রাজনীতি
পদত্যাগের ঘোষণা মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রী ইশরাকের
মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক প্রতিমন্ত্রীর পদ থেকে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ইশরাক হোসেন।
সোমবার (১৯ অক্টোবর) দুপুরে জাতীয় প্রেসক্লাবে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ ঘোষণা দেন ঢাকা-৬ আসনের বিএনপির এই সংসদ সদস্য।
মাদকবিরোধী অভিযানে তাকে আগ্নেয়াস্ত্র হাতে দেখা যাওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ভাইরাল হওয়ার দুই দিন পর তিনি এ সিদ্ধান্ত জানালেন।
ইশরাক হোসেনের ভেরিফায়েড ফেসবুক পেজে শনিবার বিকেলে অভিযানটির একটি ভিডিও প্রকাশ করা হয়, যা দেশজুড়ে বিতর্কের জন্ম দেয়।
ভিডিওতে দেখা যায়, রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় রেললাইনের পাশে মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে হাতে মাইক ও পিস্তল নিয়ে গাড়ি থেকে নামছেন ইশরাক। এরপর একদল লোককে ধাওয়া করেন তিনি। একপর্যায়ে কয়েকজনের দিকে অস্ত্র তাক করে তাকে ‘এই ধর ধর ধর...’ বলে চিৎকার করতে দেখা যায়।
পরদিন দেওয়া এক বিবৃতিতে ইশরাক বলেন, রাজধানীর গেন্ডারিয়া এলাকায় শনিবার মাদকবিরোধী অভিযান চলাকালে সম্ভাব্য নিরাপত্তাঝুঁকির বিষয়ে সতর্কবার্তা পাওয়ার পর আত্মরক্ষার্থে তিনি অল্প সময়ের জন্য নিজের বৈধ আগ্নেয়াস্ত্রটি উঁচু করেছিলেন।
ইশরাকের ভাষ্য, তাদের গাড়িবহর সন্দেহভাজন একটি মাদক বিক্রির আস্তানার কাছে পৌঁছালে ৩০ থেকে ৩৫ জনের একটি দল আক্রমণাত্মকভাবে এগিয়ে আসে। এ সময় তিনি ও তার নিরাপত্তাকর্মীরা গাড়ি থেকে নেমে অল্প সময়ের জন্য অস্ত্র উঁচু করেন।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, হামলার আশঙ্কায় আত্মরক্ষার জন্য খুব অল্প সময়ের জন্য অস্ত্রটি উঁচু করা হয়েছিল। সম্ভাব্য হুমকি কেটে যাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই অস্ত্রটি সরিয়ে রাখা হয় বলেও জানান তিনি।
ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের (ডিবি) অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার মো. শফিকুল ইসলাম রবিবার জানান, ভাইরাল ভিডিওটি পর্যালোচনা করে ঢাকা মহানগর পুলিশ (ডিএমপি) প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবে।
২০২৬ সালের জাতীয় সংসদ নির্বাচনে ঢাকা-৬ আসন থেকে বিএনপির প্রার্থী হিসেবে ৭৮ হাজার ৮৫০ ভোট পেয়ে নির্বাচিত হন ইশরাক। এরপর ১৭ ফেব্রুয়ারি তিনি মুক্তিযুদ্ধবিষয়ক মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব নেন।
৯ দিন আগে
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচন: ২ প্রার্থীসহ চারজনকে শোকজ
ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে দুই প্রার্থী, একজন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা ও সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের একজন সহকারী শিক্ষককে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দিয়েছে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
শনিবার (১৭ অক্টোবর) কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঠাকুরগাঁওয়ের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সাদিয়া আফসানা রিমা এবং সিভিল জজ মো. তোসিকুল আলম স্বাক্ষরিত নোটিশ থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
নোটিশ পাওয়া প্রার্থীরা হলেন বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের মির্জা ফয়সল আমীন ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী মনোনীত ১১ দলীয় জোটের দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের মো. দেলাওয়ার হোসেন।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজু আলী ও আরাজী দক্ষিণ বঠিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জুলফিকার রহমানকেও শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
নোটিশ অনুযায়ী, এ পর্যন্ত কমিটির কাছে আটটি লিখিত অভিযোগ জমা পড়েছে। এর মধ্যে তিনজন লিখিত জবাব দিয়েছেন। অন্যদিকে মো. দেলাওয়ার হোসেনকে আগামী ১৯ অক্টোবর লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এতে আরও বলা হয়েছে, দেলাওয়ার হোসেন ও তার সমর্থক নেতাকর্মীদের বিরুদ্ধে ঠাকুরগাঁও-১ আসনের ধর্মপ্রাণ ভোটারদের উসকানি দিয়ে বিভ্রান্ত করা এবং সাধারণ ভোটারদের প্রভাবিত করার উদ্দেশ্যে পরিকল্পিতভাবে মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয় ব্যবহারের অভিযোগ আনা হয়েছে। এর মাধ্যমে সুষ্ঠু নির্বাচনকে বিতর্কিত করার চেষ্টা করা হচ্ছে বলেও অভিযোগে উল্লেখ করা হয়।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে জমা দেওয়া ভিডিও পর্যালোচনা করে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ১৫(খ) বিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
এ অবস্থায় নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের দায়ে তার বিরুদ্ধে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ নির্বাচন কমিশনে প্রতিবেদন পাঠানো হবে না কেন, সে বিষয়ে আগামী ১৯ অক্টোবর সকাল ১১টায় ঠাকুরগাঁও জেলা ও দায়রা জজ আদালতে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়েছে।
এ অভিযোগের বাদী হিসেবে নোটিশে মো. পয়গাম আলীর নাম উল্লেখ করা হয়েছে। তিনি ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপি মনোনীত ধানের শীষ প্রতীকের প্রার্থীর নির্বাচনি এজেন্ট।
এর আগে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থী দেলাওয়ার হোসেনের নির্বাচনি গণসংযোগে বাধা ও তাকে হেনস্তার চেষ্টার অভিযোগে বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনকে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেয় নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটি।
নোটিশে বলা হয়, গত ১৩ অক্টোবর রাত আনুমানিক ৮টার দিকে ঠাকুরগাঁও পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ডের হাজীপাড়া মসজিদে এশার নামাজ আদায় শেষে সড়কে গণসংযোগ করছিলেন দেলাওয়ার হোসেন। এ সময় ফয়সল আমীনের সমর্থক যুবদল নেতা মানিক, জেলা ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আল-আমিন ও আলমগীরের নেতৃত্বে ১৫ থেকে ২০ জন অস্ত্রধারী বলপ্রয়োগ করে তার গণসংযোগে বাধা দেন এবং তাকে আক্রমণ ও হেনস্তার চেষ্টা করেন বলে অভিযোগে উল্লেখ করা হয়েছে।
এ ঘটনায় দেলাওয়ার হোসেনের পক্ষে তার নির্বাচনি এজেন্ট মোহাম্মদ আলমগীর নির্বাচন কমিশনে লিখিত অভিযোগ করেন। অভিযোগে নির্বাচনে সবার জন্য সমান সুযোগ বা লেভেল প্লেয়িং ফিল্ড নিশ্চিত করার দাবি জানানো হয়।
নোটিশে বলা হয়, প্রাথমিক অনুসন্ধানে প্রতিদ্বন্দ্বী প্রার্থীর গণসংযোগে সমর্থকদের মাধ্যমে বলপ্রয়োগ করে বাধা দেওয়ার বিষয়টি সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ১৫(ঘ) বিধান লঙ্ঘন করেছে বলে প্রতীয়মান হয়েছে। বিধিমালার ৬৪(৪) অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ অনুসন্ধান শেষে আইনি ব্যবস্থা নেওয়ার সুপারিশসহ প্রতিবেদন নির্বাচন কমিশনে পাঠানো হবে না কেন, সে বিষয়ে ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
শনিবার ফয়সল আমীনের পক্ষে তার প্রতিনিধি অ্যাডভোকেট মো. এনতাজুল হক নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির প্রধান এবং ঠাকুরগাঁওয়ের যুগ্ম জেলা ও দায়রা জজ সাদিয়া আফসানা রিমার আদালতে লিখিত জবাব দেন।
জবাবে ফয়সল আমীনের পক্ষ থেকে অভিযোগ অস্বীকার করে বলা হয়, অভিযোগটি সম্পূর্ণ মিথ্যা, ভিত্তিহীন, বানোয়াট ও অসৎ উদ্দেশ্যপ্রণোদিত। আসন্ন নির্বাচনে ফয়সল আমীনের সম্ভাব্য বিজয় বাধাগ্রস্ত করা এবং নির্বাচনের পরিবেশ নষ্ট করে নির্বাচনকে প্রশ্নবিদ্ধ করার উদ্দেশ্যে এ অভিযোগ করা হয়েছে বলেও দাবি করা হয়।
অভিযোগে উল্লিখিত দিন, তারিখ ও সময়ে তার কোনো সমর্থক বা নেতাকর্মী এ ধরনের ঘটনার সঙ্গে জড়িত ছিলেন না বলেও লিখিত জবাবে উল্লেখ করা হয়েছে।
অন্যদিকে নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে আরাজী দক্ষিণ বঠিনা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের সহকারী শিক্ষক মো. জুলফিকার রহমানকেও কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর ঠাকুরগাঁও পৌর যুব বিভাগের সভাপতি মো. রাজিউর রহমানের করা অভিযোগে বলা হয়, জুলফিকার রহমান ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে বিএনপির প্রার্থীর পক্ষে প্রচারণায় অংশ নিয়েছেন।
অভিযোগ অনুযায়ী, রুহিয়া উপজেলার সেনুয়া ইউনিয়নে বিএনপি প্রার্থীর নির্বাচনি কার্যালয় উদ্বোধনের সময় তিনি বক্তব্য দেন। এছাড়া বিভিন্ন নির্বাচনি কর্মসূচিতেও বক্তব্য দিয়েছেন তিনি। এসব বক্তব্যের ভিডিও মোবাইল ফোনে ধারণ করে নিজের ফেসবুক আইডিতেও প্রকাশ করেন তিনি।
অভিযোগের পরিপ্রেক্ষিতে সংসদ নির্বাচনে রাজনৈতিক দল ও প্রার্থীর আচরণ বিধিমালা, ২০২৫-এর ২১(ক) ও ২১(খ) বিধান লঙ্ঘনের বিষয়টি প্রাথমিকভাবে প্রতীয়মান হয়েছে বলে নোটিশে উল্লেখ করা হয়।
গত ১৫ অক্টোবর তাকে নির্বাচনি অনুসন্ধান ও বিচারিক কমিটির দায়িত্বপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ঠাকুরগাঁওয়ের সিভিল জজ মো. তোসিকুল আলমের আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
জুলফিকার রহমানের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের বিষয়ে তার লিখিত জবাব দেওয়ার তথ্য পাওয়া গেছে। তবে জবাবের বিষয়ে বিস্তারিত জানা যায়নি।
এছাড়া ঠাকুরগাঁও সদর উপজেলার উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা মো. রাজু আলীর বিরুদ্ধেও নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে।
গত ১১ অক্টোবর তার বিরুদ্ধে নোটিশ দেওয়া হয়। পরে ১৩ অক্টোবর সাদিয়া আফসানা রিমার আদালতে সশরীরে উপস্থিত হয়ে লিখিত ব্যাখ্যা দিতে বলা হয়।
লিখিত জবাবে রাজু আলী অভিযোগ অস্বীকার করেন। তার দাবি, মো. আলমগীর নামে দাঁড়িপাল্লা প্রতীকের একজন আসন পরিচালকের করা অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা। তিনি ও আরও ৩৮ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তা গত ৫ অক্টোবর রাত ৮টার দিকে কোথাও একত্র হননি এবং বিএনপির প্রার্থী মির্জা ফয়সল আমীনের সঙ্গে গোপন বৈঠকও করেননি।
জবাবে তিনি আরও বলেন, জাতীয়তাবাদী ডিপ্লোমা কৃষিবিদ সংগঠনের সভাপতি হওয়ার যে অভিযোগ তার বিরুদ্ধে আনা হয়েছে, সে নামে কোনো সংগঠন নেই। তিনি বা অন্য ৩৮ জন উপ-সহকারী কৃষি কর্মকর্তার কেউই ২০২৫ সালের নির্বাচনি আচরণবিধিমালার ২১(ক) ধারা লঙ্ঘন করেননি।
অভিযোগকারী তাদের কোথায় একত্র হওয়ার কথা বলেছেন, তা সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ করেননি দাবি করে রাজু আলী অভিযোগ থেকে অব্যাহতি চান।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে রিটার্নিং কর্মকর্তা মো. কামরুল ইসলাম বলেন, নির্বাচনি আচরণবিধি লঙ্ঘনের অভিযোগগুলো গুরুত্বের সঙ্গে দেখা হচ্ছে। অভিযোগের বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের কারণ দর্শানোর নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের লিখিত জবাব ও প্রাপ্ত তথ্য-প্রমাণ পর্যালোচনা করে বিধি অনুযায়ী পরবর্তী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
আসনটিতে মোট ভোটার ৫ লাখ ১৬ হাজার ১৩৮ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ২ লাখ ৫০ হাজার ৫৩ জন, নারী ভোটার ২ লাখ ৫৬ হাজার ৫৭২ জন ও তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার চারজন।
মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর রাষ্ট্রপতি নির্বাচিত হওয়ার পর আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়। আগামী ২৯ অক্টোবর এ আসনে উপনির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে।
১০ দিন আগে
৯ নভেম্বর বসছে ত্রয়োদশ সংসদের চতুর্থ অধিবেশন
আগামী ৯ নভেম্বর ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের চতুর্থ অধিবেশন শুরু হবে।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ওই দিন বিকেল সাড়ে ৩টায় রাজধানীর সংসদ ভবনে অধিবেশন শুরু হবে। রাষ্ট্রপতি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন।
বাংলাদেশের সংবিধানের ৭২ অনুচ্ছেদের (১) দফায় প্রদত্ত ক্ষমতাবলে রাষ্ট্রপতি এ অধিবেশন আহ্বান করেছেন বলে সংসদ বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
গত ১০ সেপ্টেম্বর মাত্র ৯টি বৈঠকের পর তৃতীয় অধিবেশন শেষ হয়। ৬০ দিনের বিরতি দিয়ে আবারও অধিবেশনে বসছে ত্রয়োদশ সংসদ।
এর আগে গত ১৫ জুলাই ২৭ কার্যদিবস শেষে দ্বিতীয় অধিবেশনের সমাপ্তি হয়, যা বাজেট অধিবেশন হিসেবেও পরিচিত। ওই অধিবেশনে ২০২৬-২৭ অর্থবছরের জন্য ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেট পাস করে সংসদ। বর্তমান বিএনপি সরকারের অধীনে এটিই ছিল প্রথম বাজেট।
১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় নির্বাচনের পর ১২ মার্চ ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়, যা ২৫টি বৈঠকের পর ৩০ এপ্রিল শেষ হয়।
ওই অধিবেশনে সংসদে ৯৪টি বিল পাস হয়, যার মধ্যে অন্তর্বর্তী সরকারের জারি করা অধ্যাদেশের বিপরীতে আনা ৯১টি বিলও ছিল। এছাড়া কয়েকটি সংসদীয় কমিটিও গঠন করা হয়।
১৪ দিন আগে
ঠাকুরগাঁও-১ উপনির্বাচনে সেনা মোতায়েনের প্রয়োজন নেই: ইসি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের ঠাকুরগাঁও-১ আসনের উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না বলে জানিয়েছেন নির্বাচন কমিশনার (ইসি) ব্রিগেডিয়ার জেনারেল (অব.) আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) সকাল ১০টায় জেলা প্রশাসক কার্যালয়ের সভাকক্ষে উপনির্বাচন উপলক্ষে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী সেল, ভিজিল্যান্স ও অবজারভেশন টিম এবং সংশ্লিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের এ কথা বলেন তিনি।
নির্বাচন কমিশনার বলেন, সংসদ নির্বাচনের তুলনায় এখানে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর তিনগুণ সদস্য মোতায়েন করা হয়েছে। এছাড়া এখন পর্যন্ত নির্বাচনের পরিবেশ সুন্দর রয়েছে।
ইসি সানাউল্লাহ বলেন, ভোটকেন্দ্রে সিসিটিভি ক্যামেরাসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর পর্যাপ্ত সদস্য থাকবে। তাই এই উপনির্বাচনে সেনাবাহিনী মোতায়েনের প্রয়োজন হবে না বলে মনে করে কমিশন।
সভায় সুষ্ঠু, অবাধ ও নিরপেক্ষ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি নেওয়ার নির্দেশ দেন কমিশনার।
পাশাপাশি নির্বাচনি আচরণবিধি মেনে চলা, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখা এবং ভোটাররা যাতে নির্বিঘ্নে ভোট দিতে পারেন, সে বিষয়ে গুরুত্বারোপ করেন তিনি।
ঠাকুরগাঁওয়ের জেলা প্রশাসক মোহাম্মদ রফিকুল ইসলামের সভাপতিত্বে মতবিনিময় সভায় ইসি সচিবালয়ের সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
সভায় উপনির্বাচনকে কেন্দ্র করে সার্বিক নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যালোচনা করা হয়। একই সঙ্গে নির্বাচনি পরিবেশ বজায় রাখা এবং দায়িত্ব পালনকারী বিভিন্ন সংস্থার মধ্যে সমন্বয় বাড়ানোর বিষয়ে আলোচনা হয়।
১৪ দিন আগে
ভারত থেকে দেশ অস্থিতিশীলের চেষ্টা করছে ফ্যাসিবাদীর দোসররা: রিজভী
সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে ভারতে অবস্থানরত ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসররা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে বলে অভিযোগ করেছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
বুধবার (১৪ অক্টোবর) বেলা ১১টার দিকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের পক্ষ থেকে ফরিদপুরের চরভদ্রাসন উপজেলার গাজিরটেক এলাকায় লকাই বিশ্বাসের জন্য নবনির্মিত বাড়ির চাবি হস্তান্তর অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে রিজভী এ অভিযোগ করেন।
‘আমরা বিএনপি পরিবারে’র উদ্যোগে আয়োজিত এ কর্মসূচিতে লকাই বিশ্বাসকে চিকিৎসা সহায়তা, নারীদের কর্মসংস্থানের জন্য সেলাই মেশিন বিতরণ ও অসহায়দের নগদ আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধির বিষয়ে রিজভী বলেন, বিশ্ববাজারে যুদ্ধের প্রভাবে জ্বালানি তেলের দাম বেড়েছে। এ পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার জ্বালানি তেলের দাম সমন্বয় করতে বাধ্য হয়েছে।
তিনি অভিযোগ করেন, সরকারকে বেকায়দায় ফেলতে একটি মহল দেশজুড়ে অস্থিরতা সৃষ্টির অপচেষ্টা চালাচ্ছে। ভারতে অবস্থানরত ফ্যাসিবাদী শক্তির দোসররা দেশে অস্থিতিশীলতা তৈরির চেষ্টা করছে।
এ সময় দলের সর্বস্তরের নেতাকর্মীদের ঐক্যবদ্ধ থাকার আহ্বান জানান বিএনপি নেতা।
বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব আরও বলেন, বিগত ফ্যাসিস্ট সরকারের নেতাকর্মীরা ব্যাংক লুটের অর্থ বিদেশে নিয়ে বিলাসী জীবনযাপন করছেন। আর সেখানে বসেই দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে লিপ্ত রয়েছেন তারা।
নিউইয়র্কে নোবেলজয়ী ড. মুহাম্মদ ইউনূসকে অসম্মান করার ঘটনায় দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ফরিদপুর-৪ আসনের সংসদ সদস্য শহিদুল ইসলাম বাবুলের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ফরিদপুর-৩ আসনের সংসদ সদস্য চৌধুরী নায়াব ইউসুফ।
জেলা বিএনপির আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট মোদাররেছ আলী ইছা, সদস্য সচিব এ কে কিবরিয়া স্বপন, ভাঙ্গা উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক খন্দকার সেলিম, কৃষকদল নেতা খন্দকার নাসিরুল ইসলাম, যুবদল নেতা রাজিব হোসেন, বেনজীর আহমেদ তাবরিজসহ ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের নেতাকর্মীরাও এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
১৪ দিন আগে
সংবিধান সংশোধন কমিটিতে প্রতিনিধি দিতে বিরোধী দলকে আহ্বান
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তুলতে সংবিধান সংশোধন সম্পর্কিত সংসদীয় বিশেষ কমিটিতে প্রতিনিধি মনোনয়ন দিতে বিরোধী দলকে আহ্বান জানানো হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) জাতীয় সংসদ ভবনের মন্ত্রিসভা কক্ষে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে কমিটির সপ্তম বৈঠকে এ আহ্বান জানানো হয়।
বৈঠকে জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা, সংবিধান সংশোধন প্রক্রিয়ায় বিরোধী দলের অংশগ্রহণসহ বিভিন্ন বিষয় নিয়ে আলোচনা হয় বলে এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
জনগণের প্রত্যাশা পূরণ এবং জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নের অঙ্গীকার রক্ষায় সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধন এগিয়ে নেওয়ার ওপর বৈঠকে গুরুত্ব দেওয়া হয়।
জুলাই গণ-অভ্যুত্থানে অবদান রাখা শিক্ষকদের প্রতিনিধি, বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদ ও সংবিধান বিশেষজ্ঞরা বৈঠকে অংশ নিয়ে সংবিধান সংশোধনের বিষয়ে তাদের মতামত ও প্রস্তাব তুলে ধরেন।
সংবিধান সংশোধনের কার্যকর পদ্ধতি, তত্ত্বাবধায়ক সরকারব্যবস্থা, বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও এখতিয়ার, জনগণের সার্বভৌমত্ব এবং মৌলিক অধিকার সুরক্ষার বিষয়ে তারা মতবিনিময় করেন।
রাষ্ট্রকাঠামোর সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে সংসদের উচ্চকক্ষ প্রবর্তন এবং প্রস্তাবিত এই কক্ষে বিভিন্ন শ্রেণি ও পেশার মানুষের প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার সম্ভাব্য পদ্ধতি নিয়েও আলোচনা হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়ন ও সংবিধানের প্রয়োজনীয় সংশোধনের বিষয়ে শিক্ষাবিদ ও বিশেষজ্ঞদের মতামত গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করেন কমিটির সদস্যরা।
বৈঠকে কয়েকজন অংশগ্রহণকারী ইতোমধ্যে তাদের লিখিত মতামত জমা দিয়েছেন। অন্যদের কোনো প্রস্তাব থাকলে আগামী দুই সপ্তাহের মধ্যে তা কমিটির কাছে জমা দিতে অনুরোধ জানানো হয়।
জুলাই জাতীয় সনদ বাস্তবায়নে জাতীয় ঐকমত্য গড়ে তোলা এবং সংবিধান সংশোধনের প্রয়োজনীয় প্রক্রিয়া এগিয়ে নেওয়ার গুরুত্বও বৈঠকে তুলে ধরা হয়।
বৈঠকে কমিটির সদস্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, জয়নুল আবেদীন, পরিকল্পনা প্রতিমন্ত্রী মো. জোনায়েদ আবদুর রহিম সাকি, প্রবাসীকল্যাণ ও বৈদেশিক কর্মসংস্থান প্রতিমন্ত্রী মো. নুরুল হক, ভূমি প্রতিমন্ত্রী মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দিন, সমাজকল্যাণ প্রতিমন্ত্রী ফারজানা শারমিন, শাকিলা ফারজানা ও মো. মাহমুদুল হক রুবেল।
১৪ দিন আগে
বিএনপি সরকার দেশ পুনর্গঠনে কাজ করছে: রিজভী
আওয়ামী লীগ সরকারের আমলের অব্যবস্থাপনা, লুটপাট ও বিশৃঙ্খলায় বিপর্যস্ত দেশ পুনর্গঠনে বিএনপি সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন দলটির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (১৩ অক্টোবর) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশনে জনঅধিকার পার্টি আয়োজিত এক আলোচনা সভা ও পুরস্কার বিতরণী অনুষ্ঠানে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে অব্যবস্থাপনা, লুটপাট ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির কারণে দেশ যে ভয়াবহ অবস্থার মধ্যে পড়েছে, সেখান থেকে দেশকে বের করে পুনর্গঠনে কাজ করছে বিএনপি সরকার।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং আগের সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাগুলো সমাধানের পাশাপাশি রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠানগুলো পুনর্গঠনে সরকার কাজ করছে বলেও জানান বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব।
তিনি বলেন, অতীতের নানা অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খল পরিস্থিতির মধ্যে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছে বিএনপি সরকার। আগের সরকারের কাছ থেকে ব্যাংক লুটপাট, অর্থপাচার এবং আর্থিক খাতে চরম অব্যবস্থাপনা ও বিশৃঙ্খলা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে বর্তমান সরকার।
বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন, আওয়ামী লীগ সরকার ব্যাংক, বিমাসহ বিভিন্ন খাতে বিশৃঙ্খলা রেখে গেছে।
এছাড়া আওয়ামী লীগ ও শেখ হাসিনার ঘনিষ্ঠরা ঋণের নামে বিপুল অর্থ আত্মসাৎ করেছেন উল্লেখ করে তিনি বলেন, তাদের পরিবারের সদস্যরা বিদেশে বিলাসী জীবনযাপন করছেন।
রিজভীর অভিযোগ, ক্ষমতাচ্যুত সরকারের সমর্থকরা অবৈধভাবে অর্জিত অর্থ ব্যবহার করে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানো ও অস্থিতিশীলতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন।
তিনি বলেন, তাদের অবৈধ টাকা আছে বলেই তারা বিভিন্ন জায়গায় সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালানোর চেষ্টা করছে এবং আবার মাথাচাড়া দিয়ে উঠতে চাইছে। তারা বিদেশে বিপুল অর্থ পাচার করেছে, আর কিছু অর্থ দেশের ভেতরেও লুকিয়ে রেখেছে। এসব অর্থ ব্যবহার করে তারা নৈরাজ্য সৃষ্টি, বোমা হামলা ও সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড চালাচ্ছে। সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়ার পরিস্থিতি তৈরি করাই তাদের লক্ষ্য।
আসন্ন দুর্গাপূজাকে ঘিরে দেশি-বিদেশি ষড়যন্ত্রের আশঙ্কার কথাও বলেন রিজভী।
শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্নে দুর্গাপূজা উদযাপন নিশ্চিত করতে সবাইকে সার্বক্ষণিক সতর্ক থাকার এবং পূজামণ্ডপগুলোতে নজরদারি রাখার আহ্বান জানান তিনি।
১৪ দিন আগে
শূন্য হওয়া সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচন ১২ নভেম্বর
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদে শূন্য হওয়া একটি সংরক্ষিত নারী আসনে উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করেছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)।
আগামী ১২ নভেম্বর আসনটিতে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে। এর আগে ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি পদত্যাগ করলে আসনটি শূন্য ঘোষণা করা হয়।
ইসির সিনিয়র সচিব আখতার আহমেদের সই করা এক প্রজ্ঞাপনে সোমবার (১২ অক্টোবর) এ উপনির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করা হয়।
তফসিল অনুযায়ী, আগামী ২৬ অক্টোবর নির্বাচন ভবনে রিটার্নিং কর্মকর্তার কাছে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ দিন। ২৭ অক্টোবর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই করা হবে। প্রার্থিতা প্রত্যাহারের শেষ দিন ১ নভেম্বর। এরপর ১২ নভেম্বর ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
বিএনপির মনোনয়নে সংরক্ষিত নারী আসন থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হয়েছিলেন ফেরদৌসী আহমেদ মিষ্টি। আইন অনুযায়ী, শূন্য হওয়া এ আসনে শুধু বিএনপিই প্রার্থী মনোনয়ন দিতে পারবে।
এ নির্বাচনে একাধিক প্রার্থী প্রতিদ্বন্দ্বিতা করলে শুধু বিএনপি জোটের সংসদ সদস্যরা ভোট দিতে পারবেন। তবে সংরক্ষিত নারী আসনে সাধারণত একজনই প্রার্থী থাকেন, ফলে ভোটগ্রহণের প্রয়োজন হয় না।
গত ২৪ সেপ্টেম্বর ঢাকার মিরপুরে মাতৃ ও শিশুস্বাস্থ্যসেবা কেন্দ্র রাড্ডা এমসিএইচ-এফপি সেন্টারে হামলা, ভাঙচুর, লুটপাট ও স্থাপনা গুঁড়িয়ে দেওয়ার ঘটনায় জড়িত থাকার অভিযোগ ওঠে মিষ্টির বিরুদ্ধে। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নির্দেশে ১ অক্টোবর সংসদ সদস্য পদ থেকে পদত্যাগ করেন তিনি।
১৫ দিন আগে
পাঁচ ধাপে ইউপি নির্বাচন, শুরু ২১ জানুয়ারি
আসন্ন ইউনিয়ন পরিষদ (ইউপি) নির্বাচন পাঁচ ধাপে আয়োজনের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নির্বাচন কমিশন (ইসি)। প্রথম ধাপের ভোটগ্রহণ আগামী বছরের ২১ জানুয়ারি অনুষ্ঠিত হবে।
সোমবার (১২ অক্টোবর) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন ভবনে কমিশনের এক সভায় নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করা হয়।
সভা শেষে নির্বাচন কমিশনার আবুল ফজল মো. সানাউল্লাহ সাংবাদিকদের পাঁচ ধাপে ভোটগ্রহণের তারিখ জানান।
ইসির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, দ্বিতীয় ধাপে ৪ ফেব্রুয়ারি, তৃতীয় ধাপে ২৯ এপ্রিল, চতুর্থ ধাপে ১৩ মে ও পঞ্চম ধাপে ২৭ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
এর আগে গত ১৪ সেপ্টেম্বর ইউপি নির্বাচনের একটি সম্ভাব্য সময়সূচি ঘোষণা করেছিল ইসি। প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী ১২ নভেম্বর থেকে সাত ধাপে এ নির্বাচন আয়োজনের কথা ছিল।
তবে ১৭ সেপ্টেম্বর ইসির সঙ্গে এক বৈঠকে সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয় ও দপ্তরগুলো নভেম্বর ও ডিসেম্বরে স্থানীয় সরকার নির্বাচন শুরু না করার পরামর্শ দেয়। ওই সময়ে বিদ্যালয়গুলোতে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে।
এরপর ইসি জানায়, নির্বাচনের সময়সূচি চূড়ান্ত করার আগে এ বিষয়ে আরও আলোচনা করা হবে।
১৬ দিন আগে
গ্রামীণ সড়কের মান নিশ্চিতে ৩ বছরের ওয়ারেন্টির সুপারিশ সংসদীয় কমিটির
প্রধানমন্ত্রীর নির্দেশনা অনুযায়ী গ্রামীণ সড়ক ও রাস্তাঘাট নির্মাণকাজের গুণগত মান, স্থায়িত্ব, স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করতে ঠিকাদারদের কাছ থেকে তিন বছরের ওয়ারেন্টি হিসেবে জামানত গ্রহণের সুপারিশ করেছে স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদের স্থায়ী কমিটি।
পাশাপাশি সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের নিজ নিজ দায়িত্ব যথাযথভাবে পালনের মাধ্যমে নির্মাণকাজের তদারকি জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
রবিবার (১১ অক্টোবর) সংসদ ভবনে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত স্থায়ী কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সুপারিশ করা হয়।
বৈঠকে মন্ত্রণালয় এবং এর আওতাধীন দপ্তর ও সংস্থাগুলোর কার্যক্রম সম্পর্কে উপস্থাপনা দেওয়া হয়। একই সঙ্গে সরকারের ১৮০ দিনে মন্ত্রণালয়ের গৃহীত বিভিন্ন কার্যক্রম সম্পর্কে কমিটিকে অবহিত করা হয়।
দেশের বিভিন্ন স্থানে আর্সেনিকযুক্ত এলাকা চিহ্নিত করে নিরাপদ ও সুপেয় পানির ব্যবস্থা নিশ্চিত করার লক্ষ্যে প্রকল্প গ্রহণ ও কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার সুপারিশ করে কমিটি।
এডিস মশা নিধন ও ডেঙ্গু প্রতিরোধে নিজ নিজ এলাকায় উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তাদের মাধ্যমে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতা অভিযান তদারকি ও জনসচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহণের সুপারিশও করা হয়।
এছাড়া কর্মকর্তাদের সততা, নিষ্ঠা, স্বজনপ্রীতিমুক্ত আচরণ ও জবাবদিহির সঙ্গে দায়িত্ব পালনের ওপর বৈঠকে গুরুত্বারোপ করা হয়। পাশাপাশি উপজেলা পর্যায়ে অনলাইনভিত্তিক হাজিরা নিশ্চিত করার সুপারিশ করা হয়।
ফ্যাসিস্ট সরকারের আমলে দেশি-বিদেশি অর্থায়নে গৃহীত অপ্রয়োজনীয় প্রকল্পগুলোর অনিয়ম ও দুর্নীতি তদন্তে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণেরও সুপারিশ করে কমিটি।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি এ কে এম সেলিম রেজা হাবিব। কমিটির সদস্য ও মন্ত্রী ড. আবদুল মঈন খান, প্রতিমন্ত্রী মীর শাহে আলম, মোহাম্মদ আক্তারুজ্জামান, জসীম উদ্দীন আহমেদ, শেখ ফরিদ আহমেদ, সেলিনা সুলতানা, এ টি এম আজহারুল ইসলাম ও মো. রফিকুল ইসলাম খান বৈঠকে অংশ নেন।
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রণালয়ের সচিব, অতিরিক্ত সচিব ও যুগ্ম সচিব, বিভিন্ন সংস্থা ও অধিদপ্তরের প্রধান এবং জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
১৬ দিন আগে