বিশ্ব
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৫, আহত ৪০ জনের বেশি
ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপিল) এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রধান ওলেক্সান্দর হাঞ্ঝা জানান, রাতভর চালানো ওই হামলার পর একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার হামলার পর দিনিপ্রোতে ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
হাঞ্ঝা টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘রাশিয়ানরা প্রায় সারা রাত দিনিপ্রোসহ বিভিন্ন শহর ও বসতিতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগে এবং একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও একটি ব্যক্তিগত বাড়ি আংশিকভাবে ধ্বংস হয়। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ওডেসা অঞ্চলেও রাতভর ড্রোন হামলায় দুইজন আহত হন।’
ওডেসা অঞ্চলের প্রধান ওলেহ কিপার জানান, ওই অঞ্চলের দক্ষিণে আবাসিক ভবন, বন্দর অবকাঠামো এবং গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে দিনিপ্রোতে রাশিয়ার পৃথক হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন বলে হাঞ্ঝা জানিয়েছেন। আগের রাতের হামলার শিকার হওয়া একই আবাসিক এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। তিনি জানান, এ ঘটনায় মোট ৪৬ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত এবং এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।
এদিকে, রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার জানায়, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর গালাতিতে একটি আবাসিক এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগেও একাধিকবার রোমানিয়ার ভূখণ্ডে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাতভর এই হামলার আগে শুক্রবার (২৪ এপিল) রাশিয়া ও ইউক্রেন ১৯৩ জন করে যুদ্ধবন্দি বিনিময় করে।
মাসের পর মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনায় তেমন অগ্রগতি না হলেও কয়েকটি ইতিবাচক দিকের মধ্যে একটি ছিল বন্দি বিনিময়। তবে পাঁচ বছর ধরে চলা রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন বন্ধে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমাধান এখনও আসেনি।
৫৫ দিন আগে
ইরান সরাসরি আলোচনা নাকচ করলেও ইসলামাবাদে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প
তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিরা শনিবার পাকিস্তানে যাবেন। তবে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
চুক্তি সম্পাদনের এই সর্বশেষ প্রচেষ্টা এমন এক সময়ে শুরু হচ্ছে যখন একটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি অধিকাংশ লড়াই থামিয়ে রেখেছে। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এর অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি বেড়েই চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে পাকিস্তানের তৎপরতা
চলতি সপ্তাহে কূটনৈতিক তৎপরতার জন্য ইসলামাবাদের অতিরিক্ত সময়ের অনুরোধ রক্ষা করে ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকের জন্য স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে পাঠাবেন। কিন্তু আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পরপরই তার মন্ত্রণালয় জানায় যে, যেকোনো আলোচনা হবে ‘পরোক্ষ’, যেখানে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করবেন।
এর আগে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জেনেভায় আরাঘচি এবং ট্রাম্পের এই দুই প্রতিনিধির মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু কোনো চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরদিনই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে বলেছেন, উইটকফ ও কুশনারকে পাকিস্তানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট যাতে তারা ইরানিদের কথা শুনতে পারেন।
লেভিট বলেন, আমরা গত কয়েক দিনে ইরানের কাছ থেকে কিছু অগ্রগতি লক্ষ করেছি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা ঠিক কী শুনছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
‘জোনস অ্যাক্ট’ মওকুফের মেয়াদ ৯০ দিন বাড়ালেন ট্রাম্প
এদিকে, হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানিয়েছে, ট্রাম্প ‘জোনস অ্যাক্ট’ মওকুফের মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়িয়েছেন। এর ফলে অ-মার্কিন জাহাজগুলোর জন্য তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা সহজ হবে।
হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জ্বালানির দাম স্থিতিশীল করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেল-গ্যাস সরবরাহ সহজ করতে তিনি গত মার্চ মাসে প্রথম ৬০ দিনের জন্য এই আইন মওকুফ করেছিলেন। উল্লেখ্য, যুদ্ধোত্তর সময়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
এই প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে তেহরান। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে তারা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। সামরিক বাহিনীকে মাইন স্থাপন করতে পারে এমন ছোট নৌকাগুলো দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
এই খবরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। ব্যারেল প্রতি ১০৩ থেকে ১০৭ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা এখনও ২৮ ফেব্রুয়ারির (যুদ্ধ শুরুর দিন) তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের এই সংকট এখন বিশ্বের অর্ধেক পথ দূরের পানামা খালসহ বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে।
৫৫ দিন আগে
রাতে আরাঘচির নেতৃত্বে পাকিস্তানে যেতে পারে ইরানের প্রতিনিধিদল
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে আজ শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরুর ক্ষেত্রে এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসলামাবাদের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা এই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, আরাঘচি ও পাকিস্তানি নেতৃত্বের মধ্যে শুক্রবার একাধিকবার টেলিফোনে আলোচনার পরই এই সফরের সিদ্ধান্ত আসে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, এই সফরটি মূলত দ্বিপাক্ষিক— অর্থাৎ আরাঘচি পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকে অংশ নেবেন না। সফর শেষে তিনি মস্কো ও মাস্কাটও সফর করবেন বলে জানানো হয়েছে।
তবে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বড় অগ্রগতির সম্ভাবনা এখনও বিদ্যমান। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে তেহরান তাদের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধের কারণে আলোচনায় ফিরতে অস্বীকৃতি জানায়। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম দফা আলোচনা অমীমাংসিতভাবে শেষ হওয়ার দুই দিন পর ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নৌ অবরোধের ঘোষণা দেন।
এরপর থেকে পরবর্তী আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করলে তারা আলোচনায় ফিরবে না। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন অবরোধ প্রত্যাহারে অনড় অবস্থান বজায় রাখে। এমনকি ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও ওয়াশিংটন তার অবস্থান পরিবর্তন করেনি।
এই অচলাবস্থার মধ্যেই গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ জব্দ করে। এর জবাবে ইরান দুটি জাহাজ আটক করে এবং তৃতীয় একটি জাহাজে গুলি চালায়।
ফলে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিতীয় দফা আলোচনা আদৌ হবে কি না—তা নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
৫৬ দিন আগে
ধুমপান নিষিদ্ধে যুক্তরাজ্যে বিল পাস
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সিগারেট বা ধুমপানের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি বিল পাস হয়েছে। এ ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে দেশটির সচেতন নাগরিকরা।
মঙ্গলবার (২১ এপিল) হাউস অব লর্ডসে আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
দীর্ঘদিন ধরে এই আইনের পক্ষে প্রচারণা চালানো সংস্থা অ্যাকশন অন স্মোকিং অ্যান্ড হেলথের প্রধান নির্বাহী হ্যাজেল চিজম্যান বলেন, ধূমপান নিশ্চিতভাবে মানুষের ভয়াবহ ক্ষতি করে। আইনটি হলে টোব্যাকো অ্যান্ড ভ্যাপস বিলের আওতায় ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য সারা জীবনের জন্য সিগারেট কেনা নিষিদ্ধ করা হবে।
আইনটি কার্যকর হওয়ার আগে রাজা তৃতীয় চার্লসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, যা একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এই আইনটি সরকারকে তামাক, ভ্যাপিং ও নিকোটিনজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেবে, যার মধ্যে ফ্লেভার ও প্যাকেজিংও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে সিগারেট, তামাকজাত পণ্য বা ভ্যাপ বিক্রি করা অবৈধ। তবে নতুন নিয়মে প্রতি বছর সিগারেট কেনার ন্যূনতম বয়স বাড়তে থাকবে, ফলে আজকের অধিকাংশ তরুণ-তরুণী সারা জীবনই এই নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হবে।
বিল পাসের মধ্যে দিয়ে যুক্তরাজ্য বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর ধূমপানবিরোধী ব্যবস্থাগুলোর একটি গ্রহণ করল। এই আইনটি অনেকটা ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের পাস করা আইনের মতো, যদিও পরে নতুন সরকার সেটি বাতিল করে দিয়েছিল।
১৯৭০-এর দশক থেকে এখন পর্যন্ত ব্রিটেনে ধূমপায়ীর সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে। তবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেখানে এখনও প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ ধুমপান করে। এটি যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধূমপানের কারণে দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় । এটি মৃত্যু, অক্ষমতা ও স্বাস্থ্যহানির এক নম্বর কারণ যেটা প্রতিরোধযোগ্য।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্যের শিশুরা হবে প্রথম ধূমপানমুক্ত প্রজন্মের অংশ, যারা আজীবনের এই আসক্তি ও ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’
৫৭ দিন আগে
পাইলটরা ছবি তুলতে গিয়েই সংঘর্ষ হয়েছিল সেই দুই যুদ্ধবিমানের
২০২১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় মাঝ আকাশে দুটি যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার পাঁচ বছর পর অবশেষে দুর্ঘটনার কারণ সামনে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, বিমানের পাইলটরা ছবি তোলা ও ভিডিও করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল, দীর্ঘদিন পর বুধবার (২২ এপ্রিল) তারা এক প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিমানদুটি একটি ফ্লাইট মিশনে থাকাকালে ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় পাইলটরা কোনো আঘাত না পেলেও বিমানদুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা মেরামত করতে দেশটির সামরিক বাহিনীর খরচ হয়েছে ৮৮০ মিলিয়ন ওন।
ওই ঘটনার পর সামরিক বাহিনী ছেড়ে দেওয়া এক পাইলটকে ৮৮ মিলিয়ন ওন জরিমানা করা হয়।
ওই পাইলট মূলত তার শেষ ফ্লাইট স্মরণীয় করে রাখতেই কিছু ছবি তুলতে চেয়েছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইটের আগে দেওয়া ব্রিফিংয়ে তার এই ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
অডিট বোর্ড জানায়, গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট থেকে ছবি তোলা তখন পাইলটদের মধ্যে ‘ব্যাপকভাবে প্রচলিত’ ছিল। ঘটনার আগমূহুর্তে অভিযুক্ত পাইলট উইংম্যান বিমানটি চালাচ্ছিলেন এবং মিশনের সময় লিড বিমানের অনুসরণ করছিলেন। এরপর বেসে ফেরার সময় তিনি তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ছবি তুলতে শুরু করেন। বিষয়টি লক্ষ করে লিড বিমানের পাইলট তার সঙ্গী আরেক পাইলটকে উইংম্যান বিমানের ভিডিও ধারণ করতে বলেন। এরপর উইংম্যান হঠাৎ করে তার জেট বিমানটি আরও উঁচুতে নিয়ে যান এবং ক্যামেরায় ভালোভাবে ধরার জন্য সেটিকে উল্টে দেন। এর ফলে দুটি বিমান খুব কাছাকাছি চলে আসে।
সংঘর্ষ এড়াতে সে সময় লিড বিমানটি দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিমানদুটির সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় লিড বিমানের বাঁ দিকের ডানা এবং উইংম্যানের বিমানের লেজের স্ট্যাবিলাইজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ওই ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিমানবাহিনী পাইলট উইংম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করে। বরখাস্ত হওয়ার পর সামরিক বাহিনী ছেড়ে একটি বাণিজ্যিক এয়ারলাইনে কাজ শুরু করেন তিনি।
পরবর্তীতে, মেরামতের পুরো খরচ আদায় করতে বিমান বাহিনী উইংম্যানকে ৮৮০ মিলিয়ন ওন জরিমানা করতে চায়। তবে পাইলট যখন এই জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেন, তখন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্ত চলাকালে উইংম্যান স্বীকার করেন যে তার এই কৌশলী চালনার কারণেই সংঘর্ষ হয়েছিল। তবে তিনি যুক্তি দেন যে লিড বিমানের পাইলটও এ বিষয়ে ‘নীরব সম্মতি’ দিয়েছিলেন, কারণ ভিডিও ধারণের বিষয়টি তিনি দেখেছিলেন।
শেষ পর্যন্ত তদন্ত কমিটি থেকে সিদ্ধান্ত হয় যে উইংম্যানকে বিমানবাহিনী যে জরিমানা করতে চেয়েছিল, তার এক-দশমাংশ পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি পাইলটদের ব্যক্তিগতভাবে ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়ে যথাযথ নিয়ম না থাকায় বিমান বাহিনীরও এ ঘটনায় কিছু দায় রয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
৫৮ দিন আগে
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি করছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন দফার শান্তি আলোচনা স্থগিত থাকা অবস্থায় এবং পূর্বনির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র একদিন আগে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ পদক্ষেপের ফলে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত প্রশমিত হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার এই আলোচনার আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু তেহরান আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টায় সাড়া না দেওয়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পরিকল্পিত ইসলামাবাদ সফর স্থগিত করে হোয়াইট হাউজ।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে ট্রাম্পের এই ঘোষণায় ইরান এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে উভয় দেশই এর আগে সতর্ক করেছিল যে, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে তারা পুনরায় লড়াই শুরু করতে প্রস্তুত।
উভয় দেশকে আলোচনায় বসাতে মরিয়া পাকিস্তান
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উভয় পক্ষকে দ্বিতীয় দফার যুদ্ধবিরতি আলোচনায় রাজি করাতে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
পরবর্তীতে শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের অনুরোধ সদয়ভাবে গ্রহণ করার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন যে, আরও আলোচনায় বসবেন কি না সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি এর কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডের’ কথা উল্লেখ করেন, যা মূলত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধকেই ইঙ্গিত করে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ সফর আপাতত স্থগিত করায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনার মঙ্গলবার বিকেলে ওয়াশিংটনে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প যেকোনো সময় তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন। তবে ভবিষ্যতে কী ঘটবে সে বিষয়ে কোনো পূর্বাভাস দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, পুনরায় বিমান হামলা শুরু করা ছাড়াও ট্রাম্পের হাতে আরও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।
এখনও অনড় উভয় পক্ষ
এদিকে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, বুধবারের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে প্রচুর বোমা বর্ষণ শুরু হবে। অন্যদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক বলেছিলেন যে, তেহরানের কাছে রণক্ষেত্রের নতুন কিছু তুরুপের তাস রয়েছে যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একজন ঊর্ধ্বতন কমান্ডার হুমকি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে তিনি এই অঞ্চলের তেল শিল্প ধ্বংস করে দেবেন। জেনারেল মজিদ মৌসাভি একটি ইরানি নিউজ সাইটকে বলেন, যদি দক্ষিণের প্রতিবেশীরা শত্রুকে ইরানের ওপর হামলা চালাতে তাদের স্থাপনা ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদনকে তাদের বিদায় জানাতে হবে।
আলোচনার কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ
জাতিসংঘে নিযুক্ত তেহরানের দূত মঙ্গলবার বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে প্রস্তুত বলে তেহরান কিছু সংকেত পেয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানান, অবরোধের অবসানই ইরানের শান্তি আলোচনায় ফেরার প্রধান শর্ত। তিনি বলেন, যখন এটি ঘটবে, আমি মনে করি তখনই পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
যুদ্ধের পূর্বে বিশ্বের ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালিটির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এই অবরোধ আরোপ করেছিল।
এই প্রণালিতে ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অপরিশোধিত তেলের দাম মঙ্গলবার ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের দিন) থেকে ৩০ শতাংশেরও বেশি।
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ছিল। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, জাহাজগুলোকে আবারও কোনো বাধা ছাড়াই চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।
গত সপ্তাহের শেষের দিকে ইরান জানিয়েছিল যে তারা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নতুন প্রস্তাব পেয়েছে, তবে তারা এটিও জানিয়েছিল যে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে গেছে।
ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, তাদের আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীসমূহ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের মতো ইস্যুগুলো নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় গত দফার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন বাহিনীর আরোহণ
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে, এশিয়ায় ইরানি অপরিশোধিত তেল পাচারের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে পেন্টাগন জানিয়েছে যে, মার্কিন বাহিনী কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ‘এম/টি টিফানি’ নামক জাহাজে আরোহণ করেছে।
দেশটির সামরিক বাহিনী জাহাজটিতে ঠিক কোথায় তল্লাশি চালানো হয়েছে তা জানায়নি, তবে জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী মঙ্গলবার টিফানি শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যবর্তী ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছিল। পেন্টাগনের বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, আন্তর্জাতিক জলসীমা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় নয়।
এর আগে, গত রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ইরানি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করেছিল, যা ছিল অবরোধ চলাকালীন প্রথম কোনো জাহাজ আটকের ঘটনা। তেহরানের যৌথ সামরিক কমান্ড এই সশস্ত্র অভিযানকে জলদস্যুতা এবং যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
আলোচনা নিয়ে আশাবাদী পাকিস্তান
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ইরানও আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবে। এর আগে, ১১ ও ১২ এপ্রিল প্রথম দফার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
পাকিস্তান জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মঙ্গলবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। উল্লেখ্য, চীন ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।
এদিকে, পুরো ইসলামাবাদজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে এবং টহল বৃদ্ধি করেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, মহাসচিব এই যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধিকে উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনীতি এবং আস্থা তৈরির একটি প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করবে।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হবে
লেবাননে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, গত শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর তারা প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা একে ইসরায়েল কর্তৃক প্রকাশ্য ও নথিবদ্ধ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছে।
তাদের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা এবং তাদের ঘরবাড়ি ও গ্রাম ধ্বংস করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, তারা হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘বাফার জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল বজায় রাখতে চান—যেখানে অনেকগুলো গ্রামের বাসিন্দাদের এখনও ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ইসরায়েলি, লেবাননি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, আগামী বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। পর্দার আড়ালের এই আলোচনার গুরুত্ব বিবেচনায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন।
গত সপ্তাহে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা সরাসরি কূটনৈতিক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। ইসরায়েল বলছে, এই আলোচনার লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং লেবাননের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে যৌথ হামলা চালানোর দুই দিন পর ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই শুরু হয়। লেবাননে এই লড়াইয়ে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে অন্তত ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে এক ১০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে ১৫ জন ইসরায়েলি সৈন্য এবং ১৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
৫৮ দিন আগে
ইরান যুদ্ধে ব্যয় করা মার্কিন অর্থে প্রাণ বাঁচত ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের: জাতিসংঘ
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সংস্থার (ওসিএইচএ) প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তার ‘বেপরোয়া’ যুদ্ধে প্রতি সপ্তাহে যে ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করছেন, তা দিয়ে ৮ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ এপ্রিল) লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে দেওয়া এক বক্তৃতায় সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক ও একাধিক প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ফ্লেচার এ কথা বলেন।
ফ্লেচারের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইরানকে বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকির মতো সহিংস ভাষার স্বাভাবিকীকরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ এটি প্রতিটি ‘সম্ভাব্য স্বৈরাচারীকে’ একই ধরনের হুমকি এবং কৌশল ব্যবহারে উৎসাহিত করে।
এ সময় ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদেরও সমালোচনা করেছেন তিনি। ফ্লেচারের অভিযোগ, ব্রিটিশ রাজনীতিবিদরা গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়িতে লিপ্ত যা যুক্তরাজ্যকে একটি ‘রক্ষণাত্মক অবস্থানে’ ফেলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক সাহায্য খাতে কাটছাঁট এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, এখন বিভিন্ন সম্মেলনে যখন যুক্তরাজ্য এই বিষয়ে নিজেদের ‘নেতৃস্থানীয়’ বলে দাবি করে, তখন উপস্থিতরা মুচকি হাসে।
মানবিক বিষয় ও জরুরি ত্রাণবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং ওসিএইচএর প্রধান ফ্লেচার বর্তমানে মানবিক সহায়তা তহবিলের চরম সংকটের সঙ্গে লড়াই করছেন। তিনি একে ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ তার বাজেট ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
তিনি জানান, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কারণে নয়, বরং আদর্শগত কারণ এবং প্রতিরক্ষা বাজেটের চাহিদার সংমিশ্রণে আন্তর্জাতিকভাবে বৈদেশিক সাহায্যে যে কাটছাঁট করা হয়েছে, তারই ফল।
ফ্লেচার বলেন, ইরানের যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে। খাদ্য ও জ্বালানি মুদ্রাস্ফীতি ২০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়ে তিনি বলেন, সাব-সাহারা আফ্রিকা এবং পূর্ব আফ্রিকায় আমরা আগামী কয়েক বছর এর প্রভাব অনুভব করব, যা আরও বহু মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেবে।
ফ্লেচার বলেন, এই যুদ্ধের প্রতিটি দিনের জন্য ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য আমার তৈরি করা ‘অত্যন্ত অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনা’র পুরো লক্ষ্যমাত্রা হলো ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এই বেপরোয়া যুদ্ধের দুই সপ্তাহের কম সময়ের খরচ দিয়ে আমরা সেই অর্থায়ন করতে পারতাম। কিন্তু এখন আমরা তা পারছি না।
তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করেই এই ধারণাটি স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে ‘আমরা সবকিছু উড়িয়ে দেব, আমরা তোমাদের বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব, তোমাদের সভ্যতা ধ্বংস করে দেব’। এই ধরনের ভাষার স্বাভাবিকীকরণকে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এটি বিশ্বের অন্যান্য স্বৈরাচারী হতে চাওয়া ব্যক্তি, যারা আন্তর্জাতিক আইন সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে বেসামরিক অবকাঠামো এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায়, তাদের এই ধরনের ভাষা এবং কৌশল ব্যবহার করতে আরও সুযোগ করে দেয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ককে একটি ‘চরম অনিশ্চয়তা বা রোলারকোস্টার রাইড’ হিসেবে বর্ণনা করেন ফ্লেচার। তবে তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের টিমকে এটি বোঝাতে কিছুটা সফল হয়েছি যে জাতিসংঘ কেবল একদল অযোগ্য, অকেজো ও ক্লান্ত আমলাদের আস্তানা নয়।’
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সমালোচনা করে ওসিএইচএর প্রধান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং আবাসন ব্যবসা পরিচালনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমি ট্রাম্প প্রশাসনে যাদের সঙ্গে কাজ করছি, তাদের বেশিরভাগই আবাসন ব্যবসা থেকে আসা। বিশ্বের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।
রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সব কাজ শেষ করার পর প্রক্রিয়ার শেষে করমর্দন করে। কিন্তু আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তরা আগে করমর্দন করে দেখে যে ‘আমি কি এই ব্যক্তিকে বিশ্বাস করতে পারি?’ এবং তারপর বলে ‘চলুন চুক্তি করি’... এটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতি কম আগ্রহী, তাই জাতিসংঘের পতাকা নিয়ে প্রবেশ করলে তা আপনাকে খুব একটা সাহায্য করবে না।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে আমরা যারা যুক্ত, তারা নিশ্চয়তা, স্থিতিশীলতা এবং প্রক্রিয়া পছন্দ করি। আমাদের প্রোটোকল, মানচিত্র এবং পতাকার দিকে তাকালেই তা বোঝা যায়। আমরা শৃঙ্খলা পছন্দ করি, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, বিশৃঙ্খলা বেশি কার্যকর। তারা মনে করে অনিশ্চয়তা, প্রতিপক্ষ ও বন্ধুকে অপ্রস্তুত করে দেওয়ার মাধ্যমে তারা বেশি ফলাফল পান। আমরা দেখব শেষ পর্যন্ত কী হয়।
ফ্লেচার বলেন, ট্রাম্প যদি ১৪টি যুদ্ধ শেষ করেন, তবে তাকে এর জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হোক; তবে কেবল কথা না বলে কাজগুলো আসলে শেষ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, গর্ভপাত বা ট্রান্সজেন্ডার অধিকারের মতো বিষয়গুলোতে যদি নতুন কোনো শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, তবে মার্কিন সহায়তা গ্রহণ করবেন কি না—এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তিনি রাতে ঘুমাতে পর্যন্ত পারছেন না।
তিনি বলেন, প্রশ্ন হলো, সেই শর্ত মেনে আমরা কি সেই টাকা নেব, এটা জেনেও যে তা লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাবে? নাকি নেব না? শর্ত মেনে নেওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।
ফ্লেচারের দাবি, যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক কাঠামোটি ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হচ্ছে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সম্পূর্ণরূপে মেরুকৃত। তার ভাষ্য, আমরা এখন একটি লেনদেনমূলক ভূ-রাজনৈতিক মুহূর্তে রয়েছি যেখানে সদস্য দেশগুলো নিরাপত্তা পরিষদকে এমন একটি যন্ত্র হিসেবে দেখে না যার মাধ্যমে তাদের বিশ্ব শান্তির জন্য কাজ করা উচিত।
বাজেট কাটছাঁটের ফলে এর প্রভাব বিশাল হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি যদি কোনো সংস্থা বা এজেন্সির প্রধান হতাম এবং আমার ৫০ বিলিয়ন ডলারের সংস্থাটি যদি এই বছর ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসত, তবে সম্ভবত এতক্ষণে আমি বরখাস্ত হতাম।
আমার পরিসংখ্যানগুলো সুখকর নয়। একদিকে অর্থ কমে আসছে, অন্যদিকে প্রয়োজন বেড়ে বাড়ছে। এটি মূলত ব্যর্থতার একটি ধরন, তাই আমাদের ভিন্ন কিছু করতে হবে।
যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে মার্কিন কাটছাঁট অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কঠিন ছিল (কারণ অতীতে তারা তহবিলের ৪০ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ সরবরাহ করত), তবে পুরো ইউরোপজুড়েই এ সাহায্য কমছে।
বিগত সময়ে মোট জাতীয় আয়ের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বৈদেশিক সাহায্যে ব্যয় করার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের জন্য কয়েক দশক ধরে এ ব্যয় করার বিষয়টি ছিল একটি পবিত্র দলীয় প্রতিশ্রুতি যা গত কয়েক বছরে ধুলোয় মিশে গেছে।
তিনি বলেন, এই কাটছাঁট যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় খুবই সামান্য, কিন্তু এর ফলে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। কারণ যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত অন্যান্য দেশকেও একই অজুহাত দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।
যুক্তরাজ্য প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য এখন নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত এবং গত ১০ বছর ধরে এটিই চলছে। একপর্যায়ে তাদের এই রক্ষণাত্মক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, ২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের প্রকৃত সম্পদ যেমন: ত্রাণকার্যে নেতৃত্ব, বিবিসি, সৃজনশীল শিল্প, প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা এবং সামরিক শক্তির মতো জায়গাগুলো ধ্বংস করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যেখানে আমাদের বিনয়ী হওয়া উচিত, সেখানে আমরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী এবং যেখানে আমাদের আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিত, সেখানে আমরা অতিরিক্ত বিনয়ী হওয়ার প্রবণতা দেখাই। তবে এই মুহূর্তে শান্তভাবে দক্ষতা দেখানোই শ্রেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মানবতাকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, গত তিন বছরে ১ হাজার জনেরও বেশি কর্মী নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে অনেকেই ড্রোন হামলার শিকার।
ফ্লোচার বলেন, আমরা হচ্ছি জরুরি সেবা সংস্থা, আমরা ফায়ার ইঞ্জিন বা অ্যাম্বুলেন্সকর্মীর মতো যারা বেঁচে যাওয়া মানুষদের সাহায্য করতে যাই। কিন্তু কেন জানি এটি এখন এমনই গ্রহণযোগ্য হয়ে গেছে যে আমাদের বিপুল সংখ্যায় হত্যা করা হচ্ছে। আবার যারা আমাদের হত্যা করছে, তাদের কোনো জবাবদিহিতাও নেই।
নিরাপত্তা পরিষদের এক সদস্যকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমাদের কেবল সাধারণ কোনো বিবৃতি দেবেন না যে ‘মানবিক কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া উচিত’, বরং ফোন তুলুন। যারা আমাদের মারছে, তাদের নাম ধরে ডাকুন; যারা এই কাজ করছে, তাদের অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করুন।
৫৯ দিন আগে
প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে জাপান
জাপানে যুদ্ধবিমানসহ প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী নীতি থেকে সরে যাবে দেশটি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক্স পোস্টে এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেন তাকাইচি। তবে জাপান কোন কোন অস্ত্র বিদেশে বিক্রি করবে, সেটা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।
এ বিষয়ে জাপানি সংবাদপত্রগুলো জানিয়েছে, এই অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজ।
পোস্টে তাকাইচি বলেন, ‘এই সংশোধনের মাধ্যমে নীতিগতভাবে সব ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামই রপ্তানি করা যাবে। তবে গ্রাহক দেশগুলোকে অবশ্যই জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগুলো ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান বিশ্বের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজস্ব শান্তি ও নিরাপত্তা একা নিশ্চিত করতে পারা বিশ্বের সব দেশের জন্যই চ্যালেঞ্জ।’
জাপানের চুনিচি পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের ফলে অন্তত ১৭টি দেশ জাপানে তৈরি অস্ত্র কিনতে পারবে। তবে আরও কিছু দেশ এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে যুক্ত হলে তালিকা বাড়তে পারে।
আসাহি পত্রিকা জানায়, ১৯৬৭ সালে প্রণীত এবং ১৯৭৬ সালে কার্যকর করা চুক্তি অনুযায়ী জাপান কেবল নজরদারি ও মাইন অপসারণে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের মতো অপ্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানি করতে পারে।
পত্রিকাটি আরও জানায়, বর্তমানে যুদ্ধ চলছে এমন দেশগুলোতে অস্ত্র রপ্তানি সীমিত থাকবে। তবে ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ বিবেচনায় ব্যতিক্রম করা যেতে পারে।
চুনিচি পত্রিকা জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র উল্লেখ করে জানায়, জাপানের তৈরি অস্ত্র কিনতে আগ্রহী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া, যারা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ৭০০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পরপরই টোকিওর এই নীতিগত পরিবর্তন এল।
৫৯ দিন আগে
বিটিএসের পৃষ্ঠপোষক কে-পপ মোগলকে খুঁজছে দ. কোরিয়ার পুলিশ
বিনিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগে বিখ্যাত কোরিয়ান কে-পপ সংগীত ব্যান্ড বিটিএসের পৃষ্ঠপোষক সংগীত মোগল ব্যাং সি-হিউককে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ। জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অবৈধ অর্থ উর্পাজন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্যাং সি-হিউক স্বনামধন্য মিউজিক কোম্পানি হাইবের (HYBE) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। গত বছরের নভেম্বর থেকেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলছে। সরকারপক্ষের আইনজীবীর কাছে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির অনুরোধ করেছে সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সি।
ব্যাং হিউকের আইনজীবী দলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। তবে ওই অভিযোগের বিষয়ে কোনো জবাব না দিয়ে এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তে ‘সম্পূর্ণ সহযোগিতা’ করা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, ‘আমরা সব আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা চালিয়ে যাব এবং আমাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
কোরিয়ান এই সংঙ্গীত মোগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০১৯ সালে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে বলেছিলেন আপাতত তার কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। এর ফলে অন্যান্য বিনিয়োগকারীরা তার কথায় প্ররোচিত হয়ে হাইবের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) নিয়ে অগ্রসর হওয়ার আগেই তাদের শেয়ার একটি প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ডের কাছে বিক্রি করা হয়।
পুলিশের ধারণা, ওই ফান্ড মূলত একটি গোপন চুক্তির যেখানে আইপিও-পরবর্তী শেয়ার বিক্রির লাভের ৩০ শতাংশ দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে তাকে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ওন (১৩৬ মিলিয়ন ডলার) প্রদান করা হয়েছে।
২০০৫ সালে বিগ হিট এন্টারটেইনমেন্ট হিসেবে হাইব প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ব্যাং সি-হিউক পপ সংগীত শিল্পের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিটিএস ছাড়াও তিনি সেভেনটিন, লে সেরাফিম এবং কাটসেয়ের মতো জনপ্রিয় শিল্পীদের তত্ত্বাবধান করেন।
গত মাসে সিউলে অনুষ্ঠিত বিনামূল্যের একটি ক্যামব্যাক কনসার্টে বিটিএস হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ভক্তের সামনে পারফর্ম করে। এছাড়া তারা দক্ষিণ কোরিয়ার গয়াং শহর এবং টোকিওতেও একাধিক কনসার্ট করেছে। চলতি মাসের শেষ দিকে ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় একটি কনসার্টের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ইভেন্ট সিরিজ শুরু করার কথা রয়েছে। তবে বর্তমানের এই আইনি জটিলতায় হাইবে একটি বড় জনসংযোগ সংকট তৈরি হয়েছে।
৫৯ দিন আগে
গাজা পুনর্গঠনে এক দশকে ৭১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ প্রয়োজন: প্রতিবেদন
ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত গাজার পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য আগামী ১০ বছরে ৭১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে বলে একটি নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রকাশিত গাজা র্যাপিড ড্যামেজ অ্যান্ড নিডস অ্যাসেসমেন্টের (আরডিএনএ) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।
চূড়ান্ত এই প্রতিবেদনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই সংঘাত গাজায় মানব উন্নয়নে ‘ভয়াবহ প্রভাব’ ফেলেছে এবং সেখানে খুব শিগগিরই প্রচুর পরিমাণ অর্থ সহায়তার প্রয়োজন।
প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজা পুনর্গঠনের প্রথম ১৮ মাসেই জরুরি পরিষেবা পুনরুদ্ধার, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে ২৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।
প্রতিবেদনটির পৃষ্ঠপোষক ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজার ভৌত অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
গাজায় অক্টোবর মাসে একটি দুর্বল ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হয়েছিল। তবে চুক্তি লঙ্ঘন করে বারবার হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকার ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শুধু যুদ্ধবিরতির পর থেকেই নিহত হয়েছেন ৭৭৭ জন। এর মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিলের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহও রয়েছেন। তিনি ৮ এপ্রিল গাজা সিটির পশ্চিমে একটি ড্রোন হামলায় নিহত হন।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানায়, ইসরায়েল ‘যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘন করে মোট ২ হাজার ৪০০টি অপকর্মের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার, অবরোধসহ নানান ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া জনপদ
জাতিসংঘ জানায়, ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে যুদ্ধবিধস্ত গাজায় ৬১ মিলিয়ন টনের বেশি ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে অনেক জনপদ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। আরডিএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮৮৮টি আবাসিক ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫০ শতাংশের বেশি হাসপাতাল অকার্যকরসহ প্রায় সব স্কুল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার অর্থনীতি ৮৪ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য ও কৃষি। এই সংঘাত গাজার মানব উন্নয়নকে ৭৭ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে শাসন হস্তান্তরকে সমর্থন করে এমন দেশের প্রতি গাজা পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।
৫৯ দিন আগে