রাজনীতি
শার্শায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে বোমা হামলা, দোকান ভাঙচুর ও কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন তিনজন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাগআঁচড়া বাজারে ময়ূরী সিনেমা হলের সামনে দু’দফায় সংঘর্ষ হয়।
প্রতাক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তির অনুসারী বাগআঁচড়ার ইসমাইলের ছেলে যুবদলের বহিষ্কৃত কর্মী মাসুদ ও সাতমাইল এলাকার কপিল উদ্দীনের ছেলে যুবদল কর্মী বাবর আলীর মধ্যে বিরোধ চলছিল।
মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে এই বিরোধ চলছিল। এর জেরে মাসুদের নেতৃত্বে বাবুকে বাগআঁচড়া বাজারে মারপিট করা হয়।
পরে বাবুর পক্ষের নেতাকর্মীরা খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ময়ূরী সিনেমা হলের সামনে এসে মাসুদের বাবা ইসমাইলের দোকান ভাঙচুর করে। কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলে যায়।
ওই ঘটনার সূত্র ধরে আজ শুক্রবার সকালে আবারও মোটরসাইকেল বহর নিয়ে মাসুদের বাড়িতে হামলা চালায় তারা।
এসময় তারা কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং চাইনিজ কুড়াল দিয়ে দুটি মোটরসাইকেল কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বাবু জানান, বুধবার রাতে মাসুদ তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাকে মারধর করে ২০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
পরে ঘটনাটি তাদের নেতাকর্মীদের জানালে তারা মাসুদের বাড়ির সামনে গিয়েছিলেন রাতে ও সকালে তারা (মাসুদেরা) নিজেরা বোমা মেরে ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে তাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
মাসুদ জানায়, বাবুর পক্ষের নেতাকর্মীরা রাত ১২টার দিকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ময়ূরী সিনেমা হলের সামনে এসে আমার বাবা ইসমাইলের দোকান ভাঙচুর করেছে। কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলে যায়।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির আব্বাস জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কোনো অভিযোগ বা মামলা হলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
৪৯৪ দিন আগে
কুকুরের লাশই প্রমাণ করে সচিবালয়ের আগুন একটি ষড়যন্ত্র: সারজিস
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক ও জাতীয় নাগরিক কমিটির মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম বলেছেন, ‘সচিবালয়ের আগুন শুধুমাত্র আমাদের দুই সহযোদ্ধা আসিফ মাহমুদ ও নাহিদ ইসলামের রুমে লাগানো হয়েছে। সেখানে কুকুরের লাশই প্রমাণ করে এটি ষড়যন্ত্র।’
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) বিকালে ঠাকুরগাঁও প্রেসক্লাবের হলরুমে জাতীয় নাগরিক কমিটির ‘ঠাকুরগাঁও রাইজিং’ প্রোগ্রামে এসব কথা বলেন তিনি।
সারজিস বলেন, ‘সচিবালয়ের আমলারাই খুনি হাসিনাকে বসিয়ে রেখেছিল। গণ অভ্যুত্থানের আগে কিছু আমলা নামক দাস ঢাকার বিভিন্ন জায়গায় খুনি হাসিনার পক্ষে স্লোগান দিয়েছে। খুনি হাসিনার পোষ্য আমলারা আজও সচিবালয়ে চাকরি করছে। তারা চাকরি করলে সচিবালয় কীভাবে নিরাপদ থাকবে? হয় সাদা নয়তো কালা। তাদের চেয়ারে বসিয়ে রাখলে তাদের কাছ থেকে সুষ্ঠুভাবে দায়িত্ব পাওয়া সম্ভব না। সে কারণে এখন অপকর্ম হচ্ছে, দলীয় এজেন্ডা বাস্তবায়ন হচ্ছে।’
তিনি বলেন, ‘ছাত্র জনতার গণঅভ্যুত্থানকে পুঁজি করে মামলা-বাণিজ্য ও চাঁদাবাজির মাধ্যমে মানুষকে জিম্মি করা হচ্ছে। মামলায় নাম দেওয়ার সময় টাকা, আবার মামলা থেকে নাম কাটার সময়ও টাকা নেওয়া হচ্ছে। বড় বড় ব্যবসায়ীদের বাসায় ডেকে নিয়ে চাঁদাবাজি করা হচ্ছে। এসবের জন্য এত মানুষ শহিদ হয়নি।’
আরও পড়ুন: সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ড: কমিটিকে ৩ দিনের মধ্যে প্রতিবেদন দিতে নির্দেশ
জাতীয় নাগরিক কমিটি নিয়ে তিনি বলেন, এটি কোনো রাজনৈতিক দল নয়, একটি রাজনৈতিক শক্তি। সকলে অনুভব করে নতুন কিছু দরকার। বাংলাদেশের লিডারশিপগুলোকে (নেতৃত্ব) ধ্বংস করা হয়েছে। আগামীতে ডিমান্ড (চাহিদা) অনুযায়ী দক্ষ নেতৃত্ব তৈরির প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করবে নাগরিক কমিটি। এসব নেতৃত্ব আগীমার বাংলাদেশকে নেতৃত্ব দেবে।’
উপযুক্ত সংস্কার শেষ হওয়ার পরে নির্বাচন উল্লেখ করে সারজিস আলম বলেন, ‘গণ অভ্যুত্থানের আগে যদি বলা হতো- দুই-তিন বছর সংস্কারের জন্য সময় দিতে হবে, তাহলে শুধু রাজনৈতিক দল নয়, একজন সাধারণ মানুষকেও দ্বিমত করতে পাওয়া যেত না। আবার নির্বাচনের সময়কে দীর্ঘ করে দেশকে নাজুক পরিস্থিতিতেও নিয়ে যাওয়া যাবে না।’
‘গণঅভ্যুত্থানের এখনও ৫ মাসও পার হয়নি। তাদের (সরকারকে) স্ট্যান্ডার্ড সংস্কারের সময় ও সুযোগ দিতে হবে, যাতে তারা একটি সুষ্ঠু নির্বাচন দিতে পারে। তা না হলে এই সুযোগ খুনি হাসিনা কাজে লাগিয়ে পরিবেশ অস্থিতিশীল করার চেষ্টা করবে।’
৪৯৫ দিন আগে
দেশে কিংস পার্টি গঠনের চেষ্টা চলছে: রিজভী
রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে দেশে রাজকীয় দল বা কিংস পার্টি গঠনের চেষ্টা চলছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
বৃহস্পতিবার ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটটির (ডিআরইউ) মিলনায়তনে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের উদ্যোগে ’২২ ডিসেম্বর : রক্তাক্ত মতিহার ও রিজভী আহমেদ’ শীর্ষক এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
রিজভী বলেন, ‘আপনারা কোন পথে যেতে চান? আমরা শুনছি যে, একটি রাজকীয় দল করার নাকি চেষ্টা করা হচ্ছে, কিংস পার্টি যেটাকে বলা হয়। ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দিনরা যে চেষ্টা করেছেন, শেখ হাসিনা গোয়েন্দাদের দিয়ে যে কাজ করেছেন, এখনও তো আমরা সেটি শুনছি।’
‘আমরা শুনছি যে গোয়েন্দা সংস্থার লোকেরা বিভিন্ন এলাকায় গিয়ে মানুষজনকে বলছে- অমুক অমুক লোকের সঙ্গে আপনারা যোগাযোগ করুন। এটা তো করতে পারে না। এটা হলে তো মানুষের যে এত আত্মদান, সেটা করত না।’
তিনি বলেন, ‘এই পরিস্থিতি যদি আবার ফিরে আসে যে, কারা কারা নির্বাচিত হবেন, কারা কোন রাজনৈতিক দল করবেন- রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থাগুলো যদি এটি নির্ধারণ করে দেয়, তাহলে শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে লড়াইয়ের আর কি সার্থকতা থাকল?’
‘শেখ হাসিনাও একই কাজ করেছেন। উনি তৃণমূল থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত গোয়েন্দা সংস্থা দিয়ে বিরোধী দলের লোকজনকে ধমক দিতেন; চেষ্টা করাতেন বিএনপি থেকে তাদের যেন সরিয়ে দেওয়া যায়, তারা যেন আরেকটি রাজনৈতিক দল গঠন করতে পারে, তারা যেন বিএনপিকে ভাঙে। এই কাজটাই তো ১৬/১৭ বছর শেখ হাসিনা গোয়েন্দা সংস্থাগুলোকে দিয়ে করিয়েছেন। এখন আবার আমরা শুনছি, গোয়েন্দা সংস্থার লোকরা নাকি একটি রাজনৈতিক দল গঠনের জন্য, কাউকে কাউকে সমর্থন দেওয়ার জন্য বিভিন্ন জায়গায় কাজ করছে। এই ঘটনা কিন্তু এদেশের মানুষ মেনে নেবে না।’
আরও পড়ুন: উপদেষ্টারা আমাদের প্রতিপক্ষ হওয়ার যোগ্যও নন: নজরুল ইসলাম খান
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশ একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক পরিবেশ। যে মানুষ যে রাজনৈতিক দলকে পছন্দ করে, তাকে তারা ভোট দেবে। যে মানুষ যে রাজনৈতিক দল গঠন করতে চায়, তারা সেভাবে রাজনৈতিক দল গঠন করবে। এখানে কোনো নির্দেশনা, কোনো হুমকি, রাষ্ট্রের কোনো খবরদারি থাকবে না- এটিই হচ্ছে প্রকৃত গণতান্ত্রিক সমাজ, এটিই প্রকৃত গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র।’
‘সেটি না করে ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দিনের মতো, এরশাদের মতো এবং শেখ হাসিনার মতো একই কালচার, একই সংস্কৃতির যদি পুনরাবৃত্তি হয় তাহলে তো মানুষ মনে করবে আরেকটি ফ্যাসিবাদ তৈরির প্রচেষ্টা চলছে। এটি হতে দেওয়া যায় না।’
সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডে রিজভীর উদ্বেগ
সচিবালয়ে আগুন লাগার ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করে এ সময় এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘চারদিকে বিভিন্ন ঘটনায় আমরা শঙ্কিত, আমরা ভয়ার্ত। এ ভয় ব্যক্তিগত নয়, ভয় রাষ্ট্র নিয়ে। আমরা এর আগেও দেখেছি, কোনো সচিব বা মন্ত্রীর বিরুদ্ধে জনগণের প্রতিবাদ এলেই সচিবালয়ের নথি গায়েব হয়ে যায়, সেখানে আগুন ধরে যায়।’
তিনি বলেন, ‘শেখ হাসিনা ও তার দোসরদের কিছু নথিপত্র চাওয়াতেই সচিবালয়ে আগুন লেগেছে। এই ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে যাওয়ার বিষয়টি মানুষকে ভাবিয়ে তুলেছে, জনমনে প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।’
‘রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের’ এ আলোচনাসভায় প্রধান অতিথি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান।
সংগঠনটির সভাপতি অ্যাডভোকেট বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মল্লিক মো. মোকাম্মেল কবীরের সঞ্চালনায় হাবিবুর রহমান হাবিব, মীর সরাফত আলী সপু, সৈয়দ শাহীন শওকত, ওবায়দুর রহমান চন্দন, রমেশ দত্ত বক্তব্য দেন।
৪৯৫ দিন আগে
সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ডে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চান মির্জা ফখরুল
সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে এ ঘটনায় জড়িতদের খুঁজে বের করে শাস্তির জোর দাবি জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) গণমাধ্যমে পাঠানো এক বিবৃতিতে তিনি এ দাবি জানান।
বিবৃতিতে বিএনপি মহাসচিব বলেন, সচিবালয়ের মতো স্পর্শকাতর ভবনে ভয়াবহ আগুন এবং আগুনে একজনের মৃত্যু ও ২/৩ জন আহত হওয়ার ঘটনায় আমি গভীরভাবে উদ্বিগ্ন। সচিবালয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্র পুড়ে ভস্মীভূত হওয়ায় ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার এ ধরনের অগ্নিকাণ্ডে বিব্রতকর অবস্থার মধ্যে পড়া অস্বাভাবিক নয়।
সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে প্রকৃত দোষীদের খুঁজে বের করে শাস্তির জোর দাবি জানান মির্জা ফখরুল। পাশাপাশি নিহতের পরিবারসহ আহতদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া আহ্বান জানান তিনি।
আরও পড়ুন: সচিবালয়ের আগুন নিয়ন্ত্রণে, নিহত ১
বুধবার দিবাগত রাতে সচিবালয়ে আগুন লাগে। রাত ১টা ৫২ মিনিটে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। প্রথমে সচিবালয়ে অবস্থিত ফায়ার সার্ভিসের ইউনিটটি আগুন নিয়ন্ত্রণের চেষ্টা করে। তবে আগুনের তীব্রতা বেড়ে গেলে একে একে ১৯টি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে কাজে যোগ দেয়। প্রায় ৬ ঘণ্টা পর সকাল ৮টা ৫ মিনিটে আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে।
অগ্নিনির্বাপণের কাজে পানির লাইন দিতে গিয়ে সচিবালয়ের সামনের রাস্তায় ট্রাক চাপায় আহন হন মো. সোহানুর জামান নয়ন নামে একজন ফায়ার ফাইটার। পরে আহত অবস্থায় ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে নিয়ে যাওয়ার পর তার মৃত্যু হয়।
আগুনে ৭ নম্বর ভবনের ষষ্ঠ থেকে নবম তলা পর্যন্ত চারটি তলা মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত তলাগুলোতে একাধিক গুরুত্বপূর্ণ মন্ত্রণালয় ও বিভাগ রয়েছে। এর মধ্যে যুব ও ক্রীড়া মন্ত্রণালয়, শ্রম ও কর্মসংস্থান মন্ত্রণালয়, ডাক ও টেলিযোগাযোগ বিভাগ, স্থানীয় সরকার বিভাগ, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় বিভাগ এবং সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগ উল্লেখযোগ্য।
৪৯৫ দিন আগে
উপদেষ্টারা আমাদের প্রতিপক্ষ হওয়ার যোগ্যও নন: নজরুল ইসলাম খান
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খান বলেছেন, বর্তমান সরকারের উপদেষ্টারা প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর বিষয়ে প্রতিপক্ষের মতো কথা বলছেন। আমরা তাদের প্রতিপক্ষ মনে করি না; তারা আমাদের প্রতিপক্ষ হওয়ার যোগ্যও নন।
ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে (ডিআরইউ) বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স-স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশন আয়োজিত ‘রক্তাক্ত মতিহার ও রিজভী আহমেদ’ ২২ ডিসেম্বর ৮৪ স্মরণে আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
উপদেষ্টাদের উদ্দেশে নজরুল ইসলাম খান বলেন, ‘তাদের প্রতিষ্ঠিত রাজনৈতিক দলগুলোর সম্পর্কে কমেন্ট (মন্তব্য) করার কী দরকার। তারা কি প্রতিপক্ষ হবে? আমরা তো তাদের প্রতিপক্ষ মনে করি না! তারা আমাদের প্রতিপক্ষ হওয়ার যোগ্যও নন। আমরা রাজনীতি করি, তারা তো রাজনীতিই করে না; তাহলে প্রতিপক্ষ হবে কীভাবে? আমরা ইলেকশন করব, তারা কি আমাদের বিরোধী ইলেকশন করবে? তারা তো আমাদের প্রতিপক্ষ নন!’
তিনি বলেন, ‘অন্তর্বর্তী সরকারকে তো আমরাই প্রতিষ্ঠা করেছি, নাকি? তারা তো জোর করে ক্ষমতা দখল করেনি। আমরা এই দেশের মানুষ, আন্দোলনের মধ্যে যারা ছিলাম, আমরা সবাই মিলে তাদের প্রতিষ্ঠা করেছি। তাদের কাছে আমাদের প্রত্যাশা কী?’
‘জনগণের কল্যাণে সমস্যা সমাধানের চেষ্টা করবেন। যারা দোষ করেছেন, অপরাধ করেছেন, খুন করেছেন, দুর্নীতি করেছেন, তাদের বিচারের চেষ্টা করবেন। যতটা পারেন করবেন। আর যে গণতন্ত্রের জন্য আমরা দীর্ঘদিন ধরে লড়াই-সংগ্রাম করেছি, সেই গণতন্ত্রের জন্য ক্ষেত্রটি তৈরি করে একটি নির্বাচন দেবেন।’
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার ইঙ্গিতে মিশ্র প্রতিক্রিয়া বিএনপির
গত ৫৩ বছরে রাজনীতিবিদরা দেশের জন্য কিছুই করেননি- পরিবেশ উপদেষ্টা সৈয়দা রিজওয়ানা হাসানের এমন বক্তব্যের সমালোচনা করেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘জিয়াউর রহমান দুর্ভিক্ষ কবলিত জাতির জন্য খাদ্যের ব্যবস্থা করেছিলেন। বাংলাদেশের মানুষের কর্মসংস্থানের জন্য গার্মেন্টস শিল্প করেছিলেন। প্রবাসে কর্মসংস্থানের উদ্যোগ নিয়েছিলেন। সমুদ্রের মাছ শিকারের ব্যবস্থা করেছিলেন এবং বিদেশে মাছ রপ্তানি করেছিলেন। গ্রামীণ জনগোষ্ঠীর জীবনমান উন্নয়ন করেছিলেন। কৃষি সম্প্রসারণের জন্য খাল কেটেছিলেন। এসব কি উন্নয়ন নয়?’
‘খালেদা জিয়া শিক্ষার বিনিময়ে খাদ্যের ব্যবস্থা করে লেখাপড়ার প্রসার করেন, মেয়েদের বৃত্তির ব্যবস্থা করেছিলেন। আজ যারা সমালোচনা করেন তারা অন্তত এরকম একটা কাজ করুন- (এমন কিছু) করার পর সমালোচনা করুন।’
এই নেতা বলেন, ‘যার সামর্থ্য কম, সে নিজের অক্ষমতা ঢাকার জন্য সমালোচনাকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করে। মিথ্যা সমালোচনাকারীদের বিরুদ্ধে সজাগ থাকতে হবে।’
রাজশাহী ইউনিভার্সিটি ন্যাশনালিস্ট এক্স-স্টুডেন্ট অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি অধ্যক্ষ বাহাউদ্দিন বাহারের সভাপতিত্বে এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন বিএনপি চেয়ারপারসনের উপদেষ্টা হাবিবুর রহমান হাবিব, দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী, স্বেচ্ছাসেবক বিষয়ক সম্পাদক মীর শরাফত আলী সপু, সাংগঠনিক সম্পাদক সৈয়দ শাহীন শওকত, কৃষক দল সভাপতি হাসান জাফির তুহিন, রুনেসার সম্পাদক মল্লিক মো. মোকাম্মেল কবীর প্রমুখ।
৪৯৫ দিন আগে
‘সচিবালয়ে অগ্নিকাণ্ডের পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে’
সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ড কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা নয়, এর পেছনে ষড়যন্ত্র রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন ১২ দলীয় জোটের প্রধান মোস্তফা জামাল হায়দার।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) ১২ দলীয় জোটের দেশবিরোধী অপতৎপরতা, সাবেক কাউন্সিলরদের পুনর্বাসনের ষড়যন্ত্র ও নিত্য প্রয়োজনীয় পণ্যের দাম কমানোর দাবিতে আয়োজিত বিক্ষোভ সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মোস্তফা জামাল হায়দার বলেন, ‘আমাদের ছাত্রসমাজ, রাজনৈতিক সমাজ আজ দ্বিধাদ্বন্দ্বে ভুগছে। সময় এসেছে জুলাইয়ের চাইতেও কঠিন ও শক্তিশালী জাতীয় ঐক্য গড়ে তোলা। অন্তবর্তীকালীন সরকারকে বলতে চাই, আমরা আপনাদের শত্রু নই, কিন্তু আপনারা যদি জনগনের পালস বুঝতে ব্যর্থ হন, তাহলে ভয়াবহ পরিণতি অপেক্ষা করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সংগ্রামী চেতনার কোথায় যেন চিড় ধরেছে, বিভ্রান্তি তৈরি করার অপচেষ্টা চলছে। শেখ হাসিনার পতনের পর যে অন্তবর্তীকালীন সরকার তৈরি হয়েছে, সে সরকারকে আমরা দুই হাত তুলে আশীর্বাদ করেছিলাম, এখনও তাদের প্রতি আমাদের আস্থা রয়েছে। কিন্তু সে সরকার এখন একের পর এক ভুল করে চলেছে, আর তাদের এই ভুল জাতীয় ঐক্যে ফাটল তৈরি করছে।’
আরও পড়ুন: সচিবালয়ের আগুন নিয়ন্ত্রণে, নিহত ১
১২ দলীয় জোট প্রধান বলেন, ‘জুলাই অভ্যুথান-পরবর্তী যে জাতীয় ঐক্য সৃষ্টি হয়েছে, তা যদি আমরা ধরে রাখতে না পারি, তাহলে জাতীয় ঐক্যবিরোধী শত্রুরাই সবচাইতে বেশি খুশি হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘দেশের বর্ডারের (সীমান্ত) চারপাশে যে উদ্ভূত পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে তাকে উপেক্ষা করা সম্ভব নয়। পার্বত্য চট্টগ্রামে যে অস্থিরতা সৃষ্টি করার চেষ্টা চলছে, তা মোকাবিলা করার জন্য আরও সুদৃঢ় ঐক্য তৈরি করতে হবে।’
৪৯৫ দিন আগে
আ. লীগ সাড়ে ১৫ বছর দেশের পরিবর্তে নিজেদেরকে সাজিয়েছে: জামায়াত আমির
বিগত দিনে একটানা সাড়ে ১৫ বছর যারা শাসন করেছেন তারা দেশকে না সাজিয়ে নিজেদেরকে সাজিয়েছেন বলে মন্তব্য করেছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
তিনি বলেন, আবহমান কাল থেকে আমাদের এই দেশটি সৌহার্দ্য-সম্প্রীতির। নানা ধর্মের মানুষ আমরা মিলেমিশে বসবাস করি। এমন একটি দেশ দুনিয়ায় কমই আছে। দেশের মানুষের হাতে কাজ তুলে দেওয়ার পরিবর্তে দেশের মানুষের রিযিক তারা তুলে নিয়েছে। লাখো বেকারের মিছিলে জনগণ ছিল পিষ্ঠ। এর জন্য সরকার দায়ী।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকালে খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলার আঠারোমাইল মোড়ে অনুষ্ঠিত জামায়াতের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
ডুমুরিয়া উপজেলা জামায়াত এই পথসভার আয়োজন করে।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘তারা ছাত্রদের হাত থেকে কলম কেড়ে নিয়ে তাদের হাতে অস্ত্র তুলে দিয়েছে। তারা দেশের মানুষের হাড় ভাঙা পরিশ্রমে অর্জিত টাকা বিদেশে পাচার করেছে।’
জামায়াতের আমির আরও বলেন, অনেকে জিজ্ঞেস করেন তারা আবার নির্বাচনে আসবে কি? আমি বলি- যারা গণহত্যা করেছে, গদিতে থাকার জন্য দেশের মানুষের কেনা অস্ত্র দিয়ে দেশের মানুষের বুকে গুলি ছুড়েছে- তারা কী রাজনীতি করার অধিকার রাখে? ‘স্বৈরাচার পালিয়ে গেলেও তারা এই সমাজকে, দেশকে অস্থির করার জন্য ষড়যন্ত্র চালিয়ে যাচ্ছে।’
আরও পড়ুন: ২৫ সালের মধ্যেই নির্বাচন দিতে হবে: জামায়াতের নায়েবে আমীর
জামায়াতা প্রধান বলেন, আমরা এ দেশকে ভালবাসি, এদেশকে গড়তে চাই। সমাজে আমাদের মা বোনেরা ইজ্জতের সাথে ঘরে-বাইরে সমস্ত জায়গায় চলতে পারবে। যোগ্যতা অনুযায়ী যুবকরা কাজ পাবে।
তিনি বলেন, ন্যায়বিচার পাওয়ার জন্য আদালতের দরজায় যেয়ে মানুষকে কাঁদতে হবে না। বরং আদালত দায়িত্ব নিয়ে মানুষকে ন্যায়বিচার পাইয়ে দেবে। ন্যায়বিচারের দিক থেকে একটি দেশ এবং জাতি গঠন না হওয়া পর্যন্ত আমাদের লড়াই অব্যাহত থাকবে।
বিশেষ অতিথি ছিলেন দলটির সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার, কেন্দ্রীয় সাংগঠনিক সম্পাদক মুহাদ্দিস আব্দুল খালেক, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আবুল কালাম আজাদ, কেন্দ্রীয় মজলিসে শূরার সদস্য ও খুলনা জেলা আমির মাওলানা এমরান হুসাইন, সাতক্ষীরা জেলা আমির মাওলানা শহিদুল ইসলাম মুকুল প্রমুখ।
ডুমুরিয়া উপজেলা আমির মাওলানা মোক্তার হোসাইনের সভাপতিত্বে পথসভা পরিচালনা করেন উপজেলা সেক্রেটারি মাওলানা শেখ সিরাজুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: আগামীর বাংলাদেশ হবে সাম্যের: জামায়াত আমির
৪৯৫ দিন আগে
সীমান্ত হত্যা কখনোই মেনে নেওয়ার নয়: মির্জা ফখরুল
সীমান্ত হত্যা কখনোই মেনে নেওয়ার নয় বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, বিএনপি সবসময়ই এই দাবি জানিয়ে আসছে।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) সন্ধ্যায় ব্যক্তিগত সফরে সিলেট গিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সিলেট ওসমানী আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘ভারতের উচিত সীমান্ত হত্যা বন্ধ করা। সীমান্ত হত্যা কখনোই মেনে নেওয়ার নয়।’
আরও পড়ুন: সতর্ক থাকুন, দেশকে কেউ যেন বিভক্ত করতে না পারে: মির্জা ফখরুল
তিনি বলেন, ‘ফ্যাসিবাদমুক্ত দেশ নতুনভাবে গড়ে তোলার দায়িত্ব আমাদের সবার। দেশের গণতন্ত্র পুনর্প্রতিষ্ঠার জন্যই বিএনপি কাজ করছে।’
এ সময় বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, সিলেট জেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি রেজাউল হাসান কয়েস লোদী, সিলেট জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী, সিলেট মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক এমদাদ হোসেন চৌধুরী প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৪৯৬ দিন আগে
ঐক্য ধরে রাখতে অভিন্ন শত্রু চিহ্নিত করুন: সরকারকে ডা. জাহিদ
ষড়যন্ত্র মোকাবিলা ও জনগণের প্রত্যাশা পূরণে অভিন্ন শত্রু চিহ্নিত করে তাদের প্রশাসন থেকে সরাতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেছেন, ‘স্বৈরাচারের দোসররা প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ে ঘাপটি মেরে আছে। ফনা তোলার সুযোগ খুঁজছে তারা। তারা জনগণকে বিভ্রান্ত করার জন্য চেষ্টা করছে, করবে, করতেই থাকবে। কাজেই তাদের বিষদাঁত ভেঙে দিতে স্বৈরাচারের দোসরদের চিহ্নিত করুন। তাদের প্রশাসন থেকে এবং আপনাদের আশপাশ থেকে সরিয়ে দিন।’
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেস ক্লাব মিলনায়তনে জাতীয়তাবাদী টেক্সটাইল ইঞ্জিনিয়ার্স অ্যাসোসিয়েশনের (জেটেব) উদ্যোগে ‘রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা : প্রেক্ষিত টেক্সটাইল সেক্টার’ শীর্ষক আলোচনাসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
জাহিদ হোসেন বলেন, ‘পত্রিকা খুললেই দেখবেন, একটা মামলায় (হত্যা মামলা) তাদের (আওয়ামী লীগের) দুইজন নেতাকে আসামি করা হয়েছিল এবং সেখানে তদন্ত চলছে। তদন্ত কর্মকর্তা তাদের বাদ দিয়ে অর্থাৎ চূড়ান্ত প্রতিবেদন দেওয়ার জন্য যখন যাচ্ছেন, তখন আবার ওই আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেটিকে প্রতিরোধ করছে।’
তিনি বলেন, ‘আমরা ইউনূস স্যারের (প্রধান উপদেষ্টা) প্রতি আস্থাশীল, পৃথিবীর মানুষের আস্থা আছে। দেশের মানুষ একদম নিঃস্বার্থভাবে সরকারকে সহযোগিতা করছে। কাজেই তাদের (সরকার) সিদ্ধান্ত নিতে হবে একেবারে বলিষ্ঠ, আরও যুগোপযুগী, আরও দ্রুততার সঙ্গে।’
আরও পড়ুন: গণহত্যায় জড়িতদের কখনোই বিএনপিতে জায়গা হবে না: ফখরুল
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘মানুষের আকাঙ্ক্ষা বোঝার চেষ্টা করুন। মানুষের অধিকার দ্রুততার সঙ্গে ফেরত দেওয়ার চেষ্টা করুন, তাহলেই মানুষ আপনাদের সাধুবাদ জানাবে। ইতিহাস আপনাদের ধারণ করবে।’
‘…দ্রুততার সঙ্গে জনগণকে তার অধিকার আদায়ের সুযোগ দিন। জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে দেশ কোন পথে যাবে, আগামী দিনের বাংলাদেশ কেমন হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা যখন শুনি, ৫৩ বছরে সংস্কার হয়নি, তখন আমাদের মনে কষ্ট লাগে। কারণ যিনি বলেন, তার বয়স ৫৩ হয়নি। বাংলাদেশের সংস্কারের যে ধারাবাহিক প্রক্রিয়া, তা তিনি জানেন না অথবা স্বীকার করতে চাননি অথবা বুঝতে পারেননি।’
জেটেব সভাপতি ইঞ্জিনিয়ার মো. ফখরুল আলমের সভাপতিত্বে আলোচনা সভা পরিচালনা করেন সাধারণ সম্পাদক এবি এম রুহুল আমীন আকন্দ। এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির যুগ্ম-মহাসচিব খায়রুল কবির খোকন, আব্দুস সালাম আজাদ প্রমুখ।
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে শরিকদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক
৪৯৬ দিন আগে
‘ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বলতম সরকার হলো বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকার’
বর্তমান অন্তর্বর্তী সরকারকে ইতিহাসের সবচেয়ে দুর্বলতম সরকার আখ্যা দিয়ে ২০২৫ সালের মধ্যেই জাতীয় নির্বাচন আয়োজনের আহ্বান জানিয়েছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান ড. আসাদুজ্জামান রিপন।
বুধবার (২৫ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবের জহুর হোসেন চৌধুরী হলে জিয়া শিশু-কিশোর মেলা কেন্দ্রীয় কমিটি আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
ড. রিপন বলেন, ‘একটি দুর্বল সরকার রাষ্ট্র ক্ষমতায় থাকলে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্ব বিপন্ন হতে পারে, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির অবনতি হতে পারে, অর্থনৈতিক বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। এগুলো ঠিক করার জন্য একটি নির্বাচিত সরকার প্রয়োজন। ২০২৫ সালের মধ্যেই নির্বাচন দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। বাংলাদেশের সব সংকটের কারণ হলো নির্বাচন।’
তিনি বলেন, ‘সরকার সংস্কারের কথা বলে। কিন্তু সরকার ইতোমধ্যে সংস্কারের তিনটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ মিস করেছে। নির্বাচন কমিশন পুনর্গঠন করার ক্ষেত্রে সংস্কারের যে উদ্যোগ সেখানে তারা ভুল করেছে। নির্বাচনের কোনও তারিখ দেননি, কিন্তু নির্বাচন কমিশন গঠন করে বসলেন। অথচ নির্বাচন কমিশন সংক্রান্ত কোনও সংস্কারের প্রতিবেদনই আসেনি। দুর্নীতি দমন কমিশন নিয়ে আলোচনা হওয়ার প্রথম রিপোর্ট পেশ করার আগেই সরকার দুর্নীতি দমন কমিশন গঠন করে বসলেন।’
‘বিচার বিভাগে ২৩ জন বিচারপতি নিয়োগ করে বসলেন। শেখ হাসিনা যে পদ্ধতিতে বিচারক নিয়োগ দিয়েছেন, ঠিক সেভাবেই এই সরকার বিচারক নিয়োগ দেন। আমরা চেয়েছিলাম সংস্কারের মধ্যে দিয়ে বিচারক নিয়োগের প্রক্রিয়া তৈরি হবে, কিন্তু সরকার সেটি করেনি।’
আরও পড়ুন: গণহত্যায় জড়িতদের কখনোই বিএনপিতে জায়গা হবে না: ফখরুল
এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আমরা দেখতে পেয়েছি, সংস্কারের কথা বলে সংস্কারের প্রক্রিয়া পাশ কাটিয়ে তারা হাসিনার পথ অনুসরণ করে বিচারক নিয়োগ করছেন, নির্বাচন কমিশনার নিয়োগ করেছেন এবং দুর্নীতি দমন কমিশনে লোক নিয়োগ করেছেন। এগুলো সবই হচ্ছে হাসিনার পরিত্যক্ত মডেল। এ সরকার কতটুকু সংস্কার করতে চায় সেটি আমরা জানি না। কিন্তু সংস্কারের নামে বছরের পর বছর তারা যদি ক্ষমতায় আঁকড়ে থাকতে চায়, এটি বাংলাদেশের মানুষ গ্রহণ করবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সংকট এখনও শেষ হয়নি। ভীষণ একটি সংকটের মধ্যে আমরা আছি। আমাদের নেতা তারেক রহমান বারবার বলেছেন, আগামী নির্বাচন কঠিন হবে এবং বিএনপির বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করা হচ্ছে। মানুষের কাছে যেতে হবে এবং আস্থা অর্জন করতে হবে। তিনি বলেছেন, ৫ আগস্টের আগের রাজনীতি আর ৫ আগস্টের পরের রাজনীতি এক নয়।’
‘রাজনীতি যদি করতে হয় তাহলে জনগণ কী ভাবে সেটি মাথায় রাখতে হবে। এটি মাথায় না রাখলে রাজনীতি ভুল হয়ে যাবে। আমাদের একটি জিনিস খেয়াল রাখতে হবে। আর সেটি হলো, আন্দোলনকে কোনোভাবেই বিভক্ত করা যাবে না; আন্দোলনের স্পিরিটকে কোনোভাবে বিভক্ত করা যাবে না। আন্দোলনকে বিভক্ত করলে পতিত স্বৈরাচার লাভবান হবে। সুতরাং স্বৈরাচারকে লাভবান হতে দেওয়া যাবে না।’
বিএনপির সাবেক সাংস্কৃতিক সম্পাদক ও জাতীয়তাবাদী সামাজিক সাংস্কৃতিক সংস্থার (জাসাস) সাবেক আহ্বায়ক জাহিদ হোসেন চুন্নুর ২৯তম মৃত্যু বার্ষিকী উপলক্ষে এ আয়োজন করা হয়।
জাহিদ হোসেন চুন্নুর স্মৃতিচারণ করে ড. আসাদুজ্জামান বলেন, ‘জাহিদ হোসেন চুন্নু ৮০’র দশকে ছাত্রদলের সঙ্গে যুক্ত না থেকেও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় জাসাসের সঙ্গে যুক্ত থেকে পুরো আন্দোলনেই আমাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন। তিনি খুবই সক্রিয় ও নির্ভরযোগ্য ছিলেন। তার মধ্যে অমৃত সম্ভাবনা ছিল। তার অস্বাভাবিক মৃত্যু আমাদের পার্টিকে অনেক ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।’
জিয়া শিশু-কিশোর মেলা কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি জাহাঙ্গীর শিকদারের সভাপতিত্বে আলোচনা সভায় অন্যান্য নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে শরিকদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক
৪৯৬ দিন আগে