রাজনীতি
সংরক্ষিত নারী আসনের ভোট ১২ মে
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনে ভোটের তফসিল আগামী ৮ এপ্রিল ঘোষণা করবে নির্বাচন কমিশন আর নির্বাচনের ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
রবিবার (৬ এপ্রিল) রাজধানীর আগারগাঁওয়ের নির্বাচন ভবনের সভাকক্ষে একাদশ কমিশন সভা শেষে এসব কথা বলেন নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার আহমেদ। প্রধান নির্বাচন কমিশনার এ এম এম নাসিরুদ্দিনের সভাপতিত্বে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
ইসি সচিব বলেন, ‘৮ এপ্রিল তফসিল ঘোষণা করা হবে। ভোট হবে ১২ মে। রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়া, বাছাই এবং প্রত্যাহারের শেষ সময় তফসিল ঘোষণার সময় জানিয়ে দেওয়া হবে।’
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে সংসদে নারী আসন বণ্টন করা হয়। সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যরা সংরক্ষিত আসনের সংসদ সদস্য নির্বাচনে ভোট দিয়ে থাকেন।
গত ১২ ফেব্রুয়ারি ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ৩০০ আসনের মধ্যে ২৯৯ আসনে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হয়। শেরপুর-৩ আসনে একজন বৈধ প্রার্থী মারা যাওয়া ভোট স্থগিত করা হয়েছিল। এছাড়া বগুড়া-৬ আসন তারেক রহমান ছেড়ে দেওয়ায় সেখানে উপনির্বাচন হবে। এ ছাড়াও চট্টগ্রাম-২ ও ৪ আসনে আইনি জটিলতায় থাকায় ফল প্রকাশ করেনি নির্বাচন কমিশন। আগামী ৯ এপ্রিল শেরপুর-৩ ও বগুড়া-৬ আসনের নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনে বিএনপি আসন পেয়েছে ২০৯টি। এছাড়া দলটির শরিক গণঅধিকার পরিষদ, বাংলাদেশ জাতীয় পার্টি (বিজেপি) ও গণসংহতি আন্দোলন একটি করে আসন পেয়েছে।
অপরদিকে, ৬৮টি আসনে জয়ী হয়ে জামায়াতে ইসলামী বসেছে বিরোধী দলে। ভোটে তাদের জোটের শরিক এনসিপি ছয়টি, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিস দুটি ও খেলাফত মজলিস পেয়েছে একটি আসন।
দুই জোটের বাইরে ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ আসন পেয়েছে একটি। বাকি ৭ আসনে স্বতন্ত্র প্রার্থীরা জয়ী হয়েছেন।
ভোটের পরদিন (১৩ ফেব্রুয়ারি) নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের গেজেট প্রকাশ করে নির্বাচন কমিশন। গেজেট প্রকাশের ৯০ দিনের মধ্যে সংরক্ষিত মহিলা আসনের ভোটগ্রহণের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
বিদ্যমান আইন অনুযায়ী, ভোটে জয়ী দলগুলোর আসন সংখ্যার অনুপাতে সংসদে নারী আসন বণ্টন করা হয়। সংসদের সাধারণ আসনে নির্বাচিত সংসদ সদস্যদের ভোটার তালিকা চূড়ান্ত করা হয়েছে। সংসদে প্রনিধিত্বকারী দল ও স্বতন্ত্র প্রার্থীদের জোট করার বিষয়ে চিঠি দেওয়া হয়েছে। দল ও জোটগতভাবে সংরক্ষিত আসনসংখ্যা চূড়ান্ত করার পর তফসিল হবে।
প্রাথমিক বন্টন অনুযায়ী, বিএনপি জোট ৩৬, জামায়াত জোট ১৩ ও স্বতন্ত্র জোট ১ টি আসনে পেতে পারে।
১১৯ দিন আগে
সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা ৩২ বছর করে সংসদে বিল পাস
সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত ও সংবিধিবদ্ধ সংস্থায় সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর নির্ধারণ করে একটি বিল পাস হয়েছে।
রবিবার (৫ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে এ প্রস্তাবটি বিল আকারে পাস হয়। এটি বাংলাদেশের ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের পাস হওয়া প্রথম বিল।
‘সরকারি, স্বায়ত্তশাসিত, সংবিধিবদ্ধ সরকারি কর্তৃপক্ষ, পাবলিক নন-ফাইন্যানসিয়াল করপোরেশনসহ স্বশাসিত সংস্থাসমূহে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা নির্ধারণ বিল, ২০২৬’ শীর্ষক এই বিলটি সংসদে উত্থাপন করেন জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী। পরে কণ্ঠভোটে বিলটি পাস হয়।
বিলের প্রস্তাবে উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরিতে প্রবেশের বয়সসীমা বৃদ্ধির দাবি এবং বিষয়টির প্রয়োজনীয়তা বিবেচনা করে সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে বর্তমান বয়সসীমা দুই বছর বাড়িয়ে ৩২ বছর করা হয়েছে।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়, অপরিবর্তিত উচ্চতর বয়সসীমায় যেসব পদের নিয়োগ বিধিমালায় বয়সসীমা ইতোপূর্বে ৩২ বছরের বেশি (যেমন: ৩৫, ৪০ বা ৪৫ বছর) নির্ধারিত আছে, সেক্ষেত্রে আগের উচ্চতর বয়সসীমাটিই বহাল থাকবে। অর্থাৎ, এই আইনের ফলে কারও সুযোগ কমবে না।
প্রস্তাবে আরও উল্লেখ করা হয়, সরকারি চাকরিতে সরাসরি নিয়োগের বয়সসীমা বাড়ানোর ফলে চাকরিপ্রার্থীদের সুযোগ বৃদ্ধি পাবে, শিক্ষিত বেকার যুবকদের দেশ গড়ার কাজে সম্পৃক্ত হওয়ার পথ সুগম হবে এবং সর্বোপরি দেশের বেকার সমস্যার সমাধান হবে। বয়সসীমা বৃদ্ধির এই সিদ্ধান্ত শ্রমবাজার এবং অর্থনীতিতে ইতিবাচক প্রভাব ফেলবে।
জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী জানান, একটি সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠান হিসেবে বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন (বিপিএসসি) ইতোমধ্যে বিসিএসের সরাসরি নিয়োগের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ বয়সসীমা ৩২ বছর রেখে সার্কুলার জারি করেছে এবং নিয়োগ প্রক্রিয়া চলমান রয়েছে। তাই উক্ত অধ্যাদেশটিকে আইনে পরিণত করা প্রয়োজন।
১২০ দিন আগে
গণসংহতি আন্দোলনের প্রধান সমন্বয়কারীর পদ ছাড়লেন জোনায়েদ সাকি
গণসংহতি আন্দোলনের ‘প্রধান সমন্বয়কারী’র পদ থেকে সরে দাঁড়িয়েছেন পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী জোনায়েদ আব্দুর রহিম সাকি।
শনিবার (৪ এপ্রিল) দলটির নেতারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
রাজধানীর হাতিরপুলে অবস্থিত দলটির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে দুপুর ১২টার দিকে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে নির্বাহী সমন্বয়ক আবুল হাসান রুবেল জানান, দেওয়ান আব্দুর রশীদ নীলুকে দলের ভারপ্রাপ্ত প্রধান সমন্বয়ক করা হয়েছে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, দলের বিশেষ সাংগঠনিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত না হওয়া পর্যন্ত নীলু এ দায়িত্ব পালন করবেন।
১২১ দিন আগে
মির্জা আব্বাসকে কেবিনে স্থানান্তর
বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা মির্জা আব্বাসকে কেবিনে স্থানান্তর করা হয়েছে। সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নিউরোসার্জিক্যাল ইনটেনসিভ কেয়ার ইউনিটে ১৯ দিন চিকিৎসকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে থাকার পর কেবিনে স্থানান্তর করা হয় তাকে।
শুক্রবার (৩ এপ্রিল) বিএনপির স্বাস্থ্যবিষয়ক সম্পাদক ডা. রফিকুল ইসলাম এ তথ্য জানিয়েছেন।
তিনি জানান, মির্জা আব্বাসের শারীরিক অবস্থা কিছুটা উন্নতির দিকে। আজ সকালে আমি ভাবির (মির্জা আব্বাসের স্ত্রী আফরোজা আব্বাস) সঙ্গে কথা বলেছি। ধীরে ধীরে উনার অবস্থার উন্নতি হচ্ছে। আজই তাকে আইসিইউ থেকে কেবিনে নেওয়া হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, কেবিনেই চিকিৎসকরা উনাকে উন্নত ফিজিওথেরাপি দেবেন। যেহেতু ব্রেইনের জটিল অস্ত্রোপচার হয়েছে, সেজন্য চিকিৎকদের নিবিড় পর্যবেক্ষণে উনার চিকিৎসা চলছে, চালিয়ে যেতে হবে। পুরোপুরি সুস্থতার জন্য দেশবাসীর কাছে দোয়া চেয়েছেন মির্জা আব্বাসের পরিবারের সদস্যরা।
গত ১৫ মার্চ ঢাকা থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
এর আগে, ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অচেতন হয়ে পড়লে মির্জা আব্বাসকে ঢাকার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার চিকিৎসার জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় নিউরোলজিস্টদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়। তাদের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী তখন তার মস্তিষ্কে জরুরি অস্ত্রোপচার করা হয়।
পরবর্তীতে উন্নত চিকিৎসার জন্য অস্ত্রোপচারের ৭২ ঘণ্টার মধ্যে গত ১৫ মার্চ তাকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে নেওয়া হয়।
১২২ দিন আগে
বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পাল্টাপাল্টি বক্তব্যে উত্তপ্ত সংসদ
জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদের মধ্যে উত্তপ্ত বাক্যবিনিময় ও পাল্টাপাল্টি বক্তব্যের ঘটনা ঘটেছে।
এ সময় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে ‘সত্যকে মিথ্যা বানাতে দক্ষ’ বলে কটাক্ষ করেছেন বিরোধীদলীয় নেতা। অন্যদিকে ‘মিথ্যা’ শব্দটিকে অসংসদীয় আখ্যা দিয়ে সংসদের কার্যবিবরণী থেকে তা বাদ দেওয়ার দাবি জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
বৃহস্পতিবার (২ এপ্রিল) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের সপ্তম দিনে পয়েন্ট অব অর্ডারে দাঁড়িয়ে বিরোধীদলীয় নেতা ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এ পাল্টাপাল্টি বক্তব্য দেন।
অধিবেশনে সভাপতিত্বে করেন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বীরবিক্রম।
ডা. শফিকুর রহমান বলেন, ‘সবচেয়ে বড় সমস্যা হচ্ছে আমরা কালকে চলে যাওয়ার পরে আমাকে ভালোবেসে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী একটা কথা বলেছেন। তিনি বলেছেন যে আমি একটি অসত্য কথা এখানে বলে গেছি। আমি এটা জানতে পারলাম।
তিনি ব্যঙ্গ করে বলেন, আসলে আল্লাহ তা’আলা তাকে অপূর্ব দক্ষতা দিয়েছেন। জাস্ট বোতল পরিবর্তন করে মেটেরিয়াল ঠিক রেখে তিনি সত্যকে মিথ্যা এবং মিথ্যাকে সত্য হিসেবে চমৎকারভাবে পরিবেশন করতে পারেন। এ জন্য তাকে ধন্যবাদ জানানোর জন্যই আমি আজ দাঁড়িয়েছি।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ এ সময় হস্তক্ষেপ করে উল্লেখ করেন যে, পয়েন্ট অব অর্ডার বর্তমান বিষয় নিয়ে হওয়া উচিত, অতীতের কার্যবিবরণী নিয়ে নয়। তিনি বলেন, এই বিষয়টি গতকালই মীমাংসা হয়ে গেছে। এটি নতুন করে তোলার প্রয়োজন নেই।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জবাব না দেওয়ার পরামর্শ দিয়ে আরও বলেন, বিরোধীদলীয় নেতা যদি গতকাল সংসদে উপস্থিত থাকতেন, তবে তখনই তাকে উত্তর দেওয়ার সুযোগ দেওয়া হতো।
তবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমেদ ফ্লোর নিয়ে ডা. রহমানের শব্দচয়নের প্রতিবাদ জানান। তিনি বলেন, এই মুহূর্তে বিরোধীদলীয় নেতা দুটি অসংসদীয় শব্দ ব্যবহার করেছেন। সেটা হচ্ছে ‘মিথ্যা’। এটা অসত্য বললে আমি আপত্তি করতাম না। আমি অনুরোধ করব, এটি এক্সপাঞ্জ করা হোক।
মন্ত্রী তার আগের দিনের অবস্থানের পক্ষে যুক্তি দিয়ে বলেন, দ্বিতীয় কথা হচ্ছে, তার কালকের বক্তব্যের পরিপ্রেক্ষিতে আমি বলেছিলাম বিরোধীদলীয় নেতা এখানে একটা অসত্য বক্তব্য উপস্থাপন করেছেন। রুল ৬২ অনুসারে বিরোধীদলীয় নেতাদের ওয়াকআউট করার অনেক পরে একজন বেসরকারি সদস্যের মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করা হয়েছিল। সেটি আগে পঠিত বা উত্থাপিত হওয়া অসম্ভব। তাই আমি বলেছিলাম ওনার গতকালের বক্তব্য অসত্য ছিল।
জবাবে ডা. রহমান যুক্তি দেখান, বিভ্রান্তিটা এখানে। একই প্রস্তাব একজন স্বতন্ত্র সদস্য এনেছিলেন, যা গতকাল ভিন্ন নামে এসেছে। বিষয়বস্তু একই ছিল কিন্তু শুধু নাম বদলে গেছে। আমি আগেরটি জানতাম বলেই বলেছি, এখানে কোনও ভুল তথ্য দেইনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ‘মিথ্যা’ শব্দটি বাদ দেওয়ার আনুষ্ঠানিক অনুরোধ জানালেও স্পিকার তাৎক্ষণিক কোনো রুলিং দেননি। বাংলাদেশের সংসদীয় রীতি অনুযায়ী ‘মিথ্যা’ শব্দের পরিবর্তে সাধারণত ‘অসত্য’ শব্দটি ব্যবহৃত হয়।
এই উত্তেজনা মূলত গত ২৯ মার্চের একটি ঘটনা থেকে শুরু হয়। তখন বিরোধীদলীয় নেতা সংবিধান সংস্কার কাউন্সিলের বৈঠক নিয়ে একটি মুলতবি প্রস্তাব উত্থাপন করেন। পরবর্তীতে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য শেখ মুজিবুর রহমান ইকবাল ‘জুলাই জাতীয় সনদ’ বাস্তবায়নের বিষয়ে আরেকটি প্রস্তাব আনেন। সেই প্রস্তাবগুলো যখন মুলতবি ছিল, তখন গতকাল (বুধবার) সরকারি দলের সংসদ সদস্য জয়নুল আবদিন ফারুকের একই সনদ বাস্তবায়নের নতুন একটি মুলতবি প্রস্তাব গ্রহণ করেন স্পিকার।
বিরোধী দল গত বুধবার সংসদ থেকে ওয়াকআউট করে অভিযোগ করেছিল যে, সরকারের অনুকূলে তাদের মূল প্রস্তাবগুলো চেপে রাখা হচ্ছে। নতুন গৃহীত প্রস্তাবের ওপর আগামী রবিবার আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
১২৩ দিন আগে
সংবিধান সংশোধনে শিগগিরই বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন: চিফ হুইপ
সংবিধান সংশোধনের প্রক্রিয়া সহজতর করতে শিগগিরই একটি বিশেষ সংসদীয় কমিটি গঠন করা হবে বলে জানিয়েছেন চিফ হুইপ নূরুল ইসলাম মনি।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ ভবনে সংসদ কমিটির বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
চিফ হুইপ বলেন, ‘সংবিধান সংশোধনের জন্য একটা কমিটি হবে। সেখানে সব দলের প্রতিনিধি রাখতে চাই আনুপাতিক হারে। স্বতন্ত্র থেকেও আমরা রাখতে চাই। সকলের মতামত নিয়ে সংবিধান সংশোধনের জন্য একটি কমিটি অচিরেই করব। আগামী রবিবারের মধ্যে আপনারা দেখবেন হয়তো… খুব শিগগিরই এটা করব।’
কমিটির সদস্য নিয়ে করা এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘এটা একটা উদ্ভূত পরিস্থিতি। এখানে সরকারি দলের যারা আইন বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদের রাখতে চাই। বিরোধী দলের যারা আইন বিশেষজ্ঞ আছেন, তাদেরও রাখতে চাই। আইন বিশেষজ্ঞ না থাকলে অন্যান্য দলের প্রতিনিধিও রাখতে চাই। সবমিলিয়ে ২০ বা ১৮ বা ১৫ সদস্যের কমিটি করতে চাই। তবে এটা নির্দিষ্ট নয়।’
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংশোধনকে এমন পর্যায়ে নিতে চাই, যাতে বারবার আমাদের কাঁচি চালাতে না হয়।
বিশেষ কমিটিতে বিরোধী দলের কেউ না থাকার প্রতিক্রিয়ায় নূরুল ইসলাম মনি বলেন, ‘তাদের এ অবস্থান সঠিক হবে না। আজ হোক বা কাল, সংবিধান সংশোধন আমাদের করতেই হবে। সংবিধান সংশোধন কমিটিতে তাদের আমরা চাই। এক হাতে যেমন হ্যান্ডশেক হয় না, কাঁচির একটা অংশ দিয়ে যেমন চুল কাটা যাবে না, দুটোই লাগবে; আমরা সেটাই চাই উনারা থাকুক। তারা কমিটিতে থাকবেন বলে আমরা আশা করি।’
তিনি আরও বলেন, সংবিধান সংস্কার এখন সময়ের দাবি। সংবিধান সংশোধন করা ছাড়া আমাদের আর কোনো পথ নেই।
জাতীয় জুলাই সনদের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, জুলাই সনদ অনুযায়ী এটা করা উচিত। এটা আমরা দেশের জন্যই করব। এতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বা আমার কোনো বিশেষ সুবিধা হবে? উনার বিশেষ কোনো ক্ষতি হবে? যেটা দেশের জনগণের কল্যাণে হবে, তাতে দ্বিমত করার কিছু আছে বলে মনে করি না।
এদিকে, সংসদ সচিবালয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সংসদ অধিবেশন কক্ষের আধুনিকায়নে বৈঠকের বিভিন্ন সুপারিশের কথা জানানো হয়েছে। কমিটি এক সেকেন্ড বা তার কম সময়ে শব্দ শোষণ করতে সক্ষম এমন ‘ইকো-ফ্রি’ সাউন্ড সিস্টেম স্থাপনের সুপারিশ করেছে। এছাড়া অধিবেশন কক্ষে ধীরগতির ইন্টারনেট সমস্যার সমাধান এবং সংসদ এলাকায় নিরবচ্ছিন্ন সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিত করার সুপারিশও করা হয়েছে।
চিফ হুইপ নুরুল ইসলামের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত এ বৈঠকে অংশ নেন মিয়া নুরুদ্দিন আহাম্মেদ অপু, মোহাম্মদ কয়ছর আহমেদ, মো. শহিদুল ইসলাম, নায়াব ইউসুফ আহমেদ, এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন, অলি উল্লাহ, সাইফুল আলম মিলন এবং আবুল হাসনাত।
১২৪ দিন আগে
বিদেশে পাচার হওয়া অর্থ উদ্ধার সরকারের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার: প্রধানমন্ত্রী
বাংলাদেশ থেকে বিদেশে পাচার করা অর্থ উদ্ধারে বর্তমান সরকার কার্যকর পদক্ষেপ গ্রহণ করবে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। তিনি বলেন, উদ্ধারকৃত অর্থ দেশ ও জনগণের কল্যাণে ব্যয় করা হবে।
বুধবার (১ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. আবুল কালামের (কুমিল্লা-৯) এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার দুর্নীতি, মানিলন্ডারিং এবং আর্থিক অপরাধ দমনে বৃহত্তর কৌশলের গুরুত্বপূর্ণ অংশ হিসেবে বিদেশে পাচার করা সম্পদ পুনরুদ্ধার কার্যক্রমকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দিয়ে কাজ করছে।
তিনি বলেন, আপনারা নিশ্চিত থাকতে পারেন, ইনশাআল্লাহ জনগণের টাকা ফিরিয়ে আনতে এই সরকার যে পথ বা পদক্ষেপই কার্যকর হোক না কেন, সেটিই গ্রহণ করবে।
তিনি আরও বলেন, পাচার হওয়া টাকা জনগণের সম্পদ। জনগণের ভোটে নির্বাচিত এ সরকারের দায়িত্ব রয়েছে দেশ ও জনগণের প্রতি। তাই জনগণের টাকা উদ্ধার করে তা পুনরায় জনগণের স্বার্থে এবং দেশের উন্নয়নে ব্যয় করা এই সরকারের অন্যতম প্রধান দায়িত্ব।
তারেক রহমান বলেন, ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকেই সরকার দুর্নীতির টুঁটি চেপে ধরে এবং বিভিন্ন খাতের ছিদ্রগুলো বন্ধ করে করদাতার অর্থের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত করার চেষ্টা করছে।
অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় তৈরি করা শ্বেতপত্রের তথ্য উল্লেখ করে তিনি জানান, ২০০৯ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে বাংলাদেশ থেকে ২৩৪ বিলিয়ন ডলার পাচার হয়েছে, যা গড়ে প্রতি বছর প্রায় ১৬ বিলিয়ন ডলার (প্রায় ১ লাখ ৮০ হাজার কোটি টাকা)।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, যেহেতু এই অর্থ একাধিক দেশে পাচার করা হয়েছে, তাই তথ্য আদান-প্রদান, সম্পদ শনাক্তকরণ এবং পারস্পরিক আইনি সহায়তার মাধ্যমে সংশ্লিষ্ট দেশগুলোর সঙ্গে সহযোগিতা জোরদার করা হচ্ছে। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি (এমএলএটি) সই এবং অনুরোধ বিনিময়ের প্রক্রিয়া সহজতর করতে কাজ করছে।
প্রাথমিকভাবে পাচারকৃত অর্থের সম্ভাব্য গন্তব্য হিসেবে ১০টি দেশকে চিহ্নিত করা হয়েছে। সেগুলো হলো: যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, কানাডা, সুইজারল্যান্ড, অস্ট্রেলিয়া, থাইল্যান্ড, সংযুক্ত আরব আমিরাত, সিঙ্গাপুর, মালয়েশিয়া এবং হংকং (চীন)। এর মধ্যে মালয়েশিয়া, হংকং এবং সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে ‘পারস্পরিক আইনগত সহায়তা চুক্তি’ সইয়ের বিষয়ে সম্মতি মিলেছে। অপর সাতটি দেশের সঙ্গে চুক্তি সইয়ের বিষয়টি প্রক্রিয়াধীন। এ লক্ষ্যে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সংশ্লিষ্ট সব মন্ত্রণালয় ও সংস্থার সঙ্গে নিবিড়ভাবে কাজ করছে।
পাচারকারীদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণ প্রসঙ্গে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ইতোমধ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরের সভাপতিত্বে একটি আন্তঃসংস্থা টাস্কফোর্স গঠন করা হয়েছে। এই টাস্কফোর্সের চিহ্নিত ও অগ্রাধিকারপ্রাপ্ত ১১টি মামলায় পাচার হওয়া অর্থ পুনরুদ্ধারের আইনি প্রক্রিয়া চলমান। মামলাগুলোর অনুসন্ধান ও তদন্তের জন্য দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) নেতৃত্বে এবং পুলিশের সিআইডি, এনবিআরের সেন্ট্রাল ইন্টেলিজেন্স সেল ও শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তরের সমন্বয়ে ১১টি যৌথ অনুসন্ধান ও তদন্ত দল গঠন করা হয়।
সম্পদ জব্দের পরিসংখ্যান তুলে ধরে তারেক রহমান বলেন, আদালত দেশে মোট ৫৭ হাজার ১৬৮ কোটি ৯ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করেছে। অপরদিকে, আদালতের নির্দেশে বিদেশে মোট ১৩ হাজার ২৭৮ কোটি ১৩ লাখ টাকার স্থাবর ও অস্থাবর সম্পদ জব্দ ও অবরুদ্ধ করা হয়। সব মিলিয়ে দেশে-বিদেশে সর্বমোট প্রায় ৭০ হাজার ৪৪৬ কোটি ২২ লাখ টাকার সম্পদ সংযুক্ত ও অবরুদ্ধ করা হয়েছে।
মামলার হালনাগাদ তথ্য জানিয়ে সংসদ নেতা বলেন, পাচার করা অর্থ পুনরুদ্ধারের লক্ষ্যে ইতোমধ্যে ১৪১টি মামলা করা হয়েছে। এর মধ্যে ১৫টি মামলার চার্জশিট দাখিল করা হয়েছে এবং ছয়টি মামলার রায় দেওয়া হয়েছে।
অর্থ পাচারকারীদের তালিকা প্রস্তুতসহ শাস্তির আওতায় আনা হবে কিনা—জামায়াতের সদস্য মুজিবুর রহমানের এমন সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, এই অন্যায়ের সঙ্গে জড়িতদের তালিকার দায়িত্ব প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের নয়। এর জন্য সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ আছে; তারা এটি করছে।
তিনি বলেন, অতীতে সরকারের বিভিন্ন ব্যক্তিরা তাদের ইচ্ছা ও আগ্রহের কারণে আইনকানুন, নীতি-নৈতিকতার তোয়াক্কা না করে যাকে যেভাবে পেরেছে, উঠিয়ে নিয়ে গেছে; যার কাছ থেকে যেরকম দরকার মনে হয়েছে, জোর করে লিখিয়ে নিয়ে গেছে। বর্তমান সরকার আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল থেকে দেশের প্রচলিত আইনের ভিত্তিতে বিচার করতে চায় যাতে কোনো মানুষ ন্যায্য আইন থেকে বঞ্চিত হতে না পারে। এজন্য আইনগতভাবে সকল প্রক্রিয়া গ্রহণ করা হবে। আইন তার নিজস্ব গতিতে এগিয়ে যাবে। যারা এ দেশের অর্থ বিদেশে পাচার করেছে, প্রচলিত আইনে নির্ধারিত হবে তাদের শাস্তি।
১২৪ দিন আগে
উপনির্বাচন: ৯ এপ্রিল বগুড়া ও শেরপুরের ২ আসনে সাধারণ ছুটি
বগুড়া ও শেরপুরের দুটি শূন্য আসনে উপনির্বাচন উপলক্ষে সংশ্লিষ্ট এলাকায় আগামী ৯ এপ্রিল (বৃহস্পতিবার) সাধারণ ছুটি ঘোষণা করেছে সরকার।
বুধবার (১ এপ্রিল) এ বিষয়ে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, অ্যালোকেশন অব বিজনেস অ্যামাং দ্য মিনিস্ট্রিজ অ্যান্ড ডিভিশনস (রুলস অফ বিজনেস ১৯৯৬)-এ দেওয়া ক্ষমতাবলে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। বাংলাদেশ নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ের চাহিদার ভিত্তিতে এ ছুটি ঘোষণা করা হয়।
প্রজ্ঞাপনে বলা হয়, জাতীয় সংসদের ৪১ (বগুড়া-৬) ও ১৪৫ (শেরপুর-৩) শূন্য আসনে ভোটগ্রহণের দিন সংশ্লিষ্ট নির্বাচনি এলাকায় এ সাধারণ ছুটি কার্যকর থাকবে।
১২৪ দিন আগে
জুলাইযোদ্ধাদের সুরক্ষা দিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
জুলাই জাতীয় সনদে বর্ণিত রূপরেখা অনুযায়ী জুলাই গণঅভ্যুত্থানে অংশগ্রহণকারীদের আইনি ও সাংবিধানিক সুরক্ষা দিতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
সোমবার (৩০ মার্চ) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে সংসদ সদস্য আখতার হোসেন ও জয়নুল আবদিন ফারুকের সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে এসব কথা জানান তিনি।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, জুলাইযোদ্ধাদের আইনি এবং সাংবিধানিক সুরক্ষায় জুলাই জাতীয় সনদে অঙ্গীকারবদ্ধ হয়েছি। অন্তর্বর্তী সরকারের ‘জুলাইযোদ্ধা সুরক্ষা অধ্যাদেশ’ জারি করা হয়েছে। এটি সংসদে উপস্থাপন করা হয়েছে। অধ্যাদেশটি বিল আকারে পাস করাতে আমরা একমত হয়েছি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে চলমান বিভিন্ন সমালোচনার জবাবে মন্ত্রী বলেন, আওয়ামী ফ্যাসিবাদি গোষ্ঠী সোশ্যাল মিডিয়ায় যে সমস্ত হত্যাকাণ্ডের বিচারের দাবি করছে, সেই বিষয়ে আগেও বলেছি, তাহলে তো মুক্তিযোদ্ধাদেরও বিচার করা হবে, যারা ১৯৭১ সালে হানাদার বাহিনীর বিরুদ্ধে যুদ্ধ করেছিল। গণঅভ্যুত্থানের সময় যারা হানাদার বাহিনীর মতো আন্দোলনকারীদের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে গণহত্যা চালিয়েছে, তারা জনতার প্রতিরোধের মুখে কেউ কেউ প্রাণ হারিয়েছে, কেউ আহত হয়েছে, কিন্তু সেটা যুদ্ধের ময়দানে ফয়সালা হয়ে গেছে।
সালাউদ্দিন আহমদ বলেন, জুলাই অভ্যুত্থানে ছাত্র-জনতার প্রতিরোধে কেউ হতাহত হয়ে থাকলে এর বিচার হবে না। তবে জুলাইয়ে ছাত্র-জনতার ওপর হত্যাযজ্ঞের বিচার হবে ঘোষণা করে তিনি বলেন, পুলিশের বিভিন্ন হত্যাকাণ্ড সম্পর্কে নির্দিষ্ট মামলা করা হয়েছে। কিছু মামলা আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালে এবং কিছু সাধারণ আদালতে রয়েছে। শেখ হাসিনার বিরুদ্ধে এবং তার সহযোগী সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীসহ কয়েকজনের বিরুদ্ধে কয়েকটি মামলার রায় হয়েছে।
আদালত স্বাধীনভাবে বিচার পরিচালনা করবে। সরকার হম্তক্ষেপ করবে না। এদেশে সকল গুম, খুন, হত্যাকাণ্ড এবং গণহত্যার বিচার হবেই বলে জানান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী।
১২৬ দিন আগে
অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে ঐক্যের আহ্বান প্রধানমন্ত্রীর
অন্তর্ভুক্তিমূলক ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে দেশবাসীকে ঐক্যবদ্ধ হয়ে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
শুক্রবার (২৭ মার্চ) বিকেলে রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে মহান স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষে বিএনপির আলোচনা সভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এ আহ্বান জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, এবারের স্বাধীনতা দিবসের অঙ্গীকার হোক, সমাজের কেবল একটি অংশ নয়, বরং আমরা সবাই মিলে যেন ভালো থাকতে পারি। আমরা সবাই মিলে ভালো থাকার চেষ্টা করব এবং ইনশাআল্লাহ আমরা তা সফল করব।
তিনি বলেন, বর্তমান গণতান্ত্রিক সরকার জনগণের দ্বারা গঠিত এবং এটি জনগণেরই সরকার। জনগণের আকাঙ্ক্ষা বিশাল হলেও দেশের সম্পদ সীমিত, ফলে জাতির প্রত্যাশা ও প্রাপ্তির মধ্যে একটি ব্যবধান রয়ে গেছে।
তারেক রহমান বলেন, একজন নাগরিক এবং রাজনৈতিক কর্মী হিসেবে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, আমরা যদি ঐক্যবদ্ধভাবে এগিয়ে যাই এবং দেশের জন্য একযোগে কাজ করি, তবে অবশ্যই আমরা আমাদের কাঙ্ক্ষিত স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়তে সক্ষম হব। এই মহান স্বাধীনতা দিবসে আমি দেশের সকল গণতন্ত্রকামী মানুষ এবং আমার রাজনৈতিক সহকর্মীদের প্রতি এই বার্তাই পৌঁছে দিতে চাই।
লক্ষ্য অর্জনে সরকারের নেওয়া বিভিন্ন পদক্ষেপের কথা উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, সমাজের বিভিন্ন স্তরের মানুষের কল্যাণে সরকার ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড এবং খাল খনন কর্মসূচির মতো নানাবিধ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। মানুষের জীবনযাত্রার মানোন্নয়নে ইতোমধ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং সেগুলোর বাস্তবায়নও শুরু হয়েছে।
বিকেল ৩টায় পবিত্র কুরআন তেলাওয়াতের মাধ্যমে আলোচনা সভাটি শুরু হয়। প্রধানমন্ত্রী বিকেল ৩টা ৫৭ মিনিটে অনুষ্ঠানস্থলে পৌঁছান। বিএনপি মহাসচিব এবং স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বক্তব্য রাখেন দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, ড. আব্দুল মঈন খান, নজরুল ইসলাম খান, আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী এবং সালাহউদ্দিন আহমদ।
১২৯ দিন আগে