বাংলাদেশ
খাগড়াছড়িতে ভারতীয় ৮০ নাগরিককে পুশ ইন করেছে বিএসএফ
সীমান্তবর্তী জেলা খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা ও পানছড়ি উপজেলার একাধিক পয়েন্ট দিয়ে ভারতীয় ৮০ নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে (পুশ ইন) দেশটির সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)।
বুধবার (৭ মে) সকাল সাড়ে ১০টার দিকে মাটিরাঙ্গা উপজেলার গোমতী ইউনিয়নের দক্ষিণ শান্তিপুর এলাকায় গিয়ে জানা যায়, খাগড়াছড়ির মাটিরাঙ্গা উপজেলার দক্ষিণ শান্তিপুর সীমান্ত দিয়ে ২৭ জন, তাইন্দং-এর আচালং সীমান্ত দিয়ে ২৩ জন এবং পানছড়ি উপজেলার রুপসেন পাড়া সীমান্ত দিয়ে ৩০ জনকে পুশ-ইন করা হয়েছে বলে নিশ্চিত করেছে স্থানীয় প্রশাসন। তাদের অধিকাংশ শিশু ও নারী।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, অনুপ্রবেশকারীরা নিজেরা ভারতের নাগরিক বলে জানান। এরা সবাই চরম হতবিহ্বল ও আতঙ্কগ্রস্ত। অধিকাংশের গায়ে ছিল শুধু এক কাপড়। অনেক নারী ও শিশু রয়েছে, যাদের চোখে মুখে ছিল অজানা ভয় ও অনিশ্চয়তা।
স্থানীয় জনগণ এই ঘটনাকে একটি মানবিক সংকট হিসেবে উল্লেখ করেছেন। ধর্মীয় কারণে নিপীড়নের শিকার মানবাধিকার লঙ্ঘন মনে করছেন অনেকেই। এদিকে, স্থানীয় প্রশাসন ও বাংলাদেশ সীমান্তরক্ষী বাহিনী বিজিবি সতর্ক অবস্থানোর থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রেখেছে। এই ঘটনাটি শুধুই একটি সীমান্ত লঙ্ঘনের বিষয় নয, বিষয়টি অমানবিকও।
দক্ষিণ শান্তিপুর এলাকার বাসিন্দা মো. আবুল হাসেম বলেন, ফজরের নামাজ শেষে মসজিদ থেকে বেরিয়ে বাংলাদেশে প্রবেশ করা ভারতীয় নাগরিকদের আবুল মেম্বরের বাড়ির সামনে দেখেছেন। সকলেই খুব বেশি আতঙ্কগ্রস্ত এবং ক্ষুধার্ত ছিল। তিনিসহ আরও কয়েকজন মিলে পাশের দোকান থেকে মুড়ি, চানাচুর কিনে তাদের খাবারের জন্য দিয়েছেন। তাদের বিষয়ে পাশের বিজিবি ক্যাম্পে খবর দিয়েছেন।
মাটিরাঙ্গা উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা মনজুর আলমসহ বিজিবির ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা তাইন্দং এর আচালং এবং দক্ষিণ শান্তিপুর এলাকায় অনুপ্রবেশকারীদের সঙ্গে দেখা করে কথা বলেছেন। মানবিক দিক বিবেচনা করে আপাতত তাদের স্থানীয় দুই জনের বাড়িতে থাকতে দিয়েছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে গণমাধ্যমের সঙ্গে কোনো মন্তব্য করেননি।
অনুপ্রবেশের বিষয়ে জানতে বিজিবির কর্মকর্তাদের সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করা হলেও বিজিবির তেমন বক্তব্য পাওয়া যায়নি। পলাশপুর জোন অধিনায়ক সেক্টর হেডকোয়ার্টার থেকে তথ্য সংগ্রহের পরামর্শ দিয়েছেন।
আরও পড়ুন: ঠাকুরগাঁও সীমান্তে ৪ বাংলাদেশিকে আটক করেছে বিএসএফ
বিজিবির পক্ষ থেকে অনুপ্রবেশকারীদের তথ্য উপাত্ত সংগ্রহ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক বিজিবির একজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা।
খাগড়াছড়ি জেলার ভারপ্রাপ্ত প্রশাসক স্থানীয়, সরকার বিভাগের উপপরিচালক নাজমুন আরা সুলতানা জানান, রাত আটটা পর্যন্ত খাগড়াছড়ি জেলায় সর্বমোট ৮০ জনের মতো অনুপ্রবেশের তথ্য নিশ্চিত হওয়া গেছে। তিনি জানান, অনুপ্রবেশের বিষয়ে সকল ধরনের প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বিজিবি। তবে বর্তমানে অনুপ্রবেশকারীদের মানবিক সহযোগিতা হিসেবে খাবারের ব্যবস্থা করছে জেলা প্রশাসন।
এছাড়া বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়, সীমান্তের ওপারে বিভিন্ন স্থানে এখনো অনেক লোকজন জড়ো করে রেখেছে বিএসএফ। যেকোনো মুহুর্তে বাংলাদেশে ঠেলে দিতে পারে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে এই ধরনের 'পুশ-ইন' কর্মকাণ্ডের বিরুদ্ধে ভারতের বিএসএফকে কড়া প্রতিবাদ জানানো হয়েছে এবং বিভিন্ন স্তরে পতাকা বৈঠক আহ্বান করা হয়েছে। যদি তারা ভারতীয় নাগরিক হিসেবে প্রমাণিত হয়, তবে তাদের দেশে ফেরত পাঠানো হবে। এ বিষয়ে ভারতের যথাযথ কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগের জন্য স্বরাষ্ট্র ও পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে অবহিত করা হয়েছে।
বিজিবি সীমান্তে নিরাপত্তা জোরদার করেছে, নজরদারি বাড়ানো হয়েছে এবং বিজিবি সর্বোচ্চ সতর্ক অবস্থানে থেকে সীমান্তে সজাগ দৃষ্টি রাখছে।
৩৬৩ দিন আগে
বিভিন্ন খাতে আমিরাতের বিনিয়োগ প্রস্তাবকে স্বাগত জানালেন প্রধান উপদেষ্টা
বাংলাদেশি নাগরিকদের জন্য ভিসা পুনরায় চালু করার ক্ষেত্রে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতির জন্য সংযুক্ত আরব আমিরাতকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনূস। এ সময়ে বিভিন্ন খাতে দেশটির বিনিয়োগ প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়েছেন তিনি।
বুধবার (৭ মে) রাষ্ট্রীয় অতিথি ভবন যমুনায় প্রধান উপদেষ্টার সাথে বৈঠক করেন সংযুক্ত আরব আমিরাতের সহনশীলতা ও সহাবস্থানবিষয়ক মন্ত্রী শেখ নাহিয়ান বিন মুবারক আল নাহিয়ানের নেতৃত্বাধীন উচ্চপর্যায়ের একটি প্রতিনিধি দল।
এ সময়ে নাহিয়ানের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন ড. ইউনূস। নাহিয়ান বলেন, ‘আমাদের প্রেসিডেন্টের নির্দেশে আমি এখানে এসেছি বাংলাদেশের সাথে সংহতি প্রকাশ করতে এবং আমাদের বন্ধুত্বকে আরও জোরদার করতে।’
‘সাম্প্রতিক সময়ে আমাদের দুই সরকার যে বর্ধিত সংলাপের আয়োজন করেছে, তার আমরা প্রশংসা করি। আমরা বিনিয়োগ থেকে শুরু করে ভিসা পর্যন্ত সব ক্ষেত্রে সহযোগিতা নিশ্চিত করতে চাই,’ বলেন তিনি।
এই পদক্ষেপের প্রশংসা করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা সম্পৃক্ততা এবং সমর্থনকে স্বাগত জানাই, আমরা বিভিন্ন শিল্পে বিনিয়োগকেও স্বাগত জানাই।’
আরও পড়ুন: প্রধান উপদেষ্টার হাতে স্বাস্থ্য সংস্কার কমিশনের প্রতিবেদন হস্তান্তর
ভিসা ব্যবস্থা শিথিল করার কথা উল্লেখ করে প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রক্রিয়া শুরু করার জন্য আপনাকে ধন্যবাদ। এখনও কিছু পদক্ষেপ নেওয়া বাকি আছে, আশা করি, আমরা সম্পৃক্ত থাকব এবং এই সমস্যাগুলি সমাধান করব।’
সংযুক্ত আরব আমিরাত সম্প্রতি প্রতিদিন ৩০ থেকে ৫০টি ভিজিট ভিসা দেওয়া শুরু করেছে। সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ব্যবসায়িক প্রতিনিধিদের জন্য বাল্ক ভিসাও ত্বরান্বিত করা হয়েছে। এছাড়াও, দক্ষ কর্মসংস্থান ভিসার অনলাইন ব্যবস্থা পুনরায় সক্রিয় করা হয়েছে।
৩৬৩ দিন আগে
যদি প্রমাণ হয় বাংলাদেশের নাগরিক, তাহলে গ্রহণ করব: নিরাপত্তা উপদেষ্টা
‘বাংলাদেশি নাগরিক’ আখ্যা দিয়ে সীমান্ত দিয়ে ভারতের ঠেলে দেওয়া (পুশ-ইন) লোকদের তখনই গ্রহণ করা হবে, যখন তাদের কাছ থেকে যথেষ্ট প্রমাণ পাওয়া যাবে বলে জানিয়েছেন জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ড. খলিলুর রহমান।
বুধবার (৭ মে) বিকালে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এমন মন্তব্য করেছেন।
খাগড়াছড়ি সীমান্ত দিয়ে লোকজনকে বাংলাদেশে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে ভারত। এ বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আনুষ্ঠানিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এটি হতে হবে।’
‘আমরা প্রতিটি ঘটনা যাচাই করছি। আমাদের সিদ্ধান্ত হলো—যদি প্রমাণ থাকে যে তারা বাংলাদেশি নাগরিক, তাহলেই কেবল আমরা তাদের গ্রহণ করতে পারব,’ বলেন খলিলুর।
আরও পড়ুন: নৌনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: নৌপরিবহন উপদেষ্টা
তিনি বলেন, ‘এভাবে পুশ-ইন করা কোনো সঠিক পদ্ধতি নয়। আমরা এটা নিয়ে ভারত সরকারের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
শুরুতে, জাতীয় নিরাপত্তা উপদেষ্টা ভারত-পাকিস্তান ইস্যুতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জারি করা বিবৃতিও পড়ে শোনান।
ভারতের সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ) বুধবার সকালে খাগড়াছড়ি সীমান্ত দিয়ে ৬৬ জন ভারতীয় নাগরিককে বাংলাদেশে ঠেলে দিয়েছে বলে জানা গেছে। এসব নাগরিককে বাংলাদেশি মুসলিম হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩৬৩ দিন আগে
রিমান্ড শেষে কারাগারে অভিনেতা সিদ্দিক
অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিককে রিমান্ড শেষে কারাগারে পাঠিয়েছেন আদালত।
বুধবার (৭ মে) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জাকির হোসাইন উভয় পক্ষের শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে কারাগারে পাঠানোর নির্দেশ দেন।
গত ৩০ এপ্রিল বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গুলশানে ভ্যানচালক জব্বার আলী হাওলাদারকে হত্যাচেষ্টার মামলায় অভিনেতা সিদ্দিকুর রহমান সিদ্দিককে সাত দিনের রিমান্ডে নেয় পুলিশ।
সাত দিনের রিমান্ড শেষে সিদ্দিককে মামলার তদন্ত কর্মকর্তা গুলশান থানার উপপরিদর্শক (এসআই) আব্দুস সালাম কারাগারে আটক রাখার আবেদন করেন। তার আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে আদালত তাকে কারাগারে পাঠানো নির্দেশ দেন।
গত ২৯ এপ্রিল বিকালে বেইলি রোড দিয়ে যাওয়ার সময় কিছু যুবক সিদ্দিককে আটক করেন। তাকে মারধর করে রমনা মডেল থানায় হস্তান্তর করা হয়। পরে তাকে গুলশান থানায় হস্তান্তর করলে তাকে এ মামলায় গ্রেপ্তার করা হয়।
আরও পড়ুন: ভ্যানচালক হত্যাচেষ্টা মামলায় সাতদিনের রিমান্ডে সিদ্দিক
মামলার অভিযোগ থেকে জানা যায়, বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের সময় গত ১৯ জুলাই গুলশানের শাহজাদপুরে কনফিডেন্স টাওয়ারের সামনে আন্দোলনকারীদের ওপর গুলি চালানো হয়। এতে জব্বার আলী হাওলাদার গুলিবিদ্ধ হন।
এ ঘটনায় সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাসহ ১০৯ জনের বিরুদ্ধে গুলশান থানায় এ মামলাটি করে জব্বার আলী হাওলাদার নিজেই।
৩৬৩ দিন আগে
চার দফা দাবিতে জবি শিক্ষার্থীদের বিক্ষোভ
বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) বৈষম্যমূলক নীতি, আবাসন ভাতা ও হল নির্মাণসহ চার দফা দাবিতে বিক্ষোভ মিছিল ও অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের (জবি) শিক্ষার্থীরা। বুধবার (৭ মে) সকাল ১০টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের ভাস্কর্য চত্বর থেকে মিছিল নিয়ে ক্যাম্পাস প্রদক্ষিণ করে ভিসি ভবনের সামনে এ অবস্থান কর্মসূচি পালিত হয়।
এ সময় শিক্ষার্থীরা ‘প্রহসনের বাজেট মানি না, মানবো না’; ‘বৈষম্যের কালো হাত, ভেঙে দাও গুঁড়িয়ে দাও’; ‘বাজেট নিয়ে বৈষম্য মানি না, মানবো না’; ‘ইউজিসির গদিতে, আগুন জ্বালো একসাথেসহ’ বিভিন্ন স্লোগান দেন।
অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে জবি বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের আহ্বায়ক মাসুদ রানা বলেন, ‘জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা সব আন্দোলনেই সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছেন।’
ইউজিসি চেয়ারম্যানকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, ‘আপনি যে পদে বসে আছেন, সেই পদে বসতে জবি শিক্ষার্থীদের ত্যাগ আছে। সুতরাং বৈষম্য বন্ধ করুন এবং জবির শিক্ষার্থীদের আবাসনসহ চার দাবি দ্রুত মেনে নিন। দাবি মেনে না-নিলে শিক্ষা মন্ত্রণালয় ঘেরাও করা হবে।’
কর্মসূচিতে জবি ইসলামি ছাত্র আন্দোলনের সেক্রেটারি আশিকুর রহমান বলেন, ‘২০২৪ সালের আন্দোলনে এমন কোনো দিন ছিল না, যেদিন পুরান ঢাকায় আন্দোলন হয়নি। আমাদের রক্তের ওপর দাঁড়িয়ে আপনারা মন্ত্রণালয় গঠন করেছেন, অথচ আজ আমাদের ওপরই বৈষম্য করছেন।’
‘আবাসন ভাতা ছাড়া জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় চলতে পারে না। আমাদের ৯০-৯৫ শতাংশ শিক্ষার্থী টাকার অভাবে সকালের নাশতা খেতে পারেন না। পুরান ঢাকার ঘিঞ্জি পরিবেশে আমরা মানবেতর জীবনযাপন করছি,’ অভিযোগ করেন এই শিক্ষার্থী।
এদিকে, জবি ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি এ কে এম রাকিব বলেন, ‘হয় জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় একটি পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়ের মতো চলবে, নয়তো চিরতরে বন্ধ হয়ে যাবে। ঢাকার মধ্যে দুটি বিশ্ববিদ্যালয়ের মধ্যে বাজেটে এত বৈষম্য কোনোভাবেই মেনে নেওয়া যায় না।’
আরও পড়ুন: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা
এ বিষয়ে বাংলাদেশ বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরী কমিশনের (ইউজিসি) সদস্য অধ্যাপক ড. মোহাম্মদ তানজীমউদ্দিন খান বলেন, ‘আমরা জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের দাবির প্রতি সহানুভূতিশীল। শিক্ষার্থীদের আবাসন ভাতা দেওয়ার চেষ্টা করছি এবং তাদের চার দফা দাবি পূরণে সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি। তবে, আমাদেরও সীমাবদ্ধতা আছে। বাজেট বৃদ্ধির নীতিমালাতেও ত্রুটি আছে, এজন্য আমরা ইউজিসি সংস্কারের প্রস্তাব দিয়েছি ‘
শিক্ষার্থীদের চার দফা দাবি হলো: ২০২৫-২৬ অর্থবছরের বাজেটে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেট বৃদ্ধি এবং অন্তত ৭০ শতাংশ শিক্ষার্থীর জন্য আবাসন ভাতা অন্তর্ভুক্ত করা। দ্বিতীয় ক্যাম্পাস নির্মাণ এবং পুরান ঢাকায় ড. হাবিবুর রহমান হল ও বাণী ভবনের নির্মাণকাজ আগামী ১০ মে’র মধ্যে শুরু করা। বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ১৫ দিন অন্তর দ্বিতীয় ক্যাম্পাস ও হল নির্মাণ কার্যক্রমের অগ্রগতি মুক্তমঞ্চে ব্রিফ করার বাধ্যবাধকতা আরোপ। আগামী ১৫ মে’র মধ্যে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা।
৩৬৩ দিন আগে
নৌনিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সরকার বদ্ধপরিকর: নৌপরিবহন উপদেষ্টা
দেশের অভ্যন্তরীণ নৌপথগুলোতে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বর্তমান সরকার বদ্ধপরিকর বলে জানিয়েছেন নৌপরিবহন উপদেষ্টা ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) ড. এম ।
বুধবার (৭ মে) সকালে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন অডিটোরিয়ামে নৌপরিবহন অধিদপ্তর আয়োজিত ‘নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৫’ উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিতে নৌপরিবহন মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বেশ কিছু কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।’
উপদেষ্টা জানান, ফিটনেস বিহীন নৌযান চলাচল বন্ধে নিয়মিত অভিযান পরিচালনা করা হচ্ছে। রুট পারমিট ও লাইসেন্স নবায়নের ক্ষেত্রে কঠোর মনিটরিংয়ের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। নৌযান মালিকদের অতিরিক্ত যাত্রী বা পণ্যবোঝাই না করার জন্য সতর্ক করা হয়েছে। আইন অমান্যকারীদের শাস্তির আওতায় আনা হচ্ছে। রাতে বাল্কহেড চলাচল বন্ধ করা হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, নদীর নাব্যতা বজায় রাখতে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপথ কর্তৃপক্ষ (বিআইডব্লিউটিএ) নিয়মিত ড্রেজিং কার্যক্রম পরিচালনা করছে। নৌপথের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য অপরাধপ্রবণ এলাকায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর বিশেষ টহল, মোবাইল কোর্ট পরিচালনা এবং ঘাটে চাঁদাবাজি বন্ধে কঠোর নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
উপদেষ্টা বলেন, গত ঈদে নৌ-দুর্ঘটনা রোধে সর্বোচ্চ সতর্কতার ফলে নিরাপদ ও নির্বিঘ্ন ঈদযাত্রা সম্পন্ন হয়েছে। আগামী ঈদেও একই ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার আশা প্রকাশ করেন উপদেষ্টা।
আরও পড়ুন: চট্টগ্রাম-সন্দ্বীপ নৌপথে ফেরি সার্ভিস উদ্বোধন সোমবার
ড. সাখাওয়াত হোসেন বলেন, ‘একসময় নৌপথই ছিল দেশের যাতায়াতের প্রধান মাধ্যম। যদিও কালক্রমে এর ব্যবহার কমেছে, তবুও বাংলাদেশ বিশ্বের অন্যতম মেরিটাইম দেশ।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের একটি গভীর সমুদ্র বন্দরসহ মোট চারটি সমুদ্র বন্দর রয়েছে। বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পরপরই দেশেই প্রত্যন্ত অঞ্চলে পর্যন্ত নৌপথকে সম্প্রসারিত করার উদ্যোগ গ্রহণ করে। বর্তমানে পণ্য পরিবহনে শতকরা ৮০ ভাগ নৌপথের মাধ্যমে পরিবহন করা হচ্ছে। ইতোমধ্যে সন্দীপ ও মহেশখালীতে সরাসরি ফেরি সার্ভিস চালু করা হয়েছে। আগামীতে আরও জনপদকে সংযুক্ত করা হবে। দুর্ভাগ্যজনক হলেও সত্য, দেশে এমনও প্রত্যন্ত অঞ্চল এখনও রয়েছে যেখানে গত ৫০ বছরেও নৌ যোগাযোগসহ অন্যান্য যোগাযোগ ব্যবস্থা স্থাপিত হয় নাই। সে সব জায়গায় বিআইডব্লিউটিএ’র বিভিন্ন পল্টুন নির্মাণ করা হচ্ছে, যেন সেখানকার অধিবাসীদের যাতায়াতের দৈনন্দিন কষ্টটা লাঘব হয়।’
উপদেষ্টা আরও বলেন, ‘নদীকে বাঁচাতে হবে নইলে বাংলাদেশ বাঁচবে না। নদী দূষণ ও অবৈধ দখল রোধে কার্যক্রম চলমান রয়েছে।’ তবে, বুড়িগঙ্গা নদী পরিষ্কারে অর্থ ও যন্ত্রপাতির অভাবে বিলম্ব হচ্ছে বলেও জানান নৌপরিবহন উপদেষ্টা।
বাংলাদেশ শিপিং করপোরেশনের ভূমিকা তুলে ধরে উপদেষ্টা জানান, এটি একটি লাভজনক প্রতিষ্ঠান, যা দেশের অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। আন্তর্জাতিক নৌবাণিজ্য বৃদ্ধির লক্ষ্যে চারটি জাহাজ কেনার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এর মাধ্যমে আরও বেশি কর্মসংস্থান ও বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের পথ সুগম হবে। এছাড়া, এলপিজি কনটেইনার জাহাজ কেনার পরিকল্পনা রয়েছে সরকারের। নৌ নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নৌযান মালিক, শ্রমিক ও যাত্রী সাধারণকে এগিয়ে আসার আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: নৌপথে মানুষের হয়রানি যাতে না হয়: উপদেষ্টা সাখাওয়াত
নদীমাতৃক বাংলাদেশের নৌপথে চলাচলকারী যাত্রী সাধারণ ও মালামালের নিরাপত্তা বিধান এবং সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে নৌপরিবহন অধিদপ্তরের উদ্যোগে ৭ থেকে ১৩ মে পর্যন্ত সপ্তাহব্যাপী নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ পালন করা হচ্ছে। এবারের নৌ নিরাপত্তা সপ্তাহ ২০২৫ এর প্রতিপাদ্য ‘দূষণমুক্ত নদী ও নিরাপদ নৌযান, সুস্থ থাকবে পরিবেশ, রক্ষা হবে প্রাণ’।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন নৌপরিবহন অধিদপ্তরের মহাপরিচালক কমডোর মোহাম্মদ মাকসুদ আলম। বিশেষ অতিথি ছিলেন নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব মোহাম্মদ ইউসুফ। এছাড়া উপস্থিত ছিলেন বিআইডব্লিউটিসি’র চেয়ারম্যান মো. সলিম উল্লাহ, বিআইডব্লিউটিএ’র চেয়ারম্যান কমডোর আরিফ আহমেদ মোস্তফা এবং বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌ চলাচল সংস্থার সভাপতিসহ মালিক ও শ্রমিক সংগঠনের নেতারা।
৩৬৩ দিন আগে
বরিশাল নার্সিং কলেজে শিক্ষার্থীদের কমপ্লিট শাটডাউন
ছয় দফা দাবি, শিক্ষক ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীদের উপর হামলার প্রতিবাদে বরিশাল নার্সিং কলেজের শিক্ষার্থীরা অনির্দিষ্টকালের জন্য কমপ্লিট শাটডাউন কর্মসূচি পালন করছে।
বুধবার (৭ মে) সকাল ৯টা থেকে কলেজের সামনে এ কর্মসূচি শুরু হয়। এর আগে মঙ্গলবার শিক্ষার্থীরা তাদের দাবি নিয়ে কর্মসূচি পালনের চেষ্টা করলে শিক্ষকদের বাধার সম্মুখীন হন।
আরও পড়ুন: বরিশাল বিশ্ববিদ্যালয়ে উপাচার্যের অপসারণের দাবিতে প্রশাসনিক ভবনে তালা
অভিযোগ রয়েছে, এ সময় শিক্ষক ও পোস্ট গ্র্যাজুয়েট শিক্ষার্থীরা তাদের ওপর হামলা ও মারধর করে। এ সময় চারজন শিক্ষার্থী আহত হন। শিক্ষার্থীদের দাবির মধ্যে রয়েছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ও বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের নীতিমালা অনুযায়ী শিক্ষক নিয়োগসহ ছয় দফা দাবি।
শিক্ষার্থীরা জানিয়েছেন, তাদের দাবি পূরণ এবং মারধরের ঘটনায় বিচার না পাওয়া পর্যন্ত তারা আন্দোলন চালিয়ে যাবে। তবে শিক্ষকেরা এসব অভিযোগ অস্বীকার করেছেন। ফলে বরিশাল নার্সিং কলেজের সামনে উত্তপ্ত পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
শিক্ষার্থীরা বলছেন, বিচারের দাবিতে এই আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
৩৬৩ দিন আগে
গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা অর্জনের চেষ্টা করছি: আলী রীয়াজ
জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সহ-সভাপতি অধ্যাপক আলী রীয়াজ বলেছেন, ‘বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের আকাঙ্ক্ষা হচ্ছে এমন একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র তৈরি করা, যেখানে মানুষ গুম-খুনের শিকার হবেন না। নিজস্ব বিশ্বাসের কারণে নিপীড়নের শিকার হবেন না। কোনো নাগরিকই নিপীড়িত হবেন না৷ জনগণের একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র কাঠামো গঠনের দীর্ঘদিনের আকাঙ্ক্ষা অর্জনের চেষ্টা করছি।’
বুধবার (৭ মে) ঢাকায় সংসদ ভবনের এলডি হলে জাতীয় ঐকমত্য কমিশনের সাথে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (পীর চরমোনাই) আলোচনার শুরুতে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় কমিশনের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ড. বদিউল আলম মজুমদার, সফর রাজ হোসেন, ড. ইফতেখারুজ্জামান এবং প্রধান উপদেষ্টার বিশেষ সহকারী মনির হায়দার।
জাতি, রাষ্ট্র এবং জনগণের স্বার্থকে ঊর্ধ্বে তুলে ধরে একটি ঐকমত্যে পৌঁছানোর আশাবাদ ব্যক্ত করে অধ্যাপক আলী রীয়াজ আলোচনার সূচনায় বলেন, ‘রাষ্ট্র পরিচালনায় প্রতিটি রাজনৈতিক দলের নিজস্ব আদর্শিক পরিকল্পনা থাকে। তারপরও মতপার্থক্যের ঊর্ধ্বে উঠে একটি রাষ্ট্র কাঠামো বিনির্মাণের সুযোগকে কাজে লাগাতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এদেশের জনগণের চাওয়া হচ্ছে একটি গণতান্ত্রিক সমাজ, একটি গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা করা। কেবল কমিশনের আনুষ্ঠানিক আলোচনার মাধ্যমে ঐকমত্য গড়ে উঠবে তা আমি মনে করি না। ঐকমত্য প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে জাতীয় সনদ তৈরি করতে সম্মিলিত প্রচেষ্টা জরুরি।’
আরও পড়ুন: দলগুলোর সাথে ১৫ মের মধ্যে প্রথম পর্যায়ের আলোচনা শেষ করব: আলী রীয়াজ
গত ১০ এপ্রিল কমিশন বরাবর তাদের মতামত জমা দেয় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ। সে পরিপ্রেক্ষিতে দলটির সাথে আজ আলোচনায় বসেছে।
আলোচনায় ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের (পীর চরমোনাই) মহাসচিব অধ্যক্ষ হাফেজ মাওলানা ইউনুস আহম্মেদ সেখের নেতৃত্বে দলটির প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী ও মাহবুবুর রহমান, সিনিয়র যুগ্ন মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ন মহাসচিব প্রকৌশলী মুহাম্মদ আশরাফুল আলমসহ ১১ সদস্যের প্রতিনিধিদল অংশ নেয়।
ট্যাগ: আলী রীয়াজ, জাতীয় ঐকমত্য কমিশন, চরমোনাই পীর
৩৬৩ দিন আগে
থ্যালাসেমিয়া আক্রান্ত শূন্যে নামাতে জরুরি কর্মপরিকল্পনা: বাণিজ্য উপদেষ্টা
বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন বলেছেন, আগামী দশ বছরের মধ্যে বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া রোগে আক্রান্তের সংখ্যা শূন্যে নামিয়ে আনতে জরুরি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করতে হবে। জনসচেতনতা বাড়াতে এবং বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে এই রোগ প্রতিরোধে সমাজের সব স্তরের অংশগ্রহণের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
বুধবার (৭ মে) সকালে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের অডিটোরিয়ামে আন্তর্জাতিক থ্যালাসেমিয়া দিবস ২০২৫ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে শেখ বশিরউদ্দীন এ কথা বলেন। এ বছর দিবসটির প্রতিপাদ্য ‘থ্যালাসেমিয়ার জন্য সামাজিক ঐক্য গড়ি, রোগীর অগ্রাধিকার নিশ্চিত করি’।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘থ্যালাসেমিয়া রোগীর চিকিৎসায় প্রতি মাসে ২০ হাজার থেকে ৩০ হাজার টাকা খরচ হয়। পরিসংখ্যান অনুযায়ী দেশে ১০ থেকে ১১ শতাংশ মানুষ থ্যালাসেমিয়ার বাহক। এর মধ্যে ১ শতাংশ যদি রোগী হয়, তবে চিকিৎসা ব্যয় ২ হাজার থেকে ১০ হাজার কোটি টাকা হতে পারে। এই বিপুল ব্যয় কমাতে জনসচেতনতা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
আরও পড়ুন: প্রবাসীদের রেমিট্যান্স দেশের অর্থনীতির জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ: বাণিজ্য উপদেষ্টা
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, ‘থ্যালাসেমিয়া প্রতিরোধে সামাজিক সচেতনতা খুবই জরুরি। সচেতনতা ও পর্যাপ্ত স্ক্রিনিংয়ের মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া রোগ নির্ণয় করে এই রোগে আক্রান্ত হওয়ার হার কমিয়ে আনা যেতে পারে। বিটা থ্যালাসেমিয়া বাহক যদি না জেনে আরেকজন বাহককে বিয়ে করেন, তাদের সন্তান গুরুতর থ্যালাসেমিয়া নিয়ে জন্মাতে পারে। এটি প্রতিরোধে তাই ব্যক্তিপর্যায়ের জনসচেতনতা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, ‘ব্যয়বহুল এ রোগ সম্পর্কে বিবাহ নিবন্ধনকারী কাজী, ধর্মীয় নেতা এবং শিক্ষকদের প্রশিক্ষণের মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরি এবং বিভিন্ন ফোরামে বিয়ের আগে রক্ত পরীক্ষা করার বিষয়ে জনমত তৈরিতে কাজ করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন উপদেষ্টা।’
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘থ্যালাসেমিয়া বাহক হওয়ায় কোনো সমস্যা নেই এবং বাহকরা স্বাভাবিক জীবনযাপন করতে পারেন। তবে দুজন বাহকের বিবাহের ফলে সন্তানের রোগে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি থাকে, যা বিপুল পারিবারিক ও রাষ্ট্রীয় ব্যয়ের কারণ হয়। এ সময় অনুষ্ঠানে শেখ বশিরউদ্দীন নিজের রক্ত পরীক্ষার মাধ্যমে থ্যালাসেমিয়া সচেতনতা কার্যক্রম উদ্বোধন করেন। এছাড়া দিবসটি উপলক্ষে বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের উদ্যোগে একটি বর্ণাঢ্য শোভাযাত্রা করা হয়।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটের ম্যানেজমেন্ট বোর্ডের চেয়ারম্যান অধ্যাপক ডা. একেএম আজিজুল হক। বিশেষ অতিথি হিসেবে ছিলেন অধ্যাপক ডা. মো. সেলিমুজ্জামান, ডা. আরেফিন (জেনফার বাংলাদেশ) এবং অধ্যাপক ডা. মো. মনির হোসেন। স্বাগত বক্তব্য দেন হাসপাতালের পরিচালক অধ্যাপক ডা. মো. মাহবুবুল হক।
আরও পড়ুন: বাংলাদেশে বিনিয়োগের সুযোগ নেওয়ার আহ্বান বাণিজ্য উপদেষ্টার
১৯৯৪ সাল থেকে বিশ্বব্যাপী এবং ১৯৯৮ সাল থেকে বাংলাদেশে থ্যালাসেমিয়া সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে এই দিবস পালিত হচ্ছে। বাংলাদেশে এই রোগের চিকিৎসা শুরু হয় বাংলাদেশ শিশু হাসপাতাল ও ইনস্টিটিউটে।
৩৬৩ দিন আগে
সংস্কারের নামে সময় নষ্ট না করে নির্বাচন দিন: ফারুক
সংস্কারের নামে সময় নষ্ট না করে দ্রুত নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে পদক্ষেপ নিতে অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধানের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক।
বুধবার (৭ মে) রাজধানীতে এক প্রতীকী অবস্থান কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি এই আহ্বান জানান। বাংলাদেশ জাতীয় নাগরিক পরিষদ জাতীয় প্রেস ক্লাবের সামনে এই কর্মসূচির আয়োজন করে।
ফারুক বলেন, ‘বাংলাদেশের প্রায় ৭৫ শতাংশ মানুষ এখনই নির্বাচন চায়। নির্বাচন আয়োজনে আর দেরি করা উচিত নয়, কারণ এখনই এটি প্রয়োজন।’
তিনি সংসদ নির্বাচনের জন্য একটি রোডম্যাপ এবং জনগণের উপর অবৈধ অস্ত্র ব্যবহারকারী আওয়ামী মাফিয়া শাসকদের গ্রেপ্তার এবং নির্বাচনের আগে তাদের বিচারের দাবিও জানান।
আরও পড়ুন: আমাকে প্রশ্ন করায় সাংবাদিকদের চাকরি গেছে, এটি হাস্যকর: ফারুকী
সংসদে বিরোধী দলের সাবেক প্রধান হুইপ ফারুক বলেন, সরকারের সংস্কার উদ্যোগ প্রায় চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে।
তিনি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে এমন কোনো সংস্কার কর্মসূচি গ্রহণ না করার আহ্বান জানান, যা ১/১১-এর মতো ষড়যন্ত্রের মাধ্যমে নির্বাচন বিলম্বিত করতে পারে।
অধ্যাপক ইউনূসকে একজন সম্মানিত ও গ্রহণযোগ্য ব্যক্তি হিসেবে বর্ণনা করে বিএনপির নেতা। তিনি তাকে এই বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে নির্বাচন অনুষ্ঠানের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেওয়ার আহ্বান জানান। বলেন, ‘দয়া করে এর ব্যবস্থা করুন।’
তিনি বলেন, দেশের জনগণ একটি বিশ্বাসযোগ্য নির্বাচনের মাধ্যমে তাদের প্রতিনিধিদের মাধ্যমে সংসদ গঠন করবে।
ফারুক বলেন, জনগণ যদি তার দলকে ভোট দিয়ে ক্ষমতায় আনে তবে দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাওয়ার জন্য বিএনপির ৩১ দফা রাষ্ট্রীয় সংস্কার প্রস্তাব পরবর্তী সংসদের মাধ্যমে বাস্তবায়ন করা হবে।
প্রধান উপদেষ্টাকে উদ্দেশ করে তিনি বলেন, নির্বাচন নিয়ে ষড়যন্ত্র চলছে। ‘কোথাও, একটি দাবার খেলা চলছে এবং সঠিক সময়ে নির্বাচন অনুষ্ঠান থেকে আপনাকে বিরত রাখার চেষ্টা করা হচ্ছে। আপনাকে এ বিষয়ে সচেতন থাকতে হবে এবং আপনার উপদেষ্টাদেরও এ বিষয়ে সতর্ক থাকতে হবে।’
বিএনপি নেতা বলেন, সংস্কার এবং সংস্কার কমিশনের জন্যই সময় ব্যয় করা হচ্ছে। ‘নির্বাচনের আসল উদ্দেশ্য ব্যাহত করা হচ্ছে। নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণ বাংলাদেশপন্থী শক্তিগুলোকে ক্ষমতায় আনবে, যারা দেশের সমস্যা সমাধান করবে।’
আরও পড়ুন: তিশাই উত্তর দিতে পারবেন কেন মুজিব সিনেমা করতে হয়েছে: ফারুকী
মিয়ানমারের রাখাইনের জন্য একটি মানবিক করিডোর দেওয়ার সরকারের সিদ্ধান্তের বিরোধিতা করেন তিনি। প্রধান উপদেষ্টাকে তার অধীনে নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা ও সরকার গঠনকারী দলের উপর বিষয়টি ছেড়ে দেওয়ার আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
৩৬৩ দিন আগে