বাংলাদেশ
জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী
জাতীয় সংসদে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট উপস্থাপন করছেন অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী। এবার প্রস্তাবিত বাজেটের আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা, যা দেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় জাতীয় বাজেট।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) বিকেল ৩টায় জাতীয় সংসদে এ বাজেট উপস্থাপন শুরু করেছেন তিনি।
গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে বিজয়ের পর বিএনপি নেতৃত্বাধীন সরকারের জন্য এটি প্রথম জাতীয় বাজেট।
এর আগে, আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সভাপতিত্বে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের প্রস্তাবিত জাতীয় বাজেট অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রথা অনুযায়ী, জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের আগে মন্ত্রিসভার বিশেষ বৈঠকে তা অনুমোদন করতে হয়।
সভা সূত্র জানায়, এবারের বাজেটে কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, অর্থনৈতিক স্থিতিশীলতা রক্ষা এবং ডিজিটাল অবকাঠামো উন্নয়নের ওপর বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
চলতি অর্থবছরে বাজেটের সম্ভাব্য আকার ধরা হয়েছে ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকা। সরকারের লক্ষ্য বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থান বৃদ্ধি, ব্যবসা-বাণিজ্যে নিয়ন্ত্রণ শিথিলকরণ এবং মানবসম্পদ উন্নয়নের মাধ্যমে বাংলাদেশকে ‘ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতি’র পথে এগিয়ে নেওয়া।
বাজেটে রাজস্ব আয়ের লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে ৬ লাখ ৯৫ হাজার কোটি টাকা। এর ফলে মোট আয় ও ব্যয়ের মধ্যে ঘাটতির পরিমাণ দাঁড়াচ্ছে ২ লাখ ৪৩ হাজার কোটি টাকা, যা অভ্যন্তরীণ ও বৈদেশিক ঋণের মাধ্যমে অর্থায়নের পরিকল্পনা করা হয়েছে।
৮ দিন আগে
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার পাচ্ছে পাঁচ ব্যক্তি-প্রতিষ্ঠান
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ, শিক্ষা, গবেষণা ও বন্যপ্রাণী অপরাধ দমনে বিশেষ অবদানের স্বীকৃতি হিসেবে ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার ২০২৬’ পাচ্ছে পাঁচ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান। পাঁচটি পৃথক ক্যাটাগরিতে একজন গবেষক, একজন বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষক, দুটি প্রতিষ্ঠান এবং বন অধিদপ্তরের একটি বিশেষ ইউনিটকে চূড়ান্তভাবে মনোনীত করেছে সরকার।
পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের বন-২ শাখা থেকে জারি করা এক প্রজ্ঞাপনে এ তথ্য জানানো হয়েছে। ‘বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে জাতীয় পুরস্কার নীতিমালা, ২০২৫’-এর আওতায় এ মনোনয়ন চূড়ান্ত করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপন অনুযায়ী, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ (ব্যক্তি পর্যায়) ক্যাটাগরিতে জাতীয় পুরস্কারের জন্য মনোনীত হয়েছেন বন্যপ্রাণী গবেষক ও সংরক্ষণকর্মী ফয়সাল বীন আজাদ (আদনান আজাদ)।
বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ (প্রতিষ্ঠান/সংগঠন পর্যায়) ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছে নেচার কনজারভেশন ম্যানেজমেন্ট (নেকম)।
অন্যদিকে, বন্যপ্রাণীবিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণা (ব্যক্তি পর্যায়) ক্যাটাগরিতে মনোনীত হয়েছেন জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক ড. সাজেদা বেগম।
বন্যপ্রাণীবিষয়ক শিক্ষা ও গবেষণা (প্রতিষ্ঠান পর্যায়) ক্যাটাগরিতে জাতীয় পুরস্কারের জন্য নির্বাচিত হয়েছে জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগ।
এছাড়া, বন্যপ্রাণী সংরক্ষণে বন অধিদপ্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী/ইউনিট/বিভাগ পর্যায় ক্যাটাগরিতে মনোনয়ন পেয়েছে বন্যপ্রাণী অপরাধ দমন ইউনিট (ওয়াইল্ডলাইফ ক্রাইম কন্ট্রোল ইউনিট)।
৮ দিন আগে
মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ সভায় ২০২৬-২৭ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান-এর সভাপতিত্বে ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের জাতীয় বাজেট অনুমোদনের লক্ষ্যে মন্ত্রিপরিষদের বিশেষ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ে অনুষ্ঠিত এ সভায় জাতীয় সংসদে বাজেট উপস্থাপনের আগে রীতি অনুযায়ী জাতীয় বাজেট অনুমোদন করা হয়।
বিশেষ সভা শেষে আজ বিকাল ৩টায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান অর্থমন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরীকে সঙ্গে নিয়ে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে যোগ দেবেন। পরে অর্থমন্ত্রী ২০২৫-২০২৬ অর্থবছরের সম্পূরক বাজেট এবং ২০২৬-২০২৭ অর্থবছরের বাজেট প্রস্তাব উপস্থাপন করবেন।
৮ দিন আগে
আদ্ দ্বীন হাসপাতালের জবাবে সন্তুষ্ট নয় সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, আদ্ দ্বীন হাসপাতালের কারণ দর্শানোর জবাব অতিরঞ্জিত বলে সন্তুষ্ট নয় সরকার।
বুধবার (১০ জুন) দুপুরে সচিবালয়ে নিজ দপ্তরে সাংবাদিকদের তিনি এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, আদ্ দ্বীন হাসপাতালের লিখিত জবাবে প্রয়োজনীয় তথ্যের বাহিরে অনেক গল্প লিখেছে, যার বেশিরভাগ তথ্য ছিল অপ্রয়োজনীয়।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী আরও বলেন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় পরবর্তী বৈঠক করে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে। সরকার আদ্ দ্বীন হাসপাতালের বিষয়ে আগের অবস্থানেই আছে বলেও জানান তিনি।
রাজধানীর মগবাজারের আদ্ দ্বীন মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের পোস্ট-অপারেটিভ ওয়ার্ডে গত ২৭ মে ভোরে কয়েক ঘণ্টার ব্যবধানে পর্যবেক্ষণে থাকা ৬ নবজাতকের মৃত্যু হলে তদন্ত কমিটি গঠন করে স্বাস্থ্য অধিদপ্তর।
পরবর্তীতে, ৬ নবজাতকের মৃত্যুতে হাসপাতাল কর্তৃপক্ষের অবহেলার প্রমাণ পায় স্বাস্থ্য অধিদপ্তর গঠিত তদন্ত কমিটি।
৯ দিন আগে
পানি স্বল্পতায় কাপ্তাই বিদ্যুৎ কেন্দ্রের ৩টি ইউনিট বন্ধ
খরার কারণে দ্রুত শুকিয়ে যাচ্ছে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর। ফলে রাঙ্গামাটির কাপ্তাই হ্রদের পানি স্বল্পতায় কাপ্তাইয়ে অবস্থিত কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রে (কপাবিকে) ৫টি ইউনিটের মধ্যে ৩টি ইউনিট থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ রয়েছে। বাকি ২ ইউনিট থেকে বর্তমানে মাত্র ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। অথচ এই কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট থেকে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর আরও কমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন পরিস্থিতি সংকটাপন্ন হয়ে উঠতে পারে। ভারী বৃষ্টিপাত না হলে যেকোনো সময় কেন্দ্রটির অবশিষ্ট ২ ইউনিট থেকেও বিদ্যুৎ উৎপাদন বন্ধ হয়ে যেতে পারে।
বুধবার (১০ জুন) কাপ্তাই পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
স্থানীয়রা জানান, কাপ্তাই হ্রদে পানির স্তর কমে যাওয়ায় শুধু বিদ্যুৎ উৎপাদনই নয়, হ্রদনির্ভর মানুষের দুর্ভোগও বাড়ছে। বিশেষ করে বিলাইছড়ি, বরকল, জুরাছড়ি, লংগদু ও বাঘাইছড়ি উপজেলার নৌপথে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। হ্রদের বিভিন্ন স্থানে চর জেগে ওঠায় নৌযান চলাচল বাধাগ্রস্ত হচ্ছে এবং স্থানীয়দের চলাচলে ভোগান্তি বাড়ছে। পাশাপাশি ব্যবসা-বাণিজ্যেও মারাত্মক প্রভাব পড়ছে।
সংশ্লিষ্ট সূত্র জানায়, ৬৮ এমএসএলকে বিপজ্জনক সীমা হিসেবে ধরা হয়। পানির স্তর ৬৮ এমএসএলে নেমে গেলে বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্পূর্ণভাবে বন্ধ হয়ে যাবে। কাপ্তাই হ্রদের সর্বোচ্চ পানি ধারণক্ষমতা ১০৯ এমএসএল। এই কেন্দ্রের ৫টি ইউনিট হতে সর্বোচ্চ ২৪০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব।
কপাবিকের ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মাহমুদ হাসান জানান, শুষ্ক মৌসুমে কাপ্তাই হ্রদের পানির স্তর দিন দিন কমছে। চলতি সপ্তাহে মাঝে মাঝে বৃষ্টিপাত হলেও তা প্রয়োজনের তুলনায় অনেক কম। যেখানে কাপ্তাই হ্রদের রুল কার্ভ অনুযায়ী, পানির লেভেল ৭৮ দশমিক ৩৪ ফুট মিন সি লেভেল থাকার কথা সেখানে আজ (বুধবার) সকাল ৯টা পর্যন্ত কাপ্তাই হ্রদের পানির লেভেল ছিল ৭৩ দশমিক ৯১ ফুট মিন সি লেভেল। অর্থাৎ এখনও পানির লেভেল ৪ দশমিক ৪৩ ফুট মিন সি লেভেল কম আছে।
কাপ্তাই কর্ণফুলী পানি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্রের কন্ট্রোল রুমে দায়িত্বরত প্রকৌশলীরা জানান, আজ সকাল ৯টা পর্যন্ত শুধুমাত্র ২টি ইউনিট হতে ৫৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। তার মধ্যে ২ নম্বর ইউনিট হতে ৩০ মেগাওয়াট এবং ৩ নম্বর ইউনিট হতে ২৮ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে।
দ্রুত মুষলধারে বৃষ্টিপাত না হলে বাকি ইউনিটগুলো চালু করা সম্ভব হবে না বলে জানান বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের কর্মকর্তারা।
৯ দিন আগে
বাংলা কিউআর চালুর আগে বাংলাদেশ ব্যাংকের দেশব্যাপী প্রচারণা শুরু
আগামী ১ জুলাই থেকে আনুষ্ঠানিকভাবে কার্যক্রম শুরু হতে যাওয়া ‘বাংলা কিউআর’-এর মাধ্যমে সমন্বিত ডিজিটাল লেনদেন সম্প্রসারণের লক্ষ্যে দেশব্যাপী একটি ব্যাপক প্রচারণামূলক কার্যক্রম শুরু করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক (বিবি)।
বুধবার (১০ জুন) ডিজিটাল ক্যাশ বা নগদহীন লেনদেন প্রসারের অংশ হিসেবে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর মো. মোশতাকুর রহমান কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রাঙ্গণে এই প্রচারণামূলক কার্যক্রমের উদ্বোধন করেন।
এই ডিজিটাল পেমেন্ট বা লেনদেন উদ্যোগের মূল উদ্দেশ্য হলো—সমন্বিত ‘বাংলা কিউআর’ নেটওয়ার্কের নিরবচ্ছিন্ন লেনদেনের সুবিধা এবং বহুস্তরের নিরাপত্তা বৈশিষ্ট্যগুলো সম্পর্কে গ্রাহক, ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানগুলোর মধ্যে সচেতনতা বৃদ্ধি করা।
কেন্দ্রীয় ব্যাংকের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, বাণিজ্যিক ব্যাংক এবং ডিজিটাল ফাইন্যান্স অংশীজনদের সঙ্গে নিবিড় সমন্বয়ের মাধ্যমে একটি জোরালো প্রচার অভিযান চালানোর পরিকল্পনা করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এই অভিযানের লক্ষ্য হলো—আন্তঃব্যাংক ডিজিটাল লেনদেন অবকাঠামোকে উল্লেখযোগ্যভাবে আরও গ্রাহকবান্ধব, দ্রুতগতির, নিরাপদ ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করা।
অনুষ্ঠানে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর, বিভিন্ন তফসিলি ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা, মোবাইল ফাইন্যান্সিয়াল সার্ভিসেস (এমএফএস) প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান, পেমেন্ট সার্ভিস প্রোভাইডার (পিএসপি) এবং পেমেন্ট সিস্টেম অপারেটরদের (পিএসও) শীর্ষ কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
৯ দিন আগে
হামের উপসর্গে ২৪ ঘণ্টায় প্রাণহানি ৮, আক্রান্ত ১০৩৯
দেশে আজ বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত গত ২৪ ঘণ্টায় হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। এই সময়ে হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে আক্রান্ত হয়েছে ১ হাজার ৩৯টি শিশু।
বূধবার (১০ জুন) বিকেলে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হাম-বিষয়ক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে আরও ৮ শিশুর মৃত্যু হয়েছে। তবে নিশ্চিতভাবে হামে আক্রান্ত হয়ে কোনো শিশুর মৃত্যু হয়নি।
এ নিয়ে গত ১৫ মার্চ থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশে হামের উপসর্গ নিয়ে মৃত্যু হয়েছে মোট ৫৪৭টি শিশুর। আর হামে আক্রান্ত হয়ে আরও ৯২টি শিশু প্রাণ হারিয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এই সময়ে মোট ৬৩৯টি শিশু মারা গেছে।
এছাড়া, ২৪ ঘণ্টায় ৯৪টি শিশু হামে আক্রান্ত হয়েছে, আর হামের উপসর্গজনিত রোগীর সংখ্যা ৯৪৫। এই সময়ে ৮২৯টি শিশু নতুন করে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে, আর হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছে ৮৫৩টি শিশু।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য বলছে, ১৫ মার্চ থেকে আজ পর্যন্ত মোট সন্দেহজনক হাম রোগীর সংখ্যা ৮২ হাজার ২৯, আর নিশ্চিত হাম রোগীর সংখ্যা ৯ হাজার ৯২৭। এর মধ্যে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছে মোট ৬৬ হাজার ৯৯৯ রোগী, যাদের মধ্যে ৬৩ হাজার ১৪৫ জন ছাড়পত্র পেয়ে ইতোমধ্যে বাড়ি ফিরেছে।
৯ দিন আগে
ইউনিসেফের মাধ্যমে ৪১২.৭১ কোটি টাকার টিকা কিনবে বাংলাদেশ
সম্প্রসারিত টিকাদান কর্মসূচির (ইপিআই) আওতায় ২০২৫-২৬ অর্থবছরের জন্য জাতিসংঘ শিশু তহবিলের (ইউনিসেফ) মাধ্যমে ৪১২ কোটি ৭১ লাখ টাকার টিকা ক্রয়ের একটি প্রস্তাব অনুমোদন দিয়েছে সরকার।
বুধবার (১০ জুন) মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের সম্মেলন কক্ষে অনুষ্ঠিত সরকারি ক্রয়-সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির (সিসিজিপি) বৈঠকে এ অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী।
সরকারি সূত্রে জানা গেছে, স্বাস্থ্য সেবা বিভাগ ইউনিসেফের মাধ্যমে সরাসরি এই টিকা কেনার জন্য একটি প্রস্তাব উত্থাপন করে কমিটির অনুমোদন চেয়েছে।
ক্রয় কমিটি প্রস্তাবটি পর্যালোচনা করে সরাসরি ক্রয় পদ্ধতিতে এটি অনুমোদনের সুপারিশ করেছে। মূলত টিকা সরবরাহের জন্য ইউনিসেফ আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত ক্রয় সংস্থা হওয়ায় এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, টিকা দিয়ে প্রতিরোধ করা যায়—এমন সব মারাত্মক রোগ থেকে শিশুদের পাশাপাশি অন্যান্য লক্ষ্যভুক্ত জনগোষ্ঠীকে রক্ষা করতে ইপিআই কার্যক্রমের আওতায় এই ভ্যাকসিনগুলো ব্যবহার করা হবে।
এই ক্রয়ের ফলে পুরো অর্থবছরজুড়ে জাতীয় টিকাদান কর্মসূচির জন্য প্রয়োজনীয় ভ্যাকসিনের নিরবচ্ছিন্ন সরবরাহ নিশ্চিত করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৯ দিন আগে
সশস্র বাহিনীর মর্যাদা রক্ষায় পেশাদারিত্ব, ঐক্য ও শৃঙ্খলা রক্ষায় গুরুত্ব দিলেন প্রধানমন্ত্রী
দেশের ভেতরে ও বাইরে সশস্ত্র বাহিনীর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করার অতীতের অপচেষ্টার কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বাহিনীর সদস্যদের পেশাদারিত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা ও কমান্ড চেইন বজায় রেখে বাহিনীর সম্মান ও মর্যাদা অক্ষুণ্ন রাখার আহ্বান জানিয়েছেন।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকা সেনানিবাসের সেনাকুঞ্জে ‘আন্তর্জাতিক জাতিসংঘ শান্তিরক্ষী দিবস’ উপলক্ষে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে তিনি এ মন্তব্য করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিভিন্ন সময়ে বিভ্রান্তি তৈরি এবং দেশে-বিদেশে বাহিনীর ভাবমূর্তি নষ্ট করার চেষ্টা করা হলেও বাংলাদেশের সশস্ত্র বাহিনী জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশনে তাদের ভূমিকার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী স্বীকৃতি অর্জন করেছে।
তিনি আরও বলেন, জাতিসংঘ শান্তিরক্ষা মিশন এবং আন্তর্জাতিক দায়িত্ব পালনের জন্য সরকার সশস্ত্র বাহিনী ও পুলিশকে পর্যায়ক্রমে আধুনিকায়নের কাজ করে যাচ্ছে।
তারেক রহমান বলেন, ‘ইউনিফর্মধারী বাহিনীর জন্য মূল বার্তা হলো—পেশাদারিত্ব, ঐক্য, শৃঙ্খলা এবং চেইন অব কমান্ড ছাড়া সম্মান ও মর্যাদা রক্ষা করা কঠিন।’
সশস্ত্র বাহিনীর সদস্যদের উদ্দেশে তিনি বলেন, সামরিক বাহিনী দেশের স্বাধীনতা, সম্মান ও সাহসের প্রতীক। এ সময় বাংলাদেশের মহান মুক্তিযুদ্ধে সশস্ত্র বাহিনীর ঐতিহাসিক ভূমিকার কথা স্মরণ করেন তিনি।
বিএনপি চেয়ারম্যান বলেন, ‘সেনাবাহিনীর একজন মেজর বাংলাদেশের স্বাধীনতা ঘোষণা করেছিলেন। আমি বিশ্বাস করি, এই গৌরব ও অহংকার আমাদের সশস্ত্র বাহিনীর জন্য চিরন্তন অনুপ্রেরণার উৎস হয়ে থাকবে। তাই এই সম্মান যেন কোনোভাবেই ক্ষুণ্ন না হয়, তা নিশ্চিত করা সশস্ত্র বাহিনীর কর্তব্য।’
২০০৯ সালের ফেব্রুয়ারিতে বিডিআর বিদ্রোহের সময় সশস্ত্র বাহিনী যে ‘বড় ধাক্কা’ খেয়েছিল, তার উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ওই ঘটনার পরিণতি দেশবাসীর ভালো করেই জানা আছে।
তিনি বলেন, কেবল অতীতের দিকে তাকিয়ে থাকার পরিবর্তে, একটি ফ্যাসিবাদমুক্ত বাংলাদেশে অতীত অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে প্রতিটি রাষ্ট্রীয় ও সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানের মর্যাদা ও পূর্ণ সততার সঙ্গে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করার সুযোগ তৈরি হয়েছে।
তারেক রহমান বলেন, যারা সশস্ত্র বাহিনী, সরকার বা জনপ্রশাসনে কাজ করছেন, তারা সবাই বাংলাদেশের নাগরিক। এই দেশ আমাদের সবার। আমরা দেশে বা বিদেশে যেখানেই কাজ করি না কেন, আজ আমাদের অঙ্গীকার হওয়া উচিত সঠিকভাবে এবং দায়িত্বশীলতার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করা।
বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জের কথা তুলে ধরে তিনি বলেন, বিশ্ব এখন একটি জটিল পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, যেখানে পরিবর্তিত ভূ-রাজনৈতিক বাস্তবতা এবং দ্রুত প্রযুক্তির উন্নতির কারণে শান্তিরক্ষা মিশনগুলো আরও ঝুঁকিপূর্ণ ও বহুমুখী হয়ে উঠেছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রচলিত যুদ্ধ ছাড়াও সাইবার যুদ্ধ, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার অপব্যবহার, গণমাধ্যম প্রচারণা এবং জলবায়ু-জনিত নিরাপত্তা ঝুঁকি বৈশ্বিক শান্তির জন্য নতুন বাধা হিসেবে আবির্ভূত হয়েছে। তিনি আরও যোগ করেন যে ভবিষ্যতের শান্তিরক্ষা মিশনগুলোকে আরও আধুনিক, দূরদর্শী ও প্রযুক্তি-ভিত্তিক হতে হবে।
তিনি আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে শান্তি, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং মানবতার প্রতি বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশ স্বাধীন রাষ্ট্রগুলোর স্বাধীনতা, সার্বভৌমত্ব এবং পারস্পরিক শ্রদ্ধার নীতিতে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করে।
সরকারপ্রধান বলেন, ‘একটি স্বাধীন ও আত্মমর্যাদাশীল জাতি হিসেবে বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক অঙ্গনে শান্তি, বৈশ্বিক স্থিতিশীলতা এবং মানবতার প্রতি সর্বদা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ থাকবে।’
তিনি বলেন, বাংলাদেশি শান্তিরক্ষীরা তাদের আন্তরিকতা, পেশাদারিত্ব এবং কর্তব্যপরায়ণতার মাধ্যমে বিশ্বব্যাপী সম্মান অর্জন করেছে। শান্তিরক্ষা মিশনের প্রতিটি সদস্য বাংলাদেশের প্রতিনিধিত্ব করে এবং বিদেশে দেশের সম্মান বয়ে নিয়ে বেড়ায়।
তারেক রহমান উল্লেখ করেন, ২ লাখেরও বেশি বাংলাদেশি শান্তিরক্ষী ৪৩টি দেশে ৬৩টি মিশনে দায়িত্ব পালন করেছেন, অন্যদিকে বর্তমানে প্রায় ৫ হাজার ৮৬০ জন শান্তিরক্ষী ১০টি মিশনে নিয়োজিত রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, হাইতিতে একটি নতুন মিশনের প্রস্তুতি চলছে।
তিনি নারী শান্তিরক্ষীদের অবদানেরও প্রশংসা করে বলেন, জাতিসংঘ মিশনে বাংলাদেশের কন্টিনজেন্টের প্রায় ১১ শতাংশ নারী সদস্য, যারা অত্যন্ত চ্যালেঞ্জিং পরিবেশে সাহসের সঙ্গে দায়িত্ব পালন করছেন।
৯ দিন আগে
ব্যভিচার মামলায় ক্রিকেটার নাসির-তামিমা দম্পতির খালাস
অন্যের স্ত্রীকে প্রলুব্ধ করে নিয়ে যাওয়া, ব্যভিচার ও মানহানির অভিযোগে করা মামলায় ক্রিকেটার নাসির হোসাইন ও তার স্ত্রী তামিমা সুলতানা তাম্মিকে খালাস দিয়েছেন আদালত।
বুধবার (১০ জুন) ঢাকার অতিরিক্ত চিফ মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট জশিতা ইসলাম এই রায় দেন।
রায় ঘোষণার সময় তারা উভয়ই আদালতে হাজির ছিলেন।
আসামিদের বিরুদ্ধে অভিযোগ সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণিত না হওয়ায় আদালত তাদের খালাস দিয়েছেন বলে রায়ে উল্লেখ করা হয়েছে।
এর আগে, গত ৬ মে উভয় পক্ষের যুক্তি উপস্থাপন শেষে রায়ের জন্য আজকের দিন ধার্য করেন আদালত।
আসামিপক্ষের আইনজীবী আজিজুর রহমান দুলু রায়ের তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
২০২১ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি তামিমার প্রথম স্বামী মো. রাকিব হাসান বাদী হয়ে এ মামলা করেন।
ওই দিনই আদালত বাদীর জবানবন্দি গ্রহণ করে পুলিশ ব্যুরো অব ইনভেস্টিগেশনকে (পিবিআই) তদন্তের নির্দেশ দেন।
রাকিব মামলার অভিযোগে বলেন, ২০১১ সালের ২৬ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও রাকিবের বিয়ে হয়। তাদের আট বছরের একটি সন্তানও রয়েছে। তামিমা পেশায় উড়োজাহাজের কেবিন ক্রু।
২০২১ সালের ১৪ ফেব্রুয়ারি তামিমা ও ক্রিকেটার নাসির হোসেনের বিয়ের ছবি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে রাকিবের নজরে আসে। পরে পত্রিকায় তিনি বিস্তারিত জানতে পারেন।
মামলায় আরও উল্লেখ করা হয়, রাকিবের সঙ্গে বৈবাহিক সম্পর্ক থাকা অবস্থায় তামিমা নাসিরকে বিয়ে করেছেন, যা ধর্মীয় ও রাষ্ট্রীয় আইন অনুযায়ী সম্পূর্ণ অবৈধ। নাসির তামিমাকে প্রলুব্ধ করে নিজের কাছে নিয়ে গেছেন বলে অভিযোগ করা হয়। তামিমা ও নাসিরের এমন অনৈতিক ও অবৈধ সম্পর্কের কারণে রাকিব ও তার আট বছর বয়সী সন্তান মানসিকভাবে বিপর্যস্ত হয়ে পড়েছে। আসামিদের এ ধরনের কার্যকলাপে রাকিবের চরমভাবে মানহানি হয়েছে, যা তার জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।
পরে পিবিআই তদন্ত করে অভিযোগের সত্যতা পেয়ে আদালতে প্রতিবেদন দাখিল করলে আদালত আসামিদের বিরুদ্ধে অপরাধ আমলে নেন। পরে অভিযোগ অভিযোগ গঠন করে বিচার শুরুর নির্দেশ দেওয়া হয়। বিচার চলাকালে বাদীপক্ষের ১০ জন সাক্ষীর সাক্ষ্য গ্রহণ করা হয়।
৯ দিন আগে