বাংলাদেশ
বাকৃবিতে শাস্তির আওতায় ১৫৪ শিক্ষক-শিক্ষার্থী ও কর্মকর্তা-কর্মচারী
বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ে (বাকৃবি) ১৫৪ জন শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীর বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নিয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন।
সোমবার (৪ আগষ্ট) বিকালে বাকৃবির রেজিস্ট্রার কার্যালয় সূত্রে বিষয়টি নিশ্চিত হয়েছে। এই বিষয়ে একটি প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন সূত্রে জানা যায়, মোট তিনটি কেস স্টাডিতে এই শান্তি দেওয়া হয়েছে।
এর মধ্যে বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনে অংশগ্রহণের কারণে নির্যাতন ও হয়রানি এবং বিগত ২৪ সালের ৪ আগস্ট ‘শান্তি মিছিল’ এর মাধ্যমে জুলুম, নির্যাতন ও গণহত্যার উসকানি ও সমর্থন দেওয়ায় মোট ৫৭ জন শিক্ষক, ২৪ কর্মকর্তা ও ২১ কর্মচারীকে বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষকদের মধ্যে ৬ জনকে বরখাস্ত, ১২ জনকে অপসারণ, ৮ জনকে নিম্নপদে অবনমিত ও ৩১ জনকে ভৎসনা করা হয়েছে। কর্মকর্তাদের মধ্যে ৮ জনকে বরখাস্ত, ৮ জনকে অপসারণ, ৭ জনকে ভর্ৎসনা এবং ১ জনকে অর্থদণ্ড দেওয়া হয়েছে। কর্মচারীদের মধ্যে ২ জনকে বরখাস্ত এবং ১৯ জনকে ভর্ৎসনা করা হয়েছে।
গত সালের ৪ আগস্ট বাকৃবি ক্যাম্পাসে নিষিদ্ধ সংগঠন ছাত্রলীগের যেসকল সন্ত্রাসীরা বহিরাগত সন্ত্রাসীদের নিয়ে পূর্বপরিকল্পিতভাবে ‘শান্তি মিছিল’ এর নামে একটি সন্ত্রাসী মিছিল ও আন্দোলনকারীদের ভয়-ভীতি প্রদর্শন করায় মোট ৩১ জন ছাত্রকে শাস্তির আওতায় এনেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। এদের মধ্যে সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে ২৪ জন ছাত্রের এবং আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে ৭ জন ছাত্রকে।
এ ছাড়া ২০২২ সালে আশরাফুল হক হলে চারজন শিক্ষার্থীকে ছাত্রদল ও শিবির ট্যাগ দিয়ে নির্যাতনের সঙ্গে জড়িত ২ জন শিক্ষক, ১৮ জন ছাত্র ও একজন কর্মকর্তাকে চিহ্নিত করে শান্তি দেওয়া হয়েছে। দুই শিক্ষকের মধ্যে একজনকে নিম্নপদে অবনমিত ও একজনকে পদোন্নতি বা বেতন বৃদ্ধি স্থগিত করা হয়েছে।
ছাত্রদের মধ্যে সার্টিফিকেট বাতিল করা হয়েছে ১৫ জনের এবং আজীবনের জন্য বহিষ্কার করা হয়েছে ৩ ছাত্রকে।
এর আগে, গত ১৮ মে বিশ্ববিদ্যালয়ের ৩২৮তম সিন্ডিকেট অধিবেশনে অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে তদন্ত কমিশনের করা বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তির সুপারিশের অনুমোদন দেয়া হয়। এরই ধারাবাহিকতায় আজ তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিয়েছে প্রশাসন।
এই বিষয়ে বাকৃবির গণতদন্ত কমিশনের সদস্য সচিব অধ্যাপক ড. মো. আসাদুজ্জামান সরকার বলেন, তদন্ত কমিশন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে শাস্তির সুপারিশ করেছিল। সেই সুপারিশের প্রেক্ষিতে আজ বিকালে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন অভিযুক্তদের বিরুদ্ধে বিভিন্ন মেয়াদে সাজা দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেয়। একইসঙ্গে আশরাফুল হক হলের ঘটনার জন্য ও অভিযুক্তদের বিভিন্ন মেয়াদে শাস্তি দেওয়া হয়েছে।
৪৪৯ দিন আগে
জকসু নির্বাচনসহ দুই দাবিতে জবি শিক্ষার্থীদের অবস্থান কর্মসূচি
জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা ও সম্পূরক বৃত্তির দাবিতে উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান কর্মসূচি পালন করেছেন বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় (জবি) শিক্ষার্থীরা এই কর্মসূচি পালন করেন।
এ সময় শিক্ষার্থীরা বলেন, জগন্নাথ দেশের অন্যতম শীর্ষ একটি পাবলিক বিশ্ববিদ্যালয়। কিন্তু এখানে ছাত্র সংসদ না থাকা অনাকাঙ্ক্ষিত এবং ন্যায্য অধিকারের পরিপন্থী। জকসু নির্বাচনের মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা তাদের মত প্রকাশ ও নেতৃত্ব বিকাশের সুযোগ পাবে, যা একটি আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থার অপরিহার্য অংশ। কিন্তু এ বিষয়ে দীর্ঘদিন ধরে নয় ছয় করে আসছে এই প্রশাসন।
জবি শাখা ছাত্র অধিকার পরিষদের সভাপতি এ কে এম রাকিব বলেন, গত বুধবার জকসু নির্বাচনের রোডম্যাপ ও সম্পূরক বৃত্তির দাবিতে দুই দিনের আল্টিমেটাম দেওয়া হয়। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন কোনো রেসপন্স করেনি। তারা শিক্ষার্থীদের সঙ্গে নয়-ছয় করে পার পাবে না। শিক্ষার্থীদের ন্যায্য অধিকার আদায়ে আমরা প্রয়োজনে কঠোর কর্মসূচি দিতে বাধ্য হবো।
এই বিষয়ে বিশ্ববিদ্যালয় শাখা বাংলাদেশ গণতান্ত্রিক ছাত্র সংসদের (বাগছাস) সদস্য সচিব শাহিন মিয়া বলেন, আজকে আমরা দুই দাবিতে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছি। আগামী বৃহস্পতিবারের মধ্যে জকসুর যে নীতিমালা- তা বিশেষ সিন্ডিকেট ডেকে পাস করিয়ে মন্ত্রণালয়ে পাঠাতে হবে এবং সম্পূরক বৃত্তির ব্যাপারে নির্দিষ্ট তারিখ ঘোষণা করতে হবে।
গতকাল রবিবার (৩ আগস্ট) দ্রুত জকসু নির্বাচন কার্যকর করতে উপাচার্য বরাবর স্মারকলিপি দেয় শাখা ছাত্রশিবির। একইদিনে স্মারকলিপি দেয় শাখা ইউনাইটেড পিপলস (আপ) বাংলাদেশের নেতাকর্মীরা।
এর আগে, গত বুধবার দুই কর্মদিবসের আলটিমেটাম দিয়ে জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংসদ (জকসু) নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা এবং সম্পূরক বৃত্তির দাবিতে মানববন্ধন করেন শিক্ষার্থীরা।
৪৪৯ দিন আগে
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে আলেম-উলামাদের সহায়তা চায় সরকার
শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে দেশের আলেম-উলামাদের সহায়তা প্রয়োজন। আলেম-উলামারা এ বিষয়ে সুনির্দিষ্ট কর্মপরিকল্পনা জমা দেবেন বলে জানিয়েছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয় এবং পানি সম্পদ মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসান।
তিনি বলেন, ধর্মীয় বয়ানে প্লাস্টিক দূষণ, পাহাড় কাটা, পাথর উত্তোলন রোধসহ পরিবেশ সচেতনতা বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত করলে মানুষের আচরণ পরিবর্তনে তা অত্যন্ত কার্যকর হবে।
সোমবার (৪ আগস্ট) পরিবেশ অধিদপ্তরে শব্দদূষণ নিয়ন্ত্রণে কার্যকর কর্মপন্থা নির্ধারণে দেশের বিশিষ্ট আলেম-উলামাদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় পরিবেশ উপদেষ্টা এসব কথা।
তিনি বলেন, উন্নত দেশগুলোতে সরকার ও জনগণের সম্মিলিত উদ্যোগে শব্দদূষণ অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসেছে। বাংলাদেশেও আমরা এ ধরনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করতে চাই। আমরা শুধু বক্তব্য নয়, বাস্তব কাজ শুরু করতে চাই। কনসার্ট, অ্যাম্বুলেন্স ও পরিবহন খাতে নিয়ন্ত্রিত শব্দ ব্যবস্থাপনা গড়ে তুলতে হবে।
সভায় ধর্ম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ড. আ ফ ম খালিদ হোসেন বলেন, হাদিস শরীফসহ বহু ইসলামী গ্রন্থে শব্দ সংযমের শিক্ষা দেওয়া হয়েছে। গভীর রাতে উচ্চ শব্দে মাইক ব্যবহার শিশু, বৃদ্ধ ও অসুস্থদের জন্য কষ্টকর।
পড়ুন: নেতৃত্ব দিতে হলে বিএনপিকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে: তারেক
তিনি আরও বলেন, উচ্চ শব্দ শুধু কানে ব্যাথা দেয় না, নার্ভাস সিস্টেমেও বিরূপ প্রভাব ফেলে। অহেতুক হর্ন বা শব্দ তৈরি ইসলামী শিক্ষার পরিপন্থী। তিনি সকল প্রকার দূষণরোধে জনসচেতনতা বাড়াতে দেশের আলেম উলামাদের প্রতি আহ্বান জানান।
সভায় আরও বক্তব্য দেন পরিবেশ সচিব ড. ফারহিনা আহমেদ, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ড. মো. কামরুজ্জামান এনডিসি, ইএনটি হেড-নেক ক্যান্সার ফাউন্ডেশনের মহাসচিব অধ্যাপক ডা. কামরুল হাসান তরফদার, পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক মো. আব্দুল্লাহ আল মাসউদ এবং শব্দ নিয়ন্ত্রণ প্রকল্প পরিচালক ফরিদ আহমেদ।
সভায় অংশগ্রহণকারী আলেম-উলামারা শব্দদূষণ রোধে সরকারের কাছে পরিকল্পনা দিতে সম্মত হন। পরিবেশ উপদেষ্টা কোরআন-হাদীসভিত্তিক বার্তার মাধ্যমে শব্দদূষণবিরোধী সচেতনতা ছড়িয়ে দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়ে বলেন, ধর্মীয় মূল্যবোধের আলোকে সম্মিলিত উদ্যোগেই গড়ে উঠবে পরিবেশবান্ধব বাংলাদেশ।
৪৪৯ দিন আগে
রাষ্ট্রীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে ড. ইউনূসের নেতৃত্ব আন্তর্জাতিক সমর্থন পেয়েছিল: শফিকুল আলম
রাষ্ট্রীয় সংকটময় পরিস্থিতিতে অধ্যাপক ড. ইউনূসের নেতৃত্বে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক সমর্থন পেয়েছিল বলে মন্তব্য করেছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।
সোমবার (৪ আগস্ট) নিজের ভেরিফায়েড ফেসবুক পোস্টে প্রেস সচিব বলেন, ড. ইউনূসের জনকল্যাণমুখী অবস্থান আমাদের ভবিষ্যতের পথ দেখায়।
শফিকুল আলম জানান, কোনো কোনো সময় রাজনৈতিক হিসাবের চেয়ে স্পষ্টতা ও সাহস বেশি জরুরি হয়ে পড়ে। ২০২৪ সালের জুলাই মাস ছিল তেমনই এক সময়। হাসিনা সরকারের হাতে বিএনপি ও অন্যান্য বিরোধী দলের বহু তরুণের প্রাণহানি ঘটেছিল। এই অন্ধকার সময়ে অধ্যাপক ইউনূস সেই নৈতিক বল ও আন্তর্জাতিক গ্রহণযোগ্যতা নিয়ে সামনে আসেন, যা ওই মুহূর্তে অত্যন্ত প্রয়োজন ছিল।
তিনি বলেন, ২১ জুলাই সহিংসতা যখন চূড়ান্ত রূপ নেয়, তখন ড. ইউনূস জাতিসংঘ ও বিশ্ব নেতাদের উদ্দেশ্যে একটি বৈশ্বিক আবেদন জানান। তিনি এটিকে ‘দেশজুড়ে হত্যাযজ্ঞ’ হিসেবে আখ্যা দিয়ে তা বন্ধের আহ্বান জানান এবং আন্তর্জাতিক তদন্ত দাবি করেন।
‘এই পদক্ষেপ আন্তর্জাতিক মতামত বদলে দেয়, হাসিনাকে বিশ্বমঞ্চে একঘরে করে এবং শান্তিপূর্ণ রূপান্তরের পথ তৈরি করে,’ বলেন প্রেস সচিব।
তিনি আরও বলেন, ‘অধ্যাপক ইউনূস রাজনীতিবিদ হিসেবে নয়, বরং একজন নাগরিক হিসেবে কথা বলেন। তিনি আন্দোলনকারীদের অভিনন্দন জানান, তাদের জয়কে ‘দ্বিতীয় বিজয় দিবস’ বলেন এবং প্রতিশোধপরায়ণ না হয়ে দেশ পুনর্গঠনের কাজে যুক্ত হওয়ার আহ্বান জানান।’
এই নেতৃত্ব কোনো একদিনে তৈরি হয়নি বলে মন্তব্য করেন শফিকুল আলম।
তিনি বলেন, দীর্ঘদিন ধরেই অধ্যাপক ইউনূস শেখ হাসিনার ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরোধিতা করে আসছিলেন। তিনি হাসিনার শাসনকে ফ্যাসিবাদ বলেছিলেন, ভুয়া নির্বাচনের নিন্দা করেছিলেন, বিচার বিভাগ, প্রশাসন ও সংবিধানে সংস্কারের দাবি জানিয়েছিলেন। এসবের কারণে তাকে ভোগ করতে হয়েছে—জনসমক্ষে অপমান, মামলা, ভ্রমণ নিষেধাজ্ঞা, এমনকি ২০২৪ সালের শুরুতে জেলদণ্ড, পরে জামিনে মুক্ত হন তিনি।’
পড়ুন: জুলাই সনদে যেকোনো সময় সই করতে প্রস্তুত বিএনপি: সালাহউদ্দিন
আন্দোলনের সময় জনগণ এমন একজন রূপান্তরকারী নেতৃত্ব খুঁজছিলেন যিনি দলীয় রাজনীতির ঊর্ধ্বে এবং তাদের আকাঙ্ক্ষিত মূল্যবোধ ধারণ করেন। সেই আস্থায় তারা ইউনূসকে বেছে নেন।
‘তিনি ক্ষমতা চাননি, বরং মানুষ তার ওপর আস্থা রেখেছিল,’ বলেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব।
তিনি আরও বলেন, ওই সময় বিএনপির সাবেক নেতা মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমেদসহ অনেকে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে ছিলেন এবং নির্যাতিতও হয়েছেন। তবে ২০২৪ সালের জুলাইয়ে যখন আন্তর্জাতিক পর্যায়ে কণ্ঠস্বর দরকার ছিল, তখন মেজর হাফিজের কণ্ঠ সবচেয়ে জোরালো বা কার্যকর ছিল না।
শফিকুল আলম বলেন, ‘এই পার্থক্যটা—কারও অবদান বা ভোগান্তিকে খাটো করতে নয়, বরং কেন ড. ইউনূস জাতীয় আন্দোলনের মুখ হয়ে উঠছিলেন তা বোঝানোর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
৪৪৯ দিন আগে
পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রীর সফরে ১৯৭১ সালের বিষয় তুলবে ঢাকা: তৌহিদ হোসেন
বাংলাদেশে আগামী ২৩ আগস্ট সফর করবেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী। তাকে স্বাগত জানাতে বাংলাদেশ প্রস্তত এবং ১৯৭১ সালে পাকিস্তানের সঙ্গে ঘটে যাওয়া বিষয়গুলো ঢাকা আলোচনার টেবিলে তুলে ধরবে বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেন।
সোমবার (৪ আগস্ট) ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
পাকিস্তানের কাছ থেকে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়ার এবং যথাযথ ক্ষতিপূরণের বিষয়গুলো বাংলাদেশ উত্থাপন করবে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে পররাষ্ট্র উপদেষ্টা বলেন, ‘প্রতিটি বিষয়ই আলোচনার টেবিলে থাকবে।’
তৌহিদ হোসেন বলেন, অন্তর্বর্তী সরকার পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্কের ক্ষেত্রে ‘বাস্তবসম্মত উপায়ে’ এগিয়ে যাচ্ছে। তিনি জোর দিয়ে বলেন, চলতি মাসের শেষের দিকে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দারের নির্ধারিত সফরের সময় সবকিছু আলোচনায় থাকবে।
চলতি বছরের ১৭ এপ্রিল ঢাকায় পররাষ্ট্র সচিব পর্যায়ের আলোচনায় পাকিস্তানের সঙ্গে ঐতিহাসিক অমীমাংসিত বিষয়গুলো উত্থাপন করে বাংলাদেশ। এর মধ্যে ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধের সময় পাকিস্তানি বাহিনী বাংলাদেশে যে নৃশংসতা চালিয়েছে—তার জন্য আনুষ্ঠানিকভাবে জনসমক্ষে ক্ষমা চাওয়া এবং পাকিস্তানের কাছ থেকে আর্থিক ক্ষতিপূরণ দাবি আদায়ের বিষয় অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
আমাদের পারস্পরিক সম্পর্কের দৃঢ় ভিত্তি তৈরি করতে এই বিষয়গুলোর সমাধান করা প্রয়োজন, বলেছেন তৎকালীন পররাষ্ট্র সচিব মো. জসিম উদ্দিন।
এক প্রশ্নের জবাবে উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেন বলেন, ভারত কীভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে—তা বাংলাদেশ নির্ধারণ করে না এবং একইভাবে ভারতও কীভাবে পাকিস্তানের সঙ্গে সম্পর্ক স্থাপন করবে—তা নির্ধারণ করে না।
পড়ুন: ২৩ আগস্ট ঢাকায় আসছেন পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী
হোসেন বলেন, তারা সম্পর্কের একটি দিক অন্য দিকে আটকে যেতে দেখতে চায় না।
তিনি বলেন, ১৫ বছর পর ঢাকা ও ইসলামাবাদের মধ্যে আলোচনা শুরু হওয়ায় পাকিস্তানের পক্ষ থেকে এই বিষয়গুলোতে জড়িত থাকার আগ্রহ দেখা যাচ্ছে। বাংলাদেশের সঙ্গে সমন্বয় জোরদার করার উপায় নিয়ে আলোচনা করতে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী ২৩ আগস্ট ঢাকায় আসার কথা রয়েছে।
অন্যান্য ব্যস্ততার পাশাপাশি তিনি ২৪ আগস্ট পররাষ্ট্র উপদেষ্টা মো. তৌহিদ হোসেনের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক বৈঠক করবেন। এর আগে গত এপ্রিলের তার পূর্ব নির্ধারিত বাংলাদেশ সফর স্থগিত করা হয়।
ভারত-শাসিত কাশ্মীরে এক প্রাণঘাতী হামলার পর পাকিস্তান ও ভারতের মধ্যে উত্তেজনা বাড়ার কারণে সফরটি স্থগিত করা হয়েছিল।
সে সময় পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছিল, ‘অপ্রত্যাশিত পরিস্থিতির কারণে পাকিস্তানের উপপ্রধানমন্ত্রী এবং পররাষ্ট্রমন্ত্রী ২০২৫ সালের ২৭-২৮ এপ্রিল বাংলাদেশ সফর করতে পারছেন না।’
পরবর্তীতে, উভয় পক্ষ পারস্পরিক পরামর্শের মাধ্যমে নতুন তারিখ চূড়ান্ত করে।
গত সপ্তাহে জুলাই মাসে বাংলাদেশ ও পাকিস্তান চলমান ইসরায়েলি আগ্রাসন এবং ফিলিস্তিনে ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকটের বিষয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ফিলিস্তিনি জনগণ এবং তাদের ন্যায্য দাবির প্রতি নিজেদের অটল সংহতি পুনর্ব্যক্ত করে।
পড়ুন: হাসিনা ও তার দোসরদের অপরাধ পাকিস্তানি বাহিনীকে হার মানিয়েছে: আইন উপদেষ্টা
জাতিসংঘে দ্বি-রাষ্ট্র সমাধান বিষয়ক আন্তর্জাতিক সম্মেলনের ফাঁকে ইসহাক দার এবং বাংলাদেশের পররাষ্ট্র উপদেষ্টা তৌহিদ হোসেনের মধ্যে অনুষ্ঠিত বৈঠকে এই বার্তাটি জানানো হয়। ২০২৪ সালের অক্টোবরের পর এটি ছিল তাদের চতুর্থ বৈঠক।
ঢাকাস্থ পাকিস্তান হাইকমিশন জানিয়েছে, তারা দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক পর্যালোচনা করে এবং রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক ও সাংস্কৃতিক সহযোগিতা জোরদার করার প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে। পাশাপাশি সংযোগ এবং জনগণের মধ্যে যোগাযোগ বৃদ্ধির উপায় অনুসন্ধান করে।
উভয় পক্ষ অদূর ভবিষ্যতে উচ্চ পর্যায়ের সফর করতে সম্মত হয়েছে।
৪৪৯ দিন আগে
হিন্দুপল্লিতে হামলার উসকানি: গ্রেপ্তার সাংবাদিক ৩ দিনের রিমান্ডে
রংপুরের গঙ্গাচড়া উপজেলার বেতগাড়ি ইউনিয়নের আলদাতপুর ছয়আনি হিন্দুপল্লিতে হামলার ঘটনায় গ্রেপ্তার সাংবাদিক হাবিবুর রহমান সেলিমের জামিন আবেদন বাতিল করে তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রংপুর জজকোর্টের গংগাচড়া আমলী আদালতের সিনিয়র জুডিসিয়াল-১ এর বিচারক কৃষ্ণ কমল রায় আদালতে এ আদেশ দেন বলে নিশ্চিত করেছেন কোর্ট পরিদর্শক আমিনুল ইসলাম।
আমিনুল ইসলাম জানান, পুলিশ ৫ দিনের রিমান্ড আবেদন করলে আদালত তিন দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। পরে কঠোর নিরাপত্তার মাধ্যমে ওই সাংবাদিককে জেলখানায় পাঠানো হয়।
অভিযুক্ত সাংবাদিক রংপুর থেকে প্রকাশিত দৈনিক যুগের আলো পত্রিকার নিজস্ব প্রতিবেদক হাবিবুর রহমান সেলিম।
জানা গেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সাংবাদিক হাবিবুর রহমান সেলিম তার ফেসবুক পেজে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে জনগণকে সরাসরি উসকানি দিয়ে উত্তেজিত করার তথ্য প্রমাণ পেয়েছে পুলিশ। এ অভিযোগে শনিবার(২ আগস্ট) দিবাগত রাত সাড়ে ৩টার দিকে রংপুর সদরের হরিদেবপুর ইউনিয়নের গোকুলপুর চওড়াপাড়ায় নিজ বাড়ি থেকে তাকে গ্রেপ্তার করে গংগাচড়া থানায় হস্তান্তর করে সেনাবাহিনী।
পড়ুন: হিন্দুপল্লিতে হামলাকারীদের উসকানি, সাংবাদিক গ্রেপ্তার
ঘটনার বিবরণে জানা যায়, ফেসবুকে মহানবী হজরত মোহাম্মদকে (সা.) নিয়ে কটূক্তির অভিযোগকে কেন্দ্র করে রংপুরের গংগাচড়া উপজেলার বেতগাড়ী ইউনিয়নের আলদাদপুর বালাপাড়া গ্রামের হিন্দু পাড়ায় অজ্ঞাত লোকজন ভাঙচুর, লুটপাট ও হামলা চালায়। ওই হামলায় অন্তত ২২টি বসতঘর ভাঙচুর ও লুটপাটের শিকার হয়েছিল।
পুলিশ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টা করলে সংঘর্ষ বাধে। এতে পুলিশের এক কনস্টেবল গুরুতর আহত হন। এ ঘটনায় ২৯ জুলাই রবীন্দ্রনাথ রায় (৫৫) বাদী হয়ে গংগাচড়া মডেল থানায় হাজারের অধিক অজ্ঞাত ব্যক্তিকে আসামি করে মামলা দায়ের করেন।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রে জানা যায়, তিনি আলদাতপুর হিন্দুপল্লিতে হামলার সময় ঘটনাস্থলে উপস্থিত থেকে সেনাবাহিনীর বিরুদ্ধে হামলাকারীদের সরাসরি উসকানি দিয়েছেন।
মামলার তদন্ত কর্মকর্তা ও গংগাচড়া মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) আল ইমরান জানান, গ্রামের হিন্দু পাড়ায় হামলার ঘটনায় সাংবাদিকসহ এ পর্যন্ত ৬ জনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অন্যদের গ্রেপ্তারে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
৪৫০ দিন আগে
প্রাথমিকে সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরু
চলতি বছরের সেপ্টেম্বর মাস থেকে সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার।
সোমবার (৪ আগস্ট) দুপুরে রংপুর জেলা শিল্পকলা একাডেমিতে এক মতবিনিময় সভার আগে সাংবাদিকদের তিনি এ তথ্য জানান।
উপদেষ্টা বলেন, ‘আশা করি, সেপ্টেম্বর থেকে স্কুল ফিডিং কর্মসূচি শুরু হবে। প্রকল্পের ক্রয় প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। যারা বাস্তবায়ন করবে, তাদের প্রশিক্ষণও চলছে। আগস্টের মধ্যে সব প্রস্তুতি শেষ করে সেপ্টেম্বরেই মাঠে নামা যাবে।’
তিনি আরও বলেন, দুটি প্রকল্পের মাধ্যমে দেশজুড়ে এই কর্মসূচি বাস্তবায়ন করা হবে। এর মধ্যে বড় প্রকল্পটি ১৫০টি উপজেলার সব সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে চালু হবে, অন্য প্রকল্পটি কক্সবাজার ও বান্দরবানে কার্যকর হবে।
ডা. বিধান বলেন, প্রধান শিক্ষকদের দশম গ্রেড দেওয়াসহ প্রায় ১৪ হাজার শিক্ষক নিয়োগ এবং পিএসসির মাধ্যমে তিন হাজার প্রধান শিক্ষক নিয়োগের প্রক্রিয়া চলছে। নিম্নবিত্ত শিক্ষার্থীদের জন্য সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়গুলোতে সুযোগ-সুবিধা বৃদ্ধির পাশাপাশি মানোন্নয়নে জোর দেওয়া হচ্ছে। বেসরকারি কিন্ডারগার্টেন শিক্ষার্থীরা বৃত্তি পরীক্ষার বাইরে থাকলেও তাদের জন্য আলাদা ব্যবস্থা চালু আছে।
পড়ুন: ৪৯তম বিশেষ বিসিএস: পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও সার্কুলারে নেই আরবি বিভাগ
সরকারি বিদ্যালয়ে সময় বৃদ্ধি প্রসঙ্গে তিনি বলেন, ‘এক বছরে মাত্র ১৮০ দিন স্কুল থাকে। শিক্ষক-শিক্ষার্থীর সংযোগ যদি না থাকে, তাহলে শেখার সুযোগ সীমিত হয়। তাই সহশিক্ষা কার্যক্রমের মাধ্যমে বিদ্যালয়কে শিশুদের আনন্দঘন পরিবেশে রূপান্তর করা হচ্ছে।’
এ সময় উপস্থিত ছিলেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের সচিব আবু তাহের মো. মাসুদ রানা, বিভাগীয় কমিশনার মো. শহীদুল ইসলাম, প্রাথমিক শিক্ষা অধিদপ্তরের মহাপরিচালক আবু নূর মো. শামসুজ্জামান এবং পরিচালক (নীতিনির্ধারণ ও কার্যক্রম) মোহাম্মদ কামরুল হাসান।
জেলা প্রশাসন ও প্রাথমিক শিক্ষা অফিসের আয়োজনে ‘প্রাথমিক শিক্ষার মান উন্নয়নের বিভিন্ন অংশীজনের সঙ্গে মতবিনিময় সভা’ অনুষ্ঠিত হয়। সভায় সভাপতিত্ব করেন জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রবিউল ফয়সাল। এতে প্রাথমিক শিক্ষার মানোন্নয়নে বিভিন্ন অংশীজনের মতামত গ্রহণ করা হয়।
সভায় জেলার বিভিন্ন উপজেলার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক, সহকারী শিক্ষক এবং শিক্ষা প্রশাসনের কর্মকর্তারা অংশ নেন। তাঁরা মাঠপর্যায়ে প্রাথমিক শিক্ষার বাস্তব চিত্র তুলে ধরেন এবং বিভিন্ন সমস্যা, চ্যালেঞ্জ ও সম্ভাবনার কথা তুলে ধরেন।
৪৫০ দিন আগে
ডেঙ্গু: দেশে আরও দুইজনের মৃত্যু
এডিস মশাবাহিত ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে দেশে দুইজনের মৃত্যু হয়েছে। রবিবার (৩ আগস্ট) সকাল থেকে পরবর্তী ২৪ ঘণ্টায় বরিশালে একজন ও চট্টগ্রামে একজনের মৃত্যু হয়েছে। আর এই সময়ে সারা দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩৯৫ জন রোগী।
রবিবার (৪ আগস্ট) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তি থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
নতুন আক্রান্তের মধ্যে ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ৮৪ জন। আর ঢাকার বাইরের বিভিন্ন হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন আরও ৩১১ জন।
পড়ুন: ডেঙ্গু: দেশে আরও একজনের মৃত্যু, হাসপাতালে ভর্তি ২০৯
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছর আক্রান্ত হয়ে এখন পর্যন্ত ৮৬ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে ৫৭ পুরুষ এবং ৪৩ শতাংশ নারী।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে ৪ আগস্ট পর্যন্ত ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছেন মোট ২২ হাজার ৬৫ জন। এর মধ্যে ৫৮ দশমিক ৭ শতাংশ পুরুষ এবং ৪১ দশমিক ৩ শতাংশ নারী।
৪৫০ দিন আগে
৪৯তম বিশেষ বিসিএস: পদ শূন্য থাকলেও সার্কুলারে নেই আরবি বিভাগ
৪৯তম বিসিএস’র (সাধারণ শিক্ষা) বিজ্ঞপ্তিতে ‘আরবি ও ইসলামী শিক্ষা’ বিষয়ে পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও সার্কুলারে রাখা হয়নি আরবি বিভাগের নাম। এর প্রতিবাদে এবং সার্কুলারে বিভাগের নাম অন্তর্ভুক্ত করার দাবিতে সংবাদ সম্মেলন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা।
সোমবার (৪ আগস্ট) বিকালে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় সাংবাদিক সমিতির কার্যালয়ে সংবাদ সম্মেলনটি অনুষ্ঠিত হয়। এতে লিখিত বক্তব্য পাঠ করেন ১১ ব্যাচের শিক্ষার্থী ইবরাহীম নাফিস।
লিখিত বক্তব্যে তিনি বলেন, শিক্ষা ক্যাডারে প্রভাষক নিয়োগের জন্যই ৪৯তম বিসিএস’র বিজ্ঞপ্তি দেওয়া হয়েছে। সাধারণত সরকারি কলেজের প্রভাষক পদ বেশি শূন্য থাকলে বিশেষ বিসিএস পরীক্ষার মাধ্যমে শিক্ষক নিয়োগ দেওয়া হয়। অথচ ২০১৮ সালের ১১ সেপ্টেম্বরে প্রকাশিত ৪০তম বিসিএসের পর থেকে ‘আরবি ও ইসলামী শিক্ষা’ বিষয়ে কোনো নিয়োগ দেওয়া হয়নি।
তিনি বলেন, বাংলাদেশের ৬৬টি কলেজে ‘আরবি ও ইসলামী শিক্ষা’ বিভাগ রয়েছে। ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) কেবল সরকারি কলেজের প্রভাষক নিয়োগের জন্য দেওয়া হয়েছে বিধায় বিজ্ঞপ্তিতে আরবি ও ইসলামী শিক্ষার প্রভাষক পদ শূন্য দেখানো হবে বলে আমরা আশাবাদী ছিলাম। কিন্তু আরবি ও ইসলামী শিক্ষার কোনো পদ শূন্য নেই দেখে আমরা চরম হতাশ হয়েছি। অথচ বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানগুলোতে এই বিষয়ের ৩৩টি প্রভাষক পদ শূন্য রয়েছে।
নাফিস বলেন, বিসিএস পরীক্ষার বিভিন্ন ধাপের আয়োজন সম্পন্ন করে নিয়োগ দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রায় দুই বছর সময় লেগে যায়, ততদিনে নিশ্চয়ই আরো পদ শূন্য হবে। এত পদ শূন্য থাকা সত্ত্বেও বিজ্ঞপ্তিতে শূন্য না দেখানো অত্যন্ত দুঃখজনক ও আমাদের জন্য চরম হতাশার বিষয়। আমরা এ বিষয়ে মাধ্যমিক ও উচ্চ শিক্ষা অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) এবং মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগের সচিবের সঙ্গে যোগাযোগ করে আমাদের দাবি জানিয়েছি। এছাড়া পিএসসির চেয়ারম্যানকেও মৌখিকভাবে আমাদের দাবিগুলো জানিয়েছি।
সংবাদ সম্মেলনে আরবি বিভাগের শিক্ষার্থীরা ৪৯তম বিসিএস (বিশেষ) পরীক্ষার বিজ্ঞপ্তিতে ‘আরবি ও ইসলামী শিক্ষা’ -এর শূন্য পদগুলো অন্তর্ভুক্ত করে আরবির শিক্ষার্থীদের আবেদনের সুযোগ সৃষ্টির জন্য তারা জোর দাবি জানান।
যৌক্তিকতা থাকা সত্ত্বেও দাবি না মানা হলে আইনি সহায়তা গ্রহণসহ কঠোর আন্দোলনের হুঁশিয়ারিও দেন শিক্ষার্থীরা।
এ ছাড়াও সংবাদ সম্মেলনে বিভাগের ১৩তম ব্যাচের শিক্ষার্থী মুনতাসীর আহমেদ মুয়াজ, ১৪তম ব্যচের শিক্ষার্থী মেহেদী হাসান এবং নাঈম তানভীর প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৪৫০ দিন আগে
রাজধানীতে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উদযাপন উপলক্ষে ট্রাফিক নির্দেশনায় যা আছে
রাজধানীর মানিক মিয়া এভিনিউয়ে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ মঙ্গলবার দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ড্রোন শো উপলক্ষে যান চলাচল নিয়ন্ত্রণে নির্দেশনা জারি করেছে ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশ (ডিএমপি)।
সোমবার (৪ আগস্ট) এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এই তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, মঙ্গলবার সকাল ১১টা থেকে রাত ১২টা পর্যন্ত মানিক মিয়া এভিনিউয়ে সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের উদ্যোগে ‘জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস’ উপলক্ষে দিনব্যাপী সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং ড্রোন শো অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানমালায় সকাল ১১টা থেকে পৌনে ৫টা পর্যন্ত বিভিন্ন শিল্পীগোষ্ঠীর সংগীত পরিবেশনা, বেলা ২টা ২৫ মিনিট থেকে ফ্যাসিস্টের পলায়ন উদযাপন, বিকাল ৫টা থেকে ঐতিহাসিক জুলাই ঘোষণাপত্র পাঠ, সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় বিশেষ ড্রোন শো এবং রাত ৮টা থেকে আর্টসেল পরিবেশনা।
এ অনুষ্ঠানমালা উপলক্ষে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও মানিক মিয়া এভিনিউয়ে অতিরিক্ত জনসমাগমের কারণে ট্রাফিক ব্যবস্থাপনার নির্দেশনা জারি করেছে ডিএমপি।
নির্দেশনার আলোকে আড়ং ক্রসিং (মানিক মিয়া এভিনিউ এর পশ্চিম প্রান্ত) মিরপুর রোড হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত অথবা মোহাম্মদপুর থেকে আসাদগেইট হয়ে আগত খেজুর বাগান/ফার্মগেট অভিমুখী যানবাহনসমূহ আড়ং ক্রসিংয়ে বামে মোড় না নিয়ে সোজা দক্ষিণ দিকে ধানমন্ডি-২৭ এর পূর্ব প্রান্ত হয়ে মিরপুর রোডে চলাচল করবে।
এছাড়া মিরপুর রোডের দক্ষিণ দিক হতে (সায়েন্স ল্যাব ক্রসিং হতে) আগত খেজুর বাগান/ফার্মগেট অভিমুখী যানবাহনসমূহ আড়ং ক্রসিংয়ে ডান দিকে মোড় না নিয়ে সোজা উত্তরে গিয়ে গণভবন ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে লেক রোড-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং হয়ে চলাচল করবে।
খেজুর বাগান ক্রসিং (মানিক মিয়া এভিনিউয়ের পূর্ব প্রান্ত) এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হতে ইন্দিরা রোড হয়ে আগত ধানমন্ডিগামী যানবাহনসমূহ খেজুর বাগান ক্রসিংয়ে সোজা মানিক মিয়া এভিনিউয়ে না গিয়ে ডানে মোড় নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিংয়ে বামে মোড় নিয়ে লেক রোড হয়ে গণভবন ক্রসিংয়ে বামে মোড় নিয়ে মিরপুর রোড হয়ে সোজা দক্ষিণে ধানমন্ডির দিকে যাবে।
তবে, অনুষ্ঠান চলাকালীন যানজট/দুর্ভোগ এড়াতে এলিভেটেড এক্সপ্রেসওয়ে হতে ধানমন্ডি/মোহাম্মদপুরগামী যানবাহনসমূহকে ফার্মগেট এক্সিট র্যাম্প ব্যবহারের পরিবর্তে এফডিসি (হাতিরঝিল) র্যাম্প ব্যবহারের জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
ফার্মগেইট ক্রসিং: ফার্মগেট হতে খেজুর বাগান/মানিক মিয়া এভিনিউ/মিরপুর অভিমুখী যানবাহনসমূহ ফার্মগেট থেকে বামে মোড় না নিয়ে সোজা বিজয় সরণী গিয়ে বামে মোড় নিয়ে উড়োজাহাজ ক্রসিং/লেক রোড হয়ে চলাচল করবে।
গণভবন ক্রসিং: মিরপুর রোড হয়ে উত্তর দিক থেকে আগত ফার্মগেট/সোনারগাঁও অভিমুখী যানবাহনসমূহ গণভবন ক্রসিংয়ে সোজা দক্ষিণ দিকে যাওয়ার পরিবর্তে বামে মোড় নিয়ে লেকরোড-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে ফার্মগেট এর দিকে গমন করবে।
এছাড়া মোহাম্মদপুর থেকে আসাদগেইট হয়ে খেজুর বাগান/ফার্মগেট অভিমুখী যানবাহনসমূহ আসাদগেইট ক্রসিংয়ে ডানে মোড় না নিয়ে বামে মোড় নিয়ে গণভবন ক্রসিংয়ে ডানে মোড় নিয়ে লেক রোড-উড়োজাহাজ ক্রসিং-বিজয় সরণি ক্রসিং হয়ে চলাচল করবে।
আগারগাঁও হতে শিশু মেলা পর্যন্ত সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সড়ক এর ব্যবহার : মানিক মিয়া এভিনিউ হয়ে চলাচলকারী যানবাহনসমূহকে আগামীকাল আগারগাঁও হতে শিশু মেলা পর্যন্ত সৈয়দ মাহবুব মোর্শেদ সড়ক ব্যবহার করে চলাচল করতে অনুরোধ করেছে ডিএমপি।
পার্কিং সংক্রান্ত নির্দেশনা: আগামীকাল অনুষ্ঠানে নিজস্ব/ভাড়াকৃত যানবাহনসহ আগত দর্শনার্থীদের যানবাহনসমূহ আগারগাঁও পুরাতন বাণিজ্য মেলার মাঠে পার্কিং করার জন্য অনুরোধ করা হয়েছে।
সকল যানবাহন চালকদের আগামী ৫ আগস্ট যানজট এড়ানোর লক্ষ্যে জাতীয় সংসদ ভবন এলাকা ও মানিক মিয়া এভিনিউয়ের নিকটবর্তী সড়কসমূহ এড়িয়ে উল্লিখিত নির্দেশনা অনুযায়ী চলাচলের জন্য বিশেষভাবে অনুরোধ করা হয়েছে।
৪৫০ দিন আগে