রাজনীতি
রাজনৈতিক দলগুলো বোঝাপড়ার মধ্যে না থাকলে গণতন্ত্র আবারও বিপন্ন হবে: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, রাজনৈতিক দলগুলো বোঝাপড়ার মধ্যে না থাকলে আবারও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। এই বিপন্ন হওয়ার মধ্যে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাটাও বিপন্ন হতে পারে।
সোমবার (২০ জুলাই) রাজধানীর ইন্টারন্যাশনাল ইউনিভার্সিটি অব বিজনেস এগ্রিকালচার অ্যান্ড টেকনোলজির (আইইউবিএটি) অডিটোরিয়ামে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ কথা বলেন।
রুহুল কবির রিজভী বলেন, রাজনৈতিক দলগুলো মিলিতভাবে ন্যূনতম প্রধান বিষয়ে একটা ন্যূনতম বোঝাপড়ার মধ্যে থাকতে হবে। এই বোঝাপড়ার মধ্যে না থাকলে আবারও গণতন্ত্র বিপন্ন হবে। এই বিপন্ন হওয়ার মধ্যে দেশের স্বাধীনতা-সার্বভৌমত্বের সুরক্ষাটাও বিপন্ন হতে পারে।
জুলাইয়ের স্মৃতিচারণ করে এই রাজনীতিক বলেন, এই জুলাই, ১৮ জুলাই, সেই বেদনাবিধুর স্মৃতি আমরা এখনও ভুলে যাইনি।
তিনি বলেন, সেই মুগ্ধ যে শহিদ হয়েছেন, আমরা তার কথা তো ভুলতে পারি না। একজন ভয়ঙ্কর দানব রাষ্ট্রক্ষমতায় টিকে ছিলেন জোর করে সমস্ত প্রতিষ্ঠানকে ভেঙে। নির্বাচন কমিশন, বিভিন্ন গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান; গণতন্ত্র যেখান থেকে শক্তিশালী হয়, সেই বিচারব্যবস্থা, ইলেকশন কমিশন, মিডিয়া— সবকিছুকে ভেঙে তছনছ করে দিয়েছেন তিনি। তিনি যা বলবেন মিডিয়ায় তাই প্রচার করতে হবে—এমন অবস্থা ছিল। মুগ্ধদের আত্মত্যাগের বিনিময়ে সেই দানবকে দমন করা হয়েছে বলে মন্তব্য করেন তিনি।
বিএনপির এই নেতা বলেন, এই ধরনের একটি ভয়ঙ্কর দানবীয় রাষ্ট্র থেকে কমপক্ষে গণতন্ত্রের কিছুটা আলো দেখানোর চেষ্টা হয়েছে জুলাই-আগস্টের এই পরিবর্তনের মধ্যে। একটা অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনের তো কমপক্ষে ব্যবস্থা হয়েছে। কমপক্ষে কেউ যদি সরকারের জোরালো সমালোচনা করেন, সে গুম হবেন—এই পরিস্থিতি তো আর নেই। কেউ বিচারবহির্ভূত হত্যার শিকার হবেন—এই পরিস্থিতি তো আর নেই। কথা বলা, সমালোচনা করা, এটা তো একটা গণতান্ত্রিক সমাজের একটা অন্যতম অপরিহার্য উপাদান, সেটি তখন ছিল না; জুলাই আমাদের সেটি নিশ্চিত করেছে। তাই জুলাইয়ের তাৎপর্য অত্যন্ত গভীর এবং তীক্ষ্ণ। এই তাৎপর্যকে আমাদের আরও উপলব্ধি করতে হবে এবং আমাদের রাষ্ট্রীয় গণতন্ত্রের বিকাশের জন্য যে সমস্ত কাজগুলো আমাদের বাকি আছে সে কাজগুলো আমাদের করতে হবে।
তিনি বলেন, জুলাই সনদ এটা নিয়ে সরকার বা সরকারি দল, সরকারের সঙ্গে বিরোধী দলগুলো আলোচনা করে আরও যদি কিছু সেখানে কথা বলার থাকে, কিছু সংযোজন করার থাকে, সেটা করতে অসুবিধা কোথায়? সেটা করে যেগুলো আইনিকরণ করা দরকার সংসদে, যেগুলো সংবিধানে সংশোধন করা দরকার, সেগুলো করে আমাদের জুলাই সনদকে প্রতিষ্ঠা করতে হবে। কিন্তু সেটার জন্য একটা টেবিলে বসতে হবে, বসে কথা বলে ঠিক করে এটিকে আইনিকরণ করা সম্পন্ন করতে হবে।
১৪ দিন আগে
স্থানীয় সরকার নির্বাচন কে করবে না করবে, তা আদালত ও ইসির বিষয়: রিজভী
বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনে কে অংশ নিতে পারবে, আর কে পারবে না—সেটি আদালত ও নির্বাচন কমিশনের (ইসি) বিষয়। এ বিষয়ে অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের বক্তব্য বিবেচ্য নয়।
রবিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর আগারগাঁওয়ে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে বিএনপির পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দিতে এসে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
স্থানীয় নির্বাচনে জামায়াতে ইসলামী কার্যক্রম নিষিদ্ধ আওয়ামী লীগের অংশগ্রহণ নিষিদ্ধ চেয়েছে, এক্ষেত্রে বিএনপির অবস্থান কী—জানতে চাইলে রিজভী বলেন, আমাদের প্রার্থিতা কীভাবে বাছাই হবে, সেটা আমাদের দলের বিষয়। এবার যেহেতু দলীয় প্রতীক নিয়ে নির্বাচন হচ্ছে না, সেক্ষেত্রে কে নির্বাচন করবে, কে করবে না—এটা আদালতের বিষয়, এটা নির্বাচন কমিশনের বিষয়। তারা প্রচলিত আইন এবং নতুন প্রণীত আইন অনুযায়ী বিষয়টি নির্ধারণ করবেন।
তিনি বলেন, অন্য রাজনৈতিক দল কী বলল, না বলল—সেটা বিষয় নয়। প্রচলিত আইন অনুযায়ী কারা নির্বাচনে অংশ নিতে পারবেন বা পারবেন না, সেটি পর্যবেক্ষণ ও সিদ্ধান্ত নেওয়ার দায়িত্ব সম্পূর্ণ নির্বাচন কমিশনের। আমরা বিষয়টি তাদের ওপরই ছেড়ে দিয়েছি।
বিএনপির প্রার্থিতা কীভাবে বাছাই করা হবে—এমন প্রশ্নের জবাবে রিজভী বলেন, দল এবং আমাদের সর্বোচ্চ নীতিনির্ধারণী ফোরাম এ বিষয়ে বসে সিদ্ধান্ত নেবে। এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো সিদ্ধান্ত হয়নি।
ডিসেম্বরে বিএনপির জাতীয় কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এ বিষয়ে দলের পক্ষ থেকে আগেই ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। দলের মহাসচিব বলেছেন, চেয়ারম্যান এবং মাননীয় প্রধানমন্ত্রীও বলেছেন, কাউন্সিল হবেই। তবে কোন মাসে, কবে হবে—সেটি এখনও চূড়ান্ত হয়নি।
তিনি বলেন, খুব দ্রুতই কাউন্সিল অনুষ্ঠিত হবে বলে আমরা আশা করছি। তারিখ ও সময় নির্ধারণ হলে তা আপনাদের জানিয়ে দেওয়া হবে।
এর আগে, দুপুর ১২টার পর নির্বাচন কমিশন সচিবালয়ে গিয়ে আনুষ্ঠানিকভাবে দলের আয়-ব্যয়ের হিসাব জমা দেয় বিএনপির একটি প্রতিনিধি দল। রুহুল কবির রিজভীর নেতৃত্বাধীন প্রতিনিধিদলে আরও ছিলেন দলের কোষাধ্যক্ষ ও বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন প্রতিমন্ত্রী এম রাশিদুজ্জামান মিল্লাত এবং সহকারী দপ্তর সম্পাদক মনির হোসেন।
তারা নির্বাচন কমিশনের জ্যেষ্ঠ সচিব আখতার হোসেনের কাছে দলটির নিরীক্ষিত বার্ষিক আর্থিক প্রতিবেদন (অডিট রিপোর্ট) হস্তান্তর করেন।
বিএনপির দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, সর্বশেষ পঞ্জিকাবর্ষে তাদের মোট আয় হয়েছে ২২ কোটি ২৬ লাখ টাকা এবং ব্যয় হয়েছে ১৫ কোটি ১৯ লাখ টাকা। বর্তমানে বিএনপির দলীয় তহবিলে উদ্বৃত্ত বা জমা রয়েছে ৬ কোটি ৭ লাখ টাকা।
সাধারণত দলের সদস্যদের নিয়মিত চাঁদা, বিভিন্ন ব্যক্তি ও শুভাকাঙ্ক্ষীদের দেওয়া অনুদান এবং দলীয় মনোনয়ন ফরম বিক্রির অর্থ থেকে আয় দেখায় রাজনৈতিক দলগুলো। অন্যদিকে, দলের সারা বছরের সাংগঠনিক কর্মকাণ্ড পরিচালনা, রাজনৈতিক কর্মসূচি বাস্তবায়ন, প্রচারপত্র ও পোস্টার প্রকাশনা, কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় কার্যালয়গুলোর রক্ষণাবেক্ষণ খরচ, কর্মকর্তা-কর্মচারীদের বেতন এবং দুঃস্থ নেতাকর্মীদের সহায়তার খাতে ব্যয়ের হিসাব দেখায়।
গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ (আরপিও) অনুযায়ী, বাংলাদেশে নিবন্ধিত প্রতিটি রাজনৈতিক দলের জন্য প্রতি বছর ৩১ জুলাইয়ের মধ্যে পূর্ববর্তী পঞ্জিকা বছরের আয়-ব্যয়ের অডিট রিপোর্ট নির্বাচন কমিশনে জমা দেওয়া বাধ্যতামূলক। কোনো দল পর পর তিন বছর হিসাব জমা দিতে ব্যর্থ হলে তাদের নিবন্ধন বাতিলের আইনি বিধান রয়েছে।
১৫ দিন আগে
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে, যা অনাকাঙ্ক্ষিত। এ বিষয়ে অপ্রয়োজনীয় বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত এবং আলোচনা ও সংসদীয় প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সংবিধান সংস্কারের কাজ এগিয়ে নেওয়া প্রয়োজন।
রবিবার (১৯ জুলাই) সকালে রাজধানীর রমনায় ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, এখন আমাদের কিছু অঙ্গীকার আছে। তার মধ্যে ৩১ দফা বাস্তবায়নের অঙ্গীকার আছে। জুলাই সনদে আমরা স্বাক্ষর করেছি, সেটি বাস্তবায়নেরও অঙ্গীকার আছে। আমরা এগুলো পুরোপুরি বাস্তবায়নের চেষ্টা করছি।
তিনি বলেন, আমার খুব খারাপ লাগে, যখন দেখি যে কতগুলো বিষয় নিয়ে মানুষকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হয়। তার মধ্যে একটি জুলাই সনদ।
মন্ত্রী বলেন, জুলাই সনদে সব রাজনৈতিক দলের স্বাক্ষর রয়েছে। সেখানে স্পষ্টভাবে বলা হয়েছে, যেসব বিষয়ে রাজনৈতিক দলগুলোর মধ্যে ঐকমত্য হয়নি, নির্বাচনের মাধ্যমে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্বে গেলে তারা নিজ নিজ নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সেসব বিষয়ে কাজ করবে। ‘এ বিষয়টি আমরা কেন যেন এড়িয়ে যাচ্ছি। এ নিয়ে বিতর্কের অবসান হওয়া উচিত’, বলেন তিনি।
সংবিধান সংস্কারের বিষয়ে তিনি বলেন, সাধারণ আলোচনার মধ্যেই বিষয়গুলোর সমাধান হতে পারে। সংসদে সুযোগ এসেছে, একটি কমিটিও গঠন করা হয়েছে। আমার আহ্বান থাকবে, সবাই সেই কমিটিতে যোগ দিয়ে সংবিধানের যেসব বিষয় পরিবর্তন করা প্রয়োজন, সেগুলোতে সহযোগিতা করবেন।
স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, আন্দোলন আমরা অনেক করেছি, অনেক রক্তও দিয়েছি। এবার দেখা যাক, আলোচনার মাধ্যমে সংসদে কোনো ঐকমত্যে পৌঁছানো যায় কি না। এটাই আমার আহ্বান। তিনি বলেন, আমার এই শেষ বয়সে আমি এমন একটি বাংলাদেশ দেখতে চাই, যেখানে আগামী প্রজন্মকে আর মারামারি, কাটাকাটি বা প্রাণ দিতে হবে না। সবকিছু একেবারে নাকচ করে দেওয়ার প্রবণতা থেকে বেরিয়ে এসে আলোচনার মধ্য দিয়ে এগোনো উচিত।
১৫ দিন আগে
সংগ্রাম শেষ হয়নি, রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে: মির্জা ফখরুল
স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায়মন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, দীর্ঘ আন্দোলন-সংগ্রাম ও অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগের মধ্য দিয়ে দেশে গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের নতুন সুযোগ সৃষ্টি হয়েছে। তবে সংগ্রাম শেষ হয়নি; ন্যায়, ইনসাফ ও আইনের শাসনভিত্তিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে রাষ্ট্র সংস্কারের কাজ শুরু হয়েছে। এই কর্মকাণ্ড এগিয়ে নিতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (১৯ জুলাই) রাজধানীর ইঞ্জিনিয়ার্স ইনস্টিটিউশন মিলনায়তনে ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিল (এনইসি) আয়োজিত ‘জুলাই শহিদ সাংবাদিক সম্মাননা’ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
অনুষ্ঠানে সভাপতিত্ব করেন ন্যাশনাল এডিটরস কাউন্সিলের সভাপতি ও দৈনিক আমার দেশের সম্পাদক মাহমুদুর রহমান। অনুষ্ঠানে জুলাইয়ের শহিদ সাংবাদিকদের পরিবারের সদস্যদের সম্মাননা স্মারক প্রদান করা হয়। পাশাপাশি প্রতিটি পরিবারকে এক লাখ টাকা করে আর্থিক সহায়তা দেওয়া হয়।
প্রধান অতিথির বক্তব্যে মির্জা ফখরুল বলেন, অতীতে একদলীয় শাসনব্যবস্থা কায়েমের লক্ষ্যে দেশের গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠানগুলোকে দুর্বল করে দেওয়া হয়েছিল। দীর্ঘ সময় ধরে রাজনৈতিক দমন-পীড়ন, গুম, নির্যাতন, অসংখ্য মামলা এবং বিরোধী মত দমনের কারণে গণতান্ত্রিক পরিবেশ মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইতিহাসের এই অধ্যায় থেকে শিক্ষা নিয়েই ভবিষ্যতের বাংলাদেশ গড়ে তুলতে হবে।
তিনি বলেন, স্বাধীনতার পর জনগণের প্রত্যাশা পুরোপুরি বাস্তবায়িত না হওয়ায় দেশে বারবার গণতন্ত্রের দাবিতে আন্দোলন গড়ে উঠেছে। সাম্প্রতিক আন্দোলনও গণতন্ত্র পুনরুদ্ধারের একটি গুরুত্বপূর্ণ অধ্যায়, যেখানে অসংখ্য মানুষের আত্মত্যাগ নতুন সম্ভাবনার দ্বার উন্মোচন করেছে।
মন্ত্রী বলেন, ফ্যাসিবাদী শাসনের অবসানের পর জনগণের ভোটে একটি গণতান্ত্রিক সরকার প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। তবে দীর্ঘ ১৫ থেকে ১৬ বছরের লুটপাট, অনিয়ম, অব্যবস্থাপনা এবং প্রাতিষ্ঠানিক ক্ষয় অল্প সময়ে দূর করা সম্ভব নয়। তা সত্ত্বেও রাষ্ট্র সংস্কার ও উন্নয়নের কাজ শুরু হয়েছে এবং ধীরে ধীরে সেই প্রচেষ্টা এগিয়ে যাচ্ছে। জনগণের আস্থা ও অংশগ্রহণের মাধ্যমেই এই অগ্রযাত্রা সফল হবে বলে তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি আরও বলেন, একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক ও গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সংগ্রাম কখনো শেষ হয় না। জনগণের অধিকার, ন্যায়বিচার ও সুশাসন নিশ্চিত করতে রাজনৈতিক দল, গণমাধ্যম এবং সমাজের সব গণতান্ত্রিক শক্তিকে দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।
১৫ দিন আগে
জুলাই সনদ বাস্তবায়নে বিএনপি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, জনগণের মাঝে বিভ্রান্তি ছড়ানোর জন্য বিরোধীদের দোষলেন ফখরুল
বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, জুলাই জাতীয় সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়নে তার দল প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। একইসঙ্গে, বিএনপি এটি করতে চায় না বলে বিরোধীরা জনগণের মধ্যে বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে বলেও তিনি অভিযোগ করেন।
রাজধানীর জাতীয় প্রেস ক্লাবে ‘এমাজউদ্দীন আহমদ রিসার্চ সেন্টার’ আয়োজিত ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাবেক উপাচার্য অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের ষষ্ঠ মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এসব কথা বলেন।
মির্জা ফখরুল বলেন, নির্বাচনে জনগণের সামনে উপস্থাপিত ইশতেহারের ভিত্তিতে বিএনপি সংসদে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করেছে।
তিনি বলেন, জনগণ সেই ইশতেহারের ওপর ভিত্তি করেই আমাদের ভোট দিয়েছে। বিএনপিকে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে রাষ্ট্র পরিচালনার দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। তাই এই বিষয়ে বিভ্রান্তির কোনো সুযোগ আছে বলে আমি মনে করি না।
জুলাই সনদ বাস্তবায়ন নিয়ে বিরোধীদের সাম্প্রতিক বক্তব্যের জবাবে বিএনপি নেতা অভিযোগ করেন যে, জনগণকে বিভ্রান্ত করার চেষ্টা করা হচ্ছে।
তিনি উল্লেখ করেন, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনে যৌথভাবে অংশগ্রহণকারী সকল দল একসঙ্গে জুলাই সনদে স্বাক্ষর করেছিল এবং বিএনপি এর প্রতিটি শব্দ বাস্তবায়নে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। তিনি বলেন, আমরা বারবার বলেছি যে আমরা জুলাই সনদের প্রতিটি ধারা বাস্তবায়ন করব। এটি আমাদের অঙ্গীকার।
তবে ফখরুল জানান, প্রস্তাবিত সংসদের উচ্চকক্ষে আনুপাতিক প্রতিনিধিত্ব পদ্ধতির মতো কিছু প্রস্তাবের সঙ্গে বিএনপি কখনোই একমত হয়নি।
তিনি বলেন, সংস্কার কমিশন বিএনপির সম্মতি ছাড়াই বেশ কিছু সুপারিশ অন্তর্ভুক্ত করেছে। অথচ জুলাই সনদেই স্পষ্টভাবে উল্লেখ রয়েছে যে, জনগণের দ্বারা নির্বাচিত দলগুলো তাদের নিজ নিজ নির্বাচনি ইশতেহার অনুযায়ী সংস্কার বাস্তবায়ন করবে।
বিএনপির এ নেতা বলেন, আমরা যেভাবে আমাদের ৩১ দফা সংস্কার কর্মসূচির প্রতি প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, ঠিক একইভাবে জুলাই সনদের প্রতিও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। আমরা যেভাবে অঙ্গীকার করেছি, সেভাবেই এই সনদ বাস্তবায়ন করব। আমরা এটি বাস্তবায়ন করতে চাই না—এমন কথা বলা সম্পূর্ণ ভুল।
বিএনপি সংস্কারের বিরোধী—এমন সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, বিএনপি নিজেই বাংলাদেশে প্রধান প্রধান গণতান্ত্রিক সংস্কারের সূচনা করেছিল।
ফখরুল বলেন, এই দেশে সংস্কারের প্রবর্তন কে করেছিল? বিএনপি করেছিল। একদলীয় শাসনের পর বিএনপি বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবর্তন করে। রাষ্ট্রপতি পদ্ধতির পর বিএনপি সংসদীয় পদ্ধতির সরকার ব্যবস্থা চালু করে। বিএনপিই তত্ত্বাবধায়ক সরকার ব্যবস্থার বিধান পাস করেছিল।
তিনি বিরোধীদের বিরুদ্ধে জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের ঐতিহ্যকে রাজনৈতিক স্বার্থে ব্যবহার করার চেষ্টার অভিযোগ আনেন। তিনি বলেন, তারা জুলাইকে কেবল ক্ষমতায় আসার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। আমরা চাই না জুলাই রাজনৈতিক ক্ষমতার আরেকটি হাতিয়ারে পরিণত হোক।
বিএনপি মহাসচিবের মতে, জুলাইয়ের অভ্যুত্থান কোনো বিচ্ছিন্ন ঘটনা ছিল না, বরং ফ্যাসিবাদী শাসনের বিরুদ্ধে দীর্ঘ ১৮-১৯ বছরের লড়াইয়ের চূড়ান্ত রূপ ছিল।
তিনি দাবি করেন, এই আন্দোলনে বিএনপির নেতা-কর্মীদের চড়া মূল্য দিতে হয়েছে। বিএনপির প্রায় ৬০ লাখ নেতা-কর্মী মিথ্যা মামলার মুখোমুখি হয়েছেন। ফ্যাসিবাদবিরোধী লড়াইয়ে প্রায় ১,৭০০ নেতা-কর্মী গুম হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষ নিহত হয়েছেন।
বাংলাদেশের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে ফখরুল বলেন, ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের ছাত্র-নেতৃত্বাধীন গণ-অভ্যুত্থান বছরের পর বছর ধরে চলা ফ্যাসিবাদী শাসনের পর একটি প্রকৃত গণতান্ত্রিক ও উদার গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সুযোগ তৈরি করেছে।
তবে দেশ পুনর্গঠন যে সহজ হবে না, তা তিনি স্বীকার করেন। তিনি বলেন, সমস্যাগুলো জটিল। দীর্ঘদিনের পুঞ্জীভূত সমস্যা রাতারাতি দূর হতে পারে না। আমরা তাৎক্ষণিকভাবে সবকিছু ঠিক করতে পারব না, তবে আমাদের ধৈর্য ধরে এগিয়ে যেতে হবে।
অধ্যাপক এমাজউদ্দীন আহমদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে বিএনপি নেতা তাকে একজন খাঁটি গণতন্ত্রকামী, উদার গণতন্ত্রের প্রবক্তা, অসামান্য রাষ্ট্রবিজ্ঞানী এবং এক মহান দেশপ্রেমিক হিসেবে বর্ণনা করেন।
তিনি স্মরণ করেন যে, ফ্যাসিবাদবিরোধী আন্দোলনের সময় এমাজউদ্দীনের বাসভবনে প্রায়ই বৈঠক হতো, যেখানে বুদ্ধিজীবীদের একত্রিত করে গণতন্ত্রের পক্ষে বিবৃতি তৈরি ও কৌশল নির্ধারণ করা হতো।
১৭ দিন আগে
দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকুন: গোলাম পরওয়ার
দেশকে সংঘাতের দিকে ঠেলে না দিয়ে সংসদে সংবিধান সংস্কার পরিষদের অধিবেশন ডাকতে বিএনপির প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল অধ্যাপক মিয়া গোলাম পরওয়ার।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) দুপুরে নরসিংদী শিশু একাডেমি মিলনায়তনে দলের সদস্য (রুকন) সম্মেলনে প্রধান অতিথির বক্তব্য শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিময়কালে তিনি এ আহ্বান জানান।
গোলাম পরওয়ার বলেন, জুলাই সনদের আইনি ভিত্তির জন্য যে গণভোট হয়েছে, সেই গণভোটের রায় মেনে নিয়ে এটা কার্যকর করে সংবিধানের সেই সংস্কারটা করেন। তাহলেই সংকটটা নিষ্পত্তি হয়ে যাবে। আর তা যদি না করেন, তাহলে রাজপথে যাওয়া ছাড়া আমাদের আর কোনো বিকল্প পথ থাকবে না।
শেখ হাসিনা দেশে ফেরার ব্যাপারে এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এটা আইনি ব্যাপার, সরকারের ব্যাপার। সরকারই তার দলীয় কার্যক্রম নিষিদ্ধ রেখেছে। সরকারই সিদ্ধান্ত নেবে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচারী সরকার জুলাই-আগস্টের সময় সাধারণ মানুষের ওপর যে নিষ্ঠুরতা, বর্বরতা, হত্যাকাণ্ড চালিয়েছে, মৃতদেহকে আগুনে পুড়িয়ে ছাই করে দিয়েছে। এমনকি হ্যালিকপ্টারে করে দেশের মানুষের ওপর নির্বিচারে গুলি করে হত্যা করেছে— সে ক্ষত চিহ্ন এখনও শুকায়নি। তারা যে অন্যায় করেছে তাদের বিচার হতে হবে, শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল বলেন, স্বৈরাচারী সরকার সংবিধান মানেনি, তাদের মধ্যে মানবিকতা ছিল না। স্বৈরাচারী সরকারকে জনগণ দেশ ত্যাগ করতে বাধ্য করেছে। বাংলাদেশে তাদের রাজনৈতিক অধিকার হবে কি হবে না, এটা এখন জনগণ সিদ্ধান্ত নেবে। এটা কোনো দলের একার সিদ্ধান্ত না। জুলাই গণঅভ্যুত্থানই বলে, ফ্যাসিবাদী রাজনীতির অস্তিত্ব এ দেশের মানুষ আর মানে না। গণভোটের রায় এটাই প্রমাণ করেছে।
তিনি আরও বলেন, স্বৈরাচার শেখ হাসিনা দিল্লিতে আশ্রয় পেয়েছেন, এ দেশের রাজনীতির যত গণ্ডগোল পাকানো, জুলুম করানো, কে ক্ষমতায় যাবে আর যাবে না, অর্থনীতি, রাজনীতি, ব্যবসা-বাণিজ্য, সংস্কৃতি— সব কিছুর রিমোট কন্ট্রোল তো ওনারাই করেছেন। সমস্ত আন্তর্জাতিক আইন, বন্দি বিনিময় আইন, জেনেভা কনভেনশন, সমস্ত কিছুকে লঙ্ঘন করে একজন মৃত্যুদণ্ডপ্রাপ্ত আসামিকে সব ধরণের প্রযুক্তিগত সুযোগসুবিধা ব্যবহারসহ আরাম আয়েশে দিল্লিতে থাকার সুযোগ দিয়েছে। এটা কোনোভাবেই স্বাভাবিক বলে মনে করা যাবে না।
নরসিংদী জেলা জামায়াতে ইসলামীর সংগঠক মো. ইব্রাহিম ভূঞার সভাপতিত্বে সদস্য সম্মেলনে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন কেন্দ্রীয় নির্বাহী পরিষদ সদস্য সাইফুল আলম খান মিলন এমপি, কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য মাওলানা আ ফ ম আব্দুস সাত্তার, কর্মপরিষদ সদস্য মশিউল আলমসহ প্রমুখ।
১৭ দিন আগে
অসহায় মুক্তা বেগম ও তার সন্তানের দায়িত্ব নিলেন লুৎফুজ্জামান বাবর
রাজধানীর পল্টনে ফুটপাতে থাকা অসহায় মুক্তা ও তার আড়াই বছরের শিশু মেহেদির দায়িত্ব নিয়েছেন নেত্রকোনা-৪ আসনের বিএনপির সংসদ সদস্য লুৎফুজ্জামান বাবর।
বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) দুপুরে আকস্মিকভাবে পুরানা পল্টনে এসে মুক্তাকে দেখে তার সঙ্গে কথা বলেন সাবেক স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী। শুনেন তার অজানা গল্প। তার জন্য নতুন ঠিকানার ব্যবস্থা করবেন বলে আশস্ত করেন।
সংসস সদস্য বাবর বলেন, ‘মোহনগঞ্জে তার বাড়ি, আমার নির্বাচনি এলাকা। যখন শুনলাম রাস্তায় এই অসহায় নারী তার ছোট সন্তানদের নিয়ে বসে থাকেন, অভুক্ত দিন কাটান— সেজন্য তার আছে ছুটে এসেছি। আফটার অল (যাইহোক), তিনি আমার এলাকার মানুষ।’
তিনি বলেন, তাকে বলেছি, আমি মোহনগঞ্জে তাকে একটি ছোট জায়গা দিয়ে বাড়ি বানিয়ে ঠিকানা করে দেব, ইনশাল্লাহ। সেখানেই তিনি থাকবেন। আর ভিক্ষাবৃত্তি করতে হবে না। তার ছোট ছেলেরও দায়িত্ব নিয়েছি আমি। এখন মুক্তা বেগমের জরুরি দরকার একটি চাকরির। তাকে একটি চাকরির ব্যবস্থা করে দেওয়া আমার প্রথম কাজ।
মুক্তা বেগম বলেন, ‘আমি এই দুনিয়ায় অসহায়। ছেলে-পেলে নিয়ে বছরের পর বছর এখানেই বসে থাকি।’
তিনি বলেন, ‘আমার দুই ছেলে এক মেয়ে। ছোট বাচ্চাটাকে দেখার মতো কেউ নাই। অনেক সময় আমি ঘুমাইয়া যাই, সেজন্য পোলাডাকে পায়ে দড়ি দিয়ে বাইন্দা ঘুমাই। যাতে কেউ নিয়ে না যায়। আজকে এমপি সাহেব আইছেন, কইছেন আমারে দেখব। আল্লাহ উনারে ভালো করুক।’
মুক্তা বেগমের বাড়ি মোহনগঞ্জ। তার দুই ছেলে এক মেয়ে। এক মাত্র মেয়েকে বিয়ে দিয়েছেন। দুই ছেলে সন্তান নিয়ে এখন তার পথচলা। এর মধ্যে বড় ছেলেটা মাদকে আসক্ত হয়ে আলাদা। এখন মূলত ছোট ছেলে মেহেদিকে নিয়েই তার সংসার।
১৮ দিন আগে
নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করায় কুষ্টিয়ায় জামায়াত নেতাকে অব্যাহতি
নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে চাকরি করার কারণে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি পদ থেকে সুজাউদ্দিন জোয়ার্দারকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। দলের নতুন সেক্রেটারি হয়েছেন শহর জামায়াতের আমির এনামুল হক।
সোমবার (১৩ জুলাই) রাতে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমির অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন গণমাধ্যমকর্মীদের কাছে এ তথ্য নিশ্চিত করেন।
এ বিষয়ে প্রকাশিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, কেন্দ্রীয় সংগঠনের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, কোনো পুরুষ সদস্য নারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত থাকলে তিনি বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সদস্যপদ (রুকন) সংশ্লিষ্ট দায়িত্ব পালন করতে পারবেন না। এ কারণে কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারি হিসেবে নতুন দায়িত্ব এনামুল হককে দেওয়া হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও উল্লেখ করা হয়, ১৩ জুলাই অনুষ্ঠিত জেলা কর্মপরিষদ বৈঠকে সর্বসম্মতিক্রমে এ সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
এ বিষয়ে অব্যাহতি পাওয়া সুজাউদ্দিন জোয়ার্দর জানান, সংগঠনের গঠনতন্ত্র অনুযায়ী, নারী শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কর্মরতরা রোকন বা কোনো দায়িত্বশীল পদে থাকতে পারবেন না। কেন্দ্রীয় কমিটি সারা দেশের রোকনদের জন্য এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এ কারণে তাকে পদ থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তবে এতে তার মনে কোনো ক্ষোভ বা কষ্ট নেই।
তিনি আরও জানান, জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি পদ লাভের আগেই তিনি বাগোয়ান ডক্টর ফজলুল হক গার্লস কলেজের শিক্ষক হিসেবে যোগ দেন। তবে গঠনতন্ত্রের এই ধারাটি তখন শিথিল ছিল বিধায় সে সময় তার সেক্রেটারি পদ পেতে বাধা হয়নি। চাকরি ছাড়লে পুনরায় স্বপদে বহাল রাখা হবে।
সদ্য দায়িত্ব পাওয়া জেলার সেক্রেটারি এনামুল হক বলেন, সর্বসম্মতিক্রমে আমাকে জেলার জামায়াতের সেক্রেটারি হিসেবে নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে।
ঘটনা সত্যতা নিশ্চিত করে কুষ্টিয়া জেলা জামায়াতের আমীর অধ্যক্ষ খন্দকার এ কে এম আলী মহসিন জানান, কেন্দ্রীয় কমিটির সিদ্ধান্ত হিসেবে, মহিলা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে কর্মরত সারা দেশে এমন সাত জনকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। তাৎক্ষণিক সর্বসম্মতিক্রমে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী কুষ্টিয়া জেলা শাখার সেক্রেটারির নতুন দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে শহর জামায়াতের আমীর এনামুল হককে।
২০ দিন আগে
এইচএসসি পরীক্ষা ইস্যু: সংলাপের মাধ্যমে সমাধানের আহ্বান ছাত্রদলের
এইচএসসি পরীক্ষা নিয়ে চলমান শিক্ষার্থী আন্দোলনের সমাধানে সংলাপের আহ্বান জানিয়েছে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল (জেসিডি)। সংগঠনটি বলেছে, সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ রয়েছে এবং সড়ক অবরোধ করে এ সমস্যার সমাধান সম্ভব নয়।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দুপুরে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ভিসি চত্বরে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীদের সঙ্গে আলোচনা শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের কেন্দ্রীয় সাধারণ সম্পাদক নাছির উদ্দিন নাছির।
তিনি বলেন, ‘আমি মনে করি আলাপ-আলোচনার সুযোগ রয়েছে। ছাত্রদল মনে করেছে, সরকারের সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনার সুযোগ আছে; সেজন্য আমরা প্রেস রিলিজ দিয়েছি। সুতরাং বিষয়টি আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে সুযোগ রয়েছে। কোনোভাবে সড়ক অবরোধ করে এই সমস্যার সমাধান করা যাবে না।’
নাছির উদ্দিন নাছির বলেন, ‘দেশের বিভিন্ন অঞ্চলে বন্যা পরিস্থিতি অবনতি হয়েছে সেজন্য সরকার চট্টগ্রাম বোর্ডে পরীক্ষা স্থগিত করেছে। এর বাইরে উত্তরাঞ্চলসহ কয়েকটি জেলায় বৃষ্টিপাত হয়েছে যেখানে শিক্ষার্থীরা কষ্ট করে পরীক্ষা দিয়েছে। এটি আমরা সকলেই অবগত হয়েছি। শিক্ষার্থীদের সাময়িক সময়ের জন্য পরীক্ষা স্থগিতকরণের দাবির সঙ্গে জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলও একই দাবি করেছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা শিক্ষার্থীদেরকে বলেছি, গত ১৭ বছর আওয়ামী লীগ সরকার কোনো দাবি করলে ছাত্রলীগের সন্ত্রাসীরা সেটির পক্ষে থাকত। কিন্তু ছাত্রদল সরকারের বিপক্ষে গিয়ে বলেছে, সিদ্ধান্ত পুনর্বিবেচনা করার জন্য এবং আমরা শুনেছি সরকার সিদ্ধান্ত বিবেচনের বিষয়ে আলাপ আলোচনা করছে।’
২০ দিন আগে
সারা দেশে এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা স্থগিত না করার কারণ জানালেন শিক্ষামন্ত্রী
শিক্ষার্থীদের দাবির মুখেও চলতি বছরের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) পরীক্ষার পদার্থবিজ্ঞান বিষয়ের পরীক্ষা স্থগিত না করার সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে যুক্তি তুলে ধরেছেন শিক্ষামন্ত্রী ড. এ এন এম এহসানুল হক মিলন।
তিনি বলেছেন, আবহাওয়ার পূর্বাভাস, জেলা প্রশাসন এবং মাঠ প্রশাসনের মতামতের ভিত্তিতেই চলতি এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষা যথাসময়ে নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়েছে। সারাদেশে প্রায় ২ হাজার ৭০০টি পরীক্ষা কেন্দ্রের মধ্যে কেবল কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রে জলাবদ্ধতার কারণে সাময়িক সমস্যা সৃষ্টি হয়েছিল। তবে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়ে বিকল্প ব্যবস্থাপনায় সেখানে পরীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) জাতীয় সংসদে ব্রাহ্মণবাড়িয়া-২ আসনের স্বতন্ত্র সদস্য রুমিন ফারহানার এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এসব কথা বলেন।
সম্পূরক প্রশ্নে রুমিন ফারহানা বলেন, কয়েক দিন ধরে টানা বৃষ্টিতে ঢাকা, চট্টগ্রামসহ দেশের বিভিন্ন বড় শহর জলাবদ্ধ হয়ে পড়ে। এ অবস্থায় শিক্ষার্থীরা এইচএসসির পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষা এক বা দুদিন পেছানোর দাবি জানালেও তা করা হয়নি। এমন পরিস্থিতিতে পরীক্ষা পেছাতে কী ধরনের সমস্যা ছিল—জানতে চান তিনি।
জবাবে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, সারা দেশে ৬৪টি জেলায় প্রায় ২ হাজার ৭০০টি কেন্দ্রে একযোগে এইচএসসি পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হচ্ছে। সম্প্রতি ভারী বৃষ্টিপাত ও বন্যা পরিস্থিতির কারণে পর্যায়ক্রমে রাঙামাটি, বান্দরবান, খাগড়াছড়ি এবং পরে চট্টগ্রাম শিক্ষা বোর্ডের অধীন পরীক্ষা স্থগিত করা হয়।
তিনি বলেন, পরীক্ষা হওয়ার আগের দিন বিকেল ৫টা পর্যন্ত শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বিক পরিস্থিতি নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করেছে। এ সময় ৬৪ জেলার পুলিশ সুপার (এসপি), আট বিভাগের বিভাগীয় কমিশনার, সব শিক্ষা বোর্ডের চেয়ারম্যান, জেলা প্রশাসন, উপজেলা প্রশাসন এবং আবহাওয়া অধিদপ্তরের সঙ্গে নিয়মিত যোগাযোগ রাখা হয়। সংশ্লিষ্ট সবাই তখন জানিয়েছিলেন যে আবহাওয়ার উন্নতি হবে এবং পরীক্ষা নিতে কোনো সমস্যা হবে না। সেই তথ্যের ভিত্তিতেই পরীক্ষা নেওয়ার সিদ্ধান্ত হয়।
ড. এহছানুল হক মিলন বলেন, পরদিন সকালে দেখা যায় কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ কেন্দ্রের মাঠে পানি জমে গেছে। বিষয়টি জানার সঙ্গে সঙ্গে সংশ্লিষ্ট মেয়র, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও জেলা প্রশাসককে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পরে পরীক্ষার্থীদের নৌকায় করে কলেজের পাঁচতলা ভবনে নিয়ে পরীক্ষা নেওয়া হয়।
তিনি বলেন, একজন পরীক্ষার্থীর পোশাক ভিজে যাওয়ায় তাকে বাড়ি থেকে পোশাক এনে পরিবর্তনের সুযোগ দেওয়া হয়। ওই কেন্দ্রে পরীক্ষা এক ঘণ্টা বিলম্বে শুরু করা হয় এবং পরীক্ষার্থীদের পূর্ণ সময় নিশ্চিত করতে পরীক্ষার সময়ও এক ঘণ্টা বাড়িয়ে দেওয়া হয়।
মন্ত্রী বলেন, কুমিল্লা সরকারি মহিলা কলেজ ছাড়া দেশের অন্য কোথাও পরীক্ষা নিতে কোনো ধরনের দুর্যোগজনিত সমস্যা হয়নি বলে জেলা প্রশাসক ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তারা শিক্ষা মন্ত্রণালয়কে জানিয়েছেন।
পদার্থবিজ্ঞান পরীক্ষার দুটি প্রশ্নে ত্রুটির বিষয়ে শিক্ষামন্ত্রী বলেন, প্রশ্নপত্রের ৬ ও ৭ নম্বর প্রশ্নে ভুল ছিল। বিষয়টি শনাক্ত হওয়ার পরপরই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে, ওই দুটি প্রশ্নের জন্য সব পরীক্ষার্থীকে পূর্ণ নম্বর দেওয়া হবে।
তিনি বলেন, বর্তমান সরকার মাত্র চার মাস আগে দায়িত্ব নিয়েছে। পাবলিক পরীক্ষার প্রশ্নপত্র প্রণয়ন ও মডারেশনের প্রক্রিয়া প্রায় দুই বছর আগে শুরু হয়। ফলে এবারের প্রশ্নপত্র আগের সরকারের সময় দায়িত্বপ্রাপ্ত প্রশ্ন প্রণয়ন ও মডারেশন কমিটির মাধ্যমেই প্রস্তুত হয়েছে। তারপরও সরকার ভুল শনাক্ত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
শিক্ষামন্ত্রী আরও বলেন, পরীক্ষা সুষ্ঠুভাবে পরিচালনার জন্য শিক্ষা মন্ত্রণালয় সার্বক্ষণিকভাবে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে। স্থানীয় প্রশাসন-জেলা প্রশাসক, উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা, পুলিশ প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষকে প্রয়োজনীয় সিদ্ধান্ত নেওয়ার ক্ষমতা দেওয়া রয়েছে। কোনো এলাকায় দুর্যোগের কারণে পরীক্ষা নেওয়া সম্ভব না হলে স্থানীয় প্রশাসন তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে পারে।
তিনি বলেন, কোমলমতি শিক্ষার্থীদের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অত্যন্ত সংবেদনশীল। তাদের স্বার্থ বিবেচনায় রেখেই সার্বক্ষণিক মনিটরিং এবং প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হচ্ছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা আবারও পর্যালোচনা করছি। যদি কোথাও আমাদের প্রশাসনের দুর্বলতার কারণে কোনও শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পানি ওঠার পর যদি পরীক্ষা না দিতে পেরে থাকে, এই জরিপটা আমাদের কাছে আসার পরে সেভাবে প্রয়োজনে পুনরায় পরীক্ষাও নিতে পারি। আমরা চিটাগাং বোর্ডে এই ব্যবস্থাটি করেছি এবং সেই অবস্থান আমাদের রয়েছে। সেজন্য আবারও অনুরোধ করব, শিক্ষার্থীরা যার যার পড়ার টেবিলে ফিরে যাক, তাদের চেয়ে আমরাই উদ্বিগ্ন। তাদের চেয়ে বেশি উদ্বিগ্ন যে কীভাবে আমরা তাদের পরীক্ষা সঠিকভাবে নেব। এই দুর্যোগ মোকাবিলা করব।
তিনি আরও বলেন, আমি আবারও আশ্বাস দিচ্ছি যেসব পরীক্ষাকেন্দ্রে এ ধরনের ভুলত্রুটি হয়েছে, সেখানে পুনারায় পরীক্ষা নেওয়ার পরিকল্পনাও আমাদের রয়েছে। এরা আমাদের ভবিষ্যৎ। এদের আমরা কোনো অবস্থায় বঞ্চিত করতে পারি না, করব না। সেটাই আমি মহান সংসদের মাধ্যমে জাতিকে জানাতে চাচ্ছি।
২০ দিন আগে