রাজনীতি
রাত ৩টা পর্যন্ত দলীয় কার্যালয়ে কাজ করলেন প্রধানমন্ত্রী
রাজধানীর গুলশানে নিজ রাজনৈতিক কার্যালয়ে গতকাল শনিবার গভীর রাত পর্যন্ত ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান। বিকেল থেকেই তিনি সেখানে অবস্থান করে বিভিন্ন দাপ্তরিক ও দলীয় গুরুত্বপূর্ণ কার্যক্রম সম্পন্ন করেন। পরে রাত প্রায় ৩টা পর্যন্ত তিনি কার্যালয়ে অবস্থান করেন বলে জানা গেছে।
প্রধানমন্ত্রীর অতিরিক্ত প্রেস সচিব আতিকুর রহমান রুমন জানান, ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ এবং গুরুত্বপূর্ণ সাংগঠনিক কার্যক্রম তদারকি করতে গিয়ে শনিবার দিবাগত রাত ৩টা পর্যন্ত তিনি সেখানে অবস্থান করেন।
শনিবার দুপুর ৩টায় গুলশান কার্যালয়ে দলীয় প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু হয়।
বিএনপি মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এবং স্থায়ী কমিটির সদস্য খন্দকার মোশাররফ হোসেন, নজরুল ইসলাম খান, ইকবাল হাসান মাহমুদ টুকু, এ জেড এম জাহিদ হোসেন ও সেলিমা রহমান মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য হিসেবে উপস্থিত ছিলেন।
এদিন ঢাকা, চট্টগ্রাম, কুমিল্লা, সিলেট ও ময়মনসিংহ বিভাগের জেলাগুলোর প্রার্থীরা এই সাক্ষাৎকারে অংশ নেন, যা গভীর রাত পর্যন্ত চলে।
এর আগে, শুক্রবার রাজশাহী, রংপুর, খুলনা, বরিশাল ও ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল।
দলীয় সূত্র জানিয়েছে, সংরক্ষিত আসনের জন্য মোট ১ হাজার ২৫টি মনোনয়ন ফরম বিক্রি হয়েছিল যার মধ্যে প্রায় ৯০০টি ফরম জমা পড়েছে।
গত ৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল, আর মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল এবং তা নিষ্পত্তি করা হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল।
আগামী ৩০ এপ্রিল প্রার্থীদের মাঝে প্রতীক বরাদ্দ করা হবে এবং ১২ মে ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে।
আসন বণ্টন অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৩৬টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী সমর্থিত জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি আসন পাবে।
১৬ দিন আগে
সরকারের উন্নয়ন উদ্যোগে সহযোগিতা করছে না বিরোধী দল: মাহদী আমিন
দেশের উন্নয়ন ও সংস্কার কার্যক্রমে সরকারের সঙ্গে সহযোগিতা না করে বিরোধী দল উল্টো প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করছে বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ের মুখপাত্র ড. মাহদী আমিন।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) বিকেলে রাজধানীর তেজগাঁওয়ে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এ অভিযোগ করেন। বর্তমান সরকারের দুই মাস পূর্তি উপলক্ষে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করে প্রধানমন্ত্রীর প্রেস উইং।
মাহদী আমিন বলেন, ফ্যাসিবাদের দীর্ঘ সময় এবং গত প্রায় দেড় বছরের অন্তর্বর্তী সরকারের সময়ে একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠী পরিকল্পিতভাবে বহুমুখী অপপ্রচারে লিপ্ত থাকলেও, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অসংখ্য সচেতন নাগরিক স্বতঃস্ফূর্তভাবে শক্ত অবস্থান নিয়ে এসব মিথ্যাচার ও উদ্দেশ্যপ্রণোদিত প্রচারণার বিরুদ্ধে জোরালো প্রতিরোধ গড়ে তোলেন। এই জন্য গণতন্ত্রকামী জনগণের পক্ষ থেকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাই।
তিনি বলেন, আমরা ভেবেছিলাম, এই অল্প সময়ের মাঝে প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্ব ও নির্দেশনায় সরকার যে সমস্ত ইতিবাচক পদক্ষেপ নিয়েছে, বিরোধী দল সেই কাজের জন্য সামগ্রিকভাবে সহযোগিতা করবে। কিন্তু আমরা দেখলাম, তারা সেটি না করে সংসদে হট্টগোল করা, রাজপথে আন্দোলনের হুমকি, গুজব-অপপ্রচার ছড়ানোসহ বিকল্প পথ বেছে নিয়েছে, যা দেশের অগ্রযাত্রার পথে প্রতিবন্ধকতা।
তিনি আরও বলেন, গতকাল বর্তমান সরকারের মেয়াদ দুমাস পূর্ণ হয়েছে। এই স্বল্প সময়ের মধ্যেই সরকার নির্বাচনের আগে ইশতেহারে দেওয়া প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। প্রধানমন্ত্রীর নেতৃত্বে সরকার দুর্বার গতিতে অভূতপূর্ব কর্মযজ্ঞ হাতে নিয়েছে। প্রতিটি সেক্টরে এবং গণমানুষের ভাগ্য পরিবর্তনের প্রতিটি ক্ষেত্রে ১৮০ দিনের যে কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে, তা এক অবিস্মরণীয় অর্জন। জনগণের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে গত দুমাসে প্রধানমন্ত্রী রাষ্ট্রের ও প্রতিটি নাগরিকের অগ্রযাত্রা নিশ্চিতে যেসব কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েছেন, তার মধ্যে ৬০টি আপনাদের সামনে তুলে ধরছি।
এরপর সরকারের ১৮০ দিনের কর্মপরিকল্পনার অংশ হিসেবে গত দুই মাসে নেওয়া ৬০টি গুরুত্বপূর্ণ উদ্যোগের তালিকাও উপস্থাপন করেন তিনি। সেগুলো হলো:
১. প্রধানমন্ত্রীর নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী নারীর ক্ষমতায়নের লক্ষ্যে দেশের প্রতিটি পরিবারের কাছে পর্যায়ক্রমে ফ্যামিলি কার্ড পৌঁছে দেওয়ার পাইলট প্রকল্প শেষ হয়েছে। ইতোমধ্যে ৩৭ হাজার ৫৬৭ পরিবারকে ফ্যামিলি কার্ড দেওয়া হয়েছে।
২. প্রধানমন্ত্রীর আরেকটি নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি দেশের কৃষক কৃষাণীর জন্য ১০টি সুবিধা ও নগদ অর্থায়ন সংবলিত ‘কৃষক কার্ড’ প্রচলন করা। ইতোমধ্যে প্রাথমিকভাবে ১০টি জেলার ২২ হাজারেরও বেশি প্রান্তিক, ক্ষুদ্র ও মাঝারি কৃষককে এই কার্ড দেওয়া হয়েছে।
৩. প্রায় ১২ লাখ ক্ষুদ্র ও প্রান্তিক কৃষকের ১০ হাজার টাকা পর্যন্ত ঋণ সুদসহ মওকুফ করা হয়েছে।
৪. সাংবিধানিক বাধ্যবাধকতা ও দেশের আইনি কাঠামোর ধারাবাহিকতা রক্ষায়, অত্যন্ত স্বল্প সময়ের মধ্যে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে ১৩৩টি অধ্যাদেশ নিষ্পত্তির মাধ্যমে সরকার এক অনন্য নজির স্থাপন করেছে। এসব অধ্যাদেশের মধ্যে মানবাধিকার কমিশন, গুম প্রতিরোধ ও প্রতিকার অধ্যাদেশসহ ১৬টি অধ্যাদেশ অধিকতর যাচাই-বাছাই করে আবার সংসদে বিল আকারে উত্থাপন করা হবে। সবচেয়ে বেশি গুম, খুন, মানবাধিকার হরণের শিকার দল হিসেবে বিএনপি এগুলো বাস্তবায়নে অঙ্গীকারবদ্ধ।
৫. সারা দেশে ২০ হাজার কিলোমিটার নদী-খাল এবং জলাশয় খনন ও পুনঃখননের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ইতোমধ্যে ৫৪ জেলায় এই কাজ শুরু করা হয়েছে।
৬. বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের মধ্যেও সরকার জ্বালানি তেলের দাম না বাড়িয়ে এখন পর্যন্ত সর্বোচ্চ নিয়ন্ত্রণে রেখেছে।
৭. জাতীয় রুফটপ সোলার কর্মসূচি ও নেট মিটারিংয়ের মাধ্যমে ৩৫ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে যুক্ত হয়েছে। সরকার ২০৩০ সালের মধ্যে নবায়নযোগ্য জ্বালানি, বিশেষ করে সোলার বা সৌরশক্তি ব্যবহার করে ১০ হাজার মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্য নির্ধারণ করেছে।
৮. জ্বালানি নেওয়ার জন্য ফুয়েল কার্ডের পাইলটিং প্রজেক্ট ইতোমধ্যে চালু করা হয়েছে।
৯. দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সরকারের একটি অগ্রাধিকার। প্রতিকূল বৈশ্বিক ও দেশীয় অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্যে পবিত্র রমজান মাসে এবং এখনও অন্যান্য বছরের তুলনায় দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব হয়েছে।
১০. ৪ হাজার ৯০৮টি মসজিদের ইমাম-মুয়াজ্জিন, ৯৯০টি মন্দিরের পুরোহিত, ১৪৪টি বৌদ্ধবিহারের অধ্যক্ষ এবং ৩৯৬টি গির্জার যাজক ও পালকরা মাসিক সম্মানি পাচ্ছেন। এই কার্যক্রম পর্যায়ক্রমে সব মসজিদ ও ধর্মীয় উপাসনালয়ে বাস্তবায়ন করা হবে।
১১. ঈদুল ফিতরের সময় সারা দেশে অসহায় ও গরিবদের ত্রাণ ও উপহার বিতরণ করা হয়েছে। প্রাতিষ্ঠানিকভাবে ইসলামিক স্কলার ও অংশীজনদের সঙ্গে আলোচনার ভিত্তিতে জাকাত ব্যবস্থার আধুনিকায়ন করে দারিদ্র্য বিমোচনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১২. শিগগিরই প্রবাসীদের জন্য ‘প্রবাসী কার্ড’ চালুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৩. বিগত সময়ের তুলনায় হজযাত্রার খরচ টিকিটপ্রতি ১২ হাজার টাকা কমানো হয়েছে। প্রথমবারের মতো দেশের মাটিতেই ‘নুসুক হজ কার্ড’ দেওয়া হয়েছে।
১৪. দেশের সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসে শূন্যপদ চার লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। শূন্যপদ পূরণে কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে।
১৫. পর্যায়ক্রমে সরকারি মালিকানাধীন বন্ধ কারখানা ও শিল্প প্রতিষ্ঠানগুলো চালু করে কর্মসংস্থান বৃদ্ধির উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে, যার মধ্যে প্রাধান্য পাচ্ছে চিনিকল, রেশম ও পাটশিল্প।
১৬. স্বল্প ব্যবহৃত ইকোনমিক জোন, ইপিজেড, বিসিক এলাকা, হাইটেক পার্ক ও ইন্ডাস্ট্রি ক্লাস্টারের তালিকা প্রস্তুত করে সেখানে সম্ভাবনাময় ব্যবসা ও স্থানীয় বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে ইকোসিস্টেম তৈরি শুরু করা হয়েছে।
১৭. সরকার দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নকে অধিকতর শক্তিশালী, স্থিতিশীল ও অন্তর্ভুক্তিমূলক করার লক্ষ্যে ইতোমধ্যে একগুচ্ছ বিশেষ পদক্ষেপ নিয়েছে। সরকারের মূল লক্ষ্য হলো ২০৩৪ সালের মধ্যে ট্রিলিয়ন ডলার অর্থনীতিতে রূপান্তর। এ লক্ষ্য অর্জনে খাতভিত্তিক স্বল্প, মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হচ্ছে।
১৮. অর্থনীতিকে স্থিতিশীলতা, পুনর্গঠন ও বিনিয়োগনির্ভর প্রবৃদ্ধির পথে নিতে পাঁচ বছর মেয়াদি কৌশলগত কাঠামো প্রণয়নের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০৩০ সালের মধ্যে প্রকৃত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ৮ শতাংশে উন্নীত করা, মূল্যস্ফীতি নামিয়ে আনা, প্রত্যক্ষ বিদেশি বিনিয়োগ বাড়ানো ও এমপ্লয়মেন্ট এক্সচেঞ্জ চালুর মাধ্যমে ব্যাপক কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে।
১৯. বিদেশি বিনিয়োগ সহজীকরণের জন্য ১০০ কোটি টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগ প্রত্যাবাসনে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের পূর্বানুমোদনের বাধ্যবাধকতা তুলে দেওয়ার সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
২০. প্রায় ১৮ বছরের মধ্যে এই প্রথমবারের মতো ঈদুল ফিতর উপলক্ষে কোনো শ্রমিককে হাহাকার করতে হয়নি। শ্রমিক, মালিক, সরকার ও অংশীজনের সঙ্গে সমন্বিত আলোচনার ভিত্তিতে এবং প্রয়োজন অনুযায়ী ব্যাংকিং সহায়তা নিশ্চিত করা হয়েছে। সব শিল্পকারখানার শ্রমিকদের ঈদের আগেই বেতন, বোনাস ও অন্যান্য সুবিধাদি পরিশোধ করা হয়েছে।
২১. দীর্ঘদিন পর আবারও খুলছে মালয়েশিয়ার শ্রমবাজার। দুই দেশের অভূতপূর্ব যৌথ বিবৃতিতে উঠে এসেছে অভিবাসন ব্যয় হ্রাস, স্বচ্ছ প্রক্রিয়া ও প্রবাসীদের জনকল্যাণ।
২২. বিকল্প শ্রমবাজার খুঁজতে ইউরোপের সাতটি দেশের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক চুক্তি স্বাক্ষরের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২৩. দেশে-বিদেশে কর্মসংস্থান বাড়ানোর অংশ হিসেবে সরকার বিদেশে অধিক সংখ্যক জনশক্তি রপ্তানির উদ্যোগ নিয়েছে। দক্ষ এবং আধা দক্ষ জনশক্তি রপ্তানির ওপর গুরুত্ব দিয়ে অভিবাসনের পরিমাণ এবং গুণমান উভয়ই বাড়ানোর জন্য উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। এই লক্ষ্যে দেশজুড়ে কারিগরি প্রশিক্ষণকেন্দ্র এবং কারিগরি শিক্ষায় বহুভাষা ও দক্ষতা বৃদ্ধির কারিকুলামে গুরুত্বারোপ করা হয়েছে।
২৪. উত্তরবঙ্গকে কৃষিপণ্য প্রক্রিয়াকরণ শিল্পের ‘হাব’ বা কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
২৫. পেপ্যাল ও অন্যান্য পেমেন্ট গেটওয়ের কার্যক্রম বাংলাদেশে শুরুর উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
১৭ দিন আগে
জাতীয় নারী শক্তির ৫৩ সদস্যের পূর্ণাঙ্গ আহ্বায়ক কমিটি ঘোষণা
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) সহযোগী সংগঠন ‘জাতীয় নারীশক্তি’র কেন্দ্রীয় আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) এক বিজ্ঞপ্তিতে ৫৩ সদস্যবিশিষ্ট এই নতুন কমিটির তথ্য জানানো হয়। এনসিপির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম ও সদস্যসচিব আখতার হোসেনের নির্দেশ ও অনুমোদনক্রমে এই আহ্বায়ক কমিটি গঠন করা হয়েছে।
নবগঠিত এই কমিটিতে মনিরা শারমিনকে আহ্বায়ক এবং মাহমুদা আলম মিতুকে সদস্যসচিব মনোনীত করা হয়েছে।
কমিটির অন্যান্য শীর্ষ পদের মধ্যে জ্যেষ্ঠ যুগ্ম আহ্বায়ক হিসেবে দায়িত্ব পেয়েছেন সানজিদা বুশরা মিশমা এবং মুখ্য সংগঠক হিসেবে মনোনীত হয়েছেন নুসরাত তাবাসসুম।
কমিটির অন্যান্য দায়িত্বপ্রাপ্তরা হলেন, যুগ্ম আহ্বায়ক হাফসা জাহান, নাবিলা তাসনিদ, খন্দকার খালেদা আক্তার, আশরেফা খাতুন এবং মুনা হাফসা।
জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সদস্যসচিব মঞ্জিলা ঝুমা, যুগ্ম সদস্যসচিব দ্যুতি অরণ্য চৌধুরী প্রীতি, নাহিদা বুশরা, কাজী আয়েশা আহমেদ, নীলা আফরোজ, মাহমুদা রিমি এবং ইসরাত জাহান বিন্দু।
যুগ্ম মুখ্য সংগঠক ইশরাত জাহান, উরসী মাহফিলা, সাদিয়া আফরিন, জয়ন্তী বিশ্বাস, সোনিয়া লুবনা, নাফিসা মুশতারী এবং নাদিয়া ইসলাম মিম।
এ ছাড়াও কমিটিতে রেহনুমা রুমা, ফারজানা আক্তার, মনি মুক্তা, সেজুতি আক্তারসহ আরও ৩০ জনকে সংগঠক হিসেবে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
১৭ দিন আগে
রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো মানুষ যেন হেনস্তার শিকার না হয়: স্পিকার
জাতীয় সংসদের স্পিকার মেজর (অব.) হাফিজ উদ্দিন আহমদ বলেছেন, ‘দেশে দলমত নির্বিশেষে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো মানুষ যেন হেনস্তার শিকার না হয়; আমরা দেশে আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।’
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ভোলা সার্কিট হাউজে প্রশাসন, রাজনীতিবিদ ও সুশীল সমাজের প্রতিনিধিদের সঙ্গে এক মতবিনিময় সভায় তিনি এসব কথা বলেন। ভোলায় তিন দিনের সফরের শেষ দিনে এই সভা অনুষ্ঠিত হয়।
মতবিনিময় সভা শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্পিকার বলেন, ভোলায় স্পিকার হিসেবে পদার্পণ করার মধ্য দিয়ে মনে হচ্ছে গণতন্ত্রের বিজয় হয়েছে। গত ২০ বছর বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের দেখা পায়নি। বর্তমান বিশ্বে গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা ছাড়া উন্নয়নের আর কোনো মাধ্যম আবিষ্কৃত হয়নি। আমরা অন্তত ভাগ্যবান যে, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রমনা ও রাজনীতি সচেতন। তারা কোনো স্বৈরশাসনকে মেনে নেয় না।
তিনি আরও বলেন, অত্যাচার-নিপীড়ন, গুম ও খুনসহ নানাবিধ নির্যাতন উপেক্ষা করে বাংলাদেশের মানুষ রাজপথে নেমে এসে আবার গণতন্ত্রকে প্রতিষ্ঠা করেছে। এটি আমাদের জন্য অত্যন্ত গৌরবের বিষয়। ২০২৪-এর গণআন্দোলন আজ সারা বিশ্বের দৃষ্টি কেড়ে নিয়েছে।
উন্নয়নশীল দেশ হিসেবে পরাশক্তিগুলো বাংলাদেশকে সাধারণত হেয় করে দেখতে চায় উল্লেখ করে স্পিকার বলেন, বাংলাদেশের মানুষ গণতন্ত্রের জন্য যে সংগ্রাম করেছে, এটি নিয়ে দেশবাসী গৌরব করতে পারে। মানবাধিকার লঙ্ঘন বিশ্বের নিত্যদিনের ঘটনা হলেও বাংলাদেশের মানুষ আজ মানবাধিকারকে সুপ্রতিষ্ঠিত করেছে। যেই গুম ও খুনের মধ্য দিয়ে দেশবাসী ১৬-১৭ বছর কাটিয়েছে, তা থেকে আমরা এখন মুক্ত।
দেশের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতি ও সরকার প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নেতৃত্বে বর্তমান নির্বাচিত সরকার এদেশের মানুষের জন্য সুখ ও সমৃদ্ধি বয়ে নিয়ে আসবে বলে আমরা আশা করি। রাজনৈতিক দলগুলোর প্রধান কাজ হচ্ছে অর্থনীতির উন্নয়ন সাধন করা এবং সেই লক্ষ্যেই বর্তমান সরকার কাজ করে যাচ্ছে। আমরা আশা করি, দেশে দলমত নির্বিশেষে সুশাসন প্রতিষ্ঠিত হবে। রাজনৈতিক মতাদর্শের কারণে কোনো মানুষ যেন হেনস্তার শিকার না হয়; আমরা আইনের শাসন প্রতিষ্ঠা করতে চাই।
স্পিকার বলেন, বর্তমানে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে সুসম্পর্ক বিদ্যমান এবং সাধারণ মানুষ অনেকদিন পর স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলেছে। একটি সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গঠিত এই সরকার মানুষের প্রত্যাশা অনুযায়ী কাজ করছে।
নিরাপত্তা প্রসঙ্গে তিনি আরও উল্লেখ করেন, সরকার ও বিরোধী দল—উভয় পক্ষকেই সমানভাবে অগ্রাধিকারের ভিত্তিতে নিরাপত্তা দেওয়ার জন্য কাজ করা হচ্ছে।
এ সময় সাবেক স্পিকার শিরীন শারমিন চৌধুরীর জামিনের বিষয়ে তিনি বলেন, সাবেক স্পিকারকে বিচার বিভাগ জামিন দিয়েছে এবং এটি একটি ভালো কাজ হয়েছে। কারণ তিনি একজন নারী এবং দেশের তৃতীয় সর্বোচ্চ ব্যক্তি। নিশ্চয়ই বিচার বিভাগ যথাযথ বিবেচনা করেই তাকে জামিন দিয়েছে।
এর আগে, স্পিকার সার্কিট হাউজে পৌঁছালে তাকে ‘গার্ড অব অনার’ প্রদান করা হয়। মতবিনিময় সভা শেষে তিনি বরিশাল হয়ে ঢাকার উদ্দেশে রওনা হন।
অনুষ্ঠানে জেলা প্রশাসক ডা. শামীম রহমান, পুলিশ সুপার শহিদুল্লাহ কাওসার, জেলা পরিষদ প্রশাসক গোলাম নবী আলমগীর, জেলা বিএনপির সদস্য সচিব রাইসুল আলম, মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সদস্য সচিব আমিনুল ইসলামসহ প্রশাসনের বিভিন্ন পর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
১৭ দিন আগে
ইলিয়াস আলীর জন্য সিলেট জেলা বিএনপির দোয়া মাহফিল
নিখোঁজ বিএনপি নেতা এম ইলিয়াস আলীর সন্ধান ও নিরাপদ প্রত্যাবর্তন কামনায় সিলেট জেলা বিএনপির উদ্যোগে দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়েছে।
শুক্রবার (১৭ এপ্রিল) জুমার নামাজের পর হযরত শাহজালাল (র.) দরগাহ মসজিদে এ দোয়া মাহফিল অনুষ্ঠিত হয়। অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য রাখেন পানি সম্পদমন্ত্রী শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি।
পানি সম্পদমন্ত্রী বলেন, ইলিয়াস আলী ছিলেন একজন ত্যাগী, সাহসী ও গণতন্ত্রকামী নেতা। কেন্দ্রীয় ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন তিনি। সবসময় জনগণের অধিকার ও অবাধ নির্বাচনের দাবিতে সোচ্চার ছিলেন ইলিয়াস। দেশের জন্য কথা না বললে হয়তো তিনি গুম হতেন না। তিনি গণতন্ত্র ও নির্বাচনের জন্য লড়াই করেছেন।’
তিনি আরও বলেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রামের মধ্য দিয়ে জনগণের রায়ে বিএনপি আজ রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে এসেছে। তারেক রহমান প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন।
শহীদউদ্দীন চৌধুরী এ্যানি বলেন, বিএনপির নেতা-কর্মীরা দীর্ঘদিন ধরে জুলুম-নির্যাতনের শিকার হয়েছেন। জুলাই-আগস্টের আন্দোলনে দলের বহু নেতা-কর্মী নিহত ও আহত হয়েছেন।
তিনি বলেন, ইলিয়াস আলীকে হয়তো আমরা ফিরে পাব না, কিন্তু তার পরিবারসহ পুরো সিলেটবাসী এখনও প্রতীক্ষায় রয়েছে।
তিনি আরও জানান, বাসিয়া নদী খনন কাজের উদ্বোধন এবং জেলা স্টেডিয়ামে ‘নতুন কুঁড়ি স্পোর্টস’ কার্যক্রম উদ্বোধনের লক্ষ্যে তারেক রহমান শিগগিরই সিলেট সফর করবেন।
সিলেট জেলা বিএনপি সভাপতি ও সিটি করপোরেশনের প্রশাসক আব্দুল কাইয়ুম চৌধুরী বলেন, ‘এম ইলিয়াস আলী দলের ক্রান্তিলগ্নে সিলেটকে নেতৃত্ব দিয়েছেন। তিনি গণমানুষের অধিকার আদায়ের প্রতীক হিসেবে নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।
‘১৪ বছর পেরিয়ে গেলেও তার নিখোঁজ হওয়ার বিষয়টি আমাদের জন্য গভীর বেদনা ও উদ্বেগের। আমরা এই ঘটনার সুনির্দিষ্ট তথ্য জানতে চাই।’
সিলেট-৬ আসনের সংসদ সদস্য ও জেলা বিএনপির সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট এমরান আহমদ চৌধুরী বলেন, ‘ইলিয়াস আলীর নিখোঁজ হওয়া ছিল ফ্যাসিস্ট আওয়ামী আমলের এক কলঙ্কজনক কালো অধ্যায়।’
দোয়া মাহফিলে ইলিয়াস আলীর প্রত্যাবর্তন কামনা করে বিশেষ মোনাজাত করা হয়। পাশাপাশি দেশবাসী ও দলীয় নেতা-কর্মীদের মঙ্গল কামনায় দোয়া করা হয়।
মাহফিলে উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সহ-সভাপতি অ্যাডভোকেট আশিক উদ্দিন আশুক পিপি, মহানগর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক ইমদাদ হোসেন চৌধুরী, সহ-সভাপতি শহিদ আহমদ, মাহবুবুর রব চৌধুরী ফয়সাল, যুগ্ম-সম্পাদক সিদ্দিকুর রহমান পাপলু, আনোয়ার হোসেন মানিক, কোহিনুর আহমদ, অ্যাডভোকেট সাঈদ আহমদ, আবুল কাশেম, শাকিল মোর্শেদ, সাংগঠনিক সম্পাদক অ্যাডভোকেট আল আসলাম মুমিন, ত্রাণ ও পুনর্বাসনবিষয়ক সম্পাদক জয়নাল আহমদ রানু, গণশিক্ষাবিষয়ক সম্পাদক আজিজুর রহমান, সহ-দপ্তর সম্পাদক মাহবুব আলম, সহ-প্রচার সম্পাদক শাহীন আলম জয় এবং জেলা বিএনপি ও অঙ্গসহযোগী সংগঠনের নেতা-কর্মীরা।
১৮ দিন আগে
সংরক্ষিত নারী আসনের প্রার্থী চূড়ান্ত করার প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের সংরক্ষিত নারী আসনের জন্য প্রার্থী মনোনয়নের চূড়ান্ত বাছাই প্রক্রিয়া শুরু করেছে বিএনপি। আজ শুক্রবার থেকে দলীয় মনোনয়ন বোর্ডের সামনে আগ্রহী প্রার্থীরা সাক্ষাৎকার দিতে শুরু করেছেন।
এদিন বিকেলে বিএনপির চেয়ারম্যানের গুলশান কার্যালয়ে মনোনয়ন বোর্ড এই সাক্ষাৎকার গ্রহণ শুরু করে।
বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী জানান, যারা সংরক্ষিত আসনের জন্য দলীয় মনোনয়ন ফরম সংগ্রহ ও জমা দিয়েছিলেন, আজ বিকেলে তাদের সাক্ষাৎকার শুরু হয়েছে।
তিনি বলেন, দলের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে গঠিত মনোনয়ন বোর্ডের সদস্য হিসেবে দলের স্থায়ী কমিটির সদস্যরা রয়েছেন।
তিনি আরও বলেন, প্রথম দিনে রাজশাহী, খুলনা, বরিশাল, রংপুর এবং ফরিদপুর বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার নেওয়া হচ্ছে। চারশরও বেশি প্রার্থী এই সাক্ষাৎকারে অংশ নিচ্ছেন। ঢাকা, চট্টগ্রাম, সিলেট, কুমিল্লা এবং ময়মনসিংহ বিভাগের প্রার্থীদের সাক্ষাৎকার শনিবার বিকেল ৩টায় শুরু হবে বলেও তিনি উল্লেখ করেন।
মনোনয়নের মানদণ্ড সম্পর্কে আলোকপাত করে রিজভী বলেন, ‘আমি আগেও বলেছি, আমাদের এক ভয়াবহ দুঃসময় পার করে আমরা আজকের গণতন্ত্র উত্তরণের এই পর্যায়ে পৌঁছেছি এবং গণতন্ত্র সচল ও শক্তিশালী করতে এটাকে এগিয়ে নিতে হবে। সেই ক্ষেত্রে মহিলারা যে অবদান রেখেছেন বিগত ১৫-১৬ বছরের আন্দোলনে, নিঃসন্দেহে তাদের সেই অবদানকেও মূল্যায়ন করা হবে।’
বিএনপি নেতা আরও জানান, সেক্ষেত্রে আপনারা জানেন, অনেক মহিলা নেত্রী আমাদের, তাদের নামে মিথ্যা মামলা হয়েছে, তারা শর্টগানের গুলি খেয়েছেন, তাদের বাড়িতে ভাঙচুর করা হয়েছে, তাদের সন্তানদের ধরে নিয়ে যাওয়া হয়েছে শুধুমাত্র রাজনীতি করার কারণে এবং রাজনৈতিক আদর্শের কারণে, এই পৈশাচিক বিভীষিকা তো ১৬-১৭ বছর ধরেই চলেছে। দল এসব বিষয় বিবেচনা করবে।
তিনি বলেন, এর বাইরে পাশাপাশি সংসদে কথা বলা এবং আইন প্রণয়নের ব্যাপারে যে জ্ঞান থাকা দরকার, যে শিক্ষা থাকা দরকার, এই বিষয়গুলো এখানে বিবেচিত হবে বলে আমি মনে করি। সবকিছু বিবেচনা করেই আমাদের যে মনোনয়ন বোর্ড, তারা চূড়ান্ত করবেন, কারা মহিলা সংসদ সদস্য হবেন।
এর আগে, গত ৮ এপ্রিল নির্বাচন কমিশন সংরক্ষিত নারী আসনের নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা করে। তফসিল অনুযায়ী, মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ২১ এপ্রিল। মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই হবে ২২ ও ২৩ এপ্রিল। বাছাইয়ের সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপিল করা যাবে ২৬ এপ্রিল এবং আপিল নিষ্পত্তি হবে ২৭ ও ২৮ এপ্রিল। প্রতীক বরাদ্দ দেওয়া হবে ৩০ এপ্রিল এবং ভোটগ্রহণ অনুষ্ঠিত হবে ১২ মে।
নির্বাচন কমিশন (ইসি) জানিয়েছে, একটি অবাধ, সুষ্ঠু ও শান্তিপূর্ণ নির্বাচন নিশ্চিত করতে সব ধরনের প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। আসন বণ্টন অনুযায়ী, বিএনপি নেতৃত্বাধীন জোট ৩৬টি, বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী জোট ১৩টি এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীরা ১টি আসন পাবে।
শুক্রবার দুপুর থেকেই বিএনপির মনোনয়নপ্রত্যাশী ও তাদের সমর্থকরা গুলশান কার্যালয়ের সামনে জড়ো হতে থাকেন। নিরাপত্তাকর্মীরা কেবল প্রার্থীদের কার্যালয়ের ভেতরে প্রবেশের অনুমতি দিচ্ছেন। কার্যালয়ের ভেতরে প্রার্থীদের বসার জন্য একটি স্থান নির্ধারণ করা ছিল। সেখানে তাদের বসানো হচ্ছে।
১৮ দিন আগে
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে ১১ দলীয় জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা
জুলাই সনদ বাস্তবায়নের দাবিতে গণমিছিল, সভা-সমাবেশ, সেমিনারসহ নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী ও এনসিপির ১১ দলীয় জোট। ঘোষণা অনুযায়ী, ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত তাদের এ কর্মসূচি চলবে।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) এক সংবাদ সম্মেলনে এই কর্মসূচির ঘোষণা দেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
সংবাদ সম্মেলনের আগে জোটের শীর্ষ নেতারা জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমানের সভাপতিত্বে এক বৈঠকে এসব কর্মসূচির বিষয়ে সিদ্ধান্ত নেন। রাজধানীর মগবাজারের আল-ফালাহ মিলনায়তনে বৈঠকটি অনুষ্ঠিত হয়।
সংবাদ সম্মেলনে মিয়া গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের মাধ্যমে ৫ কোটি মানুষ বিদ্যমান রাষ্ট্রব্যবস্থার সংস্কার করে নতুন রাষ্ট্রকাঠামোর মধ্য দিয়ে উন্নয়ন ও অগ্রগতির লক্ষ্যে দলীয়করণ, দুর্নীতি, সন্ত্রাস ও চাঁদাবাজমুক্ত এবং একক ব্যক্তির কর্তৃত্ব থেকে দেশকে মুক্ত করতে চেয়েছিল। আমরা এখন বেদনার সঙ্গে দেখতে পাচ্ছি, ক্ষমতায় অধিষ্ঠিত বর্তমান সরকার তা থেকে ইউটার্ন করে নানান অজুহাত তুলে ব্যাখ্যা দিচ্ছে। জাতীয় সংসদে বিরোধী দলের কণ্ঠরোধ করে গুরুত্বপূর্ণ নানা ইস্যুতে বক্তব্য দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া ১৩৩টি অধ্যাদেশের প্রতি অবিচার করা হয়েছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
জ্বালানিমন্ত্রীর সমালোচনা করে তিনি বলেন, গণভোটের যে গণরায়, তা বাস্তবায়নই আমাদের আন্দোলনের প্রধানতম লক্ষ্য। কিন্তু, বিদ্যমান যে জনদুর্ভোগ, জ্বালানি সংকট চললেও জ্বালানিমন্ত্রী হাস্যকরভাবে বলছেন, দেশে কোনো জ্বালানি সংকট নেই। পেট্রোল পাম্পগুলোতে তেলের জন্য গাড়ির দীর্ঘ লাইন, গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা তেল পাচ্ছেন না। এমনকি সংসদ সদস্যরা তেল না পেয়ে সংসদে ক্ষোভ প্রকাশ করছেন।
তিনি আরও বলেন, সার সংকট জ্বালানি থেকেই তৈরি হচ্ছে। আধুনিক কৃষি যন্ত্রপাতি দিয়ে ফসল কাটা, মাড়াইয়ের জন্য জ্বালানি প্রয়োজন। আসন্ন বোরো মৌসুমেও জ্বালানির প্রয়োজন।
দেশের হাম পরিস্থিতি নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে গোলাম পরওয়ার বলেন, সারা দেশে দেড় লক্ষাধিক হামের রোগী সংকটাপন্ন অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি রয়েছেন। স্বাস্থ্যখাত একেবারে ভেঙে পড়েছে। স্বাস্থ্যমন্ত্রীর বক্তব্য ও হাসপাতালের চেহারা বিপরীত।
আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির চরম অবনতি হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, চাঁদাবাজি, খুনখারাবি ও দখলদারি আবারও চলছে। একটি দলের নেতৃত্বে বিভিন্ন দখলবাজি শুরু হয়েছে। ব্যাংক খাত ধ্বংস করা হয়েছে। এমন কোনো নজির আছে কি যে একটি দল ক্ষমতায় এসে দেড় মাসে ৪০-৪২ হাজার কোটি টাকা শুধু ব্যাংক থেকে ঋণ করেছে, প্রশ্ন তোলেন তিনি।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, ব্যাংকগুলো খালি করে নিজেদের সিন্ডিকেটের লোকদের হাতে তুলে দেওয়া হয়েছে। ব্যাংকগুলোয় আমানত রাখা কোটি কোটি সাধারণ গ্রাহক এখন রাজপথে নামছেন, কথা বলছেন। প্রশাসনে সচিবালয় থেকে শুরু করে সিভিল অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের অধস্তন পর্যন্ত দলীয়করণ, পদত্যাগে বাধ্য করা, ওএসডি করে ফ্যাসিবাদী কায়দায় সব সরিয়ে দিচ্ছে সরকার। দৃশ্যত, শাসন ও রাষ্ট্রব্যবস্থায় কোনো গুণগত পরিবর্তন হয়নি।
গোলাম পরওয়ার বলেন, গণভোটের গণরায়কে বাস্তবায়নের চলমান আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা পরিস্থিতির আলোকে দফায় দফায় বৈঠক করছেন। জনদুর্ভোগ কমানোর দাবিতে ১১ দলের আন্দোলন চলবে বলেও জানান তিনি।
এ সময় তিনি জোটের নতুন কর্মসূচি ঘোষণা করেন। ঘোষণা অনুযায়ী, আগামী ১৮ এপ্রিল রাজধানীতে গণমিছিল করবে ১১ দলীয় জোট। এরপর ২৫ এপ্রিল রাজধানী বাদে অন্যসব মহানগরীতে গণমিছিল করবে তারা। তারপর ২ মে সব জেলা শহরে গণমিছিল।
এছাড়া ১৮ এপ্রিল থেকে ২ মে পর্যন্ত জোটের পক্ষ থেকে সারা দেশে লিফলেট বিতরণ এবং সকল মহানগরী ও গুরুত্বপূর্ণ জেলা শহরে সেমিনার আয়োজন করা হবে।
এ ছাড়াও পরবর্তী কর্মসূচি হিসেবে সকল বিভাগে জনসভা করা হবে। সেখানে ১১ দলের শীর্ষ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। এর মধ্যে সরকার গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে ঢাকায় মহাসমাবেশ করা হবে বলেও ঘোষণা দেন তিনি।
এ সময় অন্যান্যের মধ্যে বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ ও জাতীয় নাগরিক পার্টির আহ্বায়ক নাহিদ ইসলাম, এলডিপির চেয়ারম্যান ড. কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বীর বিক্রম, বাংলাদেশ খেলাফত মজলিসের আমির মামুনুল হক, বাংলাদেশ লেবার পার্টির চেয়ারম্যান ডা. মোস্তাফিজুর রহমান ইরান, এবি পার্টির মহাসচিব ব্যারিস্টার আসাদুজ্জামান ফুয়াদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।
১৯ দিন আগে
রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলা প্রত্যাহারে পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার: আইনমন্ত্রী
বিগত আওয়ামী লীগ (কার্যক্রম নিষিদ্ধ) সরকারের আমলে দায়ের করা রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো প্রত্যাহারে সরকার কার্যকর উদ্যোগ নিয়েছে বলে জানিয়েছেন আইন, বিচার ও সংসদবিষয়ক মন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান। এ লক্ষ্যে ইতোমধ্যে জেলা ও কেন্দ্রীয় পর্যায়ে দুটি কমিটি গঠন করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদ অধিবেশনে প্রশ্নোত্তর পর্বে সংসদ সদস্য মনোয়ার হোসেনের এক প্রশ্নের লিখিত জবাবে আইনমন্ত্রী এ কথা জানান।
মন্ত্রী বলেন, রাজনৈতিক হয়রানিমূলক মামলাগুলো যাচাই-বাছাই এবং প্রত্যাহারের সুপারিশ করতে সরকার ইতোমধ্যে দুটি কমিটি গঠন করেছে। গত ৫ মার্চ জেলা প্রশাসক (ডিসি)-এর সমন্বয়ে ৪ সদস্যবিশিষ্ট জেলা পর্যায়ের একটি কমিটি গঠন করা হয়।
জেলা কমিটির সুপারিশগুলো চূড়ান্তভাবে পর্যালোচনার জন্য ৮ মার্চ আইনমন্ত্রীকে আহ্বায়ক করে ৬ সদস্যের একটি কেন্দ্রীয় কমিটিও গঠন করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এর আগে অন্তর্বর্তী সরকারের সময় গঠিত কমিটির নীতিগত সিদ্ধান্ত অনুযায়ী কোনো হত্যা মামলা প্রত্যাহার করা হয়নি। তবে বর্তমান প্রক্রিয়ায় সংসদ সদস্যসহ যেকোনো ব্যক্তির বিরুদ্ধে দায়ের করা রাজনৈতিক, মিথ্যা ও হয়রানিমূলক মামলা, এমনকি হত্যা মামলাও যথাযথ প্রক্রিয়ায় আবেদন করা হলে তা উভয় কমিটি পর্যালোচনা করবে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, যদি কোনো মামলা রাজনৈতিক প্রতিহিংসামূলক হিসেবে প্রমাণিত হয়, তাহলে তা প্রত্যাহারের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
তিনি আরও বলেন, সরকার রাজনৈতিক উদ্দেশ্যে দায়েরকৃত হয়রানিমূলক মামলা থেকে ভুক্তভোগীদের প্রতিকার প্রদানে আন্তরিকভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অধিবেশনে আইনমন্ত্রী আশ্বস্ত করেন, জেলা পর্যায় থেকে আসা সুপারিশগুলো কেন্দ্রীয় কমিটি নিয়মিতভাবে পরীক্ষা-নিরীক্ষা করছে এবং মামলা প্রত্যাহারের কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
১৯ দিন আগে
অধস্তন আদালতে ৪০ লাখ ৪২ হাজার মামলা বিচারাধীন: আইনমন্ত্রী
২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত অধস্তন আদালতে ৪০ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি মামলা বিচারাধীন বলে জানিয়েছেন আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) জাতীয় সংসদে ময়মনসিংহ-৬ আসনের বিরোধী দলের সদস্য মো. কামরুল হাসানের টেবিলে উপস্থাপিত এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
আইনমন্ত্রী বলেন, ২০২৫ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত সারা দেশের নিম্ন আদালতে মোট ৪ লাখ ৪১ হাজার ৯২৪টি মামলা বিচারাধীন ছিল। মামলার এই বিশাল জট দ্রুত ও কার্যকরভাবে নিরসনের জন্য সরকার বহুমুখী পদক্ষেপ গ্রহণ করেছে।
তিনি জানান, বিচারপ্রার্থী মানুষের দুর্ভোগ লাঘব এবং দ্রুত, স্বচ্ছ ও সাশ্রয়ী বিচার নিশ্চিত করতে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ। গৃহীত পদক্ষেপগুলো পর্যায়ক্রমে বাস্তবায়িত হলে সারা দেশে বিচারাধীন মামলার সংখ্যা উল্লেখযোগ্যভাবে কমবে এবং জনগণ দ্রুত ন্যায়বিচার পাবে বলে সরকার আশাবাদী। এছাড়া মামলার জট কমানো ও ন্যায়বিচারের মান উন্নয়নে জনগণের যেকোনো সুপারিশও আইন মন্ত্রণালয় গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করবে।
তিনি আরও জানান, ‘দ্য কোড অব সিভিল প্রসিডিউর, ১৯০৮’-এ যুগোপযোগী সংশোধন আনা হয়েছে। এ লক্ষ্যে ‘দ্য কোড অব সিভিল প্রসিডিউর (সংশোধন) বিল, ২০২৬’ সংসদে পাস হয়েছে। এতে এসএমএস ও ভয়েস কলের মাধ্যমে সমন জারির বিধান যুক্ত করা হয়েছে। অ্যাফিডেভিটের মাধ্যমে আরজি ও লিখিত জবাব দাখিল এবং সরাসরি জেরা করার বিধানও সংযোজন করা হয়েছে। পাশাপাশি ডিক্রি জারির জন্য আলাদা মামলা না করে মূল মামলায় সরাসরি দরখাস্ত দাখিলের সুযোগ রাখা হয়েছে।
মো. আসাদুজ্জামান বলেন, তথ্য প্রযুক্তি ব্যবহার আইন, ২০২০-এর আওতায় মামলার তদন্ত কর্মকর্তা, চিকিৎসক এবং আসামির দোষ স্বীকারোক্তি রেকর্ডকারী ম্যাজিস্ট্রেটের সাক্ষ্য অনলাইনে গ্রহণ করা হচ্ছে।
তিনি আরও জানান, মামলার জট নিরসনে এরই মধ্যে ৮৭১টি আদালত সৃষ্টি এবং ২৩২টি বিচারকের পদ সৃষ্টি করা হয়েছে, আরও ৩০৪টি বিচারকের পদ সৃষ্টির প্রক্রিয়া চলছে এবং ১৫০ জন সিভিল জজ নিয়োগের কাজ চলমান রয়েছে। বাংলাদেশ জুডিশিয়াল সার্ভিস কমিশনের মাধ্যমে ৭০৮ জন বিচার বিভাগীয় কর্মচারী নিয়োগের সুপারিশ করা হয়েছে। আরও ৫৫৩ জন কর্মচারীর নিয়োগ কার্যক্রম চলমান রয়েছে।
মন্ত্রী জানান, নারী ও শিশু নির্যাতনের মামলাসহ আলোচিত মামলার তদন্ত ও বিচার কার্যক্রম দ্রুত করতে সলিসিটরের সভাপতিত্বে একটি বিশেষ কমিটি গঠন করা হয়েছে। এছাড়া আইনগত সহায়তা সেবা জোরদারে জেলা লিগ্যাল এইড অফিসে বিচারকের সংখ্যা বৃদ্ধি, অভিজ্ঞ মধ্যস্থতাকারী নিয়োগ এবং বিনামূল্যে আইনি সহায়তার জন্য ‘১৬৬৯৯’ হটলাইন চালু করা হয়েছে।
তিনি জানান, অধস্তন ও উচ্চ আদালতের কজলিস্ট শতভাগ অনলাইনে আনা হয়েছে। ফলে মানুষ ঘরে বসেই মামলার তারিখ জানতে পারছে। এতে বিচার প্রক্রিয়ায় স্বচ্ছতা বেড়েছে এবং হয়রানি কমেছে।
মো. আসাদুজ্জামান জানান, বিয়ে ও তালাক নিবন্ধনে আইসিটি অবকাঠামো উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায় ১০টি জেলার ১০২টি ইউনিয়নে মুসলিম বিবাহ আইন অনুযায়ী অনলাইনে বিয়ে ও তালাক নিবন্ধন কার্যক্রম শিগগিরই চালু হবে। এটি বাস্তবায়িত হলে বিয়ে ও তালাক-সংক্রান্ত জালিয়াতি রোধ এবং এ সংক্রান্ত মামলার সংখ্যা হ্রাস পাবে।
১৯ দিন আগে
প্রথম-দ্বিতীয় শ্রেণির চাকরিতে ৯৩ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ হচ্ছে: জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী
২০২৪ সালের জুলাই মাসে জারিকৃত একটি পরিপত্র অনুযায়ী সরকারি চাকরির প্রথম ও দ্বিতীয় শ্রেণিতে নিয়োগের ক্ষেত্রে ৯৩ শতাংশ মেধার ভিত্তিতে নিয়োগ দেওয়া হচ্ছে বলে জানিয়েছেন জনপ্রশাসন প্রতিমন্ত্রী মো. আব্দুল বারী।
বৃহস্পতিবার (১৬ এপ্রিল) সংসদে বিরোধী দল জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য মো. নুরুল ইসলামের (চাঁপাইনবাবগঞ্জ-৩) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে তিনি এ তথ্য জানান।
প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৪ সালের ২৩ জুলাই জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে জারিকৃত একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, ৯৩ শতাংশ পদ মেধার ভিত্তিতে পূরণ করা হচ্ছে, ৫ শতাংশ পদ মুক্তিযোদ্ধা, শহিদ মুক্তিযোদ্ধা ও বীরাঙ্গনাদের সন্তানদের জন্য সংরক্ষিত; ১ শতাংশ ক্ষুদ্র নৃগোষ্ঠীর জন্য এবং ১ শতাংশ পদ প্রতিবন্ধী ও তৃতীয় লিঙ্গের ব্যক্তিদের জন্য সংরক্ষিত।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য মো. শামসুর রহমান শিমুল বিশ্বাসের (পাবনা-৫) অন্য এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে আব্দুল বারী বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের ১৬ বছরের শাসনামলে বিসিএস প্রশাসন ক্যাডারের ১২ জন কর্মকর্তাকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছিল, ৩৯ জনকে চাকরি থেকে বরখাস্ত করা হয়েছিল এবং ৫৬৪ জন কর্মকর্তাকে বিশেষ ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওএসডি) করা হয়েছিল।
তিনি আরও বলেন, বিগত আওয়ামী লীগ সরকারের আমলে বিসিএস ক্যাডার নিয়োগে দুর্নীতি ও রাজনীতিকরণের অভিযোগ বর্তমানে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এবং অন্যান্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থা তদন্ত করছে। তদন্ত প্রতিবেদন এবং সুপারিশের ভিত্তিতে আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে জানান তিনি।
সরকারি দলের সংসদ সদস্য সরওয়ার জামাল নিজামের (চট্টগ্রাম-১৩) এক তারকা চিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী জানান, ২০২৩ সালের ৩১ ডিসেম্বর পর্যন্ত জনবলের হালনাগাদ তথ্যের ভিত্তিতে প্রকাশিত ‘সরকারি কর্মচারী পরিসংখ্যান ২০২৪’ অনুযায়ী, সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি দপ্তরে মোট শূন্য পদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি।
এর মধ্যে প্রথম থেকে নবম গ্রেডের শূন্য পদ ৬৮ হাজার ৮৮৪টি, দশম থেকে দ্বাদশ গ্রেডের ১ লাখ ২৯ হাজার ১৬৬টি, ত্রয়োদশ থেকে ষোড়শতম গ্রেডের ১ লাখ ৪৬ হাজার ৭৯৯টি এবং সপ্তদশ থেকে বিংশতম গ্রেডের পদ সংখ্যা ১ লাখ ১৫ হাজার ২৩৫টি। এছাড়া সম্মানি, নির্ধারিত বেতন এবং চুক্তিভিত্তিক ক্যাটাগরিতে ৮ হাজার ১৩৬টি শূন্য পদ রয়েছে।
তিনি বলেন, এসব শূন্যপদ পূরণের জন্য ছয় মাস, এক বছর এবং পাঁচ বছর মেয়াদি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়ন করা হয়েছে। ছয় মাসের মধ্যে জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয়ের ২ হাজার ৮৭৯টি, এক বছরের মধ্যে ৪ হাজার ৪৫৯টি এবং পাঁচ বছরের মধ্যে ৩ হাজার ১১০টি শূন্যপদে নিয়োগ কার্যক্রম সম্পন্ন করা হবে।
তিনি আরও জানান, সর্বশেষ হালনাগাদ অনুযায়ী সব মন্ত্রণালয় ও সরকারি অফিসগুলোর শূন্যপদের সংখ্যা ৪ লাখ ৬৮ হাজার ২২০টি। কর্মপরিকল্পনায় বর্ণিত ‘স্বচ্ছতা ও দ্রুততার সঙ্গে পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারীর নিয়োগ’-এর বিষয়ে অন্যান্য মন্ত্রণালয় বা বিভাগের নিয়োগের সর্বশেষ অবস্থা এবং শূন্য পদে নিয়োগের তথ্য পাঠানোর জন্য জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় থেকে চিঠি দেওয়া হয়েছে।
১৯ দিন আগে