বিশ্ব
ইরান যুদ্ধের প্রভাবে অপরিশোধিত তেলের দাম আকাশচুম্বী
ইসারয়েল-যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলার পর ইরানের পাল্টা হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে যে যুদ্ধ পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়েছে, তার ফলে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদন ও পরিবহন ব্যাহত হওয়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। আর এতে করে বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বাড়ছে লাগামহীনভাবে।
সোমবার (৯ মার্চ) বিশ্ববাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম এক ধাক্কায় ব্যারেলপ্রতি প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছে গেছে। এতে বৈশ্বিক আর্থিক বাজারেও বড় ধাক্কা লেগেছে।
আন্তর্জাতিক মানদণ্ড ব্রেন্ট ক্রুডের দাম দিনের শুরুতে ব্যারেলপ্রতি ১১৯ দশমিক ৫০ ডলারে উঠে যায়। পরে অবশ্য তা কমে দাঁড়ায় ১০৭ দশমিক ৮০ ডলারে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হালকা ও স্বল্প সালফারযুক্ত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট (ডব্লিউটিআই) ব্যারেলপ্রতি ১১৯ দশমিক ৪৮ ডলারে উঠলেও পরে কমে ১০৩ ডলারে নেমে আসে।
যুদ্ধের প্রভাব পড়ছে বেসামরিক স্থাপনাতেও। বাহরাইন অভিযোগ করেছে, ইরান তাদের একটি লবণমুক্তকরণ (ডিস্যালিনেশন) প্ল্যান্টে হামলা চালিয়েছে, যা পানীয় জল সরবরাহে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। অন্যদিকে, ইসরায়েলের রাতভর হামলার পর তেহরানের তেলের ডিপোগুলোতে আগুন জ্বলতে দেখা গেছে।
যুদ্ধ দ্বিতীয় সপ্তাহে গড়ানোর সঙ্গে সঙ্গে পারস্য উপসাগর থেকে তেল ও গ্যাস উৎপাদন এবং পরিবহনের গুরুত্বপূর্ণ অঞ্চলগুলো এতে জড়িয়ে পড়ায় তেলের দাম দ্রুত বেড়ে যাচ্ছে।
তবে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ‘ফাইন্যান্সিয়াল টাইমস’-এর এক প্রতিবেদনে বলা হয়, শিল্পোন্নত সাত দেশের জোট জি–৭-এর কিছু সদস্য বাজারের চাপ কমাতে কৌশলগত তেলের মজুদ ছাড়ার বিষয়টি বিবেচনা করছে। আলোচনার সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন ব্যক্তির বরাত দিয়ে এ খবর প্রকাশিত হলেও এখনও অবশ্য তা নিশ্চিত নয়। তবে খবরটি প্রকাশের পর তেলের দাম কিছুটা কমে আসে।
শনিবার যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দেশটির কৌশলগত তেল মজুদ ব্যবহার করার সম্ভাবনাকে গুরুত্ব না দিয়ে বলেন, যুক্তরাষ্ট্রে পর্যাপ্ত জ্বালানি রয়েছে এবং শিগগিরই দাম কমে আসবে।
স্বাধীন গবেষণা প্রতিষ্ঠান রিস্টাড এনার্জির তথ্য অনুযায়ী, হরমুজ প্রণালি দিয়ে প্রতিদিন প্রায় দেড় কোটি ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিবাহিত হয়, যা বিশ্বে সরবরাহ হওয়া মোট তেলের প্রায় ২০ শতাংশ।
ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার আশঙ্কায় কার্যত ওই প্রণালি দিয়ে তেলবাহী ট্যাংকার চলাচল বন্ধ হয়ে গেছে। ইরানের উত্তরে অবস্থিত এই প্রণালি দিয়ে সৌদি আরব, কুয়েত, ইরাক, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ইরানের তেল ও গ্যাস পরিবহন করা হয়।
এদিকে, রপ্তানির সুযোগ কমে যাওয়ায় তেল উৎপাদক দেশগুলোর মজুদ ট্যাংক দ্রুত পূর্ণ হয়ে যাচ্ছে। ফলে ইরাক, কুয়েত ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের মতো দেশ তেল উৎপাদন কমিয়ে দিয়েছে। যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর ইরান, ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রও তেল ও গ্যাস স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে, যা সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ আরও বাড়িয়েছে।
তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের দাম বাড়ায় জ্বালানির মূল্যও বাড়ছে, যার প্রভাব ছড়িয়ে পড়ছে অন্যান্য শিল্পে। বিশেষ করে মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি আমদানির ওপর নির্ভরশীল হওয়ায় এশিয়ার দেশগুলো এতে বেশি ঝুঁকির মুখে পড়েছে।
এর আগে, সর্বশেষ ২০২২ সালে রাশিয়া ইউক্রেনে আগ্রাসন চালানোর পর ব্রেন্ট ও মার্কিন ক্রুড তেলের দাম এ ধরনের উচ্চতায় উঠেছিল।
জ্বালানির উচ্চমূল্য সাধারণত মূল্যস্ফীতি বাড়ায়, যা পরিবার-পর্যায়ে বাজেটের ওপর চাপ ফেলে। এতে করে ভোক্তা খরচ কমিয়ে দেয়, আর এর ফলে দেশের অর্থনীতিতের বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়ে।
সোমবার টোকিওর প্রধান শেয়ার সূচক নিক্কেই–২২৫ সূচক ৫ দশমিক ২ শতাংশ কমেছে। অন্য বাজারগুলোরও অবস্থাও ছিল দুর্বল। যুক্তরাষ্ট্রের ফিউচার বাজারও ১ দশমিক ৫ শতাংশের বেশি নিচে নেমে যায়।
শুক্রবার এসঅ্যান্ডপি ৫০০ সূচক ১ দশমিক ৩ শতাংশ কমে যায় এবং ডাও জোন্স সূচক একপর্যায়ে ৯৪৫ পয়েন্ট পর্যন্ত পড়ার পর প্রায় ৪৫০ পয়েন্ট কমে লেনদেন শেষ হয়। নাসডাক কম্পোজিট সূচক কমে ১ দশমিক ৬ শতাংশ।
যুক্তরাষ্ট্রে নিয়মিত গ্যাসোলিনের দাম রবিবার গ্যালনপ্রতি ৩ দশমিক ৪৫ ডলারে পৌঁছেছে, যা এক সপ্তাহ আগের তুলনায় প্রায় ৪৭ সেন্ট বেশি বলে জানিয়েছে এএএ মোটর ক্লাব। একই সময়ে ডিজেলের দাম ছিল গ্যালনপ্রতি প্রায় ৪ দশমিক ৬০ ডলার, যা এক সপ্তাহে প্রায় ৮৩ সেন্ট বেড়েছে।
মার্কিন জ্বালানি সচিব ক্রিস রাইট সিএনএনের ‘স্টেট অব দ্য ইউনিয়ন’ অনুষ্ঠানে বলেন, খুব বেশি সময় লাগবে না, গ্যাসোলিনের দাম আবার গ্যালনপ্রতি ৩ ডলারের নিচে নেমে আসবে।
তিনি বলেন, ‘নির্দিষ্ট করে সময়ের হিসাব বলা কঠিন, তবে সবচেয়ে খারাপ পরিস্থিতিতেও এটি কয়েক সপ্তাহের ব্যাপার মাত্র; কয়েক মাসের নয়।’
তবে বিশ্লেষক ও বিনিয়োগকারীদের মতে, তেলের দাম যদি দীর্ঘ সময় ব্যারেলপ্রতি ১০০ ডলারের ওপরে থাকে, তাহলে তা বৈশ্বিক অর্থনীতির জন্য বড় চাপ হয়ে দাঁড়াতে পারে।
অন্যদিকে, ইরানি কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, রবিবার ভোরে তেহরানের তেল ডিপো ও একটি পেট্রোলিয়াম স্থানান্তর টার্মিনালে ইসরায়েলের হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন। ইসরায়েলের সামরিক বাহিনীর দাবি, ওই ডিপোগুলো ইরানের সেনাবাহিনী ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহার করছিল।
ইরানের পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধের প্রভাব তেল শিল্পে আরও বিস্তৃত হতে পারে।
বর্তমানে ইরান প্রতিদিন প্রায় ১৬ লাখ ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যার বেশিরভাগই চীনে যায়। যুদ্ধের কারণে এ রপ্তানি ব্যাহত হলে চীনকে অন্য উৎস থেকে তেল সংগ্রহ করতে হতে পারে, যা বৈশ্বিক বাজারে জ্বালানির দাম আরও বাড়িয়ে দিতে পারে।
তেলের মতো না হলেও যুদ্ধের মধ্যে প্রাকৃতিক গ্যাসের দামও বেড়েছে। রবিবার রাত পর্যন্ত প্রতি ১ হাজার ঘনফুট গ্যাসের দাম ছিল প্রায় ৩ দশমিক ৩৩ ডলার, যা শুক্রবারের সমাপনী দামের (৩ দশমিক ১৯ ডলার) তুলনায় ৪ দশমিক ৬ শতাংশ বেশি। গত সপ্তাহে এ দাম প্রায় ১১ শতাংশ বেড়েছিল।
১৪৭ দিন আগে
মোজতবা খামেনিই হলেন ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির মৃত্যুর ঠিক এক সপ্তাহ পর তারই ছেলে মোজতবা খামেনিকে তাদের নতুন সর্বোচ্চ নেতা হিসেবে মনোনীত করেছে ইরান।
মোজতবা খামেনিকে এখন ইসলামি প্রজাতন্ত্রের ৪৭ বছরের ইতিহাসের সবচেয়ে বড় সংকটের মধ্য দিয়ে দেশ পরিচালনার দায়িত্ব পালন করতে হবে।
স্থানীয় সময় রবিবার (৮ মার্চ) ৫৬ বছর বয়সী মোজতবাকে ধর্মীয় নেতারা তার বাবার উত্তরসূরি হিসেবে ঘোষণা করেন। ইরানের প্রভাবশালী ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এবং সশস্ত্র বাহিনীর শীর্ষ নেতারা নতুন নেতার নাম ঘোষণার পরপরই তার প্রতি আনুগত্য ও সমর্থন ব্যক্ত করেছেন।
যুদ্ধ শুরুর পর থেকেই ইরানের নিরাপত্তা কৌশল পরিচালনার দায়িত্বে থাকা সুপ্রিম ন্যাশনাল সিকিউরিটি কাউন্সিলের সচিব আলি লারিজানি নতুন সর্বোচ্চ নেতার নেতৃত্বে সবাইকে ঐক্যবদ্ধ হওয়ার আহ্বান জানিয়ে আসছেন।
পার্লামেন্ট স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ এ সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, নতুন সর্বোচ্চ নেতাকে অনুসরণ করা একটি ধর্মীয় ও জাতীয় দায়িত্ব।
মোজতবা খামেনি কখনও কোনো নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেননি বা জনগণের সরাসরি ভোটে নির্বাচিত হননি। তবে গত কয়েক দশক ধরে তিনি তার বাবার ঘনিষ্ঠ বৃত্তে অত্যন্ত প্রভাবশালী ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত ছিলেন এবং আইআরজিসির সঙ্গে গভীর সম্পর্ক গড়ে তুলেছেন।
বিশ্লেষকদের মতে, মোজতবাকে বেছে নেওয়ার মাধ্যমে এটি স্পষ্ট যে ইরানের শাসনব্যবস্থায় কট্টরপন্থি অংশটিই ক্ষমতা ধরে রেখেছে।
আল জাজিরার প্রতিবেদক আলি হাশেম মোজতবাকে তার বাবার দ্বাররক্ষক হিসেবে বর্ণনা করে বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইস্যুতে তিনি তার বাবার অবস্থানই বজায় রাখেন। তাই আমরা একজন আপসহীন নেতাকেই প্রত্যাশা করছি, কোনো নমনীয়তা নয়।
তিনি বলেন, যদি এই যুদ্ধ শেষ হয় এবং তিনি তখনও বেঁচে থাকেন এবং তিনি দেশ পরিচালনা চালিয়ে যেতে সক্ষম হন, তাহলে ইরানের জন্য নতুন পথ খুঁজে বের করার বিশাল সম্ভাবনা থাকবে।
আমেরিকান ইউনিভার্সিটি অব বৈরুতের পাবলিক পলিসি ফেলো রামি খুরি বলেন, মোজতবার নিয়োগ ইরানের অবিচ্ছিন্নতা নির্দেশ করছে, তবে নতুন নেতা যুদ্ধ শেষ করার জন্য আলোচনার চেষ্টা করেন কি না সেটি দেখার বিষয়।
তিনি বলেন, যেকোনো দিকেই দেখ, এটি প্রতিরোধের একটি পদক্ষেপ। ইরান মূলত যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলকে বলছে, ‘তোমরা আমাদের ব্যবস্থা ধ্বংস করতে চেয়েছিলে? দেখ, যাকে হত্যা করেছ, তার চেয়েও কট্টর একজনকে আমরা নেতা বানিয়েছি।’
সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচনকারী অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টসের সদস্য হায়দারি আলেকাসির বলেন, প্রয়াত খামেনির পরামর্শ ছিল, ইরানের শীর্ষ নেতা এমন হওয়া উচিত যাকে শত্রু ঘৃণা করবে। তিনি মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের আগের একটি বক্তব্যের সূত্র ধরে বলেন, এমনকি ‘মহা শয়তান’ (যুক্তরাষ্ট্র) তার নাম উল্লেখ করেছে (যেখানে ট্রাম্প বলেছিলেন মোজতবা তার কাছে গ্রহণযোগ্য নন)।
এদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প রবিবার আবারও ইরানের অভ্যন্তরীণ বিষয়ে প্রভাব খাটানোর চেষ্টা করে বলেছেন, ওয়াশিংটনের অনুমোদন ছাড়া ইরানের পরবর্তী নেতা বেশিদিন টিকবে না।
তবে ইরানের কর্মকর্তারা এই হস্তক্ষেপকে প্রত্যাখ্যান করে বলেছেন, শুধুমাত্র ইরানিরা তাদের দেশের ভবিষ্যৎ নির্ধারণ করতে পারবেন।
ট্রাম্পের এই অবস্থান মোজতবাকে মনোনীত করার সিদ্ধান্তে আরও ক্ষোভ তৈরি করবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
‘এপস্টাইন গ্যাং’ নেতা নির্ধারণ করবে না
৮৮ সদস্যের অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস রবিবার জানায়, আমেরিকা ও ইহুদিবাদী শাসকগোষ্ঠীর নৃশংস আগ্রাসন সত্ত্বেও তারা নতুন নেতা নির্বাচনে এক মুহূর্তও দ্বিধা করেনি। তারা জানায়, ইমাম খোমেনি ও শহিদ খামেনির পথই বেছে নেওয়া হয়েছে এবং মোজতবা খামেনির নাম অব্যাহত থাকবে।
এর আগে, গত শুক্রবার ইরানের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ ট্রাম্পের দাবির পাল্টা সমালোচনা করে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে লিখেছেন, ইরানের ভাগ্য কেবল গর্বিত ইরানি জাতি নির্ধারণ করবে, এপস্টাইন গ্যাং নয়। ( জেফরি এপস্টাইন ছিলেন একজন দণ্ডিত যৌন অপরাধী, যার সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতাধর ব্যক্তিদের সম্পর্ক ছিল)।
মোজতবা খামেনি কুম শহরের রক্ষণশীল ধর্মগুরুদের তত্ত্বাবধানে পড়াশোনা করেছেন এবং হুজ্জাতুল ইসলাম (মধ্যম পর্যায়ের ধর্মগুরু) মর্যাদা অর্জন করেছেন।
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের নেতৃত্বদানকারী আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনির স্থলাভিষিক্ত হয়ে ৩৭ বছর ধরে ইরানের নেতৃত্বদানকারী আলি খামেনি গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে মার্কিন-ইসরায়েলি হামলায় নিহত হন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ইতোমধ্যেই খামেনির যেকোনো বিকল্পকে হত্যার হুমকি দিয়েছে। অন্যদিকে ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধ কেবল তখনই শেষ হতে পারে, যখন ইরানের সামরিক বাহিনী এবং নেতাদের নিশ্চিহ্ন করা হবে।
এবিসি নিউজকে ট্রাম্প বলেন, ইরানের নতুন নেতা আমাদের কাছ থেকে যদি অনুমোদন না পান, তাহলে তিনি বেশিদিন টিকতে পারবেন না।
শুক্রবার ইরানি পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের কালিবাফ মার্কিন প্রেসিডেন্টের দাবিকে উপহাস করেন।
অন্ধকার আকাশ
ইরানে যখন নতুন নেতা নির্বাচনের প্রক্রিয়া চলছিল, তখন তেহরানের আকাশ ছিল ধোঁয়ায় আচ্ছন্ন। ইসরায়েলি হামলায় রাজধানীর উপকণ্ঠের পাঁচটি তেল শোধনাগারে আগুন লাগার ফলে পুরো শহর বিষাক্ত ধোঁয়ায় ভরে যায়।
যুদ্ধের নবম দিনে আইআরজিসি দাবি করেছে, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে ড্রোন ও ক্ষেপনাস্ত্র হামলা চালিয়ে যাওয়ার জন্য তাদের কাছে অন্তত ছয় মাসের সরঞ্জাম মজুত রয়েছে।
আইআরজিসির মুখপাত্র আলি মোহাম্মদ নাইনি বলেন, ইরান এ পর্যন্ত কেবল প্রথম ও দ্বিতীয় প্রজন্মের মিসাইল ব্যবহার করেছে, তবে সামনে আমরা আরও উন্নত ও দূরপাল্লার ক্ষেপনাস্ত্র ব্যবহার করব।
অন্যদিকে, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানে স্থলসেনা পাঠানোর বিষয়টি নাকচ করেননি এবং তিনি যুদ্ধ জয়ের দাবি করে যাচ্ছেন।
তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করেছেন, এই সংঘাত থামার কোনো সহজ পথ নেই। এটি আরও মাসখানেক বা তারও বেশি সময় ধরে চলতে পারে।
১৪৭ দিন আগে
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আরও ১২ জন নিহত
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতি ক্রমশই অবনতির দিকে যাচ্ছে। এরই মধ্যে লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় আরও ১২ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় রবিবার (৮ মার্চ) ভোরে দেশটির রাজধানী বৈরুতে ও দক্ষিণ লেবাননে আবারও হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।
ইসরায়েল জানিয়েছে, ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনীর কুদস ফোর্সের লেবানন শাখার কমান্ডারদের লক্ষ্য করে এ হামলা চালানো হয়েছে। এর আগে, প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুদ্ধের পরবর্তী ধাপের জন্য অনেক চমক দেওয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন।
এদিকে, একঝাঁক মিসাইল ও ড্রোন কুয়েতে আঘাত হানলে দেশটির দুই সীমান্তরক্ষী নিহত হয়েছেন।
শনিবার তেহরানে একটি তেল শোধনাগারেও হামলা চালায় ইসরায়েল। এক ভিডিওতে দেখা যায়, রাতের আকাশে আগুনের লেলিহান শিখা উড়ছে। এটিই প্রথম কোনো বেসামরিক শিল্প প্রতিষ্ঠানে হামলার ঘটনা।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানকে লক্ষ্য করে মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া এই যুদ্ধে এখন পর্যন্ত ইরানে কমপক্ষে ১ হাজার ২৩০ জন, লেবাননে ৩০০ জনেরও বেশি এবং ইসরায়েলে প্রায় ১০-১২ জন মানুষ নিহত হয়েছেন।
ইরানের এফ-১৪ যুদ্ধবিমান লক্ষ্য করে হামলা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী রবিবার জানিয়েছে, তারা প্রাক-বিপ্লবী যুগে যুক্তরাষ্ট্র থেকে কেনা ইরানের একঝাঁক যুদ্ধবিমানের ওপর হামলা চালিয়েছে। তেহরানের দক্ষিণে ইসফাহান বিমানবন্দরে থাকা এফ-১৪ বিমানগুলো ছিল ইরানি বিমান বাহিনীর প্রধান স্তম্ভ। তবে বিমানগুলো ধ্বংস হয়েছে কি না, তা নিশ্চিত করেনি ইসরায়েল। এছাড়া তারা রাডার এবং আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থায় হামলার দাবিও করেছে।
বাহরাইনে হামলায় আহত ৩, পানি শোধন প্ল্যান্ট ক্ষতিগ্রস্ত
বাহরাইনের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রবিবার সকালে বাহরাইনের মুহারাগ শহরের একটি বিশ্ববিদ্যালয় ভবনের ওপর ইরানের মিসাইল হামলায় ৩ জন আহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, একটি ড্রোন হামলায় তাদের একটি লবণাক্ত পানি শোধন প্ল্যান্টও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
১৪৮ দিন আগে
মধ্যপ্রাচ্য যুদ্ধ পরিস্থিতি: ভ্রমণ বিপর্যয়ে দিশেহারা হজযাত্রীরা
মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ পরিস্থিতির ফলে সৃষ্ট ভ্রমণ বিপর্যয়ে বিপাকে পড়েছেন ওমরাহ পালনের জন্য সৌদি আরবে যাওয়া হজযাত্রীরা। ইতোমধ্যে অনেক যাত্রী সেখানে আটকা পড়েছেন এবং ঘরে ফেরার বিকল্প পথ খুঁজছেন। আবার অনেককে তাদের পরিকল্পিত সফর পুরোপুরি বাতিল করতে হয়েছে।
ওমরাহ সম্পন্নকারী অনেকের মনেই ইসলামের পবিত্র স্থান দর্শনের অভিজ্ঞতার ওপর বিষাদের ছায়া ফেলেছে যুদ্ধ পরিস্থিতি।
ইন্দোনেশিয়ার হজ ও ওমরাহবিষয়ক উপমন্ত্রী দাহনিল আনজার সিমানজুন্তাকের মতে, স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৫ মার্চ) পর্যন্ত ৫৮ হাজার ৮৬০ জনেরও বেশি ইন্দোনেশীয় ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন।
তিনি জানান, আটকা পড়া যাত্রীদের হোটেল এবং ফ্লাইটের বাড়তি খরচের বোঝা কমাতে সরকার সৌদি কর্তৃপক্ষ এবং এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে আলোচনা করছে। এছাড়া নিরাপত্তার খাতিরে আরও প্রায় ৬০ হাজার মানুষকে তাদের ওমরাহ যাত্রা এপ্রিল পর্যন্ত স্থগিত করার অনুরোধ জানিয়েছে সরকার।
মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইচসান মার্শা একে একটি জরুরি মানবিক ও লজিস্টিক সমস্যা হিসেবে অভিহিত করেছেন।
আর্থিক ও মানসিক ধকল
সৌদি আরবে আটকা পড়া জানিরাহ ফারিস নামের এক ওমরাহযাত্রী ইন্দোনেশিয়ার আইনিউজ টিভিকে জানান, তার ফেরার ফ্লাইটটি বাতিল করা হয়েছে এবং তার নতুন ফ্লাইট আগামী ১২ মার্চ পুনর্নির্ধারণ করা হয়েছে। আটকা পড়া যাত্রী, বিশেষ করে যাদের এই বিলম্বের কারণে বাড়তি খরচ বহনের সামর্থ্য নেই, তাদের সাহায্য করার জন্য ইন্দোনেশিয়া সরকারের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
জানিরাহ বলেন, সবার পক্ষে হোটেলে অতিরিক্ত থাকার খরচ মেটানো সম্ভব নয়। এর সঙ্গে যোগ হয়েছে মানসিক যন্ত্রণা। আমি খুব হতাশ, কারণ আমার সন্তানরা আমার জন্য অপেক্ষা করছে।
বিশ্বের বৃহত্তম মুসলিম জনসংখ্যার দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে প্রতি বছর, বিশেষ করে পবিত্র রমজান মাসে লাখ লাখ মানুষ ওমরাহ করতে সৌদি আরব যান।
জেদ্দায় মালয়েশিয়ার কনসাল জেনারেল মোহাম্মদ জারাইফ রাজা আব্দুল কাদির গত মঙ্গলবার দেশটির সরকারি সংবাদ সংস্থা বারনামাকে জানিয়েছেন, মালয়েশিয়ার প্রায় ১ হাজার ৬০০ ওমরাহযাত্রী সৌদি আরবে আটকা পড়েছেন। তিনি জানান, যাত্রীরা ভালো আছেন। তার কার্যালয় পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ এবং ক্ষতিগ্রস্ত নাগরিকদের সহায়তা দেওয়ার জন্য একটি ২৪ ঘণ্টার অপারেশন রুম খুলেছে।
রবিবার পর্যন্ত সৌদি আরবের জেদ্দা এবং মদিনা থেকে অস্থায়ীভাবে যাত্রী ফেরত পরিষেবা পুনরায় চালু করার ঘোষণা দিয়েছে মালয়েশিয়া এয়ারলাইনস।
এদিকে, মালয়েশিয়ার পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তারা আটকা পড়া নাগরিক ও ওমরাহযাত্রীদের সরিয়ে নিতে কূটনৈতিক মিশন, আঞ্চলিক সরকার এবং এয়ারলাইন্সগুলোর সঙ্গে কাজ করছে।
মধ্যপ্রাচ্যের বাইরেও পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলের বিমানবন্দরগুলো ইউরোপ, আফ্রিকা এবং এশিয়ার যাত্রীদের সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ হাব হিসেবে কাজ করে যা বর্তমানে এই যুদ্ধের কারণে ক্ষতিগ্রস্ত।
আকস্মিক পরিবর্তন ও পরিবারের পুনর্মিলন
৪৪ বছর বয়সী মিসরের নাগরিক মাগেদ খোলাইফ গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (যেদিন যুদ্ধ শুরু হয়) সৌদি আরব থেকে কুয়েতে ফেরার কথা ছিল। কিন্তু তার ফ্লাইট বাতিল হয়ে কয়েক দিন পিছিয়ে যায়।
তিনি বলেন, ওমরাহর আধ্যাত্মিক ও আনন্দময় পরিবেশ থেকে এটি ছিল এক আকস্মিক ও নেতিবাচক পরিবর্তন।
স্ত্রী ও শাশুড়িসহ আটকা পড়া খোলাইফ কুয়েতে থাকা সন্তানদের কাছে ফেরার জন্য মরিয়া হয়ে উঠেছেন। কুয়েত থেকে পরিচিতদের কাছ থেকে তিনি শুনেছেন, সেখানে সাইরেন এবং বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যাচ্ছে। খোলাইফ বলেন, ‘সবাই খুব ভয় পেয়ে গিয়েছিল।’
পরে তিনি সড়কপথে দেশে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। এরপর মঙ্গলবার কুয়েতে পৌঁছালে পরিবারের সঙ্গে এক আবেগঘন পুনর্মিলন ঘটে তার। তিনি বলেন, ‘সন্তানদের চোখের সামনে দেখা এবং বুকে জড়িয়ে ধরার পর যতক্ষণ আমরা একসঙ্গে আছি, আর কী ঘটবে তা নিয়ে কোনো দুশ্চিন্তা থাকে না।’
কঠিন সিদ্ধান্ত ও সফর বাতিল
যুক্তরাষ্ট্রের মিশিগানের বাসিন্দা ৪৭ বছর বয়সী জাভেদ খিজের জানান, তিনি তার পরিবারের ওমরাহ সফর বাতিল করেছেন। তুরস্ক ও কাতার হয়ে সৌদি আরব যাওয়ার কথা ছিল তাদের।
তিনি বলেন, আমরা খবর দেখে বুঝতে পারছিলাম যে পরিস্থিতি ক্রমেই খারাপ হচ্ছে। সিদ্ধান্তটি (সফর বাতিল) কঠিন ছিল। কে জানে আগামী রমজানে আমি বেঁচে থাকব কি না? কোনো নিশ্চয়তা নেই।
ধর্মীয় আচারে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা
যুক্তরাষ্ট্র থেকে সপরিবারে ওমরাহ করতে আসা ৫২ বছর বয়সী মজিদ মুঘল বলেন, আমরা পবিত্র ভূমিতে (সৌদি আরব) আসাকে আল্লাহর ডাক হিসেবে গণ্য করি। রমজান মাসে আসাটা অনেক সওয়াবের কাজ। তবে যুদ্ধ শুরু হবে জানলে আসতেন না বলে জানান তিনি।
মুঘল জানান, সৌদি আরবে আসার পথে তারা হামলার খবর পান। অন্য রুটের অনেক যাত্রী বিমানবন্দরে আটকা পড়লেও তাদের ফ্লাইটটি স্বাভাবিকভাবেই অবতরণ করেছে।
তিনি বলেন, এখন পর্যন্ত সবকিছু ঠিক আছে, আলহামদুলিল্লাহ। এখানে কোনো সমস্যা নেই। রমজানের কারণে প্রচুর ভিড়, তবে নিরাপত্তা ব্যবস্থাও স্বাভাবিক দেখছি এবং আমরা অনিরাপদ বোধ করছি না।
এই পরিবারটি যুদ্ধের কথা ভুলে এখন রোজা, নামাজ এবং ধর্মীয় আচারে মনোযোগ দেওয়ার চেষ্টা করছে। তবে খবর থেকে পুরোপুরি বিচ্ছিন্ন হওয়াও কঠিন হয়ে পড়েছে তাদের জন্য। দেশে থাকা আত্মীয়স্বজনদের বারবার আশ্বস্ত করতে হচ্ছে যে, তারা ভালো আছেন।
সবশেষে তাদের মনে বাড়ি ফেরা নিয়ে উদ্বেগ কাজ করছে। মুঘল বলেন, ফ্লাইটগুলো চালু আছে কি না, নিশ্চিত হতে আমরা প্রতিদিন ফ্লাইটের খুঁটিনাটি যাচাই করছি। আমার সন্তানদের স্কুলে ফিরতে হবে; আমাকেও কর্মস্থলে যোগ দিতে হবে।
১৪৯ দিন আগে
মার্কিন বাহিনীকে হামলায় ইরানকে তথ্য দিয়েছে রাশিয়া!
পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে মার্কিন যুদ্ধজাহাজ, বিমান ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনায় পাল্টা হামলায় ইরানকে তথ্য দিয়ে সাহায্য করেছে রাশিয়া। মার্কিন গোয়েন্দা তথ্যের বিষয়ে অবগত এমন দুইজন কর্মকর্তা এ তথ্য জানিয়েছেন।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে ওই কর্মকর্তারা বলেন, মার্কিন ও ইসরায়েলি বাহিনীর যৌথ হামলা এবং এর বিপরীতে মার্কিন সামরিক ঘাটি ও মিত্রদের ওপর ইরানের পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র হামলার মাঝে রাশিয়া এ তথ্য দিয়ে ইরানকে নির্দিষ্ট কোনো পদক্ষেপ নিতে বলছে কি না—এমন কোনো প্রমাণ মার্কিন গোয়েন্দা সংস্থাগুলো এখনও পায়নি।
তবুও, এক সপ্তাহ আগে শুরু হওয়া ইরান যুদ্ধে মস্কোর জড়িত থাকার বিষয়টি উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না। তেহরানের সঙ্গে বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্ক রয়েছে এমন গুটিকয়েক দেশের মধ্যে রাশিয়া অন্যতম। অন্যদিকে, পারমাণবিক কর্মসূচি চালু রাখা, হিজবুল্লাহ, হামাস ও হুথি বিদ্রোহীদের মতো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সমর্থনের কারণে ইরান বছরের পর বছর ধরে আন্তর্জাতিকভাবে বিভিন্ন নিষেধাজ্ঞার মধ্যে রয়েছে।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (৬ মার্চ) সন্ধ্যায় হোয়াইট হাউসে ক্রীড়াবিদদের বেতন-সংক্রান্ত একটি বৈঠক শেষে সাংবাদিকদের প্রশ্নের উত্তর দেওয়ার সময় এ প্রসঙ্গ তোলায় মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এক সাংবাদিককে তিরস্কার করেন।
ফক্স নিউজের সাংবাদিক পিটার ডুসিকে তিনি বলেন, আমি আপনাকে অনেক সম্মান করি, আপনি সব সময় আমার প্রতি খুব সদয় ছিলেন। কিন্তু এই সময়ে এই প্রশ্নটি বোকামিপূর্ণ নয় কি? আমরা এখন অন্য বিষয় নিয়ে কথা বলছি।
হোয়াইট হাউস কর্মকর্তারা এই প্রতিবেদনগুলোকে গুরুত্ব না দিলেও রাশিয়া যে এ অঞ্চলে মার্কিন লক্ষ্যবস্তু সম্পর্কে ইরানের সঙ্গে গোয়েন্দা তথ্য বিনিময় করছে, তা অস্বীকার করেননি।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট শুক্রবার সাংবাদিকদের বলেন, ইরানে আমাদের সামরিক অভিযানের ক্ষেত্রে এটি স্পষ্টতই কোনো পার্থক্য আনছে না, কারণ আমরা তাদের সম্পূর্ণরূপে ধ্বংস করে দিচ্ছি।
প্রতিরক্ষামন্ত্রী পিট হেগসেথ শুক্রবার সিবিএসের ‘৬০ মিনিটস’-এ দেওয়া সাক্ষাৎকারে বলেন, রাশিয়া ইরানকে সহায়তা করছে কি না, সে বিষয়সহ যুক্তরাষ্ট্র সবকিছুর ওপর নজর রাখছে এবং আমাদের যুদ্ধ পরিকল্পনায় তা অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। তিনি বলেন, আমেরিকার জনগণ আশ্বস্ত থাকতে পারেন যে, তাদের কমান্ডার-ইন-চিফ (প্রেসিডেন্ট) ভালো করেই জানেন, কে কার সঙ্গে কথা বলছে। জনসম্মুখে হোক বা গোপনে, অনুচিত যেকোনো কিছুকেই কঠোরভাবে মোকাবিলা করা হচ্ছে।
ইরান যুদ্ধে রাশিয়ার সহায়তার বিষয়ে ট্রাম্প রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সঙ্গে কথা বলেছেন কি না বা তাদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে লেভিট কিছু বলতে রাজি হননি।
অন্যদিকে, ইরানকে কোনো সামরিক সহায়তা দেওয়া হবে কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ বলেন, তেহরানের পক্ষ থেকে এমন কোনো অনুরোধ আসেনি।
শুক্রবার তিনি বলেন, আমরা ইরানের শীর্ষ নেতাদের সঙ্গে সংলাপ চালিয়ে যাচ্ছি এবং অবশ্যই তা চলবে। তবে যুদ্ধ শুরুর পর মস্কো কোনো সামরিক বা গোয়েন্দা সহায়তা দিয়েছে কি না, সে বিষয়ে তিনি কোনো মন্তব্য করেননি।
ইউক্রেন যুদ্ধে ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্রের প্রয়োজনীয়তার কারণে রাশিয়ার সঙ্গে ইরানের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ হয়েছে। এর আগে, বাইডেন প্রশাসন দাবি করেছিল যে, ইরান রাশিয়াকে ড্রোন সরবরাহ করছে এবং রাশিয়ায় ড্রোন তৈরির কারখানা স্থাপনে সহায়তা করছে।
যুক্তরাষ্ট্রের গোয়েন্দা-সংক্রান্ত বিস্তারিত তথ্য প্রথম প্রকাশ করেছিল মার্কিন গণমাধ্যম দ্য ওয়াশিংটন পোস্ট।
যখন জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল যে এই তথ্য প্রকাশ ট্রাম্পের বিশ্বাসকে টলিয়ে দিয়েছে কি না যে, পুতিন রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের কোনো শান্তি চুক্তি করতে সক্ষম, লিভিট বলেন, আমি মনে করি রাষ্ট্রপতি বলবেন যে রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের ক্ষেত্রে শান্তি এখনও অর্জনযোগ্য একটি লক্ষ্য।
অপরদিকে, ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলদিমির জেলেনস্কি বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও মধ্যপ্রাচ্যের মিত্ররা ইরানের শাহেদ ড্রোন মোকাবিলায় ইউক্রেনের অভিজ্ঞতা ও দক্ষতা কাজে লাগাতে চাইছে। তেহরান ইউক্রেন যুদ্ধে ব্যবহারের জন্য রাশিয়াকে যে ড্রোন দিচ্ছে, এখন সেগুলোই পারস্য উপসাগরীয় অঞ্চলে পাল্টা হামলায় ব্যবহার করা হচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেছেন, তিনি সম্ভাব্য সহযোগিতার বিষয়ে সংযুক্ত আরব আমিরাত, কাতার, বাহরাইন, জর্ডান এবং কুয়েতের সঙ্গে কথা বলেছেন।
যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইউক্রেনের রাষ্ট্রদূত ওলগা স্টেফানিশিনা বলেন, ইউক্রেন জানে কীভাবে শাহেদ ড্রোনের হামলা থেকে রক্ষা পেতে হয়। আমাদের অংশীদারদের প্রয়োজনে আমরা সবসময় সাহায্য করতে প্রস্তুত।
এদিকে, ট্রাম্প ইউক্রেন যুদ্ধ শেষ করার নির্বাচনি প্রতিশ্রুতি পূরণ করতে হিমশিম খাচ্ছেন। জেলেনস্কির সঙ্গে তার সম্পর্কও উত্থান-পতনের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। তিনি প্রায়ই ইউক্রেনকে রাশিয়ার দাবি মেনে নেওয়ার জন্য চাপ দিয়েছেন; এর মধ্যে রয়েছে এখনও ইউক্রেনের নিয়ন্ত্রিত ভূখণ্ড মস্কোকে ছেড়ে দেওয়া।
অন্যদিকে, ইরান যুদ্ধের ফলে মার্কিন অস্ত্রের মজুদ কমে যাচ্ছে কি না, তা নিয়ে পেন্টাগন প্রশ্নের মুখে থাকায় ট্রাম্প এই সপ্তাহে অভিযোগ করেছেন, সাবেক প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন ইউক্রেনকে বিলিয়ন বিলিয়ন ডলারের উচ্চমানের অস্ত্র সরবরাহ করেছিলেন। ফলে তিনি মার্কিন অস্ত্রের মজুদ পূরণ করতে ব্যর্থ হয়েছেন।
১৪৯ দিন আগে
ইরানে যুদ্ধ সম্প্রসারণে ট্রাম্পকে সিনেটের সমর্থন
মার্কিন সিনেটে ইরানের বিরুদ্ধে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রশাসনের সামরিক অভিযান বন্ধের উদ্দেশ্যে আনা ‘যুদ্ধ ক্ষমতা সংক্রান্ত প্রস্তাব’ রিপাবলিকানরা প্রত্যাখ্যান করেছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) আনা প্রস্তাবটি ৪৭-৫৩ ভোটে পরাজিত হয়। এর ফলাফল মূলত দলীয় মেরুকরণ অনুযায়ীই এসেছে।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির প্রতিবেদন অনুযায়ী, কেনটাকির রিপাবলিকান সিনেটর র্যান্ড পল তার দলের সিদ্ধান্তের বাইরে গিয়ে প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেন। অন্যদিকে, পেনসিলভানিয়ার ডেমোক্র্যাট সিনেটর জন ফেটারম্যান প্রস্তাবের বিপক্ষে ভোট দেন।
এ আইনটির লক্ষ্য ছিল ইরানের বিরুদ্ধে যেকোনো পরবর্তী মার্কিন সামরিক পদক্ষেপের জন্য কংগ্রেসের পূর্ব অনুমোদন বাধ্যতামূলক করা। প্রস্তাবের সমর্থকরা যুক্তি দিয়েছিলেন যে, যুদ্ধ ক্ষমতার ওপর কংগ্রেসের সাংবিধানিক কর্তৃত্ব বজায় রাখা জরুরি; বিশেষ করে যখন কোনো স্পষ্ট যুদ্ধ থেকে বের হওয়ার পরিকল্পনা ছাড়াই মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে হামলা তীব্রতর হচ্ছে।
এই ভোটাভুটির ফলে আইনপ্রণেতারা এমন একটি সংঘাতের বিষয়ে প্রকাশ্যে নিজেদের অবস্থান জানালেন, যা মার্কিন সেনা সদস্যদের ভাগ্য নির্ধারণ করছে, আঞ্চলিক স্থিতিশীলতাকে প্রভাবিত করছে এবং যার সুদূরপ্রসারী বৈশ্বিক পরিণতি রয়েছে।
রিপাবলিকান নিয়ন্ত্রিত প্রতিনিধি পরিষদেও একই ধরনের প্রস্তাব বৃহস্পতিবার সকালে ভোটের জন্য ওঠার কথা রয়েছে, তবে সেখানেও এটি পাস হওয়ার সম্ভাবনা অত্যন্ত কম।
সিনেটের এই সিদ্ধান্তটি যুদ্ধ বিস্তারের সঙ্গে সঙ্গে ওয়াশিংটনের ক্রমবর্ধমান রাজনৈতিক বিভাজনকেই প্রতিফলিত করে। সমালোচকরা যেখানে দীর্ঘমেয়াদী সামরিক সংঘাতের বিষয়ে সতর্ক করছেন, সেখানে সমর্থকরা প্রশাসনের পদক্ষেপকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় বলে রক্ষা করছেন।
১৫২ দিন আগে
ইকুয়েডরে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযান শুরু
লাতিন আমেরিকায় মাদকবিরোধী অভিযানের অংশ হিসেবে ট্রাম্প প্রশাসন ইকুয়েডরের সঙ্গে যৌথভাবে একটি সামরিক অভিযান শুরু করেছে। তাদের এ অভিযানের লক্ষ্য চিহ্নিত সন্ত্রাসী সংগঠনগুলো।
স্থানীয় সময় বুধবার (৪ মার্চ) মার্কিন সাউদার্ন কমান্ডের বরাতে কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানিয়েছে, ইকুয়েডরীয় এবং মার্কিন বাহিনী ৩ মার্চ থেকে এই কার্যক্রম শুরু করেছে। জেনারেল ফ্রান্সিস ডনোভান এ পদক্ষেপকে মাদক-সন্ত্রাসবাদ মোকাবিলায় আঞ্চলিক অঙ্গীকারের একটি নিদর্শন হিসেবে বর্ণনা করেছেন। মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে প্রকাশিত ভিডিওতে হেলিকপ্টার উড্ডয়ন এবং আকাশপথ থেকে নজরদারির দৃশ্য দেখা গেছে।
যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে, এ অভিযান বর্তমানে ইকুয়েডরের সেনাদের জন্য কেবল লজিস্টিক এবং গোয়েন্দা সহায়তার মধ্যেই সীমাবদ্ধ।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট বলেছেন, এ অঞ্চলজুড়ে সহিংসতার জন্য দায়ী অপরাধী নেটওয়ার্কগুলোর বিরুদ্ধে দুই দেশ নির্ণায়ক পদক্ষেপ নিচ্ছে।
মাক্রিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রধান মাদক কার্টেলগুলোকে ক্রমবর্ধমানভাবে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে চিহ্নিত করছেন এবং একটি সামরিক কৌশল গ্রহণ করেছেন। এর মধ্যে সন্দেহভাজন চোরাচালানকারী জলযানগুলোতে বিমান হামলার মতো বিষয়গুলোও অন্তর্ভুক্ত।
তবে সমালোচকদের দাবি, এ ধরনের পদক্ষেপ আইন প্রয়োগ এবং যুদ্ধাবস্থার মধ্যকার পার্থক্যকে অস্পষ্ট করে দিচ্ছে, যা বেসামরিক হতাহত এবং আন্তর্জাতিক আইন লঙ্ঘনের উদ্বেগ বাড়িয়ে তুলছে।
ইকুয়েডরের প্রেসিডেন্ট ড্যানিয়েল নোবোয়া যুক্তরাষ্ট্রের এ সহযোগিতাকে স্বাগত জানিয়েছেন। তিনি একে মাদক পাচার এবং অবৈধ খনির বিরুদ্ধে লড়াইয়ে একটি নতুন পদক্ষেপ হিসেবে অভিহিত করেছেন।
১৫২ দিন আগে
প্রেসিডেন্টের সামরিক ক্ষমতা সীমিতকরণে ভোট দেবেন মার্কিন সিনেটররা
কংগ্রেসের অনুমোদন ছাড়া ইরানের বিরুদ্ধে আরও সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার ক্ষমতা সীমিত করার লক্ষ্যে স্থানীয় সময় বুধবার মার্কিন সিনেটে যুদ্ধ ক্ষমতা প্রস্তাবের ওপর ভোটাভুটি হওয়ার কথা রয়েছে।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা জানায়, প্রস্তাবিত বিষয়ে বিতর্ক স্থানীয় সময় বেলা ১১টায় শুরু হবে এবং ভোট হবে বিকেল ৪টায়।
যথাযথ আইনি অনুমোদন ছাড়া মার্কিন প্রেডিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সাম্প্রতিক ইরান হামলার প্রেক্ষাপটে এ প্রস্তাবটি পেশ করা হবে। অনেক আইনপ্রণেতা ও মার্কিন নাগরিক ট্রাম্পের এ হামলার সমালোচনা করছেন।
ডেমোক্রেট আইনপ্রনেতারা দাবি করেন, কংগ্রেসের সংবিধানিক ভূমিকা পুনঃস্থাপনের জন্য ভোট প্রয়োজন, যা সামরিক পদক্ষেপ অনুমোদনের অধিকার নিশ্চিত করবে। অন্যদিকে, রিপাবলিকানরা জাতীয় নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে প্রশাসনের সিদ্ধান্তকে সমর্থন জানিয়েছেন।
প্রেসিডেন্টের ভেটো ক্ষমতা বাতিল করতে উভয় কক্ষে দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতার প্রয়োজন হয়। রিপাবলিকানদের সংখ্যাগরিষ্ঠতার কারণে এটি পাস করা দুরূহ হয়ে উঠবে। আইনপ্রণেতারা মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাত এবং মার্কিন সামরিক সম্পৃক্ততার বিষয়ে প্রকাশ্যে তাদের অবস্থান তুলে ধরার জন্য ভোট গ্রহণের আয়োজন করছেন।
এদিকে, ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড প্রধান অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার জানিয়েছেন, মার্কিন-ইসরায়েলি যৌথ অভিযান শুরু হওয়ার পর থেকে ইরানে প্রায় ২ হাজার লক্ষ্যবস্তু ধ্বংস করা হয়েছে।
কুপার বলেছেন, এটি মধ্যপ্রাচ্যে এ প্রজন্মে সর্ববৃহৎ মার্কিন সামরিক অভিযান। এর মধ্যে রয়েছে ৫০ হাজারেরও অধিক সৈন্য, প্রায় ২০০টি যুদ্ধবিমান, দুইটি এয়ারক্রাফট ক্যারিয়ার এবং বোমারু বিমান।
হামলায় ইরানের শত শত ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, ড্রোন এবং ১৭টি নৌযান ধ্বংস হয়েছে। ইরানও পাল্টা হামলায় ৫০০টিরও বেশি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এবং ২ হাজার ড্রোন ব্যবহার করে মার্কিন ও মিত্রবাহিনীকে লক্ষ্য করেছে। তবে কুপার দাবি করেছেন, তেহরানের হামলার ক্ষমতা কমতে শুরু করেছে।
মার্কিন সমারিক ঘাঁটি ও কূটনৈতিক স্থাপনা লক্ষ্য করে ইরানের পাল্টা হামলা শুরুর পর থেকে মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে উত্তেজনা চরম আকার ধারণ করেছে। পরিস্থিতি ক্রমেই জটিল হচ্ছে। বেসামরিক নাগরিক হতাহতের সংখ্যা বৃদ্ধি পাচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলের উত্তেজনার কারণে বিশ্ববাজারও প্রভাবিত হচ্ছে।
১৫২ দিন আগে
খামেনির ছেলেই কি হচ্ছেন ইরানের সর্বোচ্চ নেতা?
ইরানের প্রয়াত নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনির ছেলে মোজতবা খামেনি দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা হওয়ার দৌড়ে দীর্ঘদিন ধরেই বিবেচিত হয়ে আসছেন। এমনকি গত সপ্তাহে যুদ্ধ শুরুর দিকে ইসরায়েলি হামলায় তার বাবার মৃত্যুর অনেক আগে থেকেই এই গুঞ্জন ছিল। তবে তিনি আগে কোনো সরকারি পদে দায়িত্ব পালন করেননি।
ইসলামিক রিপাবলিকের ভেতরে রহস্যময় ব্যক্তিত্ব হিসেবে পরিচিত মোজতবা খামেনিকে গত শনিবারের পর থেকে জনসমক্ষে দেখা যায়নি। সেদিন সর্বোচ্চ নেতার কার্যালয় লক্ষ্য করে চালানো ইসরায়েলি বিমান হামলায় তার ৮৬ বছর বয়সী বাবা নিহত হন। ওই হামলায় মোজতবার স্ত্রী জহরা হাদ্দাদ আদেলও নিহত হয়েছেন।
ধারণা করা হচ্ছে, মোজতবা খামেনি এখনও বেঁচে আছেন এবং ইরানজুড়ে মার্কিন ও ইসরায়েলি বিমান হামলা অব্যাহত থাকায় তিনি আত্মগোপনে চলে গেছেন। তবে ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তার অবস্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য জানায়নি।
বিমান হামলার পর আলোচনায় খামেনিপুত্র
বাবার স্থলাভিষিক্ত হওয়ার দৌড়ে সম্ভাব্য প্রার্থী হিসেবে মোজতবা খামেনির নাম বারবার আলোচনায় আসছে। যদিও অতীতে এই বিষয়টির সমালোচনা করা হয়েছিল এই বলে যে, এটি ইরানের সাবেক বংশানুক্রমিক রাজতন্ত্রের একটি ধর্মতান্ত্রিক সংস্করণ তৈরি করতে পারে।
কিন্তু বর্তমানে তার বাবা এবং স্ত্রীকে কট্টরপন্থিরা আমেরিকা ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে যুদ্ধের শহিদ হিসেবে গণ্য করায়, ৮৮ সদস্যের ‘অ্যাসেম্বলি অব এক্সপার্টস’-এর বয়োজ্যেষ্ঠ আলেমদের কাছে মোজতবার গ্রহণযোগ্যতা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই প্যানেলই দেশটির পরবর্তী সর্বোচ্চ নেতা নির্বাচন করবে।
যিনিই নেতা হোন না কেন, তিনি বর্তমানে যুদ্ধে লিপ্ত ইরানি সামরিক বাহিনীর নিয়ন্ত্রণ পাবেন এবং সেই সঙ্গে পাবেন সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের বিশাল ভাণ্ডার, যা পারমাণবিক অস্ত্র তৈরিতে ব্যবহার করা সম্ভব।
মার্কিনভিত্তিক চাপ প্রয়োগকারী গোষ্ঠী ‘ইউনাইটেড অ্যাগেইনস্ট নিউক্লিয়ার ইরান’-এর মতে, মোজতবা খামেনি তার বাবার প্রশাসনে অনেকটা ইরানের প্রথম সর্বোচ্চ নেতা রুহুল্লাহ খোমেনির ছেলে আহমেদ খোমেনির মতো ভূমিকা পালন করতেন, যা ছিল সহকারী, বিশ্বস্ত সহযোগী, দ্বাররক্ষক এবং ক্ষমতাধর মধ্যস্থতাকারীর এক সংমিশ্রণ।
ভিন্নমতের মাঝে জন্ম
১৯৬৯ সালে মাশহাদ শহরে মোজতবা খামেনির জন্ম। এটি ছিল ১৯৭৯ সালের ইসলামি বিপ্লবের প্রায় ১০ বছর আগে, যখন তার বাবা শাহ মোহাম্মদ রেজা পাহলভির শাসনের বিরুদ্ধে আন্দোলন করছিলেন।
আলি খামেনির জীবনীতে উল্লেখ আছে, একবার শাহের গোপন পুলিশ বাহিনী সাভাক তাদের বাড়িতে ঢুকে এই আলেমকে মারধর করে। খামেনির সন্তানরা তখন ঘুম থেকে জেগে উঠলে মোজতবা ও অন্যদের বলা হয়েছিল যে তাদের বাবা ছুটিতে যাচ্ছেন।
প্রয়াত খামেনির ভাষ্যমতে, তখন আমি বলেছিলাম, মিথ্যে বলার দরকার নেই। আমি তাদের সত্যিটা বলেছিলাম।
শাহের পতনের পর খামেনি পরিবার তেহরানে চলে আসে। মোজতবা পরবর্তীতে ইরান-ইরাক যুদ্ধে রেভল্যুশনারি গার্ডের হাবিব ইবনে মাজাহির ব্যাটালিয়নের হয়ে যুদ্ধ করেন। এ ইউনিটের অনেক সদস্যই পরে খামেনি পরিবারের সমর্থনে বাহিনীর গুরুত্বপূর্ণ গোয়েন্দা পদে আসীন হন।
১৯৮৯ সালে তার বাবা সর্বোচ্চ নেতা হন। এরপর মোজতবা খামেনি এবং তার পরিবার ইরানের অনেক রাষ্ট্রীয় শিল্প এবং শাহের একসময়ের অন্যান্য সম্পদ থেকে তহবিল সংগ্রহকারী ফাউন্ডেশনগুলিতে ছড়িয়ে থাকা কোটি কোটি ডলার এবং ব্যবসায়িক সম্পদের মালিকানা পান।
বাবার সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ক্ষমতার উত্থান
তেহরানে বাবার কার্যালয়ে কাজ করার মাধ্যমেই মোজতবার নিজস্ব ক্ষমতার উত্থান ঘটে। ২০০৮-০৯ সালের দিকে উইকিলিকস কর্তৃক প্রকাশিত মার্কিন কূটনৈতিক তারবার্তায় মোজতবাকে রাজপোশাকের পেছনের আসল ক্ষমতা হিসেবে উল্লেখ করা হয়েছিল। একটি নথিতে দাবি করা হয়, মোজতবা স্বয়ং তার বাবার ফোন ট্যাপ করতেন। তার প্রধান দ্বাররক্ষক হিসেবে কাজ করতেন এবং দেশের ভেতরে নিজস্ব ক্ষমতার বলয় তৈরি করছিলেন।
২০০৮ সালের একটি নথিতে বলা হয়েছিল, মোজতবাকে শাসনব্যবস্থার ভেতরে একজন সক্ষম ও শক্তিশালী নেতা এবং ব্যবস্থাপক হিসেবে দেখা হয়, যিনি ভবিষ্যতে জাতীয় নেতৃত্বের অন্তত একটি অংশের উত্তরাধিকারী হতে পারেন; তার বাবাও হয়তো তাকে সেই দৃষ্টিতেই দেখেন। তবে সেখানে তার থিওলজিক্যাল বা ধর্মীয় যোগ্যতার অভাব এবং বয়সের কথা উল্লেখ করা হয়েছিল।
মার্কিন ট্রেজারি বিভাগের মতে, মোজতবা খামেনি রেভল্যুশনারি গার্ডের কুদস ফোর্স এবং বাসিজ বাহিনীর কমান্ডারদের সঙ্গে ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেছেন—যারা গত জানুয়ারিতে দেশব্যাপী বিক্ষোভ কঠোরভাবে দমন করেছিল।
২০১৯ সালে ট্রাম্পের প্রথম মেয়াদে বাবার আঞ্চলিক অস্থিরতা তৈরির উচ্চাকাঙ্ক্ষা এবং অভ্যন্তরীণ দমনমূলক উদ্দেশ্য বাস্তবায়নে কাজ করার অভিযোগে মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র মোজতবার ওপর নিষেধাজ্ঞা জারি করে।
সর্বোচ্চ নেতার ক্ষমতা এখন ঝুঁকির মুখে
১৯৭৯ সালের বিপ্লবের পর ইরানে সর্বোচ্চ নেতার পদে ক্ষমতা হস্তান্তরের ঘটনা আগে মাত্র একবারই ঘটেছে। প্রথম নেতা আয়াতুল্লাহ রুহুল্লাহ খোমেনি ৮৬ বছর বয়সে মারা যাওয়ার পর আলি খামেনি দায়িত্ব পেয়েছিলেন।
এখন নতুন নেতা এমন এক সময়ে দায়িত্ব নেবেন যখন ইসরায়েলের সাথে ১২ দিনের যুদ্ধ শেষ হয়েছে এবং মার্কিন-ইসরায়েলি জোট ইরানের পারমাণবিক হুমকি ও সামরিক শক্তি নির্মূল করতে চাইছে। একইসঙ্গে তারা আশা করছে, ইরানি জনগণও হয়তো এই ধর্মতন্ত্রের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়াবে।
ইরানের জটিল ক্ষমতা ভাগাভাগির এই ধর্মতান্ত্রিক ব্যবস্থায় সর্বোচ্চ নেতাই হলেন কেন্দ্রবিন্দু এবং রাষ্ট্রের সব বিষয়ে তার সিদ্ধান্তই চূড়ান্ত। তিনি সামরিক বাহিনী ও রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান কমান্ডার। এই রেভল্যুশনারি গার্ড কেবল মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে প্রতিরোধের অক্ষ এর নেতৃত্বই দেয় না, বরং ইরানের অর্থনীতি এবং ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ভাণ্ডারের ওপরও তাদের একচ্ছত্র নিয়ন্ত্রণ রয়েছে।
১৫২ দিন আগে
ইরানের হামলার জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি আরব রাষ্ট্রগুলোর
মধ্যপ্রাচ্যে প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় উপসাগরীয় আরব দেশগুলো যুদ্ধের সম্মুখসারিতে এসে পড়েছে। সার্বভৌমত্ব ও অবকাঠামোয় আঘাতের ঘটনায় ক্ষুব্ধ হয়েছে দেশগুলো। এখনও সরাসরি যুদ্ধে না জড়ালেও আবার হামলা হলে পাল্টা জবাব দেওয়ার হুঁশিয়ারি দিয়েছে তারা।
সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সমন্বিত বিমান হামলার জবাবে মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন দেশে থাকা মার্কিন ঘাঁটিগুলো লক্ষ্য করে শত শত ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে তেহরান। এসব হামলায় আরব ভূখণ্ডে থাকা মার্কিন সামরিক ঘাঁটির পাশাপাশি দেশগুলোর বেসামরিক ও জ্বালানি অবকাঠামোও ধ্বংস হয়েছে।
এর ফলে নিরাপদ পর্যটন ও আর্থিককেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠা উপসাগরীয় অঞ্চলের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হচ্ছে। পাশাপাশি দেশগুলোর তেল ও গ্যাস শিল্পেও বিঘ্ন সৃষ্টি হচ্ছে, যা এই অঞ্চলের অর্থনীতির মূল ভিত্তি।
এক প্রতিবেদনে বিবিসি জানিয়েছে, আরব দেশগুলো এই যুদ্ধ চায়নি এবং তা ঠেকাতে চেষ্টা করেছিল। তবে ইরানের এই হামলা অব্যাহত থাকলে শেষ পর্যন্ত তারা যুদ্ধে জড়িয়ে পড়বে কি না—সেটাই এখন বড় প্রশ্ন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩ মার্চ) এক সংবাদ সম্মেলনে কাতারের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাজেদ আল আনসারি বলেন, ‘সব সীমা ইতোমধ্যেই অতিক্রম হয়েছে।’
তিনি বলেন, ‘আমাদের সার্বভৌমত্বের ওপর হামলা অব্যাহত রেখেছে ইরান। আমাদের অবকাঠামোর ওপর হামলা হচ্ছে। আমাদের আবাসিক এলাকাগুলোতেও হামলা হচ্ছে। এসব হামলার প্রভাব অত্যন্ত স্পষ্ট। সম্ভাব্য প্রতিশোধে প্রশ্নে আমাদের নেতৃত্বে সব বিকল্পই খোলা আছে। তবে আমরা স্পষ্ট করে বলতে চাই, এ ধরনের হামলা চলতে থাকলে আমরা কোনোভাবেই চুপ করে বসে থাকব না।’
আরব অঞ্চলজুড়ে বেশিরভাগ ইরানি ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিহত করা হলেও ভূপাতিত ক্ষেপণাস্ত্রের ধ্বংসাবশেষ থেকে অগ্নিকাণ্ড এবং হতাহতের ঘটনা ঘটেছে। এছাড়া ড্রোনগুলো সহজেই আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ভেদ করছে। ফলে বড় ধরনের ক্ষতি না করলেও বাণিজ্য ও ভ্রমণব্যবস্থায় বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, এটাই ইরানের রণকৌশল। প্রতিবেশী আরব রাষ্ট্রগুলোর ওপর চাপ বাড়িয়ে তারা যুক্তরাষ্ট্রকে যুদ্ধ বন্ধে বাধ্য করতে চায়।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফাইনান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইরান ইসরায়েলে যে পরিমাণ ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র ছুড়েছে, তার প্রায় সমপরিমাণ ছুড়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাতের ওপর। উপসাগরীয় অঞ্চলের প্রধান বাণিজ্য ও পর্যটনকেন্দ্র হিসেবে পরিচিত এই দেশটি ইরানের হামলার বড় লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হয়েছে।
বিশ্লেষকদের মতে, ইরান চাইলে এই অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ তেল ও গ্যাস শিল্পকে অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করতে পারে। এতে বৈশ্বিক অর্থনীতিতে বড় ধাক্কা লাগবে।
তবে তেহরানের এই কৌশল উল্টো ফলাফলও বয়ে আনতে পারে। কারণ ইরানের এ ধরনের পদক্ষেপ উপসাগরীয় দেশগুলোকে যুক্তরাষ্ট্রের আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলতে পারে, এমনকি যেকোনো পর্যায়ে তারা সরাসরি যুদ্ধে অংশও নিতে পারে। এখন পর্যন্ত তারা যুক্তরাষ্ট্রকে নিজেদের আকাশসীমা ও ভূখণ্ড ব্যবহার করে ইরানের ওপর হামলা চালানোর অনুমতি দেয়নি। তবে পরিস্থিতি পরিবর্তিত হতে পারে। কোনো একপর্যায়ে তারা সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার সিদ্ধান্তও নিতে পারে।
যদিও এখনও সে অবস্থায় পৌঁছায়নি মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো। আপাতত তারা প্রতিরক্ষার দিকেই বেশি মনোযোগ দিচ্ছে। অবশ্য যুদ্ধ কত দিন চলবে, তার ওপর অনেক কিছু নির্ভর করছে। তবে সংঘাতে ইসরায়েলের পক্ষ নেওয়ার মতো পরিস্থিতি তৈরি হোক—এমনটিও চায় না তাদের অনেকে।
২০২৩ সালের অক্টোবরে ইসরায়েলের গাজা আগ্রাসন এবং লেবানন ও সিরিয়ার মতো দেশে সামরিক হস্তক্ষেপ আরব দেশগুলোর সঙ্গে তেল আবিবের সম্পর্কের টানাপোড়েন তৈরি করেছে। গত বছর হামাসের শীর্ষ নেতাদের হত্যাচেষ্টা করতে গিয়ে কাতারে বোমা হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। বিষয়টি ভালোভাবে নেয়নি আরব দেশগুলো। ওই ঘটনার ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছিল তারা।
তবে ইরানের হামলার ফলে প্রতিবেশী দেশগুলোর মধ্যে যে ঐক্য জোরদার হচ্ছে, তা ক্রমেই স্পষ্ট হয়ে উঠছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (১ মার্চ) জরুরি বৈঠকে বসে উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের ছয় সদস্য দেশ—সৌদি আরব, কুয়েত, কাতার, বাহরাইন, সংযুক্ত আরব আমিরাত ও ওমান। বৈঠকে তারা সংহতি প্রকাশ করে এবং নিজেদের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা রক্ষার পাশাপাশি ভূখণ্ড, নাগরিক ও বাসিন্দাদের সুরক্ষায় ‘সব প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার’ অঙ্গীকার করে। তাদের ওই আলোচনায় আগ্রাসনের জবাব দেওয়ার বিষয়টিও অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এদিকে, আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের জ্যেষ্ঠ কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ ইরানকে সংযত হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি লিখেছেন, ‘যুদ্ধ আপনাদের প্রতিবেশীদের সঙ্গে নয়। নিজেদের আশপাশে হামলা বন্ধ করুন। বিচ্ছিন্নতা ও উত্তেজনার পরিধি আরও বাড়ার আগেই বিচক্ষণতা ও দায়িত্বশীলতার সঙ্গে প্রতিবেশীদের সঙ্গে আচরণ করুন।’
১৫২ দিন আগে