রাজনীতি
মতপার্থক্য থাকলেও দেশের স্বার্থে সবাই এক: তারেক রহমান
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান বলেছেন, ‘স্বৈরাচারের মাথাটা পালিয়ে গেছে, কিন্তু তার কিছু কিছু অবশিষ্ট এখনও দেশে রয়ে গেছে। বিভিন্ন সময় তারা ভিন্ন ভিন্ন আঙ্গিকে মাথাচাড়া দিয়ে ওঠার অপচেষ্টা করছে। যদি দেশকে রক্ষা করতে হয়, দেশের মানুষেকে রক্ষা করতে হয় তাহলে ঐক্যের বিকল্প নেই।’
শনিবার (১ ফেব্রুয়ারি) বিকালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার আশুগঞ্জ আব্বাস উদ্দিন খান সোহাগপুর মডেল কলেজ মাঠে জেলা বিএনপির সম্মেলনে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে প্রধান অতিথির বক্তৃতায় তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘আমাদের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। তবে যারা দেশের জন্য কাজ করতে চাই, দেশের স্বার্থে দিন শেষে আমরা সবাই এক। আমাদের সামনে প্রচুর কাজ, দেশকে পুনর্গঠনের কাজ। আমরা ৩১ দফা দিয়েছি। আমাদের ভবিষ্যৎ প্রজন্মের শিক্ষার অধিকার, স্বাস্থ্যের অধিকার নিশ্চিত করতে হবে। বেকারত্ব দূরীকরণ, কৃষি ও শিল্পখাতে উন্নয়ন ৩১ দফায় অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। আমরা কৃষককে ন্যায্যমূল্য দিতে চাই। তবে লাগমহীন দ্রব্যমূল্য ঊর্ধ্বগতি যেন জনগণের মধ্যে নাভিশ্বাসের কারণ না হয়!’
তিনি বলেন, ‘অচল কল-কারখানাগুলো সচল করতে হবে। আমাদের অসংখ্য নদনদী ও খাল ভরাট হয়ে গেছে, এগুলো খনন করতে হবে।’
আরও পড়ুন: ৩১ দফা শুধু বিএনপির নয়, এটা সব দলের: তারেক রহমান
বিএনপির শীর্ষ এই নেতা বলেন, ‘আগামী দিনে সংসদের মেয়াদ কত হবে, সদস্য সংখ্যা কত হবে—গণতান্ত্রিক রাষ্ট্রে এই বিতর্ক থাকতেই পারে। তবে দিন শেষে আমরা এগুলো জনগণের ওপর ছেড়ে দেব। এ নিয়ে মাত্রতিরিক্ত বিতর্ক রাষ্ট্র মেরামতের কাজকে বিঘ্নিত করবে। তবে এর একমাত্র উপায় হলো জাতীয় নির্বাচন। জনগণের ভোটের মাধ্যমে এর ফয়সালা হবে।’
তিনি বলেন, ‘বিগত ১৫ বছর জনগণের ভোট দেওয়ার অধিকার ছিল না, জবাবদিহিতা ছিল না। অস্ত্রের মুখে সব অধিকার কেড়ে নেওয়া হয়েছিল। আমরা ডামি নির্বাচন ভোটারবিহীন নির্বাচন ও ভোট ডাকাতির নির্বাচন দেখেছি। উন্নয়নের নাম করে সামান্য জিনিস দৃশ্যমান করা হলেও এর মাধ্যমে লাখ লাখ কোটি টাকা বিদেশে পাচার করা হয়েছে। রাষ্ট্র্রের সমস্ত প্রতিষ্ঠান ধ্বংস করা হয়েছে, দেশকে ধ্বংসের কিনারায় নিয়ে গেছে।’
বিএনপি বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় রাজনৈতিক দল উল্লেথ করে তিনি আরও বলেন, ‘এই দলের কর্মী হিসেবে আমাদের ঐক্যবদ্ধ থেকে জাতিকে পথ দেখাতে হবে। শুধু আমাদের দলই নয়, দেশের যেসব রাজনৈতিক দলের এজেন্ডা এক, তাদের সঙ্গে নিয়ে দেশ ও দেশের মানুষের স্বার্থে ঐক্য গড়ে তুলতে হবে। দেশকে এগিয়ে নিতে সকলকে ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে—এটাই হোক এই সম্মেলনের প্রতিজ্ঞা ও শপথ।’
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট আব্দুল মান্নানের সভাপতিত্বে সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ মো. সেলিম ভুইয়া, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. মোস্তাক আহম্মেদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় অর্থনৈতিক বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার খালেদ হোসেন মাহবুব শ্যামল, বিএনপির কুমিল্লা বিভাগীয় সাবেক সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক মো. সায়েদুল হক সাইদ, বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির সদস্য শেখ মো. শামীম, সালাউদ্দিন শিশির, জেলা বিএনপির সাবেক সভাপতি হাফিজুর রহমান মোল্লা কচি, সাবেক সাধারণ সম্পাদক জহিরুল ইসলাম, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব মো. সিরাজুল ইসলাম সিরাজ ও জেলা বিএনপি নেতা মো. কবির আহম্মেদ ভুইয়া প্রমুখ।
৫৪৮ দিন আগে
জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম, ১২ দলীয় জোটের সঙ্গে বিএনপির বৈঠক
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও প্রয়োজনীয় সংস্কার বাস্তবায়ন শেষে দ্রুত আগামী নির্বাচন আয়োজনে সরকারকে চাপ দিতে পরবর্তী রাজনৈতিক কৌশল ঠিক করতে যুগপৎ আন্দোলনের সঙ্গী জমিয়তে উলামায়ে ইসলাম ও ১২ দলীয় জোটের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে পৃথক বৈঠক করছে বিএনপি।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গুলশানে বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে দলটির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে বৈঠক করে জমিয়তে উলামায়ে ইসলামের একটি প্রতিনিধি দল।
এর আগে, ১২ দলীয় জোটের নেতাদের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন বিএনপির নেতারা।
যোগাযোগ করা হলে ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক শাহাদাত হোসেন সেলিম ইউএনবিকে বলেন, দ্রুত নির্বাচন আয়োজনে সরকারের ওপর চাপ প্রয়োগ, রমজানে দ্রব্যমূল্য ও আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে রাখাসহ বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে।
আরও পড়ুন: এ বছরই নির্বাচন চাচ্ছে বিএনপি-খেলাফত মজলিস
তিনি বলেন, বিএনপির লক্ষ্য দেশের অন্যান্য গণতান্ত্রিক, বামপন্থী ও ইসলামী দলগুলোকে সম্পৃক্ত করে জোটের সম্প্রসারণ করা। এ বিষয়টিকে আমরা ইতিবাচকভাবে নিয়েছি এবং এ ব্যাপারে কিছু পরামর্শও দিয়েছি।
এক প্রশ্নের ১২ দলীয় জোটের সমন্বয়ক বলেন, দ্রুত নির্বাচনের জন্য সরকারকে চাপ দিতে রাজপথে নামা হবে কি না, এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়নি। আমরা ভবিষ্যৎ কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা করেছি, তবে অন্য দলগুলোর সঙ্গে আলোচনা করে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে বিএনপি।
তিনি বলেন, বিএনপি এই আন্দোলনে অংশ নেওয়া অন্যান্য গণতান্ত্রিক দল এবং জোটে যোগ দিতে ইচ্ছুক দলগুলোর সঙ্গেও বৈঠক করবে। তারা বিএনপির সঙ্গে একযোগে অথবা পৃথকভাবে বিভিন্ন কর্মসূচি পালন করতে পারে।
৫৪৯ দিন আগে
যোগ্য ব্যক্তি নির্বাচিত হলে চালের দাম ৩০ টাকায় নেমে আসবে: ডা. তাহের
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আব্দুল্লাহ মুহাম্মদ তাহের বলেছেন, দেশের রাজনৈতিক সংকট সমাধানে কতিপয় সংস্কার জরুরি। সংস্কারবিহীন নির্বাচন যেমন অর্থবহ হবে না, তেমনি নির্বাচন না করে সংস্কারের জন্য সময়ক্ষেপণ এদেশের জন্য কল্যাণ বয়ে আনবে না। তাই প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে দ্রুত নিরপেক্ষ নির্বাচন আয়োজন করতে হবে।
শুক্রবার (৩১ জানুয়ারি) দুপুর ১২টার দিকে কুমিল্লার চৌদ্দগ্রাম উপজেলার শ্রীপুর ইউনিয়নের চৌমুহনী মডার্ন স্কুল অ্যান্ড মাদ্রাসার শিক্ষার্থীদের পাগড়ি প্রদান উপলক্ষে তাফসিরুল কুরান মাহফিলে প্রধান অতিথির বক্তব্য তিনি এসব কথা বলেন।
নায়েবে আমির বলেন, ‘গত ৫ আগস্ট আধিপত্যবাদের পরাজয়ের মাধ্যমে দেশের মানুষ নতুন করে মেরুদণ্ড সোজা করে দাঁড়িয়েছে। স্বৈরাচারের পতনের মাধ্যমে বাংলাদেশ দ্বিতীয়বার স্বাধীনতা অর্জন করেছে।’
তিনি বলেন, ‘৫ আগস্টে শুধু স্বৈরাচার সরকারের পতন নয়, আধিপত্যবাদী, ইসলামবিদ্বেষী ভারতেরও পরাজয় হয়েছে। ভারতের প্রভুত্বের রাজনীতি বাংলাদেশের আর চলতে দেবে না জনগণ। বাংলাদেশে গণতন্ত্র থাক—এই প্রতিবেশী দেশ কখনও তা চায় না। এদেশের স্বাধীনতাকে নষ্ট করতে তারা ষড়যন্ত্র করছে, সেটি প্রতিহত করতে হবে।’
আরও পড়ুন: যারা দেশ বিক্রি করে তাদের রাজনীতি করার অধিকার বাংলাদেশে থাকবে না: ডা. তাহের
ডা. তাহের বলেন, ‘দেশে লুটপাটের কারণেই দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি। আগামী নির্বাচনে সৎ ও যোগ্য ব্যক্তিরা নির্বাচিত হলে ৭০ টাকার চাল ৩০ টাকায় নেমে আসবে। লুটপাট, চাঁদাবাজদের জনগণ ভোট দেবে না। যারা বিদেশি সহযোগিতায় ক্ষমতায় যেতে চায়, তাদের এ দেশের মানুষ প্রত্যাখ্যান করবে।’
মাহফিলে প্রধান মুফাসসির হিসেবে আলোচনা করেন মুফতি আমির হামজা। প্রধান বক্তা ছিলেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় সহকারী সেক্রেটারি মাওলানা আব্দুল হালিম। বিশেষ অতিথি ছিলেন কুমিল্লা দক্ষিণ জেলা আমির মোহাম্মদ শাহজাহান, চৌদ্দগ্রাম উপজেলা জামায়াত আমির মাহফুজুর রহমান, মাওলানা ইয়াহিয়া তাকী প্রমুখ।
৫৪৯ দিন আগে
ধর্ম নয়, যোগ্যতার ভিত্তিতে দেশ পরিচালিত হবে: জামায়াত আমির
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, ‘ধর্মের ভিত্তিতে নয়, দেশ পরিচালিত হবে যোগ্যতার ভিত্তিতে। যৌক্তিক সংস্কার শেষে এ দেশে গ্রহণযোগ্য নির্বাচন দিতে হবে। নির্বাচনের মাধ্যমে একটি গণতান্ত্রিক সরকার দেশ পরিচালনা করবে।’
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) বিকালে জয়পুরহাট সার্কিট হাউস মাঠে জেলা জামায়াতে ইসলামী আয়োজিত কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে নির্বাচন প্রসঙ্গে গিয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
আওয়ামী লীগ সরকারের সমালোচনা করে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘গত জুলাইয়ের ১ তারিখ থেকে ৫ আগস্ট পর্যন্ত বাংলাদেশকে তারা নরকে পরিণত করেছিল। ক্ষমতার শেষ দিন পর্যন্ত তারা মানুষ খুন করেছে। এসব গণহত্যার বিচার আমরা চাই। এদেশে প্রত্যেকটি গণহত্যার বিচার হতে হবে। আমরা সরকারকে বলি—অগ্রাধিকার-ভিত্তিতে গণহত্যার বিচার করুন, শহিদদের আত্মা শান্তি পাবে, আহতরা একটু শান্তি খুঁজে পাবে, ১৮ কোটি মজলুম মানুষ খুশি হবে।
আরও পড়ুন: ৭ খাতে সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না: জামায়াত সেক্রেটারি
তিনি বলেন, ‘তারা এক মাসের ভেতরে দেড় থেকে দুই হাজার মানুষ খুন করল। যেনতেনভাবে আমাদের ক্ষমতায় বসানোর জন্য তারা জীবন দেয় নাই। তারা জীবন দিয়েছে একটা বৈষম্যহীন বাংলাদেশ গড়তে। তারা একটা মানবিক বাংলাদেশ দেখতে চায়, একটা দুর্নীতিমুক্ত বাংলাদেশ দেখতে চায়। বাংলাদেশে আবার দুঃশাসন না যেন আসে—তা তারা দেখতে চায়। এ জন্য অবশ্যই একটা অর্থবহ নির্বাচনের দিকে যেতে হবে জাতিকে।’
সেই নির্বাচন করতে হলে গুরুত্বপূর্ণ সংস্কার করতে হবে জানিয়ে জামায়াত আমির বলেন, ‘সেজন্য জামায়াতে ইসলামী এই (অন্তর্বর্তী) সরকারকে ৫ তারিখেই বলে দিয়েছে—প্রয়োজনীয় সংস্কার সাধনের জন্য আমরা যৌক্তিক সময় দিতে চাই, তাড়াহুড়ো করে আমরা ক্ষমতায় যেতে চাই না, আবার কেউ তাড়াহুড়ো করে ক্ষমতায় যাক তা-ও আমরা চাই না। আমরা চাই একটা সুষ্ঠু নির্বাচনের মধ্য দিয়ে আল্লাহ তা’আলা যাদের সুযোগ দেবেন, জনগণ যাদের ভালবাসবে ও সমর্থন দেবে, তারা যেন বাংলাদেশ পরিচালনার দায়িত্ব পায়।’
জয়পুরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. ফজলুর রহমান সাঈদের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে বিশেষ অতিথি ছিলেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সরকারি সেক্রেটারি জেনারেল ও বগুড়া অঞ্চল টিম সদস্য মাওলানা মো. রফিকুল ইসলাম খান এবং কেন্দ্রীয় মজলিসে সুরার সদস্য অধ্যাপক মাওলানা আব্দুর রহিম ও অধ্যাপক নজরুল ইসলাম।
আরও পড়ুন: ‘বৈষম্যহীন, দুঃশাসনমুক্ত বাংলাদেশ কায়েম না হওয়া পর্যন্ত জামায়াত থামবে না’
অন্যান্যের মধ্যে বগুড়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ মাওলানা আব্দুল হক, সিরাজগঞ্জ জেলা আমির শাহিনুর আলম, দিনাজপুর জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এনামুল হক,জয়পুরহাট জেলা জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি গোলাম কিবরিয়া মন্ডল, সহকারী সেক্রেটারি হাসিবুল আলম লিটন, অ্যাডভোকেট মামুনুর রশিদ, প্রকৌশলী আব্দুল বাতেনসহ স্থানীয় নেতারা বক্তব্য রাখেন।
৫৫০ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্সের সঙ্গে ফখরুলের বৈঠক
ঢাকাস্থ মার্কিন দূতাবাসের চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স রাষ্ট্রদূত ট্রেসি অ্যান জ্যাকবসনের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। এসময় তারা দেশের সর্বশেষ রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও আগামী নির্বাচন নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বৃহস্পতিবার (৩০ জানুয়ারি) জ্যাকবসনের বাসভবনে বৈঠকটি সকাল ১০টায় শুরু হয়ে প্রায় এক ঘণ্টা ধরে চলে।
এ সময় মির্জা ফখরুলের সঙ্গে ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী ও সাংগঠনিক সম্পাদক শামা ওবায়েদ।
পরে শামা ওবায়েদ সাংবাদিকদের বলেন, তারা তার আমন্ত্রণে মার্কিন রাষ্ট্রদূতের বাসভবনে নাস্তা করতে গিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, 'নতুন মার্কিন চার্জ দ্য অ্যাফেয়ার্স বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের সঙ্গে জড়িত রয়েছেন এবং এই বৈঠকটি সেই আলোচনার অংশ ছিল।
বৈঠকে শামা বলেন, ‘দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি, অর্থনৈতিক অবস্থা এবং আগামী নির্বাচন নিয়ে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে আলোচনা হয়েছে। ‘মার্কিন রাষ্ট্রদূত এসব বিষয়ে বিএনপির দৃষ্টিভঙ্গি বোঝার চেষ্টা করেছেন।’
আরও পড়ুন: ৩১ দফা বাস্তবায়নেই হবে জুলুম-নির্যাতনের প্রতিশোধ: তারেক রহমান
৫৫০ দিন আগে
৩১ দফা বাস্তবায়নেই হবে জুলুম-নির্যাতনের প্রতিশোধ: তারেক রহমান
৩১ দফা পরিপূর্ণ বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সব জুলুম-নির্যাতনের প্রতিশোধ হবে বলে নেতাকর্মীদের উদ্দেশে বলেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেছেন, ‘রাজনৈতিক প্রতিহিংসা ও প্রতিশোধ গ্রহণ করা যাবে না। আমরা বাংলাদেশের মানুষের জন্য ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমেই সব প্রতিশোধ নেব। আমি মনে করি, ৩১ দফার বাস্তবায়নই বড় প্রতিশোধ। দেশের সার্বভৌমত্ব রক্ষা ও ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সবচেয়ে বড় দল বিএনপি। এজন্য আমাদের দায়িত্ব অন্য দলগুলোর চেয়েও বেশি।’
বুধবার (২৯ জানুয়ারি) সন্ধ্যায় ঝিনাইদহ, যশোর ও নড়াইল জেলা বিএনপি আয়োজিত ‘রাষ্ট্রকাঠামো মেরামতে ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি’ শীর্ষক কর্মশালায় লন্ডন থেকে ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে দেওয়া বক্তব্যে বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান এসব কথা বলেন। ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির নেতাকর্মীরা স্থানীয় জোহান ড্রিম ভ্যালি মিলনায়তনে কর্মশালায় অংশ নেন।
আরও পড়ুন: তারেক রহমানের চার মামলা বাতিলের রায় বহাল
তারেক রহমান বলেন, ‘বিএনপির ৩১ দফা কেবল দেশ ও দেশের মানুষের জন্য। ৩১ দফার মাধ্যমে দেশের মানুষের শুভ পরিবর্তন ঘটাতে চাই, যেটি মানুষ প্রত্যাশা করে। এজন্য জনগণের আস্থা ধরে রাখার জন্য নিজেদের পরিবর্তন করতে হবে। আমাদের মন-মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে। তাই আমাদের ভাবনায় শুধুই জনগণ, জনগণ ও জনগণ। শুধু তাই নয়, এই ৩১ দফা বাস্তবায়নের মাধ্যমে আমরা সব জুলুম-নির্যাতনের প্রতিশোধ নেব।’
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার হাসিনা সরকারের আমলে ১৬ বছরে বিএনপিসহ বিরোধী রাজনৈতিক দলের নেতাকর্মীরা খুন-গুম, হামলা-মামলার শিকার হয়েছেন। দেশ ও দেশের মানুষের অধিকার প্রতিষ্ঠায় কর্মীরা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জনগণের একটি বিশাল অংশ বিশ্বাস করে—আগামীতে দেশের যদি ভালো কিছু হয়, সেটা বিএনপিকে দিয়েই হবে।’
‘শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশ গঠনে নিজেই মাঠঘাটে হেঁটে হেঁটে কাজ করেছেন। আমরা শহিদ জিয়ার সেই নীতি নিয়ে কাজ করতে চাই।’
আগামী নির্বাচনে রাষ্ট্রক্ষমতায় যেতে হলে বিএনপির সব নেতা-কর্মীকে জনগণের আস্থা অর্জন করতে হবে জানিয়ে দলটির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, ‘সামনের পথ মোটেও মসৃণ নয়। পলাতক স্বৈরাচার চুরি, দুর্নীতি, লুটপাট করে সব সাফ করে দিয়ে গেছে। বিচার ব্যবস্থা, প্রশাসন, পুলিশসহ রাষ্ট্রের সব প্রতিষ্ঠান ভেঙেচুরে ধ্বংস করে দিয়েছে। আগামীতে যে দল দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পাবে তাদের অনেক কষ্ট করতে হবে।’
‘দেশের মানুষ যদি আমাদের দেশ পরিচালনার দায়িত্ব দেয়, এই কষ্টকে আমরা হাসিমুখে সহজ করে নিতে পারব, যদি আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি। বড় দল হিসেবে বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে যেমন ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে, তেমনি গণতান্ত্রিক আন্দোলনে একসঙ্গে সংগ্রাম করা, নির্যাতন, জেল, জুলুম সহ্য করা রাজনৈতিক দলগুলোকেও ঐক্যবদ্ধ থাকতে হবে।’
৩১ দফার মাধ্যমে দেশের শুভ পরিবর্তন ঘটাতে হবে। কোনো জাদু বা ম্যাজিকের মাধ্যমে এই পরিবর্তন হবে না মন্তব্য করে তারেক রহমান বলেন, ‘এই পরিবর্তনের জন্য বিএনপির প্রতিটি নেতাকর্মীকে প্রস্তুত হতে হবে, মন-মানসিকতার পরিবর্তন ঘটাতে হবে।’
দলীয় নেতা-কর্মীদের সতর্ক করে দিয়ে তিনি বলেন, ‘বিএনপির বিরুদ্ধে বিভিন্ন মহল প্রোপাগান্ডা ছড়াচ্ছে। দেশের ভিতরে ও বাইরে ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। সবাইকে সজাগ থাকতে হবে। ষড়যন্ত্র করে বিএনপিকে দমিয়ে রাখা যাবে না। কারণ, বিএনপি জনগণের দল। নিজেদের জনগণের আস্থায় নিয়ে যেতে হবে। নিজেদের শুধরাতে হবে।’
তারেক রহমান বলেন, ‘হাসিনা সরকারের প্রশ্রয়ে কিছু মানুষ ঋণের নামে ব্যাংকগুলো ধ্বংস করে দিয়েছে। বর্তমান সরকার কাটিয়ে ওঠার চেষ্টা করছে। বড় চ্যালেঞ্জ জনগণ ও গ্রাহকের আস্থা অর্জন করা। আমরা বিশ্বাস করি, ব্যাংকিং খাতে আস্থা ফেরাতে সরকার কাজ করবে। আমরাও এটা নিয়ে কাজ করব।’
তিনি বলেন, ‘বিএনপি রাষ্ট্রক্ষমতায় গেলে প্রতিটি পরিবারে একটি করে ফ্যামিলি কার্ড দেব। যে কার্ডের মাধ্যমে দেশে উৎপাদিত পণ্য প্রতিটি পরিবারের মাঝে যেন পৌঁছে দিতে পারি।’
আরও পড়ুন: ৩১ দফা শুধু বিএনপির নয়, এটা সব দলের: তারেক রহমান
‘আমাদের সমাজের গুরুত্বপূর্ণ একটি অংশ নারী। নারীদের সুরক্ষার জন্য দলীয়ভাবে আমরা সর্বোচ্চ উদ্যোগ নেব।’
তিনি আরও বলেন, ‘পলাতক স্বৈরাচার ইচ্ছাকৃতভাবে দেশের স্বাস্থ্যব্যবস্থাকে ধ্বংস করেছে। এর পেছনে পার্শ্ববর্তী একটি দেশের স্বার্থ জড়িত ছিল। আমরা স্বাস্থ্য খাতকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেব।’
বিএনপির কেন্দ্রীয় প্রশিক্ষণ বিষয়ক কমিটির আয়োজনে কর্মশালায় স্বাগত বক্তব্য দেন বিএনপির খুলনা বিভাগীয় সহসাংগঠনিক সম্পাদক জয়ন্ত কুমার কুণ্ডু।
এছাড়া ঝিনাইদহ জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি মুন্সি কামাল আজাদ পান্নুর সভাপতিত্বে কর্মশালায় বিএনপির মিডিয়া সেলের আহ্বায়ক অধ্যাপক ড. মওদুদ হোসেন আলমগীর পাভেল, ঢাবি সাদা দলের আহ্বায়ক ড. মোরশেদ হাসান খান, বিএনপির প্রচার সম্পাদক সুলতান সালাউদ্দিন টুকু, বিএনপির মিডিয়া সেলের সদস্য ব্যারিস্টার মীর মো. হেলাল উদ্দিন, মো. আব্দুস সাত্তার পাটোয়ারী, ফারজানা শারমিন পুতুল, বিএনপির সহ-তথ্য ও গবেষণা সম্পাদক আমিরুজ্জামান খান শিমুল, ছাত্রদলের সাবেক সাধারণ সম্পাদক সাইফ মাহমুদ জুয়েল, ঝিনাইদহ বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জাহিদুজ্জামান মনা প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
৫৫১ দিন আগে
৩১ দফা শুধু বিএনপির নয়, এটা সব দলের: তারেক রহমান
৩১ দফা শুধু বিএনপির নয়, এটা সব দলের জন্য বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান। তিনি বলেছেন, বাংলাদেশের মানুষ জাতীয়তাবাদী দলের ওপর আস্থা রাখতে চাচ্ছে। মানুষের এই আস্থা কেউ নষ্ট করলে, তাকে দলে রাখা সম্ভব হবে না।’
মঙ্গলবার (২৮ জানুয়ারি) বাগেরহাট শহরের জেলা পরিষদ অডিটোরিয়ামে অনুষ্ঠিত বিএনপির রাষ্ট্র কাঠামো মেরামতের ৩১ দফা ও জনসম্পৃক্তি বিষয়ক বিভাগীয় কর্মশালায় ভার্চুয়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এসব কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, ‘সমাজে ভালো-খারাপ দুই ধরনের মানুষই আছে। যে খারাপ, তার সঙ্গে আমরা সম্পর্ক রাখতে চাই না।’
৩১ দফা জনগণের কাছে পৌঁছানোর জন্য নেতাকর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘দেশের মানুষকে মুক্তি দিতে হলে, দুটি বিষয় নিশ্চিত করতে হবে—রাজনৈতিক অধিকার ও সব শ্রেণির মানুষের অর্থনৈতিক অধিকার। আর এসব অধিকার বাস্তবায়নে একটি রাজনৈতিক দল হিসেবে কাজ করছে বিএনপি। ফলে জনগণের সঙ্গে নেতাকর্মীদের সম্পৃক্ততা বাড়াতে হবে।’
৫৫২ দিন আগে
১০ দফায় ঐকমত্যে বিএনপি-ইসলামী আন্দোলন
প্রয়োজনীয় 'ন্যূনতম' সংস্কার সম্পন্ন করে স্বল্প সময়ের মধ্যে একটি গ্রহণযোগ্য জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠানসহ ১০ দফা সিদ্ধান্তে ঐকমত্যে পৌঁছেছে বিএনপি ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ।
সোমবার (২৭ জানুয়ারি) ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মো. রেজাউল করিম ও বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের মধ্যে প্রায় দুই ঘণ্টার বৈঠকে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
আজ রাজধানীর পুরানা পল্টনে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে অনুষ্ঠিত বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল এ সিদ্ধান্তের কথা জানান।
আরও পড়ুন: ফখরুলের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আরেকটা ১/১১ সরকার গঠনের ইঙ্গিত: নাহিদ
দুপুর ১২টা ৫ মিনিটে বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান বরকত উল্লাহ বুলুর সঙ্গে নিয়ে বৈঠকটি করেন মির্জা ফখরুল।
বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশের সিনিয়র প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যক্ষ সৈয়দ মোসাদ্দেক বিল্লাহ আল মাদানী, মহাসচিব অধ্যক্ষ মাওলানা ইউনুছ আহমাদ, প্রেসিডিয়াম সদস্য অধ্যাপক আশরাফ আলী আকন, সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা গাজী আতাউর রহমান, যুগ্ম মহাসচিব মাওলানা ইমতিয়াজ আলম প্রমুখ।
এর আগে গত ২১ জানুয়ারি বরিশালের চরমোনাই দরবার শরীফে জামায়াতের আমির শফিকুর রহমান ও আমির সৈয়দ মো.রেজাউল করিম বৈঠক করেন।
আরও পড়ুন: ১/১১ পুনরাবৃত্তির অভিযোগের ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি মির্জা আব্বাসের
৫৫৩ দিন আগে
৬ দিনের রিমান্ডে সাবেক এমপি নদভী
বৈষম্যবিরোধী ছাত্র-জনতার আন্দোলনে গুলিতে বিশ্ববিদ্যালয়ের এক শিক্ষার্থীসহ তিনজন নিহত হওয়ার পৃথক তিনটি মামলায় চট্টগ্রাম-১৫ আসনের সাবেক সংসদ সদস্য আবু রেজা মুহাম্মদ নেজামুদ্দিন নদভীর ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত।
একইসঙ্গে নদভীকে ভাঙচুর ও বিস্ফোরক আইনের আরেক মামলায় পুলিশের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে গ্রেপ্তার দেখান আদালত।
রবিবার (২৬ জানুয়ারি) চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেট কাজী শরীফুল ইসলামের আদালত শুনানি শেষে এই আদেশ দেন। এর আগে সকালে কড়া নিরাপত্তার মধ্য দিয়ে নদভীকে আদালতে হাজির করা হয়।
চট্টগ্রাম মেট্রোপলিটন পুলিশ প্রসিকিউশন শাখার উপ-কমিশনার (ডিসি) এ. এ. এম হুমায়ুন কবীর বলেন, চান্দগাঁও থানার দুটি হত্যা মামলায় নদভীকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য একটিতে ৭ দিন এবং আরেকটিতে ৫ দিন রিমান্ড আবেদন করা হয়। এ ছাড়া ডবলমুরিং থানায় দায়ের হওয়া একটি হত্যা মামলায় ৭ দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়। শুনানি শেষে আদালত প্রত্যেক মামলায় দুদিন করে মোট ৬ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন। গত বছরের ১৫ ডিসেম্বর রাজধানীর উত্তরা এলাকা থেকে আবু রেজা নদভীকে গ্রেপ্তার করে পুলিশ।
রিমান্ড মঞ্জুরের পর জিজ্ঞাসাবাদের জন্য চট্টগ্রাম জেলা ডিবি কার্যালয়ে নেওয়া হয়েছে সাবেক এমপি আবু রেজা নদভীকে।
৫৫৪ দিন আগে
৭ খাতে সংস্কার ছাড়া নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না: জামায়াত সেক্রেটারি
সংস্কার ছাড়া অবাধ, সুষ্ঠু, নিরপেক্ষ নির্বাচন হবে না জানিয়ে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল ও সাবেক এমপি অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেছেন, একটি অবাধ, নিরপেক্ষ নির্বাচনের জন্য পুলিশ, প্রশাসন, জুডিশিয়ালসহ ৬/৭টা ডিপার্টমেন্টের (খাত) সংস্কার ছাড়া কোনো নির্বাচন নিরপেক্ষ হবে না। নাহলে আবার ২০১৪, ২০১৮ ও ২০২৪ এর (নির্বাচনের) মতো হবে।
শনিবার (২৫ জানুয়ারি) সকালে ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে অনুষ্ঠিত বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কর্মী সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
দীর্ঘ ১৮ বছর পর অনুষ্ঠিত জামায়াতের এ কর্মী সম্মেলনে জেলার ৭ উপজেলা থেকে সকাল থেকেই দলে দলে নেতাকর্মীরা হাজির হয়।
সম্মেলনে অন্তর্বর্তী সরকারের উদ্দেশে অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, ‘নিরপেক্ষ নির্বাচন হলে আমাদেরই লাভ। তাই আমরা বলি, বাংলাদেশের মানুষও চায়—একটি অবাধ সুষ্ঠু নিরপেক্ষ নির্বাচন। আগে নির্বাচনের জন্য ন্যূনতম সংস্কার প্রয়োজন, তা শেষ করুন। সংস্কার শেষ করে ছয় মাস পরে জাতীয় নির্বাচনের রোডম্যাপ ঘোষণা করুন, তাতে যতটুকু সময় লাগে।’
‘একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের জন্য গত ১৫ বছর আমরা যদি অপেক্ষা করতে পারি, তাহলে আরেকটা ভালো নির্বাচনের জন্য দুই-চার মাস আগে হলো বা পরে হলো—তা আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ নয়। নির্বাচনটি নিরপেক্ষ হবে কি না, সেটাই আমাদের কাছে গুরুত্বপূর্ণ। ততটুকু সময় দিতে জামায়াতে ইসলামী রাজি আছে।’
তিনি বলেন, ‘সংস্কার ও নির্বাচন দ্রুত সম্পন্ন করুন। যৌক্তিক সময় যতটুকু লাগবে জামায়াতে ইসলামী তা দেবে। তবে নির্বাচনের আগে মানবতাবিরোধী অপরাধীদের বিচার করতে হবে; জনগণ তা দেখতে চায়।’
এ সময় বিএনপির দিকে ইঙ্গিত করে জামায়াত সেক্রেটারি বলেন, ‘কেউ কেউ অস্থির হয়ে গেছে; বলে—সংস্কারের কোনো দরকার নাই। সংস্কার হলো একটি চলমান প্রক্রিয়া। সংস্কার ও নির্বাচন একসঙ্গে হবে।’
‘এ কথার মধ্যে আমরা অন্য গন্ধ পাই। এটা আমি আর মামুর নির্বাচনের মতো, তোমরাও কেটেকুটে বাক্স ভরতে চাও। আমরা জামায়াত ইসলামী। আমাদের কাছে টাকাও নেই, মাস্তানও নেই। আমরা ব্যালট কাটতে পারব না, কেন্দ্রও দখল করতে পারব না।’
আরও পড়ুন: সংস্কার ও নির্বাচনের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই: ফখরুল
তিনি বলেন, ‘দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র হচ্ছেই, নতুন করে আমরা দেখতে পাচ্ছি জামায়াতে ইসলামীর বিরুদ্ধেও আবার ষড়যন্ত্র শুরু হয়েছে। কেউ কেউ আবার আওয়ামী ভাষায় কথা বলছে। ফ্যাসিবাদের লোকেরা যে ভাষায় আমাদের সমালোচনা করত, নির্মূল করতে চাইত, ওনাদের মুখে এখন সেই ফ্যাসিবাদের গন্ধ পাওয়া যায়।’
‘আমরা বলি, খবরদার! এই পথ সর্বনাশা পথ। ফ্যাসিবাদী যুগের অবসান হয়েছে। এখন একটি জাতীয় ঐক্যের ভিত্তিতে আসুন অনৈক্য, বিভেদ, বিশৃঙ্খলা সৃষ্টিকারী, কোনো ভূমিকায় না গিয়ে আগস্টের মূল চেতনা ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্যকে ধারণ করে আমরা একটি অবাধ নিরপেক্ষ নির্বাচনের মধ্য দিয়ে একটি নতুন বাংলাদেশ গঠনে এগিয়ে যাই।’
ভোলা জেলা জামায়াতের আমির মাস্টার জাকির হোসেনের সভাপতিত্বে কর্মী সম্মেলনে আরও বক্তব্য রাখেন কেন্দ্রীয় জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল অ্যাডভোকেট মোয়াজ্জেম হোসাইন হেলাল, বরিশাল মহানগরীর আমির অধ্যক্ষ জহির উদ্দিন মোহাম্মদ বাবর, কেন্দ্রীয় ছাত্রশিবিরের সাবেক সভাপতি ও চট্রগ্রাম জেলার আমির আবু জাফর মো. ওবায়দুল্লাহ, বরিশাল অঞ্চল টিমের সদস্য একেএম ফখরুদ্দিন খান রাজি, কেন্দ্রীয় গবেষণা সেলের সদস্য ও সাবেক জেলা আমির মাওলানা ফজলুল করিম, সাবেক জেলা আমির অধ্যক্ষ মো. মোস্তফা কামাল, ভোলা জেলা জামায়াতের নায়েবে আমির অধ্যক্ষ মাওলানা মো. নজরুল ইসলাম, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি মাওলানা হারুন অর রশিদ, ভোলা সদর উপজেলা জামায়াতের আমির মাওলানা কামাল হোসাইন, চরফ্যাশন উপজেলার আমির অধ্যক্ষ মীর শরীফ, ভোলা পৌর সেক্রেটারী মাওলানা আতাউর রহমান প্রমুখ।
৫৫৫ দিন আগে