রাজনীতি
ক্লিনিক ছেড়ে তারেকের বাসায় গেলেন খালেদা জিয়া
বিভিন্ন স্বাস্থ্যগত জটিলতা নিয়ে যুক্তরাজ্যের লন্ডনে চিকিৎসাধীন বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়াকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হয়েছে।
খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক ডা. এ জেড এম জাহিদ হোসেন জানান, স্থানীয় শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সময় রাত সাড়ে ৯টায় (বাংলাদেশ সময় ৩টা ৩০ মিনিট) তার ছুটির কাগজপত্র হস্তান্তর করা হয়।
পরে তিনি বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন তার বড় ছেলে তারেক রহমানের বাসায় গিয়েছেন।
ডা. জাহিদ বলেন, 'আলহামদুলিল্লাহ, ম্যাডাম (খালেদা জিয়া) ক্লিনিক থেকে ছুটি পেয়েছেন এবং বর্তমানে আমাদের দলের ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানের বাসায় আছেন।’
খালেদা জিয়া অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডি এবং অধ্যাপক জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে তারেক রহমানের বাসায় তার চিকিৎসা চালিয়ে যাবেন।
জাহিদ বলেন, খালেদা জিয়ার লন্ডনে যাওয়া বাংলাদেশি চিকিৎসকরা তার স্বাস্থ্যের অবস্থা পর্যবেক্ষণ করবেন।
অধ্যাপক কেনেডির নেতৃত্বাধীন লন্ডন ক্লিনিকের মেডিকেল বোর্ড হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়ার আগে খালেদা জিয়ার সব শারিরীক পরীক্ষার রিপোর্ট পর্যালোচনা করেছেন।
লিভার সিরোসিস, কিডনি ও হার্টের সমস্যা, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসে ভুগতে থাকা ৭৯ বছর বয়সী সাবেক প্রধানমন্ত্রী যুক্তরাজ্যের নিয়ম অনুযায়ী বাড়িতে কঠোর চিকিৎসা পদ্ধতি মেনে চলবেন।
আরও পড়ুন: সন্ধ্যায় লন্ডন ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র পাচ্ছেন খালেদা জিয়া
খালেদা জিয়া হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তারেক রহমান নিজে গাড়ি চালিয়ে বাসায় নিয়ে যান। এসময় তার স্ত্রী জোবাইদা রহমান গাড়িরে সামনের সিটে বসা ছিলেন।
বাসায় পৌঁছালে তারেক রহমানের মেয়ে জাইমা রহমান, প্রয়াত আরাফাত রহমান কোকোর দুই মেয়ে জাফিয়া রহমান ও জাহিয়া রহমান এবং তাদের মা সৈয়দা শামিলা রহমান তাকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান।
গত ৮ জানুয়ারি কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পরপরই খালেদা জিয়াকে লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়।
তখন থেকে তিনি লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে ছিলেন।
আরও পড়ুন: ১/১১ পুনরাবৃত্তির অভিযোগের ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি মির্জা আব্বাসের
৫৫৬ দিন আগে
১/১১ পুনরাবৃত্তির অভিযোগের ভয়াবহ পরিণতির হুঁশিয়ারি মির্জা আব্বাসের
বিএনপি আরেকটি ১/১১ ধাঁচের সরকারের ভিত্তি তৈরির অভিযোগের মাধ্যমে বিভক্তি সৃষ্টির চেষ্টার সম্ভাব্য পরিণতি সম্পর্কে কঠোর হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেছেন দলটির সিনিয়র নেতা মির্জা আব্বাস।
শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) এক দোয়া ও মিলাদ মাহফিলে অংশ নিয়ে তিনি এই হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করেন।
আব্বাস বলেন, ‘কোনো কোনো মহল তাদের নির্বিচারে বক্তব্য দিয়ে সাংঘর্ষিক পরিস্থিতি সৃষ্টির অপচেষ্টা অব্যাহত রাখলে বাংলাদেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধার হবে না।’
বিএনপি চেয়ারপারসন বেগম খালেদা জিয়ার ছোট ছেলে আরাফাত রহমান কোকোর ১০ম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে নয়াপল্টনে দলের কেন্দ্রীয় কার্যালয়ের নিচতলায় এই স্মরণসভার আয়োজন করা হয়।
মির্জা আব্বাস বলেন, 'আমি পরিষ্কারভাবে বলতে চাই, যারা নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য বিএনপিকে ভিন্ন রাজনৈতিক শিবিরে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছেন— তাদের পরিণতি ভালো হবে না।’
আরও পড়ুন: গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়া সংস্কারের সুযোগ নেই: খসরু
বিএনপি ১/১১-এর মতো আরেকটি সরকার প্রতিষ্ঠার চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করায় তথ্য উপদেষ্টা নাহিদ ইসলামের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ২০০৭ সালে ফখরুদ্দীন-মঈনুদ্দীনের নেতৃত্বাধীন সরকারের সময় সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছিল বিএনপি।
তিনি বলেন, ‘১/১১ নয়, আপনারা যদি ৫ আগস্টের পরও বিভাজন ও সংঘাত সৃষ্টি করতে পারে— এমন বক্তব্য দিতে থাকেন, তাহলে দেশে কখনো গণতন্ত্র ফিরে আসবে না। আমি বলতে চাই, বিভেদ ও বিভ্রান্তি সৃষ্টি না করে দেশকে ঐক্যবদ্ধ রাখার চেষ্টা করুন’
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম বৃহস্পতিবার (২৪ জানুয়ারি) অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে বলেন, এ ধরনের সরকার যদি নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়, তাহলে নির্বাচনের সময় সত্যিকারের নিরপেক্ষ সরকারের প্রয়োজন দেখা দেবে।
পরে রাতে উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম এক ফেসবুক পোস্টে বলেন, বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্য মূলত ২০০৭ সালে আরেকটি ১/১১-এর মতো সরকার গঠনের ইঙ্গিত দেয়।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আব্বাস বলেন, অনেকে এখন বিভিন্ন গণমাধ্যমে এবং বিভিন্ন উপায়ে বিএনপি সম্পর্কে নানা মন্তব্য করছেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের কোনো কোনো নেতা হয়তো তাদের ব্যক্তিগত মতামত হিসেবে কিছু কথা বলেছেন। সম্প্রতি আমি অনেককে নানাভাবে কথা বলতে দেখেছি। কেউ কেউ বলছেন, বিএনপি ১/১১-এর পরিস্থিতি তৈরির চেষ্টা করছে। আমি তাদের বলতে চাই, ২০০৭ সালে ১/১১-এর ভয়াবহ পরিণতিতে বিএনপির চেয়ে বেশি কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি।’
মির্জা আব্বাস বলেন, ১/১১-এর ষড়যন্ত্র থেকে বিএনপির সাধারণ সদস্য থেকে শুরু করে শীর্ষ নেতা বেগম খালেদা জিয়া পর্যন্ত কোনো নেতাকর্মী রেহাই পাননি।
আরও পড়ুন: ফখরুলের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আরেকটা ১/১১ সরকার গঠনের ইঙ্গিত: নাহিদ
কারও নাম উল্লেখ না করে তিনি বলেন, একটি দল ক্ষমতার লোভে পাগল হয়ে গেছে বলে ডিম ফোটার আগেই মুরগির বাচ্চা গণনা শুরু করেছে।
আব্বাস বলেন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দল হঠাৎ করে এমনভাবে কথা বলতে শুরু করেছে, যা তাকে শিশুদের আজেবাজে কথা বলার কথা মনে করিয়ে দেয়।
তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, কিছু লোক ও দল এমন আচরণ করছে যেন আওয়ামী লীগের একটি দল বিএনপি এবং আওয়ামী লীগের শিবিরের দিকে বিএনপিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করছে।
মির্জা আব্বাস আরও বলেন, যারা বিএনপিকে আওয়ামী লীগের দিকে ঠেলে দিতে চায়— আয়নায় নিজেদের দেখা উচিত তাদের। নিজেদেরকে নিয়ে ভাবা উচিত এবং জনগণের সঙ্গে প্রতারণা করা থেকে বিরত থাকা উচিত।
গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারে সারা দেশে বিএনপির নেতাকর্মীরা কীভাবে রাজপথে সংগ্রাম করেছে, অকাল মৃত্যু, হত্যা, গুম, কারাবাসসহ নানা ধরনের নির্যাতন সহ্য করেছে সে কথাও তুলে ধরেন তিনি।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও ফ্যাসিবাদ-সহযোগীর মিলনে গণতন্ত্র পরিপুষ্ট হবে না: দুদু
আব্বাস বলেন, ‘তারা (মহলটি) এখন আমাদের অন্য শিবিরে ঠেলে দিতে চায়। উদ্দেশ্য কী? আপনি কি আমাদের আওয়ামী লীগের সঙ্গে যুক্ত করতে চান? এসব নিয়ে কখনো ভাববেন না। কারণ, আমাদের দলের নেতা-কর্মীরা দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের অতন্দ্র প্রহরী।’
তিনি বলেন, অনেকে দাবি করেন, বিএনপি শুধু নির্বাচনের দিকেই নজর দিচ্ছে। ‘তবে আমরা শুধু নির্বাচনের দিকে নজর দিচ্ছি না। বিদেশ থেকে আসা কিছু ব্লগার দেশ চালানোর চেষ্টা করে। তারা এমনভাবে কথা বলছেন— যেন তারা যা বলছে, তা বাংলাদেশে বাস্তবে পরিণত হবে। দয়া করে আপনাদের বুদ্ধিমত্তাকে কাজে লাগিয়ে জাতির মধ্যে বিভেদ সৃষ্টি করবেন না। দেশে শান্তি ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করুন ‘
বিএনপিকে দোষারোপ না করে দেশ গড়তে তাদের প্রজ্ঞা ও বুদ্ধি কাজে লাগাতে ব্লগারদের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি নেতা।
মির্জা আব্বাস বলেন, অনেকেই দাবি করছেন— বৈষম্যবিরোধী ছাত্র আন্দোলনের নেতারা নতুন দল গঠন করায়, বিএনপি ঈর্ষান্বিত হয়ে পড়েছে।
তিনি বলেন, ‘যারা এসব কথা বলেন, তারা জাতির শত্রু। নতুন দল গঠন হবে কি হবে না, তা নির্ভর করছে যারা দল গঠনের চেষ্টা করছেন তাদের ওপর। নতুন দল গঠিত হলে বিএনপির ভূমিকা দেখতে পাবেন। নতুন দল গঠিত হলে আমরা তাকে স্বাগত জানাই।’
বিএনপি নেতা বলেন, যারা দল গঠন করবেন তারা গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়ার মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনা করবেন। তবে তাদের ভিত্তিহীন বক্তব্য দিয়ে জনগণকে বিভ্রান্ত না করার আহ্বান জানান তিনি।
নানা কর্মসূচির মধ্য দিয়ে আরাফাত রহমান কোকোর দশম মৃত্যুবার্ষিকী পালন করেছেন বিএনপির নেতাকর্মীরা।
এ উপলক্ষে সকালে বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বে বনানীতে আরাফাত রহমান কোকোর সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন দলের নেতাকর্মীরা।
আরও পড়ুন: সন্ধ্যায় লন্ডন ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র পাচ্ছেন খালেদা জিয়া
৫৫৬ দিন আগে
সন্ধ্যায় লন্ডন ক্লিনিক থেকে ছাড়পত্র পাচ্ছেন খালেদা জিয়া
বিএনপি চেয়ারপারসন ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়া আজ শুক্রবার সন্ধ্যায় তার ছেলে তারেক রহমানের বাসায় যাবেন। ধারণা করা হচ্ছে যুক্তরাজ্যের লন্ডন ক্লিনিক থেকে ছাড়া পাবেন খালেদা জিয়া।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাতে (লন্ডন সময়) সাংবাদিকদের এ তথ্য জানান খালেদা জিয়ার ব্যক্তিগত চিকিৎসক অধ্যাপক ডা. এজেডএম জাহিদ হোসেন।
তিনি বলেন, ‘যদি সবকিছু ঠিকঠাক হয় এবং রিপোর্টগুলো প্রত্যাশা অনুযায়ী আসে ... ইনশাল্লাহ ম্যাডামের (খালেদা) হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এখানকার চিকিৎসকরা এখনও ছাড়পত্র দিতে পারেননি, কারণ আজ কিছু অতিরিক্ত পরীক্ষা করা হচ্ছে ... আজ সন্ধ্যায় তাকে হাসপাতাল থেকে ছেড়ে দেওয়া হতে পারে।’
জাহিদ বলেন, হাসপাতাল থেকে ছাড়া পাওয়ার পরও বিএনপি চেয়ারপারসন অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডি ও জেনিফার ক্রসের তত্ত্বাবধানে থাকবেন, কারণ তারা মেডিকেল বোর্ডের সঙ্গে পরামর্শক্রমে তার চিকিৎসার তত্ত্বাবধান করছেন।
তিনি বলেন, 'যুক্তরাজ্যের মেডিকেল প্রটোকল অনুসরণ করে তাকে (খালেদা জিয়া) চিকিৎসা দেওয়া হবে।’
গত ৮ জানুয়ারি কাতারের আমিরের পাঠানো বিশেষ এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে যুক্তরাজ্যে পৌঁছানোর পরপরই খালেদা জিয়াকে লন্ডন ক্লিনিকে ভর্তি করা হয়। এরপর থেকে তিনি লিভার বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক জন প্যাট্রিক কেনেডির নেতৃত্বে একটি মেডিকেল বোর্ডের তত্ত্বাবধানে হাসপাতালে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
৭৯ বছর বয়সী বিএনপি চেয়ারপারসন লিভার সিরোসিস, কিডনি, হার্ট, ডায়াবেটিস ও আর্থ্রাইটিসের জটিলতাসহ একাধিক স্বাস্থ্য সমস্যায় ভুগছেন।
তার বর্তমান শারীরিক অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাইলে ডা. জাহিদ বলেন, বিএনপি চেয়ারপারসন মোটামুটি এখন অনেক ভালো বোধ করছেন, তবে লিভার প্রতিস্থাপনের বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, লিভার প্রতিস্থাপনের বিষয়ে এত বড় সিদ্ধান্ত নেওয়ার আগে অন্যান্য স্বাস্থ্য জটিলতার পাশাপাশি তার বয়স এবং তার লিভারের রোগের তীব্রতা বিবেচনা করা গুরুত্বপূর্ণ।
কারাগারে থাকাকালীন তিনি প্রয়োজনীয় চিকিৎসা সেবা থেকে বঞ্চিত হয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছিলেন বলে জানান এই চিকিৎসক।
আরও পড়ুন: ফখরুলের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আরেকটা ১/১১ সরকার গঠনের ইঙ্গিত: নাহিদ
তাকে আরও আগে বিদেশে নিয়ে আসা হলে হয়তো তিনি দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠতেন। চিকিৎসকরা বলছেন, আগে ব্যবস্থা নিলে ভিন্ন ফল পাওয়া যেত।
জাহিদ বলেন, লন্ডন ক্লিনিকের চিকিৎসক এবং জনস হপকিন্স বিশ্ববিদ্যালয়ের বিশেষজ্ঞরা ওষুধের মাধ্যমে তার চিকিৎসা চালিয়ে যাওয়ার বিষয়ে মূলত একমত হয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, কিছু পরীক্ষার ফলাফল এখনও পাওয়া যায়নি এবং কিছু নমুনা আরও বিশ্লেষণের জন্য প্রেরণ করা হয়েছে। ‘এসব ফলাফলের ওপর ভিত্তি করে তার ভবিষ্যতে চিকিৎসার বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে।’
তারেক রহমানের বাসায় অবস্থানকালে মেডিকেল বোর্ড তার স্বাস্থ্য নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ অব্যাহত রাখবে এবং প্রয়োজনীয় চিকিৎসা পরিকল্পনা সমন্বয় করবে।
তিনি বলেন, খালেদা জিয়ার সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমানসহ খালেদা জিয়া ও তার পরিবার।
আরও পড়ুন: স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও ফ্যাসিবাদ-সহযোগীর মিলনে গণতন্ত্র পরিপুষ্ট হবে না: দুদু
৫৫৬ দিন আগে
জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হলে ফিরে আসবে ফ্যাসিস্টরা: ডা. শফিকুর রহমান
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাংলাদেশের আমির ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, এমন কোনো কর্মকাণ্ড পরিচালনা করবেন না, যাতে আমাদের জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হয় এবং ফ্যাসিস্টরা ফিরে আসার সুযোগ পায়।
তিনি বলেন, ‘চাঁদাবাজি ও দখল বাণিজ্য বন্ধ করতে হবে। জাতীয় ঐক্য বিনষ্ট হলে পুনরায় ফিরে আসার সুযোগ পাবে ফ্যাসিস্টরা। জাতীয় ঐক্য অটুট রেখে মানবিক বাংলাদেশ গড়তে হবে।’
শুক্রবার (২৪ জানুয়ারি) সকালে কুড়িগ্রাম সরকারি কলেজ মাঠে জেলা জামায়াত আয়োজিত কর্মী সমাবেশে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
জামায়াত আমির বলেন, উন্নয়নের নামে আওয়ামী লীগ সরকার ২৬ লাখ কোটি টাকা পাচার করেছে। সেই ফ্যাসিস্টদের আশ্রয় আর বাংলার মাটিতে হবে না।
আরও পড়ুন: জাতিসংঘের নির্বাচনী চাহিদা মূল্যায়ন মিশনের সঙ্গে জামায়াতের বৈঠক
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের সংঘটিত সকল হত্যার বিচার চাই। মানবিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠা না হওয়া পর্যন্ত আমাদের এই যুদ্ধ চলবে।
তিনি আরও বলেন, ১৯৭২ সালের ১০ জানুয়ারি থেকে ২০২৫ সালের ২৪ জানুয়ারি পর্যন্ত দীর্ঘ ৫৩ বছরের প্রত্যেকটি খুন,গুম ও অপকর্মের বিচার বাংলার মাটিতে হবে। যারা বাংলাদেশের বিভিন্ন ধর্মের মানুষের ওপর জুলুম-অত্যাচার করেছে, জমি দখল করেছে, ভিটেমাটি থেকে উচ্ছেদ করেছে, অন্যায়ভাবে সম্পদ লুণ্ঠন করেছে,তাদের ইজ্জতে হাত দিয়েছে— সেসব দুষ্কৃতিকারীদের তালিকা তৈরি করে জনগণের সামনে প্রকাশ করার দাবি জানান তিনি।
সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম বলেন, সরকারি যেকোনো বাজেট বাস্তবায়নে অন্য কারো পকেটে যেন ৯০ ভাগ ঢুকে না যায়, সেদিকে খেয়াল রাখতে হবে। বাংলাদেশের সার্বভৌমত্বকে তারা নষ্টের মুখোমুখি করেছে। কুড়িগ্রামের ফেলানী আজ সারা বিশ্বের কাছে নন্দিত। সকল ক্ষেত্রে সকল শ্রেণীর মানুষকে ঐক্যবদ্ধ ভাবে এগিয়ে যেতে হবে।
জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আব্দুল মতিন ফারুকী'র সভাপতিত্বে কর্মী সমাবেশে বক্তব্য দেন -জামায়াতের সহকারী সেক্রেটারি জেনারেল আব্দুল হালিম, কেন্দ্রীয় কর্ম পরিষদ সদস্য ব্যারিস্টার সালেহীন ও অধ্যাপক আজিজুর রহমান স্বপন,কর্ম পরিষদ সদস্য অধ্যক্ষ মাওলানা মমতাজ উদ্দিন, অধ্যাপক মাহবুবুর রহমান বেলাল প্রমুখ।
আরও পড়ুন: ইসলামি দলগুলোর ঐক্য চান জামায়াত আমির ও চরমোনাই পীর
৫৫৬ দিন আগে
স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও ফ্যাসিবাদ-সহযোগীর মিলনে গণতন্ত্র পরিপুষ্ট হবে না: দুদু
স্বাধীনতাবিরোধী শক্তি ও ফ্যাসিবাদের সহযোগীর মিলনে গণতন্ত্র পরিপুষ্ট হবে না বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির ভাইস চেয়ারম্যান শামসুজ্জামান দুদু।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) সকালে ঠাকুরগাঁও জেলা বিএনপির আয়োজনে জেলা শিল্পকলা অডিটোরিয়ামে দলটির সাংগঠনিক সভায় উপস্থিত হয়ে এ মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াত-চরমোনাইয়ের একত্রিত হওয়ার বিষয়ে দুদু বলেন, রাজনৈতিক মেরুকরণ ও গণতন্ত্রের প্রশ্নে সবাই সবার অবস্থান থেকে আগামী নির্বাচনে (একে অপরের) মোকাবিলা করতে চাই। স্বাধীনতাবিরোধী রাজনৈতিক দল হিসেবে যারা সিল মারা, ’৭১ সালে পাকিস্তানের পক্ষে অবস্থান নিয়েছে এমন একটি দল, যারা গত ১৬ বছর শেখ হাসিনার অবৈধ নির্বাচনকে বৈধতা দিয়েছে এমন একটি রাজনৈতিক দলের মেরুকরণে গণতন্ত্র পরিপুষ্ট হবে না।’
সেনাবাহিনী-জামায়াতের দেশপ্রেম মন্তব্য প্রসঙ্গে শামসুজ্জামান দুদু বলেন, ’৭১ সালে পাকিস্তানি সেনাবাহিনী ও জামায়াত দেশপ্রেমিক বলেছিল। হঠাৎ করে এমন বক্তব্য সে কথা মনে করিয়ে দেয়। পাকিস্তনি ধারা থেকে তারা বেরিয়ে আসতে পেরেছে কি? এটি আগে পরিষ্কার করলে ভালো হতো।
আরও পড়ুন: ইসলামি দলগুলোর ঐক্য চান জামায়াত আমির ও চরমোনাই পীর
বিএনপি ভাইস চেয়ারম্যান বলেন, বিএনপি সবসময় নির্বাচনের জন্যে প্রস্তুত। আমরা ২০১৪ সাল থেকে একটি অংশগ্রহণমূলক নির্বাচনের জন্য কাজ করে আসছি। আমরা জনগণের ওপর নির্ভরশীল রাজনৈতিক দল। আমরা খুবই আশাবাদী, যেকোনো সময় নির্বাচন হলে বিএনপি ও জাতীয়বাদী শক্তি ভালো করবে।
সভায় জাতীয়তাবাদী দল বিএনপির রংপুর বিভাগের সাংগঠনিক সম্পাদক অধ্যক্ষ আসাদুল হাবিব দুলু, সহ-সাংগঠনিক সম্পাদক আব্দুল খালেক, আমিনুল ইসলাম, কেন্দ্রীয় বিএনপির সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক মির্জা ফয়সল আমীনসহ দলটির অঙ্গসংগঠনের নেতারা উপস্থিত ছিলেন।
৫৫৭ দিন আগে
ফখরুলের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি আরেকটা ১/১১ সরকার গঠনের ইঙ্গিত: নাহিদ
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মূলত আরেকটা ১/১১ সরকার গঠনের ইঙ্গিত বলে মন্তব্য করেছেন তথ্য ও সম্প্রচার উপদেষ্টা নাহিদ ইসলাম। এ ধরনের পরিকল্পনা গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থের বিরোধী—এমন পরিকল্পনা হলে বিন্দুমাত্র ছাড় দেওয়া হবে না বলেও জানান তিনি।
বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) এক ফেসবুক পোস্টে বৈষম্যবিরোধী আন্দোলনের এই নেতা বলেন, ‘বিএনপি মহাসচিবের নিরপেক্ষ সরকারের দাবি মূলত আরেকটা ১/১১ সরকার গঠনের ইঙ্গিত বহন করে। ১/১১ এর বন্দোবস্ত থেকেই আওয়ামী ফ্যাসিজমের উত্থান ঘটেছিল। বিএনপি মহাসচিবের বক্তব্যে সামনে আরেকটা ১/১১ সরকার, সংসদীয় সংখ্যাগরিষ্ঠতা ও নতজানু পররাষ্ট্রনীতির ধারাবাহিকতা এবং গুম-খুন ও জুলাই হত্যাকাণ্ডের বিচার না হওয়ার আলামত রয়েছে।’
এর আগে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক আলোচনায় ফখরুল বলেন, ‘কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে। যদি অন্তবর্তীকালীন সরকার পক্ষপাতমুক্ত থাকতে না পারে, তাহলে নির্বাচনের সময় একটি নিরপেক্ষ সরকার দরকার। আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বেশ কিছু বিষয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে পারছে না।’
আরও পড়ুন: অন্তর্বর্তী সরকারে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ফখরুলের
সেই প্রসঙ্গ টেনে নাহিদ বলেন, রাষ্ট্রপতির পরিবর্তন, সংস্কার, নতুন সংবিধান, জুলাই ঘোষণা—সব ইস্যুতেই বিএনপি বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছে। অথচ এগুলোর কোনোটিই ছাত্রদের দলীয় কোনো দাবি ছিল না। দেশের স্থিতিশীলতা, বৃহত্তর স্বার্থ ও জাতীয় ঐক্য ধরে রাখার জন্য ছাত্ররা বারবার তাদের অবস্থান থেকে সরে এসেছে। কিন্তু এর মানে এই না যে গণতন্ত্র ও অভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাবিরোধী কোনো পরিকল্পনা হলে সেখানে আমরা বিন্দু পরিমাণ ছাড় দেব।
তিনি বলেন, “আওয়ামী লীগ বিষয়ে ভারতের প্রধান দলগুলোর মধ্যে ঐক্য সম্ভব হয়েছে, অথচ বাংলাদেশে আওয়ামী লীগ বিষয়ে আমরা ঐক্য করতে পারিনি এত হত্যা ও অপরাধের পরেও। হায় এই ‘জাতীয় ঐক্য’ লইয়া আমরা কী রাষ্ট্র বানাব!”
“বাংলাদেশকে দুর্বল করা সহজ, কারণ বাংলাদেশকে সহজেই বিভাজিত করা যায়। এ দেশের বড় বড় লোকেরা অল্পমূল্যে বিক্রি হওয়ার জন্য প্রস্তুত থাকে।”
৫ আগস্ট থেকে ছাত্রদের ‘মাইনাস’ করার পরিকল্পনা
ছাত্র-জনতার অভ্যুত্থানের মুখে শেখ হাসিনা যেদিন ক্ষমতা ছেড়ে পালিয়ে যান, সেই ৫ আগস্ট থেকেই ছাত্র ও অভ্যুত্থানকারীদের মাইনাস করার পরিকল্পনা হয়েছে বলে দাবি করেছেন নাহিদ।
এ বিষয়ে তিনি বলেছেন, ‘ছাত্র ও অভ্যুত্থানের নেতৃত্বকে মাইনাস করার পরিকল্পনা ৫ আগস্ট থেকেই শুরু হয়েছে। ৫ আগস্ট যখন ছাত্র-জনতা রাজপথে লড়াই করছে, পুলিশের গুলি অব্যাহত রয়েছে, তখন আমাদের আপোষকামী অনেক জাতীয় নেতা ক্যান্টনমেন্টে জনগণকে বাদ দিয়ে নতুন সরকার করার পরিকল্পনায় ব্যস্ত ছিলেন (অনেকে ছাত্রদের কথাও বলেছেন সেখানে)।’
‘৩ আগস্ট থেকে বলে আসছি, আমরা কোনোপ্রকারের সেনাশাসন বা জরুরি অবস্থা মেনে নেব না। আমাদেরকে বারবার ক্যান্টেন্টমেন্টে যেতে বলা হলেও আমরা যেতে অস্বীকার করি। শেষ পর্যন্ত বঙ্গভবনে আলোচনা ও বার্গেনিংয়ের (তর্ক-বিতর্ক) মাধ্যমে ড. ইউনূসকে প্রধান করে অন্তর্বর্তী সরকার গঠনের সিদ্ধান্ত হয়।’
জুলাই আন্দোলনের এই নেতা বলেন, ‘আমরা চেয়েছিলাম ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলো ও নাগরিক সমাজের সমন্বয়ে একটা জাতীয় সরকার। জাতীয় সরকার হলে ছাত্রদের হয়তো সরকারে আসার প্রয়োজন হতো না। জাতীয় সরকার অনেকদিন স্থায়ী হবে—এই বিবেচনায় বিএনপি জাতীয় সরকারে রাজি হয়নি।’
‘কিন্তু অভ্যুত্থানের পরেই দেশে জাতীয় সরকারের প্রয়োজনীয়তা সবচেয়ে বেশি ছিল। অথচ বিএনপি জাতীয় সরকারের কথা বলতেছে সামনের নির্বাচনের পরে।’
নাহিদ বলেন, ‘ছাত্ররাই এই সরকারের এবং বিদ্যমান বাস্তবতার একমাত্র ফ্যাক্টর; যেটা ১/১১ এর সরকার থেকে বর্তমান সরকারকে সম্পূর্ণভাবে আলাদা করে। বিএনপি কয়েকদিন আগে মাইনাস টু-এর আলোচনা করলেও এখন ক্ষমতায় যাওয়ার পথ সুগম করার জন্য নিরপেক্ষ সরকারের নামে আরেকটি ১/১১ সরকারের প্রস্তাবনা করছে।’
‘এ ধরনের পরিকল্পনা গণতন্ত্র ও জাতীয় স্বার্থের বিরুদ্ধে যাবে এবং ছাত্র-জনতা কোনোভাবেই এটা মেনে নেবে না। এবং আমি মনে করি এটা বিএনপির বিরুদ্ধেও ষড়যন্ত্র।’
‘আর এই সরকার জাতীয় সরকার না হলেও সরকারে আন্দোলনের সব পক্ষেরই অংশীদারত্ব রয়েছে এবং সবপক্ষই নানা সুবিধা ভোগ করছে। সরকার গঠনের আগেই ৬ আগস্ট অ্যাটর্নি জেনারেল ও পুলিশের আগের আইজির নিয়োগ হয়েছিল, যারা মূলত বিএনপির লোক। এরকমভাবে সরকারের ওপর থেকে নিচ পর্যন্ত নানান স্তরে বিএনপিপন্থী লোকজন রয়েছে। নির্বাচনের নিরপেক্ষতার কথা বললে এই বাস্তবতাও মাথায় রাখতে হবে’, বলেন তথ্য উপদেষ্টা।
৫৫৭ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকারে নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন ফখরুলের
কোনো কোনো ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার নিরপেক্ষতা বজায় রাখতে ব্যর্থ হয়েছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। বৃহস্পতিবার (২৩ জানুয়ারি) রাজধানীর জাতীয় প্রেসক্লাবে শহীদ আসাদ পরিষদ আয়োজিত এক আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এমন মন্তব্য করেন।
ফখরুল বলেন, গতকাল এক সাক্ষাৎকারে আমি বলেছি— যদি অন্তবর্তীকালীন সরকার পক্ষপাতমুক্ত থাকতে না পারে, তাহলে নির্বাচনের সময় একটি নিরপেক্ষ সরকার দরকার। আমাদের পর্যবেক্ষণ বলছে, বেশ কিছু বিষয়ে অন্তবর্তীকালীন সরকার নিরপেক্ষতা ধরে রাখতে পারছে না।
এ সময়ে নিরপেক্ষতা বজায় রেখে দায়িত্ব পালন করে যেতে অন্তবর্তীকালীন সরকারের প্রতি আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। পাশাপাশি বর্তমানে দেশ যেসব সমস্যার মুখোমুখি; তা সমাধানেরও আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
ফখরুল আরও বলেন, ন্যূনতম প্রয়োজনীয় সংস্কার শেষে যত দ্রুত সম্ভব নির্বাচনের আয়োজন করা উচিত সরকারের। নির্বাচনের মাধ্যমে ক্ষমতায় আসা সরকারই জনআকাঙ্ক্ষা ও মানুষকে দেওয়া অঙ্গীকার পূরণ করতে সক্ষম হবে।
কেবল ক্ষমতায় যাওয়ার জন্যই বিএনপি নির্বাচনের দাবি করছে না বলে জানান তিনি। বিএনপির এই নেতা বলেন, যদি নির্বাচন আয়োজনে অযাচিত সময়ক্ষেপণ করা হয়, তাহলে অশুভ শক্তি সেই সুযোগ কাজে লাগাতে পারে বলে আশঙ্কা করছি। তবে এখনই না, ন্যূনতম সংস্কারের পরেই নির্বাচন চাচ্ছি।
পাশাপাশি নির্বাচনের ক্ষেত্রে সব রাজনৈতিক দলকে ঐকমত্য হওয়ার আহ্বান জানান বিএনপি মহাসচিব। তিনি বলেন, এটা গণতান্ত্রিক ব্যবস্থার প্রবেশপথ।
‘সংস্কারের পরেই নির্বাচন হওয়া দরকার বলে মনে করে জনগণ। কিন্তু আমরা কী চার-পাঁচ বছর কিংবা সংস্কার না হওয়া পর্যন্ত নির্বাচনের জন্য অপেক্ষা করব? নির্বাচন এমন দেরিতে হলে লোকজন ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত হবে,’ বলেন ফখরুল।
৫৫৭ দিন আগে
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়া সংস্কারের সুযোগ নেই: খসরু
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য আমীর খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সংসদ ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া ছাড়া প্রশাসন সংস্কার বা পরিবর্তনের কোনো সুযোগ নেই।
তিনি বলেন, ‘জনগণের কাছে জবাবদিহি না থাকায় দেশে একটি শয়তান, ফ্যাসিবাদী ও স্বৈরাচারের আবির্ভাব ঘটেছিল। জনগণকে ভোটাধিকার থেকে বঞ্চিত করে তারা (আওয়ামী লীগ) দেশের মালিকানা কেড়ে নিয়েছিল।’
বুধবার (২২ জানুয়ারি) জাতীয় প্রেসক্লাবে বাংলাদেশের গণতন্ত্র ও উন্নয়নে বিএনপির বৈদেশিক শাখার ভূমিকা শীর্ষক এই আলোচনা সভার আয়োজন করেন বিএনপির যুক্তরাষ্ট্র শাখার নেতারা।
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য খসরু বলেন, দেশের মালিকানা পুনরুদ্ধার করতে হলে সবার আগে জনগণের ভোটাধিকার নিশ্চিত করতে হবে।
তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে কেবল একটি নির্বাচিত সরকার ও সংসদই দেশে যেকোনো পরিবর্তন আনতে পারে।
গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে পাশ কাটিয়ে কোনো পরিবর্তন আনা বা সংস্কার বাস্তবায়নের সুযোগ নেই। বিএনপির এই নেতা বলেন, ‘গণতন্ত্র একটি সংশোধন ও বিশুদ্ধকরণ প্রক্রিয়া।’
তিনি বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া কোনো সংস্কার প্রস্তাব বাস্তবায়নের অধিকার কারও নেই। ‘আপারা যদি মনে করেন, আপনারা কোনো বিশেষ পরিবর্তন আনতে আগ্রহী— তবে আপনাদেরকে এটি করার জন্য জনগণের কাছ থেকে ম্যান্ডেট নিতে হবে। সেখানে আলাপ-আলোচনা ও বিতর্কের মাধ্যমে প্রস্তাবটি সংসদে উত্থাপন করতে হবে। এটাই একটা প্রক্রিয়া এবং এটা করা ছাড়া আর কোনো উপায় নেই।’
আরও পড়ুন: সবসময় কেন নির্বাচনের কথা বলেন, জানালেন ফখরুল
বিএনপির এই নেতা বলেন, জনগণের ম্যান্ডেট ছাড়া একসঙ্গে বসে ২০ জন জ্ঞানী ব্যক্তি বাংলাদেশের ভবিষ্যৎ ভাগ্য নির্ধারণ করতে পারেন না।
গণতন্ত্র ও গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে করা কোনো পদক্ষেপ দেশের জনগণ মেনে নেবে না উল্লেখ করে তিনি হুঁশিয়ারি উচ্চারণ করে বলেন, গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়াকে উপেক্ষা করে যেকোনো পদক্ষেপ জনগণের মনে সন্দেহের সৃষ্টি করবে।
বিএনপির এই নেতা বলেন, গণতান্ত্রিক শৃঙ্খলা পুনরুদ্ধার ছাড়া দেশে স্বাভাবিক অবস্থা নিশ্চিত করা কঠিন হবে।
তিনি বলেন, দেশে স্বাভাবিক অবস্থা ফিরিয়ে আনতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারকে সমর্থন ও সহযোগিতা করছে তার দল।
খসরু বলেন, প্রধানমন্ত্রী, দ্বিকক্ষবিশিষ্ট পার্লামেন্ট ও তত্ত্বাবধায়ক সরকারসহ কয়েকটি বিষয়ে এরই মধ্যে ঐকমত্য তৈরি হয়েছে। ‘যেসব মৌলিক বিষয়ের ওপর ঐকমত্য তৈরি হয়েছে, সেগুলো আমরা বাস্তবায়ন করতে পারি। ঐকমত্য ছাড়া কারও কিছু করার অধিকার নেই।’
তিনি বলেন, জনগণের ইচ্ছার বিরুদ্ধে কোনো অগণতান্ত্রিক পদক্ষেপ নেওয়া হলে তা দেশকে ভুল পথে নিয়ে যাবে এবং আওয়ামী ফ্যাসিবাদের ফিরে আসার পথ প্রশস্ত করবে।
আরও পড়ুন: এ বছরই নির্বাচন চাচ্ছে বিএনপি-খেলাফত মজলিস
৫৫৮ দিন আগে
এ বছরই নির্বাচন চাচ্ছে বিএনপি-খেলাফত মজলিস
২০২৫ সালের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান এবং পতিত ফ্যাসিস্টদের পুনরুত্থান ঠেকাতে জাতীয় ঐক্য জোরদার করাসহ সাতটি বিষয়ে একমত হয়েছে বিএনপি ও খেলাফত মজলিস।
বুধবার (২২ জানুয়ারি) গুলশানের বিএনপি চেয়ারপারসনের রাজনৈতিক কার্যালয়ে এক বৈঠকের পর দল দুটির যৌথ সংবাদ ব্রিফিংয়ে এই সিদ্ধান্তের কথা জানান তারা।
বিএনপির সঙ্গে বৈঠক শেষে খেলাফত মজলিসের মহাসচিব আহমেদ আবদুল কাদের বলেন, ‘আন্দোলনে অংশ নেওয়া রাজনৈতিক দলগুলোর নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে সব মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহারসহ সাত দফায় আমরা একমত হয়েছি। এর আলোকে আমরা কাজ করব, বিশেষ করে ইসলামী দলগুলোর মধ্যে ঐক্য অর্জন ও সবাইকে নিয়ে জাতীয় ঐক্য গঠনে।’
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা আবদুল বাছিত আজাদের নেতৃত্বে ৯ সদস্যের প্রতিনিধি দলটি বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর ও স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানের সঙ্গে ঘণ্টাব্যাপী বৈঠক করেন।
আবদুল কাদের বলেন, জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের সাফল্য ধরে রাখতে তারা জাতীয় ঐক্য বজায় রাখার দিকে মনোনিবেশ করেছেন।
তিনি বলেন, কিছু রাজনৈতিক দলের বক্তব্য ও কর্মকাণ্ড আমরা প্রত্যক্ষ করছি, যা জাতীয় ঐক্যের চেতনার পরিপন্থী।
আরও পড়ুন: নির্বাচন নিয়ে ধানাই-পানাই শোনার জন্য আন্দোলন করিনি: মিন্টু
তিনি বলেন, ‘আমাদের অবস্থান ঐক্যের পক্ষে, বিভাজনের পক্ষে নয়। জাতির স্বার্থে এখনই ঐক্যবদ্ধ হওয়া জরুরি। এজন্য আমরা বিএনপির সঙ্গে সংলাপ করতে এসেছি। বিভিন্ন বিষয়ে আমরা তাদের সঙ্গে একমত হয়েছি।’
কাদের বলেন, বিএনপির সঙ্গে যেসব বিষয়ে তারা সমঝোতায় পৌঁছেছেন তার মধ্যে রয়েছে— ফ্যাসিবাদবিরোধী রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐক্য গড়ে তোলা, জাতীয় ঐক্য সুসংহত করতে আন্তঃদলীয় সংলাপ চালিয়ে যাওয়া, প্রয়োজনীয় সংস্কার দ্রুত শেষ করা এবং ২০২৫ সালের মধ্যে জাতীয় নির্বাচন অনুষ্ঠান।
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নে পদক্ষেপ নেওয়া, ইসলামী মূল্যবোধ সমুন্নত রাখা ও ধর্মীয় সম্প্রীতি রক্ষায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখা, পতিত স্বৈরাচারী ও ফ্যাসিবাদীদের পুনরুত্থান রোধে জাতীয় ঐক্য বজায় রাখা, হত্যা, গুম ও নির্যাতনে জড়িতদের দ্রুত বিচার নিশ্চিত করা এবং আওয়ামী সরকারের আমলে ওলামা ও রাজনৈতিক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে দায়ের করা মিথ্যা মামলা দ্রুত প্রত্যাহার করা।
বিএনপি নেতৃত্বাধীন ২০ দলীয় জোটের অন্যতম শরিক খেলাফত মজলিস ২০২১ সালে তৎকালীন আওয়ামী লীগ সরকারের চাপে বিএনপি জোট থেকে বেরিয়ে যায়।
জোট ছাড়ার পর দলটির এটিই প্রথম বিএনপির সঙ্গে আনুষ্ঠানিক বৈঠক।
দেশ, ইসলাম ও মানবতার স্বার্থে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার ঘোষণা দেওয়ার একদিন পর বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হলো।
আরও পড়ুন: দ্রুত নির্বাচন দিতে অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রতি বিএনপির আহ্বান
বরিশালের চরমোনাই দরবার শরীফে জামায়াতের আমির ডা. শফিকুর রহমান ও ইসলামী আন্দোলনের আমির সৈয়দ মো. রেজাউল করিমের ঘোষণা নতুন রাজনৈতিক মেরুকরণের ইঙ্গিত দেয়।
তবে বিএনপির স্থায়ী কমিটির এক সদস্য বলেন, জামায়াত ও আইএবির ঐক্য নিয়ে উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই।
খেলাফত মজলিসের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের তিনি বলেন, 'উদ্বিগ্ন হওয়ার কিছু নেই। বাংলাদেশে যারাই রাজনীতি করছেন, একই মতাবলম্বী তারা একসঙ্গে... কাজ করার কথা ভাবতে পারেন। এ নিয়ে কারও উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই।’
নজরুল ইসলাম বলেন, এক সময় এক দল আরেক দলের বিরোধিতা ও সমালোচনা করলেও পরে আন্দোলনের সময় তারা ঐক্যবদ্ধ হয়ে যায়। ‘এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়... এর আগেও বহুবার এমন হয়েছে যে, যারা একসময় একমত হয়েছিলেন তারা পরে দ্বিমত পোষণ করেছেন।’
তিনি বলেন, এতে অবাক হওয়ার বা বেশি উদ্বিগ্ন হওয়ার কোনো কারণ নেই। কারণ তিনি বিশ্বাস করেন রাজনৈতিক দলগুলো তাদের রাজনৈতিক বিশ্বাস অনুযায়ী কাজ করবে।
নজরুল ইসলাম খান বলেন, বিএনপির ভারপ্রাপ্ত চেয়ারম্যান তারেক রহমান ইতোমধ্যে ঘোষণা দিয়েছেন যে, তাদের দল সরকার গঠন করলে আওয়ামী ফ্যাসিবাদী সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলনকারী দলগুলোকে সঙ্গে নিয়ে জনগণের কল্যাণে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করবেন।
তিনি বলেন, তারা খেলাফত মজলিস নেতাদের সঙ্গে বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক ও রাজনৈতিক পরিস্থিতি এবং জনগণের আশা-আকাঙ্ক্ষা পূরণের উপায় নিয়ে আলোচনা করেছেন।
বিএনপির এই নেতা বলেন, 'আমরা যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা করেছি সেগুলো নিয়ে আমাদের মধ্যে কোনো দ্বিমত নেই।’
আরও পড়ুন: সবসময় কেন নির্বাচনের কথা বলেন, জানালেন ফখরুল
৫৫৮ দিন আগে
সবসময় কেন নির্বাচনের কথা বলেন, জানালেন ফখরুল
প্রয়োজনীয় সংস্কার সম্পন্ন করে ফের দ্রুত নির্বাচনের দাবি জানিয়েছেন বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর। পাশাপাশি, কেন তিনিসহ বিএনপি নেতারা সব সময় নির্বাচনের কথা বলেন, তার ব্যাখ্যাও দিয়েছেন এই রাজনীতিক।
মির্জা ফখরুলের মতে, বর্তমান সমস্যাগুলো সমাধানে অন্তর্বর্তী সরকারের আত্মবিশ্বাস কম। তাই নির্বাচিত সরকার দরকার। কারণ, তারা জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বসবে, তাদের আত্মবিশ্বাস থাকবে। ফলে বিদ্যমান সমস্যাগুলোর সমাধান সহজ হবে।
মঙ্গলবার (২১ জানুয়ারি) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৮৯তম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে জিয়া স্মৃতি পাঠাগার আয়োজিত ‘গ্রন্থ আড্ডা’ শীর্ষক অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।
বিএনপি মহাসচিব বলেন, ‘আমাকে অনেকে ভুল বোঝে যে, আপনি এত নির্বাচন নির্বাচন করেন কেন! বিশেষ করে ছাত্ররা তো বলেই।’
‘নির্বাচন তাড়াতাড়ি করার কথা এ জন্যই বলি যে নির্বাচন হয়ে গেলে সমস্যাগুলো চলে যাবে। একটা নির্বাচিত সরকার জনগণের ম্যান্ডেট নিয়ে বসবে, তাদের মধ্যে সেই আত্মবিশ্বাসটা থাকবে। এখন ওদের (অন্তর্বর্তী সরকার) মধ্যে তো সেই কনফিডেন্সটা নাই। জনগণের ভাষাটা তো বুঝতে হবে!’
আরও পড়ুন: সংস্কার ও নির্বাচনের মধ্যে কোনো বিরোধ নেই: ফখরুল
দ্রুত নির্বাচন চাইলেও এখনই তা চান—বিষয়টি এমন নয় বলেও জানান তিনি, ‘এখনই করে ফেলতে হবে তা বলছি না। ন্যূনতম যে সংস্কারটা প্রয়োজন, সেটা করে নির্বাচন করলে সমস্যা অনেকটা সমাধান হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি জানি না, আমার বিশ্বাস ভুল কি না—যেকোনো নির্বাচিত সরকার কিন্তু একটা অনির্বাচিত সরকারের চেয়ে ভালো। আমি যেতে পারি, কথা বলতে পারি—এখন সেই অবস্থাটা নেই।’
মির্জা ফখরুল বলেন, ‘আজ একটা ভালো কিছু করার সম্ভাবনা, সুযোগ তৈরি হয়েছে। সংস্কারের প্রস্তাব আসতে শুরু করেছে। আমার বিশ্বাস, প্রধান উপদেষ্টা শিগগির সমাধানের দিকে আসবেন, আলোচনা হবে। ঐকমত্যের ভিত্তিতে আমরা একটা জায়গায় পৌঁছাব।’
‘এখনই নির্বাচন চাচ্ছি না, ন্যূনতম সংস্কার শেষে নির্বাচন চাই। আমরা সব সময় নির্বাচনের কথা বলি, কারণ অনির্বাচিত সরকারের চেয়ে নির্বাচিত সরকারের গ্রহণযোগ্যতা বেশি।’
বিরাজমান পরিস্থিতিতে সবাইকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে এই বিএনপি নেতা বলেন, ‘এই মুহূর্তে আমরা সব পাল্টে দেব, এই মুহূর্তে সব দখল করব—এটা হয় না। আমাদের ধাপে ধাপে যেতে হবে। আমাদের এখানে যে অস্থিরতা বিরাজ করছে, এই অস্থিরতাকে যদি আমরা নিয়ন্ত্রণ করতে চাই, আমাদের ধৈর্য ধরে পা ফেলতে হবে।’
‘এমন কিছু আমরা করব না যাতে নৈরাজ্য সৃষ্টি হয়, কোনো বিপদ আমরা যেন না ডেকে আনি—এই বিষয়গুলো আমাদের মনে রাখতে হবে বলে আমি মনে করি।’
আরও পড়ুন: কিছু মানুষ ঐক্যে ফাটল ধরানোর চেষ্টা করছে: মির্জা ফখরুল
তিনি আরও বলেন, ‘একটা কথাই শুধু বলতে চাই, কখনও ধৈর্য হারাবেন না, আশা হারাবেন না। আমাদের প্রত্যাশা অনেক, কিন্তু ধৈর্য একেবারেই কম। এই তো মাত্র কয়েক মাস হয়েছে। এর মধ্যেই অনেকে পাগল হয়ে গেছে।’
‘এ সরকার অনেক ভুলত্রুটি করছে। ভুল তো করবেই। তারা তো আর সরকারে ছিল না। তারা তো রাজনীতি করেনি, রাজনীতি বোঝেও না। তাদের তো সেই সময়টুকু দিতে হবে!’
তিনি বলেন, আওয়ামী লীগ আমলে তো কেউ একটা কথা বলারও সুযোগ পায়নি, সাহসও কেউ পায়নি। আর এখন যেহেতু একটা অবস্থা তৈরি হয়েছে, সবাই ঝাঁপিয়ে পড়ছে।
সরকারের সমালোচনা প্রসঙ্গে বিএনপি মহাসচিব বলেন, এটাতে লাভটা কার? এটাতে এই দেশের, এই সমাজের, এই মানুষের কোনো লাভ হবে না।
জিয়া স্মৃতি পাঠাগাররের কেন্দ্রীয় কমিটির সভাপতি আবদুস সালামের সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক মো. জহির দিপ্তীর সঞ্চালনায় এ সময় আরও বক্তব্য রাখেন শিক্ষাবিদ অধ্যাপক মাহবুব উল্লাহ, পলিসি গবেষক মাহাদী আমিন, উন্মুক্ত বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য অধ্যাপক এবিএম ওবায়দুল ইসলাম, শিক্ষানুরাগী আফরোজা খানম রীতা, সাংবাদিক আমিরুল ইসলাম কাগজী, শিক্ষক নেতা জাকির হোসেন প্রমুখ।
৫৫৯ দিন আগে