বিশ্ব
বাংলাদেশসহ ৪০ দেশ থেকে মুরগি ও ডিম আমদানিতে নিষেধাজ্ঞা সৌদির
জনস্বাস্থ্য সুরক্ষা ও খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বাংলাদেশসহ ৪০টি দেশ থেকে পোলট্রি মুরগি ও ডিম আমদানির ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে সৌদি আরবের খাদ্য ও ওষুধ কর্তৃপক্ষ। পাশাপাশি আরও ১৬টি দেশের নির্দিষ্ট কিছু অঞ্চলের ওপর আংশিক বিধিনিষেধ আরোপ করা হয়েছে।
গালফ নিউজের খবরে বলা হয়েছে, নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলোর তালিকা বৈশ্বিক স্বাস্থ্য পরিস্থিতি ও মহামারি সংক্রান্ত হালনাগাদ তথ্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে নিয়মিত পর্যালোচনা করবে সৌদি কর্তৃপক্ষ।
খবরে বলা হয়েছে, এই ৪০ দেশের মধ্যে কিছু দেশের ক্ষেত্রে ২০০৪ সাল থেকে নিষেধাজ্ঞা রয়েছে। এছাড়া ঝুঁকি মূল্যায়ন ও আন্তর্জাতিক প্রতিবেদনের ভিত্তিতে আরও কয়েকটি দেশকে নতুন করে এই তালিকাভুক্ত করা হয়েছে। নিষেধাজ্ঞার এই সিদ্ধান্তের ক্ষেত্রে উচ্চমাত্রায় বার্ড ফ্লুর প্রাদুর্ভাবকে বিশেষভাবে গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
নিষেধাজ্ঞাভুক্ত দেশগুলো
মুরগি ও ডিম আমদানি নিষিদ্ধের সৌদি তালিকায় রয়েছে বাংলাদেশ। এছাড়া আফগানিস্তান, আজারবাইজান, জার্মানি, ইন্দোনেশিয়া, ইরান, বসনিয়া ও হার্জেগোভিনা, বুলগেরিয়া, তাইওয়ান, জিবুতি, দক্ষিণ আফ্রিকা, চীন, ইরাক, ঘানা, ফিলিস্তিন, ভিয়েতনাম, কম্বোডিয়া, কাজাখস্তান, ক্যামেরুন, দক্ষিণ কোরিয়া, উত্তর কোরিয়া, লাওস, লিবিয়া, মিয়ানমার, যুক্তরাজ্য, মিসর, মেক্সিকো, মঙ্গোলিয়া, নেপাল, নাইজার, নাইজেরিয়া, ভারত, হংকং, জাপান, বুরকিনা ফাসো, সুদান, সার্বিয়া, স্লোভেনিয়া, আইভরি কোস্ট ও মন্টেনিগ্রো থেকে মুরগি ও ডিম আমদানি করবে না সৌদি আরব।
আংশিক নিষেধাজ্ঞার আওতায় যেসব দেশ
অস্ট্রেলিয়া, যুক্তরাষ্ট্র, ইতালি, বেলজিয়াম, ভুটান, পোল্যান্ড, টোগো, ডেনমার্ক, রোমানিয়া, জিম্বাবুয়ে, ফ্রান্স, ফিলিপাইন, কানাডা, মালয়েশিয়া, অস্ট্রিয়া ও কঙ্গোর নির্দিষ্ট কিছু রাজ্য বা শহরে আংশিক বিধিনিষেধ প্রযোজ্য হবে বলে জানানো হয়েছে।
তবে অনুমোদিত স্বাস্থ্য ও নিরাপত্তা মানদণ্ড পূরণ সাপেক্ষে প্রক্রিয়াজাত করা মুরগির মাংস ও সংশ্লিষ্ট পণ্যের ক্ষেত্রে এই সাময়িক নিষেধাজ্ঞা প্রযোজ্য নয় বলেও উল্লেখ করা হয়েছে। সেক্ষেত্রে এ ধরনের পণ্যের সঙ্গে অবশ্যই সরকারি সনদ থাকতে হবে, যাতে উল্লেখ থাকবে যে প্রক্রিয়াজাতকরণের মাধ্যমে বার্ড ফ্লু ও নিউক্যাসল রোগের ভাইরাস সম্পূর্ণরূপে নির্মূল করা হয়েছে। পাশাপাশি রপ্তানিকারক দেশের অনুমোদিত স্থাপনা থেকেই এসব পণ্য উৎপাদিত হতে হবে।
বছরে ১০ কোটি ডলারের ডিম আমদানি করে সৌদি আরব। ওমান, নেদারল্যান্ডস, জর্দান, তুরস্ক ও পাকিস্তান থেকে সবচেয়ে বেশি ডিম আমদানি করে থাকে দেশটি। আর মুরগির মাংসের চাহিদার ৭০ শতাংশ পূরণ হয় সৌদি আরবের নিজস্ব উৎপাদনব্যবস্থা থেকে। বাকিটা আমদানি হয় মূলত ব্রাজিল থেকে।
১৫৯ দিন আগে
ট্রাম্প আরোপিত ‘বেআইনি’ শুল্কের ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ফেরতের দাবি
মার্কিন সুপ্রিম কোর্ট ট্রাম্প প্রশাসনের শুল্ক আদায়কে বেআইনি বলে রায় দেওয়ার পর দেশটির তিন ডেমোক্র্যাট সিনেটর প্রায় ১৭৫ বিলিয়ন ডলার ফেরতের দাবি জানিয়েছেন। অবৈধভাবে শুল্কারোপের মাধ্যমে ওই অর্থ যুক্তরাষ্ট্র সংগ্রহ করেছে দাবি করে এ বিষয়ে বিল উত্থাপনের উদ্যোগও নিয়েছেন তারা।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ওরেগনের সিনেটর রন ওয়াইডেন, ম্যাসাচুসেটসের এড মার্কি এবং নিউ হ্যাম্পশায়ারের জিন শাহিন একটি বিল উত্থাপন করতে চলেছেন, যাতে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক ও সীমান্ত প্রতিরক্ষা বিভাগকে ১৮০ দিনের মধ্যে ওই অর্থ ফেরত এবং ওই অর্থের ওপর উপযুক্ত সুদ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রাখা হয়েছে।
প্রস্তাবিত বিল অনুযায়ী, ছোট ব্যবসাগুলোকে অগ্রাধিকার দিয়ে অর্থ ফেরত দিতে হবে এবং আমদানিকারক, পাইকার ও বড় কোম্পানিগুলোকে গ্রাহকদের কাছে সেই অর্থ পৌঁছে দিতে হবে।
ইউনিভার্সিটি অব পেনসিলভেনিয়ার পেন হোয়ার্টন বাজেট মডেলের হিসাব অনুযায়ী, মোট শুল্ক ফেরতের পরিমাণ দাঁড়াতে পারে ১৭৫ বিলিয়ন ডলার, যা গড়ে প্রত্যেক মার্কিন পরিবারের জন্য প্রায় ১ হাজার ৩০০ ডলারের সমান।
তবে ফেরত দেওয়ার কাঠামো নির্ধারণ করা কঠিন হবে, কারণ শুল্কের ব্যয় সরাসরি গ্রাহকদের ওপর পড়েছে, আবার অনেক ক্ষেত্রে আমদানিকারকেরা তা আংশিকভাবে নিজেরা বহন করেছেন বা পণ্যের দামের মাধ্যমে পরোক্ষভাবে গ্রাহকদের ওপর চাপিয়ে দিয়েছেন।
ওরেগনের সিনেটর ওয়াইডেন বলেন, ট্রাম্পের অবৈধ কর পরিকল্পনা এরই মধ্যে মার্কিন পরিবার, ছোট ব্যবসা ও উৎপাদন খাতকে বড় ধরনের ক্ষতির মুখে ফেলেছে। একের পর এক নতুন শুল্কের চাপে পড়েছেন তারা। তিনি জোর দিয়ে বলেন, এ সমস্যার সমাধানের গুরুত্বপূর্ণ প্রথম পদক্ষেপ হলো, দ্রুত ছোট ব্যবসায়ী ও উৎপাদনকারীদের হাতে অর্থ ফিরিয়ে দেওয়া।
যদিও বিলটি আইনে পরিণত হওয়ার সম্ভাবনা কম, তারপরও ডেমোক্র্যাটরা যে জনমতের ওপর চাপ সৃষ্টি করতে শুরু করেছেন, এ বিষয়টি দলটির মধ্যে আশার সঞ্চার করেছে।
অপরদিকে, সুপ্রিম কোর্ট গত শুক্রবার রায় দেওয়ার পরও ট্রাম্প প্রশাসন শুল্ক ফেরত দেওয়ার বিষয়ে খুব একটা আগ্রহ দেখায়নি।
এই রায়ের পর আগামী নভেম্বরে কংগ্রেসের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে মধ্যবর্তী নির্বাচনের আগে ডেমোক্র্যাটরা জনগণকে জানাতে শুরু করেছেন যে, ট্রাম্প অবৈধভাবে কর বাড়িয়েছেন এবং এখন সেই অর্থ ফেরত দিতে অস্বীকৃতি জানাচ্ছেন।
নিউ হ্যাম্পশায়ারের সিনেটর শাহিন বলেন, অতিরিক্ত শুল্কের কারণে বাজারে পণমূল্যের ওপর যে প্রভাব পড়েছে, তা পুষিয়ে নেওয়ার প্রথম ধাপ হলো, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের বেআইনিভাবে আদায় করা শুল্ক জনগণকে ফেরত দেওয়া।
ম্যাসাচুসেটসের সিনেটর মার্কি বলেন, ছোট ব্যবসায় মুলধন থাকে না বললেই চলে এবং তাদের জন্য অর্থ ফেরত পাওয়ার প্রক্রিয়া অত্যন্ত জটিল ও সময়সাপেক্ষ হতে পারে।
তবে ট্রাম্প প্রশাসন বলছে, তাদের হাত বাঁধা, কারণ কোনো অর্থ ফেরত দেওয়া হলে তা আদালতের পরবর্তী মামলার মাধ্যমে নির্ধারিত হওয়া উচিত।
রিফান্ড বা অর্থ ফেরতের ক্ষেত্রে কংগ্রেসের কোনো ভূমিকা থাকা উচিত কি না—এমন প্রশ্নের জবাবে হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র কুশ দেশাই বলেন, প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প শুল্ক ব্যবহার করে বাস্তব ফল এনে দিয়েছেন, যেখানে ডেমোক্র্যাটরা শুধু কথার খই ফোটাচ্ছে। তাই স্বাভাবিকভাবেই ডেমোক্র্যাটরা ট্রাম্প ও জনগণের সাফল্য খর্ব করতে উঠেপড়ে লেগেছে। এটি দুর্ভাগ্যজনক হলেও আশ্চর্য নয়।
ডেমোক্র্যাটদের এ বার্তা রিপাবলিকানদের জন্য চাপ তৈরি করতে পারে, কারণ সরকার কেন স্বতঃপ্রণোদিত হয়ে অর্থ ফেরত দিচ্ছে না—এ প্রশ্নের জবাব দিতে তাদের বেগ পেতে হতে পারে। রিপাবলিকান আইনপ্রণেতারা গত বছর ট্রাম্পের সই করা আয়কর ছাড়ের আইনকে সামনে রেখে কংগ্রেসে নিজেদের সংখ্যাগরিষ্ঠতা ধরে রাখতে চেয়েছিলেন। সে সময় তারা বলেছিলেন, এ বছরের কর ফেরত জনগণকে সহায়তা করবে।
রবিবার যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রীয় কোষাগারমন্ত্রী স্কট বেসেন্ট সিএনএনকে বলেছেন, অর্থ ফেরত দেওয়ার প্রসঙ্গ তোলা ‘ভুল উপস্থাপন’, কারণ সুপ্রিম কোর্টের রায়ে এ বিষয়ে কিছু বলা হয়নি। প্রশাসনের অবস্থান হলো, ফেরত দেওয়া হবে কি না, তা বিচারব্যবস্থায় চলমান মামলাগুলোর মাধ্যমে নির্ধারিত হবে; প্রেসিডেন্টের সিদ্ধান্তে নয়।
তিনি বলেন, এটি প্রশাসনের বিষয় নয়, বিষয়টি নিম্ন আদালতের। অর্থ ফেরত বিষয়ে আদালতের রায় না আসা পর্যন্ত তিনি অপেক্ষা করবেন বলেও জানান।
ট্রাম্প ১৯৭৭ সালের ‘আন্তর্জাতিক জরুরি অর্থনৈতিক ক্ষমতা আইন’ ব্যবহার করে যুক্তরাষ্ট্রের প্রায় প্রতিটি বাণিজ্য অংশীদারের ওপর বিস্তৃত শুল্ক আরোপের পক্ষে যুক্তি দেখিয়েছেন। তিনি বলেছেন, আমদানির ওপর করারোপের তার ক্ষমতা সামরিক সংঘাতের অবসান ঘটাতে, নতুন ফেডারেল রাজস্ব আনতে এবং বাণিজ্য কাঠামো নিয়ে আলোচনার জন্য চাপ প্রয়োগ করতে সহায়তা করেছে।
এর আগে, ট্রাম্প দাবি করেছিলেন, এই অর্থ ফেরত দিলে যুক্তরাষ্ট্রের সরকারি ঋণ বাড়বে এবং অর্থনীতিতে নেতিবাচক প্রভাব পড়বে। শুক্রবার এক ব্রিফিংয়ে তিনি সাংবাদিকদের বলেছিলেন, তিনি হোয়াইট হাউস ছাড়ার পরও ফেরত প্রক্রিয়া সম্পন্ন হতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, সম্ভবত আগামী দুই বছর এ নিয়ে মামলা চলবে, পরে সময়সীমা সংশোধন করে তিনি বলেন, শেষ পর্যন্ত আমরা পাঁচ বছর পর্যন্ত আদালতেই থাকব।
১৬০ দিন আগে
ভারতের ঝাড়খণ্ডে এয়ার অ্যাম্বুলেন্স বিধ্বস্ত, নিহত ৭
পূর্ব ভারতের ঝাড়খণ্ডে একটি এয়ার অ্যাম্বুলেন্স নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়েছে। এতে উড়োজাহাজটিতে থাকা ৭ আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন।
সোমবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভারতের বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা জানিয়েছে, উড়োজাহাজটি ঝাড়খণ্ডের রাজধানী রাঁচি থেকে উড্ডয়নের কয়েক মিনিটের মধ্যে নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে বিধ্বস্ত হয়। সি-৯০ নামে উড়োজাহাজটির মালিক রেডবার্ড এয়ারওয়েজ প্রাইভেট লিমিটেড।
উড়োজাহাজটিতে করে গুরুতর দগ্ধ এক রোগীকে উন্নত চিকিৎসার জন্য নয়া দিল্লিতে নেওয়া হচ্ছিল। তার সঙ্গে ছিলেন একজন চিকিৎসক, একজন জরুরি স্বাস্থ্যকর্মী ও পরিবারের দুই সদস্য।
মঙ্গলবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) স্থানীয় প্রশাসনের জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা কীর্তিশ্রী জি জানান, ‘এয়ার অ্যাম্বুলেন্সটিতে থাকা সবাই মারা গেছেন এবং ময়নাতদন্তের জন্য তাদের মরদেহ হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে।’
রাজ্যের বিমানের কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, খারাপ আবহাওয়ার কারণে সৃষ্ট বায়ুপ্রবাহের মধ্যে পড়ে উড়োজাহাজটি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলে।
বেসামরিক বিমান চলাচল অধিদপ্তরের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার কারণ অনুসন্ধানের জন্য বিমান দুর্ঘটনা তদন্ত ব্যুরোর একটি দল পাঠানো হচ্ছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাত দিয়ে জানিয়েছে যে, তারা একটি বিকট বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছেন। তারপর ঘন বনাঞ্চল থেকে ধোঁয়া উঠতে দেখেছেন। দুর্ঘটনার খবর পেয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ ঘটনাস্থলে পৌঁছে তাদের উদ্ধার করেন।
ভারতে ছোট শহরগুলো থেকে গুরুতর অসুস্থ রোগীদের উন্নত হাসপাতালে নিতে প্রায়ই এয়ার অ্যাম্বুলেন্স ব্যবহার করা হয়।
দুর্ঘটনাটি প্রতিকূল আবহাওয়ায়, বিশেষ করে দুর্গম অঞ্চলে, বিমান চলাচলের নিরাপত্তা নিয়ে নতুন করে উদ্বেগ বাড়িয়েছে।
কিছুদিন আগে, পশ্চিম ভারতে এক ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাকে বহনকারী একটি বেসরকারি বিমান বিধ্বস্ত হয়ে ৫ জন নিহত হওয়ার ঘটনার পর পুনরায় এ দুর্ঘটনা ঘটল।
১৬০ দিন আগে
মেক্সিকোর মাদক সম্রাট ‘এল মেনচো’কে হত্যা, দেশজুড়ে সহিংসতা
মেক্সিকোয় এক মাদকবিরোধী সেনা অভিযানে হালিস্কো নিউ জেনারেশন (সিজেএনজি) নামের দেশটির শীর্ষ মাদক চক্রের নেতা নেমেসিও রুবেন ওসেগেরা সের্ভান্তেসকে ওরফে এল মেনচো নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় চক্রটির শীর্ষ নেতৃত্ব ভেঙে পড়ার সঙ্গে সঙ্গে দেশজুড়ে ব্যাপক অস্থিরতা ছড়িয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় রবিবার (২২ ফেব্রুয়ারি) রাতে দেশটির সেনাবাহিনী এই অভিযান চালায়। শীর্ষ নেতার মৃত্যুর পর চক্রের সদস্যরা বিভিন্ন এলাকায় সহিংসতা চালিয়েছে।
এল মেনচোর মতো মাদক সম্রাটকে হত্যা মেক্সিকো সরকারের জন্য একটি বড় সাফল্য। এই চক্রটি দমন ট্রাম্প প্রশাসনের কাছেও গুরুত্বপূর্ণ ছিল।
স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানায়, মাদক চক্রটির সদস্যরা মেক্সিকোর ২০টি অঙ্গরাজ্যের ২৫০টির বেশি স্থানে গাড়ি পুড়িয়ে সড়ক অবরোধ করে। গাড়ি পোড়া কালো ধোঁয়ায় মেক্সিকোর আকাশ কালো হয়ে যায়।
অভিযানের আগে রবিবার রাতে হালিস্কোর রাজধানী গুয়াদালাহারা জনমানবশূন্য হয়ে পড়ে। বাসিন্দারা যে যার ঘরে অবস্থান নেন। কয়েকটি অঙ্গরাজ্যে আজ (সোমবার) স্কুল বন্ধ রাখা হয়েছে। ইতোমধ্যে হালিস্কো, মিচোয়াকান ও গুয়ানাহুয়াতোতে অন্তত ১৪ জন নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে, যার মধ্যে ন্যাশনাল গার্ডে ৭ সদস্যও রয়েছেন।
দেশটির প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, রবিবার হালিস্কোর তাপালপা এলাকায় এল মেনচোকে ধরার অভিযানে নামে সেনাবাহিনী। এই সময় গুলিবিদ্ধ হলে তাকে আটক করে সেনাসদস্যরা। এরপর দ্রুত মেক্সিকো সিটিতে নেওয়ার পথেই তার মৃত্যু হয়। মেক্সিকোর এই অঙ্গরাজ্যটি মূলত যুক্তরাষ্ট্রে বিপুল পরিমাণ ফেন্টানিলসহ বিভিন্ন ভয়ঙ্কর মাদক পাচারকারীদের ঘাঁটি।
সবচেয়ে বড় ফেন্টানিল পাচারকারী চক্র
প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের বিবৃতিতে বলা হয়েছে, অভিযান চলাকালে গোলাগুলির মধ্যে সেনাসদস্যদের গুলিতে ঘটনাস্থলেই চারজন নিহত হন। ওই সময় আহত আরও তিনজন পরে মারা যান, দুজনকে গ্রেপ্তার করা হয় এবং সাঁজোয়া যান, রকেট লঞ্চারসহ বিভিন্ন অস্ত্র জব্দ করা হয়। অন্যদিকে, সন্ত্রাসীদের গুলিতে সশস্ত্র বাহিনীর তিন সদস্য আহত হয়ে বর্তমানে চিকিৎসা নিচ্ছেন।
১৬১ দিন আগে
আফগান সীমান্তে হামলায় ৭০ জঙ্গিকে হত্যার দাবি পাকিস্তানের
আফগানিস্তান সীমান্তে পাকিস্তানের বিমান হামলায় অন্তত ৭০ জঙ্গি নিহতের দাবি করেছে ইসলামাবাদ। এ ঘটনায় পাল্টাপাল্টি অভিযোগ ও কূটনৈতিক টানাপোড়েনে দুই দেশের সম্পর্ক নতুন করে সংকটের মুখে পড়েছে।
রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) ভোরে আফগানিস্তানের সীমান্তবর্তী এলাকায় এ বিমান হামলা চালানো হয়।
পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্র প্রতিমন্ত্রী তালাল চৌধুরী জানান, দেশের ভেতরে সাম্প্রতিক হামলার জন্য দায়ী পাকিস্তানি জঙ্গিদের আস্তানাকে লক্ষ্য করে এই হামলা চালানো হয়। তবে কাবুল এ দাবি প্রত্যাখ্যান করেছে।
জিও নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তালাল চৌধুরী অন্তত ৭০ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানান। তবে সে সময় তিনি কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। পরে পাকিস্তানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮০ জন হয়েছে বলে উল্লেখ করা হয়।
অপরদিকে, আফগান প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে জানায়, পূর্ব আফগানিস্তানের নানগারহার ও পাকতিকা প্রদেশের বিভিন্ন বেসামরিক এলাকা লক্ষ্য করে পাকিস্তান হামলা চালিয়েছে। এতে একটি মাদরাসা ও একাধিক বাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। তারা এ হামলাকে আফগানিস্তানের সার্বভৌমত্বের লঙ্ঘন বলে উল্লেখ করেছে।
আফগান সরকারের মুখপাত্র জবিহুল্লাহ মুজাহিদ এক্সে দেওয়া এক পোস্টে জানান, হামলায় নারী ও শিশুসহ বহু মানুষ হতাহত হয়েছে। তবে পাকিস্তানের ৭০ জন জঙ্গি নিহতের দাবি সঠিক নয় বলে তিনি উল্লেখ করেন।
নানগারহার প্রদেশে আফগান রেড ক্রিসেন্ট সোসাইটির পরিচালক মাওলভি ফজল রহমান ফাইয়াজ জানান, এ বিমান হামলায় অন্তত ১৮ জন নিহত এবং আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন।
পুনরায় পাকিস্তানের প্রেসিডেন্টের সতর্কবার্তা
রবিবার রাতে পাকিস্তানের প্রেসিডেন্ট আসিফ আলী জারদারি জানান, আফগান সীমান্তে সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে পাকিস্তানের জনগণকে রক্ষার জন্য সাম্প্রতিক এ অভিযান চালানো হয়েছে। কাবুলকে বারবার সতর্ক করার পরও কার্যকর পদক্ষেপ না নেওয়ায় এই অভিযান চালানো হয়েছে বলে দাবি করেন তিনি।
এর আগে চলতি মাসের শুরুতে জারদারি সতর্ক করে বলেছিলেন, তালেবান নেতৃত্বধীন সরকার এমন পরিস্থিতি তৈরি করেছে যা ২০০১ সালের ১১ সেপ্টেম্বরের হামলার আগের সময়ের মতো বা তার চেয়েও খারাপ।
এক বিবৃতিতে জারদারি জানান, পাকিস্তান কেবল সীমান্তবর্তী আস্তানায় হামলা চালিয়ে সংযম দেখিয়েছে। তবে পাকিস্তানের ভেতরে হামলার জন্য দায়ীরা ধরাছোঁয়ার বাইরে থাকবে না বলেও তিনি সতর্ক করেন। পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তা হলো সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার এবং এতে কোনো আপস নয় বলে উল্লেখ করেন তিনি ।
এ ঘটনার পর পাকিস্তানের হামলার প্রতিবাদে কাবুলে নিযুক্ত পাকিস্তানের রাষ্ট্রদূতকে তলব করেছে আফগান পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়। তারা জানায়, দেশের ভূখণ্ড রক্ষা করা ইসলামিক আমিরাতের শরিয়াভিত্তিক দায়িত্ব এবং এ ধরনের হামলার পরিণতির দায় পাকিস্তানকেই নিতে হবে।
রবিবার নানগারহারে বিমান হামলার ধ্বংসস্তূপ সরাতে দেখা যায় স্থানীয়দের। সে সময় নিহতদের দাফনের প্রস্তুতিও চলছিল।
স্থানীয় নেতা হাবিব উল্লাহ অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) জানান, নিহতরা জঙ্গি ছিল না। তারা দরিদ্র সাধারণ মানুষ ছিল। যারা নিহত হয়েছে তারা তালেবান, সামরিক বাহিনীর সদস্য বা সাবেক সরকারের কেউ নয়। তারা গ্রামে সাধারণ জীবনযাপন করত।
এর আগে পাকিস্তানের তথ্যমন্ত্রী আতাউল্লাহ তারার এক্স পোস্টে জানিয়েছেন, পাকিস্তানি তালেবান (টিটিপি) ও তাদের সহযোগী সংগঠনের ৭টি আস্তানায় গোয়েন্দা তথ্যের ভিত্তিতে বাছাই করে অভিযান চালানো হয়েছে। এ অভিযানে ইসলামিক স্টেটের একটি সহযোগী সংগঠনকেও লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
তিনি বলেন, অঞ্চলজুড়ে শান্তি ও স্থিতিশীলতা বজায় রাখতে পাকিস্তান সব সময় চেষ্টা করেছে, তবে পাকিস্তানি নাগরিকদের নিরাপত্তাকেই সর্বোচ্চ প্রাধান্য দেওয়া হবে।
১৬১ দিন আগে
নেপালে পাহাড়ি সড়ক থেকে বাস খাদে, নিহত ১৮
নেপালে পাহাড়ি মহাসড়ক থেকে একটি যাত্রীবাহী বাস খাদে পড়ে অন্তত ১৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ২৬ জনকে আহত অবস্থায় উদ্ধার করে হাসপাতালে পাঠিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৩ ফেব্রুয়ারি) দিবাগত রাত সোয়া ১টার দিকে বাগমতি প্রদেশের ধাদিং জেলার পৃথ্বী মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে। দুর্ঘটনাস্থল কাঠমান্ডু থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার পশ্চিমে।
কাঠমান্ডু পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, বাসটি পোখরা থেকে রাজধানী কাঠমান্ডুর উদ্দেশে যাত্রা করেছিল। পথিমধ্যে ধাদিংয়ের বেনিঘাট রোরাং গ্রামীণ পৌরসভার ৩ নম্বর ওয়ার্ডের চৌরাউন্ডির কাছে চিনাধারা এলাকায় পৌঁছে মহাসড়ক থেকে খাদে পড়ে যায়। এরপর সেটি খাদের তলদেশে ত্রিশুলী নদীতে গিয়ে পড়ে।
পুলিশের বরাত দিয়ে হিমালয়ান টাইমসের এক খবরে বলা হয়েছে, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ৪৪ জন যাত্রী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। নিহতদের মধ্যে ১১ জন পুরুষ ও ছয়জন নারী। দুই বিদেশিও এ দুর্ঘটনায় নিহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পুরুষ ও একজন নারী রয়েছেন।
এছাড়া আরও অন্তত ২৬ জন আহত যাত্রীকে উদ্ধার করে বিভিন্ন হাসপাতালে পাঠানো হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন স্থানীয় স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হলেও অধিকাংশকে কাঠমান্ডুর হাসপাতালে স্থানান্তর করা হয়েছে।
ধাদিং জেলা ট্রাফিক পুলিশ কার্যালয়ের প্রধান শিশির থাপা জানিয়েছেন, নিহতের সংখ্যা শুরুতে ১৭ জন থাকলেও পরে তা বেড়ে ১৮ জনে দাঁড়িয়েছে।
নেপালি সেনাবাহিনী, সশস্ত্র পুলিশ বাহিনী, পুলিশ ও স্থানীয় বাসিন্দারা উদ্ধারকাজে অংশ নেন। তবে গভীর রাতে দুর্ঘটনা ঘটায় উদ্ধার কার্যক্রম ব্যাহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
১৬১ দিন আগে
ইইউভুক্ত দেশগুলোর নৌ ও বিমানবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ ঘোষণা ইরানের
ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সকল সদস্য দেশের নৌ ও বিমানবাহিনীকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’ বলে ঘোষণা করেছে ইরান।
দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডস কর্পসকে (আইআরজিসি) সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করায় ইইউয়ের সাম্প্রতিক এই ‘অবৈধ ও অযৌক্তিক’ সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় এ পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে।
বিবৃতিতে বলা হয়েছে, ইইউয়ের এই সিদ্ধান্ত জাতিসংঘের সনদ এবং আন্তর্জাতিক আইনের মৌলিক নীতি ও নিয়মের সঙ্গে সাংঘর্ষিক।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, ইরান সরকার ২০১৯ সালের একটি আইনের অধীনে নীতির ভিত্তিতে এই পাল্টা দিয়েছে, যেখানে বলা হয়েছে যে যেসব দেশ আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী সংগঠন ঘোষণার মার্কিন সিদ্ধান্তকে যেকোনোভাবে মেনে চলবে বা সমর্থন করবে, তাদের বিরুদ্ধে পাল্টা ব্যবস্থা নেওয়া হবে।
গত মাসে ইইউভুক্ত দেশগুলো পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের মধ্যে একটি রাজনৈতিক চুক্তির পর বৃহস্পতিবার (১৯ ফেব্রুয়ারি) ইইউ কাউন্সিল আনুষ্ঠানিকভাবে আইআরজিসিকে সন্ত্রাসী তালিকায় যুক্ত করে।
এই তালিকাভুক্তির ফলে ইইউয়ের সন্ত্রাসবিরোধী নিষেধাজ্ঞা ব্যবস্থার অধীনে বিধিনিষেধমূলক ব্যবস্থা গ্রহণ করা হয়েছে, যার মধ্যে রয়েছে ইইউ সদস্য রাষ্ট্রগুলোতে গ্রুপের তহবিল এবং অন্যান্য আর্থিক ও অর্থনৈতিক সম্পদ জব্দ করা।
সাম্প্রতিক সময়ে পশ্চিম এশিয়া অঞ্চলে তীব্র উত্তেজনার মধ্যে এ পদক্ষেপ নেয় ইইউ, যেখানে ইরান উপকূলে যুক্তরাষ্ট্র তার সামরিক উপস্থিতি বৃদ্ধি করছে এবং তেহরানের বিরুদ্ধে বারবার সামরিক হামলার হুমকি দিচ্ছে।
১৬২ দিন আগে
ভূমধ্যসাগর থেকে লিবিয়া উপকূলে ভেসে এল ৭ ‘অভিবাসীর’ মরদেহ
লিবিয়ার রাজধানী ত্রিপোলির পূর্ব দিকের এক সৈকত থেকে সাতটি মরদেহ উদ্ধার করেছে দেশটির উদ্ধারকারী দল। মরদেহগুলো অভিবাসনপ্রত্যাশীদের বলে নিজেদের ধারণার কথা জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) ত্রিপোলির পূর্বে অবস্থিত উপকূলীয় শহর কাসর আল-আখিয়ারের ওই সৈকত থেকে মরদেহগুলো উদ্ধার করা হয়।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে স্থানীয় পুলিশ কর্মকর্তার বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, সমুদ্রের ঢেউয়ের তাণ্ডবে অনেক অভিবাসীর মরদেহ তীরে ভেসে এসেছে।
পুলিশের পক্ষ থেকে আরও বলা হয়েছে, এ ঘটনায় আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে সমুদ্র উত্তাল থাকায় নিখোঁজদের প্রকৃত সংখ্যা এখনও অজানা। বিষয়টি নিয়ে তদন্ত চলছে।
ইউরোপের ভৌগোলিক নৈকট্য এবং দীর্ঘ ভূমধ্যসাগরীয় উপকূলরেখার কারণে লিবিয়া অবৈধ অভিবাসনপ্রত্যাশীদের জন্য একটি প্রধান ট্রানজিট পয়েন্ট হয়ে উঠেছে।
১৬২ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে ফের তুষারঝড়ের সতর্কতা, পূর্ব উপকূলে ভয়াবহ ঝড়ের পূর্বাভাস
দ্রুত শক্তিশালী হয়ে ওঠা একটি তুষারঝড়ের কারণে যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সি, বোস্টন ও নিউওয়ার্ক সিটিতে সতর্কতা জারি করা হয়েছে। ইতোমধ্যে দেশটির পূর্ব উপকূলবাসিরা ভারী তুষারপাত ও ভয়ঙ্কর ঝড়ের প্রস্তুতি নিচ্ছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) দেশটির জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা দপ্তর জানিয়েছে, কয়েক দিন আগে আসন্ন ঝড়টি তুলনামূলক হালকা বলে ধারণা করা হলেও পরবর্তীতে এটির তীব্রতার মূল্যায়ন বাড়ানো হয়েছে।
আবহাওয়া বিভাগ বলেছে, অনেক এলাকায় ১ থেকে ২ ফুট পর্যন্ত তুষারপাত হতে পারে। এ কারণে লং আইল্যান্ড, কানেকটিকাট, ডেলাওয়্যার, মেরিল্যান্ড, রোড আইল্যান্ড ও ম্যাসাচুসেটসের উপকূলীয় এলাকাসহ বিভিন্ন স্থানে তুষারঝড় সতর্কতা জারি করা হয়েছে। সংস্থাটি আরও জানায়, নিউওয়ার্ক ও নিউ জার্সির কিছু অংশে বন্যার আশঙ্কাও রয়েছে।
আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রের আবহাওয়াবিদ কোডি স্নেল বলেন, ‘ভারী তুষারপাত ও বড় ধরনের প্রভাব নিয়ে আসা উত্তর-পূর্বাঞ্চলীয় ঝড় আমরা প্রায়ই দেখি। তবে এত বড় জনবসতিপূর্ণ অঞ্চলে এ মাত্রার ঝড় কয়েক বছর ধরে দেখা যায়নি।’
তিনি জানান, ঝড়টি স্থানীয় সময় রবিবার সকালে ওয়াশিংটন এলাকার আশপাশে আঘাত হানবে। এরপর ফিলাডেলফিয়া ও নিউইয়র্ক সিটির দিকে অগ্রসর হয়ে সন্ধ্যায় বোস্টনে পৌঁছাবে।
আবহাওয়া বিভাগ জানিয়েছে, কিছু এলাকায় শুরুতে বৃষ্টিপাত দিয়ে ঝড়টি শুরু হতে পারে, পরে তা আরও তীব্র হবে। রাতে সবচেয়ে বেশি তুষারপাতের আশঙ্কা রয়েছে এবং কিছু এলাকায় কখনও কখনও ঘণ্টায় সর্বোচ্চ ২ ইঞ্চি (৫ সেন্টিমিটার) পর্যন্ত তুষার পড়তে পারে। তবে সোমবার বিকেলের মধ্যে তুষারপাত ধীরে ধীরে কমে আসতে পারে।
তবে সংস্থাটি সতর্ক করে বলেছে, ঘণ্টায় ৪০ থেকে ৫৬ কিলোমিটার বেগে স্থায়ী বাতাসসহ এই ঝড়ের মধ্যে ভ্রমণ বিপজ্জনক, এমনকি অসম্ভবও হয়ে পড়তে পারে। তুষারপাতের তীব্রতা ও ঝড়ো বাতাসের কারণে বিচ্ছিন্নভাবে গাছের ডাল ভেঙে পড়া এবং বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতার আশঙ্কাও রয়েছে।
এর আগে যখন এই ঝড়কে তুলনামূলক সীমিত প্রভাবের বলে মনে করা হচ্ছিল, সে সময় থেকেই এর জন্য প্রস্তুতি নিতে কর্মকর্তারা দ্রুত তৎপরতা শুরু করেন।
নিউইয়র্ক সিটির মেয়র জোহরান মামদানি বলেন, কয়েক সপ্তাহ আগে বড় তুষারপাত মোকাবিলায় যে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল, তা আরও সম্প্রসারণ করা হবে। তবে সোমবার স্কুল খোলা হবে কি না সে বিষয়ে এখনই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়নি।
মেয়র আরও বলেন, ‘শুক্রবার আমরা ধারণা করছিলাম হয়ত ৩ থেকে ৪ ইঞ্চি তুষারপাত হতে পারে; কিন্তু খুব দ্রুত সেই পূর্বাভাস বদলে গেছে। তাই আমরা হালনাগাদ ও সঠিক তথ্যের ভিত্তিতে সিদ্ধান্ত নিতে চাই।’
তিনি জানান, নিউইয়র্ক শহর বাইরে থেকে অতিরিক্ত তুষার পরিষ্কারের সরঞ্জাম এনেছে। যেসব বাসস্টপ ও ক্রসওয়াক পরিষ্কার করা দরকার, সেগুলো চিহ্নিত করতে জিওকোডিং ব্যবহারের পরিমাণ বাড়ানোরও পরিকল্পনা করা হয়েছে।
কয়েক সপ্তাহ আগে ওই একই অঞ্চলে আঘাত হানা তুষারঝড়ের বরফ জমাট অবশিষ্টাংশ গলতে শুরু করার মধ্যেই নতুন এই ঝড়টি এগিয়ে আসছে।
নিউ জার্সির কর্মকর্তারা স্থানীয় বাসিন্দা ও ক্যাসিনোয় যাওয়া দর্শনার্থীদের রাস্তায় না বের হওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন। বিশেষ করে যেসব নিচু এলাকায় বন্যার ঝুঁকি বেশি, সেখানকার বাসিন্দাদের সতর্কতা অবলম্বনের পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।
শহরের ফায়ার সার্ভিস প্রধান ও জরুরি ব্যবস্থাপনা সমন্বয়ক স্কট ইভান বলেন, ‘এমন প্রায় দুই ডজন রাস্তার নাম বলতে পারি যেখানে আমরা পানি জমবে বলে জানি। তার ওপর তুষারও পড়বে। ফলে দেরি হয়ে যাওয়ার আগে আপনি তা দেখতে পারবেন না, তাই দয়া করে ঘরে থাকুন।’
বৈরী আবহাওয়ার কারণে অনেক গির্জা রবিবারের প্রার্থনা ও অন্যান্য কার্যক্রম বাতিল করেছে। এর ক্ষতিপূরণ বা বিকল্প ব্যবস্থা হিসেবে নিউ জার্সির হাউয়েলে অবস্থিত ‘সেন্ট ভেরোনিকা প্যারিশ’ শনিবার সন্ধ্যায় একটি অতিরিক্ত বিশেষ প্রার্থনার (Mass) আয়োজন করেছে।
১৬২ দিন আগে
সিরিয়ার অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্টকে ‘আত্মাহীন পুতুল’ আখ্যা দিয়ে নতুন হামলার হুমকি আইএসের
সিরিয়ার অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের প্রেসিডেন্টকে আক্রমণ করে তাকে পশ্চিমা দেশগুলোর নিয়ন্ত্রিত ‘আত্মাহীন পুতুল’ বলে অভিহিত করেছে ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠী। সেই সঙ্গে হুমকি দিয়ে তারা বলেছে, শেষ পর্যন্ত তার পরিণতি ক্ষমতাচ্যুত নেতা বাশার আসাদের মতোই হবে।
স্থানীয় সময় শনিবার (২১ ফেব্রুয়ারি) রাতে এক অডিও বার্তায় সারা বিশ্বের আইএস অনুসারীদের অতীতের মতো ইহুদি ও পশ্চিমা লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালানোর আহ্বান জানান আইএসের মুখপাত্র আবু হুজাইফা আল-আনসারি।
বার্তায় গোষ্ঠীটির প্রধান আইএস নেতা আবু হাফস আল-হাশেমি আল-কুরাইশির পক্ষ থেকে আইএস যোদ্ধাদের শুভেচ্ছা জানান আল-আনসারি। আল-কুরাইশি তিন বছর আগে গোষ্ঠীটির প্রধান হিসেবে ঘোষিত হয়েছিলেন।
সাম্প্রতিক মাসগুলোতে সিরিয়া, ইরাক, পাকিস্তান ও বিশ্বের অন্যান্য স্থানে বহুসংখ্যক মানুষ নিহত বা আহত হওয়ার ঘটনায় হামলার দায় আইএসের ওপর চাপানোর কয়েক মাসের মধ্যে এই অডিওটিই প্রথম প্রকাশ করা হলো।
গত ডিসেম্বরে সিরিয়ার মধ্যাঞ্চলে এক হামলায় তিন মার্কিন নাগরিক নিহত হন। ওই হামলার দায় আইএসের ওপর চাপানো হয়। ওই ঘটনার পর সিরিয়ার যেসব জায়গা জঙ্গীদের আখড়া হিসেবে পরিচিত, সেসব স্থানে ব্যাপক বিমান হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
ইরাক ও সিরিয়ায় একসময় খেলাফত ঘোষণা করেছিল আইএস। এরপর ২-১৭ সালে ইরাকে এবং তার দুই বছর পর সিরিয়ায় এ জঙ্গি গোষ্ঠীটি পরাজিত হয়। তবে তারপরও দেশদুটিতে হামলা থামায়নি আইএসের সুপ্ত চক্রগুলো।
চলতি মাসের শুরুতে আইএসের হুমকি নিয়ে প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জাতিসংঘ মহাসচিব বলেন, গত বছর সিরিয়ার প্রেসিডেন্ট, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ও পররাষ্ট্রমন্ত্রীকে হত্যার পাঁচটি চেষ্টা নস্যাৎ করা হয়েছে।
২০২৪ সালের ডিসেম্বরে বর্তমান অন্তর্বর্তী প্রেসিডেন্ট আহমদ আল-শারার নেতৃত্বে বিদ্রোহী দল হায়াত তাহরির আল-শাম (এইচটিএস) দামেস্কে প্রবেশ করে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট বাশার আসাদকে ক্ষমতাচ্যুত করে। ওই ঘটনা যুদ্ধবিধ্বস্ত এই দেশটির ওপর ইরানের যে প্রভাব, তার ওপর বড় আঘাত হানে। সুন্নি মুসলিম অধ্যুষিত দেশটিতে আসাদ সংখ্যালঘু আলাওয়ি সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন।
ওই ঘটনার পরে সিরিয়ায় আল-কায়েদা শাখার সাবেক নেতা আল-শারা পশ্চিমা দেশগুলোর সঙ্গে তার সম্পর্কের উন্নয়ন করেছেন। ১৯৪৬ সালে স্বাধীনতার পর গত বছর তিনিই প্রথম সিরীয় রাষ্ট্রপ্রধান হিসেবে ওয়াশিংটন সফর করেন।
আল-আনসারির দাবি, সিরিয়ায় ইরান ও আসাদের স্থলে আমেরিকার প্রভাবাধীন একটি শাসনব্যবস্থা আনা হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আজ সিরিয়া ক্রুসেডারদের দ্বারা শাসিত হচ্ছে, তারা এমন এক নেতাকে বসিয়েছে যে আত্মাহীন পুতুল।’ এ সময় দেশটিতে নতুন হামলার অঙ্গীকার করে তিনি বলেন, ‘সিরিয়া একটি নতুন প্রতিরক্ষার যুগে প্রবেশ করেছে এবং জিহাদের কাফেলা শেষ পর্যন্ত সিরিয়ায় অগ্রসর হবে।’
১৬২ দিন আগে