বিশ্ব
‘শূন্য হাতে’ পুতিনকে নিয়ে আলাস্কা ছাড়লেন ট্রাম্প
ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের কাছ থেকে কোনো চুক্তি নিশ্চিত করতে পারেননি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। পুতিনের জন্য আলাস্কায় লাল গালিচা বিছিয়েও নির্বাচনী প্রচারে ‘ইউক্রেন যুদ্ধ বন্ধে’ নিজের অঙ্গীকার পূরণে ব্যর্থ হয়েছেন তিনি। এক প্রকার ‘শূন্য হাতেই’ পুতিনকে সঙ্গে নিয়ে আলস্কা ছাড়লেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট।
ইউক্রেন নিয়ে নিজেদের মধ্যে একটা ‘বোঝাপড়া’ হয়েছে বলে রুশ প্রেসিডেন্টের দাবির পর ট্রাম্প বলেন, ‘যতক্ষণ পর্যন্ত একটি চূড়ান্ত চুক্তি না হবে, ততক্ষণ পর্যন্ত কোনো চুক্তিই কার্যকর না।’
রাশিয়ার সঙ্গে যুদ্ধ বন্ধে ইউক্রেনের একটি চুক্তিতে সম্মত হওয়া উচিত বলেও জানান তিনি। দুপক্ষের মধ্যে যে অগ্রগতি তৈরি হচ্ছে, ইউরোপ যাতে তাতে বাধা হয়ে না দাঁড়ায় সেই হুশিয়ারিও দিয়েছেন পুতিন।
তবে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি ও ইউরোপীয় নেতাদের ফোন করে এ বিষয়ে জানাবেন বলে দাবি করেছেন ট্রাম্প। দীর্ঘমেয়াদী, মাঝারি বা স্বল্প মেয়াদি ইউক্রেনে কোনো ধরনের যুদ্ধবিরতির চুক্তি ছাড়াই আলাস্কার অ্যাঙ্করেজে এলমেনডর্ফ-রিচার্ডসন সামরিক ঘাঁটি ছেড়েছেন ভ্লাদিমির পুতিন ও ডোনাল্ড ট্রাম্প।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) প্রায় তিন ঘণ্টার বৈঠক শেষে দুই নেতা যৌথ সংবাদ সম্মেলন করলেও কেউই সাংবাদিকদের প্রশ্ন নেননি। ট্রাম্প বলছেন, তার ও পুতিনের মধ্যে কিছু বিষয়ে ‘ব্যাপক অগ্রগতি’ হয়েছে, তবে সেটা কী তার কোনো ইঙ্গিতই দেননি, স্বভাবসুলভভাবে বিশ্বকে এক ধরনের ধন্দে রেখেছেন।
তিনি বলেন, ‘আমরা (সমঝোতায়) পৌঁছাতে পারিনি।’ কিন্তু যে লোক নিজেকে ‘পিসমেকার’, ‘ডিলমেকার’ বলতে ভালোবাসেন, তাকে যে ঝুলিতে শান্তি বা চুক্তি, দুটির কোনোটি নেওয়া ছাড়াই আলাস্কা ছাড়তে হল!
পুতিন হালকা স্বরে ‘পরেরবার মস্কোতে’ বললেও ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কিকে সঙ্গে নিয়ে পরবর্তী একটি শীর্ষ সম্মেলন হচ্ছেই, এমন আভাসও শুক্রবার পাওয়া যায়নি।
আরও পড়ুন: ভারতকে কি চীনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন ট্রাম্প?
অবশ্য আলাস্কার এ বৈঠক থেকে রাশিয়া বা ইউক্রেনের তুলনায় ট্রাম্পের প্রাপ্তির আকাঙ্ক্ষা এমনিতেই ছিল কম। আগেই তিনি বলেছিলেন, বৈঠকটি ব্যর্থ হওয়ার সম্ভাবনা মাত্র ২৫ শতাংশ।
সে বিচারে শেষ পর্যন্ত এটি তার সুনামে চিড় ধরাল বলে মনে করছেন বিবিসির উত্তর আমেরিকা প্রতিনিধি অ্যান্থনি জার্চার। বৈঠকের পর সংবাদ সম্মেলনের শুরুটাও ছিল ‘অন্যরকম’। সংবাদ সম্মেলন শুরুই করেন পুতিন, বেশ খানিকক্ষণ কথা বলেন তিনি; এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্টকে পাশে নীরবে দাঁড়াতে হয়েছে।
ওভাল অফিসে ট্রাম্পের আগের বৈঠকগুলোর ক্ষেত্রে এমনটি দেখা যায়নি। সেখানে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে দেখা যেত কথা দিয়ে অপর নেতাকে ‘ঠেসে ধরতে’, যার ধাক্কায় বিদেশি সেই রাষ্ট্র বা সরকারপ্রধানকে নিরুত্তর চেয়ে থাকতে হতো।
জার্চার বলছেন, আলাস্কা যদিও মার্কিন ভূখণ্ডের অধীনে, তারপরও পুতিন এতটাই স্বচ্ছন্দ ছিলেন যে তাকে মনে হয়েছে—ঘরেরই ছেলে। গত শতকে যুক্তরাষ্ট্রের কাছে বিক্রি করে দেওয়ার আগে এটি যে ‘রাশিয়ান আমেরিকা’ ছিল, তা বলতে এখনও ভালোবাসেন অনেক রুশ কর্মকর্তা।
বিবিসির উত্তর আমেরিকা প্রতিনিধি বলেন, এটা হয়তো সামনের দিনগুলোতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ভেতরে ভেতরে পোড়াবে, এমনকি সংবাদ সম্মেলনও, যা শীর্ষ সম্মেলনকে ব্যর্থ হিসেবেই হাজির করেছে।
তার মতে, এখন সবচেয়ে বড় যে প্রশ্নটা হাজির হবে, শুক্রবার আলাস্কায় যে প্রশ্নটি করতে পারেননি সাংবাদিকরা, সেটি হল— যুদ্ধবিরতি না হওয়ায় সাজা হিসেবে রাশিয়ার ওপর নতুন নিষেধাজ্ঞা আরোপের যে হুমকি ট্রাম্প গত কয়েকদিন ধরে দিয়ে গেছেন, তা কি তিনি বাস্তবায়ন করবেন?
‘আলাস্কা ছেড়ে যাওয়ার আগে ফক্স নিউজের সঙ্গে এক বন্ধুত্বপূর্ণ কথোপকথনে ট্রাম্প এর আংশিক উত্তর দিয়েছেন। বলেছেন, এ ধরনের পদক্ষেপের (নিষেধাজ্ঞা) বিষয়টি তিনি দুই-তিন সপ্তাহের মধ্যে ভাববেন।
‘কিন্তু প্রেসিডেন্টের প্রতিশ্রুতি ছিল ‘গুরুতর পরিণতির’, এখন এ ধরনের অস্পষ্ট উত্তর হয়তো আরও বেশি প্রশ্নের জন্ম দেবে,’ বলেছেন জার্চার।
‘সংবাদ সম্মেলন’ কখন সংবাদ সম্মেলন হয় না? যখন কোনো প্রশ্ন হয় না। প্রেসিডেন্ট পুতিন ও ট্রাম্প যখন কেবল নিজের নিজের কথা বলে, কোনো প্রশ্ন না নিয়েই মঞ্চ ছেড়ে যান, তখন হলরুমের প্রায় সবাই অবাক হয়ে পড়ে বলে জানান বিবিসির রাশিয়া এডিটর স্টিভ রোজেনবার্গ।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে পুতিনকে সময় বেঁধে দিলেন ট্রাম্প
রুশ প্রতিনিধিদলের সদস্যরাও দ্রুতগতিতে কক্ষ ত্যাগ করেন, তাদের দিকে ছুঁড়ে দেওয়া সাংবাদিকদের প্রশ্নের কোনো উত্তর না দিয়েই।
ইউক্রেনে যুদ্ধ নিয়ে পুতিন ও ট্রাম্পের মধ্যে যে এখনও বড় ধরনের মতপার্থক্য রয়েছে, এগুলোকে তার স্পষ্ট লক্ষণ হিসেবে দেখছেন রোজেনবার্গ। তিনি বলেন, রাশিয়ার কাছে যুদ্ধবিরতি চাইলেন ট্রাম্প, ভ্লাদিমির পুতিন দিলেন না।
অথচ দিনের শুরুতে পরিস্থিতি ছিল পুরোপুরি ভিন্ন। অ্যাঙ্করেজের বিমানঘাঁটিতে পুতিনকে লাল গালিচায় স্বাগত জানানো হয়, ট্রাম্প তার অতিথিকে উষ্ণ অভ্যর্থনা জানান। রুশ প্রেসিডেন্টের প্রতি সম্মান জানিয়ে আকাশে উড়ে যায় যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বিমান।
২৬২ দিন আগে
পাকিস্তানের খাইবার পাখতুনখোয়ায় ভয়াবহ বন্যায় নিহত ২২০
পাকিস্তানের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলের খাইবার পাখতুনখোয়া প্রদেশের কয়েকটি জেলায় ভূমিধস ও আকস্মিক বন্যায় ধসে পড়া বাড়িগুলো থেকে আরও ৬৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন উদ্ধারকর্মীরা। শুক্রবার রাতভর উদ্ধার অভিযানের পর চলমান প্রাকৃতিক দুর্যোগে সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ২২০ জনে।
তবে গত ২ জুন থেকে এখন পর্যন্ত সেখানে প্রায় ৫৪১ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে খাইবার পাখতুনখোয়ার প্রাদেশিক দুর্যোগ তত্ত্বাবধান কর্তৃপক্ষ। এই অস্বাভাবিক বৃষ্টিপাতের জন্য জলবায়ু পরিবর্তনকে দায়ী করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
পাকিস্তানের জরুরি সেবা দপ্তরের মুখপাত্র মোহাম্মদ সুহেইল জানিয়েছেন, শুক্রবার প্রবল বর্ষণের ফলে খাইবার পাখতুনখোয়ার বুনার জেলায় বন্যার পানি ভয়াবহ আকার ধারণ করে। এ সময় বহু বাড়িঘর ভেসে গেছে।
বুনার জেলা প্রশাসক কাশিফ কাইয়ুম বলেন, পীর বাবা ও মালিকপুরা গ্রাম দুটি সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। শুক্রবারই এসব গ্রামে সবচেয়ে বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে।
আরও পড়ুন: টানা বর্ষণে পাকিস্তানজুড়ে বন্যা, নিহত বেড়ে ১৮০
পীর বাবা গ্রামের ৫৩ বছর বয়সী মোহাম্মদ খান বলেন, ‘কোথা থেকে হঠাৎ করে বানের পানি চলে আসল, তা আমরা বুঝতেই পারিনি। মানুষ সরে যাওয়ার মতো সুযোগ পায়নি। এত দ্রুত চারদিক পানিতে ভরে যায় যে অনেকে ঘর ছেড়ে বের হতেই পারেনি।’
বুনার সরকারি হাসপাতালের চিকিৎসক মোহাম্মদ তারিক জানান, হাসপাতালে পৌঁছানোর আগেই অনেকের মৃত্যু হয়েছে। তার ভাষ্যে, ‘নিহতদের মধ্যে অনেকই পুরুষ, শিশুও ছিল কিছু। তবে নারীরা ওই সময়র জ্বালানি কাঠ সংগ্রহ ও গবাদিপশু চরাতে পাহাড়ে গিয়েছিলেন বলে রক্ষা পেয়েছেন।’
প্রাদেশিক দুর্যোগ তত্ত্বাবধান কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, চলতি সপ্তাহে শুধু খাইবার পাখতুনখোয়া ও উত্তরাঞ্চলের গিলগিট-বালতিস্তান অঞ্চলে বৃষ্টিজনিত দুর্ঘটনায় অন্তত ৩৫১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ওই অঞ্চল থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার দূরে ভারত নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরেও সাম্প্রতিক বন্যায় অনেক মানুষের মৃত্যু হয়েছে। সেখানেও শত শত মানুষ ঘরবাড়ি হারিয়েছেন।
ভারতের হিমালয় অঞ্চল ও পাকিস্তানের উত্তরাঞ্চলে এ ধরনের মেঘভাঙা বৃষ্টি ক্রমেই বেড়ে চলেছে। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, জলবায়ু পরিবর্তন ফলে এই প্রবণতা আরও তীব্র হয়েছে।
আরও পড়ুন: ভারতে আকস্মিক বন্যায় নিহত চার, নিখোঁজ শতাধিক
পাকিস্তানের সরকারি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার থেকে এখন পর্যন্ত সারা দেশের বন্যাকবলিত এলাকা থেকে সাড়ে ৩ হাজারের বেশি পর্যটককে উদ্ধার করা হয়েছে। সরকার বন্যাকবলিত এলাকা এড়িয়ে চলার ব্যাপারে সতর্ক করলেও সেই সতর্কবার্তা অনেকেই উপেক্ষা করেছেন বলে জানিয়েছেন তারা।
২০২২ সালে পাকিস্তানে ভয়াবহ মৌসুমি বৃষ্টিপাতের ঘটনায় ১ হাজার ৭০০–এর বেশি মানুষের মৃত্যু হয়। সেবার প্রায় ৪০০০ কোটি ডলারের ক্ষয়ক্ষতি হয়েছিল।
২৬২ দিন আগে
রক্ত ও পানি একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না: স্বাধীনতা দিবসে মোদি
পাকিস্তানের সঙ্গে স্বাক্ষরিত সিন্ধু পানিচুক্তি একতরফাভাবে বন্ধ করার পর সেই সিদ্ধান্ত অব্যাহত রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। তিনি বলেছেন, রক্ত ও পানি একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না।
শুক্রবার (১৫ আগস্ট) ভারতের ৭৮তম স্বাধীনতা দিবস উপলক্ষে দিল্লির লালকেল্লায় দেওয়া ভাষণে এ কথা বলেন মোদি।
ভাষণে মোদি ইঙ্গিত দেন, এপ্রিলে কাশ্মীরে হামলার ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় ভারতের পক্ষ থেকে সিন্ধু পানিচুক্তি স্থগিত করার সিদ্ধান্ত অব্যাহত রাখা হবে।
তিনি বলেন, ‘যে সময় আমাদের কৃষকরা পানির অভাবে ভুগেছেন, সে সময় ভারতের নদীগুলোর পানি দিয়ে শত্রু দেশ সেচ দিয়েছে। তবে এখন ভারতের পানিতে কেবল ভারত ও তার কৃষকদেরই অধিকার থাকবে।’
কৃষকদের স্বার্থ ও জাতীয় স্বার্থ নিয়ে আর আপস করা হবে না উল্লেখ করে মোদি বলেন, ‘রক্ত ও পানি একসঙ্গে প্রবাহিত হতে পারে না।’
পাকিস্তানে পানির প্রবাহ আটকানো বা অন্যদিকে সরিয়ে দেওয়ার যেকোনো প্রচেষ্টা তারা ‘যুদ্ধের ঘোষণা’ বলে গণ্য করবে বলে জানিয়েছে ইসলামাবাদ।
আরও পড়ুন: ভারতকে কি চীনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন ট্রাম্প?
এ সময় সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনকারীদের মধ্যে ভারত কোনো পার্থক্য করে না বলে পাকিস্তানকে সতর্ক করেছেন মোদি। তাছাড়া, ভবিষ্যতে পাকিস্তান যদি কখনো ভারতে হামলা চালায় তাহলে তাদের শাস্তির দেওয়ার অঙ্গীকার করেছেন তিনি।
মোদি বলেন, সন্ত্রাসী ও সন্ত্রাসবাদকে সমর্থনকারীদের মধ্যে কোনো পার্থক্য করে না ভারত। তাছাড়া ইসলামাবাদের ‘নিউক্লিয়ার ব্ল্যাকমেইল’ সহ্য করা হবে না।
তিনি বলেন, ‘ভারত সিদ্ধান্ত নিয়েছে, আর কোনো পারমাণবিক হুমকি সহ্য করা হবে না। অনেক দিন ধরে পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইল চলছিল, কিন্তু এখন আর এই ব্ল্যাকমেইল সহ্য করা হবে না।’
তবে আগেও ভারতের পারমাণবিক ব্ল্যাকমেইলের অভিযোগকে উসকানিমূলক ও উত্তেজনাপূর্ণ বলে প্রত্যাখ্যান করেছে ইসলামাবাদ।
২২ এপ্রিল ভারত অধিকৃত কাশ্মীরে হামলা চালিয়ে ২৬ পর্যটককে হত্যা করে সন্ত্রাসীরা। এই হত্যাকাণ্ডের জন্য পাকিস্তানকে দায়ী করে ভারত। এরপর ৬ মে দিবাগত রাতে পাকিস্তানে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় ভারত। পাল্টা হামলা চালায় পাকিস্তানও। এতে গত কয়েক দশকের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ সহিংসতায় জড়ায় প্রতিবেশি দুই দেশ।
এ ছাড়া, শুক্রবারের ভাষণে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কারোপ নিয়ে সরাসরি কোনো মন্তব্য না করলেও তার দেশের কৃষকদের স্বার্থ নিয়ে কোনো আপস না করার কথা জানিয়েছেন তিনি।
নিষেধ সত্ত্বেও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় মোদির ওপর চটেছেন ট্রাম্প। সে কারণেই ভারতের ওপর নেমে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কশাস্তি। দিল্লির ওপর প্রথমে ২৫ শতাংশ, পরে আরও ২৫ শতাংশসহ মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখেও ভারত সাড়া দেয়নি। মোদি উল্টো বলেছেন, ‘ভারত কৃষকদের স্বার্থে কোনো আপস করবে না।’
২৬৩ দিন আগে
নতুন চুক্তি, সিরিয়াকে অস্ত্র সহায়তা দেবে তুরস্ক
সিরিয়ার সঙ্গে নতুন একটি প্রতিরক্ষা চুক্তি করেছে তুরস্ক। এই চুক্তির আওতায় দেশটিকে অস্ত্র, সামরিক সরঞ্জাম ও লজিস্টিক সহায়তা দেবে আঙ্কারা।
বৃহস্পতিবার (১৪ আগস্ট) এ তথ্য জানান তুরস্কের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের কর্মকর্তারা।
এর আগে, সামরিক প্রশিক্ষণ ও পরামর্শ বিষয়ে সহযোগিতার জন্য একটি সমঝোতা স্মারকে সই করেন তুরস্কের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইয়াসের গুলের এবং সিরিয়ার প্রতিরক্ষামন্ত্রী মুরহাফ আবু কাসরা। এর পরপরই এই সহায়তা দেওয়ার বিষয়টি জানানো হয়।
গত মাসে সাম্প্রদায়িক সহিংসতা ও সেই সুযোগে ইসরায়েলের হস্তক্ষেপের পর নিজ দেশের নিরাপত্তা নিশ্চিতে তুরস্কের সহায়তা চেয়েছিল সিরিয়া।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে তুরস্কের এক প্রতিরক্ষা কর্মকর্তা জানান, চুক্তির আওতায় সিরিয়ার সঙ্গে নিজেদের জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা ভাগ করবে আঙ্কারা। সেই সঙ্গে সিরিয়ার সক্ষমতা জোরদারে সামরিক সরঞ্জাম, অস্ত্র ব্যবস্থা ও লজিস্টিক উপকরণ সরবরাহ করে সহায়তা করবে তুরস্ক।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পরও দক্ষিণ সিরিয়ায় সংঘাতে সহস্রাধিক প্রাণহানি
গত ডিসেম্বরে আসাদ সরকারের পতনের পর সিরিয়ায় অন্তর্বর্তীকালীন সরকার সরকার গঠিত হয়। দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকেই দীর্ঘদিন ধরে গৃহযুদ্ধ চলা দেশটি পরিচালনা করতে গিয়ে নানা সমস্যার সম্মুখীন হতে শুরু করে সরকার।
সম্প্রতি দেশটির দক্ষিণ প্রদেশের সোয়েইদাতে একদিকে সরকারি বাহিনীর সঙ্গে বেদুইন জাতিগোষ্ঠীর সংঘর্ষ, অন্যদিকে দ্রুজ সংখ্যালঘুর যোদ্ধাদের সংঘর্ষে শতাধিক মানুষ নিহত হন।
শুরু থেকে সিরিয়ার নতুন প্রশাসনকে সমর্থন করে আসছিল তুরস্ক। এমনকি বুধবার (১৩ আগস্ট) সিরিয়ার স্থিতিশীলতা নষ্ট না করতে ইসরায়েল ও কুর্দি যোদ্ধাদের সতর্ক করেছেন তুরস্কের পররাষ্ট্রমন্ত্রী হাকান ফিদান। পাশাপাশি দশ বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা গৃহযুদ্ধে বিধ্বস্ত দেশটি পুনর্প্রতিষ্ঠা করতে তুরস্কের প্রচেষ্টাকে ব্যাহত করা হচ্ছে বলেও অভিযোগ করেন তিনি।
আঙ্কারায় সিরিয়ার পররাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদ আল-শিবানির সঙ্গে যৌথ সংবাদ সম্মেলনে ফিদান আরও বলেন, মার্চে সিরিয়ার সেনাবাহিনীর সঙ্গে একীভূত হওয়ার কথা থাকলেও মার্কিন মিত্র ও কুর্দি নেতৃত্বাধীন সিরিয়ান ডেমোক্র্যাটিক ফোর্সেস (এসডিএফ) সেই চুক্তির বাস্তবায়নে দীর্ঘসূত্রিতা করছে।
এদিকে, এসডিএফের নিয়ন্ত্রণে থাকা সিরিয়ার উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় শহর হাসাকেতে একটি সম্মেলন আয়োজন করেন সিরিয়ার বিভিন্ন নৃগোষ্ঠী ও ধর্মীয় সম্প্রদায়ের প্রতিনিধিরা। সেখানে ধর্মীয়, সাংস্কৃতিক ও নৃগোষ্ঠীগত বহুমতকে নিশ্চিত করে একটি বিকেন্দ্রীভূত দেশ গঠন করে নতুন সংবিধান প্রণয়ণের আহ্বান জানানো হয়।
তবে এই সম্মেলনের নিন্দা জানিয়েছে দামেস্ক। এমনকি বহুদিন ধরে নির্ধারিত থাকা সত্ত্বেও জুলাইয়ের শেষের দিকে এসডিএফের সঙ্গে প্যারিসে অনুষ্ঠিতব্য বৈঠকও বাতিল করে সিরিয়া সরকার।
২৬৩ দিন আগে
ভারতকে কি চীনের দিকে ঠেলে দিচ্ছেন ট্রাম্প?
সীমান্ত-বিরোধসহ এশিয়ার আধিপত্য নিয়ে চীন-ভারত দ্বন্দ্ব নতুন নয়। দশকের পর দশক ধরে চলে আসা এই দ্বন্দ্ব নিয়ে যুদ্ধের ময়দানেও নেমেছে এই দুই প্রতিদ্বন্দ্বী। এই সময়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্কের উন্নতি করেছে ভারত। বিশেষ করে ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে নরেন্দ্র মোদির সঙ্গে তার বন্ধুত্ব গোটার বিশ্বের নজরে আসে।
চীন দুই দেশেরই অভিন্ন শত্রু হওয়ায় ভারত-যুক্তরাষ্ট্র বন্ধুত্বকে অনেকেই স্বাভাবিক হিসেবে দেখছিল। তবে ট্রাম্পের সাম্প্রতিক শুল্কারোপের সিদ্ধান্তে মোদি-ট্রাম্পের ‘ভালো বন্ধুত্বে’ বাজছে ভাঙনের সুর। যুক্তরাষ্ট্রের চড়া শুল্কের খড়গের নিচে পড়ে চীনের দিকে ঝুঁকছে ভারত। অন্তত নরেন্দ্র মোদির আসন্ন চীন সফর এই সম্ভাবনার প্রদীপ নতুন করে জ্বালানি পেয়েছে। ফলে আন্তর্জাতিক বিষয়াবলীতে আগ্রহী অনেকের মনেই এখন একটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে— তবে কী ট্রাম্পের সঙ্গে বিচ্ছেদ ঘটিয়ে শি জিনপিংয়ের দিকে ঝুঁকছেন মোদি?
নিষেধ সত্ত্বেও রাশিয়ার কাছ থেকে তেল কেনা অব্যাহত রাখায় মোদির ওপর চটেছেন ট্রাম্প। সে কারণেই ভারতের ওপর নেমে এসেছে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কশাস্তি। দিল্লির ওপর প্রথমে ২৫ শতাংশ, পরে আরও ২৫ শতাংশসহ মোট ৫০ শতাংশ শুল্ক আরোপ করেছেন ট্রাম্প।
তবে ট্রাম্পের কাছে নতি স্বীকার করে রাশিয়ার তেল কেনা বন্ধ করা তো দূর, যেদিন ভারতের ওপর অতিরিক্ত শুল্কের হুমকি দিলেন তিনি, সেদিনই জানা গেল চীন সফরে যাচ্ছেন মোদি। শুধু মোদি নন, সাংহাই কো-অপারেশন অর্গানাইজেশনের (এসসিও) শীর্ষ সম্মেলনে অংশ নিতে রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনও যাচ্ছেন চীনে।
সিএনএন বলছে, ভারত-চীন সম্পর্কের টানাপোড়েনের বরফ যদিও আগেই গলতে শুরু করেছিল, তবে ট্রাম্পের এই পদক্ষেপ মূলত সেই প্রক্রিয়ায় গতির সঞ্চার করেছে বলে মত আন্তর্জাতিক সম্পর্ক বিশ্লেষকদের।
ওয়াশিংটনের সঙ্গে এখন খুবই অস্থিতিশীল অবস্থানে রয়েছে নয়াদিল্লি ও বেইজিংয়ের সম্পর্ক। কারণ কৌশলগত অংশীদার হোক কিংবা ভূরাজনৈতিক প্রতিদ্বন্দ্বী, ট্রাম্পের নেতৃত্বাধীন মার্কিন প্রশাসন কার সঙ্গে কেমন আচরণ করবে তা বলা মুশকিল। গত মে মাসেই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম বাণিজ্য প্রতিদ্বন্দ্বী চীনের ওপর ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করেছিলেন ট্রাম্প। অথচ সেটি পরে আবার ৩০ শতাংশে নামিয়ে আনেন তিনি।
আরও পড়ুন: চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও ৯০ দিন বাড়ালেন ট্রাম্প
আবার রাশিয়ার তেল কেনা নিয়ে ভারতের ওপর খড়গহস্ত হলেও চীনের ওপর মোটেও বিমাতাসুলভ আচরণ করতে দেখা যাচ্ছে না ট্রাম্পকে। রাশিয়ার তেল ভারতের চেয়ে অনেক বেশি পরিমাণে কেনে চীন, কিন্তু বেইজিংয়ের ওপর কোনো নিষেধাজ্ঞা বা বাণিজ্য শুল্ক আরোপ করা তো হয়নি-ই, উল্টো চীনের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপসহ অন্যান্য বাণিজ্যনীতি কার্যকর করার দিনক্ষণ আরও ৯০ দিনের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। অথচ একই কারণে চীনকে বাগে রাখতে বহু বছর ধরে যে দেশটিকে বিকল্প শক্তি হিসেবে গড়ে তুলেছিল যুক্তরাষ্ট্র, সেই ভারতকে এবার শাস্তির মুখে দাঁড় করিয়েছেন ট্রাম্প।
এসবের মাঝেই গত সাত বছরের মধ্যে প্রথমবারের মতো চীন সফরে যাচ্ছেন ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি। আগামী ৩১ আগস্ট থেকে ১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত তিয়ানজিন শহরে অনুষ্ঠিতব্য এসসিও সম্মেলনে যোগ দিতে চীন সফর করবেন তিনি। এর আগে, ২০১৮ সালে মোদির সর্বশেষ চীন সফরও ছিল এই সম্মেলনে যোগ দেওয়ার উদ্দেশ্যেই।
২৬৩ দিন আগে
সুইজারল্যান্ড: বেপরোয়া গাড়ি চালিয়ে লাখ ডলার জরিমানার মুখে চালক
সড়কে অতিরিক্ত গতির কারণে সুইজারল্যান্ডে এক অতি ধনী চালককে ৯০ হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক বা ১ লাখ ১০ হাজার ডলার জরিমানা করেছে দেশটির আইনশৃঙ্খলা বাহিনী।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের খবর অনুযায়ী, ওই চালক লোজান শহরের এক রাস্তায় গতিসীমা অতিক্রম করে ২৭ কিলোমিটার (১৭ মাইল) প্রতি ঘণ্টা বেশি গতিতে গাড়ি চালানোর কারণে এই জরিমানার মুখোমুখি হয়েছেন।
কেন এত বড় পরিমাণ জরিমানা?
জানা গেছে, ওই চালক সুইজারল্যান্ডের অন্যতম ধনী ব্যক্তি। তিনি গতিসীমা লঙ্ঘনের এই ধরনের অপরাধ বারবার করে আসছেন। ভৌদ অঞ্চলে ব্যক্তির আয়, সম্পদ ও পরিবারের আর্থিক অবস্থার ওপর ভিত্তি করে জরিমানা নির্ধারিত হয়।
পড়ুন: মিয়ানমারের বন্দিশিবিরগুলোতে নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ
এ অঞ্চলের বর্তমান নিয়ম অনুযায়ী, দারিদ্র্যগ্রস্তরা কেউ এই অপরাধের জন্য জরিমানার বদলে এক রাতের কারাদণ্ড ভোগ করতে হয়, আর অতি ধনী চালকদের ক্ষেত্রে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক থেকে শুরু করে জরিমানা গুণতে হয়। সম্প্রতি এই অঞ্চলের একটি আদালত রায় অনুযায়ী, গতিসীমা লঙ্ঘনকারী ব্যক্তিদের প্রথমে ১০ হাজার সুইস ফ্রাঙ্ক (১২ হাজার ৩০০ ডলার) জরিমানা বহন করতে হবে এবং পরবর্তী তিন বছরে অপরাধের পুনরাবৃত্তি হলে আরও ৮০ হাজার ফ্রাঙ্ক জরিমানা হতে পারে।
সুইজ সংবাদপত্র ‘টুয়েন্টি ফোর হিউয়ারস’ প্রথমে এই ঘটনার প্রতিবেদন প্রকাশ করে। প্রতিবেদনে বলা হয়, ওই চালক একজন ফরাসি নাগরিক, সুইজারল্যান্ডের শীর্ষ ৩০০ ধনী ব্যক্তির মধ্যে অন্যতম এবং তার শত মিলিয়ন ডলারের সম্পদ রয়েছে।
পুলিশের স্বয়ংক্রিয় রাডার চালককে প্রতি ঘণ্টায় ৫০ কিলোমিটার (৩১ মাইল) গতিসীমায় ৭৭ কিমি প্রতি ঘণ্টার গতি রেকর্ড করতে দেখেছে। এরপরই আইন অনুযায়ী সর্বোচ্চ জরিমানা হিসাব করা হয়।
পড়ুন: সেই ‘সুপারম্যান’ এখন মার্কিন অভিবাসন এজেন্ট
ভৌদ অঞ্চলের পাবলিক প্রসিকিউটর অফিসের মুখপাত্র ভিনসেন্ট ডেরৌয়া জানান, অভিযুক্ত ব্যক্তি এই সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আপত্তি জানাননি। ঘটনা ঘটেছে গত বছরের আগস্টে এবং চলতি বছরের জুনে জরিমানার রায় দেওয়া হয়। প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়, ওই চালককে ৮ বছর আগেও একই ধরনের অপরাধের জন্য ১০ হাজার ফ্রাঙ্ক জরিমানা করা হয়েছিল।
সুইজারল্যান্ডে গতিসীমা লঙ্ঘনের জরিমানা সবার জন্যই কঠোর, এমনকি পুলিশের জন্যও। ২০১৬ সালে জেনেভা শহরের এক পুলিশকর্মী চোর ধারার প্রায় দ্বিগুণ গতিতে গাড়ি চালানোর অপরাধে জরিমানা গুণেছিলেন।
২৬৫ দিন আগে
মিয়ানমারের বন্দিশিবিরগুলোতে নির্যাতনের প্রমাণ পেয়েছে জাতিসংঘ
জাতিসংঘ সমর্থিত একটি স্বাধীন তদন্ত দল মিয়ানমারের বিভিন্ন বন্দিশিবিরগুলোতে গত এক বছরে সুনিয়ন্ত্রিত নির্যাতন ও যৌন সহিংসতার ব্যাপক প্রমাণ পেয়েছে। নির্যাতনের ধরনগুলোর মধ্যে রয়েছে বৈদ্যুতিক শক, গলাকাটা, গণধর্ষণ ও যৌনাঙ্গ দাহসহ নানা অবর্ণনীয় বর্বরতা।
মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) আন্তর্জাতিক এই স্বাধীন তদন্ত দলটির সর্বশেষ বার্ষিক প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানান দলের প্রধান নিকোলাস কোউমজিয়ান। প্রতিবেদনে ২০২৫ সালের ৩০ জুন পর্যন্ত অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে।
মিয়ানমার ২০২১ সালের ফেব্রুয়ারিতে অং সান সু চির নির্বাচিত সরকার থেকে সামরিক বাহিনীর ক্ষমতা গ্রহণের পর থেকে গৃহযুদ্ধের কবলে পড়েছে। শান্তিপূর্ণ প্রতিবাদের ওপর নির্মম নিগ্রহের পর সামরিক শাসনের বিরোধীরা অস্ত্র হাতে নিয়েছেন এবং বর্তমানে দেশটির বৃহৎ অংশে সংঘাত অব্যাহত রয়েছে।
তদন্ত দল নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যদের শনাক্তকরণে বেশ অগ্রগতি করেছে। এসব নিরাপত্তা বাহিনীর সদস্যরা বন্দি ক্যাম্পগুলো অভিযান চালিয়ে গ্রেপ্তার যোদ্ধা ও নিরীহ বেসামরিকদের নির্বিচারে হত্যা করেছে। এসব হত্যাকাণ্ডে সামরিক বাহিনী, যুক্ত সশস্ত্র গোষ্ঠী এবং বিরোধী সংগঠনের সদস্যরা জড়িত।
তদন্ত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, মিয়ানমারের আটক কেন্দ্রগুলোতে লাঠি দিয়ে মারধর, চালানো, বৈদ্যুতিক শক দেওয়া, গলাকাটা, গণধর্ষণ, যৌনাঙ্গ দাহসহ অন্যান্য যৌন সহিংসতার ঘটনা নিয়মিত ঘটছে।
নিকোলাস কোউমজিয়ান বলেন, ‘আমাদের প্রতিবেদনে দেখা যাচ্ছে মিয়ানমারে বর্বরতার মাত্রা ও ঘনত্ব বাড়ছে। আমরা প্রত্যাশা করি শীঘ্রই এই অপরাধীদের বিচারের মুখোমুখি হতে হবে। আমরা চোখ দেখা ও অন্যান্য প্রমাণ সংগ্রহ করেছি, যা মিয়ানমারের বন্দি ক্যাম্পগুলোতে নির্যাতনের প্রমাণে যথেষ্ট।’
পড়ুন: তহবিল সংকটে বর্ষায় স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা ঝুঁকিতে রোহিঙ্গারা: জাতিসংঘ
তদন্ত দল দেশটির রাখাইন রাজ্যের সংঘর্ষ ও নির্যাতনের বিষয়ে নতুন অনুসন্ধান শুরু করেছে, যেখানে বর্তমানে মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী ও বিরোধী আরাকান আর্মির মধ্যে লড়াই চলছে।
২০১৭ সালে প্রায় ৭ লাখ রোহিঙ্গা নিপীড়ন থেকে বাঁচতে বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছিল। গত বছর রাখাইনের সংঘর্ষ বৃদ্ধির কারণে আরও প্রায় ৭০ হাজার রোহিঙ্গা বাংলাদেশে আশ্রয় নিয়েছে।
২০১৮ সালে জাতিসংঘ মানবাধিকার পরিষদের অধীনে প্রতিষ্ঠিত ‘মিয়ানমার স্বাধীন অনুসন্ধান যন্ত্র’ মানবাধিকার লঙ্ঘনের তথ্য সংগ্রহ ও সংরক্ষণ করে আসছে। এই দল আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালত ও জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক আদালতে রোহিঙ্গা সংক্রান্ত মামলার প্রমাণাদি সরবরাহ করেছে।
২৬৬ দিন আগে
রাশিয়াকে ভুখণ্ড দিয়ে দেওয়ার ইঙ্গিত, ট্রাম্পের কূটনীতিতে পূর্ব ইউক্রেনে আতঙ্ক
ইউক্রেনে চলমান যুদ্ধ বন্ধে মধ্যস্থতা করছে যুক্তরাষ্ট্র। এরই মধ্যে যেকোনো চুক্তিতে যেতে উভয় পক্ষকেই কিছু ভূখণ্ড ছাড়তে হতে পারে ইঙ্গিত দিয়েছে ওয়াশিংটন। এতে করে এক অজানা ভয় জেঁকে বসেছে ইউক্রেনীয়দের মনে।
আগামী শুক্রবার (১৫ আগস্ট) আলাস্কা সম্মেলনে ইউক্রেন ভূখণ্ড নিয়ে সম্ভাব্য চুক্তির আলাপ কী পরিণতি নিয়ে আসবে, সেই শঙ্কায় দিন কাটছে পূর্ব ইউক্রেনের যুদ্ধবিধ্বস্ত এলাকার বাসিন্দাদের।
তেমনই একটি স্থান স্লোভিয়ানস্ক। ছোট্ট লবণাক্ত হ্রদের তীরে অবস্থিত এই শহরটি ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলের দোনেৎস্ক অঞ্চলে অবস্থিত।
স্লোভিয়ানস্ক থেকে মাত্র কয়েক মাইল দূরেই রাশিয়া-ইউক্রেনের সম্মুখ যুদ্ধ চলছে। তা সত্ত্বেও এই জায়গাটুকু যুদ্ধের ভয়াহতা থেকে কিছুটা শান্তি এনে দেয়। তবে আলাস্কায় আদৌ কোনো চুক্তি হবে কিনা, হলেওে তার কার্যকারিতা নিয়ে সন্দিহান স্থানীয় বাসিন্দারা।
লবণাক্ত হ্রদে নামতে নামতে স্থানীয় সাংবাদিক মিখাইলো সিএনএনকে বলেন, ‘মনে হয় আমি যেন এই বাস্তবতা থেকে ভেসে দূরে চলে যাচ্ছি!’
তবে এই শান্ত সৈকতও তার মনে একটি আতঙ্ক জন্ম দিয়েছে। কারণ ডনবাসের যেসব এলাকা এখনো রাশিয়া নিয়ন্ত্রণে নিতে পারেনি, সেসব এলাকার বিনিময়ে যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফের কাছে যুদ্ধবিরতির প্রস্তাব দিয়েছে ক্রেমলিন। এতে স্লোভিয়ানস্কসহ আশপাশের কয়েকটি এলাকা হুট করেই মস্কোর ভুখণ্ডে পরিণত হতে পারে।
মিখাইলো বলেন, ‘আমরা অনেক বন্ধুই এখানেই থাকতে চান, তবে আমাদের হয়তো এই জায়গাটি ছাড়তে হবে।’ তাই ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে তড়িঘড়ি করে যে চুক্তি করতে চাইছেন ট্রাম্প, আপাত দৃষ্টিতে তা রাশিয়ার জন্য লাভজনক বলে মনে হলেও স্থানীয়দের মতামতের কারণে পরিস্থিতি জটিল হয়ে যেতে পারে। এতে চুক্তিটির বাস্তবায়ন ব্যর্থ হতে পারে বলে মনে করেন মিখাইলো।
আরও পড়ুন: ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে পুতিনকে সময় বেঁধে দিলেন ট্রাম্প
ট্রাম্পের প্রতি হতাশা নিয়ে এই যুবক আরও বলেন, একের পর পর এক ইউক্রেনীয় যে প্রাণ হারাচ্ছেন তা নিয়ে ট্রাম্পের কোনো মাথা ব্যাথা নেই। বরং তিনি কাঁদামাটি থেকে রুশ প্রেসিডেন্টকে টেনে তুলে বলছেন, ‘পুতিন আমি তোমার সঙ্গে কথা বলতে চাই। আমি তোমাকে পছন্দ করি।’
দুই বছর আগে ল্যান্ডমাইনে পা দেওয়ায় আহত ল্যুডমিলারের শারীরিক কষ্ট কিছুটা হলেও লাঘব করে এই লবণাক্ত হ্রদ। তিনি বলেন, ‘তারা যে এসব কূটনীতির কথা বলে, সবই আসলে লোক দেখানো। তারা চিন্তা করে এক, বলে আরেক, আর করে অন্যকিছু। রাজনীতি সবসময়ই এমন।’
আলাস্কা সম্মেলনে দোনেৎস্ক অঞ্চল নিয়ে যে প্রস্তাব দেওয়া দেওয়া হয়েছে, তা পুরোপুরি বিভ্রান্তিকর আখ্যা দিয়ে সঙ্গে সঙ্গেই প্রত্যাখ্যান করেছে কিয়েভ। সেই সঙ্গে এই চুক্তির খবর যুদ্ধবিধ্বস্ত মানুষের জীবনকে আরও অনিশ্চয়তার দিকে ঠেলে দিয়েছে।
২৬৬ দিন আগে
চীনের সঙ্গে বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি আরও ৯০ দিন বাড়ালেন ট্রাম্প
চীনের ওপর পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপসহ অন্যান্য বাণিজ্যনীতি কার্যকর করার দিনক্ষণ আরও ৯০ দিনের জন্য পিছিয়ে দিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। পক্ষান্তরে একই ধরনের সিদ্ধান্তের কথা জানিয়েছে চীনও। এতে করে বিশ্বের বৃহত্তম দুই অর্থনীতির মধ্যে চলমান বাণিজ্যযুদ্ধ কিছুদিনের জন্য হলেও বিরতি পেয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১১ আগস্ট) ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে এ তথ্য জানান ট্রাম্প।
পোস্টে তিনি জানান, বাণিজ্য যুদ্ধবিরতি ৯০ দিন বাড়িয়ে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেছেন তিনি। তবে এটি ছাড়া চুক্তির অন্যান্য বিষয় অপরিবর্তিত রয়েছে।
বেইজিং থেকেও বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির সময় বাড়ানোর বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।
এর ফলে চীনা পণ্যে যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত ৩০ শতাংশ শুল্কই বহাল থাকছে। মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) বাণিজ্য যুদ্ধবিরতির আগের সময়সীমা শেষ হওয়ার কথা ছিল। তবে তার আগেই সময় বাড়িয়ে নতুন নির্বাহী আদেশে সই করলেন ট্রাম্প। ফলে যুক্তরাষ্ট্র-চীনের মধ্যে পাল্টাপাল্টি শুল্কারোপের পরিস্থিতি আপাতত হচ্ছে না।
এই সময়ের মধ্যে দুই দেশই নিজেদের মধ্যকার মতপার্থক্যের বিষয়গুলো নিয়ে আলোচনার সুযোগ পেল। এর মাধ্যমে এ বছরের শেষের দিকে ট্রাম্প ও শি জিনপিংয়ের মধ্যে এক শীর্ষ বৈঠকের পথও সুগম হতে পারে বলে ধারণা করছেন বিশ্লেষকদের অনেকে।
এদিকে, নতুন এই সিদ্ধান্তে স্বস্তি প্রকাশ করেছেন দুই দেশের মধ্যে ব্যবসায় পরিচালনাকারী বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান।
চীন-যুক্তরাষ্ট্র ব্যবসায় কাউন্সিলের প্রেসিডেন্ট শন স্টেইন বলেছেন, এই সময়সীমা বৃদ্ধি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। কারণ এতে দুই দেশের সরকার একটি বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনা করার সময় পাবে।
দেশদুটির মধ্যে চুক্তি হলে তা চীনা বাজারে যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ীদের আশানুরূপ প্রবেশাধিকার বাড়াবে। সেইসঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোকে মধ্য ও দীর্ঘমেয়াদি পরিকল্পনা করার জন্য প্রয়োজনীয় নিশ্চয়তা দেবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
আরও পড়ুন: সবে তো শুরু, আরও দেখতে পাবেন: শুল্কারোপ নিয়ে ট্রাম্প
ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে হোয়াইট হাউসে ফেরার পরই চীনের ওপর যুক্তরাষ্ট্রের শুল্কের খড়গ নেমে আসে। এর জবাবে চীনও পাল্টা শুল্ক আরোপ করে। বিশেষত চীনের কাছে বিরল খনিজ ও চুম্বক থাকায় তারা একে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করেছে।
চলতি বছরের মে মাসে চীনা পণ্যে ১৪৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্কারোপ করেন ট্রাম্প। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের পণ্যে ১২৫ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপ করে চীন।
দীর্ঘমেয়াদে এই শুল্ক সংঘাত কোনো দেশের জন্যই সুখকর হতো না বলে সতর্ক করে আসছিলেন বিশেষজ্ঞরা। এরপর মে মাসে জেনেভায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে শুল্ক কমিয়ে আনতে সম্মত হয় দুই দেশ। তাতে চীনা পণ্যে শুল্কহার কমিয়ে ৩০ শতাংশ নির্ধারণ করে যুক্তরাষ্ট্র, আর ১০ শতাংশে নামিয়ে আনে চীন।
পরে জুন মাসে উত্তেজনা প্রশমনে একটি চুক্তিতে পৌঁছায় চীন ও যুক্তরাষ্ট্র। ওই সময় কম্পিউটার চিপ প্রযুক্তি ও পেট্রোকেমিক্যাল উৎপাদনে ব্যবহৃত ইথেনের ওপর রপ্তানি নিষেধাজ্ঞা শিথিলের ঘোষণা দেয় ওয়াশিংটন। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর জন্য বিরল খনিজ পাওয়ার পথ সহজ করতে রাজি হয় বেইজিং।
তবে ওয়াশিংটন ও বেইজিং বড় কোনো সমঝোতায় পৌঁছাতে পারবে কি না, তা এখনো অনিশ্চিত। বিভিন্ন বিষয়ে দেশদুটির মধ্যে মতপার্থক্য রয়েই গেছে।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদন না করলে কম্পিউটার চিপে ১০০ শতাংশ শুল্ক আরোপের হুমকি ট্রাম্পের
আর্নল্ড অ্যান্ড পোর্টারের জ্যেষ্ঠ পর্ষদ ও যুক্তরাষ্ট্রেও চীন-বিষয়ক সাবেক মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধির সহকারী ক্লেয়ার রিড বলেন, দেশদুটির মধ্যে সীমিত আকারে একটি চুক্তি হতে পারে। যেমন চীন বলবে যে তারা আরও বেশি আমেরিকান সয়াবিন কিনবে, ফেন্টানিল তৈরিতে ব্যবহৃত রাসায়নিক প্রবাহ বন্ধে আরও পদক্ষেপ নেবে এবং বিরল খনিজ চুম্বকের প্রবাহ অব্যাহত রাখবে।
তবে কঠিন বিষয়গুলো থেকে যাবে এবং বাণিজ্যযুদ্ধ আগামী বহু বছর ধরে ধীরে ধীরে চলতে থাকবে বলে মন্তব্য করেছেন সাবেক মার্কিন কূটনীতিক ও বাণিজ্য কর্মকর্তা এবং বর্তমানে ‘চায়না মুন স্ট্র্যাটেজিস’ পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের প্রধান জেফ মুন।
২৬৬ দিন আগে
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আল-জাজিরার ৫ সাংবাদিক নিহত
গাজায় চলমান ইসরায়েলি হামলায় কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার পাঁচজন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রোববার (১০ আগস্ট) গাজা উপত্যকার আল-শিফা হাসপাতালের বাইরে একটি তাঁবুতে হামলা চালালে তারা নিহত হন।
আলনজাজিরার বরাত দিয়ে বিবিসি জানিয়েছে, নিহত সাংবাদিকরা হলেন— সংবাদদাতা আনাস আল-শরিফ ও মোহাম্মেদ কুরেইকেহ, ক্যামেরাম্যান ইব্রাহিম জাহের, মোহাম্মেদ নৌফাল এবং মোয়ামেন আলিয়া। এ হামলায় পাঁচ সাংবাদিকসহ মোট সাতজন নিহত হয়েছেন বলে জানানো হয়েছে।
হামলার সময় তারা হাসপাতালের মূল গেইটের কাছে সাংবাদিকদের জন্য তৈরি করা একটি তাঁবুতে অবস্থান করছিলেন বলে আল-জাজিরার খবরে বলা হয়েছে।
এক বিবৃতিতে এ হামলার তীব্র নিন্দা জানিয়েছে আল জাজিরা। এতে বলা হয়েছে, এই পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ডটি ছিলো প্রেস ফ্রিডমের ওপর আরেকটি স্পষ্ট ও পূর্বপরিকল্পিত হামলা।
এই হামলার কিছুক্ষণ পরে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে, সাংবাদিক আনাস আল-শরিফকে লক্ষ্য করে তারা হামলা চালিয়েছে। ওই সাংবাদিক হামাসের সন্ত্রাসী সেলের প্রধান হয়ে কাজ করতেন বলে দাবি করেছে তারা। এমনকি তিনি ইসরায়েলি বেসামরিক নাগরিক ও সেনাদের ওপর রকেট হামলা চালিয়েছেন বলে অভিযোগ করা হয়।
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি হামলায় আইআরজিসি গোয়েন্দা প্রধান ও দুই জেনারেল নিহত
এদিকে সাংবাদিকদের ওপরে হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়ে সাংবাদিক সুরক্ষা কমিটি (সিপিজে) বলেছে, আল-শরীফের বিরুদ্ধে আনা অভিযোগের পক্ষে প্রমাণ দিতে ব্যর্থ হয়েছে ইসরায়েল।
সিপিজের প্রধান নির্বাহী জোডি গিন্সবার্গ বিবিসিকে বলেন, ইসরোয়েলের বহু পুরনো কৌশল এটি। যখনই তারা কোনো সাংবাদিককে হত্যা করে, এরপর দাবি তোলে ওই সাংবাদিক সন্ত্রাসী ছিলেন। যদিও এসব দাবির পক্ষে খুব কমই প্রমাণ হাজির করে তারা।
আল-জাজিরার ব্যবস্থাপনা সম্পাদক মোহাম্মদ মোয়াওয়াদ বলেন, আল-শরীফ একজন সুপরিচিত সাংবাদিক ছিলেন। গাজা উপত্যকায় যা ঘটছে, তা বিশ্ববাসীর জানার জন্য একমাত্র কণ্ঠস্বর ছিলেন তিনি।
যুদ্ধ চলাকালীন সময়ে আন্তর্জাতিক সাংবাদিকদের গাজায় প্রবেশ করে স্বাধীনভাবে সংবাদ সংগ্রহের অনুমতি দেয়নি ইসরায়েল। ফলে অনেক গণমাধ্যমই স্থানীয় সাংবাদিকদের ওপর নির্ভর করতে বাধ্য হয়েছে।
মোয়াওয়াদ জানান, তারা তাদের তাঁবুতেই হামলার লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছেন। তারা যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কাভার করছিলেন না।
তিনি আরও বলেন, বাস্তবতা হলো গাজার ভেতর থেকে যে কোনো চ্যানেলের সংবাদ পরিবেশন বন্ধ করে দিতে চায় ইসরায়েলি সরকার।
নিহত হওয়ার কিছুক্ষণ আগে এক্সে (সাবেক টুইটার) আল-শরীফ লিখেছেন, গাজা নগরীর পূর্ব ও দক্ষিণ অংশে তীব্র বোমাবর্ষণ শুরু করেছে ইসরায়েল। তার শেষ ভিডিওতে ইসরায়েলের ভয়াবহ ক্ষেপণাস্ত্র হামলার তীব্র বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়। এতে অন্ধকার আকাশ মুহূর্তের জন্য কমলা আলোয় আলোকিত হয়ে ওঠে।
বিবিসির যাচাই করে নিশ্চিত করা হামলার পরের দুটি ভয়াবহ ভিডিওতে দেখা যায়, নিহতদের মরদেহ বহন করছেন কয়েকজন।
কারও কারও মুখে শোনা যায় কুরেইকেহ-এর নাম। আর একজন মিডিয়া ভেস্ট পরা ব্যক্তি বলেন, মৃতদেহগুলোর একটি আল-শরীফের।
আরও পড়ুন: শাসক পরিবর্তনে গাজার পূর্ণ নিয়ন্ত্রণ নিতে চায় ইসরায়েল: নেতানিয়াহু
এর আগেও গাজায় আল-জাজিরার সাংবাদিকদের লক্ষ্যবস্তু করে হত্যা করেছে ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)। পরে তারার হামাসের সঙ্গে সম্পৃক্ত বলে দাবি করেছেন। গত বছরের আগস্টে নিজ গাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত হয়েছিলেন সাংবাদিক আল গোল।
সিপিজের তথ্যমতে, ২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে গাজায় ইসরায়েলের সামরিক অভিযান শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত ১৮৬ জন সাংবাদিক নিহত হয়েছেন। গত মাসে গাজায় কর্মরত সাংবাদিকদের ব্যাপারে চরম উদ্বেগ প্রকাশ করে যৌথ বিবৃতি দেয় বিবিসি, রয়টার্স, এপি ও এএফপি।
২৬৭ দিন আগে