নির্মাণ, জাহাজ ভাঙা, লাইট ইঞ্জিনিয়ারিং এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতকে বিশেষ অগ্রাধিকার দিচ্ছে। এসব খাতের বিকাশে শিগগিরই সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন করা হবে।
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কনীতি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, বাংলাদেশের ওপর কার্যকর শুল্ক কাঠামোয় বাস্তবিক অর্থে নতুন কোনো পরিবর্তন আসেনি। আগের ১০ শতাংশ শুল্কই নতুন আইনি কাঠামোর অধীনে বহাল রয়েছে। ফলে দেশের রপ্তানিতে নতুন করে নেতিবাচক প্রভাব পড়ার আশঙ্কা নেই।
জ্বালানি সংকট প্রসঙ্গে মন্ত্রী বলেন, গ্যাস সরবরাহের সীমাবদ্ধতার কারণে শিল্প খাতের উৎপাদন সক্ষমতার একটি অংশ এখনও পুরোপুরি কাজে লাগানো যাচ্ছে না। অতিরিক্ত এলএনজি রিগ্যাসিফিকেশন ইউনিট (এফএসআরইউ) স্থাপনের মাধ্যমে পরিস্থিতির উন্নয়নে সরকার কাজ করছে।
তিনি বলেন, নির্বাচিত সরকারের নীতিগত স্থিতিশীলতা, ব্যবসাবান্ধব সংস্কার, নতুন মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি এবং আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের প্রতি ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধির ফলে আগামী অর্থবছরে নির্ধারিত রপ্তানি লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সম্ভব হবে।
বাণিজ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের সামনে এখন নতুন সম্ভাবনার দুয়ার উন্মুক্ত হয়েছে। ব্যবসা সহজীকরণ, নতুন বাজারে প্রবেশ এবং রপ্তানি বহুমুখীকরণের সমন্বিত উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা দেশের রপ্তানি খাতে নতুন এক ঊর্ধ্বগতির সূচনা করতে চাই।’
৮ দিন আগে
কক্সবাজারে একরামুল হত্যা মামলায় হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল
২০১৮ সালে কক্সবাজারের টেকনাফে মাদকবিরোধী অভিযানের নামে কাউন্সিলর ও টেকনাফ যুবলীগের সাবেক সভাপতি একরামুল হক হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে। পলাতক সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১১ জনের বিরুদ্ধে এই প্রতিবেদন দাখিল করা হয়েছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে বিচারপতি নজরুল ইসলাম চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ এ আলোচিত এ মামলার প্রতিবেদন দাখিল করে প্রসিকিউশন।
মামলার অন্য আসামিদের মধ্যে আছেন সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান, আওয়ামী লীগের (বর্তমানে কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সাধারণ সম্পাদক ওবায়দুল কাদের, সাবেক সংসদ সদস্য আবদুর রহমান (বদি), পুলিশের সাবেক মহাপরিদর্শক (আইজিপি) বেনজীর আহমেদ, র্যাবের সাবেক অতিরিক্ত মহাপরিচালক মো. আনোয়ার লতিফ খান, র্যাবের সাবেক পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাহবুব আলম, র্যাবের সাবেক কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মিফতাহ উদ্দিন আহমেদ, র্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার মেজর (অব.) রুহুল আমিন (রাজন), র্যাবের সাবেক কোম্পানি কমান্ডার লেফটেন্যান্ট কমান্ডার মো. আশেকুর রহমান ও প্রতিরক্ষা গোয়েন্দা মহাপরিদপ্তরের (ডিজিএফআই) সাবেক সদস্য স্কোয়াড্রন লিডার নাজমুস সাকিব মাহমুদ।
মামলার নথি অনুযায়ী, ২০১৮ সালে দেশজুড়ে মাদকবিরোধী অভিযান শুরু হলে একই বছরের ২৬ মে রাতে কক্সবাজারের টেকনাফের মেরিন ড্রাইভ সড়কের নোয়াখালীপাড়া এলাকায় র্যাবের সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধে নিহত হন তিনবারের কাউন্সিলর একরামুল হক। ওই ঘটনার পর ‘ঠান্ডা মাথায়’ একরামুলকে হত্যা করা হয়েছে বলে দাবি করেন তার স্ত্রী আয়েশা বেগম।
ওই বছরের ৩১ মে কক্সবাজারে এক সংবাদ সম্মেলনে একরামুলের স্ত্রী হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় বিচার বিভাগীয় তদন্তের দাবি জানান। সেই সঙ্গে কথিত বন্দুকযুদ্ধের সময় মুঠোফোনে রেকর্ড করা কথোপকথনের কিছু রক্ত হিম করা অডিও ক্লিপ গণমাধ্যমকর্মীদের দিয়েছিলেন তিনি। যার মধ্যে একটি রেকর্ডে বন্দুকের ট্রিগার টানার শব্দ শোনা যায়। তার পরপরই গুলির শব্দ ও তারপর একজন মানুষের আর্তনাদের আওয়াজ পাওয়া যায়।
৮ দিন আগে
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনে প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ আনার চেষ্টা করছে সরকার: পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী
২০৩৪ সালের মধ্যে বাংলাদেশকে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতিতে উন্নীত করার লক্ষ্য অর্জনে প্রয়োজনীয় বিদেশি বিনিয়োগ আনতে সরকার প্রচেষ্টা জোরদার করেছে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম। তিনি বলেছেন, সমুদ্র অর্থনীতি (ব্লু ইকোনমি) থেকে শুরু করে বিভিন্ন সম্ভাবনাময় খাতে বিনিয়োগ আকর্ষণ সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন দেশ ইতোমধ্যে বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিয়োগ নিয়ে আলোচনা করছে এবং অনেক বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে।
রবিবার (২৬ জুলাই) পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ‘রোডম্যাপ ফর ট্রেড, গ্রোথ অ্যান্ড ইকোনমিক ডিপ্লোমেসি-২০২৬: দ্য ক্যাপিটাল ডায়ালগ’ শীর্ষক এক রুদ্ধদ্বার গোলটেবিল বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
বৈঠকে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীরসহ সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিরা অংশ নেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিভিন্ন দেশ এরই মধ্যে আমাদের সঙ্গে আলোচনা করছে, তারা কীভাবে বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগ করতে পারে। এটি একটি চলমান আলোচনা। অনেক বিনিয়োগকারী ইতোমধ্যে বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিডা) সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তাদের সঙ্গে কাজ করছে এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গেও কাজ করছে।’
তিনি বলেন, চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশ বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী এবং এ বিষয়ে আলোচনা চলছে।
এর আগে, গত ১৩ জুন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের আয়োজনে ‘ট্রেড অ্যান্ড ইনভেস্টমেন্ট কনফারেন্স’ অনুষ্ঠিত হয়েছিল জানিয়ে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ওই সম্মেলনে অর্থমন্ত্রী, পররাষ্ট্রমন্ত্রী, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রীসহ সংশ্লিষ্টরা এবং বিপুলসংখ্যক বিনিয়োগকারী, স্টেকহোল্ডার ও উন্নয়ন সহযোগীরা অংশ নিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ওই সম্মেলনের ধারাবাহিকতায় আজকের রুদ্ধদ্বার গোলটেবিল বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে অর্থ উপদেষ্টা, বিনিয়োগকারী, পুঁজিবাজার-সংশ্লিষ্ট ব্যক্তি, বিভিন্ন সংস্থা ও আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নেন।
তিনি আরও বলেন, এখানে মূলত আলোচনা হয়েছে, আমাদের কী কী সমস্যাগুলো আছে; আমাদের এলডিসি গ্র্যাজুয়েশনে বিলম্ব (ডেফারমেন্ট), আমাদের পুঁজিবাজার, বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ, এখানে সহজে ব্যবসা পরিচালনার পরিবেশ, বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিভিন্নভাবে যে ধরনের সমস্যা এখানে মোকাবিলা করতে হয়, সেগুলোর সমাধানে আমরা কী কী পদক্ষেপ নিতে পারি—এসব বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অর্থনৈতিক কূটনীতিতে গুরুত্ব দিচ্ছে উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, বিভিন্ন সমস্যা, আলোচনা ও পরামর্শগুলো নিয়ে ভবিষ্যতে অন্যান্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করে সমাধানের দিকে এগোনো হবে।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল (বিএনপি) একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি উত্তরাধিকার সূত্রে পেয়েছে। ব্যাংকিং খাত, পুঁজিবাজার ও বিভিন্ন ব্যবস্থা পুনর্গঠন করে একটি গতিশীল অর্থনীতিতে রূপান্তরের জন্য সরকার প্রয়োজনীয় নীতিমালা গ্রহণ করছে।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, আমাদের সৃজনশীল অর্থনীতি, বিদেশি সরাসরি বিনিয়োগ, বিভিন্ন অর্থনৈতিক জোনে যখন বিনিয়োগ হবে, তখন বিদেশি বিনিয়োগকারীদের কী কী ধরনের সুবিধা প্রয়োজন, কী কী ধরনের প্রক্রিয়াগত পরিবর্তন আমাদের আনতে হবে যাতে তারা সহজেই বিনিয়োগ করতে পারেন, সেইসব ব্যাপার নিয়ে আলোচনা হয়েছে।
বিনিয়োগের অগ্রাধিকার খাত সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি বলেন, জ্বালানি, টেক্সটাইল, তৈরি পোশাক, কৃষি, কৃষিভিত্তিক শিল্পসহ বিভিন্ন খাতে বিনিয়োগের সুযোগ রয়েছে।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘বিশেষ করে আমরা যখন ক্রিয়েটিভ ইকোনমির (সৃজনশীল অর্থনীতি) কথা বলছি, সেখানে আমাদের প্রান্তিক জনগোষ্ঠী, আমাদের কুটির শিল্প, আমাদের কৃষ্টি, কালচার—এখানেও কিন্তু অর্থনৈতিক বিনিয়োগের একটা বিশাল সুযোগ আমরা তৈরি করার চেষ্টা করছি।’
ক্রীড়া ও সংস্কৃতি খাতেও বিনিয়োগ আনার উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, এ জন্য ক্রীড়া কূটনীতি ও সাংস্কৃতিক কূটনীতিকে কাজে লাগানো হচ্ছে।
শামা ওবায়েদ বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রীর যে স্বপ্ন যে, বাংলাদেশের অর্থনীতিকে একটি নতুন উচ্চ পর্যায়ে নিয়ে যেতে বাংলাদেশের আপামর জনতা, পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠী, আমাদের নারী সমাজ—প্রত্যেকেই এই অগ্রগতি, এই উন্নয়নের অংশ হবে, সেটি বাস্তবায়ন করাই পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের প্রধান কাজ।
ব্লু ইকোনমি বা সমুদ্র অর্থনীতিতে বিনিয়োগ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, এটি সরকারের অন্যতম অগ্রাধিকার খাত।
এ বিষয়ে তার ভাষ্য, ‘অবশ্যই, অবশ্যই! ব্লু ইকোনমি নিয়ে কথা হয়েছে, ব্লু ইকোনমি তো ওয়ান অব দ্য প্রায়োরিটিজ (অন্যতম অগ্রাধিকার)। ব্লু ইকোনমিতে আমরা ইনভেস্টমেন্ট (বিনিয়োগ) চাই; বিভিন্ন ইউরোপিয়ান কান্ট্রিগুলো আমাদের ব্লু ইকোনমিতে ইনভেস্ট করতে চাচ্ছে এবং সেটার অনেক সুযোগও আছে বাংলাদেশে। তো সেগুলো নিয়েও আমাদের কথা হচ্ছে।’
তিনি জানান, বিনিয়োগ সংক্রান্ত সমস্যা চিহ্নিত ও সমাধানের জন্য এ ধরনের রাউন্ড টেবিল বৈঠক আরও আয়োজন করা হবে।
আগামী ছয় মাস বা এক বছরে কত বিনিয়োগ আসতে পারে—এমন প্রশ্নের জবাবে শামা ওবায়েদ বলেন, বিনিয়োগ একটি চলমান প্রক্রিয়া; এর জন্য নির্দিষ্ট দিনক্ষণ নির্ধারণ করা যায় না।
তিনি বলেন, বিনিয়োগ প্রক্রিয়া তো ইতোমধ্যে চলছে। অনেক দেশ এরই মধ্যে আমাদের সঙ্গে কথা বলছে যে তারা বিভিন্ন খাতে কীভাবে বিনিয়োগ করতে পারে। ইতোমধ্যে অনেক বিনিয়োগকারী বিডার সঙ্গে যোগাযোগ করছে, তাদের সঙ্গে কাজ করছে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সঙ্গে কাজ করছে। চীন, জাপান, যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশই কিন্তু বিনিয়োগের জন্য প্রস্তুত আছে। তারা বিনিয়োগের ব্যাপারে কথাবার্তা চালাচ্ছে।
ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি অর্জনের লক্ষ্য প্রসঙ্গে তিনি বলেন, আমাদের অর্থমন্ত্রী যখন বাজেট দিয়েছেন, উনি কিন্তু বলেছেন যে ১ ট্রিলিয়ন ডলারের একটা অর্থনীতি আমরা অর্জন করতে চাই; সেটি আমাদের লক্ষ্য। সেই অর্থনীতি বাস্তবায়ন করতে হলে আমাদের যে ধরনের বিনিয়োগ দরকার, সেই ধরনের বিনিয়োগ আমরা আনার চেষ্টা করছি। সেই কাজ চলছে।
৮ দিন আগে
জাতীয় অগ্রাধিকারকে শক্তিশালী করলেই অংশীদারত্ব অর্থবহ হয়: ড. তিতুমীর
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের অর্থ মন্ত্রণালয় ও পরিকল্পনা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর বলেছেন, অংশীদারত্ব তখনই সবচেয়ে অর্থবহ হয়, যখন তা জাতীয় অগ্রাধিকারকে শক্তিশালী করে; প্রতিটি সহযোগিতার কেন্দ্রে বাংলাদেশের উন্নয়ন, অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্ব এবং জনগণের কল্যাণকে স্থান দেয়।
রবিবার (২৬ জুলাই) নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (এনএসইউ) সাউথ এশিয়ান ইনস্টিটিউট অব পলিসি অ্যান্ড গভর্ন্যান্সের (এসআইপিজি) উদ্যোগে আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চীন রিলেশনস: এনহ্যান্সড ট্রাস্ট অ্যান্ড নিউ ডিরেকশন’ শীর্ষক সেমিনারে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
সেমিনারে নীতিনির্ধারক, কূটনীতিক, গবেষক, চীন বিশেষজ্ঞ, গণমাধ্যম প্রতিনিধি, শিক্ষক ও শিক্ষার্থীরা অংশগ্রহণ করেন। প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সাম্প্রতিক বেইজিং সফরের পর বাংলাদেশ কীভাবে নতুন কূটনৈতিক গতি ও পারস্পরিক আস্থাকে কূটনীতি, বাণিজ্য, সংযোগ, শিক্ষা, প্রযুক্তি এবং আঞ্চলিক সহযোগিতার বাস্তব অর্জনে রূপ দিতে পারে, তা নিয়ে আলোচনা হয়।
‘সবার আগে বাংলাদেশ’ নীতির প্রসঙ্গ উল্লেখ করে ড. তিতুমীর বলেন, বাংলাদেশকে নিজের স্বনির্ভর উন্নয়নযাত্রা নিজেকেই এগিয়ে নিতে হবে এবং চীনের সঙ্গে সম্পর্ক হতে হবে পারস্পরিক সম্মান, জাতীয় স্বার্থ ও অর্থনৈতিক সার্বভৌমত্বের ভিত্তিতে।
তিনি মাল্টিমোডাল পরিবহন, চট্টগ্রামে চীনা অর্থনৈতিক অঞ্চল, মংলা বন্দর সম্প্রসারণ এবং প্রস্তাবিত কুনমিং-চট্টগ্রাম সংযোগে চীনা অংশীদারত্বকে স্বাগত জানান। একই সঙ্গে দুই দেশের মধ্যে সমাজভিত্তিক সাংস্কৃতিক বিনিময় আরও গভীর করার আহ্বান জানান।
বাংলাদেশ সরকারের পররাষ্ট্র সচিব এইচ ই আসাদ আলম সিয়াম বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের ইতিবাচক অগ্রগতি তুলে ধরেন। তিনি সাম্প্রতিক চুক্তি, প্রটোকল, গণমাধ্যম সহযোগিতা এবং কৃষি, পানি নিরাপত্তা, সরবরাহ শৃঙ্খল, প্রযুক্তি ও বহুপাক্ষিক ফোরামে সহযোগিতার বিষয় উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, এখন সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ কাজ হলো প্রতিশ্রুতি ও বিনিয়োগকে শক্তিশালী প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহিতা এবং বাংলাদেশের জাতীয় স্বার্থের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে উচ্চ-প্রভাবসম্পন্ন প্রকল্পে রূপান্তর করা।
বাংলাদেশে চীনের দূতাবাসের কালচারাল কাউন্সেলর মি. লি শাওপেং প্রধানমন্ত্রীর চীন সফরকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের নতুন অধ্যায়ের সূচনা হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, ‘অবকাঠামোর চেয়েও মানুষ গুরুত্বপূর্ণ। দীর্ঘমেয়াদি মানুষে-মানুষে সম্পর্ক ভৌত সংযোগের চেয়েও বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
রাজনৈতিক আস্থা, আন্তর্জাতিক সমন্বয় এবং অভিন্ন উন্নয়নকে বাংলাদেশ-চীন সহযোগিতার কেন্দ্রীয় ভিত্তি হিসেবে তুলে ধরে তিনি আরও বলেন, মানুষে-মানুষে সম্পর্ক, কারিগরি শিক্ষা, চীনা ভাষা শিক্ষা এবং সাংস্কৃতিক বিনিময়ের গুরুত্ব অবকাঠামোগত সংযোগের বাইরেও অত্যন্ত বেশি।
৮ দিন আগে
সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে অভিযোগ
সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি—মো. আবদুল হামিদ ও মো. সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটরের দপ্তরে অভিযোগ দাখিল করেছে বাংলাদেশ আজাদ পার্টি। অভিযোগে বলা হয়েছে, রাষ্ট্রের সর্বোচ্চ সাংবিধানিক পদে দায়িত্ব পালনকালে সংঘটিত মানবতাবিরোধী অপরাধ, গুম, খুন ও গণহত্যার ঘটনায় তারা সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে ব্যর্থ হয়েছেন এবং নীরব থেকে এসব অপরাধের প্রতি পরোক্ষ সমর্থন দিয়েছেন।
রবিবার (২৬ জুলাই) অভিযোগ দাখিলের পর বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা সাংবাদিকদের বলেন, রাষ্ট্রপতি হিসেবে দায়িত্ব পালনকালে দেশের জনগণের করের অর্থে বেতন-ভাতা গ্রহণ করলেও সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি তাদের সাংবিধানিক দায়িত্ব যথাযথভাবে পালন করেননি।
তাদের দাবি, দেশের বিভিন্ন সময়ে সংঘটিত গুম, খুন, কথিত আয়নাঘর, মানবতাবিরোধী অপরাধ এবং ৫ আগস্ট পর্যন্ত সংঘটিত বিভিন্ন ঘটনায় তারা কোনো প্রতিবাদ বা কার্যকর ভূমিকা পালন করেননি।
তারা আরও বলেন, রাষ্ট্রপতি রাষ্ট্রের সর্বাধিনায়ক হিসেবে সশস্ত্র বাহিনীর সর্বোচ্চ দায়িত্বে থাকেন এবং সংবিধানপ্রদত্ত গুরুত্বপূর্ণ ক্ষমতার অধিকারী। কিন্তু জনগণের জানমাল রক্ষা কিংবা সংঘটিত অপরাধ প্রতিরোধে এসব ক্ষমতা প্রয়োগে তারা কোনো উদ্যোগ নেননি। অভিযোগকারীদের মতে, দায়িত্ব পালন সম্ভব না হলে তাদের পদত্যাগ করা উচিত ছিল।
বাংলাদেশ আজাদ পার্টির নেতারা বলেন, ভবিষ্যতে রাষ্ট্রপ্রধানরা যাতে সাংবিধানিক দায়িত্ব পালনে আরও জবাবদিহিমূলক ও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করেন, সে লক্ষ্যেই এই অভিযোগ দায়ের করা হয়েছে।
অভিযোগের বিষয়ে দলটির এক প্রতিনিধি বলেন, সাবেক দুই রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালনকালে পিলখানা হত্যাকাণ্ড, শাপলা চত্বরের ঘটনা, বিচারবহির্ভূত হত্যাকাণ্ড, গুম, খুন এবং কথিত আয়নাঘরসহ বিভিন্ন গুরুতর মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনা ঘটেছে। এসব ঘটনার সময় তারা রাষ্ট্রের প্রধান হিসেবে দায়িত্বে ছিলেন।
তিনি বলেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ আইনে ‘সুপিরিয়র রেসপনসিবিলিটি’ বা ‘উচ্চতর দায়’ নামে একটি স্বীকৃত নীতি রয়েছে। এ নীতি অনুযায়ী, রাষ্ট্র বা বাহিনীর সর্বোচ্চ দায়িত্বশীল ব্যক্তি তার অধীনস্থদের দ্বারা সংঘটিত গুরুতর অপরাধ প্রতিরোধ বা প্রতিকার করতে ব্যর্থ হলে নির্দিষ্ট পরিস্থিতিতে তারও দায়বদ্ধতা সৃষ্টি হতে পারে।
অভিযোগকারীদের দাবি, সাবেক দুই রাষ্ট্রপতি তৎকালীন সরকারকে সমর্থন দিয়েছেন, সাংবিধানিক ক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও সংঘটিত ঘটনাগুলোর বিরুদ্ধে কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেননি এবং রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার অংশ হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন। ফলে এসব ঘটনার দায় থেকে তারা সম্পূর্ণভাবে অব্যাহতি পেতে পারেন না।
৮ দিন আগে
ট্রাইব্যুনালে সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের বিরুদ্ধে মানবতাবিরোধী অপরাধের তদন্ত চেয়ে আবেদন
জুলাই গণঅভ্যুত্থান চলাকালে সংঘটিত হত্যাযজ্ঞসহ আওয়ামী লীগের শাসনামলে গুম-নির্যাতনের ঘটনায় সদ্য সাবেক রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা নিয়ে তদন্ত চেয়ে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আবেদন করেছে রাষ্ট্রসংলাপ ফোরাম (এসডিএফ)।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে চিফ প্রসিকিউটরের কাছে এ আবেদন জমা দেন ফোরামের কেন্দ্রীয় সদস্যসচিব আল নূর মোহাম্মদ আয়াস।
আবেদনে তিনি দাবি করেছেন, সাবেক রাষ্ট্রপতি সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ দাবিতে শাহবাগে আন্দোলনে নেতৃত্ব দেওয়ার জেরে ২০২৫ সালের ১৮ জানুয়ারি রাতে মহাখালী বাসস্ট্যান্ড থেকে মুখোশধারী ব্যক্তিরা তাকে অপহরণ করে নিয়ে যান। সেখানে তাকে শারীরিক ও মানসিক নির্যাতন করা হয়। এছাড়া আন্দোলন স্থগিতের আহ্বান জানিয়ে ভিডিও বার্তা দিতে বাধ্য করা হয়। পরদিন তাকে কারওয়ান বাজার-বাংলামোটর এলাকায় ফেলে রেখে যান তারা। পরে তাকে উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ভর্তি করা হয়।
আয়াস বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারী ছাত্র-জনতার ওপর গুলিবর্ষণ, অমানবিক নির্যাতন, খুন-গুমের হুকুমদাতা হিসেবে মো. সাহাবুদ্দিনের ভূমিকা তদন্ত করে আইনের আওতায় এনে বিচারের দাবি জানাচ্ছি। তৎকালীন রাষ্ট্রপতি হিসেবে তার সাংবিধানিক দায়িত্ব ও ভূমিকার প্রেক্ষাপটে যথাযথভাবে তদন্ত করা প্রয়োজন।
এছাড়া ২০২৪ সালের নির্বাচন, মানবাধিকার লঙ্ঘন এবং গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট ঘটনায় তার কোনো আইনগত দায় বা সংশ্লিষ্টতা ছিল কি না, তা নিরপেক্ষ ও স্বাধীন তদন্তের মাধ্যমে নির্ধারণ করার জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
৮ দিন আগে
পুলিশ পদকের তালিকায় ত্রুটি, যাচাই শেষে প্রকাশ হবে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
এ বছর পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান অনুষ্ঠান না হওয়া প্রসঙ্গে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ জানিয়েছেন, তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা প্রাথমিক তালিকায় কিছু কারিগরি ত্রুটি ও অনিয়ম ধরা পড়ায় তা পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যোগ্যদের মাঝে বিশুদ্ধ তালিকা অনুযায়ী পুলিশ পদক প্রদান করা হবে।
রবিবার (২৬ জুলাই) দুপুরে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সম্মেলনকক্ষে পুলিশের সাহসিকতা ও প্রশংসনীয় কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ সম্মাননা সনদ ও আর্থিক পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
মন্ত্রী বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী জনপ্রত্যাশা ও জনআকাঙ্ক্ষা অনুযায়ী একটি জনবান্ধব ও সেবামুখী বাহিনী হিসেবে গড়ে তুলতে ‘পুরস্কার ও তিরস্কার’ নীতি অব্যাহত থাকবে।
তিনি বলেন, যারা সততা, সাহসিকতা ও দেশপ্রেমের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করবেন, তাদের কর্মের যথাযথ স্বীকৃতি হিসেবে পুরস্কৃত করা হবে। অন্যদিকে, যারা আইন-বিধি লঙ্ঘন করে জনসেবায় ব্যাঘাত ঘটাবেন বা অপকর্মে লিপ্ত হবেন, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর প্রশাসনিক ও আইনি তিরস্কারমূলক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
পুরস্কার বিতরণ অনুষ্ঠান শেষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী উপস্থিত সাংবাদিকদের মুখোমুখি হন এবং সমসাময়িক ও রাজনৈতিক নানা বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করেন।
মতিঝিল মেট্রোরেল স্টেশনের নিচে পাওয়া ইমপ্রোভাইজড এক্সপ্লোসিভ ডিভাইস (আইইডি) উদ্ধার প্রসঙ্গে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, উল্টো রথযাত্রা বা কোনো বিশেষ ধর্মীয় উৎসবকে লক্ষ্য করে এটি করা হয়েছে—এমন ধারণার কোনো ভিত্তি নেই, বরং এটি কাকতালীয়। তিনি বলেন, ডিএমপির বোম্ব ডিসপোজাল ইউনিটের তৎপরতায় তা নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে এবং ঘটনাটির বিষয়ে তদন্ত চলছে।
সাবেক রাষ্ট্রপতির মো. সাহাবুদ্দিনের পদত্যাগ ও নিরাপত্তা ব্যবস্থা প্রসঙ্গে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, সাবেক রাষ্ট্রপতির পদত্যাগপত্র সংবিধানের সংশ্লিষ্ট অনুচ্ছেদ অনুযায়ী স্পিকারের কাছে জমা দেওয়া হয়েছে এবং তা গৃহীত হয়েছে।
তিনি বলেন, গণঅভ্যুত্থানের পর যেকোনো নাগরিক বা রাজনৈতিক দলের মতামত ও প্রতিবাদ প্রকাশের অধিকার রয়েছে।
তিনি আরও বলেন, পদাধিকার বলে দায়িত্ব পালনকালীন সময়ে সাবেক রাষ্ট্রপতি যে সাংবিধানিক সুরক্ষা (ইমিউনিটি) পেয়ে থাকেন, তা বলবৎ থাকবে। তাছাড়া আইন অনুযায়ী সাবেক রাষ্ট্রপতিকে এসএসএফ, পিজিআর ও পুলিশ বাহিনীর সমন্বয়ে পূর্ণাঙ্গ নিরাপত্তা প্রদান করা হচ্ছে।
এ বছর পুলিশ সপ্তাহে পদক প্রদান অনুষ্ঠান না হওয়া সংক্রান্ত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী জানান, তাড়াহুড়ো করে তৈরি করা প্রাথমিক তালিকায় কিছু কারিগরি ত্রুটি ও অনিয়ম ধরা পড়ায় তা পুনরায় যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে। পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে দ্রুততম সময়ের মধ্যে যোগ্যদের মাঝে বিশুদ্ধ তালিকা অনুযায়ী পুলিশ পদক প্রদান করা হবে।
অনুষ্ঠানে দুটি ভিন্ন সাহসিকতা, প্রশংসনীয় ও কৃতিত্বপূর্ণ কাজের স্বীকৃতিস্বরূপ নয় জন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ ও ঢাকা রেলওয়ে থানার যৌথ প্রচেষ্টায় ৩০ মিনিটের মধ্যে প্রবাসীর হারিয়ে যাওয়া পাসপোর্টসহ প্রয়োজনীয় কাগজপত্র উদ্ধারের ঘটনায় যে সাতজন পুলিশ সদস্যকে পুরস্কৃত করা হয়, তারা হলেন— ঢাকা রেলওয়ে থানার পুলিশ পরিদর্শক (নিরস্ত্র) জয়নাল আবেদীন, এএসআই (নিরস্ত্র) মোহাম্মদ হুমায়ুন কবির ও মো. রাজিকুল ইসলাম, কনস্টেবল মো. শাহীনুর ইসলাম ও আজমীর হোসেন এবং পুলিশ টেলিকম সংস্থার জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯-এর এসআই (নিরস্ত্র) মো. মিজানুর রহমান ও কনস্টেবল মো. বুলবুল আহমেদ।
ট্রাফিক সার্জেন্ট কর্তৃক ছিনতাইকারী গ্রেপ্তারের ঘটনায় পুরস্কৃত দুজন পুলিশ সদস্য হলেন—ডিএমপির ট্রাফিক মিরপুর বিভাগের পল্লবী জোনের সার্জেন্ট এম এস মাহমুদ আলি ও সার্জেন্ট মো. তুহিনুর রহমান তুহিন।
অনুষ্ঠান উপস্থাপনা করেন পুলিশ সদর দপ্তরের ডিআইজি (কনফিডেনসিয়াল) মো. কামরুল আহসান।
পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য রাখেন স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভারপ্রাপ্ত সচিব ও অতিরিক্ত সচিব (রাজনৈতিক ও বহিরাগমন) ড. জিয়াউদ্দিন আহমেদ। এ সময় অন্যান্যের মধ্যে আইজিপি মো. আলী হোসেন ফকির, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনার মোসলেহ্ উদ্দিন আহমদসহ স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে
সাতক্ষীরায় আকস্মিক হাসপাতাল পরিদর্শনে স্বাস্থ্যমন্ত্রী, দুই চিকিৎসকসহ তিনজন বরখাস্ত
সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালসহ কয়েকটি স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স আকস্মিক পরিদর্শন করেছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন। এ সময় বিভিন্ন অনিয়মের অভিযোগে দুজন চিকিৎসকসহ তিনজনকে শাস্তি দিয়েছেন তিনি।
রবিবার (২৬ জুলাই) সকালে তালা উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে যান স্বাস্থ্যমন্ত্রী। এ সময় ছুটি না নিয়ে দীর্ঘদিন কর্মস্থলে অনুপস্থিত থাকায় ডা. তন্নি নামের এক চিকিৎসককে এবং চুরির ঘটনায় এক নাইট গার্ডকে বরখাস্ত করেন তিনি।
পরে তিনি সাতক্ষীরা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল পরিদর্শন করেন। সেখানে হাসপাতালের রান্নাঘর, ওয়াশরুম ও বিভিন্ন ওয়ার্ড ঘুরে দেখেন এবং রোগীদের সঙ্গে কথা বলেন মন্ত্রী। এ সময় এক মাসের বেশি সময় ছুটি ছাড়া অনুপস্থিত থাকায় ডা. সোহানা সেলিম নামের আরেক চিকিৎসককে বরখাস্ত করা হয়। এরপর তিনি সাতক্ষীরা সদর হাসপাতাল পরিদর্শন করেন।
পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান বাংলাদেশে রোগীর তুলনায় চিকিৎসক কম। গত ১৭ বছরে স্বৈরশাসন চিকিৎসক নিয়োগ দেয়নি; কোনো দিকে খেয়াল করেনি; যে কারণে এ সমস্যা হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে ৫০ শয্যার হাসপাতালগুলোকে ১০০ শয্যায় উন্নীত করতে যাচ্ছি। প্রতিটি জেলা হাসপাতাল ও মেডিকেল হাসপাতালে ৫০টি করে ডায়ালাইসিস মেশিন স্থাপনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।’
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, ‘প্রতিটি উপজেলায় ১০১ শয্যার ফিজিওথেরাপি ও আধুনিক প্যাথলজি করা হচ্ছে। পরবর্তীতে ওই হাসপাতালগুলোতেও ১০ শয্যার ডায়ালাইসিস সুবিধা দেওয়া হবে। ইউনিয়ন হেলথ কমপ্লেক্স ও ইউনিয়ন ফ্যামিলি প্ল্যানিং সেন্টারকে পিপিপির আওতায় আনা হবে। খুব দ্রুতই ই-হেলথ কার্ড দেওয়া শুরু করব। বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী দেখছেন।’
৮ দিন আগে
বাংলাদেশকে শ্রমনির্ভর থেকে উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায় সরকার: প্রযুক্তিমন্ত্রী
বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তিমন্ত্রী ফকির মাহবুব আনাম বলেছেন, বাংলাদেশকে শ্রমনির্ভর অর্থনীতি থেকে জ্ঞান ও উদ্ভাবননির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করতে চায় সরকার। সে লক্ষ্যেই কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা, উন্নত চিপ ডিজাইন, বায়ো-ইলেকট্রনিক্সসহ উচ্চপ্রযুক্তি খাতের উন্নয়নে কাজ চলছে।
তিনি বলেছেন, বাংলাদেশ শুধু প্রযুক্তি ব্যবহারকারী নয়, প্রযুক্তি উদ্ভাবন ও নির্মাতা দেশ হিসেবেও নিজেদের প্রতিষ্ঠিত করবে।
রবিবার (২৬ জুলাই) ঢাকায় নভোথিয়েটারে দুই দিনব্যাপী ন্যাশনাল সেমিকন্ডাক্টর সিম্পোজিয়াম অ্যান্ড বিইআর সামিট-২০২৬-এর দ্বিতীয় দিনে ‘বাংলাদেশ ডিপ-টেক ফিউচার’ শীর্ষক আলোচনায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
আলোচনায় ভবিষ্যতে প্রযুক্তিপণ্য ও প্রযুক্তিসেবার উদ্ভাবন এবং রপ্তানিতে ‘মেড ইন বাংলাদেশ’ ব্র্যান্ডকে গুরুত্ব দেওয়ার আহ্বান জানান বিজ্ঞান ও প্রযুক্তিমন্ত্রী।
এ সময় সেমিকন্ডাক্টর ও ডিপ-টেক খাতের বিকাশে সব ধরনের সহযোগিতা অব্যাহত রাখার আশ্বাস দিয়ে তিনি বলেন, দেশের তরুণরাই এই খাতের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। উদ্ভাবনী, গবেষণা ও নীতিগত সহায়তায় তরুণদের পাশে থাকবে সরকার।
এরপর বৈশ্বিক একাডেমিক প্লেনারি অধিবেশনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন পারড্যু বিশ্ববিদ্যালয়ের সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট অধ্যাপক দিমিত্রি পেরুলিস।
অনুষ্ঠানে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আনোয়ার হোসেন, প্রফেসর মোহাম্মদ মোস্তফা হোসাইন, পারড্যু বিশ্ববিদ্যালয় এবং চিফ আর্কিটেক্ট, সিলিকন রিভার বাংলাদেশ, নভোথিয়েটারের মহাপরিচালক মোহাম্মদ মিজানুর রহমান ভূঁইয়া প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৮ দিন আগে