বাংলাদেশ
আ.লীগকে পরিপূর্ণ নিষিদ্ধের দাবিতে জুলাই আহতের অবস্থান কর্মসূচি
আওয়ামী লীগের ওপর পূর্ণাঙ্গ নিষেধাজ্ঞা ও ন্যায়বিচারের দাবিতে শাহবাগ মোড়ে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন জুলাই অভ্যুত্থানের আহতরা।
রবিবার (১১ মে) শাহবাগ মোড়ে সকাল থেকে এই কর্মসূচি শুরু করেন তারা। এতে ওই এলাকার স্বাভাবিক যান চলাচলে বিঘ্ন ঘটে, বিশেষ করে হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে যাওয়া রোগী ও স্বজনরা চরম ভোগান্তিতে পড়েন।
গতকাল (শনিবার) আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করে সরকার।
আরও পড়ুন: আ.লীগ নিষিদ্ধ করায় নেতিবাচক আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া আশা করে না সরকার: প্রেস সচিব
এরপর আজ (রবিবার) এই প্রতিবাদ কর্মসূচি পালন করা হয়। অবস্থান কর্মসূচিটি পরিচালনা করছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সদস্যরা।
জুলাই অভ্যুত্থানের সময় সংঘটিত হত্যাকাণ্ডে আওয়ামী লীগের সংশ্লিষ্টতা রয়েছে বলে অভিযোগ তুলে দলটি নিষিদ্ধ করার ও নেতাকর্মীদের বিচারের দাবিতে আন্দোলনে নামেন তারা।
৩৫৯ দিন আগে
আ.লীগ নিষিদ্ধ করায় নেতিবাচক আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া আশা করে না সরকার: প্রেস সচিব
আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে সরকার আন্তর্জাতিকভাবে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আশা করে না বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
রবিবার (১১ মে) আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিক প্রতিক্রিয়া কেমন হবে জানতে চাইলে বার্তা সংস্থা ইউএনবিকে প্রেস সচিব বলেন, ‘গণতান্ত্রিক বিশ্বের কোথাও এমন একটি খুনি, গণতন্ত্রবিরোধী ও দুর্নীতিগ্রস্ত দলের পক্ষে কেউ কথা বলবে না। তাই, আমরা আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্তে আন্তর্জাতিকভাবে কোনো নেতিবাচক প্রতিক্রিয়া আশা করি না।’
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে যমুনার কাছে জড়ো হয়েছেন বিক্ষোভকারীরা
তিনি আরও বলেন, ‘আওয়ামী লীগের কার্যক্রম নিষিদ্ধ করা নিয়ে বিশ্ব শোক প্রকাশ করবে বলে আমি মনে করি না।’
এর আগে, শনিবার রাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। তিনি জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে প্রকাশ করা হবে।
আইন উপদেষ্টার কথার পুনরাবৃত্তি করে প্রেস সচিব বলেন, ‘পশ্চিমা গণতান্ত্রিক দেশগুলোতেও মানবতাবিরোধী অপরাধ বা জাতীয় স্বার্থবিরোধী কার্যকলাপের জন্য কেবল কোনো দলের কার্যক্রম নয়, পুরো রাজনৈতিক দলকেই নিষিদ্ধ করতে দেখেছি।’
উদাহরণস্বরূপ দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের পর জার্মানি ও ইতালিতে নাৎসি ও ফ্যাসিস্ট দলগুলো নিষিদ্ধ করার কথা উল্লেখ করেন শফিকুল আলম। এ ছাড়াও স্পেন ও বেলজিয়ামে কিছু দল বিচ্ছিন্নতাবাদী কার্যক্রমের জন্য নিষিদ্ধ করা হয়েছে বলেও জানান তিনি।
প্রেস সচিব আরও বলেন, ‘জাতিসংঘ মানবাধিকার হাইকমিশনারের (ইউএনএইচসিএইচআর) প্রতিবেদনে আওয়ামী লীগ, দলটির নেতাকর্মীসহ সংশ্লিষ্ট সংগঠনগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ছিল বলে সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত হয়েছে।’
তাছাড়া এই দলটি বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও নির্বাচন প্রক্রিয়াকে ব্যাপকভাবে ধ্বংস করেছে, নেতাকর্মীরা বিপুল অর্থ বিদেশে পাচার করেছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আরও পড়ুন: আ.লীগ নিষিদ্ধ: সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি নাহিদের
এদিকে, শনিবার রাতে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনুসের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত দীর্ঘ বৈঠকে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইনের সংশোধনীও অনুমোদিত হয়েছে বলেও জানান আইন উপদেষ্টা। সংশোধনী অনুযায়ী, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল কোনো রাজনৈতিক দল, তার অঙ্গসংগঠন বা সমর্থক গোষ্ঠীকে শাস্তি দিতে পারবে।
এর আগে শুক্রবার সরকার জানিয়েছিল, মানবতাবিরোধী অপরাধের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দল ও সংগঠনগুলোর বিচারের জন্য আন্তর্জাতিক অপরাধ (ট্রাইব্যুনাল) আইনে সংশোধনী আনার পরিকল্পনা রয়েছে।
৩৫৯ দিন আগে
আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ: জাবিতে আনন্দ মিছিল ও মিষ্টি বিতরণ
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইবুনালে বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগ ও দলটির নেতাদের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ হওয়ায় মিষ্টি বিতরণ ও আনন্দ মিছিল করেছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের (জাবি) শিক্ষার্থীরা।
শনিবার (১০ মে) রাত ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলা এলাকায় শিক্ষার্থীরা একত্রিত হয়ে মিষ্টি বিতরণ করেন। পরে রাত পৌনে ১২টায় সেখান থেকে একটি মিছিল বের করেন তারা।
মিছিল শেষে শিক্ষার্থীরা বলেন, 'দীর্ঘদিন ধরে দেশে রাজনৈতিক দুর্বৃত্তায়ন, দুর্নীতি, শিক্ষাক্ষেত্রে দলীয়করণ এবং মতপ্রকাশের স্বাধীনতা হরণের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্রকে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে আওয়ামী লীগ। দলটির অধীনে ক্যাম্পাসে সহিংসতা, ছাত্র সংগঠনগুলোর মধ্যে দলীয় দখলদারত্ব এবং মুক্তচিন্তার জায়গাগুলোর কমে গিয়েছিল। এই নিষেধাজ্ঞা শিক্ষাঙ্গনকে আবারও শান্তিপূর্ণ, গঠনমূলক এবং পাঠভিত্তিক পরিবেশে ফিরিয়ে আনতে সাহায্য করবে।’
মিছিল শেষে বিশ্ববিদ্যালয়ের সরকার ও রাজনীতি বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী জিয়াউদ্দিন আয়ান বলেন, ‘আমরা দেখেছি এই স্বৈরাচারী আওয়ামী সরকার শাহবাগে ফ্যাসিবাদ কায়েম করেছিল। তারা শাপলায় গনহত্যা চালিয়েছিল। তারা এদেশে গুম খুনের রাজত্ব কায়েম করেছিল। আজকে তারা নিষিদ্ধ হয়েছে, এ জন্য আমরা ইন্টেরিমকে (অন্তর্বর্তী সরকার) ধন্যবাদ জানাই।’
আরও পড়ুন: আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের দাবিতে সিলেট-শরীয়তপুরে বিক্ষোভ
তিনি আরও বলেন, ৫ই আগস্ট পরবর্তী সময়ে আমাদের প্রধান দাবি ছিল আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করা। আজকে সেটা হয়েছে শুধু নির্বাহী আদেশে। বিচারিক প্রক্রিয়ায় এই আদেশ দ্রুত বাস্তবায়ন করতে হবে।'
আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিভাগের ৪৯তম ব্যাচের শিক্ষার্থী তৌহিদ মোহাম্মদ সিয়াম বলেন, 'আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধ হওয়ায় বাংলাদেশ একটি নতুন যুগে প্রবেশ করল। আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধে আমরা সাময়িক খুশি, তবে বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে আওয়ামী লীগকে যখন নিষিদ্ধ করা হবে তখন সেটা আমাদের চূড়ান্ত বিজয় হবে।’
প্রত্নতত্ত্ব বিভাগের ৫০তম ব্যাচের শিক্ষার্থী নাজমুল ইসলাম লিমন বলেন, 'আওয়ামী লীগ নিষিদ্ধের নির্বাহী আদেশকে অবিলম্বে বিচারিক প্রক্রিয়ায় সম্পন্ন করতে হবে এবং সেইসঙ্গে অতিদ্রুত জুলাই ঘোষণাপত্র জারি করতে হবে।’
এর আগে, রবিবার (১১ মে) রাতে বিশ্ববিদ্যালয়ের বটতলায় একটি গরু ও একটি খাসি জবাই করে আনন্দভোজ উৎসবের ঘোষণাও দিয়েছেন শিক্ষার্থীরা।
৩৫৯ দিন আগে
আ.লীগ নিষিদ্ধ: সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি নাহিদের
আওয়ামী লীগের সব কার্যক্রম নিষিদ্ধের সিদ্ধান্ত নেওয়ায় অন্তর্বর্তী সরকারকে সাধুবাদ জানিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম। পাশাপাশি সন্ত্রাসবিরোধী আইনের আওতায় এই নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নেরেও আহ্বান জানান তিনি।
শনিবার (১০ মে) রাতে সরকার এই সিদ্ধান্ত জানানোর পর পরই নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে এক পোস্টে বিপ্লবী ছাত্র ও জনগণকে অভিনন্দন জানান নাহিদ। একইসঙ্গে সরকারকে সাধুবাদ জানিয়ে সিদ্ধান্ত দ্রুত বাস্তবায়নের দাবি করেন এনসিপির আহ্বায়ক ।
নাহিদ আরও বলেন, ‘সারা দেশের ফ্যাসিস্ট গণহত্যাকারীদের চিহ্নিত করে দ্রুত বিচারের আওতায় আনতে হবে।’
এ ছাড়াও নির্বাচন কমিশনকে নিষিদ্ধ ঘোষিত আওয়ামী লীগের নিবন্ধন দ্রুত সময়ের মধ্যে বাতিল করতে হবে বলেও দাবি জানান তিনি।
আরও পড়ুন: বিচার শেষ না হওয়া পর্যন্ত আওয়ামী লীগের যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ এর আগে, শনিবার রাতে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে আওয়ামী লীগ ও এর নেতাদের বিচারকাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত সন্ত্রাসবিরোধী আইনের অধীনে সাইবার স্পেসসহ দলটির যাবতীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ করার সিদ্ধান্ত নেয় সরকার।
এ বিষয়ে আইন উপদেষ্টা ড. আসিফ নজরুল বলেন, দেশের নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষা, জুলাই আন্দোলনের নেতা-কর্মীদের নিরাপত্তা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বাদী ও সাক্ষীদের সুরক্ষার স্বার্থে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও জানান, এ বিষয়ে প্রয়োজনীয় পরিপত্র পরবর্তী কর্মদিবসে প্রকাশ করা হবে।
সরকারের এই সিদ্ধান্তের পর হোটেল ইন্টারকন্টিনেন্টাল এবং প্রধান উপদেষ্টার বাসভবন যমুনার সামনে শত শত বিক্ষোভকারী আনন্দ মিছিল করেন।
৩৫৯ দিন আগে
ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করা হবে: আইন উপদেষ্টা
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়ক ড. আসিফ নজরুল বলেছেন, ‘দেশে একটি ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন গঠন করা হবে। এই লক্ষ্যে অভিজ্ঞতা বিনিময়ের জন্য প্রধান বিচারপতি ও আইন উপদেষ্টাসহ একটি প্রতিনিধি দল দক্ষিণ আফ্রিকাতে যাচ্ছেন। ফিরে এসে এই কমিশন গঠন করার সময় বিশিষ্টজনের সঙ্গে আলোচনা করা হবে।’
শনিবার (১০ মে) বিকালে রাজধানীর বিচার প্রশাসন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে ‘গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশ, ২০২৫’ (দ্বিতীয় খসড়া) বিষয়ক এক মতবিনিময় সভায় সভাপতির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে প্রধান আলোচক হিসেবে ভার্চুয়ালি যুক্ত হন অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট ও রাজনৈতিক বিশ্লেষক পিনাকী ভট্টাচার্য। তিনি এই খসড়া আইনের বেশকিছু ধারা নিয়ে নিজস্ব মতামত তুলে ধরেন।
আইন উপদেষ্টা বলেন, ‘অনন্তকাল হানাহানি করে এ জাতির মুক্তি হবে না, তাই জাতীয় ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। যারা গণহত্যার মতো, মানবতাবিরোধী অপরাধের মতো ঘৃণ্য অপরাধ করেছে, তারা খুব বেশি সংখ্যক না।’
আরও পড়ুন: উচ্চ আদালতে আমাদের হস্তক্ষেপের সুযোগ নেই: আইন উপদেষ্টা
‘তাদের উপযুক্ত ও যথেষ্ট পরিমাণ শাস্তির ব্যবস্থা অবশ্যই করতে হবে। তারা যে এই জাতির মূলধারা থেকে বিচ্ছিন্ন, সেটাকে প্রতিষ্ঠা করার জন্য হলেও ট্রুথ অ্যান্ড রিকনসিলিয়েশন কমিশন করতে হবে,’ যোগ করেন তিনি।
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘যারা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধ করেছে, তাদের উপযুক্ত বিচার করে, তাদেরকে আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সর্বোচ্চ শাস্তি দেওয়ার জন্য যা যা করা যায়, সেটা করতে সরকার বদ্ধপরিকর। একই সাথে সরকার গুমসহ বিভিন্ন অপরাধের বিচারের জন্য আইন করে যাবে, যাতে এই অপরাধগুলো ভবিষ্যতে আর না হয়।’
সভায় খসড়া অধ্যাদেশটির বিভিন্ন ধারা ও উপধারা নিয়ে পরিবেশ, বন, জলবায়ু পরিবর্তন ও পানি সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, শিক্ষা উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. চৌধুরী রফিকুল আবরার, বাংলাদেশের অ্যাটর্নি জেনারেল মো. আসাদুজ্জামান, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের চিফ প্রসিকিউটর তাজুল ইসলাম, রাজনৈতিক বিশ্লেষক ও কলামিষ্ট ফরহাদ মজহার, সুপ্রিমকোর্টের আইনজীবী ব্যারিস্টার রুহুল কুদ্দুস কাজল, মানবাধিকার কর্মী রেজাউর রহমান লেলিন ও সায়েরা রহমান খান, মায়ের ডাক সংগঠনের সমন্বক সানজিদা ইসলামসহ প্রমুখ গুরুত্বপূর্ণ মতামত তুলে ধরেন।
৩৬০ দিন আগে
সব মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে: প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা ফরিদা আখতার বলেছেন, ‘গরিবের জন্য অনিরাপদ খাদ্য আর মধ্যবিত্তদের জন্য নিরাপদ খাদ্য- এধরণের বৈষম্য দূর করতে হবে। এটা কিছুতেই হতে দেয়া যাবে না। সকল মানুষের জন্য নিরাপদ খাদ্য নিশ্চিত করতে হবে।’
শনিবার (১০ মে) বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি) অডিটোরিয়ামে খাদ্য সুরক্ষা ও স্বাস্থ্য বিষয়ক ৭ম আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় এসব কথা বলেন তিনি।
মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ উপদেষ্টা বলেন, ‘খাদ্য আলোচনা প্রায়শই শুধু কৃষিকে কেন্দ্র করে করা হয়, কিন্তু খাদ্য উৎপাদন শুধু কৃষি থেকে আসে না। মৎস্য এবং প্রাণিসম্পদও খাদ্য উৎপাদনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে।’
তিনি আরও বলেন, ‘বিশ্বের অনেক দেশে খাদ্য নিরাপত্তা এবং খাদ্য উৎপাদনের ক্ষেত্রে কৃষি, মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতকে একসাথে বিবেচনা করা হয়। কিন্তু বাংলাদেশে কৃষির সাথে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ খাতের গুরুত্ব বিশেষভাবে বিবেচনা করা হয় না।’
‘খাদ্য উৎপাদন এবং জনস্বাস্থ্যের মধ্যে একটি গভীর সম্পর্ক রয়েছে। খাদ্য নিরাপদ কিনা তা নিশ্চিত করতে হবে। কারণ খাদ্য প্রক্রিয়াকরণের সঠিক পদ্ধতি অনুসরণ করা জনস্বাস্থ্যের জন্য গুরুত্বপূর্ণ কাজ হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘সচেতন মানুষ বেশি টাকা দিয়ে হলেও রাসায়নিক পদার্থমুক্ত-এন্টিবায়োটিকমুক্ত মাছ-মাংস পেতে চায়। কিন্তু সাধারণ মানুষ বা খেটে খাওয়া মানুষ খাদ্য নিরাপদ কিনা সে সম্পর্কে তারা সচেতন নয়। তাই তাদের সচেতনতা বৃদ্ধিতে নিরাপদ খাদ্য কর্তৃপক্ষকে কাজ করতে হবে।’
আরও পড়ুন: জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলার আহ্বান মির্জা ফখরুলের
উপদেষ্টা বলেন, ‘কৃষিতে কীটনাশক এমনকি আগাছানাশক ব্যবহারের ফলে শুধু কৃষিতে ক্ষতি হচ্ছে না, গবাদিপশু পালনে অসুবিধার সৃষ্টি হচ্ছে। জমিতে ব্যবহৃত কীটনাশক পুকুর, নদী ও নালায় মিশে মাছের ব্যাপক ক্ষতি করছে। এমনকি কীটনাশক ব্যবহৃত হচ্ছে মাছ ধরার জন্য, যা নিরাপদ খাদ্যের জন্য বিশাল হুমকি হয়ে দাঁড়িয়েছে।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘আধুনিক কৃষির মাধ্যমে সবজি সীমাবদ্ধ করা হয়েছে। কিন্তু একসময় অনেক ঋতুভিত্তিক বা সিজনাল সবজি ছিলো; তা এখন পাওয়া যাচ্ছে না। এই সবজি উৎপাদন করতে হাইব্রিডাইজেশন করা হচ্ছে, আর এর ফলে কীটনাশক ব্যবহার করতে বাধ্য। এভাবে খাদ্যের যে আধুনিক ধারণা তৈরি হচ্ছে, যা সমস্যায় জর্জরিত। সারা বছর একই প্রকার সবজি বা ফসলের ওপর বেশি নির্ভরশীল হয়ে পড়লে তা মনোকালচারে পরিণত হবে। খাদ্যকে যেভাবে মেনুপুলেট করা হচ্ছে তার পরিবর্তন হওয়া দরকার।’
বাংলাদেশ সোসাইটি ফর সেফ ফুডের প্রেসিডেন্ট প্রফেসর ড. খালেদ হোসেনের সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তৃতা করেন সিলেট কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্রফেসর ড. আলিমুল ইসলাম, প্রাণিসম্পদ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. আবু সুফিয়ান, বাংলাদেশ খাদ্য নিরাপদ কতৃপক্ষের সদস্য প্রফেসর ড. মোহাম্মদ শোয়েব।
৩৬০ দিন আগে
চট্টগ্রামের বিএনপির তারুণ্যের সমাবেশে ক্রিকেটার তামিম ইকবাল
চট্টগ্রামের পলোগ্রাউন্ড মাঠে বিএনপির তারুণ্যের সমাবেশে উপস্থিত ছিলেন জাতীয় ক্রিকেট দলের সাবেক অধিনায়ক তামিম ইকবাল। শনিবার (১০ মে) বিকাল সোয়া ৪টার দিকে মঞ্চে উঠেন তিনি।
এ সময়ে চট্টগ্রাম অঞ্চলের ক্রিকেট, ফুটবলসহ ক্রীড়াঙ্গণের উন্নতি নিয়ে কথা বলেন তিনি। তামিম ইকবাল বলেন, ‘আজকে এই জায়গায় দাঁড়িয়ে চিটাগাংয়ের স্পোর্টস রিলেটেড কিছু কথা বলতে চাই। একটা সময় এমন ছিল, যখন ক্রিকেট বলেন, ফুটবল বলেন, অথবা যেকোনো স্পোর্টস বলেন, চিটাগাং থেকে ৬-৭ জন ন্যাশনাল টিমকে প্রেজেন্ট করতেন। লাস্ট ১০-১৫ বছর ধরে দেখেছি, চিটাগাং থেকে একজন বা দুই জন ক্রিকেট বা ফুটবল বা অন্য যেকোনো ন্যাশনাল টিমে প্রেজেন্ট করছেন, এটার কারণটা খুঁজে বের করা আমাদের জন্য গুরুত্বপূর্ণ।’
জাতীয় দলের এই ক্রিকেটার আরও বলেন, ‘কেন চিটাগাংয়ের মত এত বড় একটা ডিভিশনে আমরা স্পোর্টসম্যান তৈরি করতে পারছি না। আমার কাছে মনে হয়, আপনারা এর উত্তর যদি জানতে চান তাহলে আপনাদের নিজেদের থেকে দিতে হবে। আপনারা যদি এখন মনে করেন যে অমুকের কারণে খেলতে পারি নাই, তমুকের কারণে খেলতে পারি নাই, তাহলে এটা স্পোর্টসম্যানের কথা হবে না। কথা হবে হয়তবা কোনো ভুল ছিল, যার কারণে আমি জাতীয় দলে যেতে পারিনি।’
আরও পড়ুন: ক্রিকেটারদের বেইজ্জত করা হচ্ছে, দাবি তামিমের
তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে ওই জিনিসটা আগে মেনে নিতে হবে যে আমাদের কি ভুল ছিল, আমরা কোন জায়গায় ভালো কাজ করতে পারি, যেভাবে আমরা ন্যাশনাল টিমে রিপ্রেজেন্ট করতে পারি।’
‘যেদিন আমরা এই ত্রুটিগুলো বের করতে পারব, ইনশাল্লাহ দেখবেন আমরা আগের জায়গাটা ফিরে পাব,’ বলেন তিনি।
তামিম বলেন, ‘আমার সঙ্গে হেলাল ভাইয়ের কথা হয়, ইসরাফিল ভাইয়ের কথা হয়, হুম্মাম ভাইয়ের কথা হয়েছিল, যে কীভাবে চিটাগংয়ের স্পোর্টসকে আগের জায়গায় নিয়ে আসা যায়। আমি নিশ্চিত, তারা যখন সুযোগ পাবেন, তখন তাদের বেস্ট রাইট হবে চিটাগাংয়ের ইন্টারেস্টটা সবচেয়ে আগে রাখবেন। যে ধরনের স্পোর্টস হোক না কেন, ফুটবল, ক্রিকেট, ব্যাডমিন্টন সব প্রমোট করবেন। এভাবে চিটাগং থেকে আমরা আগের দিনে ফিরে যাই।’
৩৬০ দিন আগে
শাবিপ্রবির প্রথম বর্ষের ক্লাস শুরু জুলাইয়ে
শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ে (শাবিপ্রবি) ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের প্রথম বর্ষের নবীন শিক্ষার্থীদের ক্লাস আগামী জুলাই মাসের প্রথম সপ্তাহে শুরু হবে। শনিবার ( ১০ মে) বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. রফিকুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: ভারতে মুসলিমদের ওপর সহিংসতার প্রতিবাদে শাবিপ্রবিতে বিক্ষোভ
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, গত ৩০ এপ্রিল ২০২৪-২৫ শিক্ষাবর্ষের ভর্তি কার্যক্রম সম্পন্ন হয়েছে। ভর্তি পরীক্ষায় উত্তীর্ণদের মধ্য থেকে দ্বিতীয় অপেক্ষমাণ তালিকা থেকেই সব আসন পূরণ হয়েছে।
ভর্তি কমিটির সদস্য সচিব ড. রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘আমরা পহেলা জুলাই থেকে নতুন শিক্ষার্থীদের পাঠদান শুরু করার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছি। ইতোমধ্যে আমাদের সব আসনে ভর্তি সম্পন্ন হয়েছে। পাশাপাশি কিছু আসনে ভর্তি বাতিল হচ্ছে। এজন্য ১৫ দিনের মত সময় নিয়ে খালি আসনের বিপরীতে আরেকবার ভর্তির জন্য ডাকা হবে।
৩৬০ দিন আগে
পিকনিকের লঞ্চে দুই নারীকে প্রহার, সেই যুবক আটক
মুন্সীগঞ্জ লঞ্চঘাটে পিকনিক পার্টির দুই নারীকে প্রকাশ্যে প্রহারের ঘটনায় ভাইরাল হওয়া যুবক নেহাল আহমেদ জিহাদকে আটক করা হয়েছে। নেহাল যোগনি ঘাটের মনির হোসেনের পুত্র।
শনিবার (১০ মে) দুপুরে সদর থানা পুলিশ তাকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসে।
এ সময় পুলিশ সদস্যরা জানান, নেহাল আহমেদ জিহাদকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় আনা হয়েছে। এখনও কেউ লিখিত অভিযোগ দেয়নি। ভুক্তভোগীরা অভিযোগ করবে বলে জানিয়েছে।
তারা জানান, ‘খবরটি পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গে ঘটনাস্থলে যাই। পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে লঞ্চটিকে পাহারা দিয়ে এগিয়ে দিয়ে এসেছি। লঞ্চে থাকা স্টাফ ও পিকনিকের যাত্রীরা বলেছেন—হামলাকারীরা তাদের টাকাপয়সা ও মোবাইল ছিনতাই করে নিয়ে যায়। তারা আইনগত ব্যবস্থা নেবে।’
মুন্সীগঞ্জ সদর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) এম সাইফুল আলম বরেন, ‘অভিযোগ পেলে আমরা আইনগত ব্যবস্থা নেব। নেহালকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য থানায় নিয়ে আসা হয়েছে।’
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ৪ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ
শুক্রবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টার দিকে এমভি ক্যাপ্টেন নামে একটি লঞ্চে করে দক্ষিণ কেরানীগঞ্জের পিকনিকের ৩০০-৪০০ লোকসহ মুন্সীগঞ্জ লঞ্চ ঘাটে ভিড়ে। লঞ্চ থেকে নেমে কয়েকজন ঘাট এলাকায় নাস্তা কিনতে যায়, সেখানে বাজে মন্তব্য করা নিয়ে ঝগড়া বাধে।
পরে ৫০-৬০ জন লঞ্চে উঠে পিকনিকের লোকজনকে মারধর ও ভাঙচুর চালায়। এক পর্যায়ে দুই নারীকে লঞ্চের সামনে এনে প্রকাশ্যে বেধরক পেটায়। পরে পুলিশ ও সেনাবাহিনী গিয়ে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করে।
৩৬০ দিন আগে
দেশে ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও ৪৭, মৃত্যু নেই
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে শুক্রবার (৯ মে) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় দেশে কোনো রোগীর মৃত্যু হয়নি। এ সময়ে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৪৭ জন।
শনিবার (১০ মে) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে দেশের বিভিন্ন সরকারি-বেসরকারি ভর্তি হয়েছে ৪৭ জন। নতুন আক্রান্তের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে ১৮ জন। আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে আরও ২৯ জন।
আরও পড়ুন: ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে মৃত্যু ১, হাসপাতালে ৪৫
বিজ্ঞপ্তি থেকে পাওয়া তথ্য অনুসারে, চলতি বছর আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ২১ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৪০ দশমিক ৬ শতাংশ নারী।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ১০ মে পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২ হাজার ৯৭২ জন। এর মধ্যে ৬০ দশমিক ৪ শতাংশ পুরুষ এবং ৩৯ দশমিক ৬ শতাংশ নারী।
৩৬০ দিন আগে