বাংলাদেশ
বেরোবির দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে যৌন হয়রানির অভিযোগ, ‘একজন’ বরখাস্ত
বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে (বেরোবি) যৌন হয়রানির অভিযোগে পরিসংখ্যান বিভাগের অধ্যাপক ড. মো. রশীদুল ইসলামকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। তবে একই অভিযোগে অভিযুক্ত রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের প্রধান ড. তানজিউল ইসলাম জীবনের বিরুদ্ধে এখনও কোনো শাস্তিমূলক ব্যবস্থা না নেওয়ায় বিচার বৈষম্যের অভিযোগে ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন উঠেছেন শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৪ জুলাই) রাতে শিক্ষার্থীরা ইউএনবিকে জানান, আগামী ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে ওই শিক্ষকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা না নিলে তারা আন্দোলনে নামবেন।
শিক্ষার্থী সুমন, জুয়েল ও মেহেরা আফরোজের অভিযোগ, উপাচার্য বিমাতাসুলভ আচরণ করছেন এবং অভিযুক্ত তানজিউল ইসলামকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন, তবে আমরা তা কোনোদিনই হতে দেব না।
বিশ্ববিদ্যালয় সূত্রে জানা গেছে, পরিসংখ্যান বিভাগের এক নারী শিক্ষার্থীর অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে গঠিত তদন্ত কমিটির সুপারিশের আলোকে ও বিশ্ববিদ্যালয়ের ১১৩শ সভার সিদ্ধান্তক্রমে সরকারি কর্মচারী (শৃঙ্খলা ও আপিল) বিধিমালা ২০১৮ অনুযায়ী অধ্যাপক ড. মো. রশীদুল ইসলামকে সাময়িকভাবে বরখাস্ত করা হয়েছে। গত ৩ আগস্ট রেজিস্ট্রার ড. মো. হারুন-অর রশিদের সই করা এক আদেশের মাধ্যমে তার বরখাস্তের বিষয়েটি জানানো হয়।
বেরোবি সূত্র জানায়, বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন প্রথমে ওই শিক্ষককে ক্লাস ও পরীক্ষা থেকে এক বছরের জন্য বিরত রাখার সিদ্ধান্ত নেয়— এমন তথ্য জানাজানি হলে ওই বিভাগের শিক্ষার্থীরা মানববন্ধন করে উপাচার্যের কাছে তার বহিষ্কার দাবি করেন। উপাচার্য শিক্ষার্থীদের কাছে বেশ কয়েকবার সময় নিয়েও ব্যবস্থা না নেওয়ায় শিক্ষার্থীরা আন্দোলনের ডাক দেন। এরই মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন থেকে ওই শিক্ষককে বহিষ্কারের খবর জানানো হয়।
তবে প্রায় একই সময় রাষ্ট্রবিজ্ঞান বিভাগের ড. তানজিউল ইসলামের বিরুদ্ধেও পরীক্ষায় নম্বর দেওয়া নিয়ে কারসাজি ও যৌন হয়রানির অভিযোগ ওঠে। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এ-সংক্রান্ত একটি অডিও ক্লিপও ছড়িয়ে পড়ে। তাই দুই শিক্ষকের বিরুদ্ধে একই সঙ্গে তদন্ত কমিটি গঠিত হয়। তবে চার মাস পেরিয়ে গেলেও এখনও এই শিক্ষকের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা না হওয়ায় ক্ষোভ প্রকাশ করেছেন শিক্ষার্থীরা।
শিক্ষার্থীদের অভিযোগ, তদন্ত কমিটি শিক্ষক জীবনের বিরুদ্ধে তেমন কিছু খুঁজে পায়নি— এই মর্মে প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। কিন্তু এত তথ্যপ্রমাণ থাকার পরও তদন্ত কমিটির কোনো কিছু খুঁজে না পাওয়া সন্দেহজনক।
সূত্র বলছে, তদন্ত কমিটির সুপারিশ অনুযায়ী শিক্ষক জীবনকে তার অভিযোগ থেকে দায়মুক্তি দেওয়া হবে এবং আগামী যেকোনো সিন্ডিকেটে এ সিদ্ধান্ত পাস করিয়ে নেওয়া হবে।
এ খবর জেনে ক্ষোভে ফুঁসছেন শিক্ষার্থীরা। অনেকেই বলছেন, এই শিক্ষক বিএনপিপন্থি, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রক্টর ও ভিসির সঙ্গে সখ্যকে কাজে লাগিয়ে তিনি তদন্তকাজ প্রভাবিত করেছেন।
আরও পড়ুন: বেরোবি প্রশাসনকে ‘শাড়ি-চুড়ি’ দিল শিক্ষার্থীরা
এ ছাড়াও প্রভাবশালী পরিচয়, প্রশাসনের ঘনিষ্ঠতা কিংবা গোপন সমঝোতার জেরে তানজিউল ইসলাম রেহাই পেয়ে যাচ্ছেন বলেও দাবি অনেকের। শিক্ষার্থীরা এ ঘটনায় নিষ্পত্তিমূলক তদন্ত ও সমান বিচার দাবি করেছেন।
এ বিষয়ে ড. তানজিউল ইসলাম জীবনের বিপক্ষে গঠিত তদন্ত কমিটির সদস্য অ্যাকাউন্টিং বিভাগের শিক্ষক আমির বলেন, ‘আমরা তদন্ত কমিটি গঠন হওয়ার সাত কর্মদিবসের মধ্যে তদন্ত রিপোর্ট পাঠিয়ে দিয়েছি। এখন কবে এটি প্রকাশ করবে তা উপাচার্য জানেন।’
এ বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য ড. মো শওকত আলী বলেন, ‘আমরা একটা প্রতিবেদন প্রকাশ করেছি। সিন্ডিকেট মিটিংয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সাময়িক বহিষ্কার করেছি।’
একই অভিযোগ, একই তদন্ত কমিটি। তাহলে একটির ফল সাময়িক বহিষ্কার, অথচ অন্যজন এখনো বহাল— এ বিষয়ে জিজ্ঞেস করা হলে তিনি বলেন, ‘আমরা সামনের সিন্ডিকেট মিটিংয়ে এটা তুলব। তারপর সিদ্ধান্ত নেব। এসব বিষয়ে আমরা জিরো টলারেন্স।’
৪৪৯ দিন আগে
রাতে জাতির উদ্দেশে ভাষণ দেবেন প্রধান উপদেষ্টা
প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে আজ মঙ্গলবার রাত ৮টা ২০ মিনিটে জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণ দেবেন।
প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইং থেকে এক বার্তায় এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বাংলাদেশ টেলিভিশন, বিটিভি নিউজ ও বাংলাদেশ বেতার ভাষণটি একযোগে সম্প্রচার করবে।
৪৪৯ দিন আগে
জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবসের স্মারক ডাকটিকিট অবমুক্ত
‘জুলাই গণ-অভ্যুত্থান দিবস ২০২৫’ উপলক্ষে একটি স্মারক ডাকটিকিট, উদ্বোধনী খাম ও সিলমোহর অবমুক্ত করেছেন প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) দুপুরে রাষ্ট্রীয় অতিথিভবন যমুনায় এগুলো অবমুক্ত করেন তিনি।
এ সময় শিক্ষা উপদেষ্টা সি আর আবরার, মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক উপদেষ্টা ফারুক-ই-আজম, শিল্প ও গণপূর্ত উপদেষ্টা আদিলুর রহমান খান, পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান, প্রধান উপদেষ্টার ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্য প্রযুক্তি বিষয়ক বিশেষ সহকারী ফয়েজ আহমদ তৈয়্যব, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী এবং ডাক ও টেলিযোগাযোগ সচিব আবদুন নাসের খান উপস্থিত ছিলেন।
৪৪৯ দিন আগে
জুলাই শহীদদের আত্মত্যাগই হবে আগামী বাংলাদেশের নির্মাণরেখা: প্রধান উপদেষ্টা
জুলাই আন্দোলনে যারা শহিদ হয়েছেন, তাদের আত্মত্যাগ বৃথা যেতে দেওয়া হবে না। জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগই আগামী বাংলাদেশের নির্মাণরেখা হবে বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টা ড. মুহাম্মদ ইউনূস।
তিনি বলেন, জুলাই শহিদদের আত্মত্যাগ আমরা বৃথা যেতে দেব না। তাদের আত্মত্যাগই হবে আমাদের পথচলার প্রেরণা, তাদের স্বপ্নই হবে আমাদের আগামী বাংলাদেশের নির্মাণরেখা। আজকের দিনে এটাই হোক আমাদের শপথ।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দেশজুড়ে জেলা প্রশাসন আয়োজিত অনুষ্ঠানে এক ভিডিও বার্তায় এসব কথা বলেন প্রধান উপদেষ্টা।
তিনি বলেন, আজ আমরা পুরো জাতি একসঙ্গে স্মরণ করছি এমন এক দিনকে, যা এ দেশের ইতিহাসে গভীর ছাপ রেখে গেছে। ৫ আগস্ট শুধু একটি বিশেষ দিবস নয়—এটি একটি প্রতিজ্ঞা, গণজাগরণের উপাখ্যান এবং ফ্যাসিবাদী শাসন থেকে জাতির পুনর্জন্মের দিন।
আরও পড়ুন: হাজারো শহীদের আত্মত্যাগ রাষ্ট্র সংস্কারের সুযোগ এনেছে: প্রধান উপদেষ্টা
এ সময় ১৯৭১ সালের স্বাধীনতা যুদ্ধের সব বীর মুক্তিযোদ্ধাকে গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করেন তিনি।
তবে স্বাধীনতার অর্ধশতাব্দী পরেও এ দেশের মানুষ সুবিচার ও গণতন্ত্র থেকে বঞ্চিত হয়েছে, বৈষম্যের শিকার হয়েছে বলে মন্তব্য করেন ড. ইউনূস।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের উত্তাল জুলাই ছিল বাংলাদেশের ইতিহাসে এক সংকটময় অধ্যায়—১৬ বছরের পুঞ্জীভূত ক্ষোভের বহিঃপ্রকাশ। এ দেশের বিপুল সংখ্যক তরুণ ১৬ বছর ধরে ক্রমাগত হতাশায় নিমজ্জিত ছিল। ভালো ফল করেও তারা চাকরির জন্য ক্ষমতাসীনদের দুয়ারে দুয়ারে ঘুরেছে। চাকরি ঘিরে তৈরি হয়েছিল দুর্নীতি, স্বজনপ্রীতি আর তদবিরের বাণিজ্য। যে তরুণ ঘুষ দিতে পারেনি, এলাকার মাফিয়াদের সঙ্গে সখ্য গড়ে তুলতে পারেনি, সে চাকরি পায়নি।
সরকারি চাকরিতে বৈষম্যমূলক কোটা পদ্ধতি ছিল মূলত দুর্নীতি ও স্বজনপ্রীতির আরেকটি হাতিয়ার। এর বিরুদ্ধে তরুণ সমাজ দীর্ঘদিন ধরে প্রতিবাদ ও বিক্ষোভ করলেও ফ্যাসিবাদী শাসকের টনক নড়েনি। এই দীর্ঘ সময় ধরে প্রতিটি সেক্টরে মাফিয়াতন্ত্র কায়েম করে একটি সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি করা হয়েছিল, যারা আর্থিক ও অন্যান্য সুবিধার বিনিময়ে স্বৈরাচারের পক্ষে কথা বলবে ও কাজ করবে। স্বৈরাচারের পক্ষের সঙ্গী হলেই চাকরি মিলবে, কাজ পাওয়া যাবে। সরকারি প্রতিষ্ঠান, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, অর্থনৈতিক প্রতিষ্ঠান এমনকি বিচার ব্যবস্থা, আইনশৃঙ্খলা বাহিনী, গণমাধ্যম এবং সাংস্কৃতিক অঙ্গনেও এই ধরনের সুবিধাভোগী শ্রেণি তৈরি হয়েছিল। এ দেশের গরিব মেহনতি মানুষের পয়সা লুট করে পতিত ফ্যাসিবাদ ও তাদের সহযোগীরা একেকজন টাকার পাহাড় গড়ে তুলেছিল। সীমাহীন দুর্নীতির কবলে পড়ে দেশের অর্থনীতি ভেঙে পড়ে।
ড. ইউনূস বলেন, এই দেড় যুগে প্রতিটি ন্যায্য দাবি, প্রতিবাদ, বিক্ষোভ চলাকালে পুলিশের পাশাপাশি দলীয় সন্ত্রাসীরা অস্ত্র হাতে আন্দোলনকারীদের ওপর হামলা চালিয়েছে। গত ১৬ বছরে যারা সরকারের সমালোচনা করেছে বা নাগরিক অধিকারের পক্ষে কথা বলেছে, তাদের গ্রেপ্তার কিংবা গুম করা হয়েছে। লাখ লাখ বিরোধী রাজনৈতিক নেতাকর্মীকে নির্বিচারে আটক ও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। এই ভয়াবহ পরিস্থিতিতে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে দেশের ছাত্রসমাজ, তরুণ প্রজন্ম ও সাধারণ মানুষ সবাই একত্রিত হয় এক নতুন দিনের প্রত্যাশায়। সমস্বরে তারা বলে ওঠে—এবার ফ্যাসিবাদকে যেতে হবে।
তিনি বলেন, তবুও দেশের মানুষের বুকে গুলি চালিয়ে ক্ষমতা আঁকড়ে ধরার চেষ্টা চালায় ফ্যাসিবাদী সরকার। তারা নির্বিচারে গুলি চালিয়েছে, গ্রেপ্তার করেছে, ইন্টারনেট বন্ধ করে হত্যাকাণ্ডের তথ্য গোপন করতে চেয়েছে, রাতের অন্ধকারে এলাকায় এলাকায় অভিযান চালিয়ে ছাত্রদের ধরে নিয়ে গেছে। গুলিবিদ্ধ আহতদের হাসপাতালে চিকিৎসা নিতে দেয়নি। হাসপাতালগুলোকে নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল যেন আহতদের ভর্তি না করা হয়। এর ফলে বহু মানুষ চিকিৎসা না পেয়ে চিরতরে দৃষ্টিশক্তি হারিয়েছে, পঙ্গু হয়ে গেছে।
ভিডিও বার্তায় প্রধান উপদেষ্টা বলেন, আজ ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবসে’ আমি জাতির সূর্যসন্তান—জুলাই শহিদদের গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করছি এবং তাদের আত্মার মাগফিরাত কামনা করছি। যারা আহত হয়েছেন, চিরতরে পঙ্গু হয়েছেন, দৃষ্টি হারিয়েছেন—জাতির পক্ষ থেকে আমি তাদের প্রতি শ্রদ্ধা ও কৃতজ্ঞতা জানাচ্ছি। এই জাতি আপনাদের কাছে চিরকৃতজ্ঞ থাকবে।
তিনি বলেন, আজ আমরা কেবল অতীত স্মরণ করতে আসিনি—আমরা একটি শপথ নিতে এসেছি। শপথ এই যে—আমরা কোনো ধরনের নিপীড়নের কাছে মাথা নোয়াব না। আমরা প্রতিষ্ঠা করব একটি জবাবদিহিমূলক, মানবিক, গণতান্ত্রিক ও বৈষম্যহীন রাষ্ট্র—একটি রাষ্ট্র, যা সবসময় জনকল্যাণে কাজ করবে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, গত বছর ডিসেম্বর মাসে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থানে’ শহিদ পরিবার ও আহতদের কল্যাণ ও যাবতীয় বিষয়াদির প্রশাসনিক দায়িত্ব মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের ওপর ন্যস্ত করা হয়। এখন পর্যন্ত ৮৩৬টি শহিদ পরিবারের মধ্যে ৭৭৫টি পরিবারকে মোট ৯৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার সঞ্চয়পত্র ও মাসিক ভাতা বাবদ ব্যাংক চেক দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট পরিবারের কয়েকটি বিষয় নিষ্পত্তির পর তাদেরও সঞ্চয়পত্র দেওয়ার প্রক্রিয়া চলছে।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে ড. ইউনূসের নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক সমর্থন পেয়েছিল: শফিকুল আলম
এ ছাড়া আহত ১৩ হাজার ৮০০ জন ‘জুলাই যোদ্ধাকে’ তিনটি ক্যাটাগরিতে নগদ অর্থ ও চেক বাবদ মোট ১৫৩ কোটি ৪ লাখ ২৫ হাজার টাকা দেওয়া হয়েছে। এর মধ্যে ৭৮ জন অতি গুরুতর আহত ‘জুলাই যোদ্ধাকে’ উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুর, থাইল্যান্ড, তুরস্ক ও রাশিয়ায় পাঠানো হয়েছে এবং চিকিৎসা ব্যয় বাবদ এ পর্যন্ত ৯৭ কোটি ৫০ লাখ টাকা ব্যয় হয়েছে।
প্রধান উপদেষ্টা বলেন, জেলা ও উপজেলা পর্যায়ের সব সরকারি হাসপাতাল, ক্লিনিক, স্বাস্থ্যকেন্দ্র, মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং সরকার নির্ধারিত বিশেষায়িত হাসপাতালগুলোতে সব শ্রেণির আহত ‘জুলাই যোদ্ধাদের’ অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বিনামূল্যে চিকিৎসা দেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সরকারের পক্ষ থেকে ‘জুলাই শহিদ’ ও আহতদের জন্য আরও নানা উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে।
তবে জুলাইয়ের মহানায়কদের আত্মত্যাগ তখনই সার্থক হবে—যখন এই দেশকে আমরা একটি সত্যিকারের জনকল্যাণমুখী রাষ্ট্র হিসেবে গড়ে তুলতে পারব।
৪৪৯ দিন আগে
আটাবে প্রশাসক নিয়োগে সদস্যদের ক্ষোভ
অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনা না করায় সংগঠনটির পরিচালনা পর্ষদ বাতিল ঘোষণা করেছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়। পাশাপাশি বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের উপসচিব মোতাকাব্বীর আহমেদকে আটাবের প্রশাসক হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের এমন পদক্ষেপে হতবাক হয়েছেন আটাব সদস্যরা। তাঁদের দাবি, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে যেসব কারণ উল্লেখ করা হয়েছে, তা মিথ্যা, বানোয়াট ও ভিত্তিহীন।
সোমবার আটাব মহাসচিব আফসিয়া জান্নাত সালেহ স্বাক্ষরিত এক বিবৃতিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিবৃতিতে বলা হয়, আটাবের বর্তমান কমিটি অবৈধভাবে নয়, বরং বৈধ ভোটের মাধ্যমে নির্বাচিত হয়েছে। কমিটি বাতিলের পেছনে গভীর ষড়যন্ত্র এবং প্রশাসনিক মোচড়ের গন্ধ পাওয়া যাচ্ছে।
আরও বলা হয়, ‘আটাব অনলাইন’ নামে একটি প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে অনেক শেয়ারহোল্ডারের টাকা আত্মসাতের যে অভিযোগ করা হয়েছে, তা সম্পূর্ণ মিথ্যা ও ভিত্তিহীন। এ–সংক্রান্ত প্রমাণসহ প্রয়োজনীয় নথিপত্র ইতিমধ্যে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ে পাঠানো হয়েছে। কিন্তু উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে সেসব দালিলিক প্রমাণ উপেক্ষা করা হয়েছে। উল্লেখ্য, ‘আটাব অনলাইন’–সংক্রান্ত এই ঘটনা বর্তমান কমিটির মেয়াদকালে ঘটেনি।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অফিস আদেশে আটাবের বর্তমান কমিটির বিরুদ্ধে যে মানববন্ধনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, তা পুরোপুরি সাজানো ও বানোয়াট। ওই মানববন্ধনে আটাবের কোনো সদস্য উপস্থিত ছিলেন না। বর্তমান কমিটিকে হেয় করতে এটি একটি সাজানো নাটক। মানববন্ধনের ছবি ও ভিডিওচিত্র আটাবের বর্তমান কমিটির কাছে সংরক্ষিত আছে। অফিস আদেশে ‘আটাব সংস্কার পরিষদ’ নামে একটি সংগঠনের কথা উল্লেখ করা হয়েছে, যা একটি ভূইফোঁড় সংগঠন এবং এর কোনো নিবন্ধন নেই। চার হাজার ট্রাভেল এজেন্টের মধ্যে হাতে গোনা কয়েকজন নিজেদের স্বার্থ হাসিলের উদ্দেশ্যে এই সংগঠনটি তৈরি করেছে। এমন একটি সংগঠনের অভিযোগ আমলে নেওয়ায় আটাব সদস্যদের মধ্যে আরও সন্দেহ তৈরি হয়েছে।
সোমবার (৪ আগস্ট) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের বাণিজ্য সংগঠন–২ শাখার এক প্রজ্ঞাপনে এসব তথ্য জানানো হয়। এতে বলা হয়, আটাব সংস্কার পরিষদের পক্ষ থেকে অ্যাসোসিয়েশন অব ট্রাভেল এজেন্টস অব বাংলাদেশের (আটাব) কার্যক্রম সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার স্বার্থে কার্যনির্বাহী কমিটি বিলুপ্ত করে প্রশাসক নিয়োগের আবেদন করা হয়। সেই আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতেই সরকার প্রশাসক নিয়োগ দেয়।
প্রজ্ঞাপনে আরও জানানো হয়, নতুন প্রশাসক আগামী ১২০ দিনের মধ্যে ভোটার তালিকা হালনাগাদসহ একটি সুষ্ঠু ও নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করে, নির্বাচিত কমিটির কাছে দায়িত্ব হস্তান্তর করবেন এবং তা বাণিজ্য মন্ত্রণালয়কে অবহিত করবেন।
৪৪৯ দিন আগে
খুলনায় ৪৮ ঘণ্টায় ৩ খুন, পুলিশের দাবি ‘টার্গেট কিলিং’
খুলনায় গত শুক্রবার রাত থেকে পরবর্তী ৪৮ ঘণ্টায় তিনজন খুন এবং একজন গুলিবিদ্ধ হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। হত্যাকাণ্ড যারা ঘটিয়েছেন তারা চিহ্নিত সন্ত্রাসী বলে দাবি উঠলেও ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে যাচ্ছেন তারা।
এসব হত্যাকাণ্ডকে ‘টার্গেট কিলিং’ বলে অভিহিত করেছে পুলিশ। তবে এসব হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে জড়িত কেউ গ্রেপ্তার না হওয়ায় এলাকায় আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। নিজেদের নিরাপত্তা নিয়ে শঙ্কিত হয়ে পড়েছেন স্থানীয় বাসিন্দারা।
পুলিশসহ স্থানীয় একাধিক সূত্রে জানা গেছে, গত শুক্রবার (১ আগস্ট) রাতে নিজ বাড়িতে দুর্বৃত্তের ছুরিকাঘাতে খুন হন সোনাডাঙ্গা থানাধীন সবুজবাগ এলাকার মনোয়ার হোসেন টগর নামের এক যুবক। দুর্বৃত্তরা ওই রাতে টগরের বাড়ির দরজার কড়া নেড়ে তার সঙ্গে ৫ মিনিট ধরে কথোপকথনের একপর্যায়ে বুকে ছুরিকাঘাত করে তাকে হত্যা করে।
পরে বাড়ির আশপাশের সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে আসামিদের শনাক্ত করতে পারলেও তাদের গ্রেপ্তার করতে পারেনি পুলিশ। এ ঘটনায় টগরের বাবা জামাল হাওলাদার সাত আসামির নাম উল্লেখসহ অজ্ঞাতনামা আরও চার-পাঁচজনের বিরুদ্ধে থানায় মামলা করেন।
পুলিশ ও সবুজবাগ এলাকার স্থানীয় কয়েকজন ব্যক্তির সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, টগর স্থানীয় কয়েকজন সন্ত্রাসী ও মাদক কারবারির সঙ্গে চলাফেরা করতেন। পরিবারের পক্ষ থেকে সন্ত্রাসী কার্যকালাপ থেকে দুরে থাকার জন্য তাকে বারবার বলা হলেও সে কর্ণপাত করেননি।
ঘটনার দিন রাতে তিনটি মোটরসাইকেলযোগে সাতজন ব্যক্তি তাদের বাড়িতে প্রবেশ করেন। তারা সবাই টগরের পরিচিত বলে জানা গেছে।
আরও পড়ুন: খুলনায় ঘের ব্যবসায়ীকে গলাকেটে হত্যা
স্থানীয় সূত্রে আরও জানা যায়, টগরের কাছে ওই সন্ত্রাসীরা টাকা পেত। সেই টাকা পরিশোধের জন্য সন্ত্রাসী একটি গ্রুপ তাকে প্রায়ই চাপ দিত। সেই টাকা পরিশোধ না করায় টগরকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করা হয়।
সোনাডাঙ্গা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) শফিকুল ইসলাম নিহত টগরের স্ত্রীর বরাত দিয়ে বলেন, টগর আগে খুলনার শীর্ষ সন্ত্রাসী গ্রেনেড বাবুর ‘বি’ কোম্পানির সদস্য ছিলেন। পরে তিনি পলাশ-কালা লাভলুর গ্রুপে যোগ দেন। মাদক কারবারের টাকা নিয়ে সন্ত্রাসীরা তাকে পরিকল্পিতভাবে হত্যা করে। হত্যাকাণ্ডে অংশ নেওয়া দুর্বৃত্তরা নিজেদের ব্যবহৃত মোবাইল ফোন বন্ধ রাখায় তাদের অবস্থান শনাক্ত এবং গ্রেপ্তার করা সম্ভব হচ্ছে না।
এদিকে সেদিনই শেষ রাতের দিকে দিঘলিয়া উপজেলার বারাকপুর গ্রামে খুন হন ভ্যানচালক আলামিন সিকদার।
ঘটনা প্রসঙ্গে থানার ওসি এইচ এম শাহীন বলেন, স্ত্রী রিপা বেগমের দ্বিতীয় স্বামী ছিলেন আলামিন সিকদার। প্রথম স্বামী আসাদুলের সঙ্গে ছাড়াছাড়ি হওয়ার কারণে আলামিন রিপাকে বিয়ে করেন। আর এর জেরে ভোরে ঘর থেকে ডেকে নিয়ে হত্যা করা হয় আলামিনকে।
নিহতের ভাই ফারুক সিকদার এ ঘটনায় আসাদুলের নাম উল্লেখ করে অজ্ঞাতপরিচয় আরও দুই-তিনজনের বিরুদ্ধে থানায় হত্যা মামলা করেন। ওসি জানান, আসাদুলকে গ্রেপ্তারে অভিযান চলছে।
অন্যদিকে, রবিবার (৩ আগস্ট) রাত পৌনে ৮ টার দিকে নগরীর ২ নম্বর কাস্টমঘাট এলাকার একটি সেলুনের সামনে অবস্থান নেওয়া যুবক সোহেলকে লক্ষ্য করে গুলি করে সন্ত্রাসীরা। মোটরসাইকেলযোগে আসা সন্ত্রাসীদের মাথায় হেলমেট এবং মুখ ঢাকা ছিল। সন্ত্রাসীদের ছোড়া একটি গুলি সোহেলের পেটে বিদ্ধ হয়। তিনি বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন।
এ প্রসঙ্গে খুলনা উপ-পুলিশ কমিশনার (দক্ষিণ) মো: আবু তারেক বলেন, ‘এ ঘটনায় থানায় এখন পর্যন্ত কোনো মামলা হয়নি। আমরা বিভিন্নস্থান থেকে বিভিন্ন ধরনের তথ্য পাচ্ছি। সেগুলো যাচাই-বাছাই করে আসামিদের গ্রেপ্তারে অভিযান চালানো হচ্ছে। রাতে শহরের নিরাপত্তার জন্য বিভিন্ন স্থানে টহল বাড়ানো হয়েছে। স্পর্শকাতর স্থানে চেকপোষ্ট বসানো হয়েছে। আমাদের অভিযানের নেতৃত্ব দিচ্ছেন কেএমপি পুলিশ কমিশনার জুলফিকার আলী হায়দার।’
একই রাতে নগরীর মহেশ্বরপাশা উত্তর বণিকপাড়া এলাকার খানাবাড়ির সামনে গলা কেটে হত্যা করা হয় ঘের ব্যবসায়ী আলামিনকে। ঘটনার ১২ ঘণ্টার বেশি সময় অতিবাহিত হলেও এ ঘটনায়ও পুলিশ এখন পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করতে পারেনি।
দৌলতপুর থানার ওসি মীর আতাহার আলী বলেন, সোমবার (৪ আগস্ট) সকালে নিহতের ভাই আওলাদ হোসেন বাদী হয়ে অজ্ঞাতপরিচয় ব্যক্তিদের বিরুদ্ধে হত্যা মামলা করেছেন।
তিনি জানান, ঘটনাস্থলে আশপাশের সিসি ক্যামেরাগুলো নষ্ট থাকায় খুনিদের শনাক্ত করা সম্ভব হচ্ছে না। ঘটনার রাতেই আসামিদের গ্রেপ্তারের জন্য পুলিশ অভিযান চালিয়েছে।
আরও পড়ুন: খুলনায় ভ্যানচালককে কুপিয়ে হত্যা
এদিকে গত কয়েকমাস ধরে খুন, রাহাজানিসহ সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড বৃদ্ধি পাওয়ায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন খুলনা নাগরিক সমাজের সদস্য সচিব আ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার।
তিনি বলেন, ‘গত বছর রাজনৈতিক পট পরিবর্তন হওয়ার পর অনেক চিহ্নিত সন্ত্রাসী জেল থেকে বেরিয়ে গেছে। লুট হওয়া অস্ত্রও উদ্ধার হয়নি। তাদের গ্রেপ্তার এবং অবৈধ অস্ত্র উদ্ধার করতে হবে। এ ছাড়া রাজনৈতিক পট পরিবর্তনের পর পুলিশ প্রশাসনের কাঠামো ভেঙে পড়েছে। বর্তমান অর্ন্তবর্তী সরকার তাদেরকে কাউন্সিলের মাধ্যমে মনোবল ফিরিয়ে আনতে ব্যর্থ হয়েছে। পুলিশের কার্যক্রম যেন দায়সারা। সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড রুখতে পুলিশকেই দায়িত্ব নিতে হবে।’
সার্বিক বিষয়ে খুলনা মেট্রোপলিটন পুলিশের (কেএমপি) সহকারী পুলিশ কমিশনার (মিডিয়া) খন্দকার হোসেন আহম্মদ বলেন, ‘এই হত্যাকাণ্ডগুলো টার্গেট কিলিং। পুলিশের একার পক্ষে এসব নিয়ন্ত্রণ করা সম্ভব নয়। বিভিন্ন সময় খুনিদের গ্রেপ্তার করা হয়, কিন্তু আদালতের মাধ্যমে তাদের আবারও জামিন হয়ে যায়।’
৪৪৯ দিন আগে
প্রথম দিনেই ই-রিটার্ন দাখিলে রেকর্ড
চলতি অর্থবছরে স্বাভাবিক ব্যক্তি শ্রেণির করদাতাদের জন্য অনলাইনে আয়কর রিটার্ন (ই-রিটার্ন) দাখিল বাধ্যতামূলক করেছে সরকার। এ কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রথম দিনেই রেকর্ডসংখ্যক ১০ হাজার ২০২ জন করদাতা রিটার্ন দাখিল করেছেন।
গতকাল (৪ আগস্ট) আনুষ্ঠানিকভাবে এই কার্যক্রম উদ্বোধন করেন অর্থ উপদেষ্টা ড. সালেহউদ্দিন আহমেদ।
মঙ্গলবার (৫ আগস্ট) সকালে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) জানিয়েছে, এবারের প্রথম দিনে রিটার্ন দাখিলের সংখ্যা গত বছরের তুলনায় প্রায় পাঁচ গুণ বেড়েছে।
২০২৪ সালের ৯ সেপ্টেম্বর ই-রিটার্ন কার্যক্রম শুরু হওয়ার প্রথম দিন রিটার্ন দাখিল হয়েছিল ২ হাজার ৩৪৪টি।
এরর আগে রবিবার (৩ আগস্ট) এক বিশেষ আদেশে ২০২৫–২৬ করবর্ষের জন্য এ বিধান কার্যকর করা হয়। ওই আদেশের একটি বিশেষ নির্দেশনার পরিপ্রেক্ষিতে এই উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি এসেছে বলে বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
নির্দেশনায় বলা হয়েছে, ৬৫ বছর বা তদূর্ধ্ব বয়সী প্রবীণ করদাতা, শারীরিকভাবে অক্ষম বা বিশেষ চাহিদাসম্পন্ন করদাতা, বিদেশে অবস্থানরত বাংলাদেশি করদাতা এবং মৃত করদাতার পক্ষে আইনগত প্রতিনিধি—এই চার শ্রেণির করদাতা বাদে সব ব্যক্তিকে বাধ্যতামূলকভাবে ই-রিটার্ন দাখিল করতে হবে।
সব করদাতা ২০২৫-২৬ করবর্ষের আয়কর রিটার্ন www.etaxnbr.gov.bd এই ওয়েবসাইটের মাধ্যমে দাখিল করতে হবে।
তবে যদি কোনো স্বাভাবিক ব্যক্তি করদাতা যদি অনলাইনে রিটার্ন দাখিলে অক্ষম হন, তাহলে তিনি ৩১ অক্টোবরের মধ্যে যথাযথ কারণ উল্লেখ করে সংশ্লিষ্ট উপকর কমিশনারের কাছে আবেদন করতে পারবেন। পরে অতিরিক্ত বা যুগ্ম কর কমিশনারের অনুমোদন সাপেক্ষে, ওই করদাতা কাগজে (পেপার রিটার্ন) রিটার্ন জমা দেওয়ার সুযোগ পাবেন।
আরও পড়ুন: ব্যক্তি করদাতাদের আয়কর বিবরণী দেওয়া বাধ্যতামূলক করল এনবিআর
গত বছর আংশিকভাবে ই-রিটার্ন বাধ্যতামূলক করার পর ১৭ লাখের বেশি ব্যক্তি করদাতা অনলাইনে রিটার্ন জমা দিয়েছিলেন।
চলতি বছর উন্নত সেবার আওতায় করদাতারা বাসা থেকেই ব্যাংক ট্রান্সফার, ডেবিট/ক্রেডিট কার্ড অথবা বিকাশ, রকেট, নগদের মতো মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসের মাধ্যমে কর পরিশোধ করতে পারবেন।
রিটার্ন জমা দেওয়ার পরপরই আয়কর রিটার্ন দাখিলের রসিদ ও আয়কর সনদ অনলাইনে ডাউনলোড ও প্রিন্ট করা যাবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করার ক্ষেত্রে কোনো সমস্যা হলে তা তাৎক্ষণিকভাবে সমাধানের জন্য রাজস্ব বোর্ডের কর্মীরা কল সেন্টার এবং অন্যান্য ইলেকট্রনিক মাধ্যমে সার্বক্ষণিক সেবা প্রদান করবেন বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
৪৪৯ দিন আগে
৫ আগস্ট পত্রিকা অফিসে ছুটি থাকবে
‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে মঙ্গলবার দেশের সব পত্রিকা অফিসে ছুটি ঘোষণা করেছে নিউজপেপার ওনার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশ (নোয়াব)।
তবে ওই দিন বিশেষ ব্যবস্থায় পত্রিকা প্রকাশ করতে পারবে কর্তৃপক্ষ।
সোমবার (৪ আগস্ট) এক ছুটির বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, নোয়াবের নির্বাহী কমিটির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ ছুটি ঘোষণা করা হয়েছে।
৪৪৯ দিন আগে
নাটোরে কোটি টাকার নকল যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ
নাটোর সদর উপজেলার লক্ষিপুর খোলাবাড়িয়া ওষধি গ্রামে অভিযান চালিয়ে বিপুল পরিমান নকল যৌন উত্তেজক ওষুধ জব্দ করে ধ্বংস করেছে যৌথ বাহিনী।
জাতীয় গোয়েন্দা সংস্থা এনএসআই, সেনাবাহিনী ও ঔষধ প্রশাসন অধিপ্তরের সমন্বয়ে বিশেষ টিম সোমবার (৪ আগস্ট) বিকাল থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত সদর উপজেলার লক্ষিপুর ও আমিরগঞ্জ এলাকার ভেষজ পল্লীর ৩টি গোপন কারখানায় অভিযান চালায়।
এ সময় ভেষজ ঔষধের আড়ালে এসব কারখানায় চীন থেকে আমদানি করা ক্ষতিকর যৌন উত্তেজক কেমিক্যাল দিয়ে নকল ওষুধ তৈরি করে অনলাইন ও অফলাইনে বিক্রি করা হতো বলে জানান ওষুধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক মাখনুওন তাবাসসুম।
এ সময় ৩টি কারখানা থেকে প্রায় ১ কোটি টাকার নকল ওষুধ জব্দ করে পুড়িয়ে ধ্বংস করা হয়।
কারখানা মালিক শরিফুল ইসলাম, গোলাম মোস্তফা, সজল,সাব্বির রাজু ও সেলিমকে মুচলেকার মাধ্যমে ছেড়ে দেওয়া হয়।
৪৪৯ দিন আগে
হাসিনার প্রত্যর্পণ নিয়ে এখনো ভারতের ইতিবাচক সাড়া মেলেনি: তৌহিদ
সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাকে দেশে ফিরিয়ে এনে বিচার করার জন্য ভারতের কাছে অনুরোধ করলেও এখনো কোনো ইতিবাচক সাড়া মেলেনি বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
সোমবার (৪ আগস্ট) রাজধানীর ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, ‘এ বিষয়ে নতুন করে বলার মতো কিছু নেই। শেখ হাসিনাকে দেশে এনে বিচারের মুখোমুখি করতে ভারতকে অনুরোধ করেছে বাংলাদেশ। এখনও ভারতের পক্ষ থেকে কোনো ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখনও নয়া দিল্লির জবাবের অপেক্ষায় আছে।
তৌহিদ হোসেন বলেন, শেখ হাসিনার বিচার শুরু হয়ে গেছে। কেউ আসুক বা না আসুক, বিচার চলবে।
পড়ুন: পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর সফরে ১৯৭১ সালের বিষয় তুলবে ঢাকা: তৌহিদ হোসেন
আন্তর্জাতিক সহায়তা নেওয়া হবে কি না এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকার প্রয়োজন মনে করলে এমন সহায়তা চাইতে পারে। তবে এখনই আমি এর প্রয়োজনীয়তা দেখছি না।
তিনি জানান, গত বছর ডিসেম্বর মাসে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেয়ে ভারতকে কূটনৈতিক বার্তা (নোট ভারবালে) পাঠানো হয়েছিল। এতে প্রয়োজনীয় কিছু দলিলপত্রও সংযুক্ত করা হয়।
গত বছরের ৫ আগস্ট ছাত্র আন্দোলনের চাপে দেশ থেকে পালিয়ে যান শেখ হাসিনা। তিনি বর্তমানে ভারতে অবস্থান করছেন বলে জানা গেছে।
গত মাসেও পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেছিলেন, সরকারের পক্ষ থেকে শেখ হাসিনার প্রত্যর্পণ চেষ্টার বিষয়টি অব্যাহত থাকবে।
৪৪৯ দিন আগে