বিশ্ব
দিল্লির হোটেলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, বিদেশি নাগরিকসহ নিহত ২১
ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লির মালভিয়া নগর এলাকায় একটি হোটেলে অগ্নিকাণ্ডে অন্তত ২১ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বিদেশি নাগরিকও রয়েছেন। সেই সঙ্গে ৪০ জনের বেশি মানুষকে সেখান থেকে উদ্ধার করা হয়েছে।
বুধবার (৩ জুন) সকাল পৌনে ৯টার দিকে একটি পাঁচতলা ভবনের বেজমেন্টে অবস্থিত ‘ফ্লাওয়ারিশ স্টে’ হোটেলের রেস্তোরাঁ থেকে আগুনের সূত্রপাত হয়। পরে আগুন পাশের ‘মিকাসা ইন’ হোটেলেও ছড়িয়ে পড়ে।
এক কর্মকর্তা জানান, খবর পেয়ে দিল্লি ফায়ার সার্ভিসের বেশ কয়েকটি গাড়ি দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছায়। তবে আগুন লাগার কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
ঘনবসতিপূর্ণ আবাসিক এলাকা হিসেবে পরিচিত মালভিয়ায় শিক্ষার্থী ও তরুণ পেশাজীবীদের বসবাস বেশি।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ও স্থানীয় টেলিভিশনের ভিডিওতে দেখা গেছে, প্রাণ বাঁচাতে কয়েকজন ভবন থেকে নিচে লাফিয়ে পড়ছেন। ক্ষতি কমাতে নিচে গদি বিছিয়ে রাখা হয়েছে।
এক প্রত্যক্ষদর্শী সাংবাদিকদের বলেন, ‘আমি চার থেকে ছয়জনকে কাঁচ ভেঙে ভবন থেকে লাফিয়ে পড়তে দেখেছি। তাদের মধ্যে একজনের পা ভেঙে গেছে বলে মনে হয়েছে।’
হাউজ রানি এলাকার সরু গলিতে অবস্থিত হোটেলটিতে প্রায় ২৫টি কক্ষ ছিল। আগুন লাগার সময় সেখানে ৪০ জনের বেশি অতিথি অবস্থান করছিলেন বলে জানা গেছে। তাদের মধ্যে চিকিৎসার জন্য দিল্লিতে আসা বেশ কয়েকজন বিদেশি নাগরিকও ছিলেন।
খবরে বলা হয়েছে, আগুন লাগার সময় অধিকাংশ অতিথিই ঘুমিয়ে ছিলেন, ফলে তাদের উদ্ধার কার্যক্রম কাজ আরও কঠিন হয়ে পড়ে।
নিরাপত্তা ত্রুটি ছিল কি না খতিয়ে দেখা হচ্ছে
একাধিক সূত্রের বরাত দিয়ে এনডিটিভি জানিয়েছে, দিল্লি সরকারের কাছ থেকে ফ্লাওয়ারিশ স্টে ‘বেড অ্যান্ড ব্রেকফাস্ট (বি অ্যান্ড বি)’ পরিষেবা আইনের অধীনে লাইসেন্স পেয়েছিল। ওই অনুমোদনের আওতায় সর্বোচ্চ ছয়টি কক্ষ পরিচালনার সুযোগ ছিল। কিন্তু হোটেলটি বেজমেন্টসহ প্রায় ২৫টি কক্ষ পরিচালনা করছিল বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ছাড়া হোটেলটির অগ্নি নিরাপত্তা-সংক্রান্ত ‘নো অবজেকশন সার্টিফিকেট (এনওসি)’ ছিল কি না, তাও যাচাই করছে কর্তৃপক্ষ।
ভবনটিতে প্রবেশ ও বের হওয়ার জন্য মাত্র একটি পথ ছিল বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি।
নিহতদের পরিবারকে সহায়তার ঘোষণা
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এ ঘটনাকে ‘মর্মান্তিক’ উল্লেখ করে নিহতদের পরিবারের জন্য দুই লাখ রুপি করে আর্থিক সহায়তার ঘোষণা দিয়েছেন।
এক্সে দেওয়া এক বার্তায় দেশটির প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানায়, ‘যারা তাদের স্বজন হারিয়েছেন, তাদের প্রতি গভীর সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা কামনা করছি। ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দেওয়া হচ্ছে।’
প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি আহতদের প্রত্যেককে ৫০ হাজার রুপি করে আর্থিক সহায়তা দেওয়ারও ঘোষণা দেন।
দিল্লির মুখ্যমন্ত্রী রেখা গুপ্তাও প্রাণহানির ঘটনায় শোক প্রকাশ করেছেন।
এক্সে দেওয়া এক বার্তায় তিনি বলেন, ‘এই প্রাণহানির ঘটনায় আমি গভীরভাবে মর্মাহত। নিহতদের পরিবারের প্রতি জানাই আন্তরিক সমবেদনা। আহতদের দ্রুত সুস্থতা এবং এই হৃদয়বিদারক ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত সবাইকে শক্তি ও সাহস দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করছি।’
তিনি জানান, ঘটনার খবর পাওয়ার সঙ্গে সঙ্গেই ঘটনাস্থলে দিল্লি ফায়ার সার্ভিস, পুলিশ, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ, অ্যাম্বুলেন্স এবং অন্যান্য জরুরি সেবা সংস্থা মোতায়েন করা হয় এবং তারা উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম শুরু করে।
তিনি বলেন, ‘তাদের দ্রুত পদক্ষেপের ফলে ক্ষতিগ্রস্ত ভবন থেকে বহু মানুষকে উদ্ধার ও নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া সম্ভব হয়েছে।’
দিল্লি সরকার পরিস্থিতির ওপর নিবিড় নজর রাখছে জানিয়ে তিনি আরও বলেন, ‘ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর জন্য প্রয়োজনীয় সব ধরনের চিকিৎসাসেবা ও সহায়তা নিশ্চিত করা হচ্ছে। এই শোকের মুহূর্তে দিল্লি সরকার ক্ষতিগ্রস্ত পরিবারগুলোর পাশে রয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্তদের সম্ভাব্য সব ধরনের সহায়তা দিতে আমরা প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।’
১৬ দিন আগে
রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত ইউক্রেনে যাত্রীবাহী বাসে ড্রোন হামলা, নিহত ৭
ইউক্রেনের রাশিয়া-নিয়ন্ত্রিত অংশে একটি যাত্রীবাহী বাসে ড্রোন হামলায় অন্তত সাতজন নিহত হয়েছে। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১১ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (৩ জুন) ভোরে মস্কো থেকে রাশিয়া-অধিকৃত ক্রিমিয়ার সিমফেরোপলের উদ্দেশে যাত্রা করা একটি বাসে হামলাটি চালানো হয়।
ইউক্রেনের পূর্বাঞ্চলীয় দোনেৎস্ক অঞ্চলে ক্রেমলিন-সমর্থিত প্রশাসনের প্রধান ডেনিস পুশিলিনের বরাত দিয়ে বিবিসি এ খবর প্রকাশ করেছে।
টেলিগ্রামে এক পোস্টে পুশিলিন বলেন, ‘ইয়েনাকিয়েভোতে একটি ইউএভি (মানববিহীন আকাশযান) মস্কো থেকে সিমফেরোপলগামী একটি বাসে হামলা চালিয়েছে। প্রাথমিক তথ্যে সাতজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।’
এ ঘটনায় আহত হয়ে আরও অন্তত ১১ জন চিকিৎসা নিচ্ছেন বলে জানান তিনি।
এদিকে রুশ কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাতভর রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে ৩৫০টিরও বেশি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে। বেলগোরোদ, কুরস্কসহ পশ্চিমাঞ্চলের বিভিন্ন এলাকা, মস্কোর আশপাশ এবং আজভ সাগরের ওপর এসব ড্রোন ধ্বংস করা হয়।
লেনিনগ্রাদ অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্ডার দ্রোজদেঙ্কো জানান, শুধু ওই অঞ্চলেই অন্তত ৫০টি ড্রোন ভূপাতিত করা হয়েছে।
মস্কোর উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত এই অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত শহর সেন্ট পিটার্সবার্গে আজ বুধবার থেকে বার্ষিক আন্তর্জাতিক অর্থনৈতিক ফোরাম শুরু হওয়ার কথা রয়েছে, যা বিশ্বমঞ্চে রাশিয়াকে তুলে ধরার একটি গুরুত্বপূর্ণ আয়োজন।
রাতভর ড্রোন হামলার কারণে সেন্ট পিটার্সবার্গের পুলকোভো বিমানবন্দরে সাময়িকভাবে ফ্লাইট চলাচলে বিধিনিষেধ আরোপ করা হয় বলে জানিয়েছে রাশিয়ার বেসামরিক বিমান চলাচল নিয়ন্ত্রক সংস্থা রোসাভিয়াতসিয়া।
অন্যদিকে, ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে রাতভর ড্রোন হামলায় ৮৬ বছর বয়সী এক নারী নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন শহরের সামরিক প্রশাসনের প্রধান ইয়ারোস্লাভ শানকো।
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, বৃহত্তর এই হামলার অংশ হিসেবে রাশিয়া বিভিন্ন অঞ্চলে ১৯৮টি ড্রোন নিক্ষেপ করে যার মধ্যে ১৮৯টি ভূপাতিত করা হয়েছে।
গতকাল রাশিয়া ২০২২ সালে আগ্রাসন শুরুর পর থেকে ইউক্রেনের ওপর সবচেয়ে বড় হামলাগুলোর একটি চালানোর পর ইউক্রেনের পক্ষ থেকে এই পাল্টা হামলা চালানো হলো।
দেশটির কর্মকর্তাদের মতে, মঙ্গলবার রাতভর রাশিয়া ৭০০টিরও বেশি ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন নিক্ষেপ করলে ইউক্রেনের অন্তত ২২ জন মানুষ নিহত হয়েছে।
এ ব্যাপারে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, দেশজুড়ে বেসামরিক অবকাঠামো ও জ্বালানি স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে। এসব হামলায় ১০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন।
তবে রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় দাবি করেছে, এসব হামলা ছিল ইউক্রেনের আগের হামলার জবাব এবং অভিযানের সব লক্ষ্য অর্জিত হয়েছে।
মঙ্গলবার ক্রেমলিন জানায়, মে মাসের শেষ দিকে পূর্ব ইউক্রেনের রাশিয়া-অধিকৃত এলাকায় একটি শিক্ষার্থী আবাসনে প্রাণঘাতী হামলার জন্য কিয়েভকে দায়ী করার পর যে ‘পদ্ধতিগত হামলার’ ঘোষণা দেওয়া হয়েছিল, তারই অংশ হিসেবে এসব অভিযান চালানো হচ্ছে।
কিয়েভের দাবি, তারা একটি রুশ সামরিক ইউনিটকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল।
ক্রেমলিনের মুখপাত্র দিমিত্রি পেসকভ মঙ্গলবার সাংবাদিকদের বলেন, ‘এই কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে।’ তার দাবি, হামলাগুলো ইউক্রেনের সামরিক অবকাঠামোকেই লক্ষ্য করে পরিচালিত হচ্ছে।
১৬ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের দুই রাজ্যে ৩ কোটি ২০ লাখ মশা ছাড়তে চায় গুগল
কম্পিউটার কোডিংয়ের ‘বাগ’বা ত্রুটি সংশোধন প্রক্রিয়ার মতো এবার ‘ভালো মশা দিয়ে খারাপ মশা ধ্বংস’ করার একটি বিস্ময়কর প্রকল্প হাতে নিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের বহুজাতিক প্রযুক্তি কোম্পানি গুগল। টেক জায়ান্ট কোম্পানিটি ক্যালিফোর্নিয়া এবং ফ্লোরিডায় ৩ কোটি ২০ লাখ বন্ধ্যা (স্টেরাইল) মশা ছাড়ার অনুমতি চেয়ে যুক্তরাষ্ট্র সরকারের কাছে আবেদন করেছে।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, নিজেদের সফল ‘ডিবাগ’কর্মসূচির অংশ হিসেবে, রোগ সৃষ্টিকারী মশার সংখ্যা কমিয়ে আনতে গুগল তাদের প্রযুক্তিগত দক্ষতাকে কাজে লাগিয়ে বন্ধ্যা পুরুষ মশার এক বিশাল বাহিনী তৈরি করছে।
মশা বিশ্বের সবচেয়ে মারাত্মক ও প্রাণঘাতী জীবগুলো একটি। প্রতি বছর এটি ডেঙ্গু, ওয়েস্ট নাইল ভাইরাস, জিকা, চিকুনগুনিয়া এবং ম্যালেরিয়ার মতো মারাত্মক রোগ ছড়িয়ে পৃথিবীর অন্য যেকোনো প্রাণীর চেয়ে বেশি মানুষ হত্যা করে চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ফেডারেল রেজিস্ট্রারের একটি নোটিশ থেকে জানা গেছে, মার্কিন পরিবেশ সুরক্ষা সংস্থা ক্যালিফোর্নিয়া এবং ফ্লোরিডায় দুই বছর মেয়াদে প্রতি বছর ১ কোটি ৬০ লাখ পর্যন্ত মশা ছাড়ার বিষয়ে গুগলের আবেদনটি পর্যালোচনা করছে। আগামী ৫ জুন জনমত প্রকাশের সময়সীমা শেষ হওয়ার পর গুগলকে এই পরীক্ষামূলক ব্যবহারের অনুমতি দেওয়া হবে কি না, সে বিষয়ে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেবে ইপিএ।
নোটিশে আরও বলা হয়েছে, পুরুষ মশা কামড়ায় না এবং রোগও ছড়ায় না। গুগল মূলত একটি বিশেষ পদ্ধতি পরীক্ষা করছে, যেখানে পুরুষ মশার শরীরে প্রাকৃতিকভাবে উৎপন্ন ‘উলবাকিয়া’ নামক এক ধরনের ব্যাকটেরিয়া প্রবেশ করানো হয়। এই ব্যাকটেরিয়া পুরুষ মশাগুলোকে বুনো বা সাধারণ নারী মশার সঙ্গে বংশবৃদ্ধির অনুপযোগী করে তোলে। এই ব্যাকটেরিয়া-আক্রান্ত পুরুষ মশা যখন কোনো বুনো নারী মশার সঙ্গে মিলন করবে, তখন সেই নারী মশার ডিম ফুটে কোনো বাচ্চা বের হবে না।
গুগল তাদের একটি ব্লগপোস্টে বিষয়টি ব্যাখ্যা করে বলেছে, ‘এর ফলে প্রতি প্রজন্মে মশার সংখ্যা ক্রমান্বয়ে কমতে থাকবে।’
একটি শীর্ষস্থানীয় প্রযুক্তি প্রতিষ্ঠানের ল্যাবরেটরিতে ব্যাকটেরিয়া-আক্রান্ত মশা উৎপাদন করার বিষয়টি আপাতদৃষ্টিতে অদ্ভুত মনে হতে পারে। তবে গুগলের মূল প্রতিষ্ঠান অ্যালফাবেট বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির এই মেলবন্ধনে একদম নতুন নয়।
গুগল এক্সের একটি অত্যন্ত উচ্চাভিলাষী প্রজেক্ট ‘ভেরিলি হেলথ’ বা ‘মুনশট’হিসেবে যাত্রা শুরু করেছিল। এই প্রজেক্টটি বছরের পর বছর ধরে এই ডিবাগ কর্মসূচির মূল চালিকাশক্তি হিসেবে কাজ করছে। চলতি বছরের শুরুর দিক পর্যন্ত অ্যালফাবেটের একটি সহযোগী প্রতিষ্ঠান হিসেবে থাকা ভেরিলি, মূলত রোগব্যাধি ও বৈশ্বিক স্বাস্থ্য সমস্যা মোকাবিলায় প্রযুক্তি এবং ডেটা সায়েন্স ব্যবহার করে থাকে।
দ্য গার্ডিয়ানকে পাঠানো একটি ইমেইলে ভেরিলি ডটকম জানিয়েছে, ২০২৪ সালের ডিসেম্বর নাগাদ গুগল ‘ডিবাগ’ প্রকল্পটিকে সম্পূর্ণভাবে কিনে নেয় এবং ভেরিলির পোর্টফোলিও থেকে এটিকে নিজেদের অধীনে নিয়ে আসে।
ডিবাগ প্রকল্পের ২০১৬ সালের একটি ব্লগপোস্টে উল্লেখ করা হয়েছে যে, প্রায় এক দশক আগে এই কর্মসূচিটি প্রাণঘাতী মশা দমনে প্রযুক্তিভিত্তিক সমাধান খোঁজার কাজ শুরু করেছিল।
গুগলের মতে, মশা দমনের অন্যান্য প্রচলিত পদ্ধতিগুলো তেমন কার্যকর প্রমাণিত হয়নি। যেমন, মশার ওষুধ বা কীটনাশক স্প্রে করা পরিবেশের জন্য ক্ষতিকর ও বিষাক্ত হতে পারে এবং সময়ের সঙ্গে সঙ্গে মশার ওপর এর কার্যকারিতাও কমে যায়। এছাড়া, মশার প্রজননক্ষেত্র হিসেবে গড়ে ওঠা সমস্ত পানির উৎস খুঁজে বের করা এবং তা পরিষ্কার করা অত্যন্ত কঠিন কাজ।
গুগলের এই পদ্ধতিটি অবশ্য একদম নতুন বা অনন্য কিছু নয়। কোম্পানিটি ‘স্টেরাইল ইনসেক্ট টেকনিক’ (বন্ধ্যা কীটপতঙ্গ প্রযুক্তি) নামক একটি বৈজ্ঞানিক পদ্ধতির সাহায্য নিচ্ছে, যা বিশেষজ্ঞরা গত কয়েক দশক ধরে বিভিন্ন ক্ষতিকারক কীটপতঙ্গ দমনে ব্যবহার করে আসছেন। মশা ও অণুজীবের মিথস্ক্রিয়া নিয়ে গবেষণা করা ইউনিভার্সিটি অব ফ্লোরিডার সহকারী অধ্যাপক এরিক ক্যারাগাটা ইউএসএ টুডেকে জানিয়েছেন, মশা বন্ধ্যাত্বকরণে উলবাকিয়া ব্যাকটেরিয়ার ব্যবহার প্রায় ১৫ বছর ধরে চলে আসছে।
আপাতত গুগল ‘এডিস ইজিপ্টাই’নামক একটি নির্দিষ্ট প্রজাতির মশার ওপর তাদের প্রাথমিক প্রচেষ্টাগুলো চালাচ্ছে। এই মশাটি মূলত ডেঙ্গু, জিকা, পীতজ্বর এবং চিকুনগুনিয়ার মতো রোগ ছড়ানোর জন্য দায়ী।
গুগল জানিয়েছে, তাদের প্রকৌশলী ও বিজ্ঞানীরা এই সংবেদনশীল জীবগুলোর জন্য ‘স্বয়ংক্রিয় প্রজনন ব্যবস্থা’ তৈরি করতে ডেটা অ্যানালিটিক্স এবং সেন্সর ব্যবহার করছেন। এই প্রক্রিয়ার অন্যতম বড় চ্যালেঞ্জ হলো, এআই-চালিত কম্পিউটার ভিশন প্রযুক্তির মাধ্যমে নিখুঁতভাবে পুরুষ মশা থেকে নারী মশাকে আলাদা করা এবং অত্যন্ত নির্ভুলভাবে ‘সঠিক স্থানে ও সঠিক সংখ্যায়’ পুরুষ মশাগুলোকে প্রকৃতিতে অবমুক্ত করা।
ডিবাগ প্রকল্পটি তাদের প্রথম আন্তর্জাতিক গবেষণা ও উন্নয়নকেন্দ্র সিঙ্গাপুরে বেশ ভালো অগ্রগতি অর্জন করেছে। দেশটির জাতীয় পরিবেশ সংস্থার বরাত দিয়ে গুগল গত ১১ মে এক ব্লগপোস্টে জানায়, সিঙ্গাপুরে লাখ লাখ পুরুষ উলবাকিয়া মশা ছাড়ার পর সেখানে এডিস ইজিপ্টাই মশার সংখ্যা ৮০ থেকে ৯০ শতাংশ পর্যন্ত কমে গেছে। এছাড়া মশা ছাড়ার মাত্র ৬ থেকে ১২ মাসের মধ্যে ডেঙ্গু আক্রান্তের হার ৭০ শতাংশেরও বেশি হ্রাস পেয়েছে। মে মাসে গুগল ঘোষণা করেছে যে, তারা সিঙ্গাপুরের এই প্রকল্পটির পরিধি আরও বাড়াতে যাচ্ছে।
প্রকল্পটির প্রধান লাইনাস আপসন বলেন, ‘আমরা যখন সিঙ্গাপুরে প্রথম ডিবাগ চালু করি, তখন আমাদের লক্ষ্য ছিল প্রযুক্তির মাধ্যমে মশার উৎপাদন ও অবমুক্তকরণ প্রক্রিয়াকে এগিয়ে নেওয়া এবং এশিয়ার আরও বেশি মানুষের কাছে এর সুফল পৌঁছে দেওয়া। কারণ বিশ্বের মোট ডেঙ্গু আক্রান্তের ৭০ শতাংশই এই এশিয়া অঞ্চলে ঘটে থাকে। সিঙ্গাপুরে আমাদের এই সাফল্য আমাদের সামনে এগিয়ে যাওয়ার আত্মবিশ্বাস জোগাচ্ছে।’
১৭ দিন আগে
বাধ্যতামূলক সেনাবাহিনীতে যোগদানের বিরোধিতায় ইসরায়েলজুড়ে বিক্ষোভ
ইসরায়েলে বাধ্যতামূলক সামরিক নিয়োগের বিরুদ্ধে বিক্ষোভ করেছেন হাজার হাজার রক্ষণশীল ইহুদি। এ সময় তারা বিভিন্ন স্থানে তারা সড়ক ও রেলপথ অবরোধ করেন, যানবাহনে আগুন ধরিয়ে দেন। এতে ইসরায়েলজুড়ে জনজীবন ও পরিবহন ব্যবস্থা অচল হয়ে পড়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২ জুন) ইসরায়েলের রাজধানী তেল আবিব ও জেরুজালেমের মতো গুরুত্বপূর্ণ শহরসহ বিভিন্ন স্থানে বিক্ষোভ অনুষ্ঠিত হয়েছে।
পুলিশ জানিয়েছে, বিক্ষোভকারীরা ইসরায়েলের গুরুত্বপূর্ণ কয়েকটি সড়ক অবরোধ করেন। এ সময় একটি বিক্ষোভস্থলে এক সেনাসদস্যের ওপর হামলা করে বিক্ষুদ্ধ জনতা। সে সময় পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে পুলিশকে জলকামান ও ঘোড়া ব্যবহার করতে হয়েছে।
এই বিক্ষোভের ফলে ইসরায়েলের কেন্দ্রীয় অঞ্চলগুলো কার্যত অচল হয়ে পড়ে। জেরুজালেম ও তেল আবিব মহানগর এলাকায় বিশাল জনসমাগমের কারণে বেশ কয়েকটি মহাসড়ক বন্ধ হয়ে যায়। পাশাপাশি সেখানে গণপরিবহন চলাচলও সাময়িকভাবে স্থগিত ছিল।
ইসরায়েলে অধিকাংশ ইহুদি নারী ও পুরুষের জন্য সামরিক সেবা বাধ্যতামূলক। তবে দীর্ঘদিন ধরে সেখানে রাজনৈতিকভাবে প্রভাবশালী রক্ষণশীল ইহুদিরা এই বাধ্যবাধকতা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন। ধর্মীয় শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পূর্ণকালীন পড়াশোনা করতে এই সম্প্রদায়কে সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছিল। কিন্তু দীর্ঘদিনের যুদ্ধের ফলে বর্তমানে তাদের সেই অব্যাহতি ব্যবস্থা অনিশ্চয়তার মধ্যে পড়েছে।
আবার অনেক ইসরায়েলি রক্ষণশীল ইহুদিদের দীর্ঘদিনের এই অব্যাহতি ব্যবস্থায় অসন্তুষ্ট। তাদের মতে, বর্তমানে সেখানে সেনাবাহিনী চরম চাপের মধ্যে রয়েছে। ফলে অনেক নাগরিককে একাধিকবার সংরক্ষিত সেনাসদস্যের দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এমন সময়ে রক্ষণশীল ইহুদিদের সামরিক সেবার দায়িত্ব থেকে ছাড় দেওয়া ন্যায়সঙ্গত নয় বলে দাবি তাদের।
এদিকে, এ বিষয়টি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর ক্ষমতাসীন সরকারের মধ্যেও বিভাজন সৃষ্টি করেছে। রক্ষণশীল ইহুদিরা সরকারের প্রতি তাদের সমর্থন প্রত্যাহার করেছে। ফলে চলতি বছরে নির্ধারিত সময়ের আগেই নির্বাচন অনুষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
একটি সংসদীয় কমিটির তথ্য অনুযায়ী, প্রতি বছর প্রায় ১৩ হাজার রক্ষণশীল ইহুদি তরুণ ১৮ বছর বয়সে সামরিক নিয়োগের উপযুক্ত হন। তবে তাদের মধ্যে ১০ শতাংশেরও কম শেষ পর্যন্ত সেনাবাহিনীতে যোগ দেন।
অন্যদিকে, সেনাসদস্যের ঘাটতি মোকাবিলায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনী বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে। বর্তমানে অধিকাংশ ইহুদি পুরুষকে প্রায় তিন বছর সামরিক সেবা দিতে হয়। এরপর তাদের দীর্ঘ সময় সংরক্ষিত সেনাসদস্য হিসেবেও দায়িত্ব পালন করতে হয়। ইহুদি নারীদের জন্য এই বাধ্যতামূলক সামরিক সেবার মেয়াদ দুই বছর।
জেরুজালেমের এক বিক্ষোভকারী বলেন, ‘আমরা রক্ষণশীল সম্প্রদায় দৃঢ়প্রতিজ্ঞ। আমরা এই বিক্ষোভকে আমাদের অস্তিত্বের লড়াই হিসেবে দেখছি। আমাদের দৃষ্টিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীতে যোগ দেওয়া মানে ধর্ম ত্যাগ করা। আমরা আমাদের ইহুদি ধর্ম ছাড়তে চাই না। তাই আমাদের কাছে এটি নিজেদের অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখার লড়াই।’
তিনি আরও বলেন, ‘হাজার হাজার রক্ষণশীল ইহুদিকে জোর করে সেনাবাহিনীতে নেওয়ার কোনো উপায় নেই।’
বিক্ষোভকারীদের প্ল্যাকার্ড বহন করতে দেখা যায়, যাতে লেখা ছিল, ‘জায়নিস্ট হিসেবে বেঁচে থাকার চেয়ে আমরা ইহুদি হিসেবে মরতে রাজি’ এবং ‘জায়নিস্ট ধর্মের স্বার্থে পরিচালিত সেনাবাহিনীতে আমরা সেবা দিতে অস্বীকৃতি জানাই।’
ইসরায়েলের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশই রক্ষণশীল সম্প্রদায়ের সদস্য। একইসঙ্গে এই সম্প্রদায়ে সেখানে সবচেয়ে দ্রুত বর্ধনশীল জনগোষ্ঠী। ঐতিহ্যগতভাবে তারা পূর্ণকালীন ধর্মীয় শিক্ষায় নিয়োজিত ছিলেন। তাই দীর্ঘদিন ধরে এই সম্প্রদায়ের লোকেরা সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি পেয়ে আসছেন।
১৯৪৮ সালে ইসরায়েল রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার সময় এই ব্যবস্থার সূচনা হয়। সে সময় গণহত্যায় ধ্বংস হয়ে যাওয়া ইহুদি শিক্ষাব্যবস্থাকে পুনরুজ্জীবিত করতে রক্ষণশীল শিক্ষার্থীদের ধর্মীয় অধ্যয়নে নিয়োজিত করা হয়েছিল।
তবে রক্ষণশীল সম্প্রদায়ের সামরিক সেবা থেকে এই অব্যাহতি এবং ২৬ বছর বয়স পর্যন্ত ধর্মীয় শিক্ষার্থীদের সরকারি ভাতা দেওয়ার বিষয়টি দীর্ঘদিন ধরেই বহু ইসরায়েলির অসন্তোষের কারণ হয়ে আছে।
এদিকে, ইসরায়েলকে বর্তমানে গাজা, লেবানন ও সিরিয়ায় একযোগে সামরিক উপস্থিতি বজায় রাখতে হচ্ছে। পাশাপাশি ইরানের সঙ্গেও সংঘাতে জড়িত পড়েছে তারা। ফলে তাদের সেনাবাহিনী জনবল সংকট ও তীব্র চাপের মধ্যে রয়েছে।
২০১৭ সালে ইসরায়েলের সুপ্রিম কোর্ট রক্ষণশীলদের সামরিক সেবা থেকে অব্যাহতি ব্যবস্থাকে অবৈধ ঘোষণা করে। তবে আদেশ বাস্তবায়নে সরকারের গড়িমসির কারণে এই অব্যাহতি ব্যবস্থা এখনও কার্যকর রয়েছে।
ইসরায়েলের ইহুদি সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগোষ্ঠীর কাছে বাধ্যতামূলক সামরিক সেবা জাতীয় ঐক্য এবং প্রাপ্তবয়স্ক জীবনের একটি গুরুত্বপূর্ণ ধাপ হিসেবে বিবেচিত হয়। তবে অপেক্ষাকৃত বিচ্ছিন্ন রক্ষণশীল সম্প্রদায়ের অনেকেই আশঙ্কা করেন, সেনাবাহিনীতে যোগ দিলে তরুণরা ধর্মনিরপেক্ষ সংস্কৃতির সংস্পর্শে চলে যাবে।
১৭ দিন আগে
লড়াই কমাতে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সঙ্গে সমঝোতার দাবি ট্রাম্পের
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দাবি করেছেন, ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে আলাপ এবং মধ্যস্থতাকারীদের মাধ্যমে লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে যোগাযোগের পর দুপক্ষই লড়াইয়ের তীব্রতা কমাতে সমঝোতায় পৌঁছেছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১ জুন) নেতানিয়াহুর সঙ্গে ফোনালাপের পর সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প এই দাবি করেন।
বিগত সময়গুলোর তুলনায় সম্প্রতি ইসরায়েলি বাহিনী লেবাননের মধ্যে তাদের সবচেয়ে গভীরে অনুপ্রবেশ করেছে। ট্রাম্প ঘোষণা দেন, কোনো ইসরায়েলি সেনা বৈরুতে যাবে না এবং যারা ওখানে যাওয়ার চেষ্টা করছিল, তাদের ইতোমধ্যেই ফেরত পাঠানো হয়েছে।
তিনি বলেন, সকল ধরনের গোলাগুলি ও সহিংসতা বন্ধ করতে সম্মত হয়েছে হিজবুল্লাহ। ইসরায়েল তাদের ওপর হামলা করবে না এবং তারাও ইসরায়েলের ওপর হামলা চালাবে না।’
নেতানিয়াহু এই ফোনালাপের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তবে তিনি এটিকে সংযম হিসেবে দেখার চেয়ে একটি সতর্কবার্তা হিসেবে তুলে ধরতে চেয়েছেন। তিনি বলেন, তিনি ট্রাম্পকে জানিয়েছেন যে হিজবুল্লাহর হামলা বন্ধ না হলে লেবাননের রাজধানী বৈরুতের লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েল আঘাত হানবে। সেই সঙ্গে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ‘পরিকল্পনা অনুযায়ী’ তাদের কাজ চালিয়ে যাবে বলেও উল্লেখ করেছেন তিনি।
এ কথার প্রতিক্রিয়ায় হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে এখনও কোনো বক্তব্য পাওয়া যায়নি।
এপ্রিলের মাঝামাঝি থেকে উভয়পক্ষই একটি যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছিল। কিন্তু চুক্তি ভেঙে ইসরায়েল লেবাননে হামলা শুরু করলে হিজবুল্লাহ পুনরায় পাল্টা হামলা শুরু করে। যদিও ইসরায়েল নিজেদের এই হামলাকে আত্মরক্ষা হিসেবে চালিয়ে দিতে চাইছে, তবে এই লড়াই ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ক্ষেত্রে প্রস্তাবিত চুক্তির পথে একটি বড় বাধা হিসেবে দাঁড়িয়েছে। তেহরান চায়, যেকোনো চুক্তিতে লেবানন, বিশেষ করে হিজবুল্লাহ অন্তর্ভুক্ত থাকুক।
যুক্তরাষ্ট্রে লেবাননের দূতাবাসের জারি করা এক বিবৃতি অনুযায়ী, মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিওর একটি প্রস্তাবে লেবানন কর্তৃপক্ষ হিজবুল্লাহর অনুমোদন নিশ্চিত করেছে। প্রস্তাবটিতে বলা হয়েছে, ইসরায়েল বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হামলা করবে না এবং হিজবুল্লাহও উত্তর ইসরায়েলে কোনো ধরনের সহিংসতা করবে না।
ট্রাম্পের বার্তার কয়েক মুহূর্ত পরই ইসরায়েল লেবানন থেকে ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণ শনাক্ত করে এবং উত্তর ইসরায়েলের কিছু অংশের বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে সরে যাওয়ার জন্য সতর্ক করে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২ জুন) ও আগামীকাল বুধবার (৩ জুন) ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ওয়াশিংটনে বৈঠক করার কথা রয়েছে, যেখানে লেবাননের আলোচকরা একটি পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবের পাশাপাশি ইসরায়েলে হামলার পরিধি অনেকাংশে কমানোর ব্যাপারে আলোচনা করবেন বলে জানা গেছে।
ট্রাম্পের মন্তব্যের পরও বৈরুতের শহরতলিতে ইসরায়েলের হামলার নির্দেশ
ট্রাম্পের মন্তব্য এমন এক সময়ে সামনে এল, যখন ইসরায়েল সরকার বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে হামলার নির্দেশ দিয়েছে। অপরদিকে, ইসরায়েলের উপকূলীয় শহর হাইফার উপকণ্ঠসহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট নিক্ষেপ করেছে হিজবুল্লাহ।
এ বিষয়ে নেতানিয়াহু এবং ইসরায়েলি প্রতিরক্ষামন্ত্রী ইসরায়েল কাৎস এক যৌথ বিবৃতিতে বলেছেন, হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে বারবার যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন করা হচ্ছে। আমাদের শহর ও নাগরিকদের ওপর হামলার পরই আমরা এই পাল্টা হামলার নির্দেশ দিয়েছি।
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর আরবি ভাষার মুখপাত্র এক্সে একটি পোস্টে জানান, এখানকার সব বাসিন্দাদের শহরতলি ছেড়ে এখনই চলে যাওয়া উচিৎ। তিনি আরও বলেছেন, হিজবুল্লাহ যদি ইসরায়েলি জনবসতিতে হামলা চালিয়ে যায়, তবে ইসরায়েলও হিজবুল্লাহ-সমর্থিত বৈরুতের দাহিয়েহ এলাকায় ব্যাপক হামলা শুরু করবে।
ইসরায়েলের পক্ষ থেকে ওই সতর্কবার্তা দেওয়ার পর আজ (সোমবার) বিপুল সংখ্যক মানুষকে দাহিয়েহ থেকে পালিয়ে যেতে দেখা গেছে। এর ফলে ওই এলাকা থেকে বের হওয়ার সড়কগুলোতে যানজটের সৃষ্টি হয়েছে।
মোহাম্মদ ফারহাত (২৩) নামের এক বিশ্ববিদ্যালয়েরর শিক্ষার্থী তার ভাই ও বাবা-মাকে নিয়ে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলি হারেত হরিক থেকে পালিয়ে অন্য এক জায়গায় যাচ্ছিলেন।
জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘আমরা চিন্তিত। আমি এতে অভ্যস্ত, কিন্তু মূলত আমার বাবা-মায়ের নিরাপত্তার কথা ভেবে চলে যাচ্ছি।’
রাতভর ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর পাল্টাপাল্টি গোলাবর্ষণ
দক্ষিণ লেবাননে রাতভর ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক সিরীয় নাগরিকসহ ৬ জন নিহত হয়েছেন বলে রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি জানিয়েছে।
ইসরায়েল এই প্রধান শহরের কাছাকাছি অন্যান্য শহর ও গ্রামে আঘাত হেনেছে, যা কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ বোফোর্ট প্রাসাদ এবং সম্প্রতি ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর দখল করা অন্যান্য শহরগুলোর কাছাকাছি অবস্থিত।
স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, সোমবার বিকেলে বন্দর নগরী টায়ারে একটি বিমান হামলায় জাবাল আমেল হাসপাতালের ব্যাপক ক্ষতি হয়েছে। মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে প্রকাশ করা একটি ভিডিওতে হাসপাতালের ভেতরে আতঙ্কিত নারী ও শিশুদের দেখা গেছে। সেই সঙ্গে হাসপাতালের জানালার কাঁচ ভেঙে চূর্ণ-বিচূর্ণ হয়ে যাওয়ার দৃশ্যও দেখা গেছে।
এদিকে, ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তাদের বিমান বাহিনী লেবানন থেকে ইসরায়েলি ভূখণ্ডের দিকে উৎক্ষেপণ করা দুটি ক্ষেপণাস্ত্র এবং দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি সৈন্যরা যেখানে কাজ করছে, সেই এলাকায় একটি সন্দেহভাজন আকাশযান প্রতিহত করেছে। তবে তারা কোনো হতাহতের খবর পায়নি বলে জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহ আজ (সোমবার) ভোরে জানায়, তারা লিটানি নদীর ঠিক উত্তরে জাওতার আল-শারকিয়াহতে ইসরায়েলি সৈন্যদের ওপর হামলা চালিয়েছে। এছাড়া সীমান্ত থেকে বেশ কয়েক মাইল দক্ষিণে তিবিরিয়াসে ইসরায়েলি সামরিক অবকাঠামোতে আঘাত হেনেছে।
ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের আসন্ন বৈঠক
যুক্তরাষ্ট্রের রাজধানীতে ইসরায়েল-লেবানন প্রত্যক্ষ আলোচনার পরবর্তী দফার ঠিক আগেই সর্বশেষ এই হামলাগুলো ঘটল। হিজবুল্লাহ প্রত্যক্ষ আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে এবং ইরানের চাপের ওপর ভরসা রাখছে, যারা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে তাদের আলোচনায় লেবাননে যুদ্ধ অবসানের দাবি জানিয়েছে।
এপ্রিলে ওয়াশিংটনে শুরু হওয়া ইসরায়েল-লেবানন আলোচনার আগে দেশদুটোর মধ্যে তিন দশকেও এমন কোনো আলোচনা হয়নি। তাদের মধ্যে কোনো আনুষ্ঠানিক কূটনৈতিক সম্পর্কও নেই।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সঙ্গে আলাপকালে লেবাননের একজন কূটনৈতিক কর্মকর্তা জানান, তীব্র উত্তেজনা সত্ত্বেও বৈরুত সংঘাতের অবসান ঘটাতে আলোচনা চালিয়ে যেতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি সোমবার দাবি করেছেন, ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে যেকোনো যুদ্ধবিরতি চুক্তি মানে ‘লেবাননসহ সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতি।’
ইরানের এই শীর্ষ কূটনীতিক এক্স পোস্টে বলেন, ‘একটি ফ্রন্টে এর লঙ্ঘন মানে সব ফ্রন্টে যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন।’
বেশিরভাগ ক্ষেত্রে নিরাপদ ছিল লেবাননের রাজধানী
মে মাসে বৈরুতের দক্ষিণ শহরতলিতে দুটি লক্ষ্যভিত্তিক হামলা ছাড়া যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে লেবাননে তেমন কোনো বিমান হামলা হয়নি।
সৌদি আরব লেবাননে ইসরায়েলের হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেছে যে, তারা এই ছোট ভূমধ্যসাগরীয় দেশে ইসরায়েলের প্রবেশকে ‘দৃঢ়ভাবে প্রত্যাখ্যান’ করে। সৌদি পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ইসরায়েলকে লেবাননের আরও ভেতরে যাওয়া থেকে বিরত রাখার আহ্বান জানিয়েছে।
হিজবুল্লাহর অন্যতম প্রধান মিত্র লেবাননের পার্লামেন্ট স্পিকার নাবিহ বেরি চলতি সপ্তাহের রবিবার এক বিবৃতিতে বলেন, তিনি এই সশস্ত্র গোষ্ঠীর ‘যুদ্ধবিরতির প্রতি পূর্ণ, ব্যাপক এবং তাৎক্ষণিক প্রতিশ্রুতির’ গ্যারান্টি দিতে পারেন। কিন্তু ইসরায়েলকে তাদের আগ্রাসন বন্ধ করতে কে বাধ্য করবে?’
লেবাননের প্রেসিডেন্ট জোসেফাউন সোমবার বলেছেন, তার সরকার ‘সাধারণভাবে লেবাননের মানুষের, বিশেষ করে দক্ষিণাঞ্চলের মানুষের কষ্ট’ দূর করতে কাজ চালিয়ে যাচ্ছে। পরে তিনি আলোচনার প্রতি বৈরুতের প্রতিশ্রুতি পুনর্ব্যক্ত করে একটি বিবৃতি জারি করেন এবং বলেন যে আলোচনা যুদ্ধের চেয়ে ‘নিরাপদ’।
জাতিসংঘের সহকারী মহাসচিব মার্থা পোবি নিরাপত্তা পরিষদের এক জরুরি বৈঠকে বলেন, লেবাননে ইসরায়েলের প্রবেশ লেবাননের আঞ্চলিক অখণ্ডতা এবং ২০০৬ সালের কাউন্সিলের প্রস্তাবকে লঙ্ঘন করে। ওই প্রস্তাবে ইসরায়েলকে লেবাননের সঙ্গে জাতিসংঘ-নির্ধারিত সীমান্তের দক্ষিণে প্রত্যাহার করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল।
তিনি হিজবুল্লাহর বিরুদ্ধেও ওই প্রস্তাব লঙ্ঘনের অভিযোগ আনেন, যা এই সশস্ত্র গোষ্ঠীকে নিরস্ত্রীকরণের নির্দেশ দেয়।
মার্কিন রাষ্ট্রদূত মাইক ওয়াল্টজ বলেছেন, ‘প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী হিজবুল্লাহ যদি অবিলম্বে হামলা বন্ধ করে এবং লেবানন সরকার দেশটিতে পূর্ণ সার্বভৌমত্ব প্রতিষ্ঠা করে দেশের পুনর্গঠন এবং জনগণকে ঘরে ফিরিয়ে আনে, তবে উত্তেজনা হ্রাস ও দ্রুত শান্তি ফিরবে।’
জাতিসংঘে লেবাননের রাষ্ট্রদূত আহমদ আরাফা ‘কূটনীতিকে একটি সুযোগ দেওয়ার লক্ষ্যে গঠনমূলক প্রচেষ্টা’ এবং ট্রাম্পের সাম্প্রতিক উদ্যোগের জন্য ট্রাম্প প্রশাসনের প্রশংসা করেন।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে সাম্প্রতিক লড়াইয়ে লেবাননে ৩ হাজার ৪৩৩ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০ লক্ষাধিক মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
ইসরায়েলের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দক্ষিণ লেবাননে রাতভর হিজবুল্লাহর ড্রোন হামলায় এক সৈন্য নিহত হয়েছেন। হিজবুল্লাহর সহজে শনাক্ত না হওয়া ফাইবার অপটিক ড্রোনের ব্যবহার ইসরায়েলি সামরিক বাহিনীর জন্য মোকাবিলা করা কঠিন হচ্ছে।
নেতানিয়াহুর কার্যালয়ের মতে, দক্ষিণ লেবাননে বা তার কাছাকাছি এলাকায় অন্তত ২৬ জন ইসরায়েলি সৈন্য এবং একজন প্রতিরক্ষা ঠিকাদার নিহত হয়েছেন। এছাড়া উত্তর ইসরায়েলে ২ জন বেসামরিক নাগরিকও নিহত হয়েছেন।
১৭ দিন আগে
ইউক্রেনে রাশিয়ার ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১১
রাজধানী কিয়েভসহ ইউক্রেনের বিভিন্ন স্থানে ফের ব্যাপক ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১১ জন নিহত, বেশকিছু মানুষ আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১ জুন) দিবাগত রাতে এ হামলা চালানো হয়। ক্ষতিগ্রস্ত ভবনের ধ্বংসস্তূপের নিচে বহু মানুষ আটকা পড়েছেন বলে জানিয়েছে ইউক্রেনীয় কর্তৃপক্ষ।
ইউক্রেনের রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা সংস্থা টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানায়, রাজধানী কিয়েভে অন্তত চারজন নিহত এবং তিন শিশুসহ ৫৮ জন আহত হয়েছেন। শহরের আটটি জেলায় আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
দেশটির অন্যান্য এলাকাতেও হামলার খবর পাওয়া গেছে। মধ্যাঞ্চলীয় নিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রুশ হামলায় দিনিপ্রো শহরে অন্তত ছয়জন নিহত এবং ৩৬ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে জরুরি সেবা সংস্থা।
এদিকে, হামলার স্থানে উদ্ধারকর্মীরা পৌঁছানোর পর দ্বিতীয় দফা হামলায় এক উদ্ধারকর্মী নিহত হয়েছেন।
হামলায় একটি দোতলা আবাসিক ভবন এবং একটি চারতলা অ্যাপার্টমেন্ট ভবনের অংশবিশেষ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। বড় ভবনটির ধ্বংসস্তূপের নিচে কয়েকজন আটকা পড়েছেন।
সারা রাত এবং আজ (মঙ্গলবার) ভোর পর্যন্ত বিস্ফোরণের শব্দ শোনা গেছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি কয়েকদিন আগেই সতর্ক করে বলেছিলেন, রাশিয়া নতুন করে বড় ধরনের হামলার প্রস্তুতি নিচ্ছে। তিনি জনগণকে বিমান হামলার সতর্কতা জারি হলে নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার আহ্বানও জানিয়েছিলেন।
কিয়েভের পোদিলস্কি জেলায় একটি নয়তলা ভবনের উপরের তলাগুলো আংশিক ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানেও ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকা পড়ার খবর পাওয়া গেছে। বিমান হামলার সতর্কতা বহাল থাকা অবস্থাতেই স্থানীয় সময় আজ ভোর পর্যন্ত উদ্ধার অভিযান চলছিল।
সোলোমিয়ানস্কি জেলায় ২০ তলা ও ২৪ তলা দুটি ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
রাশিয়ার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র হামলা মোকাবিলায় ইউক্রেন দীর্ঘদিন ধরে মিত্র দেশগুলোর কাছে আরও বেশি আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়ে আসছে। ইউক্রেনীয় বাহিনী বিপুলসংখ্যক ড্রোন ভূপাতিত করতে সক্ষম হলেও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র এখনও দেশটির আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার জন্য বড় চ্যালেঞ্জ হয়ে রয়েছে।
১৭ দিন আগে
ইরানের সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, কুয়েতে পাল্টা হামলা তেহরানের
চলতি সপ্তাহের শেষদিকে ইরান মার্কিন এমকিউ১ প্রিডেটর ড্রোন ভূপাতিত করার পর দেশটির রাডার ও ড্রোন নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনার মাঝেই দুই দেশের মধ্যকার সংঘাত ক্রমেই তীব্রতর হয়ে উঠছে। এর প্রভাব পড়ছে পুরো মধ্যপ্রাচ্য ও আন্তর্জাতিক জ্বালানির বাজারে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১ জুন) মার্কিন সামরিক বাহিনী এ হামলার তথ্য জানিয়েছে।
এদিকে, ইরানও তাদের পাল্টা হামলার কথা স্বীকার করেছে। একই সময়ে কুয়েত জানিয়েছে, তারা নিজেদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র প্রতহত করেছে।
সাম্প্রতিক পাল্টাপাল্টি হামলায় এটি স্পষ্ট হয়ে উঠেছে যে কয়েক সপ্তাহ ধরে চলা ইরান-যুক্তরাষ্ট্র যুদ্ধবিরতি এখন খুবই নাজুক অবস্থায় রয়েছে।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে এখনও নিজেদের নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে ইরান। এর ফলে বিশ্ববাজারে জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের অচলাবস্থা তৈরি হয়েছে। কারণ, বিশ্বে বাণিজ্য হওয়া তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাসের পাঁচভাগের একভাগ এই জলপথ দিয়েই পরিবহন হয়।
অন্যদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও ছড়িয়ে পড়ছে। ইসরায়েল লেবাননে লিতানি নদীর উত্তরের এলাকাগুলোতে নিজেদের দখল বাড়িয়েছে। একই সময়ে হিজবুল্লাহও ইসরায়েল লক্ষ্য করে ড্রোন হামলা চালিয়ে যাচ্ছে।
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানিয়েছে, স্থানীয় সময় শনি ও রবিবার ইরানের গেরুক শহর ও কেশম দ্বীপের আশপাশে তারা হামলা চালিয়েছে।
এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, এর আগে আন্তর্জাতিক জলসীমার উপরে উড়তে থাকা একটি মার্কিন এমকিউ ১ ড্রোন ভূপাতিত করে তেহরান। এর জবাবেই তারা এ হামলা চালিয়েছে।
সেন্টকমের দাবি, মার্কিন যুদ্ধবিমান দ্রুত অভিযান চালিয়ে ইরানের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, একটি গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টেশন এবং দুটি ড্রোন ধ্বংস করেছে। ইরানের এসব সামরিক স্থাপনা উপসাগরীয় অঞ্চলে চলাচলকারী মার্কিন জাহাজগুলোর জন্য হুমকি ছিল বলে দাবি তাদের।
তারা আরও জানায়, যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহিনী ধীরে ধীরে এমকিউ প্রিডেটর ড্রোনের ব্যবহার কমিয়ে আনছে। বর্তমানে তারা এমকিউ ৯ রিপার ব্যবহার করছে। তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেনাবাহিনীতে এখনও প্রিডেটর ড্রোন ব্যবহৃত হচ্ছে।
তবে এসব হামলায় কোনো মার্কিন সেনা আহত হননি বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
কুয়েতে হামলা প্রতিহত
এদিকে কুয়েত জানিয়েছে, সোমবার ভোরে তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা সক্রিয় হয়ে ওঠে। এ সময় তাদের আকাশসীমায় ঢুকে পড়া ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র লক্ষ্য করে তারা গুলি চালায়।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা আইআরএনএতে প্রকাশিত এক বিবৃতিতে দেশটির বিপ্লবী গার্ড দাবি করেছে, মার্কিন বাহিনী দেশটির একটি টেলিযোগাযোগ টাওয়ারে হামলা চালিয়েছে। এর জবাবে ইরানও পাল্টা হামলা চালিয়েছে।
তবে হামলার লক্ষ্যবস্তু কোথায় ছিল, তা বিবৃতিতে স্পষ্ট করে বলা হয়নি। ধারণা করা হচ্ছে, তারা কুয়েতের হামলার কথাই উল্লেখ করেছে। কারণ কুয়েতে যুক্তরাষ্ট্রের আর্মি সেন্ট্রালের মধ্যপ্রাচ্যভিত্তিক ফরোয়ার্ড কমান্ড অবস্থিত।
পরে ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র উৎক্ষেপণের ভিডিও প্রচার করা হয়। ভিডিওতে একটি ক্ষেপণাস্ত্রের গায়ে একটি স্টিকার দেখা যায়। স্টিকারে আঘাতপ্রাপ্ত মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ছবি, বন্ধ হরমুজ প্রণালির প্রতীক ও মধ্যপ্রাচ্য থেকে মার্কিন সেনা হটাও লেখা ছিল।
যুদ্ধবিরতি আলোচনা ঘিরে নতুন সংকট
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের এই পাল্টাপাল্টি হামলায় মধ্যপ্রাচ্যে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। তবে উত্তেজনার মধ্যেও দুই দেশ জানিয়েছে, আলোচনা এখনও চলছে। বিশেষ করে, ইরানের উচ্চমাত্রায় সমৃদ্ধ ইউরেনিয়ামের মজুত নিয়ে তাদের মধ্যে আলোচনা চলছে।
এরই মধ্যে এ সপ্তাহের শেষের দিকে ইরানের বন্দর অবরোধ অতিক্রমের চেষ্টা করে গাম্বিয়ার পতাকাবাহী একটি কার্গো জাহাজ। পরে জাহাজাটির ইঞ্জিন কক্ষে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায় যুক্তরাষ্ট্র।
বর্তমানে হরমুজ প্রণালি দিয়ে কিছু জাহাজ চলাচল শুরু হলেও বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহের ওপর চাপ এখনও রয়েছে। পাশাপাশি রাসায়নিক সার সরবরাহেও প্রভাব পড়েছে। এতে খাদ্যসংকটের আশঙ্কা আরও বেড়েছে। কারণ, বিশ্বে বাণিজ্য হওয়া রাসায়নিক সারের প্রায় ৩০ শতাংশই আসে উপসাগরীয় অঞ্চল থেকে।
এমন পরিস্থিতিতে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প শুক্রবার উপদেষ্টাদের সঙ্গে বৈঠক করেছেন। তবে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানো এবং হরমুজ প্রণালি আবার খুলে দেওয়ার বিষয়ে তিনি এখনও চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নেননি।
অন্যদিকে ইরান জানিয়েছে, এ বিষয়ে এখনও পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতা হয়নি।
সোমবার ভোরে নিজের ট্রুথ সোশ্যাল প্ল্যাটফর্মে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প আলোচনা নিয়ে আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন। পোস্টে চলমান হামলার বিষয়ে সরাসরি কিছু না বললেও সমালোচকদের উদ্দেশে মন্তব্য করেছেন তিনি।
তিনি বলেন, ‘ইরান একটি চুক্তি করতে চায় যেটি যুক্তরাষ্ট্র ও সব দেশের জন্য ভালো একটি চুক্তি হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘আপনারা শান্ত থাকুন এবং অপেক্ষা করুন। শেষ পর্যন্ত সব ঠিক হয়ে যাবে।’
১৮ দিন আগে
মিয়ানমারে একটি গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, নিহত অন্তত ৩৯
মিয়ানমারের জান্তা সরকারবিরোধী একটি গোষ্ঠীর নিয়ন্ত্রিত অঞ্চলের একটি গ্রামে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটেছে। এ ঘটনায় অন্তত ৩৯ জন নিহত হয়েছেন এবং আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭৫ জন।
চীনা সীমান্তের কাছে অবস্থিত কাওং টাট গ্রামে স্থানীয় সময় রবিবার (৩১ মে) দুপুর ১২টার দিকে এ দুর্ঘটনাটি ঘটে বলে আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে।
একজন উদ্ধারকর্মী সংবাদমাধ্যমটিকে জানিয়েছেন, নিহতদের মধ্যে মোট ৬টি শিশু ছিল। এই শিশুগুলোর মধ্যে এক বছর বয়সী একটি শিশুও ছিল।
এদিকে, বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, এই ভয়াবহ বিস্ফোরণের কারণে কাওং টাট গ্রামের ২০০টি বাড়ি এবং প্যান লন গ্রামের কাছে আরও ১০০টি বাড়ি পুরোপুরি ধ্বংস করেছে।
এলাকাটির নিয়ন্ত্রণকারী তা’আং ন্যাশনাল লিবারেশন আর্মি (টিএনএলএ) জানিয়েছে, খনি ও পাথর উত্তোলনে ব্যবহৃত বিস্ফোরক বিস্ফোরিত হয়ে এই দুর্ঘটনাটি ঘটেছে।
তারা বলেন, এই বিস্ফোরণের কারণে বহু স্থানীয় গ্রামের বহু মানুষ হতাহত হয়েছেন এবং তাদের বাড়িঘরের ক্ষতি হয়েছে।
ঘটনাস্থলের পরিস্থিতি সম্পর্কে অবগত একটি সূত্র এর আগে বিবিসিকে জানিয়েছিল যে, এই বিস্ফোরণে অন্তত ৫৫ জন মারা গেছেন। তবে আল জাজিরা টিএনএলএ মুখপাত্রের বরাত দিয়ে তাদের খবরে অন্তত ৩৯ জন মৃত্যু এবং ৭৫ আহত হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত করেছে।
১৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ায় একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে একাধিক গাড়ির সংঘর্ষে ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় বাসচালকের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার অভিযোগ আনা হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৯ মে) রাত আড়াইটার দিকে ভার্জিনিয়ার স্ট্যাফোর্ড কাউন্টিতে ইন্টারস্টেট ৯৫ মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
ঘটনাস্থলে গাড়িতে চড়ে একটি পরিবার ম্যাসাচুসেটস থেকে দক্ষিণ ক্যারোলিনায় বিয়ের অনুষ্ঠানে যোগ দিতে যাচ্ছিল। এ দুর্ঘটনায় ওই পরিবারের ৪ সদস্যই নিহত হয়েছেন।
ক্যারোলিনা বুবলিক নামের ওই পরিবারের এক সদস্য বলেন, দক্ষিণ ক্যারোলিনায় নির্ধারিত বিয়ের অনুষ্ঠানটি রবিবার অনুষ্ঠিত হওয়া কথা ছিল। তবে আনন্দের এই আয়োজনের মধ্যেই দিমিত্রি ও একাতেরিনা দোনচেভ এবং তাদের দুই সন্তান এমিলি ও মার্কের মৃত্যুতে আমাদের পরিবারে শোকের ছায়া নেমে এসেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আমরা খুব প্রিয় মানুষদের হারিয়েছি। পুরো একটি পরিবারকে হারিয়ে ফেললাম। তারা আমাদের খুব কাছের মানূষ ছিল।’
পুলিশ কর্তৃপক্ষ জানায়, শুক্রবার রাত প্রায় ২টা ৩৫ মিনিটে ভার্জিনিয়ার স্ট্যাফোর্ড কাউন্টিতে আন্তঃরাজ্য ৯৫ মহাসড়কে সড়ক মেরামতকাজ চলায় সেখানে কয়েকটি গাড়ি ধীরগতিতে চলছিল। এ সময় একটি মোটরকোচ বাস গাড়িগুলোর মধ্যে ঢুকে পড়ে। এর ফলে একাধিক গাড়ির সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ ঘটে।
পুলিশ আরও জানায়, বাসটি প্রথমে একটি শেভ্রোলেট গাড়িকে ধাক্কা দেয়। এ দুর্ঘটনায় শেভ্রোলেট গাড়িতে থাকা ম্যাসাচুসেটসের উরচেস্টারের বাসিন্দা ২৫ বছর বয়সী প্রিসিলা মাফালদাও নিহত হন। পরে সেটি গিয়ে দোনচেভ পরিবারের গাড়িটিকে আঘাত ধাক্কা দেয়। এতে তাদের পরিবারের ৪ জন নিহত হন।
মেরি ওয়াশিংটন হেলথকেয়ার জানিয়েছে, দুর্ঘটনায় আরও কয়েকজন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তবে আহতদের বেশিরভাগকে চিকিৎসা শেষে হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে।
ভার্জিনিয়া অঙ্গরাজ্যের পুলিশ জানিয়েছে, এ ঘটনায় বাসচালক ৪৮ বছর বয়সী জিং এস. দংয়ের বিরুদ্ধে অনিচ্ছাকৃত হত্যার দুটি অভিযোগ আনা হয়েছে। তিনি নিউইয়র্কের স্ট্যাটেন আইল্যান্ডের বাসিন্দা। তদন্তের অগ্রগতির ভিত্তিতে তার বিরুদ্ধে আরও অভিযোগ যুক্ত হতে পারে বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্ট্যাফোর্ড কাউন্টির প্রসিকিউটরদের কার্যালয় জানিয়েছে, বাসচালক জিং এস দংকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। দুর্ঘটনায় আহত হওয়ায় হাসপাতালে তার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি পুলিশি হেফাজতেই থাকবেন।
মামলার প্রসিকিউটররা এক বিবৃতিতে জানান, হাসপাতাল থেকে ছাড়া না পাওয়া পর্যন্ত দংয়ের প্রথম আদালতে হাজিরার তারিখ নির্ধারণ করা হবে না। এরই মধ্যে একজন ম্যাজিস্ট্রেট তাকে জামিন না দিয়ে হেফাজতে রাখার নির্দেশ দিয়েছেন।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, দং যে অবহেলায় গাড়ি চালাচ্ছিলেন, তার যথেষ্ট প্রাথমিক প্রমাণ পেয়েছেন তদন্তকারীরা।
১৯ দিন আগে
চীনে অবৈধ খনিতে ধস, নিহত ৫
চীনে একটি অবৈধ খনিতে ধস নেমে অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন।
রবিবার (৩১ মে) দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের ইউননান প্রদেশের হুইজে কাউন্টিতে ভোর সাড়ে ৪টার দিকে এ দুর্ঘনা ঘটে বলে জানিয়েছে চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।
তবে খনিটি কিসের, তা খবরে উল্লেখ করা হয়নি।
উদ্ধারকারীরা বাইউ গ্রামের ওই স্থানে আটকে পড়া ৬ জনকে বের করে হাসপাতালে পাঠান, কিন্তু তাদের মধ্যে গুরুতর আহত পাঁচজন মারা যান। প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বেঁচে যাওয়া ব্যক্তির অবস্থা এখন স্থিতিশীল।
কর্তৃপক্ষ এই দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করছে।
মাত্র এক সপ্তাহ আগে সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ কয়লা খনি বিস্ফোরণের শিকার হয় চীন। ওই দুর্ঘটনায় উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশে কমপক্ষে ৮২ জন নিহত হয়েছিলেন।
সে সময় স্থানীয় কর্মকর্তারা বলেছিলেন, ওই খনির পরিচালকের পক্ষ থেকে গুরুতর আইনের লঙ্ঘন হয়েছিল।
১৯ দিন আগে