রাজনীতি
সরকার ভুল করলে সমালোচনা করুন, তবে চক্রান্ত মেনে নেওয়া হবে না: রিজভী
সরকার ও বিএনপি উভয়ের বিরুদ্ধেই নানা চক্রান্ত চলছে অভিযোগ করে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী বলেছেন, সরকার ভুল করলে সমালোচনা করার পক্ষে, তবে চক্রান্তের নীলনকশা কখনোই মেনে নেওয়া হবে না।
শুক্রবার (২৯ মে) নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক সাংবাদিক সম্মেলনে তিনি এসব কথা বলেন।
শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী আয়োজনের প্রস্তুতি এবং দলের পক্ষ থেকে নেওয়া বিভিন্ন সভা-সমাবেশ নিয়ে এই সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।
রিজভী বলেন, সরকারের যে ভুলগুলো আছে তা আপনারা ধরিয়ে দিতে পারেন। কিন্তু চক্রান্ত করা, ষড়যন্ত্র করা এবং নানাভাবে চক্রান্তের ইঙ্গিত দেওয়া এটা এ দেশের মানুষ কখনোই ভালোভাবে নেয়নি, কখনো নেবেও না। বিরোধীদলসহ আরও নানান অপশক্তি যে চক্রান্ত ও হুংকার দিচ্ছে, জনগণই তা প্রতিহত করবে।
এ সময় তিনি বিরোধী দলগুলোর প্রতি ষড়যন্ত্রের পথ পরিহার করে গঠনমূলক সমালোচনার আহ্বান জানান।
সাবেক মার্কিন প্রেসিডেন্ট জেমস ম্যাডিসনের একটি বক্তব্য উদ্ধৃত করে রিজভী বলেন, রাষ্ট্রের সব লোক ফেরেশতা নয়। সব মানুষ যদি ফেরেশতা হতো, তাহলে সরকারের প্রয়োজন হতো না। সেহেতু অনেকেই আইন ভঙ্গ বা অপরাধ করবে, কিন্তু সরকার সে বিষয়ে ব্যবস্থাও নিচ্ছে। যেমন রামিসার বিষয়টি সামনে আসার পর সরকার তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জাতীয় দুর্যোগ ও দারিদ্র্যসহ সব সমস্যা সমাধানে সরকার কাজ করছে। যা যা প্রতিশ্রুতি দেওয়া হয়েছে, তার সব কিছুই সরকার বাস্তবায়ন করতে চাচ্ছে। তবুও বিরোধীরা চক্রান্তের কথা বলছে।
জিয়াউর রহমানের অবদানের কথা স্মরণ করে রুহুল কবির রিজভী বলেন, ৩০ মে শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী, যার নেতৃত্বে বাংলাদেশ স্বাধীন হয়। পরবর্তীতে তিনি দেশের উন্নতির জন্য কাজ করে সারা বিশ্বেই তা জানান দেন। তৎকালীন অর্থনৈতিক ব্যবস্থা ভালো ছিল না, তিনি পুনরায় সেগুলো সচল করার ব্যবস্থা করেন। বেকারদের কর্মসংস্থানের ব্যবস্থা করে একটি বিপ্লব তৈরি করেছিলেন।
এ সময় জিয়াউর রহমানের হত্যাকাণ্ডের প্রেক্ষাপট তুলে ধরে তিনি বলেন, আগ্রাসী শক্তিরা বুঝতে পেরেছিল যে জিয়া ক্ষমতায় থাকলে এ দেশে আগ্রাসন করা সহজ হবে না, এজন্যই তাকে খুন করা হয়। এরপর আধিপত্যের থাবায় দেশকে আবার বন্ধ করতে চাওয়া হয়েছিল। কিন্তু তার সহধর্মিণী (খালেদা জিয়া) সংগ্রাম করে দেশকে রক্ষা করেন। সেই চক্রান্ত কিন্তু এখনো বন্ধ নেই, এখনো নানান চক্রান্ত চলছে।
দেশের বর্তমান আইনশৃঙ্খলা ও সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের কথা উল্লেখ করে বিএনপির এই জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, এবার ঈদে সব ধরনের চাঁদাবাজি সরকার কঠিন হাতে দমন করেছে। আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি একেবারে ভালো না হলেও তা খারাপ ছিল না। রাতারাতি সব কিছু বদলে দেওয়া কোনো সরকারের পক্ষেই সম্ভব নয়। তাছাড়া কোরবানির ঈদ শেষ হতেই দ্রুততম সময়ে সব বর্জ্য অপসারণ করা হয়েছে, তার মানে সরকার কাজ করছে।
২১ দিন আগে
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৮ দিনের কর্মসূচি
বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা ও প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আগামীকাল ৩০ মে। এবার নানা কর্মসূচির মাধ্যমের দলের প্রতিষ্ঠাতাকে স্মরণ করবে বিএনপি।
এ উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত ৮ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে দলটি। কর্মসূচির অংশ হিসেবে সারা দেশে কালো পতাকা উত্তোলন, আলোচনা সভা, আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল এবং দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে।
শুক্রবার (২৯ মে) রাজধানীর নয়া পল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে দলটির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী এ কর্মসূচির ঘোষণা দেন।
তিনি জানান, শনিবার (৩০ মে) ভোর ৬টায় নয়া পল্টনের কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় কার্যালয়গুলোতে পতাকা অর্ধনমিতকরণ ও কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে।
এছাড়া সকাল ১১টায় শেরেবাংলা নগরে শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের সমাধিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ ও ফাতেহা পাঠ করবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের নেতৃত্বে দলের জ্যেষ্ঠ নেতারা।
রিজভী বলেন, বিএনপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলো ইতোমধ্যে বিভিন্ন কর্মসূচি হাতে নিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, চিত্র ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, দোয়া মাহফিল এবং সামাজিক কার্যক্রম।
তিনি জানান, ঢাকা মহানগরের উত্তর ও দক্ষিণের বিভিন্ন এলাকায় দুস্থ ও অসহায় মানুষের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ করা হবে। এসব কর্মসূচিতে দলীয় নেতাকর্মীরা অংশ নেবেন।
তিনি আরও বলেন, শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান দেশের স্বাধীনতা, গণতন্ত্র ও জাতীয়তাবাদী রাজনীতির অন্যতম প্রতীক। তার আদর্শ নতুন প্রজন্মের কাছে তুলে ধরতেই এসব কর্মসূচি পালন করা হবে।
২১ দিন আগে
সীমান্তহত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত: নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) মূখ্য সমন্বয়ক নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেছেন, সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর পদত্যাগ করা উচিত। দয়িত্ব পালন না করতে পারলে আমাদের দায়িত্ব দিন। আমরা সরকারে এলে ইনশাআল্লাহ সীমান্ত হত্যা চিরতরে বন্ধ করব।
মঙ্গলবার (১৯ মে) দুপুরে লালমনিরহাটের হাতীবান্ধা উপজেলার গোতামারী ইউনিয়নের আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদেমুলের কবর জিয়ারত শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
সীমান্ত হত্যা বন্ধে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের ভূমিকা নিয়ে প্রশ্ন তুলে নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, সীমান্তে মানুষ মরলেও সরকার নিশ্চুপ থাকছে। সীমান্ত হত্যা বন্ধ করতে না পারলে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর অবিলম্বে পদত্যাগ করা উচিত। তারা যদি দায়িত্ব পালন করতে না পারেন, তবে আমাদের দায়িত্ব দিক; আমরা সরকারে এলে ইনশাআল্লাহ সীমান্ত হত্যা চিরতরে বন্ধ করব। অস্ত্র না থাকলেও আমরা বাঁশ হাতে নিয়ে রেডি হব সীমান্তে।
তিনি বলেন, বিএসএফ গুলি করে বাংলাদেশি হত্যা করে আর বিজিবি সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে ভারতীয় বয়ান উল্লেখ করে। আমরা মনে করি, বাংলাদেশের মানুষ চোরাচালান করতে পারে না। বাংলাদেশের সকল মানুষ অত্যাচার-নির্যাতনের শিকার। আমরা সীমান্তের শহিদদের পাশে থাকব। আমরা যদি সরকার গঠন করতে পারি, এ মানুষগুলোর জন্য ফাউন্ডেশন গঠন করে দেব। সীমান্তে শহিদদের সরকারিভাবে ক্ষতিপূরণ দিতে হবে। মাছ ধরতে যাওয়া বাংলাদেশি খাদেমুলকে বিএসএফ গুলি করে শহিদ করেছে বলে এ সময় উল্লেখ করেন তিনি।
এই রাজনীতিক বলেন, পশ্চিমবঙ্গ ও আসাম রাজ্যের সীমান্তে অস্থিতিরতা বিরাজ করছে। সে জায়গা থেকে আমরা সরকারকে বলব, রেড এলার্টে যাওয়ার জন্য, সীমান্তবাসীকে বলব সংঘবদ্ধ হওয়ার জন্য।
এনসিপির মূখ্য সমন্বয়ক বলেন, ইতিহাস থেকে চিন্তা করলে দেখা যায়, জিয়াউর রহমান যখন ক্ষমতায় এসেছিলেন, তখন ওই সময় শেখ মুজিবের সঙ্গে ‘গুন্ডা বাহিনী’ ভারতে পলাতক ছিলেন। সেখান থেকে তারা জিয়াউর রহমান সরকারকে বিরক্ত করেছিলেন। একই কায়দায় শেখ হাসিনা ভারতে থেকে বাংলাশেদের মানুষকে বিরক্ত করে যাচ্ছে এবং তারা ওই দেশের পশ্চিমবঙ্গ সরকারের সঙ্গে মিলে সীমান্তে হত্যাযজ্ঞ চালাচ্ছে। সরকারকে বলব, আওয়ামী লীগের সঙ্গে ‘লিয়াজোঁ’ করবেন না। বরং আমরা এসে শেখ হাসিনাকে যদি ফাঁসির দড়িতে ঝুলাইতে পারি, তাহলে সীমান্ত হত্যা বন্ধ হয়ে যাবে এবং সীমান্তের মানুষ নিরাপদ থাকবে।
নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী বলেন, সরকারকে বলব সকল ধরনের পুশ-ইন বন্ধ করার জন্য। সীমান্তবাসীকে সজাগ থাকার জন্য, রাতে বাঁশ নিয়ে পাহারা দেওয়ার জন্য, যাতে ভারত থেকে তারা কাউকে পুশ-ইন করাতে না পারে। রোহিঙ্গা নিয়ে আমরা ঝামেলায় আছি, নতুন করে ঝামেলা নিতে চাই না।
গণভোট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, গণভোটের রায় বাস্তবায়ন করুন, আপনারাও ভালো, আমরাও ভালো। আর গণভোটের রায় বাস্তবায়ন না করলে এ সরকার থাকতে পারবে না। এ সরকার নতুন কিছু সৃষ্টি করতে পারছে না।
সাংবাদিক নিপীড়ন প্রসঙ্গে পাটওয়ারী বলেন, সাংবাদিকদের ওপর এখনও নিপীড়ন চলছে। আগে করত শেখ হাসিনা সরকার, এখন করছে বর্তমান সরকার। সকল সাংবাদিককে মিথ্যা মামলা থেকে মুক্তি দিতে হবে। যারা সত্য সাংবাদিক আমরা তাদের পক্ষে। ভারতে পক্ষের ও মিথ্যা সাংবাদিকদের আমরা ছাড় দিব না।
এ সময় এনসিপির উত্তরাঞ্চলের সমন্বয়ক রাসেল আহমেদসহ কেন্দ্রীয় ও স্থানীয় নেতা-কর্মীরা উপস্থিত ছিলেন।
এদিন নাসির উদ্দিন পাটোয়ারী প্রথমে সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে নিহত খাদেমুলের বাড়িতে যান। তাদের খোঁজখবর নেন। পরে তার কবর জিয়ারত করে হাতীবান্ধা ত্যাগ করেন।
উল্লেখ্য, গত ১৪ মে হাতীবান্ধা উপজেলার আমঝোল সীমান্তে বিএসএফের গুলিতে খাদেমুল নামে এক স্থানীয় যুবক নিহত হন।
৩১ দিন আগে
মির্জা আব্বাসকে দেখতে মালয়েশিয়ার হাসপাতালে গোলাম পারওয়ার
রাজনৈতিক মতপার্থক্য থাকলেও দেশের সৌহার্দ্য ও মানবিক সম্পর্কের দৃষ্টান্ত স্থাপন করে অসুস্থ বিএনপি নেতা মির্জা আব্বাসের খোঁজ নিতে মালয়েশিয়ার হাসপাতালে গিয়েছেন জামায়াতে ইসলামীর সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
মালয়েশিয়ার প্রিন্স কোর্ট মেডিকেল সেন্টার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাস।
দলীয় সূত্রে জানা গেছে, কিছুটা সুস্থ হলেও এখনও তার ফিজিওথেরাপি চলছে। নিউরো-সংক্রান্ত বড় ধরনের জটিলতা তৈরি হলেও বর্তমানে সেটি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে। চিকিৎসকরা নিয়মিত ফলোআপ ও ফিজিওথেরাপির পরামর্শ দিয়েছেন।
এরই মধ্যে মঙ্গলবার (১৯ মে) তার শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নিতে এবং সাক্ষাৎ করতে ওই হাসপাতালে যান জামায়াতের সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার।
বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন জামায়াতের কেন্দ্রীয় প্রচার বিভাগের জ্যেষ্ঠ সহকারী সেক্রেটারি মুজিবুল আলম।
সাক্ষাৎকালে গোলাম পারওয়ার মির্জা আব্বাসের সর্বশেষ শারীরিক অবস্থার খোঁজখবর নেন এবং তার দ্রুত ও পূর্ণ সুস্থতা কামনায় দোয়া করেন।
এ সময় তার সঙ্গে উপস্থিত ছিলেন ব্যারিস্টার নাজিবুর রহমান মোমেন (এমপি)।
গত ১১ মার্চ ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে পড়েন মির্জা আব্বাস। পরে তাকে রাজধানীর এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে তার মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রাথমিক চিকিৎসা শেষে উন্নত চিকিৎসার জন্য তাকে প্রথমে সিঙ্গাপুর নেওয়া হয়। পরবর্তী সময়ে তাকে মালয়েশিয়ায় পাঠানো হয়।
৩১ দিন আগে
জিয়াউর রহমানের মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে বিএনপির ৭ দিনের কর্মসূচি ঘোষণা
প্রয়াত সাবেক রাষ্ট্রপতি ও বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমানের ৪৫তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে ২৫ মে থেকে ১ জুন পর্যন্ত সাত দিনের কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দল-বিএনপি।
সোমবার (১৮ মে) রাজধানীর নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়ে আয়োজিত এক যৌথসভা শেষে সাংবাদিকদের ব্রিফিংয়ে এ কর্মসূচি ঘোষণা করেন দলের জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী। তিনি যৌথসভায় সভাপতিত্ব করেন।
এ সময় বিএনপির যুগ্ম মহাসচিব হাবিব উন নবী খান সোহেল উপস্থিত ছিলেন।
রিজভী বলেন, দলের প্রতিষ্ঠাতা শহিদ প্রেসিডেন্ট জিয়াউর রহমানের শাহাদাতবার্ষিকী উপলক্ষে বিভিন্ন অঙ্গ ও সহযোগী সংগঠন আলোচনা সভা, পোস্টার প্রকাশ, দোয়া মাহফিল এবং দুস্থদের মাঝে খাদ্য ও বস্ত্র বিতরণ কর্মসূচি পালন করবে।
তিনি জানান, ঈদুল আজহা মাঝামাঝি সময়ে পড়ায় কোনো কর্মসূচি এক-দুই দিন পিছিয়ে আয়োজন করা হলেও তাতে সমস্যা হবে না।
ঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী, ৩০ মে ভোর ৬টায় নয়াপল্টনে বিএনপির কেন্দ্রীয় কার্যালয়সহ সারা দেশে দলীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হবে এবং কালো পতাকা উত্তোলন করা হবে। একই দিন বেলা ১১টায় দলের মহাসচিব, জ্যেষ্ঠ নেতৃবৃন্দ ও অঙ্গসংগঠনের নেতারা জিয়াউর রহমানের মাজারে পুষ্পার্ঘ্য অর্পণ ও মাজার জিয়ারত করবেন। এ সময় প্রধানমন্ত্রী ও দলের চেয়ারম্যান তারেক রহমান উপস্থিত থাকবেন বলেও জানান রিজভী।
৩২ দিন আগে
স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় জামায়াত আমিরের
আগামী স্থানীয় সরকার নির্বাচন সুষ্ঠু হওয়া নিয়ে সংশয় প্রকাশ করেছেন জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ও জামায়াতে ইসলামীর আমির ডা. শফিকুর রহমান।
শুক্রবার (১৫ মে) বিকেলে রংপুর জেলা শিল্পকলা অডিটরিয়ামে দলের সুধী সমাবেশে এসে গণমাধ্যমের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ আশঙ্কার কথা জানান।
জামায়াত আমির বলেন, জাতীয় নির্বাচনের পর যে দুটি উপনির্বাচন হয়েছে তার চিত্র দেখেই শঙ্কিত তার দল। তবে জামায়াত নির্বাচনমুখী দল, তাই তার দল নির্বাচনে অংশগ্রহণ করবে, তবে সুষ্ঠু নির্বাচন নিয়ে সংশয় রয়েছে। এ সময় জনগণকে তাদের অধিকার আদায়ে আরেকবার সচেতন থাকার আহ্বান জানান তিনি।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তির ব্যাপারে ডা. শফিকুর রহমান বলেন, নির্বাচন-পূর্ববর্তী সময়ে আমেরিকার সঙ্গে চুক্তির বিষয়ে তৎকালীন সরকার জামায়াতকে কিছু জানায়নি।
তিনি বলেন, রংপুর অঞ্চলকে অগ্রাহ্য করে বাংলাদেশ এগিয়ে যাবে, তা কখনোই সম্ভব নয়। তাই তিস্তা চুক্তির বিষয়ে সর্বদা আন্তরিক থাকবে তার দল। এ ছাড়াও আগামী দিনগুলোতে রংপুরের উন্নয়নে সোচ্চার থাকার প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন বিরোধীদলীয় এই নেতা। পরে বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ, রাজনৈতিক ব্যক্তিত্ব, শিক্ষক, আইনজীবী, ব্যবসায়ীদের নিয়ে সুধী সমাবেশে যোগ দেন জামায়াতে আমির।
এর আগে, সকালে রংপুর মডেল কলেজে রংপুর ও দিনাজপুর অঞ্চলের উপজেলা ও থানা আমিরদের নিয়ে আমির সম্মলনে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ডা. শফিকুর রহমান।
৩৫ দিন আগে
দেশে ভোটার সংখ্যা বেড়েছে ৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৭ জন
দেশে বর্তমানে ভোটার সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ১২ কোটি ৮৩ লাখ ২৩ হাজার ২৪০ জনে, যা গত ১২ ফেব্রুয়ারির জাতীয় সংসদ নির্বাচনের সময়ের তুলনায় ৬ লাখ ২৮ হাজার ৫৭ জন বেশি।
বৃহস্পতিবার (১৪ মে) নির্বাচন কমিশনের (ইসি) চূড়ান্ত হালনাগাদ তথ্য থেকে এ তথ্য জানা গেছে।
হালনাগাদ তথ্য অনুযায়ী, মোট ভোটারের মধ্যে পুরুষ ৬ কোটি ৫২ লাখ ১২ হাজার ৭৩১ জন, নারী ৬ কোটি ৩১ লাখ ৯ হাজার ২৬৬ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ১ হাজার ২৪৩ জন।
এর আগে, ২০২৫ সালের ১৮ নভেম্বর দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচন উপলক্ষে সর্বশেষ হালনাগাদ ভোটার তালিকা প্রকাশ করেছিল ইসি।
সেই তালিকা অনুযায়ী, গত ১২ ফেব্রুয়ারির নির্বাচনে মোট ভোটার ছিল ১২ কোটি ৭৬ লাখ ৯৫ হাজার ১৮৩ জন। এর মধ্যে পুরুষ ভোটার ছিল ৬ কোটি ৪৮ লাখ ১৪ হাজার ৯০৭ জন, নারী ৬ কোটি ২৮ লাখ ৭৯ হাজার ৪২ জন এবং তৃতীয় লিঙ্গের ভোটার ছিল ১ হাজার ২৩৪ জন।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, পুরুষ, নারী ও তৃতীয় লিঙ্গ—সব শ্রেণিতেই ভোটারের সংখ্যা বেড়েছে।
অতীতে প্রতি বছর ২ জানুয়ারি খসড়া ভোটার তালিকা এবং ২ মার্চ চূড়ান্ত ভোটার তালিকা প্রকাশ করত ইসি। তবে ২০২৫ সালে ‘ভোটার তালিকা আইন, ২০০৯’ সংশোধন করে বছরের যেকোনো সময় ভোটার তালিকা প্রকাশের ক্ষমতা দেওয়া হয় নির্বাচন কমিশনকে।
৩৬ দিন আগে
১০০ উপজেলা ও পৌরসভায় এনসিপির প্রার্থী ঘোষণা
আসন্ন স্থানীয় সরকার নির্বাচনকে সামনে রেখে প্রথম পর্যায়ে ১০০টি উপজেলা ও পৌরসভায় প্রার্থী ঘোষণা করেছে জাতীয় নাগরিক পার্টি (এনসিপি)।
রবিবার (১০ মে) বিকেলে রাজধানীর বাংলামোটরে দলের অস্থায়ী কার্যালয়ে আয়োজিত সংবাদ সম্মেলনে এনসিপির উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলম আনুষ্ঠানিকভাবে প্রার্থীদের নাম ঘোষণা করেন।
সারজিস আলম বলেন, স্থানীয় সরকার নির্বাচনে লড়তে এনসিপির ব্যানারে অংশ নিতে সারা দেশ থেকে হাজারেরও বেশি আবেদন জমা পড়েছিল। সেখান থেকে কঠোর যাচাই-বাছাই শেষে প্রথম ধাপে ১০০ জন উপজেলা চেয়ারম্যান ও পৌর মেয়র প্রার্থীর নাম চূড়ান্ত করা হয়েছে।
তিনি বলেন, এই প্রক্রিয়াটি চলমান থাকবে এবং আগামী ২০ মে দ্বিতীয় ধাপে আরও ১০০ জন প্রার্থীর নাম ঘোষণা করা হবে। আগামী পবিত্র ঈদুল ফিতরের আগেই উল্লেখযোগ্য সংখ্যক প্রার্থীর তালিকা জনগণের সামনে তুলে ধরাই এনসিপির লক্ষ্য বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এনসিপির এই নেতা বলেন, এনসিপি কেবল নিজেদের কর্মীদের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়। দেশের বিভিন্ন পর্যায়ের পরিশ্রমী ও গ্রহণযোগ্য নেতৃত্ব, যারা অতীতে মানুষের ওপর জুলুমের সঙ্গে লিপ্ত ছিলেন না এবং যাদের সঙ্গে ফ্যাসিস্ট শক্তির কোনো সরাসরি সম্পৃক্ততা নেই, তাদের স্বাগত জানানো হচ্ছে। এমনকি অন্য কোনো রাজনৈতিক দলের সৎ ও জনবান্ধব নেতারাও যদি এনসিপির সমর্থন নিয়ে নির্বাচনে অংশ নিতে চান, তবে তাদের আবেদন গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করা হবে। সার্বিক যাচাই-বাছাই শেষে যোগ্য ব্যক্তিদের সর্বোচ্চ সুযোগ দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, প্রার্থী বাছাই প্রক্রিয়ায় সামাজিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিত করার চেষ্টা করা হয়েছে। শিক্ষার্থী, শ্রমিক, নারী ও হিন্দু সম্প্রদায়ের সদস্যদেরও এনসিপির ব্যানারে নির্বাচনে অংশ নেওয়ার সুযোগ দেওয়া হচ্ছে।
৪০ দিন আগে
বিরোধীদল সরকারের গঠনমূলক সমালোচনা করবে: রিজভী
বিরোধীদল সরকারের সমালোচনা করবে, তবে তা গঠনমূলক হতে হবে বলে মন্তব্য করেছেন বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব ও প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা রুহুল কবির রিজভী।
রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে শনিবার (৯ মে) হতে যাওয়া বিএনপির মতবিনিময় সভার প্রস্তুতি কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে আজ (শুক্রবার) সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ মন্তব্য করেন। বিএনপি এবং এর তিনটি অঙ্গসংগঠন— যুবদল, ছাত্রদল ও স্বেচ্ছাসেবক দলের জেলা ও মহানগর পর্যায়ের সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকদের নিয়ে সভাটি অনুষ্ঠিত হবে।
রুহুল কবির রিজভী জানান, সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে অংশ নেবেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। এছাড়া দলের মহাসচিবসহ জ্যেষ্ঠ নেতারা উপস্থিত থাকবেন। অনুষ্ঠানে সারা দেশের জেলা পর্যায়ের নেতারা বক্তব্য দেবেন। তারা সাংগঠনিক এবং সরকারের বিভিন্ন কার্যক্রম নিয়ে নিজেদের মতামত তুলে ধরবেন। পাশাপাশি সরকার দায়িত্ব নেওয়ার পর গত দুই-তিন মাসে যেসব কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে এবং যেগুলো বাস্তবায়নের পথে রয়েছে, সেসব বিষয় সংশ্লিষ্ট মন্ত্রীরা বিশ্লেষণসহ উপস্থাপন করবেন।
তিনি বলেন, ‘আমাদের ফ্যামিলি কার্ড, কৃষক কার্ড, খাল খননসহ অনেক ভালো কর্মসূচি রয়েছে।’
সরকারের বিরুদ্ধে আন্দোলন ও সমালোচনা প্রসঙ্গে রিজভী বলেন, ‘গণতন্ত্রের জন্য আমরা ১৬ বছর লড়াই করেছি। কত জীবন চলে গেছে— শিশু, ছাত্র, শিক্ষক, শ্রমিকের। গণতন্ত্র মানেই সরকার তার কাজ করবে, আর বিরোধীদল তার সমালোচনা করবে। এটাই মূল এবং এটাই হওয়া উচিত।
‘বিরোধীদল বিভিন্ন সমালোচনা করতেই পারে। তবে সমালোচনাটা যেন গঠনমূলক হয়। সরকারের ভুল থাকলে সেই ভুলগুলো দেখিয়ে দিলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হয়, রাষ্ট্র আরও কার্যকর ও কর্মক্ষম হয়।’
বিএনপির এ জ্যেষ্ঠ নেতা বলেন, ‘যদি উদ্দেশ্যমূলকভাবে সরকারকে বিপদে ফেলার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি নিই এবং মিথ্যা কথা বলে যাই, তাহলে সেটা ষড়যন্ত্র। শেখ হাসিনা ক্ষমতায় থেকে এবং ক্ষমতার বাইরেও অনেক মিথ্যা কথা বলেছেন। যদি সেই ধরনের রাজনীতি হয়, তাহলে সেটা ষড়যন্ত্রের মধ্যেই পড়ে।
তিনি আরও বলেন, ‘বিরোধীদল গঠনমূলক থাকলে গণতন্ত্র শক্তিশালী হবে। জনগণ যদি মনে করে বিরোধীদলের কথা ইতিবাচক, তাহলে জনগণই সেটার মূল্যায়ন করবে। জনগণই হচ্ছে চূড়ান্ত বিচারক। সামনের নির্বাচনে জনগণই বিবেচনা করবে সরকার সঠিক কাজ করেছে কি না।’
এ সময় আরও উপস্থিত ছিলেন জাতীয়তাবাদী প্রচার দলের সভাপতি মাহফুজ কবির মুক্তা, ছাত্রদলের সহ-সভাপতি ডা. তৌহিদুর রহমান আউয়ালসহ বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।
৪২ দিন আগে
দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণ-গণভোটের রায় বাস্তবায়নের দাবিতে ঝালকাঠিতে ১১ দলের গণমিছিল
ঝালকাঠিতে গণভোটের রায় বাস্তবায়ন, জ্বালানি সংকট নিরসন, দ্রব্যমূল্য নিয়ন্ত্রণসহ জনদুর্ভোগ লাঘবের দাবিতে গণমিছিল করেছে ১১ দলীয় জোট।
রবিবার (৩ মে) শহরের ফায়ার সার্ভিস মোড় এলাকায় আয়োজিত এক সংক্ষিপ্ত সমাবেশ শেষে এ মিছিল বের করা হয়।
সমাবেশে বক্তব্য দেন জেলা জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট হাফিজুর রহমান, নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট আমিনুল ইসলাম ও এনসিপি জেলা শাখার আহ্বায়ক মাহমুদুর রহমান মানানসহ অন্যান্য নেতারা।
বক্তারা বলেন, চলমান জ্বালানি সংকট ও দ্রব্যমূল্যের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতির কারণে সাধারণ মানুষ চরম দুর্ভোগে পড়েছে। এছাড়া বক্তারা দ্রুত গণভোটের রায় বাস্তবায়নের মাধ্যমে জনগণের প্রত্যাশা পূরণের দাবি জানান। অন্যথায়, জনগণকে সঙ্গে নিয়ে বৃহত্তর আন্দোলন গড়ে তোলার হুঁশিয়ারিও দেন তারা।
পরে ফায়ার সার্ভিস মোড় এলাকা থেকে মিছিলটি শুরু হয়ে শহরের গুরুত্বপূর্ণ সড়ক প্রদক্ষিণ করে। এতে ১১ দলীয় জোটের বিভিন্ন স্তরের নেতা-কর্মীরা অংশ নেন।
৪৭ দিন আগে