বাংলাদেশ
আপিল বিভাগের রায়ে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস পেলেন জামায়াত নেতা আজহার
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধের সময় মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামকে মৃত্যুদণ্ড থেকে খালাস দিয়েছেন আপিল বিভাগ। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের মৃত্যুদণ্ডের রায় বাতিল করে সর্ব্বোচ আদালত এ রায় দিয়েছেন।
মঙ্গলবার (২৭ মে) প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের সাত সদস্যের বেঞ্চ এ রায় ঘোষণা করে।
এ সময় আদালতে জামায়াত নেতা এটিএম আজহারুল ইসলামের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির, ব্যারিস্টার এহসান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার ইমরান আবদুল্লাহ সিদ্দিক, ব্যারিস্টার নাজিব মোমেন।
এর আগে, গত ২২ এপ্রিল আজহারুল ইসলামের করা রিভিউ আবেদন শুনানি ৬ মে পর্যন্ত স্থগিত করেন আপিল বিভাগ।
মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা-হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতন ও গুরুতর জখম এবং বাড়িঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো ৯টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল এটিএম আজহারের বিরুদ্ধে। অভিযোগপত্রের তথ্য অনুসারে, রংপুর অঞ্চলে মুক্তিযুদ্ধের সময় ১ হাজার ২৫৬ জনকে হত্যা, ১৭ জনকে অপহরণ এবং ১৩ নারীকে ধর্ষণের দায়ে তাকে ‘দোষী সাব্যস্ত’ করা হয়।
আরও পড়ুন: জামায়াত নেতা আজহারের আপিলের রায় মঙ্গলবার, খালাসের প্রত্যাশা আইনজীবীর
উল্লিখিত ৯টি অভিযোগের মধ্যে পাঁচটিতে দোষী সাব্যস্ত করে ২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর তাকে মৃত্যু দণ্ডাদেশ দেয় আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল। ওই রায়ের বিরুদ্ধে ২০১৫ সালের ২৮ জানুয়ারি আপিল করেন আজহারুল ইসলাম। শুনানি শেষে ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর আপিল বিভাগ তার মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখে।
২০২০ সালের ১৫ মার্চ আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ রায় প্রকাশিত হয়। এরপর তা পুনর্বিবেচনা চেয়ে ওই বছরের ১৯ জুলাই আপিল বিভাগে আবেদন করেন আজহারুল ইসলাম। এরপর গত ২৬ ফেব্রুয়ারি আপিল বিভাগ রিভিউ শুনে ফের আপিল শুনানির সিদ্ধান্ত দেয়। এটিই প্রথম মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলা, যা রিভিউ পর্যায়ে আসার পর ফের আপিল শুনানির অনুমতি পায়।
একাত্তরে যুদ্ধাপরাধের অভিযোগে ২০১২ সালের ২২ আগস্ট রাজধানীর মগবাজারের বাসা থেকে আজহারুল ইসলামকে গ্রেপ্তার করা হয়। তখন থেকেই কারাগারে রয়েছেন এই জামায়াত নেতা।
৩৮৮ দিন আগে
সচিবালয়ে আজ কোনো দর্শনার্থী ঢুকতে পারবেন না
অনিবার্য কারণে মঙ্গলবার (২৭ মে) সচিবালয়ে সব ধরনের দর্শনার্থীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে সরকার। ফলে আজ দর্শনার্থীদের সচিবালয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা বাদ দেওয়াই উত্তম। এ ছাড়া সচিবালয় ও সংলগ্ন এলাকায় সভা-সমাবেশও নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি)।
সোমবার (২৬ মে) রাতে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় থেকে পাওয়া এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে সচিবালয়ে দর্শনার্থী প্রবেশের নিষেধাজ্ঞার বিষয়টি জানা যায়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, অনিবার্য কারণে মঙ্গলবার বাংলাদেশ সচিবালয়ে সব ধরনের দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ থাকবে।
এদিকে, সচিবালয় ও যমুনা সংলগ্ন এলাকায় সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল ও শোভাযাত্রা নিষিদ্ধ করেছে ডিএমপি।
গতকাল (সোমবার) রাতেই এক নির্দেশনা জারি করে এ নিষেধাজ্ঞা দেয় ডিএমপি।
নির্দেশনায় বলা হয়, গত ১০ মে ঢাকা মহানগর পুলিশ কমিশনার কর্তৃক জারি করা গণবিজ্ঞপ্তি মোতাবেক বাংলাদেশ সচিবালয় এবং প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও পার্শ্ববর্তী এলাকায় যে কোনও ধরনের সভা-সমাবেশ, গণজমায়েত, মিছিল ও শোভাযাত্রা ইত্যাদি নিষিদ্ধ রয়েছে।
এ অবস্থায় আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থে এসব নির্দেশনা মেনে চলার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে অনুরোধ করেছে ডিএমপি।
আরও পড়ুন: সচিবালয়সহ সারা দেশে মঙ্গলবার বিক্ষোভের ডাক
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রত্যাহারের দাবিতে আজ সচিবালয় আবারও বিক্ষোভ মিছিল করবে বলে গতকালই এক ঘোষণায় জানিয়েছিল বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরাম। পাশাপাশ একই ধরনের কর্মসূচি পালনের জন্য সচিবালয়ের বাইরে সারা দেশের সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানায় সংগঠনটি।
গতকাল টানা তৃতীয় দিনের মতো সচিবালয়ের ভেতর বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা।
চার ধরনের শৃঙ্খলাভঙ্গের অপরাধে বিভাগীয় মামলা ছাড়াই শুধুমাত্র কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে চাকরিচ্যুত করা যাবে—এমন বিধান রেখে 'সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫' জারি করেছে সরকার। রবিবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় অধ্যাদেশটি জারি করেন রাষ্ট্রপতি।
এর আগে, গত ২২ মে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অধ্যাদেশটির খসড়া অনুমোদনের পর থেকেই সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আইনটি প্রত্যাহারের দাবিতে সচিবালয়ে বিক্ষোভ করে আসছিলেন। রবিবার (২৫ মে) অধ্যাদেশটি জারির পর সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবগুলো সংগঠন সম্মিলিতভাবে এর বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে। অধ্যাদেশটি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনকারীদের দাবিদাওয়ার বিষয়ে আইন উপদেষ্টার গতকাল দুপুর ২টায় বৈঠক করার কথা থাকলে তা হয়নি। সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টা সেদিন জাননি বলে জানা যায়।
৩৮৯ দিন আগে
সচিবালয় এলাকায় সব ধরনের সভা সমাবেশ-জমায়েতে নিষিদ্ধ করল ডিএমপি
সচিবালয় ও যমুনা সংলগ্ন এলাকায় সভা-সমাবেশে নিষিদ্ধ করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
সোমবার (২৬ মে) রাতে জারি করা এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ডিএমপি জানায়, আইনশৃঙ্খলা রক্ষার স্বার্থেই এ নিষেধাজ্ঞা আরোপ করা হয়েছে।
এতে বলা হয়, ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি) কমিশনারের ১০ মে জারিকৃত এক গণবিজ্ঞপ্তির প্রেক্ষিতে বাংলাদেশ সচিবালয়, প্রধান উপদেষ্টার সরকারি বাসভবন যমুনা ও আশপাশের এলাকায় সব ধরনের সভা, সমাবেশ, মিছিল ও প্রতিবাদ কর্মসূচিতে নিষেধাজ্ঞা পুনর্বহাল করা হয়েছে।
নিরাপত্তার স্বার্থে সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশনা কঠোরভাবে মানার আহ্বান জানানো হয়েছে বিজ্ঞপ্তিতে।
৩৮৯ দিন আগে
কমলগঞ্জ সীমান্তে ২১ জনকে ঠেলে পাঠালো বিএসএফ
মৌলভীবাজারের কমলগঞ্জ সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে অনুপ্রবেশের সময় নারী ও শিশুসহ ২১ জনক আটক করেছে বিজিবি। ভারতীয় সীমান্ত রক্ষাকারী বাহিনী (বিএসএফ) তাদের ঠেলে পাঠানো (পুশ-ইন) করেছে। আটকরা বাংলাদেশি নাগরিক বলে বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) নিশ্চিত করেছে।
সোমবার (২৬ মে) সকাল পৌনে ৮টার দিকে কমলগঞ্জ উপজেলার মাধবপুর ইউনিয়নের মতেরবল সীমান্ত এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় তাদের আটক করা হয়। আটকদের মধ্যে ৭ জন পুরুষ, ৬ জন নারী ও ৮ শিশু রয়েছে।
বিজিবি সূত্র জানায়, এদিন সকালে সীমান্ত এলাকা দিয়ে অনুপ্রবেশের সময় ২১ জনক আটক করা হয়। যাচাই-বাছাই শেষে সবাই কুড়িগ্রামের বাসিন্দা বলে জানা গেছে।
বিজিবি-৪৬ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক এ এস এম জাকারিয়া ২১ জনকে আটকের বিষয়টি নিশ্চিত করে জানান, আটকদের কমলগঞ্জ থানায় হস্তান্তর করা হবে।
আটরা হলেন- কুড়িগ্রাম জেলার সদর থানার দেওয়াবের খামার গ্রামের বেলাল হোসেন (৪৫), রাশেদা বেগম (৩৫), ফুলবাড়ি উপজেলার শিমুল বাড়ি গ্রামের মজিবুল (২২), সেলিনা (২০), মৌপিতা (৩), মরিয়ম (৮ মাস),গোলদার (৫০), আনজু (৪০), রাশেদুল (২০), জেসমিন (৮), রাঙ্গামাটি গ্রামের আশরাফ (৪০), রাহেনা (৩০), রায়হান (৮), আশা মনি (১৮), আখের আলী (২৩), তৈয়ব আলী (৪৫), ইব্রাহিম (২ মাস), খাদিতা (২), নাগেশ্বরী উপজেলার পশ্চিম শুকাতি গ্রামের নাজমুল হাসান (২৪), ইনচার আলী (৫০), হামিদা বেগম (২০) ও রাবেয়া খাতুন (২)।
কমলগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সৈয়দ ইফতেখার হোসেন ঘটনার সত্যতা নিশ্চিত করে বলেন, আটকদের এখনও থানায় হস্তান্তর করা হয়নি। হস্তান্তরের পর প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
এর আগে চলতি মাসের ৭ মে কমলগঞ্জের দলই সীমান্তে নারী, শিশুসহ ১৫ জনকে পুশ-ইন করেছে বিএসএফ। এ নিয়ে চলতি মাসে কমলগঞ্জের সীমান্ত দিয়ে ভারত থেকে ঠেলে পাঠানো মোট ৩৬ জনকে আটক করল বিজিবি।
৩৮৯ দিন আগে
জনগণকে নির্বাচনমুখী করার আহ্বান প্রধান উপদেষ্টার
ভোটের সময় কেউ যাতে ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিতে না পারে, সেই বিষয়ে সচেতন করে জনগণকে নির্বাচনমুখী করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, ‘জনগণকে নির্বাচনমুখী করতে হবে। কেউ যেন ব্যালট বাক্স ছিনিয়ে নিতে না পারে সেই বিষয়ে নাগরিকদের সচেতন করতে হবে। শৃঙ্খলা আনতে হবে, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে নিরাপদ ভোটের আয়োজন করতে হবে।’
সোমবার (২৬ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় অনুষ্ঠিত ঐকমত্য কমিশনের এক সভায় প্রধান উপদেষ্টা এসব কথা বলেন। এতে সভাপতিত্ব করেন ড. ইউনূস।
সভায় ঐকমত্য কমিশনের অন্যান্য সদস্যরা রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনার সর্বশেষ অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধান উপদেষ্টাকে অবহিত করেন।
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে জুনের প্রথম সপ্তাহে সংস্কার কাজ নিয়ে দ্বিতীয় দফায় আলোচনা শুরু করবে ঐকমত্য কমিশন। প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এই আলোচনার উদ্বোধন করবেন।
গত ১৯ মে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য কমিশনের প্রথম দফায় আলোচনা শেষ হয়।
বৈঠকে সংস্কার প্রক্রিয়া ও নির্বাচন বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর পাশাপাশি নাগরিক সমাজ ও তৃণমূলের সংগঠনগুলোকে সম্পৃক্ত করে জনসচেতনতা বাড়ানোর পরামর্শ দিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: দুই দফায় রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে প্রধান উপদেষ্টার বৈঠক
তিনি বলেন, 'এত বড় অভ্যুত্থানের পর যে বাংলাদেশ আমরা পেয়েছিলাম, এটা যেন তেমন বাংলাদেশই রয়ে না যায়।'
সভায় অতীতের বিভিন্ন নির্বাচনে অনিয়মের সঙ্গে যারা জড়িত তাদের ভূমিকা তদন্তের জন্য একটি স্বাধীন কমিশন গঠনের বিষয়ে আলোচনা হয়।
কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ জানান, এ বিষয়ে প্রত্যেকটি রাজনৈতিক দল ইতোমধ্যেই ঐকমত্য প্রকাশ করেছে।
কমিশন সদস্য আইয়ুব ভূঁইয়া অবিলম্বে জনপ্রশাসন সংস্কার বাস্তবায়ন কমিশন গঠনের আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ১৯৮২ সালে এনাম কমিশন বিভিন্ন সরকারি সংস্থার যে অরগানোগ্রাম তৈরি করেছিল সেটাই তাদের এখনো রয়ে গেছে। ইতোমধ্যেই বিভিন্ন সংস্থা অপ্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে এবং নতুন অনেক সংস্থা গঠন করা হয়েছে। এ কমিশন গঠন করা হলে এই অরগানোগ্রামগুলো পুনঃগঠন করা যাবে।
আরও পড়ুন: ডিসেম্বর থেকে জুনের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানে অনড় প্রধান উপদেষ্টা
তিনি বলেন, এনবিআর সংস্কারে জনপ্রশাসন কমিশনের সুপারিশ ছাড়া আরও দুটি কমিশন কাজ করেছে যার ফলে এক ধরনের সমন্বয়হীনতা তৈরি হয়েছে।
বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশনের প্রতিনিধি এমদাদুল হক রাজনৈতিক দলগুলোর ঐকমত্যের ভিত্তিতে সুপ্রিমকোর্টের বিচারপতি নিয়োগে যে কমিশন গঠন করা হয়েছে, তা যেন স্বচ্ছভাবে কাজ করতে পারে সেটি নিশ্চিত করার জন্য প্রধান উপদেষ্টার কাছে আহ্বান জানান।
দুর্নীতি দমন সংস্কার কমিশন প্রতিনিধি ইফতেখারুজ্জামান প্রাথমিকভাবে গঠিত ছয়টি কমিশনের বাইরে গণমাধ্যম, শ্রম, স্থানীয় সরকার, নারী ও স্বাস্থ্য বিষয়ক যে সংস্কার কমিশনগুলো গঠিত হয়েছে সেগুলোর সুপারিশ বাস্তবায়নে একটি রোডম্যাপ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন।
নির্বাচন কমিশন সংস্কার কমিশন প্রধান বদিউল আলম মজুমদার ২০০৮ সালে স্থানীয় সরকার নির্বাচনের জন্য প্রণীত খসড়া প্রস্তাবটি অধ্যাদেশ আকারে প্রকাশ করার আহ্বান জানান।
সভায় আরও উপস্থিত ছিলেন পুলিশ সংস্কার কমিশনের প্রতিনিধি সফর রাজ হোসেন।
৩৮৯ দিন আগে
মঙ্গলবার সচিবালয়ে সকল দর্শনার্থীর প্রবেশ বন্ধ
আগামী মঙ্গলবার সচিবালয়ে সকল ধরনের দর্শনার্থীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। সোমবার (২৬ মে) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, ‘অনিবার্য কারণবশত মঙ্গলবার (২৭ মে) বাংলাদেশ সচিবালয়ে সকল ধরনের দর্শনার্থী প্রবেশ বন্ধ থাকবে।
উল্লেখ্য, সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’ প্রত্যাহারের দাবিতে আগামীকাল মঙ্গলবার সচিবালয় আবারও বিক্ষোভ মিছিল করার ঘোষণা দিয়েছে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী ঐক্য ফোরাম। একই সঙ্গে একই ধরনের কর্মসূচি পালনের জন্য সচিবালয়ের বাইরে সারা দেশের সরকারি দপ্তরের কর্মচারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।
আজ টানা তৃতীয় দিনের মতো সচিবালয়ের ভেতর বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন মন্ত্রণালয় ও বিভাগের কর্মচারীরা।
চার ধরনের শৃঙ্খলা ভঙ্গের অপরাধের জন্য বিভাগীয় মামলা ছাড়াই শুধুমাত্র কারণ দর্শানোর নোটিশ দিয়ে চাকরিচ্যুত করা যাবে—এমন বিধান রেখে 'সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫' জারি করেছে সরকার।
গতকাল রবিবার (২৫ মে) সন্ধ্যায় অধ্যাদেশটি জারি করেন রাষ্ট্রপতি।
আরও পড়ুন: সচিবালয়সহ সারা দেশে মঙ্গলবার বিক্ষোভের ডাক
এর আগে গত ২২ মে উপদেষ্টা পরিষদের সভায় অধ্যাদেশটির খসড়া অনুমোদনের পর থেকেই সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা আইনটি প্রত্যাহারের দাবিতে সচিবালয়ে বিক্ষোভ করে আসছিলেন। রবিবার (২৫ মে) সচিবালয়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সবগুলো সংগঠন সম্মিলিতভাবে অধ্যাদেশের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করে। অধ্যাদেশটি প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দেন।
মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা যায়, আন্দোলনকারীদের দাবি দাওয়ার বিষয়ে আইন উপদেষ্টা আজ দুপুর ২টায় বৈঠক করার কথা থাকলে তা হয়নি। সচিবালয়ে আইন উপদেষ্টা আসেননি বলে জানা গেছে।
৩৮৯ দিন আগে
বাণিজ্য উপদেষ্টার সঙ্গে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূতের বৈঠক
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীনের সঙ্গে আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত আবদেলোহাব সাইদানি বৈঠক করেছেন। সোমবার (২৬ মে ) দুপুরে সচিবালয়ে বাণিজ্য উপদেষ্টার কার্যালয়ে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কোন্নয়ন ও বাণিজ্য বৃদ্ধি নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা করেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, পারস্পরিক বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ককে আরও টেকসই করতে উভয়দেশকে বাণিজ্যিক সুযোগ কাজে লাগাতে হবে। এসময় তিনি বাংলাদেশে বিনিয়োগ বাড়াতে আলজেরিয়ার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, বাংলাদেশ বিশ্বের দ্বিতীয় প্রধান পাট উৎপাদনকারী দেশ। বিশ্বে পাট ও বাংলাদেশ সমার্থক হিসেবে পরিগণিত হয়। এসময় তিনি বাংলাদেশ থেকে পাটজাত ও ঐতিহ্যবাহী পণ্য আমদানি করতে আলজেরিয়ার প্রতি আহবান জানান।
আলজেরিয়ার রাষ্ট্রদূত দুদেশের মধ্যে বাণিজ্য বাড়াতে ইন্টার গভর্নমেন্ট জয়েন্ট ইকোনমিক কমিশন (আন্ত:সরকার যৌথ অর্থনৈতিক কমিশন)গঠনের ওপর গুরুত্বারোপ করেন।
আরও পড়ুন: কোরবানির চামড়ার উপযুক্ত দাম নিশ্চিতে সংরক্ষণে সহায়তা দেবে সরকার : বাণিজ্য উপদেষ্টা
তিনি বলেন,আলজেরিয়ায় পাট পণ্যের বেশ চাহিদা রয়েছে। সেকারণে বাংলাদেশ থেকে পাটের তৈরি পণ্য আমদানি করতে তারা আগ্রহী।এসময় তিনি আলজেরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য এক্সপোতে বাংলাদেশি পাট ও ঐতিহ্যবাহী পণ্য প্রদর্শনের আহ্বান জানান।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক (আফ্রিকা উইং) বি এম জামাল হোসেন ও অতিরিক্ত সচিব মো. আব্দুর রহিম খান এসময় উপস্থিত ছিলেন।
৩৮৯ দিন আগে
অভাবের দহনে মৃত্যু হলো স্বামী-স্ত্রীর ভালোবাসার!
অভাব জীবনকে অতিষ্ট করে তুলছিল। হতাশায় নিমজ্জিত হচ্ছিল তাদের জীবন। বাড়ছিল তাদের পারিবারিক কলহ। ভালোবাসার সংসার ক্রমেই পরিণত হচ্ছিল তিক্ততায়। উপায় বের করতে বিক্রি করে দিয়েছিলেন উপার্জনের মাধ্যম ইজিবাইকটিও। কিন্তু বাকি ছিল আরও কয়েকটি কিস্তি। তার পরও অভাবেই জীবন টেনে নিচ্ছিলেন জরিনা ও আল আমিন। শেষমেশ ভালোবাসা ও বিষাদের এক মর্মান্তিক পরিণতিতে শেষ হলো তাদের জীবনের গল্প।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ উপজেলার লালপুর এলাকার আল আমিন (২৫) ও তার স্ত্রী জরিনা বেগম (২০) রবিবার রাতে একসঙ্গে ‘কেরির ট্যাবলেট’ খেয়ে আত্মহত্যার চেষ্টা করেন। রাত ১০টার দিকে পরিবারের লোকজন দুজনকে উদ্ধার করে ব্রাহ্মণবাড়িয়া ২৫০ শয্যাবিশিষ্ট জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে জরিনা জরুরি বিভাগেই মারা যান। কিছুটা সময় লড়লেও রাত ১টার দিকে মৃত্যুর কোলে ঢলে পড়েন আল আমিনও।
আরও পড়ুন: স্ত্রীকে খুন করে স্বামীর আত্মহত্যা
জরিনার ভাই আনোয়ার হোসেন জানান, অভাব-অনটন ও সংসারের টানাপোড়েন তাদের প্রতিনিয়ত পুড়িয়ে দিচ্ছিল। কিস্তিতে কেনা ইজিবাইকটি কয়েক দিন আগে আল আমিন বিক্রি করে দেন। এরপর শুরু হয় দাম্পত্য কলহ। এই দুঃখ, রাগ ও অপ্রাপ্তির হতাশা থেকেই তারা একসঙ্গে আত্মহননের পথ বেছে নেন।
তাদের সংসারে রয়েছে একটি ছেলে ও একটি মেয়ে শিশু। এখন তারা শুধু এতিমই নয়, বঞ্চিতও হলো মা-বাবার স্নেহ থেকে। অনিশ্চিত ভবিষ্যতের যাত্রায় তাদের জীবন।
আশুগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ বিল্লাল হোসেন বলেন, অভাব-অনটন ও মানসিক কষ্ট থেকেই এই আত্মহত্যার ঘটনা ঘটেছে। হাসপাতালে পুলিশ পাঠানো হয়েছে। তাদের লাশ হাসপাতালের মর্গে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: সিরাজগঞ্জে ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়ে কৃষকের আত্মহত্যা
৩৮৯ দিন আগে
জামায়াত নেতা আজহারের আপিলের রায় মঙ্গলবার, খালাসের প্রত্যাশা আইনজীবীর
একাত্তরের মানবতাবিরোধী অপরাধের মামলায় মৃত্যুদণ্ডাদেশের বিরুদ্ধে জামায়াতে ইসলামীর নেতা এ টি এম আজহারুল ইসলামের আপিলের ওপর মঙ্গলবার রায় ঘোষণা করবেন আপিল বিভাগ। মঙ্গলবারের জন্য প্রকাশিত প্রধান বিচারপতি ড. সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন সাত বিচারপতির আপিল বিভাগের পূর্ণাঙ্গ বেঞ্চের দৈনন্দিন কার্যতালিকায় মামলাটি এক নম্বর ক্রমিকে রায়ের জন্য অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
জামায়াতের আইনজীবী শিশির মনির জানান, মঙ্গলবার রায়ের জন্য দিন নির্ধারিত আছে। আমরা প্রত্যাশা করি এ টি এম আজহারুল ইসলাম এই মামলার সব অভিযোগ থেকে বেকসুর খালাস পাবেন এবং রায়ের ভিত্তিতে জেল থেকে বেরিয়ে আসবেন।
এর আগে গত ৮ মে শুনানি শেষে রায়ের জন্য ২৭ মে দিন রেখেছিলেন। আদালতে আবেদনের পক্ষে শুনানি করেন আইনজীবী মোহাম্মদ শিশির মনির। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের পক্ষে রয়েছেন প্রসিকিউটর গাজী মোনাওয়ার হুসাইন তামীম। এর আগে গত ৬ মে প্রথম দিনের মতো শুনানি হয়।
একাত্তরে মুক্তিযুদ্ধ চলাকালে রংপুর অঞ্চলে গণহত্যা-হত্যা, অপহরণ, ধর্ষণ, আটক, নির্যাতন ও গুরুতর জখম এবং বাড়িঘরে লুণ্ঠন ও অগ্নিসংযোগের মতো ৯ ধরনের ৬টি মানবতাবিরোধী অপরাধের অভিযোগ আনা হয়েছিল এ টি এম আজহারের বিরুদ্ধে।
আরও পড়ুন: আজহারের মুক্তি দাবি: কারাবরণের ঘোষণা জামায়াত আমিরের
২০১৪ সালের ৩০ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের দেওয়া রায়ে ২ নম্বর, ৩ নম্বর এবং ৪ নম্বর অভিযোগে ফাঁসির দণ্ডাদেশ পান জামায়াতে ইসলামীর তৎকালীন সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আজহারুল ইসলাম। এছাড়া ৫ নম্বর অভিযোগে অপহরণ, নির্যাতন, ধর্ষণসহ বিভিন্ন অমানবিক অপরাধের দায়ে ২৫ বছর ও ৬ নম্বর অভিযোগে নির্যাতনের দায়ে ৫ বছরের কারাদণ্ডাদেশ দেওয়া হয়।
ট্রাইব্যুনালের রায়ের বিরুদ্ধে আপিলে শুনানির পর ২০১৯ সালের ৩১ অক্টোবর মৃত্যুদণ্ড বহাল রেখে রায় ঘোষণা করেন তৎকালীন প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বাধীন চার বিচারপতির আপিল বেঞ্চ। আপিল বিভাগের রায়ে ২, ৩, ৪ (সংখ্যাগরিষ্ঠ মতের ভিত্তিতে) ও ৬ নম্বর অভিযোগের দণ্ড বহাল রাখা হয়। আর ৫ নম্বর অভিযোগ থেকে তাকে খালাস দেওয়া হয়। ওই দিন আদালতে আসামিপক্ষে ছিলেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী (প্রয়াত) খন্দকার মাহবুব হোসেন। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন (প্রয়াত) অ্যাটর্নি জেনারেল মাহবুবে আলম।
২০২০ সালের ১৫ মার্চ আপিল বিভাগের রায়ের পূর্ণাঙ্গ অনুলিপি প্রকাশিত হয়। ওই রায়ের রিভিউ চেয়ে ২০২০ সালের ১৯ জুলাই আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট আবেদন করেছিলেন এ টি এম আজহারুল ইসলাম। ২৩ পৃষ্ঠার পুনর্বিবেচনার এ আবেদনে মোট ১৪টি যুক্তি উপস্থাপন করা হয়। ওই পুনর্বিবেচনার আবেদনের শুনানি শেষে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রধান বিচারপতি সৈয়দ রেফাত আহমেদের নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ মানবতাবিরোধী অপরাধ মামলায় মৃত্যুদণ্ডের রায়ের বিরুদ্ধে এ টি এম আজহারুল ইসলামকে আপিলের অনুমতি দেন। এরপর তিনি আপিল করেন।
আরও পড়ুন: আজহারকে মুক্তি না দিলে নিজেকে গ্রেপ্তারের আর্জি জামায়াত আমিরের
৩৮৯ দিন আগে
জুলাইয়ের মধ্যে জাতীয় সনদ তৈরি করা সম্ভব: আলী রীয়াজ
রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনার মাধ্যমে জুলাই মাসের মধ্যেই একটি জাতীয় সনদ তৈরি করা সম্ভব হবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ।
সোমবার (২৬ মে) ঢাকায় সংসদ ভবনের এল. ডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের কার্য অগ্রগতি সম্পর্কে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অধ্যাপক আলী রীয়াজ এসব কথা বলেন।
এ সময় কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বিচারপতি মো. এমদাদুল হক, ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান, ড. মো. আইয়ুব মিয়া এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে অধ্যাপক আলী রীয়াজ কমিশনের কাজের অগ্রগতি বিষয়ক প্রতিবেদন পাঠ করেন৷
এতে উল্লেখ করা হয়, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন থেকে সংস্কার প্রস্তাব সম্পর্কিত ছয়টি কমিশনের প্রতিবেদনের অনুলিপি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি রাজনৈতিক দলগুলোকে পাঠানো হয়। গত ৫ মার্চ কমিশনের চুড়ান্ত প্রতিবেদন থেকে গুরুত্বপূর্ণ ১৬৬টি সুপারিশমালা রাজনৈতিক দল এবং জোটের কাছে মতামত প্রদানের জন্য পাঠানো হয়৷ যার মধ্যে সংবিধান সংস্কার সংক্রান্ত সুপারিশ ছিল ৭০টি, নির্বাচন ব্যবস্থা সংক্রান্ত বিষয়ে ২৭টি, বিচার বিভাগ সংক্রান্ত ২৩টি, জনপ্রশাসন সংক্রান্ত ২৬টি এবং দুর্নীতি দমন কমিশনের সুপারিশ ২০টি৷ পুলিশ সংস্কার কমিশনের সুপারিশ প্রশাসনিক স্বিদ্ধান্তের মাধ্যমে বাস্তবায়ন সম্ভব বলে এই কমিশনের সুপারিশ স্প্রেডশিটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
আরও পড়ুন: দ্রুততম সময়ের মধ্যে জাতীয় সনদ তৈরির আশ্বাস আলী রীয়াজের
কমিশনের প্রতিবেদনে আরো উল্লেখ করা হয়, দলগুলোর মতামত পাওয়ার পাশাপাশি গত ২০ মার্চ থেকে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শুরু করে কমিশন এবং ধারাবাহিক আলোচনার মাধ্যমে গত ১৯ মে পর্যন্ত ঐকমত্য কমিশন মোট ৩৩টি রাজনৈতিক দল ও জোটের সঙ্গে ৪৫টি অধিবেশন করে। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কমিশনের আলোচনায় অনেক বিষয়ে যেমন ঐকমত্য হয়েছে এবং বেশকিছু বিষয়ে মতভিন্নতাও রয়েছে। প্রধান বিচারপতি নিয়োগ, স্থায়ী অ্যাটর্নি সার্ভিস, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট আইনসভা, রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর ক্ষমতার ভারসাম্য, নারীদের জন্য ১০০ আসন, বিদ্যমান পাবলিক সার্ভিস কমিশন পুনর্গঠন করে ৮ সদস্য বিশিষ্ট তিনটি পাবলিক সার্ভিস গঠনসহ অনেকগুলো বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠা হয়েছে বলে কমিশনের প্রতিবেদনে জানানো হয়৷ দ্বিতীয় ধাপের আলোচনা শেষে মতপার্থক্যের বিষয়গুলো সম্পর্কে রাজনৈতিক দলগুলোর চুড়ান্ত অবস্থান জানাতে পারবে বলে আশা করে কমিশন৷
মতবিনিময়কালে সাংবাদিকের এক প্রশ্নের জবাবে অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেন, জুন মাসের প্রথম সপ্তাহে দ্বিতীয় পর্বের আলোচনা শুরু করতে চায় কমিশন এবং এই আলোচনা হবে বিষয়ভিত্তিক। তিনি বলেন, সকল বিষয়ে ঐকমত্য হবে না, কিন্তু যেসব মৌলিক বিষয়ে এখনো মতভিন্নতা রয়েছে সেসব বিষয়ে ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার জন্যই দ্বিতীয় পর্যায়ের আলোচনা করবে কমিশন৷
উল্লেখ্য গত ১৫ ফেব্রুয়ারি প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে আনুষ্ঠানিকভাবে যাত্রা শুরু করে জাতীয় ঐকমত্য কমিশন। আগামী ১৫ আগস্ট এই কমিশনের মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে৷
৩৮৯ দিন আগে