রাজনীতি
বর্তমান পরিস্থিতি মোটেই সমর্থন করি না: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘বর্তমান পরিস্থিতিকে আমি মোটেই সমর্থন করি না। দেশ-বিদেশ থেকে বিভিন্নভাবে বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করার জন্য কাজ করছে। আমাদের সতর্ক থাকতে হবে, ছাত্র-জনতার আন্দোলনের রক্তের বিনিময়ে অর্জিত বিপ্লবের ফসল যেন নষ্ট না হয়!’
শুক্রবার (৭ ফেব্রুয়ারি) বিকালে মুন্সীগঞ্জের সিরাজদিখান উপজেলার বাসাইলের পলাশপুর গ্রামের একটি রিসোর্টে ঢাকা দক্ষিণ ইসলামী ছাত্রশিবির আয়োজিত প্রীতি সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবির এমন একটি সংগঠন, যার কাজ শুরু হয়েছিল মহানবী হজরত মুহাম্মদ (সা.)-এর মাধ্যমে হেরা গুহায়, আর তা শেষ হবে জান্নাতে। ছাত্রশিবিরে নতুন-পুরাতন যারা আছেন, সবার সহযোগিতায় এবং আল্লাহ তা‘আলার মেহেরবানীতে ৫ আগস্ট ফ্যাসিবাদমুক্ত হয়েছে দেশ। আগামীতে দায়িত্বসহকারে কাজ করলে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করার সুযোগ হতে পারে।’
প্রীতি সমাবেশে বিশেষ অতিথি ছিলেন ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম এবং ঢাকা মহানগর দক্ষিণের জামায়াতের আমির মো. নরুল ইসলাম বুলবুল।
ঢাকা মহানগর দক্ষিণের ইসলামী ছাত্রশিবিরের সভাপতি হেলাল উদ্দিন রুবেল সভাপতিত্বে আরও উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের মুন্সীগঞ্জ জেলা কমিটির আমির আ জ ম রুহুল কুদ্দুস, সেক্রেটারি মো. ফখরুদ্দিন রাজী, সিরাজদিখান উপজেলার জামায়াতের আমির মাওলানা মো. কবির হোসাইন প্রমুখ।
৫৪২ দিন আগে
কমিশনে স্বাস্থ্য সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছে বিএনপি
দেশের স্বাস্থ্যসেবার মানোন্নয়নে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের গঠিত কমিশনের কাছে স্বাস্থ্য খাত সংস্কার প্রস্তাব জমা দিয়েছে বিএনপি।
বৃহস্পতিবার (৬ ফেব্রুয়ারি) বিএনপির মিন্টো রোডে শহীদ আবু সাঈদ ইন্টারন্যাশনাল কনভেনশন সেন্টারে স্বাস্থ্য বিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলামের নেতৃত্বে একটি প্রতিনিধি দল কমিশনের কাছে এই সংস্কার প্রস্তাব জমা দেন।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার গত বছরের নভেম্বরে বাংলাদেশ ডায়াবেটিক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এ কে আজাদ খানকে প্রধান করে ১২ সদস্যের স্বাস্থ্য খাত সংস্কার কমিশন গঠন করে।
স্বাস্থ্যসেবাকে আরও গণমুখী, সহজলভ্য ও সর্বজনীন করার লক্ষ্যে সুপারিশ প্রণয়নের দায়িত্ব এই কমিশনের উপর ন্যস্ত।
আরও পড়ুন: ধানমন্ডি-৩২’র ঘটনায় একটি মহলের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে: হাফিজউদ্দিন
৫৪৩ দিন আগে
ধানমন্ডি-৩২’র ঘটনায় একটি মহলের ষড়যন্ত্র থাকতে পারে: হাফিজউদ্দিন
বিএনপি নেতা হাফিজউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, দেশের গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে বাধা সৃষ্টি করতে ষড়যন্ত্রের অংশ হিসেবে একটি মহল ধানমন্ডি-৩২ নম্বর বাসা ও অন্যান্য স্থাপনায় হামলা ও বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে থাকতে পারে।
বৃহস্পতিবার(৬ ফেব্রুয়ারি) এক আলোচনায় অংশ নিয়ে হাফিজউদ্দিন এই মন্তব্য করেন।
তিনি আশা প্রকাশ করেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকার বাধা সৃষ্টি না করে দ্রুত নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের পথ প্রশস্ত করবে।
জাতীয় প্রেসক্লাবে 'বর্তমান রাজনৈতিক প্রেক্ষাপটে গণতন্ত্রের ভবিষ্যৎ' শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করে বিএনপিপন্থী ফোরাম স্বাধীনতা ফোরাম।
হাফিজ উদ্দিন বলেন, ‘গতকাল (বুধবার) থেকে শুরু হওয়া ঘটনা এখনো চলমান; এখনো শেষ হয়নি। কারা এই ঘটনা ঘটিয়েছে আমরা জানি না, সরকারের ভূমিকা সম্পর্কেও আমরা অবগত নই। আমরা আরও কিছু সময় অপেক্ষা করব এবং সম্ভবত আজকের মধ্যেই আমরা জানতে পারব কে এর জন্য দায়ী।’
তিনি বলেন, এ বিষয়ে পূর্ণাঙ্গ তথ্য পেলে তার দল এ বিষয়ে প্রতিক্রিয়া জানাবে।
বিএনপি নেতা বলেন, ‘কিন্তু আমরা মনে করি, আগামী দিনে গণতন্ত্রের পথকে রুদ্ধ করতেই কিছু মানুষ এই বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে থাকতে পারে। বিশেষ করে আমাদের প্রতিবেশী দেশের (ভারত) সঙ্গে কোনো সম্পৃক্ততা আছে কিনা— তা খতিয়ে দেখতে হবে।’
তিনি বলেন, বুধবারের ঘটনার ওপর তাদের দল নজর রাখছে। ‘আমরা আশা করি খুব শিগগিরই দেশে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা পুনঃপ্রতিষ্ঠিত হবে, কারণ গণতন্ত্রের অভাবে অনেক ঘটনা ঘটে।’
বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমরা আশা করি, বর্তমান সরকার গণতন্ত্রের পথে সব বাধা দ্রুত দূর করবে। তাদের সচেতন হতে হবে, তারা যেন আর কোনো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি না করে।’
হাফিজ বলেন, সকল গণতান্ত্রিক শক্তি ও শিক্ষার্থীদের সুদৃঢ় ঐক্য এখন জরুরি, কারণ বর্তমানে ভারতে অবস্থানরত শেখ হাসিনা আবারও দেশকে অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করছেন।
আরও পড়ুন: সংস্কারের নামে বেশি সময়ক্ষেপণ না করার আহ্বান তারেক রহমানের
তিনি আরও বলেন, আমরা দুঃখের সঙ্গে লক্ষ্য করছি, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস ছাত্রদের একটি রাজনৈতিক দল গঠনের অনুরোধ করেছেন। ‘এর কোনো প্রয়োজন নেই। কেউ অনুরোধ করুক বা না করুক, তারা (শিক্ষার্থীরা) তাদের নিজস্ব দল গঠন করবে।’
হাফিজ বলেন, ছাত্ররা দল গঠন করলে বিএনপি স্বাগত জানাবে, কারণ দল গঠন করা খারাপ কিছু নয়। বরং জনগণের জন্য আরেকটি পছন্দ তৈরি করার সুযোগ হবে।’
তিনি বলেন, ছাত্ররা দল গঠন করে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার জন্য যথেষ্ট সময় পেয়েছে। ‘তারা আরও সময় চায়। আমরা মনে করি, এ বছরের মধ্যেই নির্বাচন হওয়া উচিত। তাই গণতন্ত্রের বিরুদ্ধে সকল বিশৃঙ্খলা, বাধা ও ষড়যন্ত্র বন্ধ করে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু জাতীয় নির্বাচনের ব্যবস্থা করার জন্য সরকারের প্রতি অনুরোধ জানাচ্ছি।’
অন্তর্বর্তীকালীন সরকার নির্বাচন আয়োজনে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাবে বলে আশা প্রকাশ করেন বিএনপির এই নেতা।
তিনি বলেন, দেশের মানুষ গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার দেখতে চায়, কিন্তু একমাত্র ভারত অস্থিতিশীলতা চায় এবং তারা চায় না বাংলাদেশে গণতন্ত্রের চর্চা হোক।
আরও পড়ুন: সংস্কার সংস্কার করা ষড়যন্ত্র কিনা, প্রশ্ন তারেকের
হাফিজউদ্দিন আরও বলেন, বিভিন্ন কমিশনের সংস্কার প্রস্তাব নিয়ে আলোচনার জন্য সরকারের উদ্যোগকে তাদের দল স্বাগত জানায়।
হাফিজউদ্দিন বলেন, সমমনা দলগুলোর সঙ্গে সমন্বয় করে বিএনপি ঐক্যবদ্ধভাবে সরকারের কাছে তাদের সংস্কার প্রস্তাব তুলে ধরবে। কেউ কেউ মনে করছেন, সংস্কারের আড়ালে সরকার বিলম্বের চেষ্টা করছে।
তিনি বলেন, ‘অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস বিশ্বব্যাপী একজন জ্ঞানী ও সুপরিচিত ব্যক্তিত্ব। আমরা তার ওপর আস্থা রেখেছি এবং তাকে আমাদের সহযোগিতার প্রতিশ্রুতি দিয়েছি। আমরা তাই করব। তবে আমরা আশা করি, তিনি আমাদের বিশ্বাস ভঙ্গ করবেন না। তিনি নিরপেক্ষ থাকবেন এবং জাতিকে সকল সংকট থেকে মুক্ত করতে একটি অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত করবেন।’
আরও পড়ুন: আ. লীগ বর্তমান নামে রাজনীতি করতে পারবে না: সালাহউদ্দিন
৫৪৩ দিন আগে
সংস্কার সংস্কার করা ষড়যন্ত্র কিনা, প্রশ্ন তারেকের
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছেন, আমরা খেয়াল করছি কিছু কিছু মানুষ সংস্কার সংস্কারের কথা বলে সব রকমের প্রক্রিয়াকে দীর্ঘায়িত করছে।
তিনি বলেন, ‘আমাদেরকে দেখতে হবে- সংস্কার সংস্কার করা কোনো ষড়যন্ত্র কিনা। যদি সংস্কার সংস্কার করে এ বিষয়টিকে দীর্ঘায়িত করা হয়, তাহলে দেশের সমস্যা বাড়বে।’
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) ফেনীর সোনাগাজী উপজেলার সাবের পাইলট স্কুল মাঠে এক অনুষ্ঠানে ভার্চুয়ালি অংশ নিয়ে তিনি এ কথা বলেন।
সোনাগাজীর যুবদল নেতা মোহাম্মদ মাসুদের পরিবারকে তারেক রহমানের পক্ষ থেকে উপহার হিসেবে একটি নতুন বাড়ি প্রদান উপলক্ষে এই অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।
তারেক বলেন, ‘যে হারে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি, বেকার সমস্যা, শিক্ষা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে, আইন-শৃঙ্খলা ব্যবস্থা ভেঙ্গে পড়ছে, যদি এসব কিছুকে আবার জনগণের প্রত্যাশা অনুযায়ী গড়ে তুলতে হয়— তাহলে দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতির লাগাম টেনে ধরতে হবে। সেক্ষেত্রে অবশ্য জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠিত করতে হবে।’
আরও পড়ুন: সংস্কারের নামে বেশি সময়ক্ষেপণ না করার আহ্বান তারেক রহমানের
তিনি বলেন, ‘যত দ্রুত আমরা জনগণের সরকার প্রতিষ্ঠা করতে পারব, তত দ্রুত বাংলাদেশকে আমরা সমৃদ্ধির পথে নিয়ে যেতে সক্ষম হব।
আসুন আমরা প্রতিজ্ঞা করি -- যতক্ষণ পর্যন্ত মাসুদের আত্মার সে মর্যাদা প্রতিষ্ঠিত করতে না পারব, ততক্ষণ পর্যন্ত আমাদের সংগ্রাম বন্ধ হবে না। আমাদের আন্দোলন চলমান থাকবে যতক্ষণ পর্যন্ত জনগণের শাসন প্রতিষ্ঠিত না হয়।’
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, স্বৈরাচারমুক্ত আন্দোনের শহীদদের আত্মার যদি যথাযোগ্য মর্যাদা দিতে হয়ে, তাহলে আমাদেরকে বাংলাদেশের মানুষের গণতন্ত্রের শাসনকে প্রতিষ্ঠিত করতে হবে। যতদিন পর্যন্ত সেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠিত না হবে, ততদিন পর্যন্ত আমাদের আন্দোলন অব্যাহত থাকবে।
তারেক সতর্ক করে বলেন, আমাদেরকে খেয়াল রাখতে হবে— আমাদের ভিতরে কিছু কিছু মানুষ এবং নতুন করে কিছু কিছু মানুষ আমাদের ভিতরে ঢুকে বিভ্রান্তি তৈরি করছে। তারা সমাজে এমন কিছু কাজ করার চেষ্টা করছে, যেখান থেকে সাধারণ মানুষ বিভ্রান্ত হতে পারে। আপনাদের সকলকে এই সকল অনুচরদের বিরুদ্ধে স্বজাগ, সতর্ক থাকতে হবে—- যাতে তারা আমাদের এই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনকে কোনোভাবে ব্যাঘাত ঘটাতে না পারে।
তিনি বলেন, স্বৈরাচার বাংলাদেশের মাটি থেকে পালিয়ে গিয়েছে। কিন্তু পালিয়ে যাওয়ার আগে সে হত্যাগুলো সংঘটিত হয়েছে। হাজারো মানুষকে হত্যা করেছে, লাখো মানুষকে আহত করেছে, হাজারো মানুষ পঙ্গুত্ব বরণ করেছে।
তারেক বলেন, এই হত্যাকাণ্ডের, আহত করার জন্য যারা দায়ী— সেই মানুষগুলোর অবশ্যই দেশের আইনে বিচার করতে হবে। এই হত্যার জন্য যারা দায়ী তাদেরকে বিচারের আওতায় আনতে হবে।
আরও পড়ুন: সরকারে জবাবদিহি নেই বলেই গ্যাসের দাম বাড়ছে: রিজভী
তিনি বলেন, এই খুন,গুম, আহতের জন্য দায়ী, তাদের নেত্রী(শেখ হাসিনা) যে ৫ আগস্ট পালিয়ে গেছে, যদি তার বিচার না হয়— তাহলে যারা এই মানুষগুলোকে গুম ও খুন, লাখো মানুষকে পঙ্গু করেছে, তারা ভবিষ্যতে আবারও এসব করতে উৎসাহী হবে।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের দল মত নির্বিশেষে প্রতিটি গণতন্ত্রকামী রাজনৈতিক কর্মীকে, গণতন্ত্রকামী প্রতিটি রাজনৈতিক দলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আজকে আমাদেরকে একটি জায়গায় ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।
তিনি বলেন, ভারতে পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারকে বিচারের আওতায় আনতে হবে। এই খুন গুম এবং লক্ষ লক্ষ মানুষকে আহত করার জন্য তার বিচার করতে হবে। তাকে কোনোভাবে ছেড়ে দেওয়া যাবে না। এই হত্যার দায় তার। এই পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের বিচার করতে হবে।
অনুষ্ঠানে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান আব্দুল আউয়াল মিন্টু, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, যুগ্ম মহাসচিব শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি এবং বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য জয়নুল আবেদীন ফারুক প্রমুখ বক্তব্য দেন।
অনুষ্ঠানে নবনির্মিত বাড়ির চাবি মাসুদের স্ত্রীর হাতে হস্তান্তর করা হয়।
২০১৬ সালের ২৫ জুন মাসুদ বিচারবহির্ভুত হত্যাকাণ্ডের শিকার হন। মাসুদের মৃত্যুর পর থেকে কষ্টে থাকা তার স্ত্রী ও দশম শ্রেণিতে অধ্যয়নরত মেয়ের সহযোগিতায় এগিয়ে আসেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
আরও পড়ুন: আ. লীগ বর্তমান নামে রাজনীতি করতে পারবে না: সালাহউদ্দিন
৫৪৪ দিন আগে
আ. লীগ বর্তমান নামে রাজনীতি করতে পারবে না: সালাহউদ্দিন
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেছেন, জুলাই মাসের গণঅভ্যুত্থানের মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণ তাদের 'ফ্যাসিবাদী' শাসনকে প্রত্যাখ্যান করায় আওয়ামী লীগ আর তাদের বর্তমান নামে রাজনীতি করতে পারবে না।
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) এক আলোচনা সভায় তিনি গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আওয়ামী লীগের বিচারের দাবি জানান।
জাতীয় প্রেসক্লাবে 'জাতীয় ঐক্য ও বর্তমান বাস্তবতা' শীর্ষক এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে আঞ্চলিক সম্পাদক পরিষদ।
তিনি বলেন, আমরা স্পষ্ট ভাষায় বলতে চাই, ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনীতিকে প্রত্যাখ্যান করেছে বাংলাদেশের জনগণ। দেশ থেকে তাদের বিতাড়িত করেছে। আমরা এখন দাবি জানাচ্ছি তারা আওয়ামী লীগ নামে বাংলাদেশে আর রাজনীতি করতে পারবেন না।
আরও পড়ুন: মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাই এক: তারেক রহমান
আওয়ামী লীগের বিচারের জন্য প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের ব্যর্থতারও সমালোচনা করেন তিনি।
সালাহউদ্দিন বলেন, 'আমরা গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে আওয়ামী লীগের বিচার দাবি করছি ‘
তিনি আরও বলেন, আওয়ামী লীগকে বাংলাদেশে রাজনীতি করতে দেওয়া উচিত কিনা, তা বিচারিক প্রক্রিয়ার মাধ্যমে নির্ধারণ করতে হবে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, বাংলাদেশের মানুষ চায় আওয়ামী লীগের ফ্যাসিবাদী রাজনীতি দেশ থেকে নির্মূল হোক। ‘আপনারা (সরকার) এ ব্যাপারে পদক্ষেপ নিতে পারেন।’
তিনি বলেন, 'একদিকে আপনারা আওয়ামী লীগকে নিষিদ্ধ করতে চান, অন্যদিকে তাদের বিচার করবেন না। বরং পুলিশ দিয়ে তাদের রাজনৈতিক কর্মসূচি বাধাগ্রস্ত করছেন। এগুলো স্ববিরোধিতা, এটা ঠিক নয়।’
সালাহউদ্দিন বলেন, রাজনৈতিক কর্মকাণ্ড চালাতে আওয়ামী লীগকে রাস্তায় নামতে না দেওয়ার সরকারের পদক্ষেপকে তারা সমর্থন করেন। ‘কিন্তু পুলিশ দিয়ে রাস্তায় তাদের আর কতদিন আটকাবেন? আপনারা বলছেন আওয়ামী লীগকে নির্বাচনে চান না, দলটিকে রাজনীতি করতে দেওয়া যাবে না। কিন্তু, আপনারা কী পদক্ষেপ নিচ্ছেন? তাদের বিরুদ্ধে কোনো আইনি ব্যবস্থা নিচ্ছেন? নিচ্ছেন না।’
তিনি বলেন, সরকার সংবিধানের ৪৭ অনুচ্ছেদে আওয়ামী লীগকে রাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বিচার করতে পারবে এবং গণহত্যা ও মানবতাবিরোধী অপরাধের জন্য আইনি কার্যক্রম শুরু করতে পারবে।
বিএনপির এই নেতা আরও বলেন, দেশের জনগণ ও তাদের দল আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল (আইসিটি) আইন সংশোধনের দাবি জানিয়েছে। ‘কিন্তু, হঠাৎ করে উপদেষ্টা পরিষদের এক সভায় সিদ্ধান্ত নেওয়া হলো এটা করা যাবে না। কেন এমন সিদ্ধান্ত?’
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের বিচারের জন্য সরকার প্রয়োজনে অধ্যাদেশ জারি করতে পারে।
সালাহউদ্দিন আহমেদ বলেন, কেউ কেউ বলছেন, আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনাল দলীয় নেতাদের বিরুদ্ধে বিচার কার্যক্রম চলাকালে আওয়ামী লীগের রাজনীতি সম্পর্কে পর্যবেক্ষণ দিতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এটা খুবই দুর্বল পর্যবেক্ষণ হবে। তারপরও প্রশাসনিক আদেশ জারি করে সেই পর্যবেক্ষণের ভিত্তিতে আইন প্রণয়ন করতে হবে। তবে আপনারা এখন (অর্ডিন্যান্সের মাধ্যমে) সেই পদক্ষেপ নিতে পারেন।’
সরকারের গঠিত বিচার বিভাগীয় সংস্কার কমিশন এ বিষয়ে কোনো সুপারিশ দেবে কিনা সে ব্যাপারে নিশ্চিত নন উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘আমার সন্দেহ আছে নিশি রাতের বিচারকদের বহাল রেখে বাংলাদেশের বিচার ব্যবস্থা সম্পূর্ণ স্বাধীন হতে পারবে কিনা তা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।’
আরও পড়ুন: সংস্কারের নামে বেশি সময়ক্ষেপণ না করার আহ্বান তারেক রহমানের
তিনি সরকারকে হুঁশিয়ার করে বলেন, ফ্যাসিবাদের প্রেতাত্মা ও আওয়ামী লীগের দোসরদের বিভিন্ন দপ্তর, মন্ত্রণালয়, প্রশাসন ও বিচার বিভাগের গুরুত্বপূর্ণ পদে রেখে সরকার কখনো সফল হবে না।
সালাহউদ্দিন বলেন, ‘তাই বিচার বিভাগ, প্রশাসন বা নির্বাচন যাই হোক না কেন, সর্বত্র ফ্যাসিস্টদের নির্মূল করতে হবে। গণতান্ত্রিক সংস্কারের মাধ্যমে আমরা একটি সাংবিধানিক রাজনৈতিক সরকার প্রতিষ্ঠা করতে চাই এবং সেজন্য নির্বাচনকেন্দ্রিক সংস্কারকে অগ্রাধিকার দিতে হবে।’
তিনি স্বল্প মেয়াদে বাস্তবায়ন করা যেতে পারে এমন নির্বাচন-সম্পর্কিত সংস্কারগুলোকে চিহ্নিত করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। ‘পরে রাজনৈতিক দলসহ সব অংশীজনের সঙ্গে আলোচনা করে প্রয়োজনীয় আইনি সংশোধনী আনা হবে।’ আইনি সংশোধনের পর যদি প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কারের প্রয়োজন হয়, আপনারা করতে পারেন। আমরা জানি.. এর জন্য কত সময় লাগবে।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, নির্বাচন কমিশন ভোটার তালিকা তৈরির কাজ প্রায় শেষ করেছে, যা ২ মার্চের মধ্যে চূড়ান্ত করা হবে। ‘এরপর ধারাবাহিক প্রক্রিয়ায় আপত্তির শুনানি হবে, আশা করা হচ্ছে দুই মাসের মধ্যে তা শেষ হবে। নির্ধারিত সময়ে সীমানা নির্ধারণ সম্পন্ন হবে এবং আইনি সংস্কার ছাড়া অন্যান্য নির্বাচনী কার্যক্রমের জন্য খুব বেশি প্রয়োজন হবে না। তাই বেশি সময় নেওয়ার কোনো কৌশল অবলম্বন করলে জাতি তা মেনে নেবে না।’
তিনি সংশ্লিষ্ট স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে আলোচনার মাধ্যমে নির্বাচনী রোডম্যাপ প্রণয়নের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। যৌক্তিক মনে হলে জনগণ সেই নির্বাচনী রোডম্যাপ মেনে নেবে।
আরও পড়ুন: সরকারে জবাবদিহি নেই বলেই গ্যাসের দাম বাড়ছে: রিজভী
৫৪৪ দিন আগে
ফ্যাসিস্টরা ইতিহাসের করুণ পাঠ থেকে শিক্ষা নেয় না: জামায়াত আমির
অতীতের ফ্যাসিস্ট ও স্বৈরাচারেরা ইতিহাসের করুণ পাঠ পড়লেও শিক্ষা নেয়নি বলে মন্তব্য করেছেন জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, ‘অতীতে এরকম স্বৈরাচার, ফ্যাসিস্ট যারা ছিল— তাদের নাম বিভিন্ন ধর্মগ্রন্থে অঙ্কিত হয়ে আছে। একই পরিণতি সবার বরণ করতে হয়েছে। কিন্ত ইতিহাসের দুর্ভাগ্যজনক শিক্ষা হচ্ছে— ইতিহাসের করুণ পাঠ পড়ে, কিন্ত সেখান থেকে শিক্ষা নেয় না।’
বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকাল সাড়ে ১১টায় জাতীয় প্রেসক্লাবের হলরুমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আয়োজনে জুলাই ২০২৪ বিপ্লবের শহীদদের নিয়ে স্মারকের উদ্বোধন করেন ডা. শফিকুর রহমান।
এছাড়াও একযোগে রংপুর, রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, ঢাকা, গাজীপুর, ময়মনসিংহ, সিলেট, নারায়ণগঞ্জ, কুমিল্লা, চট্টগ্রামে জুলাই শহীদদের নিয়ে রচিত স্মারকগ্রন্থের মোড়ক উন্মোচন করা হয়।
তিনি বলেন, ক্ষমতায় যখন তারা থাকেন, তখন তারা সদর্পে অনেক দাম্ভিকতা প্রদর্শন করে। আল্লাহ তায়ালা এসব দাম্ভিকদের ছাড় দেন— ছেড়ে দেন না।
তিনি বলেন, যে জাতি তার বীরদের ও জ্ঞানীদের সম্মান করতে জানে না, আল্লাহ রাব্বুল আলামিন সেই জাতিকে সম্মানিত করেন না। আমাদের জাতির ইতিহাস বিস্মৃতির ও বিকৃতির ইতিহাস। এই ইতিহাস অনেক সময় রচনা হয়েছে বহু বছর পরে। ইতিহাসের জায়গা থেকে ইতিহাসকে সরিয়ে দিলে সেটা আর ইতিহাস থাকে না।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, কিছু ইতিহাস মানুষের জন্য হয় বিষাদের, কিছু হয় আনন্দের, আর কিছু হয় গৌরবের। জাতিকে মুক্ত করার আন্দোলনে যারা জীবন দেন, অতীতেও এরকম যারা দিয়েছেন, ৪৭, ৫২ সর্বশেষ ২০২৪ যারা জীবন দিয়েছেন— তারা গৌরবের। শহীদ পরিবারগুলোর জন্য এটি কান্নার ইতিহাস, আর দেশবাসীর জন্য আল্লাহর শুকরিয়া আদায় করার ইতিহাস।
তিনি বলেন, ২০২৪ সালের ৫ আগস্টের আগ পর্যন্ত এরকম একটি আয়োজন আমরা কিংবা কোনো বিরোধী দল কখনো কল্পনাও করেনি। এমনকি সমাজের যারা বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ, যাদেরকে সভ্য সমাজের প্রতিনিধি বলা হয়— তারাও সাহস করেনি।
জামায়াত আমির বলেন, ফ্যাসিবাদী সরকারের হাতে সত্যিকার অর্থে একা জামায়াতে ইসলামী নয়, মুক্তিকামী সকল মানুষ ছিলেন মজলুম। এদেশের আপামর ওলামায়ে কেরাম, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মী-সমর্থক— এমনকি সাধারণ জনতাও।
তিনি বলেন, সাংবাদিকরাও ফ্যাসিবাদের থাবা থেকে মুক্ত ছিলেন না। ওই সময় তাদেরকেও জীবন দিতে হয়েছে— কারাগারে যেতে হয়েছে, রিমান্ডের নামে নির্যাতন ভোগ করতে হয়েছে। বিদেশে বসে যারা দেশের মুক্তির জন্য কলম যুদ্ধ চালিয়েছিলেন, দেশে তাদের আপনজনকে হেনস্তা করা হয়েছে। জেলে ভরা হয়েছে, নারীদেরকেও ক্ষমা করা হয়নি। এদের রুচি কত নিম্নস্তরের ছিল এখান থেকে উপলব্ধি করা যায়।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, সেই শ্বাসরুদ্ধকর বন্দিদশার অবস্থা থেকে জাতি মুক্তির জন্য যারা নিজেদের পবিত্র জীবনটি বিলিয়ে দিয়ে আমাদেরকে এমন একটি পরিবেশ করে দিলো আমি তাদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা ও আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।
আরও পড়ুন: শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে জামায়াত: ডা. শফিক
জামায়াত আমির বলেন, দেশ আমাদের সকলের। দেশের পাহাড়াদারির দায়িত্ব সকল নাগরিকের। এ কাজ কিছু লোক করে, আর কিছু লোক নাগরিকদের শান্তি কেড়ে নেওয়ার অপকর্মে লিপ্ত হয়। অপকর্মে যারা করে তারা এটাকে পেশা হিসেবে বিবেচনা করে। এক সময় তারা এটিকে অধিকারের মতো মনে করে। বাকী জনগণকে তারা তাদের প্রজা মনে করে। নিজেরা রাজা হয়ে বসেন।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী অনুভব করেছে— দায়িত্বশীল দল হিসেবে জামায়াতের কিছু কর্তব্য আছে। আমারাও এই আন্দোলনে শরীক ছিলাম। এই আন্দোলনের মাধ্যমে গোটা জাতি যেমন মুক্তি পেয়েছে, এদেশের সবচেয়ে নির্যাতিত দল হিসেবে কৃতজ্ঞতাও আদায় করার প্রয়োজন আছে।
তিনি বলেন, আমরা শহীদ পরিবারগুলোর কাছে গিয়েছি। নিজেরদেরকে প্রশান্তি দিতে, সান্তনা দিতে। দোয়া করতে যাইনি দোয়া নিতে গিয়েছি। কারণ তারা বড়িই সৌভাগ্যবান। তারা তাদের পরিবারের সদস্যদেরকে জাতির জন্য আল্লাহর কাছে উপহার দিয়েছে।
জামায়াত আমির বলেন, স্মারক প্রস্তুতে জনগণ স্বতঃস্ফুর্ত সহযোগিতা করেছে। স্মারকের কাজ পরিপূর্ণ করতে পারি নাই। প্রক্রিয়া চলমান। শহীদ পরিবার, আহতরা বিভিন্নভাবে হতাশাগ্রস্ত হয়ে পড়েছেন। এই সময়ে দায়িত্বশীল ভূমিকা নিয়ে কিছু জিনিস নিয়ে অন্তত তাদের সামনে আসা দরকার। এজন্য অসমাপ্ত রেখেই স্মারকের প্রাথমিক পর্বটি প্রকাশ করা হয়েছে। অনাকাঙ্ক্ষিত ভুলের জন্য পাঠক ও শহীদ পরিবারের সদস্যদের কাছে ক্ষমা প্রার্থনাও করেন জামায়াতপ্রধান।
যাদের নাম এখনো আসেনি তাদের সম্পর্কে তথ্য দিয়ে সহায়তা আহ্বান জানান তিনি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ভুলভ্রান্তি ধরিয়ে দিলে অনলাইনের মাধ্যমে এই ইতিহাসকে বিশ্ববাসীর কাছে ছড়িয়ে দেওয়া হবে এবং পৃথিবীর প্রধান সকল ভাষায় স্মারক প্রকাশ করা হবে। যাতে বিশ্ববাসী আমাদের বীরদের সম্পর্কে জানতে পারে। কৃতিত্ব ও গৌরবগাঁথা তাদেরও যেন অনুপ্রাণিত করতে পারে।
তিনি বলেন, আবু সাঈদের শাহাদাত ছিল এই আন্দোলনের বিশাল একটি টার্নিং পয়েন্ট। নিভৃত পল্লীর ছেলে ছিল সে। তার আশেপাশে তার মতো শিক্ষিত আরেকজন সদস্য নাই। সেই ছেলেটাই দুনিয়ায় নতুন ইতিহাস সৃষ্টি করল। খোলা বন্দুকের সামনে বুক চিতিয়ে ডানা মেলে বলেছিল- বুকের ভিতর অনেক ঝড় বুক পেতেছি গুলি কর। তার পথ ধরে বাকী শহীদরা বলেছিল আবু সাঈদ আমার ভাই। আমরাও তার মতো শাহাদাতের সিঁড়িতে পা রাখতে চাই— এটাই হয়েছে।
রাজনৈতিক দল ও সকল অংশীজনের কাছে অনুরোধ রেখে জামায়াত আমির বলেন, তারা (শহীদরা) বৈষম্যহীন বাংলাদেশ চেয়েছিল। একটি মানবিক সুন্দর বাংলাদেশ চেয়েছিল। দুর্নীতি-দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ চেয়েছিল। এখন দায়িত্ব আমাদের ঘাড়ে। তাদের রক্তের দিকে একটু তাকান। জীবন দেওয়া সেই তরতাজা শিশু-কিশোর-যুবক ও নারী-পুরুষের দিকে তাকান। বিপ্লবের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ অপকর্ম মেহেরবানি করে কেউ করবেন না। যদি করেন শহীদদের আত্মা কষ্ট পাবে, তাদের রক্তকে অপমান করা হবে। আর জীবিত শহীদ যারা— পঙ্গু হয়ে আছেন তারা ভীষণ কষ্ট পাবেন। তারা অভিশাপ দেবেন। মজলুম দেশবাসী অভিশাপ দেবে। সুতরাং, সকল অংশীজনের কাছে আমি বিনীতভাবে অনুরোধ জানাব, এমন কোনো কাজে আমরা জড়াবো না, যে কাজ করলে সকলের অভিশাপ আমাদের উপরে পড়বে।
আরও পড়ুন: ধর্ম নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে: জামায়াত আমির
ডা. শফিকুর রহমান আরও বলেন, যে কাজটিতে জামায়াত হাত দিয়েছে, এটি জামায়াতের একার সম্পত্তি নয়— এটি জাতীয় সম্পত্তি। এটা একার দায়িত্বও নয়, সকলের দায়িত্ব। সরকার ও আরও যারা অংশীজন আছেন, তাদেরও দায়িত্ব। আমরা এই কাজের কোনো ক্রেডিট (কৃতিত্ব) নিতে চাই না। আমরা শুধু নৈতিক দায়িত্ব পালনের চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, আমাদের চেয়ে আরও সুন্দর করে, আরও নিখুঁতভাবে করার জন্য আরও সংস্থা, সংগঠন ও অংশীজন এগিয়ে আসুক। তাহলেই আমাদের এই ভূমিকা নেওয়াটা সার্থক হবে। সেক্ষেত্রে জামায়াত সর্বাত্মক সহযোগিতা করবে বলেও জানান জামায়াত আমির।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির অধ্যাপক মুজিবুর রহমানের সভাপতিত্বে মোড়ক উন্মোচন অনুষ্ঠানে উদ্বোধনী বক্তব্য দেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পররওয়ার।
এতে আরও বক্তব্য দেন সহকারি সেক্রেটারি জেনারেল হামিদুর রহমান আযাদ, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের আমির নূরুল ইসলাম বুলবুল, কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের আমির মুহাম্মদ সেলিম উদ্দিন, হিন্দু মহাজোটের মহাসচিব গোবিন্দ চন্দ্র, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক সুকমল বড়ুয়া, জাতীয় দলের চেয়ারম্যান সৈয়দ এহসানুল হুদা, যুগান্তর পত্রিকার সম্পাদক ও কবি আব্দুল হাই শিকদার, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক, বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সভাপতি জাহিদুল ইসলাম, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক সভাপতি সাদিক কায়েম, জাগপার সহসভাপতি প্রকৌশলী রাশেদ প্রধান, ১২ দলের মুখপাত্র সেলিম প্রমুখ।
আরও পড়ুন: এক পরিবারের হাতে কর্তৃত্ববাদী ফ্যাসিবাদ পয়দা হয়েছিল: জামায়াত সেক্রেটারি
এতে আরও উপস্থিত ছিলেন জুলাই বিপ্লবে শহীদ পরিবারেরর সদস্য, দলটির কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য মোবারক হোসেন ও সাইফুল ইসলাম খান মিলন। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ ও ঢাকা মহানগরী দক্ষিণের সেক্রেটারি ড. শফিকুল ইসলাম মাসুদ ও ঢাকা মহানগরী উত্তরের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম।
৫৪৪ দিন আগে
‘দাম্ভিকতাই’ হাসিনার পতনের কারণ: গোলাম পরওয়ার
‘দাম্ভিকতার’ জন্যই সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার পতন হয়েছে বলে মনে করেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার। বুধবার (৫ ফেব্রুয়ারি) সকালে খুলনা প্রেসক্লাবের ব্যাংকুয়েট হলে ‘জুলাই ২০২৪ বিপ্লবের শহীদ’ গ্রন্থের মোড়ক উন্মোচনী অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘হেলিকপ্টার থেকে গুলি, নিহতদের পুড়িয়ে হত্যাসহ নানা অত্যাচার-নির্যাতনে আল্লাহর আরশ কেঁপেছে, মানুষের মন কেঁদেছে কিন্তু শেখ হাসিনার হৃদয় কাঁপেনি। বরং কোটা আন্দোলনে অংশগ্রহণকারী ছাত্রদেরকে রাজাকার বলে দাম্ভিকতা দেখিয়েছেন। হাসিনার সেই দাম্ভিকতাই তার পতনের কারণ হলো।’
আরো পড়ুন: ‘ক্ষমতায় যাওয়া নয়, সুশাসন কায়েম করাই জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশ্য’
‘জুলাই আন্দোলনের শহীদরা কোন দলের নয়; তারা জাতীয় সম্পদ, জাতীয় বীর’, বলেন জামায়াতে ইসলামীর এই নেতা।
‘জুলাই ২০২৪ বিপ্লবের শহীদ’ গ্রন্থ সম্পর্কে তিনি বলেন, ‘২৩টি গ্রুপে বিভক্ত হয়ে জামায়াতের টিম সব শহীদ পরিবারের বাড়িতে গিয়ে তথ্য সংগ্রহ করেছে। সংগৃহীত ৭১৭ জনের তথ্য সম্বলিত আড়াই হাজার পৃষ্ঠার এই ১০ খন্ডের বইটি প্রকাশ করা হয়েছে।’
তথ্য সংগ্রহের কাজ চলমান রয়েছে জানিয়ে গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘আরও ৯৩ জনের তথ্য নিয়ে বই সংকলনের কাজ চলছে। যতক্ষণ তথ্য আসবে, শহীদদের সংকলন ততক্ষণ চলতে থাকবে।’
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন জামায়াতে ইসলামীর খুলনা অঞ্চল পরিচালক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক। উপস্থিত ছিলেন খুলনা মহানগর সেক্রেটারি অ্যাড. শেখ জাহাঙ্গীর হুসাইন হেলাল, খুলনা অঞ্চল সহকারী পরিচালক মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, বাগেরহাট জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা রেজাউল করিম, খুলনা জেলা জামায়াতের আমীর মাওলানা ইমরান হোসাইন, খুলনার পাইকগাছার শহীদ রকিবুল হাসানের বাবা গাজী রফিকুল ইসলাম, শহীদ আলিফ আহমেদের বাবা বুলবুল কবির প্রমুখ।
আরো পড়ুন: দিনাজপুরে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলন
৫৪৪ দিন আগে
সরকারে জবাবদিহি নেই বলেই গ্যাসের দাম বাড়ছে: রিজভী
জবাবদিহি নেই বলেই সরকার গ্যাসের দাম বাড়াচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেছেন, ‘এই সরকারের জবাবদিহি থাকলে ১২ কেজি গ্যাস সিলিন্ডারে ১৯ টাকা বাড়ানো হতে পারে না। সীমিত আয়ের মানুষ যারা সিএনজি, রিকশাচালক কিংবা দিনমজুরি করে দিনানিপাত করে তাদের ওপর ভয়ঙ্কর চাপ পড়বে। এই মূল্যবৃদ্ধি অযৌক্তিক ও গণবিরোধী। এই সরকারের জবাবদিহি থাকলে গ্যাসের দাম বাড়াত না।’
মঙ্গলবার (৪ ফেব্রয়ারি)দুপুরে মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির নবগঠিত আহ্বায়ক কমিটি বিএনপি প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের কবরে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এসব কথা বলেন।
আরও পড়ুন:নাটোর জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়কের বাসায় হামলার অভিযোগ
রিজভী বলেন, “আমরা গণতান্ত্রিক দল অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সাপোর্ট দেই। কিন্তু আপনাদের (সরকারকে) মনে রাখতে হবে, আপনাদের সিদ্ধান্ত যেন গণবিরোধী না হয়, গরীব মানুষ মারার সিদ্ধান্ত যেন না হয়। এমনিতে নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যের মূল্য প্রতিদিন বাড়ছে। চালের দাম কমাতে পারেননি। তার মধ্যে যদি গ্যাসের দাম বাড়ানো হয়, তাহলে সেটি ‘মড়ার উপর খাঁড়ার ঘা’ ছাড়া আর কিছুই নয়।”
এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘শেখ হাসিনা দেশের জনগণের ক্ষমতা কেড়ে নিয়েছিল। সেই ক্ষমতা জনগণের কাছে ফিরিয়ে দিতে হবে। এই দেশে কে সরকার গঠন করবে—তা নির্ধারণ করবে দেশের জনগণ। কিন্তু শেখ হাসিনা সেটা করতে দেয়নি। ছাত্র-জনতার রক্তঝরা গণআন্দোলনে সেই ভয়ঙ্কর ফ্যাসিবাদী শেখ হাসিনা দেশ থেকে পালিয়ে গিয়েছে এবং দেশে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে। এই পরিবেশ নিশ্চিত করার জন্য জনগণের আশা জাগানোর জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের অনেক কিছু করার আছে।’
‘দেশের জনগণ গত ১৬-১৭ বছর ধরে ভোটকেন্দ্রে যেতে পারেনি, ভোট দিতে পারেনি। জনগণের চাওয়া—অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সেই পরিবেশটা তৈরি করবে, যাতে তারা ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দিতে পারেন।’
তিনি বলেন, ‘সংস্কারের নামে জনগণের চোখে ধোয়াশা সৃষ্টি করা যাবে না। বিএনপির পক্ষ থেকে বারবার বলা হচ্ছে, অন্তর্বর্তী সরকার সংস্কার করুক; তবে সংস্কারের সঙ্গে গণতন্ত্রকে শক্তিশালী করার জন্য নির্বাচনের তারিখ ঠিক করতে হবে।’
‘অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম ও প্রধান দায়িত্ব হচ্ছে অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের ব্যবস্থা করা। সংগঠন কিংবা দল কারা তৈরি করবে—সেই দায়িত্ব হচ্ছে সেই ব্যক্তির। এই দায়িত্ব প্রধান উপদেষ্টার নয়।’
দেশে গণতান্ত্রিক সরকার নেই বলেই অর্থনৈতিক খাতে বিনিয়োগ বিঘ্নিত হচ্ছে বলেও এ সময় মন্তব্য করেন বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ রাজনীতিক।
তার ভাষ্যে, ‘মানুষ অনিশ্চয়তার মধ্যে আছে। এই অনিশ্চয়তা কাটানোর জন্যই রাজনৈতিক সরকার প্রয়োজন। বর্তমানে দেশকে বৈদেশিক ঋণের ওপর নির্ভর করতে হচ্ছে। আমাদের রিজার্ভ আবার কমতে শুরু করেছে। এগুলো দূরীভূত করতে হলে অবশ্যই নির্বাচিত সরকারের পথে হাঁটতে হবে।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন মানিকগঞ্জ জেলা বিএনপির আহ্বায়ক আফরোজা খান রিতা, ঢাকা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক কাজী সাইদুল আলম বাবুল, সহ-অর্থ সম্পাদক মাহমুদুর রহমান সুমন, এস এ জিন্নাহ কবিরসহ বিএনপি ও অঙ্গসংগঠনের নেতাকর্মীরা।
আরও পড়ুন:ফরিদপুরে বিএনপির দুই গ্রুপে সংঘর্ষ, আহত ২২
৫৪৫ দিন আগে
সংস্কার না হলে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে না: ডা. শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য সুষ্ঠু পরিবেশ তৈরি হতে হবে। ন্যূনতম সংস্কারগুলো না হলে নির্বাচনের পরিবেশ তৈরি হবে না। এমন একটি নির্বাচন হওয়া প্রয়োজন— যেখানে প্রত্যেকে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে।
সোমবার (০৩ফেব্রুয়ারি) বেলা ১২টার দিকে ফেনীর পরশুরাম উপজেলার মির্জানগর ইউনিয়নের নিজ কালিকাপুর গ্রামে বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মুহুরী নদী ও বল্লামুখার বাঁধ পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা বলেন।
অতীতে বেড়িবাঁধ নির্মাণে দুর্নীতি হয়েছে উল্লেখ করে জামায়াত আমির বলেন, বেড়িবাঁধ বারবার ভাঙ্গার কারণ হচ্ছে এসব কাজে ব্যাপক দুর্নীতি হয়েছে। দুর্নীতি না হলে বাঁধ নির্মাণে প্রতি বছর কেন বাজেট দিতে হয়। বাঁধ নির্মাণে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণ করা হয়নি বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
বন্যাকে লংকাকাণ্ড হিসেবে আখ্যায়িত করে তিনি বলেন, হঠাৎ লাখ লাখ মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ও অসহায় হয়ে গেছে। বল্লামুখার বাঁধে দুই দেশের সীমান্ত রয়েছে। ভাঙ্গন কবলিত অংশটি ভারতের নোম্যান্সল্যান্ডে পড়েছে। তাদের এ ভাঙ্গনের কারণে আমাদের দেশ ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছে। এজন্য ভারতের সঙ্গে স্থায়ী সমাধানে পৌঁছাতে হবে। টেকসই বেড়িবাঁধ নির্মাণ করতে হবে।
গ্রামকে দেশের হৃদপিন্ড উল্লেখ করে তিনি বলেন, গ্রাম থাকলে দেশ বাঁচবে। ফেনীবাসীর যৌক্তিক দাবিকে আমরা পূর্ণ সমর্থন করি।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, প্রত্যেক সচেতন মানুষকে জুলাই আন্দোলনের শহীদ ও আহত পরিবারগুলোর পাশে দাঁড়াতে হবে। দেশের পরিবর্তনে শহীদদের মতো প্রবাসীদের কাছেও আমরা ঋণী।
আরও পড়ুন: ধর্ম নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে: জামায়াত আমির
পরে তিনি পরশুরাম সোনালী ব্যাংক চত্বরে উপজেলা ও পৌর জামায়াত আয়োজিত এক পথসভায় বক্তব্য দেন জামায়াত আমির।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ৫ আগষ্টের পর বাংলাদেশের উপর ভারত যে দুর্ভোগ চাপিয়ে দিয়েছিল তার কারণে পরশুরাম, ফেনী, নোয়াখালী, লক্ষীপুর একেবারে ভেসে গিয়েছিল।
জামায়াতপ্রধান বলেন, বেড়িবাঁধ স্থায়ী মেরামত করা যায় এব্যাপারে সরকারের সঙ্গে আলোচনা করব। আমি শুধু আপনাদেরকে বলব— দেশকে ভালো রাখতে হলে, ভালো জায়গায় নিতে হলে, দুর্নীতি ও দুঃশাসনমুক্ত দেশ দরকার। যেখানে কোন দুর্নীতি ও দুঃশাসন থাকবে না। একমাত্র কোরআনের শাসন ব্যবস্থা থাকলে সব সম্ভব। জামায়াত সেই কোরআনের শাসনের লক্ষ্যে কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আপনাদের ভালোবাসা দোয়া ও সমর্থন চাই।
এসময় উপস্থিত ছিলেন জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল এটিএম মাসুম, ঢাকা মহানগর উত্তরের সহকারী সেক্রেটারি ডা. ফখরুদ্দিন মানিক, ফেনী জেলা জামায়াতের আমির মুফতি আব্দুল হান্নান, সাবেক আমির অধ্যাপক লিয়াকত আলী ভূঁইয়া, একেম সামসুদ্দিন প্রমুখ।
আরও পড়ুন: শহীদদের স্বপ্ন বাস্তবায়নে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে জামায়াত: ডা. শফিক
৫৪৬ দিন আগে
সংস্কারের নামে বেশি সময়ক্ষেপণ না করার আহ্বান তারেক রহমানের
সংস্কারের নামে নির্বাচন দিতে বেশি সময়ক্ষেপণ না করতে অন্তবর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘নির্বাচনের মাধ্যমে যাদের জনগণ দায়িত্ব দেবে, সংস্কারের কাজ তারাই শুরু করতে পারবে। তাদের শুরু করতেই হবে। কারণ, যারা নির্বাচিত হয়ে আসবে, তারা জনগণের কাছে ওয়াদা করবে যে তারা সুযোগ পেলে বাস্তবায়ন করবে এই সংস্কার।’
রবিবার (২ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে রাজধানীর শ্যামপুরে কদমতলী শিল্প এলাকায় ‘৩১ দফা প্রশিক্ষণবিষয়ক কর্মশালায়’ প্রধান অতিথির বক্তব্যে এ কথা বলেন তিনি।
বিএনপির ঢাকা মহানগর দক্ষিণ শাখা এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করে। এতে ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হয়ে বক্তব্য দেন তারেক রহমান।
‘সংস্কারের আলাপ–আলোচনা দীর্ঘায়িত হলে স্বৈরাচার সুযোগ পেয়ে যাবে, আবার দেশের মানুষের কাঁধে চেপে বসবে। সংস্কারের আলাপ যত দীর্ঘ হবে, দেশ তত বেশি সংকটের মুখে পড়বে,’ বলেন তিনি।
তারেক রহমান বলেন, ‘দেশের মানুষ বিএনপিকে রাষ্ট্র পরিচালনার সুযোগ দিলে প্রত্যেকে যে যার অবস্থান থেকে যেই সংস্কারের ওয়াদা জনগণের সামনে দিয়েছেন, প্রত্যেকের অবস্থান থেকে সেই ওয়াদা পূরণের সর্বাচ্চ চেষ্টা করবেন।’
‘যেসব বিজ্ঞ ব্যক্তি যারা সংস্কারের কথা বলছেন, সবার কাছে রাজনৈতিক দলের অবস্থান থেকে আহ্বান জানিয়ে বলতে চাই, সংস্কার সংস্কার বক্তব্য রেখে দয়া করে এই আলাপ দীর্ঘায়িত করবেন না।’
‘কারণ, আলাপ যত দীর্ঘায়িত করবেন, দেশ তত বেশি সংকটের মুখে পড়বে, সংস্কার আলাপ যত দীর্ঘায়িত করবেন, দেশে তত ষড়যন্ত্রকারীরা ষড়যন্ত্র করার সুযোগ পাবে। সংস্কারকে যত দ্রুত বাস্তবায়ন করা যাবে, দেশকে, দেশের মানুষকে তত দ্রুত বিপদ থেকে রক্ষা করতে পারব,’ বলেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান।
নির্বাচন হলেই কি সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে—এ প্রশ্ন কেউ কেউ তুলছেন উল্লেখ করে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘সাথে সাথে সব সমস্যার সমাধান হবে না, কিন্তু নির্বাচন হলে নির্বাচনের মাধ্যমে জনগণের ভোটের মাধ্যমে জনগণের রায়ের মাধ্যমে যে দল বা যে ব্যক্তি বা যারা দেশ পরিচালনার সুযোগ পাবেন, তখন সমস্যার যে জট, সমস্যার যে গিট্টু, সেগুলো আস্তে আস্তে খোলা শুরু করবে।’
জনগণের ভোটের মাধ্যমে সরকার গঠন করতে পারলে সেই সরকার জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবে বলে মন্তব্য করেন তারেক রহমান। তিনি বলেন, ‘কারণ, পাঁচ বছর পর আবার জনগণের কাছে যেতে হবে। কাজেই যে প্রতিজ্ঞা জনগণের সামনে করে ক্ষমতায় আসবে, তাদের সেই কাজগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। ১০ টাকা কেজি চাল খাওয়ানের কাথা বলে ৭০ টাকা কেজি চাল খাওয়ালে ৫ আগস্টের মতো অবস্থা হবে।’
ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির আহ্বায়ক রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে ও সদস্যসচিব তানভীর আহমেদের সঞ্চালনায় কর্মশালায় বক্তব্য দেন বিএনপির বাণিজ্যবিষয়ক সম্পাদক সালাহ উদ্দিন আহমদ, তারেক রহমানের উপদেষ্টা মাহাদী আমিন, ঢাকা মহানগর দক্ষিণ বিএনপির সদস্য ইশরাক হোসেন প্রমুখ।
৫৪৭ দিন আগে