খেলাধুলা
এমবাপ্পের হ্যাটট্রিকে বিধ্বস্ত সিটি, শেষ ষোলোয় রিয়াল
৩-২ গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় লেগ খেলতে নেমেছিল ম্যানচেস্টার সিটি। ফলে ঘুরে দাঁড়িয়ে জিতে নকআউট পর্ব নিশ্চিত করতে যে আক্রমণাত্মক মনোভাব ও নিয়ন্ত্রিত ফুটবল খেলার প্রয়োজন ছিল দলটির, তার কিছুই দেখাতে পারেনি তারা। উল্টো দুর্দান্ত রিয়াল মাদ্রিদের কাছে নাকানি-চুবানি খেয়ে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে গার্দিওলার শিষ্যদের।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) রাতে সান্তিয়াগো বের্নাবেউতে চ্যাম্পিয়ন্স লিগের দ্বিতীয় লেগে সিটিকে ৩-১ গোলে হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এর ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৬-৩ গোলের বিশাল ব্যবধানে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
এদিন ম্যাচের সবটুকু আলো কেড়ে নিয়েছেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। রিয়ালের তিনটি গোলের সবগুলোই এসেছে তার পা থেকে। অপ্রতিরোধ্য এমবাপ্পেকে ঠেকাতেই সবটুকু শক্তি নিঃশেষ হয়ে যায় সিটির খেলোয়াড়দের। আর ভিনিসিউস, রদ্রিগো, বেলিংহ্যাম ও ফেদেরিকো ভালভের্দেদের যৌথ আক্রমণে দিশেহারা হয়ে দুস্বপ্নের মতো এক রাত পার করেছে ম্যানচেস্টারের দলটি।
আরও পড়ুন: ডেভিসের শেষ মুহূর্তের গোলে সেল্টিকের হৃদয় ভাঙল বায়ার্ন
গোল দিয়েই কার্যত ম্যাচটি শুরু করে রিয়াল মাদ্রিদ। চতুর্থ মিনিটে নিজেদের ডি-বক্সের সামান্য উপর থেকে ডিফেন্ডার রাউল আসেন্সিওর দুর্দান্ত এক উড়ন্ত লং পাস ধরে সিটির ডিফেন্স ভেঙে ঠিকানা খুঁজে নেন এমবাপ্পে।
আক্রমণের ধারা অব্যাহত রেখে ৩৩তম মিনিটে আরও একটি দর্শনীয় গোল করে দলকে তিন গোলের লিড এনে দেন তিনি। এবারের গোলটির মূল কারিগর ছিলেন রদ্রিগো। সিটির বক্সে ঢোকার মুখে প্রতিপক্ষের ডিফেন্ডারদের মাঝ দিয়ে এমবাপ্পেকে পাস দেন তিনি, আর তা থেকে ব্যবধান বাড়াতে মোটেও কষ্ট হয়নি ফরাসি তারকার।
অসুস্থতার কারণে বেঞ্চে থাকা কেভিন ডি ব্রুইনে ও আর্লিং হালান্ডের অুনপস্থিতিতে এদিন বলের ওপর একেবারেই নিয়ন্ত্রণ হারায় সিটি। প্রথমার্ধে গোলে শট নেওয়া তো দূরের কথা, তেমন কোনো আক্রমণই শানাতে পারেনি তারা। সেইসঙ্গে দুর্দান্ত রিয়ালের ক্রমাগত চাপে বলের ওপর নিয়ন্ত্রণ ধরে রাখতেও যথেষ্ট বেগ পেতে হচ্ছিল তাদের।
আরও পড়ুন: প্লে-অফে ফের অঘটন, এবার ইউভেন্তুসের বিদায়
৫৩০ দিন আগে
দুই সেঞ্চুরিতে পাকিস্তানের সামনে নিউজিল্যান্ডের রানপাহাড়
অষ্টম ও নবম ওভারে দুই রানের মধ্যে নিউজিল্যান্ডের দুই উইকেট তুলে নিয়ে ভালো বোলিংয়ের ইঙ্গিত দিয়েছিল পাকিস্তান। তবে সময় অতিবাহিত হওয়ার সঙ্গে সঙ্গে সেই ইঙ্গিত আর জোরালো হয়ে বাস্তবে ধরা দেয়নি, বরং কিউই ব্যাটারদের কাছে নাকানিচুবানি খেয়ে খরুচে এক ইনিংস শেষ করেছে স্বাগতিকরা।
বুধবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) আইসিসি চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফির উদ্বোধনী ম্যাচে টস হেরে শুরুতে ব্যাট করে পাঁচ উইকেট হারিয়ে পাকিস্তানকে ৩২১ রানের বিশাল লক্ষ্য দিয়েছে নিউজিল্যান্ড।
এই ম্যাচে রাচিন রবীন্দ্রর চোটে একাদশে ডাক পেয়েই ওপেনিংয়ে নেমে সেঞ্চুরি করেছেন উইল ইয়াং। ১১৩ বলে একটি ছক্কা ও ১২ চারে ১০৭ রান করে ফেরেন তিনি।
এরপর উইকেটরক্ষক-ব্যাটার টম ল্যাথামের ব্যাট থেকে আসে ইনিংস-সর্বোচ্চ অপরাজিত ১১৮ রান। ১০৪ বলে তিনটি ছক্কা ও ১০ চারে এই রান করেছেন তিনি। এছাড়া,৩৯ বলে চারটি ছক্কা ও তিনটি চারে ৬১ রানের ক্যামিও ইনিংস খেলেন গ্লেন ফিলিপস।
এদিন টস জিতে বোলিংয়ের সিদ্ধান্ত নিলেও প্রথম উইকেটের জন্য অষ্টম ওভার পর্যন্ত অপেক্ষা করতে হয় পাকিস্তানকে। ওভারের তৃতীয় বলে আবরার আহমেদের ডেলিভারিতে বোল্ড হয়ে ১০ রান করে ফেরেন ডেভন কনওয়ে। পরের ওভারেই আরেকটি সাফল্য পায় পাকিস্তান। এবার নাসিম শাহের বলে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ২ বলে ১ রান করে ফেরেন কেইন উইলিয়ামসন।
এরপর ডেরিল মিচেলকে সঙ্গে নিয়ে উইকেটের পতন ঠেকানোর চেষ্টা করেন ইয়াং। তাতে খানিকটা সফলও হন তিনি। তবে সপ্তদশ ওভারের দ্বিতীয় বলে ২৪ বলে ১০ রান করে মিচেলও ফিরে গেলে ল্যাথামের সঙ্গে বড় সংগ্রহের পথে এগোন ওপেনার ইয়াং।
নিজের সেঞ্চুরি পূর্ণ করার পর ১১৮ রানের জুটি গড়ে ইয়াং যথন ফিরে যান, তখন তিন উইকেটে ৭৩ রান থেকে নিউজিল্যান্ডের সংগ্রহ চার উইকেটে ১৯১।
২০৭ রান নিয়ে শেষ দশ ওভারে প্রবেশ করে কিউইরা। এরপর রানের চাকার গতি বাড়িয়ে ৯৫ বলে সেঞ্চুরি তুলে নেন ল্যাথাম। তারপর ৩৪ বলে ফিফটি তুলে নিয়ে আরও বড় সংগ্রহের দিকে ছোটেন ফিলিপসও। তবে যখন মনে হচ্ছিল, এই দুই ব্যাটারের ব্যাটে ভর করেই ইনিংস উৎরে যাবে নিউজিল্যান্ড, ঠিক তখনই স্কুপ করতে গিয়ে শর্ট থার্ডম্যান অঞ্চলে ধরা পড়েন ফিলিপস।
ইনিংসের তখন আর দুই বল বাকি। এ সময় ব্যাটিংয়ে নেমে একটি লেগ বাই রান নিয়ে ল্যাথামকে স্ট্রাইক দেন মিচেল ব্রেসওয়েল, আর শেষ বলে তিন রান নিয়ে ৩২০ রানে ইনিংস শেষ করেন কিউই উইকেটরক্ষক।
সংক্ষিপ্ত স্কোর
নিউজিল্যান্ড: ৩২০/৫ (ল্যাথাম ১১৮*, ইয়াং ১০৭, ফিলিপস ৬১; নাসিম শাহ ২/৬৩, হারিস রউফ ২/৮৩, আবরার আহমেদ ১/৪৭)।
৫৩০ দিন আগে
ডেভিসের শেষ মুহূর্তের গোলে সেল্টিকের হৃদয় ভাঙল বায়ার্ন
এক গোলে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় লেগ শুরু করলেও প্রথমে গোল করে পরের রাউন্ডে ওঠার স্বপ্ন দেখেছিল সেল্টিক। তবে একেবারে শেষ মুহূর্তে গোল খেয়ে বায়ার্ন মিউনিখকে তাদের মাঠেই হারানোর স্বপ্ন ধূলিস্যাৎ হয়ে গেছে স্কটিশ ক্লাবটির। সেইসঙ্গে তাদের শেষ ষোলোয় ওঠার স্বপ্নও ডুবেছে হতাশার অন্ধকারে।
মিউনিখের আলিয়ান্স আরেনায় চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্রথম পর্বের প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগে সেল্টিকের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করেছে বায়ার্ন।
এর ফলে দুই লেগ মিলিয়ে ৩-২ অগ্রগামিতায় পরের ধাপে উঠেছে বাভারিয়ানরা। গত সপ্তাহে স্কটিশ দলটির মাঠে ২-১ গোলে জিতেছিল ভিনসেন্ট কোম্পানির শিষ্যরা।
এদিন জমাট রক্ষণে ম্যাচের প্রথমার্ধে ব্রেন্ডন রজার্সের পরিকল্পনা বাস্তবায়ন করতে সক্ষম হয় তার শিষ্যরা। এর ফলও পায় তারা। ৬৫ শতাংশ সময় বলের নিয়ন্ত্রণ রেখে ৭টি শট নিলেও লক্ষ্যভেদ করতে পারে না বায়ার্ন, অর্থাৎ প্রথমার্ধে স্বাগতিকদের আটকে রাখতে সমর্থ হয় সেল্টিক।
একই পরিকল্পনা ধরে রেখে দ্বিতীয়ার্ধেও বেশ খানিকক্ষণ বায়ার্নকে আটকে রাখে দলটি। এরপর ৬৩তম মিনিটে গোল পেয়ে অগ্রগামিতায় ২-২ সমতা টেনে বায়ার্নকে হারানোর স্বপ্ন দেখতে শুরু করে সেল্টিক।
তবে গোল দেওয়ার পর বায়ার্নের আক্রমণের তোড়ে সেল্টিকের দুই লাইনের ডিফেন্স ভেঙে চুরমার হওয়ার উপক্রম হয়। তারপরও নির্ধারিত সময়, এমনকি যোগ করা চার মিনিটের প্রায় সবটুকুই কেইন-মুসিয়ালাদের আটকে রেখে ম্যাচটি অতিরিক্ত সময়ে নেওয়ার দ্বারপ্রান্তে ছিল স্কটিশরা। তবে ম্যাচ শেষ হওয়ার ঠিক আগে বায়ার্নের ২৩তম শটটি আর ফেরাতে পারেনি সেল্টিক।
এ সময় লিওন গোরেটস্কার শট আটকে দিলেও দলকে বিপদমুক্ত করতে পারেননি সেল্টিক গোলরক্ষক কাস্পার স্মাইকেল। ফিরতি বল তাদের একজন ক্লিয়ার করার চেষ্টা করেন, তবে সেখানে ছুটে যাওয়া ডেভিসের পায়ে লেগে বল গোললাইন পেরিয়ে যায়।
শেষ মুহূর্তের গোলে উল্লাসে ফেটে পড়ে আলিয়ান্স আরেনা। আর ভগ্ন হৃদয় নিয়ে মাঠ ছাড়তে হয় ১৯৬৬-৬৭ মৌসুমের তৎকালীন ইউরোপীয় কাপ জয়ীদের।
এদিকে, দিনের প্রথম ম্যাচে চমক দেখিয়েছে ডাচ ক্লাব ফেয়েনুর্ড। প্রথম লেগে ১-০ গোলে স্মরণীয় জয়ের পর দ্বিতীয় লেগ সান সিরোতে এসি মিলানের সঙ্গে ১-১ গোলে ড্র করে ২-১ অগ্রগামিতায় শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে দলটি। আর এতে করে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে মিলানকে।
আরও পড়ুন: এসি মিলানকে প্লে-অফ থেকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় ফেয়েনুর্ড
এছাড়া, আসরের শুরুর কয়েক ম্যাচ অপরাজিত থেকে দীর্ঘ এক যাত্রার ইঙ্গিত দিলেও প্রথমে শুরুর আট দল থেকে ছিটকে যাওয়া এবং তারপর প্লে-অফে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ ব্যবধানে হেরে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে গাস্পেরিনির আতালান্তাকে। একই সঙ্গে প্রথম লেগে ২-১ গোলে জেতার পর দ্বিতীয় লেগেও দুর্দান্ত ৩-১ গোলের জয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে ক্লাব ব্রুজ।
অপর ম্যাচে মোড়ের পর মোড় ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩-৩ গোলের ড্রয়ে শেষ হয়েছে বেনফিকা ও মোনাকোর মধ্যকার দ্বিতীয় লেগ। তবে প্রথম লেগে মোনাকোর মাঠ থেকে ১-০ গোলে জিতে থাকায় ৪-৩ অগ্রগামিতায় শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বেনফিকাই।
এর ফলে শেষ ষোলোর ১২ দল নিশ্চিত হয়েছে। বুধবার রাতে অবশিষ্ট চার ম্যাচ থেকে বাকি চার দল চূড়ান্ত হবে। এই দিনের সবচেয়ে বড় আর্ষণ থাকবে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যকার লড়াই।
৫৩১ দিন আগে
এসি মিলানকে প্লে-অফ থেকে বিদায় করে শেষ ষোলোয় ফেয়েনুর্ড
১৯৬৯-৭০ মৌসুমের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের সেই অবিস্মরণীয় ফাইনালের কথা এখনও মনে আছে কারও কারও। সেবারের দুই লেগের ফাইনালে প্রথমে ঘরের মাঠে ২-০ গোলে জিতে সান সিরোতে এসি মিলানের বিপক্ষে দ্বিতীয় লেগ খেলতে গিয়েছিল ফেয়েনুর্ড। এরপর মিলানের বিপক্ষে তাদের মাঠেই ১-১ গোলে ড্র করে নিজেদের প্রথম চ্যাম্পিয়ন্স লিগ শিরোপা উঁচিয়ে ধরেছিল ডাচ ক্লাবটি। ৫৫ বছর পর সেই সান সিরোতে মিলানের বিপক্ষেই আরও একবার সুখস্মৃতি ফিরিয়েছে তারা।
মঙ্গলবার (১৮ ফেব্রুয়ারি) নতুন ফরমেটের চ্যাম্পিয়ন্স লিগের প্লে-অফের দ্বিতীয় লেগে মিলানের ঘরের মাঠে ১-১ গোলে ড্র করেছে ফেয়েনুর্ড। প্রথম লেগে নিজেদের মাঠে ১-০ গোলে এগিয়ে থাকায় ২-১ অগ্রগামিতায় আরও একবার শেষ ষোলোয় উঠেছে দলটি।
এদিন ম্যাচ শুরু হতে না হতেই দুই সপ্তাহ আগে এই ফেয়েনুর্ড থেকেই মিলানে যোগ দেওয়া মেক্সিকান স্ট্রাইকার সান্তিয়াগো হিমেনেসের গোলে অগ্রগামিতায় সমতা টানে মিলান। এমনকি ম্যাচের প্রথম পঞ্চাশ মিনিটে জিতে শেষ ষোলো নিশ্চিতের আভাসও দেয় তারা একাধিকবার। তবে ৫১তম মিনিটে থেও এরনান্দেসের দ্বিতীয় হলুদ কার্ড দেখে মাঠ ছাড়ার ঘটনা সবকিছু ওলট-পালট করে দেয়। একটি হলুদ কার্ডের খড়গ মাথায় নিয়েও শুধু শুধু ডাইভ দিয়ে ফাউল আদায়ের চেষ্টা করতে গিয়ে অতি চালাকির শাস্তি পেতে হয় এই উইংব্যাকের।
অন্যদিকে, একজন বেশি নিয়ে খেলার সুযোগ কাজে লাগিয়ে ৭৩তম মিনিটে হুলিয়ান কারান্সার গোলে মিলানকে বিদায় করে ২৫ বছর পর ফের ইউরোপের এলিট দলগুলোর সেরা ১৬-তে স্থান করে নিয়েছে ফেয়েনুর্ড।
এর আগে, ১৯৯৯-২০০০ মৌসুমে সবশেষ শেষ ষোলোতে উঠতে সক্ষম হয় ডাচ দলটি। সেবার শেষ ষোলোতে চেলসিকে হারিয়ে কোয়ার্টার ফাইনালেও ওঠে তারা। তবে সেখানে বার্সেলোনার কাছে হেরে থামে তাদের চ্যাম্পিয়ন্স লিগ অভিযান।
অপরদিকে, গত এক দশকে মাত্র একবার গ্রুপ পর্ব অতিক্রম করতে পেরেছে মিলান। সেটিও ২০২২-২৩ মৌসুমে। সেবার সেমিফাইনালে নগর প্রতিদ্বন্দ্বী ইন্টারের কাছে অগ্রগামিতায় ৩-০ গোলে হেরে ফাইনালের স্বপ্নভঙ্গ হয় তাদের।
দিনের অপর ম্যাচে ম্যাচের একেবারে শেষ মুহূর্তে আলফন্সো ডেভিসের গোলে সেল্টিককে কাঁদিয়ে শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বায়ার্ন মিউনিখ।
আরও পড়ুন: ডেভিসের শেষ মুহূর্তের গোলে সেল্টিকের হৃদয় ভেঙে শেষ ষোলোয় বায়ার্ন
আসরের শুরুর কয়েক ম্যাচ অপরাজিত থেকে দীর্ঘ এক যাত্রার ইঙ্গিত দিলেও প্রথমে শুরুর আট দল থেকে ছিটকে যাওয়া এবং তারপর প্লে-অফে দুই লেগ মিলিয়ে ৫-২ ব্যবধানে হেরে প্রথম পর্ব থেকেই বিদায় নিতে হয়েছে গাস্পেরিনির আতালান্তাকে। একইসঙ্গে প্রথম লেগে ২-১ গোলে জেতার পর দ্বিতীয় লেগেও দুর্দান্ত ৩-১ গোলের জয়ে শেষ ষোলোয় উঠেছে ক্লাব ব্রুজ।
এছাড়া ম্যাচের মোড়ের পর মোড় ঘুরিয়ে শেষ পর্যন্ত ৩-৩ গোলের ড্রয়ে শেষ হয়েছে বেনফিকা ও মোনাকোর মধ্যকার দ্বিতীয় লেগ। তবে প্রথম লেগে মোনাকোর মাঠ থেকে ১-০ গোলে জিতে থাকায় ৪-৩ অগ্রগামিতায় শেষমেষ শেষ ষোলো নিশ্চিত করেছে বেনফিকাই।
এর ফলে শেষ ষোলোর ১২ দল নিশ্চিত হয়েছে। বুধবার রাতে অবশিষ্ট চার ম্যাচ থেকে বাকি চার দল চূড়ান্ত হবে। এই দিনের সবচেয়ে বড় আর্ষণ থাকবে রিয়াল মাদ্রিদ ও ম্যানচেস্টার সিটির মধ্যকার লড়াই।
৫৩১ দিন আগে
রেফারিং নিয়ে ফের বিতর্ক, তবে জিতে দুই মাদ্রিদকে টপকে শীর্ষে বার্সেলোনা
রেফারিদের আলোচনার কেন্দ্রে রেখে একটি সপ্তাহ শেষ করল লা লিগা। প্রথমে রিয়াল মাদ্রিদ ম্যাচে বিতর্কিত লাল কার্ড দেওয়া ও রিয়ালের জয়বঞ্চিত থাকা, এরপর আতলেতিকো মাদ্রিদ ম্যাচে শুরুতেই লাল কার্ড দেওয়ায় দশজন নিয়ে খেলে তাদের কোনোমতে হার এড়ানোর মতো ঘটনার পর রায়ো ভায়েকানোর একটি গোল অফসাইডে বাতিল করে বার্সেলোনার ড্রয়ের সম্ভাবনাকে জয়ে পরিণত করার মধ্য দিয়ে শেষ হলো সপ্তাহ।
সোমবার (১৭ ফেব্রুয়ারি) রাতে বার্সেলোনার অলিম্পিক স্টেডিয়ামে ১-০ গোলে হেরেছে রায়ো ভায়েকানো।
পেনাল্টি থেকে ম্যাচের একমাত্র গোলটি করে এদিন বার্সাকে জিতিয়েছেন রবের্ট লেভানডোভস্কি।
এই জয়ে এক সপ্তাহের ব্যবধানে পয়েন্ট টেবিলের শীর্ষ তিন স্থান ওলট-পালট হয়ে গেছে।
লিগের ২৪তম রাউন্ডে মাদ্রিদের দুই দল ড্র করে দুই পয়েন্ট করে হারানোর সুযোগ কাজে লাগিয়ে তিন নম্বর থেকে ফের পয়েন্ট টেবিলের চূড়ায় উঠে গেছে বার্সেলোনা।
আরও পড়ুন: ওসাসুনায় ড্র, শীর্ষস্থান থেকে তিনে নেমে যাওয়ার শঙ্কায় রিয়াল মাদ্রিদ
২৪ ম্যাচে ১৬ জয় ও ৩ ড্রয়ে দলটির পয়েন্ট ৫১। সমান ম্যাচে ১৫ জয় ও ৬ ড্রয়ে সমান পয়েন্ট নিয়েও বার্সার চেয়ে গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় শীর্ষস্থান থেকে দুইয়ে নেমে গেছে রিয়াল মাদ্রিদ। আর ১৪ জয় ও ৮ ড্রয়ে ৫০ পয়েন্ট নিয়ে দুই থেকে তিনে অবনমন হয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদের।
এতে করে লিগের শীর্ষ তিন দলের পয়েন্ট ব্যবধান ৩ থেকে কমে দাঁড়িয়েছে ১-এ। ফলে মৌসুমের দ্বিতীয়ার্ধে এসে জমে গেছে শিরোপার লড়াই।
এদিন একটির বেশি গোল করতে না পারলেও ম্যাচে পরিষ্কার ফেবারিট ছিল কাতালানরাই। ম্যাচজুড়ে ৬০ শতাংশ সময় বলের দখল রেখে গোলের উদ্দেশে মোট ১৪টি শট নিয়ে তার পাঁচটি লক্ষ্যে রাখে হান্সি ফ্লিকের শিষ্যরা। অপরদিকে, রায়োর আটটি শটের চারটি লক্ষ্যে ছিল।
৫৩২ দিন আগে
ইউনাইটেডকে হারিয়ে ৩৫ বছর আগের স্মৃতি ফেরাল টটেনহ্যাম
জয়ের বিকল্প ছিল না চলতি মৌসুমে ভুগতে থাকা দুই দলেরই, তবে শেষমেষ জয় তুলে নিয়ে কোনোরকমে চাকরি বাঁচিয়েছেন আগ্নে পোস্তেকোগ্লু।
বলছি, টটেনহ্যাম হটস্পার ও ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের কথা। টানা ব্যর্থতায় প্রিমিয়ার লিগের বড় দল হিসেবে খ্যাতিমান ক্লাবদুটির অবস্থা এ মৌসুমে বিপর্যয়কর। বারবার কোচ পরিবর্তন করেও ফল পাচ্ছে না ইউনাইটেড। এর মধ্যে আবার হটস্পারদের কাছে হেরে বসল তারা।
রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) প্রিমিয়ার লিগে ২৫তম রাউন্ডের ম্যাচটি ১-০ গোলে হেরেছে রুবেন আমোরিমের শিষ্যরা।
চোট কাটিয়ে প্রায় এক মাস পর আজ টটেনহ্যামের শুরুর একাদশে থেকে খেলতে নামেন জেমস ম্যাডিসন। আর নেমেই জয়সূচক গোলটি করে নায়ক বনে গেছেন তিনি।
এই ম্যাচের আগে চোটের কারণে একাদশ সাজানোই কঠিন হয়ে পড়ে ইউনাইটেডের জন্য। যুবা দল থেকে ৮ খেলোয়াড়কে বেঞ্চে রেখে শিষ্যদের খেলতে পাঠান আমোরিম।
তবে ম্যাচের ত্রয়োদশ মিনিটেই টটেনহ্যামকে এগিয়ে নেন ম্যাডিসন। বক্সের ভেতর থেকে লুকাস বার্গভালের শট ইউনাইটেড গোলরক্ষক আন্দ্রে ওনানা ঠেকালেও দলকে বিপদমুক্ত করতে পারেননি তিনি। এরপর কাছ থেকে বল জালে জড়িয়ে দেন ২৮ বছর বয়সী ইংলিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
এর আগে-পরে বেশ কয়েকটি সুযোগ পেয়েছিল ম্যানচেস্টার ইউনাইটেডের খেলোয়াড়রা, সুযোগ পেয়েছিল টটেনহ্যামও; তবে কেউই আর লক্ষ্যভেদ করতে না পারলে ১-০ গোলেই শেষ হয় ম্যাচ।
আরও পড়ুন: উলভসকে হারিয়ে ফের ব্যবধান বাড়িয়ে নিল লিভারপুল
এই জয়ের ফলে লিগে চলতি মৌসুমে ইউনাইটেডের বিপক্ষে দুই লেগই জিতল টটেনহ্যাম। সবশেষ ১৯৮৯-৯০ মৌসুমে এই কীর্তি গড়েছিল উত্তর লন্ডনের দলটি।
এছাড়া চলতি মৌসুমে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে তিনবার ইউনাইটেডের মুখোমুখি হয়ে সবগুলো ম্যাচই জিতল পোস্তেকোগ্লুর শিষ্যরা। ডিসেম্বরে লিগ কাপের কোয়ার্টার-ফাইনালে ইউনাইটেডকে ৪-৩ গোলে হারিয়ছিল তারা।
এ নিয়ে ব্যর্থতার বৃত্তে ঘুরপাক খাওয়া ইউনাইটেড টানা দুটিসহ লিগে সবশেষ ১২ ম্যাচের ৮টিতেই পেল হারের তেতো স্বাদ (৩ জয়, ১ ড্র)।
এছাড়া লিগে প্রথম ২৫ ম্যাচের ১২টিই হেরেছে দলটি, যা ক্লাবের ইতিহাসে প্রথম এমন ব্যর্থতার ঘটনা। ২৫ ম্যাচের মধ্যে মাত্র ৮টি জিততে পেরেছে তারা; সেটিও ক্লাবের ইতিহাসে সর্বনিম্ন জয়ের রেকর্ড।
অন্যদিকে, টটেনহ্যামের সময়টাও ভালো কাটছে না। এই জয়ের আগে লিগে সবশেষ ১১ ম্যাচের ৮টিই হারে তারা। কেবল ঘরের মাঠেই সাড়ে তিন মাস (১০৫ দিন) পর পেল জয়ের দেখা।
আরও পড়ুন: সিটিকে বিধ্বস্ত করে লিভারপুলের ওপর চাপ অব্যাহত রাখল আর্সেনাল
অবশ্য, ২৫ ম্যাচে ৯ জয় ও ৩ ড্রয়ে ৩০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের ১২তম স্থানে উঠে এসেছে টটেনহ্যাম। সমান ম্যাচে ২৯ পয়েন্ট নিয়ে ১৫তম স্থানে নেমে গেছে ইউনাইটেড।
২৫ ম্যাচে ৬০ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের চূড়ায় রয়েছে লিভারপুল; দিনের অপর ম্যাচে উলভারহ্যাম্পটনকে ২-১ গোলে হারিয়েছে তারা। ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে আর্সেনালের অবস্থান দ্বিতীয়।
৫৩৩ দিন আগে
উলভসকে হারিয়ে ফের ব্যবধান বাড়িয়ে নিল লিভারপুল
চোটজর্জর দল নিয়েও লেস্টার সিটির বিপক্ষে জিতে লিভারপুলের সঙ্গে পয়েন্ট ব্যবধান কমিয়ে চারে নিয়ে এসেছিল আর্সেনাল। তবে নিজেদের ম্যাচটি জিতে সেই ব্যবধান আবারও সাতে নিয়ে গেছে লিভারপুল।
প্রিমিয়ার লিগের ২৫তম রাউন্ডের ম্যাচে রবিবার (১৬ ফেব্রুয়ারি) অ্যানফিল্ডে উলভারহ্যাম্পটন ওয়ান্ডারার্সকে ২-১ গোলে হারিয়েছে আর্নে স্লটের শিষ্যরা।
ম্যাচের প্রথমার্ধে লুইস দিয়াস ও মোহাম্মদ সালাহর দুই গোলে এগিয়ে যায় লিভারপুল। এরপর দ্বিতীয়ার্ধে একটি গোল শোধ করেন উলভসের মাথেউস কুনিয়া।
এদিন ম্যাচের শুরু থেকেই উলভসকে চেপে ধরে লিভারপুল। একের পর এক আক্রমণ শানাতে থাকে তারা। তবে বারবার তাদের আক্রমণগুলো কাটা পড়ছিল উলভারহ্যাম্পটনের জমাট রক্ষণে। এভাবে মিনিট পনেরো চলার পর আর পেরে ওঠেনি ভিতর পেরেইরার শিষ্যরা। পঞ্চদশ মিনিট পড়তেই লুইস দিয়াসের গোলে এগিয়ে যায় অল রেডরা।
এ সময় দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণে উঠে বাঁ পাশ থেকে বিপরীত দিক দিয়ে সঙ্গ দিতে দিতে এগোতে থাকা সালাহকে পাস দেন দিয়াস। এরপর বল নিয়ে সালাহ প্রতিপক্ষের বক্সে ঢুকে পেনাল্টি স্পটের কাছাকাছি থাকা দিয়োগো জোতার উদ্দেশে ক্রস দেন। তবে প্রতিপক্ষ ডিফেন্ডারের গায়ে লেগে তা চলে যায় বক্সের মধ্যেই বাঁ দিকে থাকা দিয়াসের কাছে। আর শরীর দিয়ে বলের নিয়ন্ত্রণ নিতে নিতে তিনি গোলপোস্টের ভেতর ঢুকে যান।
আরও পড়ুন: মেরিনোর জোড়া গোলে ব্যবধান কমাল আর্সেনাল
২২তম মিনিটে দুর্দান্ত জোতা-সালাহয় দ্বিতীয় গোলটি পেয়েই গিয়েছিল লিভারপুল, তবে কোনোমতে তাদের আটকে ব্যবধান বাড়তে দেননি উলভসের ডিফেন্ডাররা।
আক্রমণ অব্যাহত রেখে ম্যাচের ৩৫তম মিনিটে পেনাল্টি পায় লিভারপুল, আর তা থেকে গোল করে দলের প্রত্যাশিত ব্যাবধান বাড়ান সালাহ।
দিয়াসের দৌঁড় অনুমান করে মাঝমাঠে নিজেদের অর্ধ থেকে বল বাড়ান এক সতীর্থ। এরপর প্রতিপক্ষের এক ডিফেন্ডারকে ড্রিবল করে বল নিয়ে বক্সে ঢুকে পড়েন দিয়াস। এ সময় বল ধরতে ছুটে এসে ঝাঁপ দেন উলভস গোলরক্ষক হোসে সা, আর সঙ্গে সঙ্গে তার হাতে পা বেধে পড়ে যান দিয়াস। ফলে পেনাল্টির বাঁশি বাজান রেফারি। এরপর ৩৭তম মিনিটে পানেনকা শটে ব্যবধান বাড়ান সালাহ।
এ নিয়ে সব প্রতিযোগিতা মিলিয়ে চলতি মৌসুমে তার গোলসংখ্যা হলো ২৮টি। আর অ্যাসিস্ট মিলিয়ে মোট ৪৭ গোলে অবদান রেখেছেন এই মিসরীয় তারকা।
প্রথমার্ধে আক্রমণ ও বলের দখলে পরিষ্কার ফেবারিট ছিল লিভারপুলই। তার ফলস্বরূপ দুটি গোলও আদায় করে নেয় তারা।
আরও পড়ুন: সিটিকে বিধ্বস্ত করে লিভারপুলের ওপর চাপ অব্যাহত রাখল আর্সেনাল
৫৩৩ দিন আগে
ওসাসুনায় ড্র, শীর্ষস্থান থেকে তিনে নেমে যাওয়ার শঙ্কায় রিয়াল মাদ্রিদ
নতুন বছরে বার্সেলোনার বিপক্ষে বড় হারে স্প্যানিশ সুপার কাপের শিরোপা হাতছাড়া হলেও লা লিগা, কোপা দেল রে ও চ্যাম্পিয়ন্স লিগে জানুয়ারি মাসজুড়ে অপরাজিত ছিল রিয়াল মাদ্রিদ। ওই একটি ছাড়া বাকি সবগুলো ম্যাচ জিতলেও ফেব্রুয়ারি পড়তেই লা লিগায় ভুগছে বর্তমান চ্যাম্পিয়নরা। এই মাসে আগের দুই ম্যাচের একটিতে হার ও অন্যটি ড্র করার পর আজ তৃতীয় ম্যাচেও পয়েন্ট হারিয়েছে কার্লো আনচেলত্তির শিষ্যরা।
লা লিগার ২৪ রাউন্ডের ম্যাচে শনিবার ওসাসুনার এল সাদার স্টেডিয়ামে দলটির বিপক্ষে ১-১ গোলে ড্র করে আরও দুই পয়েন্ট হারিয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ। এতে করে লিগে সবশেষ তিন ম্যাচ মাত্র দুই পয়েন্ট সংগ্রহ করল দলটি।
এর ফলে শীর্ষস্থান নড়বড়ে হয়ে গেছে লস ব্লাঙ্কোসদের। শুধু তা-ই নয়, এই রাউন্ডে স্ব স্ব ম্যাচে আতলেতিকো মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা জিতলে শীর্ষস্থান থেকে একেবারে তিন নম্বরে নেমে যাওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে তাদের।
আরও পড়ুন: আবারও সমতায় শেষ মাদ্রিদ ডার্বি, বার্সেলোনার হাসি
এদিন ফেদেরিকো ভালভের্দের অ্যাসিস্টে ম্যাচের পঞ্চদশ মিনিটেই ঠিকানা খুঁজে নিয়ে রিয়ালকে ভালো শুরু এনে দেন কিলিয়ান এমবাপ্পে। তবে ৩৯তম মিনিটে বড় ধাক্কা খায় চ্যাম্পিয়নরা, লাল কার্ড দেখে মাঠ ছাড়তে হয় দলটির অতি গুরুত্বপূর্ণ খেলোয়াড় জুড বেলিংহ্যামকে।
এ সময় রিপ্লেতে কোনো ফাউল করতে দেখা যায়নি তাকে। তবে রেফারির সঙ্গে কিছু একটা বলতে বলতে এগিয়ে আসছিলেন বেলিংহ্যাম। সম্ভবত আপত্তিকর কোনো মন্তব্যের জন্য লাল কার্ড দেখেন এই ইংলিশ অ্যাটাকিং মিডফিল্ডার।
প্রথমার্ধে ১-০ গোলের লিড ধরে রাখলেও দ্বিতীয়ার্ধে আক্রমণ ও পাল্টা আক্রমণে ম্যাচ জমে উঠলে ১৩ মিনিটের মাথায় সমতায় ফেরে ওসাসুনা।
এ সময় বক্সের মধ্যে খুব কাছ থেকে জন মনকায়োলার নেওয়া শট কোর্তোয়া ফিরিয়ে দিলে দ্বিতীয় চেষ্টায় আন্তে বুদেমিরের শট পোস্ট ঘেঁষে বেরিয়ে যায়। শট নেওয়ার পরপরই তাকে ফাউল করে বসেন এদুয়ার্দো কামাভিঙ্গা, আর ভিএআর মনিটরে রিপ্লে দেখে পেনাল্টি দেন রেফারি হোসে মুনুয়েরা মন্তেরো। এরপর সফল স্পট কিকে দলকে সমতায় ফেরান বুদিমির।
আরও পড়ুন: এস্পানিওলে ধরাশায়ী রিয়াল মাদ্রিদ
বাকি সময়ে বেশ কয়েকটি ভালো সুযোগ তৈরি করে রিয়াল মাদ্রিদ, তবে ফিনিশিংয়ের ব্যর্থতায় এগিয়ে যাওয়া হয়ে ওঠেনি ভিনি-এমবাপ্পেদের। এরপর যোগ করা সময়ে এগিয়ে যেতে পারত দুই দলই, তবে সেই প্রচেষ্টাগুলোও ব্যর্থ হলে ১-১ সমতায়ই শেষ হয় ম্যাচ।
এই ড্রয়ের ফলে ২৪ ম্যাচে ১৫ জয় ও ৬ ড্রয়ে ৫১ পয়েন্ট নিয়ে শীর্ষেই রয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
দিনের অপর ম্যাচে ঘরের মাঠে সেল্তা ভিগোকে আতিথ্য দেবে ৪৯ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়ে থাকা আতলেতিকো মাদ্রিদ। ম্যাচটি জিতে ২৪ ম্যাচে (১৫ জয় ও ৭ ড্র) ৫২ পয়েন্ট নিয়ে টেবিলের শীর্ষে ওঠার সুযোগ থাকবে তাদের সামনে।
এছাড়া রায়ো ভায়েকানোর বিপক্ষে সোমরবার রাতে ২৪তম রাউন্ডের ম্যাচটি জিতলে রিয়ালের সমান ৫১ পয়েন্ট হবে বার্সেলোনার। তবে গোল ব্যবধানে এগিয়ে থেকে রিয়ালকে পেছনে ফেলার সুযোগ থাকবে তাদের সামনেও।
৫৩৪ দিন আগে
মেরিনোর জোড়া গোলে ব্যবধান কমাল আর্সেনাল
আক্রমণভাগের বেশিরভাগ খেলোয়াড় চোটে পড়ায় জোড়াতালি দিয়ে দল সাজিয়ে লেস্টারের মাঠে খেলতে নামে আর্সেনাল। আর তার ফায়দা তুলে নিতে দারুণ লড়াইও চালায় রুড ফন নিস্টেলরয়ের শিষ্যরা। তবে শেষের দিকে রক্ষণ এলোমেলো হয়ে গেল তাদের, আর জয় নিয়েই মাঠ ছাড়ল আর্সেনাল।
কিং পাওয়ার স্টেডিয়ামে মিকেল আর্তেতার দলের কাছে ২-০ গোলে হেরেছে লেস্টার সিটি।
আর্সেনালের পক্ষে দুটি গোলই করেন দলটির স্প্যানিশ মিডফিল্ডার মিকেল মেরিনো।
এদিন ম্যাচের প্রথমার্ধে কয়েকবার চেষ্টা করেও সফল হতে পারেনি দুই দল। প্রত্যেকেই মাত্র একটি করে শট লক্ষ্যে রাখতে সক্ষম হয়। ফলে স্কোরলাইনে কোনো পরিবর্তন না এনেই বিরতিতে যায় দুদল।
আরও পড়ুন: কোপা দেল রে: আরও একটি এল ক্লাসিকো ফাইনালের সম্ভাবনা
বিরতি থেকে ফিরে গোল পাওয়ার চেষ্টা কিছুটা বাড়িয়ে দেয় লেস্টার। এর সঙ্গে আক্রমণাত্মক খেলতে থাকে আর্সেনালও। এরই ধারাবাহিকতায় ম্যাচের ৭৪তম মিনিটে আর্সেনালের ১৭ বছর বয়সী মিডফিল্ডার ইথান নোয়ানেরির শট পোস্টে লাগে।
তবে এ ঘটনার পর বেশিক্ষণ জাল অক্ষত রাখতে পারেনি লেস্টার।
ম্যাচের ৮১তম মিনিটে লেস্টারের ডি-বক্সের বাইরে পাওয়া ফ্রি কিক থেকে গোলমুখে ক্রস উড়িয়ে দিলে তা ফিরিয়ে দেন দলটির ডিফেন্ডাররা। এরপর ফিরতি বল ধরে ডানপাশে মেরিনোকে পাস দেন নোয়ানেরি। বল ধরে বক্সে ঢোকার মুখেই জায়গা করে নিয়ে দূরের পোস্ট বরাবর বাঁকানো শট নেন এই স্প্যানিশ মিডফিল্ডার, আর গোলরক্ষককে ফাঁকি দিয়ে বল জড়িয়ে যায় জালে।
নির্ধারিত সময়ের তিন মিনিট আগে দ্বিতীয় গোলে আর্সেনালের জয় নিশ্চিত করেন মেরিনো।
নিজেদের বক্সের ভেতর থেকে নিউক্যাসলের আক্রমণ প্রতিহত করার পর বল ধরে দুর্দান্ত এক পাল্টা আক্রমণে ওঠে আর্সেনাল। বল নিয়ে এগিয়ে গিয়ে মাঝমাঠ থেকে এগোতে থাকা লেয়ান্দ্রো ত্রোসাকে পাস বাড়ান রিকার্দো কালাফিওরি। এরপর ত্রোসা বাঁ দিকে মেরিনোর উদ্দেশে বাড়ালে তা ধরে বক্সে ঢুকে কাছের পোস্ট ঘেঁষে লক্ষ্যভেদ করেন তিনি।
ফলে ড্রয়ের আশাটুকুও শেষ হয়ে যায় লেস্টারের। আর পূর্ণ তিন পয়েন্ট নিয়ে মাঠ ছাড়ে আর্তেতার শিষ্যরা।
এই জয়ে পয়েন্ট টেবিলের চূড়ায় থাকা লিভারপুলের সঙ্গে ব্যবধান কমিয়ে চারে নামিয়েছে আর্সেনাল। ২৫ ম্যাচে ১৫ জয় ও ৮ ড্রয়ে ৫৩ পয়েন্ট নিয়ে দুইয়েই রয়েছে আর্সেনাল। লিভারপুলের পয়েন্ট ৫৭, অবশ্য এক ম্যাচ কম খেলেছে তারা।
আরও পড়ুন: আবারও সমতায় শেষ মাদ্রিদ ডার্বি, বার্সেলোনার হাসি
অন্যদিকে, চলতি মৌসুমের শুরু থেকেই ভুগতে থাকা লেস্টার এ নিয়ে লিগে ১৬টি হারের স্বাদ পেল। ২৫ ম্যাচে মাত্র চার জয় ও পাঁচ ড্রয়ে ১৭ পয়েন্ট নিয়ে তারা আছে টেবিলের ১৮ নম্বরে।
৫৩৪ দিন আগে
কোপা দেল রে: আরও একটি এল ক্লাসিকো ফাইনালের সম্ভাবনা
সেমিফাইনালের চার দল নিশ্চিত হওয়ার পর ছিল কে কার প্রতিপক্ষ হচ্ছে—ছিল তার অপেক্ষা। অবেশেষে সেই অপেক্ষারও অবসান হয়েছে। ড্রয়ের মাধ্যমে সেমিফাইনালের প্রত্যেক দলের প্রতিপক্ষ নির্ধারিত হয়েছে।
স্প্যানিশ সময় বুধবার (১২ ফেব্রুয়ারি) দুপুরে কোপা দেল রের সেমিফাইনালের ড্র অনুষ্ঠিত হয়। এতে আতলেতিকো মাদ্রিদকে প্রতিপক্ষ হিসেবে পেয়েছে বার্সেলোনা এবং রিয়াল সোসিয়েদাদকে পেয়েছে রিয়াল মাদ্রিদ।
স্প্যানিশ সুপার কাপের মতো কোপা দেল রেতেও এল ক্লাসিকো ফাইনালের সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে। দুই লেগের সেমিফাইনালে বিপক্ষ দলকে হারিয়ে রিয়াল মাদ্রিদ ও বার্সেলোনা যদি ফাইনাল নিশ্চিত করতে পারে, তবেই সেই সম্ভবানা বাস্তবে রূপ নেবে।
টুর্নামেন্টের কোয়ার্টার ফাইনাল পর্যন্ত সব ম্যাচ নকআউট হলেও সেমিফাইনাল খেলা হবে দুই লেগে। আগামী ২৬ ফেব্রুয়ারি প্রথম লেগের ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে, আর দ্বিতীয় লেগের খেলা হবে এপ্রিলের ২ তারিখে।
এবার প্রথম লেগের ম্যাচটি ঘরের মাঠে খেলবে রিয়াল সোসিয়েদাদ ও বার্সেলোনা এবং দ্বিতীয় লেগ ঘরের মাঠে খেলার সুযোগ পাচ্ছে মাদ্রিদের দুই দল।
আগামী ২৬ এপ্রিল অনুষ্ঠিত হবে চলতি মৌসুমের কোপা দেল রে ফাইনাল।
আরও পড়ুন: বেতিসকেও ৫ গোল দিয়ে কোপা দেল রের কোয়ার্টারে বার্সেলোনা
গত মৌসুমে মায়োর্কাকে হারিয়ে ৪০ বছর পর কোপা দেল রে জেতা আথলেতিক বিলবাও এবার বিদায় নেয় শেষ ষোলো থেকেই। ২৪ বার এই শিরোপা জিতে কোপা দেল রে জয়ের তালিকায় দ্বিতীয় স্থানে রয়েছে বাস্কে অঞ্চলের এই ক্লাবটি।
তবে ৩১ বার কোপা দেল রে জয় করে তালিকায় সবার উপরে অবস্থান বার্সেলোনার। ২০ বার এই শিরোপা জিতে তৃতীয় স্থানে রিয়াল মাদ্রিদ। এছাড়া ১০ বার কোপা দেল রে জিতে তালিকার চতুর্থ স্থানে রয়েছে আতলেতিকো মাদ্রিদ। আর তৃতীয় শিরোপা জয়ের অভিযানে এবার সেমিফাইনাল উৎরে যাওয়ার চেষ্টা করবে রিয়াল সোসিয়েদাদ।
৫৩৭ দিন আগে