রাজনীতি
খালেদা জিয়া লন্ডন যাচ্ছেন মঙ্গলবার রাতে
উন্নত চিকিৎসার জন্য মঙ্গলবার রাতে লন্ডন যাচ্ছেন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া, কাতারের আমিরের পাঠানো ‘বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে’ করে তিনি রওনা দেবেন। রোববার (৫ জানুয়ারি) রাতে বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এমন তথ্য জানিয়েছেন।এদিন রাত ৯টায় খালেদা জিয়ার গুলশানের বাসা ফিরোজায় তার সঙ্গে কুশলবিনিময় ও শুভেচ্ছা জানাতে আসেন দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্যরা। পরে খালেদা জিয়ার লন্ডনযাত্রার দিনক্ষণ সাংবাদিকদের সামনে তুলে ধরেন মির্জা ফখরুল। খালেদা জিয়া দ্রুত সুস্থ হয়ে যাতে দেশে ফিরে আসেন, সেই প্রত্যাশাও ব্যক্ত করেন তিনি।বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তারা বিএনপিপ্রধানের সঙ্গে আলোচনা করেছেন। কিন্তু সেখানে রাজনৈতিক কোনো বিষয়াদি ছিল না।’‘তার সফলযাত্রা ও উন্নত চিকিৎসা শেষে নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কামনা করে আমরা আল্লাহর কাছে মোনাজাত করছি।’খালেদা জিয়া কখন দেশে ফিরতে পারেন, জানতে চাইলে মির্জা ফখরুল বলেন, ‘এটা কেবল চিকিৎসকরা বলতে পারবেন। আমরা আশা করছি, তিনি দ্রুতই দেশে ফিরে আসবেন’।দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যদের সঙ্গে আলোচনায় খালেদা জিয়ার নির্দেশনা কিংবা বার্তার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, “ম্যাডাম নির্দেশনা দিয়েছেন, এক সঙ্গে কাজ কর, জনগণের পক্ষে কাজ কর, গণতন্ত্রের পক্ষে কাজ কর।’রাত ৯টায় ‘ফিরোজা’য় একে একে প্রবেশ করেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল, স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হেসেন, জমির উদ্দিন সরকার, মির্জা আব্বাস, গয়েশ্বর চন্দ্র রায়, আবদুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী, সেলিমা রহমান, সালাহউদ্দিন আহমেদ, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, সালাহউদ্দিন আহমেদ, হাফিজ উদ্দিন আহমেদ ও এজেডএম জাহিদ হোসেন।স্থায়ী কমিটির সদস্যরা বের হয়ে আসার পর দলের ভাইস চেয়ারম্যান আবদুল্লাহ আল নোমান ও উপদেষ্টা কাউন্সিলের সদস্য আমান উল্লাহ আমান ফিরোজায় খালেদা জিয়ার সাথে দেখা করেন। চেয়ারপারসনের সঙ্গে দেখা করেন।লিভার সিরোসিস, হৃদরোগ, কিডনি সমস্যাসহ নানা স্বাস্থ্য জটিলতায় দীর্ঘদিন ভুগতে থাকা ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া মঙ্গলবার রাতে প্রথমে লন্ডনে তার ছেলে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের কাছে যাবেন।ছেলের বাসায় কয়েকদিন থাকার পরে বিএনপি চেয়ারপারসন লিভারের উন্নত চিকিৎসার জন্য যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন।
৫২৯ দিন আগে
জুলাই ঘোষণার বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা হবে: প্রেস সচিব
জুলাই বিপ্লব নিয়ে জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে একটি ঘোষণা প্রণয়নের প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে অস্থায়ী সরকার শিগগিরই এটি নিয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করবে বলে জানিয়েছেন প্রধান উপদেষ্টার প্রেস সচিব শফিকুল আলম।রবিবার (৫ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় রাজধানীর বেইলি রোডে ফরেন সার্ভিস একাডেমিতে সাংবাদিকদের ব্রিফিংকালে তিনি বলেন, ‘এটি নিয়ে আলোচনা চলছে এবং আগামী দিনগুলোতে রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে এ বিষয়ে আরও আলোচনা হবে। আশা করি, আপনারা এই বিষয়ে আরও অগ্রগতি দেখতে পাবেন।’তিনি আরও জানান, ‘জুলাই ঘোষণার অগ্রগতির বিষয়ে বিভিন্ন পক্ষ থেকে অনেক ফোন কল এসেছে।ব্রিফিংয়ে প্রধান উপদেষ্টার ডেপুটি প্রেস সচিব আবুল কালাম আজাদ মজুমদারও বক্তব্য রাখেন। গত ৩০ ডিসেম্বর অস্থায়ী সরকার জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে জুলাই বিপ্লবের একটি ঘোষণা প্রণয়নের প্রক্রিয়া শুরুর কথা ঘোষণা করেছিল।প্রেস উইং জানিয়েছে, এই ঘোষণার লক্ষ্য হলো জুলাই বিপ্লবের মাধ্যমে গড়ে ওঠা জনগণের ঐক্যকে দৃঢ় করা, যা ফ্যাসিবাদবিরোধী চেতনা ও রাষ্ট্র সংস্কারের দাবিকে প্রতিফলিত করবে।
৫৩০ দিন আগে
লন্ডন যাত্রার আগে খালেদা জিয়ার সাথে বিএনপি স্থায়ী কমিটির বৈঠক আজ
বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার লন্ডন যাত্রার আগে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা (৫ জানুয়ারি) রবিবার রাতে তার সঙ্গে বৈঠক করবেন। বৈঠকটি রাজধানীর গুলশানে খালেদা জিয়ার বাসভবনে রাত ৮টায় অনুষ্ঠিত হবে বলে বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য শায়রুল কবির খান ইউএনবিকে জানিয়েছেন।বিএনপি সূত্রে জানা গেছে, খালেদা জিয়া আগামী মঙ্গলবার (৭ জানুয়ারি) রাত ১০টায় লন্ডনের উদ্দেশ্যে ঢাকা ছাড়বেন। লন্ডন থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে যাবেন আরও উন্নত চিকিৎসার জন্য।বিএনপির একজন নেতার ভাষ্য অনুযায়ী, “যদি তার স্বাস্থ্যগত কোনো বড় জটিলতা না দেখা দেয়, তবে মঙ্গলবার রাত ১০টায় কাতার এয়ারওয়েজের একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে তিনি লন্ডনের উদ্দেশ্যে রওনা হবেন।”লন্ডন থেকে দেশে ফেরার পথে তিনি সৌদি আরবে ওমরাহ পালন করতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। এর আগে ২০১৭ সালে চিকিৎসার জন্য লন্ডন গিয়েছিলেন খালেদা জিয়া। তবে এবারের সফরে লন্ডনে তিনি তার ছেলে তারেক রহমানের সঙ্গে সাত বছর পর পুনর্মিলনী করবেন।আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর গত বছরের ৫ আগস্ট খালেদা জিয়াকে নির্বাহী আদেশে মুক্তি দেওয়া হয়, যা তার বিদেশে চিকিৎসার পথ সুগম করে।লিভার সিরোসিসসহ একাধিক স্বাস্থ্য জটিলতায় ভুগতে থাকা ৭৯ বছর বয়সী খালেদা জিয়া লন্ডনে দুই মাস অবস্থান করবেন বলে জানা গেছে। এরপর তিনি যুক্তরাষ্ট্রের মেরিল্যান্ডে অবস্থিত জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসা নেবেন।খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন বলেন, “ম্যাডাম (খালেদা) যদি উড়োজাহাজ ভ্রমণের উপযোগী থাকেন, তবে তিনি ৭ জানুয়ারি লন্ডনে যেতে পারেন।”তার চিকিৎসক দলের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে যে জন হপকিন্স ইউনিভার্সিটি হাসপাতালে চিকিৎসার সব প্রস্তুতি ইতিমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।গত বছর ২৬ অক্টোবর যুক্তরাষ্ট্রের তিনজন বিশেষজ্ঞ চিকিৎসক তার লিভার এবং পেটের ফ্লুইড জমা ও রক্তক্ষরণ রোধে একটি বিশেষ পদ্ধতি (টিআইপিএস) সম্পন্ন করেছিলেন।এ সফরে বিএনপি চেয়ারপারসনের সঙ্গে ১৫ সদস্যের একটি প্রতিনিধিদল যাবেন। এতে থাকবেন তার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর স্ত্রী সৈয়দা শর্মিলা রহমান, চিকিৎসক, বিএনপি নেতৃবৃন্দ, ব্যক্তিগত কর্মী এবং দুইজন গৃহকর্মী।বিএনপির এক জ্যেষ্ঠ নেতা জানান, খালেদা জিয়ার বিদেশে চিকিৎসার বিষয়ে এবং সঙ্গে থাকা প্রতিনিধিদের তালিকা ইতিমধ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়কে জানানো হয়েছে।উল্লেখ্য, তারেক রহমান ও তার পরিবার ২০০৮ সাল থেকে লন্ডনে বসবাস করছেন। ২০২০ সালের মার্চ মাসে কোভিড-১৯ মহামারির সময় সরকার তার সাজা স্থগিত রেখে তাকে গুলশানের বাসভবনে থাকার শর্তে মুক্তি দেয়। পরবর্তীতে ২০২৩ সালের ৬ আগস্ট রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ সাহাবুদ্দিনের আদেশে তিনি সম্পূর্ণ মুক্তি লাভ করেন।
৫৩১ দিন আগে
দেশে নতুন চক্রান্তের সৃষ্টি হয়েছে: মির্জা ফখরুল
দেশে নতুন করে ষড়যন্ত্র ও চক্রান্ত শুরু হয়েছে বলে মন্তব্য করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, এতে মাথা নত না করে জনগণের একটি সরকার প্রতিষ্ঠা করতে আমাদের সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
শনিবার (৪ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঠাকুরগাঁও পাবলিক লাইব্রেরি মাঠে জেলা ছাত্রদলের আয়োজনে ছাত্র সমাবেশে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তব্যে এসব কথা বলেন তিনি।
মির্জা ফখরুল বলেন, ফ্যাসিস্ট আওয়ামী লীগ সরকার এ দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকে ধ্বংস করে দিয়ে পালিয়েছে। দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। অনেক ছাত্রকে হত্যা করেছে। বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনে কয়েক হাজার ছাত্র-ছাত্রীকে হত্যা করেছে। আওয়ামী লীগ যখনই ক্ষমতায় আসে তারা গায়ের জোরে ক্ষমতায় টিকে থেকেছে।
১৯৭৫ সালের আগে আওয়ামী লীগের শাসনব্যবস্থা নিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ’৭৫ সালের আগে আওয়ামী লীগ ক্ষমতায় ছিল। তারা ক্ষমতায় থাকা অবস্থায় দুর্নীতি ও লুটপাট করেছে। দেশকে বাকশাল করে একদলীয় শাসন ব্যবস্থা কায়েম করেছিল। একদলীয় শাসন ব্যবস্থা থেকে বহুদলীয় গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করেছিলেন শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমান। তিনি সংবাদপত্রের স্বাধীনতা দিয়েছিলেন। সেইসঙ্গে শিক্ষার মান উন্নয়নে কাজ করেছেন।
আরও পড়ুন: সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ডে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চান মির্জা ফখরুল
ছাত্রদল-কর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, ছাত্রদলকে সবসময় জ্ঞানভিত্তিক চর্চা ও জ্ঞানভিত্তিক রাজনীতি করতে হবে। বিগত বছরগুলোতে ছাত্রদল অনেক ত্যাগ-তিতীক্ষা সহ্য করেছে, মামলা-মোকদ্দমার স্বীকার হয়েছে। এখন আল্লাহর অশেষ রহমতে আমরা ফ্যাসিবাদমুক্ত হতে পেরেছি। এখন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে আমাদের প্রিয় বাংলাদেশকে নতুন করে গোড়ে তোলার এবং আজকের এ ছাত্ররাই তা পারবে বলে আমি বিশ্বাস করি।
সমাবেশে জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীন, সহ-সভাপতি ওবায়দুল্লাহ মাসুদ, যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক পয়গাম আলী, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি মোহাম্মদ কায়েসসহ জেলা ও উপজেলা বিএনপি ও ছাত্রদলের নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
৫৩১ দিন আগে
রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা নিয়ে বিএনপির উঠান বৈঠক
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল বিএনপি-ঘোষিত রাষ্ট্র সংস্কারের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি কর্মসূচি নিয়ে তারেক রহমানের নির্দেশে নোয়াখালীর কোম্পানীগঞ্জ উপজেলায় উঠান বৈঠক হয়েছে।
গত ২৮ ডিসেম্বর (শনিবার) উপজেলার ৭ নম্বর মুছাপুর ইউনিয়নে উঠান বৈঠকের মাধ্যমে এই কর্মসূচি শুরু হয়। ওইদিন ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের রমজান সারেংয়ের বাড়িতে উঠান বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
এসব বৈঠকে দেশ গঠনে বিএনপির আগামী দিনের কর্মসূচি এবং দলের নেতৃত্বে কীভাবে রাষ্ট্র পরিচালিত হবে তার একটি চিত্র তুলে ধরা হচ্ছে।
একইসঙ্গে বিএনপির পল্লী উন্নয়ন বিষয়ক সহ-সম্পাদক ও নোয়াখালী-৫ আসনে বিএনপির সাংগঠনিক সমন্বয়ক বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ উপজেলার শীতার্তদের মাঝে শীতবস্ত্র করেন।
সপ্তাহব্যাপী এই কর্মসূচিতে অন্তত ৩০টি স্থানে শীতবস্ত্র বিতরণ করা হয় বলে স্থানীয় নেতারা জানান।
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে শরিকদের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক
বজলুল করিম চৌধুরী আবেদ বলেন, ‘তারেক রহমানের নির্দেশে প্রান্তিক জনগণকে বিএনপির কর্মসূচি সম্পর্কে অবহিত ও জনমত গঠনের লক্ষ্যে এই কর্মসূচি শুরু করা হয়েছে। গ্রামের সাধারণ মানুষের বাড়ির উঠানে গিয়ে এই বৈঠক করা হচ্ছে। এতে উল্লেখযোগ্য সংখ্যক নারীও অংশ নিচ্ছেন।’
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, আগামী নির্বাচনকে সামনে রেখে এই কার্যক্রম শুরু হয়েছে। উঠান বৈঠকের কার্যক্রম অন্যান্য নির্বাচনি এলাকায়ও শুরু হবে।
৫৩১ দিন আগে
যশোরে নির্বাচনি প্রস্তুতি জামায়াতের, প্রার্থী চূড়ান্ত!
জাতীয় নির্বাচনের দিনক্ষণ নির্ধারণ না হলেও যশোরে নির্বাচনী প্রস্তুতি শুরু করেছে জামায়াতে ইসলামী। আসন্ন নির্বাচনে লড়তে রাজনৈতিক কৌশল ও কর্মপন্থা ধরে এগিয়ে যাচ্ছে দলটির নেতাকর্মীরা। এরইমধ্যে জেলার ৬টি আসনে প্রার্থী তালিকা করেছে দলটি। তবে এটি প্রাথমিক তালিকা, পরে পরিস্থিতি বুঝে প্রার্থী তালিকায় রদবদল হতে পারে। সম্ভাব্য প্রার্থীরা দলীয় কর্মসূচির পাশাপাশি সামাজিক কর্মসূচি ও অনুষ্ঠানে সক্রিয় রয়েছেন।
জামায়াতে ইসলামীর জেলা পর্যায়ের নেতা ও স্থানীয়দের সঙ্গে আলাপ করে দলটির সাংগঠনিক তৎপরতার বিষয়টি স্পষ্ট হয়েছে। অবশ্য দলটির নেতারা বলেছেন, প্রার্থীদের যে তালিকা করা হয়েছে, তা প্রাথমিক। চূড়ান্ত পর্যায়ে গেলে সেটি পরিবর্তনও হতে পারে। জোটগত নির্বাচনের সম্ভাব্যতা তৈরি হলে শরিকদের বিষয়টিও বিবেচিত হবে বলে জানিয়েছেন তারা।
জামায়াতের যশোর জেলা আমির অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেছেন, ‘আমরা নির্বাচনের দিকেই এগিয়ে যাচ্ছি। জেলার ছয়টি আসনের সবকটিতেই আমাদের সম্ভাব্য প্রার্থী বাছাই হয়ে গেছে।’
নির্বাচনের সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে জামায়াত যাদের নির্ধারণ করেছেন, তারা হলেন— যশোর-১ (শার্শা) আসনে মাওলানা আজিজুর রহমান। তিনি এরআগেও নির্বাচন করেছিলেন। ২০০১ সালের নির্বাচনে তিনি আওয়ামী লীগের প্রার্থী শেখ আফিল উদ্দিনের কাছে মাত্র পাঁচ হাজার ভোটে হেরেছিলেন। দিনবদল হওয়ায় ফের আজিজুর রহমানের ওপর ভরসা করছে জামায়াত।
যশোর-২ (ঝিকরগাছা-চৌগাছা) আসনের প্রার্থী মাওলানা আরশাদুল আলম। তিনি ঝিকরগাছা গাজীর দরগাহ মাদরাসার সহকারী অধ্যাপক।
আরও পড়ুন: আ. লীগ সাড়ে ১৫ বছর দেশের পরিবর্তে নিজেদেরকে সাজিয়েছে: জামায়াত আমির
জেলার ভিআইপি আসন হিসেবে পরিচিত যশোর-৩। জেলা সদরের এ আসনটিতে জামায়াতের প্রার্থী সরকারি এমএম কলেজের সাবেক ভিপি আব্দুল কাদের। আসনে দলের প্রয়াত নেতা মাস্টার নুরুন্নবীকে প্রথমে প্রার্থী ভাবা হয়েছিল। তার মৃত্যুর পর আব্দুল কাদেরকেই প্রার্থী করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সাবেক ছাত্রনেতা ও বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হিসেবে আব্দুল কাদেরের পরিচিতিকেও গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে বলে দলের নেতাকর্মীরা মনে করেন।
যশোর-৪ (বাঘারপাড়া, অভয়নগর ও বসুন্দিয়া) আসনের প্রার্থী অধ্যাপক গোলাম রসুল নিজে। যশোর-৫ (মণিরামপুর) আসনের প্রার্থী অ্যাডভোকেট গাজী এনামুল হক। তিনি একজন সাংস্কৃতিক ও সামাজিক ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। সুবক্তা হিসেবে দলীয় পরিসরের বাইরেও তার পরিচিতি আছে।
যশোর-৬ (কেশবপুর) আসনের প্রার্থী অধ্যাপক মোক্তার আলী। তিনি ১৯৯৬ সালেও এই আসন থেকে দলের প্রার্থী হয়েছিলেন। কিন্তু সেই বছর তিনি ভালো ফলাফল করতে পারেননি। অধ্যাপক মোক্তার আলী কেশবপুর কলেজের ইংরেজি বিভাগের সাবেক অধ্যাপক।
অধ্যাপক গোলাম রসুল বলেছেন, ‘সম্ভাব্য প্রার্থীদের বিষয়টি জানিয়ে দেওয়া হয়েছে। তারা নিজ নিজ এলাকায় রাজনৈতিক তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন। অংশ নিচ্ছেন সামাজিক কর্মসূচিসহ নানা অনুষ্ঠানেও। আমরা এসব প্রার্থীকে সম্ভাব্য বলছি। শেষ পর্যন্ত তাদের চেয়ে আরও গুরুত্বপূর্ণ বা বেশি জনপ্রিয় কোনো নেতাকেও প্রার্থী করা হতে পারে।’
আরও পড়ুন: ‘ক্ষমতায় যাওয়া নয়, সুশাসন কায়েম করাই জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশ্য’
দলীয় প্রার্থী চূড়ান্ত করার পাশাপাশি জামায়াতে ইসলামী জোটগতভাবে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার বিষয়টিকেও সমানভাবে গুরুত্ব দিচ্ছে। এক্ষেত্রে জেলার নেতারা বলেছেন, ‘ইসলামী দলগুলোর সঙ্গে একটা নির্বাচনী ঐক্য করার প্রক্রিয়া চালাচ্ছে দল। সেক্ষেত্রে জোট হলে জাতির বৃহত্তর স্বার্থের বিষয়টি বিবেচনা করে জামায়াত সর্বোচ্চ ছাড় দিতেও প্রস্তুত।’
দীর্ঘদিন ধরে যশোর জেলা জামায়াতে ইসলামীর কার্যালয় বন্ধ করে রেখেছিল ক্ষমতাচ্যুত আওয়ামী লীগ সরকার। জুলাই-আগস্টে ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মাধ্যমে গত ৫ আগস্ট আওয়ামী লীগ সরকারের পতন হয়।
এর পরপরই জামায়াতে ইসলামীর নেতাকর্মীরা সেই কার্যালয় পুনরুদ্ধার করেন। এখন সেখানেই দলীয় কার্যক্রম চলছে। আওয়ামী লীগ সরকারের পতনের পর থেকেই যশোরে সাংগঠনিক পুনর্গঠন কার্যক্রম পরিচালনা করছে জামায়াত। এদিকে, সদর থেকে শুরু করে জেলার সর্বত্রই দলটি যেভাবে কার্যক্রম পরিচালনা করছে, তাতে জামায়াত নির্বাচনী রাজনীতি করছে বলে জোর গুঞ্জন শুরু হয়েছে।
এরইমধ্যে জেলা সদরের বিভিন্ন ওয়ার্ডে দলীয় কার্যালয় খোলা হয়েছে। উপজেলা, ইউনিয়ন ও তৃণমূল পর্যায়ের বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ এলাকাগুলোতেও কার্যালয় খোলা হয়েছে। মূল দলের পাশাপাশি সহযোগী সংগঠনগুলোর কমিটিও পুনর্গঠন করা হয়েছে। প্রতিটি কার্যালয় প্রতিদিন নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে সরব থাকতে দেখা গেছে।
স্থানীয়রা জানিয়েছেন, জামায়াত, তাদের ছাত্র সংগঠন ইসলামী ছাত্রশিবির, শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনসহ দলের বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা ও দায়িত্বশীলরা সাধারণ মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখছেন। ছোট ছোট গ্রুপে মানুষকে উপস্থিত করে আলোচনা করছেন। বিভিন্ন দিবসে বা আয়োজনে অসহায় ও দরিদ্র মানুষের সেবায় নানা সহায়তা দিচ্ছেন। যোগ দিচ্ছেন বিয়ে, বৌ-ভাত, আকিকা, খাতনাসহ নানা সামাজিক অনুষ্ঠানেও। জামায়াতের নারী সদস্যরাও এসব কাজে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখছেন।
জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান যশোরে একটি কর্মী সম্মেলনেও যোগ দিয়েছিলেন। রাজনীতি সচেতনদের ধারণা, সম্মেলনটি ছিল জামায়াতের নির্বাচনী শো-ডাউন। কারণ, সম্মেলনটিকে কেন্দ্র করে জেলা জামায়াত কয়েকদিন থেকেই স্থানীয় রাজনীতির পুরো ফোকাস দলের দিকে রাখতে নানা কার্যক্রমও পরিচালনা করে। যশোর ঈদগাহে অনুষ্ঠিত কর্মী সম্মেলনটি কার্যত জনসভায় রূপ নেয়। সেদিন ঈদগাহ ও এর আশপাশের এলাকায় নেতাকর্মীদের উপস্থিতিতে কানায় কানায় পূর্ণ হয়েছিল।
আরও পড়ুন: আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগের কপালে নাই: জামায়াত আমীর
৫৩১ দিন আগে
আগামী নির্বাচন আওয়ামী লীগের কপালে নাই: জামায়াত আমীর
বাংলাদেশের নির্বাচনে আওয়ামী লীগের আর ফিরে আসার সুযোগ নাই জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমীর ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, কেউ কেউ প্রশ্ন করে, আগামী নির্বাচনে আওয়ামী লীগ আবার ফিরবে কি না। যারা এদেশের মানুষকে ভালোবাসে না, সম্মান দেয় না, দেশের প্রতি ইঞ্চি মাটি আমানত- এ কথা যারা বিশ্বাস করে না, তাদের কপালে নির্বাচন নাই।’
তিনি বলেছেন, ‘এরা তিনটি নির্বাচন করেছে জুলুম করে। যারা নির্বাচনে বিশ্বাস করে না, তাদের আবার কিসের নির্বাচন?’
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে নাটোর নবাব সিরাজ-উদ দৌলা সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত কর্মীসভায় তিনি এসব কথা বলেন।
নাটোর জেলা জামায়াতের আমীর ড. মীর নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে সভায় দলটির কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল রফিকুল ইসলাম খানসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য রাখেন।
অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, অতি জরুরি সংস্কারগুলো শেষ করে নির্বাচন দিয়ে যে যার জায়গায় ফিরে যান। জনগণ যাদের পছন্দ করবে, তাদের ভোট দিয়ে নির্বাচিত করবে।’
তিনি বলেন, ‘স্বাধীনতার পর দফায় দফায় যারাই ক্ষমতায় এসেছে, তারাই আমানতের খেয়ানত করেছে। কমবেশি সবাই এদেশের মানুষদের কষ্ট দিয়েছে। গত ১৫ বছরে সবচেয়ে বেশি কষ্ট দিয়েছে আওয়ামী লীগ। দেশপ্রেমিক সেনাবাহিনী থেকে শুরু করে একটার পর একটা হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছে তারা।’
জামায়াত আমীর বলেন, ‘আমরা বিদেশি বন্ধু চাই, প্রভু না। আমরা পিন্ডির (রাওয়ালপিন্ডি বা পাকিস্তান) হাত থেকে মুক্ত হয়েছি অন্য কারো হাতে যাওয়ার জন্য না।’
‘যুদ্ধ এখনও শেষে হয়নি। দেশের সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হবে।’
পরে বিকালে জেলা পরিষদ মিলনায়তনে এক সুধী সমাবেশে তিনি বলেন, বিগত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ পৌনে ২ কোটি ভুয়া ভোটার তৈরি করেছে। এজন্য প্রয়োজনীয় সংস্কার আগে শেষ করতে হবে, যাতে কোনো ষড়যন্ত্রের কাছে সংস্কার হারিয়ে না যায়।’
এ সময় এক প্রশ্নের জবাবে জামায়াত আমীর বলেন, ‘জামায়াত সংখ্যানুপাতিক সংসদের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে। এর ফলে যোগ্য সংসদ তৈরি হবে। নাচ, গান, হাসি, ঠাট্টা আর মূর্খের সংসদ হবে না।’
আগামীতে একটি আদর্শভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠায় সবার সহযোগিতা কামনা করেন এই নেতা।
৫৩২ দিন আগে
আমরা সবাই গণতন্ত্রের কথা বলি,কিন্তু চর্চা করি না: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, আমরা সবাই গণতন্ত্রের কথা বলি, কিন্তু গণতন্ত্র চর্চা করি না। বাংলাদেশে গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান গড়ে ওঠেনি, বরং দিনের পর দিন এখানে গণতন্ত্রকে হত্যা করা হয়েছে।
তিনি বলেছেন, ‘আমরা রাজনৈতিক দলগুলো পরস্পরের বিরুদ্ধে বিরোধে লিপ্ত হয়েছি।… তবে নেতিবাচক চিন্তা করলে হবে না। সহনশীলতার মধ্যে দিয়ে গণতন্ত্র চর্চা করে এগিয়ে যেতে পারলেই গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করা সম্ভব।’
শুক্রবার (৩ জানুয়ারি) দুপুরে দিনাজপুর সরকারি কলেজ মাঠে অর্থনীতি বিভাগের সুবর্ণ জয়ন্তী উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
গত ১৫ বছরে আওয়ামী লীগ শাসনামলের কথা উল্লেখ করেন মির্জা ফখরুল বলেন, ‘কী করুণ সময় গেছে দেখুন! আমরা ভোট দিতে পারিনি। আমাদের বিশ্বাস, এখানে যারা বসে আছে, ভোট কী জিনিস তারা দেখতে পায়নি। ১৫ বছর গেছে তারা ভোট দিতে পারেনি। এ কেমন গণতন্ত্রের কথা, স্বাধীন সার্বভৌম রাষ্ট্রের কথা, যেখানে মানুষ প্রতি বছর একটা সুযোগ পায় তার অধিকারটি প্রয়োগ করার, সেই সুযোগটি হারিয়েছে?’
আরও পড়ুন: অনির্বাচিত সরকার বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা উচিৎ নয়: ফখরুল
দেশের রাজনৈতিক নেতাদের ব্যর্থতার কথা জানিয়ে তিনি বলেন, ‘যদিও স্বাধীনতার পরে একটা অবস্থা তৈরি হয়েছিল, ক্রিয়েটিভ (সৃজনশীল) কিছু করা যেত। আজকে আমরা যারা রাজনীতি করছি, আমাদের ব্যর্থতা— ৫৩ বছরেও বাংলাদেশকে একটা সুখী, শান্তিময়, প্রেমময়, ভালোবাসাময় দেশ হিসেবে গড়তে পারলাম না।’
‘আমরা রাজনীতি নিয়ে সংকীর্ণতায় ভুগি। আমরা নৈতিকতার সর্বনিম্ন পর্যায়ে চলে গেছি। আমাদের গর্ব করে বলার কথা যে আমরা গর্বিত জাতি। কিছুদিন আগেও আমরা সেটা বলতে পারিনি।’
তবে নতুন করে আবার সেই আশা জেগে উঠেছে জানিয়ে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমরা আবার একটা স্বপ্ন দেখতে শুরু করেছি। সেই স্বপ্নটি হচ্ছে সত্যিকার অর্থে স্বাধীনতার ঘোষক জিয়াউর রহমান যে স্বপ্ন দেখেছিলেন একটা সুখী, সুন্দর, প্রেমময়, গণতান্ত্রিক সমৃদ্ধ বাংলাদেশ। সেই বাংলাদেশকে নির্মাণ করার আমরা চেষ্টা করেছি। আমরা ৭১ সালের যুদ্ধে ছিলাম, এরপর গণতান্ত্রিক যুদ্ধেও ছিলাম।’
স্বৈরাচার পতনে জুলাই-আগস্ট অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার আত্মত্যাগ কৃতজ্ঞচিত্তে স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘আমাদের ছেলেরা জীবন দিয়েছে, রাজনৈতিক কর্মীরা জীবন দিয়েছে। আমাদের রাজনৈতিক কর্মীরা দীর্ঘদিন অস্বাভাবিক-অমানবিক নির্যাতন সহ্য করেছে। ৮০০ নেতা কর্মীকে গুম করা হয়েছে। ৬০ লাখেরও অধিক নেতাকর্মীর বিরুদ্ধে মিথ্যা মামলা দেওয়া হয়েছে। হাজার হাজার নেতাকর্মীকে বিনাবিচারে হত্যা করা হয়েছে। এই একটা অবস্থা আমরা পার হয়েছি।’
‘আজ নতুন একটা সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে; কিন্তু কেন জানি না আমরা সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে উঠতে পারছি না। আমি সংশ্লিষ্ট সবার কাছে আবেদন জানাব যে, আমরা উঠে দাঁড়াই, আমাদের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে দাঁড়িয়ে সুস্পষ্ট সত্য সুন্দর একটা পথ নির্ধারণ করি। যে স্বপ্ন আমরা দেখেছিলাম, সেই স্বপ্নকে আমরা বাস্তবায়িত করি। নতুন বাংলাদেশ গড়ে আমাদের সংকীর্ণতার ঊর্ধ্বে এসে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে।’
আরও পড়ুন: দেশে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক চর্চাই হয়নি: ফখরুল
বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘আজকে দুঃখ হয়, একটা টেলিভিশন চ্যানেলে একটা কর্মসূচি হচ্ছে জেন জি। একটা কর্মসূচি হচ্ছে- তারা সব বিশ্ববিদ্যালয়গুলোতে তরুণ ছাত্রদের দেশ সম্পর্কে মতামত নিচ্ছে নতুন বাংলাদেশ নির্মাণ সম্পর্কে মতামত নিচ্ছে, আমি দেখলাম এত অমিত সম্ভাবনাময় ছেলেমেয়েরা। তারা অত্যন্ত দেশপ্রেম নিয়ে কথা পরিবর্তনের কথা বলছে; অনেকে আমাকে অভিভূত করেছে তারা সত্যিকার অর্থে বাংলাদেশ নির্মাণ করবার একটা পথও তারা দেখাতে পারে।’
‘এই জায়গাগুলো আমাদের ধরতে হবে। নেতিবাচক চিন্তা করলে হবে না। আমাদের পরস্পরকে সহনশীলতার মধ্যে দিয়ে আনতে হবে, সম্মান করতে হবে। আমি যে রাজনৈতিক চিন্তাই করি না কেন; দেশপ্রেম যদি আমার থাকে, দেশের প্রতি ভালোবাসা যদি থাকে, তাহলে নিশ্চয়ই আজকে যে সুযোগ এসেছে, সেই সুযোগের যেন সদ্ব্যবহার আমরা করতে পারি।’
তিনি বলেন, ‘আজকে আমাদের দেশের সমস্ত সম্পদ লুণ্ঠন করে বিদেশে পাচার করা হয়েছে। প্রতি বছর ১৬ বিলিয়ন ডলার পাচার করা হয়েছে। সেই হিসাবে গত ১৫ বছরে প্রায় ২৮০ বিলিয়নের উপরে পাচার হয়েছে। এরা কারা? এরা তো এ দেশেরই মানুষ!’
শিক্ষার্থীদের উদ্দেশে এ সময় বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘তোমাদের সামনে অনেক বড় দায়িত্ব আছে। বাংলাদেশের অর্থনীতি এখন খুব সংকটের সামনে, বিপর্যয়ের সামনে। ফ্যাসিবাদী সরকার ১৫ বছরে দেশের অর্থনীতিকে ধ্বংস করে দিয়েছে। এই অর্থনীতিকে সচল করার জন্য যে নীতি নির্ধারণ করা দরকার, তোমাদের মধ্য থেকেই অনেকে বেরিয়ে আসবে; পলিসি মেকার তৈরি হবে; অর্থনীতিবিদ তৈরি হবে, যারা বাংলাদেশের অর্থনীতিকে সঠিক খাতে নিয়ে যাওয়ার জন্য কাজ করতে সক্ষম হবে। এটাই আমার প্রত্যাশা।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমাদের অনেক বয়স হয়েছে। আমরা এখন যাওয়ার পথে। আমরা এখন এই বয়সে দেখতে চাই— বাংলাদেশটা সত্যিকার অর্থে প্রেমময় ভালোবাসার দেশ হয়েছে।’
দিনাজপুর সরকারি কলেজের অর্থনীতি বিভাগের প্রধান অধ্যাপক জাহেদা পারভীনের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন দিনাজপুর সরকারি কলেজের অধ্যক্ষ প্রফেসর একেএম আল আব্দুল্লাহ।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন ঠাকুরগাঁও সরকারি কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক আ ন ম গোলাম রব্বানী, দিনাজপুর সরকারি মহিলা কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আব্দুল জব্বার ও যশোর এমএম কলেজের সাবেক অধ্যক্ষ অধ্যাপক তসলিম উদ্দিন।
অনুষ্ঠানে দিনাজপুর সরকারি কলেজের উপাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. আইয়ুব আলী, দিনাজপুরের জেলা প্রশাসক মো. রফিকুল ইসলাম, পুলিশ সুপার নাজমুল হাসান, জেলা বিএনপির সভাপতি অ্যাডভোকেট মো. মোফাজ্জর হোসেন দুলাল, ভারপ্রাপ্ত সাধারণ সম্পাদক মুরাদ আহমেদ, আইনজীবী আব্দুস সাঈদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৫৩২ দিন আগে
বিদ্যুৎ খাতে ১৫ বছরে সম্পাদিত সব চুক্তি প্রকাশের আহ্বান বিএনপির
প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার ১৫ বছরের শাসনামলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সম্পাদিত সব চুক্তি জনসম্মুখে প্রকাশের জন্য অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি দাবি জানিয়েছে বিএনপি।
বিএনপি নেতা ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেন, 'আমি অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে গত ১৫ বছরে বিদ্যুৎ খাতে সই করা প্রতিটি চুক্তি প্রকাশ করার আহ্বান জানাচ্ছি। তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) সরকারি ক্রয়ের সব নিয়ম লঙ্ঘন করেছে। এই চুক্তিগুলো তাদের নিজস্ব পছন্দ অনুসারে আইনি প্রক্রিয়ার বাইরে করে বন্ধ দরপত্রের মাধ্যমে প্রদান করা হয়েছিল। এসব তথ্য জানার অধিকার জনগণের রয়েছে।’
গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ দাবি জানান। সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরও বক্তব্য দেন।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, জাতি বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে বিভিন্ন দেশি-বিদেশি কোম্পানির সঙ্গে সম্পাদিত চুক্তি দেখতে চায়।
তিনি বলেন, 'তারা (আওয়ামী লীগ সরকার) কীভাবে এই চুক্তিগুলো করেছে তা জনসমক্ষে প্রকাশ করা উচিত। অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রথম কাজ হলো এই চুক্তিগুলো প্রকাশ করা।’
বিএনপির এই নেতা বলেন, শেখ হাসিনার আওয়ামী লীগ সরকার বিদ্যুৎ খাতে বিভ্রান্তি সৃষ্টি করে বাংলাদেশের জনগণকে শোষণ করেছে, একই সঙ্গে জনগণের পকেট কেটেছে।
তিনি বলেন, ‘সবাই বিদ্যুতের বিল পরিশোধ করে, সবাই এই ক্ষতির শিকার। প্রকৃতপক্ষে তারা ক্ষমতাকে ব্যবসা খাতে পরিণত করেছে। তারা বুঝতে পেরেছিল কোনো জবাবদিহিতা ছাড়াই এ খাত থেকে দ্রুত অর্থ উপার্জন করা যাবে, কারণ বিদ্যুৎ একটা 'বাতাসের' মতো—এটা দেখা যায় না।’
টুকু বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে ক্যাপাসিটি চার্জের নামে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা লোপাট করা হয়েছে।
বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির পরিসংখ্যান তুলে ধরে টুকু বলেন, 'বিদ্যুৎ খাতে গত ১৫ বছরে মোট ব্যয় হয়েছে প্রায় ৩ লাখ ৩৩ হাজার ৯৪০ কোটি টাকা। এর মধ্যে ক্যাপাসিটি চার্জের আড়ালে লুটপাট হয়েছে প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা।’
তিনি বলেন, সরকার বিদ্যুৎ খাত থেকে বিভিন্নভাবে জনগণের অর্থ পাচার করেছে, যার মধ্যে বেসরকারি বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলো চালু না থাকলেও অর্থ পরিশোধ করাও রয়েছে।
সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী আরও বলেন, 'যেসব কোম্পানিতে ক্যাপাসিটি চার্জ নেওয়া হয়, সেগুলোর বেশির ভাগই মেশিনে ত্রুটি ছিল। এসব ত্রুটিপূর্ণ মেশিন থেকে এসব কোম্পানি অর্থ উপার্জন করত।’
ক্যাপাসিটি চার্জ পাওয়া শীর্ষ পাঁচ প্রতিষ্ঠানের তালিকা তুলে ধরে তিনি বলেন, সামিট গ্রুপ ১০ হাজার ৬৩০ কোটি টাকা, এগ্রো ইন্টারন্যাশনাল ৭ হাজার ৯৩২ কোটি টাকা, আল্ট্রা পাওয়ার হোল্ডিংস ৭ হাজার ৫২৩ কোটি টাকা, ইউনাইটেড গ্রুপ ৬ হাজার ৫৭৫ কোটি টাকা এবং আরপিসিপিএল ৫ হাজার ১১৭ কোটি টাকা পেয়েছে।
ভারত থেকে বিদ্যুৎ আমদানির নামে গত ৯ বছরে ক্যাপাসিটি চার্জ বাবদ ১১ হাজার ১১৫ কোটি টাকা পরিশোধ করা হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, গত ১৫ বছরে কুইক রেন্টাল পাওয়ার প্ল্যান্টের নামে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুটপাট করা হয়েছে।
টুকু দাবি করেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিদ্যুৎ খাতের যে উন্নয়ন হয়েছে, তা টেকসই নয় এবং যেকোনো মুহূর্তে ভেঙে পড়তে পারে।
শেখ হাসিনা ও তার পরিবার রাশিয়ার সহায়তায় বাস্তবায়িত রূপপুর পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র প্রকল্প থেকে ৫০ কোটি ডলার লুটপাট করেছেন বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে স্বৈরাচারের কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না: তারেক রহমান
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগের একটি সিন্ডিকেট স্মার্ট মিটার প্রকল্পের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ অর্থ লুট করে বিদেশে পাচার করেছে।
টুকুর অভিযোগ, সাবেক বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী নসরুল হামিদ বিপুর মালিকানাধীন একটি কোম্পানি একটি সিন্ডিকেটসহ এলএনজি প্রকল্পের নামে কোটি কোটি টাকা আত্মসাতের অভিযোগ করেন।
বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি ও অনিয়ম রোধে স্বচ্ছতা ও জবাবদিহিতা নিশ্চিত করতে প্রকল্প বাস্তবায়ন প্রক্রিয়ায় জনগণের অংশগ্রহণ বাড়ানোর ওপর গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
দুর্নীতি প্রতিরোধে কঠোর আইন প্রণয়ন ও বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতির সঙ্গে জড়িতদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়ারও আহ্বান জানান তিনি।
সংবাদ সম্মেলনে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, আমাদের কাছে মনে হয়, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে।
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের দল ক্ষমতায় ফিরলে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি ও অনিয়ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবেন এবং সে অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেবেন।
আরও পড়ুন: বৈদেশিক মুদ্রা সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ, আশঙ্কা বিএনপির
৫৩৩ দিন আগে
বৈদেশিক মুদ্রা সংকটে পড়তে পারে বাংলাদেশ, আশঙ্কা বিএনপির
আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতি ও অনিয়মের ফলে বিপুল ঋণের বোঝার কারণে ২০২৭ সালের পর বাংলাদেশ মারাত্মক বৈদেশিক মুদ্রা সংকটে পড়তে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে বিএনপি।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু বলেছেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে ব্যাপক দুর্নীতির কারণে ঋণ পরিশোধ করতে হিমশিম খাচ্ছে সরকার। এই চাপটি দেশের অর্থনীতির স্থিতিশীলতার জন্য হুমকি।’
বৃহস্পতিবার (২ জানুয়ারি) গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলের মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নেতৃত্বে এই সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত হয়।
সাবেক বিদ্যুৎ ও জ্বালানি প্রতিমন্ত্রী টুকু বলেন, আওয়ামী লীগ বিদ্যুৎ খাতে জাদুকরি বিভ্রম সৃষ্টির মাধ্যমে বাংলাদেশের জনগণের কাছ থেকে দুর্নীতিকে আড়াল করার চেষ্টা করেছে।
তিনি বলেন, ‘সরকার বৈদেশিক মুদ্রায় বিদ্যুৎ খাতের ঋণ পরিশোধ করছে। ফলে ২০২৭ সালের পর দেশে বৈদেশিক মুদ্রার তীব্র সংকট দেখা দেবে।’
আরও পড়ুন: সচিবালয়ে আগুন গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ: রিজভী
টুকু সতর্ক করে বলেন, বিদ্যুৎ খাতে দুর্নীতির কারণে সৃষ্ট সমস্যা দেশের অর্থনীতিতে দীর্ঘমেয়াদে প্রভাব ফেলতে পারে, যা বিনিয়োগের পরিবেশের ক্ষতি করতে পারে।
তিনি বলেন, ‘বিদ্যুৎ খাতে অনিয়মের কারণে দেশের অর্থনৈতিক অবস্থা অস্থিতিশীল হয়ে পড়েছে এবং জনগণ এর জন্য আওয়ামী লীগ সরকারকে দোষারোপ করছে।’
আরও পড়ুন: শুধু ভারত নয়, দুয়েকটি রাজনৈতিক দলও ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে: রিজভী
আওয়ামী লীগ সরকারের সঙ্গে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন সংস্থার সঙ্গে করা চুক্তির বিস্তারিত জনসম্মুখে প্রকাশের জন্য সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপির এই নেতা।
সংবাদ সম্মেলনে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেন, ‘আমাদের কাছে মনে হয়, আওয়ামী লীগের ১৬ বছরের শাসনামলে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সবচেয়ে বেশি দুর্নীতি হয়েছে।’
তিনি বলেন, রাজনৈতিক বিতর্কের কারণে আওয়ামী লীগের দুর্নীতি, চুরি, লুটপাটসহ অন্যান্য অপকর্মের চাপা পড়ে যাচ্ছে।
ফখরুল বলেন, ‘এ কারণে তারা (আওয়ামী লীগ) অভ্যন্তরীণ সুবিধা পাচ্ছে। এই বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের বারবার কথা বলতে হবে। তা না হলে জনগণ আস্তে আস্তে আওয়ামী লীগের দুর্নীতি ও অপকর্ম এবং কীভাবে দেশকে ধ্বংস করেছে তা ভুলে যাবে।’
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, তাদের দল ক্ষমতায় গেলে বিদ্যুৎ খাতের দুর্নীতি ও অনিয়ম পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পর্যালোচনা করবে এবং সে অনুযায়ী যথাযথ ব্যবস্থা নেবে।
আরও পড়ুন: মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে স্বৈরাচারের কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না: তারেক রহমান
৫৩৩ দিন আগে