বাংলাদেশ
অর্থপাচার মামলা : পাপিয়ার কারাদণ্ড, খালাস পেলেন স্বামীসহ ৪ জন
অর্থপাচার আইনে করা মামলায় যুব মহিলা লীগের বহিষ্কৃত নেত্রী শামীমা নূর পাপিয়ার চার বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন ঢাকার একটি আদালত।
রবিবার (২৫ মে) ঢাকার বিশেষ জজ আদালত-৮ এর বিচারক মঞ্জুরুল হোসেন এ রায় দেন। পাশাপাশি তাকে পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অনাদায়ে আরও তিন মাসের সাজা দেওয়া হয়েছে। এদিন পাপিয়া আদালতে উপস্থিত না হওয়ায় তার বিরুদ্ধে সাজাসহ গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারি করা হয়েছে।
তবে মামলার অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়ায় তার স্বামীসহ চারজনকে খালাস দেওয়া হয়েছে। খালাস পাওয়া আসামিরা হলেন- পাপিয়ার স্বামী মফিজুর রহমান ওরফে সুমন চৌধুরী, পাপিয়ার সহযোগী সাব্বির খন্দকার, শেখ তায়িবা নূর ও জুবায়ের আলম।
পাপিয়ার মামলার সূত্রে জানা যায়, ২০২০ সালের ২২ ফেব্রুয়ারি হজরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর থেকে জাল টাকা বহন ও অবৈধ টাকা পাচারের অভিযোগে পাপিয়াসহ চারজনকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। এ সময় তাদের কাছ থেকে সাতটি পাসপোর্ট, বাংলাদেশি দুই লাখ ১২ হাজার ২৭০ টাকা, ২৫ হাজার ৬০০ জাল টাকা, ৩১০ ভারতীয় রুপি, ৪২০ শ্রীলঙ্কান মুদ্রা, ১১ হাজার ৯১ মার্কিন ডলার ও সাতটি মোবাইল ফোন উদ্ধার করা হয়।
একই বছরের ২৩ ফেব্রুয়ারি পাপিয়ার ইন্দিরা রোডের বাসায় অভিযান চালিয়ে একটি বিদেশি পিস্তল, দুটি ম্যাগজিন, ২০ রাউন্ড গুলি, ৫ বোতল বিদেশি মদ, ৫৮ লাখ ৪১ হাজার টাকা, ৫টি পাসপোর্ট, ৩টি চেক, বেশকিছু বিদেশি মুদ্রা ও বিভিন্ন ব্যাংকের ১০টি এটিএম কার্ড উদ্ধার করা হয়।
আরও পড়ুন: পাপিয়ার জামিন স্থগিত
ওই ঘটনায় পাপিয়া ও তার স্বামীর বিরুদ্ধে শেরেবাংলা নগর থানার মাদক ও অস্ত্র মামলা, গুলশান থানায় মানি লন্ডারিংয়ের মামলা দায়ের করা হয়। এছাড়াও জাল টাকা উদ্ধারের ঘটনায় বিমানবন্দর থানায় বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা করা হয়। এছাড়া অবৈধ সম্পদ অর্জনের অভিযোগে তার বিরুদ্ধে মামলা করে দুদক।
২০২১ সালের ২৭ ডিসেম্বর অর্থপাচার আইনের মামলায় পাপিয়াসহ পাঁচজনকে অভিযুক্ত করে অভিযোগপত্র দাখিল করেন সিআইডি পুলিশের আরেক পরিদর্শক ইব্রাহীম হোসেন। ২০২২ সালের ২১ আগস্ট এ মামলায় তাদের বিচার শুরু হয়।
৩৯০ দিন আগে
মহাখালী থেকে বিএটি’র সিগারেট কারখানা সরানোর দাবি
ঢাকার মহাখালী ডিওএইচএস থেকে ব্রিটিশ আমেরিকান টোব্যাকো (বিএটি) বাংলাদেশ-এর সিগারেট কারখানা অপসারণের দাবি জানিয়েছে তামাকবিরোধী ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম ‘স্টপ টোব্যাকো বাংলাদেশ’।
রবিবার (২৫ মে) প্রধান উপদেষ্টা বরাবর দেওয়া এক খোলা চিঠিতে সংগঠনটি পরিবেশ সুরক্ষা ও জনস্বাস্থ্যের স্বার্থে কারখানাটি দ্রুত অপসারণের আহ্বান জানিয়েছে।
চিঠিতে বলা হয়, ‘১৯৬৫ সালে কারখানাটি স্থাপনের সময় মহাখালী ছিল ঢাকার বাইরের গ্রামীণ জনপদ। এখন এটি একটি ঘনবসতিপূর্ণ মিশ্র-আবাসিক এলাকা, যেখানে হাজার হাজার পরিবার, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান ও শিশু-কিশোরের বসবাস।’
স্টপ টোব্যাকো জানায়, ‘বিএটি’র কারখানা থেকে নির্গত নিকোটিনসহ বিষাক্ত রাসায়নিক ডিওএইচএস, বনানী ও ক্যান্টনমেন্ট এলাকার বায়ুদূষণের বড় উৎস। এতে শিশুদের অ্যাজমা, সিওপিডি ও অন্যান্য শ্বাসকষ্টজনিত রোগের ঝুঁকি বাড়ছে।’
চিঠিতে অভিযোগ করা হয়, “পরিবেশ সংরক্ষণ বিধিমালা, ১৯৯৭ অনুসারে সিগারেট কারখানা ‘লাল’ শ্রেণিভুক্ত হলেও বিএটি প্রভাব খাটিয়ে ২০২৩ সালে এটিকে ‘কমলা’ শ্রেণিতে নামিয়ে আনে। এ প্রক্রিয়ায় কিছু সচিব, সামরিক কর্মকর্তা ও প্রভাবশালীদের জড়িত থাকার অভিযোগও তুলেছে সংগঠনটি।”
আরও পড়ুন: সরকারি কর্মচারী অধ্যাদেশ বাতিল দাবিতে সচিবালয়ে বিক্ষোভ
তারা বলেছে, ‘কারখানাটির কারণে এলাকায় শুধু বায়ু ও শব্দদূষণই নয়, বরং ট্রাক-লরির কারণে যানজট ও সড়ক দুর্ঘটনার আশঙ্কাও বাড়ছে।
চিঠিতে আরও বলা হয়, ‘বিশ্বের অনেক দেশ এরইমধ্যে শহরের অভ্যন্তর থেকে সিগারেট কারখানা সরিয়ে নিচ্ছে। অথচ ঢাকার কেন্দ্রস্থলে বিএটি’র কারখানা চালু রাখা জনস্বার্থ ও পরিবেশ আইন—দুটোই লঙ্ঘন করছে।’
খোলাচিঠিতে সিগারেট কারখানাকে ‘কমলা’ শ্রেণিভুক্ত করার সিদ্ধান্ত এবং পরিবেশ ছাড়পত্র প্রদানসহ সব বিষয়ে তদন্তের দাবি জানানো হয়।
৩৯০ দিন আগে
অধ্যাদেশ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সচিবালয়ে কাজে ফিরবেন না কর্মচারীরা
‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত সচিবালয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা কাজে ফিরবেন না বলে জানিয়েছেন। রবিবার (২৫ মে) সচিবালয়ের প্রধান ফটক আটকে বিক্ষোভ করার সময় বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের সভাপতি বাদিউল কবীর এ ঘোষণা দেন।
তিনি বলেন, ‘এই অধ্যাদেশের মাধ্যমে যে অপপ্রয়াস নেওয়া হচ্ছে, আমরা তাদের এই অপপ্রয়াস রুখে দেবো, ইনশাআল্লাহ। এটি নিবর্তনমূলক আইন। এই অধ্যাদেশ সম্পূর্ণ প্রত্যাহার না করা পর্যন্ত আমরা কাজে ফিরব না। আমরা সচিবালয়ে বাদামতলায় (৬ নম্বর ভবনের সামনে চত্বর) অবস্থান করবো।‘
সব ফটক আটকে সচিবালয় অচল করে দেওয়ার হুমকিও দেন কর্মচারী নেতারা। তারা বলেন, ‘আমরা এ বিষয়ে অনেক উপদেষ্টা ও সচিবের সঙ্গে কথা বলেছি। কিন্তু, কেউ আমাদের আশ্বস্ত করতে পারেননি। আমরা বাধ্য হয়ে আন্দোলনের নেমেছি।’
২০১৮ সালের সরকারি চাকরি আইন সংশোধনে অধ্যাদেশের খসড়া নিয়ে ক্ষুব্ধ সব পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা। কারণ অধ্যাদেশের খসড়ায় শৃঙ্খলা বিঘ্নিত, কর্তব্য সম্পাদনে বাধা, ছুটি ছাড়া কর্মে অনুপস্থিত, কর্তব্য পালন না করার জন্য উসকানির জন্য আত্মপক্ষ সমর্থনের সুযোগ না দিয়ে চাকরিচ্যুতির বিধান যুক্ত করা হয়েছে।
গত ২২ মে উপদেষ্টা পরিষদের বৈঠকে ‘সরকারি চাকরি (সংশোধন) অধ্যাদেশ, ২০২৫’-এর খসড়া চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। তবে এ বিষয়টি পর্যালোচনার জন্য চারজন উপদেষ্টাকে দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। এরপর শনিবার সচিবালয়ে বিক্ষোভ করেন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এরআগে রবিবার সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সচিবালয়ে ৬ নম্বর ভবনের সামনে বাদামতলায় কর্মকর্তা কর্মচারীরা জড়ো হতে থাকেন। সকাল ১০টা নাগাদ বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীতে পূর্ণ হয়ে যায় সচিবালয়ের এ চত্বর। দশটার কিছু পরে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের একাংশের সভাপতি মো. নূরুল ইসলাম ও মহাসচিব মো. মুজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিছিল শুরু হয়।
এরপর সেখানে যোগ দেন সভাপতি বাদিউল কবীর ও মহাসচিব নিজাম উদ্দিন আহমেদের নেতৃত্বাধীন সংযুক্ত পরিষদের অপর অংশ। আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী এসোসিয়েশনসহ কর্মকর্তা কর্মচারীদের অন্যান্য সংগঠন যোগ দেয় মিছিলে।
মিছিল করার সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘সচিবালয়ের কর্মচারী, এক হও লড়াই কর’; ‘অবৈধ কালো আইন, মানি না মানবো না’; ‘আমাদের দাবি আমাদের দাবি, মানতে হবে মানতে হবে’- স্লোগান দিতে থাকেন।
আরও পড়ুন: যমুনা ও সচিবালয় এলাকায় সভা-সমাবেশ ও গণজমায়েত নিষিদ্ধ
৬ নম্বর ভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সামনে দিয়ে নতুন ভবন, ক্লিনিক ভবনের সামনে দিয়ে ১১ নম্বর ভবনের সামনে আসেন। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তারা মিছিল নিয়ে সচিবালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করতে থাকেন।
এরপর তারা বেলা সাড়ে ১১টার দিকে মিছিল নিয়ে ৪ নম্বর ভবনে গৃহায়ন ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খানের সঙ্গে তার দপ্তরে দেখা করতে যান। তবে তিনি দপ্তরে ছিলেন না।
পরে মিছিল নিয়ে তারা সচিবালয়ের এক নম্বর ফটক বা প্রধান ফটকের কাছে গিয়ে বসে পড়েন। সেখানে সংযুক্ত পরিষদ ও আন্তঃমন্ত্রণালয় কর্মচারী এসোসিয়েশনের নেতারা বক্তব্য দেন।
এ সময় প্রধান ফটক বন্ধ করে দেন দায়িত্বরত আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। প্রায় ২০ মিনিটের মত ফটক বন্ধ ছিল। এ সময় সচিবালয় থেকে কেউ বের এবং প্রবেশ করতে পারেনি।
পরে মিছিল নিয়ে কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ৬ নম্বর ভবনের সামনে অবস্থান নেন।
৩৯০ দিন আগে
যুক্তরাজ্যে সম্পদ জব্দের উদ্যোগকে সাধুবাদ, অন্য দেশেও পদক্ষেপ চায় টিআইবি
যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের পতিত কর্তৃত্ববাদী শাসকগোষ্ঠীর ঘনিষ্ঠ ও সুবিধাভোগীদের বিরুদ্ধে অর্থপাচার ও অবৈধ সম্পদের বিরুদ্ধে নেওয়া প্রথম আইনি পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশ (টিআইবি)।
সংস্থাটি আশা করছে, প্রায় ৯ কোটি পাউন্ড (প্রায় ১ হাজার ৪৭৯ কোটি টাকা) মূল্যের বিলাসবহুল সম্পদ জব্দ করার এই উদ্যোগের ধারাবাহিকতায় যুক্তরাজ্য ও বাংলাদেশের মধ্যে যৌথ আইনি সহায়তার পথ সুগম হবে এবং তদন্ত কার্যক্রম দ্রুত অগ্রসর হয়ে পাচারকৃত অর্থ-সম্পদের পুনরুদ্ধার সম্ভব হবে।
একইসঙ্গে যুক্তরাজ্যের এই পদক্ষেপকে অনুসরণ করে অর্থপাচারের গন্তব্য অন্যান্য দেশেও যেন বাংলাদেশি নাগরিক ও প্রতিষ্ঠানের মালিকানাধীন অবৈধ সম্পদ চিহ্নিত, জব্দ ও ফেরতের উদ্যোগ নেওয়া হয়—এ আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ আহ্বান জানিয়েছে টিআইবি।
আরও পড়ুন: কালো টাকা সাদা করার সব সুযোগ বাতিলের আহ্বান টিআইবির
এ বিষয়ে টিআইবির নির্বাহী পরিচালক ড. ইফতেখারুজ্জামান বিজ্ঞপ্তিতে বলেন, ‘বাংলাদেশ থেকে যুক্তরাজ্যে অবৈধভাবে পাচার হওয়া অর্থ-সম্পদ প্রথমবারের মতো জব্দের ঘটনায় আমরা আশাবাদী হতে চাই। তবে এটিকে কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা হিসেবে দেখার সুযোগ নেই, বরং এই জব্দ হওয়া অর্থ-সম্পদ হিমশৈলের চূড়ামাত্র। পতিত কর্তৃত্ববাদী সরকারের আশীর্বাদপুষ্ট আরও বহু ব্যক্তি বিপুল পরিমাণ অর্থ-সম্পদ পাচার করেছেন। তাদের প্রত্যেকের বিরুদ্ধে একই ধরনের পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘যৌথ আইনি সহায়তার মাধ্যমে যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশি অর্থপাচারকারীদের অবৈধ সম্পদ চিহ্নিত ও জব্দ করে তা দেশে ফেরত পাঠাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানাই আমরা।’
ড. ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘শুধু যুক্তরাজ্য নয়, সাম্প্রতিক কয়েক দশকে যুক্তরাষ্ট্র, সুইজারল্যান্ড, কানাডা, অস্ট্রেলিয়া, সিঙ্গাপুর, হংকং, মালয়েশিয়া, সংযুক্ত আরব আমিরাত (বিশেষ করে দুবাই) বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া অর্থ-সম্পদের কাঙ্ক্ষিত গন্তব্যে পরিণত হয়েছে। আমরা এসব দেশের প্রতিও আহ্বান জানাই— তারা যেন যুক্তরাজ্যের পদক্ষেপ অনুসরণ করে নিজেদের আইনি কাঠামো ও যৌথ আইনি সহায়তার আওতায় প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়।’
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে টিআইবি এসব দেশকে বাংলাদেশের সঙ্গে পারস্পরিক আইনি ও অন্যান্য বিশেষায়িত সহায়তা কার্যকর করে পাচারকৃত সম্পদ ফেরত পাঠাতে সক্রিয়ভাবে কাজ শুরু করার আহ্বান জানিয়েছে।
আরও পড়ুন: দুর্নীতি মামলার আসামিকে দুদকে পদায়ন গ্রহণযোগ্য নয়: টিআইবি
একই সঙ্গে, নিজ নিজ আইনি কাঠামোর আওতায় চুরি যাওয়া সম্পদ চিহ্নিত ও জব্দ করে তা দ্রুত ফেরতের প্রক্রিয়া ত্বরান্বিত করতে এবং আন্তর্জাতিক আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে অর্থপাচারকারীদের জবাবদিহির আওতায় আনতে বাংলাদেশ সরকারকে সক্রিয় ভূমিকা রাখতে আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাটি।
৩৯০ দিন আগে
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় বিএসএফের গুলিতে আহত ২, মেহেরপুরে ১৯ জনকে পুশ-ইন
ভারতের সীমান্তবর্তী বাংলাদেশের জেলাগুলোর পরিস্থিতি ক্রমেই উত্তপ্ত হয়ে উঠছে। সম্প্রতি এসব এলাকায় বিএসএফের গুলিবর্ষণ ও বাংলাদেশিদের পুশ-ইন করার ঘটনা বেড়েছে। শনিবার মধ্যরাতে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে দুজন আহত হন। পরে আজ (রবিবার) ভোরে মেহেরপুরের মুজিবনগর সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করা হয়েছে।
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় গুলিবিদ্ধ ২
শনিবার (২৪ মে) দিবাগত রাত দেড়টার দিকে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার কসবা উপজেলার খাদলা সীমান্তের শ্যামনগর এলাকার বিপরীত পাশে বিএসএফের গুলিতে দুই বাংলাদেশি আহত হয়েছেন।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন বর্ডার গার্ড বাংলাদেশের (বিজিবি) ৬০ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল জিয়াউর রহমান।
গুলিবিদ্ধ দুজন হলেন— কসবার শ্যামপুর এলাকার শের আলীর ছেলে মো. রবিউল ইসলাম (২৮) এবং মো. আজাদ হোসেন (২৬)। তারা বর্তমানে হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তবে তারা শঙ্কামুক্ত বলে জানা গেছে।
স্থানীয় ও বিজিবি সূত্র জানায়, রাত দেড়টার দিকে অন্তত ছয়জন ব্যক্তি সীমান্ত পেরিয়ে ভারতের ভেতরে প্রায় দেড়শ গজ পর্যন্ত ঢুকে পড়েন। এ সময় বিএসএফ তাদের লক্ষ্য করে ছররা গুলি ছোড়ে। এতে রবিউল ও আজাদ আহত হন। পরে স্থানীয়রা তাদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নিয়ে যান।
আরও পড়ুন: সিলেট সীমান্তে ২২ জনকে পুশ ইন করল বিএসএফ
স্থানীয়রা জানান, ঈদকে সামনে রেখে সীমান্ত দিয়ে গরু, মসলা, প্রসাধনী ও পটকা বাজি পাচারে সক্রিয় হয়ে উঠেছে চোরাকারবারিরা। সীমান্ত চোরাচালান এখন নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে।
বিজিবি কর্মকর্তা জিয়াউর রহমান বলেন, সীমান্তে গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনার বিস্তারিত জানার চেষ্টা চলছে।
মেহেরপুরে ১৯ জনকে পুশ-ইন
রবিবার (২৫ মে) ভোরে মেহেরপুরের মুজিবনগর উপজেলার সোনাপুর মাঝপাড়া সীমান্ত দিয়ে নারী-শিশুসহ ১৯ জনকে বাংলাদেশে পুশ-ইন করে বিএসএফ। সীমান্ত পার হয়ে তারা কেদারগঞ্জ বাজারের বিআরটিসি কাউন্টারের সামনে অবস্থান করছিলেন।
খবর পেয়ে মুজিবনগর থানা পুলিশ তাদের আটক করে থানায় নিয়ে যায়। পরে মুজিবনগর বিজিবি ক্যাম্পের সদস্যরা সেখানে যান।
মুজিবনগর থানা পুলিশ জানায়, আটক হওয়া ১৯ জনের মধ্যে ৯ জন শিশু, ৫ জন নারী ও ৫ জন পুরুষ রয়েছেন। তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক এবং জীবিকার সন্ধানে অবৈধভাবে ভারতে গিয়েছিলেন।
আটকদের মধ্যে রয়েছেন— কুড়িগ্রামের ভুরুঙ্গামারী উপজেলার কাঠগিরি গ্রামের আব্দুল জলিলের মেয়ে মোমেনা খাতুন ও তার তিন ছেলে মোজাম্মেল হক (২৩), মোস্তাক আহমেদ (১৯) ও কাবিল (১১); কুড়িগ্রামের নাগেশ্বরীর জয়মঙ্গল গ্রামের জালালউদ্দিনের ছেলে মইনুল ইসলাম, তার স্ত্রী কাঞ্চন বেগম, ছেলে কারণ (১৪), রবিউল (৭) ও মেয়ে মরিয়ম (৪); লালমনিরহাট সদর উপজেলার চুঙ্গগাড়া গ্রামের মৃত গণেশ চন্দ্র পালের ছেলে নিতাই চন্দ্র পাল, তার স্ত্রী গীতা রানী পাল, মেয়ে পার্বতী পাল (১৫), পূজা রানী পাল (৭) ও আরতী পাল (৩) এবং কুড়িগ্রামের ফুলবাড়ী উপজেলার কুঠিচন্দ্রখানা গ্রামের খলিলের ছেলে আমিনুল ইসলাম, তার স্ত্রী পারুল এবং তাদের দুই মেয়ে আমেনা (৪) ও আরফিনা (১১ মাস)।
আরও পড়ুন: সীমান্তে ভারতের ‘পুশ ইন‘ সুপরিকল্পিত ও ন্যাক্কারজনক: বিজিবি ডিজি
আটকদের বরাতে পুলিশ জানায়, তারা ভারতের হরিয়ানা রাজ্যে কাজ করতেন। সেখান থেকে ৬–৭ দিন আগে ভারতের বিভিন্ন এলাকা থেকে তাদের আটক করে পশ্চিমবঙ্গের মুর্শিদাবাদ জেলার বহরমপুর জেলে পাঠানো হয়। পরে রবিবার ভোরে বিএসএফ তাদের বাংলাদেশে পুশ-ইন করে।
মুজিবনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মিজানুর রহমান বলেন, তারা সীমান্ত পার হয়ে কেদারগঞ্জ বাজারে বিআরটিসি কাউন্টারে অবস্থান করেছিলেন। গোপন সূত্রে খবর পেয়ে তাদের আটক করে থানা হেফাজতে নেওয়া হয়েছে। জিজ্ঞাসাবাদ শেষে তাদের বিরুদ্ধে আইন অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
ইউএনবির ব্রাহ্মণবাড়িয়া ও মেহেরপুর প্রতিনিধির পাঠানো তথ্য থেকে প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
৩৯০ দিন আগে
চলছে পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট, বিপাকে রাজধানীবাসী
দশ দফা দাবিতে সারাদেশে চলছে আধাবেলা পেট্রোল পাম্প ধর্মঘট, বন্ধ ডিপো থেকে তেল উত্তোলন ও পরিবহন, বিপাকে পড়েছেন রাজধানীবাসী।
উত্তর বাড্ডার বাসিন্দা বাইক চালক জিয়া হোসেন সকালে স্ত্রীকে নিয়ে হাসপাতালে যাওয়ার জন্য বের হলে দেখেন আশপাশের সব পেট্রোল পাম্প বন্ধ।
নিজের দুরবস্থার কথা জানিয়ে জিয়া বলেন, অনেকেই জানে না আজকে ধর্মঘট চলছে। বাইক ঢেলে ঢেলে নানা পাম্পে ঘুরেও তেল পাওয়া যায়নি।
রাইড শেয়ারের আরেক বাইক চালক মনসুর বলেন, "আমরা প্রতিদিন সকালে তেল নিয়ে কাজে বের হই। আজকে সকাল থেকে প্রতিটা পাম্প বন্ধ। বাইকে তেল না থাকায় বসে থাকতে হচ্ছে।"
প্রাইভেট গাড়ির ড্রাইভার নজরুল জানান, পাম্পে তেল থাকলেও বিক্রি বন্ধ রেখেছে কর্মচারীরা। জ্বালানি না থাকায় সড়কে গাড়ির চাপও তুলনামূলক কম।
আরও পড়ুন: ১০ দাবিতে নাটোরে তেল ব্যবসায়ীদের ধর্মঘট চলছে
সরেজমিনে রাজধানীর মালিবাগ, রামপুরা, বাড্ডা, মধুবাগ, শাহজাহানপুর এলাকা ঘুরে দেখা যায় বেশিরভাগ পাম্প বন্ধ।
রামপুরার হাজিপাড়া পেট্রোল পাম্পের কর্মচারী আকবর বলেন, সকাল ৬টা থেকে দুপুর ২টা পর্যন্ত এ ধর্মঘট চলবে। এসময় তেল উত্তোলন এবং বিপণন বন্ধ থাকবে।
বাংলাদেশ পেট্রোল পাম্প ও ট্যাংকলরি মালিক ঐক্য পরিষদের ডাকা এই ধর্মঘটের মূল দাবি তেল বিক্রির কমিশন ন্যূনতম ৭ শতাংশ করা এবং সড়ক জনপথ অধিদপ্তরের ইজারা মাশুল আগেরটাই বহাল রাখা।
পাম্প সংযোগ সড়কের ইজারা নবায়নের সময় পে-অর্ডারকে নবায়ন হিসাবে গণ্য করা, বিএসটিআই কর্তৃক আন্ডারগ্রাউন্ড ট্যাংক ক্যালিব্রেশন, ডিপ রড পরীক্ষণ ফি এবং নিবন্ধন প্রথা বাতিল, পরিবেশ অধিদপ্তর, বিইআরসি, কলকারখানা পরিদপ্তর ও ফায়ার সার্ভিসের লাইসেন্স গ্রহণের নিয়ম বাতিল, বিপণন কোম্পানি থেকে ডিলারশিপ ছাড়া সরাসরি তেল বিক্রি বন্ধ, অননুমোদিতভাবে ঘর বা খোলা স্থানে তেল বিক্রয় বন্ধ, ট্যাংকলরি চালকদের লাইসেন্স নবায়ন ও নতুন লাইসেন্স ইস্যুতে জটিলতা দূর করা এবং সব ট্যাংকলরির জন্য আন্তঃজেলা রুট পারমিট প্রদানের দাবি জানিয়েছেন তারা।
এছাড়া যেখানে-সেখানে ট্যাংকলরি থামিয়ে কাগজপত্র পরীক্ষা না করে ডিপো গেইটে প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা এবং সব ট্যাংকলরির জন্য আন্তঃজেলা রুট পারমিট ইস্যু করার দাবি জানিয়েছে বাংলাদেশ পেট্রলপাম্প ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন ও বাংলাদেশ ট্যাংকলরি ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন মিলে গঠিত এ ঐক্য পরিষদ।
এদিকে পরিস্থিতি সামাল দিতে সকালে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠকে বসেছে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি)। বৈঠকের ওপর ভিত্তি করে পরবর্তী সিদ্ধান্ত নেয়া হবে বলে জানিয়েছে ঐক্য পরিষদ নেতারা।
৩৯০ দিন আগে
বনানীতে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত
রাজধানীর বনানীতে ট্রাকের সঙ্গে সংঘর্ষে দুই মোটরসাইকেল আরোহী নিহত হয়েছেন।
নিহতদের একজন মোটরসাইকেল চালক আশরাফুর রহমান আশিক (২৪), অপরজন আরোহী আসিফ মাহমুদ সম্পদ (২৫)।
বনানী থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. রাসেল সরোয়ার ইউএনবিকে জানান, সকাল ৯টা ৩০ থেকে ৯টা ৪০–এর মধ্যে বনানীতে এক্সপ্রেসওয়ের ঠিক পাশেই সিমেন্ট বোঝাই একটি ট্রাকের সঙ্গে মোটরসাইকেলের সংঘর্ষ হয়। এতে মোটরসাইকেলে থাকা দুই আরোহী ঘটনাস্থলেই মারা যান।
আরও পড়ুন: যশোরে দুই মোটরসাইকেলের সংঘর্ষে পুলিশসহ নিহত ২, আহত ১
তিনি জানান, ট্রাকটি আটক করা হয়েছে। তবে চালক পালিয়ে গেলেও হেলপারকে ঘটনাস্থল থেকেই আটক করা হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি জানান, মোটরসাইকেল চালক আশিক সম্প্রতি একটি প্রাইভেট বিশ্ববিদ্যালয় থেকে পড়াশোনা শেষ করে রাইড শেয়ারিং করছিলেন। নিহত আরোহী আসিফ মাহমুদ একজন মেরিন ইঞ্জিনিয়ার।
৩৯০ দিন আগে
সরকারি কর্মচারী অধ্যাদেশ বাতিল দাবিতে সচিবালয়ে বিক্ষোভ
সরকারি চাকরি অধ্যাদেশ প্রত্যাহারের দাবিতে দ্বিতীয় দিনের মতো প্রশাসনের প্রাণকেন্দ্র সচিবালয়ে বিক্ষোভ করেছেন কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদ। এ সময়ে অধ্যাদেশটি বাতিল না হলে আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ারও হুশিয়ারি দিয়েছেন তারা।
সরেজমিনে দেখা গেছে, রবিবার (২৫ মে) সকাল সাড়ে ৯টা থেকে সচিবালয়ে ৬ নম্বর ভবনের সামনে বাদামতলায় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা জড়ো হতে থাকেন। ১০টার দিকে বিপুলসংখ্যক কর্মকর্তা-কর্মচারীতে পূর্ণ হয়ে যায় সচিবালয়ের এই চত্বর। এরআগে শনিবারও সচিবালয়ে বিক্ষোভ করেছেন বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তা-কর্মচারীরা।
এদিকে আজ ১০টার কিছু পরে বাংলাদেশ সচিবালয় কর্মকর্তা-কর্মচারী সংযুক্ত পরিষদের একাংশের সভাপতি নূরুল ইসলাম ও মহাসচিব মুজাহিদুল ইসলামের নেতৃত্বে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের মিছিল শুরু হয়।
৬ নম্বর ভবনের সামনে থেকে মিছিল শুরু হয় মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সামনে দিয়ে নতুন ভবন, ক্লিনিক ভবনের সামনে দিয়ে ১১ নম্বর ভবনের সামনে আসে মিছিলটি। সেখানে কিছুক্ষণ অবস্থানের পর তারা মিছিল নিয়ে সচিবালয় এলাকা প্রদক্ষিণ করতে থাকেন।
আরও পড়ুন: সচিবালয়-যুমনা এলাকায় সভা-সমাবেশ নিষিদ্ধ
মিছিল করার সময় কর্মকর্তা-কর্মচারীরা ‘সচিবালয়ের কর্মচারী, এক হও লড়াই কর’; ‘অবৈধ কালো আইন, মানি না মানবো না’; ‘আমাদের দাবি আমাদের দাবি, মানতে হবে মানতে হবে’ ইত্যাদি স্লোগান দিতে থাকেন।
৩৯০ দিন আগে
প্রথম ঘণ্টায় ঢিমেতালে লেনদেন চলছে পুঁজিবাজারে
সপ্তাহের দ্বিতীয় কার্যদিবসের প্রথম ঘণ্টায় ঢাকা ও চট্টগ্রামের বাজারে ঢিমেতালে চলছে লেনদেন। এই সময়ে ঢাকায় সূচক বাড়লেও চট্টগ্রাম আছে নিরপেক্ষ অবস্থানে।
রবিবার (২৫ মে) ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) লেনদেনের শুরুতে প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১৩ পয়েন্ট। বাকি দুই সূচকের মধ্যে শরিয়াভিত্তিক সূচক ডিএসইএস ৩ এবং বাছাইকৃত ব্লু-চিপ শেয়ারের সূচক বেড়েছে ১ পয়েন্ট।
লেনদেনে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। লেনদেন হওয়া কোম্পানিগুলোর মধ্যে দাম বেড়েছে ১৭৭টির, কমেছে ১১৪টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭৮টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে লেনদেন ছাড়িয়েছে ৭৫ কোটি টাকা।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচকের উত্থান দশমিকের ঘরে।
লেনদেন হওয়া ৬২টি কোম্পানির মধ্যে দাম বেড়েছে ২৮টির, কমেছে ২৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৮টি কোম্পানির শেয়ারের দাম। সিএসইতে প্রথম ঘণ্টায় মোট লেনদেন ১ কোটি টাকা ছাড়িয়ে গেছে।
৩৯০ দিন আগে
ঈদে ট্রেনের অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু
আসন্ন ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে ঘরমুখী মানুষের ট্রেনযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে অগ্রিম টিকিট বিক্রি শুরু করেছে বাংলাদেশ রেলওয়ে কর্তপক্ষ। রবিবার (২৫ মে) আন্তঃনগর ট্রেনের ৪ জুনের টিকিট বিক্রির মাধ্যমে এই কর্মসূচি শুরু হয়েছে।
যাত্রীদের সুবিধার্থে এবার আন্তঃনগর ট্রেনের শতভাগ টিকিট অনলাইনে বিক্রি হচ্ছে। তাই স্টেশন কাউন্টারে কোনো টিকিট বিক্রি হবে না বলে জানিয়েছে রেলওয়ে কর্তৃপক্ষ।
দেশের পশ্চিমাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট সকাল ৮টায় বিক্রি হয়েছে এবং পূর্বাঞ্চলের ট্রেনের টিকিট শুরু হবে দুপুর ২টায়।
এ ছাড়া, ঈদের সময় ৫টি রুটে ১০টি বিশেষ ট্রেন চলবে। এই বিশেষ ট্রেনগুলো ঈদের আগে ৪ থেকে ৬ জুন এবং ঈদের পরে ৯ থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত চলবে। ঈদের দিনও কয়েকটি বিশেষ ট্রেন চলবে বলেও জানানো হয়েছে। তবে বিশেষ ট্রেনের টিকিট শুধু স্টেশন কাউন্টারে পাওয়া যাবে, অনলাইনে নয়।
আরও পড়ুন: নিমিষেই শেষ অনলাইনে ট্রেনের টিকিট, কেন?
এবারের ঈদে ৪৩টি আন্তঃনগর ট্রেন চলাচল করার কথা রয়েছে। এতে প্রায় ৩৩ হাজার ৩১৫টি আসন থাকবে। এ ছাড়া, প্রতিটি ট্রেনের ২৫ শতাংশ আসন দাঁড়ানো টিকিট হিসেবে বরাদ্দ থাকবে, যা স্টেশন কাউন্টারে বিক্রি হবে।
রেলওয়ের ঈদ সময়সূচি অনুযায়ী, আগামী ৩১ মের টিকিট ২১ মে বিক্রি হয়েছে। ২ জুনের টিকিট ২৩ মে এবং ৩ জুনের টিকিট ২৪ মে বিক্রি হয়েছে। আর ৫ ও ৬ জুনের টিকিট যথাক্রমে ২৬ ও ২৭ মে বিক্রি হবে।
একজন যাত্রী একবারে সর্বোচ্চ চারটি টিকিট কিনতে পারবেন। অগ্রিম কেনা টিকিট ফেরতযোগ্য নয় বলেও জানিয়েছে রেল কর্তৃপক্ষ।
এর আগে, আগামী ৬ মে ঈদুল আজহার সম্ভাব্য তারিখ ধরে সরকারি কর্মকর্তা-কর্মচারীদের জন্য ৫ জুন থেকে টানা ১০ দিন ঈদের ছুটি অনুমোদন করেছে সরকার। তার আগে অবশ্য দুটি শনিবার অফিস খোলা রেখে কর্মীদের কর্মঘণ্টা কাজে লাগানো হয়েছে।
৩৯০ দিন আগে