রাজনীতি
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১০ সদস্যের যৌথ কমিটির প্রস্তাব প্রধানমন্ত্রীর
জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় সরকারি ও বিরোধী দলের সমান সংখ্যক সদস্য নিয়ে যৌথ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। কমিটির সভাপতিসহ বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) পক্ষ থেকে পাঁচজনের নাম প্রস্তাব করে বিরোধী দলের কাছ থেকে পাঁচজনের নাম চেয়েছেন তিনি।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের ২০তম দিন বৃহস্পতিবার (২৩ এপ্রিল) এ কমিটি গঠনের প্রস্তাব করেন প্রধানমন্ত্রী। কমিটির সভাপতি হিসেবে বিদ্যুৎ ও জ্বালানিমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকুর নাম প্রস্তাব করেন তিনি।
গতকাল বুধবার (২২ এপ্রিল) সংসদে জ্বালানি সংকট নিয়ে বিরোধীদলীয় নেতার উত্থাপিত আলোচনা প্রস্তাবের ওপর সরকারি ও বিরোধী দলের সংসদ সদস্যরা অংশ নেন। এ সময় যৌথভাবে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সমস্যা সমাধানের অভিমত উঠে আসে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী এই কমিটি গঠনের উদ্যোগ নেন।
সংসদ নেতা বলেন, গতকাল বিরোধীদলীয় নেতা দেশের চলমান পরিস্থিতি নিয়ে একটি প্রস্তাব দিয়েছিলেন। এটি একটি বৈশ্বিক সমস্যা, যার তাপ সারা বিশ্বে ছড়িয়ে পড়েছে। বিরোধীদলীয় নেতা জানিয়েছিলেন, তাদের কাছে কিছু পরামর্শ আছে এবং সরকারি ও বিরোধী দল একসঙ্গে বিষয়টি নিয়ে কাজ করতে পারে। আমি বলতে চাই, বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল সবসময় দেশের ও মানুষের স্বার্থে যে কারও সঙ্গে আলোচনা করতে প্রস্তুত।
এই প্রেক্ষাপটে সরকারি দলের পক্ষ থেকে পাঁচ সদস্যের একটি কমিটির নাম ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রী। তারা হলেন— বিদ্যুৎ ও জ্বালানি মন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত, লক্ষ্মীপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য এবিএম আশরাফ উদ্দিন নিজান, মানিকগঞ্জ-২ আসনের মঈনুল ইসলাম খান শান্ত এবং শরীয়তপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য মিয়া নুরুদ্দিন অপু।
এই প্রস্তাবকে স্বাগত জানিয়ে বিষয়টি ইতিবাচকভাবে নেওয়ার জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আশা করি, এই সংসদ জাতীয় সব সমস্যা সমাধানের কেন্দ্রবিন্দু হবে ইনশাআল্লাহ। এটি এই সংসদের জন্য একটি নবযাত্রা। আমরা শিগগিরই আমাদের নামগুলো পেশ করব।
সরকার ও বিরোধী দলের এই সমঝোতাকে সাধুবাদ জানান স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
তিনি বলেন, এই মাসের শেষেই সংসদ বিরতিতে যাবে। তাই আশা করি অতি অল্প সময়ের মধ্যে বিরোধীদলীয় নেতা তাদের পাঁচজন সদস্যের নাম দেবেন।
তিনি আরও বলেন, সরকার এবং বিরোধী দল এভাবে সহযোগিতার মাধ্যমে অগ্রসর হলে দেশের যেকোনো সমস্যার সমাধান করা সম্ভব। আপনাদের এই বক্তব্যের ফলে জনগণের মনে অনেক আশার সঞ্চার হয়েছে।
১০২ দিন আগে
পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়েছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ থেকে পাচার হওয়া সম্পদ পুনরুদ্ধারে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, এ লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে মুন্সীগঞ্জ-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. কামরুজ্জামান লিখিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এসব তথ্য জানান।
মো. কামরুজ্জামান জানতে চান, বিগত আওয়ামী ফ্যাসিস্ট আমলে বিভিন্ন উপায়ে বা প্রক্রিয়া অবলম্বন করে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে পাচার করা হয়েছে। ওই টাকা দেশে ফিরিয়ে আনার ব্যাপারে সরকারের পক্ষ থেকে কোনো উদ্যোগ গ্রহণ করা হয়েছে কিনা বা হবে কিনা।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, অন্তর্বর্তী সরকারের গঠিত শ্বেতপত্র প্রণয়ন কমিটির তথ্যমতে, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে অবৈধ অর্থপ্রবাহের পরিমাণ আনুমানিক ২৩৪ বিলিয়ন ডলার, যা বছরে গড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলার বা প্রায় ১.৮ লাখ কোটি টাকা। পাচার হওয়া এ অর্থ একাধিক দেশে স্থানান্তরিত হওয়ার অভিযোগ থাকায় তা উদ্ধারে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে তথ্য বিনিময়, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনগত সহায়তা জোরদার করা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) সম্পাদন এবং আইনগত সহায়তা অনুরোধ (এমএলএআর) বিনিময় প্রক্রিয়ার জন্য পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে বলে জানান তিনি।
তিনি জানান, অর্থ পাচারের গন্তব্য দেশগুলোর মধ্যে প্রাথমিকভাবে চিহ্নিত ১০টি দেশের (কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া, অস্ট্রেলিয়া, সুইজারল্যান্ড, থাইল্যান্ড ও হংকং) মধ্যে ৩টি দেশ (মালয়েশিয়া, হংকং ও সংযুক্ত আরব আমিরাত) চুক্তি সইয়ের বিষয়ে সম্মতি দিয়েছে। বাকি ৭টি দেশের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।
সরকারপ্রধান বলেন, শেখ হাসিনা এবং তার সরকারের মন্ত্রী ও অন্যান্য সুবিধাভোগী ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠানের পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারে সরকার অগ্রাধিকার দিয়ে আইনি প্রক্রিয়া পরিচালনা করছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের জন্য আইনি প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে।
তিনি বলেন, আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্সের চিহ্নিত অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত কেসগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে এবং বাংলাদেশ পুলিশের সিআইডি, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল, শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল (জয়েন্ট ইনভেস্টিগেশন টিম-জেআইটি) গঠন করা হয়েছে।
জেআইটি গঠনের পর অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত মামলাগুলোর অগ্রগতির বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী জানান, গত ২৫ মার্চ পর্যন্ত আদালত দেশে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক (অ্যাটাচমেন্ট) ও অবরুদ্ধ (ফ্রিজ) করা হয়েছে।
আদালতের নির্দেশে বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ ক্রোক ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে। সবমিলিয়ে দেশে-বিদেশে সর্বমোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ আদালত ক্রোক ও অবরুদ্ধ করেছে।
পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা করা হয়েছে। যার মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ৬টি মামলার রায় হয়েছে। সার্বিকভাবে বর্তমান সরকার দুর্নীতি, অর্থপাচার এবং আর্থিক অপরাধ দমনে বৃহত্তর কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদেশে পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিদেশে পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধার প্রক্রিয়াকে আরও গতিশীল ও কার্যকর করার লক্ষ্যে চলতি বছরের ২২ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ ফিনান্সিয়াল ইনটেলিজেন্স ইউনিটের অধীনে ‘স্টোলেন অ্যাসেট রিকভারি ডিভিশন’ গঠন করা হয়েছে।
এ ছাড়াও গত ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলে সংঘটিত অর্থপাচার ও দুর্নীতির অনুসন্ধান করে একটি পূর্ণাঙ্গ শ্বেতপত্র প্রকাশ এবং এতে চিহ্নিত দায়ীদের বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার বিষয়ে সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
১০৩ দিন আগে
আগের দুই সরকার হামের টিকা আমদানি করেনি, কিটের সংকটও আছে: প্রধানমন্ত্রী
আগের স্বৈরাচারী সরকার এবং পরে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময়ও শিশুদের হামের টিকা আমদানি করা হয়নি বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, হাম পরীক্ষার কিটের স্বল্পতাও আছে। দেশে হাম পরিস্থিতি মোকাবিলায় সরকার ইতোমধ্যে পদক্ষেপ নিয়েছে।
বুধবার (২২ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য সালাহ উদ্দিনের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত প্রশ্নোত্তর পর্বে সালাহ উদ্দিন বলেন, দেশের চিকিৎসা খাতে এটি এখন একটি গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্ন—চট্টগ্রামে দেশের একমাত্র সংক্রামক রোগের চিকিৎসাকেন্দ্র ও বিশেষায়িত ইনস্টিটিউটসহ অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানে হাম শনাক্তকরণের ব্যবস্থা বন্ধ রয়েছে।
তিনি বলেন, এ কারণে হাম শনাক্ত করতে বিভিন্ন ইনস্টিটিউট ও চিকিৎসাকেন্দ্র থেকে ঢাকার পাবলিক হেলথ সেন্টারের ন্যাশনাল পোলিও অ্যান্ড রুবেলা ল্যাবরেটরিতে নমুনা পাঠাতে হচ্ছে। এতে টিকা পাওয়ার পরও রোগ শনাক্তে রোগীদের অপেক্ষা করতে হচ্ছে।
জবাবে প্রধানমন্ত্রী বিষয়টিকে ‘খুব দুঃখজনক ঘটনা’ হিসেবে উল্লেখ করেন। এরপর আগের দুই সরকারের প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, দুঃখজনক ব্যাপার হলো, সেই স্বৈরাচারের সময় এবং আরও দুঃখজনক ব্যাপার হলো, দেশে একটি সুষ্ঠু, সুন্দর, নিরপেক্ষ নির্বাচন করার জন্য আমরা যে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন দিয়েছিলাম, তাদের সময়ও শিশুদের হামের টিকা আমদানি করা হয়নি।
তবে সমস্যা দেখা দেওয়ার পর দ্রুত ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে বলে জানান তিনি।
এ ব্যাপারে ইউনিসেফকে ধন্যবাদ জানিয়ে সরকারপ্রধান বলেন, এ ব্যাপারে ইউনিসেফ আমাদের, বাংলাদেশকে, অনেক সহযোগিতা করেছে। হামের ভ্যাকসিন খুব দ্রুততার সঙ্গে পাঠিয়েছে তারা, ফলে আমরা ওষুধগুলো পেয়েছি। প্রায় ২ কোটি শিশুকে এই হামের ভ্যাকসিন দেওয়া হবে।
এ সময় হাম পরীক্ষার কিট স্বল্পতার কথা স্বীকার করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সংসদ সদস্য টেস্ট (পরীক্ষা) করার কিট স্বল্পতার বিষয়ে যে প্রশ্নটি করেছেন, তা সঠিক। এটির ব্যাপারেও সরকার কাজ করছে। এরই মধ্যে অনেক কিট এসে পৌঁছেছে।
তিনি আরও বলেন, কিছু কিট এখনও ঢাকার কাস্টমসে আটকে আছে; এয়ারপোর্টে আছে। সেগুলো আমরা দ্রুত ছাড় করানোর ব্যবস্থা করছি।
হামে শিশুমৃত্যুর প্রসঙ্গ টেনে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেন, অনেকগুলো শিশুর প্রাণ ঝরে গেছে, আমাদের মাঝ থেকে চলে গেছে, বিষয়টি দুঃখজনক!
তিনি বলেন, তবে সামনে যাতে আমরা এই পুরো পরিস্থিতিকে ‘ম্যানেজ’ করতে পারি, সে ব্যবস্থা গ্রহণ করেছে সরকার।
১০৩ দিন আগে
সংরক্ষিত ৩৬টি নারী আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেলেন যারা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে সংরক্ষিত নারী আসনে মনোনীতদের নামের চূড়ান্ত তালিকা প্রকাশ করেছে ক্ষমতাসীন বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট।
সোমবার (২০) এপ্রিল দুপুর সোয়া ১২টার দিকে রাজধানীর নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে ৩৬ জনের এ তালিকা ঘোষণা করেন প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা ও দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মনোনীতরা হলেন— সেলিমা রহমান, শিরিন সুলতানা, রাশেদা বেগম হীরা, রেহানা আক্তার রানু, নেওয়াজ হালিমা আরলী, মোছাম্মৎ ফরিদা ইয়াসমিন, বিলকিস ইসলাম, সাকিলা ফারজানা, হেলেন জেরিন খান, নিলুফার চৌধুরী মনি, নিপুণ রায় চৌধুরী, জেবা আমিন খান, মাহমুদা হাবিবা, সাবিরা সুলতানা, সানসিলা জেবরিন, সানজিদা ইসলাম তুলি, সুলতানা আহমেদ, ফাহমিদা হক, আন্না মিনজ, সুবর্ণা সিকদার, শামীম আরা বেগম স্বপ্না, শাম্মী আক্তার, ফেরদৌসী আহমেদ, বীথিকা বিনতে হোসাইন, সুরাইয়া জেরিন, মানসুরা আক্তার, জহরত আদিব চৌধুরী, মমতাজ আলো, ফাহিমা নাসরিন, আরিফা সুলতানা, সানজিদা ইয়াসমিন, নাদিয়া পাঠান পাপন, শওকত আর আক্তার, মাধবী মারমা, সেলিনা সুলতানা ও রেজেকা সুলতানা।
পরোক্ষ ভোটের এই নির্বাচনে ভোটের জন্য ১২ মে তারিখ রাখা হলেও পদ্ধতিগত কারণে ভোটাভুটির আর দরকার হবে না। অর্থাৎ, দল যাদের মনোনয়ন দিচ্ছে, বাছাইয়ে বাদ না পড়লে তাদের সংসদ সদস্য হওয়া কার্যত নিশ্চিত।
রিজভী বলেন, এই ৩৬ জন বিএনপি এবং বিএনপি জোট থেকে যাদের সিলেকশন করা হয়েছে, নির্বাচিত করা হয়েছে, তাদের নাম আমি এখানে পাঠ করে শোনালাম। আপনাদের সবাইকে ধন্যবাদ।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে সংসদের ৫০টি সংরক্ষিত নারী আসন বণ্টন করা হয়। সে অনুযায়ী এবার বিএনপি জোট ৩৬টি, জামায়াত জোট ১৩টি ও স্বতন্ত্র জোট ১টি আসনে সংসদ সদস্য দিতে পাবে।
ঘোষিত তফসিল অনুযায়ী, নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে ২১ এপ্রিলের মধ্যে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া যাবে, তা বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ এপ্রিল। এর দুই সপ্তাহ পর আগামী ১২ মে ভোট গ্রহণের তারিখ রাখা হয়েছে।
নিয়ম হলো, সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট দিতে পারবেন, কিন্তু দল বা জোট তাদের বরাদ্দ পাওয়া আসনের সমান সংখ্যক প্রার্থী মনোনয়ন দেয় বলে এ নির্বাচনে আর ভোটের আর প্রয়োজন হয় না। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের দিনই বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত ঘোষণা করা হবে।
১০৫ দিন আগে
জ্বালানির সংকট নেই, অসাধু ব্যবসায়ীদের তেল মজুদে কৃত্রিম সংকট: জ্বালানিমন্ত্রী
দেশে জ্বালানি তেলের কোনো সংকট নেই বলে জানিয়েছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদমন্ত্রী ইকবাল হাসান মাহমুদ। তিনি বলেন, কিছু অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির কারণে ফিলিং স্টেশনগুলোতে কৃত্রিম সংকট তৈরি হচ্ছে।
রবিবার (১৯ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে নেত্রকোণা-৫ আসনের সংসদ সদস্য মাছুম মোস্তফার প্রশ্নের জবাবে এ তথ্য জানান তিনি। এতে সভাপতিত্ব করেন ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামাল।
মাছুম মোস্তফা অভিযোগ করেন, সরকারিভাবে সংকট নেই বলা হলেও বাস্তব চিত্র ভিন্ন। পাম্পগুলোতে গ্রাহকদের ২০০ টাকার বেশি জ্বালানি দেওয়া হচ্ছে না এবং মোটরসাইকেলে বিশেষ চিহ্ন দিয়ে পুনরায় তেল নেওয়া প্রতিরোধ করা হচ্ছে।
জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী যথার্থই বলেছেন, দেশে জ্বালানির কোনো সংকট নেই। গত বছরের মার্চ মাসের তুলনায় চলতি বছরের মার্চ মাসেও সমপরিমাণ জ্বালানি তেল সরবরাহ করা হচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, একশ্রেণির অসাধু ব্যবসায়ীর অবৈধ মজুদ ও কালোবাজারির কারণে এই কৃত্রিম পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়েছে। এছাড়া জনমনে ভীতি ও অতিরিক্ত তেল কেনার প্রবণতা সংকটকে আরও ঘনীভূত করছে। একইসঙ্গে স্পষ্ট করা হয়েছে যে, পাম্পে মোটরসাইকেলে নির্দিষ্ট পরিমাণ তেল দেওয়া বা রং লাগানোর বিষয়ে কোনো সরকারি নির্দেশনা নেই।
সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে জ্বালানিমন্ত্রী বলেন, কৃত্রিম সংকট নিরসনে ও সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে সরকার বেশ কিছু কঠোর পদক্ষেপ নিয়েছে। সারা দেশে জেলা ও উপজেলা প্রশাসন এবং বিপিসি কর্তৃক ট্যাগ অফিসার নিয়োগ করা হয়েছে। অবৈধ মজুদকারীদের ধরতে সারা দেশে ভ্রাম্যমাণ আদালত পরিচালনা করা হচ্ছে। এ পর্যন্ত ৯ হাজার ১১৬টি অভিযানে ৩ হাজার ৫১০টি মামলা করা হয়েছে। এতে ১ কোটি ৫৬ লাখ ৯ হাজার ৬৫০ টাকা অর্থদণ্ড আদায় এবং ৫ লাখ ৪২ হাজার লিটার জ্বালানি তেল জব্দ করা হয়েছে। মজুদ ও কালোবাজারি প্রতিরোধে পুলিশ ও অন্যান্য বাহিনীর তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। স্থানীয় প্রশাসনের মাধ্যমে সাধারণ মানুষকে সচেতন করা হচ্ছে।
তিনি জানান, জ্বালানি তেল বিপণনে স্বচ্ছতা নিশ্চিত করতে নতুন উদ্যোগ নিয়েছে সরকার। ঢাকা মহানগরীর কয়েকটি ফিলিং স্টেশনে পরীক্ষামূলকভাবে ‘ফুয়েল কার্ড’ চালু করা হয়েছে। এই কার্ডের মাধ্যমে গ্রাহকদের জ্বালানি সংগ্রহের তথ্য সংরক্ষিত থাকবে। এই উদ্যোগ সফল হলে পর্যায়ক্রমে তা সারা দেশব্যাপী বাস্তবায়ন করা হবে বলে জানান তিনি।
পাবনা-৫ আসন থেকে নির্বাচিত সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের এক প্রশ্নের জবাবে ইকবাল হাসান মাহমুদ বলেন, দেশের এলপিজির বাজার প্রায় ৯৮ দশমিক ৬৭ শতাংশ আমদানিনির্ভর।
মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ পরিস্থিতির মধ্যে দেশে এলপিজির সরবরাহ স্বাভাবিক রাখতে এলপিজি আমদানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।
এ লক্ষ্যে তিনি বলেন, জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের ‘অ্যাসাইকুডা ওয়ার্ল্ড সিস্টেম’ থেকে দেশের এলপিজি আমদানির পরিস্থিতি নিয়মিত পর্যালোচনা করা হচ্ছে এবং কোনো অস্বাভাবিকতা পাওয়া গেলে আমদানিকারকদের সঙ্গে যোগাযোগ করা হচ্ছে। এ বিষয়ে ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনকে অবহিত করা হচ্ছে।
১০৬ দিন আগে
রাত ৩টা পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়ে কাজ করলেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর গুলশানে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেল থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন দাপ্তরিক ও দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। পরে রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত তিনি কার্যালয়ে অবস্থান করেন বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকি করতে গিয়ে শনিবার দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন।
শনিবার দুপুর ৩টায় গুলশান কার্যালয়ে দলীয় প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু হয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও সেলিমা রহমান মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোর প্রার্থীরা এই সাক্ষাৎকারে অংশ নেন, যা গভীর রাত পর্যন্ত চলে।
এর আগে, শুক্রবার রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছিল যার মধ্যে প্রায় ৯০০টি ফরম জমা পড়েছে।
গত ৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল, আর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল এবং তা নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল।
আগামী ৩০ এপ্রিল প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে এবং ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আসন বণ্টন অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৩৬টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি আসন পাবে।
১০৬ দিন আগে
সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগে সহযোগিতা করছে না বিরোধী দল: মাহদী আমিন
দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা না করে বিরোধী দল উল্টো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। বর্তমান সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।
মাহদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময় এবং গত প্রায় দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বহুমুখী অপপ্রচারে লিপ্ত থাকলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য সচেতন নাগরিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে শক্ত অবস্থান নিয়ে এসব মিথ্যাচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই জন্য গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম, এই অল্প সময়ের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় সরকার যে সমস্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, বিরোধী দল সেই কাজের জন্য সামগ্রিকভাবে সহযোগিতা করবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, তারা সেটি না করে সংসদে হট্টগোল করা, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি, গুজব-অপপ্রচার ছড়ানোসহ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রার পথে প্রতিবন্ধকতা।
তিনি আরও বলেন, গতকাল বর্তমান সরকারের মেয়াদ দুমাস পূর্ণ হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকার নির্বাচনের আগে ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দুর্বার গতিতে অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে। প্রতিটি সেক্টরে এবং গণমানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা এক অবিস্মরণীয় অর্জন। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গত দুমাসে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের ও প্রতিটি নাগরিকের অগ্রযাত্রা নিশ্চিতে যেসব কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার মধ্যে ৬০টি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
এরপর সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত দুই মাসে নেওয়া ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের তালিকাও উপস্থাপন করেন তিনি। সেগুলো হলো:
১. প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাইলট প্রকল্প শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
২. প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দেশের কৃষক কৃষাণীর জন্য ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সংবলিত ‘কৃষক কার্ড’ প্রচলন করা। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলার ২২ হাজারেরও বেশি প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে।
৩. প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।
৪. সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায়, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই করে আবার সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, মানবাধিকার হরণের শিকার দল হিসেবে বিএনপি এগুলো বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।
৫. সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল এবং জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় এই কাজ শুরু করা হয়েছে।
৬. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
৭. জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সোলার বা সৌরশক্তি ব্যবহার করে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
৮. জ্বালানি নেওয়ার জন্য ফুয়েল কার্ডের পাইলটিং প্রজেক্ট ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে।
৯. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের একটি অগ্রাধিকার। প্রতিকূল বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে পবিত্র রমজান মাসে এবং এখনও অন্যান্য বছরের তুলনায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
১০. ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও পালকরা মাসিক সম্মানি পাচ্ছেন। এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সব মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
১১. ঈদুল ফিতরের সময় সারা দেশে অসহায় ও গরিবদের ত্রাণ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলামিক স্কলার ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১২. শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৩. বিগত সময়ের তুলনায় হজযাত্রার খরচ টিকিটপ্রতি ১২ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতেই ‘নুসুক হজ কার্ড’ দেওয়া হয়েছে।
১৪. দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে শূন্যপদ চার লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। শূন্যপদ পূরণে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
১৫. পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রাধান্য পাচ্ছে চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্প।
১৬. স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাইটেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম তৈরি শুরু করা হয়েছে।
১৭. সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অধিকতর শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তর। এ লক্ষ্য অর্জনে খাতভিত্তিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
১৮. অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নিতে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
১৯. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০. প্রায় ১৮ বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কোনো শ্রমিককে হাহাকার করতে হয়নি। শ্রমিক, মালিক, সরকার ও অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনার ভিত্তিতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকিং সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ঈদের আগেই বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি পরিশোধ করা হয়েছে।
২১. দীর্ঘদিন পর আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের অভূতপূর্ব যৌথ বিবৃতিতে উঠে এসেছে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের জনকল্যাণ।
২২. বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে ইউরোপের সাতটি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২৩. দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর অংশ হিসেবে সরকার বিদেশে অধিক সংখ্যক জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষ এবং আধা দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দিয়ে অভিবাসনের পরিমাণ এবং গুণমান উভয়ই বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে দেশজুড়ে কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং কারিগরি শিক্ষায় বহুভাষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কারিকুলামে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
২৪. উত্তরবঙ্গকে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের ‘হাব’ বা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২৫. পেপ্যাল ও অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ের কার্যক্রম বাংলাদেশে শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১০৭ দিন আগে
জাতীয় নারী শক্তির ৫৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট এই নতুন কমিটির তথ্য জানানো হয়। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশ ও অনুমোদনক্রমে এই আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নবগঠিত এই কমিটিতে মনিরা শারমিনকে আহ্বায়ক এবং মাহমুদা আলম মিতুকে সদস্যসচিব মনোনীত করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য শীর্ষ পদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সানজিদা বুশরা মিশমা এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম।
কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন, যুগ্ম আহ্বায়ক হাফসা জাহান, নাবিলা তাসনিদ, খন্দকার খালেদা আক্তার, আশরেফা খাতুন এবং মুনা হাফসা।
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব মঞ্জিলা ঝুমা, যুগ্ম সদস্যসচিব দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী প্রীতি, নাহিদা বুশরা, কাজী আয়েশা আহমেদ, নীলা আফরোজ, মাহমুদা রিমি এবং ইসরাত জাহান বিন্দু।
যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ইশরাত জাহান, উরসী মাহফিলা, সাদিয়া আফরিন, জয়ন্তী বিশ্বাস, সোনিয়া লুবনা, নাফিসা মুশতারী এবং নাদিয়া ইসলাম মিম।
এ ছাড়াও কমিটিতে রেহনুমা রুমা, ফারজানা আক্তার, মনি মুক্তা, সেজুতি আক্তারসহ আরও ৩০ জনকে সংগঠক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
১০৭ দিন আগে
রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো মানুষ যেন হেনস্তার শিকার না হয়: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দেশে দলমত নির্বিশেষে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো মানুষ যেন হেনস্তার শিকার না হয়; আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোলা সার্কিট হাউজে প্রশাসন, রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ভোলায় তিন দিনের সফরের শেষ দিনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্পিকার বলেন, ভোলায় স্পিকার হিসেবে পদার্পণ করার মধ্য দিয়ে মনে হচ্ছে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। গত ২০ বছর বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের দেখা পায়নি। বর্তমান বিশ্বে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়া উন্নয়নের আর কোনো মাধ্যম আবিষ্কৃত হয়নি। আমরা অন্তত ভাগ্যবান যে, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রমনা ও রাজনীতি সচেতন। তারা কোনো স্বৈরশাসনকে মেনে নেয় না।
তিনি আরও বলেন, অত্যাচার-নিপীড়ন, গুম ও খুনসহ নানাবিধ নির্যাতন উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মানুষ রাজপথে নেমে এসে আবার গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। ২০২৪-এর গণআন্দোলন আজ সারা বিশ্বের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে।
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশকে সাধারণত হেয় করে দেখতে চায় উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য যে সংগ্রাম করেছে, এটি নিয়ে দেশবাসী গৌরব করতে পারে। মানবাধিকার লঙ্ঘন বিশ্বের নিত্যদিনের ঘটনা হলেও বাংলাদেশের মানুষ আজ মানবাধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। যেই গুম ও খুনের মধ্য দিয়ে দেশবাসী ১৬-১৭ বছর কাটিয়েছে, তা থেকে আমরা এখন মুক্ত।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচিত সরকার এদেশের মানুষের জন্য সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে নিয়ে আসবে বলে আমরা আশা করি। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান কাজ হচ্ছে অর্থনীতির উন্নয়ন সাধন করা এবং সেই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আশা করি, দেশে দলমত নির্বিশেষে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো মানুষ যেন হেনস্তার শিকার না হয়; আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
স্পিকার বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক বিদ্যমান এবং সাধারণ মানুষ অনেকদিন পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকার মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই সমানভাবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে।
এ সময় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিনের বিষয়ে তিনি বলেন, সাবেক স্পিকারকে বিচার বিভাগ জামিন দিয়েছে এবং এটি একটি ভালো কাজ হয়েছে। কারণ তিনি একজন নারী এবং দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তি। নিশ্চয়ই বিচার বিভাগ যথাযথ বিবেচনা করেই তাকে জামিন দিয়েছে।
এর আগে, স্পিকার সার্কিট হাউজে পৌঁছালে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। মতবিনিময় সভা শেষে তিনি বরিশাল হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওসার, জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১০৭ দিন আগে
ইলিয়াস আলীর জন্য সিলেট জেলা বিএনপির দোয়া মাহফিল
নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কামনায় সিলেট জেলা বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ মসজিদে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, ইলিয়াস আলী ছিলেন একজন ত্যাগী, সাহসী ও গণতন্ত্রকামী নেতা। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সবসময় জনগণের অধিকার ও অবাধ নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন ইলিয়াস। দেশের জন্য কথা না বললে হয়তো তিনি গুম হতেন না। তিনি গণতন্ত্র ও নির্বাচনের জন্য লড়াই করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ে বিএনপি আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে দলের বহু নেতা-কর্মী নিহত ও আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীকে হয়তো আমরা ফিরে পাব না, কিন্তু তার পরিবারসহ পুরো সিলেটবাসী এখনও প্রতীক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাসিয়া নদী খনন কাজের উদ্বোধন এবং জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম উদ্বোধনের লক্ষ্যে তারেক রহমান শিগগিরই সিলেট সফর করবেন।
সিলেট জেলা বিএনপি সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘এম ইলিয়াস আলী দলের ক্রান্তিলগ্নে সিলেটকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি গণমানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
‘১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্য গভীর বেদনা ও উদ্বেগের। আমরা এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাই।’
সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া ছিল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলের এক কলঙ্কজনক কালো অধ্যায়।’
দোয়া মাহফিলে ইলিয়াস আলীর প্রত্যাবর্তন কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি দেশবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মঙ্গল কামনায় দোয়া করা হয়।
মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আশিক উদ্দিন আশুক পিপি, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সহ-সভাপতি শহিদ আহমদ, মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সাল, যুগ্ম-সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, আনোয়ার হোসেন মানিক, কোহিনুর আহমদ, অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ, আবুল কাশেম, শাকিল মোর্শেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আল আসলাম মুমিন, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আহমদ রানু, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজিজুর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম, সহ-প্রচার সম্পাদক শাহীন আলম জয় এবং জেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
১০৮ দিন আগে