বিশ্ব
সৌদি আরবে আরামকোর হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত, ১৪ আরোহী নিহত
সৌদি আরবে বিশ্বের বৃহত্তম তেল কোম্পানি আরামকোর একটি হেলিকপ্টার বিধ্বস্ত হয়ে ১৪ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৮) সকাল ৬টার দিকে রাস তানুরা এলাকায় এ দুর্ঘটনা ঘটে।
নিহতদের সবাই সৌদি নাগরিক বলে দেশটির জ্বালানি মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, হেলিকপ্টারটি সৌদি আরব সরকারের সংখ্যাগরিষ্ঠ মালিকানাধীন তেল কোম্পানি আরামকোর ছিল। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে ইতোমধ্যে তদন্ত শুরু হয়েছে।
সম্প্রতি ইরান যুদ্ধের কারণে তেল সরবরাহ ব্যাহত হওয়া এবং দাম বৃদ্ধি পাওয়ায় আরামকোকে নতুন পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে হচ্ছে। কোম্পানিটি জানিয়েছে, ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার পর সৃষ্ট বিঘ্ন এড়াতে তারা কিছু তেল রপ্তানি পাইপলাইনের মাধ্যমে সরিয়ে নিতে সক্ষম হয়েছে।
১২১ দিন আগে
ফ্রান্সে স্কাইডাইভিং বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ১১
ফ্রান্সের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে একটি স্কাইডাইভিং বিমান বিধ্বস্ত হয়ে আরোহী ১১ জনের সবাই নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (২৮ জুন) ন্যান্সি শহরের উপকণ্ঠে অবস্থিত ন্যান্সি-এসি বিমানঘাঁটি থেকে উড্ডয়নের পরপরই বিমানটি যান্ত্রিক ত্রুটির শিকার হয় এবং ‘প্রায় উল্লম্বভাবে’ নিচে আছড়ে পড়ে বলে জানিয়েছেন মিউর্ত-এ-মোজেল অঞ্চলের প্রিফেক্ট ইভ সেগুই।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম বিএফএম-টিভিকে তিনি বলেন, বিমানটি বিমানঘাঁটির কাছাকাছি একটি জনবসতিপূর্ণ এলাকার সীমানায় বিধ্বস্ত হয়।
ইভ সেগুই বলেন, ‘দুর্ঘটনাটি যদি আর কয়েক মিটার দূরে ঘটত, তাহলে আরও হতাহতের ঘটনা ঘটতে পারত।’
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, বিমানটি একটি স্কাইডাইভিং ক্লাবের মালিকানাধীন ছিল এবং প্যারাশুট জাম্প কার্যক্রমে অংশ নিচ্ছিল।
দুর্ঘটনার পরপরই জরুরি সেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানে প্রত্যক্ষদর্শীদের সাক্ষ্য সংগ্রহ করছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১২১ দিন আগে
করাচিতে জঙ্গি হামলায় পাকিস্তান রেঞ্জার্সের ৩ সদস্য নিহত
পাকিস্তানের করাচিতে জঙ্গি হামলায় দেশটির আধাসামরিক বাহিনী পাকিস্তান রেঞ্জার্সের ৩ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪ জন।
অন্যদিকে, পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষের সময় নিরাপত্তা বাহিনীর গুলিতে ৩ হামলাকারীও নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে আরও একজনকে আহত অবস্থায় আটক করেছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৭ জুন) রাতে করাচিতে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের আঞ্চলিক সদর দপ্তরে জঙ্গি হামলার সময় উভয় পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষে এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীদের তথ্য অনুযায়ী, শনিবার রাতে জঙ্গিদের একটি দল বিস্ফোরকবোঝাই একটি গাড়ি নিয়ে পাকিস্তান রেঞ্জার্সের সদর দপ্তরে ঢুকে পড়ে। সেখানে বিস্ফোরণের পর নিরাপত্তাবাহিনীর সঙ্গে জঙ্গিদের তীব্র গোলাগুলি শুরু হয়।
দেশটির সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এ ঘটনায় নিরাপত্তাবাহিনী তিন হামলাকারীকে হত্যা করেছে এবং তাদের মধ্যে একজনকে আহত অবস্থায় আটক করেছে। আটক ব্যক্তি একজন আফগান নাগরিক বলে শনাক্ত করেছে পুলিশ।
এছাড়া সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, এ হামলার পর জঙ্গি গোষ্ঠীদের নির্মূলে অভিযান চালাচ্ছেন তারা। একই সঙ্গে হামলাকারীদের বিরুদ্ধে যথাযথ প্রতিশোধ নেওয়া হবে বলেও হুঁশিয়ারি দিয়েছে দেশটির সামরিক বাহিনী।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের ভেতরে একাধিকবার বিমান হামলা চালিয়েছে। তাদের দাবি, পাকিস্তানে হামলাকারী জঙ্গিদের লক্ষ্যবস্তু করে তারা এসব হামলা চালিয়েছে।
তবে আফগানিস্তানের কর্তৃপক্ষ বারবার এ অভিযোগ অস্বীকার করে আসেছে। আফগানিস্তান সরকারের দাবি, তাদের ভূখণ্ড ব্যবহার করে কোনো জঙ্গিগোষ্ঠী পাকিস্তানে হামলা চালানোর সুযোগ পায় না।
এদিকে, হামলার কিছুক্ষণ পরই পাকিস্তানি তালেবানের (টিটিপি) বিচ্ছিন্ন একটি অংশ জামাত-উল-আহরার এ হামলার দায় স্বীকার করেছে।
পাকিস্তানের সামরিক বাহিনী জামাত-উল-আহরার গোষ্ঠীটিকে ভারতের মদদপুষ্ট বলে দাবি করে। তবে এ দাবির পক্ষে তারা কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেনি। এ বিষয়ে ভারতের পক্ষ থেকেও তাৎক্ষণিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি। এর আগে, পাকিস্তানের একই ধরনের অভিযোগ অস্বীকার করেছিল ভারত।
পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলি জারদারি জঙ্গি হামলায় নিহত তিন রেঞ্জার সদস্যকে ‘শহিদ’ হিসেবে অভিহিত করে তাদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়েছেন। প্রেসিডেন্টের কার্যালয় থেকে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করেন।
তিনি জঙ্গিবাদ মোকাবিলায় পাকিস্তানের নিরাপত্তা বাহিনীর আত্মত্যাগের প্রশংসা করেছেন। একই সঙ্গে সন্ত্রাসবাদ নির্মূলে জাতির দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেছেন তিনি।
প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফও এ হামলার নিন্দা জানিয়েছেন। তিনি হামলা প্রতিহত করায় নিরাপত্তা বাহিনীর প্রশংসা করেছেন।
উল্লেখ্য, সাম্প্রতিক বছরগুলোতে পাকিস্তানে পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীকে লক্ষ্য করে জঙ্গি হামলার ঘটনা উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
দেশটির সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, জঙ্গিগোষ্ঠী ও তাদের সহযোগীদের নির্মূল করতে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় তাদের অভিযান অব্যাহত রয়েছে।
১২১ দিন আগে
ভেনেজুয়েলায় বাড়ছে হতাশা ও ক্ষোভ, ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১,৪৩০
ভেনেজুয়েলের লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যে উদ্ধারকর্মী ও সাধারণ মানুষ যখন ধ্বংসস্তূপের নিচে বেঁচে থাকা মানুষদের খুঁজছে, তখন সময় গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে সেখানে উত্তেজনা ও মরিয়া ভাব আরও বাড়ছে। দেশটিতে শক্তিশালী জোড়া ভূমিকম্পের পর এরই মধ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৪৩০ জনে দাঁড়িয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যায় দক্ষিণ আমেরিকার দেশটিতে ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার পর শনিবার পর্যন্ত অন্তত ৬৮ হাজার ৯০০ জন নিখোঁজ থাকার তথ্য জানিয়েছে পরিবারগুলো।
ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত রাজ্যগুলোর অন্যতম লা গুয়াইরা। সেখানকার ধসে পড়া কংক্রিটের স্তূপের ওপর দাঁড়িয়ে স্বজন ও প্রতিবেশীদের খোঁজে কোদাল, ভারী যন্ত্রপাতি, দড়ি ও খালি হাতেই উদ্ধারকাজ চালাচ্ছেন স্থানীয় বাসিন্দারা। তাদের সঙ্গে যোগ দিয়েছে আন্তর্জাতিক উদ্ধারকারী দলগুলোও। ধসে পড়া ভবনের ফাটল গলে তাদের ভেতরে ঢোকার দৃশ্য শোকসন্তপ্ত পরিবারগুলোর মনে ক্ষীণ হলেও আশার আলো জাগাচ্ছে।
তবে সরকারের অপর্যাপ্ত পদক্ষেপের কারণে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ এখন চরমে পৌঁছেছে। দেশটির সেনাবাহিনী, ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ ও সামরিক ক্যাডেটদের উপস্থিতি থাকলেও এত বড় দুর্যোগ মোকাবিলায় তাদের প্রস্তুতিতে স্পষ্ট ঘাটতি লক্ষ করা গেছে। এর মধ্যেই সরকারি তৎপরতা খুব জোরালো, সরকারের এমন একটি ভাবমূর্তি জাহির করার চেষ্টায় সাধারণ মানুষের ক্ষোভ আরও বেড়েছে।
সহায়তা সংস্থাগুলোর মতে, ধ্বংসস্তূপ থেকে মানুষকে জীবিত উদ্ধারের জন্য প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে খাবার ও পানির উৎস থাকলে এই সময়সীমা আরও বাড়তে পারে। ভেনেজুয়েলার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, শনিবার পর্যন্ত ১ হাজার ৬০০-রও বেশি উদ্ধারকর্মী নিয়ে ১৭টি বিমান দেশটিতে অবতরণ করেছে।
১২২ দিন আগে
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৯২০: জীবিত উদ্ধারের সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, বাড়ছে হতাশা
ভেনেজুয়েলায় ভয়াবহ জোড়া ভূমিকম্পের পর ৭২ ঘণ্টার সময় শেষের পথে। এরই মধ্যে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯২০ জনে দঁড়িয়েছে। তবে দুর্ঘটনার পর তিন দিন অতিক্রান্ত হয়ে যাওয়ায় ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকে পড়াদের জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা আস্তে আস্তে ক্ষীণ হয়ে আসছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবরে বলা হয়েছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও বহু মানুষ আটকে রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে উদ্ধার তৎপরতায় বিশৃঙ্খলা, জনসমাগম এবং পর্যাপ্ত সরকারি সহায়তার অভাবে তাদের জীবিত উদ্ধারের প্রক্রিয়া আরও জটিল হয়ে পড়েছে।
ভেনেজুয়ায় ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে ঘরবাড়ি ও বহুতল ভবন ধসে পড়ার তিন দিন পরও স্বজনদের খোঁজে সাধারণ মানুষ নিজেরাই ধ্বংসস্তূপ সরানোর চেষ্টা করছেন।
১২২ দিন আগে
ভেনেজুয়েলায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৬৪, আহত ৯৭১
ভেনেজুয়েলায় আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৬৪ জনে দাঁড়িয়েছে। আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৯৭১ জন। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে ক্যারিবীয় উপকূলের মোরন শহরের পশ্চিমে, দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, এর গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার।
মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মোরনের দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৬ কিলোমিটার দূরে এবং গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
রদ্রিগেজ বলেন, ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। এছাড়া দুর্গত এলাকাগুলোর সব জায়গায় জরুরি সেবা পৌঁছাতে পারেনি। উদ্ধারকারী দলগুলো সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে দ্রুত পৌঁছানোর চেষ্টা করছে।
এই ভূমিকম্প গত এক শতাব্দীরও বেশি সময়ের মধ্যে ভেনেজুয়ার সবচেয়ে শক্তিশালী ভূমিকম্পগুলোর অন্যতম। ভূমিকম্পের কম্পন পুরো অঞ্চলে অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পে দেশটির প্রধান আন্তর্জাতিক বিমানবন্দর ক্ষতিগ্রস্ত হয়ে বন্ধ হয়ে গেছে। এছাড়া রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় এক হাজার ৭০০ কিলোমিটার দূরের ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলেও বিভিন্ন ভবন থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
বৃহস্পতিবার টেলিভিশনের ফুটেজে দেখা যায়, ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপে উদ্ধারকর্মীরা বিদ্যুৎচালিত যন্ত্রপাতি ব্যবহার করে আটকে পড়াদের উদ্ধারের চেষ্টা চালাচ্ছেন। রাজধানীর বাসিন্দারা আতঙ্কে রাস্তায় নেমে আসেন। ভূমিকম্পের পর অনেককে ধসে পড়া ভবন ও উপড়ে পড়া বৈদ্যুতিক খুঁটির ধ্বংসাবশেষের মধ্যে নিখোঁজ স্বজনদের খোঁজ করতে দেখা যায়।
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত ফুটেজে দেখা যায়, লা গুইরা অঙ্গরাজ্যে ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে ধুলায় ঢাকা জীবিত অবস্থায় তিন শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। রদ্রিগেজ লা গুইরাকে ‘দুর্যোগকবলিত এলাকা’ হিসেবে বর্ণনা করে বলেন, ব্যাপকসংখ্যক ভবন ধসে পড়ায় এটি সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর একটি।
তিনি জানান, উপকূলীয় লা গুইরায় উদ্ধার তৎপরতা জোরদারে দেশের অন্যান্য অঞ্চল থেকে উদ্ধারকারী দল পাঠানো হচ্ছে। ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও অনেক মানুষ আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই দিনের আলো কাজে লাগিয়ে উদ্ধার কার্যক্রম দ্রুত এগিয়ে নেওয়ার চেষ্টা চলছে।
রদ্রিগেজ বলেন, ‘সেখানে বহু ভবন ধসে পড়েছে এবং জীবন বাঁচাতে আমরা ব্যাপক উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছি।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা গেছে, লা গুইরার একটি হাসপাতালের বাইরে বহু মানুষকে চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। তাদের কেউ মাটিতে, আবার কেউ হাসপাতালের শয্যায় শুয়ে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
দক্ষিণ আমেরিকান ও ক্যারিবীয় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলের কাছে অবস্থান করলেও ভেনেজুয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প লাতিন আমেরিকার অন্যান্য অঞ্চলের তুলনায় তুলনামূলকভাবে কম ঘটে।
রদ্রিগেজ উদ্ধার অভিযানে সহায়তার জন্য বেসরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোকে ভারী নির্মাণযন্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানান। তিনি আরও জানান, জাতিসংঘ অনুমোদিত অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল ভেনেজুয়ার পথে রয়েছে।
আন্তর্জাতিক সহায়তার আশ্বাস
ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগের পর আর্জেন্টিনা, চিলি, পানামা ও উরুগুয়েসহ বিভিন্ন দেশ ভেনেজুয়াকে সহায়তার প্রস্তাব দিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এক্সে এক পোস্টে জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র তাৎক্ষণিকভাবে অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী দল, চিকিৎসা এবং ত্রাণ সহায়তা পাঠাচ্ছে।
এ বিষয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়ে রদ্রিগেজ জানান, তিনি রুবিওর সঙ্গে টেলিফোনে কথা বলেছেন। এছাড়া কাতার, মেক্সিকো ও এল সালভাদোরও ইতোমধ্যে উদ্ধারকর্মী পাঠিয়েছে।
এল সালভাদোরের প্রেসিডেন্ট নায়িব বুকেলে, ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট দানিয়েল নোবোয়া এবং বলিভিয়ার প্রেসিডেন্ট রদ্রিগো পাজও সহায়তার আশ্বাস দিয়েছেন।
আতঙ্কে ঘর ছেড়ে রাস্তায় মানুষের ঢল
টেলিভিশন সম্প্রচারে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা ধসে পড়া ভবনের ধ্বংসস্তূপ সরাতে ভারী যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছেন। অনেক মানুষ ক্ষতিগ্রস্ত ভবন এড়িয়ে গাড়ি, মেট্রো স্টেশন ও অন্যান্য খোলা স্থানে রাত কাটিয়েছেন।
কারাকাসের বাসিন্দা হেক্তর রিচ্চি বলেন, ‘প্রথমে কম্পনটা মৃদু ছিল, পরে ধীরে ধীরে তীব্র হতে থাকে। শেষ পর্যন্ত আমাদের সবাইকে ঘর ছেড়ে বাইরে এসে একত্র হতে হয়েছে।’
আরেক বাসিন্দা রবার্তো গামা বলেন, ‘আমাদের ভবনটি প্রচণ্ডভাবে দুলছিল। এমন শক্তিশালী কম্পন আগে অনুভব করিনি।’
ভূমিকম্পের পর ভেনেজুয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে মোবাইল ফোন নেটওয়ার্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়ে। একে অনেক পরিবারের উদ্বেগ আরও বেড়ে যায়।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী দিয়োসদাদো কাবেলো জনগণকে ধৈর্য ধরার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘আমরা নির্ধারিত প্রোটোকল অনুসরণ করে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করছি। শিশু ও বয়স্কদের বিষয়ে বিশেষ সতর্ক থাকুন; আত্মীয়স্বজনের খোঁজ নিন।’
ব্রাজিল ও কলম্বিয়াতেও কম্পন অনুভূত
ভূমিকম্পের কম্পন ব্রাজিলের আমাজন অঞ্চলের মানাউস, বেলেম ও মাকাপা শহরে অনুভূত হয়েছে। কলম্বিয়ার ক্যারিবীয় উপকূল ও উত্তর-পূর্বাঞ্চলেও কম্পন টের পাওয়া গেছে।
ভূমিকম্পের পর মার্কিন প্যাসিফিক সুনামি সতর্কীকরণ কেন্দ্র কয়েকটি সুনামি সতর্কতা জারি করলেও পরে সেগুলো প্রত্যাহার করে জানানো হয়, সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই।
একাধিক ভূ-ফলকের সংযোগস্থলে অবস্থান করলেও ভেনেজুয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্প তুলনামূলক বিরল। তবে মেক্সিকো ও চিলির মতো লাতিন আমেরিকার প্রশান্ত মহাসাগরীয় উপকূলীয় দেশগুলোতে এ ধরনের ভূমিকম্প বেশি ঘটে। ভূকম্পনপ্রবণ ‘রিং অব ফায়ার’ অঞ্চলে অবস্থিত হওয়ার কারণে ওইসব অঞ্চলে ভূমিকম্পের প্রবণতা বেশি।
১২৪ দিন আগে
জাপানের উত্তরাঞ্চলে ৭.২ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প
জাপানের উত্তরাঞ্চলীয় উপকূলে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। তবে, এ ভূমিকম্পে সুনামির কোনো আশঙ্কা নেই বলে জানিয়েছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা (জেএমএ)।
বৃহস্পতিবার (২৫ জুন) সকালে দেশটির ইওয়াতে প্রদেশের পূর্ব উপকূলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
জেএমএ জানিয়েছে, প্রাথমিকভাবে ভূমিকম্পের মাত্রা ৬ দশমিক ৯ বলা হলেও পরে তা ৭ দশমিক ২-এ উন্নীত করা হয়। ভূমিকম্পটির উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের প্রায় ৫০ কিলোমিটার গভীরে।
অন্যদিকে, মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) এটির মাত্রা ৬ দশমিক ৯ বলে উল্লেখ করেছে।
সাম্প্রতিক সময়ে ওই অঞ্চলে একাধিক শক্তিশালী ভূমিকম্পের ঘটনা ঘটেছে। গত ডিসেম্বরে একটি ভূমিকম্পের পর এক সপ্তাহব্যাপী ‘মেগা-ভূমিকম্প’ সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবরে বলা হয়েছে, বৃহস্পতিবার সকালে অফিসগামী ব্যস্ত সময়ে জাপানের উত্তর-পূর্বাঞ্চলে আঘাত হানা এ ভূমিকম্পের কম্পন রাজধানী টোকিওতেও অনুভূত হয়। তবে তাৎক্ষণিকভাবে কোনো হতাহত বা বড় ধরনের ক্ষয়ক্ষতির খবর পাওয়া যায়নি বলে জানিয়েছেন সরকারের শীর্ষ মুখপাত্র মিনোরু কিহারা।
তবে জাপান টাইমসের খবরে বলা হয়েছে, ভূমিকম্পে অন্তত ১০ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি টোকিওতে সাংবাদিকদের বলেন, সরকারের জরুরি দল ‘মানুষের জীবনকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার’ দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছে এবং প্রয়োজন হলে ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য পরাঘাত (আফটার শক) সম্পর্কে সতর্ক থাকার আহ্বান জানান।
১২৫ দিন আগে
ভয়াবহ দুই ভূমিকম্পে কাঁপল ভেনেজুয়েলা, নিহত অন্তত ৩২
ভেনেজুয়েলায় এক মিনিটের ব্যবধানে আঘাত হানা দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩২ জন নিহত এবং প্রায় ৭০০ জন আহত হয়েছেন। দেশটির ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট ডেলসি রদ্রিগেজ এ তথ্য জানিয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৪ জুন) সন্ধ্যা ৬টার কিছু পরে ক্যারিবীয় উপকূলের মোরন শহরের পশ্চিমে, দেশটির রাজধানী কারাকাস থেকে প্রায় ১৬৮ কিলোমিটার দূরে প্রথমে ৭ দশমিক ২ মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হানে। মার্কিন ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থার (ইউএসজিএস) তথ্য অনুযায়ী, এর গভীরতা ছিল ২২ কিলোমিটার।
মাত্র এক মিনিটের ব্যবধানে ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দ্বিতীয় ভূমিকম্পটি আঘাত হানে। এর উৎপত্তিস্থল ছিল মোরনের দক্ষিণ-পশ্চিমে ১৬ কিলোমিটার দূরে এবং গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার।
রদ্রিগেজ বলেন, ভূমিকম্পে ধসে পড়া ভবনের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে অভিযান চলছে। এছাড়া দুর্গত এলাকাগুলোর সব জায়গায় জরুরি সেবা পৌঁছাতে পারেনি। ফলে হতাহতের সংখ্যা এখনই নির্দিষ্ট করে বলা যাচ্ছে না। উদ্ধার কার্যক্রম পুরোদমে শুরু হলে হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
বুধবার রাতেই জাতির উদ্দেশে দেওয়া ভাষণে তিনি জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেন। ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট জানান, ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশের কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। তবে বৃহস্পতিবার প্রকাশিত হতাহতের হিসাবের মধ্যে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত লা গুইরা অঙ্গরাজ্যের তথ্য অন্তর্ভুক্ত করা হয়নি।
১২৫ দিন আগে
লখনউয়ে কোচিং সেন্টারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, নিহত ১৪
ভারতের উত্তরাঞ্চলীয় শহর লখনউয়ের একটি বাণিজ্যিক ভবনে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে। এ দুর্ঘটনায় অন্তত ১৪ জন নিহত হয়েছেন যাদের অধিকাংশই শিক্ষার্থী।
সোমবার (২২ জুন) লখনউয়ের আলিগঞ্জ এলাকার একটি ভবনে আগুন লাগে। ভবনটির নিচতলায় একটি পোষা প্রাণীর দোকান ও পশু চিকিৎসাকেন্দ্র রয়েছে। এছাড়া ওপরের তলাগুলোতে একটি কোচিং সেন্টার ও অ্যানিমেশন স্টুডিও ছিল।
দুর্ঘটনার পর উত্তরপ্রদেশের উপমুখ্যমন্ত্রী ব্রজেশ পাঠক জানান, ঘটনাস্থল থেকে ১৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত ১০ জনকে উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আগুন লাগার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি বলে জানিয়েছেন তিনি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে অনেকেই ভাঙা জানালা দিয়ে বের হওয়ার চেষ্টা করছেন। একটি ভিডিওতে একজনকে ওপরের তলা থেকে নিচে পড়ে যেতে দেখা যায়। স্থানীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, তিনি বেঁচে গেছেন এবং হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
স্থানীয় প্রশাসন জানিয়েছে, ঘন ধোঁয়ার কারণে উদ্ধারকাজ ব্যাহত হওয়ায় ফায়ার সার্ভিস কর্মীদের ভবনের পেছনের দেওয়াল ভেঙে ভেতরে প্রবেশ করতে হয়। ধোঁয়া অপসারণে এক্সহস্ট ফ্যান ব্যবহার করা হয় এবং জরুরি সেবাকর্মীরা ভবনের বিভিন্ন কক্ষ ও শৌচাগারে জীবিতদের অনুসন্ধান করেন।
অ্যানিমেশন স্টুডিওর কর্মী মোহাম্মদ আসিন জানান, দুপুরের খাবারের বিরতি শেষে কর্মীরা কাজে ফিরছিলেন, ঠিক তখনই আগুন লাগার খবর পান।
তিনি বলেন, ‘প্রথমে আমরা ভেবেছিলাম এটি ছোটখাটো অগ্নিকাণ্ড, কিন্তু বের হওয়ার চেষ্টা করার আগেই কক্ষ ও চলাচলের পথ ধোঁয়ায় ভরে যায়।’
ভারতে প্রায়ই প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে। দেশটিতে ভবন নির্মাণ আইন ও নিরাপত্তা বিধিমালা অনেক ক্ষেত্রেই নির্মাতা ও বাসিন্দাদের মাধ্যমে লঙ্ঘিত হয়।
গত ৩ জুন দেশটির রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে ২১ জন নিহত হন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও ছিলেন।
১২৭ দিন আগে
দলীয় চাপে পদত্যাগের ঘোষণা দিলেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী স্টারমার
নিজের দলের চাপের মুখে পদত্যাগের ঘোষণা দিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার। স্থিতিশীল নেতৃত্ব ও অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির প্রতিশ্রুতি দিয়ে দুই বছর আগে ভূমিধস বিজয় অর্জন করলেও ধারাবাহিক ভুল পদক্ষেপ ও সিদ্ধান্তে ভোটারদের আস্থা হারানোর পর শেষ পর্যন্ত তাকে সরে দাঁড়াতে হচ্ছে।
সোমবার (২২ জুন) স্টারমার জানান, ক্ষমতাসীন লেবার পার্টি নতুন নেতা নির্বাচিত না করা পর্যন্ত তিনি তত্ত্বাবধায়ক প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করবেন। তাকে স্থলাভিষিক্ত করতে সাবেক গ্রেটার ম্যানচেস্টার মেয়র অ্যান্ডি বার্নহ্যামের নামই সবচেয়ে বেশি আলোচনায় রয়েছে।
ইতোমধ্যে বার্নহ্যাম সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে বলেছেন, ‘আমি এই প্রক্রিয়ার অংশ হিসেবে নিজেকে প্রার্থী হিসেবে উপস্থাপন করব।”
অন্যদিকে, সাবেক স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং, যাকে বার্নহ্যামের প্রধান প্রতিদ্বন্দ্বী হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছিল, তিনি বার্নহ্যামকে সমর্থন করবেন বলে জানিয়েছেন।
গত সপ্তাহে অনুষ্ঠিত একটি বিশেষ উপনির্বাচনে বার্নহ্যামের জয়ই স্টারমারের পদত্যাগের সিদ্ধান্তের তাৎক্ষণিক কারণ হিসেবে দেখা হচ্ছে। প্রায় এক দশক গ্রেটার ম্যানচেস্টারের মেয়র হিসেবে দায়িত্ব পালনের পর তিনি পুনরায় পার্লামেন্টে ফিরছেন এবং সোমবারই সংসদ সদস্য হিসেবে শপথ নেওয়ার কথা রয়েছে।
লেবার পার্টির নিয়ম অনুযায়ী, কেবল সংসদ সদস্যরাই দলের নেতৃত্বের জন্য প্রতিদ্বন্দ্বিতা করতে পারেন।
স্ট্রিটিংয়ের সমর্থনের ঘোষণায় নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা ছাড়াই বার্নহ্যাম নির্বাচিত হওয়ার সম্ভাবনা আরও জোরালো হয়েছে।
স্টারমার গত এক দশকে ব্রিটেনের ষষ্ঠ প্রধানমন্ত্রী, যিনি ডাউনিং স্ট্রিটের ১০ নম্বর বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়ে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই দায়িত্ব ছাড়ার ঘোষণা দিলেন। তার এই ঘোষণা এসেছে এমন এক সময়ে, যখন মঙ্গলবার ইউরোপীয় ইউনিয়ন (ইইউ) ত্যাগের পক্ষে (ব্রেক্সিট) ব্রিটেনের গণভোটের দশম বার্ষিকী পালিত হবে। সিদ্ধান্ত এখনও দেশটির অর্থনীতি ও রাজনীতিতে প্রভাব ফেলছে।
গত কয়েক সপ্তাহ ধরে নিজের পদ ধরে রাখার লড়াই চালিয়ে যাওয়ার কথা বললেও শেষ পর্যন্ত স্টারমার নতুন নেতৃত্বের কাছে দায়িত্ব হস্তান্তরের ক্রমবর্ধমান চাপের কাছে নতি স্বীকার করলেন। ২০২৪ সালের জুলাইয়ে তিনি লেবার পার্টিকে বড় জয় এনে দিয়েছিলেন, তবে এরপর থেকে তার এবং দলের জনপ্রিয়তা ধারাবাহিকভাবে কমতে থাকে।
কয়েক সপ্তাহের মধ্যেই নতুন নেতা
দুই বছর আগে প্রধানমন্ত্রী হিসেবে প্রথম ভাষণ দেওয়া সরকারি বাসভবনের সামনে দাঁড়িয়েই পদত্যাগের ঘোষণা দেন স্টারমার। সংক্ষিপ্ত বক্তব্যের শেষ দিকে তার কণ্ঠ আবেগে ভারী হয়ে ওঠে। এ সময় তার দপ্তরের কর্মী, মন্ত্রিসভার সদস্য এবং অসংখ্য সাংবাদিক উপস্থিত ছিলেন।
স্টারমার বলেন, ‘আমার দল এখন যে প্রশ্নটি করছে তা হলো, পরবর্তী সাধারণ নির্বাচনে দলকে নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য আমি সবচেয়ে উপযুক্ত ব্যক্তি কি না। এ বিষয়ে আমার সংসদীয় দলের উত্তর আমি শুনেছি এবং সৌজন্যের সঙ্গে সেই সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি।’
তিনি জানান, সিদ্ধান্তের বিষয়ে জানাতে তিনি ব্রিটেনের সাংবিধানিক রাষ্ট্রপ্রধান রাজা তৃতীয় চার্লসের সঙ্গে কথা বলেছেন।
বার্নহ্যামের উপনির্বাচনে জয়ের পর পুরো সপ্তাহাজুড়ে নিজের রাজনৈতিক ভবিষ্যৎ নিয়ে ভাবনাচিন্তা করেন স্টারমার। তিনি জানান, আগামী ৯ জুলাই থেকে নেতৃত্ব নির্বাচনের জন্য মনোনয়ন গ্রহণ শুরু হবে এবং গ্রীষ্মকালীন বিরতি শেষে ১ সেপ্টেম্বর পার্লামেন্ট পুনরায় বসার আগেই নতুন নেতা দায়িত্ব গ্রহণ করবেন।
তবে বার্নহ্যাম যদি একমাত্র প্রার্থী হন, তাহলে আগামী জুলাইয়ের মাঝামাঝিতেই নেতৃত্ব পরিবর্তন সম্পন্ন হতে পারে।
১২৭ দিন আগে