বিশ্ব
ইরান আলোচনায় বসলে মার্কিনিদের নেতৃত্ব দেবেন জেডি ভ্যান্স
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ঘনিয়ে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে তেহরান পুনরায় আলোচনায় বসতে রাজি হলে মঙ্গলবার একটি মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ দলের প্রধান হিসেবে থাকবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জারেড কুশনারও পাকিস্তান যাবেন।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এখনও একটি গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে। তেহরান মার্কিন কর্মকর্তাদের অগঠনমূলক এবং পরস্পরবিরোধী সংকেত নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তারা মনে করছে, এটি তাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করার একটি প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, ইরানিরা শক্তির কাছে নতি স্বীকার করে না।
তবে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তেহরান আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করছে। খবর পাওয়া গেছে যে, ভ্যান্স উপস্থিত থাকলে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আবারও সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ থাকতে পারেন।
গালিবাফ পরে বলেন, হুমকির মুখে থাকা অবস্থায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা অংশ নেবে না। মঙ্গলবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা রণক্ষেত্রে নতুন কার্ড (তুরুপের তাস) উন্মোচনের প্রস্তুতি নিয়েছি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ, ট্রাম্প তার নিজস্ব কল্পনায় এই আলোচনার টেবিলকে আত্মসমর্পণের টেবিলে পরিণত করতে চাইছেন অথবা নতুন করে যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে সঠিক প্রমাণ করতে চাইছেন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবসানের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, ট্রাম্প তার সেই পুরনো দাবির পুনরাবৃত্তি করেছেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না এবং এমনকি ইরানি নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এবং তার দল এখনই রওনা হচ্ছে এবং সেদিন সন্ধ্যায় তারা ইসলামাবাদ পৌঁছাবে—এমন কথা বলে পরিস্থিতি কিছুটা বিভ্রান্তিকর করে তুলেছিলেন। অবশ্য পরে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যদিও সোমবার ভ্যান্সের রওনা হওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তবে আলোচনা শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট আসলে মঙ্গলবার সকালে রওনা হবেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমা হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের এই দ্বিতীয় দফা আলোচনা আগামীকাল (বুধবার) অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকিও রয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এখন মনে করেন, ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ওয়াশিংটন সময় বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হবে। ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি করার সুযোগ দিতে তিনি বিরতির সময় আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়েছেন।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি ইঙ্গিত দেন যে এর পরেই পুনরায় বোমা হামলা শুরু হতে পারে। তবে তিনি এও বলেছেন, আমি তাড়াহুড়ো করে কোনো খারাপ চুক্তি করব না। আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের সঙ্গে ২১ ঘণ্টা ধরে চলা ব্যর্থ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভ্যান্স। তবে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে এবং তাদের ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করার দাবিতে রাজি হয়নি বলে আলোচনা ভেস্তে যায়।
ইরানিরা জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশ্বাসের ঘাটতি রয়ে গেছে এবং তারা এই নিশ্চয়তা চেয়েছিল যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছালে তাদের ওপর আর হামলা করা হবে না। যদিও পাঁচ সপ্তাহের যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানে ইরানে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হয়েছে, তবে তেহরানের নেতৃত্ব বিশ্বাস করে না যে তারা পরাজিত হয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তান রবিবার থেকেই সম্ভাব্য আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে; দেশটির রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গণপরিবহন চলাচল স্থগিত করেছে। ইসলামাবাদের বিদ্যুৎ বোর্ডও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে আলোচনা চলাকালীন শহরে লোডশেডিং বন্ধ রাখা হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক হরমুজ প্রণালি দ্বিমুখীভাবে বন্ধ রাখার ফলে সৃষ্ট তেল ও গ্যাস সংকটের কারণে পাকিস্তানের শহরগুলোতে দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
কৌশলগত এই জলপথ অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর টোল আদায়ের ইরানের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছিলেন। গত রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ইরানি পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করে, যা শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার পথে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তুসকা নামক জাহাজটির ক্রুরা ছয় ঘণ্টা ধরে দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর সেটিকে জব্দ করা হয়। একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার থেকে গোলাবর্ষণ করে জাহাজের ইঞ্জিন বিকল করে দেওয়া হয় এবং এরপর হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে ইউএসএস ত্রিপোলির মেরিন সেনারা জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ইরান শুক্রবার সাময়িকভাবে তাদের অবরোধ তুলে নিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা অবরোধ প্রত্যাহার না করায় শনিবার তারা পুনরায় তা কার্যকর করে। শনিবার ওই অঞ্চলে একটি ট্যাঙ্কারে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হামলা চালায় এবং দ্বিতীয় একটি কন্টেইনার জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শনিবারে ১৮টি জাহাজ চলাচল করলেও সোমবারে মাত্র তিনটি ট্যাঙ্কার প্রণালি পার হয়েছে। সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ ডলার বেড়ে ৯৫ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ওই অঞ্চলে নতুন করে তৈরি হওয়া বিপদেরই প্রতিফলন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবানন বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। গত সপ্তাহে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এটিই দেশ দুটির মধ্যে প্রথম আলোচনা হবে।
এদিকে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের সীমান্ত-সংলগ্ন একটি অঞ্চল থেকে দূরে থাকতে বলেছে এবং লিটানি নদী এলাকার কাছাকাছি না যেতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ওই এলাকায় নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে দেশটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির সামরিক বাহিনীর পোস্ট করা একটি মানচিত্রে সীমান্তের ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকার ভেতরে থাকা ২১টি গ্রামের ওপর দিয়ে একটি লাল রেখা টেনে দেওয়া হয়েছে।
৫৯ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১ হাজার বাড়ি ভস্মীভূত
মালয়েশিয়ার একটি উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১ হাজার বাড়িঘর ভস্মীভূত হয়েছে। এই ঘটনায় ৯ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ এপ্রিল) ভোরে বোর্নিও দ্বীপের সান্দাকান জেলায় এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এরপর কাঠের তৈরি সারিবদ্ধ ঘরগুলোতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে দেশটির দমকল ও জরুরি উদ্ধার বিভাগ।
কর্মকর্তারা বলেন, প্রচণ্ড বাতাস এবং ঘরগুলোর পাশাপাশি অবস্থানের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়াও যাতায়াতের পথ দুর্গম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি সেবাকর্মীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও হাজার হাজার বাসিন্দা ঘরছাড়া হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
৬০ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ১০ হাজার কর্মী প্রশিক্ষণের উদ্যোগ
শ্রীলঙ্কায় নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় দেশটির সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১০ হাজার নির্মাণ শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি কর্মসূচি শুরু করেছে সেখানকার সরকার। দেশীয় জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে এই খাতে স্থিতিশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ এপ্রিল) দেশটির গৃহায়ণ, নির্মাণ ও পানি পরিষেবা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, শ্রীলঙ্কায় নির্মাণ শিল্পে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ৫০০টি শূন্য পদ রয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা সরকার প্রথমদিকে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি ভেবেছিল। পরে দেশীয় কর্মী তৈরি করেই এই চাহিদা পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই উদ্যোগকে সফল করতে নির্মাণ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে, যাতে নির্মাণ খাতের প্রয়োজনের সঙ্গে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। পাশাপাশি, কর্তৃপক্ষ নির্মাণ শ্রমিক পেশাকে একটি স্বীকৃত পেশা হিসেবে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্যও কাজ করছে।
এই কর্মসূচি মূলত সেইসব তরুণ-তরুণীদের জন্য যারা তাদের অ্যাডভান্সড লেভেল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে, কিন্তু এখনও উচ্চশিক্ষা বা কোনো চাকরিতে যুক্ত হননি। কর্মসূচিতে তরুণ-তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রচার অভিযান চালাচ্ছে দেশটির সরকার। প্রশিক্ষণের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী শনাক্ত করতে বাছাই প্রক্রিয়াও চলছে।
কর্তৃপক্ষ মনে করছে, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার জন্য নির্মাণ খাতে আসতে মানুষ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। এই খাতে সাধারণত প্রকল্পভিত্তিক কাজ হওয়ায় শ্রমিকদের মাঝেমধ্যেই বেকার বসে থাকতে হয়। তবে নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন ও মানসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে নির্মণ খাতে আরও স্থিতিশীল কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অতীতেও শ্রীলঙ্কায় নির্মাণ খাতে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা গেছে। তবে সাইক্লোন দিতওয়াহের পর পুনর্গঠন কার্যক্রমে বড় পরিসরে আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ফলে তখন শ্রমিকের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়।
৬০ দিন আগে
জাপানে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা জারি
জাপানের উত্তর উপকূলের কাছে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এরপর ওই অঞ্চলে সুনামির সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৪টা ৫৩ মিনিটে জাপানের উত্তরাঞ্চলের সানরিকু উপকূলের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানায়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটি মাত্রা ছিল ৭.৭। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এটি আঘাত হানে।
সুনামির বিষয়ে সতর্ক করে জাপানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যেই ওই এলাকায় সর্বোচ্চ ৩ মিটার (১০ ফুট) উচ্চতার সুনামি আঘাত হানতে পারে।
এর আগে জাপানে ২০১১ সালের ১১ মার্চ ৯.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ও এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ২২ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ হারান। ওই দুর্যোগে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত বিকিরণের কারণে ফুকুশিমা এলাকা থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। বিকিরণ নিয়ে উদ্বিগ্নতায় প্রায় ২৬ হাজার মানুষ সেখানে আর ফিরে আসেননি। এসব মানুষ নিজের এলাকা ছেড়ে এখন অন্যত্র স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন।
৬০ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে বাবার হাতে ৭ সন্তানসহ ৮ শিশু খুন
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় নিজের ৭ সন্তানসহ মোট আটটি শিশুকে হত্যা করেছেন এক ব্যক্তি।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে ডাউনটাউন শ্রিভপোর্টের দক্ষিণে একটি এলাকার দুটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটান বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ঘাতক ব্যক্তির নাম শামার এলকিন্স (৩১)। তিনি লুইজিয়ানার শ্রিভপোর্ট এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানান, সব শিশু একই বাড়িতে নিহত হয়েছে এবং তাদের বয়স ছিল ৩ থেকে ১১ বছরের মধ্যে। এসব শিশুদের মধ্যে ৩ জন ছেলে ও ৫ জন মেয়ে ছিল। এই হামলা শ্রিভপোর্ট এলাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দেশের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার মধ্যে অন্যতম। এ ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা এলাকা।
শ্রিভপোর্ট পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র ক্রিস বর্ডেলন জানান, দুই নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর মধ্যে একজন আততায়ী এলকিন্সের স্ত্রী।
তিনি আরও জানান, প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারী এলকিন্সকে ধাওয়া দেয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন।
তবে কী কারণে এই সহিংসতা ঘটেছে, তা এখনও জানা না গেলেও বর্ডেলন বলেন, এটি যে ‘সম্পূর্ণরূপে পারিবারিক’ ঘটনা, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চিত।
শ্রিভপোর্ট পুলিশের প্রধান ওয়েন স্মিথ বলেন, এই ঘটনায় আমি বাকরুদ্ধ। কী বলব বুঝতে পারছি না। এমন একটি ঘটনাও যে ঘটতে পারে, তা আমি কল্পনাও করতে পারি না।
বর্ডেলন বলেন, এলকিন্সকে পুলিশ আগে থেকেই চিনত। অস্ত্র-সংক্রান্ত মামলায় ২০১৯ সালে তাকে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে কোনো পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল ছিলেন না।
পুলিশ জানায়, গতকাল (রবিবার) সকালে সূর্য ওঠার আগেই এই অর্তকিত হামলা শুরু হয়। প্রথমে তিনি একটি বাড়িতে ঢুকে এক নারীকে গুলি করেন। এ ঘটনার পরপরই আরেকটি বাড়িতে গিয়ে তিনি একসঙ্গে ৮টি শিশুকে গুলি করে হত্যা করেন। বাড়ির ভেতর থেকে ৭ শিশু এবং বাড়ির ছাদ থেকে আরও একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন।
শ্রিভপোর্ট পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র বর্ডেলন জানান, আরেকটি শিশু ছাদ থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের মুখপাত্র ট্যামি ফেল্পস জানান, কয়েকটি শিশু পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা যে দৃশ্য দেখেছেন, তা আমি কল্পনাও করতে পারি না।’
স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পথে ছিলেন এলকিন্স
আহত নারীদের মধ্যে একজনের চাচাতো বোন ক্রিস্টাল ব্রাউন জানান, শামার এলকিন্স ও তার স্ত্রী বিচ্ছেদের পথে ছিলেন এবং আজ (সোমবার) তাদের আদালতে যাওয়ার কথা ছিল। বিচ্ছেদ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলছিল।
তিনি বলেন, ‘এলকিন্স তার সন্তানদের হত্যা করেছে এবং স্ত্রীকে আহত করেছে।’
তিনি আরও জানান, এলকিন্সের তার স্ত্রীর সঙ্গে চারটি সন্তান এবং কাছাকাছি বসবাসকারী আরেক নারীর সঙ্গে আরও তিনটি সন্তান ছিল।
শিশুদের সম্পর্কে ব্রাউন বলেন, ‘শিশুরা সবাই খুব হাসিখুশি, প্রাণোচ্ছল এবং মিষ্টি স্বভাবের ছিল।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী যা জানালেন
ঘটনাস্থল থেকে দুই বাড়ি দূরে বসবাস করা লিজা ডেমিং জানান, দুটি গুলির শব্দ শোনার পরপরই তার বাড়ির সিসি ক্যামেরায় এলকিন্সকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়। পরে বাড়িতে গিয়ে ছাদে একটি শিশুর মরদেহ ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান তিনি।
তিনি বলেন, ‘দেখলাম যে তিনি বাড়ি থেকে দৌড়ে বেরিয়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে চলে যাচ্ছেন।’
নিকটবর্তী সেন্ট গ্যাব্রিয়েল কমিউনিটি ব্যাপ্টিস্ট চার্চের পাদ্রি মার্টি টি জনসন সিনিয়র জানান, ওই বাড়িটি পরিবারটিকে ভাড়া দিয়েছিলেন তারই এক কর্মচারী। তবে, তিনি নিজে তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগ রাখেননি।
প্যারিশের জেলা অ্যাটর্নির দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, একটি পারিবারিক বিরোধ অপূরণীয় ক্ষতির মধ্যে দিয়ে শেষ হলো।
শোকে স্তব্ধ শ্রিভপোর্ট
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ইউএসএ টুডে এবং নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির যৌথ তথ্য অনুযায়ী, রবিবারে প্রাণঘাতী ঘটনাটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শিকাগোর একটি উপশহরে আটজন নিহত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা।
ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অত্যন্ত গম্ভীর অবস্থায় দেখা যায়। তারা ওই এলাকার মানুষের কাছে ধৈর্য ও প্রার্থনা কামনা করেন।
শহরের মেয়র টম আর্সেনো বলেন, ‘এটি একটি মর্মান্তিক পরিস্থিতি; সম্ভবত আমাদের দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। এটি ছিল দুঃস্বপ্নময় একটি সকাল।’
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর শোকাহত মানুষজন ৭৯তম স্ট্রিটের ওই একতলা বাড়িটির সামনে জড়ো হয়ে পুষ্প অর্পণ করেন। সন্ধ্যায় নিকটবর্তী এক প্রার্থনা অনুষ্ঠানে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের স্মরণ করে এলাকাবাসী।
তাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এই ঘটনা সন্তানদের আরও কাছে টেনে নিতে, জড়িয়ে ধরতে এবং আপনি তাদের কতটা ভালোবাসেন, তা বলতে আপনাকে বাধ্য করবে।’
৬০ দিন আগে
ইরানি জাহাজ জব্দ করল যুক্তরাষ্ট্র; তীব্র জবাবের হুঁশিয়ারি তেহরানের
রবিবার হরমুজ প্রণালির কাছে ইরানি পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজে হামলা চালিয়ে তা জব্দ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই ঘটনার কড়া জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরানের যৌথ সামরিক কমান্ড। এদিকে, উভয় দেশের এমন আচরণ যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র কয়েক দিন আগে উভয় দেশের মধ্যে নতুন করে আলোচনা অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে।
গত সপ্তাহে ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন অবরোধ শুরু হওয়ার পর এটিই প্রথম কোনো জাহাজ আটকের ঘটনা। ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, দেশটির যৌথ সামরিক কমান্ড এই সশস্ত্র অভিযানকে জলদস্যুতা এবং যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
প্রণালিটি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে তীব্র উত্তেজনা তৈরি হয়েছে। এদিকে, আগামী বুধবার যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হবে। ইরানের সঙ্গে নতুন আলোচনা নিয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের ঘোষণার বর্তমান অবস্থা কী, তা এখন স্পষ্ট নয়। ট্রাম্প জানিয়েছিলেন যে, মার্কিন আলোচকরা সোমবার পাকিস্তানের উদ্দেশে রওনা হবেন।
এই অনিশ্চয়তার কারণে আন্তর্জাতিক বাজারে তেলের দাম আবারও বেড়ে গেছে। এর ফলে গত কয়েক দশকের মধ্যে বিশ্বের অন্যতম ভয়াবহ জ্বালানি সংকট আরও ঘনীভূত হওয়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ট্রাম্প জানিয়েছেন, ওমান উপসাগরে মার্কিন নৌবাহিনী ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ তুসকাকে থামার সংকেত দেয়। কিন্তু তারা না থামলে জাহাজের ইঞ্জিনরুমে বোমাবর্ষণ করে সেটিকে থামিয়ে দেওয়া হয়। মার্কিন নৌসেনারা বর্তমানে মার্কিন নিষেধাজ্ঞাভুক্ত ওই জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে এবং এর ভেতরে কী আছে, তা দেখছে!
এই ঘটনায় কেউ হতাহত হয়েছে কিনা তা স্পষ্ট নয়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড এ বিষয়ে কোনো জবাব দেয়নি, তবে তারা জানিয়েছে যে, ছয় ঘণ্টা ধরে বারবার জাহাজটিকে সতর্কবার্তা দিয়েছিল তারা।
৬০ দিন আগে
ইরানের সঙ্গে আলোচনায় সোমবার পাকিস্তানে যাচ্ছে মার্কিন প্রতিনিধিদল: ট্রাম্প
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে আলোচনার লক্ষ্যে সোমবার মার্কিন প্রতিনিধি দল পাকিস্তানের উদ্দেশ্যে রওনা হবে। হরমুজ প্রণালি ইস্যুতে ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে অচলাবস্থা অব্যাহত থাকলেও এই সফরের খবরে চলতি সপ্তাহে শেষ হতে যাওয়া যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধি নিয়ে নতুন করে আশার সঞ্চার হয়েছে।
সম্ভাব্য এই আলোচনার বিষয়টি তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত করেনি তেহরান। এদিকে, বর্তমানে হরমুজ প্রণালির মতো গুরুত্বপূর্ণ জলপথে জাহাজ চলাচল কার্যত বন্ধ রয়েছে। একদিকে ইরানের হামলার হুমকি, অন্যদিকে ইরানি বন্দরে যাতায়াতকারী জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ—সব মিলিয়ে পরিস্থিতি অত্যন্ত জটিল হয়ে পড়েছে।
এর আগে, রবিবার ইরানি কর্মকর্তারা জানান, তারা আলোচনার জন্য প্রস্তুত। তবে, মার্কিন নৌ-অবরোধ বহাল থাকা অবস্থায় হরমুজ প্রণালি দিয়ে কোনো জাহাজ চলাচল করতে দেওয়া হবে না।
শনিবার রাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ বলেন, ‘আমরা নিজেরা (প্রণালি দিয়ে) চলাচল করতে না পারলে অন্যদের জন্য হরমুজ প্রণালি উন্মুক্ত করা সম্ভব নয়।’
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে নতুন দফা আলোচনার ঘোষণা দেওয়ার সময় ট্রাম্প অভিযোগ করেন, ইরান প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজে গুলি চালিয়ে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করেছে।
তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ইরান যদি যুক্তরাষ্ট্রের দেওয়া প্রস্তাব গ্রহণ না করে, তবে দেশটির বেসামরিক অবকাঠামো ধ্বংস করা হবে। ট্রাম্প লেখেন, ‘তারা যদি চুক্তি না করে, তবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের প্রতিটি বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র এবং সেতু গুঁড়িয়ে দেবে।’
তবে ইসলামাবাদে দ্বিতীয় দফার এই সরাসরি আলোচনায় যুক্তরাষ্ট্রের কোন কোন কর্মকর্তা অংশ নেবেন, সে বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি ট্রাম্প। প্রথম দফার আলোচনায় নেতৃত্ব দিয়েছিলেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স। হোয়াইট হাউস বা ভ্যান্সের কার্যালয় থেকেও এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, আঞ্চলিক মিত্রগোষ্ঠী এবং হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ—এই অমীমাংসিত বিষয়গুলোর কারণে প্রথম দফার আলোচনা ভেস্তে গিয়েছিল। এসব বিষয়ে দুই পক্ষ তাদের অবস্থানে কোনো পরিবর্তন এনেছে কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।
ট্রাম্পের সর্বশেষ মন্তব্যের আগেই ইরানের প্রধান আলোচক গালিবাফ বলেন, অবরোধ এবং ওয়াশিংটনের প্রতি গভীর অবিশ্বাস থাকা সত্ত্বেও শান্তি চায় তেহরান। তবে কূটনীতির ক্ষেত্রে কোনো পশ্চাদপসরণ হবে না বলেও সতর্ক করেন তিনি।
লেবাননে ইসরায়েল ও ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর শুক্রবার প্রণালিটি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিয়েছিল ইরান। কিন্তু ট্রাম্প যখন ঘোষণা দেন, কোনো চূড়ান্ত চুক্তিতে না পৌঁছানো পর্যন্ত ইরানের ওপর মার্কিন অবরোধ ‘পুরোদমে বহাল থাকবে’, তখন ইরানও জানায় যে তারা প্রণালিতে নিজেদের বিধিনিষেধ বহাল রাখবে।
শনিবার সাময়িকভাবে জাহাজ চলাচলের চেষ্টা হলেও দুটি ভারতীয় পতাকাবাহী জাহাজে গুলি চালানোর পর অন্য জাহাজগুলো পারস্য উপসাগরে নিজেদের অবস্থানে ফিরে যায়। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে আবারও অচলাবস্থা তৈরি হয়। এটি বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটকে আরও ঘনীভূত করার পাশাপাশি পক্ষগুলোকে নতুন করে সংঘাতের দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ শেষ হতে আর মাত্র কয়েক দিন বাকি। এর মধ্যেই শনিবার ইরান জানিয়েছে, তারা যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে নতুন কিছু প্রস্তাব পেয়েছে এবং পাকিস্তানি মধ্যস্থতাকারীরা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে সরাসরি আলোচনার আয়োজন করতে কাজ করছেন।
দ্বিতীয় দফার আলোচনা ঘিরে আবারও ইসলামাবাদে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। মধ্যস্থতা প্রক্রিয়ার সঙ্গে যুক্ত এক আঞ্চলিক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানিয়েছেন, প্রস্তুতির কাজ শেষ পর্যায়ে এবং যুক্তরাষ্ট্রের একটি অগ্রবর্তী নিরাপত্তা দল ইতোমধ্যেই সেখানে পৌঁছেছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চলাকালেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা শুরু করে। তার পর থেকেই হরমুজ প্রণালির ওপর নিয়ন্ত্রণকে ইরান তাদের সবচেয়ে বড় অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে। তেহরানের জন্য এটি বিশ্ব অর্থনীতি ও ট্রাম্পের ওপর রাজনৈতিক চাপ সৃষ্টির অন্যতম হাতিয়ার। অন্যদিকে, ইরানকে চাপে ফেলতে অবরোধ দিয়ে দেশটির অর্থনীতিকে পঙ্গু করে দেওয়ার কৌশল অবলম্বন করছে যুক্তরাষ্ট্র।
যুদ্ধবিরতি এখনও টিকে থাকলেও হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে এই অচলাবস্থা আবারও পুরো অঞ্চলকে যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে। এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানে অন্তত ৩ হাজার জন এবং লেবাননে ২ হাজার ২৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে আরও বেশ কয়েকজন প্রাণ হারিয়েছেন। যুদ্ধে এ পর্যন্ত ১৫ জন ইসরায়েলি এবং ১৩ জন মার্কিন সেনা নিহত হওয়ারও খবর পাওয়া গেছে।
নতুন চুক্তির পথে অগ্রগতির চেষ্টায় পাকিস্তান
হরমুজ প্রণালিকে কেন্দ্র করে নতুন করে সৃষ্ট অচলাবস্থার কয়েক ঘণ্টা আগে পাকিস্তানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার বলেন, তার দেশ যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মতপার্থক্য ‘দূর করার’ চেষ্টা করছে।
রবিবার ট্রাম্পের সর্বশেষ পোস্টের আগে ইরানের সর্বোচ্চ জাতীয় নিরাপত্তা পরিষদ জানায়, পাকিস্তানের সেনাপ্রধানের ইরান সফরের সময় যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে দেওয়া ‘নতুন প্রস্তাব’ তারা পর্যালোচনা করছে।
তবে সাইদ খাতিবজাদেহ স্পষ্ট করেছেন যে, ইরান তাদের ৪৪০ কেজি সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করবে না এবং এ ধারণাকে তিনি ‘শুরু করার মতো কোনো বিষয়ই নয়’ বলে অভিহিত করেন। এ সময় ইউরেনিয়াম-সংক্রান্ত অন্যান্য প্রস্তাব নিয়ে তিনি মন্তব্য করতে রাজি না হলেও বলেন, ‘যেকোনো উদ্বেগ নিয়ে আলোচনা করতে আমরা প্রস্তুত।’
৬১ দিন আগে
ইউক্রেনে বন্দুকধারীর গুলিতে নিহত ৬, পুলিশের পাল্টা গুলিতে আততায়ীর মৃত্যু
ইউক্রেনে এক বন্দুকধারী নিজস্ব অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়ে ৬ জনকে হত্যা করেছে। পরে পুলিশের ভয়ে জিম্মিদের নিয়ে একটি সুপারমার্কেটের ভেতর আত্মগোপন করেন তিনি। এরপর পুলিশ খোঁজ পেয়ে ওই স্থানে পৌঁছে তাকে গুলি করে হত্যা করে। এ ঘটনায় কমপক্ষে ১৪ জন আহত হয়েছেন এবং তাদের দ্রুত হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৮ এপ্রিল) দেশটির রাজধানী কিয়েভের হলোসিভস্কি জেলায় একটি শপিং সেন্টারের সামনে এই হামলা ঘটে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
পুলিশ জানিয়েছে, হামলাকারীর বয়স ৫৮ বছর। তবে তার নাম ও পরিচয় প্রাথমিকভাবে প্রকাশ করা হয়নি।
২০২২ সালে রাশিয়ার আগ্রাসনের পর থেকে কিয়েভে এমন গুলিবর্ষণের ঘটনা ঘটেনি। এ হামলায় রাস্তায় মানুষের মরদেহ পড়ে থাকতে দেখে পথচারীরা আতঙ্ক হয়ে পড়েন। প্রাণ বাঁচাতে তারা পালাতে থাকেন।
এ ঘটনায় দুঃখ প্রকাশ করে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, ‘হামলাকারীকে পুরোপুরি নিষ্ক্রিয় করা হয়েছে। তিনি কিছু মানুষকে জিম্মি করে রেখেছিলেন। দুঃখের বিষয় এই যে, তাদের মধ্যে একজনকে তিনি হত্যা করেন। এ ছাড়াও রাস্তায় আরও ৪ জনকে তিনি হত্যা করেছেন। জিম্মিদের মধ্যে এক নারীকে গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে নেওয়ার পথে তিনিও মারা যান।’
তিনি আরও বলেন, একটা বিষয় নিশ্চিত যে, হামলাকারী রাস্তায় বের হওয়ার আগে একটি অ্যাপার্টমেন্টে আগুন লাগিয়েছিল। তার নামে আরও বেশ কিছু অপরাধের অভিযোগ রয়েছে। তিনি দীর্ঘদিন পূর্ব ইউক্রেনের দোনেৎস্ক অঞ্চলের বাসিন্দা ছিলেন এবং জন্মসূত্রে একজন রাশিয়ান।
দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহোর ক্লিমেঙ্কো জানান, ইউক্রেনের বিশেষ কৌশলগত পুলিশ ইউনিটগুলো আলোচনার মাধ্যমে তাকে আত্মসমর্পণে রাজি করানোর চেষ্টা করে। কিন্তু সেই চেষ্টা ব্যর্থ হলে পুলিশ দোকানটিতে অভিযান চালায়। দু্ষ্কৃতিকারী যাদের জিম্মি করেছিল, তারা ছিল ওই সুপারমার্কেটের ক্রেতা ও কর্মচারী।
তিনি বলেন, ‘আমরা তাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি। কারণ আমরা ভেবেছিলাম, দোকানের ভেতরে কেউ আহত অবস্থায় রয়েছে। এমনকি রক্তপাত বন্ধ করার জন্য টুর্নিকেট দেওয়ার প্রস্তাবও দিয়েছিলাম, তবুও তিনি কোনো সাড়া দেননি। ফলে বাধ্য হয়ে তাকে নিষ্ক্রিয় করার নির্দেশ দেওয়া হয়। হামলাকারীর বৈধ অস্ত্রের লাইসেন্স ছিল বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
ইউক্রেনের নিরাপত্তা সংস্থা এসবিইউ এই হত্যাকাণ্ডকে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড আখ্যা দিয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দারা জানান, তারা হামলাকারীকে চিনতেন।
৭৫ বছর বয়সী হান্না কুলিক বলেন, ‘আমি তাকে চিনতাম। তিনি অত্যন্ত শিক্ষিত ও ভদ্র মানুষ বলে মনে হতো। আমি কখনও ভাবিনি যে তিনি কোনো অপরাধী হতে পারেন। লোকটি খুব বেশি মানুষের সঙ্গে মিশতেনও না। কারো সঙ্গে দেখা হলে শুধু শুভেচ্ছা জানিয়ে তিনি চলে যেতেন। একাই থাকতেন তিনি।
৬১ দিন আগে
টাইটানিক থেকে বেঁচে ফেরা যাত্রীর লাইফ জ্যাকেট নিলামে বিক্রি
আবারও সামনে এসেছে ইতিহাসের পাতায় অমলিন হয়ে থাকা আরএমএস টাইটানিক জাহাজ। জাহাজটি যখন আটলান্টিক মহাসাগরে ডুবে যাচ্ছিল, তখন একটি লাইফবোটের সাহায্যে প্রাণ বাঁচিয়ে ফেরা এক যাত্রীর ব্যবহৃত লাইফ জ্যাকেট নিলামে উঠেছে।
শনিবার (১৮ এপ্রিল) ইংল্যান্ডের ডেভাইজেসে লাইফ জ্যাকেটটি নিলামে ৬ লাখ ৭০ হাজার পাউন্ডে (প্রায় ৯ লাখ ৬ হাজার ডলার) বিক্র হয়েছে।
এই লাইফ জ্যাকেটটি পরেছিলেন বিলাসবহুল ওই জাহাজের প্রথম শ্রেণির যাত্রী লরা মেবেল ফ্রাঙ্কাতেলি। জ্যাকেটিতে লরা এবং একই লাইফবোটে থাকা অন্য বেঁচে যাওয়া যাত্রীদের স্বাক্ষরও রয়েছে।
পশ্চিম ইংল্যান্ডের ডিভাইজেসে নিলামকারী প্রতিষ্ঠান ‘হেনরি অলড্রিজ অ্যান্ড সন’-এর টাইটানিকের স্মারক বিক্রির আয়োজনে এই জ্যাকেটটিই ছিল আকর্ষণের মূল কেন্দ্রবিন্দু। নিলামের আগে এটির দাম আনুমানিক আড়াই লাখ থেকে সাড়ে ৩ লাখ পাউন্ডের মধ্যে ধরা হলেও শেষ পর্যন্ত অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তি টেলিফোনে ধারণার চেয়েও অনেক বেশি দামে এটি কিনে নেন।
একই নিলামে টাইটানিকের একটি লাইফবোটের সিট কুশন বা বসার গদি ৩ লাখ ৯০ হাজার পাউন্ডে (৫ লাখ ২৭ হাজার ডলার) বিক্রি হয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রের টেনেসির পিজন ফোর্জ এবং মিসৌরির ব্র্যানসনে অবস্থিত দুটি টাইটানিক জাদুঘরের মালিক এটি কিনে নেন। উল্লেখ্য, বিক্রিত এই দামের মধ্যে নিলামকারী প্রতিষ্ঠানের ফি বা ‘বায়ার্স প্রিমিয়াম’ও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
নিলামকারী অ্যান্ড্রু অলড্রিজ বলেন, ‘রেকর্ড সৃষ্টিকারী এই দামগুলো প্রমাণ করে যে টাইটানিকের গল্পের প্রতি মানুষের আগ্রহ আজও কতটা প্রবল। একইসঙ্গে সেইসব যাত্রী ও ক্রুদের প্রতি এটি এক গভীর সম্মান প্রদর্শন যাদের জীবনকাহিনী এই স্মারকগুলোর মাধ্যমে অমর হয়ে আছে।’
বিশ্বের সবচেয়ে বিলাসবহুল এবং কার্যত ‘ডোবার অযোগ্য’ হিসেবে প্রচারিত টাইটানিক জাহাজটি ১৯১২ সালের ১৫ এপ্রিল ইংল্যান্ড থেকে নিউইয়র্ক যাওয়ার প্রথম যাত্রায় নিউফাউন্ডল্যান্ড উপকূলে একটি বিরাট বরফখণ্ডের সঙ্গে ধাক্কা খায়। মাত্র কয়েক ঘণ্টার মধ্যে এটি সমুদ্রের তলদেশে হারিয়ে যায়। জাহাজের ২ হাজার ২০০ যাত্রী ও ক্রুর মধ্যে প্রায় ১ হাজার ৫০০ জন ওই দুর্ঘটনায় প্রাণ হারান।
টাইটানিক নিয়ে বিশ্বজুড়ে এখনও মানুষের মাঝে এক ধরনের মোহ কাজ করে। আংশিকভাবে এর কারণ ছিল জাহাজে থাকা দরিদ্র থেকে শুরু করে প্রচণ্ড প্রভাবশালী—সব স্তরের মানুষের সরব উপস্থিতি।
লরা ফ্রাঙ্কাতেলি সেই জাহাজে তার নিয়োগকর্তা তথা ফ্যাশন ডিজাইনার লুসি ডাফ গর্ডন এবং লুসির স্বামী কসমো ডাফ গর্ডনের সঙ্গে ভ্রমণ করছিলেন। তারা তিনজনই টাইটানিকের ১ নম্বর লাইফবোটে চড়ে বেঁচে ফিরতে সক্ষম হন। ৪০ জন যাত্রী ধারণক্ষমতা থাকা সত্ত্বেও ওই লাইফবোটটি মাত্র ১২ জন নিয়ে পানিতে নামানো হয়েছিল। তখন সমুদ্রের বরফশীতল পানি থেকে অন্য ডুবন্ত মানুষকে উদ্ধার না করায় পরবর্তীতে এ ঘটনাটি ব্যাপক বিতর্কের জন্ম দিয়েছিল।
টাইটানিকের স্মারক হিসেবে নিলামে সর্বোচ্চ দামে বিক্রির বিশ্বরেকর্ডটি বর্তমানে ১৫ লাখ ৬০ হাজার পাউন্ডের (তৎকালীন হিসেবে প্রায় ২০ লাখ ডলার)। ২০২৪ সালে আরএমএস কার্পেথিয়া জাহাজের ক্যাপ্টেনের একটি সোনার পকেট ঘড়ি এই দামে বিক্রি হয়েছিল। কার্পেথিয়া ছিল সেই উদ্ধারকারী জাহাজ, যেটি টাইটানিকের ৭০০ জন জীবিত যাত্রীকে উদ্ধার করেছিল।
৬১ দিন আগে
ট্রাম্প ও তেহরানের অদূরদর্শী প্রচারণায় থমকে গেছে শান্তি প্রক্রিয়া
মার্কিন প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এবং তেহরানের পক্ষ থেকে একের পর এক অদূরদর্শী ও অবিবেচনাপ্রসূত বার্তার কারণে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে শান্তি চুক্তির পথে অর্জিত অগ্রগতি থমকে গেছে।
এই ভুল পদক্ষেপগুলোর চূড়ান্ত পরিণতি হিসেবে ইরান ঘোষণা করেছে যে, তারা হরমুজ প্রণালি দিয়ে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচলের ওপর পুনরায় সম্পূর্ণ অবরোধ আরোপ করবে। দেশটি তাদের উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের কোনো অংশই দেশের বাইরে রপ্তানি করতে দেবে না।
দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ঘটনাপ্রবাহের সূত্রপাত হয় গত শুক্রবার। সেদিন যুক্তরাষ্ট্রের বাজার খোলার পরপরই ইরানি পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে একটি পোস্ট দেন। তিনি লিখেছিলেন, লেবাননে যুদ্ধবিরতির সঙ্গে সঙ্গতি রেখে ইসলামি প্রজাতন্ত্র ইরানের বন্দর ও সমুদ্রবিষয়ক সংস্থা কর্তৃক পূর্বঘোষিত সমন্বিত রুট অনুযায়ী যুদ্ধবিরতির বাকি সময়ের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে সকল বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ঘোষণা করা হলো।
তার এই ঘোষণার ফলে প্রতি ব্যারেল তেলের দাম এক ধাক্কায় ১২ ডলার কমে যায়। দুপক্ষকে ফের আলোচনার টেবিলে নেওয়ার চেষ্টায় থাকা পাকিস্তানও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানায়। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার জন্য ইরানের শর্তাবলি নির্ধারণের লক্ষ্যে ইসলামাবাদের কর্মকর্তারা তিন দিন ধরে তেহরানে অবস্থান করছিলেন।
দ্য গার্ডিয়ানের কূটনীতিক সম্পাদক প্যাট্রিক উইন্টুরের ভাষ্য, আরাগচির পোস্টটি সম্ভবত ভুলভাবে সাজানো অথবা অসম্পূর্ণ ছিল, যা ইরানে তীব্র প্রতিক্রিয়ার জন্ম দেয়। পরিস্থিতিকে আরও শোচনীয় করে তোলে তেলের দরপতন এবং ডোনাল্ড ট্রাম্পের পক্ষ থেকে খবরটিকে অতিরঞ্জিতভাবে ব্যাখ্যা করা। ট্রাম্প ইরানকে ধন্যবাদ জানিয়ে দাবি করেন, হরমুজ প্রণালি খুলে দিতে এবং তাদের ইউরেনিয়ামের মজুদ যুক্তরাষ্ট্রে পাঠাতে রাজি হয়েছে তেহরান।
ইরানের ভেতরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে কেউ কেউ দাবি করেছেন যে, আরাগচির পোস্টটি বাজার নিয়ন্ত্রণের উদ্দেশ্যে দেওয়া হয়েছিল। ইরানি সংসদ সদস্য মোর্তজা মাহমুদী বলেন, যুদ্ধ পরিস্থিতি না থাকলে আরাগচিকে তার এই অসময়ের বক্তব্যের জন্য অভিশংসনের মুখোমুখি হতে হতো।
৬১ দিন আগে