বাংলাদেশ
প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে মেয়েকে হত্যা, বাবাসহ ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
কিশোরগঞ্জের করিমগঞ্জে প্রতিপক্ষকে ফাঁসাতে নিজ মেয়ে মীরা আক্তার আছমাকে হত্যার দায়ে তিনজনকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছেন আদালত। একই সঙ্গে তাদের প্রত্যেককে পাঁচ হাজার টাকা করে জরিমানা করা হয়েছে।
বুধবার (৬ জুলাই) দুপুরে আসামিদের অনুপস্থিতিতে কিশোরগঞ্জের সিনিয়র জেলা ও দায়রা জজ আদালতের বিচারক মুহাম্মদ নুরুল আমিন বিপ্লব এ রায় দেন।
আসামিরা হলেন— করিমগঞ্জ উপজেলার ভাটিয়া গ্রামের জহিরকোনা এলাকার নিহত মীরা আক্তার আছমার বাবা আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে আঙ্গুর মিয়া, চাচা খুরশিদ মিয়া ও চাচাতো ভাই সাদেক মিয়া।
এই ঘটনায় অপর আসামি আছমার মা মোছা. নাজমুন্নাহারকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
মামলার বিবরণে জানা যায়, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য আনোয়ারুল ইসলাম ওরফে আঙ্গুর মিয়া, খুরশিদ মিয়া, সাদেক মিয়া ও নাজমুন্নাহার দীর্ঘদিন ধরে পরিকল্পনা করছিল।
আরও পড়ুন: যশোরে ইজিবাইক চালক হত্যা মামলায় ৩ জনের মৃত্যুদণ্ড
২০১৬ সালের ১০ অক্টোবর রাতে আনোয়ারুল ইসলাম তার বাড়ির পাশে নুরুল ইসলামের পতিত জমিতে বাঁশঝাড়ের নিছে অপর আসামিদের সঙ্গে নিয়ে পরিকল্পিতভাবে তার নিজ মেয়ে আছমাকে জবাই করে হত্যা করে। হত্যার পরে আসামিরা প্রতিপক্ষের নামে করিমগঞ্জ থানা একটি হত্যা মামলা করে।
তবে মামলার তদন্তে বের হয়, প্রতিপক্ষকে ফাঁসানোর জন্য মামলার বাদীরাই তাদের মেয়েকে গলা কেটে হত্যা করে। পরে করিমগঞ্জ থানার উপপরিদর্শক (এসআই) অলক কুমার দত্ত বাদী হয়ে আসামিদের বিরুদ্ধে একটি হত্যা মামলা করেন। ওই মামলার দীর্ঘ শুনানি শেষে আজ ৬ আগস্ট এই রায় দেন আদালত।
আসামি পক্ষের আইনজীবী ছিলেন অনামিকা রেজা রোজি ও রাষ্ট্রপক্ষে আইনজীবী ছিলেন এপিপি মাজহারুল ইসলাম।
৪৪৮ দিন আগে
জুলাই গণ–অভ্যুত্থান দিবসে ড্রোন প্রদর্শনীতে মুগ্ধ জনতা
বিরুপ আবহাওয়া কারণে দীর্ঘ বিলম্বের পর জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে অনুষ্ঠিত হয়েছে বহুল প্রতীক্ষিত ড্রোন শো ‘ডু ইউ মিস মি?’।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় এই এই প্রদর্শনী হওয়ার কথা থাকলেও বৃষ্টির কারণে একাধিকবার পিছিয়ে অবশেষে রাত ১১টায় শুরু হয়। মানিক মিয়া এভিনিউতে এক হাজার একশ ড্রোনের সমন্বয়ে ১২ মিনিট ধরে চলে এই প্রদর্শনী।
দিনব্যাপী চলা সংগীত উৎসবের পর বৃষ্টিভেজা পরিবেশ ও সময়সূচির বারবার পরিবর্তন সত্ত্বেও হাজারো দর্শক সেই রাতে অপেক্ষায় ছিলেন এই অনুষ্ঠান দেখার জন্য।
মূলত সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটে অনুষ্ঠান শুরুর কথা থাকলেও, বিরূপ আবহাওয়ার কারণে তা একাধিকবার পেছাতে হয়। রাত গভীর হওয়ায় অনেক দর্শকই তখন ত্যক্ত-বিরক্ত হয়ে ভিজে অবস্থায় অনুষ্ঠানস্থল ত্যাগ করেন। তবে যারা থেকে গিয়েছিলেন, তারা এক মনোমুগ্ধকর দৃশ্যের সাক্ষী হন যেখানে প্রযুক্তি ও রাজনৈতিক বার্তা মিশে যায় এক অভিনব কল্পনায়।
আরও পড়ুন: ‘জুলাই সনদ’ একটি ঐতিহাসিক অর্জন, এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে: অধ্যাপক ইউনূস
৪৪৮ দিন আগে
সূচকের উত্থানে ঢাকায় লেনদেন, পতন চট্টগ্রামে
সপ্তাহের তৃতীয় কার্যদিবসে সূচকের উত্থানের মধ্য দিয়ে লেনদেন চলছে ঢাকার পুঁজিবাজারে, অন্যদিকে দিনের প্রথমার্ধে পতন হয়েছে চট্টগ্রামে।
লেনদেনের প্রথম দুই ঘণ্টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৪ পয়েন্ট।
বাকি দুই সূচক শরীয়াভিত্তিক ডিএসইএস বেড়েছে ৬ এবং বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লুচিপ সূচক ডিএস-৩০ বেড়েছে ১ পয়েন্ট।
২২৩ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৯৭ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৭৭ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ঢাকার বাজারে ৫০০ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
ঢাকায় সূচক বাড়লেও পতন হয়েছে চট্টগ্রামে, সার্বিক সূচক কমেছে ৩৬ পয়েন্ট।
আরও পড়ুন: পতনে লেনদেন চলছে ঢাকা-চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) লেনদেনে অংশ নেয়া ১৪৯ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ৬৫ কোম্পানির, কমেছে ৬৫ এবং অপরিবর্তিত আছে ১৯ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে দিনের প্রথম দুই ঘণ্টায় ১৬ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
৪৪৮ দিন আগে
‘জুলাই সনদ’ একটি ঐতিহাসিক অর্জন, এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে: অধ্যাপক ইউনূস
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, ‘জুলাই সনদ’ একটি ঐতিহাসিক অর্জন, যা বাংলাদেশের শান্তিপূর্ণ ক্ষমতা হস্তান্তর, স্বাধীনতা এবং জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানের সক্ষমতা নিশ্চিত করবে।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, রাজনৈতিক দলগুলো শিগগিরই ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর করবে এবং এর বাস্তবায়নে একমত হবে, কারণ এটি নাগরিক অধিকার বাস্তবায়ন, জাতীয় সম্পদ ও সক্ষমতার সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করবে।
‘ঐকমত্য কমিশনের নেতৃত্বে এবং দীর্ঘ সময় ধরে সব রাজনৈতিক দলের ধারাবাহিক সংলাপের মাধ্যমে ‘জুলাই সনদ’ এখন চূড়ান্ত পর্যায়ে পৌঁছেছে,’ মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া এক টেলিভিশন ভাষণে এসব কথা বলেন অধ্যাপক ইউনূস।
‘সংস্কারের দিক থেকে আমরা আমাদের লক্ষ্যে পৌঁছেছি,’ উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের পর আমরা অনেক দূর এগিয়ে গেছি।
তিনি বলেন, ‘জুলাই সনদ’ শুধু রাজনৈতিক ইতিহাসেই নয়, বৃহত্তর রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটেও স্মরণীয় হয়ে থাকবে।
‘শুধু দলিল নয়, এই সনদ তৈরির প্রক্রিয়াটিও স্মরণে রাখা হবে,’ বলেন অধ্যাপক ইউনূস।
জাতির পক্ষ থেকে অধ্যাপক ইউনূস সব রাজনৈতিক দলের নেতা ও ঐকমত্য কমিশনের সদস্যদের প্রতি, বিশেষ করে এই উদ্যোগের নেতৃত্ব দেওয়া অধ্যাপক আলী রিয়াজের প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জানান।
তিনি জানান, রাজনৈতিক দলের প্রতিনিধিরা শান্তিপূর্ণ ও সৌহার্দ্যপূর্ণ পরিবেশে আলোচনায় অংশ নিয়েছেন।
আরও পড়ুন: নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি গোষ্ঠী উন্মুখ: প্রধান উপদেষ্টা
‘মতপার্থক্য সত্ত্বেও সব দলের মধ্যে ঐকমত্যে পৌঁছানোর সম্মিলিত প্রয়াস ছিল,’ বলেন ইউনূস। তিনি আশা প্রকাশ করেন, এই ঐকমত্যের ভিত্তিতেই শিগগির রাজনৈতিক দলগুলো ‘জুলাই সনদ’ স্বাক্ষর ও বাস্তবায়নে একমত হবে।
তিনি বলেন, নিশ্চিত করতে হবে, কোনো ভবিষ্যৎ সরকার যেন আর কখনো ফ্যাসিবাদী হয়ে উঠতে না পারে।
‘রাষ্ট্রকে এমনভাবে পুনর্গঠিত করতে হবে, যাতে ফ্যাসিবাদের যেকোনো লক্ষণ তাৎক্ষণিকভাবে দমন করা যায়—যাতে আর কখনো ১৬ বছর অপেক্ষা করতে না হয়, এত জীবন হারাতে না হয়, আর কখনো একটি গণ-অভ্যুত্থানের প্রয়োজন না হয়,’ বলেন তিনি।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, দেশে শান্তি-শৃঙ্খলা ফিরে এসেছে, অর্থনীতি পুনরুদ্ধার হয়েছে এবং বহু সংকটের সমাধান হয়েছে।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শুল্কসংক্রান্ত আলোচনা সফলভাবে শেষ হয়েছে, যা অর্থনীতিতে নতুন সম্ভাবনার দ্বার খুলেছে বলেও জানান তিনি। ড. ইউনূস বলেন, এক বছর আগে যখন অন্তর্বর্তীকালীন সরকার দায়িত্ব নেয়, তখন দেশ ছিল ১৬ বছরের ধ্বংস ও লুটপাটে বিপর্যস্ত। তখন অনেকেই বিশ্বাস করেননি যে এই অর্থনীতি আবার ঘুরে দাঁড়াবে।
‘কিন্তু মাত্র এক বছরের মধ্যেই আমরা এমন অগ্রগতি করেছি, যা কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। অর্থনীতি ঘুরে দাঁড়িয়েছে। এখন সময় এসেছে পূর্ণ গতিতে এগিয়ে যাওয়ার,’ বলেন ইউনূস। তিনি জানান, এখন সরকার নির্বাচিত প্রতিনিধিদের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরের পথে এগোচ্ছে।
দায়িত্ব গ্রহণের চার মাস পর জাতির উদ্দেশ্যে দেওয়া ভাষণে অধ্যাপক ইউনূস জাতীয় সংসদ নির্বাচন ২০২৬ সালে আয়োজনের প্রতিশ্রুতি দেন। তবে তার আগে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কাজ সম্পন্ন করতে হবে, যার মধ্যে রয়েছে ‘জুলাই ঘোষণা’ এবং ‘জুলাই সনদ’।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে অন্তর্বর্তীকালীন সরকার রাজনৈতিক দলের অংশগ্রহণে জাতির সামনে উপস্থাপন করে ‘জুলাই ঘোষণা’। অধ্যাপক ইউনূস বলেন, এই ঘোষণায় জুলাই অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট ও বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধসহ অন্যান্য ঐতিহাসিক ও গণতান্ত্রিক আন্দোলনের কথাও তুলে ধরা হয়েছে।
তিনি জানান, সরকার সংস্কার, বিচার ও নির্বাচন—এই তিনটি মূল দায়িত্ব সামনে রেখে কাজ করছে।
জুলাই অভ্যুত্থানে অংশ নেওয়া ছাত্র, শ্রমিক ও সাধারণ জনগণ সারাদেশে দেয়ালে তাদের দাবি ও প্রত্যাশা লিখে গেছেন। এর মূল দাবি ছিল রাষ্ট্রীয় ব্যবস্থার গণতান্ত্রিক সংস্কার। এই লক্ষ্য পূরণে সরকার গঠন করে একাধিক সংস্কার কমিশন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘মূল কমিশনগুলোর দেওয়া সুপারিশের মধ্যে আমরা ইতোমধ্যে বহু স্বল্পমেয়াদি ও জরুরি সংস্কার বাস্তবায়ন করেছি।’
এই সংস্কারগুলো অর্থনীতি, বিচারব্যবস্থা ও প্রশাসনে গতি আনবে; স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি বাড়াবে; দুর্নীতি, অনিয়ম ও হয়রানি কমাবে বলে জানান তিনি।
দীর্ঘমেয়াদি সংস্কার বাস্তবায়নে সরকার গঠন করে জাতীয় সমঝোতা কমিশন। অধ্যাপক ইউনূস জানান, ৩০টির বেশি রাজনৈতিক দল ও জোট এতে সক্রিয়ভাবে অংশ নিয়েছে এবং তাদের মতামত দিয়েছে।
প্রাথমিক পর্যায়ে দুই মাসে ১৬৬টি সুপারিশ নিয়ে রাজনৈতিক দলের সঙ্গে আলোচনা করে কমিশন। রাজনৈতিক ঐকমত্যের জায়গাগুলো চিহ্নিত করে ১৯টি মৌলিক সংস্কার নির্ধারণ করে।
পরবর্তী ২৩ দিনের আলোচনায় এই ১৯টি বিষয়ের প্রায় সব কটিতেই ঐকমত্যে পৌঁছানো গেছে। তবে কিছু বিষয়ে কিছু রাজনৈতিক দলের ভিন্নমত রয়েছে বলেও জানান অধ্যাপক ইউনূস।
এ সময়ে তিনি জুলাইয়ের শহীদদের জাতির গর্বিত সন্তান অভিহিত করে শ্রদ্ধাভরে তাদের স্মরণ করেন। ‘জুলাইয়ে যারা আহত হয়েছেন, চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন বা দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছেন, তাদের প্রতি জাতির পক্ষ থেকে গভীর শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাই,’ বলেন তিনি।
আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে ইসিকে চিঠি দেব: প্রধান উপদেষ্টা
গত এক বছরে জাতি অনেক সংকট ও সম্ভাবনার মধ্য দিয়ে অতিক্রম করেছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি। ‘কয়েকটি দুর্ঘটনা ও শোকাবহ ঘটনা আমাদের গভীরভাবে আঘাত করেছে।’
সাম্প্রতিক সময়ে মাইলস্টোন স্কুল অ্যান্ড কলেজে বিমান দুর্ঘটনায় বহু মানুষের প্রাণহানি এবং অগ্নিকাণ্ডে আহতদের কথা স্মরণ করেন অধ্যাপক ইউনূস। তিনি বলেন, ‘এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় আমাদের নিষ্পাপ শিশুরাও প্রাণ হারিয়েছে। যারা এখনো চিকিৎসাধীন, তাঁদের দ্রুত আরোগ্য কামনা করি।’
এই ভয়াবহ দুর্ঘটনার পর সিঙ্গাপুর, চীন ও ভারতের চিকিৎসক ও নার্সেরা আহতদের সহায়তায় অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন জানিয়ে তিনি তাদের প্রতি কৃতজ্ঞতা জানান। একই সঙ্গে যারা রক্ত দিয়ে সহায়তা করেছেন, তাঁদের প্রতিও ধন্যবাদ জানান।
৪৪৮ দিন আগে
১০ দিনে প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন ২৫ হজযাত্রী
আগামী বছর হজে যেতে গত ১০ দিনে (২৭ জুলাই থেকে ৫ আগস্ট) ২৫ হজযাত্রী প্রাথমিক নিবন্ধন করেছেন।
বুধবার (৬ আগস্ট) সকালে ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের হজ ব্যবস্থাপনা পোর্টাল থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রাথমিক নিবন্ধিত সবাই সরকারি ব্যবস্থাপনায় হজে যাবেন। বেসরকারি ব্যবস্থাপনা কোনো হজযাত্রী এখন পর্যন্ত প্রাথমিক নিবন্ধন করেননি।
গত ২৭ জুলাই থেকে আগামী বছর হজের জন্য প্রাথমিক নিবন্ধন শুরু হয়েছে। চার লাখ টাকা জমা দিয়ে প্রাথমিক নিবন্ধন করতে হবে। হজ প্যাকেজ ঘোষণার পর বাকি টাকা জমা দিয়ে নিবন্ধন সম্পন্ন করতে হবে।
হজ এজেন্সিস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (হাব) ও ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে, হজ প্যাকেজ ঘোষণার আগে নিবন্ধনের গতি ধীর থাকে। প্যাকেজ ঘোষণা হলে তখন দ্রুত কোটা পূরণ হয়ে যায়। কারণ এখনো হজযাত্রীরা জানেন না যে এবার হজে যেতে কত টাকা খরচ হবে। তাই অনেকেই দেখেশুনে নিবন্ধন করবেন।
আরও পড়ুন: আগামী হজ কার্যক্রম আগেভাগে শেষ করতে হবে: কোটাসহ সময়সীমা দিল সৌদি সরকার
আগামী বছর বাংলাদেশ থেকে সরকারি ও বেসরকারি ব্যবস্থাপনা মিলিয়ে এক লাখ ২৭ হাজার ১৯৮ জন হজ পালন করতে পারবেন।
চলতি মাসের মধ্যেই হজ প্যাকেজ ঘোষণা হতে পারে বলে ধর্ম মন্ত্রণালয় সূত্রে জানা গেছে।
চাঁদ দেখা সাপেক্ষে আগামী বছরের মে মাসের শেষ সপ্তাহে সৌদি আরবে পবিত্র হজ অনুষ্ঠিত হবে। সৌদি সরকারের রোডম্যাপ অনুযায়ী, এবার ১২ অক্টোবরের মধ্যে প্যাকেজের পুরো টাকা নিয়ে হজের নিবন্ধন শেষ করতে হবে।
৪৪৮ দিন আগে
ওমানফেরত প্রবাসীকে আনতে গিয়েই লাশ হলেন ৪ নারী ও ৩ শিশু
ওমান প্রবাসী বাহার উদ্দিনের দেশে ফেরা উপলক্ষে তাকে অভ্যর্থনা জানাতে ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে গিয়েছিলেন তার স্বজনরা। তবে ফেরার পথে এক দুর্ঘটনা কেড়ে নিল তার স্ত্রী-কন্যাসহ পরিবারের সাত সদস্যকে।
বুধবার (৬ আগস্ট) ভোরে উপজেলার চৌমুহনী-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের জগদীশপুরে এলে বাহার উদ্দিনের পরিবারকে বহন করা মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে পাশের খালে পড়ে ডুবে যায়। এ ঘটনায় মাইক্রোবাসে থাকা নারী ও শিশুদের কেউ প্রাণে বাঁচতে পারেনি।
নিহতরা হলেন— বাহার উদ্দিনের নানি মোছা. ফয়জুন্নেসা (৮০), মা মোরশিদা বেগম (৫৫), স্ত্রী কবিতা বেগম (৩০) ও ভাবি লাবনী আক্তার (৩০) এবং মেয়ে মিম আক্তার (২), ভাতিজী রেশমী আক্তার (১০) ও লামিয়া (৯)।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, বিমানবন্দর থেকে মাইক্রোবাসে করে লক্ষ্মীপুরের হাজিরপাড়া ইউনিয়নের চৌপল্লীতে গ্রামের বাড়ি ফিরছিলেন তারা। মাইক্রোবাসটিতে যাত্রী ছিলেন নারী ও শিশুসহ মোট ১১ জন। পথিমধ্যে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চৌমুহনী-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে খালে পড়ে যায়। এরপর চালকসহ পুরুষদের পাঁচজন কোনোমতে বাইরে বেরিয়ে আসতে পারলেও পানির গভীরতা বেশি থাকায় নারী ও শিশুরা আটকা পড়েন।
আরও পড়ুন: নোয়াখালীতে মাইক্রোবাস খালে পড়ে এক পরিবারের ৭ জন নিহত
ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিমের তথ্য অনুসারে, ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে সকাল ৬টা ৫ মিনিটে চৌমুহনী ফায়ার স্টেশনের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধারকাজ শুরু করে।
তবে স্থানীয়দের সহযোগিতায় ফায়ার সার্ভিস যখন উদ্ধারকাজ শুরু করেছে, ততক্ষণে একে একে নিভে গেছে সাতটি জীবনপ্রদীপ। বাহারের বাবা ছগীর আলী এবং মাইক্রোবাসচালকসহ পাঁচজন আহত হলেও প্রাণে বেঁচে গেছেন। বাকিদের উদ্ধার করে হাসপাতালে নেওয়া হলে তাদের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেন চিকিৎসক।
চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. মোবারক হোসেন ভূঁইয়া বলেন, পূর্ব চন্দ্রগঞ্জের জগদীশপুরে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে খালে পড়ে ডুবে যায়। কয়েকজন বের হতে পারলেও বাকিরা ভেতরে আটকা পড়ে মারা যান। তাদের সবাই নারী ও শিশু।
তিনি বলেন, গাড়িটি খাল থেকে উদ্ধার করা হয়েছে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়িটি হাইওয়ে থানা পুলিশ উদ্ধার করে চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে থানায় রেখেছে।
৪৪৮ দিন আগে
নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করতে একটি গোষ্ঠী উন্মুখ: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বলেছেন, একটি গোষ্ঠী নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। তারা যেন নির্বাচনকে সংঘাতময় করে তোলার কোনো রকমের সুযোগ না পায়, আমাদের অবশ্যই সে বিষয়ে খেয়াল রাখতে হবে।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাতে জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতির উদ্দেশে দেওয়া এক ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
অধ্যাপক ইউনূস বলেন, ‘আপনারা প্রত্যেকেই অবগত আছেন, একটা গোষ্ঠী নির্বাচনকে বাধাগ্রস্ত করার জন্য উন্মুখ হয়ে আছে। তারা দেশের গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রাকে ব্যাহত করতে দেশের বাহিরে বসে এবং ভেতরে থেকে নানা অপচেষ্টায় লিপ্ত রয়েছে।’
‘আমাদের অবশ্যই খেয়াল রাখতে হবে, তারা যেন নির্বাচনকে সংঘাতময় করে তোলার কোনো রকমের সুযোগ না পায়। মাথায় রাখবেন, পরাজিত শক্তি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত বারবার মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার চেষ্টা করবে। কিন্তু একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন সফলভাবে আয়োজন করা গেলে অপশক্তির পরাজয় চূড়ান্ত হবে।’
তিনি বলেন, ‘দেশের ইতিহাসে এখনও পর্যন্ত যতগুলো বড় সংঘাত, সহিংসতার ঘটনা ঘটেছে— তার সবগুলোর নেপথ্যে কারণ ছিল ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচন। ত্রুটিপূর্ণ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে কোনও দল যদি গায়ের জোরে নির্বাচিত হয়ে ক্ষমতায় আসে, তার চূড়ান্ত পরিণতি কী— তা জুলাই অভ্যুত্থান আমাদের দেখিয়ে দিয়েছে। আমরা ইতিহাসের কলঙ্কিত কোনো অধ্যায়ের পুনরাবৃত্তি আর করতে চাই না।’
আরও পড়ুন: ফেব্রুয়ারির মধ্যে জাতীয় নির্বাচন আয়োজনে ইসিকে চিঠি দেব: প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘নির্বাচন-সংক্রান্ত বিষয়ে প্রতিনিয়ত পরামর্শ নেওয়ার জন্য আমরা প্রযুক্তির সাহায্য নেব। এজন্য একটি অ্যাপ তৈরির উদ্যোগ নিচ্ছি। দ্রুত এই অ্যাপটি চালু হবে। আপনারা আপনাদের সকল পরামর্শ, সকল মতামত, সকল আশঙ্কা এবং উদ্যোগের কথা এই অ্যাপের মাধ্যমে আমাদেরকে জানাবেন। আমরা তা যথাযথ কর্তৃপক্ষকে জানিয়ে দেব, সমস্যার সমাধানের জন্য ব্যবস্থা নেব।’
এ সময় রাজনৈতিক দলগুলোর প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আপনাদের নির্বাচনী ইশতেহারে, প্রতিশ্রুতি-প্রতিজ্ঞা-পরিকল্পনায় কোনোকিছুতেই যেন তরুণরা বাদ না পড়ে। নারীরা বাদ না পড়ে। মনে রাখবেন, যে তরুণ-তরুণীরা বাংলাদেশকে বদলে দিয়েছে তারা বিশ্বকেও বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে। আপনার দল থেকে তাদের সে সুযোগ দেওয়ার উদ্যোগ নিন।’
আসন্ন নির্বাচনে প্রত্যেক নাগরিক যেন নিরাপদে পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দিতে পারেন, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে অন্তর্বর্তী সরকারপ্রধান বলেন, ‘আগামী নির্বাচনে সবাই নিরাপদে যার যার পছন্দের প্রার্থীকে ভোট দেবে, এটা নিয়ে কারো কোনো আপত্তির সুযোগ রাখা যাবে না। আমরা সবাই সবার পছন্দের প্রতি সম্মান দেখাব—এটাই হোক আমাদের প্রতিজ্ঞা।’
‘নির্বাচন আসছে। যদি আপনি আপনার নির্বাচনি এলাকা থেকে দূরে বসবাস করেন, তবে এখন থেকে নিয়মিত নির্বাচনি এলাকা পরিদর্শন করুন। যাতে সেরা ব্যক্তিকে নির্বাচিত করতে আপনি প্রস্তুত হতে পারেন।’
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, ‘যাদের তাজা রক্তের বিনিময়ে আমরা আমাদের এই অতি মূল্যবান অধিকার ফিরে পেলাম, ভোটটা দেবার আগ মুহূর্তে যেন তাদের চেহারা আমাদের চোখে ভেসে ওঠে।’
আরও পড়ুন: জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ করছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ইউনূস
তিনি আরও বলেন, ‘ফেব্রুয়ারি বেশি দূরে নয়। নির্বাচন নিয়ে প্রস্তুতি নিতে নিতেই ভোটের দিন এসে পড়বে। বহু বছর আমরা কেউ ভোট দিতে পারিনি। এবার আমরা সবাই ভোট দেবো। কেউ বাদ যাবে না। সবাই যেন বলতে পারি, নতুন বাংলাদেশ গড়ার পথে দেশকে রওনা করার জন্য আমি আমার ভোটটা দিয়েছিলাম। আমার ভোটেই দেশটা সেপথে রওনা হতে পেরেছিল।’
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসে সব নাগরিকের কাছে আমার আহ্বান, আসুন, ‘নতুন বাংলাদেশ’ গড়ার প্রথম বড় পরীক্ষায় সফলভাবে উত্তীর্ণ হই।’
৪৪৮ দিন আগে
নোয়াখালীতে মাইক্রোবাস খালে পড়ে এক পরিবারের ৭ জন নিহত
নোয়াখালীতে বেগমগঞ্জে সড়ক দুর্ঘটনায় এক পরিবারের আটজন হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে সাতজন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন একজন।
বুধবার (৬ আগস্ট) ভোরে উপজেলার চৌমুহনী-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়কের জগদিশপুরে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের সবাই নারী ও শিশু। তবে তাৎক্ষণিকভাবে হতাহতদের নাম ও পরিচয় জানানো হয়নি।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, লক্ষ্মীপুরের হাজিরপাড়া ইউনিয়নের চৌপল্লী গ্রামের ওমান প্রবাসী বাহার উদ্দিন স্বজনদের নিয়ে ঢাকা থেকে মাইক্রোবাসে করে বাড়ি ফিরছিলেন। ভোরে মাইক্রোবাসটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে চৌমুহনী-লক্ষ্মীপুর আঞ্চলিক মহাসড়ক থেকে খালে পড়ে যায়। এ সময় বাহারের স্ত্রী কবিতা ও মেয়ে মিমসহ ৭ জন নিহত হন।
এদিকে, এক বার্তায় ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা মো. তালহা বিন জসিম জানিয়েছেন, ভোর ৫টা ৪০ মিনিটের দিকে দুর্ঘটনাটি ঘটে। খবর পেয়ে সকাল ৬টা ৫ মিনিটে ফায়ার সার্ভিসের একটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছায়।
হতাহতদের উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। ঘটনাস্থলে চন্দ্রগঞ্জ হাইওয়ে পুলিশ ও চৌমুহনী ফায়ার স্টেশনের ১টি ইউনিট উদ্ধার কাজ করেছে।
৪৪৮ দিন আগে
ফ্লাইট এক্সপার্টের প্রতারণায় ট্রাভেল এজেন্টদের ক্ষোভ, হস্তক্ষেপ দাবি আটাবের
অনলাইনভিত্তিক ট্রাভেল এজেন্সি ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’ হঠাৎ করে কার্যালয় বন্ধ করে দিয়ে কর্মচারীদের ছাঁটাই করে নিরুদ্দেশ হয়ে গেছে। এ ঘটনায় দেশের বিভিন্ন প্রান্তের শতাধিক ট্রাভেল এজেন্সি ও সাধারণ যাত্রী চরমভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন বলে জানিয়েছে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশ (আটাব)। প্রতিষ্ঠানটির বিরুদ্ধে প্রতারণার অভিযোগে দেশের বিভিন্ন জেলায় মামলা হয়েছে বলেও জানা গেছে।
গত ২ আগস্ট ‘ফ্লাইট এক্সপার্ট’ নামে এজেন্সিটি রাজধানীতে তাদের প্রধান কার্যালয়ে তালা ঝুলিয়ে দেয় এবং কর্মীদের চাকরিচ্যুত করে। এজেন্সিটি দীর্ঘদিন ধরে বাংলাদেশি ও আন্তর্জাতিক এয়ারলাইনের টিকিট বিক্রি এবং করপোরেট সেবা প্রদান করছিল।
এ প্রসঙ্গে বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয়ের সচিবকে পাঠানো এক চিঠিতে আটাব মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ বলেন, অনৈতিকভাবে গ্রাহকদের টাকা আত্মসাৎ করে নিরুদ্দেশ হওয়া অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ও তাদের সহযোগীদের বিরুদ্ধে দ্রুত বিচার আইনে ব্যবস্থা নিতে হবে। পাশাপাশি যেন যাত্রীদের ইস্যুকৃত টিকিট রিফান্ড বা বাতিল না হয়, সে বিষয়ে সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর হস্তক্ষেপ জরুরি। আটাব ইতোমধ্যে ভুক্তভোগী এজেন্সিদের লিখিত অভিযোগ সংযুক্ত করে মন্ত্রণালয়ে জমা দিয়েছে।
আটাব সভাপতি আবদুস সালাম আরেফ বলেন, অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ফ্লাইট এক্সপার্ট কর্তৃক সাধারণ ট্রাভেল এজেন্সি ও যাত্রীদের টাকা নিয়ে উধাও হয়ে যাওয়ায় আটাব ফ্লাইট এক্সপার্টের প্রতি তীব্র নিন্দা জানিয়েছে। আটাব বিভিন্ন সময়ে অতিরিক্ত ছাড়ের টিকিট না কেনা এবং প্রলোভনে পা না দেওয়ার জন্য সতর্কতামূলক বিজ্ঞপ্তি দিয়ে আসছিল। এরপরও প্রতারিত এজেন্সি ও যাত্রীদের প্রতি আটাব সহানুভূতি জানিয়েছে এবং তাদের টিকিট যেন বাতিল বা রিফান্ড না হয়, সেজন্য ভুক্তভোগী এজেন্সিদের আবেদনের সঙ্গে আটাব বিমান সচিবের কাছে দ্রুত ও কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার অনুরোধ জানিয়েছে। এছাড়া ফ্লাইট এক্সপার্ট গ্রুপের মাধ্যমে ইস্যুকৃত টিকিট বাতিল বা রিফান্ড যেন না করতে পারে, সেজন্য তাদের জিডিএস ব্লক করার বিষয়টিও নিশ্চিত করা হয়েছে। আমরা সরকারের কাছে ভোক্তা স্বার্থ বিবেচনায় দ্রুত নির্দেশনা প্রদানের আহ্বান জানাই।
আটাবের পক্ষ থেকে দাবি করা হয়েছে, এমন অনিয়ন্ত্রিত অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সির অপতৎপরতা রোধে একটি সমন্বিত নীতিমালা এবং পর্যবেক্ষণ ব্যবস্থার প্রয়োজন রয়েছে, যাতে ভবিষ্যতে কেউ আর প্রতারিত না হয় এবং ট্রাভেল সেক্টরের ভাবমূর্তি অক্ষুণ্ণ থাকে। এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরেই তারা সরকারের কাছে দাবি জানিয়ে আসছে, যা গণমাধ্যমের মাধ্যমেও প্রচারিত হয়েছে।
৪৪৮ দিন আগে
জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে সরকার ব্যর্থ: কাদের গনি চৌধুরী
বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও সম্মিলিত পেশাজীবী পরিষদের সদস্যসচিব কাদের গনি চৌধুরী বলেছেন, এই সরকার সাংবাদিকদের দাবি ও জনআকাঙ্ক্ষা পূরণে ব্যর্থ হয়েছে। ফ্যাসিস্ট হাসিনার বিচার এবং ফ্যাসিবাদের পুনরুত্থান ঠেকাতে কোনো উদ্যোগ নিতে পারেনি।
তিনি বলেন, সাংবাদিক সমাজের দাবি ছিল সাগর-রুনির বিচার, সাংবাদিক সুরক্ষা আইন বাস্তবায়ন এবং সাইবার নিরাপত্তা আইন বাতিল করা। সরকার এসব দাবিও পূরণ করতে পারেনি। আমরা অবিলম্বে গণতন্ত্রের পূর্ণরূপ দেখতে চাই।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাব প্রাঙ্গণে “ফ্যাসিবাদী দুঃশাসনের অবসানে ছাত্র-জনতার গণ-অভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তি” উপলক্ষে আয়োজিত সাংবাদিক সমাবেশে তিনি এসব কথা বলেন।বাংলাদেশ ফেডারেল সাংবাদিক ইউনিয়ন (বিএফইউজে) ও ঢাকা সাংবাদিক ইউনিয়ন (ডিইউজে) যৌথভাবে এ সমাবেশের আয়োজন করে।ডিইউজে সভাপতি মো. শহীদুল ইসলাম সমাবেশে সভাপতিত্ব করেন। বক্তব্য দেন জাতীয় প্রেসক্লাবের সভাপতি হাসান হাফিজ, বিএফইউজের ভারপ্রাপ্ত সভাপতি ওবায়দুর রহমান শাহীন ও ডিইউজের সাধারণ সম্পাদক খুরশীদ আলম।
কাদের গনি চৌধুরী বলেন, দেশ থেকে ফ্যাসিবাদ মুক্ত করার কার্যকর উদ্যোগ আমরা দেখিনি। সরকার দৃশ্যমান সংস্কারেও ব্যর্থ হয়েছে। সংস্কারের মুলা ঝুলিয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে রাখার চেষ্টা করছে সরকার। দেশের মানুষ ১৭ বছর ধরে ভোটাধিকার হারিয়েছে, তা পুনঃপ্রতিষ্ঠায় কোনো কার্যকর উদ্যোগ নেই।
তিনি আরও বলেন, নির্বাচন না দিয়ে ক্ষমতায় টিকে থাকার তৎপরতা ফ্যাসিস্ট হাসিনার ফ্যাসিবাদী চরিত্রের বহিঃপ্রকাশ। আমরা অবিলম্বে অবাধ, সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচনের রূপরেখা চাই। সংস্কারের মুলা ঝুলিয়ে ক্ষমতা কুক্ষিগত করার চেষ্টাকে সাংবাদিক সমাজ মেনে নেবে না।
তথ্য উপদেষ্টার উদ্দেশে তিনি বলেন, আপনি যদি এক/এগারোর আলামত দেখেন, তবে সেটি আপনার সরকারের ব্যর্থতা। সেই ব্যর্থতার দায়ে আপনার সেদিনই পদত্যাগ করা উচিত ছিল। রাষ্ট্রীয় পদে থেকে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এমন বালখিল্য আচরণ গ্রহণযোগ্য নয়। এই দেশের মানুষ কখনোই ১/১১ ঘটতে দেবে না।
তিনি বলেন, তথ্য মন্ত্রণালয়সহ বিভিন্ন দপ্তরে ফ্যাসিবাদীদের পুনর্বাসন করা হচ্ছে, যা আমরা ঘৃণার সঙ্গে প্রত্যাখ্যান করছি।
গত বছরের জুলাই-আগস্টে সাংবাদিকদের ভূমিকা স্মরণ করে কাদের গনি চৌধুরী বলেন, ৩ আগস্টের উত্তাল সময়ে আমরা রাজপথে হাজারের বেশি সাংবাদিক নিয়ে মিছিল করেছি। ৪ আগস্ট যখন কেউ ঘর থেকে বের হতে পারছিল না, তখন ২ হাজারের বেশি সাংবাদিক ও পেশাজীবী প্রেসক্লাবের সামনে সমাবেশ করেছেন।
তিনি বলেন, সেই সময় আমাদের চারদিক থেকে ঘিরে নির্মম নির্যাতন করা হয়েছে, নির্বিচারে গুলি ছোড়া হয়েছে, প্রেসক্লাবে ঢুকতে দেওয়া হয়নি। প্রেসক্লাবের চারপাশ তালাবদ্ধ করে রেখেছিল দালালগোষ্ঠী। তবুও আমরা দমে যাইনি। হাসিনার দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ৬৭ জন সাংবাদিক জীবন দিয়েছেন।
তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক প্রতিষ্ঠানের সমালোচনা করে তিনি বলেন, যাদের রাজপথে পাইনি, যাদের চিনিও না, তাদের ‘জুলাই সাহসী সাংবাদিক’ বানিয়ে পুরস্কার দেওয়া হচ্ছে। পক্ষপাতদুষ্ট এই তালিকা সাংবাদিক সমাজ ঘৃণাভরে প্রত্যাখ্যান করছে।
৪৪৮ দিন আগে