বাংলাদেশ
ঢাকা-বেইজিংয়ের বাণিজ্য সম্পর্ক নতুন স্তরে উন্নীত হবে: রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন
বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, এই মাসের শেষের দিকে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রী ওয়াং ওয়েন্টাওর নেতৃত্বে চীন থেকে বাংলাদেশে আসা সর্ববৃহৎ ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদল সফর করবেন। এই সফর উন্মুক্ত বাণিজ্য, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুবিধার একটি 'জোরালো সংকেত' দেবে। একই সঙ্গে এটি বাংলাদেশ ও চীনের অর্থনৈতিক-বাণিজ্য সম্পর্ককে একটি নতুন স্তরে উন্নীত করবে।
তিনি এক অনুষ্ঠানে বলেন, ‘আমরা নিশ্চিত যে, এই সফর উন্মুক্ত বাণিজ্য, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুবিধার একটি শক্তিশালী ইঙ্গিত দেবে। চীন ও বাংলাদেশের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সম্পর্ককে একটি নতুন স্তরে উন্নীত করবে।’ বলেন, এই মাসের শেষে চীনের বাণিজ্যমন্ত্রীর নেতৃত্বে শতাধিক চীনা বিনিয়োগকারী বাংলাদেশ সফর করবেন।
আরও পড়ুন: মানবিক করিডর ইস্যুতে চীন জড়িত নয়: রাষ্ট্রদূত
সফরকালে, উভয় পক্ষ একটি বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বিনিময় অনুষ্ঠানের যৌথ আয়োজন করবে। যেখানে শতাধিক চীনা এবং বাংলাদেশি উদ্যোগ অংশগ্রহণ করবে এবং আরও সহযোগিতার সুযোগ খুঁজবে।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, আমাদের অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য সহযোগিতা আরও জোরদার করার লক্ষ্যে সুনির্দিষ্ট পদক্ষেপ গ্রহণের বিষয়ে একমত হতে বাংলাদেশ-চীনের যৌথ অর্থনৈতিক ও বাণিজ্য কমিশনের ১৫তম বৈঠক হবে।
আম ও ইলিশ শিগগিরই পৌঁছাবে চীনের বাজারে
তিনি বলেন, তারা বাংলাদেশি আম চীনে রপ্তানি ত্বরান্বিত করছে। রাষ্ট্রদূত বলেন, এই বছরের জুনের প্রথম দিকে তাজা আমের প্রথম চালান চীনের বাজারে যাবে।
তিনি বলেন, এরপর, বাংলাদেশি কাঁঠাল ও পেয়ারা আমদানির প্রক্রিয়াও চলমান রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমরা আশা করছি বাংলাদেশ শিগগিরই চীনে ইলিশ রপ্তানির সুযোগ পাবে। সর্বোপরি, চীনা খাদ্যপ্রেমীরা তাদের খাবারের টেবিলে এই সুস্বাদু মাছ উপভোগ করার জন্য অধীর আগ্রহে আর অপেক্ষা করতে পারছেন না।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের আরও উন্নতমানের কৃষিপণ্য চীনে আসার সঙ্গে সঙ্গে ও আরও বেশি চীনা কোম্পানি এই উর্বর ভূমিতে বিনিয়োগ এবং উদ্ভাবন নিয়ে আসবে। ফলে তারা অবশ্যই অবিশ্বাস্য কিছু ঘটতে দেখবে!
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের শিল্প আরও শক্তিশালী হবে, সরবরাহ শৃঙ্খল আরও শক্তিশালী হবে। সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ - নতুন সুযোগ ও বৃহত্তর সমৃদ্ধি অর্জনের মাধ্যমে মানুষের জীবন উন্নত হবে।’ ‘আমাদের অভিন্ন লক্ষ্য অর্জনের জন্য আমরা একসঙ্গে এটি করতে পারি।’
রাষ্ট্রদূত বলেন, বাংলাদেশের উন্নয়নের জন্য চীনের সমর্থন একটি প্রকৃত এবং স্পষ্ট প্রতিশ্রুতি। ‘পরিস্থিতি পরিবর্তনশীল হোক না কেন, এটি সর্বদা অপরিবর্তিত থাকবে।’
তিনি বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গঠনের পর থেকে বাংলাদেশের বৃহত্তম বিনিয়োগকারী চীন।
চীনে রপ্তানি করা বাংলাদেশি করযোগ্য পণ্যের শতাভাগ শুল্কমুক্ত সুবিধা দিয়েছে চীন। একই সঙ্গে স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উত্তরণের দুই বছর পর অর্থাৎ ২০২৮ সাল পর্যন্ত এই অগ্রাধিকারমূলক নীতি সম্প্রসারণের প্রতিশ্রুতি দিয়েছে দেশটি।
গত আগস্ট থেকে এখন পর্যন্ত ১৫টিরও বেশি চীনা কোম্পানি বাংলাদেশের সঙ্গে বিনিয়োগ চুক্তি সই করেছে, যার মোট বিনিয়োগের পরিমাণ প্রায় ৪০০ মিলিয়ন মার্কিন ডলার।
৩০টিরও বেশি কোম্পানি চট্টগ্রাম চীনা অর্থনৈতিক ও শিল্প অঞ্চলে বিনিয়োগের ইচ্ছাপত্রে সই করেছে।
বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) মিলনায়তনে 'বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের পাঁচ দশক: একটি নতুন উচ্চতার দিকে' শীর্ষক দেশীয় বক্তব্যের আয়োজন করে।
বিআইআইএসএস’র মহাপরিচালক মেজর জেনারেল ইফতেখার আনিস স্বাগত বক্তব্য দেন। সংস্থাটির চেয়ারম্যান এএফএম গাউসূল আজম সরকার অধিবেশনের সভাপতিত্ব করেন। সেন্টার ফর অল্টারনেটিভস, বাংলাদেশ’র নির্বাহী পরিচালক ইমতিয়াজ আহমেদ একটি উপস্থাপনা করেন।
আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান হামলা: নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান চীনা রাষ্ট্রদূতের
বিভিন্ন মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, কর্মরত ও অবসরপ্রাপ্ত সামরিক কর্মকর্তা, কূটনৈতিক মিশন, গণমাধ্যম, গবেষক, শিক্ষাবিদ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থী, বিভিন্ন থিঙ্ক ট্যাঙ্ক, আন্তর্জাতিক সংস্থার প্রতিনিধিরা উন্মুক্ত আলোচনা অধিবেশনে তাদের মতামত, মন্তব্য, পরামর্শ এবং পর্যবেক্ষণ তুলে ধরেন।
বক্তব্যে অংশগ্রহণকারীরা তাদের দৃঢ় বিশ্বাস ব্যক্ত করেন যে, বাংলাদেশ যখন তার উন্নয়ন লক্ষ্যের দিকে এগিয়ে যাচ্ছে এবং চীন তার বিশ্বব্যাপী প্রচারণা অব্যাহত রাখছে—তখন এই সম্পর্কের পরবর্তী অধ্যায় আরও বৃহত্তর সহযোগিতা এবং পারস্পরিক সমৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দেয়।
তারা বলেন, উদ্ভাবন, আস্থা এবং অভিন্ন দৃষ্টিভঙ্গি গ্রহণের মাধ্যমে বাংলাদেশ ও চীন এমন একটি ভবিষ্যত তৈরি করতে পারে, যা তাদের জনগণ ও বৃহত্তর এশীয় অঞ্চলের জন্য কল্যাণকর।
৩৬২ দিন আগে
রিমান্ড শেষে কারাগারে সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী পলক
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সময় রাজধানীর বাড্ডা থানা এলাকায় সুমন হত্যা মামলায় সাবেক আইসিটি প্রতিমন্ত্রী জুনাইদ আহমেদ পলককে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠানোর আদেশ দিয়েছেন আদালত।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট নাজমিন আক্তার এ আদেশ দেন।
এর আগে গত ২৩ এপ্রিল এ মামলায় পলকের দুইদিনের রিমান্ড মঞ্জুর করে আদেশ দেন ঢাকার ম্যাজিস্ট্রেট আদালত। এ আদেশের ভিত্তিতে গতকাল বুধবার কাশিমপুর কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে পুলিশ হেফাজতে নিয়ে দুইদিন জিজ্ঞাসাবাদ করেন মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা। জিজ্ঞাসাবাদে পলক গুরুত্বপূর্ণ তথ্য দিয়েছেন বলে কারাগারে আটক রাখার আবেদন সূত্রে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: ‘ইভটিজিং নিয়ে হত্যা’ মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, পাঁচজনের যাবজ্জীবন
মামলার সূত্রে জানা যায়, গত বছরের ৫ আগস্ট রাত ৭টা ১০ মিনিটের দিকে বাড্ডা থানার মেরুল বাড্ডার ডিআইটি প্রজেক্ট এলাকা থেকে বাসায় ফিরছিলেন ভুক্তভোগী আব্দুল জব্বার সুমন (৩৮)। এসময় অজ্ঞাতনামা আসামিদের গুলিতে নিহত হন তিনি। এ ঘটনায় তার মা নাজমা বেগম শেখ হাসিনাসহ ৯ জনের নাম উল্লেখ করে রাজধানীর বাড্ডা থানায় বাদী হয়ে একটি মামলা দায়ের করেন।
জুনাইদ আহমেদ পলক এ মামলার ৩ নম্বর আসামি।
৩৬২ দিন আগে
বিশ্বের শীর্ষ অপারেটরদের চট্টগ্রাম বন্দর পরিচালনায় আনা হচ্ছে: বিডা
দেশের ভূমি ও বন্দর সক্ষমতাকে দক্ষ ও সর্বোত্তম উপায়ে ব্যবহারের মাধ্যমে সর্বোচ্চ ফলাফল নিশ্চিত করতে বন্দর পরিচালনায় বিশ্বের শীর্ষ অপারেটরদের আনা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বিডা ও বেজার এক্সিকিউটিভ চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশন কার্যক্রম, লালদিয়ার চর ও বে-টার্মিনাল প্রকল্প পরিদর্শনে এসে গণমাধ্যমে এ কথা বলেন আশিক চৌধুরী।
তিনি বলেন, দেশে বিনিয়োগ বৃদ্ধি ও কর্মসংস্থান বাড়ানোর উদ্যোগের জন্য সবচেয়ে বেশি দরকার বন্দরের কার্যক্রম সম্প্রসারণ ও সক্ষমতা বৃদ্ধি।
এই লক্ষ্যকে সামনে রেখে চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম পাশাপাশি লালদিয়ার চর টার্মিনাল ও বে-টার্মিনাল প্রকল্প পরিদর্শন করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বিডা) ও বাংলাদেশ অর্থনৈতিক উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (বেজা) নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
এ সময় সঙ্গে ছিলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম ও চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যানসহ সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
আরও পড়ুন: বিডার বিজনেস ডেভেলপমেন্ট প্রধান হিসেবে নিয়োগ পেলেন নাহিয়ান রহমান রোচি
আশিক চৌধুরী বলেন, ‘বন্দর অপারেশনে বিশ্বের টপ অপারেটরদের আনার মূল উদ্দেশ্যই হচ্ছে দেশের ভূমি ও বন্দর সক্ষমতাকে সর্বোচ্চ ও দক্ষ উপায়ে ব্যবহার করা।’
বিভিন্ন দেশের বন্দর বিশ্বের টপ অপারেটরের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে জানিয়ে তিনি বলেন, ‘বন্দরের টার্মিনাল অপারেশন বিদেশি অপারেটরদের হাতে গেলেও নিরাপত্তা বিঘ্নিত হওয়ার কারণ নেই।’
দেশকে ‘ম্যানুফ্যাকচারিং হাবে’ পরিণত করতে হলে বন্দরের সক্ষমতা বাড়ানোর বিকল্প নেই উল্লেখ করে বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান বলেন, বে-টার্মিনাল নির্মাণে দুটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান পর্যায়ক্রমে ২০০ কোটি ডলার বিনিয়োগ করবে। এতে কর্মসংস্থানের ব্যাপক সুযোগ তৈরি হবে। ২০৩০ এর মধ্যে বে-টার্মিনাল চালু হলে পুরো অঞ্চলজুড়ে একটি বড় অর্থনৈতিক পরিবর্তন হবে বলেও নিজের প্রত্যাশার কথা জানান তিনি।
চট্টগ্রাম বন্দর চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল এস এম মনিরুজ্জামান জানান, বে-টার্মিনালে পণ্যবাহী মাদার ভেসেল সরাসরি নোঙ্গর করতে পারবে। ২৫ হাজার মানুষের সরাসরি কর্মসংস্থানের পাশাপাশি লক্ষাধিক মানুষের কাজের সুযোগ তৈরি হবে সেখানে।
এদিকে, চট্টগ্রাম বন্দর কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে দুপুরে পাঁচ তারকা হোটেল রেডিসন ব্লু বে ভিউতে চট্টগ্রামের ব্যবসায়ী সমাজের সঙ্গে মতবিনিময় করেন বিডা ও বেজার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরী।
৩৬২ দিন আগে
ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা: যশোর সীমান্তের ৭০ কিলোমিটারে সতর্ক বিজিবি
ভারত ও পাকিস্তানের চলমান সংঘাতকে ঘিরে যশোরের ৭০ কিলোমিটার সীমান্ত এলাকার বাসিন্দাদের মধ্যে উৎকণ্ঠা দেখা দিয়েছে। তবে বিজিবি টহল জোরদারের পাশাপাশি গোয়েন্দা তৎপরতা বাড়ানোয় কিছুটা স্বস্তি ফিরেছে।
বিজিবি-৪৯ ব্যাটালিয়নের অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল সাইফুল্লাহ সিদ্দিকী জানিয়েছেন, যশোর-৭০ ব্যাটালিয়নের সদস্যরা ওই এলাকায় টহল জোরদার করেছেন। সীমান্তজুড়ে বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। পাশাপাশি স্থানীয়রাও সীমান্তের দিকে নজর রাখছেন।
তিনি বলেন, ‘ভারত থেকে যাতে কোনো অনুপ্রবেশকারী বাংলাদেশে ঢুকতে না পারে, সেজন্য টহল জোরদার করেছে বিজিবি।’
সীমান্তবর্তী উপজেলা শার্শার বাসিন্দা আল মামুন জানান, যশোরে সীমান্ত পরিস্থিতি এখনও স্বাভাবিক আছে। বিএসএফের অপতৎপরতায় কোনো প্রকার অনুপ্রবেশ বা চোরাচালানের বিরুদ্ধে বিজিবির সঙ্গে কাঁধে কাঁধ মিলিয়ে কাজ করতে প্রস্তুত এলাকাবাসী।’
সীমান্ত এলাকার জনপ্রতিনিধি আলমগীর হোসেন বলেন, ‘ভারত-পাকিস্তানের মধ্যে উত্তেজনা থাকলেও এখানকার পরিস্থিতি আপাতত স্বাভাবিক। তবে আগে ৫০০ গজ অন্তর অন্তর একজন বিএসএফ সদস্য দায়িত্ব পালন করলেও এখন ৩০০ গজ অন্তর অন্তর তাদের দেখতে পাওয়া যাচ্ছে। এটা কিছুটা ভাবিয়ে তুলেছে। বিএসএফ যদি কোনোরকম তৎপরতা দেখায়, তাহলে বিজিবির সঙ্গে আমরা স্থানীয়রা মিলে তা প্রতিহত করব।’
আরও পড়ুন: ভারত-মিয়ানমার সীমান্তে এসপিদের সতর্ক থাকার নির্দেশ আইজিপির
এদিকে, খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৮১ জন ভারতীয় নাগরিককে ঠেলে দিয়েছে (পুশ-ইন) ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বিজিবির দেওয়া সর্বশেষ তথ্য অনুসারে, জেলার মাটিরাঙ্গার শান্তিপুর সীমান্ত দিয়ে ২৭ জন, পানছড়ি উপজেলার রুপসেন পাড়া সীমান্ত দিয়ে ৩০ জন, তাইন্দংয়ের আচালং বিটিলা বিওপি সীমান্ত দিয়ে ২৩ জন, রামগড় সীমান্ত দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন ১ জনসহ মোট ৮১ জন বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করিয়েছে ভারতীয় বাহিনী।
খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা, পানছড়িসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ ইনের ঘটনায় সীমান্তজুড়ে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িতে পড়েছে।
আরও পড়ুন: খাগড়াছড়িতে ৮১ ভারতীয়কে পুশ-ইন করল বিএসএফ
৩৬২ দিন আগে
মানবিক করিডর ইস্যুতে চীন জড়িত নয়: রাষ্ট্রদূত
ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, চীন ‘তথাকথিত মানবিক করিডর’ ইস্যুতে জড়িত নয়। তিনি জোর দিয়ে বলেছেন, চীন যেকোনো দেশের সার্বভৌমত্ব ও আঞ্চলিক অখণ্ডতার প্রতি সর্বদা শ্রদ্ধাশীল।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের পাঁচ দশক: নতুন উচ্চতায়’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় রাষ্ট্রদূত এসব কথা বলেন।
ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘করিডর ইস্যু—তথাকথিত মানবিক করিডর ইস্যুতে আমি বলব, চীন এতে জড়িত নয়। আমি যতটুকু বুঝি, এটি (মিয়ানমারে) সংঘাতে ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য রাখাইন রাজ্যে ত্রাণ সরবরাহে জাতিসংঘের সংস্থাগুলোর একটি উদ্যোগ। এ বিষয়ে চীন জড়িত নয়।’
তিনি জানান, চীন কোনো দেশের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে হস্তক্ষেপ করছে না। বাংলাদেশ ও মিয়ানমার শান্তিপূর্ণ সংলাপের মাধ্যমে রোহিঙ্গা সমস্যার যথাযথ সমাধান করবে এবং প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নিতে পারবে বলে আশাপ্রকাশ করেন রাষ্ট্রদূত।
তিস্তা নদী সমন্বিত ব্যবস্থাপনা ও পুনরুদ্ধার প্রকল্পের (টিআরসিএমআরপি) হালনাগাদ বিষয়ে এক প্রশ্নের জবাবে প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস এবং চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের পর প্রকাশিত যৌথ সংবাদ বিবৃতির কথা উল্লেখ করেন ওয়েন। ওই বিবৃতিতে বাংলাদেশ চীনা কোম্পানিগুলোকে এই প্রকল্পে অংশগ্রহণের জন্য স্বাগত জানিয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান হামলা: নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান চীনা রাষ্ট্রদূতের
তিনি বলেন, ‘আমি বলব, এ বিষয়ে চীন প্রস্তুত রয়েছে। আমরা আমাদের সহযোগিতার হাত বাড়িয়ে দিতে চাই। এখন বাংলাদেশ এগিয়ে আসতে চায় কিনা, সে সিদ্ধান্ত তাদেরই নিতে হবে।’
‘দ্বিপাক্ষিক, ত্রিপাক্ষিক না কি আন্তর্জাতিক জোটের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে—সে বিষয়ে বলা যায়, এই প্রকল্পটি কীভাবে এগিয়ে নেওয়া হবে, তা সম্পূর্ণভাবে বাংলাদেশের নিজস্ব সিদ্ধান্ত। বাংলাদেশের নেওয়া সিদ্ধান্তের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থাকবে চীন। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, এই প্রকল্পটি শুরু করা যেতে পারে। এটুকুই আমি বলতে চাই।’
৩৬২ দিন আগে
মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে বাসের ধাক্কায় অ্যাম্বুলেন্স আরোহীসহ নিহত ৫
ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়েতে থেমে থাকা রোগীবাহী অ্যাম্বুলেন্সে বাসের ধাক্কায় নারীসহ ৫ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন আরও ৩ জন। হতাহতের উদ্ধার করে ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৩ মে) বেলা সাড়ে ১২টার দিকে ঢাকা-মাওয়া এক্সপ্রেসওয়ের নীমতলি এলাকায় এই দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতরা হলেন— আব্দুস সামাদ ফকির, তার ছেলে বিল্লাহ ফকির, মেয়ে আফসানা ও এ্যাম্বুলেন্স চালক। অপরজনের নাম জানা যায়নি।
আহতরা জানান, তাদের বাড়ি মাদারীপুরের সদর উপজেলার মিঠাপুকুর এলাকায়। বিল্লাল ফকিরের স্ত্রী রোজিনা বেগম (৩০) অন্তঃসত্ত্বা। চলতি মাসের ২৩ তারিখ তার বাচ্চা প্রসবের সম্ভাব্য তারিখ রয়েছে। তবে গতরাত থেকে তার ব্যাথা হচ্ছিল। এজন্য সকালে একটি অ্যাম্বুলেন্স ভাড়া করে তাতে পরিবারটির ১০ জন মিলে ঢাকার পথে আসছিলেন। ঢাকার ধানমন্ডি এলাকার একটি প্রাইভেট হাসপাতালে চিকিৎসা নেওয়ার কথা ছিল। অ্যাম্বুলেন্সে করে রওনা দেওয়ার পর এক্সপ্রেসওয়ের নীমতলি এলাকায় আসার পর সেটির চাকা ব্লাস্ট হয়ে যায়। এরপর রাস্তার ডান পাশে চাপিয়ে সেটির চাকা মেরামত করছিলেন চালক। আর তারা কয়েকজন অ্যাম্বুলেন্সের ভিতরে বসে ছিলেন, আর কয়েকজন পাশেই দাঁড়িয়ে ছিলেন। মেরামত প্রায় শেষের দিকে গোল্ডেন লাইন পরিবহনের একটি বাস পিছন থেকে এসে সজোরে অ্যাম্বুলেন্সে ধাক্কা দেয়।
আরও পড়ুন: মেহেরপুরে পৃথক সড়ক দুর্ঘটনায় ২ শিক্ষার্থী নিহত
এদিকে, গোল্ডেন লাইন পরিবহনের বাসটির হেল্পার সাইফুল ইসলাম শান্ত জানান, তারা কুষ্টিয়া থেকে যাত্রীবোঝাই বাসটি নিয়ে আসতেছিলেন ঢাকার আব্দুল্লাহপুর এলাকায়। নীমতলি এলাকায় এক্সপ্রেসওয়ের ডান পাশের লেনে দাঁড় করানো ছিল অ্যাম্বুলেন্সটি। তখন দ্রুতগতির বাসটি চালক ফয়সাল (৪০) ব্রেক করেও থামাতে পারেনি। সজোরে গিয়ে ধাক্কা লাগে থেমে থাকা অ্যাম্বুলেন্সের পিছনে।
এদিকে হাসাড়া হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আব্দুল কাদের জিলানী জানান, মাওয়ার নিমতলা এলাকায় একটি অ্যাম্বুলেন্সে বাস ধাক্কা দিলে ঘটনাস্থলে একজন মারা যান। আর আহতদের সবাইকে ঢাকা মেডিকেল পাঠান হয়েছে। ঢাকা মেডিকেলে কেউ মারা গিয়েছে কিনা সেটি তার জানা নেই। তবে খোঁজখবর নেওয়া হচ্ছে বলে জানান তিনি। ঘটনাস্থলে যেই নারী নিহত হয়েছেন তার লাশ পুলিশ হেফাজতে আছে। বাস, অ্যাম্বুলেন্স দুটিই জব্দ করা হয়েছে।
৩৬২ দিন আগে
‘ইভটিজিং নিয়ে হত্যা’ মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড, পাঁচজনের যাবজ্জীবন
ইভটিজিংয়ের অভিযোগের জেরে মুন্সীগঞ্জের উত্তর ইসলামপুর এলাকায় তিনজনকে হত্যা ঘটনায় হওয়া মামলায় তিনজনের মৃত্যুদণ্ড এবং আরও পাঁচজনকে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) ঢাকার দ্রুত বিচার ট্রাইব্যুনাল-৩ এর বিচারক মাসুদ করিম এ রায় দেন। ট্রাইব্যুনালের স্পেশাল পাবলিক প্রসিকিউটর বিল্লাল হোসেন এসব তথ্য নিশ্চিত করেন।
মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিরা হলেন—রাকিবুল হাসান সৌরভ ওরফে সৌরভ প্রধান, শিহাব প্রধান এবং রনি বেপারী। মৃত্যুদণ্ডের পাশাপাশি তাদের এক লাখ টাকা করে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
যাবজ্জীবন কারাদণ্ডপ্রাপ্তরা হলেন—শাকিব প্রধান, শামীম প্রধান, অনিক বেপারী, রায়হান এবং জাহাংগীর ওরফে ছোট জাহাঙ্গীর। তাদেরও এক লাখ টাকা করে জরিমানা, তবে অনাদায়ে আরও এক বছর বিনাশ্রম কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে।
আরও পড়ুন: হকার জুবায়ের হত্যা: ৪ জনের মৃত্যুদণ্ড, যাবজ্জীবন দুজনের
একটি মেয়েকে ইভটিজিং করা নিয়ে ২০২১ সালের ২৪ মার্চ উত্তর ইসলামপুর এলাকায় আওলাদ হোসেন মিন্টুর বাড়ির সামনে অভি, ইমনসহ অন্যদের নিয়ে সালিশ হয়। তবে সেখানে তাদের বিরুদ্ধে ওঠা অভিযোগ প্রমাণিত হয় না। ফলে উভয় পক্ষের মধ্যে আপস করে দেওয়া হয়। তবে, এর কিছু সময় পর অভির নেতৃত্বে কয়েকজন ইমন, শাকিব ও আলফাজের ওপর অতর্কিত হামলা করেন। এ সময় ইমন বাঁশ দিয়ে অভিকে আঘাত করতে গেলে তা গিয়ে লাগে সৌরভের গায়ে। সৌরভের সঙ্গে ইমন ও শাকিবের হাতাহাতিও হয়।
এ ঘটনায় সৌরভের বাবা জামাল হোসেন আওলাদ হোসেনের কাছে তাৎক্ষণিক বিচার দাবি করেন। পরে ওইদিনই রাত ১১টার দিকে আবার সালিশে বসেন তারা।
সে সময় জামাল হোসেনের লোকজন আওলাদ হোসেন, আফজাল হক, ইমন, শাকিবদের ওপর হামলা করে। একপর্যায়ে অভি ও শিহাব ইমনকে, রনি আওলাদ হোসেনকে এবং শিহাব শাকিবকে ছুরিকাঘাত করেন। তাদের চিৎকারে লোকজন এগিয়ে এলে জামাল-পক্ষের লোকজন পালিয়ে যায়। তারপর আহত তিনজনকে উদ্ধার করে মুন্সীগঞ্জ জেনারেল হাসপাতালে নিয়ে গেলে চিকিৎসক ইমনকে মৃত ঘোষণা করেন। উন্নত চিকিৎসার জন্য অপর দুজনকে ঢাকায় নেওয়ার পথে শাকিব মারা যান। এছাড়া চিকিৎসাধীন অবস্থায় আওলাদ হোসেন পরের দিন (২৫ মার্চ) মারা যান।
ওই ঘটনায় ২৬ মার্চ আওলাদ হোসেনের স্ত্রী খালেদা আক্তার মুন্সীগঞ্জ থানায় ১২ জনের নামে মামলা করেন। মামলাটি তদন্ত করে মুন্সীগঞ্জ সিআইডির পরিদর্শক আসলাম আলী অভিযোগপত্র দাখিল করেন। পরে ওই বছরের ১৭ সেপ্টেম্বর আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরু হয়। মামলার বিচার চলাকালে আদালত ২৮ জনের সাক্ষ্য গ্রহণ করেন।
৩৬২ দিন আগে
ভারত-পাকিস্তান হামলা: নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান চীনা রাষ্ট্রদূতের
ভারত-পাকিস্তানকে প্রতিবেশী আখ্যায়িত করে ঢাকায় নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেছেন, ‘বেইজিং কোনো ধরনের সন্ত্রাসবাদে সমর্থন করে না।’
এ সময়ে দুই প্রতিবেশী দেশের মধ্যকার সামরিক উত্তেজনার কথা উল্লেখ করে এ ঘটনায় তিনি একটি নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান জানিয়েছেন। পাশাপাশি দেশ দুটিকে সংযত থাকারও আহ্বান জানিয়েছেন এই রাষ্ট্রদূত।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) ঢাকায় বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ইন্টারন্যাশনাল অ্যান্ড স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজ (বিআইআইএসএস) আয়োজিত ‘বাংলাদেশ-চীন সম্পর্কের পাঁচ দশক: নতুন উচ্চতায়’ শীর্ষক এক অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেওয়ার সময় এসব বলেন চীনা রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, ‘ভারত ও পাকিস্তান উভয়ই চীনের প্রতিবেশি। শান্তি ও স্থিতিশীলতার স্বার্থে উভয় পক্ষকেই আমরা শান্ত থাকার ও সংযম প্রদর্শনের আহ্বান জানাই।’
পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলতে পারে— এমন যেকোনো পদক্ষেপ নেওয়া থেকে দুই দেশকে বিরত থাকতে অনুরোধ করেছেন চীনা রাষ্ট্রদূত। এ সময় পাকিস্তানে ভারতের ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালানো ঘটনাকে ‘দুঃখজনক’ আখ্যা দিয়ে তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করেন।
রাষ্ট্রদূত ইয়াও বলেন, ‘আজকের বিশ্ব অস্থিরতা, অনিশ্চয়তা ও বিশৃঙ্খলায় ভরা। তবে চীন সবসময় ইতিহাসের সঠিক ও মানবজাতির অগ্রগতির পক্ষে অটল থাকবে।’
আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান উত্তেজনা নিয়ে বিশ্ব সম্প্রদায়ের কে কী বলল
চীনকে বিশ্বের সবচেয়ে স্থিতিশীল, নির্ভরযোগ্য ও শান্তিপূর্ণ শক্তি হিসেবেও দাবি করেন তিনি। এ সময় যুক্তরাষ্ট্র ও অন্যান্য অর্থনীতির মধ্যে চলমান আলোচনার কথা উল্লেখ করে ইয়াও বলেন, আপস নয়, বরং নীতিনিষ্ঠতা, ন্যায়বিচার ও ন্যায়পরায়ণতায় অটল থেকে দেশগুলো তাদের স্বার্থ রক্ষা করতে পারে।
চীন-বাংলাদেশ সম্পর্ক নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাওয়ার আশ্বাস
দক্ষিণ এশিয়ায় আঞ্চলিক সহযোগিতা ও সংযোগ রক্ষায় এবং রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে চীন। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে চীনের দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ককে নতুন উচ্চতায় নিয়ে যেতে চীনের আগ্রহের কথাও জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত।
এ সময় বাংলাদেশসহ অন্যান্য অংশীদারদের সঙ্গে অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক অর্থনীতিকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন তিনি। মুক্ত বাণিজ্য ও বহুপাক্ষিকতা রক্ষায় তিনি সবাইকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান।
ইয়াও ওয়েন বলেন, ‘আন্তর্জাতিক ন্যায় ও সুবিচার রক্ষায় সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে। এ লক্ষ্যে শান্তি, উন্নয়ন, সহযোগিতা ও পারস্পরিক সুবিধার নীতি অব্যাহত রাখবে চীন। এছাড়া প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে একটি শান্তিপূর্ণ, নিরাপদ, সমৃদ্ধ, সুন্দর ও বন্ধুত্বপূর্ণ ভবিষ্যতের সমাজ গঠনেও কাজ করবে।’
‘দক্ষিণ এশিয়ায় সহযোগিতা, আঞ্চলিক সংযোগ, রোহিঙ্গা সংকটসহ বিভিন্ন বিষয়ে বাংলাদেশকে সহযোগিতার আশ্বাস দিয়েছে চীন। এছাড়া বাংলাদেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা বৃদ্ধি করে একতরফা সুরক্ষা ও আধিপত্যবাদী আচরণের বিরুদ্ধে একসঙ্গে কাজ করতে প্রস্তুত চীন,’ বলেন এই রাষ্ট্রদূত।
এ ছাড়াও জাতিসংঘ ও অন্যান্য বহুপাক্ষিক ফোরামে সমন্বয় রক্ষার মাধ্যমে চীন-বাংলাদেশ বন্ধুত্বের ইতিবাচক প্রভাব সারা অঞ্চল ও বিশ্বে ছড়িয়ে দিতে চায় বলেও জানান তিনি।
চীনা রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘এ অঞ্চলে শান্তি ও স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং উন্নয়নশীল দেশগুলোর বৈধ অধিকার রক্ষায় চীন অঙ্গীকারাবদ্ধ।’
আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান হামলা: ‘দায়িত্বপূর্ণ সমাধান’ খুঁজতে যুক্তরাষ্ট্রের আহ্বান
তিনি জানান, ‘ভবিষ্যতে নিজ নিজ জাতীয় উন্নয়নের পথে পাশাপাশি হাঁটবে চীন ও বাংলাদেশ। দুই দেশের নেতাদের মধ্যে যেসব ঐকমত্য হয়েছে, তা অনুসরণ করে চীন বাংলাদেশের সঙ্গে সম্পর্কের ৫০তম বার্ষিকী থেকে নতুনভাবে যাত্রা শুরু করতে চায়।’
ইয়াও বলেন, ‘আসুন, আমরা একসঙ্গে কাজ করি এবং আমাদের কৌশলগত ও সহযোগিতামূলক অংশীদারত্বকে একটি নতুন উচ্চতায় নিয়ে যাই। এরই মধ্যে দিয়ে চীন-বাংলাদেশ সম্পর্কের পরবর্তী সোনালী ৫০ বছরে পা রাখি।’
৩৬২ দিন আগে
সৌদিতে পৌঁছেছেন ৩৪ হাজার ৭৭৬ হজযাত্রী
এখন পর্যন্ত ৩৪ হাজার ৭৭৬ জন হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছে গেছেন। তবে, এক হাজার ৭৯৭ হজযাত্রীর ভিসা এখনো হয়নি।
বৃহস্পতিবার (৮ মে) ধর্ম মন্ত্রণালয়ের হজ অফিসের প্রতিবেদন থেকে এমন তথ্য জানা গেছে।
এতে বলা হয়, ৮৬টি ফ্লাইটে সৌদি আরবে গেছেন মোট ৩৪ হাজার ৭৭৬ জন হজযাত্রী। আজ সকাল ১০টা পর্যন্ত এসব হজযাত্রী সৌদি আরবে পৌঁছেছেন। এখনো যাওয়ার বাকি ৫২ হাজার ৩২৪ জন।
আরও পড়ুন: পারমিট ছাড়া হজ পালন না করতে ধর্ম মন্ত্রণালয়ের অনুরোধ
এছাড়া প্রতিবেদন অনুযায়ী, মোট ৮৫ হাজার ৩০৩ জনের ভিসা হয়েছে। এখনো ১ হাজার ৭৯৭ জন হজযাত্রীর ভিসা হয়নি।
৩৬২ দিন আগে
খাগড়াছড়িতে ৮১ ভারতীয়কে পুশ-ইন করল বিএসএফ
খাগড়াছড়ি জেলার বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ৮১ জন ভারতীয় নাগরিককে ঠেলে দিয়েছে (পুশ-ইন) ভারতের সীমান্ত রক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। বুধবার (৭ মে) জেলা প্রশাসন ও বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, জেলার মাটিরাঙ্গার শান্তিপুর সীমান্ত দিয়ে ২৭ জন, পানছড়ি উপজেলার রুপসেন পাড়া সীমান্ত দিয়ে ৩০ জন, তাইন্দংয়ের আচালং বিটিলা বিওপি সীমান্ত দিয়ে ২৩ জন, রামগড় সীমান্ত দিয়ে মানসিক ভারসাম্যহীন ১ জনসহ মোট ৮১ জন বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে বাংলাদেশে পুশ-ইন করিয়েছে ভারতীয় বাহিনী।
তাদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু। জানা যায়, খাগড়াছড়ির পানছড়ি সীমান্তে আসা ৩০ জনকে বুধবার রাত ৮টা নাগাদ পানছড়ির লোগাং বাজার প্রাথমিক বিদ্যালয়ে রাখা হয়েছে। মাটিরাঙ্গায় অনুপ্রবেশকারীদের বিভিন্ন বিওপিতে বিজিবি নিরাপত্তা হেফাজতে রাখা হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারত-পাকিস্তান হামলা: পরিস্থিতির অবনতি চায় না বাংলাদেশ
এদিকে, খাগড়াছড়ি জেলার মাটিরাঙ্গা, পানছড়িসহ বিভিন্ন সীমান্ত দিয়ে ভারতীয় মুসলিম নাগরিকদের বাংলাদেশে পুশ ইনের ঘটনায় সীমান্তজুড়ে ভয় ও আতঙ্ক ছড়িতে পড়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠার মধ্যে দিন যাপন করছেন। দেশের সীমান্ত নিরাপত্তায় বিজিবিকে সর্তক পাহারায় রাখা হয়েছে। টহল জোরদারের পাশাপাশি বিজিবিকে সহায়তা করার জন্য জনপ্রতিনিধিদের মাধ্যমে স্থানীয় গ্রামবাসীদের কাছে অনুরোধ জানানো হয়েছে।
বুধবার (৭ মে) ৬৬ জন ভারতীয় নাগরিকের অনুপ্রবেশের ঘটনা নিশ্চিত করেছেন খাগড়াছড়ি পার্বত্য জেলার ভারপ্রাপ্ত জেলা প্রশাসক ও স্থানীয় সরকার বিভাগের উপ-পরিচালক নাজমুন আরা সুলতানা।
তিনি জানান, ‘বাংলাদেশ সীমান্ত অতিক্রম করে প্রবেশ করা সবাইকে বিভিন্ন স্থানে নিরাপত্তা হেফাজতে রেখেছে বিজিবি। মানবিক সহযোগিতা বিবেচনায় তাদের খাবারের ব্যবস্থা করেছে প্রশাসন। তাদের সব ধরনের তথ্য যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে।’
বুধবার (৭ মে) ভোর রাতে ভারতীয় এ নাগরিকদের সীমান্ত পার করে বাংলাদেশের ভূখণ্ডে প্রবেশ করতে বাধ্য করে বিএসএফ। জানা গেছে, ভারতের গুজরাট থেকে প্রায় সাড়ে চার শত জনকে আটক করে দুটি বিমানে তাদের ত্রিপুরায় নিয়ে আসা হয়। পরে বিএসএফের তত্ত্বাবধায়নে গাড়িতে করে পুশ ইনের জন্য বিভিন্ন সীমান্তে জড়ো করা হয় তাদের।
আরও পড়ুন: এবার ভারতের ড্রোন ভূপাতিত করার দাবি পাকিস্তানের
অবৈধ অনুপ্রবেশ ঠেকাতে মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি সীমান্তে বিজিবির পক্ষ থেকে বিএসএফকে ফ্ল্যাগ মিটিংয়ের প্রস্তাব দেওয়া হয়েছে বলে জানা যায়।
৩৬২ দিন আগে