বিশ্ব
জার্মানি থেকে সেনা প্রত্যাহারে ট্রাম্পের সিদ্ধান্তে বিস্মিত ইউরোপ
জার্মানি থেকে হাজার হাজার মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আকস্মিক সিদ্ধান্তে বিস্ময় প্রকাশ করেছেন ইউরোপীয় নেতারা। তবে সোমবার তাঁরা বলেছেন, এই পদক্ষেপ স্পষ্ট করে দিয়েছে যে ইউরোপকে এখন নিজের নিরাপত্তার দায়িত্ব নিজেকেই নিতে হবে। ।
গত সপ্তাহে পেন্টাগন ঘোষণা দেয়, তারা জার্মানি থেকে প্রায় ৫ হাজার সেনা সরিয়ে নেবে। তবে ট্রাম্প শনিবার (২ মে) সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা সেনাসংখ্যা অনেক কমিয়ে আনছি। এই সংখ্যা ৫ হাজারের চেয়েও অনেক বেশি হবে।’
তবে কেন এই সিদ্ধান্ত, সে বিষয়ে ট্রাম্প কোনো নির্দিষ্ট কারণ উল্লেখ করেননি। আকস্মিক এই ঘোষণায় উত্তর আটলান্টিক নিরাপত্তা জোট—ন্যাটো অনেকটা অপ্রস্তুত অবস্থায় পড়েছে।
ইরান ও ইসরায়েলের মধ্যকার যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান নিয়ে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মেয়ার্সের সঙ্গে ট্রাম্পের ক্রমবর্ধমান বিরোধের মধ্যেই এই ঘোষণা এল। মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধে ইউরোপীয় মিত্রদের সম্পৃক্ত হতে অনাগ্রহের কারণে ট্রাম্প বেশ ক্ষুব্ধ বলে জানা গেছে।
সেনা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে নরওয়ের প্রধানমন্ত্রী ইয়োনাস গার স্তোরে বলেন, ‘আমি এটাকে অতিরঞ্জিত করব না। তবে, আমরা আশা করছি, ইউরোপ নিজের নিরাপত্তার জন্য আরও বড় ভূমিকা নেবে।’
ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্রনীতি বিষয়ক প্রধান কায়া কাল্লাস বলেন, ‘ইউরোপ থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহারের আলোচনা অনেক দিন ধরেই চলছে। তবে হঠাৎ এমন সিদ্ধান্ত সত্যিই বিস্ময়কর।’
তিনি বলেন, ‘আমার মনে হয় এখন থেকে ন্যাটোর ইউরোপীয় অংশকে আমাদের আরও শক্তিশালী করতে হবে।’
মেয়ার্সকে শাস্তি দিতে ট্রাম্প এই সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কিনা এমন প্রশ্নে কাল্লাস বলেন, ‘প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের মনের ভেতরে কী চলছে, তা আমি জানি না। তাই বিষয়টি তাকেই ব্যাখ্যা করতে হবে।’
গত সপ্তাহের শেষে ন্যাটোর মুখপাত্র অ্যালিসন হার্ট বলেন, ৩২টি দেশের এই সামরিক জোটের কর্মকর্তারা জার্মানি থেকে মার্কিন সেনা প্রত্যাহার নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সিদ্ধান্তের বিস্তারিত বুঝতে কাজ করছেন।’
গত বছর পুনরায় ক্ষমতায় আসার পর থেকেই ইউরোপীয় মিত্ররা এবং কানাডা জানত যে ট্রাম্প ইউরোপ থেকে সেনা প্রত্যাহার করবেন। অক্টোবরেই কিছু মার্কিন সেনা রোমানিয়া ছেড়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন, নিরাপত্তা শূন্যতা এড়াতে তারা ন্যাটো মিত্রদের সঙ্গে সমন্বয় করেই যেকোনো পদক্ষেপ নেবেন।
ন্যাটোর মহাসচিব মার্ক রুটে এই পদক্ষেপকে ছোট করে দেখিয়ে বলেন, ‘এই মুহূর্তে ইরান যুদ্ধ নিয়ে ইউরোপের সমর্থনের বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে হতাশা রয়েছে।’
বিশেষ করে ফ্রান্স, স্পেন ও যুক্তরাজ্য তাদের ভূখণ্ডে অবস্থিত ঘাঁটি ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে পূর্ণ স্বাধীনতা দিতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। স্পেন তাদের আকাশসীমা ও ঘাঁটি ব্যবহারের অনুমতিও দেয়নি।
তবে ট্রাম্প নেতৃত্বের সমর্থক হিসেবে পরিচিত রুটে বলেন, ‘আমি বলব ইউরোপীয়রা বার্তাটি শুনেছে। তারা এখন নিশ্চিত করছে যে সব দ্বিপাক্ষিক ঘাঁটি-সংক্রান্ত চুক্তি এখন বাস্তবায়ন করা হচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ইউরোপীয় দেশগুলো পরবর্তী ধাপের জন্য গুরুত্বপূর্ণ সামরিক সম্পদ আগে থেকেই নির্দিষ্ট স্থানে মোতায়েন করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।’
ইউরোপীয় নেতারা ট্রাম্পের এ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়া হিসেবে জানান, যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত তারা গুরুত্বপূর্ণ জ্বালানি বাণিজ্যপথ হরমুজ প্রণালির নিরাপত্তা রক্ষায় অংশ নেবে না।
ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট ইমানুয়েল ম্যাক্রোঁ বলেন, ‘যদি যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ পুনরায় খুলতে প্রস্তুত থাকে, তাহলে সেটা ভালো। শুরু থেকেই আমরা সেটাই চাইছিলাম।’
তবে তিনি জোর দিয়ে বলেন, ইউরোপ এমন কোনো অভিযানে অংশ নিতে প্রস্তুত নয় যা ‘আমাদের কাছে পরিষ্কার মনে নয়’।
মেয়ার্সের সঙ্গে উত্তেজনার আরেকটি কারণ হিসেবে ট্রাম্প ইউরোপীয় ইউনিয়নের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বাণিজ্য চুক্তি না মানার অভিযোগ তুলেছেন এবং আগামী সপ্তাহে ইইউয়ে উৎপাদিত গাড়ি ও ট্রাকের ওপর শুল্ক ২৫ শতাংশ পর্যন্ত বাড়ানোর পরিকল্পনা ঘোষণা করেছেন। ট্রাম্পের এই আদেশ বড় গাড়ি উৎপাদনকারী দেশ জার্মানির জন্য বিশেষভাবে ক্ষতিকারক।
ট্রাম্প বা যুক্তরাষ্ট্রের নাম উল্লেখ না করে ইউরোপীয় কমিশনের প্রেসিডেন্ট উরসুলা ফন ডের লিয়েন বলেন, ইউরোপীয় ইউনিয়ন ইতোমধ্যে অস্ট্রেলিয়া ও ভারতের সঙ্গে নতুন বাণিজ্য চুক্তি করেছে এবং এখন মেক্সিকোর সঙ্গে কাজ করছে।
তিনি বলেন, ‘একই মানসিকতার বন্ধুদের সঙ্গে আপনার সরবরাহশৃঙ্খল স্থিতিশীল ও নির্ভরযোগ্য থাকে এবং সবচেয়ে বড় মুক্ত বাণিজ্যচুক্তির নেটওয়ার্ক ইউরোপেরই রয়েছে।’
৪৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমায় গুলিবর্ষণ, আহত অন্তত ১২
যুক্তরাষ্ট্রের ওকলাহোমা সিটিতে একটি পার্টিতে গুলিবর্ষণের ঘটনায় অন্তত ১২ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (৩ মে) রাতে ওকলাহোমার কাছে আর্কেডিয়া লেকে এ ঘটনা ঘটে বলে জানিয়েছেন শহরটির পুলিশ ও হাসপাতাল কর্মকর্তারা ।
এডমন্ড পুলিশের মুখপাত্র এমিলি ওয়ার্ড বলেন, রবিবার রাত ৯টার দিকে আর্কেডিয়া লেকের কাছে তরুণদের একটি মিলানায়তনে এই হামলা চালানো হয়। খবর পেয়ে দ্রুত সেখানে উপস্থিত হয় কর্তৃপক্ষ, তবে এ ঘটনায় এখনও পর্যন্ত কাউকে গ্রেপ্তার করা হয়নি বলে জানান তিনি।
তিনি বলেন, ‘এটি নিঃসন্দেহে খুবই ভয়ের ব্যাপার। আমরা জনসাধারণ ও সংশ্লিষ্টদের উদ্বেগ বুঝতে পারছি। দুষ্কৃতিকারীদের খুঁজে বের করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছি।’
ওয়ার্ড বলেন, ‘আমরা পুরো মেট্রো এলাকায় ছড়িয়ে আছি এবং ভুক্তভোগী ও প্রত্যক্ষদর্শীদের সঙ্গে কথা বলছি।’
তিনি জানান, ১০ জনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং আরও কয়েকজন নিজ দায়িত্বে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। আহতদের স্বাস্থ্যের অবস্থা একেকজনের একেক রকম।
হাসপাতালের এক মুখপাত্রের মতে, ওকলাহোমা সিটির ইন্টেগ্রিস হেলথ ব্যাপ্টিস্ট মেডিকেল সেন্টারে ৯ জন এবং ইন্টেগ্রিস হেলথ এডমন্ড হাসপাতালে ৩ জন ভর্তি ছিলেন। রবিবার রাত পর্যন্ত রোগীদের সবার অবস্থা মূল্যায়ন করা হচ্ছিল।
পুলিশ এ সম্পর্কে বিস্তারিত না জানালেও গুলির ঘটনার পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেখা একটি ফ্লায়ারে বোঝা যায়, রবিবার সন্ধ্যায় লেকের কাছে ‘সানডে ফানডে’ নামে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছিল।
ওকলাহোমা সিটি থেকে প্রায় ১৩ মাইল উত্তরে অবস্থিত আর্কেডিয়া লেক একটি কৃত্রিম জলাধার, যা বন্যা নিয়ন্ত্রণের জন্য ব্যবহৃত হয়। একই সঙ্গে এটি একটি জনপ্রিয় বিনোদনকেন্দ্র, যেখানে মাছ ধরা, নৌকা চালানো, পিকনিক ও ক্যাম্পিংয়ের সুবিধা রয়েছে। এই পার্কটি মূলত ওকলাহোমা সিটির এডমন্ড উপশহরে অবস্থিত।
চল্লিশ বছর আগে এই উপশহরটি ছিল যুক্তরাষ্ট্রের ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহ গুলিবর্ষণের জায়গা। ১৯৮৬ সালের ২০ আগস্ট ডাককর্মী প্যাট্রিক শেরিল ২০ জন সহকর্মীর ওপর গুলি চালিয়ে ১৪ জনকে হত্যা করেছিলেন। ওই ঘটনার পর তিনি নিজেও আত্মহত্যা করেন।
৪৬ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্যের চার দেশে ৮.৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের
ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধের মধ্যেই মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলোর অস্ত্রভাণ্ডার শক্তিশালী করতে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র নির্মাতা প্রতিষ্ঠানগুলোকে ৮ দশমিক ৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে দেশটির সরকার। যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জরুরি পরিস্থিতির কথা উল্লেখ করে কংগ্রেসে অস্ত্র নিয়ে পর্যালোচনা ছাড়াই দ্রুত এ অনুমোদন দিয়েছেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইসরায়েল ও উপসাগরীয় দেশগুলো ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এতে দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সরবরাহ করা অস্ত্রের মজুত কমে আসছে। দেশগুলোর আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ওপরও চাপ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের এই অস্ত্র বিক্রির আওতায় ইসরায়েলের জন্য ৯৯২ মিলিয়ন ডলার মূল্যের অ্যাডভান্সড প্রিসিশন কিল উইপন সিস্টেম (এপিকেডব্লিউএস) ও অন্যান্য সরঞ্জাম পাঠানো হবে। কুয়েত যুক্তরাষ্ট্র থেতে আড়াই বিলিয়ন ডলারের ব্যাটল কমান্ড সিস্টেম কিনতে পারবে।
অন্যদিকে, কাতার প্রায় ৫ বিলিয়ন ডলার ব্যয়ে এপিকেডব্লিউএস কেনার অনুমোদন পেয়েছে। তাদের প্যাট্রিয়ট এয়ার ও মিসাইল প্রতিরক্ষাব্যবস্থা পুনরায় মজুত করার অনুমোদন দেওয়া হয়েছে। এছাড়া সংযুক্ত আরব আমিরাতকেও ১৪৮ মিলিয়ন ডলার মূল্যের এপিকেডব্লিউএস কেনার ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩ মে) কয়েকটি ঘোষণায় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, তারা এই অস্ত্র বিক্রিকে জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থে জরুরি প্রয়োজন হিসেবে দেখছে। তাই নিয়ম মেনে অস্ত্র নিয়ে কংগ্রেসে দীর্ঘ পর্যালোচনা হয়নি। সাধারণত যুক্তরাষ্ট্র থেকে অন্য দেশে বড় অঙ্কের অস্ত্র বিক্রি করতে হলে অস্ত্র রপ্তানি নিয়ন্ত্রণ আইনের অধীনে আগে বিষয়টি পর্যালোচনা করে মার্কিন কংগ্রেস। কিন্তু এবার পরিস্থিতি এত জরুরি যে তারা বিস্তারিত কারণ দেখিয়ে নিয়মিত কংগ্রেসের রিভিউ প্রক্রিয়া পাশ কাটয়ে সরাসরি প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোকে অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেওয়া হয়েছে।
এসব অস্ত্রের মধ্যে রয়েছে প্যাট্রিয়ট ব্যবস্থা, যা আকাশপথে আসা ক্ষেপণাস্ত্র ও অন্যান্য হামলা প্রতিহত করতে ব্যবহৃত হয়। এটি যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অস্ত্রভাণ্ডারের অন্যতম উন্নত প্রতিরক্ষাব্যবস্থা।
এপিকেডব্লিউএস মূলত সাধারণ রকেটকে নির্ভুলভাবে লক্ষ্যভেদি অস্ত্রে রূপান্তর করতে ব্যবহৃত হয়।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর আরও জানায়, কুয়েতের কেনা ব্যাটল কমান্ড সিস্টেম দেশটির রাডারভিত্তিক আকাশ প্রতিরক্ষা শনাক্তকরণ সক্ষমতা আরও উন্নত করবে।
এর আগে, মার্চ মাসে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কুয়েত ও জর্ডানের জন্য আলাদা করে সাড়ে ১৬ বিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দেয় যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্র দপ্তর।
ওই চুক্তিগুলোর আওতায় সংযুক্ত আরব আমিরাতের জন্য ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র, রাডার সিস্টেম ও এফ-১৬ যুদ্ধবিমান এবং কুয়েতের জন্য আকাশ ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা রাডার সিস্টেম অন্তর্ভুক্ত ছিল।
অপরদিকে, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের বিপুল পরিমাণ অস্ত্র ব্যবহারের ফলে উপসাগরীয় অঞ্চলের বাইরে সম্ভাব্য সংঘাতগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক সক্ষমতা নিয়েও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে, তাইওয়ান ও চীনের মধ্যে চলমান দ্বন্দে যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধ পরিচালনার সক্ষমতা নিয়ে সম্প্রতি প্রশ্ন উঠেছে।
তাইওয়ান একটি স্বশাসিত দ্বীপ, তবে এটিকে নিজেদের অংশ বলে দাবি করে বেইজিং। এ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চীনের সংঘাত চলমান রয়েছে।
গত মাসে সেন্টার ফর স্ট্র্যাটেজিক অ্যান্ড ইন্টারন্যাশনাল স্টাডিওজে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ চালানোর মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মজুত আছে। তবে চীনের মতো শক্তিশালী প্রতিপক্ষের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের আরও বড় অস্ত্রভাণ্ডার প্রয়োজন হবে।
প্রতিবেদটিতে উল্লেখ করা হয়, চীনের সঙ্গে সংঘাত প্রতিহত করার মতো পর্যাপ্ত অস্ত্র যুক্তরাষ্ট্রের কাছে মজুত নেই। বর্তমানে মধ্যপ্রাচ্যে অস্ত্র সরবরাহের ফলে যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্রভাণ্ডার যে পর্যায়ে রয়েছে, তা ভবিষ্যতে অন্যান্য দেশগুলোতে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান সীমিত করে দিতে পারে।
৪৭ দিন আগে
ব্রাজিলে বন্যা ও ভূমিধসে শিশুসহ নিহত ৪
ব্রাজিলের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের পার্নামবুকো অঙ্গরাজ্যে ভারী বৃষ্টির কারণে সৃষ্ট বন্যা ও ভূমিধসে অন্তত ৪ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে দুই শিশু রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় জরুরি সহায়তা পাঠানোর ঘোষণা দিয়েছে সরকার।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (১ মে) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
পার্নামবুকোর প্রতিরক্ষা সংস্থা জানায়, এ ঘটনায় আরও ৫ জন আহত হয়েছেন। দুর্গত আরও অন্তত দেড় হাজার মানুষকে নিরাপদ সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
অঙ্গরাজ্যের রাজধানী রেসিফেতে চিকিৎসা কর্মকর্তারা নিশ্চিত করেছেন, দইস উনিদোস এলাকায় পাহাড়ধসে এক নারী ও তার ছয় বছর বয়সী ছেলে নিহত হয়েছেন।
এছাড়া পার্নামবুকোর কাছের শহর ওলিনদায় আরও ২ জন নিহত হয়েছেন। সেখানে আলতো দা বন্দাদে এলাকায় ভূমিধসে ২০ বছর বয়সী এক নারী ও তার ছয় মাস বয়সী ছেলে মাটিচাপা পড়ে মারা যান। ওই স্থান থেকে আরও ৫ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ ।
ভারী বৃষ্টির কারণে রেসিফে মহানগর এলাকা ও বিভিন্ন পৌর এলাকায়ও ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
এ বিষয়ে পার্নামবুকোতে জন্ম নেওয়া ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট লুইস ইনাসিও লুলা দা সিলভা জানান, ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় মাঠপর্যায়ে স্থায়ী হাসপাতাল স্থাপন করা হবে। ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য ফেডারেল সরকার আর্থিক সহায়তা পাঠাবে।
এদিকে, ঝড়বৃষ্টির কারণে রেসিফের আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কার্যক্রম পাঁচ ঘণ্টারও বেশি সময় বন্ধ ছিল।
পার্নামবুকোর পানি ও জলবায়ু সংস্থা জানিয়েছে, এ ঘটনায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে পার্নামবুকোর অভ্যন্তরীণ শহর গোইয়ানা। সেখানে বাস্তুচ্যুত মানুষদের সরকারি স্কুলগুলোতে আশ্রয় দেওয়া হচ্ছে।
৪৭ দিন আগে
সুদানে ড্রোন হামলায় ৫ জন নিহত
পূর্ব-মধ্য সুদানে একটি বেসামরিক গাড়িকে লক্ষ্য করে চালানো ড্রোন হামলায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (৩ মে) স্থানীয় অধিকার সংস্থা ও প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া এই তথ্য নিশ্চিত করেছে।
খবরে বলা হয়েছে, র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরেএসএফ) একটি ড্রোন খার্তুম রাজ্যের ওমদুরমান শহরের আল-জামুইয়া ট্রায়াঙ্গেল সড়কে গাড়িটিতে হামলা চালায়।
স্থানীয় অধিকার সংস্থা ‘সুদানিজ ইমার্জেন্সি লইয়ার্স’এক বিবৃতিতে জানায়, সাম্প্রতিক এই ড্রোন হামলায় গাড়িতে থাকা পাঁচজন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
সংস্থাটি এ হামলার নিন্দা জানিয়ে অবিলম্বে সাধারণ লোকজনকে লক্ষ্য করে এসব নির্বিচার হামলা বন্ধের আহ্বান জানিয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শীরা সিনহুয়াকে জানান, ড্রোনটি উড়ে এসে গোলাবারুদ নিক্ষেপ করে যা সরাসরি গাড়িটিতে আঘাত হানে এবং সেটিকে সম্পূর্ণ ধ্বংস করে দেয়।
এ ঘটনায় সুদানের সরকার বা আরএসএফ এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে খার্তুম রাজ্যে তুলনামূলক শান্ত পরিস্থিতি দেখা গেলেও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থার সর্বশেষ তথ্যে দেখা গেছে, সুদানজুড়ে প্রায় ৪০ লাখ মানুষ স্বেচ্ছায় নিজ নিজ এলাকায় ফিরে গেছেন। তাদের অধিকাংশই খার্তুম রাজ্য ও পার্শ্ববর্তী গেজিরা রাজ্যে অবস্থান করছেন।
তবে সামরিক অভিযানে ড্রোনের ব্যবহার সুদানের বিস্তীর্ণ অঞ্চলে উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। এটি সাধারণ জনগণের ওপর এর ক্রমবর্ধমান প্রভাব নিয়ে ঝুঁকি তৈরি করেছে।
জাতিসংঘ গত মার্চ মাসে জানিয়েছে, জানুয়ারি থেকে মার্চের মধ্যভাগ পর্যন্ত সুদানে ড্রোন হামলায় ৫০০-র বেশি সাধারণ মানুষ নিহত হয়েছেন।
এ ঘটনার আগে ২০২৩ সালের এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে সুদানি সশস্ত্র বাহিনী এবং আরএসএফের মধ্যে চলা সংঘাতে আন্তর্জাতিক হিসাব অনুযায়ী হাজার হাজার মানুষ নিহত এবং লাখ লাখ মানুষ সুদান ও দেশটির বাইরে বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
৪৭ দিন আগে
ইরানের নতুন প্রস্তাব পর্যালোচনায় ট্রাম্প
যুদ্ধের ইতি টানতে ইরানের নতুন একটি প্রস্তাব পর্যালোচনা করছেন বলে জানিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তবে বিষয়টি শেষ পর্যন্ত কোনো চুক্তিতে পৌঁছাবে কি না, সে বিষয়ে তিনি সংশয় প্রকাশ করেছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (৩ মার্চ) সাংবাদিকদের তিনি এসব কথা জানান।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলার কিছুক্ষণ পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন প্রস্তাব নিয়ে পোস্ট করেন ট্রাম্প। সেখানে তিনি বলেন, ‘আমি ভাবতেও পারিনি যে তাদের এই প্রস্তাব প্রাসঙ্গিক হবে। কারণ বিগত ৪৭ বছরে তারা মানবতা এবং বিশ্বের প্রতি যে নির্দশন দেখিয়েছে, তার যথেষ্ট মূল্য এখনও পরিশোধ হয়নি।’
ইরানের আধা-সরকারি দুটি সংবাদমাধ্যম তাসনিম এবং ফার্স জানায়, পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরান ৯ দফা মার্কিন প্রস্তাবের জবাবে ১৪ দফা প্রস্তাব পাঠিয়েছে। পাকিস্তান এর আগেও ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে আলোচনার আয়োজন করেছে।
তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম এখনও এই নতুন প্রস্তাব নিয়ে কোনো প্রতিবেদন প্রকাশ করেনি।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে ট্রাম্প ইরানের আগের একটি প্রস্তাব প্রত্যাখ্যান করেছিলেন। তবে আলোচনা অব্যাহত রয়েছে এবং তিন সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি এখনও কার্যকর রয়েছে বলে মনে করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট পারস্য উপসাগরের মুখে অবস্থিত হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার একটি নতুন পরিকল্পনাও উত্থাপন করেছেন।
জাহাজ কোম্পানিগুলোর নিষেধাজ্ঞা নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সতর্কবার্তা
এদিকে, হরমুজ প্রণালি দিয়ে নিরাপদে চলাচলের জন্য ইরানকে অর্থ দিলে জাহাজ চলাচলকারী কোম্পানিগুলো নিষেধাজ্ঞার মুখে পড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে যুক্তরাষ্ট্র।
২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু করার পর ইরান জাহাজে হামলা ও হুমকির মাধ্যমে কার্যত প্রণালিটি বন্ধ করে দেয়। পরে ইরান তাদের উপকূলঘেঁষা পথ দিয়ে কিছু জাহাজকে নিরাপদে চলাচলের প্রস্তাব দিয়েছে এবং কখনও কখনও এর জন্য ফিও আদায় করেছে।
শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র সতর্ক করে বলেছে, কেবল নগদ অর্থ নয়, ডিজিটাল সম্পদ, বিনিময়, অনানুষ্ঠানিক লেনদেন বা অন্য কোনো পণ্য বা সেবার বিনিময়, এমনকি দাতব্য অনুদান বা ইরানি দূতাবাসে অর্থ প্রদান করলেও জাহাজ কোম্পানিগুলো ঝামেলার সম্মুখীন হতে পারে।
যুক্তরাষ্ট্র গত ১৩ এপ্রিল থেকে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ-অবরোধ জারি রেখেছে। এর ফলে তেল রপ্তানি থেকে আয় কমে গিয়ে দেশটির অর্থনীতি আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। আজ (শনিবার) যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড জানায়, ৪৮টি বাণিজ্যিক জাহাজকে ফিরে যেতে বলা হয়েছে।
৪৭ দিন আগে
ইরান যুদ্ধের ধাক্কায় ইউরোপে মুদ্রাস্ফীতি পৌঁছেছে ৩ শতাংশে
ইরান যুদ্ধে তেলের দাম হঠাৎ বেড়ে যাওয়ায় অর্থনৈতিক চাপের মুখে পড়েছে গোটা ইউরোপ। এই সময়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি প্রত্যাশার চেয়ে কম থাকায় ভোক্তা ও ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতিনির্ধারকদের জন্য উদ্বেগজনক পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইউরোপীয় ইউনিয়নের পরিসংখ্যান সংস্থা ইউরোস্ট্যাট জানায়, জ্বালানি তেলের দাম শতকরা ১০.৯ শতাংশ বৃদ্ধিই এর প্রধান কারণ।
সংস্থাটির জরিপ মতে, ইউরো ব্যবহারকারী ২১টি দেশের বার্ষিক মুদ্রাস্ফীতি মার্চে ২ দশমিক ৬ শতাংশ থেকে বেড়ে চলতি মাসে ৩ শতাংশে দাঁড়িয়েছে। অপরিশোধিত তেলের দাম বর্তমানে ব্যারেলপ্রতি ১২০ ডলারে বিক্রি হচ্ছে, ৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর আগে যা ছিল ৭৩ ডলারে কাছাকাছি। এছাড়া চলতি বছরের প্রথম থেকেই ইউরো অঞ্চলের অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি ছিল হতাশাজনক।
গোটা বিশ্বের ২০ শতাংশ তেল পরিবহনকারী হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ায় এই সংকট তৈরি হয়েছে। এই জলপথ দিয়ে আগে পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে সারা বিশ্বে তেল সরবরাহ করা হতো। তেলের দামের এই ঊর্ধ্বগতি দ্রুতই পেট্রোল পাম্প এবং বিমান জ্বালানির দাম বাড়িয়ে দিয়েছে।
মুদ্রাস্ফীতির এই সমস্যা ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ সৃষ্টি করতে পারে বলে দুশ্চিন্তায় পড়েছেন ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংক। ‘স্ট্যাগফ্লেশন’ হলো এমন একটি বিরল ও জটিল অর্থনৈতিক পরিস্থিতি, যেখানে একইসঙ্গে উচ্চ মুদ্রাস্ফীতি (দ্রব্যমূল্যের ঊর্ধ্বগতি) ও ধীর অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি দেখা দেয়।
ইউরোপে মুদ্রাস্ফীতির এই বৃদ্ধি বিশেষভাবে উদ্বেগজনক, কারণ এটি এমন সময়ে ঘটছে যখন অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির গতি ধীর। সাধারণত মুদ্রাস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে কেন্দ্রীয় ব্যাংক সুদের হার বাড়ায়, কিন্তু এতে ঋণের খরচ বেড়ে গিয়ে অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি আরও কমে যেতে পারে। যদি মুদ্রাস্ফীতি সাময়িক বলে মনে হয়, তবে সাধারণত এটিকে উপেক্ষা করা হয়, কারণ সুদের হার পরিবর্তনের প্রভাব অর্থনীতিতে পড়তে কয়েক মাস সময় লাগে।
অন্যদিকে, যদি কেন্দ্রীয় ব্যাংক দেরি করে এবং মুদ্রাস্ফীতি খাদ্য, শিল্পপণ্য ও মজুরি বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে স্থায়ীভাবে ঢুকে যায়, তাহলে পরে কঠোর সুদবৃদ্ধির মাধ্যমে তা নিয়ন্ত্রণ করা আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
এই সপ্তাহে জাপানের কেন্দ্রীয় ব্যাংক এবং যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রিজার্ভ উভয়ই তাদের বৈঠকে সুদের হার অপরিবর্তিত রেখেছে এবং ব্যাংক অব ইংল্যান্ডও আজ (বৃহস্পতিবার) একই সিদ্ধান্ত নেবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
ফলে ইউরোপীয় কেন্দ্রীয় ব্যাংকসহ অন্যান্য দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো এখন একপ্রকার স্থবির অবস্থায় রয়েছে। তারা মুদ্রাস্ফীতির এই ঢেউ অর্থনীতিতে কীভাবে প্রভাব ফেলছে, তা সতর্কতার সঙ্গে পর্যবেক্ষণ করছে।
৫০ দিন আগে
ইরান যুদ্ধ নিয়ে টানা দ্বিতীয় দিন ডেমোক্র্যাটদের জিজ্ঞাসাবাদের মুখে হেগসেথ
ক্যাপিটল হিলে দ্বিতীয় দিনের মতো ডেমোক্র্যাটদের কঠোর জিজ্ঞাসাবাদের মুখোমুখি হচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩০ এপ্রিল) ইরান যুদ্ধ মোকাবিলায় পেন্টাগনপ্রধানের ভূমিকা নিয়ে সিনেটররা প্রথমবারের মতো তাকে প্রশ্ন করার সুযোগ পাবেন।
এর আগে, গতকাল (বুধবার) প্রায় ৬ ঘণ্টার হাউজ আর্মড সার্ভিস কমিটির শুনানির সময় হেগসেথ ডেমোক্র্যাট ও কয়েকজন রিপাবলিকানের সঙ্গে তর্কে জড়িয়ে পড়েন। সে সময় তাকে যুদ্ধের খরচ, প্রাণহানি এবং গুরুত্বপূর্ণ অস্ত্রের মজুত কমে যাওয়া নিয়ে তীব্র প্রশ্নের সম্মুখীন হতে হয়।
আর্মড সার্ভিস কমিটির শুনানিতে ট্রাম্প প্রশাসনের ২০২৭ সালের সামরিক বাজেট প্রস্তাব নিয়েও আলোচনা করা হবে। এই আলোচনায় প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়িয়ে দেড় ট্রিলিয়ন ডলারে নেওয়ার কথা ভাবছে যুক্তরাষ্ট্র সরকার।
এ ছাড়াও বেশি বেশি ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং যুদ্ধজাহাজের প্রয়োজনীয়তার ওপর জোর দেবেন হেগসেথ এবং জয়েন্ট চিফস অব স্টাফের চেয়ারম্যান জেনারেল ড্যান কেইন।
একইসঙ্গে তারা ইউরোপে মার্কিন সেনা উপস্থিতি নিয়েও কঠিন প্রশ্নের মুখে পড়তে পারেন। কারণ গতকাল (বুধবার) প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ন্যাটোর মিত্র জার্মানিকে নতুন করে হুঁশিয়ারি দিয়েছেন। তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন, জার্মানিতে যুক্তরাষ্ট্র সামরিক উপস্থিতি কমিয়ে দিতে পারে, কারণ ইরান যুদ্ধ নিয়ে ট্রাম্পের সঙ্গে জার্মান চ্যান্সেলর ফ্রেডরিখ মেয়াৎর্সের বিরোধ চলমান।
বুধবারের অভিজ্ঞতা যদি কোনো ইঙ্গিত দেয়, তবে রিপাবলিকান সিনেটররা মূলত সামরিক বাজেটের খুঁটিনাটি বিষয় নিয়ে আলোচনা করবেন এবং ইরানে সামরিক অভিযানের প্রতি সমর্থন জানাবেন। অন্যদিকে, ডেমোক্র্যাটরা এই সংঘাতের কৌশল নিয়ে জবাব চাইবেন। পাশাপাশি হেগসেথের শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাদের বরখাস্ত করার সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রশ্ন তুলবেন।
ডেমোক্র্যাটরা এই যুদ্ধকে ব্যয়বহুল এবং অপ্রয়োজনীয় বলে আখ্যা দিচ্ছেন। কংগ্রেসের অনুমোদন বা তদারকি ছাড়াই শুরু হয়েছে এই যুদ্ধ। তবে কংগ্রেস নিজেই একাধিক ‘ওয়ার পাওয়ারস’ প্রস্তাব পাস করতে ব্যর্থ হয়েছে। এই প্রস্তাব সামরিক পদক্ষেপের আগে আইনপ্রণেতাদের অনুমোদন বাধ্যতামূলক করত।
যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর থেকে আইনপ্রণেতারা যেসব প্রশ্ন করতে চেয়েছিলেন, তার কিছু বুধবারের শুনানিতে উত্তর দেওয়া হয়েছে। তবে কিছু প্রশ্ন এড়িয়ে যাওয়া হয়েছে। উদাহরণ হিসেবে পেন্টাগনের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এখন পর্যন্ত এই যুদ্ধে প্রায় ২৫ বিলিয়ন ডলার খরচ হয়েছে, যার বেশিরভাগই অস্ত্র-গোলাবারুদের পেছনে। কিন্তু যুদ্ধ আর কতদিন চলবে বা আরও কত খরচ হতে পারে, এ বিষয়ে হেগসেথ কোনো উত্তর দেননি।
হেগসেথ আরও বলেন, একটি ইরানি প্রাথমিক বিদ্যালয়ে হামলায় ১৬৫ জনের বেশি মানুষ নিহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে। এর মধ্যে অনেক শিশু ছিল। এই বিষয়টি এখনও তদন্তাধীন।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস জানিয়েছে, ক্রমবর্ধমান প্রমাণে ইঙ্গিত মিলছে যে এই হামলার জন্য যুক্তরাষ্ট্র দায়ী হতে পারে। ওই স্কুলটি একটি রেভল্যুশনারি গার্ড ঘাঁটির পাশেই ছিল।
ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি প্যাট রায়ান জানতে চান, কুয়েতে ড্রোন হামলায় ছয়জন মার্কিন সেনার মৃত্যু প্রতিরোধ করা যেত কি না। হেগসেথ সরাসরি এর উত্তর দেননি, তবে বলেন, মার্কিন বাহিনীকে সুরক্ষিত রাখতে সেনাবাহিনী আগাম পদক্ষেপ নিয়েছিল।
আরেকটি উত্তেজনাপূর্ণ মুহূর্তে হেগসেথ ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি অ্যাডাম স্মিথকে বলেন, গত জুনে মার্কিন হামলায় ইরানের পারমাণবিক স্থাপনাগুলো ধ্বংস হয়ে গেছে। এতে স্মিথ প্রশ্ন তোলেন, তাহলে এর এক বছরেরও কম সময় পরে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার যুক্তি কী?
স্মিথ বলেন, ‘আপনি তো ৬০ দিন আগে বলেছিলেন, এই যুদ্ধ শুরু করতে হয়েছে, কারণ পারমাণবিক অস্ত্র একটি আসন্ন হুমকি। এখন আপনি বলছেন, সেগুলো পুরোপুরি ধ্বংস হয়ে গেছে?’
জবাবে হেগসেথ বলেন, ইরান তাদের ‘পারমাণবিক উচ্চাকাঙ্ক্ষা’ ত্যাগ করেনি এবং তাদের কাছে এখনও হাজার হাজার ক্ষেপণাস্ত্র রয়েছে।
স্মিথ বলেন, ‘এই যুদ্ধ আমাদের ঠিক সেই অবস্থাতেই রেখে গেছে, যেখানে আমরা আগেও ছিলাম।’
সেনাবাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তা জেনারেল র্যান্ডি জর্জকে অপসারণের সিদ্ধান্ত নিয়েও প্রতিরক্ষামন্ত্রীকে আরও প্রশ্নের মুখে পড়তে হয়। ট্রাম্প ক্ষমতায় ফেরার পর বেশ কয়েকজন শীর্ষ সামরিক কর্মকর্তাকে সরানো হয়েছে। হেগসেথ এসব প্রশ্নের উত্তরে বলেন, ‘নতুন নেতৃত্ব দরকার ছিল।’
তবে তার এই ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হননি পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট প্রতিনিধি ক্রিসি হাউলাহান। তিনি বলেন, ‘আপনি কেন এত অসাধারণ একজন মানুষকে বরখাস্ত করলেন, তার কোনো উপযুক্ত ব্যাখ্যা আপনার কাছে নেই।’ তখনই হেগসেথ তাকে থামিয়ে দিয়ে আবার বলেন, ‘আমাদের নতুন নেতৃত্ব দরকার ছিল।’
৫০ দিন আগে
বিশ্ববাজারে ফের বাড়ল জ্বালানি তেলের দাম, চার বছরে সর্বোচ্চ
ইরান যুদ্ধে সম্ভাব্য পদক্ষেপের নতুন পরিকল্পনা সম্পর্কে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে মার্কিন সামরিক বাহিনী ব্রিফ করতে যাচ্ছে—এমন খবরের পর বৃহস্পতিবার এশিয়ার বাজারে তেলের দাম লাফিয়ে বেড়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী ব্রেন্ট ক্রুড তেলের দাম প্রায় ৭ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল ১২৬ ডলার (৯৪ পাউন্ড) ছাড়িয়েছে, যা গত চার বছরে সর্বোচ্চ।
সংবাদভিত্তিক ওয়েবসাইট অ্যাক্সিওসের বরাতে বিবিসি এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার অচলাবস্থা ভাঙার লক্ষ্যে মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড তেহরানের ওপর এক দফায় সংক্ষিপ্ত ও শক্তিশালী হামলার পরিকল্পনা তৈরি করেছে।
শান্তি আলোচনা স্থবির হয়ে পড়া এবং কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালি কার্যকরভাবে বন্ধ থাকায় এই সপ্তাহে জ্বালানির দাম ক্রমাগত বেড়েছে।
অ্যাক্সিওসের প্রতিবেদনে নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক সূত্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, প্রস্তাবিত এই হামলার লক্ষ্যবস্তুর তালিকায় ইরানের অবকাঠামো থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে, অন্য একটি পরিকল্পনায় হরমুজ প্রণালির একাংশ দখল করার ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে যাতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের জন্য এটি পুনরায় খুলে দেওয়া যায়। এটি করতে গেলে স্থলসেনা মোতায়েনের প্রয়োজন হতে পারে বলেও উল্লেখ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের বাজারে লেনদেন হওয়া ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট ক্রুড অয়েলের দামও ২ দশমিক ৩ শতাংশ বেড়ে প্রতি ব্যারেল প্রায় ১০৯ ডলারে পৌঁছেছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, তেহরান যতদিন হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজগুলোকে হুমকি দেওয়া অব্যাহত রাখবে, ততদিন তারা ইরানের বন্দরগুলো অবরোধ করে রাখবে। এর ফলে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি সরবরাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
ইরান তার ওপর মার্কিন-ইসরায়েলি বিমান হামলার জবাবে এই জলপথে চলাচলকারী জাহাজে হামলার হুমকি দিয়েছে। এ প্রণালি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের মোট জ্বালানির প্রায় এক-পঞ্চমাংশ পরিবাহিত হয়।
ওয়াশিংটন ইরানের ওপর একটি দীর্ঘমেয়াদী অবরোধের প্রস্তুতি নিচ্ছে—এমন খবরের পর বুধবার তেলের দাম ৬ শতাংশ বেড়েছিল।
এদিকে, মার্কিন ভোক্তাদের ওপর যুদ্ধের প্রভাব কীভাবে কমানো যায় তা নিয়ে আলোচনার জন্য মঙ্গলবার জ্বালানি খাতের নির্বাহীরা ট্রাম্পের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছেন। এটি বাজারে জ্বালানি সরবরাহ দীর্ঘকাল বিঘ্নিত হওয়ার শঙ্কাকে আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
৫০ দিন আগে
মন্ত্রিসভার বৈঠক এড়িয়ে যাওয়ায় দ. কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্টের ৭ বছরের জেল
মন্ত্রিসভার বৈঠক এড়িয়ে যাওয়া এবং নিজের গ্রেপ্তার আটকানোর অভিযোগে দক্ষিণ কোরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট ইউন সুক ইয়লকে ৭ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন আদালত।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৯ এপ্রিল) সিউলের একটি আপিল আদালত এই রায় দেন।
২০২৪ সালের ডিসেম্বর মাসে স্বল্প সময়ের জন্য সামরিক আইন জারি করেন ইয়ল। তার ওই কর্তৃত্ববাদী পদক্ষেপ দক্ষিণ কোরিয়ার গণতন্ত্রকে কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে বড় সংকটে ফেলেছিল।
এর আগেই অবশ্য তিনি বিদ্রোহ-সংক্রান্ত মামলায় আজীবন কারাদণ্ডের শাস্তি ভোগ করছেন। ন্যায়বিচার প্রক্রিয়ায় বাধা ও অন্যান্য অভিযোগে পাওয়া এই দণ্ড তার সঙ্গে যুক্ত হলো।
এদিন সিউল হাইকোর্টের বিচারক ইউন সুং-সিক বলেন, সাবেক এই রক্ষণশীল প্রেসিডেন্ট সামরিক আইন জারির আগে আইন অনুযায়ী পূর্ণাঙ্গ মন্ত্রিসভার বৈঠক এড়িয়ে যান, সেই ত্রুটি গোপন করতে নথিপত্র জাল করেন এবং তাকে গ্রেপ্তারের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থার প্রচেষ্টাকে প্রতিহত করতে নিরাপত্তা কর্মকর্তাদের ‘ব্যক্তিগত বাহিনী’র মতো ব্যবহার করেন।
রায় ঘোষণার সময় ইউন নীরবে দাঁড়িয়ে ছিলেন।
চলতি বছরের জানুয়ারি মাসে দেশটির নিম্ন আদালত ইয়লকে পাঁচ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছিল। তবে সামরিক আইন জারির আগে মন্ত্রিসভার বৈঠক-সংক্রান্ত ক্ষমতার অপব্যবহারের অভিযোগ থেকে সে সময় তাকে আংশিকভাবে অব্যাহতি দেওয়া হয়। আদালতের রায়ে তখন বলা হয়, বৈঠকে আমন্ত্রিত দুই সদস্যের অনুপস্থিতির জন্য তিনি দায়ী নন। কিন্তু সিউল হাইকোর্ট সেই রায় বাতিল করে তাকে সব অভিযোগে দোষী সাব্যস্ত করে।
আদালত রায়ে উল্লেখ করে, তিনি শুধু ওই দুই সদস্যের অধিকারই লঙ্ঘন করেননি, বরং মন্ত্রিসভার আরও সাতজন সদস্যকে না জানিয়ে সীমিত কয়েকজনকে নিয়ে একটি বৈঠকের অভিনয় করে আইনি প্রক্রিয়া ভঙ্গ করেছেন।
প্রেসিডেন্ট থাকাকালে ইয়ল ২০২৪ সালের ৩ ডিসেম্বর যে সামরিক আইন জারি করেছিলেন, তা দেশটিকে গভীর রাজনৈতিক সংকটে ফেলে দেয়। এটি রাজনীতি ও উচ্চপর্যায়ের কূটনীতিকে অচল করে দেয় এবং দক্ষিণ কোরিয়ার অর্থনৈতিক পরিস্থিতি অস্থির করে তোলে। এরপর গত বছরের জুন মাসে আগাম প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে উদারপন্থি লি জে মিয়ং জয়ী হওয়ার পর এই অস্থিরতা প্রশমিত হয়।
২০২৪ সালের ১৪ ডিসেম্বর উদারপন্থি রাজনীতিকদের নেতৃত্বাধীন আইনসভা তাকে অভিশংসনের মাধ্যমে সাময়িকভাবে ক্ষমতা থেকে বরখাস্ত করেন। এরপর ২০২৫ সালের এপ্রিল মাসে সাংবিধানিক আদালত তাকে আনুষ্ঠানিকভাবে অপসারণ করেন।
ক্ষমতা থেকে সাময়িক বরখাস্ত হওয়ার পর ইউন সিউলের একটি আদালতের জিজ্ঞাসাবাদের জন্য তাকে আটক করার পরোয়ানা মানতে অস্বীকৃতি জানান। এ ঘটনায় দেশটিতে এক ধরনের অচলাবস্থার সৃষ্টি হয়। পরবর্তী সময়ে ২০২৫ সালের জানুয়ারির শুরুতে কয়েকজন তদন্তকারী প্রেসিডেন্টের বাসভবনে পৌঁছালেও প্রেসিডেন্টের নিরাপত্তা বাহিনী ও যানবাহনের ব্যারিকেডের কারণে তারা বাধাপ্রাপ্ত হন। ওই মাসের শেষের দিকে তাকে আটক করা হয়, তবে মার্চে আরেকটি আদালত তাকে মুক্তি দেয়। পরে জুলাই মাসে আবার তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
এরপর থেকে তিনি হেফাজতেই রয়েছেন। আর তার বিরুদ্ধে চলমান একাধিক ফৌজদারি বিচার প্রক্রিয়া অব্যাহত রয়েছে।
৫১ দিন আগে