বাংলাদেশ
কোস্টগার্ডের জনবল দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেছেন, দেশের উপকূলীয় ও নদীমাতৃক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জনবল বর্তমান ৫ হাজার থেকে ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে কোস্টগার্ড সদরদপ্তরে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের ৩১তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী (রেইজিং ডে) উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠান শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি এসব কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, নদীমাতৃক বাংলাদেশের বিশাল জলসীমা ও উপকূলীয় অঞ্চলের নিরাপত্তা রক্ষায় কোস্টগার্ডের ভূমিকা অপরিসীম। ১৯৯৫ সালে তৎকালীন সরকার প্রধান বেগম খালেদা জিয়ার হাত ধরে যে ‘কোস্টগার্ড আইন’ প্রণীত হয়েছিল, তার মাধ্যমেই এই বাহিনীর যাত্রা শুরু।
তিনি বলেন, বর্তমানে দেশের দুর্গম হাওর অঞ্চল এবং সুন্দরবনসহ ম্যানগ্রোভ বনাঞ্চলেও কোস্টগার্ডের কার্যক্রম বিস্তৃত করার পরিকল্পনা রয়েছে। বিশেষ করে যেখানে দুর্গমতার কারণে অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পৌঁছানো কঠিন, সেখানে কোস্টগার্ডকে আরও শক্তিশালী ভূমিকা রাখতে হবে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের উপকূলীয় ও নদীমাতৃক অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশ কোস্টগার্ডের জনবল বর্তমান ৫ হাজার থেকে ১০ হাজারে উন্নীত করার নীতিগত সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। সেই সঙ্গে এই বাহিনীকে অত্যাধুনিক লজিস্টিক সরঞ্জাম, উন্নত প্রশিক্ষণ এবং প্রয়োজনীয় সুযোগ-সুবিধা দিয়ে আরও সমৃদ্ধ করা হবে।
সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, বর্তমান যুগে অপরাধীদের কৌশল ও প্রযুক্তিগত সক্ষমতা বেড়েছে। দুর্বৃত্তরা এখন ডিজিটাল প্রযুক্তি ব্যবহার করে তাদের কর্মকাণ্ড পরিচালনা করছে। তাদের মোকাবিলায় কোস্টগার্ডকেও সমভাবে প্রযুক্তিগতভাবে দক্ষ ও আধুনিক সম্পদে সজ্জিত হতে হবে। এজন্য বাজেটে প্রয়োজনীয় বরাদ্দ বৃদ্ধি এবং বাহিনীর কাঠামোগত সংস্কারের কাজ হাতে নেওয়া হবে।
ব্রিফিংয়ে সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে যদি শৃঙ্খলা-পরিপন্থী বা নেতিবাচক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ ওঠে, তবে বাহিনীর নিজস্ব ইন্টেলিজেন্স উইংয়ের মাধ্যমে তা খতিয়ে দেখা হয় এবং প্রচলিত সামরিক বা বিভাগীয় আইনে ব্যবস্থা নেওয়া হয়। এটি একটি নিয়মিত প্রক্রিয়া।
দেশে জঙ্গি তৎপরতা-সংক্রান্ত এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বর্তমানে বাংলাদেশে জঙ্গিবাদের কোনো অস্তিত্ব নেই। বিগত ফ্যাসিবাদী সরকার রাজনৈতিক স্বার্থ হাসিলে এই শব্দটিকে হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করত। কিছু উগ্রবাদী বা র্যাডিক্যাল গ্রুপ সব দেশেই থাকে, তবে তা নিয়ন্ত্রণে সরকার সতর্ক রয়েছে।
সাংবাদিকদের অপর এক প্রশ্নের জবাবে সালহউদ্দিন আহমদ বলেন, ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন করা সেনাসদস্যদের পর্যায়ক্রমে ব্যারাকে ফিরিয়ে নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, আমরা ধাপে ধাপে প্রত্যাহারের মধ্যে আছি। হঠাৎ পুরো ফোর্সকে প্রত্যাহার করা যায় না।
মন্ত্রী বলেন, খুব শিগগিরই ‘ইন এইড টু সিভিল পাওয়ার’-এর আওতায় মোতায়েন করা সেনাসদস্যের সংখ্যা খুব সীমিত পর্যায়ে নিয়ে আসা হবে। তিনি আরও জানান, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা বা কেপিআইয়ের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে এসওপি অনুযায়ী প্রয়োজনীয় সতর্কতামূলক ব্যবস্থা সবসময় বহাল থাকবে।
সংবাদ ব্রিফিংয়ে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও কোস্টগার্ডের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
মমেক হাসপাতালে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও তিন শিশুর মৃত্যু
হামের উপসর্গ নিয়ে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ (মমেক) হাসপাতালের আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত ২৪ ঘণ্টায় আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এ নিয়ে এই হাসপাতালে মোট ২০ শিশুর মৃত্যু হলো।
এছাড়া গত ২৪ ঘণ্টায় নতুন করে আরও ৩২ শিশু ভর্তি হয়েছে। বর্তমানে সেখানে চিকিৎসাধীন রয়েছে মোট ৭৪ শিশু। আইসোলেশন ওয়ার্ডে শয্যা সংকট থাকায় রোগীরা হাসপাতালের মেঝেতে ও বারান্দায় স্থান নিয়েছে।
হাসপাতালের হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডের ফোকাল পারসন সহযোগী অধ্যাপক ডা. মোহা. গোলাম মাওলা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি বলেন, হাসপাতালে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে গত চব্বিশ ঘণ্টায় আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তাদের বয়স যথাক্রমে ৭ মাস, ৫ মাস ও ৪ মাস।
তিনি জানান, গত ২২ এপ্রিল ময়মনসিংহের গৌরীপুর উপজেলা থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে ৭ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। তাকে যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। এরই মধ্যে সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় শিশুটি মারা যায়।
গত ২৩ এপ্রিল জামালপুরের মাদারগঞ্জ থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে চার মাস বয়সী এক মেয়ে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। চিকিৎসাধীন অবস্থায় সোমবার (২৭ এপ্রিল) বিকালে হাম-পরবর্তী স্বাস্থ্য জটিলতায় তারও মৃত্যু হয়।
এছাড়া গত ২০ এপ্রিল নেত্রকোনার দুর্গাপুর থেকে হামের লক্ষণ নিয়ে পাঁচ মাস বয়সী এক ছেলে শিশুকে হাসপাতালে ভর্তি হয়। তাকেও যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছিল। হাম-পরবর্তী নিউমোনিয়া ও শ্বাসপ্রশ্বাসজনিত ব্যর্থতায় তাকেও বাঁচানো সম্ভব হয়নি। সোমবার (২৭ এপ্রিল) রাতে মৃত্যু হয় তার।
ডা. গোলাম মাওলা আরও জানান, গত ১৭ মার্চ থেকে রবিবার (২৬ এপ্রিল) সকাল ৯টা পর্যন্ত হামের লক্ষণ নিয়ে মোট ৯২৫ শিশু ভর্তি হয়েছে। এর মধ্যে ৮৩১ শিশু সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে এবং ১৭ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৩৬ শিশু সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরেছে।
তিনি বলেন, সর্বনিম্ন ৩ মাস থেকে ১০ বছর বয়সী রোগী হাসপাতালে ভর্তি আছে। তবে ৩ মাস থেকে ১ বছর বয়সী শিশুর সংখ্যাই বেশি।
এ বিষয়ে মমেক হাসপাতালের সহকারী পরিচালক (প্রশাসন) ডা. মোহাম্মদ মাইনউদ্দিন খান বলেন, তিনটি মেডিকেল টিম গঠন করে হাম আইসোলেশন ওয়ার্ডে চিকিৎসা কার্যক্রম পরিচালনা করা হচ্ছে। সব রোগীদের যথাযথ চিকিৎসাসেবা দেওয়া হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, এই হাসপাতালে লোকবল ও যন্ত্রপাতির অভাবে শিশুদের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র (আইসিইউ) এখনও চালু করা সম্ভব হয়নি । তবে বর্তমানে বাবল সিপ্যাপের মাধ্যমে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে।
৭ দিন আগে
বিমানবন্দরের নিরাপত্তা জোরদারে ব্যাপক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোর নিরাপত্তা আরও জোরদার করতে সরকার ব্যাপক ও সমন্বিত উদ্যোগ গ্রহণ করেছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সংসদে নোয়াখালী-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সরকারি দলের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ ফখরুল ইসলামের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, দেশের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরগুলোতে ইতোমধ্যে সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়েছে। তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও উন্নত করতে বাংলাদেশ পুলিশ বেশ কিছু পরিকল্পনা গ্রহণ করে বাস্তবায়ন করছে।
তিনি জানান, প্রবেশ ও বহির্গমন পথসহ অন্যান্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্টে চেকপোস্ট স্থাপন করা হয়েছে এবং বিমানবন্দর এলাকায় পুলিশের টহল জোরদার করা হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, কার্যকর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে একটি বহু স্তরবিশিষ্ট নিরাপত্তা ব্যবস্থা চালু করা হয়েছে এবং যেকোনো নাশকতা প্রতিরোধে গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা এবং বিমানবন্দর কর্তৃপক্ষের মধ্যে সমন্বয় এবং তথ্য আদান-প্রদানের মাধ্যমে নিরাপত্তা সেবা শক্তিশালী করা হচ্ছে।
নজরদারি ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করে সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, চুরি ও ছিনতাই রোধে পুলিশের নজরদারি বাড়ানো হয়েছে, গুরুত্বপূর্ণ স্থানে সিসিটিভি ক্যামেরা স্থাপন করা হয়েছে এবং সার্বিক নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তি ব্যবহার করা হচ্ছে।
আধুনিক যন্ত্রপাতি ও উন্নত প্রযুক্তির ব্যবহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, বিমানবন্দরে যাতে কোনো নিষিদ্ধ বস্তু প্রবেশ করতে না পারে, সেজন্য স্ক্যানিং ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করা হয়েছে।
মন্ত্রী আরও জানান, সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলা, সাইবার নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জরুরি পরিস্থিতি দক্ষতার সঙ্গে সামাল দিতে বিশেষ প্রশিক্ষণ কর্মসূচি পরিচালনা করা হচ্ছে।
তিনি বলেন, প্রযুক্তিনির্ভর আধুনিক ব্যাগেজ সিস্টেম চালু, ইমিগ্রেশন কাউন্টার বৃদ্ধি, উন্নত স্ক্যানিং মেশিন স্থাপন, জনবল বৃদ্ধি ও পুনর্গঠন এবং বডি ওর্ন ক্যামেরা (শরীরে পরিহিত ক্যামেরা) ব্যবহারের মাধ্যমে নিরাপত্তা ব্যবস্থা আরও জোরদার করা হয়েছে।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, যাত্রী হয়রানি বন্ধে কঠোর নজরদারি চালু করা হচ্ছে এবং যাত্রীদের সহায়তার জন্য বিমানবন্দরে হেল্প ডেস্ক স্থাপন করা হয়েছে।
৭ দিন আগে
অপতথ্যের বিরুদ্ধে শক্ত অবস্থানে যাবে সরকার: তথ্য উপদেষ্টা
গণমাধ্যমের ভুল এবং অপতথ্যের বিরুদ্ধে সরকার শক্ত অবস্থানে যাবে, অপতথ্য দিয়ে বানানো কোনো ফটোকার্ড মেনে নেওয়া হবে না বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর তথ্য ও সম্প্রচার বিষয়ক উপদেষ্টা জাহেদ উর রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে তথ্য অধিদপ্তরের সম্মেলন কক্ষে সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রমের অগ্রগতি নিয়ে সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ কথা জানান।
পানি সম্পদ মন্ত্রণালয় কার্যক্রম তুলে ধরতে গিয়ে উপদেষ্টা বলেন, ‘একটা ছোট ঘটনা আছে, এটা গত সপ্তাহেও ব্রিফিং করেছিলাম। আমি আবারও একটু বলি, প্লিজ আপনাদের কাছে অনুরোধ। আমরা এগুলো নিয়ে আসলে আস্তে আস্তে আইনি ব্যবস্থার দিকেও যাব।
‘আমি গত যে ব্রিফিং ছিল, সেখানে পুনরায় পড়ে বলেছিলাম, কর্মসূচিভুক্ত খালের সংখ্যা ১ হাজার ২৬০ কিলোমিটার, খননকৃত খালের প্রাপ্ত দৈর্ঘ্য ৫৬১ কিলোমিটার, শতকরা অগ্রগতির হার ৪৪ দশমিক ৫৫ শতাংশ। এটা যে আমাদের কর্মসূচির খালের প্রায় অর্ধেক। এ বিষয়ে একটা ফটোকার্ড তৈরি হলো, আমি নাকি বলেছি যে সারা দেশের অর্ধেক খাল খনন করা হয়ে গেছে। এটা নামগোত্রহীন কেউ না, পরিচিত জাতীয় দৈনিকের ফটোকার্ড।’
তিনি বলেন, ফ্যাক্ট চেকাররা এটাকে শনাক্ত করেছেন। এটা যে অপতথ্য সেটার সত্যতা নিশ্চিত করেছেন তারা। একটা কথা খুব গুরুত্বপূর্ণ, আমাদের এ ব্যাপারে সচেতন হওয়া জরুরি। ভুল ও অপতথ্য এ সরকার সহ্য করবে না; কারও দিক থেকেই করবে না। এটা একজন ব্যক্তির করা আর একটা প্রতিষ্ঠান করার মধ্যে গুরুতর পার্থক্য আছে।
‘একটু ব্যক্তিগত কথা বলেই ফেলি’ উল্লেখ করে জাহেদ উর রহমান বলেন, আমি খুব খারাপ মানুষ নই। আমার প্রচুর পরিচিত মানুষজনের কাছ থেকেই কার্ড পাঠিয়ে আমার কাছে জানতে চাওয়া হচ্ছে, এমনকি এমন সব কথাবার্তা আসছে যেগুলো ফেক ব্যক্তি করছেন; ফটোকার্ড বানিয়ে বলছেন, আমি নাকি বলেছি, জনগণের কল্যাণের জন্য জ্বালানি ও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। আমি এগুলো এভাবে বলিনি, কিন্তু এই যে কথাটাকে বিকৃত করা হলো, আমাকে অনেকে পাঠিয়ে পাঠিয়ে জিজ্ঞেস করছেন আমি এসব বলেছি কিনা।
তিনি সাংবাদিকদের উদ্দেশে বলেন, আমি আপনাদেরকে অনুরোধ করছি, সাংবাদিকতা সাংবাদিকতাই যেন হয়, প্লিজ!
উপদেষ্টা বলেন, আমি আগেও একদিন বলেছি, সরকারের সমালোচনা করার অনেক কিছু পাওয়া যাবে। এ দেশ এত বড়, এত জটিলতা। একটু পেছনের কথা বলতে হয় উল্লেখ করে তিনি বলেন, শেখ হাসিনা এ দেশটাকে এত বাজেভাবে রেখে গেছেন যে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা করলেও আপনি দেখবেন সমালোচনার জায়গা তৈরি হচ্ছে। কোনো কোনো ক্ষেত্রে সরকারের ব্যর্থতা আপনি পাচ্ছেন, পাবেন। প্রকৃত জিনিসগুলো নিয়ে সমালোচনা করেন, আমি সেটাকে স্বাগত জানাই।
উপদেষ্টা বলেন, আমরা এটা নিয়ে শক্ত অবস্থানে যাব। আমরা অপতথ্য দিয়ে করা ফটোকার্ড গ্রহণ করব না। আমার মনে হয়, মিডিয়ার মানুষ হিসেবে এটা আপনাদেরও চাওয়া উচিত। এ বিষয়ে আমি যথেষ্ট পরিমাণ যোগাযোগ করার চেষ্টা করছি, এর বেশি কিছু না।
জাহেদ উর রহমান বলেন, আমরা আমাদের মেয়াদের শেষ দিন পর্যন্ত মিডিয়াকে ভয় পেতে চাই। আমি চাই মিডিয়ায় আরও বেশি সরকারের সমালোচনা, যৌক্তিক সমালোচনায় প্রাণবন্ত হয়ে উঠুক। আমি জানি না কবে কোন সরকার থেকে কেউ এ ধরনের কথা বলেছে কিনা। কিন্তু প্লিজ, ভুল ও অপতথ্য ছড়াবেন না!
৭ দিন আগে
দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও জোরদারে ভুটানের আগ্রহ প্রকাশ
বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরের সঙ্গে বাংলাদেশে নিযুক্ত ভুটানের রাষ্ট্রদূত দাশো কর্মা হামু দর্জি সৌজন্য সাক্ষাৎ করেছেন।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সচিবালয়ে এ সাক্ষাৎ অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে দুই দেশের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের পাশাপাশি আঞ্চলিক সহযোগিতা জোরদারের বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা হয়। নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সৌর ও জলবিদ্যুৎ খাতে যৌথ উদ্যোগের ওপরও গুরুত্ব দেওয়া হয়।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, দক্ষিণ এশিয়ার দেশগুলোর সম্মিলিত জিডিপি প্রায় ৫৯ ট্রিলিয়ন ডলার হলেও পারস্পরিক বাণিজ্য মাত্র ১ শতাংশের কাছাকাছি, যা সম্ভাবনার তুলনায় অত্যন্ত কম। এ অবস্থায় প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে বাণিজ্যিক সম্পর্ক জোরদার অপরিহার্য।
তিনি জানান, প্রতিবেশী দেশগুলোর সঙ্গে কার্যকর অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব গড়ে তোলার মাধ্যমে আঞ্চলিক সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে চায় বাংলাদেশ।
জ্বালানি খাতে সহযোগিতা বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে মন্ত্রী বলেন, সীমান্তবর্তী এলাকায় স্বল্প দূরত্বে জলবিদ্যুৎকেন্দ্র স্থাপন পারস্পরিকভাবে লাভজনক হতে পারে।
ভুটানের রাষ্ট্রদূত খন্দকার আব্দুল মুক্তাদিরকে বাণিজ্যমন্ত্রী নিযুক্ত হওয়ায় অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, বাংলাদেশের সঙ্গে ভুটানের দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য সম্পর্ক বেশ নিবিড়। এ সম্পর্ক আরও জোরদারে তারা আগ্রহী।
তিনি আরও বলেন, বাংলাদেশের বুড়িমারি সীমান্ত থেকে ভুটানের দূরত্ব একশত কিলোমিটারের কাছাকাছি। নিকটবর্তী দেশ হওয়ায় দুই দেশের মধ্যে বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সুবিধাজনক ও লাভজনক।
তিনি জানান বাংলাদেশের মেডিকেল কলেজগুলোতে শিক্ষার্থীরা পড়তে আসেন এবং ভুটানে ফিরে সেদেশের মানুষের সেবায় নিয়োজিত হন। এতে করে দুই দেশের মধ্যে সংস্কৃতিরও বিনিময় হচ্ছে।
এ বৈঠকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (এফটিএ) আয়েশা আক্তার এবং ভুটানের মিনিস্টার কাউন্সিলর (ট্রেড) দাওয়া শেরিং উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৯ শিশুর মৃত্যু, আক্রান্ত ১৪৩৯
দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৫ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৪৩৯টি শিশু।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে ৬ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। সেই সঙ্গে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে মৃত্যু হয়েছে আরও ৩টি শিশুর।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ২২৬টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৪৭টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ২৭৩টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ১৬৩টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২৭৬। এই সময়ে ৯০৬টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৯৭৩টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৩৪ হাজার ৬৬২, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৪ হাজার ৮৫৬। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ২৩ হাজার ৩৪৮ রোগী, যাদের মধ্যে ১৯ হাজার ৯৯১ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
৭ দিন আগে
৫ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি খায়রুল হকের জামিন বহাল
জুলাই আন্দোলন চলাকালে যুবদলকর্মী হত্যা, তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতি এবং দুদকের করা পৃথক ৫ মামলায় সাবেক প্রধান বিচারপতি এ বি এম খায়রুল হককে হাইকোর্টের দেওয়া জামিন বহাল রেখেছেন আপিল বিভাগ। তবে অন্য দুই মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় আপাতত মুক্তি পাচ্ছেন না তিনি।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) জামিন স্থগিত চেয়ে করা পৃথক আবেদন খারিজ করে প্রধান বিচারপতি জুবায়ের রহমান চৌধুরীর নেতৃত্বাধীন আপিল বিভাগ এই আদেশ দেন। হাইকোর্টের জামিন আদেশের বিরুদ্ধে রাষ্ট্রপক্ষের করা আবেদন খারিজ করে আদালত এ আদেশ দেন।
আদালতে খায়রুল হকের পক্ষে শুনানি করেন জ্যেষ্ঠ আইনজীবী কামরুল হক সিদ্দিকী এবং অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু।
অ্যাডভোকেট মোতাহার হোসেন সাজু বলেন, খায়রুল হক আরও দুই মামলায় গ্রেপ্তার থাকায় এখনই কারামুক্তি পাচ্ছেন না তিনি।
এর আগে, গত ৮ মার্চ বিচারপতি মো. খায়রুল আলম ও বিচারপতি মো. সগীর হোসেনের হাইকোর্ট বেঞ্চ রুল মঞ্জুর করে তাকে চার মামলায় জামিন দেন। পরে ১১ মার্চ দুদকের মামলাতেও তিনি জামিন পান। এসব জামিন স্থগিত চেয়ে রাষ্ট্রপক্ষ আপিল বিভাগে আবেদন করেন। তবে এর মধ্যে নিম্ন আদালতে আরও দুই মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়।
গত বছরের ২৪ জুলাই রাজধানীর ধানমণ্ডির বাসা থেকে খায়রুল হককে গ্রেপ্তার করে পুলিশ। পরে জুলাই আন্দোলনের সময় ঢাকার যাত্রাবাড়ীতে যুবদলকর্মী আবদুল কাইয়ুম আহাদ হত্যা মামলায় গ্রেপ্তার দেখানো হয় তাকে।
এই মামলা ছাড়াও বিচারপতি খায়রুল হকের বিরুদ্ধে আরও চারটি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে তত্ত্বাবধায়ক সরকার-সংক্রান্ত রায় জালিয়াতির অভিযোগে গত বছরের ২৭ আগস্ট শাহবাগ থানায় সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী মুজাহিদুল ইসলাম শাহীন একটি মামলা করেন। ২৫ আগস্ট নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লা থানায় আরেকটি মামলা করেন জেলা আইনজীবী সমিতির সাবেক সভাপতি ও ফতুল্লা থানা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক আব্দুল বারী ভূঁইয়া। একই অভিযোগে নারায়ণগঞ্জের বন্দর থানায় ২৫ আগস্ট আরেকটি মামলা করেন নুরুল ইসলাম মোল্লা।
এর আগে, ৪ আগস্ট প্লট জালিয়াতির মাধ্যমে দুর্নীতির অভিযোগে দুদক তার বিরুদ্ধে একটি মামলা করে।
এসব মামলায় নিম্ন আদালতে জামিন নামঞ্জুর হওয়ার পর তিনি হাইকোর্টে জামিন চেয়ে আবেদন করেন। পরে হাইকোর্ট ৫ মামলায় জামিন প্রশ্নে রুল জারি করেন।
উল্লেখ্য, ২০১০ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর দেশের ১৯তম প্রধান বিচারপতি হিসেবে নিয়োগ পান খায়রুল হক। একই বছরের ৩০ সেপ্টেম্বর থেকে তার নিয়োগ কার্যকর হয়। ২০১১ সালের ১৭ মে তিনি অবসরে যান। এরপর তিনবার তিনি আইন কমিশনের চেয়ারম্যান হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন।
৭ দিন আগে
গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুসংহত করতে আইন ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই: প্রধানমন্ত্রী
গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুসংহত করতে আইন ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনও বিকল্প নেই বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) দুপুরে রাজধানীর শাহবাগে শহিদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে ‘জাতীয় আইনগত সহায়তা দিবস-২০২৬’-এর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, গণতান্ত্রিক অগ্রযাত্রা সুসংহত করতে আইন ও ন্যায়ের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনও বিকল্প নেই। ন্যায়বিচার সবার জন্য সমানভাবে প্রযোজ্য। যে দেশে আইনের শাসন ও মানবাধিকার নেই, সে দেশ কখনোই মানবিক হতে পারে না।
তিনি বলেন, দীর্ঘ দেড় দশকের ফ্যাসিবাদি শাসনের অবসানের পর বাংলাদেশের জনগণ আবারও গণতন্ত্রের পথে এগিয়ে যাচ্ছে। এই গণতান্ত্রিক যাত্রাকে শক্তিশালী করতে দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠার কোনো বিকল্প নেই।
তারেক রহমান বলেন, একটি গণতান্ত্রিক দেশে কোনো নাগরিক আর্থিক সীমাবদ্ধতার কারণে আইনি প্রতিকার বা ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত হবে—এটি কাম্যও নয়, গ্রহণযোগ্যও নয়।
সংবিধানের বিধান উল্লেখ করে তিনি বলেন, সংবিধানের ২৭ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী সকল নাগরিক আইনের দৃষ্টিতে সমান এবং আইনের সমান আশ্রয় লাভের অধিকারী, যা মানবাধিকারের সর্বজনীন ঘোষণার ৭ অনুচ্ছেদের মূল চেতনারই প্রতিফলন।
প্রধানমন্ত্রী জানান, অর্থের অভাবে যাতে কেউ ন্যায়বিচার থেকে বঞ্চিত না হয়, সে লক্ষ্য নিয়ে সরকার লিগ্যাল এইড কর্মসূচি চালিয়ে যাচ্ছে। কোনও ভুক্তভোগী যেন কেবল আর্থিক অসচ্ছলতার কারণে আইনগত সহায়তা থেকে বঞ্চিত না হন, তা নিশ্চিত করতে সরকার সর্বোচ্চ চেষ্টা অব্যাহত রাখবে।
তিনি আরও বলেন, আর্থিকভাবে অসচ্ছল জনগোষ্ঠীর জন্য ‘অ্যাক্সেস টু জাস্টিস’ নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট পরিকল্পনা গ্রহণ করেছে। ন্যায়বিচার শুধু আইনের বইয়ের মধ্যে সীমাবদ্ধ না থেকে প্রতিটি মানুষের জীবনে বাস্তব রূপ পাক, এটাই বর্তমান সরকারের প্রত্যাশা।
নিজের ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতার কথা উল্লেখ করে তারেক রহমান বলেন, রাজনৈতিক প্রতিহিংসার কারণে তিনি দীর্ঘ সময় কারাগারে কাটিয়েছেন। সেখানে তিনি দেখেছেন অনেক সুবিধাবঞ্চিত মানুষ বছরের পর বছর বিচারহীন অবস্থায় কারাগারে বন্দি রয়েছেন, শুধু আইনি সহায়তা পাওয়ার সামর্থ্য নেই বলে।
তিনি বলেন, যেকোনো রাষ্ট্র ও সমাজে অগ্রগতি ও শান্তির ভিত্তি হলো ন্যায়বিচার। প্রতিটি যুগে মানুষ একটি বৈষম্যহীন ব্যবস্থার আকাঙ্ক্ষা করেছে, যেখানে তারা মর্যাদা এবং প্রতিকারের সুযোগ নিয়ে বসবাস করতে পারে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, একটি ন্যায়বিচারভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার জন্য সাম্য, সহানুভূতি এবং পারস্পরিক বিশ্বাস অপরিহার্য। ন্যায়বিচার কেবল আদালত বা আইনের বিষয় নয়; এটি একটি মানবিক, দায়িত্বশীল ও জবাবদিহিমূলক রাষ্ট্রব্যবস্থার মূল ভিত্তি।
৭ দিন আগে
প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে রোসাটমের মহাপরিচালকের সাক্ষাৎ
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় পারমাণবিক শক্তি সংস্থা রোসাটমের মহাপরিচালক আলেক্সি লিখাচেভ প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন।
প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, মঙ্গলবার (২৮ এপ্রিল) সকাল ১০টার দিকে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর দপ্তরে এই বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে পররাষ্ট্রমন্ত্রী ড. খলিলুর রহমান, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রী ফকির মাহাবুব আনাম স্বপন এবং ডাক, টেলিযোগাযোগ ও তথ্যপ্রযুক্তি মন্ত্রণালয় বিষয়ক প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ উপস্থিত ছিলেন।
বাংলাদেশে নিযুক্ত রাশিয়ার রাষ্ট্রদূত আলেকজান্ডার জি. খোজিনও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
৭ দিন আগে
জাতিসংঘ ফোরামে তথ্যের অখণ্ডতা ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক যোগাযোগ জোরদারের আহ্বান বাংলাদেশের
তথ্যের অখণ্ডতা নিশ্চিত করা, ভ্রান্ত ও বিভ্রান্তিকর তথ্য মোকাবিলা এবং অন্তর্ভুক্তিমূলক যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার লক্ষ্যে বৈশ্বিক উদ্যোগ জোরদারের আহ্বান জানিয়েছে বাংলাদেশ।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৭ এপ্রিল) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে অনুষ্ঠিত তথ্য কমিটির ৪৮তম অধিবেশনের সাধারণ বিতর্কে জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী এ আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ভ্রান্ত তথ্য, বিভ্রান্তিকর প্রচারণা, ঘৃণামূলক বক্তব্য এবং কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মের অপব্যবহার বিশ্বজুড়ে বিভাজন বৃদ্ধি করছে এবং সমাজে পারস্পরিক আস্থা ক্ষুণ্ন করছে। এ প্রেক্ষাপটে তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তির দায়িত্বশীল ব্যবহার নিশ্চিত করা এবং আন্তঃদেশীয় ও দেশের অভ্যন্তরে বিদ্যমান ডিজিটাল বৈষম্য হ্রাস করার ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
শান্তিরক্ষা কার্যক্রমে বাংলাদেশের গুরুত্বপূর্ণ অবদান, বিশেষত নারী শান্তিরক্ষীদের ক্রমবর্ধমান অংশগ্রহণের বিষয়টি তুলে ধরে জাতিসংঘে বাংলাদেশের এ স্থায়ী প্রতিনিধি বলেন, শান্তিরক্ষা কার্যক্রমবিরোধী অপপ্রচার প্রতিহত করা, জবাবদিহিতা নিশ্চিত করা এবং পরিবেশগত দায়বদ্ধতা জোরদারে সমন্বিত ও ধারাবাহিক আন্তর্জাতিক প্রচেষ্টা অব্যাহত রাখা প্রয়োজন।
তিনি আরও উল্লেখ করেন, মিয়ানমারে রোহিঙ্গা সংকট এবং গাজায় চলমান মানবিক বিপর্যয়সহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বিভ্রান্তিমূলক তথ্য পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলছে। এ ধরনের সংকট মোকাবিলায় সঠিক তথ্য প্রচার এবং বৈশ্বিক সচেতনতা বৃদ্ধির ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
জাতিসংঘের নীতিমালা ও মূল্যবোধের ভিত্তিতে একটি শক্তিশালী, দায়িত্বশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক বৈশ্বিক যোগাযোগ ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠায় বাংলাদেশের অবিচল অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন রাষ্ট্রদূত নোমান চৌধুরী।
৭ দিন আগে