ব্যবসা
বাংলাদেশ-যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য চুক্তি নিয়ে উদ্বেগের কিছু নেই: বাণিজ্যমন্ত্রী
বাংলাদেশ ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যকার বাণিজ্য চুক্তিকে পারস্পরিক স্বার্থে কাজে লাগানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির বলেছেন, ‘যেকোনো আন্তর্জাতিক চুক্তি দুই পক্ষের সমন্বয়ে গড়ে ওঠে। এতে উভয় পক্ষের স্বার্থের বিষয়গুলো বিবেচনায় রেখেই একটি ‘উইন-উইন’ পরিস্থিতি তৈরি করা হয়। কাজেই এই চুক্তি নিয়ে অযথা উদ্বেগের কিছু নেই।’
মঙ্গলবার (৫ মে) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ও মধ্য এশিয়া বিষয়ক সহকারী বাণিজ্য প্রতিনিধি ব্রেন্ডন লিঞ্চের সঙ্গে বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এসব কথা বলেন।
বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, বর্তমান সরকার এই চুক্তির সূচনাকারী নয়, তবে রাষ্ট্রীয় ধারাবাহিকতার অংশ হিসেবে এটি উত্তরাধিকারসূত্রে পেয়েছে। রাষ্ট্রের মধ্যে সম্পাদিত কোনো চুক্তি ব্যক্তিগত চুক্তির মতো নয় যে ইচ্ছামতো বাতিল করা যাবে। এটি একটি বাস্তবতা এবং আমরা সেটিকে দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে সর্বোচ্চভাবে কাজে লাগাতে চাই।
তিনি আরও জানান, সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি তদন্ত প্রক্রিয়া শুরু করা হয়েছে, যার বিষয়ে বাংলাদেশ ব্যাখ্যা চেয়েছে এবং প্রাপ্ত ব্যাখ্যার পরিপ্রেক্ষিতে নিজেদের অবস্থান ও পর্যবেক্ষণ জানানো হয়েছে।
মন্ত্রী বলেন, আমরা স্পষ্টভাবে জানিয়েছি, বিদ্যমান চুক্তির প্রেক্ষাপটে এ ধরনের তদন্ত শুরু না হলে তা আরও ইতিবাচক হতো।
বাংলাদেশের উৎপাদন ও বাণিজ্য বাস্তবতা তুলে ধরে তিনি বলেন, দেশে কোনো ক্ষেত্রেই ‘ওভার ক্যাপাসিটি’ নেই এবং বাংলাদেশ ডাম্পিং করে এমন অভিযোগও ভিত্তিহীন।
তিনি যোগ করেন, আমরা অধিকাংশ পণ্য আমদানি করি। যেগুলো রপ্তানি করি, বিশেষ করে তৈরি পোশাক খাত—তা কঠোর আন্তর্জাতিক কমপ্লায়েন্সের মধ্যে পরিচালিত হয়। সেখানে শ্রম আইন লঙ্ঘন বা শিশুশ্রমের কোনো সুযোগ নেই।
চুক্তি বাতিলের প্রশ্নে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, এই সরকার জনগণের নির্বাচিত প্রতিনিধি হিসেবে সবসময় দেশের স্বার্থকে অগ্রাধিকার দেয়। কোনো চুক্তির কোনো ধারা যদি বাংলাদেশের স্বার্থের পরিপন্থী হয়, তা সংশোধনের সুযোগ সেই চুক্তির মধ্যেই রয়েছে।
তিনি এটিকে ‘সেলফ কারেক্টিং এলিমেন্ট’ হিসেবে উল্লেখ করেন।
মন্ত্রী আরও বলেন, চুক্তির মধ্যেই সংশোধন বা সমন্বয়ের প্রয়োজনীয় বিধান রয়েছে। তাই এটি নিয়ে অতিরিক্ত উদ্বেগ বা আতঙ্কের কোনো কারণ নেই।
বৈঠকে বাংলাদেশ–যুক্তরাষ্ট্র বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্পর্ক জোরদারসহ বিভিন্ন পারস্পরিক স্বার্থসংশ্লিষ্ট বিষয় নিয়ে আলোচনা হয়।
বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সচিব রুটিন দায়িত্ব মো. আবদুর রহিম খান এ সময় উপস্থিত ছিলেন।
১৩ ঘণ্টা আগে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬১ হাজার টন গম নিয়ে জাহাজ চট্টগ্রামে
যুক্তরাষ্ট্র থেকে ৬১ হাজার টন গম নিয়ে এমভি এমপি আল্ট্রাম্যাক্স-২ জাহাজটি চট্টগ্রাম বন্দরের বহির্নোঙরে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও বাংলাদেশ সরকারের মধ্যে সই হওয়া সমঝোতা স্মারক (এমওইউ) অনুযায়ী নগদ ক্রয় চুক্তি জি-টু-জি-০৩-এর আওতায় এ গম আনা হয়েছে।
এর আগে, একই চুক্তির আওতায় প্রথম চালানে ৫৮ হাজার ৪৫৭ মেট্রিক টন এবং দ্বিতীয় চালানে ৬২ হাজার ১৫০ মেট্রিক টন গম দেশে পৌঁছায়।
জাহাজে থাকা গমের নমুনা পরীক্ষার কার্যক্রম ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে এবং দ্রুত খালাসের জন্য প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। মোট ৬১ হাজার মেট্রিক টন গমের মধ্যে ২৯ হাজার ৪৫০ মেট্রিক টন চট্টগ্রাম বন্দরে এবং অবশিষ্ট ৩১ হাজার ৫৫০ মেট্রিক টন মোংলা বন্দরে খালাস করা হবে।
বাংলাদেশ সরকার ইতোমধ্যে সরকার-টু-সরকার (জি-টু-জি) ভিত্তিতে যুক্তরাষ্ট্র থেকে গম আমদানি কার্যক্রম শুরু করেছে। জি-টু-জি-০১ ও জি-টু-জি-০২ চুক্তির আওতায় আমদানিকৃত সব গম ইতোমধ্যে দেশে পৌঁছেছে।
উপরিউক্ত চুক্তি দুটির আওতায় প্রথমে ২ লাখ ৩৭ হাজার ৮৪৫ টন এবং দ্বিতীয় ধাপে ২ লাখ ৩০ হাজার ৩৯ টনসহ মোট ৪ লাখ ৬৭ হাজার ৮৮৪ টন গম দেশে এসেছে।
দেশে গমের মোট চাহিদা প্রায় ৭০ লাখ টন, যার বিপরীতে স্থানীয় উৎপাদন প্রায় ১০ লাখ টন। অবশিষ্ট চাহিদা পূরণে সরকারি ও বেসরকারি পর্যায়ে গম আমদানি করা হয়।
৩৪ দিন আগে
টানা চতুর্থ দফা কমল স্বর্ণের দাম, এবার ভরিতে ৭৬৪০ টাকা
দেশের বাজারে আবারও কমানো হয়েছে স্বর্ণের দাম। টানা চার দফা কমার ধারাবাহিকতায় এবার সবচেয়ে ভালো মানের (২২ ক্যারেট) স্বর্ণের দাম ভরিতে ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমানো হয়েছে। এতে এক ভরি সোনার দাম দাঁড়িয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা।
স্থানীয় বাজারে তেজাবী সোনার (পাকা সোনা) দাম কমার পরিপ্রেক্ষিতে এই দাম কমানো হয়েছে। বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) সকাল ১০টা থেকে নতুন দাম কার্যকর হয় বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
বৃহস্পতিবার (১৯ মার্চ) বাজুস স্ট্যান্ডিং কমিটি অন প্রাইসিং অ্যান্ড প্রাইস মনিটরিং কমিটি বৈঠকে করে এই দাম কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। পরে কমিটির চেয়ারম্যান ডা. দেওয়ান আমিনুল ইসলাম শাহীন সই করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এর আগে, গত ১৪ মার্চ ভালো মানের এক ভরি সোনার দাম কমানো হয় ২ হাজার ৬৮৩ টাকা। তার আগে আরও দুদফা সোনার দাম কমানো হয়। অর্থাৎ টানা চার দফা সোনার দাম কমানো হলো।
এখন সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ৭ হাজার ৬৪০ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ২ লাখ ৫৪ হাজার ৬২৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৭ হাজার ৩৪৯ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৪৩ হাজার ১৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ৬ হাজার ২৯৯ টাকা কমিয়ে নতুন দাম ২ লাখ ৮ হাজার ৩১৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ৫ হাজার ১৩২ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৯ হাজার ৬৫৩ টাকা।
১৪ মার্চ সবচেয়ে ভালো মানের বা ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ৬৮৩ টাকা কমিয়ে নতুন দাম নির্ধারণ করা হয় ২ লাখ ৬২ হাজার ২৬৫ টাকা। ২১ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ২ হাজার ৫০৮ টাকা কমিয়ে ২ লাখ ৫০ হাজার ৩৬৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়।
এছাড়া ১৮ ক্যারেটের এক ভরি সোনায় ২ হাজার ১৩৭ টাকা কমিয়ে দাম ২ লাখ ১৪ হাজার ৬১৮ টাকা নির্ধারণ করা হয়। আর সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনায় ২ হাজার ১৫৮ টাকা কমিয়ে দাম নির্ধারণ করা হয় ১ লাখ ৭৪ হাজার ৭৮৫ টাকা। আজ সকাল ৯টা ৫৯ মিনিট পর্যন্ত এই দামেই সোনা বিক্রি হয়েছে।
এখন সোনার দাম কমানোর পাশাপাশি রুপার দামও কমানো হয়েছে। ২২ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ৩৫০ টাকা কমিয়ে নির্ধারণ করা হয়েছে ৫ হাজার ৭১৫ টাকা। এছাড়া ২১ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯২ টাকা কমিয়ে ৫ হাজার ৪৮২ টাকা, ১৮ ক্যারেটের এক ভরি রুপার দাম ২৯১ টাকা কমিয়ে ৪ হাজার ৬৬৬ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির এক ভরি রুপার দাম ২৩৩ টাকা কমিয়ে ৩ হাজার ৪৯৯ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।
৪৭ দিন আগে
মার্চে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত থাকবে
মার্চ মাসে ডিজেল, অকটেন, পেট্রোল ও কেরোসিনের দাম অপরিবর্তিত থাকবে।
সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখার সিদ্ধান্তের কথা জানিয়ে গত ২৬ ফেব্রুয়ারি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশনের চেয়ারম্যানের কাছে চিঠি পাঠানো হয়েছে, যা আজ (রবিবার) সকালে প্রকাশ করা হয়।
সর্বশেষ গত ১ ফেব্রুয়ারি সব ধরনের জ্বালানি তেলের দাম লিটারে দুই টাকা কমানো হয়েছিল। তখন ডিজেলের দাম প্রতি লিটার ১০২ টাকা থেকে দুই টাকা কমে হয় ১০০ টাকা। এছাড়া দুই টাকা কমে প্রতি লিটার অকটেন ১২০ টাকা এবং পেট্রোল ১১৬ টাকা হয়। কেরোসিনের দাম প্রতি লিটার ১১৪ টাকা থেকে ২ টাকা কমে হয় ১১২ টাকা।
মার্চ মাসেও ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি লিটার ডিজেল ১০০ টাকা, অকটেন ১২০ টাকা, পেট্রোল ১১৬ টাকা এবং কেরোসিন ১১২ টাকা বিক্রি হবে বলে চিঠিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের দাম কমা-বাড়ার সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে দেশে ভোক্তাপর্যায়ে প্রতি মাসে জ্বালানি তেলের মূল্য নির্ধারণ করা হয়। এ কারণে জ্বালানি তেলের স্বয়ংক্রিয় মূল্য নির্ধারণ নির্দেশিকার (সংশোধিত) আলোকে মার্চ মাসে জ্বালানি তেলের দাম অপরিবর্তিত রাখা হয়েছে বলে জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ থেকে জানানো হয়েছে।
৬৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক পরিস্থিতি এখনও বিকাশমান, পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত: বাণিজ্যমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক ও বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো এখনও বিকাশমান বলে মন্তব্য করেছেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ বিষয়টি নিয়ে আরও পর্যালোচনা করে সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানিয়েছেন তিনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সুপ্রিম কোর্ট প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আরোপিত পাল্টা শুল্ক অবৈধ ঘোষণা করেছে। এর জবাবে তিনি নতুন বৈশ্বিক শুল্ক আরোপের নির্দেশ দিয়েছেন। এই শুল্ক এবং দেশটির সঙ্গে বাংলাদেশের সই করা বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে পরবর্তী করণীয় কী হবে, তা নির্ধারণে ব্যবসায়ীদের সঙ্গে বৈঠক করেছে বাংলাদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।
বুধবার (২৫ ফেব্রুয়ারি) বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে ওই বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের এসব কথা বলেন বাণিজ্যমন্ত্রী খন্দকার আব্দুল মুক্তাদির। এ সময় বাণিজ্য প্রতিমন্ত্রী মো. শরীফুল আলম ও বাণিজ্যসচিব মাহবুবুর রহমানসহ সরকারের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা ও ব্যবসায়ী প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।
এ সময় বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের এ বিষয়টি আসলে এখনও বিকাশমান, যেটাকে আমরা ইংলিশে বলি “ইভলভিং সিনারিও”। কারণ যুক্তরাষ্ট্রের সবোর্চ্চ আদালত আগের ধার্য্যকৃত শুল্ক আরোপযোগ্য নয় বলে ঘোষণা করেছে। এরপর তারা সব দেশের জন্য প্রথমে ১০ শতাংশ, পরে ১৫ শতাংশ ট্যারিফ ঘোষণা করেছে।
‘কিন্তু আমরা বিভিন্ন মাধ্যমে শুধু ঘোষণা শুনছি, কিন্তু সরকারি পর্যায়ে লিখিত কিছু পাইনি। আর যুক্তরাষ্ট্র তাদের দেশের আইন অনুযায়ী ১২২ আইনি ব্যাখায় যা আছে, সেটা ১৫০ দিনের মধ্যে তাদের ইউএস কংগ্রেস কর্তৃক অনুমোদিত হতে হবে।
‘আর বাদ বাকি যা, টিভিতে আমরা দেখছি। সরকারি কোনো কাগজপত্র আসেনি। ফলে সিনারিওটা আবারও আমি বলব ইভলভিং।’
তিনি বলেন, এছাড়া বিগত সরকার কিছুদিন আগে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি করেছে, সেটির ব্যাপারেও এখনও বলার মতো কোনো অবস্থা তৈরি হয়নি। আমরা দেখছি, এর পক্ষে-বিপক্ষে কী আছে। একটি চুক্তির পক্ষে-বিপক্ষে দুটি দিকই থাকবে, সেটা স্বাভাবিক। আমরা সেগুলো পর্যালোচনা করে দেখছি। এরপর করণীয় ঠিক করব।
বিগত অন্তবর্তীকালীন সরকার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তির বিষয়গুলো গোপন করা ও সেটা তড়িঘড়ি করে করেছে কিনা—সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নে জবাবে মন্ত্রী বলেন, কিছু নন-ডিসক্লোজার এগ্রিমেন্ট (অপ্রকাশযোগ্য চুক্তি) ছিল চুক্তি আলোচনার সময়। তবে এ চুক্তিটা একটি সেনসিটিভ ইস্যু (সংবেদনশীল বিষয়) ছিল। যাদের সঙ্গে চুক্তি, দেশটাও আমাদের জন্য অনেক সেনসেটিভ। বিভিন্ন কারণেই এই বিকাশমান পরিস্থিতিতে কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত মন্তব্য করা ঠিক হবে না।
এদিকে শুল্ক ও চুক্তি বিষয়ে ব্যবসায়ীদের মন্তব্য প্রসঙ্গে বলেন, আমরা ব্যবসায়ী প্রতিনিধিদের ডেকেছি, চুক্তিসহ নানা বিষয়ে আলোচনা হয়েছে। কোন সেক্টরের কী সমস্যা। সেগুলো নিয়েও আলোচনা হয়েছে।
বর্তমান দ্রব্যমূল্য পরিস্থিতি নিয়ে মন্ত্রী বলেন, বাণিজ্য মন্ত্রণালয় যেসব পণ্য আমদানি তদারকি করে, সেসব পণ্যের দাম স্বাভাবিক রয়েছে বাজারে। তবে কিছু পণ্য একসঙ্গে অনেকে কেনার কারণে দাম বেড়ে গেছে; সেগুলো সবজি জাতীয়।
তিনি বলেন, রমজানের শুরুতে অনেকে একসঙ্গে এক মাসের বাজার করেন। বিক্রেতারাও পরিস্থিতির ও শূন্যতার সুযোগ নেন। ৪০-৫০ টাকার লেবু ১২০ হয়ে গেছে ওই পরিস্থিতিতে। এরপর কিন্তু ঠিকই আবারও আগের দামে ফিরে এসেছে।
চাঁদাবাজি নিয়ে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, চাঁদাবাজি বন্ধে এতদিন বিভিন্ন সরকার আশ্বাস দিলেও কাজ হয়নি। অপেক্ষা করেন, আমরা কাজ করে দেখাব।
৬৯ দিন আগে
বেনাপোল দিয়ে দেশে ঢুকেছে ২১০০ টন ভারতীয় চাল
দেশের সর্ববৃহৎ স্থলবন্দর বেনাপোল দিয়ে ৬ দিনে ১৫টি চালানের মাধ্যমে ভারত থেকে মোট ২ হাজার ১০০ টন (নন বাসমতি) মোটা চাল আমদানি করা হয়েছে। আমদানি করা চালের এসব চালান বন্দরের ৩১ নম্বর ট্রান্সশিপমেন্ট ইর্য়াডে প্রবেশ করেছে।
মঙ্গলবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) এ তথ্য নিশ্চিত করেন বেনাপোল বন্দরের পরিচালক শামীম হোসেন।
হাজী মুসা করিম অ্যান্ড সন্স নামের একটি আমদানিকারক প্রতিষ্ঠান এসব চাল আমদানি করেছে। আর আমদানি করা চাল ছাড়করণের কাজ করছে সিঅ্যান্ডএফ এজেন্ট মের্সাস ভূইয়া এন্টারপ্রাইজ।
বন্দর কর্তৃপক্ষ জানায়, গত ২৭ জানুয়ারি থেকে ১৭ ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত ৬ কার্যদিবসে ১৫টি চালানের মাধ্যমে ২ হাজার ১০০ টন চাল আমদানি করা হয়েছে। এর আগে গত বছরের আগস্ট থেকে নভেম্বরে বেনাপোল বন্দর দিয়ে চাল আমদানি হয়েছিল ৬ হাজার ১২৮ টন। এরপর চলতি মাসের ১৮ জানুয়ারি ২৩২ আমদানিকারক প্রতিষ্ঠানকে ২ লাখ টন চাল আমদানির অনুমতি দেয় সরকার।, যার সময়সীমা বেঁধে দেওয়া হয়েছে আগামী ৩ মার্চ পর্যন্ত। এই সময়ের মধ্যে আমদানি করা চাল বাংলাদেশে বাজারজাত করতে হবে।
হাজী মুসা করিম অ্যান্ড সন্সের স্বত্বাধিকারী আব্দুস সামাদ জানান, ভারত থেকে ৬ দিনে ৫৮টি ট্রাকে ২ হাজার ১০০ টন মোটা চাল আমদানি করেছি। আমদানিকৃত চালের প্রতি কেজি বেনাপোল বন্দর পর্যন্ত আমদানি খরচ পড়েছে ৫০ টাকা। খোলা বাজারে এই চাল প্রতি কেজি ৫১ টাকায় বিক্রি হবে বলে জানান তিনি।
এ বিষয়ে বন্দর পরিচালক শামীম হোসেন বলেন, আমদানি করা চাল দ্রুত খালাসের জন্য সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তাদের প্রয়োজনীয় নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৭৭ দিন আগে
রমজানে পুঁজিবাজারে লেনদেনে নতুন সময়সূচি
আসন্ন রমজান মাসে দেশের প্রধান পুঁজিবাজারে লেনদেনের নতুন সময়সূচি নির্ধারণ করা হয়েছে। এ সময় লেনদেনের সময় প্রায় ১ ঘণ্টা কমানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)।
সোমবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) সকালে ডিএসইর ব্যবস্থাপক (প্রকাশনা ও জনসংযোগ) মোহাম্মদ শাখাওয়াত-ই-এলাহি স্বাক্ষরিত এক বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
এতে বলা হয়, পবিত্র রমজান মাস উপলক্ষে ডিএসইর লেনদেন সকাল ১০ টায় শুরু হয়ে দুপুর ১টা ৪০ মিনিট পর্যন্ত চলবে। পোস্ট ক্লোজিং সেশন থাকবে ১টা ৪০ মিনিট থেকে ১টা ৫০ মিনিট পর্যন্ত।
তবে ডিএসই অফিসিয়াল কার্যক্রম সকাল ৯টা থেকে বিকেল সাড়ে ৩টা পর্যন্ত চলবে বলেও বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
রমজান মাস এবং ঈদুল ফিতরের ছুটির পর ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের অফিস আগের নিয়মে চলবে। স্বাভাবিক সময়ে পুঁজিবাজারে লেনদেন চলে সকাল ১০টা থেকে দুপুর ২টা ৩০ মিনিট পর্যন্ত।
এর আগে রমজান মাসের জন্য ব্যাংকের অফিস ও লেনদেনের সময়সূচি পরিবর্তন করেছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। নতুন সূচি অনুযায়ী রমজান মাসে ব্যাংকে রবিবার থেকে বৃহস্পতিবার পর্যন্ত লেনদেন হবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে দুপুর আড়াইটা পর্যন্ত। আর অফিস চলবে সকাল সাড়ে ৯টা থেকে বিকাল ৪টা পর্যন্ত। আর শুক্রবার ও শনিবার থাকবে সাপ্তাহিক ছুটি।
৭৮ দিন আগে
সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে গুরুত্বপূর্ণ বাণিজ্য চুক্তি সই হচ্ছে: বাণিজ্য উপদেষ্টা
আগামীকাল সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি ‘গুরুত্বপূর্ণ’ বাণিজ্য চুক্তি সই হতে যাচ্ছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। পাশাপাশি পোশাক খাতে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্ক শূন্যে নামিয়ে আনার প্রচেষ্টা চলছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
রবিবার (৮ ফেব্রুয়ারি) সচিবালয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বর্তমান বাণিজ্য পরিস্থিতি নিয়ে সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে তিনি এ কথা জানান।
উপদেষ্টা বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন এই চুক্তির অংশ হিসেবে দেশটির বিমান নির্মাতা প্রতিষ্ঠান বোয়িং থেকে নতুন ২৫টি উড়োজাহাজ কেনার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে বাংলাদেশ। যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশের বিশাল রপ্তানি বাজার (প্রায় ১ লাখ কোটি টাকা) সুসংহত করতে এবং বাণিজ্যিক ভারসাম্য রক্ষায় এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বোয়িং থেকে ২৫টি উড়োজাহাজ কিনতে ৩০ থেকে ৩৫ হাজার কোটি টাকা বাংলাদেশের সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে জানিয়ে তিনি বলেন, যুক্তরাষ্ট্র শুরুতে ৪৭টি উড়োজাহাজ বিক্রির প্রস্তাব দিলেও বর্তমান সরকার আপাতত ২৫টি কেনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
এ সময় তিনি জানান, বাণিজ্য সম্পর্ক সুসংহত করার পাশাপাশি আলোচনার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের পাল্টা শুল্ক কমানোর চেষ্টা চলছে। বিশেষ করে দেশের প্রধান রপ্তানি পণ্য তৈরি পোশাক খাতে শুল্কহার শূন্যে নামিয়ে আনার লক্ষ্য নিয়ে কাজ করছে সরকার।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, ‘আমাদের ওপর ৩৭ শতাংশ শুল্ক আরোপ করা হয়েছিল, যেটা আমরা আলোচনা করে ২০ শতাংশে নামিয়েছিলাম। যদি আমাদের এই চুক্তিটা প্রকাশিত না হতো, আমার নিশ্চিত বিশ্বাস যে আমরা ২০ শতাংশের চেয়েও কম পেতাম। দুঃখজনকভাবে আমরা ওখানে বিব্রত হয়েছি। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখান থেকে চুক্তির শর্তাবলি সারা দুনিয়াতে প্রকাশিত হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আগামীকাল (৯ ফেব্রুয়ারি) যে চুক্তি হবে, আমরা চেষ্টা করছিলাম শুল্ক আরও কত কমানো যায়। কতটুকু কমবে আমি এই মুহূর্তে বলতে পারছি না বা চাচ্ছি না। আমরা আলোচনার ভিত্তিতে দেখব। আমরা সামগ্রিক শুল্ক কমানোর চিন্তা করছি তা নয়, আমাদের প্রচেষ্টা রয়েছে আমাদের যে মূল পণ্য গার্মেন্টস (তৈরি পোশাক), এই জায়গায় যেন আমাদের শুল্ক শূন্য হয়। আমরা সেই প্রচেষ্টায় এখনও রত রয়েছি।’
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে ১ লাখ কোটি টাকার রপ্তানি সম্ভাবনা রয়েছে। এটা ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পাওয়ার সম্ভাবনা আছে। এই সম্ভাবনাগুলো কাজে লাগাতে আমরা চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।
আগামী ১২ ফেব্রুয়ারি জাতীয় সংসদ নির্বাচন। ভোটের মাত্র তিন দিন আগে এমন বড় চুক্তি কেন—এ বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে উপদেষ্টা বলেন, ‘আগামীতে যারা ক্ষমতায় আসবে, সেই নির্বাচিত সরকারকে বাড়তি চাপমুক্ত রাখতেই অন্তর্বর্তী সরকার এই চুক্তি সম্পন্ন করে যাচ্ছে।’ চুক্তির বিস্তারিত শর্তাবলি স্বাক্ষর শেষে জনসমক্ষে প্রকাশ করা হবে বলেও তিনি জানান।
৮৬ দিন আগে
অবিলম্বে চট্টগ্রাম বন্দরের কার্যক্রম চালুর দাবি ইউরোচেমের
বাংলাদেশ চট্টগ্রাম বন্দরে চলমান কার্যক্রমে বিঘ্ন নিয়ে উদ্বেগ পুনর্ব্যক্ত করেছে বাংলাদেশে ইউরোপীয় ইউনিয়ন চেম্বার অব কমার্স (ইউরোচেম বাংলাদেশ)। সংগঠনটির মতে, এসব ব্যাঘাতে অর্থনৈতিক ক্ষতি বেড়ে চলেছে, রপ্তানি কার্যক্রম ঝুঁকির মুখে পড়ছে এবং বাংলাদেশের সরবরাহ শৃঙ্খলের নির্ভরযোগ্যতা নিয়ে আস্থা ক্ষুণ্ন হচ্ছে।
শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে সংগঠনটি বলেছে, অনুমানযোগ্য, নিরবচ্ছিন্ন ও দক্ষ বন্দর পরিচালনা রপ্তানি কার্যক্রম বন্দরের সুরক্ষা, বিদেশি চাহিদার সঙ্গে পরোক্ষভাবে যুক্ত লাখো কর্মসংস্থান রক্ষা এবং ইউরোপীয় ও বৈশ্বিক বাজারে নির্ভরযোগ্য উৎস হিসেবে বাংলাদেশের সুনাম বজায় রাখার জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সম্প্রতি ইইউভুক্ত দেশগুলোতে বাংলাদেশের পোশাক আমদানি ৯৬০ কোটি ডলার ছাড়িয়েছে উল্লেখ করে ইউরোচেম বাংলাদেশ সংশ্লিষ্ট সব পক্ষকে অবিলম্বে স্বাভাবিক বন্দর কার্যক্রম ফের পুরোপুরি চালু করতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
একই সঙ্গে জাতীয় অর্থনৈতিক স্বার্থ সুরক্ষিত রেখে গঠনমূলক সংলাপের মাধ্যমে চলমান বিরোধগুলোর সমাধান এবং দক্ষতা, নির্ভরযোগ্যতা, দীর্ঘমেয়াদি প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা ও অনুমানযোগ্যতা বাড়াতে বন্দর আধুনিকায়ন উদ্যোগ এগিয়ে নেওয়ার তাগিদ দিয়েছে সংগঠনটি।
ইউরোচেম বাংলাদেশ জানিয়েছে, তারা ব্যবসা সম্প্রসারণে সহায়তা এবং দেশের বাণিজ্য অবকাঠামো শক্তিশালী করতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। এ লক্ষ্যে একটি স্থিতিশীল, দক্ষ ও ভবিষ্যতের জন্য প্রস্তুত বন্দর ব্যবস্থা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ ও অংশীজনদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে যুক্ত থাকতে প্রস্তুত রয়েছে তারা।
চট্টগ্রাম বন্দর দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পগুলোর প্রধান প্রবেশদ্বার। দেশের আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের ৯০ শতাংশেরও বেশি পরিচালনা করে এই বন্দর। স্বাভাবিক সময়ে এ বন্দরে প্রতিদিন প্রায় ২ হাজার থেকে আড়াই ২ হাজার কনটেইনার স্থানান্তর করে। তবে সাম্প্রতিক সময়ে কাজ বন্ধ থাকায় বন্দরটির কার্যক্রম প্রায় পুরোপুরি স্থবির হয়ে পড়েছে। ফলে রপ্তানি পণ্য ও কনটেইনার চলাচল অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে। রপ্তানি সময়সূচি ভেঙে পড়ায় সরবরাহের নির্ধারিত সময়সীমা মিস হচ্ছে এবং অতিরিক্ত কারিগরি ব্যয়ও বাড়ছে।
এই অচলাবস্থার কারণে ইউরোচেম সদস্য রাষ্ট্র ও বাংলাদেশ থেকে পণ্য সংগ্রহকারী ইউরোপীয় ব্র্যান্ডগুলোর মধ্যে উদ্বেগ বাড়ছে বলে জানিয়েছে সংগঠনটি।
আর্থিক হিসাবে, প্রায় ১৩ হাজার কনটেইনারে থাকা আনুমানিক ৬৬ কোটি ডলারের (প্রায় ৮ হাজার কোটি টাকা) রপ্তানি পণ্য বর্তমানে বন্দর স্থাপনা, বেসরকারি ডিপো ও নোঙর করতে বা ছাড়তে না পারা জাহাজে আটকে আছে।
২০২৪–২৫ অর্থবছরে চট্টগ্রাম বন্দর ৮ লাখ ৩১ হাজারের বেশি রপ্তানি কনটেইনার ইউনিট পরিচালনা করেছে যার আর্থিক মূল্য ছিল প্রায় ৪ হাজার ২৩০ কোটি ডলার।
বাংলাদেশের মোট রপ্তানির প্রায় ৮০ শতাংশই বস্ত্র ও তৈরি পোশাক খাতের, যা আমাদের বিশ্বের দ্বিতীয় বৃহত্তম পোশাক রপ্তানিকারকে পরিণত করেছে।
৮৭ দিন আগে
মোবাইল ফোন আমদানিতে বিরাট শুল্ক ছাড়, দাম কমবে
মোবাইল ফোনের মূল্য সাধারণ ক্রেতার ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার লক্ষ্যে এই প্রযুক্তি পণ্যটি আমদানিতে শুল্কহার উল্লেখযোগ্যভাবে কমিয়েছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)।
মঙ্গলবার (১৩ জানুয়ারি) এনবিআর থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, মোবাইল ফোন আমদানিতে কাস্টমস ডিউটি ২৫ শতাংশ থেকে কমিয়ে ১০ শতাংশ নির্ধারণ করেছে এনবিআর। এর ফলে মোবাইল ফোন আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৬০ শতাংশ কমেছে।
এছাড়া কাস্টমস ডিউটি হ্রাসের কারণে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী দেশীয় প্রতিষ্ঠানগুলো যাতে বিরূপ প্রতিযোগিতার মুখে না পড়ে, সে লক্ষ্যে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠান উপকরণ আমদানি করলে তার ওপর কাস্টমস ডিউটি ১০ শতাংশ থেকে কমিয়ে ৫ শতাংশ ধার্য করে আরও একটি পৃথক প্রজ্ঞাপন জারি করা হয়েছে। এতে মোবাইল ফোন সংযোজনকারী প্রতিষ্ঠানের উপকরণ আমদানিতে বিদ্যমান আমদানি শুল্ক ৫০ শতাংশ কমেছে।
এ সংক্রান্ত প্রজ্ঞাপন দুটি জারির ফলে ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের আমদানি হওয়া প্রতিটি পূর্ণাঙ্গ মোবাইল ফোনের দাম অন্তত সাড়ে ৪ হাজার টাকা কমবে। এ ছাড়া ৩০ হাজার টাকার বেশি দামের দেশে সংযোজিত প্রতিটি মোবাইল ফোনের দাম অন্তত দেড় হাজার টাকা হ্রাস পাবে।
সরকার আশা করছে, মোবাইল ফোন আমদানি এবং মোবাইল ফোন সংযোজন শিল্পের উপকরণ আমদানিতে উল্লেখযোগ্য পরিমাণ শুল্ক কমানোর ফলে সব ধরনের মোবাইল ফোনের দাম সর্বসাধারণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে থাকবে। সেইসঙ্গে দেশের নাগরিকগণের পক্ষে ডিজিটাল সেবা গ্রহণ আরও সহজ হবে।
মোবাইল ফোনের মূল্য জনগণের ক্রয়ক্ষমতার মধ্যে রাখার জন্য সরকারের প্রচেষ্টা অব্যাহত থাকবে বলেও বিজ্ঞাপনে জানানো হয়েছে।
১১২ দিন আগে