রাজনীতি
আর্থিক অনিয়ম: কুষ্টিয়ায় এনসিপির দুই নেতাকে শোকজ
কুষ্টিয়ায় জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) দুই নেতার বিরুদ্ধে আর্থিক অনিয়ম ও দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে কারণ দর্শানোর নোটিশ (শোকজ) দেওয়া হয়েছে।
শুক্রবার (২০ মার্চ) এনসিপির কুষ্টিয়া জেলা শাখার জ্যেষ্ঠ যুগ্ম সমন্বয়কারী ইবাদত আলী ও কুমারখালী উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দিনকে এ নোটিশ দেওয়া হয়।
দলটির কুষ্টিয়া জেলার প্রধান সমন্বয়কারী জান্নাতুল ফেরদৌস টনি এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
নোটিশে দুই নেতার বিরুদ্ধে সরকারি বরাদ্দকৃত চালের অর্থ আত্মসাৎ এবং নির্বাচনের সময় দলীয় নীতিমালা লঙ্ঘন করে অন্য রাজনৈতিক দলের কাছ থেকে আর্থিক সুবিধা গ্রহণের অভিযোগ করা হয়েছে। তাদের আগামী সাত কর্মদিবসের মধ্যে লিখিতভাবে নোটিশের জবাব দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।
জানতে চাইলে কুমারখালী উপজেলার প্রধান সমন্বয়কারী হেলাল উদ্দিন বলেন, শোকজ নোটিশ পেয়েছি। আমি আমার ব্যাখা দিয়ে দেব।
এ বিষেয়ে জান্নাতুল ফেরদৌস টনি বলেন, বিভিন্ন মাধ্যমে আমরা বিষয়গুলো জানতে পেরেছি। দলের স্বচ্ছতার ভিত্তিতে ওই দুইজনকে শোকজ নোটিশ দেওয়া হয়েছে। তাদের বিরুদ্ধে উত্থাপিত অভিযোগে নিজেদের নির্দোষ প্রমাণ করতে পারলে সাংগঠনিক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে না। আর যদি প্রমাণ না করতে পারে তাহলে আমরা বিষয়টি কেন্দ্রকে জানাব। তারা প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেবেন।
৪৫ দিন আগে
শৃঙ্খলাভঙ্গের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গায় দুই বিএনপি নেতা বহিষ্কার
দলীয় শৃঙ্খলাভঙ্গ ও দলীয় কর্মকাণ্ডের পরিপন্থী কার্যকলাপের অভিযোগে চুয়াডাঙ্গায় বিএনপির দুই নেতাকে সাময়িক বহিষ্কার করা হয়েছে।
বুধবার (১৮ মার্চ) চুয়াডাঙ্গা জেলা বিএনপির সিদ্ধান্ত অনুযায়ী এ বহিষ্কারাদেশ কার্যকর করা হয়।
বহিষ্কৃতরা হলেন— দামুড়হুদা উপজেলা বিএনপির সভাপতি মনিরুজ্জামান মনির এবং আলমডাঙ্গা পৌর বিএনপির সাধারণ সম্পাদক জিল্লুর রহমান ওল্টু।
জেলা বিএনপির পক্ষ থেকে জানানো হয়, দলের শৃঙ্খলাভঙ্গসহ বিভিন্ন কর্মকাণ্ডে জড়িত থাকার অভিযোগে তাদের বিরুদ্ধে এই সাংগঠনিক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
জেলা বিএনপির সভাপতি মাহমুদ হাসান খান বাবু এবং সাধারণ সম্পাদক শরীফুজ্জামান শরীফ স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দলীয় শৃঙ্খলা রক্ষায় ভবিষ্যতেও এ ধরনের ব্যবস্থা অব্যাহত থাকবে।
৪৮ দিন আগে
সংসদ ও সংবিধানের চেয়ে জনগণ বেশি শক্তিশালী: ড. রেজাউল করিম
ঢাকা মহানগর উত্তর জামায়াতের সেক্রেটারি ড. রেজাউল করিম বলেছেন, ‘এ দেশে জনগণ গণভোটের মাধ্যমে যে সিদ্ধান্ত দিয়েছে, তা নিয়ে বিতর্কের সুযোগ নেই। জনগণ “হ্যাঁ” ভোট দেওয়ার পর সংসদে তা নিয়ে আলোচনার কোনো অধিকার নেই। সংসদ ও সংবিধানের চেয়ে জনগণ অনেক শক্তিশালী।’
বুধবার (১৮ মার্চ) লক্ষ্মীপুর আদর্শ সামাদ উচ্চ বিদ্যালয় মাঠে জামায়াতে ইসলামী লক্ষ্মীপুর শহর শাখা আয়োজিত ফুড প্যাকেজ বিতরণ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন। এ সময় প্রায় এক হাজার অসহায় পরিবারের মধ্যে ঈদ সামগ্রী বিতরণ করা হয়।
ড. রেজাউল করিম বলেন, ‘৭০ ভাগ জনগণ “হ্যাঁ” ভোটের রায় দিয়েছে। সেই রায় বাস্তবায়ন করতে হবে। যদি বাস্তবায়নে ব্যর্থ হন, তাহলে জানতে চাই—কোন সংবিধানের অধীনে ২০২৬ সালের ১২ ফেব্রুয়ারি নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়েছিল? স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে জিজ্ঞেস করতে চাই, জুলাই আন্দোলন না হলে এ দেশের অনেক রাজনৈতিক দলের নেতা এ দেশের মাটিতে পা রাখতে পারতেন না।’
সরকারি সহায়তা বণ্টন নিয়ে প্রশ্ন তুলে তিনি বলেন, ‘আমরা জামায়াতের পক্ষ থেকে ফুড প্যাকেট নিয়ে আসলাম, কিন্তু রাষ্ট্রের প্যাকেট গেল কোথায়? রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এখানে যে চাল বরাদ্দ হয়েছিল, সেগুলো কোথায়? এখানে খেজুর বরাদ্দ এসেছিল, সেগুলো কার পেটে গেছে? সেটা জানতে চাই। ঈদের উপহার হিসেবে ১০ লাখ টাকা এসেছে—কেউ পায়নি। যদি কেউ বলেন যে আমরা দিয়েছি, তাহলে বলতে হবে বিএনপির মধ্যে সব অসহায় লোক? বিএনপি কি অসহায়দের দল নাকি? সব অসহায়, এতিম, বিধবা এই দলেই আছে, আর কোনো দলে নেই?’
তিনি আরও বলেন, ‘চাল, খেজুর ও ঈদের উপহার ১০ লাখ টাকা এসেছে—আপনারা পাননি, তাহলে এগুলো খেয়ে ফেলা হয়েছে। শাড়ি, থ্রি-পিস এসেছে—আমরা কিন্তু আগে এগুলো জানতাম না, কারণ আগে আমরা রাস্তায় রাস্তায় বিরোধী দল ছিলাম। এখন কিন্তু আমরা সরকারের অংশ, বাংলাদেশের ইতিহাসে সবচেয়ে বড় বিরোধী দল। সুতরাং আগে হজম করতে পেরেছেন, এখন হজম করতে সময় লাগতে পারে।’
অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন জেলা জামায়াতের সেক্রেটারি এআর হাফিজ উল্যা, শহর জামায়াতের আমির অ্যাডভোকেট আবুল ফারহান নিশান, শহর জামায়াতের সেক্রেটারি হারুনুর রশীদ, অ্যাডভোকেট মিরনসহ দলের অন্যান্য নেতাকর্মীরা।
৪৮ দিন আগে
উন্নত চিকিৎসার জন্য সিঙ্গাপুরে নেওয়া হলো মির্জা আব্বাসকে
উন্নত চিকিৎসার জন্য বিএনপি স্থায়ী কমিটির সদস্য মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়েছে।
মির্জা আব্বাসের ব্যক্তিগত সহকারী মিজানুর রহমান সোহেল জানান, একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে করে রবিবার (১৫ মার্চ) তাকে সিঙ্গাপুরে নেওয়া হয়। এটি আজ বেলা সোয়া ১১টার দিকে হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ত্যাগ করে। এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি সিঙ্গাপুর পৌঁছাতে প্রায় চার ঘণ্টা লাগতে পারে।
সোহেল আরও জানান, চিকিৎসার জন্য মির্জা আব্বাসকে সিঙ্গাপুর জেনারেল হাসপাতালে ভর্তি করা হবে।
এদিন সকাল ৯টা ১০ মিনিটের দিকে সিঙ্গাপুর থেকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটি ঢাকায় পৌঁছায়। মির্জা আব্বাসকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতাল থেকে একটি অ্যাম্বুলেন্সে করে বিমানবন্দরে নেওয়া হয় এবং সেখান থেকে তাকে এয়ার অ্যাম্বুলেন্সে স্থানান্তর করা হয়।
যাত্রাপথে তার সঙ্গে রয়েছেন স্ত্রী আফরোজা আব্বাস, ছেলে ইয়াসির আব্বাস এবং এভারকেয়ার হাসপাতালের চিকিৎসক জাফর ইকবাল।
উল্লেখ্য, গত শুক্রবার মির্জা আব্বাসের মস্তিষ্কে অস্ত্রোপচার করা হয়। প্রায় চার ঘণ্টার অস্ত্রোপচার শেষে রাতে তাকে আইসিইউতে স্থানান্তর করা হয়েছিল।
গত বুধবার সন্ধ্যায় ইফতারের সময় হঠাৎ অসুস্থ হয়ে জ্ঞান হারিয়ে ফেললে বিএনপির এই বর্ষীয়ান নেতাকে বসুন্ধরার এভারকেয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। পরে তার চিকিৎসার জন্য দেশের শীর্ষস্থানীয় নিউরোলজিস্টদের সমন্বয়ে একটি মেডিকেল বোর্ড গঠন করা হয়।
৫১ দিন আগে
ত্রয়োদশ সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন চলবে আগামী ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত।
শনিবার (১৪ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের কার্য উপদেষ্টা কমিটির প্রথম বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়। জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের এক বিজ্ঞপ্তিতে এ কথা জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জাতীয় সংসদ ভবনের কেবিনেট কক্ষে এ বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়।
বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন কমিটির সভাপতি জাতীয় সংসদের স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ (বীর বিক্রম)। সংসদ নেতা ও প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানও বৈঠকে অংশ নেন।
এ ছাড়াও বিরোধীদলীয় নেতা মো. শফিকুর রহমান, ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন, স্থানীয় সরকারমন্ত্রী মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর, অর্থ ও পরিকল্পনামন্ত্রী আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ, চিফ হুইপ মো. নূরুল ইসলাম, আইনমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান, এ টি এম আজহারুল ইসলাম, বিরোধীদলের চিফ হুইপ মো. নাহিদ ইসলাম এবং মুহাম্মদ নওশাদ জমির বৈঠকে উপস্থিত ছিলেন।
স্পিকারের বিশেষ আমন্ত্রণে অংশগ্রহণ করেন জাতীয় সংসদের ডেপুটি স্পিকার ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
বৈঠকে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম (২০২৬ খ্রিস্টাব্দের প্রথম) অধিবেশনের কার্যাদি নিষ্পন্নের জন্য সময় বরাদ্দকরণ ও অধিবেশনের স্থায়িত্বকাল নিয়ে আলোচনা করা হয়। রাষ্ট্রপতির ভাষণের ওপর মোট ৫০ ঘণ্টা আলোচনার সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়।
সরকারি ছুটির দিন ছাড়া প্রতিদিন বিকাল ৩টায় সংসদের অধিবেশন বসবে। আগামী ৩০ এপ্রিল ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন সমাপ্ত হবে বলে বৈঠকে সিদ্ধান্ত হয়েছে।
প্রয়োজনে অধিবেশনের সময় ও কার্যদিবস সংক্রান্ত যেকোনো বিষয় পরিবর্তনের ক্ষমতা স্পিকারকে দেওয়া হয়েছে।
এ অধিবেশনে প্রধানমন্ত্রীর জন্য ৮টি এবং অন্যান্য মন্ত্রীর জন্য ৪৬০টিসহ মোট ৪৬৮টি প্রশ্ন পাওয়া গেছে। এছাড়া বিধি-৭১ অনুযায়ী মনোযোগ আকর্ষণের ২৭টি নোটিশ এবং বিধি-১৩১ অনুযায়ী সিদ্ধান্ত প্রস্তাবের ৯৭টি নোটিশ জমা পড়েছে।
বৈঠকে সচিবিক সহায়তা প্রদান করেন জাতীয় সংসদ সচিবালয়ের সচিব কানিজ মওলা। সংসদ সচিবালয়ের সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।
৫২ দিন আগে
গণতন্ত্র, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ ও অর্থনৈতিক রূপান্তরে সরকার অঙ্গীকারবদ্ধ: রাষ্ট্রপতি
রাষ্ট্রপতি মোহাম্মদ শাহাবুদ্দিন বলেছেন, জনগণের রাজনৈতিক ও অর্থনৈতিক ক্ষমতায়ন ছাড়া দেশে টেকসই উন্নয়ন সম্ভব নয়। রাষ্ট্র পরিচালনার সব ক্ষেত্রে গণতান্ত্রিক অধিকার নিশ্চিত করতে সরকারের অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে দেওয়া ভাষণে তিনি এসব কথা বলেন।
একটি ভঙ্গুর অর্থনৈতিক পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে বর্তমান সরকার দায়িত্ব গ্রহণ করেছে উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, সরকার একটি ন্যায়ভিত্তিক, মানবিক, স্বনির্ভর ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ প্রতিষ্ঠার পথে এগিয়ে চলছে। এক্ষেত্রে দারিদ্র্য বিমোচন, দুর্নীতি দমন ও আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণকে নবগঠিত সরকারের সামনে বড় চ্যালেঞ্জ হিসেবে চিহ্নিত করেন তিনি।
রাষ্ট্রপতি বলেন, ‘পথ কঠিন হলেও রাজনৈতিক সদিচ্ছা থাকলে এই বাধা অতিক্রম অসম্ভব নয়।’ ভবিষ্যৎ প্রজন্মের জন্য একটি নিরাপদ বাংলাদেশ গড়তে তিনি সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।
২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থান প্রসঙ্গে রাষ্ট্রপতি বলেন, এই আন্দোলনের মূল লক্ষ্য ছিল ফ্যাসিবাদের পতন ঘটিয়ে জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত ও জবাবদিহিমূলক সরকার গঠনের মাধ্যমে একটি বৈষম্যহীন ন্যায়ভিত্তিক গণতান্ত্রিক রাষ্ট্র বিনির্মাণ করা। তিনি জানান, রাষ্ট্র সংস্কারের অংশ হিসেবে জনগুরুত্বপূর্ণ খাতে ইতোমধ্যে ১১টি সংস্কার কমিশন গঠন করা হয়েছে।
বর্তমান সরকারের নির্বাচনি ইশতেহারের কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘করবো কাজ, গড়বো দেশ, সবার আগে বাংলাদেশ’—এই স্লোগানকে সামনে রেখে ঘোষিত ইশতেহারে গণতন্ত্র, জবাবদিহিতা ও সুশাসনকে অগ্রাধিকার দেওয়া হয়েছে। তবে এসব পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণ এবং আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়নকে পূর্বশর্ত হিসেবে বর্ণনা করেন তিনি।
দুর্নীতি দমনে অতীত পদক্ষেপের কথা স্মরণ করে রাষ্ট্রপতি বলেন, বিএনপি সরকারই দেশে দুর্নীতি প্রতিরোধের লক্ষ্যে ‘দুর্নীতি দমন কমিশন আইন, ২০০৪’ প্রণয়ন করেছিল। বর্তমান সরকারের আমলেও দুর্নীতি দমন এবং আইনশৃঙ্খলা নিয়ন্ত্রণ প্রথম ও প্রধান অগ্রাধিকার হিসেবে থাকবে।
অর্থনৈতিক পরিকল্পনা নিয়ে তিনি বলেন, ২০২৫-২৬ অর্থবছরের এডিপি প্রণয়নে প্রবৃদ্ধি বজায় রাখা, বেকারত্ব হ্রাস, কর্মসংস্থান সৃষ্টি ও জীবনমান উন্নয়নে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, সরকার অর্থনীতির ‘অলিগার্কিক’ বা একচেটিয়া কাঠামো ভেঙে জনগণের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করবে।
ঋণনির্ভর অর্থনীতিকে বিনিয়োগনির্ভর অর্থনীতিতে রূপান্তর করাই সরকারের মূল লক্ষ্য উল্লেখ করে রাষ্ট্রপতি জানান, ২০৩৪ সালের মধ্যে এক ট্রিলিয়ন ডলারের অর্থনীতি গড়ে তোলার লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে।
জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানকে দেশের ইতিহাসে এক যুগান্তকারী ঘটনা হিসেবে বর্ণনা করে তিনি বলেন, ছাত্র-জনতা, কৃষক-শ্রমিকসহ সর্বস্তরের মানুষের সম্মিলিত আন্দোলনের ফলে ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট ফ্যাসিস্ট সরকারের পতন ঘটে। এই আন্দোলনে শহিদ ও আহতদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে তিনি বলেন, সহস্রাধিক মানুষের আত্মত্যাগ ও ৩০ হাজারের বেশি মানুষের আহতের বিনিময়ে এই নতুন বাংলাদেশের সূচনা হয়েছে।
রাষ্ট্রপতি বলেন, বিগত ফ্যাসিবাদী শাসনামলে নির্বাচন কমিশনসহ সাংবিধানিক প্রতিষ্ঠানগুলোর ওপর জন-আস্থা শূন্যের কোঠায় নেমে এসেছিল। তবে ত্রয়োদশ জাতীয় নির্বাচনের মাধ্যমে সেই আস্থা ফিরে আসতে শুরু করেছে। নির্বাচন কমিশনসহ সব প্রতিষ্ঠান যাতে স্বাধীনভাবে কাজ করতে পারে, সরকার তা নিশ্চিত করবে।
পরিশেষে ‘ব্যক্তির চেয়ে দল বড়, দলের চেয়ে দেশ বড়’—এই বিশ্বাসে উদ্বুদ্ধ হয়ে জাতীয় স্বার্থ রক্ষায় সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে বক্তব্য শেষ করেন রাষ্ট্রপতি।
৫৪ দিন আগে
সংসদ অধিবেশন ১৫ মার্চ পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশন আগামী রবিবার (১৫ মার্চ) সকাল ১১টা পর্যন্ত মুলতবি ঘোষণা করেছেন নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ। ওইদিন বেলা ১১টায় ত্রয়োদশ সংসদের দ্বিতীয় কার্যদিবস শুরু হবে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) বিকালে তিনি এ ঘোষণা দেন।
পূর্বনির্ধারিত সূচি অনুযায়ী আজ বেলা ১১টায় সংসদের প্রথম অধিবেশন শুরু হয়। শুরুতে ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেনের সভাপতিত্বে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়। প্রধানমন্ত্রী ও সংসদ নেতা তারেক রহমান স্পিকার হিসেবে হাফিজ উদ্দিন আহমদের নাম প্রস্তাব করলে তা কণ্ঠভোটে সমর্থিত হয়। একইভাবে ডেপুটি স্পিকার হিসেবে ব্যারিস্টার কায়সার কামালের নাম ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনের পর রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন নবনির্বাচিত স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকারকে শপথ বাক্য পাঠ করান।
অধিবেশনের শুরুতে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান উদ্বোধনী ভাষণ দেন। পরবর্তীতে স্পিকারের সভাপতিত্বে সংসদের পক্ষ থেকে সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াসহ বিগত দিনে মৃত্যুবরণকারী সংসদ সদস্য ও জাতীয় নেতাদের স্মরণে শোকপ্রস্তাব গ্রহণ করা হয়। এ সময় মরহুমদের আত্মার মাগফিরাত কামনায় দোয়া ও মোনাজাত করা হয়।
বিকালের সেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন সংসদে ভাষণ শুরু করলে এক অভূতপূর্ব পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
অধিবেশনের বিধি অনুযায়ী স্পিকার যখন রাষ্ট্রপতিকে ভাষণ দেওয়ার জন্য মঞ্চে আহ্বান জানান, তখনই জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বে বিরোধী দলীয় সংসদ সদস্যরা নিজ নিজ আসনে দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ শুরু করেন। তাদের হাতে থাকা প্ল্যাকার্ডগুলোতে লেখা ছিল— ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘গণতন্ত্র চাই, ফ্যাসিজম নয়’ এবং ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা বন্ধ করো’।
পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ বারবার শান্ত থাকার অনুরোধ জানালেও বিরোধী দলের সদস্যরা স্লোগান দিতে থাকেন। একপর্যায়ে রাষ্ট্রপতির উপস্থিতি ও ভাষণের প্রতিবাদ জানিয়ে তারা সংসদ কক্ষ থেকে ওয়াকআউট করেন।
বিরোধী দলের অনুপস্থিতিতে কিছুটা বিব্রতকর পরিস্থিতির সৃষ্টি হলেও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন তার লিখিত ভাষণ পাঠ করেন। তিনি জুলাই গণ-অভ্যুত্থানের প্রেক্ষাপট এবং অন্তর্বর্তী সরকারের ভূমিকা তুলে ধরেন। রাষ্ট্রপতি তার ভাষণে বিপুল সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠন করায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান, তার দল বিএনপি এবং মিত্রদের অভিনন্দন জানান। একইসঙ্গে তিনি একটি শক্তিশালী বিরোধী দলের প্রয়োজনীয়তার ওপর গুরুত্বারোপ করে তাদেরও শুভেচ্ছা জানান।
রাষ্ট্রপতির ভাষণ শেষ হওয়ার পর স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ আগামী রোববার বেলা ১১টা পর্যন্ত সংসদ মুলতবি ঘোষণা করেন।
৫৪ দিন আগে
অন্তর্বর্তী সরকারের আমলের ১৩৩ অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন
অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূসের নেতৃত্বাধীন অন্তর্বর্তী সরকারের আমলে রাষ্ট্রপতির জারি করা ১৩৩টি অধ্যাদেশ ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে উত্থাপন করা হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান অধ্যাদেশগুলো সংসদে উত্থাপন করেন।
এর আগে, আজ সকালে ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম এবং ২০২৬ সালের প্রথম অধিবেশন স্পিকারশূন্য অবস্থায় শুরু হয়। এরপর রাষ্ট্রপতি সংসদের সভপাতি নিযুক্ত করেনে খন্দকার মোশাররফ হোসেন। এরপর বিনাপ্রতিদ্বন্দ্বিতায় স্পিকার নির্বাচিত হন হাফিজ উদ্দিন আহমদ এবং ডেপুটি স্পিকার নির্বাচিত হন ব্যারিস্টার কায়সার কামাল।
স্পিকার এবং ডেপুটি স্পিকারের শপথ গ্রহণের পর বিরতির শেষে সংসদে সভাপতির দায়িত্ব পালন করেন নবনির্বাচিত স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ।
দিনের কার্যসূচি অনুযায়ী আইনমন্ত্রী রাষ্ট্রপতির জারি করা অধ্যাদেশ সংসদে উত্থাপন করেন।
অভিবেশনে স্পিকার ও ডেপুটি স্পিকার নির্বাচন, সভাপতিমণ্ডলী মনোনয়ন, শোক প্রস্তাব গ্রহণ ও আলোচনার পর ১৩৩টি অধ্যাদেশ উপস্থাপন করা হয়।
আইন, বিচার ও সংসদ বিষয়কমন্ত্রী মো. আসাদুজ্জামান সংবিধানের ৯৩(২) অনুচ্ছেদ অনুযায়ী ১৩৩টি অধ্যাদেশ সংসদে উপস্থাপন করবেন।
অধ্যাদেশের তালিকার মধ্যে রয়েছে— বাংলাদেশ ব্যাংক (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৪ এবং জেলা পরিষদ, উপজেলা পরিষদ, সিটি করপোরেশন ও পৌরসভা আইন সংশোধন-সংক্রান্ত অধ্যাদেশ। এছাড়া শেখ হাসিনা জাতীয় যুব উন্নয়ন ইনস্টিটিউট সংশোধন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন সংশোধন, বিশেষ নিরাপত্তা বাহিনী সংশোধন এবং জাতির পিতার পরিবার-সদস্যদের নিরাপত্তা রহিতকরণ অধ্যাদেশ, সরকারি চাকরি, বাংলাদেশ সরকারি কর্ম কমিশন, পাবলিক প্রকিউরমেন্ট, ব্যাংক, গ্রামীণ ব্যাংক, ভোটার তালিকা, স্থানীয় সরকার, জাতীয় সংসদের নির্বাচন এলাকা সীমানা নির্ধারণ, রিপ্রেজেন্টেশন অব দ্য পিপল সংশোধন, সিভিল কোর্টস অ্যামেন্ডমেন্ট, কোড অব ক্রিমিনাল প্রোসিডিউর সংশোধন এবং ইন্টারন্যাশনাল ক্রাইমস ট্রাইব্যুনালস সংশোধনের একাধিক অধ্যাদেশ।
জুলাই গণঅভ্যুত্থান-সংশ্লিষ্ট দুটি অধ্যাদেশও কার্যসূচিতে রাখা হয়েছে। এগুলো হলো জুলাই গণঅভ্যুত্থান স্মৃতি তহবিল অধ্যাদেশ, ২০২৫ এবং জুলাই গণঅভ্যুত্থান (সুরক্ষা ও দায় নির্ধারণ) অধ্যাদেশ, ২০২৬।
তালিকায় আরও রয়েছে— মাইক্রোফাইন্যান্স ব্যাংক, বাংলাদেশ বেসরকারি রফতানি প্রক্রিয়াকরণ অঞ্চল, বাংলাদেশ গ্যাস, কুমিল্লা উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, নারায়ণগঞ্জ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ, নেগোশিয়েবল ইনস্ট্রুমেন্টস (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৬, বাংলাদেশ হাউস বিল্ডিং ফাইন্যান্স করপোরেশন (অ্যামেন্ডমেন্ট) অর্ডিন্যান্স, ২০২৬ এবং বাংলাদেশ বনশিল্প উন্নয়ন করপোরেশন অধ্যাদেশ, ২০২৬।
৫৪ দিন আগে
সংসদে রাষ্ট্রপতির ভাষণের প্রতিবাদে বিরোধী দলের ওয়াকআউট
ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিন বক্তব্য দেওয়ার প্রতিবাদে ওয়াকআউট করেছে জামায়াতে ইসলামী নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের সংসদ সদস্যরা।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) সংবিধান অনুযায়ী নতুন সংসদের প্রথম অধিবেশনে রাষ্ট্রপতি ভাষণ শুরু করার সময় ওয়াক আউট করেন তারা।
এদিন স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদ রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে ভাষণ দেওয়ার জন্য অনুরোধ জানালে বিরোধী দল জামায়াতের সংসদ সদস্যরা দাঁড়িয়ে প্রতিবাদ জানান।
প্ল্যাকার্ডে ‘জুলাই নিয়ে গাদ্দারি চলবে না’, ‘জুলাইয়ের সঙ্গে বিশ্বাসযোগ্যতা বন্ধ কর’সহ বিভিন্ন স্লোগান লেখা ছিল। স্পিকার এ সময় সবাইকে শান্ত থাকতে আহ্বান জানান।
এরপর রাষ্ট্রপতি সংসদে ভাষণ শুরু করলে জামায়াতে ইসলামীর আমির ও বিরোধী দলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান, জামায়াতের সংসদ সদস্য ও এনসিপির সংসদ সদস্যরা বিভিন্ন স্লোগান দিয়ে সংসদ থেকে ওয়াক আউট করেন।
জামায়াত নেতৃত্বাধীন বিরোধী জোটের দলগুলো সংসদে বর্তমান রাষ্ট্রপতির ভাষণ দেওয়া নিয়ে আগে থেকেই আপত্তি তুলেছিল।
৫৪ দিন আগে
দেশ ও জনগণের স্বার্থে সংসদকে অর্থবহ করতে চাই: প্রধানমন্ত্রী
প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বলেছেন, আজ থেকে স্পিকার আর কোনো দলের নন, তিনি পুরো সংসদের অভিভাবক। দেশের স্বাধীনতাপ্রিয় গণতান্ত্রিক মানুষ এই সংসদের দিকে প্রত্যাশা নিয়ে তাকিয়ে আছে। দেশ ও জনগণের স্বার্থে আমরা এই সংসদকে অর্থবহ করতে চাই।
বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের প্রথম অধিবেশনের শুরুতে দেওয়া স্বাগত বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, প্রধানমন্ত্রী হিসেবে তিনি এই মহান সংসদে সমগ্র দেশের প্রতিনিধিত্ব করছেন। দল, মত, ধর্ম ও বর্ণ নির্বিশেষে তার রাজনীতি দেশের মানুষ ও রাষ্ট্রের স্বার্থ রক্ষার রাজনীতি।
বক্তব্যের শুরুতে তিনি ১৯৭১ সালের মুক্তিযুদ্ধ থেকে শুরু করে ২০২৪ সালে স্বাধীনতা রক্ষা ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার আন্দোলনে নিহত সব শহিদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা জানান। তিনি বলেন, গুম, খুন, আয়না ঘরের বন্দিশালাসহ বিভিন্নভাবে যারা নির্যাতনের শিকার হয়েছেন এবং যেসব পরিবার তাদের স্বজন হারিয়েছেন, তাদের অবদান কৃতজ্ঞতার সঙ্গে স্মরণ করছে জাতি।
তারেক রহমান বলেন, কোনো নিপীড়ন-নির্যাতন দিয়েই দেশের মানুষের গণতান্ত্রিক আকাঙ্ক্ষাকে দমিয়ে রাখা যায়নি। সাহসী ছাত্র-জনতার আন্দোলনের মাধ্যমেই দেশে আবার গণতন্ত্র ফিরে এসেছে।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়াকে স্মরণ করে তিনি বলেন, সংসদীয় গণতন্ত্রকে প্রাতিষ্ঠানিক রূপ দিতে এবং জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় তিনি আজীবন আপসহীন লড়াই করেছেন। স্বৈরাচার বা ফ্যাসিবাদের সঙ্গে কখনো আপস করেননি। তবে দুর্ভাগ্যজনকভাবে দেশের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়টি তিনি দেখে যেতে পারেননি।
বহুদলীয় গণতন্ত্রের প্রবক্তা প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের বক্তব্য উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ব্যক্তি বা দলের চেয়ে জনগণের স্বার্থই সবচেয়ে বড়-এটাই বিএনপির রাজনীতির মূল দর্শন।
প্রতিটি পরিবারকে স্বনির্ভর করার মাধ্যমে একটি সমৃদ্ধ, নিরাপদ ও গণতান্ত্রিক বাংলাদেশ গড়ে তুলতে চায় বিএনপি।
সংসদে উপস্থিত সব দলের সংসদ সদস্যদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, দল বা মত ভিন্ন হতে পারে, কিন্তু ফ্যাসিবাদমুক্ত, স্বাধীন ও স্বনির্ভর বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে সবাইকে একসঙ্গে কাজ করতে হবে।
বিগত সরকার জাতীয় সংসদকে অকার্যকর করে রেখেছিল উল্লেখ করে প্রধানমন্ত্রী বলেন, বিরোধিতার জন্য বিরোধিতা নয়, বরং সুনির্দিষ্ট যুক্তি ও বিতর্কের মাধ্যমে সংসদকে প্রাণবন্ত করে তুলতে চাই আমরা। এক্ষেত্রে স্পিকারের ভূমিকা সবচেয়ে বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
তিনি বলেন, জাতীয় সংসদের সদস্য হিসেবে সংসদ পরিচালনায় আমরা স্পিকারকে সর্বোচ্চ সহযোগিতা করবো ইনশাআল্লাহ।
বক্তব্যের শেষদিকে স্পিকারকে নতুন দায়িত্ব গ্রহণের জন্য সংসদ সদস্যদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা, অভিনন্দন ও ধন্যবাদ জানান তিনি।
৫৪ দিন আগে