রাজনীতি
উপজেলা পর্যায়ে স্ট্রোক-পরবর্তী থেরাপি চালুর কথা ভাবছে সরকার: স্বাস্থ্যমন্ত্রী
স্বাস্থ্য ও পরিবার কল্যাণমন্ত্রী সরদার মো. সাখাওয়াত হোসেন বলেছেন, উপজেলা পর্যায়ে স্ট্রোক-পরবর্তী থেরাপি সেবা চালু করার বিষয়টি সরকারের ধাপে ধাপে স্বাস্থ্যসেবা সম্প্রসারণ পরিকল্পনায় অন্তর্ভুক্ত করা হবে। তবে এ জন্য প্রয়োজনীয় জনবল, অবকাঠামো ও সরঞ্জাম থাকা সাপেক্ষে এ সেবা চালু করা হবে বলেও জানান তিনি।
সোমবার (৭ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে প্রশ্নোত্তর পর্বে বিরোধী দল বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরীর (চট্টগ্রাম-১৫) এক লিখিত প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী এ কথা বলেন। এর আগে স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টার দিকে সংসদের অধিবেশন শুরু হয়।
মন্ত্রী আরও বলেন, ডেঙ্গু, সাপের কামড় ও অন্যান্য মৌসুমি রোগের চিকিৎসায় জেলা ও উপজেলা পর্যায়ে প্রয়োজনীয় ওষুধ ও চিকিৎসাসামগ্রীর সরবরাহ এবং মজুত ব্যবস্থাপনাও জোরদার করা হবে।
এছাড়া চলতি বছরের ১৫ মার্চ থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত দেশে হামে সন্দেহভাজন ৮৮০ জনের মৃত্যু ও নিশ্চিতভাবে ৯৯ জনের মৃত্যু নথিভুক্ত হয়েছে বলেও জানান স্বাস্থ্যমন্ত্রী।
স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার পর্যন্ত হামে সন্দেহভাজন মৃত্যুর সংখ্যা ৮৯৭ এবং নিশ্চিত মৃত্যুর সংখ্যা ১০০-তে দাঁড়িয়েছে। অর্থাৎ হাম ও হামের উপসর্গ নিয়ে এখন পর্যন্ত মোট মৃত্যুর সংখ্যা ৯৯৭।
৫১ দিন আগে
সংকটে কিছু রাজনৈতিক দল অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে: প্রধানমন্ত্রী
দেশের চলমান বিদ্যুৎ ও গ্যাস সংকটকে কাজে লাগিয়ে কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন বলে অভিযোগ করেছেন প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপি চেয়ারম্যান তারেক রহমান। সেই সঙ্গে তিনি সবাইকে নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকার আহ্বান জানিয়েছেন।
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউশন বাংলাদেশ (কেআইবি) মিলনায়তনে আয়োজিত এক আলোচনা সভায় তিনি এ অভিযোগ করেন।
তারেক রহমান বলেন, স্বৈরাচারী সরকার হোক, কিংবা অন্তর্বর্তী সরকার, উত্তরাধিকারসূত্রে পাওয়া সমস্যাগুলো সমাধানের চেষ্টা করছি।
বিভিন্ন খাতে মানুষের দুর্ভোগ সৃষ্টিকারী সমস্যা রয়েছে স্বীকার করে তিনি বলেন, আমরা লক্ষ্য করছি, কিছু রাজনৈতিক দল ও ব্যক্তি এসব সমস্যাকে কাজে লাগিয়ে বিভিন্নভাবে বিভ্রান্তি সৃষ্টির চেষ্টা করছে। আর এই বিভ্রান্তির মাধ্যমে তারা দেশে অরাজকতা সৃষ্টির চেষ্টা করছে।
সরকার গণতান্ত্রিক প্রক্রিয়া বজায় রাখবে এবং গণতন্ত্রের নীতি ও নৈতিকতা সমুন্নত রাখতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করবে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী।
তিনি বলেন, কিন্তু কেউ যদি অরাজকতা সৃষ্টি করতে চায়, তাহলে সেই অরাজকতা কীভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে হবে, তা দেশের আইনেই স্পষ্টভাবে বলা আছে। তাই শুধু সরকার হিসেবে নয়, জনগণের নির্বাচিত সরকার হিসেবে তিনি সবাইকে নিজ নিজ সীমার মধ্যে থাকতে জোরালোভাবে আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানের শুরুতে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা জিয়াউর রহমান, সাবেক বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া এবং দেশ ও দলের জন্য জীবন উৎসর্গকারীদের স্মরণে এক মিনিট নীরবতা পালন করা হয়।
জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠান শুরু হয়। এরপর দলীয় সংগীত পরিবেশন ও বিএনপিকে নিয়ে একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শন করা হয়।
১৯৭৮ সালের ১ সেপ্টেম্বর তৎকালীন রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান বিএনপি প্রতিষ্ঠা করেন। দলের ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে মঙ্গলবার শুরু হওয়া পাঁচ দিনের কেন্দ্রীয় কর্মসূচি শনিবারের আলোচনা সভার মধ্য দিয়ে শেষ হয়।
তারেক রহমান বলেন, সরকার গঠনের পর বিএনপি একটি ভঙ্গুর অর্থনীতি এবং দুর্বল স্বাস্থ্য, শিক্ষা ও যোগাযোগ ব্যবস্থা উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। তিনি জ্বালানি সংকটকে দেশের সবচেয়ে বড় তাৎক্ষণিক সমস্যা হিসেবে চিহ্নিত করে বলেন, বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে বহু মানুষ ও শিল্পপ্রতিষ্ঠান দুর্ভোগে পড়েছে।
এ সময় বিএনপি প্রধান বিদ্যুৎ ও জ্বালানির সংকটে যারা ভুগছেন, তাদের সবার কাছে দলের পক্ষ থেকে আমি ক্ষমা চান। তবে তিনি বলেন, আগের সরকার বা অন্তর্বর্তী সরকারের রেখে যাওয়া সমস্যাগুলোকে সরকার শুধু অজুহাত হিসেবে ব্যবহার করতে চায় না।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা শুধু এসব সমস্যাকে অজুহাত হিসেবে তুলে ধরতে চাই না। বরং আমরা জনগণের কাছে বাস্তব পরিস্থিতি তুলে ধরতে চাই এবং একই সঙ্গে এমন ব্যবস্থা নিতে চাই, যাতে ভবিষ্যতে মানুষকে এ ধরনের সমস্যার মুখোমুখি হতে না হয়।
জ্বালানি সংকট মোকাবিলা এবং ভবিষ্যতে সম্ভাব্য বৈশ্বিক সংকট মোকাবিলায় দেশকে প্রস্তুত করতে বিএনপি ইতোমধ্যে একটি কর্মপরিকল্পনা গ্রহণ করেছে বলেও জানান তারেক রহমান।
তিনি বলেন, একটি কর্মপরিকল্পনা প্রণয়নে সময় লাগে, সেটি বাস্তবায়ন করতেও কিছু সময় প্রয়োজন। সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ বৈশ্বিক সংকটের কথা মাথায় রেখে সরকার বিভিন্ন পদক্ষেপ নিচ্ছে বলেও জানান তিনি।
প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন, আগের স্বৈরাচারী সরকারের সময় একটি রাজনৈতিক গোষ্ঠী ছদ্মবেশে কার্যক্রম চালিয়েছে এবং পরে তাদের কয়েকজন সদস্য নিজেদের সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেছেন।
তিনি আরও অভিযোগ করেন, কিছু রাজনৈতিক দল বিভ্রান্তি ছড়ানোর চেষ্টা করছে। এ ধরনের কর্মকাণ্ড ক্ষমতাচ্যুত স্বৈরাচারী সরকারের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট শক্তিগুলোকে আবার রাজনৈতিক অঙ্গনে ফিরে আসার সুযোগ করে দিতে পারে বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
তিনি প্রশ্ন রেখে বলেন, এমন কি হতে পারে যে, স্বৈরাচারী সরকারের সময় যারা ‘গুপ্ত’ বেশ ধারণ করেছিল, তারা এখন সেই ‘গুপ্ত’ নেটওয়ার্কের ভেতর থেকেই এই অরাজকতায় উসকানি দেওয়ার চেষ্টা করছে? যদি তা-ই হয়, তাহলে যারা লুকিয়ে আছে, তারা আসলে সেই স্বৈরাচারী সরকারকে আবার সামনে নিয়ে আসার জন্য কাজ করছে।
সব জাতীয়তাবাদী শক্তি ও বিএনপির নেতা-কর্মীদের প্রতি আহ্বান জানিয়ে তারেক রহমান বলেন, আসুন, আমরা জনগণকে আরও সচেতন করি। কে কার দায় নিচ্ছে এবং কে কাকে রক্ষা করার চেষ্টা করছে, তা জনগণের সামনে তুলে ধরি।
বাংলাদেশের ইতিহাসের বিভিন্ন সময়ে কিছু রাজনৈতিক শক্তি একে অন্যকে রক্ষা বা আশ্রয় দিয়েছে বলেও প্রধানমন্ত্রী অভিযোগ করেন।
তিনি আরও বলেন, এই রাজনীতি জনগণের সামনে তুলে ধরতে হবে। জনগণের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে। কারণ আমরা দেখেছি, এসব ‘গুপ্ত বাহিনী’ বিভিন্ন সময়ে ও বিভিন্ন দশকে একে অন্যকে আড়াল ও আশ্রয় দিয়েছে—১৯৭১ সালে, ১৯৮৬ সালে, ১৯৯৬ সালে, গত এক যুগ, এমনকি বর্তমান সময়েও।
তারেক রহমান বলেন, তাই আজ আমাদের জনগণের সামনে তাদের রাজনীতি তুলে ধরতে হবে। জনগণের কাছে বিষয়টি স্পষ্ট করতে হবে।
তিনি আরও বলেন, বিএনপি প্রতিষ্ঠার পর থেকেই ধারাবাহিকভাবে একটি গণতান্ত্রিক ব্যবস্থা প্রতিষ্ঠা এবং জনগণের গণতান্ত্রিক অধিকার সমুন্নত রাখার চেষ্টা করে আসছে।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমরা এখনো দৃঢ়ভাবে এতে বিশ্বাস করি। গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার জন্য বিএনপির লাখ লাখ নেতা-কর্মী জীবন উৎসর্গ করেছেন বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
একই সঙ্গে তিনি বলেন, বিএনপি এমন একটি মানবিক রাষ্ট্র ও গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠা করতে চায়, যেখানে কেউ নিজের অধিকার প্রয়োগ করতে বাধার মুখে পড়বে না।
৫২ দিন আগে
সংসদ কার্যকর থাকলে রাজপথে লংমার্চ গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি: জহির উদ্দিন স্বপন
জাতীয় সংসদ যখন সন্তোষজনকভাবে কার্যকর রয়েছে, তখন আন্দোলনের নামে রাজপথে লংমার্চের মতো কর্মসূচি সাধারণ মানুষের গণআকাঙ্ক্ষার পরিপন্থি বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা জহির উদ্দিন স্বপন।
তিনি বলেন, ‘সংসদীয় রাজনীতিতে চেক অ্যান্ড ব্যালেন্সের মাধ্যমে সরকারকে জবাবদিহির আওতায় রাখার সুযোগ থাকা সত্ত্বেও সংসদের বিতর্ককে দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়ার প্রবণতা গণতান্ত্রিক সংস্কৃতিকে বাধাগ্রস্ত করে।’
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) রাজধানীর বাংলাদেশ আইন ও আন্তর্জাতিক সম্পর্ক ইনস্টিটিউট (বিলিয়া) মিলনায়তনে আয়োজিত এক গোলটেবিল বৈঠকে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
‘বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের পর্যালোচনা: সুশাসন, জবাবদিহিতা ও উন্নয়নের প্রেক্ষাপট’ শীর্ষক এ গোলটেবিল বৈঠকের আয়োজন করে ‘সিটিজেন ফোরাম বাংলাদেশ’ ও ‘বাংলাদেশ সেন্টার ফর অ্যাডভান্সড ইনিশিয়েটিভস’ (বিসিএআই)।
বিশ্ববিদ্যালয় মঞ্জুরি কমিশনের (ইউজিসি) চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. মামুন আহমেদের সভাপতিত্বে এবং ডা. সাখাওয়াত হোসেন সায়ন্তর সঞ্চালনায় বৈঠকে সাবেক পররাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী আবুল হাসান চৌধুরীসহ বিশিষ্ট রাজনীতিক, শিক্ষাবিদ ও গবেষকরা বক্তব্য দেন।
প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা বলেন, ‘সংসদীয় গণতন্ত্রকে গতিশীল ও অর্থবহ রাখতে সরকারি দলকে জবাবদিহির মধ্যে রাখা বিরোধী দলের দায়িত্ব। কিন্তু সংসদীয় বিতর্ককে অহেতুক ও দ্রুত রাজপথে নিয়ে যাওয়া এবং লংমার্চের মতো কর্মসূচি ঘোষণার বিষয়ে দেশের সচেতন মহলকে সজাগ থাকতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘রাজনৈতিক দলগুলো কতটা বুঝে এসব করছে তা জানি না, তবে এই ধরনের অস্থিতিশীল পরিস্থিতির সুযোগ নেওয়ার জন্য দেশি-বিদেশি নানান অপশক্তি ওঁৎ পেতে বসে থাকে।’
সরকারের প্রথম ১৮০ দিনের মূল্যায়ন তুলে ধরে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, বিগত দুই দশকের ফ্যাসিবাদের চর্চা, ভঙ্গুর সমাজব্যবস্থা ও দেউলিয়া অর্থনীতির চরম অচলাবস্থা থেকে দেশকে টেনে তুলে সরকার নতুন একটি সঠিক গতিমুখ নির্ধারণ করতে সক্ষম হয়েছে।
তিনি বলেন, সংকট এতই গভীর ছিল যে রাতারাতি কোনো জাদুকরী পরিবর্তন সম্ভব নয়। তবে দীর্ঘমেয়াদে টেকসই প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে সরকার ইতোমধ্যে সুনির্দিষ্ট নীতিনির্ধারণী পদক্ষেপ নিয়েছে।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে সৃষ্ট সংকট প্রসঙ্গে তিনি বলেন, দীর্ঘমেয়াদি আমদানিনির্ভরতা ও ভুল নীতির কারণে অপরিহার্য এ দুটি খাতে দেশকে আজ হিমশিম খেতে হচ্ছে। এতদিন ক্ষমতায় থেকেও প্রাকৃতিক সম্পদ উত্তোলনে স্থায়ী পদক্ষেপ না নেওয়া কেবল দুর্নীতি ছিল না, এটি ছিল জাতির সঙ্গে দীর্ঘমেয়াদি প্রতারণা।
উপদেষ্টা বলেন, ‘বর্তমান সরকার কেবল সংকটের কথা বলে পার পাওয়ার চেষ্টা করছে না, বরং প্রধানমন্ত্রী জনগণের কাছে আন্তরিক দুঃখ প্রকাশ করে বিকল্প উৎস সন্ধান এবং নিজস্ব গ্যাস উত্তোলনের উদ্যোগ বাস্তবায়ন করছেন।’
তিনি আরও বলেন, সুশাসন ও অর্থনৈতিক স্বস্তি ফেরাতে চীন ও ভারতের পাশাপাশি পণ্য আমদানির নতুন উৎস তৈরি, আমদানি ব্যয় হ্রাস এবং রপ্তানি পণ্যের বহুমুখীকরণে সরকার বিশেষ জোর দিয়েছে।
সংসদে গঠনমূলক আলোচনার আহ্বান জানিয়ে জহির উদ্দিন স্বপন বলেন, কেবল সরকারি দলকে ফাঁদে ফেলার দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সংসদীয় রাজনীতি ধরে রাখা যায় না। কৃত্রিম ও ভাষাভাষা সমালোচনা না করে যেকোনো বিষয়ে সুনির্দিষ্ট ও বাস্তবসম্মত পরামর্শ দিলে তা দেশ পরিচালনায় ইতিবাচক ভূমিকা রাখবে।
গোলটেবিল বৈঠকের এ নাগরিক উদ্যোগকে ধন্যবাদ জানিয়ে তিনি বলেন, এ ধরনের গঠনমূলক আলোচনা ও গবেষণা রাজনৈতিক প্রক্রিয়া, সিদ্ধান্ত গ্রহণ এবং জবাবদিহিতার চর্চাকে সঠিক খাতে প্রবাহিত করতে সহায়ক হবে।
৫৩ দিন আগে
জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত রাজপথে থাকব: শফিকুর রহমান
জামায়াতে ইসলামীর আমির ও জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় নেতা ডা. শফিকুর রহমান বলেছেন, সরকার জনগণের সঙ্গে ভাওতাবাজি ও প্রতারণা করছে। ওয়াদা দিয়ে তা লঙ্ঘন করছে। জনগণ তাদের ক্ষমা করবে না। জনগণের দাবি পূরণ না হওয়া পর্যন্ত তারা রাজপথে থাকবেন।
শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে কুমিল্লা নগরীর পদুয়ার বাজার বিশ্বরোড এলাকায় জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চের পথসভায় প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি এসব কথা বলেন।
শফিকুর রহমান বলেন, ‘স্বৈরাচারের বিরুদ্ধে এই রাস্তায় রক্ত ঢেলেছিলেন আপনাদের সঙ্গীরা। তাদের সেই দাবি পূরণ হয়নি। সেই দাবি পূরণ করার জন্য আমরা রাস্তায় নেমেছি। ইনশাআল্লাহ, দাবি পূরণ করে ঘরে ফিরব।’
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়নের দাবি তুলে জামায়াতের আমির বলেন, ‘আমরা রাস্তায় নেমেছি গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন করার জন্য। রাস্তায় নেমেছি জুলাই গণঅভ্যুত্থানের চেতনা বাস্তবায়ন করার জন্য। আমরা রাস্তায় নেমেছি আপনাদের ঘরে গ্যাস ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য। রাস্তায় নেমেছি আপনাদের ঘরে বিদ্যুৎ ও বাতি জ্বালানোর ব্যবস্থা করার জন্য।’
‘আপনারা কি ২৪ ঘণ্টা বিদ্যুৎ পান, গ্যাস পান? চাঁদাবাজি হয় কি না?’ দেশ মাদকে ছেয়ে গেছে উল্লেখ করে তিনি মাদক নিয়ন্ত্রণে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান।
পথসভায় জাতীয় সংসদের বিরোধীদলীয় উপনেতা ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির ডা. আবদুল্লাহ মুহাম্মদ তাহেরও বক্তব্য দেন। তিনি লংমার্চের ছয় দফা দাবি বাস্তবায়ন এবং গণভোটের রায় কার্যকর করার আহ্বান জানান।
জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম বলেন, তেল, গ্যাস ও বিদ্যুতের সরবরাহ নিশ্চিত করতে হবে। জনগণের এসব মৌলিক দাবি পূরণ না হলে সরকার গদিতে থাকতে পারবে না। গণভোটের রায় বাস্তবায়নেরও দাবি জানান তিনি।
এ সময় লিবারেল ডেমোক্র্যাটিক পার্টির (এলডিপি) চেয়ারম্যান কর্নেল (অব.) অলি আহমদ বলেন, দেশের ৭০ শতাংশ মানুষের দেওয়া রায় কার্যকর করতে হবে। এই রায় স্বয়ংক্রিয়ভাবে বাস্তবায়িত না হলে সরকারকে ব্যর্থ করে দেওয়ার কথা বলেন তিনি।
খেলাফত মজলিসের আমির মাওলানা মামুনুল হক বলেন, বাংলাদেশের মানুষের ভাগ্যের পরিবর্তন এবং দেশকে সঠিক গন্তব্যে এগিয়ে নিতে সামনে আরও কঠিন পরিস্থিতি মোকাবিলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে। লংমার্চের মধ্য দিয়ে চলমান আন্দোলনের দ্বিতীয় পর্ব শুরু হচ্ছে বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় ঐক্যজোটের ছয় দফা দাবিতে শনিবার সকালে রাজধানী থেকে ঢাকা–চট্টগ্রাম লংমার্চ শুরু হয়। নারায়ণগঞ্জের শিমরাইলসহ বিভিন্ন স্থানে পথসভা শেষে লংমার্চটি কুমিল্লায় পৌঁছে পদুয়ার বাজার বিশ্বরোডে পথসভা করে। পরে চট্টগ্রামের উদ্দেশে লংমার্চটি যাত্রা করে।
পথসভায় সভাপতিত্ব করেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর কেন্দ্রীয় কর্মপরিষদ সদস্য ও কুমিল্লা মহানগরী আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ। সভা পরিচালনা করেন কুমিল্লা মহানগরী জামায়াতের সেক্রেটারি মো. মাহবুবর রহমান। এতে সহকারী সেক্রেটারি কামারুজ্জামান সোহেল ও কাউন্সিলর মোশাররফ হোসাইনও দায়িত্ব পালন করেন।
এছাড়া পথসভায় বাংলাদেশ লেবার পার্টির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব খন্দকার মিরাজুল ইসলাম, বাংলাদেশ খেলাফত আন্দোলনের যুগ্ম মহাসচিব আলী হোসেন আকন্দ, আমার বাংলাদেশ পার্টির যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক অ্যাডভোকেট যোবায়ের আহমেদ ভূঁইয়া, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের সভাপতি অ্যাডভোকেট আতিকুর রহমান, কেন্দ্রীয় মজলিসে শুরা সদস্য মো. আবদুস সাত্তার, কুমিল্লা জেলা দক্ষিণ জামায়াতের আমির মোহাম্মদ শাহজাহান অ্যাডভোকেট, কুমিল্লা উত্তর জেলা জামায়াতের আমির অধ্যাপক আবদুল মতিন, বাংলাদেশ শ্রমিক কল্যাণ ফেডারেশনের কেন্দ্রীয় সহ-সভাপতি মজিবুর রহমান ভূঁইয়া এবং চাঁদপুর জেলা জামায়াতের আমির মো. বিল্লাল হোসাইন উপস্থিত ছিলেন।
৫৩ দিন আগে
আমরা ফটোসেশন-ফটোশোর রাজনীতি করি না: পানিসম্পদমন্ত্রী
পানিসম্পদমন্ত্রী শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেছেন, মাত্র ছয় মাসে সব কাজ শেষ করা সম্ভব নয়। আমরা ফটোসেশন-ফটোশোর রাজনীতি করি না।
শুক্রবার (৪ সেপ্টেম্বর) বেলা ১১টার দিকে লক্ষ্মীপুর জেলা স্বেচ্ছাসেবক দল ও কৃষক দলের রহমতখালী খাল পরিষ্কার কর্মসূচির উদ্বোধন শেষে তিনি এসব কথা বলেন।
শহীদ উদ্দিন চৌধুরী এ্যানি বলেন, তারেক রহমান স্বপ্ন দেখাচ্ছেন, আমি স্বপ্নের মধ্যে থাকতে চাই না। সে স্বপ্নকে বাস্তবায়ন করতে চাই। তার সেই তীক্ষ্ণ দৃষ্টি থেকে আমরা ২০ হাজার কিলোমিটার খাল খননের উদ্যোগ হাতে নিয়েছি এবং শুরু করেছি। মাত্র ৬ মাস হয়েছে। সব কাজ শেষ হওয়া সম্ভব নয়। এটা বিরোধী দলের বোঝা উচিত। ৬ মাসে মাথায় উনারা লং মার্চ করবেন। আমরা ফটোসেশন-ফটোশোর রাজনীতি করি না।
তিনি আরও বলেন, সামাজিক কাজ করতে করতে মাদকমুক্তকরণ সম্ভব হবে। কারণ সামাজিক আন্দোলনের মূল লক্ষ্য হলো মাদকমুক্ত পরিবেশ সৃষ্টি। ১৭ বছরের ট্রেন্ড প্রভাবশালী লোকগুলা এখনও কলকব্জা নাড়াচ্ছে। যারা মাদকের সঙ্গে জড়িত হবে, তাদের বিরুদ্ধে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানান মন্ত্রী ।
এ সময় জেলা বিএনপির যুগ্ম আহ্বায়ক অ্যাডভোকেট হাসিবুর রহমানের সঞ্চালনায় উপস্থিত ছিলেন জেলা বিএনপির সদস্য সচিব ও জেলা পরিষদের প্রশাসক সাহাব উদ্দিন সাবু, বাফুফে সহ-সভাপতি ওয়াহিদ উদ্দিন চৌধুরী হ্যাপি, জেলা স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি অ্যাডভোকেট স্বপন, সেক্রেটারি হারুনুর রশিদ, কৃষক দলের মোস্তাফিজুর রহমান সোহেলসহ আরও অনেকে।
৫৪ দিন আগে
৫ সেপ্টেম্বরের জামায়াতের লংমার্চ ঘিরে কুমিল্লায় ব্যাপক প্রস্তুতি
আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামীর নেতৃত্বাধীন ১১ দলীয় জোটের ঢাকা-চট্টগ্রাম লংমার্চ ও কুমিল্লার পদুয়ার বাজারে পথসভা সফল করতে ব্যাপক প্রস্তুতি নেওয়া হয়েছে। এক হাজার গাড়িতে লক্ষাধিক নেতাকর্মী এই লংমার্চে অংশগ্রহণ করবেন বলে জানানো হয়। আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর পাশাপাশি ১১ দলীয় ঐক্যের পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক শৃঙ্খলা রক্ষায় দায়িত্ব পালন করবেন।
বৃহস্পতিবার (৩ সেপ্টেম্বর) সকাল ১০টায় স্থানীয় একটি মিলনায়তনে গণমাধ্যমকর্মীদের সঙ্গে মতবিনিময় সভায় লিখিত বক্তব্যে এসব তথ্য জানান কুমিল্লা মহানগর জামায়াতের আমির কাজী দ্বীন মোহাম্মদ।
লিখিত বক্তব্যে তিনি জানান, লংমার্চের দাবিগুলোর মধ্যে রয়েছে অবিলম্বে গণভোটের গণরায় বাস্তবায়ন, জুলাই গণহত্যার বিচার, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতি ও অপরাধ দমন, বিদ্যুৎ-জ্বালানি ও সার সংকট নিরসন, নিত্যপ্রয়োজনীয় দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি নিয়ন্ত্রণ এবং প্রশাসনের সর্বস্তরে সংকীর্ণ দলীয়করণ বন্ধ করা।
কাজী দ্বীন মোহাম্মদ জানান, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর দুপুর ১২টায় কুমিল্লার পদুয়ার বাজার এলাকায় পথসভা অনুষ্ঠিত হবে। এরপর দুপুর ১টায় চৌদ্দগ্রামে আরেকটি পথসভা হবে। কর্মসূচি শান্তিপূর্ণ ও নির্বিঘ্ন করতে জেলা প্রশাসন, পুলিশ, হাইওয়ে পুলিশ ও গোয়েন্দা সংস্থার সঙ্গে সমন্বয় করা হয়েছে।
তিনি বলেন, কুমিল্লা থেকে প্রায় এক হাজার গাড়িতে লক্ষাধিক নেতাকর্মী লংমার্চে অংশ নেবেন। কর্মসূচিতে অংশগ্রহণকারীদের শৃঙ্খলা বজায় রাখতে ১১ দলীয় ঐক্যের পাঁচ শতাধিক স্বেচ্ছাসেবক দায়িত্ব পালন করবেন।
৫৫ দিন আগে
১৫ দিনের মধ্যে বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে: প্রতিমন্ত্রী
আগামী ১৫ দিনের মধ্যে দেশের বিদ্যুৎ পরিস্থিতির দৃশ্যমান উন্নতি হবে বলে দৃঢ় আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন বিদ্যুৎ, জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ প্রতিমন্ত্রী অনিন্দ্য ইসলাম অমিত।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে বিরোধীদলীয় সংসদ সদস্য নূরুল ইসলাম বুলবুলের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রতিমন্ত্রী এ আশার কথা জানান।
প্রতিমন্ত্রী বলেন, ‘আগস্টে বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ নিয়ে যে দুর্ভোগের সৃষ্টি হয়েছিল, তার পুনরাবৃত্তি ঠেকাতে সরকার সর্বাত্মক চেষ্টা করছে।’
তিনি আরও বলেন, বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটে সৃষ্ট মানুষের দুর্ভোগ সম্পর্কে সরকার অবগত এবং এ পরিস্থিতির জন্য তিনি দুঃখ প্রকাশ করছেন।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, আমি দায়িত্ব নিয়ে এ কথা বলছি। নিছক কথার আড়ালে সত্যকে লুকাতে চাই না। বর্তমানে বিদ্যুৎ ও গ্যাসের সংকটের কারণে বাংলাদেশের মানুষ কষ্টে আছে।
চলমান সংকটের জন্য বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে দীর্ঘদিনের নীতিগত ভুলকে বড় কারণ হিসেবে উল্লেখ করেন তিনি। এর সঙ্গে সাম্প্রতিক মধ্যপ্রাচ্য সংকটও যুক্ত হয়েছে বলেও জানান তিনি, যা জ্বালানি সরবরাহের ওপর বাড়তি চাপ সৃষ্টি করেছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনে গ্যাসের ওপর বাংলাদেশের অতিরিক্ত নির্ভরতার কারণে সৃষ্ট সীমাবদ্ধতার কথাও তুলে ধরেন প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, দেশের গ্যাসভিত্তিক বিদ্যুৎকেন্দ্রগুলোর সম্মিলিত উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ১২ হাজার মেগাওয়াট। এসব কেন্দ্র পূর্ণ সক্ষমতায় চালাতে প্রতিদিন প্রায় ১ হাজার ৯০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস (এমএমসিএফডি) প্রয়োজন।
এই চাহিদার বিপরীতে দেশীয় উৎপাদন ও আমদানি করা তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) মিলিয়ে বর্তমানে প্রায় ২ হাজার ৩০০ থেকে ২ হাজার ৭০০ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস পাওয়া যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ফলে বিদ্যুৎকেন্দ্রে গ্যাসের বরাদ্দ বাড়ালে শিল্প ও আবাসিক খাতে গ্যাস সরবরাহ ব্যাহত হতে পারে। এ কারণে বিদ্যুৎ, শিল্প ও আবাসিক—এই তিন খাতের মধ্যে সরকারকে ভারসাম্য বজায় রাখতে হচ্ছে।
বিদ্যুৎ উৎপাদনের কয়েকটি ইউনিট বন্ধ থাকাও বিদ্যুৎ সংকটের কারণ বলে জানান প্রতিমন্ত্রী। তিনি বলেন, পায়রা বিদ্যুৎকেন্দ্রের ৬১৬ মেগাওয়াট ক্ষমতার একটি ইউনিট কারিগরি ত্রুটির কারণে বর্তমানে বন্ধ রয়েছে। আর মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের একই ক্ষমতার আরেকটি ইউনিট রক্ষণাবেক্ষণের জন্য বন্ধ রয়েছে।
এছাড়া ভারতের আদানি গ্রুপের কাছ থেকে চুক্তি অনুযায়ী বাংলাদেশ কম বিদ্যুৎ পাচ্ছে উল্লেখ করে বিদ্যুৎ প্রতিমন্ত্রী বলেন, চুক্তি অনুযায়ী ওই গ্রুপের কাছ থেকে বাংলাদেশের ১ হাজার ৬০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়ার কথা। কিন্তু বর্তমানে দিনে প্রায় ৯০০ মেগাওয়াট এবং সন্ধ্যায় প্রায় ১ হাজার ১০০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ পাওয়া যাচ্ছে।
একই সঙ্গে আমদানি করা এলএনজি ব্যবস্থাপনায় ব্যবহৃত দুটি ভাসমান এলএনজি টার্মিনালে (এফএসআরইউ) ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জ্বালানি সরবরাহ ব্যবস্থায়ও বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি হয়েছে বলেও জানান তিনি। গত ২১ জুলাই সমস্যাটি দেখা দেয় এবং তা মেরামতে ২১ থেকে ২২ দিন সময় লাগে। এর ফলে বিদ্যুৎ উৎপাদনও ব্যাহত হয়। তবে তিনি দাবি করেন, সংকটের প্রায় ৮৮ শতাংশ ইতোমধ্যে সমাধান করা হয়েছে।
অনিন্দ্য ইসলাম অমিত জানান, এখন সরকার পায়রা ও মাতারবাড়ী বিদ্যুৎকেন্দ্রের ক্ষতিগ্রস্ত ইউনিটগুলো দ্রুত চালু করার বিষয়টিকে অগ্রাধিকার দিচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বাংলাদেশের মানুষকে আগস্টে যে দুর্ভোগ পোহাতে হয়েছে, তা যেন অন্তত সেপ্টেম্বর মাসে আর পোহাতে না হয়, সে জন্য আমরা সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।’
আগামী গ্রীষ্মের কথা মাথায় রেখে বিদ্যুৎ সরবরাহ জোরদারে ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপনসহ দীর্ঘমেয়াদি পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে বলেও জানান প্রতিমন্ত্রী। এ সময় সরকারের নেওয়া ছাদে সৌরবিদ্যুৎ স্থাপন নীতি আগামী গ্রীষ্মে চলমান সময়ের মতো বিদ্যুৎ-সংক্রান্ত দুর্ভোগ থেকে মানুষকে রক্ষা করতে সহায়তা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
বিদ্যুৎ ও জ্বালানি পরিস্থিতি নিয়ে সংসদ সদস্যদের উদ্বেগকে স্বাভাবিক উল্লেখ করে অনিন্দ্য ইসলাম অমিত বলেন, সংসদ সদস্যদের সঠিক তথ্য দেওয়ার পাশাপাশি এ খাতকে ঘিরে থাকা ভুল-বোঝাবুঝি দূর করার চেষ্টা করবে সরকার।
৫৬ দিন আগে
দেশে-বিদেশে কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের কর্মসংস্থানের পরিকল্পনা করছে সরকার: প্রধানমন্ত্রী
কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির জন্য সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক শিক্ষা বা প্রশিক্ষণ চালুর পরিকল্পনা করছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান।
বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) জাতীয় সংসদে কুমিল্লা-৬ আসনের সংসদ সদস্য মো. মনিরুল হক চৌধুরীর এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী এ কথা জানান।
প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘কওমি মাদরাসার শিক্ষার্থীদের দেশে ও বিদেশে কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টির লক্ষ্যে সরকার কারিগরি ও বৃত্তিমূলক প্রশিক্ষণের আয়োজন করার পরিকল্পনা করছে।’
স্পিকার হাফিজ উদ্দিন আহমদের সভাপতিত্বে বিকেল ৩টা ৩০ মিনিটে সংসদ অধিবেশন শুরুর পর প্রধানমন্ত্রীর প্রশ্নোত্তর পর্ব শুরু হয়। প্রথম ৩০ মিনিটে তারেক রহমান সরাসরি চারটি লিখিত প্রশ্ন ও ছয়টি সম্পূরক প্রশ্নের উত্তর দেন।
মনিরুল হকের একটি তারকাচিহ্নিত প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ২০০৬ সালে একটি গেজেট বিজ্ঞপ্তির মাধ্যমে সব কওমি মাদরাসার সমন্বয়, উন্নয়ন ও পাবলিক পরীক্ষা পরিচালনার জন্য ‘কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ’ নামে একটি স্থায়ী প্রতিষ্ঠান গঠনের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছিল।
পরবর্তী সময়ে আল-হাইআতুল উলয়া লিল-জামী’য়াতিল কওমিয়া বাংলাদেশ-এর অধীনে সরকার ২০১৮ সালে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) সনদকে ইসলামিক স্টাডিজ ও আরবিতে স্নাতকোত্তর ডিগ্রির সমমান দিয়ে একটি আইন প্রণয়ন করে এবং ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড প্রতিষ্ঠার সিদ্ধান্ত নেয়।
সেই ছয়টি বোর্ড হলো বেফাকুল মাদারিসিল আরাবিয়া বাংলাদেশ, বেফাকুল মাদারিসিল কওমিয়া গওহরডাঙ্গা বাংলাদেশ, আনজুমানে ইত্তেহাদুল মাদারিস বাংলাদেশ (কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড), আযাদ দ্বীনি এদারায়ে তাঅলীম বাংলাদেশ বোর্ড, তানজিমুল মাদারিসিদ্বীনিয়া বাংলাদেশ ও জাতীয় দ্বীনি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ড বাংলাদেশ।
তারেক রহমান জানান, ‘বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান (মাদরাসা) জনবল কাঠামো ও এমপিও নীতিমালা, ২০২৬’ সংশোধনের পর গত ২৩ জুন ছয়টি কওমি মাদরাসা শিক্ষা বোর্ডের সনদ স্বীকৃতি পায়।
এর ফলে কওমি মাদরাসার দাওরায়ে হাদিস (তাকমিল) ডিগ্রির পাশাপাশি ইলমুল কিরাত বা হিফজুল কোরআন সনদধারীরা সহকারী মৌলভী (ক্বারী) ও ইবতেদায়ী ক্বারী পদে নিয়োগের জন্য যোগ্য হয়েছেন বলেও জানান তিনি।
সাধারণ শিক্ষা কারিকুলামে আরও আরবি বিষয় অন্তর্ভুক্ত করার বিষয়ে লক্ষ্মীপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য আবুল খায়ের ভূঁইয়ার অপর এক প্রশ্নের জবাবে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ধর্মীয় শিক্ষা ইতোমধ্যে নিয়মিত কারিকুলামের অংশ এবং সরকার এটিকে কীভাবে আরও উন্নত করা যায় তা পর্যালোচনা করে দেখতে পারে।
এছাড়া ইবতেদায়ী মাদরাসা জাতীয়করণের বিষয়ে কুড়িগ্রাম-৩ আসনের সংসদ সদস্য মো. মাহবুবুল আলমের এক সম্পূরক প্রশ্নের জবাবে তারেক রহমান তাকে এ বিষয়ে আলাদা নোটিশ দেওয়ার আহ্বান জানান।
তিনি আরও বলেন, আপনি আমাকে একটি আলাদা নোটিশ দিলে আমি বিষয়টি সঠিকভাবে খতিয়ে দেখব এবং বিস্তারিত তথ্য সংসদে উপস্থাপন করব।
৫৬ দিন আগে
বিএনপির ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চীনের গুয়াংজুতে আলোচনা সভা
বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী দলের (বিএনপি) ৪৮তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উপলক্ষে চীন বিএনপির উদ্যোগে দেশটির গুয়াংজু শহরের একটি স্থানীয় হোটেলে আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যা সাড়ে ৮টায় আয়োজিত এ সভায় সভাপতিত্ব করেন চীন বিএনপির জ্যেষ্ঠ নেতা সাখাওয়াত হোসেন কানন। অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন আসিফ হক রুপু।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন শেখ মাহাবুবুর রশীদ, ওয়ালি উল্লাহ, হাসমত আলী মৃধা, হোসেন মোহাম্মদ সাখাওয়াত, মাসুদ আহম্মেদ মাসুদ, মো. খোরশেদ আলম আপু, মো. রাকিবুল ইসলাম, মো. নজিম আহম্মেদ নাদিম ও মাহাবুব জামানসহ অন্যান্য নেতৃবৃন্দ।
সভায় বক্তারা বিএনপির ৪৮ বছরের রাজনৈতিক পথচলা, দলটির প্রতিষ্ঠার ইতিহাস এবং দেশের গণতন্ত্র ও জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠায় বিএনপির ভূমিকা নিয়ে আলোচনা করেন।
তারা বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমানের রাজনৈতিক আদর্শ ও ১৯ দফা কর্মসূচির বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন।
আলোচনা সভায় চীন বিএনপির নেতাকর্মীদের মধ্যে ঐক্য ও সাংগঠনিক তৎপরতা আরও জোরদারের ওপর গুরুত্বারোপ করা হয়। একই সঙ্গে ভবিষ্যতে দলের কর্মসূচিতে সবাইকে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণের আহ্বান জানানো হয়।
সভায় চীনে বসবাসরত প্রবাসী বাংলাদেশিরা অংশ নেন। এ ছাড়া চীন বিএনপির অনেক নেতাকর্মী ভার্চুয়ালি সভায় যুক্ত হন।
৫৬ দিন আগে
দুই সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে: রিজভী
চলতি সেপ্টেম্বর মাসের দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে দেশে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত হবে বলে জানিয়েছেন বিএনপির ভারপ্রাপ্ত মহাসচিব ও দলটির স্থায়ী কমিটির সদস্য রুহুল কবির রিজভী।
মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সকালে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে বিএনপির প্রতিষ্ঠাতা শহিদ রাষ্ট্রপতি জিয়াউর রহমান ও সাবেক প্রধানমন্ত্রী বেগম খালেদা জিয়ার কবর জিয়ারত ও শ্রদ্ধা নিবেদন শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা বলেন।
রিজভী বলেন, বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকটের প্রভাব বাংলাদেশেও পড়েছে। বিশেষ করে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধার কারণে জ্বালানি সরবরাহে সংকট তৈরি হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘এই সংকট একটি বৈশ্বিক সংকট। আমেরিকা-ইরানের যুদ্ধ...হরমুজ প্রণালি জাহাজ আসতে পারছে না। জ্বালানি আসতে পারছে না। দুএকটা জাহাজ যখন আসার চেষ্টা করেছে, সেখানে বোম পড়েছে। তারপরেও তো তিনি (তারেক রহমান) বসে নেই! জ্বালানি-বিদ্যুতের বাজেটের উপরে ৪০ হাজার কোটি টাকা দিয়ে তিনি গ্যাসের সংকট সমাধান করছেন।’
মহেশখালীতে এফএসআরইউর কারিগরি ত্রুটি মেরামত সম্পন্ন হয়েছে উল্লেখ করে রিজভী বলেন, ‘এখন রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে। সেপ্টেম্বরের প্রথম অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে এবং বিদ্যুৎ থাকবে। তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি। সুতরাং সব সংকট মোকাবিলা করে তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন, এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
রিজভী জানান, মহেশখালীর এলএনজি টার্মিনালে কারিগরি ত্রুটি দেখা দিয়েছিল। ইতোমধ্যে সেটি মেরামত করা হয়েছে এবং বর্তমানে গ্যাসের রিগ্যাসিফিকেশন শুরু হয়েছে।
‘সেপ্টেম্বরের প্রথম সপ্তাহ অথবা দ্বিতীয় সপ্তাহের মধ্যে ইনশাআল্লাহ গ্যাসের স্বাভাবিক সরবরাহ নিশ্চিত থাকবে। বিদ্যুৎ থাকবে—তার কিছু আলামত আমরা দেখতে পাচ্ছি,’ বলেন তিনি।
বিএনপির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর প্রসঙ্গ টেনে রিজভী বলেন, বিএনপি জনগণের কাছে দেওয়া অঙ্গীকার রক্ষার রাজনীতি করে। একটি অবাধ, সুষ্ঠু নির্বাচনে বিএনপি আজকে ক্ষমতায় এসেছে। ক্ষমতায় এসেই জনগণের কাছে প্রদত্ত অঙ্গীকার রক্ষায় তারেক রহমান নিরলস পরিশ্রম করছেন, দিন-রাত কাজ করছেন।
দলের চ্যালেঞ্জ প্রসঙ্গে তিনি বলেন, চ্যালেঞ্জ না থাকলে সেটি মোকাবিলা করে ভালো কিছু করার মধ্যে তো কোনো কৃতিত্ব নেই! নানা ধরনের চ্যালেঞ্জ আছে, ষড়যন্ত্র আছে, চক্রান্ত আছে, কিন্তু সেগুলোকে মোকাবিলা করেই তারেক রহমান সরকারের নেতৃত্ব দিচ্ছেন, কাজ করে যাচ্ছেন এবং তার অঙ্গীকারগুলো—ফার্মারস কার্ড, ফ্যামিলি কার্ড, ইমাম-মুয়াজ্জিনের ভাতা, প্রত্যেকটি ক্ষেত্রে কাজ করে যাচ্ছেন।
দল ও সরকার দুটি পৃথক সত্তা, অথচ সরকার চালাতে গিয়ে দল হিসেবে বিএনপি পৃথক থাকতে পারছে না—গণমাধ্যমকর্মীরা এ বিষয়ে দৃষ্টি আকর্ষণ করলে তিনি বলেন, ‘এটি একটি ভেগ (অস্পষ্ট) টার্ম।’
রিজভী বলেন, ‘জনগণ পার্টিকে ভোট দিয়েছে, পার্টি সরকার গঠন করেছে। সরকারের মন্ত্রীরা সব বিএনপির নেতা। অধিকাংশই বিএনপির নেতা। তাহলে পার্টিকে যখন ভোট দিয়েছে, নির্বাচিত করেছে, পার্টির লোকরাই তো সরকার পরিচালনা করবে! এটার মধ্যে কোনো পার্থক্য নেই।
‘আমরা বারবার বলেছি, তৃণমূলের সদস্য থেকে জাতীয় পর্যায় পর্যন্ত বিএনপির সমস্ত নেতাকর্মী সরকারের অংশ। সরকারের সব কর্মসূচি, যেটা জনকল্যাণে-জনস্বার্থে বাস্তবায়িত হচ্ছে, সেগুলো আমাদের নেতাকর্মীরা ভালো করে জনগণকে অবহিত করবে। এর মধ্যে কোনো বৈসাদৃশ্য নেই, কোনো বৈশব্দ নেই।’
তিনি বলেন, ‘পার্টি পার্টির জায়গায় আছে, সরকার সরকারের জায়গায় আছে। কিন্তু সরকার পরিচালনার দায়িত্বে আছে বিএনপি এবং বিএনপির লোক। সুতরাং দলের লোকরাই তো মন্ত্রী হবে, চিফ হুইপ হবে। চিফ হুইপ ভাইস চেয়ারম্যান কাকে করবে? অন্য দেশ থেকে ধার করে আনবে, না অন্য পার্টি থেকে ধার করে আনবে? দলের লোকরাই হবে।’
রিজভী আরও বলেন, সরকারকে নানা চ্যালেঞ্জ ও ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করতে হচ্ছে। তবে এসব মোকাবিলা করেই প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান দেশকে এগিয়ে নিতে কাজ করে যাচ্ছেন।
তার কথায়, ‘সংকট আসবে। কিন্তু সংকট মোকাবিলার জন্য প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বসে নেই। সব সংকট মোকাবিলা করেই তিনি দেশকে এগিয়ে নিয়ে যাচ্ছেন এবং এগিয়ে নিয়ে যাবেন।’
৫৭ দিন আগে