ব্যবসা
বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী শ্রীলঙ্কার উদ্যোক্তাদের সহযোগিতার আশ্বাস দেশটির মন্ত্রীর
শ্রীলঙ্কার শিল্প ও উদ্যোক্তা উন্নয়ন বিষয়ক মন্ত্রী সুনীল হন্দুন্নেত্তি জানান, বাংলাদেশে বিনিয়োগে আগ্রহী শ্রীলঙ্কার উদ্যোক্তাদের সহায়তা দিতে তাদের সরকার প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। পাশাপাশি বাংলাদেশি উদ্যোক্তারা শ্রীলঙ্কায় বিনিয়োগ করতে চাইলে তাদের সর্বোচ্চ নীতি সহায়তা দেওয়ার আশ্বাস দেন তিনি।
শ্রীলঙ্কা সফররত ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রির (ডিসিসিআই) বাণিজ্য প্রতিনিধিদলের সঙ্গে মঙ্গলবার (১৭ জুন) সিলন চেম্বার অব কমার্সের বাণিজ্য আলোচনা সভায় সুনীল বলেন, শুধু বাণিজ্যিক সুবিধা নয়, আঞ্চলিক অগ্রগতির স্বার্থ অর্জনে দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণ গুরুত্বপূর্ণ। দুই দেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগে প্রচুর সম্ভবনা থাকলেও তা কাজে লাগানো যায়নি। দুই দেশের বিনিয়োগকারীদের জন্য টেক্সটাইল, ঔষধ, জাহাজ নির্মাণ এবং ডিজিটাল পরিষেবা প্রভৃতি খাত অত্যন্ত সম্ভাবনাময়।
সুনীল হন্দুন্নেত্তি বলেন, দুর্নীতি প্রতিরোধে শ্রীলঙ্কার সরকার কঠোর অবস্থান গ্রহণ করেছে এবং বিদেশি বিনিয়োগকারীদের আকৃষ্ট করতে নানাবিধ সুবিধা দিচ্ছে। শ্রীলঙ্কায় বাণিজ্য কাঠামোর সহজীকরণ, লজিস্টিক ব্যবস্থাপনার উন্নয়ন এবং নন-ট্যারিফ প্রতিবন্ধকতা কমাতে দেশটি একনিষ্ঠভাবে কাজ করে যাচ্ছে, যা বিদেশি বিনিয়োগকারীদের জন্য সহায়ক হবে।
পড়ুন: ভারতের ট্রান্সশিপমেন্ট বাতিলে কোনো সমস্যা হবে না: বাণিজ্য উপদেষ্টা
এছাড়াও তিনি দুদেশের বাণিজ্য সংগঠনগুলোর মধ্যকার কার্যকর সংযোগ স্থাপনের উপর জোর দেন, যার মাধ্যমে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য বৃদ্ধি পাবে।
অনুষ্ঠানের সূচনা বক্তব্যে সিলন চেম্বারের চেয়ারম্যান ডুমিন্ডা হুলানগামুয়া বলেন, বাংলাদেশ দীর্ঘদিন ধরে শ্রীলঙ্কার অন্যতম ঘনিষ্ঠ বন্ধু। কিন্তু সার্কভুক্ত দেশ দুটোর মধ্যে বাণিজ্যিক পরিসংখ্যান পারস্পরিক বাণিজ্যের প্রকৃত সম্ভাবনার প্রতিফলন দেখা যায় না। এখনই সময় পারস্পরিক বাণিজ্য ও বিনিয়োগ বৃদ্ধির। বাংলাদেশের বেসরকারিখাতকে অত্যন্ত ব্যবসাবান্ধব ও সহনশীল। শ্রীলঙ্কা সবসময় বাংলাদেশের পাশে থাকবে।
ডুমিন্ডা বাংলাদেশের বিনিয়োগকারীদের শ্রীলঙ্কার সম্ভাবনাময় বিভিন্ন খাতে, বিশেষ করে পর্যটন এবং লজিস্টিক খাতে বিনিয়োগের আহ্বান জানান।
অনুষ্ঠানে ডিসিসিআই'র সভাপতি তাসকীন আহমেদ বলেন, সার্কভুক্ত দুদেশের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের অপার সম্ভাবনা থাকা সত্ত্বেও এখনও কাঙ্ক্ষিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। তবে দুদেশের বেসরকারিখাতের মধ্যকার সম্পর্ক উন্নয়নের মাধ্যমে এ সম্ভাবনাকে কাজে লাগানো যেতে পারে। বিশেষ করে বাংলাদেশের লজিস্টিক অবকাঠামো, পর্যটন, শিক্ষা ও স্বাস্থ্যসেবা, নির্মাণ, নবায়নযোগ্য জ্বালানি, কৃষি প্রক্রিয়াজাতকরণ পণ্য এবং তথ্যপ্রযুক্তি খাতে বিনিয়োগে শ্রীলঙ্কার উদ্যোক্তাবৃন্দ এগিয়ে আসতে পারে।
পাশাপাশি বাংলাদেশ থেকে ঔষধ, তৈরি পোষাক, পাদুকা, ইলেকট্রনিক্স, পাটজাত পণ্য আমদানির জন্য শ্রীলংকার উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান ডিসিসিআই সভাপতি।
দ্বিপক্ষীয় বাণিজ্য ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে দুদেশের মধ্যকার অগ্রাধিকারমূলক বাণিজ্য চুক্তি (পিটিএ) দ্রুততার সঙ্গে স্বাক্ষরের ওপর গুরুত্বারোপ করেন তাসকীন। এছাড়াও সমুদ্র অর্থনীতি, গভীর সমুদ্রে মৎস্য আহরণ এবং বন্দর ব্যবস্থাপনা উন্নয়নে শ্রীলঙ্কার অভিজ্ঞতা ও প্রযুক্তি বিষয়ক সহায়তা বাংলাদেশের এখাতে দক্ষতা উন্নয়নে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে জানান ডিসিসিআই সভাপতি।
৪১২ দিন আগে
একটি সাংবাদিক ফোরামের জন্যই ১৫ লাখ টাকা, প্রশ্নের মুখে বিএসইসি
পুঁজিবাজার নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশন (বিএসইসি) পুঁজিবাজারে একটি নির্দিষ্ট ফোরামের সাংবাদিকদের জন্য ১৫ লাখ টাকার ‘বিএসইসি ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিজম এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডস অ্যান্ড ফেলোশিপ প্রোগ্রাম’ চালু করেছে।
তবে সর্বজনীন সুবিধা না দিয়ে একটি নির্দিষ্ট ফোরামের সাংবাদিকদের এ সুযোগ দেওয়ায় প্রশ্ন উঠেছে কমিশনের স্বচ্ছতা নিয়ে।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে সোমবার (১৬ জুন) কমিশন জানায়, পুঁজিবাজারের ওপর স্বচ্ছ, নির্ভরযোগ্য এবং গবেষণামূলক সাংবাদিকতাকে উৎসাহিত করতে এই অ্যাওয়ার্ডস-ফেলোশিপের উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। সাংবাদিকদের ১৬ জুন থেকে ১৭ জুলাই পর্যন্ত অ্যাওয়ার্ডস এবং ফেলোশিপের জন্য আবেদনের আহ্বান জানিয়েছে বিএসইসি।
এই প্রোগ্রামের এক্সিলেন্স অ্যাওয়ার্ডে তিন ক্যাটাগরিতে (প্রিন্ট, অনলাইন, ইলেকট্রনিক) তিনজন সাংবাদিককে দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা করে মোট সাত লাখ ৫০ হাজার টাকার নগদ অর্থ ও একটি ক্রেস্ট দেওয়ার কথা জানিয়েছে বিএসইসি।
এছাড়া ক্যাপিটাল মার্কেট জার্নালিজম ফেলোশিপের আওতায় পাঁচ লাখ টাকা ও দুই লাখ ৫০ হাজার টাকা সমমূল্যের পৃথক দুটি ফেলোশিপের ঘোষণা দিয়েছে কমিশন।
কমিশন জানায়, এ উদ্যোগের মাধ্যমে বিএসইসি পুঁজিবাজার বিষয়ক সাংবাদিকতায় দায়িত্বশীলতা, নৈতিকতা ও সততাকে উৎসাহিত করতে চায়, যা দেশের পুঁজিবাজার ও সর্বোপরি অর্থনীতির গতিশীলতাকে ইতিবাচকভাবে প্রভাবিত করবে।
এই ফেলোশিপ সাংবাদিকদের বৈশ্বিক আর্থিক বাজার সম্পর্কে জ্ঞান বৃদ্ধির সুযোগ প্রদান করবে, তাদের বিশ্লেষণী দক্ষতা বৃদ্ধি করবে এবং নৈতিক সাংবাদিকতার মানদণ্ড নিশ্চিত করতে সহায়তা করবে বলে জানায় কমিশন।
তবে বিএসইসির অ্যাওয়ার্ডস ও ফেলোশিপের যোগ্যতায় পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্ট একটি সাংবাদিক ফোরামের নাম উল্লেখ করে বলা হয়েছে, শুধু যারা সেই ফোরামের নিয়মিত সদস্য তারাই আবেদন করতে পারবেন।আরও পড়ুন: সরকার পুঁজিবাজার উন্নয়নে আন্তরিক: বিএসইসি চেয়ারম্যান
একটি নির্দিষ্ট ফোরামের সাংবাদিকদের জন্য এ ধরনের সুযোগ দেওয়ায় বিএসইসির স্বচ্ছতা নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে নানা মহলে। ফোরামের বাইরের সাংবাদিকরা বলছেন, এ ধরণের সিদ্ধান্ত বৈষম্যমূলক এবং নীতিবিরুদ্ধ।
এ প্রসঙ্গে বেসরকারি টিভি চ্যানেল ডিবিসির ডেপুটি চিফ রিপোর্টার মোস্তফা মাহবুব বলেন, ‘যদি নির্দিষ্ট সাংবাদিক ফোরামের সঙ্গে যৌথভাবে কমিশন এ আয়োজন করে থাকে, তাহলে দোষের কিছু নেই। কিন্তু যদি কমিশন নিজে থেকে উদ্যোগ নেয় তাহলে এটি সঠিক নয়।’
যদিও কমিশনের দেওয়া সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে যৌথ সমন্বয়ের কোনো কথা উল্লেখ নেই এবং পরিষ্কারভাবে বলা হয়েছে, কমিশনের উদ্যোগে সাংবাদিকদের জন্য এই সুবিধা দেওয়া হচ্ছে। এরইমধ্যে কমিশন বেশ কয়েকটি দৈনিক পত্রিকায় এ অ্যাওয়ার্ড এবং ফেলোশিপ নিয়ে বিজ্ঞপ্তি দিয়েছে।
এ প্রসঙ্গে মাহবুব বলেন, ‘যদি একটি নির্দিষ্ট ফোরামের জন্য এ সুবিধা হয়ে থাকে, তাহলে রাষ্ট্রীয় অর্থ খরচ করে পত্রিকায় বিজ্ঞাপন দেওয়ার কোনো মানে হয় না। আবার ফেলোশিপের যোগ্যতা এবং আবেদন প্রক্রিয়ায় নির্দিষ্ট ফোরামের সদস্য নাম্বার থাকার বাধ্যবাধকতার মধ্যেও সাংঘর্ষিকতা আছে।’
বিএসইসির ওয়েবসাইট ঘেঁটে দেখা যায়, তিন বছর ধরে পুঁজিবাজার নিয়ে রিপোর্টিং করছে সরকারের এমন নিবন্ধিত ও বাংলাদেশি মালিকানাধীন সংবাদপত্র বা অনলাইন সংবাদমাধ্যম বা ইলেকট্রনিক মিডিয়ায় কর্মরত সাংবাদিকরা অ্যাওয়ার্ডের জন্য আবেদন করতে পারবেন। তবে ফেলোশিপের সুবিধা শুধু ফোরামের সদস্যদের মধ্য থেকেই দেওয়া হবে।
কিন্তু অ্যাওয়ার্ডস এবং ফেলোশিপের জন্য নেই কোনো আলাদা আবেদন প্রক্রিয়া, আবেদন করতে গেলে লাগছে ফোরামটির সদস্য নম্বর।
এ প্রসঙ্গে আরেক বেসরকারি চ্যানেল সময় মিডিয়া লিমিটেডের বিজনেস ডেস্ক কোওর্ডিনেটর কামরুল সবুজ বলেন, ‘এ ধরনের অসঙ্গতিপূর্ণ অ্যাওয়ার্ড এবং ফেলোশিপ বন্ধ করে দেওয়া উচিত। যে অ্যাওয়ার্ড এবং ফেলোশিপ নির্দিষ্ট কিছু সাংবাদিকদের জন্য বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই সেগুলো দূরভিসন্ধিমূলক।’
অ্যাওয়ার্ড এবং ফেলোশিপের পুরো ব্যাপারটি নিয়ে ফোরামের বেশ কয়েকজন সদস্যও বিব্রত। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ফোরামের সদস্য এক সিনিয়র সাংবাদিক বলেন, ‘যদি স্বচ্ছ, নিরপেক্ষ পুঁজিবাজার রিপোর্টিং-এর জন্য এই অ্যাওয়ার্ড দেওয়া হয় এবং ফেলোশিপের উদ্দেশ্য যদি থাকে পুঁজিবাজার বিষয়ে সাংবাদিকদের আরও দক্ষ করা, তাহলে ফোরামের মধ্যে সীমাবদ্ধ না করে এ সুযোগ সর্বজনীন করা উচিত ছিল কমিশনের।’
পুরো প্রক্রিয়া নিয়ে সদুত্তর দিতে পারেনি কমিশন। বিএসইসির মুখপাত্র এবং পরিচালক আবুল কালাম বলেন, ‘এভাবেই নীতিমালা তৈরি করা হয়েছে এবং সেই নীতিমালার আলোকেই অ্যাওয়ার্ড-ফেলোশিপের ব্যবস্থা করা হয়েছে।’
কমিশনের এ সিদ্ধান্তকে ভালো চোখে দেখছেন না পুঁজিবাজার সংশ্লিষ্টরাও। নাম প্রকাশ না করার শর্তে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক পদের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘একটি নির্দিষ্ট গোষ্ঠীর সাংবাদিকদের অ্যাওয়ার্ড-ফেলোশিপের নামে উৎকোচ দেওয়ার চেষ্টা করছেন কমিশন। শিবলী কমিশন পুঁজিবাজারকে ধ্বংস করে দিয়েছে। কিন্তু তাদের সময়ও এরকম অসামঞ্জস্য সিদ্ধান্ত নেয়া হয়নি, যা বর্তমান কমিশন নিয়েছে।’
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পুঁজিবাজার সংস্কার টাস্কফোর্সের এক সদস্য জানান, ‘বর্তমান কমিশনের চেয়ারম্যান খন্দকার রাশেদ মাকসুদ দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে তার বিরুদ্ধে একটি গোষ্ঠী নেগেটিভ ক্যাম্পেইন করে আসছে। হয়তো সেই গোষ্ঠীটিকে আটকাতেই আরেক গোষ্ঠীর সঙ্গে সম্পর্ক উন্নয়নের চেষ্টা করছেন তিনি।’
তবে এসব না করে নিজের বিরুদ্ধে ওঠা সব অভিযোগের উত্তর মিডিয়ার সামনে নিজেরই দেয়া উচিত বলে মনে করেন টাস্কফোর্সের এ সদস্য।
৪১৩ দিন আগে
দীর্ঘ ছুটির পর লেনদেনে ফিরেই পুঁজিবাজারে দরপতন
ঈদের ১০ দিনের লম্বা ছুটি শেষে রবিবার লেনদেনে ফিরেছে দেশের পুঁজিবাজার। তবে ছুটি শেষে প্রথম কার্যদিবসের লেনদেন শুরু হয়েছে দরপতনের মধ্য দিয়ে। ঢাকা ও চট্টগ্রাম উভয় স্টক এক্সচেঞ্জে সূচক কমেছে, পাশাপাশি বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দামও কমে গেছে।
লেনদেনের শুরুতেই ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) দেখা যায় নিম্নমুখী প্রবণতা। প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইর প্রধান সূচক ডিএসইএক্স কমেছে ২৬ পয়েন্ট। পাশাপাশি শরিয়াভিত্তিক সূচক ডিএসইএস এবং ব্লু-চিপ বা বাছাইকৃত কোম্পানির সূচক ডিএস৩০ উভয়ই কমেছে ৮ পয়েন্ট করে।
লেনদেন শুরুর পরই ঢাকার বাজারে বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দর কমে যায়। প্রথম ঘণ্টায় ডিএসইতে মোট ২১২টি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে, মাত্র ৪৬টি কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে এবং ৫০টি কোম্পানির শেয়ারের দাম অপরিবর্তিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: ঈদের আগে উত্থান দিয়ে শেষ হলো পুঁজিবাজারের লেনদেন
এই সময়ের মধ্যে ডিএসইতে মোট লেনদেনের পরিমাণ ছাড়িয়েছে ৩০ কোটি টাকা।
ঢাকার মতো চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) ঈদের পর লেনদেন শুরু হয়েছে পতনের মধ্য দিয়ে। লেনদেনের শুরুতেই সিএসইর সার্বিক সূচক কমেছে ৪৪ পয়েন্ট।
প্রথম ঘণ্টায় চট্টগ্রামের বাজারে ১৭টি কোম্পানির শেয়ারের লেনদেন হয়েছে। এর মধ্যে ৮টি কোম্পানির শেয়ারের দাম কমেছে, ৭টি বেড়েছে এবং ২টি কোম্পানির শেয়ারদর অপরিবর্তিত রয়েছে।
এই সময় সিএসইতে মোট লেনদেন হয়েছে প্রায় ৯ লাখ টাকার শেয়ার ও ইউনিট।
৪১৪ দিন আগে
১০ দিনের ব্যবধানে আবারও বাড়লো স্বর্ণের দাম
ঈদের দুইদিন আগে স্বর্ণের দাম বৃদ্ধির দশ দিন পার হওয়ার আগেই আবারও ভরিতে ২ হাজার ১৯২ টাকা বাড়িয়েছে জুয়েলার্স অ্যাসোসিয়েশন (বাজুস)।
বাজুসের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, এখন থেকে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭৪ হাজার ৫২৮ টাকা নির্ধারিত হয়েছে।
শনিবার (১৪ জুন) রাতে দেওয়া এই বিজ্ঞপ্তিতে বাজুস জানায়, রবিবার থেকেই নতুন দাম কার্যকর হবে।
বাজুস জানিয়েছে, স্থানীয় বাজারে তেজাবি স্বর্ণের (পিওর গোল্ড) মূল্য বেড়েছে। ফলে সার্বিক পরিস্থিতি বিবেচনায় স্বর্ণের নতুন দাম নির্ধারণ করা হয়েছে।
নতুন দাম অনুযায়ী, দেশের বাজারে প্রতি ভরি (১১.৬৬৪ গ্রাম) ২২ ক্যারেটের স্বর্ণের পাশাপাশি ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৬৬ হাজার ৫৯৭ টাকা, ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি ১ লাখ ৪২ হাজার ৮০২ টাকা এবং সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ১৮ হাজার ১৬৮ টাকা নির্ধারণ।
পড়ুন: ঈদের আগে ভরিতে ২৪১৫ টাকা বাড়ল স্বর্ণের দাম
এছাড়া স্বর্ণের বিক্রয়মূল্যের সঙ্গে আবশ্যিকভাবে সরকার-নির্ধারিত ৫ শতাংশ ভ্যাট ও বাজুস-নির্ধারিত ন্যূনতম মজুরি ৬ শতাংশ যুক্ত করতে হবে। তবে গহনার ডিজাইন ও মানভেদে মজুরির তারতম্য হতে পারে বলে জানিয়েছে বাজুস।
এর আগে, সবশেষ ৫ জুন দেশের বাজারে স্বর্ণের দাম সমন্বয় করেছিল বাজুস। সে সময় ভরিতে ২ হাজার ৪১৫ টাকা বাড়িয়ে ২২ ক্যারেটের এক ভরি স্বর্ণের দাম ১ লাখ ৭২ হাজার ৩৩৬ টাকা নির্ধারণ করেছিল সংগঠনটি।
৪১৫ দিন আগে
চামড়া শিল্পে ১৫ বছরে ব্যাপক নৈরাজ্য হয়েছে: বাণিজ্য উপদেষ্টা
দেশের চামড়া শিল্পে বিগত ১৫ বছরে সৃষ্ট ব্যাপক নৈরাজ্য ও সিন্ডিকেট নির্মূলে সরকার কাজ করছে বলে জানিয়েছেন বাণিজ্য উপদেষ্টা শেখ বশিরউদ্দীন।
তিনি বলেন, ‘দেশের চামড়া শিল্পে বিগত ১৫ বছরে ব্যাপক নৈরাজ্য হয়েছে। এর ফলে শিল্পটির চরম অধঃপতন হয়েছে। এ খাতে যে সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে, তা নির্মূলে সরকার কাজ করছে।’
সোমবার (৯ জুন) দুপুরে যশোরের রাজারহাটে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের সর্ববৃহৎ চামড়ার হাটে কোরবানির চামড়ার সুস্ঠু ব্যবস্থাপনা সংক্রান্ত কার্যক্রম পরিদর্শন শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের জবাবে তিনি এ কথা বলেন।
বাণিজ্য উপদেষ্টা বলেন, 'আমরা চামড়া শিল্পে সবার আগে এতিমখানা ও মাদরাসার স্বার্থ রক্ষায় কাজ করছি। পাশাপাশি দেশের চামড়া শিল্পের সার্বিক স্বার্থ ও ভবিষ্যৎ চিন্তা করেই কার্যক্রম পরিচালনা করছি।'
তিনি বলেন, 'গত ১৫ বছরে চামড়া শিল্পের যে অধঃপতন ঘটেছে, তা পুনরুদ্ধার এবং অবৈধ সিন্ডিকেট ভাঙতে আমরা সারা দেশে কাজ করছি। আমি নিজেও ব্যক্তিগতভাবে বিভিন্ন এলাকা ঘুরে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছি। কন্ট্রোল টিমও সক্রিয় রয়েছে।'
চামড়ার সঠিক মূল্য নিশ্চিত ও মূল্য বাড়ানোর লক্ষ্যে সরকার সারাদেশে লবণ বিতরণ করেছে উল্লেখ করে শেখ বশিরউদ্দীন বলেন, চামড়ার দাম বাড়াতে সংরক্ষণের জন্য ৭ লাখ ৫০ হাজার মন লবণ বিতরণ করা হয়েছে। সরকারের এই পদক্ষেপ চামড়ার মূল্য নির্ধারণে সহায়ক ভূমিকা রেখেছে। অনেক মাদরাসা লবণ ছাড়াই চামড়া সংগ্রহ করেছে। অথচ সরকার লবণ ছাড়া চামড়ার মূল্য নির্ধারণ করে না। অনেক মৌসুমি ব্যবসায়ী চামড়া সম্পর্কে ধারণা না থাকায় তা নষ্ট করেছেন। ফলে কাঙ্ক্ষিত মূল্য পাননি।
উপদেষ্টা বলেন, ট্যানারি মালিকদের সক্ষমতা বাড়ানোর জন্য সরকার ঈদের আগেই ২২০ কোটি টাকার প্রণোদনা ছাড় করেছে। বাজার ব্যবস্থাপনা সম্প্রসারণের উদ্যোগও নেওয়া হয়েছে। সরকারের গৃহীত পদক্ষেপের ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে বাংলাদেশের চামড়া শিল্পের চাহিদা তৈরি হবে বলে আশা করেন তিনি।
তিনি আরও বলেন, চামড়া শিল্পের নৈরাজ্য নিয়ে এখনও সরকারের ওপর দায় চাপানো হচ্ছে। অথচ সরকার চামড়া রক্ষায় যেসব পদক্ষেপ নিয়েছে তা বাংলাদেশের ইতিহাসে নজিরবিহীন। সবার সহযোগিতা পেলে আমরা আমাদের লক্ষ্য পূরণ করতে পারব।
এসময় যশোরের জেলা প্রশাসক আজাহার ইসলাম এবং পুলিশ সুপার রওনক জাহান উপস্থিত ছিলেন।
৪২০ দিন আগে
ফেনীতে পশুর চামড়া নিয়ে বিপাকে ব্যবসায়ীরা, নদীতে ফেলে দেওয়ায় গ্রেপ্তার ১
কম দামে কোরবানির পশুর চামড়া কিনে বিপাকে পড়েছেন চামড়া ব্যবসায়ীরা। ঈদের পরে দিন রাত অপেক্ষা করেও চামড়া বিক্রি করতে পারেননি ব্যবসায়ীরা। ফলে চামড়ায় পচন ধরে দুর্গন্ধ বের হওয়ায় তা ফেলেই চলে যান অনেকে। কিছু ব্যবসায়ী এলাকাবাসীর চাপে দুর্গন্ধ বের হওয়া চামড়াগুলো পিকআপ করে মুহুরী নদীতে ফেলেছেন বলে জানা গেছে। আবার অনেকে ক্রেতা পেলেও ক্রয় মূল্যের থেকে কম দাম বলায় বিক্রি করতে পারেননি।
সোমবার (৯ জুন) দুপুর পর্যন্ত ফেনীর বিভিন্ন এলাকা পরিদর্শন করে এমন দৃশ্য দেখা গেছে।
এদিকে ফেনীর পরশুরামে কোরবানির পশুর চামড়া বিক্রি না হওয়ায় সিলোনিয়া নদীতে ফেলে দিয়েছেন শুক্কুর আলী নামের এক ব্যবসায়ী। এ ঘটনায় তাকে আটক করেছে পুলিশ।
রোববার (৮ জুন) রাতে পরশুরামের চিথলিয়া ইউনিয়নের মালিপাথর থেকে ভ্রাম্যামাণ আদালতের নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট ও উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আরিফুর রহমানের নির্দেশে তাকে আটক করা হয়।
আটক শুক্কুর আলী মালিপাথর গ্রামের আবদুল মান্নানের ছেলে। এর আগে বিকালে চামড়া নদীতে ফেলে দেওয়ার একটি ভিডিও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়লে আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়।
স্থানীয়রা জানান, শুক্কুর নামের স্থানীয় মৌসুমি চামড়া ব্যবসায়ী কোরবানির ঈদের দিন গ্রামে ঘুরে ঘুরে ৫০০ থেকে ৬০০ টাকা দরে বেশ কিছু কোরবানির পশুর চামড়া কেনেন। এরপর চামড়া বিক্রির জন্য পিকআপভ্যানে পরশুরাম বাজারে নিয়ে যান। কিন্তু কেউ চামড়া কেনার আগ্রহ না দেখালে রাগে-ক্ষোভে চামড়াগুলো নদীতে ফেলে দেন।
পরশুরাম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ নুরুল হাকিম বলেন, পশুর চামড়া নদীতে ফেলে পরিবেশ দূষণের দায়ে অভিযুক্তকে তার নিজ বাড়ি থেকে আটক করা হয়। তার বিরুদ্ধে পরিবেশ আইনে মামলা দায়েরের প্রস্তুতি চলছে।
এদিকে ফেনী সদরসহ ৫টি উপজেলার বিভিন্ন বাজারের রাস্তায় পচা চামড়া পড়ে থাকতে দেখা গেছে। এতে করে পচা চামড়ার দুর্গন্ধে এলাকার পরিবেশ নষ্ট হচ্ছে। সাধারণ মানুষ ও বাজারের ব্যবসায়ীদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে।
ইতোমধ্যে প্রশাসন থেকে অবিক্রিত চামড়ার জন্য বিনা মূল্যে লবন বিতরণ করার ঘোষণা করে। অবিক্রিত চামড়ায় লবণ দিয়ে বিক্রির কথা বলা হয়ে থাকলেও ব্যবসায়ীরা তা করেননি। ফলে ২৪ ঘণ্টা পার হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে তাতে পচন ধরে পুরো এলাকায় দুর্গন্ধ ছড়িয়ে পড়ে।
জানা যায়, গত শনিবার রাত থেকে জেলার বিভিন্ন বাজারের কয়েক হাজার চামড়া ক্ষুদ্র চামড়া ব্যবসায়ীরা বিক্রির জন্য অপেক্ষা করে।
কিন্তু কোনো বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়ে সোমবার দুপুরে চামড়া ফেলে পালিয়ে যায় তারা। চামড়া পচনের ফলে রাস্তার আশেপাশে দুর্গন্ধ ও চামড়ার পানি বের হওয়ায় পথচারী ও যানবাহন চলাচল ব্যাহত হচ্ছে।
এ ব্যাপারে ছাগলনাইয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা সুবল চাকমা জানান, সরকার চামড়া বিক্রির দাম প্রকাশ করেছে। চামড়া ব্যবসায়ীদের কয়েকদিন অপেক্ষা করতে হবে, কারণ আগামী কয়েক দিন ঢাকায় চামড়া প্রবেশ করতে পারবে না।
ফেনীর জেলা প্রশাসক সাইফুল ইসলাম বলেন, এক-দুইটা ব্যতিক্রম ছাড়া তালিকার সকল মাদরাসা, এতিমখানাকে চামড়া সংরক্ষণের জন্য লবণ দেওয়া হয়েছে ১২৩ টন বিনামূল্যে। চামড়া সংরক্ষণ করাই ছিল মূল উদ্দেশ্য। তবে, কেউ কেউ লবণ নিলেও চামড়া সংরক্ষণ করে নাই বলে আমরা জানতে পেরেছি।
তিনি আরও বলেন, চামড়া ধরে না রাখলে ভালো দাম পাওয়া যাবে না। বাজারে সাপ্লাই অত্যধিক হলে মৌসুমী ব্যবসায়ী কিংবা 'সিন্ডিকেট' সুযোগ নিতে পারে। ঢাকায় ঈদের ১০ দিন কোনো চামড়া ঢুকতে পারবে না।
৪২০ দিন আগে
চট্টগ্রাম বিভাগে সংরক্ষণ করা হয়েছে ৭ লাখ ৭৪ হাজার কোরবানির কাঁচা চামড়া
এবার চট্টগ্রাম বিভাগের ১১টি জেলায় লবণ দিয়ে মোট ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫৬টি কোরবানির পশুর কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে।
চট্টগ্রাম বিভাগীয় প্রশাসন থেকে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের নিয়ন্ত্রণ কক্ষে পাঠানো তথ্য অনুসারে, বিভাগের মাদরাসা, এতিমখানা এবং লিল্লাহ বোর্ডিং হাউস থেকে সংগৃহীত চামড়ার মধ্যে রয়েছে ৭ লাখ ৭৪ হাজার ৭৫৬টি গরু ও মহিষের চামড়া এবং ৭৪ হাজার ৩০২টি ছাগলের চামড়া।
জেলাগুলোর মধ্যে, চট্টগ্রামে ২ লাখ ৭২ হাজার ১০০টি চামড়া, কক্সবাজারে ৩৭ হাজার ৮৮৯টি, নোয়াখালীতে ১ লাখ ১৩ হাজার ৮৩১টি, চাঁদপুরে ২৩ হাজার ৬৫টি, ব্রাহ্মণবাড়িয়াতে ৯৯ হাজার ৭৮১টি, খাগড়াছড়িতে ৫ হাজার ৮৫৯টি, লক্ষ্মীপুরে ১১ হাজার ৮৩৭টি, ফেনীতে ১৩ হাজার ৫০৯টি, রাঙ্গামাটিতে ২ হাজার ৮৪৮টি, বান্দরবানে ২ হাজার ২৯২টি এবং কুমিল্লায় ১ লাখ ৯১ হাজার ৭৭৫টি চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে।
জেলা ও উপজেলা প্রশাসনের তত্ত্বাবধানে সরকারের বিনামূল্যে সরবরাহ করা লবণ ব্যবহার করে কাঁচা চামড়া সংরক্ষণ করা হয়েছে।
সরকার কোরবানির মৌসুমে চামড়ার যথাযথ সংরক্ষণ এবং এতিম শিশুদের অধিকার রক্ষার জন্য সারা দেশে এতিমখানা, মসজিদ এবং মাদ্রাসাগুরোতে ৩০ হাজার টন লবণ সরবরাহ করেছে।
এই সংরক্ষণ প্রক্রিয়া স্থানীয়ভাবে দুই থেকে তিন মাস ধরে কাঁচা চামড়া ব্যবহারের উপযোগী রাখবে বলে আশা করা হচ্ছে।
৪২০ দিন আগে
সময় গড়াচ্ছে, তবুও ছুরি-চাপাতির দোকানে নেই ক্রেতা
কোরবানির ঈদ মানেই মাংস কাটার ব্যস্ততা, আর সেই প্রস্তুতির অংশ হিসেবে রাজধানীর কামারশালাগুলোতে ছুরি, চাপাতি, বঁটি, দা এবং খাইট্টা তৈরির ধুম পড়েছে। তবে, দোকানগুলো ভুগছে ক্রেতা সংকটে।
রাজধানীর কারওয়ান বাজারের কামারশালাগুলো ঘুরে দেখা যায়, মাংস কাটার যন্ত্রপাতিতে ঠাসা একেকটি দোকান।
ছুরি-চাপাতি-বটি-দা থেকে শুরু করে চাইনিজ কুড়াল এবং মাংস কাটার জন্য ব্যবহৃত গাছের গুঁড়ি—সবই সাজিয়ে রাখা হয়েছে। এই গুঁড়িকেই স্থানীয়ভাবে বলা হয় ‘খাইট্টা’। কিন্তু দোকানিদের দাবি, সরঞ্জাম যতই থাকুক, এখনো তেমন বিক্রি শুরু হয়নি। কোরবানির একদিন বাকি থাকলেও ক্রেতার আনাগোনা কম।
জেরিন হার্ডওয়ারের মালিক মো. জুয়েল জানান, ছোট থেকে মাঝারি আকারের ছুরি ১৫০ থেকে ৬০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। লোহার চাপাতি প্রতি কেজি ৮০০ টাকা, দেশি কুড়াল ১০০০ টাকা ও চাইনিজ কুড়াল ৭০০-৮০০ টাকায় বিক্রি করা হচ্ছে।
এদিকে, ভোলা সদরের কামারশালায় দেখা যায়, সেখানেও ইস্পাত দিয়ে তৈরি হচ্ছে ছুরি-চাপাতি-বটি। দোকান মালিক মুহিম জানান, ‘আমাদের এখানে দেশি ইস্পাতের যন্ত্রপাতিই বেশি চলে। চাইনিজ পণ্যে ফলমূল কাটা যায়, কিন্তু মাংস কাটতে সুবিধা হয় না।’
তিনি বলেন, ইস্পাতের তৈরি সরঞ্জামের দাম নির্ধারিত হয় কেজি হিসেবে, প্রতি কেজি ৮০০ টাকা হারে বিক্রি করছেন তারা।
এছাড়া, দোকানগুলোতে বিভিন্ন সাইজের খাইট্টাও পাওয়া যাচ্ছে।
বিক্রেতা মো. শামীম জানান, ছোট সাইজের দাম ৩০০ টাকা, মাঝারি ৪০০ টাকা এবং বড়টির দাম ৫০০ টাকা। সবগুলোই তেতুল কাঠ দিয়ে তৈরি বলে জানান তিনি।
তবুও এবারের বাজারটা যেন চুপচাপ। কোরবানির আগের যেই চেনা ব্যস্ততা, সেটা এবার তেমন নেই। ছুরি-চাপাতি বিক্রি হচ্ছে না, গাছের গুঁড়ি পড়ে আছে যেমন তেমন, কামাররাও আছেন দুচিন্তায়।
তারা সব রকম প্রস্তুতি নিয়ে বসে আছেন—আগুন জ্বালানো, লোহা গরম করা, ঘাম ঝরিয়ে তৈরি করা সব যন্ত্র। আশানরূপ ক্রেতারা এখনো দোকানে আসছেন না।
৪২৩ দিন আগে
ঈদের আগে উত্থান দিয়ে শেষ হলো পুঁজিবাজারের লেনদেন
ঈদের ছুটির আগে পুঁজিবাজারের শেষ কার্যদিবসের লেনদেনে সূচক বেড়েছে ঢাকা এবং চট্টগ্রামে, উর্ধ্বমুখী বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ার।
সারাদিনের লেনদেনে ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের প্রধান সূচক ডিএসইএক্স বেড়েছে ৪৪ পয়েন্ট। বাকি দুই সূচক শরীয়াভিত্তিক ডিএসইএস ১১ এবং বাছাই করা কোম্পানির ব্লু-চিপ সূচক ডিএস-৩০ বেড়েছে ১৬ পয়েন্ট।
লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৯৬ কোম্পানির মধ্যে ২৭৭ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৫৫ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৬৪ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
এ, বি এবং জেড- তিন ক্যাটাগরিতেই বেশিরভাগ কোম্পানির শেয়ারের দাম বেড়েছে। বিশেষ করে লভ্যাংশ দেওয়া ভালো কোম্পানির এ ক্যাটাগরিতে ২১৮ কোম্পানির মধ্যে ১৬০ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ২৮ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৩০ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
ডিএসই ব্লক মার্কেটে ৩২ কোম্পানির ১৫ কোটি ৮০ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি হয়েছে। লাভেলো সর্বোচ্চ ৮ কোটি ৪০ লাখ টাকার শেয়ার বিক্রি করেছে।
ডিএসইতে সারাদিনে ২২৪ কোটি টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গতদিন ছিল ২২৯ কোটি টাকা।
৯.৬৩ শতাংশ দাম বেড়ে ডিএসইতে শীর্ষে সোনারগাঁও টেক্সটাইলস এবং ৭.৬৯ শতাংশ দাম কমে তলানিতে নর্দান জুট ম্যানুফেকচারিং কোম্পানি।
আরও পড়ুন: সূচকের উত্থানে লেনদেন চলছে পুঁজিবাজারে
চট্টগ্রামেও উত্থান
সূচক বেড়েছে চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই)। সারাদিনের লেনদেনে সার্বিক সূচক বেড়েছে ৪৮ পয়েন্ট।
লেনদেন হওয়া ১৬৯ কোম্পানির মধ্যে ৮৪ কোম্পানির দরবৃদ্ধির বিপরীতে দর কমেছে ৫৪ কোম্পানির এবং অপরিবর্তিত আছে ৩১ কোম্পানির শেয়ারের দাম।
সিএসইতে মোট ১০ কোটি ১২ লাখ টাকার শেয়ার এবং ইউনিট লেনদেন হয়েছে, যা গতদিন ছিল ৯ কোটি ৯০ লাখ টাকা।
৯.৮৩ শতাংশ দাম বেড়ে সিএসইতে শীর্ষে সোনালি লাইফ ইনস্যুরেন্স এবং ৯ শতাংশের ওপর দর হারিয়ে তলানিতে প্যারামাউন্ট ইনস্যুরেন্স।
প্রসঙ্গত, ৭ জুন ঈদুল আযহা সামনে রেখে আগামীকাল থেকে ১৪ জুন পর্যন্ত ১০ দিন বন্ধ থাকবে দেশের দুই পুঁজিবাজারের সব ধরণের লেনদেন। ১৫ জুন আগের সময়সূচি অনুযায়ী লেনদেন শুরু হবে বাজারে।
৪২৫ দিন আগে
সূচকের উত্থানে লেনদেন চলছে পুঁজিবাজারে
সপ্তাহের চতুর্থ কার্যদিবসে সূচকের উত্থানে লেনদেন চলছে দেশের দুই পুঁজিবাজারে। লেনদেনের শুরুতে অধিকাংশ কোম্পানির শেয়ারদর বেড়েছে।
ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জে (ডিএসই) প্রধান সূচক ডিএসইএক্স ২৫ পয়েন্ট বেড়ে অবস্থান করছে ৫ হাজার ৪৬৭ পয়েন্টে। শরিয়াভিত্তিক সূচক ডিএসইএস বেড়েছে ৫ পয়েন্ট এবং ব্লু-চিপ সূচক ডিএস৩০ বেড়েছে ১০ পয়েন্ট।
ডিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৩৭৭ কোম্পানির মধ্যে ২২৯টির দর বেড়েছে, ৬২টির কমেছে এবং ৮৬টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে।
আরও পড়ুন: পতনের মুখে ঢাকার পুঁজিবাজার, চট্টগ্রামে সামান্য উত্থান
প্রথম দুই ঘণ্টায় ডিএসইতে লেনদেন হয়েছে ৭৫ কোটি টাকার বেশি।
এদিকে, চট্টগ্রাম স্টক এক্সচেঞ্জেও (সিএসই) সার্বিক সূচক বেড়েছে ২৯ পয়েন্ট।
সিএসইতে লেনদেনে অংশ নেওয়া ৭৭ কোম্পানির মধ্যে ৩১টির দর বেড়েছে, ২৯টির কমেছে এবং ১৭টির দর অপরিবর্তিত রয়েছে। প্রথমার্ধে সিএসইতে ৩ কোটি টাকার বেশি লেনদেন হয়েছে।
৪২৫ দিন আগে