বাংলাদেশ
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৭ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৩৭৩
দেশে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও সাতজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৩৭৩ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
বুধবার (২১ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এ মৃত্যুর পর চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৬৪ জনে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, নতুন করে মারা যাওয়া সাতজনের মৃত্যুই ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনে হয়েছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ১৬ হাজার ৯৯০ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ১ লাখ ১০ হাজার ৬৫৬ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
৭ দিন আগে
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্নফাঁস মামলায় গ্রেপ্তার ১
যুব উন্নয়ন অধিদপ্তরের নিয়োগ পরীক্ষার প্রশ্ন ফাঁসের মামলায় এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশের অপরাধ তদন্ত বিভাগ (সিআইডি)।
বুধবার (২১ অক্টোবর) সিআইডির বিশেষ পুলিশ সুপার (মিডিয়া) মো. ছুফি উল্লাহ এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানান।
ছুফি উল্লাহ বলেন, গতকাল (মঙ্গলবার) রাত সাড়ে ১০টার দিকে মাদারীপুর জেলার রাজৈর থানার বদরপাশা ইউনিয়নের দুর্গাবর্দী গ্রামে অভিযান চালায় সিআইডি। এ সময় সোহাগ ফকির (৩৮) নামের এক ব্যক্তিকে গ্রেপ্তার এবং তার কাছ থেকে দুটি স্মার্টফোন জব্দ করা হয়।
সহকারী উপজেলা যুব উন্নয়ন কর্মকর্তা পদে নিয়োগ পরীক্ষাটি গত ১০ অক্টোবর অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা ছিল। কিন্তু প্রশ্নপত্র ফাঁসের অভিযোগ ওঠায় তা স্থগিত করা হয়। এরপর মতিঝিল থানায় ১১ অক্টোবর পাবলিক পরীক্ষাসমূহ (অপরাধ) আইনের ৪, ৫ ও ৯(ক) ধারায় মামলা করা হয়।
গ্রেপ্তার আসামিকে আদালতে হাজির করার জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে এবং তদন্ত অব্যাহত রয়েছে বলে জানিয়েছে সিআইডি।
৭ দিন আগে
দেশে অস্থিরতা সৃষ্টিতে আ. লীগ ও বিরোধী দল হাত মিলিয়েছে: প্রধানমন্ত্রী
আওয়ামী লীগ ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর দিকে ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার শাসকগোষ্ঠী ও দেশে বসে আরেকটি দল অস্থিরতা সৃষ্টিতে হাত মিলিয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে হাজী মুহম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ নামে পরিচিত রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে এক জনসভায় বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ অভিযোগ করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘এই দুই পক্ষ এক হয়েছে। একজন পয়সা দিচ্ছে সীমান্তের ওপার থেকে, আরেকজন এখানে বসে অস্থিরতা তৈরি করার চেষ্টা করছে।’
দেশের বিভিন্ন এলাকায় কিছু কারখানায় শ্রমিক অসন্তোষ সৃষ্টির চেষ্টা করা হয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী জানান, গোয়েন্দা প্রতিবেদনে এ ধরনের কর্মকাণ্ডে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার শাসকগোষ্ঠীর অর্থ জোগানের তথ্য পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, ‘পরিষ্কার গোয়েন্দা তথ্য আছে, পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচার সেখানে অর্থ সরবরাহ করছে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘আরও একটি দল আছে, যারা দেশে গুজব ছড়ায়। নির্বাচনের আগে মিথ্যা কথা বলে দলটি জনগণের কাছে বিভিন্ন টিকিট বিক্রির চেষ্টা করেছে। এই দুই পক্ষ এখন এক হয়েছে।’
দেশকে অস্থিতিশীল করার এসব অপচেষ্টা সম্পর্কে সবাইকে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কেউ যেন বাংলাদেশে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করতে এবং দেশের মানুষের অর্থনৈতিক অবস্থার উন্নয়ন ও ভাগ্য পরিবর্তনের প্রক্রিয়া বাধাগ্রস্ত করতে না পারে, সে বিষয়ে সবাইকে সজাগ থাকতে হবে।
জনসভার শুরুতে রাজশাহী অঞ্চলের ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির মধ্যে ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা বিতরণ কর্মসূচি উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী।
কম্পিউটারে একটি বোতাম চেপে আখচাষিদের মোবাইল হিসাবে প্রণোদনার অর্থ পাঠানোর কার্যক্রম চালু করেন তিনি। এ সময় ১৫ জন আখচাষির হাতে চেকও তুলে দেন তারেক রহমান।
দুপুর ২টা ৫০ মিনিটে সামরিক উড়োজাহাজে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছে সরাসরি জনসভাস্থলে যান প্রধানমন্ত্রী। তার আগে রংপুরে সফর করেন তিনি। সেখানে একটি মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন শেষে রাজশাহীর উদ্দেশে রওনা হন।
৭ দিন আগে
রিমান্ডে দিলীপ আগরওয়ালা
মানিলন্ডারিংয়ের মামলায় ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক (এমডি) দিলীপ আগরওয়ালার এক দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) মামলার তদন্ত কর্মকর্তা সিআইডির উপ-পরিদর্শক মো. আশরাফুল হাসান তিন দিনের রিমান্ডের আবেদন করেন। এর পরিপ্রেক্ষিতে ঢাকার মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট মো. আরিফুল ইসলাম শুনানি শেষে জামিনের আবেদন নাকচ করে দেন এবং এক দিনের রিমান্ড মন্জুর করেন।
এর আগে গতকাল (সোমবার) সন্ধ্যায় রাজধানীর বনানী থেকে দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা (ডিবি) পুলিশ।
মামলার এজাহার সূত্রে জানা যায়, ২০০৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর থেকে ২০২৪ সালের ৮ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত গুলশান অ্যাভিনিউয়ে ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ডের শোরুম ও কার্যালয়ে চোরাচালানের মাধ্যমে ৬৭৮ কোটি টাকার অবৈধ সোনা ও হীরা কেনাবেচা হয়।
এ ঘটনায় গত বছরের নভেম্বরে সিআইডির পরিদর্শক (ফাইন্যান্সিয়াল ক্রাইম) মোহাম্মদ আসাদুজ্জামান বাদী হয়ে গুলশান থানায় মানিলন্ডারিং প্রতিরোধ আইনে মামলা করেন।
এজাহারে আরও বলা হয়, সিআইডির অনুসন্ধানে পাওয়া ব্যাংক হিসাব, নথিপত্র ও জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড বৈধভাবে ঋণপত্রের (এলসি) মাধ্যমে বিদেশ থেকে ৩৮ কোটি ৪৭ লাখ ৪৮ হাজার ১১ টাকা ৫২ পয়সার সোনার বার, স্বর্ণালংকার ও হীরা আমদানি করেছে। অন্যদিকে একই সময়ে প্রতিষ্ঠানটি স্থানীয় বাজার থেকে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকার সোনা ও হীরা কেনাবেচা, বিনিময় বা রূপান্তর করেছে।
স্থানীয় বাজার থেকে কেনা এসব সোনা ও হীরার উৎস কিংবা বিক্রেতাদের বিষয়ে কোনো বৈধ নথিপত্র সিআইডির কাছে উপস্থাপন করতে পারেনি প্রতিষ্ঠানটি।
সিআইডির প্রাথমিক অনুসন্ধানে অভিযোগ করা হয়েছে, ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড ও ডায়মন্ড ওয়ার্ল্ড লিমিটেডকে ব্যবহার করে চোরাচালানের মাধ্যমে অবৈধ সোনা ও হীরা কেনাবেচা করে ৬৭৮ কোটি ১৯ লাখ ১৪ হাজার ১৪ টাকা উপার্জন করেছেন দিলীপ আগরওয়ালা।
২০২৪ সালের ৩ সেপ্টেম্বর দিলীপ আগরওয়ালাকে গ্রেপ্তার করে র্যাব। পরে বিভিন্ন হত্যা মামলায় তাকে গ্রেপ্তার দেখানো হয়। পরবর্তীতে ২০২৫ সালের ১ অক্টোবর জামিন পেয়ে তিনি কারামুক্তি পান।
৮ দিন আগে
সহযোগিতা বাড়াতে চায় বাংলাদেশ-জাপান, টোকিওতে বৈঠকে বসছেন দুই প্রধানমন্ত্রী
‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ জোরদার, অর্থনৈতিক সম্পর্ক গভীর করা ও বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি আগামী ২৭ অক্টোবর টোকিওতে দ্বিপক্ষীয় বৈঠকে বসতে যাচ্ছেন।
চার দিনের আসন্ন সফরের বিভিন্ন দিক তুলে ধরে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) সাংবাদিকদের ব্রিফ করেন পররাষ্ট্র সচিব আসাদ আলম সিয়াম।
তিনি বলেন, আশা করা হচ্ছে, বাংলাদেশ ও জাপানের দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদার হবে, দুই দেশের সম্পর্কে নতুন দ্বার উন্মোচিত হবে এবং জাপান থেকে বাংলাদেশে নতুন বেসরকারি বিনিয়োগ আসবে।
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ও তার স্ত্রী ডা. জুবাইদা রহমান ২৬ থেকে ২৯ অক্টোবর জাপানে সরকারি সফর করবেন।
প্রধানমন্ত্রীর সফরসঙ্গী প্রতিনিধিদলে থাকবেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, অর্থ ও পরিকল্পনাবিষয়ক উপদেষ্টা ড. রাশেদ আল মাহমুদ তিতুমীর, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী হুমায়ুন কবির এবং বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
অন্যদিকে জাপানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের এক মুখপাত্র এদিন বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের এ সফরের মাধ্যমে জাপান ও বাংলাদেশের ‘কৌশলগত অংশীদারত্ব’ আরও জোরদার হবে বলে আশা করা হচ্ছে। পাশাপাশি হালনাগাদ মুক্ত ও অবাধ ইন্দো-প্যাসিফিক (এফওআইপি) বাস্তবায়নে সমন্বয়ও বাড়বে। বাংলাদেশ এ অঞ্চলের একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার, যার সঙ্গে স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও আইনের শাসনের মতো মূল্যবোধ ও নীতির মিল রয়েছে।
এক কূটনৈতিক সূত্র ইউএনবিকে জানিয়েছে, প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরকে কেন্দ্র করে জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে নতুন বিনিয়োগের ঘোষণা দিতে পারে অথবা নতুন কার্যালয় স্থাপনের পরিকল্পনা জানাতে পারে।
সূত্রটি আরও বলে, চ্যালেঞ্জিং সময়েও জাপানি কোম্পানিগুলো বাংলাদেশে কার্যক্রম চালিয়ে গেছে এবং এ বাজার থেকে সরে যায়নি।
কয়েকটি কোম্পানি সফরকালে বাংলাদেশে বিনিয়োগের প্রতিশ্রুতি ঘোষণা করার প্রস্তুতি নিচ্ছে বলে জানা গেছে।
পররাষ্ট্র সচিব সিয়াম বলেন, সফরের সময় কয়েকটি সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) সইয়ের বিষয়ে দুই পক্ষের মধ্যে আলোচনা চলছে।
কৃষি, মৎস্য, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও দক্ষতা বৃদ্ধি, অভ্যন্তরীণ বিমান চলাচল, বাণিজ্য, পরিবেশ সংরক্ষণ এবং স্থানীয় সরকার ব্যবস্থার আধুনিকায়ন বিষয়ে সমঝোতা স্মারকের খসড়া নিয়ে বর্তমানে আলোচনা হচ্ছে।
সফরের সময় এসব সমঝোতা স্মারকের অনেকগুলোই সই হবে বলে আশা প্রকাশ করেন পররাষ্ট্র সচিব।
সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে পরবর্তী পররাষ্ট্র সচিব হতে যাওয়া সালাহউদ্দিন নোমান চৌধুরী, অতিরিক্ত পররাষ্ট্র সচিব (জনকূটনীতি ও অন্যান্য অগ্রাধিকারমূলক বিষয়) এ কে এম শহীদুল করিম এবং চিফ অব প্রটোকল এ এফ এম জাহিদ উল ইসলামও উপস্থিত ছিলেন।
এর আগে জাপান বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে সরকারি সফরে যাওয়ার আমন্ত্রণ জানায়। একই সঙ্গে ঢাকার সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক আরও জোরদারে টোকিওর অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করে দেশটি।
গত এপ্রিলে এশিয়াজুড়ে জ্বালানি-সংক্রান্ত সমস্যা আরও কার্যকরভাবে মোকাবিলায় জাপানের নেতৃত্বাধীন একটি উদ্যোগকে স্বাগত জানায় বাংলাদেশ। সে সময় বাংলাদেশ বলেছিল, এসব চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে, কারণ কোনো একক দেশের পক্ষে একা তা সমাধান করা সম্ভব নয়।
জাপানের প্রধানমন্ত্রীর আমন্ত্রণে অনলাইনে ওই বৈঠকে যোগ দেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
এবার এ সফরের মাধ্যমে চলমান প্রকল্পগুলোর কাজ দ্রুত এগিয়ে নেওয়া ও সম্পন্ন করার সুযোগ তৈরি হবে বলেও সিয়াম আশা প্রকাশ করেন।
তিনি বলেন, বাণিজ্যিক অংশীদারত্ব আরও জোরদার হবে, অর্থনৈতিক ও উন্নয়ন সহায়তার পরিমাণ বাড়বে এবং নিরাপত্তা সহযোগিতা অব্যাহত থাকবে।
বাংলাদেশে কারখানা স্থাপনে জাপানের সহায়তার সম্ভাবনা রয়েছে বলেও জানান তিনি, যার ফলে কর্মসংস্থানের সুযোগ তৈরি হবে এবং মানবসম্পদ উন্নয়ন সম্ভব হবে।
দ্বিপক্ষীয় সম্পর্কের বাইরেও দুই নেতা বৈশ্বিক বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন।
পররাষ্ট্র সচিব বলেন, আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিসরে শান্তি ও স্থিতিশীলতা, বাংলাদেশের রোহিঙ্গা সংকটের স্থায়ী ও শান্তিপূর্ণ সমাধান, বৈশ্বিক জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় পারস্পরিক সহযোগিতা জোরদার এবং আন্তর্জাতিক সংঘাত অবসানে যৌথ ভূমিকা রাখার বিষয়ে দুই দেশের মধ্যে ফলপ্রসূ আলোচনা শুরু হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বাংলাদেশ ও জাপানের সম্পর্ক দীর্ঘদিনের, ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ বলেও উল্লেখ করেন সিয়াম।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পরপরই বাংলাদেশকে স্বীকৃতি দেওয়া প্রথম দেশগুলোর মধ্যে জাপান অন্যতম। বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন, অবকাঠামো নির্মাণ, মানবসম্পদ উন্নয়ন ও সক্ষমতা বৃদ্ধিতে দেশটি উল্লেখযোগ্য অবদান রেখেছে।
সিয়াম বলেন, বাণিজ্য, বিনিয়োগ ও উন্নয়ন সহযোগিতার গণ্ডি পেরিয়ে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি, যোগাযোগ, পরিবেশ এবং আঞ্চলিক ও উপ-আঞ্চলিক সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে দুই দেশের সম্পর্ক বিস্তৃত হয়েছে।
এছাড়া দুই দেশের বর্তমান সম্পর্ককে কৌশলগত অংশীদারত্ব হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি। এই কাঠামোর আওতায় বাংলাদেশে অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রযুক্তিগত অগ্রগতি, মানবসম্পদ উন্নয়ন, নিরাপত্তা সহযোগিতাসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে সহযোগিতামূলক কার্যক্রম চলছে।
এ সফরের মাধ্যমে এসব কার্যক্রম আরও বাড়বে বলে আশা প্রকাশ করেন সচিব।
বিদ্যমান কৌশলগত অংশীদারত্বের প্রেক্ষাপটে দুই দেশের সম্পর্ক আরও গভীর ও বিস্তৃত করার জন্য আসন্ন সফরকে সময়োপযোগী সুযোগ হিসেবেও বর্ণনা করেন তিনি। বিশেষ করে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারিতে বাংলাদেশ ও জাপানের মধ্যে অর্থনৈতিক অংশীদারত্ব চুক্তি (ইপিএ) সই হওয়ায় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণের নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
সফরকালে জাপান-বাংলাদেশ অর্থনৈতিক ফোরামে মূল বক্তব্য দেবেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া জাপানের চিবা প্রিফেকচারের কাৎসুরা শহরে অবস্থিত এলএনজি টার্মিনাল ও বিদ্যুৎকেন্দ্র, ইউনিক্লো সদর দপ্তর এবং নাগোয়া শহরে টয়োটার কারখানা পরিদর্শনের কথা রয়েছে তার।
৮ দিন আগে
৩৮,৯৭০ আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচি উদ্বোধন প্রধানমন্ত্রীর
রাজশাহীতে ৩৮ হাজার ৯৭০ জন আখচাষির জন্য ১২ কোটি টাকার প্রণোদনা কর্মসূচি উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) হাজী মুহম্মদ মহসিন সরকারি উচ্চবিদ্যালয় মাঠ নামে পরিচিত রাজশাহীর ঐতিহাসিক মাদরাসা মাঠে এক জনসভায় ডিজিটাল বোতাম চেপে প্রধানমন্ত্রী এ কর্মসূচির উদ্বোধন করেন। এ সময় ১৫ জন আখচাষিকে চেক প্রদান করেন তিনি।
বিকেল ৩টা ২৫ মিনিটে জনসভাস্থলে পৌঁছালে বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা তারেক রহমানকে স্বাগত জানান।
এ সময় উপস্থিত ছিলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সংস্কৃতিবিষয়ক মন্ত্রী নিতাই রায় চৌধুরী, ভূমিমন্ত্রী মিজানুর রহমান মিনু, শিল্পমন্ত্রী খন্দকার আবদুল মুক্তাদির, স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রেহান আসিফ আসাদ, বিশেষ সহকারী বিজন কান্তি সরকার, বিএনপির বিশেষ সম্পাদক বেলায়েত হোসেন মৃধা, হিন্দুধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান ও সংসদ সদস্য নিপুণ রায় চৌধুরী, প্রধানমন্ত্রীর প্রেস সচিব সালেহ শিবলী ও অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন।
অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন রাজশাহী-৩ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ শফিকুল হক মিলন, রাজশাহী-৫ আসনের সংসদ সদস্য অধ্যাপক নজরুল ইসলাম, রাজশাহী-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. আবু সাইদ চাঁদ এবং সংরক্ষিত নারী আসনের সংসদ সদস্য মাহমুদা হাবিবা।
এর আগে বেলা ২টা ৫৫ মিনিটে সামরিক উড়োজাহাজে রাজশাহীর শাহ মখদুম বিমানবন্দরে পৌঁছান তারেক রহমান। বিমানবন্দর থেকে জনসভাস্থলে যাওয়ার পথে সড়কের দুই পাশে হাজারো মানুষ তাকে স্বাগত জানাতে দাঁড়িয়ে ছিলেন। প্রধানমন্ত্রী বাসের ভেতর থেকে হাত নেড়ে তাদের শুভেচ্ছার জবাব দেন।
জনসভা শেষে রাজশাহীর ধর্মসভা মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শনের কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর। সেখানে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় ও দুর্গাপূজা উপলক্ষে মতবিনিময় সভায় অংশ নেবেন তিনি।
রাজশাহীতে কর্মসূচি শেষ করে চট্টগ্রামের উদ্দেশে রওনা হওয়ার কথা রয়েছে প্রধানমন্ত্রীর।
এর আগে ঢাকা থেকে সামরিক উড়োজাহাজে রংপুরের উদ্দেশে রওনা হন তারেক রহমান। উড়োজাহাজটি নীলফামারীর সৈয়দপুর বিমানবন্দরে অবতরণ করে। সৈয়দপুর থেকে রংপুর যাওয়ার পথে তারাগঞ্জ ও পাগলাপীরে দুটি পথসভায় অংশ নেন তিনি। পরে রংপুরের রাধা গোবিন্দ মন্দিরের পূজামণ্ডপ পরিদর্শন করেন প্রধানমন্ত্রী।
৮ দিন আগে
হামের উপসর্গে আরও ৩ মৃত্যু, আক্রান্ত ১,২৫৯
দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ২৫৯টি শিশু।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৩ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ১ হাজার ১০০টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ১০৪ শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ১ হাজার ২০৪ শিশু মারা গেছে।
এছাড়া ২৪ ঘণ্টায় ৪২ শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ১ হাজার ২১৭। এই সময়ে ১ হাজার ৯৮ শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ১ হাজার ১২৬ শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ২ লাখ ১৫ হাজার ৭৬৮, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ২৩ হাজার ১৯৯। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৬১ রোগী, যাদের মধ্যে ১ লাখ ৮৪ হাজার ১৬৮ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
৮ দিন আগে
ডেঙ্গুতে ২৪ ঘণ্টায় ৫ মৃত্যু, হাসপাতালে ১,৩৬৬
দেশে আজ মঙ্গলবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় ডেঙ্গুতে আরও পাঁচজনের মৃত্যু হয়েছে। একই সময়ে সারা দেশে নতুন করে ১ হাজার ৩৬৬ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ অ্যান্ড ইমার্জেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ এ মৃত্যুর পর চলতি বছর দেশে ডেঙ্গুতে মৃতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫৭ জনে।
অধিদপ্তর আরও জানিয়েছে, নতুন মৃত্যুর ঘটনাগুলোর মধ্যে ঢাকা উত্তর করপোরেশনে দুজন মারা গেছে। এছাড়া সিটি করপোরেশনের বাইরের এলাকার মধ্যে বরিশাল বিভাগে দুজন ও রংপুর বিভাগে একজন মারা গেছে।
চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে মোট ১ লাখ ১৫ হাজার ৬১৭ জন ডেঙ্গু রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে। তাদের মধ্যে সুস্থ হয়ে ১ লাখ ৯ হাজার ৩১৬ জন হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র পেয়েছে।
৮ দিন আগে
সৌরবিদ্যুৎ চুরি ও যন্ত্রাংশ নষ্টে শাস্তির বিধান রেখে অধ্যাদেশ জারি
দেশে সৌরবিদ্যুতের ব্যবহার বাড়ানো, বেসরকারি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা এবং এ খাতের কার্যক্রম সুশৃঙ্খল করতে ‘বিশেষ সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন অধ্যাদেশ, ২০২৬’ জারি করেছে সরকার।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) রাতে আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের লেজিসলেটিভ ও সংসদবিষয়ক বিভাগ থেকে অধ্যাদেশটি জারি করা হয়।
এর আগে গত রবিবার প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভা বৈঠকে এর খসড়ায় নীতিগত ও চূড়ান্ত অনুমোদন দেওয়া হয়।
সৌরবিদ্যুতের বিদ্যুৎ বা যন্ত্রাংশ চুরি করলে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা ৫০ হাজার টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ডের বিধান রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে। আর যন্ত্রাংশের ক্ষতিসাধন করলে সর্বোচ্চ পাঁচ বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে।
মন্ত্রিসভা বৈঠকের পর মন্ত্রিপরিষদ সচিব নাসিমুল গণি বলেন, সৌরবিদ্যুৎ বাংলাদেশের জন্য আগের থেকে আরও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে। যুদ্ধ শুরু হলে জ্বালানি খাতে বাংলাদেশ কতটা ভঙ্গুর অবস্থায় পড়তে পারে, তার প্রমাণ পাওয়া গেছে। এ কারণে সরকার সৌরবিদ্যুতের বিষয়ে অতিরিক্ত গুরুত্ব দিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, সরকারি ভবন, বাসাবাড়ি, পতিত জমিসহ বিভিন্ন জায়গায় সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প স্থাপন করা যাবে।
বিনিয়োগের ক্ষেত্রে অপারেশনাল এক্সপেন্ডিচার (ওপেক্স) ও ক্যাপিটাল এক্সপেন্ডিচার (ক্যাপেক্স) মডেল রাখা হয়েছে জানিয়ে নাসিমুল গণি বলেন, ওপেক্স মডেলে বিনিয়োগকারী সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপনের ব্যয় বহন করবেন। ক্যাপেক্স মডেলে গ্রাহক প্রতিষ্ঠান নিজস্ব অর্থায়নে প্রকল্প স্থাপন করে মালিকানা রাখতে পারবে।
এদিকে অধ্যাদেশে বলা হয়েছে, সরকারি, আধাসরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠানের পাশাপাশি বাসাবাড়ির ছাদ, আঙিনা, ভবনসংলগ্ন পতিত জমি ও জলাশয়ে সর্বোচ্চ পাঁচ মেগাওয়াট ক্ষমতার সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা স্থাপন করা যাবে।
এর আওতায় থাকবে সৌরচালিত সেচপাম্প, কোল্ড স্টোরেজ, বৈদ্যুতিক যানবাহনের চার্জিং স্টেশন, চা বাগান, ভাসমান ও কৃষিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ ব্যবস্থা। তবে বৃহৎ ভূমিভিত্তিক সৌরবিদ্যুৎ প্রকল্প এ অধ্যাদেশের আওতায় পড়বে না।
গ্রাহক, সার্ভিস প্রোভাইডার ও উপযুক্ত কর্তৃপক্ষের মধ্যে ত্রিপক্ষীয় চুক্তির বিধানও রাখা হয়েছে অধ্যাদেশে। এতে যন্ত্রপাতির মান, নিরাপত্তা, রক্ষণাবেক্ষণ, বিদ্যুতের বণ্টন, বিল পরিশোধ, মালিকানা ও বিরোধ নিষ্পত্তির বিষয় অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
নেট-মিটারিংয়ের আওতায় গ্রাহক নিজের ব্যবহারের পর উদ্বৃত্ত বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করতে পারবেন। গ্রিডে দেওয়া বিদ্যুতের পরিমাণ বিলের সঙ্গে সমন্বয় হবে। উদ্বৃত্ত বিদ্যুতের মূল্য সরকার নির্ধারিত ট্যারিফ অনুযায়ী পাওয়ার সুযোগ থাকবে বলেও অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনে ক্যাপেক্স মডেলে সীমিত দরপত্র পদ্ধতিতে পণ্য ও সংশ্লিষ্ট সেবা কেনার আর্থিক সীমা সর্বোচ্চ পাঁচ কোটি টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। এক্ষেত্রে ই-জিপি বাধ্যতামূলক হবে না।
পাশাপাশি সৌরবিদ্যুতের বিস্তার ও নীতিগত দিকনির্দেশনায় জাতীয় পলিসি কাউন্সিল এবং জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে কারিগরি ও সমন্বয় কমিটি গঠনের বিধান রাখা হয়েছে।
অধ্যাদেশের ১২ থেকে ১৬ ধারায় চুরি, যন্ত্রাংশের ক্ষতিসাধন, অবৈধ সংযোগ, কাজে বাধা এবং অপরাধে সহায়তা বা প্ররোচনার শাস্তি নির্ধারণ করা হয়েছে। চোরাই যন্ত্রাংশ কেনা, বিক্রি বা হেফাজতে রাখলেও একই শাস্তি হবে।
অবৈধ সংযোগ এবং স্থাপন, পরিদর্শন ও রক্ষণাবেক্ষণের কাজে বাধা দেওয়ার অপরাধে সর্বোচ্চ তিন বছরের কারাদণ্ড বা পাঁচ লাখ টাকা জরিমানা অথবা উভয় দণ্ড হতে পারে বলে অধ্যাদেশে উল্লেখ করা হয়েছে।
এসব অপরাধের বিচার প্রথম শ্রেণির ম্যাজিস্ট্রেট বা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে হবে। অপরাধ ভ্রাম্যমাণ আদালতের আইনের তফসিলভুক্ত হলে ওই আদালতেও বিচার করা যাবে।
৮ দিন আগে
ভোটের ফল যা-ই হোক, সব অঞ্চলে সুষম উন্নয়নের অঙ্গীকার প্রধানমন্ত্রীর
রংপুরে বিএনপির দুর্বল নির্বাচনি ফলাফলের প্রতি ইঙ্গিত করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, বিএনপিকে ভোট দিয়েছেন কি দেননি, তা বিবেচনায় না নিয়ে সব নাগরিকের সেবা করার পাশাপাশি সব অঞ্চলে সুষম উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায় সরকার।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ বর্তমান সরকারকে নির্বাচিত করেছে। কোনো কোনো এলাকায় বিএনপির প্রার্থীরা নির্বাচিত হয়েছেন, আবার কোনো এলাকায় হননি। কিন্তু বর্তমান সরকার দেশের সব মানুষের সরকার হতে চায়। যারা ভোট দিয়েছেন, তাদের সরকার হতে চায়, তেমনি যারা ভোট দেননি, তাদেরও সরকার হতে চায়।
মঙ্গলবার (২০ অক্টোবর) শারদীয় দুর্গোৎসবের মহানবমীতে রংপুরের ঐতিহাসিক রাধা গোবিন্দ ধর্মসভা মন্দিরে হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময়কালে তারেক রহমান এসব কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা বিবেচনায় নিয়ে এবং বিভিন্ন অঞ্চলে ন্যায্যভাবে সম্পদ বণ্টনের মাধ্যমে সরকার সারা দেশে সমানভাবে উন্নয়ন নিশ্চিত করতে চায়।
সরকার সব এলাকার ও সব মানুষের জন্য কাজ করতে চায় উল্লেখ করে তিনি জানান, প্রায় দুই সপ্তাহ আগে জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক) সভায় রংপুর মহানগরের উন্নয়নে এক হাজার ৮০০ কোটি টাকা বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সরকার প্রতিষ্ঠান ও জেলা পরিষদের মাধ্যমে রংপুর জেলার বিভিন্ন উপজেলা, ইউনিয়ন ও গ্রামে সেতু, কালভার্ট, স্কুল, কলেজসহ প্রয়োজনীয় অবকাঠামো পর্যায়ক্রমে গড়ে তোলা হবে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘এসব উদ্যোগ বাস্তবায়নে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে এবং পারস্পরিক বিভেদ ভুলে দেশের উন্নয়নে এগিয়ে আসতে হবে।’
তবে সবাইকে নিয়ে ঐক্য গড়ে সামনে এগিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলেও সাম্প্রতিক সময়ে কিছু মহল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলে আক্ষেপ প্রকাশ করেন প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, ‘আজ আমি সবার কাছে, বিশেষ করে যারা বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করেছে, তাদের কাছে একটি বিষয় স্পষ্ট করতে চাই। অতীতে আমরা দেখেছি, কোনো ব্যক্তি বা রাজনৈতিক দল বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করেছে। কিন্তু তার ফলাফলটা খুব শুভ হয়নি। বাংলাদেশের মানুষ সেই উদ্দেশ্যকে ভালোভাবে গ্রহণ করেনি।’
তারেক রহমান বলেন, ১৯৭১ সালে ধর্ম, রাজনৈতিক মতাদর্শ কিংবা সামাজিক পরিচয় নির্বিশেষে সব ধর্মের মানুষ বাংলাদেশের স্বাধীনতার জন্য একসঙ্গে লড়াই করেছেন। পরবর্তী সময়ে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার ও রাজনৈতিক অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনেও বিভিন্ন ধর্মের ও পেশার মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়েছেন।
২০২৪ সালের গণঅভ্যুত্থানের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, স্বৈরাচারী সরকারকে সরিয়ে নিজেদের অধিকার প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে শিক্ষার্থীসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নিয়েছিলেন।
গণঅভ্যুত্থানকে হেয় না করার আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, কারও ভিন্নমত থাকলে তা সংসদে তুলে ধরতে হবে। সেখানে নির্বাচিত প্রতিনিধিরা আলোচনা করে জনগণ ও রাষ্ট্রের স্বার্থে সিদ্ধান্ত নিতে পারবেন।
বাংলাদেশে বিভিন্ন ধর্মের মানুষের শান্তিপূর্ণ সহাবস্থানের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী আশা প্রকাশ করেন, আগামী হাজার বছরও এ দেশের মানুষ এভাবেই শান্তিতে একসঙ্গে বসবাস করবে।
তিনি বলেন, ‘এই দেশটি হাজার বছর ধরে সব ধর্মের মানুষকে নিয়ে এগিয়ে চলছে। শান্তিতে আমরা সবাই মিলে বসবাস করছি। আমরা চাই, আগামী হাজার বছরও যেন আমরা একসঙ্গে শান্তিতে বসবাস করতে পারি।’
৮ দিন আগে