বাংলাদেশ
মঈন খানকে দেখতে এভারকেয়ার হাসপাতালে রাষ্ট্রপতি
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খানকে দেখতে আজ শুক্রবার সকালে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে গেছেন রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর।
বঙ্গভবন সূত্রে জানা গেছে, পরিদর্শনের সময় রাষ্ট্রপতি মন্ত্রীর শারীরিক অবস্থা ও চিকিৎসার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত আরোগ্য কামনা করেন।
ক্যার্ডিওলজিস্ট অধ্যাপক ড. শাহাবুদ্দিন তালুকদারসহ হাসপাতালের অন্যান্য চিকিৎসকেরা রাষ্ট্রপতিকে মঈন খানের বর্তমান শারীরিক পরিস্থিতি সম্পর্কে অবহিত করেন।
এ সময় মন্ত্রীর স্ত্রী অ্যাডভোকেট রোকসানা খন্দকার উপস্থিত ছিলেন।
শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগজনিত জটিলতা নিয়ে গত বুধবার রাতে এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন মঈন খান। বর্তমানে তিনি নিবিড় পর্যবেক্ষণে রয়েছেন।
৫ দিন আগে
ওয়াশিংটনভিত্তিক এসএএফএনের সম্মানসূচক সিনিয়র ফেলো হলেন মুশফিকুল ফজল আনসারী
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান সাউথ এশিয়া ফোরসাইট নেটওয়ার্কের (এসএএফএন) সম্মানসূচক সিনিয়র ফেলো নিযুক্ত হয়েছেন বাংলাদেশের কূটনীতিক, সাংবাদিক ও মানবাধিকারকর্মী রাষ্ট্রদূত মুশফিকুল ফজল আনসারী।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) প্রতিষ্ঠানটির এক ঘোষণায় এ তথ্য জানানো হয়।
দ্য মিলেনিয়াম প্রজেক্টের অধীনে পরিচালিত এসএএফএন দক্ষিণ এশিয়ার ভবিষ্যৎ চ্যালেঞ্জ, ভূরাজনীতি ও নীতিনির্ধারণের বিভিন্ন বিষয় নিয়ে গবেষণা ও সংলাপের আয়োজন করে।
এসএএফএনের নির্বাহী পরিচালক আসাঙ্গা আবেগুনাসেকেরা স্বাক্ষরিত নিয়োগপত্রে সরকারি দায়িত্ব, গণমাধ্যম ও কূটনীতিতে আনসারীর অভিজ্ঞতার গুরুত্ব তুলে ধরা হয়। এতে বলা হয়, তার অভিজ্ঞতা ওয়াশিংটনে প্রতিষ্ঠানটির আলোচনা ও বিভিন্ন মহলের সঙ্গে সম্পৃক্ততা বাড়াতে ভূমিকা রাখবে। পাশাপাশি বাংলাদেশের গবেষক ও বৃহত্তর পাঠকসমাজও তার চিন্তা ও বিশ্লেষণ থেকে উপকৃত হতে পারবে।
নতুন ভূমিকায় আনসারী নীতিবিষয়ক সংলাপ ও গবেষণায় অবদান রাখবেন। ওয়াশিংটনে এসএএফএনের যোগাযোগ ও অংশগ্রহণ সম্প্রসারণের পাশাপাশি বাংলাদেশে নেটওয়ার্কটির গবেষণা ও অন্যান্য কার্যক্রম এগিয়ে নিতেও সহযোগিতা করবেন।
জনসেবা, আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ও গণমাধ্যমে দুই দশকের বেশি অভিজ্ঞতাসম্পন্ন মুশফিকুল ফজল আনসারী বর্তমানে রাষ্ট্রদূত হিসেবে সিনিয়র সচিব পদমর্যাদায় বাংলাদেশের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে সংযুক্ত রয়েছেন। এর আগে, তিনি মেক্সিকোতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন। একইসঙ্গে কোস্টারিকা, গুয়াতেমালা, ইকুয়েডর ও হন্ডুরাসে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে সমবর্তী দায়িত্বে ছিলেন।
কূটনৈতিক দায়িত্ব গ্রহণের আগে তিনি ওয়াশিংটনভিত্তিক মানবাধিকার সংগঠন রাইট টু ফ্রিডমের সহপ্রতিষ্ঠাতা ও নির্বাহী পরিচালক এবং সাউথ এশিয়া পারসপেক্টিভসের নির্বাহী সম্পাদক হিসেবে কাজ করেন। এ ছাড়া হোয়াইট হাউস ও জাতিসংঘের স্থায়ী সংবাদদাতা হিসেবে কাজ করেছেন। সংবাদদাতা হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের নীতিনির্ধারণী মহলে সাংবাদিকতার অভিজ্ঞতা রয়েছে তার।
প্রতিষ্ঠানটির উল্লেখযোগ্য অন্য সিনিয়র ফেলোদের মধ্যে রয়েছেন জাতিসংঘ পরিবেশ কর্মসূচির সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও নরওয়ের সাবেক পরিবেশমন্ত্রী রাষ্ট্রদূত এরিক সোলহেইম, থাইল্যান্ডের অর্থনীতিবিদ ও সাবেক সংসদ সদস্য অধ্যাপক ড. ক্রিয়েংসাক চারোয়েনওংসাক; শ্রীলঙ্কার সাবেক বিমানবাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল গগন বুলাথসিংহলা; দিল্লি বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. রীনা মারওয়াহ; পাকিস্তানের প্রতিরক্ষা ও কৌশলগত অধ্যয়নবিষয়ক গবেষক ড. সালমা মালিক; চীনের ঝেজিয়াং বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ঝৌ ঝাংগুই; মালদ্বীপের কূটনীতিক ওমর আবদুল রাজ্জাক এবং জলবায়ু ও আন্তঃসীমান্ত নদীবিষয়ক গবেষক ড. উত্তম কুমার সিনহা।
এসএএফএনের বাংলাদেশ চ্যাপ্টারের পরিচালক হিসেবে রয়েছেন যথাক্রমে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব পিস অ্যান্ড সিকিউরিটি স্টাডিজের প্রেসিডেন্ট মেজর জেনারেল (অব.) এ এন এম মুনীরুজ্জামান।
৫ দিন আগে
স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢামেকে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী দীপু মনি
কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে স্বাস্থ্য পরীক্ষার জন্য ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে সাবেক শিক্ষামন্ত্রী ও আওয়ামী লীগের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডা. দীপু মনিকে। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে আবার কেন্দ্রীয় কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) দুপুর পৌনে ১২টার দিকে অপরাধ তদন্ত বিভাগের (সিআইডি) একটি দল তাকে কেন্দ্রীয় কারাগার থেকে ঢামেক হাসপাতালে নিয়ে আসে। পরে প্রয়োজনীয় মেডিকেল চেকআপ ও প্রাথমিক স্বাস্থ্য পরীক্ষা শেষে দুপুর সোয়া ১২টার দিকে পুলিশি পাহারায় তাকে কারাগারে ফিরিয়ে নেওয়া হয়।
ডিবি পুলিশের পরিদর্শক নাসির উদ্দিন সরকার জানান, দীপু মনিকে প্রাথমিক মেডিকেল পরীক্ষার জন্য ঢামেক হাসপাতালে আনা হয়েছিল। প্রয়োজনীয় পরীক্ষা-নিরীক্ষা শেষে তাকে আবার কেন্দ্রীয় কারাগারে পাঠানো হয়েছে।
৫ দিন আগে
সৌদি আরবে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি কারাগারে বন্দি রয়েছেন: শামা ওবায়েদ
সৌদি আরবে প্রায় সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি কারাগারে বন্দি রয়েছেন বলে জানিয়েছেন পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদ ইসলাম।
শুক্রবার (২৩ অক্টোবর) সৌদি আরবের রিয়াদের কিং খালিদ আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে হুতিদের ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় নিহত বাংলাদেশি কর্মী মো. শাহেদ আহমেদ আশিকের মরদেহ ঢাকার হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে স্বজনদের কাছে হস্তান্তরের পর তিনি এসব কথা বলেন।
পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন অভিযোগে সৌদি আরবের বিভিন্ন কারাগারে আনুমানিক সাড়ে ৭ হাজার বাংলাদেশি বন্দি রয়েছেন। সম্প্রতি মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই বাংলাদেশির নাম এই তালিকায় ছিল কি না, আমরা তা যাচাই করে দেখছি।
তিনি আরও বলেন, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের বিষয়ে আমরা বিস্তারিত কোনো তথ্য পাইনি। রায়ের অনুলিপি দেওয়ার জন্য আমরা আনুষ্ঠানিকভাবে সৌদি কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ জানিয়েছি। অনুলিপি পেলে আমরা বিস্তারিত জানতে পারব।
প্রবাসীদের বিভিন্ন সমস্যা সমাধানে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় একা কাজ করে না উল্লেখ করে শামা ওবায়েদ বলেন, আইনি প্রক্রিয়াগুলো পরিচালনায় প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয় এবং স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ও যুক্ত থাকে।
তিনি আরও বলেন, যখনই আমরা জানতে পারি কোনো বাংলাদেশি সৌদি আরবে দণ্ডপ্রাপ্ত হয়েছেন, তখনই আমরা কূটনৈতিক আলোচনার মাধ্যমে সাজা কমানো বা ক্ষমা চাওয়ার কোনো সুযোগ আছে কি না, তা নিয়ে সৌদি কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করি।
অন্য দেশের বিচার ব্যবস্থার প্রতি সম্মান প্রদর্শন করেই সরকার নিজের নাগরিকদের সুরক্ষা দিতে সর্বোচ্চ চেষ্টা চালায় বলে জানান পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী।
তিনি বলেন, আমরা অবশ্যই অন্য কোনো দেশের বিচার ব্যবস্থায় হস্তক্ষেপ করব না, তবে এমন ঘটনার খবর পেলেই সরকার নিজের নাগরিকদের রক্ষায় সাধ্যমতো চেষ্টা করে।
শামা ওবায়েদ আরও বলেন, মূল সমস্যা হলো, যে দুই বাংলাদেশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে, তাদের দণ্ডাদেশের বিষয়টি আমাদের জানানো হয়নি।
সম্প্রতি সৌদি আরবে নজরুল ইসলাম আব্দুল বশির ও সুইটি আক্তার নামে দুই বাংলাদেশি নাগরিকের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়।
জেদ্দায় বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শ্রম কল্যাণ উইং থেকে গত ১৮ অক্টোবর প্রবাসী কল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়ে পাঠানো এক গোপন নথির তথ্য অনুযায়ী, তারা বিভিন্ন অভিযোগে ২০২৩ সালের আগস্ট থেকে দেশটিতে আটক ছিলেন।
নথিতে বলা হয়, মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের আগে বা পরে কোনো সময়ই সৌদি কর্তৃপক্ষ বাংলাদেশ দূতাবাস বা কনস্যুলেটকে আনুষ্ঠানিকভাবে কিছুই জানায়নি।
গত ১৪ অক্টোবর প্রকাশিত সৌদি স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের একটি বক্তব্যের বরাত দিয়ে দেশটির স্থানীয় গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদন থেকে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের এই তথ্যটি জানা যায়।
গণমাধ্যমের প্রতিবেদনে বলা হয়, মক্কার একটি মসজিদে ‘অশালীন কাজের’ অভিযোগে মক্কা অঞ্চলে তাদের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।
৫ দিন আগে
কুমিল্লায় অপ্রতীম হত্যা: আদালতে মামলার চার্জশিট দাখিল
কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের বাংলা বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. নাহিদা বেগমের ছেলে ইশায়াত শাহরিয়ার অপ্রতীম (১৩) হত্যা মামলায় ৪ জনের বিরুদ্ধে আদালতে চার্জশিট দাখিল করেছে পুলিশ।
বুধবার (২০ অক্টোবর) এ চার্জশিট দাখিল করা হয়। গতকাল (বৃহস্পতিবার) সকালে বিষয়টি নিশ্চিত করেন জেলার অতিরিক্ত পুলিশ সুপার লুৎফর রহমান।
এ ঘটনায় সাইফুল ইসলাম তুহিন, মোজাফ্ফর হোসেন ফাহাদ ও কামরুল হাসানকে সরাসরি অভিযুক্ত করা হয়েছে। এছাড়া সিয়াম পরিকল্পনায় জড়িত ছিল বলে চার্জশীটে উল্লেখ করা হয়।
চার্জশিটে আরও উল্লেখ করা হয়, মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নিতে বাধা দেওয়ায় অপ্রতীমকে বাঁশের লাঠি দিয়ে মাথায় আঘাত করে হত্যা করা হয়েছে।
পুলিশের তদন্তে বলা হয়েছে, গত ১৮ সেপ্টেম্বর বিকেলে অপ্রতীমকে সঙ্গে নিয়ে লালমাই পাহাড়-সংলগ্ন সানন্দা এলাকার পাহাড়ঘেরা নির্জন বনে যায় তুহিন। সেখানে অপ্রতীমের মোবাইল ফোন ছিনিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করলে সে বাধা দেয়। এ নিয়ে অপ্রতীমের সঙ্গে তাদের ধস্তাধস্তি হয়। একপর্যায়ে প্রথমে তুহিন এবং পরে ফাহাদ ও কামরুল বাঁশের লাঠি দিয়ে তার মাথায় আঘাত করে। এতে অপ্রতীমের মৃত্যু হয় বলে তদন্তে উঠে এসেছে।
তদন্তের তথ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মরদেহ উদ্ধারের পর আশপাশের এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ পর্যালোচনা করে তার সঙ্গে থাকা তুহিনকে শনাক্ত করা হয়। পরে তাকে হেফাজতে নিয়ে জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়। তুহিনের দেওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ফাহাদ ও কামরুলকে আটক করা হয়। তুহিনের বাসায় অভিযান চালিয়ে অপ্রতীমের ব্যবহৃত মোবাইল ফোনও উদ্ধার করা হয়।
পুলিশের ভাষ্য অনুযায়ী, অপ্রতীমের মৃত্যু নিশ্চিত হওয়ার পর তার মোবাইল ফোন নিয়ে তুহিন, ফাহাদ ও কামরুল ঘটনাস্থল থেকে পালিয়ে যায়।
অপ্রতীম কুমিল্লার বর্ডার গার্ড পাবলিক স্কুলের সপ্তম শ্রেণির শিক্ষার্থী ছিল। তার বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার মোবাইল ফোন ব্যবসার সঙ্গে জড়িত।
মামলার বাদী অপ্রতীমের বাবা কে এম ফিরোজ শাহরিয়ার বলেন, ‘গতকাল রাত সাড়ে ১২টার দিকে তদন্তকারী কর্মকর্তা কল করে জানান, আদালতে অভিযোগপত্র জমা দিয়েছেন। ছেলেকে ঘিরেই বাঁচার স্বপ্ন ছিল। সেই স্বপ্ন খুনিরা কেড়ে নিয়েছে। খুনিদের দ্রুত বিচার চাই। আদালতে দ্রুত সময়ের মধ্যে খুনিদের সর্বোচ্চ সাজা হবে সেই আশা করছি। বয়সের ফাঁরাকে যেন আসামিরা বেরিয়ে যেতে না পারে।’
৫ দিন আগে
মোংলা বন্দর, সুন্দরবন ও প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল পরিদর্শন প্রধানমন্ত্রীর
দেশের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল সফরে মোংলা বন্দর, সুন্দরবন ও বাগেরহাটে প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গা পরিদর্শন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তার এ সফরকে ঘিরে নতুন বিনিয়োগ, অবকাঠামো উন্নয়ন ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির আশা করছেন স্থানীয় বাসিন্দা ও ব্যবসায়ীরা।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) সকাল ৯টার দিকে হেলিকপ্টারে ঢাকা ছাড়েন প্রধানমন্ত্রী। দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে পৌঁছে তিনি বিশ্বের বৃহত্তম ম্যানগ্রোভ বন সুন্দরবনের হিরণ পয়েন্টসহ বিভিন্ন এলাকা আকাশপথে ঘুরে দেখেন।
পরে সকাল সাড়ে ১০টার দিকে হেলিকপ্টারটি খুলনার দাকোপ উপজেলার নলিয়ান মাধ্যমিক বিদ্যালয় মাঠে অবতরণ করে। এরপর নৌপথে বানৌজা মোংলা জেটিতে যান প্রধানমন্ত্রী। সেখানে ওয়ার্ডরুমে নৌবাহিনী, বন্দর কর্তৃপক্ষ ও স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেন তিনি।
বৈঠকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তনবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী শেখ ফরিদুল ইসলাম, হুইপ রকিবুল ইসলাম, খুলনা বিভাগীয় কমিশনার মো. আবদুল্লাহ হারুন, মোংলা বন্দর কর্তৃপক্ষের চেয়ারম্যান রিয়ার অ্যাডমিরাল আরিফ আহমেদ মোস্তফা, বাগেরহাট জেলা প্রশাসক গোলাম মো. বাতেন, পুলিশ সুপার মো. জামিরুল ইসলাম এবং নৌবাহিনী ও কোস্ট গার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
বৈঠক ও মধ্যাহ্নভোজ শেষে তারেক রহমান বন্দরের জেটি ও কার্যক্রম পরিদর্শন করেন। পরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষের (বেজা) প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলের জায়গা পরিদর্শন করেন তিনি।
কর্মসূচি শেষে বিকেল ৫টার দিকে হেলিকপ্টারে মোংলা থেকে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন প্রধানমন্ত্রী।
প্রধানমন্ত্রীর সফর নির্বিঘ্ন করতে সুন্দরবন, দাকোপ ও মোংলা এলাকায় নিরাপত্তা জোরদারের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী ও নিরাপত্তা সংস্থার সদস্যদের মোতায়েন করা হয়।
সফরকালে স্থানীয় বাসিন্দারা প্রধানমন্ত্রীকে স্বাগত জানাতে জড়ো হন। তাদের আশা, প্রধানমন্ত্রীর এ সফরের ফলে উন্নয়ন নিয়ে দীর্ঘদিনের চাহিদার দিকে সরকার নতুন করে নজর দেবে।
এছাড়া মোংলা বন্দর ও আশপাশের শিল্পাঞ্চলের দীর্ঘদিনের সমস্যাগুলো সমাধানের উদ্যোগ নেওয়া হবে বলে স্থানীয় ব্যবসায়ীরা আশা প্রকাশ করেন।
ব্যবসায়ী ফিরোজ আহমেদ বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফর উন্নয়নের আশা জাগিয়েছে। এতে এ অঞ্চলের মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে।
মোংলাসহ দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চল দীর্ঘদিন ধরে অবহেলিত উল্লেখ করে আরেক ব্যবসায়ী হেমায়েত উদ্দিন বলেন, ব্যবসা সম্প্রসারণ ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির জন্য অবকাঠামো উন্নয়ন অত্যন্ত জরুরি। প্রধানমন্ত্রীর সফরে এ অঞ্চলের উন্নয়ন ত্বরান্বিত হবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।
তিনি আরও বলেন, প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চলটি মোংলার বিপুলসংখ্যক মানুষের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করবে। পাশাপাশি এলএনজি টার্মিনাল চালু হলে পুরো অঞ্চলে ব্যবসা-বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।
বিএনপি নেতা হাফিজুর রহমান তুহিন বলেন, মোংলা বন্দরের উন্নয়ন, আকরাম পয়েন্টের কাছে প্রস্তাবিত এলএনজি টার্মিনাল ও অর্থনৈতিক অঞ্চলটি আঞ্চলিক অর্থনীতিকে উল্লেখযোগ্যভাবে এগিয়ে নেবে।
তিনি জেটির সমস্যা সমাধান ও নিয়মিত খননকাজের প্রয়োজনীয়তার ওপরও জোর দেন।
মোংলা বন্দর বার্থ ও শিপ অপারেটরস অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক মো. জুলফিকার আলী বলেন, এফএসআরইউ নির্মাণ হলে জ্বালানি চাহিদা পূরণ এবং শিল্পের বিকাশে সহায়তা করবে।
বাগেরহাট চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির সভাপতি শেখ সাহেদ আলী রবি বলেন, বন্দরের চ্যানেলে নাব্যতা বজায় রাখতে নিয়মিত খননকাজ এবং বন্দর কার্যক্রম আরও দক্ষ করতে শুল্কসেবার আধুনিকায়ন জরুরি।
প্রতিমন্ত্রী ফরিদুল বলেন, মোংলা বন্দরকে কেন্দ্র করে শিল্পায়ন ও বিনিয়োগ বাড়লে উপকূলীয় অঞ্চলে কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং মানুষের জীবনযাত্রার মান উন্নত হবে। জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত মানুষরাও এর সুফল পাবেন।
প্রস্তাবিত অর্থনৈতিক অঞ্চল ও সুন্দরবনকেন্দ্রিক পর্যটনের সমন্বিত উন্নয়ন দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলকে বাণিজ্য ও বিনিয়োগের গুরুত্বপূর্ণ কেন্দ্রে পরিণত করতে সহায়তা করবে বলেও জানান তিনি।
৫ দিন আগে
মঈন খানের শারীরিক অবস্থা স্থিতিশীল: ডা. জাহিদ
শ্বাসকষ্ট ও হৃদযন্ত্রের সমস্যায় হাসপাতালে ভর্তি স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খানের অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) বিকেলে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে তাকে দেখতে গিয়ে এ তথ্য জানান বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
ডা. জাহিদ বলেন, ‘শ্বাসকষ্ট ও হৃদরোগের সমস্য নিয়ে অসুস্থ হয়ে গতকাল (বুধবার) উনি ভর্তি হয়েছিলেন। চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষনে তার চিকিৎসা চলছে। গতকালের চেয়ে আজকে তার অবস্থা স্থিতিশীল আছে।’
তিনি আরও জানান, এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক ডা. আতিকুর রহমান, ডা. জিয়াউল হক ও ডা. জাফর ইকবালের তত্ত্বাবধানে মঈন খানের চিকিৎসা চলছে।
পরে সন্ধ্যায় বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীও মঈন খানকে দেখতে হাসপাতালে যান। এ সময় চিকিৎসকরা তাকে মঈন খানের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানান।
এর আগে বুধবার রাতে বুকে ব্যথা ও কাশি নিয়ে মঈন খান এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি হন।
তার দ্রুত সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছে পরিবার।
৬ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরের আগে দেশে ফিরলেন রাষ্ট্রদূত
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্ধারিত জাপান সফরের আগে ঢাকায় ফিরেছেন সে দেশে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মো. দাউদ আলী।
অন্যদিকে ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর পর্যন্ত প্রধানমন্ত্রীর সফরের প্রস্তুতি সমন্বয় করতে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের সচিব (পূর্ব ও পশ্চিম) ড. মু. নজরুল ইসলামকে টোকিওতে পাঠানো হয়েছে।
ড. নজরুল টোকিওতে বাংলাদেশ দূতাবাসের কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন বলে একটি কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে। আর রাষ্ট্রদূত দাউদ আলী বর্তমানে ঢাকায় অবস্থান করছেন।
এ পদক্ষেপকে অস্বাভাবিক বলে মনে করা হচ্ছে। এ সিদ্ধান্তের পেছনের কারণ স্বাধীনভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে আপাতদৃষ্টিতে প্রধানমন্ত্রীর জাপান সফরসংশ্লিষ্ট কার্যক্রম থেকে দাউদ আলী দূরে থাকছেন।
২০২৪ সালের ১২ ডিসেম্বর জাপানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণ করেন দাউদ আলী। এর আগে তিনি রোমানিয়ায় বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের কনস্যুলার ও ওয়েলফেয়ার অনুবিভাগের মহাপরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি।
বাংলাদেশ সিভিল সার্ভিসের (বিসিএস) পররাষ্ট্র ক্যাডারের ১৫তম ব্যাচের কর্মকর্তা দাউদ আলী কূটনৈতিক জীবনে টোকিও, প্রিটোরিয়া ও লন্ডনে অবস্থিত বাংলাদেশ মিশনে নানা দায়িত্ব পালন করেছেন।
পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চীনের কুনমিংয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেটে কনসাল জেনারেল হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। এছাড়া মন্ত্রণালয়ের সদর দপ্তরে বিভিন্ন অনুবিভাগে একাধিক পদে কাজ তিনি করেছেন।
দাউদ আলী রাজশাহী বিশ্ববিদ্যালয় থেকে ফলিত গণিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেছেন।
৬ দিন আগে
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৪ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৫১২
দেশে আজ বৃহস্পতিবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৫১২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২২ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এ মৃত্যুর পর চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৮ জনে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, নতুন মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে একজন করে মারা গেছে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকার মধ্যে ময়মনসিংহ বিভাগে দুজন মারা গেছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ১৮ হাজার ৫০২ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ১ লাখ ১২ হাজার ১১১ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
৬ দিন আগে
বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি মঈন খান
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী এবং বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. আব্দুল মঈন খান তীব্র বুকে ব্যথা নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন।
বিএনপির মিডিয়া সেলের তথ্য অনুযায়ী, বুধবার (২১ অক্টোবর) রাতে তাকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে নেওয়া হয়। পরে তাকে হাসপাতালের করোনারি কেয়ার ইউনিটে (সিসিইউ) স্থানান্তর করা হয়।
এদিকে বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সমাজকল্যাণমন্ত্রী অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বৃহস্পতিবার হাসপাতালে মঈন খানকে দেখতে যান।
এ সময় তিনি চিকিৎসকদের কাছ থেকে মঈন খানের শারীরিক অবস্থার সার্বিক খোঁজখবর নেন।
তিনি মঈন খানের দ্রুত সুস্থতা ও সুস্বাস্থ্য কামনা করে দোয়া করেন।
৬ দিন আগে