বিশ্ব
আফগানিস্তানে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ৬ শতাধিক মৃত্যু, আহত ১৫০০
আফগানিস্তানের পূর্বাঞ্চলের কুনার প্রদেশে ভয়াবহ ভূমিকম্পে ছয় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছে, আহত হয়েছে দেড় হাজারেরও বেশি মানুষ।
স্থানীয় সময় রোববার (৩১ আগস্ট) এক বিৃবতিতে তালেবান সরকারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, দেশটিতে ৬ দশমিক শূন্য মাত্রার একটি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এতে কুনার প্রদেশে ৬১০ জন এবং পাশের নানগারহার প্রদেশে ১২ জন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছে আরও দেড় হাজারের বেশি মানুষ। হতাহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে সতর্ক করেছে কর্তৃপক্ষ।
সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দূরত্ব এবং সেখানে পৌঁছানোর অসুবিধার কারণে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বিবিসির এক প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা ইউএসজিএসের তথ্য অনুযায়ী, রোববার রাত ১১টা ৪৭ মিনিটে ওই ভূমিকম্প হয়। এর উৎপত্তিস্থল ছিল ভূপৃষ্ঠের ৮ কিলোমিটার গভীরে। এরপর থেকে অন্তত আরও তিনটি কম্পন অনভূত হয়েছে। সেগুলোর মাত্রা ছিল ৪ দশমিক ৫ থেকে ৫ দশমিক ২-এর মধ্যে।
স্থানীয়রা জানান, ভূমিকম্পকেন্দ্রের কাছাকাছি ভূমিধস হয়েছে। এতে অনেক এলাকা যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে গেছে এবং উদ্ধারকারীদের জন্য সেখানে পৌঁছানো কঠিন হয়ে পড়েছে।
আরও পড়ুন: ৮.৮ মাত্রার ভূমিকম্পে রাশিয়া, জাপানে সুনামি; দক্ষিণ প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলজুড়ে সতর্কতা জারি
তথ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বার্তা সংস্থা আনাদোলুকে জানিয়েছেন, কুনার প্রদেশের নুর গাল, সাওকি, ওয়াতপুর, মানোগি এবং চাপা দারা জেলায় হতাহতের খবর পাওয়া গেছে।
তিনি বলেন, নিহত ও আহতদের সংখ্যা চূড়ান্ত নয়, কারণ কর্মকর্তারা এখনো অনেক প্রত্যন্ত অঞ্চলের স্থানীয় বাসিন্দাদের সঙ্গে যোগাযোগ করছেন।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, ভূমিধসের কারণে সাওকি জেলার দেওয়া গুল এবং নূর গুল জেলার মাজার দারা যাওয়ার সড়কগুলো বন্ধ হয়ে গেছে। ফলে উদ্ধারকারী দলগুলোর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় পৌঁছাতে অসুবিধা হচ্ছে।
আফগানিস্তানের অন্তর্বর্তী প্রশাসনের মুখপাত্র জাবিউল্লাহ মুজাহিদ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে লিখেছেন, দুঃখের বিষয়, রোববার রাতের ভূমিকম্পে আমাদের পূর্বাঞ্চলীয় কিছু প্রদেশে প্রাণহানি ও সম্পদের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, স্থানীয় কর্মকর্তা এবং বাসিন্দারা উদ্ধার প্রচেষ্টায় নিয়োজিত আছেন। বাসিন্দাদের জীবন বাঁচাতে প্রয়োজনীয় সব ধরনের ব্যবস্থা গ্রহণ করা হবে বলেও আশ্বাস দিয়েছেন এই কর্মকর্তা।
২৪৬ দিন আগে
ইসরায়েলি হামলায় হুতি প্রধানমন্ত্রী নিহত
ইসরায়েলি বিমান হামলায় হুতি বিদ্রোহীদের প্রধানমন্ত্রী আহমেদ আল-রাহাওয়ি নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) ইয়েমেনের রাজধানী সানায় বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। এতে আহমেদ আল-রাহাওয়িসহ হুতি সরকারের বেশ কয়েকজন মন্ত্রী নিহত হন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন মন্ত্রী ও কর্মকর্তা আহত হয়েছেন জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটড প্রেস (এপি)।
পরে শনিবার (৩০ আগস্ট) এক বিবৃতিতে হুতি সরকারের পক্ষ থেকেও এ তথ্য নিশ্চিত করা হয়েছে। তাদের পরিচালিত সরকারের বার্ষিক কার্য মূল্যায়নের জন্য আয়োজিত একটি কর্মশালায় এ হামলা চালানো হয় বলে বিবৃতিতে জানানো হয়েছে।
এদিকে, বার্তা সংস্থা আনাদোলু জানিয়েছে, এই হামলার ‘প্রতিশোধ’ নেওয়া হবে বলে অঙ্গীকার করেছেন ইয়েমেনের সশস্ত্র বাহিনীর চিফ অব স্টাফ মুহাম্মদ আব্দুল করিম আল-গামারি।
বৃহস্পতিবার হুতি-সমর্থিত একটি টেলিভিশন চ্যানেলে গাজায় চলমান পরিস্থিতি ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে প্রতিশোধ নেওয়ার অঙ্গীকার করে গোষ্ঠীটির নেতা আবদুল মালিক আল-হুথির পূর্বে রেকর্ড করা একটি ভাষণ প্রচার করা হচ্ছিল। ঠিক সেই সময়েই বিমান হামলা চালায় ইসরায়েল। হুতিদের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারা সাধারণত এ ধরনের ভাষণ একত্র হয়ে দেখতেন বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটড প্রেস (এপি)।
ইয়েমেনের দক্ষিণাঞ্চলের আবইয়ান প্রদেশের বাসিন্দা সাবেক প্রেসিডেন্ট আলী আবদুল্লাহ সালেহর ঘনিষ্ঠ সহযোগী হিসেবে পরিচিত ছিলেন আল-রাহাওয়ি। ২০১৪ সালে হুতিরা সানা ও দেশটির উত্তর ও মধ্যাঞ্চলের একটি বড় অংশ দখল করলে তিনি বিদ্রোহীদের সঙ্গে যোগ দেন। এরপর ২০২৪ সালের আগস্ট থেকে হুতি নেতৃত্বাধীন সরকারের প্রধানমন্ত্রী হিসেবে দায়িত্ব পালন করে আসছিলেন আল-রাহাওয়ি।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিন উপজাতীয় নেতা এপিকে জানিয়েছেন, সানার দক্ষিণাঞ্চলের বেইত বাওস গ্রামে একটি ভিলায় হুতি নেতাদের বৈঠক চলাকালে ওই হামলা চালায় ইসরায়েল।
এদিকে, বৃহস্পতিবার এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, তাদের বাহিনী সানা এলাকায় ‘হুতি সন্ত্রাসী সরকারের একটি সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে’ হামলা চালিয়েছে। পরে শনিবারে আরেক বিবৃতিতে আল-রাহাওয়িসহ অন্যান্য জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তার নিহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে তারা। নিহত হুতি নেতারা ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ডে’ কর্মকাণ্ডে জড়িত ছিলেন বলে বিবৃতিতে দাবি করা হয়েছে।
গত সপ্তাহে হুতি-নিয়ন্ত্রিত তেল কোম্পানির স্থাপনা ও একটি বিদ্যুৎকেন্দ্রে হামলা চালায় ইসরায়েল। ২৪ আগস্টের ওই হামলার তিন দিন আগে ইসরায়েলে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছিল হুতি বিদ্রোহীরা।
মূলত, গাজার ফিলিস্তিনিদের প্রতি সংহতি জানিয়ে লোহিত সাগর ও এডেন উপসাগরে চলাচলকারী ইসরায়েলি ও পশ্চিমা জাহাজে হামলা চালিয়ে আসছিল হুতিরা। এর পরিপ্রেক্ষিতে সাম্প্রতিক মাসগুলোতে ইয়েমেনে দফায় দফায় হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
আরও পড়ুন: গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৯৪ ফিলিস্তিনি নিহত
এরপর এপ্রিলে ইয়েমেনে হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র। সে সময় দেশটির সাবা প্রদেশে মার্কিন হামলায় অন্তত ৬৮ জন নিহত ও ৪৭ জন আহত হন।
পরে মে মাসে ট্রাম্প প্রশাসনের একটি সমঝোতা চুক্তি করে হুতিরা। ওই চুক্তির আওতায়, আকাশপথে হামলা বন্ধের বিনিময়ে লোহিত সাগরে জাহাজে হামলা বন্ধ করার কথা জানায় তারা।
তবে ফিলিস্তিনিদের সমর্থনে ইসরায়েলে হামলা অব্যাহত রাখার ঘোষণা দিয়েছিলেন হুতি বিদ্রোহীরা।
২৪৭ দিন আগে
কমলা হ্যারিসের সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা প্রত্যাহার করলেন ট্রাম্প
যুক্তরাষ্ট্রের সাবেক ভাইস প্রেসিডেন্ট কমলা হ্যারিসের সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা প্রত্যাহার করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) হোয়াইট হাউজের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানা যায়।
নিয়মানুযায়ী সাবেক প্রেসিডেন্টরা আজীবন এবং ভাইস প্রেসিডেন্টরা দায়িত্ব ছাড়ার ৬ মাস সিক্রেট সার্ভিস নিরাপত্তা পেয়ে থাকেন। সেই হিসাবে গত ২১ জুলাই কমলার নিরাপত্তা পাওয়ার সময় শেষ হয়েছে। তবে সবশেষ নির্বাচনে প্রেসিডেন্ট পদে প্রতিদ্বন্দিতা করায় কমলার নিরাপত্তা পাওয়ার মেয়াদ আরও এক বছর বাড়িয়েছিলেন সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন। তবে বাইডেনের সেই সিদ্ধান্ত প্রত্যাহার করেছেন ট্রাম্প।
শুক্রবার (২৯ আগস্ট) ‘হোমল্যান্ড সিকিউরিটি’কে একটি চিঠি পাঠান ট্রাম্প। চিঠিতে বলা হয়েছে, আগামী ১ সেপ্টেম্বর থেকে আর সিক্রেট সার্ভিসের নিরাপত্তা পাবেন না কমলা।
ট্রাম্প একজন রিপাবলিকান, আর বাইডেন ও হ্যারিস ডেমোক্র্যাট। গত বছরের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনে হ্যারিসকে পরাজিত করেছিলেন ট্রাম্প।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) ট্রাম্প প্রশাসনের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা জানান, শুক্রবার হোমল্যান্ড সিকিউরিটি বিভাগের কাছে একটি নির্বাহী স্মারকলিপি জারি করা হয়। এর মাধ্যমে হ্যারিসের নিরাপত্তা বাহিনী ও নিরাপত্তা পরিষেবা বাতিল করা হয়েছে।
পড়ুন: ইউক্রেনে ৮২৫ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র
এই সেবা ২০২৬ সালের জুলাই মাসেই শেষ হওয়ার কথা থাকলেও এখন তা আগামী সপ্তাহের মঙ্গলবারই (২ সেপ্টেম্বর) শেষ হবে।
গত বছর যুক্তরাষ্ট্রের রাজনৈতিক পরিবেশ বেশ উত্তেজনাপূর্ণ ছিল। ওই সময়ে ট্রাম্পের বিরুদ্ধে দুটি হত্যাচেষ্টা সংঘটিত হয় এবং ওই সময়ে সিক্রেট সার্ভিস বর্তমান প্রেসিডেন্টকে (ট্রাম্প) রক্ষা করতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছিল।
হ্যারিস ক্যালিফোর্নিয়ার সাবেক অ্যাটর্নি জেনারেল এবং সান ফ্রান্সিসকো জেলা অ্যাটর্নি। তিনি সম্প্রতি ঘোষণা করেছেন যে আগামী বছর তিনি গভর্নরের পদে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন না।
২৪৯ দিন আগে
লেবাননে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিল জাতিসংঘ
আগামী বছরের শেষ নাগাদ লেবাননের দক্ষিণাঞ্চল থেকে জাতিসংঘের শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নিয়েছে নিরাপত্তা পরিষদ। বাহিনীটি মোতায়নের প্রায় পাঁচ দশক পর যুক্তরাষ্ট্র ও তার ঘনিষ্ঠ মিত্র ইসরায়েলের চাপে এ সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদে সর্বসম্মতভাবে এ প্রস্তাব গৃহীত হয়।
সিএনএন জানিয়েছে, প্রথমে ছয় মাসের মধ্যে লেবানন থেকে শান্তিরক্ষী বাহিনী প্রত্যাহারের দাবি জানায় যুক্তরাষ্ট্র। পরে এক বছরের চূড়ান্ত সময়সীমার প্রস্তাব দেয় ওয়াশিংটন। সবশেষ ১৬ মাস মেয়াদি একটি চূড়ান্ত প্রস্তাবে সম্মতি দেয় যুক্তরাষ্ট্র। এর আওতায় লেবানন-ইসরায়েল সীমান্তে ২০২৬ সালের শেষ পর্যন্ত কার্যক্রম চালিয়ে যাবে শান্তিরক্ষী বাহিনী।
১৯৭৮ সালে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলের হামলার পর সেখানে জাতিসংঘ অন্তর্বর্তীকালীন বাহিনী (ইউএনআইএফআইএল) মোতায়ন করে। এরপর ২০০৬ সালের ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের এই বাহিনীর মেয়াদ আরও বাড়ানো হয়। ফলে দশক ধরে ইউএনআইএফআইএল দক্ষিণ লেবাননের নিরাপত্তা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করে চলেছে।
আরও পড়ুন: জোরপূর্বক ফিলিস্তিনিদের উচ্ছেদ যুদ্ধাপরাধের শামিল: জাতিসংঘ
গৃহীত প্রস্তাব অনুযায়ী, ২০২৬ সালের ৩১ ডিসেম্বর থেকে এক বছরের মধ্যে ইউএনআইএফআইএল তাদের ১০ হাজার ৮০০ সামরিক ও বেসামরিক সদস্য এবং সব জাতিসংঘ সরঞ্জাম প্রত্যাহার করবে। এ সময়ে সীমিত কিছু কার্যক্রম পরিচালনার অনুমতি থাকবে বাহিনীটির।
প্রস্তাবে আরও বলা হয়েছে, দক্ষিণ লেবাননের জাতিসংঘ-চিহ্নিত সীমান্তরেখা ‘ব্লু লাইন’-এর উত্তরে নিরাপত্তা প্রদানের একমাত্র দায়িত্ব পালন করবে লেবানন সরকার। পাশাপাশি ইসরায়েলকে ওই রেখার উত্তরের এলাকা থেকে সেনা প্রত্যাহারের আহ্বান জানানো হয়েছে।
গত বছর ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধের সময় এ বাহিনী উভয়পক্ষের সমালোচনার মুখে পড়ে। মার্কিন কংগ্রেসের অনেক সদস্যও ইউএনআইএফআইএলের তীব্র সমালোচনা করেন সে সময়।
ওয়াশিংটনের দাবি, এ বাহিনী কেবল অর্থের অপচয় করছে এবং হিজবুল্লাহর প্রভাব নির্মূল ও লেবাননের সেনাবাহিনীর পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যকে দীর্ঘায়িত করছে। এরই মধ্যে ইউএনআইএফআইএলের জন্য যুক্তরাষ্ট্রের অর্থায়নে বড় ধরনের কাটছাঁট করেছে ট্রাম্প প্রশাসন।
তবে লেবাননের সেনাবাহিনী এখনো পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ নেওয়ার সক্ষমতা অর্জন করেনি বলে দাবি করেছে দেশটির সরকার।
গৃহীত ওই প্রস্তাবে লেবাননের সশস্ত্র বাহিনীকে সরঞ্জাম, উপকরণ ও আর্থিক সহায়তা জোরদার করতে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
এদিকে, ইউরোপের অনেক দেশ, বিশেষত ফ্রান্স ও ইতালি এই প্রস্তাবের বিরোধিতা করেছে। তাদের ভাষ্যে, লেবানিজ সেনাবাহিনী সীমান্ত এলাকায় পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার আগে শান্তিরক্ষী বাহিনী চলে গেলে সেখানে এক ধরনের শূন্যতা তৈরি হবে। এই সুযোগ হিজবুল্লাহ সহজেই কাজে লাগাতে পারবে বলে আশঙ্কা প্রকাশ করেছে দেশগুলো।
২৪৯ দিন আগে
ইউক্রেনে ৮২৫ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র
যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ইউক্রেন-রাশিয়া শান্তি আলোচনায় ইতোমধ্যে ভাটা পড়েছে। এরই মধ্যে ইউক্রেনের প্রতিরক্ষা সক্ষমতা জোরদার করতে ৮২৫ মিলিয়ন ডলারের অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। এই চুক্তির আওতায় দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র ও সংশ্লিষ্ট সরঞ্জাম সরবরাহ করা হবে।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৮ আগস্ট) এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর। বিষয়টি কংগ্রেসকে অবহিত করা হয়েছে বলেও বিবৃতিতে উল্লেখ করা হয়েছে।
পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ইউক্রেনকে ৩ হাজার ৩৫০টি দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্র, সমপরিমাণ জিপিএস ইউনিট, যন্ত্রাংশ, খুচরা সরঞ্জাম, প্রশিক্ষণ ও প্রযুক্তিগত সহায়তা দেওয়া হবে। আর এসব অস্ত্রসস্ত্র কেনার ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বৈদেশিক সামরিক সহায়তার (ফরেন মিলিটারি ফাইন্যান্সিং) পাশাপাশি ন্যাটোর মিত্রদেশ ডেনমার্ক, নেদারল্যান্ডস ও নরওয়ে থেকে পাওয়া তহবিল ব্যবহার করবে ইউক্রেন।
আরও পড়ুন: শান্তিচুক্তির বিনিময়ে কী ধরনের নিরাপত্তা নিশ্চয়তা পেতে পারে ইউক্রেন
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, এই অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রনীতি ও জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থকে এগিয়ে নেবে। সেইসঙ্গে ইউক্রেনের নিরাপত্তা জোরদার করবে।
এ ছাড়া, ইউক্রেনকে ইউরোপের রাজনৈতিক স্থিতিশীলতা ও অর্থনৈতিক অগ্রগতির একটি শক্তি হিসেবেও অভিহিত করেছে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর।
সম্প্রতি ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধ নিয়ে আলাস্কায় বৈঠক করেন ডোনাল্ড ট্রাম্প ও রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। তবে বৈঠকের পরও ইউক্রেনে হামলার তীব্রতা বাড়িয়েছে রাশিয়া, এরই মধ্যে এই অস্ত্র বিক্রির অনুমোদন দিল যুক্তরাষ্ট্র।
গত জুলাইয়ে ইউক্রেনকে আরও দুটি অস্ত্র বিক্রির প্রস্তাবের ঘোষণা দিয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র। এর মধ্যে ৩২২ মিলিয়ন ডলারের একটি প্রস্তাবের আওতায় ইউক্রেনকে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা ও সাঁজোয়া যুদ্ধযান সরবরাহ করার কথা ছিল। আরেকটি প্রস্তাবে আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা এবং স্বচালিত কামানভিত্তিক যানগুলোর রক্ষণাবেক্ষণ, মেরামত ও সংস্কারের জন্য ৩৩০ মিলিয়ন ডলারের বরাদ্দ দেওয়া হয়।
২৪৯ দিন আগে
চীনে সামরিক কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন কিম জং উন
ছয় বছর পর প্রথমবারের মতো চীন সফরে যাচ্ছেন উত্তর কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট কিম জং উন। আগামী সপ্তাহে বেইজিংয়ে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তির ৮০ বছর পূর্তি উপলক্ষে আয়োজিত সামরিক কুচকাওয়াজে তিনি অংশ নেবেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (২৭ আগস্ট) চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, কুচকাওয়াজে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনসহ মোট ২৬ জন বিদেশি নেতা উপস্থিত থাকবেন। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও পশ্চিমা প্রধান দেশগুলোর কোনো শীর্ষ নেতা এতে যোগ দিচ্ছেন না।
২০১১ সালে ক্ষমতায় আসার পর এটিই হবে বহুপাক্ষিক আন্তর্জাতিক কোনো অনুষ্ঠানে কিমের প্রথম অংশগ্রহণ। তাছাড়া কিমের এ সফর ২০১৯ সালের পর চীনে তার প্রথম সফর হতে যাচ্ছে।
উত্তর কোরিয়ার রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা কেসিএনএ জানিয়েছে, চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিংয়ের আমন্ত্রণে কিম এ সফর যাচ্ছেন। তবে তিনি কতদিন চীনে অবস্থান করবেন কিংবা শি জিনপিং, পুতিন বা অন্য নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করবেন কি না—সে বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
চীন-জাপান যুদ্ধের ৮০তম বার্ষিকী ও দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের সমাপ্তি উপলক্ষে আগামী বুধবার (৩ সেপ্টেম্বর) আয়োজিত এই কুচকাওয়াজে যোগ দেবেন ইরান, বেলারুশ, সার্বিয়া, কিউবা, ইন্দোনেশিয়া, মিয়ানমার, পাকিস্তান ও মালয়েশিয়ার নেতারাও। কুচকাওয়াজে চীনের আধুনিক অস্ত্রশস্ত্র প্রদর্শন করা হবে এবং প্রেসিডেন্ট শি ভাষণ দেবেন।
তবে ইউক্রেন যুদ্ধ নিয়ে রুশ নেতা পুতিনের সঙ্গে মতপার্থক্যের কারণে বেশিরভাগ পশ্চিমা নেতার এ কুচকাওয়াজে উপস্থিত থাকবে বলে মনে করছেন আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকরা।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে টানাপোড়েনের মধ্যে চীন সফরে যাচ্ছেন মোদি
চীন দীর্ঘদিন ধরে উত্তর কোরিয়ার সবচেয়ে বড় বাণিজ্য অংশীদার ও প্রধান সহায়তাকারী। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে তাদের সম্পর্ক নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে। উত্তর কোরিয়া বর্তমানে রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়াচ্ছে। ইউক্রেন যুদ্ধে সৈন্য ও গোলাবারুদ সরবরাহের বিনিময়ে তারা অর্থনৈতিক ও সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।বিশ্লেষকরা বলছেন, রাশিয়ার সঙ্গে সহযোগিতা বাড়ালেও উত্তর কোরিয়ার অর্থনীতি টিকিয়ে রাখতে চীনের সহায়তা অপরিহার্য। তাই বেইজিংয়ের সঙ্গে সম্পর্ক জোরদার করতেই কিমের এ সফর।
কিমের চীন সফরের পেছনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে নতুন করে কূটনীতি শুরুর প্রচেষ্টারও ইঙ্গিত থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বেশ কয়েকবার কিমের সঙ্গে নিজের সম্পর্কের কথা উল্লেখ করেছেন এবং আলোচনায় ফেরার আগ্রহ প্রকাশ করেছেন। যদিও উত্তর কোরিয়া ট্রাম্পের প্রস্তাব এখনো প্রত্যাখ্যান করে চলেছে, তবে যুক্তরাষ্ট্র বড় ধরনের ছাড় দিলে পিয়ংইয়ং আলোচনায় ফিরতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা।
ট্রাম্প সম্প্রতি ওয়াশিংটনে দক্ষিণ কোরিয়ার প্রেসিডেন্ট লিয়ের সঙ্গে বৈঠককালে অতীতের কিমের সঙ্গে নিজের বৈঠকের প্রসঙ্গ টেনে আনেন। সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, ‘আমি সেটা ভীষণ উপভোগ করেছিলাম। মনে আছে, আমি যখন সীমান্ত রেখা পার হয়েছিলাম, সবাই তখন উত্তেজনায় ফেটে পড়েছিল।’
প্রথম মেয়াদে কিমের সঙ্গে তিনবার বৈঠক করেছিলেন ট্রাম্প। তবে মার্কিন নেতৃত্বাধীন নিষেধাজ্ঞা নিয়ে মতানৈক্যের কারণে তাদের ঐতিহাসিক বৈঠক ব্যর্থ হয়। এরপর থেকে কিম তার পারমাণবিক অস্ত্রাগার আধুনিকীকরণ ও সম্প্রসারণে একাধিক অস্ত্র পরীক্ষা চালিয়েছেন।
২৫০ দিন আগে
ভারতে বানান, ভারত থেকেই কিনুন: মার্কিন শুল্কের বিরুদ্ধে মোদির আহ্বান
আজ থেকে ভারতের ওপর কার্যকর হচ্ছে নতুন মার্কিন শুল্ক। ভারত থেকে যেসব পণ্য যুক্তরাষ্ট্র প্রবেশ করবে, সেসব পণ্যের ওপর ৫০ শতাংশ শুল্ক গুনতে হবে। এর ফলে দেশটির অর্থনীতিতে ব্যাপক প্রভাব পড়বে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
নিষেধ সত্ত্বেও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় গত ৬ আগস্ট ভারতের ওপর নেমে আসে যুক্তরাষ্ট্রের এই শুল্কশাস্তি। দিল্লির ওপর প্রথমে ২৫ শতাংশ, পরে আরও ২৫ শতাংশসহ মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তবে শুল্ক নিয়ে ট্রাম্পের এই চোখ রাঙানির বিপরীতে ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি বলেছেন, ‘ভারতে বানান, ভারত থেকেই কিনুন’। অর্থাৎ মার্কিন শুল্ক মোকাবিলায় দেশের অভ্যন্তরেই পণ্যের উৎপাদন ও বিক্রি করে রপ্তানি নির্ভরতা কমানোর ওপর জোর দিয়েছেন তিনি।
বিবিসির এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, চলতি মাসের শুরুর দিকে নিজ দেশের অর্থনীতিকে শক্তিশালী করতে ছোট ছোট ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ‘বিশাল কর ছাড়ের’ ঘোষণা দেন মোদি।
দেশটির স্বাধীনতা দিবস উদযাপনের সময় দিল্লির লাল কেল্লা থেকে সাধারণ মানুষ এবং সমর্থকদের সামনে তিনি এ ঘোষণা দেন। সে সময় ছোট দোকান মালিক এবং ব্যবসা প্রতিষ্ঠানগুলোকে তাদের দোকানের বাইরে ‘স্বদেশি’ বা ‘মেড ইন ইন্ডিয়া’ বোর্ড লাগানোরও আহ্বান জানিয়েছিলেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী।
মোদি বলেছিলেন, ‘হতাশা থেকে নয়, বরং গর্ব থেকে আমাদের আত্মনির্ভরশীল হওয়া উচিত।’
তিনি আরও বলেছিলেন, ‘বিশ্বব্যাপী অর্থনৈতিক স্বার্থপরতা বৃদ্ধি পাচ্ছে এবং আমাদের অসুবিধাগুলো নিয়ে বসে থাকলে চলবে না, অবশ্যই সামনে এগোতে হবে। কেউ যেন আমাদের নিয়ন্ত্রণ করতে না পারে।’
আরও পড়ুন: ভারতকে ট্রাম্পের শাস্তি, শুল্ক বেড়ে দাঁড়াল ৫০ শতাংশ
এরপর বিভিন্ন অনুষ্ঠানে এই বক্তব্যের পুনরাবৃত্তি করেছেন মোদি।
মোদির এই অবস্থানকে অনেকেই ট্রাম্পের ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপের কঠোর পদক্ষেপের বিরুদ্ধে লড়াই হিসেবেই দেখছেন। মার্কিন শুল্কের কারণে ভারতের রপ্তানিনির্ভর শিল্পের সঙ্গে জড়িত লাখ লাখ মানুষের জীবিকা ব্যাহত হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। কারণ আমেরিকান গ্রাহকদের পোশাক থেকে শুরু করে হীরা ও চিংড়ি পর্যন্ত সবকিছু সরবরাহ করে ভারত।
তবে মোদির বার্তাও স্পষ্ট, দেশে পণ্য বানিয়ে দেশেই বিক্রি করতে হবে।
ভারতে বানিয়ে ভারতেই বিক্রি কতটুকু সম্ভব
মোদি নির্দেশ দিলেও এই বিষয়ের বাস্তবায়ন নিয়ে সন্দিহান অনেকেই। যদি উৎপাদনের কথা আলোচনা করা হয়, সেক্ষেত্রে ভারতের ব্যর্থতার ছাপ ইতোমধ্যে স্পষ্ট। কারণ ভারতে বছরের পর বছর সরকারি ভর্তুকি এবং উৎপাদন প্রণোদনা চালু করার পরও দেশটির মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) ১৫ শতাংশের আশপাশেই স্থবির হয়ে আছে।
বিশেষজ্ঞদের ধারণা, সরকার যদি দীর্ঘমেয়াদী কর সংস্কারকে উৎসাহিত করে এবং অবিলম্বে জনগণের হাতে আরও বেশি অর্থ পৌঁছানো সম্ভব হয়, তাহলে এই ধাক্কা সামাল দেওয়ার ক্ষেত্রে জন্য কিছুটা সহায়ক হতে পারে।
এ কারণে চলতি বছরের শুরুতে বাজেটে ১২ বিলিয়ন ডলারের আয়কর ছাড়ের ঘোষণার পর এখন পণ্য ও পরিষেবা কর (জিএসটি) হ্রাস এবং সরলীকরণের মাধ্যমে ভারতের পরোক্ষ কর ব্যবস্থা সংস্কারের লক্ষ্যে কাজ করছে মোদি সরকার।
মূলত কর ছাড়ের ফলে ভোক্তানির্ভর খাতগুলোর সবচেয়ে বেশি উপকৃত হওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে স্কুটার, ছোট গাড়ি, পোশাক এবং সিমেন্টের মতো পণ্য।
সুনির্দিষ্ট তথ্য না থাকলেও বেশিরভাগ বিশ্লেষকের ধারণা, কম জিএসটির কারণে যে রাজস্ব ঘাটতি তৈরি হবে, তা বাড়তি শুল্ক আদায় এবং ভারতের কেন্দ্রীয় ব্যাংক থেকে বাজেটের তুলনায় বেশি লভ্যাংশের মাধ্যমে পূরণ হয়ে যাবে।
অন্যদিকে, বিনিয়োগ ব্যাংক মর্গান স্ট্যানলির মতে, মোদির এই রাজস্ব প্রণোদনা বা কর ছাড় ভোগব্যয়ের পুনরুদ্ধার নিশ্চিত করতে সহায়ক হবে। এতে দেশটির জিডিপি বাড়বে এবং মুদ্রাস্ফীতি কমবে।
সুইস বিনিয়োগ ব্যাংক ইউবিএস বিবিসিকে বলেছে, জিএসটি কমানোর এই সিদ্ধান্ত মোদির আগের নেওয়া করপোরেট ও আয়কর কমানোর তুলনায় বড় প্রভাব ফেলবে, কারণ এগুলো ক্রয়ের সময় সরাসরি ভোগব্যয়কে প্রভাবিত করবে।
আরও পড়ুন: ভারতকে কি চীনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন ট্রাম্প?
মোদির এই করছাড়ের ঘোষণা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সুদের হার আরও কমানোর সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে তুলতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকরা। গত কয়েক মাসে এই হার এক শতাংশ হারে কমানো হয়েছে। তাছাড়া ঋণ দেওয়াকেও উৎসাহিত করা হতে পারে বলে মনে করেন তারা।
এর ফলে আগামী বছরের শুরুতে প্রায় পাঁচ লাখ সরকারি কর্মচারীর বেতন বৃদ্ধির সঙ্গে সঙ্গে ভারতের অর্থনীতির প্রবৃদ্ধির গতি ধরে রাখতে সহায়ক বলে আশা প্রকাশ করেছেন বিশ্লেষকরা।
ভারতের শেয়ার বাজারগুলো এই ঘোষণায় উচ্ছ্বাস প্রকাশ করেছে। তাছাড়া, বাণিজ্য অনিশ্চয়তার কারণে সৃষ্ট আতঙ্ক থাকা সত্ত্বেও, এই মাসের শুরুতে আঠারো বছর পর এসঅ্যান্ডপি গ্লোবাল থেকে একটি বিরল সার্বভৌম রেটিং আপগ্রেড পেয়েছে ভারত।
কোনো সরকারকে ঋণ দেওয়া বা কোন দেশে বিনিয়োগ করা কতটা ঝুঁকিপূর্ণ— তা পরিমাপ করে এই সার্বভৌম রেটিং। এতে সরকারের ঋণ গ্রহণের খরচ কমতে পারে এবং বিদেশি বিনিয়োগের পরিস্থিতি উন্নত করতে পারে।
অবশ্য অনেকদিন ধরে আটকে থাকা সংস্কারগুলো নিয়ে তাড়াহুড়া করলেও ভারতের প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা কয়েক বছর আগে দেখা ৮ শতাংশ স্তর থেকে উল্লেখযোগ্যভাবে কমে গেছে। এমনকি এ সংশ্লিষ্ট বহিরাগত সংকট কমার কোনো লক্ষণও নেই।
এদিকে, রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে দিল্লি-ওয়াশিংটন বাকযুদ্ধ তীব্র আকার ধারণ করেছে। এর জেরে এই সপ্তাহের শুরুতে অনুষ্ঠিতব্য বাণিজ্য আলোচনাও বাতিল করা হয়েছে। অথচ মাত্র কয়েক মাস আগেও এমন একটি পরিস্থিতি কল্পনাও করা যেত না বলে মন্তব্য করেছেন অনেক বিশেষজ্ঞ।
২৫১ দিন আগে
অষ্ট্রেলিয়ায় ইহুদিবিদ্বেষী হামলায় ইরানের সম্পৃক্ততা দাবি, রাষ্ট্রদূত বহিষ্কার
গত বছর অস্ট্রেলিয়ায় সংঘটিত দুটি ইহুদিবিদ্বেষী হামলার পেছনে ইরানের হাত রয়েছে বলে গোয়েন্দা তথ্য-প্রমাণ মেলার দাবি করেছেন দেশটির প্রধানমন্ত্রী অ্যান্থনি আলবানিজ। এর জেরে তেহরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন করার ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২৬ আগস্ট) এক সংবেদ সম্মেলনে এ কথা জানান অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
তিনি জানান, ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্ত জানানো হয়েছে এবং তেহরানে অবস্থিত অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করে সব কূটনীতিককে তৃতীয় দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। এ ছাড়া আইন প্রণয়ন করে ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে তালিকাভুক্ত করার কথাও ভাবছে সরকার।
আলবানিজ বলেন, দেশটির নিরাপত্তা গোয়েন্দা সংস্থার (এএসআইও) তথ্যমতে, গত অক্টোবরে সিডনিতে লুইস কন্টিনেন্টাল কিচেনে এবং ডিসেম্বরে মেলবোর্নের একটি সিনাগগে (ইহুদি উপাসনালয়) অগ্নিসংযোগের নির্দেশ দিয়েছিল ইরান সরকার।
এ বিষয়ে ইরান সরকারের তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
ইরানের সম্পৃক্ততার দাবি গোয়েন্দাদের
২০২৩ সালে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধ শুরু পর থেকেই সিডনি ও মেলবোর্নে ইহুদিবিদ্বেষী কার্যকলাপের প্রবণতা বেড়েছে। স্থানীয় অপরাধীদের ভাড়া করে বিদেশি কোনো শক্তি এসব হামলা পেছনে থাকতে পারে বলে তখন থেকেই ধারণা করেছিল অষ্ট্রেলিয়া।
আরও পড়ুন: অস্ট্রেলিয়ার ক্ষমতায় প্রত্যাবর্তন করলেন আলবানিজ
ইতোমধ্যে সিডনির ক্যাফেতে আগুন দেওয়ার ঘটনায় একজনকে এবং মেলবোর্নের সিনাগগে আগুন দেওয়ার অভিযোগে দুজনকে গ্রেপ্তার করেছে দেশটির পুলিশ।
এসব হামলার পেছনে ইরানের সম্পৃক্ততা রয়েছে বলে এএসআইও যথেষ্ট বিশ্বাসযোগ্য তথ্য-প্রমাণ সংগ্রহ করেছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী আলবানিজ।
ইরানের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক ছিন্ন
আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়ার কিছুক্ষণ আগে ইরানের রাষ্ট্রদূতকে বহিষ্কারের সিদ্ধান্তের কথা জানান অষ্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রী। একই সঙ্গে তেহরানে অবস্থিত অস্ট্রেলীয় দূতাবাসের কার্যক্রম আপাতত স্থগিত করে সব কূটনীতিককে তৃতীয় দেশে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে বলেও জানান তিনি।
এ ছাড়া যত দ্রুত সম্ভব ইরান ছেড়ে সম্ভব হলে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার জন্য দেশটিতে অবস্থানরত অস্ট্রেলীয় নাগরিকদের উদ্দেশে সতর্কবার্তাও জারি করা হয়েছে।
২৫২ দিন আগে
সাড়ে ৫ কোটি ভিসাধারীর রেকর্ড খতিয়ে দেখছে যুক্তরাষ্ট্র: পররাষ্ট্র দপ্তর
যুক্তরাষ্ট্রের বৈধ ভিসাধারী প্রায় সাড়ে ৫ কোটি বিদেশির তথ্য নতুন করে যাচাই-বাছাই করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ট্রাম্প প্রশাসন। ভিসার শর্ত লঙ্ঘন করার প্রমাণ পাওয়া গেলে তাদের যুক্তরাষ্ট্র থেকে বহিষ্কার করা হতে পারে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানরত বিদেশিদের ওপর মার্কিন প্রশাসনের চলমান কঠোর অভিযানের অংশ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২১ আগস্ট) বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) একটি প্রশ্নের লিখিত জবাবে মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, সব ভিসাধারীই সার্বক্ষণিক নজরদারির আওতায় থাকেন। যদি দেখা যায় যে কেউ ভিসার নিয়ম ভেঙেছে কিংবা ভিসার যোগ্য নন, তাহলে তার ভিসা বাতিল করা হবে। আর তিনি যদি যুক্তরাষ্ট্রে থাকেন, তবে তাকে দেশ থেকে বহিষ্কার করা হবে।
গত জানুয়ারিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে অবৈধ অভিবাসন দমনে একের পর এক কঠোর পদক্ষেপ নিচ্ছেন ডোনাল্ড ট্রাম্প। শুধু অবৈধ নয়, অনেক ক্ষেত্রে বৈধভাবে থাকা অভিবাসীরাও মার্কিন প্রশাসনের হয়রানির শিকার হচ্ছেন।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তর জানিয়েছে, ভিসার মেয়াদোত্তীর্ণ হওয়ার পরও যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ড, জননিরাপত্তার জন্য হুমকি, সন্ত্রাসী কার্যকলাপ বা সন্ত্রাসী সংগঠনকে সহায়তা করার মতো বিষয়গুলো খতিয়ে দেখা হচ্ছে।
তারা আরও বলেছে, তারা আইনপ্রয়োগকারী বাহিনীর রেকর্ড, অভিবাসন নথিপত্র এবং অন্য যেকোনো তথ্যও বিবেচনায় নিয়ে থাকে। এমনকি ভিসা দেওয়ার পর নতুন কোনো তথ্য সামনে এলে সেগুলোও খতিয়ে দেখা হয়।
ট্রাকচালকদের আর ভিসা দেবে না যুক্তরাষ্ট্র
বৃহস্পতিবার মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও ঘোষণা দেন, আপাতত বিদেশি ট্রাকচালকদের জন্য কোনো কর্মভিসা দেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, বিদেশি চালকেরা মার্কিন নাগরিকদের জীবনকে বিপন্ন করে তুলেছেন এবং স্থানীয় চালকদের কাজ নষ্ট করছেন।
আরও পড়ুন: ‘ফিলিস্তিনপন্থি’ বিক্ষোভে অংশ নেওয়ায় শিক্ষার্থীদের বহিষ্কার করল কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়
এর আগে, ট্রাকচালকদের জন্য ইংরেজি ভাষায় কথা বলা ও পড়তে পারার শর্ত কঠোরভাবে কার্যকর করার পদক্ষেপ নিয়েছিল ট্রাম্প প্রশাসন। ইংরেজি পড়তে বা বলতে না পারার কারণে যেন কোনো দুর্ঘটনা না ঘটে, সেজন্য এই পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছিল বলে জানায় ওয়াশিংটন।
রুবিওর ওই ঘোষণার পরই মূলত সব ভিসাধারীর তথ্য খতিয়ে দেখার বিষয়টি সামনে আসে।
সব ভিসাধারীর ওপর নজরদারি
যুক্তরাষ্ট্রে ভিসা আবেদনকারীদের ওপর অব্যাহতভাবে নতুন নতুন বিধিনিষেধ ও শর্ত আরোপ করে চলেছে ট্রাম্প প্রশাসন। এমনকি এসব নিয়মের মধ্যে সরাসরি সাক্ষাৎকারে অংশ নেওয়ার বাধ্যবাধকতাও রয়েছে।
এই নজরদারি মূলত ফিলিস্তিনের পক্ষে বিক্ষোভে অংশ নেওয়া বিদেশি শিক্ষার্থীদের লক্ষ্য করে চালু করা হয়েছিল। পরে সেটিকে আরও সম্প্রসারণ করা হয়।
সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, এই পদক্ষেপের আওতায় ভিসাধারীদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের অ্যাকাউন্ট, নিজ দেশে আইন প্রয়োগকারী সংস্থা ও অভিবাসন-সংক্রান্ত রেকর্ড এবং যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থানকালে মার্কিন আইন ভঙ্গের যেকোনো তথ্য অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে স্টুডেন্ট ভিসার আবেদনকারীদের জন্য নতুন নির্দেশনা
এ ছাড়া অতীত, বর্তমান ও ভবিষ্যতের সব ভিসা আবেদনকারীর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমের পূর্ণাঙ্গ পর্যালোচনা করা হবে। পাশাপাশি ভিসা সাক্ষাৎকারে উপস্থিত হওয়ার সময় আবেদনকারীদের মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস বা অ্যাপের গোপনীয়তা (প্রাইভেসি) সেটিংস বন্ধ রাখতে হবে।
ট্রাম্পের একের পর এক কঠোর পদক্ষেপের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা দিন দিন ‘সোনার হরিণ’ হয়ে উঠছে।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের তথ্যমতে, ট্রাম্প হোয়াইট হাউসে ফেরার পর থেকে ৬ হাজারের বেশি শিক্ষার্থীর ভিসা বাতিল করা হয়েছে। ওই ৬ হাজার ভিসার মধ্যে প্রায় ৪ হাজার ভিসা বাতিল হয়েছে সরাসরি আইন ভঙ্গের কারণে। এ ছাড়া সন্ত্রাসবাদে সংশ্লিষ্ট থাকার কারণে বাতিল হয়েছে আরও ২০০ থেকে ৩০০ ভিসা।
২৫৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে স্কুলে মোবাইল ব্যবহারে নিষেধাজ্ঞা
যুক্তরাষ্ট্রের কেন্টাকির লুইসভিলের ডস হাই স্কুলে শেষ বর্ষের ক্লাস শুরু করেছেন জামেল বিশপ। তার ক্লাসে পাঠদানের সময় এখন মোবাইল ব্যবহার করা নিষিদ্ধ। যে কারণে শ্রেণিকক্ষের পরিবেশে নাকি বড় পরিবর্তন চোখে পড়েছে তার।
জামেল বলেন, আগের বছরের ক্লাসগুলোতে শিক্ষার্থীরা তেমন মনোযোগ দিতেন না, একই প্রশ্ন বারবার করে সময় নষ্ট করতেন। তবে এখন যেসব শিক্ষার্থীদের সহায়তা প্রয়োজন তাদের এক এক করে আরও বেশি সময় দিতে পারছেন শিক্ষকরা।
নতুন শিক্ষাবর্ষে শ্রেণিকক্ষে মোবাইল নিষিদ্ধের এ সিদ্ধান্ত নেওয়া মার্কিন ১৭টি অঙ্গরাজ্যে ও ডিসট্রিক্ট অব কলম্বিয়ার একটি হলো কেন্টাকি। এতে স্কুলে মোবাইল ফোন ও অন্যান্য ইলেকট্রনিক ডিভাইস ব্যবহারে সীমাবদ্ধতা আরোপকারী অঙ্গরাজ্যের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩৫টিতে। ২০২৩ সালে প্রথম এই নিয়ম চালু করেছিল ফ্লোরিডা।
মোবাইল ফোনের ব্যবহার শিশুদের মানসিক স্বাস্থ্যের ওপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে এবং শিক্ষা থেকে তাদের মনোযোগ সরিয়ে দেয় বলে যুক্তরাষ্ট্রের ডেমোক্রাট ও রিপাবলিকান উভয় দলই এই উদ্যোগের সমর্থন করেছে। যদিও প্রভাবগুলো অতটা স্পষ্ট নয় বলে মন্তব্য করেছেন অনেক গবেষক।
গত সপ্তাহে আটলান্টায় মোবাইল ফোন ব্যবহারের ওপর আয়োজিত এক আলোচনায় জর্জিয়া অঙ্গরাজ্যের প্রতিনিধি স্কট হিলটন বলেন, ক্যালিফোর্নিয়া ও ফ্লোরিডায় যদি কোনো বিল পাস হয়, তাহলে বুঝতে হবে সেটি বেশ জনপ্রিয় উদ্যোগ।
নতুন নীতিমালার আওতায় ১৮টি অঙ্গরাজ্য এবং ডিসট্রিক্ট অব কলম্বিয়ায় পুরো স্কুলেই সারা দিন মোবাইল ফোন নিষিদ্ধ। তবে জর্জিয়া ও ফ্লোরিডায় এই নিষেধাজ্ঞা কিন্ডারগার্টেন থেকে অষ্টম শ্রেণি পর্যন্ত বিদ্যালয় শুরু থেকে ছুটির ঘণ্টা পড়ার আগ পর্যন্ত প্রযোজ্য। আরও সাতটি অঙ্গরাজ্যে কেবল ক্লাস চলাকালে ফোন ব্যবহার নিষিদ্ধ, তবে ক্লাসের ফাঁকে বা দুপুরের খাবারের সময় তা ব্যবহার করা যাবে।
অন্যদিকে, স্থানীয়ভাবে স্কুল পরিচালনার ঐতিহ্য রয়েছে— এমন কিছু অঙ্গরাজ্যে কেবল একটি মোবাইল ফোন নীতিমালা বাধ্যতামূলক করেছে। অন্যরাও ইঙ্গিতটি বুঝে নিয়ে ফোন ব্যবহারে কঠোর সীমাবদ্ধতা আরোপ করবে বলে তাদের বিশ্বাস।
অভিভাবকদের আপত্তি
এমোরি বিশ্ববিদ্যালয়ের গবেষকদের পরিচালিত জর্জিয়ার ১২৫টি স্কুলে পরিচালিত এক জরিপে দেখা গেছে, শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও ডিজিটাল মাধ্যম ব্যবহারে নিয়ন্ত্রণ আরোপের ক্ষেত্রে অভিভাবকদের আপত্তিই সবচেয়ে বড় বাধা হিসেবে চিহ্নিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: বেগম রোকেয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে বহিরাগত প্রবেশে নিষেধাজ্ঞা
অড্রিয়ান্নার মা অড্রেনা জনসন বলেন, তার সন্তানরা স্কুলে সহিংসতা থেকে নিরাপদ আছে কি না এই নিয়ে তিনি সবচেয়ে বেশি চিন্তিত থাকেন।
তিনি জানান, বিভিন্ন হুমকির বিষয়ে স্কুল কতৃপক্ষ যেসব সতর্কবার্তা পাঠায় বেশিরভাগ সময়ই তা দেরিতে কিংবা অসম্পূর্ণভাবে আসে।
একটা উদাহরণ দিয়ে অড্রেনা বলেন, একবার ম্যাকনেয়ারের শিক্ষার্থী নন, এমন একজন স্কুল প্রাঙ্গণে মারামারিতে জড়িয়ে পড়েছিলেন। ক্লাস চলাকালীন তার মেয়ের পাঠানো মেসেজের মাধ্যমেই তিনি সে বিষয়ে জানতে পেরেছিলেন।
তিনি বলেন, ‘আমার সন্তানের কাছে ফোন থাকাটা আমার জন্য খুবই গুরুত্বপূর্ণ। কারণ তাহলে কখন কী হচ্ছে, আমি সঙ্গে সঙ্গেই তা জানতে পারি।’
ন্যাশনাল পেরেন্টস ইউনিয়নের জাতীয় পার্টনারশিপস পরিচালক জেসন অ্যালেন বলেন, অনেক বাবা-মা অড্রেনার সঙ্গে সহমত পোষণ করেছেন। তারা নীতিনির্ধারণে নিজেদের মত দিতে চান। সন্তানের নিরাপত্তার বিষয়ে তারা আরও কার্যকর যোগাযোগ চেয়েছেন।
অভিভাবকদের ভাষ্য, বাচ্চাদের সময়সূচির সঙ্গে সমন্বয় করা প্রয়োজন। তাছাড়া সন্তানরা কোনো সমস্যায় পড়লে তা দ্রুত জানতে পারাটাও তাদের জন্য জরুরি।
অ্যালেন বলেন, ‘আমরা কেবল মোবাইল ফোন নীতির পরিবর্তন করেছি। কিন্তু নিরাপত্তা নিয়ে অভিভাবকদের যে চাহিদা, তা পূরণ করছি না। এমনকি শিক্ষার্থীদের সামাজিক ও মানসিক উন্নয়নে কাজ করার জন্য শিক্ষকদের যথাযথভাবে প্রশিক্ষণও দিচ্ছি না।’
২৫৭ দিন আগে