বাংলাদেশ
ব্রাহ্মণবাড়িয়ায় লাশবাহী গাড়িতে ডাকাতি, টাকা আদায়ে লাশেও আঘাত
ব্রাহ্মণবাড়িয়ার নাসিরনগরে লাশবাহী একটি গাড়িতে ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। এসময় ডাকাতদের হামলায় নারীসহ ৯ জন আহত হয়েছে। টাকা আদায়ে ধারালো অস্ত্র দিয়ে লাশের উপরও আঘাত করেছে ডাকাতদল।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) গভীর রাতে উপজেলার বুড়িশ্বর ইউনিয়নের তিলপাড়া এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, উপজেলার পূর্বভাগ ইউনিয়নের মুকবুলপুর গ্রামের ছবদর আলী ক্যান্সার আক্রান্ত হয়ে ঢাকায় চিকিৎসাধীন অবস্থায় রাতে মারা যান। রাতেই স্বজনরা লাশ গাড়িতে করে ঢাকা থেকে গ্রামের বাড়িতে নেওয়ার সময় ওৎ পেতে থাকা সশস্ত্র ডাকাতদল তিলপাড়া এলাকায় সড়কে গাছ ফেলে গাড়িটির গতিরোধ করে। পরে তারা গাড়িটি ভাঙচুর করে এবং লাশের সঙ্গে থাকা স্বজনদের মারধর করে সঙ্গে থাকা নগদ অর্ধ লক্ষাধিক টাকা ও ১০টি মোবাইল ফোন সেট ছিনিয়ে নেয়। ডাকাতদের হামলায় নারীসহ ৯ জন আহত হয়েছেন।
আহতরা হলেন- গাড়ির চালক মো. ফিরুজ মিয়া, গাড়ির মালিক মো. খলিল মিয়া, মৃতের স্বজন রাসেল মিয়া, ছালেক মিয়া, নাহিদ মিয়া, মো. আলমগীর মিয়া, মো. সালাউদ্দিন, আলেয়া বেগম ও আলী নেওয়াজ মিয়া।
আরও পড়ুন: চাঁদপুরে পুকুরে ডুবে ভাইবোন নিহত
মৃত ব্যক্তির ছেলে ও পূর্বভাগ ইউপির ৩ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মো. আলমগীর মিয়া অভিযোগ করেন, ডাকাতদের চাহিদামতো টাকা-পয়সা না পেয়ে তারা লাশের ওপরও ধারালো অস্ত্র দিয়ে হামলা চালায়। টাকা ও মোবাইল নিয়েছে এটা মেনে নেওয়া যায়। কিন্তু আমার বাবার লাশের ওপর হামলা করেছে এটা কোনোভাবেই মেনে নিতে পারছি না।
নাসিরনগর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. খাইরুল আলম বলেন, ঘটনাস্থলটি অপরাধপ্রবণ এলাকা। এর আগেও সেখানে একাধিক ডাকাতির ঘটনা ঘটেছে। বিষয়টি গুরুত্ব সহকারে খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
নাসিরনগর উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) শাহিনা নাসরিন বলেন, লাশবাহী গাড়িতে ডাকাতি দুঃখজনক ঘটনা।
৩৯২ দিন আগে
আগামী বছরের জুনের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন: রিজওয়ানা
প্রধান উপদেষ্টার পদত্যাগ নিয়ে জল্পনা-কল্পনার মধ্যে পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান বলেছেন, অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী পরবর্তী জাতীয় নির্বাচন চলতি বছরের ডিসেম্বরের মধ্যে অথবা আগামী বছরের জুনের মধ্যে অনুষ্ঠিত হবে।
তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘আমাদের পক্ষ থেকে এই সময়সীমা থেকে একদিন সরানোর কোনো সম্ভাবনা নেই।’
শুক্রবার(২৩ মে) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ‘বাংলাদেশের প্রাণিবিদ্যা সমিতির ২৪তম জাতীয় সম্মেলন এবং বার্ষিক সাধারণ সভা ২০২৪’-এ যোগদানের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে নির্বাচনের বিষয়ে সরকারের অবস্থান স্পষ্ট করে এই মন্তব্য করেন উপদেষ্টা রিজওয়ানা।
তিনি বলেন, ‘আমরা ক্ষমতায় নেই, আমরা কেবল একটি দায়িত্ব পালন করছি। এটি তখনই সফল হতে পারে—যখন সবাই সহযোগিতা করে। প্রধান উপদেষ্টা যখন সিদ্ধান্ত নেন, তখন তিনি একটি নির্দিষ্ট সময়সীমা দেন।’
সাধারণ জনগণের উদ্দেশে উপদেষ্টা বলেন, ‘আমরা প্রতিকূল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে অনেক দূর এগিয়ে এসেছি।’ সংস্কার কমিশনগুলো তাদের প্রতিবেদন জমা দিয়েছে। এগুলোর উপর রাজনৈতিক ঐকমত্যের কাজ শুরু হয়েছে। সমস্ত রাজনৈতিক দল সেখানে অংশগ্রহণ করছে। নির্বাচনের জন্য একটি সময়সীমা দেওয়া হয়েছে।’
২৪’র হত্যাকারীদের বিচারের বিষয়ে তিনি বলেন, ‘আগে একটি ট্রাইব্যুনাল ছিল, এখন আরেকটি গঠন করা হয়েছে। আগামীকাল থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে বিচারিক কার্যক্রম শুরু হবে। আমাদের আবেদন ছিল যে, এই বিষয়গুলোতে কোনো বাধা তৈরি না হয়। আমরা এগুলো সঠিকভাবে সম্পন্ন করতে চাই। আমরা সকলের সহযোগিতা চাই।’
৩৯২ দিন আগে
পরোয়ানা ছাড়াই গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পেলেন ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর, তদন্তকারী কর্মকর্তারা
মানবতাবিরোধী অপরাধে অভিযুক্ত বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিকে সরাসরি গ্রেপ্তারের ক্ষমতা পেয়েছেন আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের প্রসিকিউটর ও তদন্তকারী কর্মকর্তারা।
মামলার তদন্ত বা বিচারের যেকোনো পর্যায়ে অভিযুক্তকে পরোয়ানা ছাড়াই সরাসরি গ্রেপ্তারের এই ক্ষমতা দিয়ে ২০১০ সালের ট্রাইব্যুনালের কার্যপ্রণালী বিধিমালায় সংশোধন করা হয়েছে।
গতকাল (বৃহস্পতিবার) সংশোধিত এই কার্যপ্রণালী বিধিমালার প্রজ্ঞাপন জারি করেছে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল।
ট্রাইব্যুনালের চেয়ারম্যান বিচারপতি মো. গোলাম মর্তুজা মজুমদার, সদস্য এম মোহিতুল হক এনাম চৌধুরী ও মো. শফিউল আলম মাহমুদের আদেশক্রমে ট্রাইব্যুনালের রেজিস্ট্রার এ এস এম রুহুল ইমরান এই প্রজ্ঞাপন জারি করেছেন।
২০১০ সালের কার্যপ্রণালী বিধিমালার ২৪টি বিধিতে সংশোধনী আনা হয়েছে। এর মধ্যে পাঁচটি বিধি সম্পূর্ণ বিলুপ্ত এবং বাকি ১৯টি আংশিক বা পুরোপুরি বিলুপ্ত করে নতুন বিধি দ্বারা সেগুলো প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
এর মধ্যে উল্লেখযোগ্য হচ্ছে বিধি ৬। ২০১০ সালের বিধি বিলুপ্ত করে প্রতিস্থাপন করা বিধি ৬-এ বলা হয়েছে, ‘যদি তদন্ত কর্মকর্তার বিশ্বাস করার কারণ থাকে যে, কোনো অপরাধ সংঘটিত হয়েছে, তাহলে তিনি নিজে ঘটনাস্থলে যাবেন, মামলার তথ্য ও পরিস্থিতি তদন্ত করবেন এবং অভিযুক্ত সন্দেহভাজন বা সন্দেহভাজন ব্যক্তিদের গ্রেপ্তার করতে পারবেন এবং প্রয়োজনীয় অনুসন্ধান করতে পারবেন।’
এই বিধিতে আরও বলা হয়েছে, ‘গ্রেপ্তার, আবিষ্কার এবং জব্দ করার জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার সহায়তাও চাইতে পারেন তদন্ত কর্মকর্তা।’
এ ছাড়া, আগের কার্যপ্রণালীর ৯(১) বিধি বিলুপ্ত করে তা নতুনভাবে প্রতিস্থাপন করা হয়েছে।
আরও পড়ুন: বিচারপতি নজরুলকে চেয়ারম্যান করে আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-২ গঠন
সংশোধিত ৯(১) বিধিতে বলা হয়েছে, ‘আইন প্রয়োগকারী সংস্থা বা তদন্তকারী কর্মকর্তা অথবা আইনের ৮(২) ধারার অধীনে তদন্তকারী প্রসিকিউটর ট্রাইব্যুনালের জারি করা গ্রেপ্তারি পরোয়ানা কার্যকর করবেন।’
সংশোধিত বিধির বিষয়ে জানতে চাইলে প্রসিকিউটর বি এম সুলতান মাহমুদ বলেন, ‘আগের বিধি অনুযায়ী অভিযুক্ত বা সন্দেভাজন ব্যক্তিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রেপ্তার করতে পারতেন না। কাউকে গ্রেপ্তার করতে হলে ট্রাইব্যুনালে আবেদন করতে হতো। ট্রাইব্যুনাল সেই আবেদন মঞ্জুর করে পরোয়ানা জারি করলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর মাধ্যমে গ্রেপ্তার করতে হতো।’
তিনি জানান, এখন ট্রাইব্যুনালের পরোয়ানা ছাড়াই সন্দেভাজন অভিযুক্তকে তদন্তকারী কর্মকর্তা গ্রেপ্তার করতে পারবেন। পাশাপাশি পরোয়ানাভুক্ত অসামিকে এখন থেকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি তদন্ত-সংশ্লিষ্ট প্রসিকিউটররাও গ্রেপ্তার করতে পারবেন।
এ ছাড়াও, সংশোধিত বিধিতে ‘অভিযুক্ত’ হিসেবে ব্যক্তির পাশাপাশি সংগঠনকেও রাখা হয়েছে। পাশাপাশি আনুষ্ঠানিক অভিযোগ দাখিলের ক্ষেত্রে চিফ প্রসিকিউটরকে কিছু ক্ষমতা দেওয়া হয়েছে বলেও জানান সুলতান মাহমুদ।
আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল-১ কার্যপ্রণালী বিধি-২০১০ (সংশোধিত) অবিলম্বে কার্যকর হবে বলে প্রজ্ঞাপনে উল্লেখ করা হয়েছে।
৩৯৩ দিন আগে
গণঅভ্যুত্থান: সেনানিবাসে আশ্রয়প্রার্থীদের নিয়ে অবস্থান জানাল সেনাবাহিনী
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থান পরবর্তী সেনানিবাসে আশ্রয়প্রার্থীদের বিষয়ে নিজেদের অবস্থান পরিষ্কার করেছে সেনাবাহিনী। বৃহস্পতিবার (২২ মে) দিবাগত রাতে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য জানিয়েছে আন্তঃবাহিনী জনসংযোগ পরিদপ্তর (আইএসপিআর)।
এতে বলা হয়, ছাত্র-জনতার গণঅভ্যুত্থানে বিগত সরকারের পতনের পর আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতি ঘটে। কুচক্রী মহলের উসকানিতে বিভিন্ন সরকারি দপ্তর, থানায় হামলা, রাজনৈতিক কর্মী ও সমর্থকদের ওপর আক্রমণ, ঘরবাড়িতে অগ্নিসংযোগ, মব জাস্টিস, চুরি ও ডাকাতিসহ নানা ধরনের বিশৃঙ্খলা ছড়িয়ে পড়ে। এতে সাধারণ মানুষের মধ্যে নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়।
‘এমন পরিস্থিতিতে ঢাকাসহ দেশের বিভিন্ন সেনানিবাসে প্রাণ রক্ষায় রাজনৈতিক ব্যক্তি, সরকারি কর্মকর্তা, পুলিশ সদস্যসহ নানা শ্রেণি-পেশার মানুষ আশ্রয় প্রার্থনা করেন।’
‘অস্থিতিশীল ওই সময়ে পরিচয় যাচাইয়ের আগে মানবিক দৃষ্টিকোণ থেকে জীবন রক্ষা করাকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়।’
আইএসপিআর বলছে, সে সময়ে ২৪ জন রাজনৈতিক নেতা, ৫ জন বিচারক, ১৯ জন অসামরিক প্রশাসনের কর্মকর্তা, ৫১৫ জন পুলিশ সদস্য, ১২ জন বিশ্ববিদ্যালয় ও অন্যান্য দপ্তরের কর্মকর্তা এবং ৫১ জন পরিবারের সদস্যসহ মোট ৬২৬ জনকে সেনানিবাসে সাময়িক আশ্রয় দেওয়া হয়। এদের বেশিরভাগই এক বা দুই দিনের মধ্যে সেনানিবাস ত্যাগ করেন। অভিযোগ থাকা ৫ জনকে যথাযথ আইনি প্রক্রিয়ায় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কাছে হস্তান্তর করা হয়।
সম্পূর্ণ তালিকাটি দেখতে এই লিঙ্কে ক্লিক করুন
এ বিষয়ে ২০২৪ সালের ১৮ আগস্ট আইএসপিআর এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ করে এবং একই দিনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে ১৯৩ জন আশ্রয়গ্রহণকারীর একটি তালিকা পাঠায় (যার মধ্যে ৪৩২ জন পুলিশ সদস্য ও ১ জন এনএসআই কর্মকর্তা অন্তর্ভুক্ত ছিল না)।
আইএসপিআর বলছে, এটি একটি নিষ্পন্ন বিষয় ছিল এবং মানবিক দায়বদ্ধতা থেকেই আশ্রয় দেওয়া হয়েছিল।
‘কিছু স্বার্থান্বেষী মহল উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে বিভ্রান্তিকর তথ্য ছড়িয়ে বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ণের অপচেষ্টা চালাচ্ছে। এ পরিপ্রেক্ষিতে, জুলাই-আগস্ট পরবর্তী সেনানিবাসে আশ্রয় গ্রহণকারী ৬২৬ জন ব্যক্তির পূর্ণাঙ্গ তালিকা (৪৩২ জন পুলিশ সদস্য ও ১ জন এনএসআই কর্মকর্তাসহ) প্রকাশ করেছে।’
আইএসপিআর বলছে, সেনাবাহিনী জনগণকে এ ধরনের বিভ্রান্তিকর প্রচার থেকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানিয়েছে এবং দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষার পাশাপাশি পেশাদারিত্ব, নিষ্ঠা ও আস্থার সঙ্গে জাতির পাশে থাকার অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছে।
৩৯৩ দিন আগে
ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে সচেষ্ট অন্তর্বর্তী সরকার: আইসিটি সচিব
অন্তর্বর্তী সরকার ব্যবসায়ীদের জন্য সহায়ক পরিবেশ তৈরিতে সচেষ্ট বলে জানিয়েছেন আইসিটি (আইসিটি) বিভাগের সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) আইসিটি বিভাগের সভাকক্ষে বিপিও সামিট বাংলাদেশ ২০২৫ উপলক্ষে এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা বলেন।
আইসিটি সচিব শীষ হায়দার চৌধুরী বলেন, চতুর্থ শিল্পবিপ্লবের এ যুগে আইসিটিভিত্তিক সেবাখাত আমাদের অর্থনীতির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। বিজনেস প্রসেস আউটসোর্সিং (বিপিও) খাত তরুণ সমাজের জন্য কর্মসংস্থানের দ্বার উন্মোচন করছে।
তিনি বলেন, দক্ষতা ও উদ্ভাবনের মাধ্যমে বৈশ্বিক বাজারে প্রতিযোগিতা করার অপার সুযোগ রয়েছে। আশা করি এবারের সম্মেলনে আমরা কেবল নতুন প্রযুক্তি ও ধারণার সঙ্গে পরিচিত হবো না, বরং দেশের তরুণদের বিপিও খাতে সম্পৃক্ত করতে একটি কার্যকরী কর্মপরিকল্পনার দিকেও এগিয়ে যাব।
আইসিটি অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আনোয়ার উদ্দিন বলেন, ‘আমাদের তরুণদের তথ্যপ্রযুক্তি শিল্প খাতের বিভিন্ন কাজ সম্পর্কে সচেতন করতে হবে এবং প্রয়োজনীয় দক্ষতা অর্জনের জন্য তাদের প্রশিক্ষণের আওতায় আনতে হবে। বিপিও সম্মেলন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্ল্যাটফর্ম—যেখানে তরুণরা অত্যাধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি সম্পর্কে জানতে পারবে ও এই শিল্পে ক্যারিয়ার গড়ার প্রয়োজনীয় দিক-নির্দেশনা পাবেন।
সম্মেলনে ৩০টি দেশীয় ও আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি প্রতিষ্ঠান তাদের পণ্য ও সেবা প্রদর্শনীতে উপস্থাপন করার সুযোগ পাচ্ছে। এ ছাড়াও, এতে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক ৯টি সেমিনার ও কর্মশালা অনুষ্ঠিত হবে। যেখানে আইটিইএস ক্রেতা প্রতিষ্ঠান ও আন্তর্জাতিক তথ্যপ্রযুক্তি খাতের খ্যাতনামা বিশেষজ্ঞরা অভিজ্ঞতা বিনিময় করবেন—যা সম্মেলনকে বিশ্বমানের একটি প্ল্যাটফর্মে পরিণত করবে।
ক্যারিয়ার কাউন্সেলিং বিষয়ক কর্মশালাগুলোতে বিপিও শিল্পের সম্ভাবনাময় দিকগুলো শিক্ষার্থীদের সামনে তুলে ধরে এ খাতে আকর্ষণীয় ক্যারিয়ার গড়ে তুলতে উৎসাহ যোগানো হবে বলেও জানান তিনি।
তিনি বলেন, বরাবরের মতো এবারেও চাকরি মেলার মধ্য দিয়ে বিপিও শিল্পে ক্যারিয়ার গড়তে আগ্রহীদের জীবন বৃত্তান্ত (সিভি) সংগ্রহ করা হবে। এছাড়া, যোগ্য প্রার্থীদের জন্য নিয়োগের ব্যবস্থাও থাকবে।
আউটসোর্সিং শিল্পের অবিচ্ছেদ্য অংশ হিসেবে ফ্রিল্যান্সারদের সমস্যা, সম্ভাবনা এবং সফলতার গল্প নিয়েও বিভিন্ন সেমিনার থাকছে এবারের সম্মেলনে।
আইসিটি অধিদপ্তরের আয়োজনে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন ‘বিজনেস প্রমোশন কাউন্সিল ও বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব কন্ট্যাক্ট সেন্টার অ্যান্ড আউটসোর্সিং (বাক্কো)– এর উদ্যোগে এবং বাংলাদেশ টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ কমিশন (বিটিআরসি)-এর স্ট্র্যাটেজিক পার্টনারশিপে চলতি বছরের ২১ থেকে ২২ জুন রাজধানীর সেনাপ্রাঙ্গণ ভেন্যুতে এই সম্মেলন অনুষ্ঠিত হবে।
সংবাদ সম্মেলনে তথ্যপ্রযুক্তি বিশেষজ্ঞ, তথ্যপ্রযুক্তি শিল্পের নেতা ও তথ্যপ্রযুক্তিখাত সংশ্লিষ্ট সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।
৩৯৩ দিন আগে
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে দুর্বৃত্তদের হামলার ঘটনায় বিএসআরএফের নিন্দা
পিস্তল, দেশীয় অস্ত্র ও লাঠিসোটা নিয়ে রাতের আঁধারে অতর্কিতভাবে ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) দুর্বৃত্ত জাকির গংদের হামলার ঘটনায় গভীর উদ্বেগ, নিন্দা ও তীব্র প্রতিবাদ জানিয়েছে বাংলাদেশ সেক্রেটারিয়েট রিপোর্টার্স ফোরাম (বিএসআরএফ)।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) এক বিবৃতিতে বিএসআরএফ’র কার্যনির্বাহী কমিটির পক্ষে সভাপতি ফসিহ উদ্দীন মাহতাব এবং সাধারণ সম্পাদক মাসউদুল হক বলেন, এমন ন্যক্কারজনক হামলা শুধু একটি প্রতিষ্ঠানে নয়, পুরো সাংবাদিক সমাজের ওপর হুমকি। হামলায় জড়িতদের দ্রুত আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির ব্যবস্থা করতে হবে।
তারা বলেন, সাংবাদিকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা রাষ্ট্রের দায়িত্ব। বিএসআরএফ এ ঘটনায় আহতদের প্রতি গভীর সহানুভূতি জানাচ্ছে এবং ডিআরইউ নেতারা পাশে থাকার অঙ্গীকার করেছে।
বুধবার (২১ মে) আওয়ামী দোসর দুর্বৃত্ত জাকির হোসেন ও তার অনুসারীরা ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে হামলা চালায়। এতে ডিআরইউ সভাপতি আবু সালেহ আকন, দপ্তর সম্পাদক রফিক রাফি, সদস্য মশিউর রহমান, মাহবুব হাসান, দেলোয়ার মহিন, মফিজুল সাদিকসহ অনেক সাংবাদিক আহত হয়েছেন। পরে পুলিশ এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনে।
হামলার পর ডিআরইউ কার্যালয়ের সামনে থেকে চেয়ারম্যান টি স্টল নামে একটি দোকানের মালামালও তারা লুট করে নিয়ে যায় দুর্বৃত্তরা। ৫০ হাজার টাকার মালামালসহ দোকানটি গায়েব করে দেয় জাকির হোসেন ও তার সঙ্গীরা।
৩৯৩ দিন আগে
৯৯৯ এ আসা ৫৬.২৭ শতাংশ কলই অপ্রয়োজনীয়
বাংলাদেশ পুলিশের পরিচালিত জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯ জরুরি হেল্পলাইন নম্বর। জরুরি মুহূর্তে পুলিশ, ফায়ার ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাসহ বিভিন্ন তথ্যসেবার জন্য এটি নির্ভরতার প্রতীকে পরিণত হয়েছে। কিন্ত ৯৯৯ এ আসা ৫৬ দশমিক ২৭ শতাংশ কলই অপ্রয়োজনীয়।
জাতীয় জরুরি সেবা ৯৯৯–এর দায়িত্বে থাকা পুলিশের অতিরিক্ত উপমহাপরিদর্শক (ডিআইজি) মহিউল ইসলামের সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, ২০১৭ সালের ১২ ডিসেম্বর প্রতিষ্ঠার পর থেকে চলতি বছরের ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত জরুরি সেবা ৯৯৯ এ মোট ৬ কোটি ২৩ লাখ ৮০ হাজার ৯০৭টি ফোনকল করা হয়েছে। এর মধ্যে ২ কোটি ৭২ লাখ ৭৯ হাজার ৮৮৬ জন কলকারীকে জরুরি মুহূর্তে পুলিশ, ফায়ার সার্ভিস ও অ্যাম্বুলেন্স সেবাসহ বিভিন্ন তথ্যসেবা দেওয়া হয়েছে। যা মোট কলের ৪৩ দশমকি ৭৩ শতাংশ।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, ৩ কোটি ৫১ লাখ ১ হাজার ২১ টি কল -ব্ল্যাংক কল, প্র্যাংক কল ও মিসড কল যা মোট কলের ৫৬ দশমিক ২৭ শতাংশ।
এতে বলা হয়, অপ্রয়োজনীয় ফোনকল ওয়েইটিং টাইম বাড়িয়ে দ্রুত সেবা নিতে বাঁধার সৃষ্টি করেছে। যা বিপদে পড়া কলারকে সেবা পেতে দেরী করাচ্ছে ও ৯৯৯-এর সেবাদানকারীদের বিরক্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
টেলিযোগাযোগ নিয়ন্ত্রণ আইন ২০০১ এর ৭০(১) ধারায় বিরক্তিকর কলের জন্য এক লাখ টাকা জরিমানা, অনাদায়ে ছয় মাসের কারাদণ্ডের শাস্তির বিধান থাকলেও ৯৯৯ এখন পর্যন্ত কারো বিরুদ্ধে এই আইনে অভিযোগ আনা হয়নি।
অভিযোগ না এনে ৯৯৯ সেবাদানকারীরা জনসচেতনতার ওপর গুরুত্ব দিয়েছে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়।
এতে যোগ করা হয়, জনসচেতনতা বৃদ্ধির কারণে ৯৯৯-এ ক্রমেই অপ্রয়োজনীয় কলের সংখ্যা কমে আসছে। অপ্রয়োজনীয় কল শূন্যের কোঠায় নামিয়ে আনার প্রচেষ্টায় জনসচেতনতা সৃষ্টিতে বিশিষ্ট নাগরিক ও গণমাধ্যমের সহযোগিতা চাওয়া হয়েছে।
৩৯৩ দিন আগে
শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে কুয়েটের অন্তবর্তীকালীন উপাচার্যের পদত্যাগ
শিক্ষকদের আন্দোলনের মুখে পদত্যাগ করেছেন খুলনা প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয়ের (কুয়েট) অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য অধ্যাপক ড. হযরত আলী।
বৃহস্পতিবার (২২ মে) শিক্ষা মন্ত্রণালয়ে পদত্যাগপত্র জমা দেন তিনি। কুয়েটের ডেপুটি রেজিস্ট্রার আব্দুর রহমান বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
গত ১ মে শিক্ষা মন্ত্রণালয় চুয়েটের পুরকৌশল বিভাগের অধ্যাপক হযরত আলীকে কুয়েটের অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্য পদে নিয়োগ দেয়। শিক্ষক-শিক্ষার্থীদের পাল্টাপাল্টি আন্দোলন চলাকালে গত ১৯ মে তিনি দাপ্তরিক কাজে ঢাকায় যাওয়ার কথা বলে ক্যাম্পাস ছেড়েছিলেন।
অন্তর্বর্তীকালীন উপাচার্যের পদত্যাগ ও নতুন উপাচার্য নিয়োগের দাবিতে বৃহস্পতিবার বেলা সাড়ে ১১টার দিকে ক্যাম্পাসে মানববন্ধন করে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক সমিতি। শিক্ষার্থীদের একটি দলও মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে।
শিক্ষার্থীদের আন্দোলনের মুখে চলতি বছরের ২৫ এপ্রিল উপাচার্য অধ্যাপক ড. মাছুদ ও উপউপাচার্য অধ্যাপক ড. শেখ শরীফুল আলমকে অব্যাহতি দেয় শিক্ষা মন্ত্রণালয়।
৩৯৩ দিন আগে
কুলাউড়ায় পুশ-ইন: শিশুসহ আটক ৭
মৌলভীবাজারের কুলাউড়া উপজেলায় সীমান্ত দিয়ে শিশুসহ ৭ বাংলাদেশিকে ফের পুশইন করেছে ভারতীয় সীমান্তরক্ষী বাহিনী (বিএসএফ)। গতকাল বৃহস্পতিবার (২২ মে) সকাল ৮টার দিকে উপজেলার কর্মধা ইউনিয়নের মুরইছড়া সীমান্তেএ ঘটনা ঘটে।
বিজিবি সূত্রে জানা গেছে, পুশ-ইনের পর তুতবাড়ি সংলগ্ন এলাকায় স্থানীয় লোকজনের মাধ্যমে খবর পেয়ে বিজিবির সদস্যরা ওই সাতজনকে আটক করেন। আটকদের মধ্যে ২ জন পুরুষ, ২ জন নারী ও ৩ শিশু রয়েছে। তারা সবাই কুড়িগ্রাম জেলার বাসিন্দা।
আরও পড়ুন: ফেনী সীমান্তে ৩৯ জনকে পুশ-ইন করল বিএসএফ
৪৬ বিজিবির অধিনায়ক লেফটেন্যান্ট কর্নেল এ এস এম জাকারিয়া বলেন, আটক ব্যক্তিরা সবাই বাংলাদেশি নাগরিক। তাদের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া গেছে। আমরা তাদের কুলাউড়া থানায় হস্তান্তর করব।
কুলাউড়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মো. গোলাম আপছার বলেন, বিজিবি আটক ব্যক্তিদের থানায় হস্তান্তর করলে ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষের নির্দেশনা অনুযায়ী প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
উল্লেখ্য, এর আগে গত ১৫ মে একই সীমান্ত এলাকায় পুশ-ইন করা ১৪ বাংলাদেশিকে আটক করা হয়।
৩৯৩ দিন আগে
অভিভাবকদের অজ্ঞতায় ভয়াবহ ঝুঁকিতে জন্মগত ডায়াবেটিক আক্রান্ত শিশুরা
বাংলাদেশে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে টাইপ-১ তথা জন্মগত ডায়াবেটিস। অভিভাবকদের অজ্ঞতা ও সচেতনতার অভাবে এ সকল ডায়াবেটিস আক্রান্ত শিশুরা নানা ধরনের ভয়াবহ জটিলতায় পড়ছে। তাদের কেউ কেউ পড়ছেন অকালে মৃত্যুর মুখেও।
বৃহস্পতিবার(২২ মে) সাভারে ব্রাক সিডিএম সেন্টারে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতি এবং নভোনডিস্ক আয়োজিত দিনব্যাপী অনুষ্ঠানে জন্মগত ডায়াবেটিস আক্রান্ত শিশু ও অভিভাবকদের নিয়ে সচেতনতামূলক প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে বক্তারা এসব কথা বলেন।
বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির পিডিআরসি’র পরিচালক ও পেডিয়াট্রিক এন্ডোক্রাইনজিস্ট ডা. বেদৌরা জাবীন বলেন, বাংলাদেশে বর্তমানে টাইপ-১ তথা জম্মগত ডায়াবেটিসে আক্রান্ত শিশুদের সংখ্যা ক্রমেই বাড়ছে—যা সুস্থ সুন্দর ভবিষ্যৎ প্রজন্ম গড়তে ব্যাপক ঝুঁকি তৈরি করছে। এমতাবস্থায় ডায়াবেটিসের মতো নীরব ঘাতক রোগগুলোর ঝুঁকি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষদের ব্যাপক সচেতনার বিকল্প নেই বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: শিশুদের টিকটক আসক্তি: ঝুঁকি থেকে যেভাবে বাঁচবেন
ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে বিশেষ অতিথির বক্তব্য দেন বাডাস মহাসচিব মোহাম্মদ সাইফুদ্দিন প্রমুখ।
ডায়াবেটিস আক্রান্ত শিশুদের পক্ষ হতে অভিজ্ঞতা শেয়ার করেন তরুন সংগঠক প্রত্যয় ও আদীবা প্রমুখ।
অনুষ্ঠানে বক্তারা সুস্থ সুন্দর প্রজম্ম তৈরিতে ডায়াবেটিসের মতো নীরব ঘাতক রোগগুলোর ঝুঁকি মোকাবিলায় সাধারণ মানুষদের অধিকতর সচেতনার সঙ্গে এগিয়ে আসার আহবান জানান। একই সঙ্গে দেশে ডায়াবেটিসের ঝুঁকি মোকাবিলায় একটি সমন্বিত উদ্যোগ হিসেবে কাজ করারও আহবান জানান তারা।
অনুষ্ঠানে এ সকল ডায়াবেটিস আক্রান্ত শিশু ও তাদের অভিভাবকদের ডায়াবেটিস মোকাবিলার অভিজ্ঞতা বিনিময় ও প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়।
৩৯৩ দিন আগে