রাজনীতি
নারীর তুলনায় পুরুষ ভোটার বেড়েছে প্রায় দ্বিগুণ
নতুন করে ভোটার তালিকায় যুক্ত হয়েছেন ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫২ জন। খসড়া হালনাগাদ তালিকা প্রকাশে এ তথ্য জানিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। তবে এবারের হালনাগাদে নারীদের তুলনায় পুরুষ ভোটার প্রায় দ্বিগুণ বেড়েছে বলেই দেখা গেছে। এবার মহিলার তুলনায় পুরুষ ৫ লাখ ৩৭ হাজার ৭৪২ জন বেশি ভোটার হয়েছেন।
বৃহস্পতিবার (০২ জানুয়ারি) নির্বাচন ভবনে সাংবাদিকদের এক ব্রিফিংয়ে এই তথ্য জানান নির্বাচন কমিশনার কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
ইসি জানায়, গত বছরের ২ মার্চ মোট ভোটার সংখ্যা ছিল ১২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ১৬০ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিল ৬ কোটি ২১ লাখ ৪৪ হাজার ৫৮৭ জন এবং মহিলা ভোটার ছিল ৫ কোটি ৯৭ লাখ ০৪ হাজার ৬৪১ জন। এছাড়া হিজড়া ভোটার ছিল ৯৩২ জন।
গত ২০২৪ সালের হালনাগাদে নতুন ভোটার অন্তর্ভুক্ত হয়েছে মোট ১৮ লাখ ৩৩ হাজার ৩৫২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ১১ লাখ ৮৫ হাজার ৫১৬ জন এবং মহিলা ৬ লাখ ৪৭ হাজার ৭৭৪ জন ও হিজড়া ৬২ জন।
এর ফলে আজকে পর্যন্ত মোট ভোটার দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৩৬ লাখ ৮৩ হাজার ৫১২ জন। এর মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৩৩ লাখ ৩০ হাজাট ১০৩ জন এবং মহিলা ৬ কোটি ০৩ লাখ ৫২ হাজার ৪১৫ জন ও হিজড়া ভোটারের সংখ্যা ৯৯৪ জন। মোট ভোটার বৃদ্ধির হার ১.৫০ শতাংশ বলে জানিয়েছে ইসি।
নির্বাচন কমিশনার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ বলেন, দাবি আপত্তি নিষ্পত্তি শেষে আগামী ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করা হবে। এই সময়ের মধ্যে কারো কোনো দাবি বা আপত্তি থাকলে তা জানাতে পারবেন। দাবি আপত্তি জানানোর শেষ সময় ১৭ জানুয়ারি।
আগামী ২০ জানুয়ারি থেকে বাড়ি বাড়ি হালনাগাদ কার্যক্রম শুরু হতে পারে। সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী, দেশে ভোটার রয়েছে ১২ কোটি ১৮ লাখ ৫০ হাজার ১৬০ জন।
৫৩৩ দিন আগে
ছাত্রশিবিরের সভাপতি নির্বাচিত জাহিদুল, সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম
বাংলাদেশ ইসলামী ছাত্রশিবিরের ২০২৫ সালের জন্য কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচিত হয়েছেন জাহিদুল ইসলাম। আর সেক্রেটারি জেনারেল মনোনীত হয়েছেন নুরুল ইসলাম।
মঙ্গলবার (৩১ ডিসেম্বর) রাজধানীর সোহরাওয়ার্দী উদ্যানে সংগঠনটির কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনে এই কমিটি গঠন করা হয়।
নির্বাচন অধিবেশন বেলা ৩টায় অনুষ্ঠিত হয়। ছাত্রশিবিরের সহকারি নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি সেলিম উদ্দিনের সঞ্চালনায় এবং প্রধান নির্বাচন কমিশনার ও সাবেক কেন্দ্রীয় সভাপতি অ্যাডভোকেট মতিউর রহমান আকন্দ ছাত্রশিবিরের কেন্দ্রীয় সদস্য সম্মেলনের সমাপনি সেশনে নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতির নাম ঘোষণা করেন। নাম ঘোষণার পর নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতিকে শপথবাক্য পাঠ করান ছাত্রশিবিরের প্রধান নির্বাচন কমিশনার।
আরও পড়ুন:ভারতের আগরতলায় বাংলাদেশ মিশনে হামলার নিন্দা ইসলামী ছাত্রশিবিরের
এর আগে ২৯ ডিসেম্বর সন্ধ্যা ৭টা থেকে ৩০ ডিসেম্বর ২০২৪ রাত ৮টা পর্যন্ত সারাদেশে অনলাইনের মাধ্যমে কেন্দ্রীয় সভাপতি নির্বাচনের ভোট গ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়।
আর ছাত্রশিবিরের সংবিধান অনুযায়ী নব নির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি ২০২৪ সেশনের জন্য কার্যকরী পরিষদের সঙ্গে পরামর্শ করে নুরুল ইসলামকে সেক্রেটারি জেনারেল হিসেবে মনোনয়ন দেন।
নবনির্বাচিত কেন্দ্রীয় সভাপতি এর পূর্বে যথাক্রমে সেক্রেটারি জেনারেল, কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক, কেন্দ্রীয় প্রকাশনা সম্পাদক, কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক সম্পাদক, কেন্দ্রীয় বিতর্ক সম্পাদক, নারায়ণগঞ্জ মহানগর সভাপতি ও জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয় সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি জগন্নাথ বিশ্ববিদ্যালয়ে ইংরেজি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ে এইচআরএম বিভাগে এমবিএ অধ্যয়ন করছেন।
নব মনোনীত সেক্রেটারি জেনারেল নুরুল ইসলাম ইতিপূর্বে কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক, কেন্দ্রীয় সাহিত্য সম্পাদক, কেন্দ্রীয় প্লানিং অ্যান্ড ডেভেলপমেন্ট সম্পাদক, কেন্দ্রীয় শিক্ষা সম্পাদক ও খুলনা মহানগর সভাপতির দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি খুলনা বিশ্ববিদ্যালয় থেকে অর্থনীতি বিভাগ থেকে অনার্স ও মাস্টার্স সম্পন্ন করেছেন। বর্তমানে তিনি ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে এইচআরএম বিভাগে মাস্টার্সে অধ্যয়নরত।
আরও পড়ুন: বিগত সরকার শিক্ষাব্যবস্থাকে ধ্বংসে ক্যাম্পাসগুলোকে অস্ত্রাগারে পরিণত করেছিল: ডা. শফিকুর রহমান
৫৩৫ দিন আগে
মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে স্বৈরাচারের কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না: তারেক রহমান
পালিয়ে যাওয়া স্বৈরাচারের প্রেতাত্মারা দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে থেকে নানা ষড়যন্ত্র করলেও মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তা সফল হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, ‘স্বৈরাচার এ দেশ থেকে পালিয়ে গেলেও তাদের প্রেতাত্মারা দেশের আনাচে-কানাচে লুকিয়ে আছে। তারা বিভিন্ন ষড়যন্ত্রের চেষ্টা করছে। মানুষ ঐক্যবদ্ধ থাকলে তাদের কোনো ষড়যন্ত্র সফল হবে না।’
২০১৩ সালে র্যাবের ক্রসফায়ারে নিহত নীলফামারী সদর উপজেলার লক্ষ্মীচাপ ইউনিয়ন বিএনপি নেতা গোলাম রব্বানীর পরিবারকে নর্ব-নির্মিত ঘরের চাবি হস্তান্তর উপলক্ষে সোমবার (৩০ ডিসেম্বর) আমরা বিএনপি পরিবার আয়োজিত অনুষ্ঠানে ভাচুর্য়ালি যুক্ত হয়ে তিনি এ কথা বলেন।
তারেক রহমান বলেন, হাসিনা সরকার পালিয়ে যাওয়ার এক সপ্তাহ আগেও প্রায় ২ হাজার মানুষকে হত্যা ও ৩০ হাজারের মতো মানুষকে জখম করেছে। তারা বিভিন্নভাবে বহু মানুষকে নির্যাতনও করেছে বলে জানান তিনি।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান বলেন, নীলফামারীর এই গোলাম রব্বানী মানুষের অধিকারের কথা বলেছিল বলেই স্বৈরাচারেরা তাকে হত্যা করছে।
তিনি আরও বলেন, গোলাম রব্বানীর মতো বহু মানুষকে তাদের মতের বিরুদ্ধে কথা বলার কারণে স্বৈরাচার হাসিনা সরকার হত্যা করেছে।
এছাড়া যারা ক্ষতিগ্রস্ত ও নির্যাতিত হয়েছে এবং যারা পঙ্গুত্ব বরণ করেছে তাদের পাশে আমাদের দাঁড়াতে হবে বলেও জানান তিনি।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারেরা দেশকে ধ্বংস করে গিয়েছে। তাই তাদের পতন হয়েছে। তাদের জন্য বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের এখনও নানা ধরণের সমস্যা রয়েছে। এই সব সমস্যাগুলো দূর করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, সমস্যার সমাধান করতে হলে কাউকে থাকতে হবে। যারা আপনাদের সমস্যার কথাগুলো তুলে ধরতে পারবেন। এছাড়া সমস্যার কথাগুলো যেখানে পৌঁছার দরকার ঠিক সে পযর্ন্ত পৌঁছাতে পারে এই ব্যবস্থাটাই নিশ্চিত করতে চাওয়ায় স্বৈরাচারীরা তাদের হত্যা করেছে।
তিনি বলেন, আমরা এমন একটা বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চাই- যেখানে কৃষক, মজুর থেকে শুরু করে সব শ্রেণির মানুষ কথা বলতে পারে। যাদের হত্যা করা হয়েছে তারা সেটাই করতে চেয়েছিল। তাদের কথা বলতে দেওয়া হয়নি। তাদের কথা শুনতে চায়নি। এই কারণে তারা হাজার হাজার মানুষ হত্যা করেছে। আজ সময় এসেছে। পরিবর্তিত হয়েছে অবস্থা।
তারেক বলেন, বিভিন্ন মানুষের বিভিন্ন মতামত রয়েছে। আমরা সেই মতামতগুলো আলোচনা করব। দিন শেষে যে মতামতের ওপর সবচেয়ে বেশি সমর্থন থাকবে সেই মতামতের ভিক্তিতে আমরা দেশকে গড়ে তুলব।
তিনি আরও বলেন, আমরা সকলে এসঙ্গে দেশকে সামনের দিকে এগিয়ে নিয়ে যাব। আমাদের বিভিন্ন দলের মধ্যে মতপার্থক্য থাকতে পারে। কিন্ত আমাদের সজাগ থাকতে হবে, সেই মতপার্থক্য যাতে এমন পর্যায় না পৌঁছায় যেখানে দেশ ক্ষতিগ্রস্ত হবে, দেশের মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত হবে।
দেশ সামনে এগিয়ে যাওয়া বাধাগ্রস্ত হবে এমন কোনো পরিস্থিতির উদ্ভব যাতে না হয় এ ব্যাপারে আমাদের সর্তক থাকতে হবে বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: রাষ্ট্রীয় ক্ষমতার সুযোগ পেলে ৩১ দফা বাস্তবায়ন করবে বিএনপি: তারেক
তিনি বলেন বিশ্বের উন্নত দেশগুলোর সরকার একটি প্রক্রিয়া অনুসরণ করে। সেই প্রক্রিয়াটি হলো গণতান্তিক উপায় নির্বাচন প্রক্রিয়া। বাংলাদেশকে যদি এগিয়ে নিয়ে যেতে হয় তাহলে অবশ্যই গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার মধ্যে ফিরিয়ে আনতে হবে। এতে করে যোগ্য নেতৃত্ব তৈরি হবে। প্রকৃত অর্থে জনগণের ভোটে যারা বেরিয়ে আসবে, সেই মানুষগুলো কাজ করবে।
বিএনপি নেতা বলেন, এখন সময় হচ্ছে দেশ গড়ার। দেশকে যদি গড়তে হয়, দলমত নির্বিশেষে আমাদের সকলকে ঐক্যবদ্ধ হতে হবে। আমরা যদি ঐক্যবদ্ধ থাকতে পারি তাহলে দেশকে আমরা এগিয়ে নিয়ে যেতে পারব।
এ সময় বক্তব্য দেন বিএনপির রংপুর বিভাগীয় কমিটির সাংগঠনিক সম্পাদক আসাদুল হাবিব দুলু, বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটির কোষাধ্যক্ষ এম রশিদুজ্জামান মিল্লাত, বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিষয়ক সম্পাদক ইঞ্জিনিয়ার আশরাফ উদ্দীন বকুল, জেলা বিএনপির সভাপতি আলমগীর সরকার, সাধারণ সম্পাদক জহুরুল ইসলাম প্রমুখ।
৫৩৬ দিন আগে
শুধু ভারত নয়, দুয়েকটি রাজনৈতিক দলও ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, ৫ আগস্টের পর একটি রাজনৈতিক দলের আত্মসাৎ দেখেছে জনগণ। কারা পায়ের রগ কাটে তাদের চেনে জনগণ। ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের চেষ্টা করছে একাত্তরের বিরোধিতাকারী রাজনৈতিক দল।
রবিবার (২৯ ডিসেম্বর) রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে জাতীয়তাবাদী রিকশা-ভ্যান-অটো শ্রমিক দলের পক্ষে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহীদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের কবরে শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে এসব কথা বলেন রিজভী।
রিজভী বলেন, ‘শেখ হাসিনার আমলে যারা ব্যাংক লুট করেছে, ব্যাংক আত্মসাৎ করেছে, এস আলমদের উত্তরসূরি হিসেবে ৫ আগস্টের পর আমরা দেখেছি- ইসলামী ব্যাংক কীভাবে গ্রাস করে নিল একটি রাজনৈতিক দলের অনুসারীরা। ৫ আগস্টের পরেরদিনই ইসলামী ব্যাংকগুলো কী করে দখল করে নিল, এটি জনগণ দেখেছে।’
জামায়াতে ইসলামীর উদ্দেশে তিনি বলেন, ‘পাড়া-মহল্লায়, জেলায় জেলায় অনেক টার্মিনাল দখল, সিএনজি স্ট্যান্ড দখল, টেন্ডার ভাগাভাগির মধ্যে আপনাদের লোকরা কি জড়িত নেই? আমি সেই রাজনৈতিক দলটিকে বলতে চাই, নীরবে-নিভৃতে সব অপকর্মের সঙ্গে আপনারা জড়িত। শেখ হাসিনার ব্যাংক আত্মসাতের পর, ৫ আগস্টের পর আপনাদের আত্মসাৎও জনগণ দেখেছে।’
‘আমরা হাসিনার আমলে দেখেছি চাপাতি লিগ, হেলমেট লিগ, বন্দুক লিগ, ক্ষুর লিগ; আবার জনগণ তো এটিও জানে- ক্ষুর পার্টি এবং পায়ের রগ কাটা পার্টি। কারা পায়ের রগ কাটে তাদের চেনে জনগণ।’
দলটির উদ্দেশে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনাদের একাত্তরের অর্জন কী? আপনারা একাত্তরের বিরোধিতা করেছেন।’
‘জিয়ারউর রহমান স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়েছেন। এই গৌরব- একাত্তরের গৌরব, নব্বইয়ের গৌরব বিএনপির। কারণ সেদিনও আপনারা শেখ হাসিনার সঙ্গে আতাত করে এরশাদের নির্বাচনে গিয়েছিলেন। এটিও জনগণ দেখেছে। তবে ৮৬’র নির্বাচনে বিএনপি যায়নি। কারণ আমাদের দেশনেত্রী বেগম খালেদা জিয়া বলেছিলেন, স্বৈরাচারের অধীনে কোনো নির্বাচন করব না।’
তিনি বলেন, ‘মইনুদ্দিন-ফখরুদ্দিন, যারা গণতন্ত্রকে ধ্বংস করতে ও ভয়ঙ্কর শেখ হাসিনার স্বৈরাচার কায়েমের জন্য এসেছিল, সেদিনও আপনারা নির্বাচনে যেতে বাধ্য করেছিলেন। এটিও জনগণ জানে এবং দেখেছে।’
‘আপনারা তো ইসলাম নিয়ে রাজনীতি করেন। ইসলাম মানে কি বারবার মুনাফেকি করা? ইসলামের মর্মবাণী হচ্ছে, তুমি যে অঙ্গীকার কর, তা রক্ষা করবে। বিএনপি সেই ঐতিহ্যের পতাকা ধারণ করে, যার মধ্যে আছে, জনগণের কাছ থেকে বিন্দুমাত্র পশ্চাদপসরণ না করা। ৭১ থেকে (২০২৪ সালের) ৫ আগস্ট পর্যন্ত গণতন্ত্রের প্রশ্নে কখনও মাথা নিচু করেনি বিএনপি।’
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, ‘আপনারা ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করতে চান, শেখ হাসিনার প্রতিটি গুম-খুনের দোসর হচ্ছে পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত।… এরপরও আপনারা বলেন, শেখ হাসিনার সব মাফ করে দেবেন, ভারতের সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়ন করবেন। এর মধ্যে দিয়েই তো প্রমাণিত হয় যে আপনারা ন্যায়-নীতির পরোয়া করেন না, রাজনীতির নামে ধান্ধাবাজি করেন।’
দেলোয়ার হোসেন সাঈদীর বিচারের প্রসঙ্গ টেনে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘আপনার দলের প্রধান নেতাদের যারা জুডিশিয়াল প্রক্রিয়ার নামে জুডিশিয়াল কিলিং করল, তাদের আপনার মাফ করে দেবেন বলছেন। তাহলে ইসলামের যে মর্মবাণী- অন্যায়ের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ, প্রতিরোধ কর, সেটি তো আপনাদের মধ্যে নাই।… অর্থাৎ আপনারা আপনাদের রক্তের সঙ্গে বেইমানি করছেন।’
‘পার্শ্ববর্তী দেশ থেকেই শুধু অপতথ্য, অপপ্রচার ও (বিএনপির ওপর) কলঙ্ক লেপনের চেষ্টা হচ্ছে না, ভেতর থেকেও অনেকে ঘোলা পানিতে মাছ শিকারের মতো রাজনৈতিক ফায়দা তুলতে চাচ্ছে।’
নতুন বছরে বিএনপির প্রত্যাশা কী- সাংবাদিকের এই প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, ‘যার জন্য ১৫-১৬ বছরের সংগ্রাম, আগামী বছর সেই গণতন্ত্র ফিরে আসবে; এদেশের ভোটাররা স্বাধীনভাবে তাদের ভোটাধিকার প্রয়োগ করতে পারবে, তারা দেশের প্রকৃত বহুদলীয় গণতন্ত্র ফিরিয়ে নিয়ে আসবে- এটিই বিএনপির প্রত্যাশা।’
৫৩৭ দিন আগে
সচিবালয়ে আগুন গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ: রিজভী
সচিবালয়ে আগুন গভীর ষড়যন্ত্রের অংশ বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
তিনি বলেন, বিগত সরকারের হাজার হাজার কোটি টাকার দুর্নীতি ঢাকতে এই অগ্নিসংযোগ করে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ফাইল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) রংপুরের মিঠাপুকুরে নিহত ফায়ার ফাইটার সোহানুর জামান নয়নের কবর জিয়ারত শেষে এসব কথা বলেন তিনি।
রিজভী বলেন, আগুনে চার-পাঁচটা মন্ত্রণালয়ের ফাইল ও আসবাবপত্র পুড়ে ছাই হয়ে গেছে। এটা গভীর ষড়যন্ত্র ও চক্রান্তের অংশ।
তিনি বলেন, বিগত সরকার মানুষের টাকা যেভাবে আত্মসাৎ করেছে তা ভাষায় বর্ণনা করা যাবে না। শেখ হাসিনার ছেলে সজীব ওয়াজেদ জয় ও তাদের নামে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের ৩৫০ মিলিয়ন ডলার পাচারের ঘটনায় সে দেশের গোয়েন্দা সংস্থা তদন্ত করছে। এটাতো কেবল মাত্র একটি ঘটনা।
এমন অনেক ঘটনা আছে সেগুলো চাপা দেওয়ার জন্য নয়তলা ভবনে মন্ত্রণালয়ের গুরুত্বপূর্ণ ফাইল পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছে বলে জানান রিজভী।
আরও পড়ুন: দেশে কিংস পার্টি গঠনের চেষ্টা চলছে: রিজভী
রিজভী আরও বলেন, শেখ হাসিনা সরকারের একজন মুখ্যসচিব অনেক টাকা পাচার করেছে। যে ফাইলগুলো পুড়ে গেছে সেখানে তার ফাইলগুলো ছিল। সচিবালয়ের এই আগুনে অনেক গুরুত্বপূর্ণ নথি পুড়ে গেছে।
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব বলেন, পরাজিত স্বৈরাচারের দোসররা এখনও অনেক জায়গায় আছে। আমলাতন্ত্র, পুলিশসহ সরকারের বিভিন্ন জায়গায় তারা আছে। সবাইতো এখনও পরিবর্তন হয়নি। অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ জায়গায় তারা ঘাপটি মেরে আছে। কোথায় কী ধরনের নাশকতা ও চক্রান্ত হচ্ছে তার কোনো ঠিক নেই।
হাসিনার পক্ষে ভারত ষড়যন্ত্র করছে অভিযোগ করে রিজভী বলেন, গোটা পৃথিবীর সমস্ত দেশ ও রাষ্ট্রনায়করা স্বৈরাচারের পতন ও নতুন গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে যারা শহীদ হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন প্রত্যেকের প্রতি তারা সংহতি জানিয়েছেন। কিন্তু একটি দেশ সংহতি জানাতে দ্বিধা করছে। সে দেশটি হলো পার্শ্ববর্তী দেশ ভারত। তারা শেখ হাসিনাকে টিকিয়ে রাখার জন্য নানা ধরনের ষড়যন্ত্র করছে। তারা সংখ্যালঘু নির্যাতনের নতুন বয়ান তৈরি করছে, যাতে শেখ হাসিনার অপকর্মগুলোকে ঢাকা যায়।
বিএনপির এই নেতা বলেন, দ্বিতীয় মুক্তিযুদ্ধে আবু সাঈদের আত্মদানের মধ্য দিয়ে দেশ স্বাধীন হয়েছে। পরে জীবন দিয়েছে নয়ন। সেও রংপুরের ছেলে। সেদিনের আগুন নেভানোর জন্য যুদ্ধ করে জীবন দিয়েছেন তিনি। দেশের চলমান স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্ব রক্ষার আন্দোলনের অন্যতম শহীদ নয়ন। স্বৈরাচারের দোসরদের বিভিন্ন ধরনের চক্রান্ত ঠেকাতে গিয়ে জীবন দিচ্ছেন তার মতো ছেলেরা। শুধু একটি শোক জানিয়ে দায়িত্ব শেষ করা যাবে না।
এসময় বিএনপির সাংগঠনিক সম্পাদক (রংপুর বিভাগ) অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলুসহ স্থানীয় বিএনপির নেতাকর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
আরও পড়ুন: নির্বাচন বিলম্বিত করলে জনগণ বিভ্রান্ত হতে পারে: রিজভী
৫৩৮ দিন আগে
অনির্বাচিত সরকার বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা উচিৎ নয়: ফখরুল
অবিলম্বে নির্বাচনের দাবি পুনর্ব্যক্ত করে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একটি অনির্বাচিত সরকার দীর্ঘদিন ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।
তিনি বলেন, ‘সংস্কার করতে আমাদের কোনো আপত্তি নেই। কিন্তু এখন সবচেয়ে বড় সমস্যা বাংলাদেশের বিশৃঙ্খলা ও অস্থিতিশীলতা। নির্বাচিত সরকার থাকলে এসব সমস্যা অনেকাংশে লাঘব হবে।’
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টির (জাগপা) একাংশ এ অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
ফখরুল বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট থাকায় একটি নির্বাচিত সরকার কার্যকরভাবে সমস্যা মোকাবিলায় তার ক্ষমতা প্রয়োগ করতে পারে। ‘এটা আমাদের সবসময় মনে রাখতে হবে। আমরাও সংস্কারের পক্ষে। তবে আমরাও মনে করি, অনির্বাচিত সরকারের বেশিদিন ক্ষমতায় থাকা উচিত নয়।’
ফখরুল বলেন, অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রধান কাজ হচ্ছে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের ব্যবস্থা করা এবং জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধিদের হাতে ক্ষমতা হস্তান্তর করা।
আরও পড়ুন: দেশে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক চর্চাই হয়নি: ফখরুল
বিএনপির এই নেতা আশ্বস্ত করে বলেন, তার দল এখনো অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে পূর্ণ সমর্থন করে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সাফল্যের আকাঙ্ক্ষাও প্রকাশ করে এর সাফল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে তারা প্রস্তুত বলেও উল্লেখ করেন বিএনিপির এই নেতা।
ফখরুল বলেন, তারাও অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সফল করতে চান এবং এর সাফল্য নিশ্চিত করতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের সহযোগিতা দিতে তারা প্রস্তুত রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, ‘আমার সবচেয়ে বড় অনুরোধ দ্রুত নির্বাচনের আয়োজন করার। অন্যথায় চলমান সংকট, সমস্যা, নাশকতা, সীমান্ত ইস্যু নিয়ন্ত্রণ করা যাবে না।’
তিনি বলেন, সংস্কার কোনো নতুন ধারণা নয়, বরং একটি চলমান প্রক্রিয়া। তিনি বলেন, 'আপনারা (সরকার) সংস্কারের জন্য বেশ কয়েকটি কমিশন গঠন করেছেন, তারা কাজ করছে, ভাল। কিন্তু এসব কমিশন কাদের সঙ্গে কাজ করছে? তারা কিছু পন্ডিতকে নিয়ে এসেছেন... আমরা তাদের ভালো করে চিনি এবং সম্মান করি। তবে একই সঙ্গে জনগণ কী চায় তা বোঝার জন্য তাদের সঙ্গে সম্পৃক্ত থাকতে হবে।’
আরও পড়ুন: সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ডে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চান মির্জা ফখরুল
৫৩৮ দিন আগে
১৭ বছরে ভোটার হওয়া নিয়ে প্রধান উপদেষ্টার বক্তব্যের সমালোচনায় বিএনপি
ভোটার হওয়ার বয়স ১৭ বছর হওয়া উচিত- প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ ইউনুসের এমন প্রস্তাবে আপত্তি তুলে বিএনপি মহাসচিব মির্জা ইসলাম আলমগীর বলেছেন, প্রধান উপদেষ্টার এমন পরামর্শ বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) জাতীয় প্রেসক্লাবে জাতীয় গণতান্ত্রিক পার্টি (জাগপা) আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘প্রধান উপদেষ্টা বলেছেন, ভোটার হওয়ার ন্যূনতম বয়স ১৭ বছর হওয়া উচিত। এর অর্থ, এখন তাহলে আবার নতুন করে ভোটার তালিকা করতে হবে।’
‘আপনি প্রধান উপদেষ্টা, প্রথমেই বলে দিচ্ছেন, ভোটারের বয়স ১৭ হলে ভালো হয়। আপনি যখন বলছেন, তখন নির্বাচন কমিশনের ওপর চাপ সৃষ্টি হয়। এটা ইলেকশন কমিশনের কাজ, তাদের ওপর ছেড়ে দিন।’
প্রধান উপদেষ্টার মন্তব্যের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘এভাবে না বলে স্টেকহোল্ডারদের সঙ্গে কথা বলে এ বিষয়টি আনা উচিত ছিল, এটি ভালো হতো। তাহলে কোনো বিতর্কের সৃষ্টি হতো না। মানুষের মনে এখন বেশি করে আশঙ্কা তৈরি হবে, এটা করতে গিয়ে আরও সময় যাবে, কালক্ষেপণ হবে। মানুষের মনে ধারণা তৈরি হচ্ছে, আমার না। তাদের মনে ধারণা সৃষ্টি হচ্ছে, কেন যেন এই সরকার ইচ্ছাকৃতভাবে নির্বাচন প্রক্রিয়াকে বিলম্বিত করছে।’
‘(ভোটার হওয়ার ন্যূনতম বয়স) ১৮ বছর তো আছে, সবার কাছে গ্রহণযোগ্য। যদি কমাতে চান, সেটি ইলেকশন কমিশন প্রস্তাব করুক। রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে কথা বলেন।’
আরও পড়ুন: পেছনে ফেরার কোনো সুযোগ আমাদের নেই: অধ্যাপক ইউনূস
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘সংস্কার কোনো নতুন ধারণা নয়, কেউ যদি দাবি করে আমরা (এখন যারা সংস্কার নিয়ে কথা বলছেন) সংস্কার দফা নিয়ে আসছি, এটি ভুল। সংস্কার একটি চলমান প্রক্রিয়া। সেজন্য তো নির্বাচন বন্ধ হয়ে থাকতে পারে না।। দিনের পর দিন একটি অনির্বাচিত সরকারের হাতে দেশ চালাতে দিতে পারি না।’
অন্তর্বর্তী সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বাস করি, সরকার প্রয়োজনীয় সংস্কার করে দ্রুত একটি নির্বাচনের ব্যবস্থা করবেন।’
৫৩৮ দিন আগে
দেশে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক চর্চাই হয়নি: ফখরুল
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, ‘বিএনপি শুরু থেকেই সংস্কারের পক্ষে। দুর্ভাগ্যজনক, কেউ কেউ বলছে বিএনপি সংস্কার চায় না, নির্বাচন চায়। এই কথাটা সঠিক না। আমরা বার বার বলছি- একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের জন্য যেসব সংস্কার প্রয়োজন তা বিএনপি চায়।’
শুক্রবার (২৭ ডিসেম্বর) দুপুরে রাজধানীর ফার্মগেটে কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন (কেআইবি) মিলনায়তনে ফোরাম ফর বাংলাদেশ স্টাডিজ আয়োজিত ‘ঐক্য কোন পথে’ শীর্ষক এক জাতীয় সংলাপে বক্তৃতাকালে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় যাওয়ার জন্য নির্বাচন একটি প্রধান ফটক। আমরা সব সময় গণতান্ত্রিক সংস্কারের পক্ষে। তার জন্য আমরা কাজ করেছি, ভবিষ্যতেও করব। একইসঙ্গে আমরা মনে করি জনগণকে বাদ দিয়ে কোনো কিছু চাপিয়ে করা যাবে না।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের প্রধান সমস্যাটা হলো, এ দেশে সত্যিকার অর্থে গণতান্ত্রিক চর্চাই হয়নি। এ সংস্কৃতিই গড়ে ওঠেনি।’
‘বাংলাদেশ একটা অত্যন্ত জটিল রাজনৈতিক সময়ের ভেতর দিয়ে যাচ্ছে। আজকে যে প্রশ্নগুলো সামনে এসেছে- ঐক্য, সংস্কার ও নির্বাচন। জাতিগতভাবে আমাদের দুর্ভাগ্য যে আজকে স্বাধীনতার ৫৩ বছর পর এ বিষয়গুলো নিয়ে আমাদের আলোচনা করতে হচ্ছে। খুব ভালো হতো, যদি আমরা প্রথম থেকেই এ বিষয়গুলো নিয়ে কাজ করে সামনে এগুতে পারতাম।’
আরও পড়ুন: সচিবালয়ের অগ্নিকাণ্ডে সুষ্ঠু তদন্ত ও দোষীদের শাস্তি চান মির্জা ফখরুল
বক্তব্যের একপর্যায়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘খুব জরুরি কথা, আমরা যেন একাত্তরকে কখনও ভুলে না যাই। একাত্তরের পর থেকে গণতন্ত্রের জন্য ধারাবাহিক যে লড়াই-সংগ্রাম, সেই সংগ্রামের প্রত্যেককে আমাদের মনে রাখা দরকার। সেই লড়াইয়ের মধ্য দিয়ে, ছাত্রদের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে আজকে আমরা এই জায়গায় এসে পৌঁছেছি।’
সংবিধান সংস্কার কমিটির প্রধান ড. আলী রিয়াজের বক্তব্যের প্রসঙ্গ টেনে বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘রিয়াজ বলেছেন তার কাছে এক লাখের বেশি প্রস্তাব এসেছে। শুনেছি, এ প্রস্তাবগুলো তৈরি করে তারা সরকারের হাতে তুলে দেবেন, সরকার তারপর রাজনৈতিক দলগুলোর সঙ্গে বসবে।
‘উনারাই (রিয়াজরা) যদি প্রথমে পলিটিক্যাল পার্টিগুলোর সঙ্গে বসতেন, সেটা আরও ভালো হতো। আমার কাছে মনে হয়। তারা গভর্মেন্টের সঙ্গে বসবেন, আরও আলোচনা হবে। আমার কাছে মনে হয়, যত সময় বাড়বে, তত আমাদের সমস্যা বাড়বে।’
তিনি বলেন, ‘আসল প্রবলেম তো অন্য জায়গায়। এগুলো বাস্তবায়ন করবেন কাদের দিয়ে? প্রশাসন, গভর্মেন্ট মেশিনারি, এগুলো তো এখনও ফ্যাসিবাদের মধ্যে আছে। এতটুকুও পরিবর্তন হয়নি। একটা ফাইলও নড়ে না। আহত শিক্ষার্থীদের চিকিৎসার ফাইল কোথায় আটকে আছে দেখবেন? ওখানেই আটকে আছে। এই বিষয়গুলোর বিরুদ্ধে আমাদেরকে লড়তে হবে।’
মাইন্ডসেট একটা বড় জিনিস এমন মন্তব্য করে তিনি ড. মোহাম্মদ ইউনূসের প্রসঙ্গ তুলে ধরে বলেন, উনি একটা বক্তব্য দিয়েছেন খুব ভালো লেগেছে যে একটা বন্দোবস্ত তো ছিল, টাকা দেবো কাজ করিয়ে নেবো। ভালো সমস্যা নেই। এখন তো আপনি অন্য সিস্টেমে যাচ্ছেন। সেই মাইন্ড সেটটা তো তৈরি করতে হবে। ওই মাইন্ড সেটের মধ্য দিয়ে গণতন্ত্র চর্চা করতে হবে। ভুল-ত্রুটি হবে কিন্তু ওর মধ্য দিয়েই ডেমোক্রেটিক সিস্টেমকে এগিয়ে নিতে হবে। সামনের দিকে নিয়ে যেতে হবে।’
আরও পড়ুন: সীমান্ত হত্যা কখনোই মেনে নেওয়ার নয়: মির্জা ফখরুল
৫৩৯ দিন আগে
১৩ বছর পর শনিবার দেশে ফিরছেন কায়কোবাদ
দীর্ঘ ১৩ বছর পর দেশে ফিরছেন বিএনপির নির্বাহী কমিটির ভাইস চেয়ারম্যান ও কুমিল্লা-৩ (মুরাদনগর) আসনের সাবেক সংসদ সদস্য কাজী শাহ মোফাজ্জল হোসাইন কায়কোবাদ।
শনিবার (২৮ ডিসেম্বর) সকালে সৌদি আরব থেকে একটি ফ্লাইটে করে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে পৌঁছানোর কথা রয়েছে তার।
কায়কোবাদের দেশে ফেরার খবরে খুশি মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির নেতাকর্মী ও সমর্থকরা। তাকে বিমানবন্দরে স্বাগত জানানোর জন্য প্রস্তুত হচ্ছে দলটির হাজারো নেতাকর্মী।
আরও পড়ুন: কুড়িগ্রাম জেলা বিএনপির আংশিক কমিটি ঘোষণা
মুরাদনগর বিএনপি সূত্র জানিয়েছে, এই বিএনপি নেতাকে স্বাগত জানাতে কুমিল্লা, মুরাদনগর উপজেলা বিএনপি, বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের ছাত্র-জনতা, ধর্মীয় নেতা, শিক্ষক ও বিভিন্ন পেশাজীবীসহ বিভিন্ন ধর্মের লোকজন প্রস্তুত হচ্ছেন। পাশাপাশি উপজেলার প্রতিটি ইউনিয়ন ও গ্রামে গ্রামে গরু জবাই করে ভুরিভোজের আয়োজন করা হচ্ছে।
সূত্র আরও জানায়, কায়কোবাদকে স্বাগত জানাতে মুরাদনগর থেকে ৪০০ বাস ও ২০০০ মাইক্রোবাস প্রস্তুত রয়েছে। এই হিসাবের বাইরে আরও অনেক গাড়ি বিমানবন্দরে যাওয়ার কথা রয়েছে।
এ বিষয়ে মুরাদনগর উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক মহি উদ্দিন অঞ্জন বলেন, ‘দীর্ঘ ১৩ বছর দেশের বাইরে থাকা মুরাদনগরের এই নেতা দেশে ফিরছেন। তার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনকে ঘিরে মুরাদনগরে ব্যাপক উৎসাহ-উদ্দীপনা ও উৎসবের আমেজ বইছে। দলমত র্নিবিশেষে সব শ্রেণিপেশার মানুষ এরই মধ্যে তাকে স্বাগত জানাতে ব্যাপক প্রস্তুতি শেষ করেছে।’
৫৩৯ দিন আগে
শার্শায় বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষ, আহত ৩
যশোরের শার্শা উপজেলার বাগআঁচড়া বাজারে আধিপত্য বিস্তারকে কেন্দ্র করে বিএনপির দুপক্ষের সংঘর্ষে বোমা হামলা, দোকান ভাঙচুর ও কয়েক রাউন্ড গুলি বর্ষণের ঘটনা ঘটেছে। এতে আহত হয়েছেন তিনজন।
বৃহস্পতিবার (২৬ ডিসেম্বর) সকাল থেকে গভীর রাত পর্যন্ত বাগআঁচড়া বাজারে ময়ূরী সিনেমা হলের সামনে দু’দফায় সংঘর্ষ হয়।
প্রতাক্ষদর্শী ও পুলিশ জানায়, বিএনপির সাবেক কেন্দ্রীয় দপ্তর সম্পাদক ও সাবেক সংসদ সদস্য মফিকুল হাসান তৃপ্তির অনুসারী বাগআঁচড়ার ইসমাইলের ছেলে যুবদলের বহিষ্কৃত কর্মী মাসুদ ও সাতমাইল এলাকার কপিল উদ্দীনের ছেলে যুবদল কর্মী বাবর আলীর মধ্যে বিরোধ চলছিল।
মাটি বিক্রির টাকা ভাগাভাগি নিয়ে তাদের মধ্যে এই বিরোধ চলছিল। এর জেরে মাসুদের নেতৃত্বে বাবুকে বাগআঁচড়া বাজারে মারপিট করা হয়।
পরে বাবুর পক্ষের নেতাকর্মীরা খবর পেয়ে রাত ১২টার দিকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ময়ূরী সিনেমা হলের সামনে এসে মাসুদের বাবা ইসমাইলের দোকান ভাঙচুর করে। কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলে যায়।
ওই ঘটনার সূত্র ধরে আজ শুক্রবার সকালে আবারও মোটরসাইকেল বহর নিয়ে মাসুদের বাড়িতে হামলা চালায় তারা।
এসময় তারা কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটায় এবং চাইনিজ কুড়াল দিয়ে দুটি মোটরসাইকেল কুপিয়ে ক্ষতিগ্রস্ত করে।
বাবু জানান, বুধবার রাতে মাসুদ তার মোটরসাইকেলের গতিরোধ করে তাকে মারধর করে ২০ লাখ টাকা ছিনিয়ে নেয়।
পরে ঘটনাটি তাদের নেতাকর্মীদের জানালে তারা মাসুদের বাড়ির সামনে গিয়েছিলেন রাতে ও সকালে তারা (মাসুদেরা) নিজেরা বোমা মেরে ও মোটরসাইকেল ভাঙচুর করে তাদেরকে ফাঁসানোর চেষ্টা করছে।
মাসুদ জানায়, বাবুর পক্ষের নেতাকর্মীরা রাত ১২টার দিকে মোটরসাইকেল বহর নিয়ে ময়ূরী সিনেমা হলের সামনে এসে আমার বাবা ইসমাইলের দোকান ভাঙচুর করেছে। কয়েক রাউন্ড গুলিবর্ষণ ও কয়েকটি বোমার বিস্ফোরণ ঘটিয়ে চলে যায়।
শার্শা থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আমির আব্বাস জানান, তিনি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন। কোনো অভিযোগ বা মামলা হলে পরবর্তী ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলে তিনি জানান।
৫৩৯ দিন আগে