বিশ্ব
চীনের মধ্যস্থতায় পাকিস্তান-আফগানিস্তান যুদ্ধবিরতি আলোচনা শুরু
পাকিস্তান ও আফগানিস্তানের মধ্যে এক মাসেরও বেশি সময় ধরে চলা যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে চীনে পুনরায় আলোচনা শুরু হয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (১ এপ্রিল) পাকিস্তানের দুজন ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
বেইজিং এ দুই পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতাকারী হিসেবে কাজ করছে। চীনের এ মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার বিষয়ে অবগত এক ব্যক্তি জানিয়েছেন, বর্তমান সংঘাত নিরসনই এই আলোচনার মূল লক্ষ্য।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে পাকিস্তানের কর্মকর্তারা জানান, উত্তর চীনের উরুমকিতে দুই দেশের প্রতিনিধিরা বৈঠকে বসেছেন। তবে এখন পর্যন্ত এ বিষয়ে কোনো আনুষ্ঠানিক মন্তব্য করেনি চীন।
এদিকে, পাকিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় সর্বশেষ অগ্রগতির বিষয়ে নিশ্চিত বা অস্বীকার কোনোটিই করেনি। তবে সূত্রগুলো জানিয়েছে, পাকিস্তান ও প্রতিবেশী আফগানিস্তানের লাখ লাখ মানুষের জন্য স্বস্তির বার্তা বয়ে আনতে পারে—এমন প্রত্যাশা নিয়ে উরুমকিতে এই আলোচনা শুরু হয়েছে।
ইসলামাবাদ অভিযোগ করে আসছে যে, তাদের ভূখণ্ডে হামলা চালানো জঙ্গিগোষ্ঠী, বিশেষ করে পাকিস্তানি তালেবানকে (টিটিপি) নিরাপদ আশ্রয় দিচ্ছে আফগানিস্তান। অবশ্য এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে কাবুল।
গত মাসে কাবুলের একটি মাদক নিরাময়কেন্দ্রে পাকিস্তানের বিমান হামলায় ৪ শতাধিক মানুষের মৃত্যুর খবর আসার পর থেকে দুই দেশের মধ্যে উত্তেজনা চরমে পৌঁছায়। পাকিস্তান অবশ্য বেসামরিক নাগরিক নিহতের দাবি অস্বীকার করে বলেছিল, তারা কেবল একটি গোলাবারুদের গুদামে হামলা চালিয়েছে।
পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার তখন বলেছিলেন, কোনো হাসপাতালে নয়, কেবল সন্ত্রাসী অবকাঠামো এবং তাদের সহায়তাকারী সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করেছে ইসলামাবাদ।
উভয় পক্ষ পবিত্র ঈদুল ফিতর উপলক্ষে সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হলেও এখন আবারও সংঘর্ষ শুরু হয়েছে। তবে ফেব্রুয়ারি ও মার্চের তুলনায় বর্তমানে লড়াইয়ের তীব্রতা কিছুটা কম। ফেব্রুয়ারিতে পাকিস্তান আফগানিস্তানের বিরুদ্ধে ‘খোলা যুদ্ধের’ ঘোষণা দিয়েছিল।
এ সহিংসতা আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কেও উদ্বিগ্ন করে তুলেছে। কারণ আল-কায়েদা এবং আইএসের মতো গোষ্ঠীগুলো এই অঞ্চলে পুনরায় সংগঠিত হওয়ার চেষ্টা করছে।
সূত্রমতে, চীন মধ্যস্থতার প্রস্তাব দেওয়ার পর উভয় পক্ষ তা গ্রহণ করলে নতুন করে এ আলোচনা শুরু হয়। এর আগে, অক্টোবরে কাতারের মধ্যস্থতায় হওয়া যুদ্ধবিরতি এবং নভেম্বরে ইস্তাম্বুলে অনুষ্ঠিত শান্তি আলোচনাও দীর্ঘস্থায়ী কোনো সমাধান দিতে ব্যর্থ হয়েছে।
৭৯ দিন আগে
রাশিয়ার ক্রিমিয়ায় সামরিক বিমান বিধ্বস্ত, নিহত ২৯
রাশিয়ার অধিকৃত ক্রিমিয়া উপদ্বীপে একটি সামরিক বিমান বিধ্বস্ত হয়ে অন্তত ২৯ জন আরোহী নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিমানটির ছয়জন ক্রু ও ২৩ জন যাত্রী রয়েছে।
বুধবার (১ এপ্রিল) স্থানীয় সময় ভোরে দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে রুশ সংবাদমাধ্যম।
খবরে বলা হয়েছে, সোভিয়েত আমলে নির্মিত অ্যান-২৬ সামরিক পরিবহন বিমানটি নির্ধারিত ফ্লাইটে ক্রিমিয়া উপদ্বীপের উপর দিয়ে উড়ে যাচ্ছিল। মঙ্গলবার সন্ধ্যা প্রায় ৬টার দিকে বিমানটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায় সামরিক বাহিনীর। ২০১৪ সালে ইউক্রেন থেকে অঞ্চলটি অবৈধভাবে দখল করে রাশিয়া।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা তাস ও আরআইএ নভোস্তির বরাতে জানা যায়, টার্বোপ্রপ ইঞ্জিনচালিত বিমানটি একটি খাড়াই পাহাড়ে আঘাত করে বিধ্বস্ত হয়।
রাশিয়ার তদন্ত কমিটি জানায়, বিমানটিতে মোট সাতজন ক্রু সদস্য ও ২৩ জন যাত্রী ছিলেন। তবে বাকি একজন ক্রু সদস্য বেঁচে আছেন কি না, তা তাৎক্ষণিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
তদন্ত কমিটি জানিয়েছে, উড্ডয়ন বিধিমালা-সংক্রান্ত বিষয়ে একটি ফৌজদারি তদন্ত শুরু করা হয়েছে এবং বাখচিসারাই জেলার পার্বত্য বনাঞ্চলে তল্লাশি অভিযান চলছে।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বরাত দিয়ে বার্তা সংস্থা ইন্টারফ্যাক্সের খবরে বলা হয়েছে, কারিগরি ত্রুটির কারণে দুর্ঘটনাটি ঘটে থাকতে পারে। এ দুর্ঘটনায় কোনো ধরনের ‘বাহ্যিক হস্তক্ষেপ’ ছিল না বলেও খবরে উল্লেখ করা হয়েছে।
ইউক্রেনে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে রাশিয়ায় সামরিক বিমান দুর্ঘটনা তুলনামূলকভাবে বেড়েছে।
গত ডিসেম্বর মাসে রাশিয়ার ইভানোভো অঞ্চলে একটি অ্যান-২২ সামরিক পরিবহন বিমান বিধ্বস্ত হয়ে সাতজন ক্রু নিহত হন। তার আগে অক্টোবরে লিপেৎস্ক অঞ্চলে একটি মিগ-৩১ যুদ্ধবিমান এবং ২০২৫ সালের এপ্রিলে সাইবেরিয়ার ইরকুত্স্ক অঞ্চলে একটি টু-২২এম৩ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়।
এছাড়া, ২০২২ সালের অক্টোবরে আজভ সাগর উপকূলবর্তী ইয়েইস্ক শহরের একটি আবাসিক এলাকায় একটি সু-৩৪ বোমারু বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়। ওই ঘটনায় ১৫ জন নিহত হন।
৭৯ দিন আগে
শিশুদের সোশ্যাল অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা ‘পুরোপুরি’ না মানার অভিযোগ অস্ট্রেলিয়ার
অস্ট্রেলিয়ার অনলাইন নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফেসবুক, ইনস্টগ্রাম, স্ন্যাপচ্যাট ও টিকটকের মত কয়েকটি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে আদালতে যাওয়ার পরিকল্পনা করছে। কর্তৃপক্ষের অভিযোগ, এসব প্ল্যাটফর্মগুলো ১৬ বছরের কম বয়সী অস্ট্রেলীয় শিশুদের এগুলোর ব্যবহার থেকে দূরে রাখতে যথেষ্ট পদক্ষেপ নিচ্ছে না।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) ই-নিরাপত্তা কমিশনার জুলি ইনম্যান গ্রান্ট একটি প্রতিবেদন প্রকাশের মাধ্যমে এ বিষয়ে জানান। প্রতিবেদনে তিনি ১০টি প্ল্যাটফর্মকে ১৬ বছরের কম বয়সী সকল অস্ট্রেলীয় শিশুদের অ্যাকাউন্ট মুছে ফেলার নির্দেশ দেন।
বিশেষজ্ঞদের মতে, গত ১০ ডিসেম্বর থেকে কার্যকর হওয়া সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম আইনের আওতায় ওই প্ল্যাটফর্মগুলো কী কী যুক্তিসঙ্গত পদক্ষেপ নেবে, তা নির্ধারণ করার ক্ষমতা রাখবে অস্ট্রেলিয়ার আদালত।
জুলি ইনম্যানের রিপোর্টে বলা হয়, প্রায় ৫০ লাখ অস্ট্রেলীয় শিশুর অ্যাকাউন্ট বন্ধ করা হলেও অনেক শিশু এখনও তাদের অ্যাকাউন্টটি ধরে রেখেছে। তারা পুনরায় অ্যাকাউন্ট তৈরি করছে এবং প্ল্যাটফর্মগুলোতে আ্যাকাউন্ট খোলার সময় প্রদত্ত বয়স যাচাই পর্বও কোনোরকম বাধাবিপত্তি ছাড়াই পাস করে যাচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ওই ১০টির মধ্যে অন্তত পাঁচটি প্ল্যাটফর্মের কমপ্লায়েন্স নিয়ে তাদের ‘গুরুতর উদ্বেগ’ রয়েছে। তার দপ্তর ইতোমধ্যে এই পাঁচটি প্ল্যাটফর্মের বিরুদ্ধে প্রমাণ সংগ্রহ করছে, কারণ এই প্ল্যাটফর্মগুলো শিশুদের অ্যাকাউন্ট খোলার বিষয় সম্পর্কিত নিষেধাজ্ঞা পালনে যথেষ্ট উদাসীনতা দেখাচ্ছে।
এই আইন না মানলে আদালত সর্বোচ্চ ৪৯.৫ মিলিয়ন অস্ট্রেলিয়ান ডলার পর্যন্ত জরিমানা করতে পারে। ই-নিরাপত্তা সংস্থা খুব দ্রুতই এই বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে।
৮০ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে জ্বালানির দাম আকাশ ছুঁয়েছে, পাঁচ বছরে সর্বোচ্চ
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে বিশ্বজুড়ে জ্বালানি তেলের বাজারে অস্থিরতা তৈরি হয়েছে। এর প্রভাব পড়েছে খোদ জ্বালানি তেলের শীর্ষ উৎপাদক দেশ মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও। দেশটির বাজারে জ্বালানি তেলের দাম এখন আকাশ ছুঁই ছুঁই।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩১ মার্চ) যুক্তরাষ্ট্রে পেট্রোলের গড় দাম ৪ ডলারের গণ্ডি ছাড়িয়েছে। এ দাম ২০২২ সালে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর পর সর্বোচ্চ।
যুক্তরাষ্ট্রের মোটর ক্লাব ‘এএএ’-এর তথ্যমতে, বর্তমানে প্রতি গ্যালন গ্যাসোলিনের দাম দাঁড়িয়েছে ৪ দশমিক ০২ ডলারে, যা যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগের তুলনায় এক ডলারেরও বেশি। ইউক্রেনে রাশিয়ার হামলার পর চার বছর আগে মার্কিন চালকদের পাম্পে সর্বশেষ এই চড়া দামে জ্বালানি কিনতে হয়েছিল।
এ দাম একটি জাতীয় গড় হিসাব। তবে যুক্তরাষ্ট্রের অনেক অঙ্গরাজ্যে চালকদের বেশ কিছুদিন ধরেই ৪ ডলারেরও অনেক বেশি দামে তেল কিনতে হচ্ছে। সরবরাহ ব্যবস্থা এবং কর হারের ভিন্নতার কারণে অঙ্গরাজ্যভেদে এই দামের পার্থক্য দেখা যায়।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা শুরু করার পর থেকেই অপরিশোধিত তেলের দাম ব্যাপক হারে ওঠানামা করছে। মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রধান তেল উৎপাদনকারী দেশগুলোর উৎপাদন হ্রাস এবং সরবরাহ শৃঙ্খল মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হওয়ার ফলে এ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে।
অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব
জ্বালানি তেলের এই উচ্চমূল্য সাধারণ ভোক্তা এবং ব্যবসায়ীদের ওপর সরাসরি প্রভাব ফেলছে। জীবনযাত্রার ব্যয় বৃদ্ধির চাপে থাকা পরিবারগুলোকে এখন তেলের বাড়তি খরচ মেটাতে গিয়ে অন্য খাতের বাজেটে কাটছাঁট করতে হচ্ছে।
জ্বালানির দাম বাড়লে ইউটিলিটি বিল থেকে শুরু করে নিত্যপণ্যের দামও বেড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। বিশ্লেষকরা মনে করছেন, অদূর ভবিষ্যতে মুদি পণ্যের দাম সবচেয়ে বেশি বাড়তে পারে, কারণ এসব পণ্য বারবার পরিবহনের প্রয়োজন হয়। পরিবহন খরচ বেড়ে যাওয়ায় ব্যবসায়ীরা পণ্যের দাম বাড়িয়ে দিতে পারেন।
পরিবহন ও বিতরণ কাজে ব্যবহৃত ডিজেলে এই প্রভাব আরও স্পষ্ট। এএএ-এর তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর আগে প্রতি গ্যালন ডিজেল যেখানে ৩ দশমিক ৭৬ ডলারে পাওয়া যেত, বর্তমানে তা বেড়ে ৫ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে। ইউনাইটেড পোস্টাল সার্ভিস (ইউপিএস) ইতোমধ্যেই তাদের কিছু সেবায় সাময়িকভাবে ৮ শতাংশ অতিরিক্ত চার্জ যুক্ত করার প্রস্তাব দিয়েছে।
যদি যুদ্ধ দীর্ঘস্থায়ী হয়, তবে এ দাম আরও বাড়ার সম্ভাবনা রয়েছে। বিশ্বের মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। তবে প্রণালিটি দিয়ে বর্তমানে ট্যাঙ্কার চলাচল প্রায় বন্ধ। এছাড়া ইরান, ইসরায়েল এবং যুক্তরাষ্ট্র—সব পক্ষই তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালানোয় সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও ঘনীভূত হয়েছে।
দাম কমাতে জরুরি মজুদ উন্মুক্ত
বাজার স্থিতিশীল করতে আন্তর্জাতিক জ্বালানি সংস্থা (আইইএ) তাদের সদস্য দেশগুলোর জরুরি মজুদ থেকে ৪০ কোটি ব্যারেল তেল ছাড় করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছে। ট্রাম্প প্রশাসন শুরুতে রিজার্ভ তেলের প্রয়োজনীয়তা অস্বীকার করলেও শেষ পর্যন্ত এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হয়েছে।
এছাড়া ভেনেজুয়েলা এবং সাময়িকভাবে রাশিয়ার ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা শিথিল করে তেলের প্রবাহ বাড়ানোর চেষ্টা করছে ট্রাম্প প্রশাসন। হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের ক্ষেত্রে শতবর্ষী পুরোনো আইন ‘জোনস অ্যাক্ট’-এর (যুক্তরাষ্ট্রের সমুদ্রপথ ও জাহাজ চলাচল সম্পর্কিত আইন, যা জাহাজ চলাচল এবং নিরাপত্তা নিয়ন্ত্রণ করে) বাধ্যবাধকতা আগামী ৬০ দিনের জন্য শিথিল করা হচ্ছে।
তবে এই প্রচেষ্টাগুলো সাধারণ ভোক্তাদের জন্য কতটা স্বস্তি বয়ে আনবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। পরিশোধনাগারগুলো আগেভাগেই চড়া দামে অপরিশোধিত তেল কিনে রাখায় নতুন সরবরাহের সুফল পেতে সময় লাগবে। তাছাড়া বছরের এ সময়ে আমেরিকায় তেলের চাহিদা এমনিতেই বেশি থাকে। আবার উষ্ণ আবহাওয়ার কারণে শোধনাগারগুলোকে গ্রীষ্মকালীন ব্যবহার উপযোগী জ্বালানি তৈরি করতে হয়, যা শীতকালীন জ্বালানির চেয়ে ব্যয়বহুল।
তেল রপ্তানিকারক দেশ হয়েও কেন এই সংকট?
যুক্তরাষ্ট্র নিজে তেল রপ্তানিকারক দেশ হওয়া সত্ত্বেও বিশ্ববাজারের এই ধাক্কার বাইরে থাকতে পারছে না। এশিয়ার দেশগুলোর মতো সরাসরি মধ্যপ্রাচ্যের ওপর নির্ভরশীল না হলেও আন্তর্জাতিক বাজারের দামের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের বাজারও প্রভাবিত হয়।
যুক্তরাষ্ট্র মূলত ‘লাইট সুইট ক্রুড’ (হালকা সালফারযুক্ত তেল যা সহজে পরিশোধন করা যায়) উৎপাদন করে। কিন্তু দেশটির পূর্ব ও পশ্চিম উপকূলের শোধনাগারগুলো ‘হেভি সোর ক্রুড’ (যে তেল পরিশোধন তুলনামূলক কঠিন) প্রক্রিয়াজাত করার উপযোগী করে তৈরি। ফলে চাহিদার প্রয়োজনে দেশটিকে আমদানির ওপরও নির্ভর করতে হয়।
ইতিহাস ঘাটলে দেখা যায়, ভূ-রাজনৈতিক সংঘাত সবসময়ই জ্বালানির বাজারে অস্থিরতা নিয়ে আসে। ২০২২ সালের জুনে ইউক্রেন যুদ্ধ শুরুর চার মাস পর যুক্তরাষ্ট্রে তেলের গড় দাম রেকর্ড ৫ ডলার ছাড়িয়েছিল। মঙ্গলবার সেই রেকর্ড ছোঁয়ার পথে আবারও ৪ ডলারের গণ্ডি অতিক্রম করল দেশটির জ্বালানি বাজার।
৮০ দিন আগে
জোর করে কেন হরমুজ প্রণালি খুলতে পারছেন না ট্রাম্প?
মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন স্থলসেনা উপস্থিতি ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হরমুজ প্রণালি জোরপূর্বক খুলে দেওয়ার একটি ‘বিপজ্জনক’ সুযোগ করে দিয়েছে। তবে এ ধরনের উদ্যোগ তেহরানের কঠোর পাল্টা প্রতিক্রিয়ার আশঙ্কাও তৈরি করেছে।
দ্য গার্ডিয়ানের বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, বিশ্বের মোট তেল বাণিজ্যের এক-পঞ্চমাংশ এ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হয়। ইরানের এ প্রণালিটি বন্ধের কৌশলগত অবস্থান তেলের দামকে ব্যারেল প্রতি ১০০ ডলারের উপরে নিয়ে গেছে। ফলে এটি ট্রাম্পের ওপর বড় চাপ তৈরি করেছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট একদিকে কূটনৈতিক সুযোগ দেওয়ার কথা বলছেন, অন্যদিকে ইরানে বোমাবর্ষণ অব্যাহত রেখেছেন। স্থানীয় সময় রবিবার (২৯ মার্চ) ট্রাম্প সরাসরি জানিয়েছেন যে, তিনি ইরানের তেল দখল করতে চান।
বিশেষজ্ঞদের মতে, হরমুজ প্রণালি খুলতে ট্রাম্পের সামনে দুটি সামরিক পথ খোলা আছে—ইরানের ভূখণ্ড দখল করা অথবা জলপথে নৌবাহিনী মোতায়েন করা। তবে সীমিত স্থল অভিযানও এমন প্রাণহানির কারণ হতে পারে যা একজন প্রেসিডেন্টের গদিও নড়িয়ে দিতে পারে। ইরানের জন্য তাদের মাটিতে বিদেশি সেনার উপস্থিতি একটি ‘রেড লাইন’ বা চরম সীমা।
ফরেন পলিসি রিসার্চ ইনস্টিটিউটের গবেষক এমা সালিসবারি মনে করেন, ট্রাম্প পারস্য উপসাগরের কোনো একটি ইরানি দ্বীপ দখলের মাধ্যমে সংঘাতকে আরও উসকে দিতে পারেন। তিনি সতর্ক করে বলেছেন, ‘এখন পর্যন্ত প্রতিটি ক্ষেত্রে তিনি (ট্রাম্প) আগ্রাসী পথ বেছে নিয়েছেন। সৈন্য হাতে থাকলে তিনি অবশ্যই তা ব্যবহার করবেন, তবে তা ভয়াবহ রক্তক্ষয়ী হতে পারে।’
অন্যদিকে, মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরান একটি কঠোর বার্তা পাঠিয়েছে। ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে, তাদের ভূখণ্ডে মার্কিন সেনা ঢুকলে তারা নিজেদের এলাকাতেই ব্যাপক বোমা হামলা করতে পারে, এমনকি অবকাঠামো ধ্বংস করতেও প্রস্তুত রয়েছে।
রবিবার যুক্তরাষ্ট্রকে অভিযুক্ত করে তেহরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের ঘালিবাফ বলেন, ওয়াশিংটন প্রকাশ্যে আলোচনার কথা বললেও গোপনে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। তিনি বলেন, তারা একদিকে আলোচনার কথা বলছে, অন্যদিকে স্থল হামলার পরিকল্পনা করছে। হুঁশিয়ারি দিয়ে ঘালিবাফ বলেন, মার্কিন সেনারা এলে তাদের কঠোরভাবে প্রতিরোধ করা হবে।
তিনি আরও বলেন, আমাদের বীর সেনারা মার্কিন সেনাদের জন্য অপেক্ষা করছেন, যাতে তাদের আগুনে পুড়িয়ে দেওয়া যায় এবং তাদের আঞ্চলিক মিত্রদের চিরতরে শিক্ষা দেওয়া যায়।
সামরিক প্রস্তুতির অংশ হিসেবে গত শনিবার প্রায় ৫ হাজার মার্কিন নৌসেনার অর্ধেক অংশ মধ্যপ্রাচ্যে পৌঁছেছে। এরা জল-স্থল উভয় পথেই অভিযানে দক্ষ। আরও প্রায় ২ হাজার প্যারাট্রুপার (প্যারাসুট ব্যবহার করে বিমান থেকে নামা বিশেষ প্রশিক্ষিত সৈনিক) পৌঁছানোর কথা রয়েছে।
ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল ‘খার্গ দ্বীপ’ মার্কিন হামলার অন্যতম প্রধান লক্ষ্য হতে পারে। তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এই সীমিত সংখ্যক সৈন্য দিয়ে দ্বীপ দখল করা সহজ হলেও তা ধরে রাখা কঠিন হবে। কারণ ইরান তখন রকেট, মিসাইল এবং ড্রোন হামলা শুরু করবে।
আবার বড় ধরনের স্থল অভিযানের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের এই সেনা সংখ্যা যথেষ্ট নয়। ২০০৩ সালে ইরাক আক্রমণের সময় তৎকালীন মার্কিন প্রশাসন প্রায় দেড় লাখ সেনা মোতায়েন করেছিল। আর ইরানের আয়তন তার তিন গুণেরও বেশি। মার্কিন সংবাদমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, তৃতীয় একটি বিমানবাহী রণতরী এবং আরও ১০ হাজার সৈন্য পাঠানোর কথা ভাবছে ওয়াশিংটন।
ট্রাম্প আরও একটি ঝুঁকিপূর্ণ অভিযানের কথা বিবেচনা করছেন। তা হলো, ইরানের মূল ভূখণ্ডে ঢুকে সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুদ দখল করা। তবে এটি করতে বিশেষ বাহিনীর প্রয়োজন হবে।
ফিনান্সিয়াল টাইমসকে ট্রাম্প বলেন, আমরা খার্গ দ্বীপ দখল করতেও পারি, আবার নাও পারি। আমাদের অনেক পথ খোলা আছে।
কিন্তু খার্গ দ্বীপটি উপসাগরের অনেক গভীরে হওয়ায় সেখানে লজিস্টিক সহায়তা পাঠানো এবং সৈন্যদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা মার্কিন বাহিনীর জন্য অত্যন্ত কঠিন হবে। এছাড়া হরমুজ প্রণালিতে থাকা কিশ ও আবু মুসার মতো দ্বীপগুলো এ জলপথের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে, যা দখল করা যুক্তরাষ্ট্রের জন্য অত্যন্ত কঠিন।
স্ট্র্যাটেজিক স্টাডিজের জ্যেষ্ঠ ফেলো রুবেন স্টুয়ার্ট মনে করেন, এই সেনা মোতায়েন মূলত আলোচনার টেবিলে নিজেদের অবস্থান শক্ত করার একটি কৌশল বা ‘প্রদর্শনী’ হতে পারে। কারণ সামরিকভাবে কোনো দ্বীপ দীর্ঘসময় দখল করে রাখা মার্কিনিদের জন্য বর্তমান বাস্তবতায় কার্যকর কিছু হবে না।
এছাড়া স্থল অভিযান হলেও ইরানের হুমকি পুরোপুরি দূর হবে না। প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিশ্চিত করতে বাণিজ্যিক জাহাজে নৌবাহিনীর নিরাপত্তা, মাইন অপসারণ ও আকাশ সহায়তার প্রয়োজন হবে। এ জন্য বিপুল সংখ্যক যুদ্ধজাহাজ দরকার, যা যুক্তরাষ্ট্রকে যুক্তরাজ্য ও ইউরোপীয় মিত্রদের সহায়তার ওপর নির্ভরশীল করে তুলবে। বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে পর্যাপ্ত মাইন অপসারণকারী জাহাজও নেই।
তবে বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে, কারণ ইয়েমেনের ইরান-সমর্থিত হুথি গোষ্ঠী ইতোমধ্যে সংঘাতে যুক্ত হয়ে ইসরায়েলের দিকে ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে। তারা লোহিত সাগরের গুরুত্বপূর্ণ জলপথেও হামলা শুরু করতে পারে। ফলে যুক্তরাষ্ট্রকে একসঙ্গে দুটি গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ নিরাপদ রাখতে হতে পারে।
৮১ দিন আগে
নাইজেরিয়ায় বন্দুকধারীদের গুলিতে নিহত ২০
নাইজেরিয়ার উত্তর-মধ্যাঞ্চলের একটি জনপদে বন্দুকধারীদের গুলিতে অন্তত ২০ জন নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৯ মার্চ) রাতে নাইজেরিয়ার জোস নর্থ এলাকার গারি ইয়া ওয়ায়ে কমিউনিটিতে এই হামলাটি ঘটে বলে জানান প্লাটো রাজ্যের তথ্য কমিশনার জয়েস লোহিয়া রামনাপ। হতাহতের সংখ্যা না জানালেও তিনি বলেন, উদ্বেকজনক হারে প্রাণহানি ও আহত হওয়ার ঘটনা ঘটেছে।
তিনি আরও জানান, হামলা প্রতিরোধ করতে রাজ্য সরকার ৪৮ ঘণ্টার কারফিউ জারি করেছে।
তবে স্থানীয় বাসিন্দারা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, মোটরসাইকেলে থাকা কিছু বন্দুকধারী এলাকায় এসে হঠাৎ এলোপাথাড়ি গুলি চালান। তবে এখনো পর্যন্ত কোনো গোষ্ঠী এই হামলার দায় স্বীকার করেনি।
ইবুকুন ফালোদুন নামক এক স্থানীয় বাসিন্দা জানান, এই আকস্মিক হামলায় কমপক্ষে ২০ জনের মৃত্যু হয়েছে।
প্লাটো রাজ্যের এই হামলাগুলো মূলত উত্তর-মধ্য নাইজেরিয়ার দীর্ঘদিনের সহিংসতা চক্রের একটি অংশ। প্রধানত মুসলিম ফুলানি পশুপালকদের সাথে খ্রিস্টান কৃষক সম্প্রদায়গুলোর জমি ও চারণভূমি নিয়ে বিরোধের জের ধরে এই সহিংসতা চলে আসছে।
৮১ দিন আগে
ইরানের খার্গ দ্বীপ দখলের ইঙ্গিত ট্রাম্পের
ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি টার্মিনাল খার্গ দ্বীপ দখলের সম্ভাবনার কথা ইঙ্গিত দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
ফিন্যান্সিয়াল টাইমসকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘হয়তো আমরা খার্গ দ্বীপ (দখলে) নেব, হয়তো নেব না। আমাদের হাতে অনেক বিকল্প আছে।’ তিনি আরও বলেন, দ্বীপটি দখল করলে সেখানে কিছু সময় অবস্থান করতে হবে।
এদিকে, ইরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তাদের ভূখণ্ডে হামলা হলে পারস্য উপসাগরে মাইন বিছিয়ে দেওয়া হতে পারে। এর মধ্যেই যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল সোমবারও ইরানে হামলা অব্যাহত রেখেছে, যদিও যুদ্ধবিরতি নিয়ে প্রাথমিক পর্যায়ের আলোচনায় অগ্রগতির ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের খবরে বলা হয়েছে, ইরান পাল্টা হামলা চালিয়ে কুয়েতের একটি গুরুত্বপূর্ণ পানি ও বিদ্যুৎ স্থাপনায় আঘাত হেনেছে। উপসাগরীয় আরব দেশগুলোকে লক্ষ্য করে তেহরানের চলমান অভিযানের অংশ হিসেবে ওই হামলা চালানো হয়েছে।
ট্রাম্প দাবি করেন, ইরান ‘সম্মানের নিদর্শন হিসেবে’ সোমবার সকাল থেকে কয়েক দিনের জন্য হরমুজ প্রণালি দিয়ে ২০টি তেলবাহী জাহাজ চলাচলের অনুমতি দিয়েছে। তিনি বলেন, ‘আলোচনায় আমরা খুব ভালো অবস্থানে আছি, কিন্তু ইরানকে নিয়ে কখনোই নিশ্চিত হওয়া যায় না।’
চলমান সংঘাতের ফলে ইতোমধ্যে বৈশ্বিক তেল ও গ্যাস সরবরাহে হুমকি সৃষ্টি হয়েছে। বিশ্বজুড়ে সার সংকট বেড়েছে এবং বিমান চলাচলেও বিঘ্ন ঘটছে।
সোমবার দিনের শুরুতেই আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের মূল্য প্রায় ১১৫ ডলারে পৌঁছায়। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের ওপর যৌথ হামলা শুরুর দিনের তুলনায় এটি প্রায় ৬০ শতাংশ বেশি।
এদিকে, ইরানের সংসদ সদস্য আলাউদ্দিন বোরুজার্দি দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে পারমাণবিক অস্ত্র বিস্তার রোধ চুক্তি (এনপিটি) থেকে বেরিয়ে আসার প্রস্তাব দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা কেন বিধিনিষেধ মেনে চলব? আমরা পারমাণবিক অস্ত্র চাই না, কিন্তু এর মানে এই নয় যে আমরা নিয়ম মানব আর তারা আমাদের বোমা মারবে।’
উল্লেখ্য, এনপিটি একটি আন্তর্জাতিক চুক্তি, যার লক্ষ্য পারমাণবিক অস্ত্রের বিস্তার রোধ করা। এতে স্বাক্ষরকারী দেশগুলো পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি বা অর্জন না করার অঙ্গীকার করে এবং আন্তর্জাতিক পরমাণু শক্তি সংস্থাকে (আইএইএ) তাদের কর্মসূচি যাচাইয়ের সুযোগ দেয়।
তবে ইরান গত কয়েক বছর ধরে আইএইএর পরিদর্শন সীমিত করে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্রের বোমা হামলার শিকার হওয়া তিনটি পরমাণু সমৃদ্ধকরণ স্থাপনায় সংস্থাটিকে প্রবেশ করতে দেয়নি।
৮১ দিন আগে
সেপ্টেম্বরের বিক্ষোভে মৃত্যু: নেপালের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী গ্রেপ্তার
গত বছরের সেপ্টেম্বরে নেপালের জেন-জি নেতৃত্বাধীন সরকার পতনের বিক্ষোভে বেশকিছু প্রাণহানির ঘটনায় দেশটির সাবেক প্রধানমন্ত্রী খড়গ প্রসাদ (কেপি) শর্মা ওলিকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
স্থানীয় সময় শনিবার ভোরে রাজধানী কাঠমান্ডুর উপকণ্ঠে নিজ বাসভবন থেকে প্রভাবশালী এই কমিউনিস্ট নেতাকে আটক করা হয়। একই সঙ্গে বিক্ষোভকারীদের ওপর গুলি চালানোর নির্দেশ দেওয়ার অভিযোগে সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখাককেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে।
দাঙ্গা প্রতিরোধ সরঞ্জাম পরিহিত পুলিশ সদস্যদের বেশ কয়েকটি ট্রাক দুই নেতার বাসভবনে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করে কাঠমান্ডু জেলা পুলিশ কার্যালয়ে নিয়ে যায়।
নেপালের বর্তমান স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সুদান গুরুং সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তাদের গ্রেপ্তারের ঘোষণা দিয়েছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আইনের ঊর্ধ্বে কেউ নন। আমরা সাবেক প্রধানমন্ত্রী কেপি শর্মা ওলি এবং সাবেক স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী রমেশ লেখককে নিয়ন্ত্রণে নিয়েছি। এটি কারো বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নয়, বরং ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠার শুরু মাত্র।’
সরকার গঠিত একটি তদন্ত কমিশনের প্রতিবেদনে ওলি, লেখাক এবং বিক্ষোভ চলাকালীন তৎকালীন পুলিশ প্রধানের বিরুদ্ধে সর্বোচ্চ ১০ বছর কারাদণ্ডের সুপারিশ করা হয়েছিল।
চলতি মাসের সংসদীয় নির্বাচনে রাষ্ট্রীয় স্বতন্ত্র পার্টির বিপুল জয়ের পর র্যাপার থেকে রাজনীতিবিদ বনে যাওয়া বলেন্দ্র শাহর নেতৃত্বাধীন নতুন সরকার দায়িত্ব নেওয়ার একদিন পরই এই গ্রেপ্তারের ঘটনা ঘটল। শাহ এবং গুরুং উভয়ই বিক্ষোভে হতাহতদের জন্য ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
গত ৮ ও ৯ সেপ্টেম্বর দুর্নীতি ও অপশাসনের বিরুদ্ধে তরুণ প্রজন্মের নেতৃত্বে শুরু হওয়া ওই বিক্ষোভে ৭৬ জন নিহত এবং ২ হাজার ৩০০ জনেরও বেশি মানুষ আহত হন। উত্তেজিত জনতা প্রধানমন্ত্রী ও রাষ্ট্রপতির কার্যালয়, থানা এবং শীর্ষ রাজনীতিবিদদের বাসভবনে অগ্নিসংযোগ করলে তারা সামরিক হেলিকপ্টারে করে পালিয়ে যেতে বাধ্য হন। ওই ঘটনার পর নেপালে এটিই ছিল প্রথম নির্বাচন।
‘জেন জি’ অ্যাক্টিভিস্টদের সেই তীব্র গণ-আন্দোলনের মুখে গত ১২ সেপ্টেম্বর সুপ্রিম কোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি সুশীলা কারকিকে নেপালের প্রথম নারী প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়েছিল, যিনি নির্বাচনের আগ পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন দায়িত্ব পালন করেন।
৮৩ দিন আগে
উপহাস করে ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব প্রত্যাখান করল ইরান
সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতির জন্য যুক্তরাষ্ট্র ইরানের কাছে ১৫ দফা একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে বলে জানিয়েছেন এক মার্কিন এক কর্মকর্তা। তবে ইরানের সামরিক বাহিনী এই কূটনৈতিক চালকে উপহাস করে প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ইসরায়েল ও উপসাগরীয় অঞ্চলে আবারও হামলা চালিয়েছে।
প্রকাশ্যে কথা বলার অনুমতি না থাকায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে সংশ্লিষ্ট একটি সূত্র জানিয়েছেন, টানা এক মাস ধরে বিধ্বংসী এই আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার জন্য বিভিন্ন দিক থেকে যুক্তরাষ্ট্রের ওপর ক্রমাগত চাপ বাড়ছে। পরিস্থিতি সামাল দিতে ওয়াশিংটন মধ্যস্থতাকারী হিসেবে পাকিস্তানের মাধ্যমে ইরানের কাছে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব পাঠিয়েছে। এ ঘটনায় নতুন করে একটি আলোচনায় বসার প্রস্তাবও দিয়েছে ইসলামাবাদ।
যুদ্ধচলাকালীন বিভিন্ন সময়ে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা এবং গুরুত্বপূর্ণ জলপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ দখল করেছে। ফলস্বরূপ বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত জ্বালানি তেলের দাম আকাশ ছুঁয়েছে। বৈশ্বিক জ্বালানি সংকটের আশঙ্কায় বিশ্ববাজার অস্থির হয়ে পড়েছে।
কূটনৈতিক প্রচেষ্টার মাঝেও মধ্যপ্রাচ্যে মার্কিন সেনা পাঠানো অব্যাহত
এসব পরিকল্পনা সম্পর্কে অবগত নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ৩ জন ব্যক্তি দ্য অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে জানিয়েছেন, আগামী কয়েক দিনের মধ্যে ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের অন্তত ১ হাজার সেনা সদস্যকে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে।
মার্কিন প্রতিরক্ষা বিভাগের সদর দপ্তর পেন্টাগন আরও দুটি মেরিন ইউনিট মোতায়েনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে। এই দুটি মেরিট ইউনিট মোতায়ন করা হলে ওই অঞ্চলে প্রায় ৫ হাজার মেরিন এবং হাজার হাজার নৌসেনা যুক্ত হবে। ওই ব্যক্তিরা আরও বলেন, এই পদক্ষেপগুলোকে এমনভাবে উপস্থাপন করা হচ্ছে যেন ট্রাম্প ভবিষ্যতে কী করবেন সে বিষয়ে নিজেকে ‘সর্বোচ্চ নমনীয়তা’ দেওয়ার জন্যই এই কৌশল নিচ্ছেন।
ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের কর্মকর্তারা আলোচনা করছেন। তবে ইরানের নিয়মিত আধাসামরিক রেভল্যুশনারি গার্ড খাতাম আল-আনবিয়া সেন্ট্রাল হেডকোয়ার্টার্স ইঙ্গিত দিয়েছে যে এরকম কোনো আলোচনা চলছে না।
এ প্রসঙ্গে সদর দপ্তরের মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল ইব্রাহিম জোলফাঘারি বলেন, ‘তোমাদের অভ্যন্তরীণ দ্বন্দ্ব কি এমন পর্যায়ে পৌঁছেছে যে এখন তোমরা নিজেদের সঙ্গেই নিজেরা আলোচনা করছ?’
রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ভিডিও বার্তায় জোলফাঘারি বলেন, ‘শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত আমারা আমাদের সিদ্ধান্তে অটুট থাকব। আমরা কখনোই তোমাদের সঙ্গে সমঝোতা করব না; এখনও নয় এবং ভবিষতেও নয়।’
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক কর্মকর্তার মতে, ইসরায়েল যুক্তরাষ্ট্রের এই যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে বিস্মিত ও যথেষ্ট অসন্তুষ্ট হয়েছেন। তবে হোয়াইট হাউস এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করেনি।
ইসরায়েলের নতুন বড় পরিসরে হামলা
সম্প্রতি এসব বিষয় নিয়ে তর্ক-বির্তকের মাঝে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, বুধবার ভোরে তারা ইরানের সরকারি অবকাঠামো লক্ষ্য করে নতুন করে ব্যাপক হামলা শুরু করেছে। ইরানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কাজভিনের প্রত্যক্ষদর্শীরা ইতোমধ্যে একটি বিমান হামলার খবর জানিয়েছেন।
এদিকে ইরান হামলা চালানোয় ইসরায়েলে বুধবার ভোর থেকেই ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতা সাইরেন বেজে ওঠে। গত মাসের ২৮ ফেব্রুয়ারি থেকে ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা শুরু করার পর থেকে এই পাল্টাপাল্টি হামলার ঘটনা নৈমিত্তিক হয়ে দাঁড়িয়েছে।
ইরান তার উপসাগরীয় আরব প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপরও চাপ বজায় রেখেছে। সৌদি আরবের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটির তেলসমৃদ্ধ পূর্বাঞ্চলে অন্তত আটটি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। একইসঙ্গে বাহরাইনে ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কতার সাইরেন শোনা গেছে।
কুয়েত জানিয়েছে, তারা একাধিক ড্রোন ভূপাতিত করেছে, তবে একটি ড্রোন কুয়েত আর্ন্তজাতিক বিমানবন্দরের একটি জ্বালানি ট্যাংকে আঘাত হানে। এর ফলে সেখানে আগুন লেগে যায় বলে জানিয়েছে দেশটির বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষ। অগ্নিনির্বাপক কর্মীরা দ্রুত আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে।
আলোচনার পথে বড় চ্যালেঞ্জ
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনও জটিল।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কার হাতে আলোচনা করার ক্ষমতা রয়েছে বা কে আলোচনা করতে আগ্রহী হবেন—তাও স্পষ্ট নয়; বিশেষ করে ইসরায়েল যখন দেশটির নেতাদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের গভীর সন্দেহ রয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্র দুইবার হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলাটি চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পরস্পরবিরোধী বক্তব্য
হোয়াইট হাউসে মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, আমরা এখনই আলোচনা করছি। এতে উইটকফ, কুশনার, পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ও ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স অংশ নিচ্ছেন। তিনি বলেন, আমাদের অনেকেই এতে কাজ করছেন। অন্যপক্ষও চুক্তি করতে আগ্রহী।
অন্যদিকে, ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির দপ্তর জানিয়েছে, তিনি এ সপ্তাহে বিভিন্ন পক্ষের সঙ্গে আলোচনা করছেন। তবে ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ সরাসরি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছেন। এক সামরিক মুখপাত্রও বলেছেন যে যুদ্ধ চলবে।
ইরানি রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে মেজর জেনারেল আলি আবদোল্লাহি আলিয়াবাদি বলেন, ইরানের শক্তিশালী সশস্ত্র বাহিনী দেশের অখণ্ডতা রক্ষায় অটল রয়েছে এবং পূর্ণ বিজয় না হওয়া পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।
মিসরের এক কর্মকর্তা জানান, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আস্থা তৈরির মাধ্যমে যুদ্ধবিরতি আনার চেষ্টা চলছে। এতে ইসরায়েল জড়িত নয়।
তিনি বলেন, আঞ্চলিক জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলা ঠেকানোই এখন অগ্রাধিকার। পাশাপাশি হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর একটি প্রক্রিয়া নিয়েও কাজ চলছে।
আলোচনার সম্ভাবনার খবরে কিছু সময়ের জন্য তেলের দাম কমলেও পরে আবার বাড়তে থাকে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে ব্রেন্ট ক্রুডের দাম মঙ্গলবার ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের উপরে ওঠে, যা যুদ্ধ শুরুর পর প্রায় ৪০ শতাংশ বেড়েছে।
৮৬ দিন আগে
যুদ্ধবিরতিতে ইরানকে ট্রাম্প প্রশাসনের ১৫ দফা প্রস্তাব
যুদ্ধবিরতিতে ইরানকে ১৫ দফার একটি প্রস্তাব দিয়েছে ডোনিাল্ড ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসন। একই সময়ে মধ্যপ্রাচ্যে ইতোমধ্যে মোতায়েন প্রায় ৫০ হাজার মার্কিন সেনার সঙ্গে আরও অন্তত ১ হাজার সেনা পাঠানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে তারা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৪ মার্চ) রাতে এ প্রস্তাবের রূপরেখা সম্পর্কে অবগত একজন ব্যক্তি এ তথ্য জানান।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই ব্যক্তি জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে ইরানের কাছে প্রস্তাবটি পাঠানো হয়েছে। ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে নতুন করে আলোচনা আয়োজনের প্রস্তাবও দিয়েছে পাকিস্তান।
ইরানি কর্মকর্তাদের কাছে প্রস্তাবটি পৌঁছানোর খবর প্রথম প্রকাশ করে নিউইয়র্ক টাইমস।
এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে আরও দুটি নৌ ইউনিট মোতায়েনের প্রক্রিয়ায় রয়েছে পেন্টাগন। এর ফলে প্রায় ৫ হাজার মেরিন ও হাজারো নৌসেনা ওই অঞ্চলে যুক্ত হবে। এসব পদক্ষেপকে ট্রাম্পের পরবর্তী সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে সর্বোচ্চ নমনীয়তা নিশ্চিতের কৌশল হিসেবে দেখা হচ্ছে বলে জানান ওই ব্যক্তি।
যুক্তরাষ্ট্রের যুদ্ধবিরতির প্রস্তাবে ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ অব্যাহত রাখতে ট্রাম্পকে উৎসাহিত করা ইসরায়েলি কর্মকর্তারা বিস্মিত হয়েছেন। তবে এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস কোনো মন্তব্য করেনি।
এর আগে, মঙ্গলবার ট্রাম্প বলেন, যুদ্ধ শেষ করতে ইরানের সঙ্গে আলোচনা চলছে। একই সময়ে ইরান কড়া ভাষায় নিজেদের অবস্থান জানায়।
একদিকে ওয়াশিংটন হামলা অব্যাহত রাখায় তেহরানও পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। এর মূল লক্ষ্য ইসরায়েল ও অঞ্চলটির বিভিন্ন স্থাপনা। অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার বিষয়টি অস্বীকার করেছে তেহরান। আবার হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালুর জন্য দেওয়া নিজের নির্ধারিত সময়সীমাও পিছিয়ে দিয়েছেন ট্রাম্প। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথে ইরানের নিয়ন্ত্রণ আন্তর্জাতিক নৌপরিবহন ব্যাহত করেছে, জ্বালানির দাম বাড়িয়েছে এবং বিশ্ব অর্থনীতির জন্য হুমকি তৈরি করেছে।
আলোচনার পথে বড় চ্যালেঞ্জ
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে সম্ভাব্য আলোচনায় বড় ধরনের চ্যালেঞ্জ রয়েছে। বিশেষ করে ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে ওয়াশিংটনের অবস্থান এখনও জটিল।
ইরান সরকারের পক্ষ থেকে কার হাতে আলোচনা করার ক্ষমতা রয়েছে বা কে আলোচনা করতে আগ্রহী হবেন—তাও স্পষ্ট নয়; বিশেষ করে ইসরায়েল যখন দেশটির নেতাদের হত্যাযজ্ঞ চালিয়ে যাওয়ার অঙ্গীকার করেছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি ইরানের গভীর সন্দেহ রয়েছে। কারণ ট্রাম্প প্রশাসনের অধীনে উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক আলোচনার মাঝপথেই যুক্তরাষ্ট্র দুইবার হামলা চালিয়েছে। এর মধ্যে গত ২৮ ফেব্রুয়ারির হামলাটি চলমান যুদ্ধের সূত্রপাত ঘটায়।
মধ্যপ্রাচ্যে আরও সেনা মোতায়েন
যুক্তরাষ্ট্রের পরিকল্পনার বিষয়ে অবগত তিনজন ব্যক্তি জানিয়েছেন, ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের অন্তত ১ হাজার সেনা আগামী কয়েক দিনের মধ্যে মধ্যপ্রাচ্যে পাঠানো হবে।
এই ডিভিশনকে মার্কিন সেনাবাহিনীর ‘ইমার্জেন্সি রেসপন্স ফোর্স’ হিসেবে বিবেচনা করা হয়, যারা খুব অল্প সময়ের নোটিশে মোতায়েন হতে পারে। গত সপ্তাহে মার্কিন কর্মকর্তারা জানিয়েছিলেন, নৌবাহিনীর কয়েকটি জাহাজে থাকা হাজারো নৌসেনাও ওই অঞ্চলে যাচ্ছে।
নৌ ইউনিটগুলো সাধারণত মার্কিন দূতাবাস রক্ষা, বেসামরিক নাগরিকদের সরিয়ে নেওয়া এবং দুর্যোগকালীন সহায়তার জন্য প্রশিক্ষিত হলেও, ৮২তম এয়ারবোর্ন ডিভিশনের সেনারা শত্রুভাবাপন্ন বা বিরোধপূর্ণ এলাকায় প্যারাস্যুটের মাধ্যমে নেমে গুরুত্বপূর্ণ এলাকা ও বিমানঘাঁটি দখল করতে পারদর্শী।
এ অঞ্চলে নৌসেনা মোতায়েন নিয়ে গুঞ্জন উঠেছে যে, যুক্তরাষ্ট্র সম্ভবত ইরানের তেল নেটওয়ার্কের জন্য গুরুত্বপূর্ণ খার্গ দ্বীপ দখলের চেষ্টা করতে পারে। এর আগে, পারস্য উপসাগরের এই দ্বীপে যুক্তরাষ্ট্র বোমা হামলা চালালেও তেল স্থাপনা অক্ষত রাখা হয়েছে বলে জানানো হয়।
অন্যদিকে, তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র স্থলবাহিনী নামানোর চেষ্টা করলে উপসাগরে মাইন বিছিয়ে দেবে তারা।
নিউইয়র্কভিত্তিক থিঙ্ক ট্যাঙ্ক সুফান সেন্টার এক বিশ্লেষণে লিখেছে, আলোচনা চলাকালীন ট্রাম্প ইরানের বিদ্যুৎকেন্দ্রে বোমা হামলার হুমকি স্থগিত রেখেছেন। তবে এটি নৌসেনাদের পৌঁছানোর জন্য সময়ক্ষেপণের একটি কৌশল হতে পারে। সংস্থাটি অবশ্য এও উল্লেখ করেছে যে, ট্রাম্প হয়তো সক্রিয়ভাবে যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার একটি পথ খুঁজছেন।
৮৬ দিন আগে