বাংলাদেশ
ইউনানে বাংলাদেশিদের জন্য উচ্চমানের চিকিৎসাসেবার প্রতিশ্রুতি চীনের
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য উচ্চমানের ও ঝামেলামুক্ত চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত করতে পূর্ণ সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে চীনের ইউনান প্রদেশ কর্তৃপক্ষ।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ‘দ্য ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হসপিটাল’ পরিদর্শনকালে বাংলাদেশি সাংবাদিকদের এই আশ্বাস দেন প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা এবং স্থানীয় সরকারি হাসপাতালের প্রধানরা।
ইউনান প্রাদেশিক স্বাস্থ্য কমিশনের উপপরিচালক ওয়াং জিয়ানকুন জানান, তারা আন্তর্জাতিক রোগীদের ন্যায্যমূল্যে উচ্চমানের সেবা দেওয়ার জন্য অঙ্গীকারবদ্ধ। তাদের এই পাইলট হাসপাতালগুলোতে চিকিৎসা নেওয়া বাংলাদেশি রোগীরা অত্যন্ত সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশি রোগীদের সহায়তায় আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। আমাদের সরকার এবং ঢাকায় আমাদের দূতাবাস স্বাস্থ্যসেবা খাতে সহযোগিতা জোরদার করার জন্য বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখছে।
চীন-বাংলাদেশ কূটনৈতিক সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তি উদযাপনের অংশ হিসেবে ২৩ সদস্যের ওই গণমাধ্যম প্রতিনিধিদলকে আমন্ত্রণ জানিয়েছে চীন সরকার। প্রধান উপদেষ্টার উপ-প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারের নেতৃত্বে প্রতিনিধি দলটি চীনা কর্মকর্তাদের সঙ্গে দুই ঘণ্টার ইন্টারঅ্যাকটিভ সেশনে অংশ নেয়।
সেশনে হাসপাতালের প্রেসিডেন্ট জেং ঝিং, মেডিকেল প্রশাসন বিভাগের উপপরিচালক শি হংবিন এবং আন্তর্জাতিক মেডিকেল বিভাগের পরিচালক হান রুইসহ চীনা কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশ-চীন মৈত্রী সমিতির ভারপ্রাপ্ত সভাপতির সঙ্গে চীনা রাষ্ট্রদূতের সাক্ষাৎ
সেখানে ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা, রোগীর স্বজনদের থাকার ব্যবস্থা, যাতায়াত ব্যয়, বাংলাদেশি ক্রেডিট কার্ড ব্যবহারের সুযোগ, লিয়াজোঁ অফিস, ফলো-আপ চিকিৎসা ও বিল পরিশোধ প্রক্রিয়া এবং মৃতদেহ বাংলাদেশে ফিরিয়ে নেওয়ার উচ্চ খরচ নিয়ে নানা প্রশ্নের উত্তর দেন চীনা কর্মকর্তারা।
ওয়াং জিয়ানকুন বলেন, আমরা বাংলাদেশি রোগীদের মুখোমুখি হওয়া চ্যালেঞ্জ সম্পর্কে অবগত রয়েছি তা সমাধানের চেষ্টা করছি।
চীনা কর্তৃপক্ষকে তাদের মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে আরও বেশি বাংলাদেশি শিক্ষার্থী ভর্তির অনুমতি দেওয়ার জন্য আহ্বান জানান প্রতিনিধি দলের প্রধান আজাদ মজুমদার। এতে তারা বাংলাদেশি রোগীদের ভাষাগত প্রতিবন্ধকতা কাটিয়ে উঠতে সহায়তা করতে পারবে বলে মত দেন তিনি।
কুনমিং মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ের ফার্স্ট অ্যাফিলিয়েটেড হাসপাতালের কর্মকর্তারা জানান, গত ছয় মাসে ৬৭ জন বাংলাদেশি রোগী লিভার সিরোসিস, স্তন ক্যানসারসহ বিভিন্ন রোগের চিকিৎসা নিয়েছেন।
চীনের স্থানীয় ফরেন অফিসের আয়োজিত ভোজসভায়ও বাংলাদেশি রোগীদের জন্য সব ধরনের সহযোগিতার আশ্বাস দেওয়া হয়। প্রতিনিধি দলটি শুক্রবার (৮ আগস্ট) কুনমিংয়ের আরও কয়েকটি হাসপাতাল পরিদর্শন করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৪৪৬ দিন আগে
রাজশাহীতে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে এক সংগীত শিল্পীর মৃত্যু
রাজশাহীর দুর্গাপুর উপজেলায় বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে ডালিম (৩৪) নামের এক সংগীত শিল্পীর মর্মান্তিক মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে উপজেলার শ্রীপুর গ্রামের বিলে ডিপটিউবওয়েলের বৈদ্যুতিক কাজ করতে গিয়ে এ দুর্ঘটনা ঘটে।নিহত ডালিম দুর্গাপুর উপজেলার হরিপুর গ্রামের মৃত আয়ুব আলীর ছেলে। তিনি দীর্ঘদিন ধরে লোকজ ধারার সংগীতচর্চার পাশাপাশি পেশাগতভাবে বরেন্দ্র বহুমুখী উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিএমডিএ) আওতাধীন ডিপটিউবওয়েল লাইনে বৈদ্যুতিক মিস্ত্রির কাজ করতেন।প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, ডালিম শ্রীপুর গ্রামের বিলে ডিপটিউবওয়েলের বৈদ্যুতিক লাইনের মেরামতের কাজ করছিলেন। এ সময় হঠাৎ করে তিনি বৈদ্যুতিক শর্টসার্কিট থেকে প্রচণ্ড শকে পানিতে পড়ে যান। এতে ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।দুর্গাপুর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) দুরুল হোদা জানান, বিষয়টি খুবই দুঃখজনক। প্রাথমিকভাবে এটি বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মৃত্যুর ঘটনা বলেই জানা গেছে। পরবর্তীত প্রয়োজনীয় আইনানুগ প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।ডালিম স্থানীয়ভাবে ‘গামছা বাউল’ নামেই বেশি পরিচিত ছিলেন। গলায় গামছা বেঁধে নিজস্ব ভঙ্গিতে গান গেয়ে এরমধ্যে এলাকায় বেশ জনপ্রিয় হয়ে উঠেছিলেন তিনি। লোকজ সুর আর গ্রামীণ সংস্কৃতির প্রতিনিধিত্ব থাকতেন তার প্রতিটি পরিবেশনায়।
তার মৃত্যুতে দুর্গাপুর উপজেলাজুড়ে শোকের ছায়া নেমে এসেছে। সহকর্মী, শিল্পী সমাজ ও স্থানীয় সংস্কৃতিপ্রেমীরা তার মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন।
এ বিষয়ে স্থানীয় সাংস্কৃতিক কর্মী রাশেদুর রহমান রাশেদ বলেন, ডালিম শুধু একজন মিস্ত্রি ছিলেন না, তিনি ছিলেন আমাদের প্রাণের মানুষ। গ্রামীণ সুরের ধারক ও বাহক ছিলেন তিনি। তার এই অকাল মৃত্যুতে আমরা গভীরভাবে শোকাহত।
৪৪৬ দিন আগে
গাজীপুরে সাংবাদিককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা
গাজীপুরে এক সাংবাদিককে প্রকাশ্যে কুপিয়ে হত্যা করেছে সন্ত্রাসীরা। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাত ৮টার দিকে মহানগরীর ব্যস্ততম চান্দনা চৌরাস্তায় মসজিদ মার্কেটের সামনের একটি দোকানে প্রকাশ্যে এলোপাথাড়ি কুপিয়ে তাকে হত্যা করা হয়।
নিহত সাংবাদিক আসাদুজ্জামান তুহিন (৩৮) দৈনিক প্রতিদিনের কাগজ পত্রিকার গাজীপুরের স্টাফ রিপোর্টার ছিলেন।
তিনি ময়মনসিংহের ফুলবাড়িয়া থানার ভাটিপাড়া গ্রামের হাসান জামালের ছেলে। তুহিন পরিবারের সঙ্গে চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় বাস করতেন।
স্থানীয় সূত্র জানায়, চান্দনা চৌরাস্তা এলাকায় ফুটপাত ও দোকানপাট থেকে চাঁদাবাজি নিয়ে বৃহস্পতিবার বিকালে লাইভ করেন তিনি। এরপর রাত ৮টার দিকে নিজ ফেসবুকে একটি ভিডিও পোস্ট করেন।
এরপর সন্ধ্যার পর তিনি মসজিদ মার্কেটের সামনে একটি চায়ের দোকানে বসে চা পান করছিলেন। এ সময় হঠাৎ অন্তত ১০ থেকে ১২ জন অস্ত্রধারী সন্ত্রাসী তাকে ঘিরে ধরে। এসময় তিনি দৌড়ে বাঁচার চেষ্টা করে একটি মুদির দোকানে ঢুকে পড়েন। সন্ত্রাসী দল তখন তাকে চাপাতিসহ বিভিন্ন ধরনের ধারালো অস্ত্র দিয়ে লোকজনের সামনেই কুপিয়ে ও গলা কেটে ক্ষতবিক্ষত করে পালিয়ে যায়। ঘটনাস্থলেই তার মৃত্যু হয়।
বাসন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শাহীন খান জানান, খবর পেয়ে পুলিশ নিহতের লাশ উদ্ধার করে মর্গে পাঠিয়েছে। কী কারণে এ খুনের ঘটনা ঘটেছে তা জানার চেষ্টা চলছে।
৪৪৬ দিন আগে
অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে সিলেট ওসমানী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীদের ক্লাস বর্জন
দীর্ঘদিনের হোস্টেল সংকট ও নানামুখী অব্যবস্থাপনার প্রতিবাদে ক্লাস বর্জন করেছেন সিলেট এম এ জি ওসমানী মেডিকেল কলেজের শিক্ষার্থীরা ।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুর ১২টার দিকে কলেজ ক্যাম্পাসে একযোগে ক্লাস বর্জন করেন এমবিবিএস ও বিডিএস কোর্সের শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ— শহীদ শামসুদ্দিন ছাত্রাবাসসহ অন্যান্য হোস্টেলগুলোতে বিশুদ্ধ পানির তীব্র সংকট, অনিয়মিত বিদ্যুৎ সরবরাহ, জরাজীর্ণ ভবন এবং কক্ষগুলোর অব্যবস্থাপনা শিক্ষাজীবনকে দুর্বিষহ করে তুলেছে।
তারা অভিযোগ করেন, বিদ্যুৎ চলে গেলে পুরো হোস্টেল অন্ধকারে ডুবে যায়, আর পানির জন্য বাধ্য হয়ে বাইরের দোকান থেকে বোতলজাত পানি কিনে আনতে হয়।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন শিক্ষার্থী বলেন, 'আমরা চিকিৎসক হওয়ার জন্য কঠোর পরিশ্রম করছি, অথচ মৌলিক চাহিদাগুলোরই সঠিক ব্যবস্থা নেই। এই পরিস্থিতিতে পড়াশোনা চালিয়ে যাওয়া কষ্টকর।'
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেছেন, গত অর্থবছরে হোস্টেলের জন্য বরাদ্দ বাজেটের সঠিক ব্যয়ের হিসাব প্রকাশ করা হয়নি। তারা দ্রুত ওই হিসাব জনসমক্ষে প্রকাশের দাবি জানান।
এর আগের দিন, বুধবার (৬ আগস্ট) শিক্ষার্থীদের একটি প্রতিনিধি দল কলেজ অধ্যক্ষ ডা. জিয়াউর রহমান চৌধুরীর সঙ্গে সাক্ষাৎ করেন। তারা হোস্টেল সংকটের বিস্তারিত তুলে ধরে অবিলম্বে ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানান।
শিক্ষার্থীদের আল্টিমেটাম অনুযায়ী, আগামী শনিবারের (৯ আগস্ট) মধ্যে সমস্যার সমাধানে সন্তোষজনক অগ্রগতি না হলে, রবিবার (১০ আগস্ট) থেকে তারা অনির্দিষ্টকালের জন্য ক্লাস ও একাডেমিক কার্যক্রম বর্জনের ঘোষণা দিয়েছেন।
কলেজ প্রশাসনের পক্ষ থেকে শিক্ষার্থীদের দাবির বিষয়ে এখনও কোনো লিখিত প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
তবে সংশ্লিষ্ট সূত্র জানিয়েছে, অধ্যক্ষ শিক্ষার্থীদের দাবিগুলো গুরুত্বসহকারে বিবেচনার আশ্বাস দিয়েছেন।
এদিকে, শিক্ষার্থীদের আন্দোলনে সংহতি জানিয়েছেন বেশ কয়েকজন অভিভাবক ও প্রাক্তন শিক্ষার্থী। তাদের মতে, 'হোস্টেলের পরিবেশ উন্নত না হলে, মেডিকেল শিক্ষার মানও ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
শিক্ষার্থীরা এখন প্রশাসনের কার্যকর পদক্ষেপের অপেক্ষায় রয়েছেন। শনিবারের মধ্যে দাবি পূরণ না হলে রবিবার থেকে ক্লাস বর্জনের ঘোষণা শিক্ষাঙ্গণে উত্তেজনা সৃষ্টি করেছে।
৪৪৬ দিন আগে
খুমেক হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে পালাল আসামি
খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে মাদক মামলার ইউসুফ (২৩) নামে এক আসামি পালিয়ে গেছেন। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) ভোর রাত সাড়ে ৩টার দিকে এ ঘটনা ঘটে।
তিনি নগরীর খালিশপুর থানার আলমনগর মোড়ের শাহজাহান হাওলাদারের ছেলে।
পুলিশ জানায়, বুধবার দুপুরে আলমনগর মোড় থেকে ২০ পিস ইয়াবাসহ ইউসুফকে গ্রেপ্তার করে খালিশপুর থানা পুলিশ। এ ঘটনায় রাতেই খালিশপুর থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে তার বিরুদ্ধে মামলা হয়। রাতে বুকে ব্যথা অনুভব হলে তাকে হাসপাতালে নিয়ে যায় পুলিশ।
খুলনা মেডিকেল কলেজের একটি সূত্র জানা যায়, ৬ আগস্ট খালিশপুর থানায় দায়ের হওয়া মাদক মামলায় আসামি ইউসুফ পুলিশের হাতে গ্রেপ্তার হওয়ার পর বুকে ব্যাথা উঠলে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের প্রিজন সেলে রেখে চিকিৎসা দেওয়া হয়। ওই সেলে মাকসুদ আলম নামে আরও একজন আসামি চিকিৎসা নিচ্ছিলেন।
পড়ুন: পাঁচ দফা দাবিতে খুমেকে ইন্টার্ন চিকিৎসকদের কর্মবিরতি
রাত সাড়ে ৩টার দিকে মাকসুদ বাথরুমে যাওয়ার প্রয়োজন জানায়। এ সময়ে সেখানে উপস্থিত পুলিশ কনস্টেবল রাব্বি আলী তালা খুলে দেয় এবং তাকে বাথরুমে নিয়ে যায়। তবে পুলিশ কনস্টেবল দরজার তালাটি বন্ধ করতে ভুলে যায়। পরবর্তীতে বাথরুম থেকে মাকসুদকে ফেরত নিয়ে আসার সময় অপর আসামি ইউসুফ সেলে আর নেই। সেখান থেকে সে পালিয়েছে। এ ঘটনায় হাসপাতাল এলাকায় ব্যাপক শোরগোল সৃষ্টি হয়।
খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের উপকমিশনার (দক্ষিণ) মো. আবু তারেক জানান, প্রিজন সেলের অপর প্রান্তে কারারক্ষীদের অবস্থানের স্থান। সেই গেটে তালা না থাকার সুযোগে রাত সাড়ে ৩টার দিকে হাসপাতালের প্রিজন সেল থেকে মাদক মামলার আসামি ইউসুফ পালিয়ে যায়। ওই আসামিকে গ্রেপ্তারে বিভিন্নস্থানে অভিযান চালানো হচ্ছে। এ ঘটনায় দায়িত্বরত ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে বিভাগীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
৪৪৬ দিন আগে
৪ সংস্কার কমিশনের ১৬ সুপারিশ বাস্তবায়ন করেছে অন্তর্বর্তী সরকার
অন্তর্বর্তী সরকার ৪টি সংস্কার কমিশনের করা ১৬টি সুপারিশ বাস্তবায়ন করেছে বলে জানিয়েছে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) রাতে প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়।
কমিশনগুলো হলো— নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশন, জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশন, দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশন এবং বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশন।
বার্তায় বলা হয়, নির্বাচন ব্যবস্থা সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে দুটি বাস্তবায়ন হয়েছে— আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল আইন সংশোধন এবং নির্বাচন পর্যবেক্ষণ ও গণমাধ্যম নীতিমালা।
জনপ্রশাসন সংস্কার কমিশনের নাগরিকদের পাসপোর্ট পাওয়া মৌলিক অধিকার ও গণশুনানির সুপারিশ এরমধ্যেই বাস্তবায়িত হয়েছে।
পড়ুন: ডিসেম্বরের প্রথমার্ধে জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল: ইসি সানাউল্লাহ
দুর্নীতি দমন কমিশন সংস্কার কমিশনের চারটি সুপারিশ বাস্তবায়ন করা হয়েছে— তদন্ত-পূর্ব আবশ্যিক অনুসন্ধান-ব্যবস্থা বিলোপ, দুদক আইনের ধারা-৩২ক বিলোপ, উচ্চমাত্রার দুর্নীতি তদন্তে বিভিন্ন এজেন্সির সমন্বয়ে আলাদা টাস্কফোর্স গঠন এবং সিএজি ও আএমইডির সঙ্গে সমঝোতা স্মারক সই।
এ ছাড়াও বিচার বিভাগ সংস্কার কমিশনের সুপারিশগুলোর মধ্যে আটটি বাস্তবায়ন করা হয়েছে। সেগুলো হলো—সুপ্রিম কোর্টের বিচারক নিয়োগ কমিশন, ইনফরমেশন ডেস্ক স্থাপন, নারী ও শিশুদের জন্য স্বতন্ত্র স্থান, আইনজীবীর বিরুদ্ধে দায়েরকৃত মামলায় অপর পক্ষে অন্য আইনজীবীর নিয়োগে প্রতিবন্ধকতা দূরীকরণের বিষয়ে সার্কুলার জারি, আইনগত সহায়তা কার্যক্রমের সঙ্গে মধ্যস্থতা কার্যক্রমকে সংযুক্তকরণ, দেওয়ানি মামলা নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করা এবং ফৌজদারি মামলার নিষ্পত্তি ত্বরান্বিত করা।
৪৪৬ দিন আগে
১২ আগস্ট থেকে পরিবহন শ্রমিকদের কর্মবিরতির ঘোষণা
আট দফা দাবিতে কর্মবিরতির ডাক দিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতি ও শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশন। আগামী ১১ আগস্টের মধ্যে তাদের দাবি না মানলে ১২ আগস্ট সকাল থেকে দেশব্যাপী টানা ৭২ ঘণ্টা পরিবহন শ্রমিকরা এ কর্মবিরতি পালন করবেন।
বাণিজ্যিক মোটরযানের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল ২০ ও ২৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করাসহ আট দফা দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদ। দাবি সম্বলিত স্মারকলিপি এরমধ্যেই সংশ্লিষ্ট উপদেষ্টাসহ সকল দপ্তরে দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) দুপুর আড়াইটার দিকে সিলেট কেন্দ্রীয় বাস টার্মিনালের হলরুমে সড়ক পরিবহন মালিক-শ্রমিক সমন্বয় পরিষদের এক সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। এতে সভাপতির বক্তব্যে বাংলাদেশ সড়ক পরিবহন মালিক সমিতির কার্যকরী পরিষদের সভাপতি এম এ বাতেন তাদের আট দফা দাবি তুলে ধরেন।
দাবিগুলো হলো— সড়ক পরিবহন আইন ২০১৮’র ৯৮ ও ১০৫ নম্বর ধারা সংশোধন করা, পুরোনো বাণিজ্যিক যানবাহনের অর্থনৈতিক আয়ুষ্কাল (ইকোনমিক লাইফ) ২০ ও ২৫ বছর থেকে বাড়িয়ে ৩০ বছর করা— সেটা না হওয়া পর্যন্ত পুরোনো গাড়ির বিরুদ্ধে অভিযান স্থগিত রাখা, বাজেটে বাণিজ্যিক যানবাহনের ওপর আরোপিত দ্বিগুণ অগ্রিম আয়কর কমিয়ে আগের মতো বহাল করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহন রাস্তা থেকে সরানোর জন্য সহায়ক হিসেবে বাণিজ্যিক রিকন্ডিশন যানবাহন আমদানির সময়সীমা ৫ থেকে বাড়িয়ে ১২ বছর করা, দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি ৭২ ঘণ্টার মধ্যে মালিকের জিম্মায় দেওয়ার বিধান কার্যকর করা, মেয়াদোত্তীর্ণ যানবাহনের জন্য স্ক্র্যাপ নীতিমালা প্রণয়ন, মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন ও অনুমোদনহীন হালকা যানবাহনের জন্য আলাদা লেন তৈরি করা, ড্রাইভিং লাইসেন্স ও নবায়ন দ্রুত দেওয়া এবং শ্রমিক ফেডারেশনের ১২ দফা বাস্তবায়ন করা।
বক্তারা বলেন, সম্প্রতি সরকার ২০ ও ২৫ বছর বয়সের পুরোনো বাস ও ট্রাক সড়ক থেকে অপসারণের জন্য বিআরটিএকে নির্দেশ দিয়েছে। এতে পরিবহন খাতে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এমন পরিস্থিতিতে পরিবহন খাতের মালিক-শ্রমিক নেতারা গত ২০ জুলাই যৌথ সভা করেন। সেখানে আট দফা দাবি বাস্তবায়নে সরকারকে ১৫ কার্যদিবস সময় বেঁধে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয় তারা।
বক্তারা আরও বলেন, সড়কপথে যাত্রী ও পণ্য পরিবহন ব্যবস্থাপনা সচল রাখার স্বার্থে ১১ আগস্টের মধ্যে বিষয়টি নিষ্পত্তির জন্য সরকারকে অনুরোধ জানানো হচ্ছে। তা নাহলে দেশের পরিবহন মালিক–শ্রমিকদের দাবির পরিপ্রেক্ষিতে ১২ আগস্ট সকাল ছয়টা থেকে ১৫ আগস্ট সকাল ছয়টা পর্যন্ত ৭২ ঘণ্টার জন্য সিলেটসহ সারা দেশে বাস, ট্রাক, কাভার্ডভ্যান, পণ্যবাহী পরিবহন ও হালকা যানবাহন চলাচল বন্ধ থাকবে।
৪৪৬ দিন আগে
পাইকগাছায় দুই হাজার মানুষ পেলেন বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসা
খুলনার পাইকগাছা উপজেলার পল্লি অঞ্চল নগর শ্রীরামপুরে দুই সহস্রাধিক মানুষের চোখের চিকিৎসা ও ছানি অপারেশন সেবা প্রদান করা হয়েছে। বাংলাদেশ সংবাদ সংস্থার (বাসস) চেয়ারম্যান ও দৈনিক ইত্তেফাকের যুগ্ম সম্পাদক আনোয়ার আলদীনের সার্বিক তত্ত্বাবধানে আয়োজিত এই ক্যাম্পে বিনামূল্যে চক্ষু চিকিৎসাসেবা পেয়েছেন সাধারণ মানুষ।
‘জিয়া প্রাইমারি হেলথ কেয়ার সেন্টার’-এর ব্যবস্থাপনায় এবং ‘সাইটসেভার্স’-এর অর্থায়নে বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) সকাল ৯টা থেকে দুপুর ১টা পর্যন্ত এ সেবা কার্যক্রম চলে। অংশ নেয় ব্র্যাক ও খুলনা বিএনএসবি চক্ষু হাসপাতালের ১২ সদস্যের অভিজ্ঞ চিকিৎসক ও নার্সদের মেডিকেল দল।
ক্যাম্পে চোখের সাধারণ রোগের পাশাপাশি ছানি রোগীদের বাছাই করে ভবিষ্যতে বিনামূল্যে ছানি অপারেশনের ব্যবস্থা রাখা হয়েছে। নির্বাচিত রোগীদের অস্ত্রোপচারের পর দেওয়া হবে কালো চশমা ও এক মাসের ওষুধ।
এই বৃহৎ আয়োজনে সভাপতিত্ব করেন পাইকগাছা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক ডা. আব্দুল মজিদ। প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন আনোয়ার আলদীন। অনুষ্ঠানে রাজনৈতিক ও পেশাজীবী সংগঠনের নেতৃবৃন্দ ছাড়াও চিকিৎসক ও স্বেচ্ছাসেবকেরা অংশ নেন।
চিকিৎসাসেবা নিতে আসা পাইকগাছা ও কয়রা উপজেলার বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ চোখের পরীক্ষা, চিকিৎসা, চশমা ও ওষুধ গ্রহণ করেন। ছানি রোগী শনাক্তে রোগীদের বিনামূল্যে রক্তচাপ, চোখের প্রেসার, ডায়াবেটিসসহ প্রয়োজনীয় নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা করা হয়। এতে পাঁচ শতাধিক রোগীকে ছানি অপারেশনের জন্য চূড়ান্তভাবে নির্বাচিত করা হয়েছে।
আনোয়ার আলদীন বলেন, “সামাজিক দায়বদ্ধতা থেকে এ আয়োজন। আমাদের চারপাশে বহু মানুষ দৃষ্টি সমস্যায় ভুগছেন, কিন্তু অর্থের অভাবে চিকিৎসা নিতে পারেন না। তাঁদের কথা ভেবেই এই ক্যাম্পের উদ্যোগ। ভবিষ্যতেও এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।”
চিকিৎসা নিতে আসা পাইকগাছার আনোয়ারা খাতুন বলেন, “চোখে সমস্যা ছিল, টাকা না থাকায় ডাক্তার দেখাতে পারিনি। আজ ফ্রি ক্যাম্পে এসে চিকিৎসা করাতে পারলাম। অপারেশনের সুযোগও পেলাম। আল্লাহ যেন আয়োজকদের ভালো রাখেন।”
৪৪৬ দিন আগে
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী এক বছরে অর্জন অনেক: শেখ বশিরউদ্দীন
জুলাই অভ্যুত্থান পরবর্তী এক বছরে অনেক অর্জন হয়েছে বলে উল্লেখ করেছেন বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি বলেন, আমরা কাঠামোগত সংস্কার করে একটি পর্যায়ে উপনীত হতে পারবো, যার মাধ্যমে পরবর্তী নির্বাচিত সরকার দেশকে সুষ্ঠু অর্থনীতি ও বৈষম্যহীন যাত্রায় অগ্রসর করতে পারবে।
বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট ) বিকালে ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশ (টিসিবি) মিলনায়তনে ছাত্র জনতার জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মরণে জুলাই পুনর্জাগরণ উদযাপনের অংশ হিসেবে আয়োজিত বিশেষ অনুষ্ঠানমালায় তিনি একথা বলেন।
অনুষ্ঠানের শুরুতে জুলাই অভ্যুত্থানে শহীদদের স্মরণে দাঁড়িয়ে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়। বাণিজ্য এবং বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয় যৌথভাবে এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে।
পড়ুন: দেশের স্বার্থ ক্ষুণ্ণ করে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চুক্তির বিষয়টি সম্পূর্ণ অবান্তর: বাণিজ্য উপদেষ্টা
উপদেষ্টা বলেন, প্রস্তাবিত সংস্কারসমূহ স্বল্প সময়ে শতভাগ বাস্তবায়ন করা না গেলেও উপযুক্ত রোডম্যাপ নিশ্চিত করার চেষ্টা চলছে। কিভাবে আরও ভালো পারফর্ম করা যায় ,একটা ভালো নির্বাচন অনুষ্ঠান করা যায়, এ ব্যাপারে সকল উপদেষ্টা প্রধান উপদেষ্টার নেতৃত্বে ঐক্যবদ্ধ।
জুলাই পরবর্তী এক বছরে অনেক অর্জন হয়েছে উল্লেখ করে উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, আমরা বাজার ব্যবস্থায় সিন্ডিকেশন নির্মূল করতে পেরেছি। টিসিবির কার্যক্রমকে অন্তর্ভুক্তিমূলক করতে পেরেছি। এক কোটি পরিবারকে কার্ড দেওয়ার কার্যক্রম হাতে নিয়েছি। আমাদের ম্যাক্রো ইকনোমিতে ব্যালেন্স সারপ্লাস, আমাদের ফিনান্সিয়াল একাউন্টে আমরা সারপ্লাস, রিজার্ভ যেটা সম্ভবত ১০ বিলিয়নে নেমে গিয়েছিল সেটা এখন ৩০ বিলিয়নে উঠে এসেছে। রপ্তানি বিগত ৩২ মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ হয়েছে। বৈষম্য দূরীকরণেও আমাদের অগ্রগতি হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
উপদেষ্টা বলেন , জুলাইয়ে যে আন্দোলন শুরু হয়েছিল এবং আমরা যে সমন্বিতভাবে, সমস্বরে অন্যায়ের বিরুদ্ধে না বলতে পেরেছি তার জন্য আমাদের মূল্য দিতে হয়েছে। ছোট্ট শিশু প্রিয়া গোপ থেকে ইয়ামিনকে জীবন দিতে হয়েছে। জুলাই-আগস্টে আরও যে স্যাক্রিফাইস করতে হয়েছে তা অবর্ণনীয়। সেই দায়বোধ থেকে জুলাইকে স্মরণ করতে এসেছি, আরও বেশি জানতে এসেছি।
বিশেষ অনুষ্ঠানমালার মধ্যে ছিলো দুইজন জুলাই যোদ্ধার স্মৃতিচারণ, শোন মহাজন, টেস্টিমনি অব মার্টায়ার্স ফ্যামিলি ও কত বিপ্লবী বন্ধুর রক্তে রাঙা তথ্যচিত্র প্রদর্শন, জুলাই কেন্দ্রিক গীতি আলেখ্য ও আলোচনা সভা।
পড়ুন: আগামী বছর চামড়া সংরক্ষণে মানুষের আগ্রহ আরও বাড়বে: বাণিজ্য উপদেষ্টা
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে বস্ত্র ও পাট মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. আব্দুর রউফ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানের তাৎপর্যকে হৃদয়ে ধারণ করে যদি আন্তরিকতা, সততা ও নিষ্ঠার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা যায়— তবেই আমরা বৈষম্যহীন, মানবিক ও কল্যাণমূলক একটি টেকসই রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করতে সক্ষম হবো।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব মাহবুবুর রহমান বলেন, বিগত ১৭ বছর ক্রণিক ক্যাপিটালিজম হয়েছে। কতিপয় মানুষকে সুবিধা দেওয়ার জন্য সমগ্র রাষ্ট্রযন্ত্রকে ব্যবহার করা হয়েছে। এই ব্যবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটাতে জুলাইয়ের চেতনাকে ধারণ করে বৈষম্যহীন ন্যায়ভিত্তিক সমাজ কাঠামো, ন্যায়ভিত্তিক নীতি কাঠামো ও ন্যায়ভিত্তিক আচরণ প্রতিষ্ঠা করা দরকার।
অনুষ্ঠানে স্বাগত বক্তব্য দেন ট্রেডিং করপোরেশন অব বাংলাদেশের চেয়ারম্যান বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মোহাম্মদ ফয়সল আজাদ। ছাত্র জনতার অভ্যুত্থানে সক্রিয় অংশগ্রহণকারী আরিফুল ইসলাম আরিফ ও সায়লা আক্তার শশী জুলাই অভ্যুত্থানের স্মৃতিচারণ করে বক্তব্য দেন।
৪৪৭ দিন আগে
রংধনু গ্রুপ চেয়ারম্যানের বিরুদ্ধে ৮৭৮ কোটি টাকা পাচারের অভিযোগে মামলা
রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, তাঁর ছেলে ও ভাইসহ পরিবারের আট সদস্যের বিরুদ্ধে প্রায় ৮৭৮ কোটি টাকা পাচার ও প্রতারণার অভিযোগে মামলা করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)। পাশাপাশি অভিযুক্তদের ১৩টি ব্যাংক হিসাব আদালতের আদেশে জব্দ করা হয়েছে।
বুধবার (৬ আগস্ট) রাতে রাজধানীর গুলশান থানায় মামলাটি দায়ের করা হয়। বৃহস্পতিবার (৭ আগস্ট) বিকেলে সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) জসীম উদ্দিন খান এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানান।
আসামিরা হলেন—রংধনু গ্রুপের চেয়ারম্যান রফিকুল ইসলাম, তাঁর ভাই আবদুল হাই এবং ছেলেরা—কাউসার আহমেদ অপু ও মেহেদী হাসান দিপু। এ ছাড়া তাঁদের স্ত্রী, ভাগনে ও আত্মীয়সহ মোট আটজনের বিরুদ্ধে মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইন, ২০১২ (সংশোধিত ২০১৫)–এর ৪(২) ও ৪(৩) ধারায় মামলা দায়ের করা হয়েছে।
মামলায় বলা হয়েছে, আসামিরা প্রতারণা ও জালিয়াতির মাধ্যমে অবৈধ অর্থ উপার্জন করে বিদেশে পাচার করেছেন এবং ওই অর্থের মাধ্যমে অ্যান্টিগা ও বারবুডায় ২০ লাখ মার্কিন ডলার বিনিয়োগ করে সে দেশের নাগরিকত্ব গ্রহণ করেছেন।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, ‘অভিযুক্তরা প্রতারণার মাধ্যমে বিভিন্ন ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠান থেকে বিপুল পরিমাণ অর্থ ঋণ হিসেবে নিয়ে আত্মসাৎ করেছেন। এসব অর্থ বিদেশে পাচার করে এক দেশের নাগরিকত্ব পর্যন্ত গ্রহণ করেছেন। এটি সুপরিকল্পিত মানি লন্ডারিংয়ের ঘটনা।’
সিআইডি জানায়, মামলার তদন্তে দেখা গেছে, ২০২২ সালে মেহেদী হাসান দিপু ও কাউসার আহমেদ অপু বিভিন্ন ব্যক্তির কাছে জমি বিক্রির নামে প্রতারণার মাধ্যমে প্রায় ৫৭ কোটি টাকা হাতিয়ে নেন। কিন্তু জমি বুঝিয়ে না দিয়ে ওই অর্থ আত্মসাৎ করেন।
রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে রংধনু গ্রুপ পুলিশের একটি নির্মাণ প্রকল্প—পুলিশ অফিসার্স বহুমুখী সমবায় সমিতি লিমিটেড—এর নামে ভুয়া কার্যাদেশ ও বিল দেখিয়ে ফার্স্ট সিকিউরিটি ইসলামী ব্যাংক থেকে ২৭০ কোটি টাকা এবং ইউনিয়ন ব্যাংক থেকে ২০০ কোটি টাকা ঋণ নেন। এ ছাড়া ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেডের বারিধারা শাখা থেকে ভুয়া মূল্যায়ন রিপোর্ট দেখিয়ে আরও ৪০০ কোটি টাকার ঋণ নেওয়া হয়। সব মিলিয়ে মোট ঋণের পরিমাণ দাঁড়ায় ৮৭৮ কোটি টাকা।
পড়ুন: পাঁচ দিনের রিমান্ডে মেজর সাদিকের স্ত্রী সুমাইয়া জাফরিন
এ অর্থের একটি অংশ বিদেশে পাচার করে বিভিন্ন দেশে সম্পত্তি কেনা হয়েছে বলে অভিযোগে উল্লেখ রয়েছে। সিআইডি জানায়, আসামিরা একে অপরের সহযোগিতায় মানিলন্ডারিং করেছেন এবং এতে অজ্ঞাতনামা ব্যক্তিরাও সহায়তা করেছেন।
জসীম উদ্দিন খান বলেন, ‘বাংলাদেশ ফিন্যান্সিয়াল ইন্টেলিজেন্স ইউনিটের অনুরোধে সিআইডি ইতিমধ্যে অভিযুক্তদের ১৩টি ব্যাংক হিসাব জব্দ করেছে। এসব হিসাবে মোট প্রায় ১৭ কোটি টাকা রয়েছে।’
এ ছাড়া, যমুনা ফিউচার পার্কে রংধনু গ্রুপের মালিকানাধীন এক লাখ বর্গফুটের বেশি বাণিজ্যিক স্পেস (লেভেল–০২) আদালতের আদেশে ক্রোক করা হয়েছে। সিআইডি আরও জানায়, মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে করা মামলাটি গুরুত্ব সহকারে তদন্ত করা হচ্ছে এবং দোষীদের বিরুদ্ধে কঠোর আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে। মামলার অন্যান্য আসামিদের পরিচয় ও সম্পৃক্ততা অনুসন্ধান করা হচ্ছে। ভবিষ্যতে আরও সম্পত্তি ক্রোকের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলেও জানানো হয়েছে।
৪৪৭ দিন আগে