ব্যবসা
অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই করতে ভালো অর্থনৈতিক অনুশীলনের আহ্বান বাণিজ্য উপদেষ্টার
অর্থনৈতিক উন্নয়ন টেকসই করতে ভালো অর্থনৈতিক অনুশীলন (গুড ইকোনমিক প্রাক্টিস) বজায় রাখার আহ্বান জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন। তিনি বলেন, একাজে পেশাদার হিসাববিদরা মূল ভূমিকা পালন করতে পারে।
শুক্রবার (১৮ জুলাই ) সকালে দি ইনস্টিটিউট অব কস্ট অ্যান্ড ম্যানেজমেন্ট একাউন্ট্যান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি)-এর আয়োজনে সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব একাউন্যান্টস (সাফা) ইন্টারন্যাশনাল কনফারেন্স ২০২৫ এর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে তিনি একথা বলেন।
শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, গত দশ মাসে সরকারে কাজ করতে এসে দেখেছি সত্যিকার অর্থে আমাদের দেশের জন্য সোনালী ভবিষ্যৎ অপেক্ষা করছে। যদি স্বচ্ছতা ও জবাবদিহি নিশ্চিত করে সম্পদের সুষম বণ্টন করা যায়—তাহলে আমরা যে অবস্থানে আছি তা থেকে উত্তরণ সম্ভব। আর যদি সেটা না হয় তাহলে—চোরতন্ত্র (ক্লেপ্টোক্রেসি) তৈরি হবে। আমরা চোরতন্ত্রের বলয় থেকে বেরিয়ে আসতে নিরলস কাজ করে যাচ্ছি।
তিনি বলেন, বিগত সময়ে আমরা দেখেছি কিভাবে অর্থনৈতিক পরিসংখ্যান (ইকোনমিক রেকর্ড) ম্যানুপুলেট করে হাজার হাজার কোটি ডলার পাচার করা হয়েছে। বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই ব্যবসাকে সামনে রেখে অর্থ পাচার (মানিলন্ডারিং) করা হয়েছে। দীর্ঘদিন ধরে চলে আসা ব্যাপক অনিয়মের ফলে প্রচুর ক্রিমিনাল ক্যাপিটাল তৈরি হয়েছে, যা ব্যবসার ন্যায্য প্রতিযোগিতাকে (ফেয়ার কম্পিটিশন অব মার্কেট) ধ্বংসের দিকে নিয়ে গেছে। বর্তমান সরকার ব্যবসায় অনায্য প্রতিযোগিতা বন্ধের উদ্যোগ নিয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
পড়ুন: প্রকাশ্যে বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলায় বরখাস্ত ৮ এনবিআর কর্মকর্তা
সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব একাউন্ট্যান্টস (সাফা) দক্ষিণ এশিয়ার হিসাবরক্ষণ পেশাজীবীদের একটি সংগঠন। এবারের সম্মেলনের প্রতিপাদ্য হলো ‘ রিফর্ম, রিস্কিল, রিইমাজিন: দ্য ফিউচার ওফ বাংলাদেশ ইকোনোমি’।
সার্কভুক্ত দেশসমূহের প্রায় ৬ শতাধিক পেশাদার হিসাববিদ, অর্থনীতিবিদ, পলিসি-মেকার, কর্পোরেট-লিডার ও ব্যবসায়ী নেতা এই সম্মেলনে অংশগ্রহণ করছেন।
অনুষ্ঠানে শিল্প মন্ত্রণালয়ের সচিব মো. ওবায়দুর রহমান, সাউথ এশিয়ান ফেডারেশন অব একাউন্যান্টস (সাফা) এর প্রেসিডেন্ট আসফাক ইউসুফ তোলা, ফিনান্সিয়াল রিপোর্টিং কাউন্সিলের চেয়ারম্যান ড. মো. সাজ্জাদ হোসেন ভূঁইয়া, দ্য ইনস্টিটিউট অব চার্টার্ড অ্যাকাউন্টান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএবি) প্রেসিডেন্ট এন কে এ মুবিন এবং ইনস্টিটিউট অব কস্ট ম্যানেজমেন্ট অ্যাকাউন্টান্টস অব বাংলাদেশ (আইসিএমএবি) প্রেসিডেন্ট মাহতাব উদ্দিন আহমেদ বিশেষ অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন।
সম্মেলনে মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন বিশিষ্ট অর্থনীতিবিদ সিপিডি বোর্ড অব ট্রাস্টিজ সদস্য ও ডিস্টিংগুইশড ফেলো ড. দেবপ্রিয় ভট্টাচার্য।
সম্মেলনের তিনটি টেকনিক্যাল সেশনে আলোচক হিসেবে অংশ নেন সার্কভুক্ত দেশের অর্থনীতি, ব্যাংকিং, শিল্প, শিক্ষা ও প্রযুক্তি খাতের শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিরা।
এতে জিডিপি, অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি, কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তা ও অটোমেশন এবং পরিবর্তনশীল বৈশ্বিক বাণিজ্য ব্যবস্থায় হিসাব পেশাজীবীদের পরিবর্তিত ভূমিকা নিয়ে বিস্তারিত আলোচনা হয়।
৩৮১ দিন আগে
প্রকাশ্যে বদলির আদেশ ছিঁড়ে ফেলায় বরখাস্ত ৮ এনবিআর কর্মকর্তা
বদলির আদেশ প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার ঘটনায় জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) ৮ কর্মকর্তাকে সাময়িক বরখাস্ত করেছে সরকার।
মঙ্গলবার (১৫ জুলাই) অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগ (আইআরডি) এ সংক্রান্ত পৃথক আদেশ জারি করেছে ।
বরখাস্ত হওয়া কর্মকর্তা্রা হলেন— ঢাকা কর অঞ্চল-২ এর যুগ্ম কর কমিশনার মাসুমা খাতুন, কর অঞ্চল-১৫ এর যুগ্ম কর কমিশনার মুরাদ আহমেদ, কুষ্টিয়া কর অঞ্চলের মোরশেদ উদ্দীন খান, নোয়াখালী কর অঞ্চলের যুগ্ম কর কমিশনার মোনালিসা শাহরীন সুস্মিতা, কক্সবাজার কর অঞ্চলের যুগ্ম কর কমিশনার আশরাফুল আলম প্রধান, খুলনা কর অঞ্চলের আবগারি কমিশনার শিহাবুল ইসলাম, রংপুর কর অঞ্চলের আবগারি কমিশনার নুশরাত জাহান এবং কুমিল্লা কর অঞ্চলের আবগারি কমিশনার ইমাম তৌহিদ হাসান।
এনবিআরের একাধিক সূত্র জানিয়েছে, তারা সবাই গত মাসে এনবিআরে আন্দোলনের সঙ্গে সম্পৃক্ত ছিলেন, অনেকে ছিলেন নেতৃত্বে।
আদেশে বলা হয়, ২২ জুন জারি করা বদলির আদেশ অবজ্ঞা করে তা প্রকাশ্যে ছিঁড়ে ফেলার মতো ‘ঔদ্ধত্যপূর্ণ’ আচরণের অভিযোগে বিভাগীয় তদন্তের পর তাদের বিরুদ্ধে এই ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।
পড়ুন: ‘জাতীয় সংস্কারক’ স্বীকৃতি পেতে ইচ্ছুক নন অধ্যাপক ইউনূস: সরকার
তাদের এনবিআরের স্পেশাল ডিউটি অফিসার হিসেবে নিয়োগ দিয়ে সরকারি চাকরি থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়েছে। বরখাস্তকালীন সময়ে তারা সরকারি বিধি অনুযায়ী প্রাপ্য ভাতা পাবেন।
এনবিআর চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের সচিব আবদুর রহমান খান এ আদেশে স্বাক্ষর করেন। গত মাসে এনবিআরের কর কর্মকর্তা-কর্মচারীরা রাজস্ব খাতে ‘যৌক্তিক সংস্কার’-এর দাবিতে আন্দোলনে নামেন। ২৮ ও ২৯ জুন দেশের বিভিন্ন স্থানে কার্যক্রম বন্ধ রাখেন তারা।
পরে ব্যবসায়ীদের মধ্যস্থতায় আন্দোলন প্রত্যাহার করা হয়। এ পর্যন্ত আন্দোলন প্রত্যাহারের পর তিনজন সদস্য ও একজন কমিশনারকে বাধ্যতামূলক অবসরে পাঠানো হয়েছে। চট্টগ্রাম কাস্টম হাউসের তৎকালীন কমিশনারকেও কাজ বন্ধ রাখার কারণে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
এ ছাড়া, দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক) এনবিআরের দুই সদস্যসহ ১৬ কর্মকর্তার বিরুদ্ধে তদন্ত শুরু করেছে। তাদের অধিকাংশই আন্দোলনে সম্পৃক্ত ছিলেন।
৩৮৪ দিন আগে
পুঁজিবাজারে সরকারের ভূমিকার সমালোচনা, সংস্কারের অঙ্গীকার আমির খসরুর
সাবেক বাণিজ্যমন্ত্রী ও বিএনপির নেতা আমির খসরু মাহমুদ চৌধুরী বলেছেন, সরকার যদি পুঁজিবাজার থেকে অতিমাত্রায় সরাসরি মূলধন সংগ্রহ থেকে বিরত থাকে, তবেই পুঁজিবাজারে সব অংশীজনের আস্থা ফিরবে।
সোমবার (১৪ জুলাই) রাজধানীর পল্টনে ইকোনমিক রিপোর্টার্স ফোরাম (ইআরএফ) মিলনায়তনে ‘পুঁজিবাজার পুনর্গঠন ও বাস্তবতা’ শীর্ষক এক কর্মশালায় বক্তব্যে তিনি এ কথা বলেন।
আমির খসরু বলেন, পুঁজিবাজারের বিকাশ কেবল কয়েকটি ভালো কোম্পানিকে প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) দেওয়ার সুযোগ দেওয়ার মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়।
তিনি সতর্ক করে বলেন, নিয়ন্ত্রক সংস্থাগুলোর অতিনিয়ন্ত্রণ এবং শক্তিশালী স্বনিয়ন্ত্রণ ব্যবস্থা না থাকায় বাজারের প্রাতিষ্ঠানিক সক্ষমতা বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।
বাংলাদেশের অর্থনীতির সঠিক বিকাশ নিশ্চিত করতে তিনি অর্থনীতির ‘গণতান্ত্রিকীকরণ’-এর ওপর গুরুত্বারোপ করেন। বিএনপি নেতা বলেন, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশের অগ্রসরমান অর্থনীতিতে বিনিয়োগের সুযোগের অপেক্ষায় রয়েছেন।
আরও পড়ুন: সংসদ ছাড়া পিআর ও বড় ধরনের নির্বাচনী সংস্কারের সুযোগ নেই: খসরু
এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, দেশের রাজনৈতিক সংস্কৃতিতে মৌলিক পরিবর্তন না এলে কোনো বড় ধরনের সংস্কার সম্ভব নয়।
পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ বিষয়ে বিএনপির প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে আমির খসরু বলেন, “আমরা যদি ক্ষমতায় যাই, আমি আপনাদের প্রতিশ্রুতি দিচ্ছি—অর্থনীতি এবং পুঁজিবাজারকে আরও শক্তিশালী করব।”
অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) চেয়ারম্যান মমিনুল ইসলাম, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জের (সিএসই) চেয়ারম্যান একেএম হাবিবুর রহমান প্রমুখ।
৩৮৫ দিন আগে
ড্রাইডক দায়িত্ব গ্রহণের পর চট্টগ্রাম বন্দরে দৈনিক কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বেড়েছে
চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেডের পরিচালনার প্রথম সাত দিনে (৭ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই) কন্টেইনার হ্যান্ডলিং কার্যক্রমে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা গেছে।
প্রতিদিন গড়ে ২২৫ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং বেশি হয়েছে, যা একটি ইতিবাচক প্রবৃদ্ধি নির্দেশ করে। রবিবার (১৩ জুলাই) প্রধান উপদেষ্টার প্রেস উইংয়ের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এমন তথ্য দেওয়া হয়েছে।
এতে বলা হয়েছে, চট্টগ্রাম বন্দরের এনসিটি টার্মিনালটি দীর্ঘদিন সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড কর্তৃক পরিচালিত হয়ে আসছিল। ৬ জুলাই তাদের সঙ্গে বন্দরের চুক্তি মেয়াদ শেষ হয়। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, ৭ জুলাই থেকে এনসিটি টার্মিনালের দায়িত্ব গ্রহণ করে চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড।
আরও পড়ুন: ডলারের দাম কমেছে প্রায় ৩ টাকা
৭ জুলাই থেকে ১৩ জুলাই পর্যন্ত ৭ দিনে চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড কর্তৃক ১০টি জাহাজের কন্টেইনার লোডিং-আনলোডিং সফলভাবে সম্পন্ন করা হয়েছে। বর্তমানে এনসিটি’র ৪টি জেটিতে একযোগে ৪টি জাহাজে অপারেশন চলছে।
পূর্ববর্তী ৭ দিনে (১ থেকে ৬ জুলাই), সাইফ পাওয়ারটেক লিমিটেড প্রতিদিন গড়ে দুই হাজার ৯৫৬ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং করেছে। এর পরের ৭ দিনে (৭ থেকে ১৩ জুলাই) চট্টগ্রাম ড্রাইডক লিমিটেড কর্তৃক প্রতিদিন গড়ে তিন হাজার ১৮১ টিইইউএস কন্টেইনার হ্যান্ডলিং সম্পন্ন হয়েছে।
৩৮৬ দিন আগে
পুঁজিবাজার: টানা উত্থানে সপ্তাহ শেষ হলো ঢাকা-চট্টগ্রামে
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে ঢাকা-চট্টগ্রামে সূচকের বড় উত্থান হয়েছে, দাম বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির। ঢাকার বাজারে এই সপ্তাহে তিন দিনই লেনদেন হয়েছে ৬০০ কোটি টাকার ওপরে।
সারাদিনের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৩২ পয়েন্ট।
বাকি দুই সূচক—শরিয়াভিত্তিক ডিএসইএস ৬ এবং বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০ বেড়েছে ১৪ পয়েন্ট করে।
ডিএসইতে বৃহস্পতিবার ৬৭৯ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গতদিন ছিল ৬৯০ কোটি টাকা।
ডিএসইতে সূচক এবং লেনদেনের পাশাপাশি দাম বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের।
লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৪ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ১৯৬টির, কমেছে ১২৮টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৭০ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ক্যাটাগরির হিসাবে ‘এ’, ‘বি’ এবং ‘জেড’—তিন ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানিরই শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে লভ্যাংশ দেওয়া ভালো কোম্পানির ‘এ’ ক্যাটাগরিতে লেনদেন হওয়া ২১৪ কোম্পানির মধ্যে ১০১টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দাম কমেছে ৭৬টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ৩৭ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ডিএসই ব্লক মার্কেটে ৩৩ কোম্পানির ১৪ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে। আলহাজ টেক্সটাইল মিলস সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।
৯.৯৯ শতাংশ দাম বেড়ে ডিএসইতে শীর্ষে আছে রহিম টেক্সটাইল মিলস এবং ৬ শতাংশের ওপরে দর হারিয়ে তলানিতে মিডল্যান্ড ব্যাংক।
চট্টগ্রামেও উত্থান
ঢাকার মতো সূচকের উত্থান হয়েছে চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারেও, সার্বিক সূচক বেড়েছে ১১৮ পয়েন্ট।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ কোম্পানির দাম বেড়েছে। লেনদেন হওয়া ২৩০ কোম্পানির মধ্যে ১২৫টির দরবৃদ্ধির বিপরীতে কমেছে ৭৭টির এবং অপরিবর্তিত রয়েছে ২৮ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সারাদিনে সিএসইতে ১৪ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গতদিন ছিল ৪৮ কোটি টাকা।
৯ শতাংশ দাম বেড়ে সিএসইতে শীর্ষে আছে এপেক্স ফুডস এবং ৯ শতাংশ দাম কমে তলানিতে চার্টার্ড লাইফ ইনস্যুরেন্স।
৩৮৯ দিন আগে
ঢাকার পুঁজিবাজারে বছরের সর্বোচ্চ লেনদেন
চলতি বছরের সর্বোচ্চ ৬৯০ কোটি টাকা লেনদেন হয়েছে ঢাকার পুঁজিবাজারে। পাশাপাশি বেড়েছে সূচক এবং বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
বুধবার (৯ জুলাই) বছরের তৃতীয়বারের মতো ৬০০ কোটি টাকার লেনদেনের মাইলফলক ছুঁলো ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জ (ডিএসই)। একই সঙ্গে বেড়েছে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্সের ৫৩ পয়েন্ট।
বাকি দুই সূচক শরিয়াভিত্তিক ডিএসইএস ১০ এবং বাছাইকৃত কোম্পানির ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ বেড়েছে ১৮ পয়েন্ট করে।
ডিএসইতে সূচক এবং লেনদেনের পাশাপাশি দাম বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের। লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৭ কোম্পানির মধ্যে দর বেড়েছে ২৭৩, কমেছে ৭৮ এবং অপরিবর্তিত আছে ৪৬ কোম্পানির শেয়ারমূল্য।
ক্যাটাগরির হিসাবে এ, বি এবং জেড— এই তিন ক্যাটাগরিভুক্ত কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে লভ্যাংশ দেওয়া ভালো কোম্পানির এ ক্যাটাগরিতে থাকা ২১৭ কোম্পানির মধ্যে ১৪৭ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দাম কমেছে ৪৪ এবং অপরিবর্তিত আছে ২৬ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ডিএসই ব্লক মার্কেটে ৩২ কোম্পানির ১৫ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে। মিডল্যান্ড ব্যাংক সর্বোচ্চ ৫ কোটি টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।
৯.৯৬ শতাংশ দাম বেড়ে ডিএসইতে শীর্ষে আছে রহিম টেক্সটাইল মিলস এবং ৮ শতাংশের ওপর দর হারিয়ে তলানিতে এসইএমএল লেকচার ইক্যুইটি লিমিটেড।
চট্টগ্রামেও উত্থান
ঢাকার মতো সূচকের উত্থান হয়েছে চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারেও, সার্বিক সূচক বেড়েছে ১২৯ পয়েন্ট।
চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) বেশিরভাগ কোম্পানির দাম বেড়েছে। লেনদেন হওয়া ২৩৩ কোম্পানির মধ্যে ১৫১ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৪৮ এবং অপরিবর্তিত আছে ৩৪ কোম্পানির শেয়ারমূল্য।
সারাদিনে সিএসইতে ৪৮ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে।
১০ শতাংশ দাম বেড়ে সিএসইতে শীর্ষে আছে শার্প ইন্ডাস্ট্রিজ এবং ৯ শতাংশ দাম কমে তলানিতে নিউ লাইন ক্লোথিং।
৩৯০ দিন আগে
স্বর্ণের দামে ৪২ বার পরিবর্তন, ভরিতে কমল ১৫৭৫ টাকা
দেশের বাজারে ভরিতে এক হাজার ৫৭৫ টাকা স্বর্ণের দাম কমিয়ে ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম ভরিপ্রতি ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৫১ টাকা নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)। চলতি বছর এ নিয়ে ৪২ বার দেশের বাজারে সমন্বয় করা হলো স্বর্ণের দাম। যেখানে দাম বেড়েছে ২৭ বার, আর কমেছে ১৫ বার।
স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) দাম কমায় সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় সোমবার (৭ জুলাই) স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাজুস, যা মঙ্গলবার (৮ জুলাই) থেকে কার্যকর হবে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের দাম পড়বে ১ লাখ ৭০ হাজার ৫৫১ টাকা, ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬২ হাজার ৭৯৪ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৩৯ হাজার ৫৪৮ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৫ হাজার ৩৯২ টাকা।
আরও পড়ুন: জুলাই ২০২৫ থেকে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে নতুন মুনাফার হার: বাংলাদেশের জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের পুনঃনির্ধারিত রিটার্ন রেট
স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে।
সবশেষ, ১ জুলাই দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। তখন ভরিতে ১ হাজার ৮৯০ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭২ হাজার ১২৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
৩৯২ দিন আগে
জুলাই ২০২৫ থেকে পেনশনার সঞ্চয়পত্রে নতুন মুনাফার হার: বাংলাদেশের জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের পুনঃনির্ধারিত রিটার্ন রেট
দেশের প্রচলিত সঞ্চয়পত্রগুলোতে লক্ষণীয় পরিবর্তন নিয়ে নতুন ভাবে প্রকাশিত হলো জাতীয় সঞ্চয় স্কিম। ২০২৫-এর জুলাই–ডিসেম্বর সময়কালের জন্য জারিকৃত এই নির্দেশনার আওতাভূক্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্কিম পেনশনার সঞ্চয়পত্র। অন্যান্য সঞ্চয় ক্যাটাগরিগুলোর মতো এই সঞ্চয়পত্রেও বার্ষিক মুনাফার হারে পরিবর্তন আনা হয়েছে। ভিন্ন ভিন্ন বিনিয়োগে মেয়াদের আগে ও পরে নগদীকরণে বার্ষিক হার ভিন্ন ভিন্ন। যার স্পষ্ট রেশ থাকছে গ্রাহকদের নগদায়নকালীন অর্থপ্রাপ্তিতে। চলুন, ৫ বছর মেয়াদী পেনশনার সঞ্চয়পত্রের নতুন নির্ধারিত রিটার্ন রেটের বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।
জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালের জন্য পেনশনার সঞ্চয়পত্রে নির্ধারিত মুনাফার হার
নতুন রেট অনুযায়ী পূর্ববর্তী ও বর্তমানের সমূদয় বিনিয়োগের রিটার্ন হিসাব হবে। ধার্যকৃত মুনাফা দেওয়া হবে মূলত দুটি বিনিয়োগসীমার বিপরীতে, সেগুলো হলো:
i) ৭ লক্ষ ৫০ হাজার (৭,৫০,০০০) টাকা কিংবা তার কম
ii) ৭ লক্ষ ৫০ হাজার (৭,৫০,০০০) টাকার অধিক
আরো পড়ুন: জুলাই ২০২৫ থেকে ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার: জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের পুনঃনির্ধারিত রিটার্ন রেট
পেনশনার সঞ্চয় স্কিমে মেয়াদের আগে ও পরে নগদীকরণে নিম্নোক্ত রেট অনুযায়ী প্রদেয় অর্থ নিরূপণ হবে:
টেবিল: ২০২৫ সালের জুলাই-ডিসেম্বর সময়কালের জন্য পেনশনার সঞ্চয়পত্রে দুটি ভিন্ন বিনিয়োগ সীমায় প্রদেয় ভিন্ন বার্ষিক মুনাফা
সময়
বিনিয়োগ
৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত
বিনিয়োগ
৭ লাখ ৫০ হাজার ১ টাকা হতে তদূর্ধ্ব
মুনাফার হার (%)
১ম বছরান্তে
৯.৮৪
৯.৭২
২য় বছরান্তে
১০.৩২
১০.১৯
৩য় বছরান্তে
১০.৮৪
১০.৭০
৪র্থ বছরান্তে
১১.৩৯
১১.২৩
৫ম বছরান্তে / মেয়াদপূর্তিতে
১১.৯৮
১১.৮০
.
সর্বোচ্চ ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা (৭,৫০,০০০ বা তার কম) মূল্যের পেনশনার সঞ্চয়পত্রে মেয়াদপূর্তিতে রয়েছে সর্বাধিক মুনাফাপ্রাপ্তির সুযোগ। আর এর পরিমাণ হলো ১১.৯৮ শতাংশ (১১.৯৮%)। মূল্য ৭ লাখ ৫০ হাজার (৭,৫০,০০১ বা তার বেশি) টাকা ছাড়িয়ে গেলে এই পরিমাণটি হবে ১১.৮০ শতাংশ (১১.৮০%)।
মেয়াদপূর্তির পূর্বেই নগদায়ন করা হলে মুনাফা বন্টন হবে উপরোক্ত টেবিলে উল্লেখিত হারে। এমতাবস্থায় অনুর্ধ্ব সাড়ে ৭ লক্ষ টাকার বিনিয়োগ নগদায়নে প্রথম বছরে মুনাফা দাড়াবে ৯.৮৪ শতাংশ। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছরে মুনাফা পাওয়া যাবে যথাক্রমে ১০.৩২ শতাংশ, ১০.৮৪ শতাংশ এবং ১১.৩৯ শতাংশ হারে।
অপরদিকে, ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকার অধিক বিনিয়োগ নগদায়নের ক্ষেত্রে প্রথম বছরে মুনাফা মিলবে ৯.৭২ শতাংশ। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছরে রিটার্ন পাওয়া যাবে যথাক্রমে ১০.১৯ শতাংশ, ১০.৭০ শতাংশ ও ১১.২৩ শতাংশ হারে।
আরো পড়ুন: জুলাই ২০২৫ থেকে ৩-মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার: বাংলাদেশের জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের পুনঃনির্ধারিত রিটার্ন রেট
জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালের জন্য থেকে কার্যকর পেনশনার সঞ্চয়পত্রের নতুন রিটার্ন রেট কারা পাবেন?
মুনাফার এই পুনঃনির্ধারিত হার পেনশনার সঞ্চয়পত্রের সেই সকল গ্রাহকরা পাবেন, যারা স্কিমটি ক্রয় করবেন ১ জুলাই, ২০২৫ তারিখে কিংবা তার পরে। এর আগের যাবতীয় বিনিয়োগসমূহের মুনাফা বন্টন হবে পূর্ববর্তী নীতিমালা অনুসারে।
এই সরকারি নির্দেশনা বাস্তবায়নের ছয় মাস পর মুনাফার বার্ষিক হার পুনঃনির্ধারণ করা হবে। তবে এই সময়ের মধ্যে যে সঞ্চয়পত্রগুলো ইস্যু করা হবে সেগুলোর স্ব স্ব মেয়াদ ও রিটার্নের হার বহাল থাকবে। সুতরাং বিনিয়োগকারীরা তাদের সঞ্চয়পত্র ইস্যুকালীন ধার্যকৃত হার অনুসারে নির্ধারিত পুরো মেয়াদ জুড়ে মুনাফা পাবেন।
শেষাংশ
বাংলাদেশ জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের পেনশনার সঞ্চয়পত্রে ৭,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১.৯৮ শতাংশ। ৭,৫০,০০০ টাকার অধিক বিনিয়োগকারীরা লাভ পাবেন ১১.৮০ শতাংশ হারে। এই মুনাফা বন্টন নীতি শুধুমাত্র ১ জুলাই, ২০২৫ তারিখে ও তার পরবর্তীতে ইস্যুকৃত পেন শনার সঞ্চয়পত্রের জন্য অনুসরণ করা হবে।
আরো পড়ুন: জুলাই ২০২৫ থেকে পরিবার সঞ্চয়পত্রে নতুন মুনাফার হার: বাংলাদেশের জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের পুনঃনির্ধারিত রিটার্ন রেট
৩৯৪ দিন আগে
পুঁজিবাজারে প্রথম ঘণ্টায় সূচকের উত্থান, দাম বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির
সপ্তাহের শেষ কার্যদিবসে সূচকের উত্থানে লেনদেন শুরু হয়েছে ঢাকা এবং চট্টগ্রামের পুঁজিবাজারে, দাম বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির।
লেনদেনের প্রথম ঘণ্টায় ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ১০ পয়েন্ট। বাকি দুই সূচক শরীয়াভিত্তিক ডিএসইএস ১ এবং বাছাইকৃত ব্লুচিপ সূচক ডিএস-৩০ বেড়েছে ৪ পয়েন্ট।
দিনের শুরুতেই দাম বেড়েছে বেশিরভাগ কোম্পানির। ১৮৮ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ১২৫ এবং অপরিবর্তিত আছে ৬৮ কোম্পানির শেয়ারের দাম।আরও পড়ুন: সূচকের উত্থান দিয়ে লেনদেন চলছে পুঁজিবাজারে
প্রথম ঘণ্টায় ঢাকার বাজারে ১৩০ কোটি টাকার ওপরে শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে। অন্যদিকে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জে (সিএসই) সার্বিক সূচক বেড়েছে ১৩ পয়েন্ট।
প্রথম ঘণ্টায় লেনদেনে অংশ নেয়া ৭৯ কোম্পানির মধ্যে ৪৫ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ২০ এবং অপরিবর্তিত আছে ১৪ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
দিনের শুরুতে চট্টগ্রামে লেনদেন ছাড়িয়েছে ১ কোটি ১৯ লাখ টাকা।
৩৯৬ দিন আগে
জুলাই ২০২৫ থেকে ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার: জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের পুনঃনির্ধারিত রিটার্ন রেট
২০২৫-এর জুলাই-ডিসেম্বর সময়সীমাকে সামনে রেখে জারি হলো জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের নতুন সংস্করণ। এর আওতাভূক্ত অন্যতম একটি স্কিম ৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্র। অন্যান্য স্কিমগুলোর পাশাপাশি এই সঞ্চয়পত্রেও প্রধান পরিবর্তন হচ্ছে মুনাফার হার। নির্দিষ্ট বিনিয়োগসীমার অধীনে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগে ও পরে উভয় ক্ষেত্রে রয়েছে ভিন্ন ভিন্ন বার্ষিক হার। স্বভাবতই, এই রদবদলের গুরুত্বপূর্ণ প্রভাব থাকছে সামগ্রিক অর্থপ্রাপ্তিতে। চলুন, ৫-বছর মেয়াদী সঞ্চয় স্কিমটির পুনঃনির্ধারিত মুনাফার বিষয়ে জেনে নেওয়া যাক।
জুলাই-ডিসেম্বর ২০২৫ সময়কালের জন্য ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে রিটার্ন রেট
নতুন রেটে পূর্ববর্তী বিনিয়োগ থেকে শুরু করে বর্তমানের এক বা একাধিক যাবতীয় মুলধন অন্তর্ভূক্ত হচ্ছে। প্রযোজ্য রিটার্নসমূহ নির্ধারিত হবে দুটি বিনিয়োগসীমার উপর ভিত্তি করে, সেগুলো হলো:
i) ৭ লাখ ৫০ হাজার (৭,৫০,০০০) টাকা ও তার কম
ii) ৭ লাখ ৫০ হাজার (৭,৫০,০০০) টাকার বেশি
আরো পড়ুন: জুলাই ২০২৫ থেকে ৩-মাস অন্তর মুনাফা ভিত্তিক সঞ্চয়পত্রে মুনাফার হার: বাংলাদেশের জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের পুনঃনির্ধারিত রিটার্ন রেট
৫-বছর মেয়াদী স্কিমের অধীনে মেয়াদান্তে ও মেয়াদের আগে নগদীকরণে ভিন্ন ভিন্ন বার্ষিক রিটার্ন রেটগুলো নিম্নরূপ:
টেবিল: ৫-বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে দুটি বিনিয়োগ সীমায় প্রদেয় বার্ষিক মুনাফা
সময়
বিনিয়োগ
৭ লাখ ৫০ হাজার টাকা পর্যন্ত
বিনিয়োগ
৭ লাখ ৫০ হাজার ১ টাকা হতে তদূর্ধ্ব
মুনাফার হার (%)
১ম বছরান্তে
৯.৭৪
৯.৭২
২য় বছরান্তে
১০.২১
১০.১৯
৩য় বছরান্তে
১০.৭২
১০.৭০
৪র্থ বছরান্তে
১১.২৬
১১.২৩
৫ম বছরান্তে / মেয়াদপূর্তিতে
১১.৮৩
১১.৮০
.
৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সর্বোচ্চ ৭ লক্ষ ৫০ হাজার টাকা (৭,৫০,০০০ বা তার কম) বিনিয়োগে মেয়াদপূর্তিতে রয়েছে সর্বাধিক মুনাফার সুযোগ। আর তা হলো ১১.৮৩ শতাংশ (১১.৮৩%)। ৭ লক্ষ ৫০ হাজার (৭,৫০,০০১ বা তার বেশি) টাকার বেশি মূল্যে কেনা সঞ্চয়পত্রে এই হারের পরিমাণ ১১.৮০ শতাংশ।
মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই নগদায়নে উপরোক্ত টেবিলে উল্লেখিত হার অনুসারে মুনাফা বন্টন করা হবে। এমতাবস্থায় অনুর্ধ্ব ৭ লাখ ৫০ হাজার টাকার মুলধন নগদায়নে প্রথম বছরে মুনাফা পাওয়া যাবে ৯.৭৪ শতাংশ হারে। দ্বিতীয়, তৃতীয় ও চতুর্থ বছরের জন্য দেওয়া হবে যথাক্রমে ১০.২১ শতাংশ, ১০.৭২ শতাংশ এবং ১১.২৬ শতাংশ করে।
অপরদিকে, সাড়ে ৭ লক্ষাধিক টাকা বিনিয়োগের অগ্রিম নগদায়ন থেকে প্রথম বছরের লাভ আসবে ৯.৭২ শতাংশ। দ্বিতীয় বছরের ক্ষেত্রে সেই রিটার্ন হয়ে যাবে ১০.১৯ শতাংশ। তৃতীয় ও সর্বশেষ চতুর্থ বছরে নগদায়নে বার্ষিক হার হবে যথাক্রমে ১০.৭০ শতাংশ ও ১১.২৩ শতাংশ।
জুলাই ২০২৫ থেকে কার্যকর ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের নতুন রিটার্ন রেট কারা পাবেন?মুনাফার এই নতুন হার ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের সেই সকল গ্রাহকদের জন্য, যারা স্কিমটি কিনবেন ১ জুলাই, ২০২৫ তারিখে অথবা তার পরে। এর আগের বিনিয়োগকারীদের রিটার্ন সমূহ পূর্ববর্তী নীতিমালা অনুসারে বন্টন করা হবে।
এই আদেশ বাস্তবায়নের ছয় মাস পর রিটার্নের হার আবার নতুন করে নির্ধারিত হবে। কিন্তু এই সময়ের মধ্যে ইস্যু করা সঞ্চয়পত্রগুলোর জন্য তাদের স্ব স্ব মেয়াদ ও মুনাফার হার বিদ্যমান থাকবে। অর্থাৎ বিনিয়োগকারীরা মুনাফা পাবেন তাদের স্কিম ইস্যুকালীন প্রদত্ত বার্ষিক হার অনুসারে এবং নির্ধারিত মেয়াদের পুরোটা জুড়ে।
আরো পড়ুন: জুলাই ২০২৫ থেকে পরিবার সঞ্চয়পত্রে নতুন মুনাফার হার: বাংলাদেশের জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের পুনঃনির্ধারিত রিটার্ন রেট
শেষাংশ
জাতীয় সঞ্চয় স্কিমের ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রে ৭,৫০,০০০ টাকা পর্যন্ত বিনিয়োগে সর্বোচ্চ মুনাফার হার ১১.৮৩ শতাংশ। ৭,৫০,০০০ টাকার অধিক বিনিয়োগে লাভ আসবে ১১.৮০ শতাংশ হারে। এই মুনাফা মডেল শুধুমাত্র ১ জুলাই, ২০২৫ তারিখে বা তার পরবর্তীতে ক্রয়কৃত ৫ বছর মেয়াদী বাংলাদেশ সঞ্চয়পত্রের জন্য প্রযোজ্য।
৩৯৬ দিন আগে