বিশ্ব
ইসলামাবাদে মসজিদে বোমা হামলায় মূল পরিকল্পনাকারীসহ গ্রেপ্তার ৪
পাকিস্তানের ইসলামাবাদের ইমাম বারগাহ কাসর-ই-খাদিজাতুল কুবরা মসজিদে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনার প্রধান পরিকল্পনাকারীসহ ৪ সন্ত্রাসীকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী। খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশে অভিযান চালিয়ে তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছেন পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) গভীর রাতে প্রদেশের নওশেরা জেলার হাকিমাবাদ এলাকায় অভিযান চালায় দেশটির আইন প্রয়োগকারী সংস্থা। সে সময় আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সঙ্গে সন্ত্রাসীদের গোলাগুলি হয়। এতে পুলিশের ১ জন সহকারী উপপরিদর্শক নিহত এবং ৩ জন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন।
সূত্রের বরাত দিয়ে পাকিস্তানের সংবাদমাধ্যম ডন বলেছে, গ্রেপ্তার হওয়া সন্ত্রাসীদের মধ্যে নিষিদ্ধঘোষিত ইসলামিক স্টেটের (আইএস) সঙ্গে যুক্ত আফগান মাস্টারমাইন্ডও রয়েছেন।
নওশেরা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, ইসলামাবাদে বোমা হামলায় সহায়তাকারীদের সন্ধানে শুক্রবার দিবাগত রাত ৩টার দিকে অভিযান চালানো হয়। এ সময় গোলাগুলিতে পুলিশের ১ জন সহকারী উপপরিদর্শক নিহত হন।
এ বিষয়ে গতকাল (শনিবার) এক সংবাদ সম্মেলনে দেশটির স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভী বলেন, ‘হামলার পেছনের জড়িত ব্যক্তিদের খুঁজে বের করতে গতরাতজুড়ে অভিযান চালানো হয়েছে।’ সন্ত্রাস দমন বিভাগ (সিটিডি) এবং খাইবার পাখতুনখোয়া পুলিশের যৌথ প্রচেষ্টার কথা উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এটি একটি পরীক্ষামূলক ঘটনা।’ তবে অভিযানে সাফল্যের জন্য আইন প্রয়োগকারী সংস্থাগুলোর প্রশংসা করেন তিনি। ইসলামাবাদে আত্মঘাতী বোমা হামলায় জড়িতদের বিরুদ্ধে চলমান তদন্তের অংশ হিসেবে এই অভিযান পরিচালনা করা হয়েছে বলেও উল্লেখ করেন তিনি।
নকভী বলেন, ‘বিস্ফোরণের পর নওশেরা এবং পেশোয়ারে অভিযান চালিয়ে হামলায় সহায়তাকারী চারজনকে গ্রেপ্তার করা হয়। এই হামলার মূল পরিকল্পনাকারী ছিলেন একজন আফগান নাগরিক। তাকেও গ্রেপ্তার করা হয়েছে। অভিযানের সময় প্রাদেশিক পুলিশের একজন সহকারী উপপরিদর্শক নিহত হয়েছেন এবং অন্যরা আহত হয়েছেন। মূল পরিকল্পনাকারী দায়েশের সঙ্গে যুক্ত এবং আমাদের হেফাজতে রয়েছেন।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, হামলার পরিকল্পনা ও প্রশিক্ষণ ‘দায়েশ আফগানিস্তান’ নামের জঙ্গি গোষ্ঠী দ্বারা সংঘটিত হয়েছে এবং প্রতিবেশী দেশেই (ভারত) তা পরিচালিত হয়েছে। আমাদের কাছে লোক আছে যারা আমাদের এ বিষয়ে বিস্তারিত বলেছে। হামলাকারীরা কীভাবে সেখানে গিয়েছিল এবং কীভাবে তাদের প্রশিক্ষণ দেওয়া হয়েছে, সব জানা গেছে।
তিনি বলেন, ‘আমরা কিছুদিন ধরে বলে আসছি, তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি), আফগান তালেবান, দায়েশ বা অন্যান্য খারজি সন্ত্রাসী সংগঠ সবাই একসঙ্গে কাজ করছে।
‘জনসাধারণের কাছে আমার দুটি অনুরোধ রয়েছে। আমরা যুদ্ধের মধ্যে আছি; সেটা বেলুচিস্তান, খায়বার পাখতুনখোয়া বা অন্য যেখানেই হোক। এই সময়ে জনসাধারণের কাছ থেকে পাওয়া তথ্যই সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ। যখন কেউ তাদের সম্প্রদায়ে বসবাসকারী কোনো অজ্ঞাত ব্যক্তির সম্পর্কে জানতে পারবেন, তখনই পুলিশে খবর দিন।’
এই ব্যবস্থা সক্রিয় হলে দেশজুড়ে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড কমে আসবে বলে তিনি মনে করেন।
এ সময় পাকিস্তানের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর প্রশংসা করে তিনি বলেন, ‘দ্বিতীয়ত, গতরাতে আমি একজনের কাছ থেকে একটি বার্তা পেয়েছি, যেখানে জিজ্ঞাসা করা হয়েছে, নিরাপত্তা সংস্থাগুলি কোথায় ছিল এবং কেন এ ঘটনাটি ঘটেছে। আমি আপনাকে বলতে পারি, যদি একটি বিস্ফোরণ ঘটে থাকে, তবে আরও অন্তত ৯৯টি বিস্ফোরণ ঘটতে দেয়নি আমাদের আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী।
‘আমি সংস্থাগুলোর সঙ্গে কথা বলেছি এবং তাদের বলেছি যে তাদের এসব সাফল্যের কথা গণমাধ্যমে প্রচার হওয়া উচিত। এটি সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর মাঝে একটি শক্তিশালী বার্তা ছড়িয়ে দেবে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আরও বলেন, ‘দায়েশ এবং তালেবানের নাম উঠে আসছে, কিন্তু এর পেছনে কেউ রয়েছে, যারা তাদের অর্থায়ন করছে। আগে তারা ৫০০ ডলার পেত, কিন্তু এখন তারা ১৫০০ ডলার পাচ্ছে। তাদের বাজেট বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে।
‘আমি আবারও স্পষ্ট করে বলছি, তাদের সমস্ত অর্থায়ন ভারত থেকে আসে। ভারত তাদের সমস্ত লক্ষ্যবস্তু ঠিক করে দিচ্ছে; তারা পর্দার আড়ালে প্রতিটি পরিকল্পনা করছে। এই সংগঠনগুলো সামনে রেখে ভারত পেছনে রয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘বিশ্ব আপাতত চুপ থাকতে পারে, কিন্তু ভবিষ্যতে তারা পাকিস্তানের অবস্থানের সঙ্গে একমত হবে। বিনামূল্যে কিছুই ঘটে না এবং এসব হামলার জন্য যথেষ্ট অর্থের প্রয়োজন হয়। আমরা এই বিষয়টি জানি এবং এই বিষয়টি সকল আন্তর্জাতিক প্ল্যাটফর্মে নিয়ে যাওয়া আমাদের কর্তব্য।’
এ বিষয়ে তিনি পাকিস্তানের উপ-প্রধানমন্ত্রীকেও অবহিত করবেন বলে জানান, যাতে বিদেশি মিশনগুলো ভারতের সম্পৃক্ততা সম্পর্কে অন্যান্য দেশগুলোকে অবহিত করতে পারে।
জোর দিয়ে তিনি বলেন, ‘যদি ভারত এই কৌশল অবলম্বন করে থাকে, তাহলে তাদের ছেড়ে দিন। কিন্তু আমরা এসব হামলা বন্ধ করব; এমনকি যদি তারা তাদের বাজেট দশ গুণ বৃদ্ধি করে, তবুও আমাদের পদক্ষেপে কোনো প্রভাব ফেলবে না।’
এ সময় গ্রেপ্তার হওয়া দায়েশের কর্মীর পদমর্যাদা সম্পর্কে জানতে চাইলে নকভী বলেন, যথাসময়ে এ বিষয়ে আরও তথ্য প্রকাশ করা হবে।
শুক্রবার জুমার নামাজের সময় ইসলামাবাদের খাদিজা আল-কুবরা এলাকার ওই মসজিদে আত্মঘাতী বোমা হামলা চালানো হয়। হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত এবং কমপক্ষে ১৬৯ জন আহত হন। এ ঘটনায় পাকিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা পরিস্থিতি নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
যদিও ইসলামাবাদে সচারচার হামলা হয় না, তবে সাম্প্রতিক সময়ে পাকিস্তানজুড়েই জঙ্গি তৎপরতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এসব কর্মকাণ্ডে ‘বালোচ বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী’ এবং ‘তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান’ (টিটিপি) নামে পরিচিত পাকিস্তানি তালেবানদের দায়ী করা হয়। টিটিপি আফগানিস্তানের তালেবানদের কোনো শাখা না হলেও তাদের সঙ্গে গোষ্ঠীটির সখ্যতা রয়েছে। এছাড়া ইসলামিক স্টেটের একটি আঞ্চলিক সহযোগীও পাকিস্তানে সক্রিয় রয়েছে। পাকিস্তানে বর্তমানে পশ্চিমা মিত্র সরকার দেশজুড়ে জঙ্গি হামলার এই বাড়বাড়ন্ত নিয়ন্ত্রণে আানার চেষ্টা করছে।
২০০৮ সালে রাজধানীর ম্যারিয়ট হোটেলে আত্মঘাতী বোমা হামলার পর ইসলামাবাদে এটিই সবচেয়ে ভয়াবহ হামলা। ওই হামলায় ৬৩ জন নিহত এবং আড়াই শতাধিক মানুষ আহত হয়। এ ছাড়া গত নভেম্বরেও ইসলামাবাদের একটি আদালত চত্বরে আত্মঘাতী বোমা হামলায় ১২ জন নিহত হয়।
৮৬ দিন আগে
যুদ্ধ শেষ করতে জুনের মধ্যে চুক্তিতে পৌঁছানোর সময় বেঁধে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র: জেলেনস্কি
প্রায় চার বছর ধরে চলা যুদ্ধের অবসান ঘটাতে ইউক্রেন ও রাশিয়াকে জুন মাসের মধ্যে একটি চুক্তিতে পৌঁছানোর সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। জুনের সময়সীমার মধ্যে শর্ত পূরণ না হলে ইউক্রেন-রাশিয়া উভয় পক্ষের ওপর চাপ প্রয়োগ করতে পারে ট্রাম্প প্রশাসন।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) সাংবাদিকদের এ কথা জানিয়েছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলতে গিয়ে জেলেনস্কি বলেন, ‘আমেরিকানরা প্রস্তাব করছে যে গ্রীষ্মের শুরুতেই যুদ্ধ শেষ না করলে তারা এই সময়সূচি অনুযায়ীই যুদ্ধরত পক্ষগুলোর ওপর চাপ দেবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্র বলছে যে জুনের মধ্যেই তারা এ বিষয়ে সবকিছু সমাধান করতে চায় এবং যুদ্ধ শেষ করতে যা যা করা প্রয়োজন, তার সবই তারা করার জন্য প্রস্তুত। তারা (যুক্তরাষ্ট্র) মূলত সব ঘটনার একটি স্পষ্ট সময়সূচি চায়।’
তবে স্থানীয় সময় শনিবার সকাল পর্যন্ত তার এ মন্তব্য প্রকাশ করা নিষেধ ছিল।
জেলেনস্কি জানান, যুক্তরাষ্ট্র প্রস্তাব করেছে যে পরবর্তী ত্রিপক্ষীয় বৈঠক আগামী সপ্তাহে প্রথমবারের মতো যুক্তরাষ্ট্রের মায়ামিতে অনুষ্ঠিত হবে। ইউক্রেন সেখানে তাদের অংশগ্রহণ নিশ্চিত করেছে।
সম্প্রতি আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় অনুষ্ঠিত ত্রিপক্ষীয় একটি চুক্তিতে যুদ্ধরত দেশগুলোর অনঢ় অবস্থান দেখে যুদ্ধ অবসানে সময়সীমা নির্ধারণের সিদ্ধান্ত নেয় যুক্তরাষ্ট্র।
ইউক্রেনে লড়াই ক্রমাগত বেড়েই চলেছে। ডনবাস অঞ্চল থেকে সরে যাওয়ার জন্য রাশিয়া ইউক্রেনের ওপর চাপ সৃষ্টি করছে, যা কিয়েভ কখনোই মেনে নেবে না বলে জানিয়েছে। জেলেনস্কি বলেন, ‘জটিল বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়ে গেছে। আমরা আমাদের অবস্থানেই অটল। আমাদের মতে, আজকের দিনে যুদ্ধবিরতির জন্য এটিই উত্তম পন্থা।’
তবে সবচেয়ে জটিল বিষয়গুলো ত্রিপক্ষীয় বৈঠকের জন্য সংরক্ষিত থাকবে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
৮৬ দিন আগে
আমেরিকার সঙ্গে আলোচনায় ‘ক্ষেপণাস্ত্র ইস্যু’ বাদ দিয়েছে ইরান
ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনার পরবর্তী ধাপ শিগগিরই শুরু হবে বলে আশা প্রকাশ করেছেন দেশটির পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি। সেইসঙ্গে ‘ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি’ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আপস, এমনকি আলোচনাও করতে তেহরান রাজি নয় বলে জানিয়েছেন তিনি।
পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদলের সঙ্গে ওমানের মাসকটে আলোচনায় বসে তেহরান। প্রথম ধাপের এই আলোচনার পর আগামী সপ্তাহে আরও এক দফা আলোচনার প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও।
এরপর স্থানীয় সময় শনিবার (৭ ফেব্রুয়ারি) আরাগচি আলজাজিরাকে বলেন, শুক্রবারের আলোচনায় ইরানের ‘ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি’ নিয়ে কোনো আলোচনা হয়নি।’ এ সময় যুক্তরাষ্ট্রকে সতর্ক করে তিনি বলেন, ওয়াশিংটন যদি ইরানের কোনো অঞ্চলে হামলা চালায়, তাহলে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের মার্কিন সামরিক ঘাটিগুলোতে হামলা চালাবে।
দীর্ঘদিনের প্রত্যাশা পূরণে মাসকটে দুপক্ষ আলোচনায় বসলেও সেটি প্রত্যক্ষ আলোচনা ছিল না। ওমানের মধ্যস্থতায় আলোচনা শেষ করে ওয়াশিংটন ও তেহরান।
এ বিষয়ে আরাগচি বলেন, মাসকট আলোচনা পরোক্ষ হওয়া সত্ত্বেও আমেরিকার প্রতিনিধিদের সঙ্গে আলোচনার সুযোগ হয়েছে। এটি একটি ভালো সূচনা হতে পারে, তবে পাস্পরিক আস্থা তৈরি হতে এখনও অনেক পথ বাকি।
আন্তর্জাতিক কূটনৈতিক মহলে এই বৈঠক নিয়ে আলোচনা শুরু হলেও রাজধানী তেহরানে ইরানিদের মাঝে তেমন ইতিবাচক প্রতিক্রিয়া দেখা যায়নি বলে প্রতিবেদনে জানিয়েছে আল জাজিরা।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক এক নারী বলেন, আমার মতে, আগেরবারের মতো আলোচনা কোনো ফলাফল ছাড়াই শেষ হবে। কারণ উভয় পক্ষই তাদের নিজেদের অবস্থানে অটল এবং পিছু হটতে রাজি নয়।
কুয়েত বিশ্ববিদ্যালয়ের মার্কিন পররাষ্ট্রনীতি বিশেষজ্ঞ আবদুল্লাহ আল-শায়জি বলেন, আমি দুই দেশের মধ্যে একটি নতুন চুক্তির প্রত্যাশা করছি। তবে এ ব্যাপারে খুব বেশি আশাবাদী নই।
কাতারের রাজধানী দোহায় আল জাজিরা ফোরাম থেকে আল-শায়জি বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের একটি শক্তিশালী অবস্থান রয়েছে এবং তারা ইরানিদের ওপর চাপ প্রয়োগের জন্য ইসরায়েলের দ্বারা প্ররোচিত হচ্ছে। তারা মনে করছে, গত মাসে ইরানে সরকারবিরোধী আন্দোলনের ফলে দেশটির সরকার এখন সবচেয়ে দুর্বল অবস্থানে রয়েছে। এজন্য ইরানের কাছ থেকে দাবি আদায় এখন সহজ হবে।
পারমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ইরানের অধিকার
ট্রাম্প যদিও বলছেন যে শুক্রবারের আলোচনা ‘খুব ভালো’ হয়েছে, কিন্তু তিনি শনিবার থেকে কার্যকর এমন একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন যাতে ইরানের সঙ্গে ব্যবসা করা দেশগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করা হয়েছে।
ইরানের তেল রপ্তানি রোধের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র অসংখ্য জাহাজ সংস্থা এবং জাহাজের বিরুদ্ধে নতুন নিষেধাজ্ঞার ঘোষণা দিয়েছে।
বিশ্ব বাণিজ্য সংস্থার তথ্য অনুসারে, ২০২৪ সালে ইরানের এক-চতুর্থাংশেরও বেশি বাণিজ্য হয়েছে চীনের সঙ্গে। এর মধ্যে আমদানি হয়েছে ১৮ বিলিয়ন ডলার এবং রপ্তানি হয়েছে ১৪ দশমিক ৫ বিলিয়ন ডলারের পণ্য।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, পারমাণু সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি ইরানের অপরিহার্য অধিকার এবং এটি চালিয়ে যেতে হবে। এই সমৃদ্ধকরণ নিয়ে নিশ্চয়তা দেয়, আমরা এমন সমঝোতা করতে প্রস্তুত। কেবল আলোচনার মাধ্যমেই ইরানের পারমাণবিক বিষয়গুলোর সমাধান হবে।
এ সময় তিনি আরও বলেন, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা চললেও আমাদের ‘ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি’ আলোচনার বিষয় নয়। কারণ এটি একটি প্রতিরক্ষা সম্পর্কিত বিষয়।
গণমাধ্যমের খবর অনুযায়ী, ওয়াশিংটন ইরানের ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র কর্মসূচি এবং আঞ্চলিক সশস্ত্র গোষ্ঠীর প্রতি সমর্থন মোকাবিলার চেষ্টা করছে, যা আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত করার জন্য চাপ দিচ্ছে ইসরায়েল। তেহরান অবশ্য বারবার পারমাণবিক ইস্যুর বাইরে আলোচনার পরিধি বাড়ানোর বিষয়টি প্রত্যাখ্যান করে আসছে।
আল-শায়জি বলেন, ইরানিরা কোনো ধরনের ছাড়ের ব্যাপারে কঠোর। যুক্তরাষ্ট্রও একই অবস্থান নিয়েছে যা মধ্যস্থতাকারী দেশগুলোর জন্য তাদের চুক্তিতে আনা খুবই কঠিন করে তুলবে।
গত বছর ইরানের বিরুদ্ধে ইসরায়েলের বোমা হামলার পর ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে পারমাণবিক আলোচনা ভেঙে পড়ে। ওই ঘটনার পর শুক্রবারে প্রথমবারের মতো আলোচনায় বসে উভয় দেশ।
গত মাসে ইরানে ব্যাপক সরকারবিরোধী বিক্ষোভের পর ট্রাম্প দেশটির বিরুদ্ধে হুমকি বাড়িয়েছেন এবং মার্কিন রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকনকে মধ্যপ্রাচ্যে মোতায়েন করেছেন। এমনকি মাসকটে যখন বৈঠক চলছিল, তখন সেখানে যোগ দেন যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক সামরিক নেতা ব্র্যাড কুপার।
শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার কৌশল
বৈঠেকের পর গতকাল (শনিবার) ওমান থেকে আরব সাগরে অবস্থানরত যুদ্ধবিমানবাহী জাহাজ পরিদর্শন করেন মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের উপদেষ্টা জারেড কুশনার।
পরিদর্শন শেষে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে উইটকফ বলেন, ওই জাহাজ এবং তার স্ট্রাইক গ্রুপ আমাদের নিরাপদ রাখছে এবং প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের ‘শক্তি প্রদর্শনের মাধ্যমে শান্তি প্রতিষ্ঠার’ বার্তা রক্ষা করছে।
তিনি বলেন, গত মঙ্গলবার একটি ইরানি ড্রোনকে ভূপাতিত করা এক পাইলটের সঙ্গে আমার কথা হয়েছে। তবে তিনি জানান, ড্রোনটি কোনো বিশেষ উদ্দেশ্য নিয়ে ছোড়া হয়নি।
ডেনাল্ড ট্রাম্প ইরানের ওপর চাপ সৃষ্টির জন্য বিমানবাহী রণতরী মোতায়েনের চেষ্টা করছেন। তবে আল-শায়জি বলেছেন, এটি দীর্ঘমেয়াদী কোনো কৌশল হতে পারে না। তার মতে, ট্রাম্প তার বাহিনীকে দীর্ঘ সময় সতর্ক অবস্থায় রাখতে পারবেন না। এটা সত্যিই ট্রাম্প প্রশাসনের ওপর ইরানের প্রতি কঠোর ও কঠিন অবস্থানের ভাবমূর্তিকে অবমূল্যায়ন করবে।
অন্যদিকে, ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, দেশটির প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু ইরান নিয়ে আলোচনা করতে আগামী বুধবার মর্কিন প্রেসিডেন্টের সঙ্গে সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছেন।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, নেতানিয়াহু বিশ্বাস করেন, যেকোনো আলোচনায় ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের সীমাবদ্ধতা এবং ইরানকে মিত্র দেশগুলোর সমর্থন বন্ধ করা অবশ্যই আলোচনায় অন্তর্ভুক্ত থাকতে হবে।
তবে আরাগচি আশা প্রকাশ করেছেন, ওয়াশিংটন হুমকি ও চাপ প্রয়োগ থেকে বিরত থাকবে যাতে আলোচনা চালিয়ে যাওয়া সম্ভব হয়।
৮৬ দিন আগে
চীনে জৈবপ্রযুক্তি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ৮
মধ্য চীনের শানসি প্রদেশে একটি জৈবপ্রযুক্তি কারখানায় বিস্ফোরণে অন্তত আটজন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (ফেব্রুয়ারি) ভোরে শানসি প্রদেশের শানইন কাউন্টিতে জিয়াপেং বায়োটেকনোলজি কোম্পানির একটি কারখানায় এ দুর্ঘটনা ঘটে। কারখানাটি শানইন শহরের প্রাণকেন্দ্র থেকে ৪০ কিলোমিটারেরও বেশি দূরে একটি পাহাড়ি এলাকায় অবস্থিত।
সাউথ চায়না মর্নিং পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, কোম্পানিটি বায়ো-ফিড, কয়লা ও সংশ্লিষ্ট পণ্য, নির্মাণসামগ্রী এবং রং উৎপাদনের সঙ্গে জড়িত বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
শানইন কাউন্টি প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ওই ঘটনার পর উদ্ধার অভিযান শেষ হয়েছে। এছাড়া প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদের জন্য কোম্পানির আইনগত প্রতিনিধিকে হেফাজতে নিয়েছে পুলিশ। দুর্ঘটনাস্থল শুয়োঝৌ শহরের কর্মকর্তারা বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করছেন বলে জানিয়েছে পৌর কর্তৃপক্ষ।
এদিকে, চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, রবিবারও জরুরি পরিষেবাকর্মীরা ঘটনাস্থলে রয়েছেন। ঘটনার পর ২৪ ঘণ্টা পেরিয়ে গেলেও ধ্বংসস্তূপ থেকে এখনও গাঢ় হলুদ ধোঁয়া উঠতে দেখা গেছে।
ঘটনাস্থল থেকে প্রায় ৪ কিলোমিটার দূরে বসবাসকারী এক ব্যক্তি বেইজিং নিউজকে বলেন, বিস্ফোরণে দুর্ঘটনাস্থলই শুধু নয়, আশপাশের এলাকাও কেঁপে ওঠে। তিনি প্রথমে ভেবেছিলেন যে ভূমিকম্প হচ্ছে। তার ঘরের জানালার কাঁচ কেঁপে ওঠে এবং সঙ্গে সঙ্গে বিকট এক বিস্ফোরণের শব্দ শোনেন। পরে বাইরে বেরিয়ে দূরে আকাশছোঁয়া আগুনের শিখা ও সাদা ধোঁয়া দেখতে পান।
তিনি আরও জানান, দুর্ঘটনা বুঝতে পেরে আমি ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হই। এরই মধ্যে পথে ফায়ার সার্ভিসের একাধিক গাড়ি তাকে অতিক্রম করে।
স্থানীয় প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, গত বছরের ২৬ জুন জিয়াপেং বায়োটেকনোলজি কোম্পানিটি প্রতিষ্ঠিত হয়। এর নিবন্ধিত ঠিকানা এমন একটি গ্রামের কাছে যেখানে আগে খনিশিল্পের কার্যক্রম চলত। তবে প্রতিষ্ঠানটি বিপজ্জনক রাসায়নিক ব্যবস্থাপনার লাইসেন্স এখনও পায়নি।
ওই জায়গাটি লিজ নিয়ে বার্ষিক ১৫ হাজার টন বায়ো-ফিড কাঁচামাল উৎপাদনের জন্য ৮৫ লাখ ইউয়ান (প্রায় ১২ লাখ ডলার) বিনিয়োগ করে সেখানে কর্মশালা স্থাপনের পরিকল্পনা করেছিল কোম্পানিটি।
১ হাজার বর্গমিটার আয়তনের একটি উৎপাদন কারখানা, ৫০০ বর্গমিটারের একটি গুদাম, ২০০ বর্গমিটারের অফিস ও আবাসন সুবিধা এবং দুটি বায়ো-ফিড কাঁচামাল উৎপাদন লাইনসহ সংশ্লিষ্ট যন্ত্রপাতি কেনা কোম্পানিটির পরিকল্পনায় ছিল।
কোম্পানির ভবনের বিন্যাসচিত্র অনুযায়ী, উৎপাদন কারখানা গোটা জায়াগার মাঝখানে অবস্থিত। এর আর চার কোণে রয়েছে অফিস ভবন, গুদাম, পয়ঃশোধন কেন্দ্র ও অস্থায়ী বিপজ্জনক বর্জ্য সংরক্ষণাগার।
এদিকে, এ ঘটনার খবর ছড়িয়ে পড়লে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ব্যাপক আলোচনা-সমালোচনা শুরু হয়েছে। অনেকে মন্তব্য করেছেন, বায়ো-ফিড উৎপাদন কোনোভাবেই ‘স্বল্পঝুঁকির’ কাজ নয়। বিশেষ করে ধুলিকণা ঝমে বিস্ফোরণের মতো বড় ঝুঁকি তৈরি করে।
তারা বলছেন, শস্য ও প্রোটিন পাউডারের মতো উপকরণ থেকে সৃষ্ট জৈব ধুলা বদ্ধ স্থানে জমে থাকে। এরপর তাতে সামান্য আগুন বা বিদ্যুতের স্ফুলিঙ্গও বিস্ফোরণের সূত্রপাত করতে পারে।
৮৬ দিন আগে
ওমানে পরোক্ষ বৈঠকে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র, যোগ দিয়েছেন মার্কিন সেনা কর্মকর্তা
তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে সিদ্ধান্ত ঠিক করতে ওমানে পরোক্ষ আলোচনা শুরু করেছে ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র। তবে এ ধরনের আলোচনায় প্রথমবারের মতো যুক্ত হয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের শীর্ষ সেনা কর্মকর্তা।
শুক্রবার (৬ ফেব্রুয়ারি) ওমানের রাজধানী মাসকাটে বহুল প্রতীক্ষিত এই আলোচনা শুরু হয়। এই আলোচনার মূল কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ন্ত্রণ নিয়ে ভবিষ্যতের কূটনৈতিক পথ নির্ধারণ।
আলোচনার সময় যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যপ্রাচ্য বিষয়ক শীর্ষ সামরিক কমান্ডার, নৌবাহিনী অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার উপস্থিত ছিলেন। ইউনিফর্ম পরে বৈঠকে হাজির হন তিনি। এ বিষয়টি কূটনৈতিক মহলে আলোচনার জন্ম দিয়েছে। বৈঠকে তার অবস্থান মার্কিন সেনাবাহিনীর শক্তি ও গুরুত্বের ইঙ্গিত দিয়েছে বলে চলছে আলোচনা-সমালোচনা।
মাসকাটে যখন বৈঠক চলছিল, তখন যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী যুদ্ধজাহাজ ইউএসএস আব্রাহাম লিঙ্কন ও অন্যান্য যুদ্ধজাহাজগুলো আরব সাগরে ইরানের উপকূলে অবস্থান করছিল।
বৈঠকের ব্যাপারে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইরানকে নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের ‘খুব ভালো’ আলোচনা হয়েছে এবং আগামী সপ্তাহের শুরুতে আরও কয়েকটি আলোচনার পরিকল্পনা করা হয়েছে। তবে তিনি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছেন, যদি ইরান পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে কোনো চুক্তি করতে অস্বীকৃতি জানায়, তবে এর পরিণাম অত্যন্ত ভয়াবহ হবে।
সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘ইরান চুক্তি করতে খুবই আগ্রহী মনে হচ্ছে এবং তাদের আগ্রহী হওয়া উচিত।’ তিনি এ-ও ইঙ্গিত দিয়েছেন যে ইরান আগের আলোচনার অপেক্ষাকৃত আরও বেশি কিছু করতে ইচ্ছুক। তবে এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি তিনি।
তেহরানের সঙ্গে চুক্তি সম্পাদন করতে যুক্তরাষ্ট্র কত সময় অপেক্ষা করতে ইচ্ছুক—সাংবাদিকদের এমন এক প্রশ্নের জবাবে ট্রাম্প বলেন, ‘আমাদের সময়ের অভাব নেই। ভেনেজুয়েলার বিষয়টিই দেখুন, তাদের ব্যাপারে আমরা কিন্তু কম সময় অপেক্ষা করিনি! এ ক্ষেত্রেও (ইরান) আমাদের কোনো তাড়া নেই।
গত জানুয়ারিতে ভেনেজুয়েলার প্রেসিডেন্ট নিকোলাস মাদুরোকে বন্দি করার আগে ক্যারিবীয় সাগরে মাসের পর মাস ধরে শক্তিশালী সামরিক উপস্থিতি গড়ে তুলেছিল যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানকে ট্রাম্পের হুমকি
ইরানকে পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে চুক্তি করতে বাধ্য করতে একাধিকবার শক্তি প্রয়োগের হুমকি দিয়েছেন ট্রাম্প। এর আগে ইরানে দেশজুড়ে চলা বিক্ষোভে হাজারো মানুষ নিহত এবং আরও অসংখ্য মানুষ গ্রেপ্তার হন। সে সময় আন্দোলনকারীদের ওপর তেহরানের কঠোর দমন-পীড়নের মাঝেই ইরানের সীমান্তবর্তী উপকূলে বিমানবাহী রণতরী মোতায়েন করে যুক্তরাষ্ট্র।
এসবের পরিপ্রেক্ষিতে উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর আশঙ্কা, মধ্যপ্রাচ্যে আঞ্চলিক যুদ্ধ শুরু হতে পারে এবং সেই যুদ্ধে তারা নিজেরাও জড়িয়ে পড়তে পারে।
ওইসব দেশগুলোর আশঙ্কা অমূলক নয়। শুক্রবার ওমানে বৈঠক শুরু হওয়ার কয়েকদিন আগে ইউএসএস লিঙ্কনের কাছাকাছি চলে যাওয়া একটি ইরানি ড্রোন ভূপাতিত করে মার্কিন বাহিনী। একই সময়ে হরমুজ প্রণালীতে একটি মার্কিন পতাকাবাহী জাহাজের গতিরোধের চেষ্টা চালায় ইরান।
পরে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমরা লক্ষ করেছি যে পারমাণবিক আলোচনা এবং মূল বিষয়গুলোর সমাধান অবশ্যই শান্ত, উত্তেজনাহীন ও হুমকিমুক্ত পরিবেশে হওয়া প্রয়োজন।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেকোনো সংলাপের পূর্বশর্ত হলো হুমকি এবং চাপ থেকে বিরত থাকা।’
প্রথম পর্বের এই আলোচনা শেষ হয়েছে জানিয়ে আরাগচি বলেন, কূটনীতিকরা নিজ নিজ দেশে ফিরে যাবেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে প্রতিনিধিত্ব করেন দেশটির মধ্যপ্রাচ্যবিষয়ক দূত স্টিভ উইটকফ ও ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনার।
৮৭ দিন আগে
যুদ্ধবিরতির মাঝেও কেন হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল?
গেল বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) গাজার শিফা হাসপাতালে ইসরায়েলি হামলায় ২০ জনের বেশি ফিলিস্তিনির মরদেহ পৌঁছানোর পর হাসপাতালটির এক পরিচালক এমন একটি প্রশ্ন করেছিলেন যা গত কয়েকমাস ধরে যুদ্ধবিধ্বস্ত অঞ্চলজুড়ে প্রতিধ্বনিত হচ্ছে।
শিফা হাসপাতালের মুহাম্মদ আবু সেলমিয়া এক ফেসবুকে পোস্টে প্রশ্ন করেছেন— কোথায় যুদ্ধবিরতি? কোথায় মধ্যস্ততাকারীরা?
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, গত অক্টোবর থেকে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় কার্যকর হওয়া যুদ্ধবিরতির পর থেকে ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ৫৫৬ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এর মধ্যে বুধবার নিহত হন ২৪ জন এবং শনিবার ৩০ জন। একই সময়ে গাজায় চারজন ইসরায়েলি সেনাও নিহত হয়েছেন এবং আরও অনেকে আহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, উত্তর গাজায় যুদ্ধবিরতি রেখার কাছে রাতভর ‘সশস্ত্র সন্ত্রাসীদের গুলিতে’ তাদের এক সেনা গুরুতর আহত হন।
এসবের ফলে আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন, হামাসের নিরস্ত্রীকরণ এবং গাজার পুনর্গঠন শুরু করা থেকে যুদ্ধবিরতি চুক্তির অন্যান্য দিকগুলি স্থবির হয়ে পড়েছে। গাজা ও মিসরের মধ্যে রাফাহ সীমান্ত ক্রসিং খোলার ফলে আরও অগ্রগতির আশা করা হয়েছিল। তবে সোমবার ৫০ জনেরও কম লোককে ক্রসিংটি দিয়ে পারাপারের অনুমতি দেওয়া হয়। ফলে এখন সেটি নিয়েও অনিশ্চিয়তা দেখা দিয়েছে।
জিম্মিরা মুক্তি পেলেও থমকে আছে অন্যান্য বিষয়
দীর্ঘদিনের স্থবির আলোচনার পর ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের ইসরায়েলে হামলার পর শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রস্তাবিত ২০ দফা পরিকল্পনা বাস্তবায়নে গত অক্টোবর মাসে সম্মত হয় ইসরায়েল ও হামাস। তখন ট্রাম্প বলেছিলেন, এটি শক্তিশালী, টেকসই ও চিরস্থায়ী শান্তি নিশিত করবে।
চুক্তির শুরুতে হামাস ইসরায়েলের হাতে আটক হাজার হাজার ফিলিস্তিনি বন্দি এবং নিহতদের দেহাবশেষ ফিরিয়ে দেওয়ার বিনিময়ে তাদের হাতে থাকা সকল জিম্মিকে মুক্তি দেয়। কিন্তু চুক্তিতে এই অঞ্চলের ভবিষ্যৎ শাসনব্যবস্থার মতো বড় বিষয়গুলো এখনও অমীমাংসিত রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে কোনো সুনির্দিষ্ট সময়সীমাও দেয়নি।
এদিকে, জিম্মিদের দেহাবশেষ ফেরত পাঠানোর কাজ চুক্তিতে ৭২ ঘণ্টা সময়সীমার মধ্যে সম্পন্ন করার কথা থাকলেও তা শেষ হতে অনেক সময় গড়িয়ে যায়। হামাস ইসরায়েলকে গত সপ্তাহেই তাদের শেষ জিম্মির মৃতদেহ ফেরত দেয়। তবে ইসরায়েল দাবি করছে, হামাস যুদ্ধবিরতির চুক্তি লঙ্ঘন করে সমস্ত দেহাবশেষ এখনো ফেরত দেয়নি। অপরদিকে, হামাসের দাবি, তারা যুদ্ধের ধ্বংসযজ্ঞের কারণে সমস্ত মরদেহ শনাক্ত করতে পারেনি। তবে তাদের এই দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলায়েল।
যুদ্ধবিরতিতে ধ্বংসাবশেষ অপসারণ ও অবকাঠামো পুনর্বাসনের সরঞ্জামসহ মানবিক সহায়তা দ্রুত প্রবেশের কথাও ছিল। তবে জাতিসংঘ ও মানবিক সংস্থাগুলো বলছে, শুল্ক ছাড়পত্র ও অন্যান্য বিষয়ে বিলম্বের কারণে গাজার ২০ লাখ মানুষের কাছে সহায়তা প্রত্যাশিত মাত্রায় পৌঁছায়নি। অন্যদিকে, গাজায় সহায়তা তদারককারী ইসরায়েলি সামরিক সংস্থা কোগাট এসব অভিযোগকে ‘সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে অভিহিত করেছে।
অভিযোগ সত্ত্বেও যুদ্ধবিরতি বহাল
ট্রাম্পের প্রচেষ্টায় যুদ্ধবিরতি শুরু হওয়ার পর সহিংসতা উল্লেখযোগ্যভাবে কমেছে। গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাবে, এই যুদ্ধে ৭১ হাজার ৮০০ জনেরও বেশি ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
২০২৩ সালের অক্টোবরে হামাসের হামলায় প্রায় ১ হাজার ২০০ জন নিহত হন এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করা হয়।
দুই পক্ষই বলছে, চুক্তি এখনও কার্যকর এবং উভয় পক্ষই যুদ্ধবিরতি শব্দটি ব্যবহার করছে। তবে ইসরায়েলের অভিযোগ, হামাস যুদ্ধবিরতি রেখার বাইরে তৎপরতা চালাচ্ছে, (ইসরায়েলি) সেনাদের হুমকি দিচ্ছে এবং মাঝে মাঝে গুলিও ছুঁড়ছে। অপরদিকে, হামাস অভিযোগ করছে, ইসরায়েলি বাহিনী যুদ্ধবিরতি রেখা থেকে অনেক দূরের আবাসিক এলাকাগুলোতে গুলিবর্ষণ ও হামলা চালাচ্ছে।
ফিলিস্তিনিরা যুক্তরাষ্ট্র ও আরবের মধ্যস্থতাকারীদের আহ্বান জানিয়েছেন, ইসরায়েল যেন প্রাণঘাতী হামলা বন্ধ করে। বুধবারের হামলায় নিহতদের মধ্যে ২টি নকজাতকসহ ৫ শিশু ছিল। এসব ঘটনাকে ইসরায়েলের ‘যুদ্ধবিরতি চুক্তির গুরুতর লঙ্ঘন’ বলে অভিহিত করেছে হামাস।
রবিবার (১ ফেব্রুয়ারি) ৮টি আরব ও মুসলিম দেশ এক যৌথ বিবৃতিতে চুক্তি কার্যকরের পরও ইসরায়েলের কর্মকাণ্ডের নিন্দা জানিয়ে সব পক্ষকে সংযম দেখানোর আহ্বান জানায় যাতে যুদ্ধবিরতি টিকে থাকে।
এরপর বুধবার ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, তারা হামাসের হামলার জবাব দিচ্ছে মাত্র এবং কেবল তাদের সেনাবাহিনীর সুরক্ষায় পদক্ষেপ নিচ্ছে। হামাসের কর্মকাণ্ড যুদ্ধবিরতিকে ক্ষুণ্ন করলেও ইসরায়েল তা বজায় রাখতে সম্পূর্ণভাবে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর মুখপাত্র লেফটেন্যান্ট কর্নেল নাদাভ শোশানি বলেন, হামাস আগের মতো প্রতারণামূলক কৌশল ব্যবহার করে পুনরায় অস্ত্র সংগ্রহ ও হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে কি না তা পর্যবেক্ষণ ও যেকোনো নিরাপত্তাজনিত পরিস্থিতি মোকাবিলা করার জন্য সামরিক বাহিনীকে প্রস্তুত থাকতে হয়।
অগ্রগতির ইঙ্গিত
ইসরায়েলে শেষ জিম্মির মরদেহ ফেরত পাওয়া, সীমিতভাবে রাফাহ ক্রসিং খোলা এবং গাজা শাসন ও পুনর্গঠন তদারকির জন্য একটি ফিলিস্তিনি কমিটি গঠনের ঘোষণা—এসব কার্যক্রম সহিংসতার মাঝেও যুদ্ধবিরতির চুক্তি এগিয়ে নেওয়ার ইঙ্গিত দেয়।
গত মাসে যুদ্ধবিরতি চুক্তির আলোচনায় গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখা যুক্তরাষ্ট্রের দূত স্টিভ উইটকফ বলেন, এখন সময় এসেছে যুদ্ধবিরতি থেকে নিরস্ত্রীকরণ, টেকনোক্র্যাটিক শাসন এবং পুনর্গঠনের দিকে অগ্রসর হওয়ার।
এর জন্য ইসরায়েল ও হামাসকে এমন সব বড় ইস্যুতে সমাধানে আসতে হবে যেগুলোতে তারা তীব্রভাবে বিভক্ত। এর মধ্যে রয়েছে ইসরায়েল পুরোপুরি গাজা থেকে সরে যাবে কি না এবং হামাস অস্ত্র ত্যাগ করবে কি না সেসব বিষয়।
তবে রাজনৈতিক নেতারা এখনও যুদ্ধবিরতির কথা বললেও যুদ্ধ থেকে সরে না যাওয়ায় গাজায় হতাশা বাড়ছে।
গত শনিবার সকালে নামাজের সময় গাজা শহরে বিস্ফোরণের শব্দ শুনে আতাল্লাহ আবু হাদাইয়েদ বাইরে ছুটে যান এবং দেখেন তার চাচাতো ভাইরা মাটিতে পড়ে আছে এবং চারপাশে আগুন জ্বলছে।
শরণার্থী শিবির থেকে তিনি বলেন, আমরা জানি না আমরা যুদ্ধে আছি না শান্তিতে।
৮৮ দিন আগে
গর্ভবতী অবস্থায় নারী কাঁচা দুধ পান করায় নবজাতকের মৃত্যু!
যুক্তরাষ্ট্রের নিউ মেক্সিকোতে এক নকজাতকের মৃত্যু নিয়ে চাঞ্চল্যকর তথ্য সামনে এসেছে। গর্ভাবস্থায় ওই নারী অপরিশোধিত কাঁচা দুধ পান করেছিলেন। তা থেকে সংক্রমণেই নবজাতক শিশুটির মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা।
শিশুটির মৃত্যুর ঘটনার পর থেকে চলতি সপ্তাহজুড়ে মানুষকে পাস্তুরিত নয় এমন দুগ্ধজাত পণ্য খাওয়া থেকে এড়িয়ে চলতে সতর্ক করেছেন নিউ মেক্সিকোর কর্মকর্তারা।
সাম্প্রতি ‘মেক আমেরিকা হেলদি অ্যাগেইন’ নামে স্থানীয় পর্যায়ে ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি আন্দোলন শুরু করেছেন স্বাস্থ্য সচিব রবার্ট এফ কেনেডি জুনিয়র। ওই আন্দোলনের প্রভাবে কাঁচা দুধের প্রতি মানুষের আগ্রহ বেড়েছে। এর ফলে স্থানীয় পর্যায়ে কাঁচা দুধের বিক্রিও বেড়েছে।
সরকারি কর্মকর্তারা গোপনীয়তা রক্ষার উদ্দেশ্যে মৃত নবজাতক ও তার পরিবারের বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেননি। অবশ্য এখন পর্যন্ত শিশুটির মৃত্যুর সঠিক কারণ শনাক্ত করতে পারেননি বলে জানিয়েছেন তদন্তকারী কর্মকর্তারা। তবে অপাস্তুরিত দুধই শিশুটির রোগে সংক্রমিত হওয়ার সবচেয়ে সম্ভাব্য উৎস ছিল বলেও উল্লেখ করেছেন তারা।
এ বিষয়ে এক কর্মকর্তা বলেছেন, তদন্তের সময় সংগৃহীত তথ্যের ওপর ভিত্তি করে এ ধারণা করা হচ্ছে। শিশুটির শরীরে সংক্রমণের সময় এবং গর্ভাবস্থায় তার মা কাঁচা দুধ পান করেছিলেন এমন তদন্তে উঠে এসেছে।
কাঁচা দুধে লিস্টেরিয়াসহ বেশ কয়েকটি রোগ সৃষ্টিকারী জীবাণু থাকে। এটি এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া যা মায়ের গর্ভপাত, মৃত সন্তান প্রসব, অকাল প্রসব অথবা নবজাতকের মধ্যে মারাত্মক সংক্রমণ ঘটাতে পারে।
৮৯ দিন আগে
ই-বর্জ্য আমদানি নিষিদ্ধ করল মালয়েশিয়া
ইলেকট্রনিক বর্জ্য বা ই–বর্জ্য আমদানির ওপর তাৎক্ষণিক ও সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেছে মালয়েশিয়া। এ বিষয়ে দেশটির সরকারের স্পষ্ট ঘোষণা, মালয়েশিয়াকে আর বিশ্ব বর্জ্যের ‘ভাগাড়’ হতে দেবে না।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ ফেব্রুয়ারি) রাতে মালয়েশিয়ার দুর্নীতি দমন কমিশন এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, সকল ই-বর্জ্য তাৎক্ষণিক ও কার্যকরভাবে ‘সম্পূর্ণ নিষেধাজ্ঞা’ বিভাগের অধীনে পুনরায় শ্রেণিবদ্ধ করা হবে। এর ফলে পরিবেশ বিভাগ যে নির্দিষ্ট কিছু ই-বর্জ্য আমদানিতে ছাড় দেওয়ার ক্ষমতা রাখত, তা বাতিল করা হলো।
দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশনের প্রধান আজাম বাকী বলেন, ‘ই-বর্জ্য আর অনুমোদিত নয়।’ অবৈধ আমদানি ঠেকাতে তিনি ‘দৃঢ় ও সমন্বিত আইন প্রয়োগমুলক ব্যবস্থা’ নেওয়ার অঙ্গীকার করেন।
বিপুল পরিমাণ আমদানিকৃত ই-বর্জ্য নিয়ে এর আগেও সমস্যায় পড়েছে মালয়েশিয়া। এসব বর্জ্যের মধ্যে অধিকাংশই অবৈধ এবং মানবস্বাস্থ্য ও পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে বন্দর থেকে সন্দেহজনক শত শত কন্টেইনার ই-বর্জ্য জব্দ করেছে কর্তৃপক্ষ। পরে সেগুলো আবার রপ্তানিকারক দেশে ফেরত পাঠানোর জন্য নোটিশ দিয়েছে তারা।
ই-বর্জ্য ব্যবস্থাপনায় দূর্নীতির অভিযোগ তদন্তের অংশ হিসেবে মূলত এই নিষেদ্ধাজ্ঞা জারি করা হয়েছে। গত সপ্তাহে ক্ষমতার অপব্যবহার ও ই-বর্জ্য তদারকি নিয়ে দুর্নীতির সঙ্গে জড়িত অভিযোগে পরিবেশ বিভাগের মহাপরিচালক ও উপ-মহাপরিচালকে আটক করে রিমান্ডে নেয় দেশটির দুর্নীতি দমন কমিশন। এছাড়া তদন্তের অংশ হিসেবে সংশ্লিষ্ট কয়েকটি ব্যাংক হিসাব এবং নগদ অর্থ জব্দ করা হয়েছে।
এদিকে, বুধবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া একটি পোস্টে দেশটির স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ই-বর্জ্য চোরাচালান রোধে সরকার আরও জোরালো পদক্ষেপ নেবে।
পোস্টে আরও বলা হয়, ‘মালয়েশিয়া বিশ্বের বর্জ্যের ভাগাড় নয়। ই-বর্জ্য শুধু আবর্জনা নয়, এটি পরিবেশ, মানুষের স্বাস্থ্য ও জাতীয় নিরাপত্তার হুমকি।’
৮৯ দিন আগে
‘নিউ স্টার্ট’ চুক্তির মেয়াদ ফুরাচ্ছে, বাড়ছে অনিয়ন্ত্রিত পারমাণবিক প্রতিযোগিতার আশঙ্কা
যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার মধ্যে সর্বশেষ পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তি ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ আজ বৃহস্পতিবার (৫ ফেব্রুয়ারি) শেষ হওয়ার কথা। এর মধ্য দিয়ে অর্ধশতাব্দীর বেশি সময় ধরে বিদ্যমান অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ চুক্তির অবসান হচ্ছে। এর ফলে বিশ্বের দুই বৃহত্তম পারমাণবিক অস্ত্র ভাণ্ডারের ওপর আর কোনো নিয়ন্ত্রণ থাকছে না। ফলে নিয়ন্ত্রণহীন একটি নতুন পারমাণবিক অস্ত্র প্রতিযোগিতার পথ খুলে যেতে পারে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
সীমাহীন অস্ত্র প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, নিউ স্টার্ট (New START) চুক্তির অবসান হলে নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে, যা বৈশ্বিক নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতার জন্য মারাত্মক ঝুঁকি তৈরি করতে পারে। এমনকি নিয়ন্ত্রণহীন পারমাণবিক প্রতিযোগিতার সম্ভাবনা নতুন মাত্রায় পৌঁছাতে পারে, যেখানে চীনের অস্ত্র ভাণ্ডারও যুক্ত হওয়ার সম্ভাবনা উড়িয়ে দেওয়া যায় না।
এ ব্যাপারে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন বলেছেন, ওয়াশিংটন সম্মত হলে আরও এক বছরের জন্য চুক্তির বিধিনিষেধ মেনে চলতে তিনি প্রস্তুত। তবে চুক্তির মেয়াদ বাড়ানো নিয়ে এখনও সুস্পষ্ট অবস্থান নেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
গেল সোমবার নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক হোয়াইট হাউসের এক কর্মকর্তা বলেন, পারমাণবিক অস্ত্রের ওপর সীমা বজায় রাখতে চান বলে বারবার ইঙ্গিত দিয়েছেন ট্রাম্প। সেইসঙ্গে অস্ত্র নিয়ন্ত্রণ আলোচনায় চীনকেও তিনি অন্তর্ভুক্ত করতে আগ্রহী। তবে পারমাণবিক অস্ত্র নিয়ন্ত্রণের ব্যাপারে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প নিজের সময়সীমা অনুযায়ী সিদ্ধান্ত নেবেন বলে মন্তব্য করেন তিনি।
এদিকে চীনের পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডার তুলনামূলক ছোট হলেও ক্রমেই এর পরিসর বাড়ছে। তবে নিজেদের অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো বিধিনিষেধ আরোপে বরাবরই আপত্তি জানিয়ে আসছে বেইজিং।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও রাশিয়ার পারমাণবিক অস্ত্রভাণ্ডারের ওপর কোনো সীমা না থাকলে বিশ্ব আরও ‘বিপজ্জনক’ হয়ে উঠবে।
অস্ত্র নিয়ন্ত্রণপন্থীরা দীর্ঘদিন ধরেই ‘নিউ স্টার্ট’-এর মেয়াদ শেষ হওয়া নিয়ে উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছেন। তাদের আশঙ্কা, এর ফলে নতুন করে যুক্তরাষ্ট্র–রাশিয়ার অস্ত্র প্রতিযোগিতা শুরু হতে পারে, যা বিদ্যমান বৈশ্বিক অস্থিরতার পাশাপাশি পারমাণবিক সংঘাতের ঝুঁকি আরও বাড়াবে।
৮৯ দিন আগে
মা, ভাইবোনদের বাঁচাতে সমুদ্রে ৪ ঘণ্টা সাঁতরাল কিশোর
পশ্চিম অস্ট্রেলিয়ার উপকূলে ভেসে যাওয়া মা ও দুই ছোট ভাইবোনকে বাঁচাতে তীব্র ঠান্ডা পানিতে উত্তাল সমুদ্রে চার ঘণ্টা সাঁতরেছে ১৩ বছর বয়সী এক কিশোর।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৩০ জানুয়ারি) সকালে পার্থের বাসিন্দা ওই পরিবারটি কায়াক (ছোট নৌকা) এবং প্যাডেলবোর্ড নিয়ে সাগরে নেমেছিল। এর মধ্যে উত্তাল সমুদ্র এবং প্রবল বাতাস তাদের টেনে নিয়ে যেতে শুরু করে। এরপর প্রায় ৪ কিলোমিটার সাঁতার কেটে তীরে পৌঁছায় কিশোর অস্টিন অ্যাপেলবি এবং মা, ভাইবোনদের উদ্ধারের জন্য কর্তৃপক্ষকে বিষয়টি জানায়।
মঙ্গলবার (৩ ফেব্রুয়ারি) অস্টিন বলে, ‘ঢেউগুলো ছিল বিশাল এবং আমার গায়ে কোনো লাইফ জ্যাকেট ছিল না।… আমি শুধু ভাবছিলাম—শুধু সাঁতার কাটতে থাকো, সাঁতার কাটতে থাকো। একসময় আমি তীরে পৌঁছাতে পারি এবং সৈকতে আঘাত করি ও পড়ে যাই।’
সে আরও জানায়, কায়াকে যাওয়ার সময় প্রথমে সে লাইফ জ্যাকেট পরেছিল। কিন্তু সমুদ্র উত্তাল ছিল এবং প্যাডেলবোর্ডটি পানিতে ডুবে যাচ্ছিল, তাই সে সেটি থেকে নেমে পড়ে। এরপর সাঁতার কাটতে সমস্যা হওয়ায় লাইফ জ্যাকেটটিও খুলে ফেলে। তার ভাষ্য, তখন ইতিবাচক চিন্তাভাবনায় মনোযোগী হওয়ার চেষ্টা করে সে।
সেদিন দুপুরের আগেই পরিবারটি তাদের সমুদ্র অভিযানে বেরিয়ে পড়েছিল। অস্টিনের কর্তৃপক্ষকে জানাতে সন্ধ্যা ৬টা বেজে যায় এবং রাত সাড়ে ৮টার দিকে তার মা জোয়ান অ্যাপেলবি (৪৭), ভাই বিউ (১২) এবং বোন গ্রেসকে (৮) উদ্ধার করে একটি হেলিকপ্টার।
পরিবারটি পশ্চিম অস্ট্রেলিয়া রাজ্যের কুইন্ডালুপ থেকে প্রায় ১৪ কিলোমিটার সমুদ্রের গভীরে ভেসে গিয়েছিল। প্রায় ১০ ঘণ্টা তারা পানিতে ভেসেছিল।
স্থানীয় পুলিশ পরিদর্শক জেমস ব্র্যাডলি বলেন, ছেলেটির কাজের কেবল প্রশংসাই যথেষ্ট নয়, তার দৃঢ় সংকল্প এবং সাহস তার মা এবং ভাইবোনদের জীবন বাঁচিয়েছে।
জোয়ান অ্যাপেলবি সাংবাদিকদের বলেন, আমি তো ছেলেমেয়েদের সাগরের মাঝখানে রেখে তীরে চলে আসতে পারি না! তাই বড় ছেলেকে পাঠাই।
অস্ট্রেলিয়ান ব্রডকাস্টিং করপোরেশনকে তিনি বলেন, আমার জীবনে নেওয়া সবচেয়ে কঠিন সিদ্ধান্তগুলোর মধ্যে একটি ছিল অস্টিনকে বলা— চেষ্টা করো, তীরে গিয়ে সাহায্য নাও। কারণ আমরা খুব শিগগিরই বড় বিপদে পড়তে পারি।
তিনি আরও বলেন, শুরুতে আমি আত্মবিশ্বাসী ছিলাম যে অস্টিন তীরে পৌঁছাবে, কিন্তু যখন সূর্য অস্ত যেতে শুরু করে এবং তখনও আমাদের কাছে সাহায্য পৌঁছায়নি, তখন ছেলের বিষয়ে দুশ্চিন্তা হচ্ছিল।
জোয়ান অ্যাপেলবি বলেন, যখন আমাদের উদ্ধার করা হয়, তখন আমরা তিনজনই কাঁপছিলাম। তীব্র ঠান্ডায় বিউয়ের পা তো অবশই হয়ে গিয়েছিল। তবে আমার তিনটি বাচ্চা, তিনজনই বেঁচে আছে—এটাই আসল কথা।
৯০ দিন আগে