বাংলাদেশ
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের পারফরম্যান্স বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের অনুপ্রাণিত করবে: ফরাসি রাষ্ট্রদূত
বিশ্বকাপে ফ্রান্সের অনুপ্রেরণাদায়ক পারফরম্যান্স বাংলাদেশের তরুণ ফুটবলারদের উৎসাহিত করবে এবং দেশের ফুটবলের মানোন্নয়নে ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন বাংলাদেশে ফ্রান্সের রাষ্ট্রদূত জ্যঁ-মার্ক সেরে-শার্লে। তিনি বলেন, ফুটবলের প্রতি বাংলাদেশের মানুষের অসাধারণ ভালোবাসা ও উদ্দীপনার কারণে দেশটি ধীরে ধীরে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় জায়গা করে নেবে এবং একটি উচ্চমানের দল গড়ে তুলতে সক্ষম হবে।
স্পেনের বিপক্ষে বিশ্বকাপের সেমিফাইনাল ম্যাচের আগে ইউএনবিকে দেওয়া এক বিশেষ সাক্ষাৎকারে রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘ফ্রান্সেও মিশেল প্লাতিনি কিংবা জিনেদিন জিদানের মতো খেলোয়াড়রা পুরো একটি প্রজন্মকে অনুপ্রাণিত করেছিলেন। যেমন এমবাপ্পের বয়স ছিল মাত্র সাত বছর, যখন ২০০৬ সালে ফ্রান্স বিশ্বকাপের ফাইনালে উঠেছিল। নিঃসন্দেহে সেটি তাকে স্বপ্ন দেখাতে এবং লেগে থাকতে অনুপ্রাণিত করেছিল।’
তিনি বলেন, ‘আমি বিশ্বাস করি, ফ্রান্স এ ধরনের অনুপ্রেরণাই দিতে পারে। আর আমি মনে করি, এই দেশে ফুটবলের প্রতি যে অসাধারণ ভালোবাসা ও উচ্ছ্বাস রয়েছে, তার ভিত্তিতে বাংলাদেশ ধীরে ধীরে বড় আন্তর্জাতিক প্রতিযোগিতায় অংশ নেবে এবং একটি উচ্চমানের দল গড়ে তুলবে।’
ফুটবল কীভাবে বাংলাদেশ ও ফ্রান্সের সাংস্কৃতিক সম্পর্ক আরও দৃঢ় করতে পারে—এমন প্রশ্নের উত্তরে রাষ্ট্রদূত বলেন, বিশ্বকাপে ফরাসি জাতীয় দলের দুর্দান্ত পারফরম্যান্স ফ্রান্সকে বিশ্বের সামনে ইতিবাচকভাবে তুলে ধরতে সহায়তা করেছে।
তিনি বলেন, এটি একটি ঐক্যবদ্ধ, গতিশীল, কল্পনাশক্তিসম্পন্ন ও দক্ষ ফরাসি দলের প্রতিচ্ছবি, যেখানে অসাধারণ মানের খেলোয়াড়দের পাশাপাশি শক্তিশালী দলীয় চেতনা রয়েছে।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ‘আমি মনে করি, এটি ফ্রান্সের মূল্যবোধেরই প্রতিফলন। আমাদের জাতীয় মূলমন্ত্রে রয়েছে—স্বাধীনতা, সাম্য ও ভ্রাতৃত্ব। আমরা সাধারণত শেষ শব্দটি নিয়ে কম কথা বলি, কিন্তু এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এই দলের মধ্যে সত্যিকারের ভ্রাতৃত্ববোধ রয়েছে। কঠিন সময়ে তারা একে অপরের পাশে দাঁড়ায়।’
তিনি বলেন, অধিনায়ক কিলিয়ান এমবাপ্পে নিজেকে দলের স্বার্থে নিবেদিত রেখেছেন। ‘আমি মনে করি, এটি সত্যিই একটি সুন্দর বার্তা এবং এটি আমাদের বাংলাদেশি বন্ধুদের ফ্রান্স সফরে আরও উৎসাহিত করবে।’
বাংলাদেশে ফ্রান্স জাতীয় দলের অসংখ্য সমর্থকের উদ্দেশে তিনি বলেন, তাদের সমর্থন ও আস্থার জন্য তিনি বিশেষভাবে কৃতজ্ঞ।
রাষ্ট্রদূত বলেন, ফ্রান্স সবসময় সুন্দর ফুটবল, প্রতিভা, দলীয় চেতনা এবং পারস্পরিক সংহতি নিয়ে মাঠে নামার চেষ্টা করে।
তিনি বলেন, ‘ফলাফলের বাইরেও ম্যাচটি যেন উপভোগ্য হয়, সেটি গুরুত্বপূর্ণ। আমি বিশ্বাস করি, প্রতিপক্ষকে চমকে দেওয়া, ম্যাচে নতুন মাত্রা যোগ করা এবং যাকে আমরা “ফরাসি শৈলী” বলি, তা এই দলের স্বভাবগত বৈশিষ্ট্যের অংশ। তাই আপনাদের এই উচ্ছ্বাসের জন্য ধন্যবাদ জানাই। আমি নিশ্চিত, ফরাসি দল সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে এবং দারুণ একটি ম্যাচ উপহার দেবে। আর অবশ্যই আমি আশা করি, “লে ব্লু” জয়ী হবে।’
বন্ধুত্বপূর্ণ দুই দেশ ফ্রান্স ও স্পেনের মধ্যে ক্রীড়াক্ষেত্রে দারুণ প্রতিদ্বন্দ্বিতা থাকলেও দুই দেশের সম্পর্ক অত্যন্ত ঘনিষ্ঠ বলেও মন্তব্য করেন ফরাসি রাষ্ট্রদূত।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি, তাদের মধ্যে খুব শক্তিশালী প্রতিযোগিতা রয়েছে, তবে সেটি কেবল খেলাধুলায়। ফ্রান্স ও স্পেন দুটি বন্ধুত্বপূর্ণ এবং প্রতিবেশী দেশ। আমরা একে অপরকে খুব ভালোভাবে চিনি এবং জীবন ও ফুটবল—উভয় ক্ষেত্রেই পরস্পরকে সম্মান করি।’
স্পেন দলকে অত্যন্ত শক্তিশালী উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘তাদের দলে অসাধারণ কিছু খেলোয়াড় রয়েছে। তাই এমন একটি দলের বিপক্ষে সেমিফাইনাল খেলতে পারছি বলে আমরা খুবই রোমাঞ্চিত।’
স্পেনের বিপক্ষে সেমিফাইনালের আগে নিজের প্রস্তুতি সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘খুবই সহজ। আমি আমার ফোনটি হাতে নিয়ে ঢাকায় নিযুক্ত স্পেনের রাষ্ট্রদূত গ্যাব্রিয়েলকে (গ্যাব্রিয়েল মারিয়া সিস্তিয়াগা ওচোয়া দে চিনচেত্রু) ফোন করেছি। আমরা একসঙ্গে ম্যাচটি দেখার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।’
রাষ্ট্রদূত আরও বলেন, ‘ফ্রান্স স্পেনের বিপক্ষে খেলছে বলে আমি খুবই উচ্ছ্বসিত। এই দুই দলের ম্যাচ সবসময়ই অত্যন্ত প্রতিদ্বন্দ্বিতাপূর্ণ ও দৃষ্টিনন্দন হয়। আমার মনে আছে, ১৯৮৪ সালের ইউরোর ফাইনালে মিশেল প্লাতিনির নেতৃত্বে ফ্রান্স খুব অল্প ব্যবধানে লুইস আরকোনাদার নেতৃত্বাধীন স্পেনকে হারিয়েছিল। সেটিই ছিল আমার দেখা প্রথম ফ্রান্স-স্পেন ম্যাচ।’
টানা তৃতীয়বারের মতো ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে ওঠার দ্বারপ্রান্তে রয়েছে ফ্রান্স। তবে তার আগে ১৪ জুলাই বিশ্ব ফুটবলের সবচেয়ে সফল দুই দলের মধ্যকার বহুল প্রতীক্ষিত সেমিফাইনালে স্পেনকে হারানোর কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করতে হবে।
ফ্রান্স ফাইনালে উঠলে ঢাকায় অবস্থানরত পুরো ফরাসি সম্প্রদায়কে নিয়ে একসঙ্গে খেলা দেখার পরিকল্পনার কথাও জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘কেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে গিয়ে ম্যাচটি দেখব না? আমি জানি, সেখানে ম্যাচ চলাকালে অসাধারণ পরিবেশ থাকে এবং দর্শকেরা দুই দলের প্রতিই দারুণ সম্মান প্রদর্শন করেন।’
১২ ঘণ্টা আগে
নির্ধারিত তালিকার বাইরে স্বর্ণের মূল্যতালিকা প্রকাশে বাজুসের নিষেধাজ্ঞা
বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস) জানিয়েছে, ‘বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং’ কর্তৃক নির্ধারিত মূল্য তালিকাই দেশের সব জুয়েলারি প্রতিষ্ঠানের জন্য প্রযোজ্য। এর বাইরে অন্য কোনো মূল্য তালিকা প্রকাশ বা প্রচার সম্পূর্ণ নিষিদ্ধ।
রবিবার (১২ জুলাই) এক সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, সম্প্রতি দেশের বিভিন্ন জেলা ও উপজেলায় বাজুসের নির্ধারিত সরকারি মূল্য তালিকার পরিবর্তে জেলা শাখা, উপজেলা শাখা, সমবায় সমিতি, বাজার সমিতি বা মার্কেট সমিতির নামে ভিন্ন মূল্য তালিকা প্রচার করা হচ্ছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, এ ধরনের অননুমোদিত মূল্য তালিকা তৈরি ও প্রচারের ফলে একদিকে সাধারণ জুয়েলারি ব্যবসায়ীরা ক্ষতিগ্রস্ত হচ্ছেন, অন্যদিকে ক্রেতারাও বিভ্রান্ত হচ্ছেন। এটি বাজুসের শৃঙ্খলা ও সুনামের পরিপন্থী।
বাজুস আরও জানায়, জেলা ও উপজেলা শাখায় শুধুমাত্র ‘বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং’-এর চেয়ারম্যান স্বাক্ষরিত অফিসিয়াল মূল্য তালিকা ও বিজ্ঞপ্তিই প্রকাশ ও প্রচার করা যাবে।
সংগঠনটি সতর্ক করে দিয়ে বলেছে, এ সতর্কীকরণ বিজ্ঞপ্তি জারির পর কোনো প্রতিষ্ঠান, জেলা বা উপজেলা শাখা যদি বাজুস নির্ধারিত তালিকার বাইরে ভিন্ন কোনো মূল্য তালিকা বা ভিন্ন স্বাক্ষরে কোনো বিজ্ঞপ্তি প্রকাশ ও প্রচার করে, তাহলে তাদের বিরুদ্ধে কঠোর সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
১৩ ঘণ্টা আগে
সীমিত সক্ষমতা নিয়েই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি: প্রতিমন্ত্রী হাবিব
ঢাকা-৯ সংসদীয় আসনের সংসদ সদস্য এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ ও রেলপথ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হাবিবুর রশিদ হাবিব বলেছেন, সীমিত সক্ষমতা নিয়েই মানুষের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। সবার অংশগ্রহণে এই উদ্যোগ ভবিষ্যতেও অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১২ জুলাই) রাজধানীর বাসাবো কমিউনিটি সেন্টারে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের সহযোগিতায় অসহায় ও দুস্থদের মাঝে আর্থিক সহায়তার চেক প্রদান অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
তিনি বলেন, ‘ঢাকা-৯ আমাদের একটি পরিবার। আমরা ঐক্যবদ্ধভাবে আমাদের সীমাবদ্ধ সক্ষমতা দিয়ে সকলের পাশে থাকার চেষ্টা করছি। আমাদের এই কর্মকাণ্ড শুরু হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, আমরা সবাইকে নিয়ে এগিয়ে যেতে চাই। আমাদের যতটুকু সক্ষমতা রয়েছে, তার সর্বোচ্চটুকু ব্যবহার করতে চাই।’
এ সময় বৃষ্টির মধ্যেও দেশের মানুষের জন্য আন্তরিকতার সঙ্গে কাজ করার জন্য দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা ও ত্রাণ মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তা ও প্রশাসনের প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন তিনি।
অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের উদ্দেশ্যে প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, এই সরকার অনেক ধরনের প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও আন্তর্জাতিক বিভিন্ন সমস্যার মুখোমুখি হয়েছে। তারপরও প্রধানমন্ত্রী জনগণের পাশে থাকার এবং তাদের দুঃখ-কষ্ট লাঘবের চেষ্টা করছেন। আমরাও ঢাকা-৯ পরিবার হিসেবে আপনাদের পাশে আছি, থাকব। আপনাদের নিয়ে আগামী দিনে এগিয়ে যাব।’
এ সময় স্থানীয় বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
১৩ ঘণ্টা আগে
ঢাকা-কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক
গত কয়েক দিনের দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়া, ভারী বৃষ্টিপাত ও পাহাড়ি ঢলে চট্টগ্রাম-কক্সবাজার রেলপথের জানআলীহাট ও ষোলশহর স্টেশনের মধ্যবর্তী অংশ প্লাবিত হয়ে ট্রেন চলাচলের অনুপযোগী হয়ে পড়লেও ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামত শেষে এ রুটে ট্রেন চলাচল স্বাভাবিক হয়েছে।
রবিবার (১২ জুলাই) বাংলাদেশ রেলওয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
রেলওয়ের জনসংযোগ পরিচালক আনিসুর রহমান জানান, বন্যা পরিস্থিতির কিছুটা উন্নতি হওয়ায় বাংলাদেশ রেলওয়ে দ্রুত ক্ষতিগ্রস্ত রেললাইন মেরামতের উদ্যোগ নেয় এবং অল্প সময়ের মধ্যেই জানআলীহাট-ষোলশহর সেকশন ট্রেন চলাচলের উপযোগী করে তোলে।
এর ফলে আজ রবিবার দুপুর দেড়টা ঢাকা থেকে ছেড়ে আসা পর্যটক এক্সপ্রেস চট্টগ্রাম থেকে কক্সবাজারের উদ্দেশ্যে যাত্রা অব্যাহত রাখে।
বাংলাদেশ রেলওয়ে জানায়, আজ থেকে ঢাকা-কক্সবাজার, চট্টগ্রাম-কক্সবাজার, কক্সবাজার-চট্টগ্রাম এবং কক্সবাজার-ঢাকা রুটের সব ট্রেন নিয়মিত চলাচল করবে।
আকস্মিক প্রাকৃতিক দুর্যোগের কারণে যাত্রীদের রেলযাত্রায় বিঘ্ন ঘটায় বাংলাদেশ রেলওয়ে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করেছে।
১৪ ঘণ্টা আগে
বন্যার আগেই বান্দরবানে আগাম নগদ সহায়তা ও সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু ডব্লিউএফপির
পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান জেলায় বন্যার ঝুঁকিতে থাকা মানুষের জন্য আগাম সহায়তা এবং দুর্যোগ-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করেছে জাতিসংঘের বিশ্ব খাদ্য কর্মসূচি (ডব্লিউএফপি)।
রবিবার (১২ জুলাই) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংস্থাটি এ তথ্য জানায়।
বিজ্ঞপ্তিতে ডব্লিউএফপি জানায়, আগাম সহায়তা কর্মসূচির আওতায় আবহাওয়ার পূর্বাভাস এবং পূর্বনির্ধারিত সূচকের ভিত্তিতে দুর্যোগ আঘাত হানার আগেই মানবিক সহায়তা পৌঁছে দেওয়া হয়। এর অংশ হিসেবে বন্যার উচ্চ ঝুঁকিতে থাকা পরিবারগুলোর কাছে মোবাইল আর্থিক সেবার মাধ্যমে পাঁচ হাজার টাকা করে নগদ সহায়তা দেওয়া হয়েছে।
পাশাপাশি দুর্যোগ-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা কার্যক্রমও চালু করেছে সংস্থাটি। এর আওতায় সরকারের সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিতে অন্তর্ভুক্ত ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোকে জরুরি নগদ সহায়তা (টপ-আপ) প্রদান করা হয়েছে।
ডব্লিউএফপির সহযোগী সংস্থা বলিপাড়া নারী কল্যাণ সমিতির (বিএনকেএস) মাধ্যমে বাস্তবায়িত এ যৌথ উদ্যোগে বান্দরবান সদর ও লামা উপজেলায় ১৫ হাজার ৬০০টির বেশি পরিবার, অর্থাৎ প্রায় ৭৫ হাজার মানুষ নগদ সহায়তা পেয়েছেন।
টানা ভারী বৃষ্টিপাতের কারণে পার্বত্য চট্টগ্রামের বান্দরবান, রাঙামাটি ও খাগড়াছড়ি জেলায় বন্যা পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে। আবহাওয়ার পূর্বাভাস অনুযায়ী আগামী কয়েক দিন ভারী বৃষ্টিপাত অব্যাহত থাকতে পারে, ফলে বন্যা পরিস্থিতির আরও অবনতি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে।
ডব্লিউএফপির বাংলাদেশ প্রতিনিধি ও কান্ট্রি ডিরেক্টর কোকো উশিয়ামা বলেন, ‘বাংলাদেশে জলবায়ুজনিত দুর্যোগের ঘনত্ব ও তীব্রতা বাড়ছে। তাই দুর্যোগের আগেই পদক্ষেপ নেওয়া এখন আগের যেকোনো সময়ের চেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ। বন্যার সবচেয়ে খারাপ প্রভাব পড়ার আগেই সহযোগিতা পৌঁছে দিয়ে আমরা পরিবারগুলোকে খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে, জীবিকা ও সম্পদ রক্ষা করতে সহায়তা করছি। একই সঙ্গে জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থাকে আরও শক্তিশালী ও কার্যকরভাবে ব্যবহার করে সংকটের সময় ব্যাপক পরিসরে ঝুঁকিপূর্ণ মানুষের কাছে দ্রুত সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হচ্ছে।’
সংস্থাটি জানায়, জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকিতে থাকা বিশ্বের অন্যতম দেশ বাংলাদেশ। ঘন ঘন ও তীব্র বন্যা দেশের বিভিন্ন অঞ্চলের মতো পার্বত্য চট্টগ্রামেও মানুষের জীবন, জীবিকা ও খাদ্য নিরাপত্তার ওপর মারাত্মক প্রভাব ফেলছে।
ডব্লিউএফপি জানায়, ২০১৭ সাল থেকে বাংলাদেশ সরকারের নেতৃত্বে এবং বিভিন্ন অংশীদারের সহায়তায় দেশে আগাম সহায়তা কর্মসূচি বাস্তবায়ন করে আসছে তারা। ডব্লিউএফপি ও এর অংশীদারদের গবেষণায় দেখা গেছে, আগাম সহায়তায় প্রতি এক ডলার বিনিয়োগে দুর্যোগ-পরবর্তী প্রচলিত জরুরি সহায়তার তুলনায় সর্বোচ্চ সাত ডলারের ক্ষয়ক্ষতি এড়ানো এবং অতিরিক্ত সুফল অর্জন করা সম্ভব।
একই সঙ্গে জলবায়ুজনিত দুর্যোগ মোকাবিলায় জাতীয় সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থা আরও কার্যকর ও দ্রুত সাড়া দেওয়ার সক্ষমতা বাড়াতে বাংলাদেশ সরকারের সঙ্গে কাজ করে যাচ্ছে ডব্লিউএফপি।
সংস্থাটি জানায়, দুর্যোগ-সংবেদনশীল সামাজিক সুরক্ষা ব্যবস্থার মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতিতে বিদ্যমান সরকারি সামাজিক সুরক্ষা কর্মসূচিকে দ্রুত সম্প্রসারণ করে ক্ষতিগ্রস্ত ও ঝুঁকিপূর্ণ পরিবারগুলোর কাছে সময়মতো সহায়তা পৌঁছে দেওয়া সম্ভব হয়, যাতে তারা আরও গভীর সংকটে পতিত না হয়।
১৪ ঘণ্টা আগে
১ জানুয়ারি প্রত্যেক শিক্ষার্থীর হাতে পাঠ্যবই পৌঁছে দিতে কাজ করছে সরকার: মাহদী আমিন
আগামী ১ জানুয়ারি দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর হাতে নতুন পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রীর শিক্ষা, প্রাথমিক ও গণশিক্ষা বিষয়ক উপদেষ্টা এবং প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র মাহদী আমিন।
রবিবার (১২ জুলাই) আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউট মিলনায়তনে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালায় তিনি এ কথা বলেন।
মাহদী আমিন বলেন, ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বা ‘আনন্দময় শিখন’ বইটিকে প্রচলিত পাঠ্যবইয়ের তুলনায় আরও ব্যতিক্রমধর্মী ও ভিন্নধর্মী করা উচিত। ক্রীড়া ও সংস্কৃতি বইয়ের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এটি এমনভাবে তৈরি করতে হবে, যাতে শিক্ষার্থীদের কাছে শেখা আরও আনন্দদায়ক হয়ে ওঠে।
তিনি বলেন, প্রচলিত পাঠ্যবইগুলো সাধারণত লেখানির্ভর হওয়ায় অনেক সময় শিক্ষার্থীদের কাছে সেগুলো আকর্ষণীয় মনে হয় না। তাই ‘লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস’ বইটিতে আরও বেশি ছবি, সারণি, চিত্র, ডায়াগ্রাম এবং অন্যান্য দৃশ্যমান উপাদান যুক্ত করা প্রয়োজন, যাতে শিক্ষার্থীদের বইটি পড়ার প্রতি আগ্রহ তৈরি হয় এবং তারা আনন্দের সঙ্গে শিখতে পারে।
মাহদী আমিন বলেন, বইটির শুরুতে একটি বিস্তারিত ভূমিকা থাকা প্রয়োজন। এতে বইটির উদ্দেশ্য, শিক্ষা ব্যবস্থায় এর দার্শনিক ভিত্তি, ব্যবহারিক প্রয়োগ এবং প্রাসঙ্গিকতা তুলে ধরা হলে এটি আরও সমৃদ্ধ হবে।
কারিগরি শিক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, এ শিক্ষাব্যবস্থা দীর্ঘদিন ধরে চালু থাকলেও এখনো এটিকে ঘিরে একটি সামাজিক সংকোচ বা নেতিবাচক ধারণা রয়েছে। ফলে অনেক ভালো পরিবারের শিক্ষার্থীরাও কারিগরি শিক্ষায় আসতে চায় না।
তিনি বলেন, কারিগরি শিক্ষার পাঠ্যবইয়ে একটি প্রারম্ভিক অধ্যায় যুক্ত করা যেতে পারে, যেখানে দৈনন্দিন জীবনে এর ব্যবহারিক গুরুত্ব এবং কীভাবে কারিগরি দক্ষতা বাস্তব জীবনের বিভিন্ন সমস্যার সমাধানে সহায়তা করতে পারে, তা তুলে ধরা হবে। কারণ, কারিগরি শিক্ষার মূল বিষয়ই হলো মানুষের মধ্যে এ বিষয়ে আগ্রহ ও প্রেরণা সৃষ্টি করা।
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমাদের মূল দর্শন, বাংলাদেশের একেবারে প্রান্তিক পর্যায়ের স্কুল থেকে শুরু করে ঢাকার সেরা স্কুল পর্যন্ত প্রত্যেকটি স্কুলে কারিগরি শিক্ষার একটি ল্যাব বাধ্যতামূলক করা হবে। এমনকি বিজ্ঞান বিভাগের প্রথম সারির শিক্ষার্থীও যেন অন্তত কিছুটা হলেও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করে। সুতরাং, মোটিভেশনের বিষয়টি আনতে হবে যে, কী কারণে বাংলাদেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীরই অন্তত কিছুটা হলেও কারিগরি শিক্ষা গ্রহণ করা প্রয়োজন।’
তিনি বলেন, নতুন চারটি বই প্রণয়নের পাশাপাশি পূর্ববর্তী সময়ে প্রণীত পাঠ্যবইয়ের ভুল ও ইতিহাস বিকৃতির বিষয়গুলোও সংশোধনের কাজ চলছে। এ বিষয়ে বিশেষজ্ঞদের সঙ্গে একাধিক বৈঠক হয়েছে এবং এটি একটি চলমান প্রক্রিয়া।
মাহদী আমিন বলেন, ‘আমরা বলেছি, ইতিহাসের নির্মোহ বহিঃপ্রকাশ যেন থাকে। আমাদের ইতিহাসকে আমাদের মতো করে সাজানোর প্রয়োজন নেই। নির্বাচিত সরকার, জনগণের সরকার এবং ইতিহাসের প্রতিটি পালাবদলে বিএনপি সঠিক অবস্থানে ছিল এবং জনগণের আকাঙ্ক্ষার বহিঃপ্রকাশ ঘটিয়েছে। আমরা চাই, ইতিহাসের নির্মোহ বিশ্লেষণের মাধ্যমে যে সত্য, সেটিই উঠে আসুক।’
তিনি বলেন, শিক্ষাক্রম উন্নয়ন একটি চলমান প্রক্রিয়া। প্রতি বছরই সংযোজন, বিয়োজন, পরিবর্তন ও পরিবর্ধনের প্রয়োজন হয় এবং প্রয়োজনীয় পরিমার্জনের কাজ অব্যাহত রয়েছে।
মাহদী আমিন বলেন, সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর একটি টিম গঠন করে মাত্র তিন থেকে চার মাসের মধ্যে চারটি নতুন বিষয় যুক্ত করা এবং বইগুলোর কাজ এগিয়ে নেওয়া একটি বড় মহাযজ্ঞ। এজন্য জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ড (এনসিটিবি), বিষয়বিশেষজ্ঞ এবং সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘ডেভেলপমেন্ট ইজ অ্যা কন্টিনিউয়াস প্রসেস। বিশেষ করে এই চারটি বইয়ের বিষয়ে মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর অনেক আবেগ রয়েছে। এটি তার দীর্ঘদিনের কর্মপরিকল্পনারও একটি গুরুত্বপূর্ণ অংশ। সামনে যেহেতু প্রায় এক মাস সময় রয়েছে, তাই রিভিশনের জন্য যতটুকু প্রয়োজন, সেটুকু কাজ আরও করা উচিত।’
মাহদী আমিন বলেন, ‘পুরো বাংলাদেশ এই বইগুলোর দিকে তাকিয়ে আছে। অবশ্যই খেলাধুলা গুরুত্বপূর্ণ, সংস্কৃতি গুরুত্বপূর্ণ, কারিগরি শিক্ষা গুরুত্বপূর্ণ; তবে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ “লার্নিং উইথ হ্যাপিনেস”, কারণ এটি আমাদের শিক্ষা ব্যবস্থার মৌলিক মূল্যবোধের সঙ্গে সরাসরি সম্পর্কিত।’
তিনি বইটির পাঠ্যক্রম আরও আকর্ষণীয়, প্রাসঙ্গিক এবং প্রধানমন্ত্রীর লক্ষ্য ও ভাবনার সঙ্গে আরও সামঞ্জস্যপূর্ণ করতে সংশ্লিষ্ট সবার প্রতি আহ্বান জানান।
তিনি বলেন, ‘আমাদের সবার জন্য এখন একটা বড় চ্যালেঞ্জ সামনে রয়েছে। আমাদের লক্ষ্য, আগামী ১ জানুয়ারি যেন দেশের প্রতিটি শিক্ষার্থীর দোরগোড়ায় পাঠ্যবই পৌঁছে দেওয়া যায়। সে হিসেবে বই বিতরণের লজিস্টিকসের জন্য প্রায় এক মাস সময় প্রয়োজন হবে।’
মাহদী আমিন জানান, নির্ধারিত সময়সূচি অনুযায়ী নভেম্বরের মাঝামাঝি সময়ের মধ্যে প্রাথমিক পর্যায়ের প্রায় ৩১ কোটি বই প্রস্তুত রাখতে হবে। এরপর সারা দেশে বই প্রকাশ, মুদ্রণ ও বিতরণের বিশাল কর্মযজ্ঞ সফলভাবে সম্পন্ন করতে হবে।
তিনি বলেন, ‘আমরা ইতোমধ্যেই মাননীয় প্রধানমন্ত্রীকে কথা দিয়েছি যে, এই মাসের মধ্যেই আমরা বইগুলোর ফাইনাল কপি তার কাছে উপস্থাপন করব। তিনি সেগুলো পর্যালোচনা করবেন এবং আমরা যে কাজ করেছি, তা তার চিন্তাধারা ও প্রত্যাশার সঙ্গে কতটা সামঞ্জস্যপূর্ণ, সে বিষয়ে তার মতামত দেবেন। এরপর তার পরামর্শ ও মতামতের ভিত্তিতে প্রয়োজন অনুযায়ী আবারও পরিবর্তন, সংযোজন, বিয়োজন ও অন্যান্য প্রয়োজনীয় পরিমার্জন করা হবে।’
১৪ ঘণ্টা আগে
টেকসই ও বৈষম্যহীন সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে: স্পিকার
বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘স্ট্রেন্থেনিং পার্লামেন্টস ক্যাপাসিটি ইন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট ইস্যুজ (এসপিসিপিডি)’ প্রকল্পের আওতায় টেকসই, বৈষম্যহীন ও মানবসম্পদকেন্দ্রিক সমাজ প্রতিষ্ঠায় সংসদ সদস্যদের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রয়েছে। জনসংখ্যার রূপান্তর-সংশ্লিষ্ট বিষয়গুলো সংসদে আলোচনায় নিয়ে আসা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
রবিবার (১২ জুলাই) জাতীয় সংসদের শপথকক্ষে এসপিসিপিডি প্রকল্পের আওতায় ‘পার্লামেন্টস রোল ইন রিয়ালাইজিং পপুলেশন ডিভিডেন্ডস, এসডিজিস অ্যান্ড আইসিপিডি কমিটমেন্টস’ শীর্ষক অবহিতকরণ কর্মশালায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল, এমপির সভাপতিত্বে স্বাগত বক্তব্য দেন সংসদ সচিবালয়ের সচিব ব্যারিস্টার মো. গোলাম সরওয়ার ভুঁইয়া। বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম মনি, এমপি।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীর বিক্রম বলেন, বাংলাদেশ একটি ঐতিহাসিক মুহূর্তে দাঁড়িয়ে আছে। বিশ্ব জনসংখ্যা দিবসের জাতীয় প্রতিপাদ্য ‘তরুণদের আশা-আকাঙ্ক্ষা বাস্তবায়ন করি, আজকের প্রত্যয়ে সুন্দর আগামী গড়ি’ বাস্তবায়ন নির্ভর করছে সরকার গৃহীত পদক্ষেপের ওপর। তিনি বলেন, তরুণদের উন্নয়নের মাধ্যমে জনমিতিক লভ্যাংশকে কাজে লাগাতে হবে।
স্পিকার বলেন, জাতিসংঘ জনসংখ্যা তহবিল (ইউএনএফপিএ) বাংলাদেশ-এর কৌশলগত সহায়তায় জাতীয় সংসদ সদস্যদের এ ফোরাম বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন অব পার্লামেন্টারিয়ানস অন পপুলেশন অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট (বিএপিপিডি) গঠনের মাধ্যমে আইন ও নীতি নির্ধারণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে। এর আওতায় বাল্যবিয়ে প্রতিরোধ ও আইন শক্তিশালীকরণ, কৈশোরকালীন প্রজনন স্বাস্থ্য ও অধিকার, জনমিতিক লভ্যাংশ অর্জনসহ বিভিন্ন বিষয় সংশ্লিষ্ট সংসদীয় কমিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হলে লক্ষ্যমাত্রা অর্জন সহজ হবে। তিনি স্বাস্থ্য, লিঙ্গসমতা, যুব উন্নয়ন এবং জলবায়ু পরিবর্তন-সংক্রান্ত লক্ষ্য বাস্তবায়নেও এ প্রকল্প গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
১৫ ঘণ্টা আগে
জলাবদ্ধতাকবলিত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের নির্দেশ প্রধানমন্ত্রীর
অতিবৃষ্টির কারণে সৃষ্টি হওয়া জলাবদ্ধতায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের জীবন-সম্পদ রক্ষা, দ্রুত ত্রাণ ও চিকিৎসাসেবা নিশ্চিত এবং উদ্ভূত পরিস্থিতি মোকাবিলায় সর্বোচ্চ সতর্কতা ও সমন্বয়ের সঙ্গে কাজ করতে সংশ্লিষ্ট সব সংস্থা ও মাঠ প্রশাসনকে নির্দেশ দিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
রবিবার (১২ জুলাই) দুপুরে সচিবালয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে দেশের আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, পুলিশের ডিআইজি, জেলা প্রশাসক (ডিসি), পুলিশ সুপার (এসপি), সিভিল সার্জনসহ মাঠ প্রশাসনের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের সঙ্গে অনুষ্ঠিত এক ভার্চুয়াল সভায় তিনি এসব নির্দেশনা দেন।
সভায় বিভাগীয় কমিশনার, ডিআইজি, জেলা প্রশাসক, পুলিশ সুপার, সিভিল সার্জন এবং সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা নিজ নিজ এলাকার জলাবদ্ধতার সর্বশেষ পরিস্থিতি, ক্ষয়ক্ষতি, আশ্রয়কেন্দ্রের অবস্থা, উদ্ধার কার্যক্রম, ত্রাণ বিতরণ এবং চিকিৎসাসেবার অগ্রগতি সম্পর্কে প্রধানমন্ত্রীকে জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, দুর্যোগপূর্ণ এই পরিস্থিতিতে মানুষের জীবন ও সম্পদ রক্ষাই প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার; কোনো ধরনের গাফিলতির সুযোগ নেই। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের কাছে দ্রুত ত্রাণসামগ্রী, শুকনো খাবার, বিশুদ্ধ খাবার পানি, শিশু খাদ্য, প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং চিকিৎসাসেবা পৌঁছে দিতে তিনি সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দেন।
একই সঙ্গে আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে নিরাপদ পরিবেশ, পর্যাপ্ত স্যানিটেশন ব্যবস্থা, বিদ্যুৎ ও যোগাযোগ সুবিধা সচল রাখার ওপর গুরুত্বারোপ করেন প্রধানমন্ত্রী। তিনি বিশেষভাবে নারী, শিশু, প্রবীণ ব্যক্তি, প্রতিবন্ধী এবং গর্ভবতী নারীদের প্রয়োজনীয় স্বাস্থ্যসেবা ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেন।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে প্রধানমন্ত্রী আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীকে সর্বোচ্চ সতর্ক থাকার নির্দেশ দিয়ে বলেন, দুর্যোগকালীন পরিস্থিতির সুযোগ নিয়ে কোনো অসাধু চক্র যেন চুরি, ডাকাতি, মজুতদারি, ত্রাণ আত্মসাৎ বা অন্য কোনো অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে জড়াতে না পারে, তা নিশ্চিত করতে হবে। পাশাপাশি ত্রাণ বিতরণে স্বচ্ছতা, জবাবদিহিতা এবং প্রকৃত ক্ষতিগ্রস্তদের অগ্রাধিকার নিশ্চিত করার ওপরও গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
সভায় দুর্যোগ মোকাবিলায় প্রশাসনের প্রস্তুতি, স্থানীয় প্রশাসনের কার্যক্রম, উদ্ধার কার্যক্রমে বিভিন্ন সংস্থার সমন্বয়, নদ-নদীর পানির স্তর এবং আবহাওয়ার পূর্বাভাস নিয়মিত পর্যবেক্ষণের বিষয়েও বিস্তারিত আলোচনা হয়।
এ সময় চট্টগ্রাম থেকে যুক্ত হওয়া কর্মকর্তারা প্রধানমন্ত্রীকে জানান, সেখানকার জলাবদ্ধতা ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে সিলেট অঞ্চলে মনু নদের বাঁধ ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ায় পরিস্থিতির অবনতি হচ্ছে এবং রংপুর বিভাগে নতুন করে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে। এসব তথ্য জানার পর প্রধানমন্ত্রী সম্ভাব্য সব ধরনের ঝুঁকি মোকাবিলায় সর্বাত্মক প্রস্তুতি গ্রহণ, প্রয়োজনীয় জনবল ও সরঞ্জাম প্রস্তুত রাখা এবং জনগণের পাশে থেকে সমন্বিতভাবে কাজ করার জন্য সংশ্লিষ্ট সবাইকে নির্দেশ দেন।
১৫ ঘণ্টা আগে
বন্যাকবলিত ১১ জেলায় উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রমে বিজিবি মোতায়েন
টানা ভারী বর্ষণ, পাহাড়ি ঢল, বন্যা ও ভূমিধসে সৃষ্ট দুর্যোগ মোকাবিলায় দেশের ১১টি জেলায় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি) মোতায়েন করা হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত মানুষদের উদ্ধার, নিরাপদ আশ্রয়ের ব্যবস্থা, ত্রাণসামগ্রী বিতরণ, জরুরি চিকিৎসাসেবা, ক্ষতিগ্রস্ত যোগাযোগ ব্যবস্থা পুনরুদ্ধার এবং ঝুঁকিপূর্ণ অবকাঠামো সুরক্ষায় বিজিবি সার্বক্ষণিক কাজ করে যাচ্ছে।
বিজিবি সদর দপ্তরের জনসংযোগ কর্মকর্তা শরিফুল ইসলাম রবিবার (১২ জুলাই) এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
তিনি জানান, বান্দরবান, কক্সবাজার, রাঙামাটি, খাগড়াছড়ি, চট্টগ্রাম, ফেনী, সিলেট, হবিগঞ্জ, সুনামগঞ্জ, নেত্রকোনা ও জামালপুর জেলার বন্যাকবলিত এলাকায় স্থানীয় প্রশাসনের সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবি সদস্যরা উদ্ধার কার্যক্রম পরিচালনা করছেন।
উদ্ধার কার্যক্রমের পাশাপাশি বিজিবি সদস্যরা দুর্গত মানুষের মধ্যে জরুরি খাদ্যসামগ্রী ও ত্রাণ বিতরণ করছেন এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসাসহায়তা প্রদান করছেন।
এছাড়া বন্যায় আটকে পড়া মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিতে সহায়তা করার পাশাপাশি ক্ষতিগ্রস্তদের বাহিনীটি সর্বাত্মক সহযোগিতা করছে বলে জানান তিনি।
বিজিবি সদর দপ্তর জানায়, প্রাকৃতিক দুর্যোগ ও মানবিক সংকটে মানুষের পাশে থাকার অঙ্গীকারের অংশ হিসেবে বন্যাকবলিত এলাকার পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করছে বিজিবি। প্রয়োজন হলে অতিরিক্ত সহায়তা দিতে বাহিনীটি সর্বদা প্রস্তুত রয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
চলমান বন্যা পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় প্রশাসন ও অন্যান্য আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সঙ্গে সমন্বয় করে বিজিবির এ কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে বলে জানিয়েছে সদর দপ্তর।
১৫ ঘণ্টা আগে
শুধু পাঠ্যবই নয়; নতুন শিক্ষাব্যবস্থায় আসছে শিক্ষক গাইড, ওয়ার্কবুক ও রেমিডিয়াল গাইড: ববি হাজ্জাজ
প্রাথমিক ও গণশিক্ষা প্রতিমন্ত্রী ববি হাজ্জাজ বলেছেন, নতুন প্রজন্মকে বিশ্বমানের দক্ষ, সৃজনশীল ও দেশপ্রেমিক নাগরিক হিসেবে গড়ে তুলতে সরকার একটি সমন্বিত ও আধুনিক শিক্ষাব্যবস্থা গড়ে তুলছে। এ ব্যবস্থায় শুধু পাঠ্যবই নয়, প্রতিটি বিষয়ের সঙ্গে থাকবে শিক্ষক গাইড, ওয়ার্কবুক, রেমিডিয়াল গাইড এবং ভিডিও লেসন, যাতে শিক্ষার্থীরা শ্রেণিকক্ষ ও শ্রেণিকক্ষের বাইরে সমানভাবে শেখার সুযোগ পায়।
রবিবার (১২ জুলাই) ঢাকার সেগুনবাগিচায় আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা ইনস্টিটিউটে ২০২৭ শিক্ষাবর্ষে প্রাথমিক ও মাধ্যমিক স্তরের চারটি নতুন পাঠ্যপুস্তকের কাঠামো চূড়ান্তকরণ কর্মশালার উদ্বোধন অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান শিক্ষাকে নতুন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় বিনিয়োগ হিসেবে ঘোষণা করেছেন। সেই লক্ষ্য বাস্তবায়নে সরকার ২০২৮ সালের জন্য একটি যুগোপযোগী, দক্ষতাভিত্তিক ও আন্তর্জাতিক মানসম্পন্ন জাতীয় শিক্ষাক্রম প্রণয়নে কাজ করছে। বর্তমানে যে পাঠ্যবইগুলো প্রস্তুত করা হচ্ছে, সেগুলো ভবিষ্যতের পূর্ণাঙ্গ কারিকুলামের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখেই তৈরি করা হচ্ছে।
প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, নতুন কারিকুলামে শিক্ষার্থীদের মুখস্থনির্ভর শিক্ষা থেকে বের করে এনে দক্ষতা, সমস্যা সমাধানের সক্ষমতা, নেতৃত্ব, দলগত কাজ, সৃজনশীলতা ও মানবিক মূল্যবোধের বিকাশে গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে। একই সঙ্গে তাত্ত্বিক শিক্ষার তুলনায় ব্যবহারিক শিক্ষাকে অধিক গুরুত্ব দিয়ে বাস্তব জীবনের সঙ্গে শিক্ষার সংযোগ আরও শক্তিশালী করা হবে।
তিনি বলেন, সংস্কৃতি শিক্ষা ও ক্রীড়া শিক্ষা নতুন প্রজন্মের শারীরিক, মানসিক ও নৈতিক বিকাশে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে। সংস্কৃতি শিক্ষার মাধ্যমে শিক্ষার্থীরা বাংলাদেশের ইতিহাস, ঐতিহ্য, মূল্যবোধ, জাতীয় পরিচয় এবং সৃজনশীল প্রকাশের সুযোগ পাবে। অন্যদিকে, ক্রীড়া শিক্ষার মাধ্যমে নেতৃত্ব, শৃঙ্খলা, সহমর্মিতা, দলগত কাজ এবং সুস্থ জীবনাচারের চর্চা গড়ে উঠবে।
ববি হাজ্জাজ বলেন, নতুন শিক্ষাক্রম বাস্তবায়নের জন্য শিক্ষক প্রশিক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়া হবে। দেশের প্রায় ৬৫ হাজার সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের বাস্তবতা বিবেচনায় রেখে এমন কারিকুলাম প্রণয়ন করা হবে, যা কার্যকরভাবে বাস্তবায়ন করা সম্ভব এবং শিক্ষার্থীদের ওপর অতিরিক্ত চাপ সৃষ্টি করবে না।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন শিক্ষামন্ত্রী আ ন ম এহসানুল হক মিলন, বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংস্কৃতি প্রতিমন্ত্রী এবং যুব ও ক্রীড়া প্রতিমন্ত্রী।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জাতীয় শিক্ষাক্রম ও পাঠ্যপুস্তক বোর্ডের (এনসিটিবি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক মোহাম্মদ ফখরুল মওলা। এ ছাড়াও সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়সমূহের সচিব, ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, শিক্ষাবিদ, কারিকুলাম বিশেষজ্ঞ এবং বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের বিভাগীয় প্রধানরা উপস্থিত ছিলেন।
১৬ ঘণ্টা আগে