বিশ্ব
ইউক্রেনের ড্রোন হামলায় রাশিয়ায় নিহত ৮, আহত অন্তত ৬০
রাশিয়ার বিভিন্ন অঞ্চলে রাতভর ইউক্রেনীয় ড্রোন হামলায় আটজন নিহত এবং ৬০ জনের বেশি আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছেন রুশ কর্মকর্তারা।
রাশিয়ার ওপর ইউক্রেনের ড্রোন হামলা অব্যাহত রয়েছে। কিয়েভের বাহিনী রাশিয়ার অভ্যন্তরে জ্বালানি অবকাঠামো ও সামরিক স্থাপনাগুলোকে লক্ষ্য করে এসব হামলা চালাচ্ছে বলে দাবি করা হয়েছে। মস্কোর যুদ্ধ প্রচেষ্টাকে দুর্বল করা এবং ইউক্রেনে রাশিয়ার দীর্ঘস্থায়ী আগ্রাসনের প্রভাব রুশ নাগরিকদের অনুভব করানোই এই হামলার উদ্দেশ্য।
রুশ কর্মকর্তাদের বরাতে জানা গেছে, ইউক্রেনীয় ড্রোনের আঘাতে রাশিয়ার বড় অনলাইন খুচরা বিক্রেতা ওয়াইল্ডবেরিজের দুটি বড় গুদামে আগুন ধরে যায়। এর একটি তামবভ অঞ্চলের কতোভস্ক শহরে, যেটি ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ৩৬০ কিলোমিটার দূরে। অন্যটি মস্কোর প্রায় ৫০ কিলোমিটার পূর্বে ইলেকট্রোস্তাল শহরে অবস্থিত।
হামলার পর দুটি গুদামেই আগুন ছড়িয়ে পড়ে। তবে ওয়াইল্ডবেরিজের প্রতিষ্ঠাতা তাতিয়ানা কিম শনিবার সকালে জানান, কতোভস্কের গুদামের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে।
অন্যদিকে, রুশ অনলাইন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে ইলেকট্রোস্তালের স্থাপনায় ব্যাপক আগুন এবং আকাশে ঘন ধোঁয়ার কুণ্ডলী দেখা গেছে।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর আন্দ্রেই ভোরোবিয়ভ জানান, ইলেকট্রোস্তালের উত্তরে নোগিনস্ক শহরের একটি তেলের ডিপোতেও ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে। এতে সেখানেও আগুন ধরে যায়। ক্ষয়ক্ষতি কমাতে আশপাশের একটি প্রসূতি হাসপাতাল ও একটি আবাসিক ভবন থেকে মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি শনিবার টেলিগ্রাম পোস্টে জানিয়েছেন, ইউক্রেনের দূরপাল্লার হামলায় মস্কো ও তামবভ অঞ্চলের দুটি ‘গুরুত্বপূর্ণ লজিস্টিক স্থাপনা’ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ‘আগ্রাসী দেশ (রাশিয়া) এসব স্থাপনা ব্যবহার করে ড্রোন ও নেভিগেশন সরঞ্জাম তৈরির জন্য নিষেধাজ্ঞার আওতাভুক্ত উপাদান সরবরাহ করত।’ এছাড়া একটি তেল স্থাপনাতেও হামলা চালানো হয়েছে বলে জানান তিনি।
তামবভ অঞ্চলের গভর্নর ইয়েভগেনি পারভিশভ জানান, কতোভস্কের গুদামে রাতের শিফটে কাজ করা সাতজন শ্রমিক নিহত হয়েছেন এবং ২৫ জন আহত হয়েছেন।
মস্কো অঞ্চলের গভর্নর ভোরোবিয়ভ জানান, সেখানে ৩৭ জন আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে একজন পরে হাসপাতালে মারা যান।
ইলেকট্রোস্তাল শহরে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ একটি কিন্ডারগার্টেন ভবনেও আঘাত হানে বলে জানান ভোরোবিয়ভ। এতে আগুন ধরে গেলেও পরে তা নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
এছাড়া মস্কো থেকে প্রায় ১৮০ কিলোমিটার পূর্বে অবস্থিত ভ্লাদিমির শহরে একটি আবাসিক ভবনে ইউক্রেনীয় ড্রোন আঘাত হানে বলে জানান ওই অঞ্চলের গভর্নর আলেক্সান্ডার আভদেয়েভ। এ ঘটনায় অল্প সময়ের জন্য আগুন ধরে গেলেও কেউ হতাহত হয়নি।
জেলেনস্কি আরও জানান, ইউক্রেনের বিশেষ বাহিনী আজভ সাগর ও রাশিয়ার দখল করা এলাকাগুলোতে বিভিন্ন লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
এদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার ১৯টি অঞ্চল, অবৈধভাবে সংযুক্ত ক্রিমিয়া, আজভ সাগর ও কৃষ্ণসাগরের ওপর দিয়ে ৩৭৯টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ধ্বংস বা প্রতিহত করেছে।
১৬ দিন আগে
চীনে ভূমিধসে অন্তত ৮ জন নিহত, নিখোঁজ ৩৪
দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের চংকিং শহরে ভয়াবহ ভূমিধসে অন্তত আটজন নিহত এবং ৩৪ জন নিখোঁজ হয়েছেন। ওই অঞ্চলে এখনও টানা বৃষ্টি হচ্ছে। তবে, তার মধ্যেই উদ্ধারে অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শুক্রবার (১৭ জুলাই) সকালে চংকিং পৌরসভার পেংশুই কাউন্টির উপকণ্ঠে পাহাড়ের ঢাল থেকে বিপুল পরিমাণ পাথর ও মাটি ধসে পড়ে। এতে ১০টির বেশি আবাসিক ভবন মাটিচাপা পড়ে বলে জানায় দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, এ দুর্ঘটনায় ১০ জনকে জীবিত উদ্ধার করে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। এছাড়া নিরাপত্তার স্বার্থে এক হাজার ১০০ জনের বেশি মানুষকে অন্যত্র সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
পেংশুই কাউন্টি চংকিংয়ের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত এবং হুবেই ও গুইঝৌ প্রদেশের সীমানা ঘেঁষে অবস্থিত।
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, খাড়া পাহাড়ি এলাকায় ধ্বংসস্তূপ ছড়িয়ে রয়েছে। ক্ষতিগ্রস্ত একটি ভবনের ওপরের অংশ সম্পূর্ণ বিধ্বস্ত হয়েছে এবং আরেকটি ভবনের পাশে একটি গাড়ি অর্ধেক মাটিচাপা অবস্থায় রয়েছে। ধসে পড়া একটি পাথরের আকার ছিল বহুতল ভবনের চেয়েও বড়।
পেংশুই কাউন্টির পরিকল্পনা ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিভাগের প্রধান ওয়াং চুয়ানজুন শুক্রবার এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, ভূমিধসে প্রায় ১৮ হাজার ঘনমিটার পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নেমে এসেছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় একটি পাথরের আয়তন প্রায় তিন হাজার ঘনমিটার।
১৬ দিন আগে
মিয়ানমার উপকূলে দুই নৌকাডুবি, ৫ শতাধিক রোহিঙ্গা নিহতের আশঙ্কা
মিয়ানমারের নির্যাতিত রোহিঙ্গাদের বহনকারী দুটি নৌকা বঙ্গোপসাগরে ডুবে যাওয়ার ঘটনায় ৫ শতাধিক মানুষের মৃত্যু হয়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এ ঘটনায় তদন্ত চলছে বলে জানিয়েছেন সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা। যদিও ঘটনাগুলোর আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত করা হয়নি, তবুও সম্ভাব্য এই ভয়াবহ প্রাণহানিতে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে জাতিসংঘের শরণার্থী সংস্থা (ইউএনএইচসিআর) ও আন্তর্জাতিক অভিবাসন সংস্থা (আইওএম)।
ইউএনএইচসিআর ও আইওএমের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, প্রাথমিক তথ্য অনুযায়ী, জুনের শেষ দিকে দুটি নৌকা মিয়ানমারের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাখাইন রাজ্য থেকে যাত্রা শুরু করে। নৌকা দুটিতে বেশিরভাগই রোহিঙ্গা সম্প্রদায়ের মানুষ ছিলেন। তাদের সঙ্গে বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে আসা রোহিঙ্গারাও যাত্রা করেছিলেন। এর মধ্যে একটি নৌকায় প্রায় ২৫০ জন আরোহী ছিলেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। যাত্রা শুরুর কিছু সময় পরই নৌকাটির সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
অন্যদিকে, গত ৮ জুলাই প্রায় ২৮০ জন আরোহী বহনকারী আরেকটি নৌকা মিয়ানমারের আয়েয়ারওয়াডি উপকূলের কাছে ডুবে গেছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর বিবৃতিতে বলেছে, এই ঘটনায় হতাহতের সংখ্যা এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হওয়া যায়নি। তবে সম্ভাব্য এই ভয়াবহ প্রাণহানির ঘটনায় ইউএনএইচসিআর ও আইওএম গভীরভাবে উদ্বিগ্ন।
এদিকে, মিয়ানমারের স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ভারপ্রাপ্ত পুলিশ ব্রিগেডিয়ার জেনারেল সোয়ে লিন অং এ বিষয়ে কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।
এ বিষয়ে মিয়ানমারের প্রেসিডেন্টের কার্যালয় ও দেশটির আয়েয়ারওয়াডি অঞ্চলের সরকারের মুখপাত্রদের কাছে মন্তব্য জানতে চাওয়া হলেও তারা কোনো সাড়া দেননি।
সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মিয়ানমার ও বাংলাদেশের শরণার্থী শিবির থেকে হাজার হাজার রোহিঙ্গা নৌপথে পালিয়ে যাচ্ছে। তবে বছরের এই সময়ে তারা সাধারণত এমন ঝুঁকিপূর্ণ যাত্রা এড়িয়ে চলেন। কারণ, এ সময়ে মৌসুমি বৃষ্টিপাত বেশি হয় ও সমুদ্র উত্তাল থাকে।
আইওএম ও ইউএনএইচসিআর তাদের বিবৃতিতে আরও বলেছে, সাম্প্রতিক ভারী বৃষ্টি ও বন্যার কারণে এই অঞ্চলে সমুদ্রপথে যাত্রা বিপজ্জনক হয়ে উঠেছিল।
মিয়ানমারের নিরাপত্তা বাহিনীর সহিংসতার মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রাষ্ট্রহীন মুসলিম সংখ্যাগরিষ্ঠ রোহিঙ্গা এখনও বাংলাদেশের ঘনবসতিপূর্ণ শরণার্থী শিবিরগুলোতে বসবাস করছেন। এসব শরণার্থীর নিরাপদে মিয়ানমারে ফিরে যাওয়ার কোনো সুযোগ নেই। কারণ, ২০১৭ সালে হাজার হাজার রোহিঙ্গাকে হত্যা করেছিল মিয়ানমারের সামরিক বাহিনী। ওই বছর যুক্তরাষ্ট্র দেশটির সামরিক বাহিনীর কর্মকাণ্ডকে গণহত্যা হিসেবে ঘোষণা করেছিল, যারাই এখনও মিয়ানমারের ক্ষমতায় রয়েছে।
মিয়ানমারে বসবাসরত রোহিঙ্গারা কঠোর বিধিনিষেধের মধ্যে জীবনযাপন করছেন। তাদের অনেককে অন্তরীণ শিবিরে আটকে রেখেছে সরকার।
বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রসহ বিভিন্ন দেশের বৈদেশিক সহায়তা উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যাওয়ায় বাংলাদেশের শরণার্থী শিবিরে খাদ্য সহায়তা কমিয়ে দেওয়া হয়েছে। একই সময়ে রাখাইন রাজ্যের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে দেশটির সামরিক বাহিনী ও একটি জাতিগত সশস্ত্র সংগঠনের মধ্যে সংঘর্ষ চলছে।
মিয়ানমারে এই অস্থিরতার কারণে ক্রমেই সেখানে বসবাসরত রোহিঙ্গারা নৌকায় করে ঝুঁকিপূর্ণ সমুদ্রপথে মালয়েশিয়ায় যাওয়ার চেষ্টা করছেন। সমুদ্রে বিপজ্জনক যাত্রাপথে ইতোমধ্যে হাজার হাজার মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। নিহতদের মধ্যে নবজাতক, শিশু ও গর্ভবতী নারীরাও রয়েছেন। এছাড়া দেশটির স্থানীয় সামুদ্রিক কর্তৃপক্ষ অনেক ক্ষেত্রেই সাগরে ভাসমান রোহিঙ্গাদের উদ্ধার না করে ফেলে রাখে। এমনকি তারা বিপদে পড়া নৌকার খবর পেয়েও অনেক সময় কোনো ব্যবস্থা নেয় না।
বৃহস্পতিবার আইওএম ও ইউএনএইচসিআর জানিয়েছে, সর্বশেষ এই সম্ভাব্য নৌ-দুর্ঘটনা আবারও প্রমাণ করেছে, রোহিঙ্গাদের জন্য এখনও কোনো টেকসই সমাধান হয়নি। তাই বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া রোহিঙ্গাদের সহায়তায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়কে আরও সক্রিয় ভূমিকা পালন করার আহ্বান জানিয়েছে সংস্থাগুলো।
তারা বলেছে, রোহিঙ্গাদের সমুদ্রপথে অভিবাসন বিশ্বের অন্যতম প্রাণঘাতী অভিবাসন রুটে পরিণত হয়েছে। এসব পথে প্রাণহানি ঠেকাতে আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে আরও জোরালো উদ্যোগ নেওয়া জরুরি। এ জন্য অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম জোরদার, আশ্রয় ও সুরক্ষা নিশ্চিত এবং মানবপাচার ও চোরাচালান চক্রের বিরুদ্ধে কার্যকর ব্যবস্থা নিতে হবে।
ইউএনএইচসিআরের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে সাড়ে ৬ হাজারের বেশি রোহিঙ্গা নৌপথে পালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করেছেন। তাদের মধ্যে প্রায় ৯০০ জন নিহত বা নিখোঁজ হয়েছেন। নৌপথে দেশ ছাড়ার চেষ্টা করা রোহিঙ্গাদের জন্য এটিই সবচেয়ে প্রাণঘাতী বছর। এছাড়া বিশ্বের ঝুঁকিপূর্ণ শরণার্থী ও অভিবাসীদের সমুদ্রপথগুলোর মধ্যে এই পথেই মৃত্যুহার সবচেয়ে বেশি বলে জানিয়েছে সংস্থাটি।
১৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের অবরোধ পুনর্বহাল, মধ্যপ্রাচ্য থেকে জ্বালানি রপ্তানি বন্ধের হুমকি তেহরানের
ইরানের বন্দরগুলোর ওপর যুক্তরাষ্ট্র আবারও নৌ অবরোধ আরোপ করার পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেওয়া হবে বলে হুঁশিয়ারি দিয়েছে ইরান।
এদিকে, নতুন করে পাল্টাপাল্টি হামলা শুরু হওয়ায় হতাহতের সংখ্যা বাড়ছে। এর ফলে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তী চুক্তি ভেঙে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বাণিজ্যের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের লড়াই মধ্যপ্রাচ্যকে আবারও পূর্ণাঙ্গ যুদ্ধের দিকে ঠেলে দিতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরানে সর্বশেষ যুক্তরাষ্ট্রের রাতভর চালানো হামলায় ২৬০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। দেশটিতে যুক্তরাষ্ট্রের হামলার তীব্রতা আরও বাড়ছে বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ।
ইরান সরকারের মুখপাত্র ফাতেমেহ মোহাজেরানি জানান, সাম্প্রতিক কয়েক দিনে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় ৩০ জনের বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন। তবে তিনি এ বিষয়ে বিস্তারিত কিছু বলেননি।
যুক্তরাষ্ট্র প্রথমবার এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের বিরুদ্ধে নৌ অবরোধ আরোপ করেছিল। পরে জুনের মাঝামাঝি সময়ে ইরানের পারমাণবিক কর্মসূচিসহ বিভিন্ন বিষয়ে ৬০ দিনের আলোচনার সময়সীমা নির্ধারণ করে অন্তর্বর্তী চুক্তি স্বাক্ষর করে দুই দেশ। স্বাক্ষরের এক দিন পর হরমুজ প্রণালি থেকে অবরোধ তুলে নেয় যুক্তরাষ্ট্র। কিন্তু হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে সংঘাত আবারও তীব্র হওয়ায় শান্তি আলোচনা কার্যত স্থবির হয়ে পড়েছে।
এদিকে, ইরানের আধাসামরিক বাহিনী রেভল্যুশনারি গার্ড বুধবার হুঁশিয়ারি দিয়ে জানিয়েছে, অবরোধ বহাল থাকলে তারা মধ্যপ্রাচ্য থেকে সব ধরনের জ্বালানি রপ্তানি বন্ধ করে দেবে। তাদের দাবি, মধ্যপ্রাচ্য থেকে হয় সব দেশই তেল ও গ্যাস রপ্তানি করবে, নয়তো কেউই তা করতে পারবে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সোমবার অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দেওয়ার সময় হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ২০ শতাংশ ফি আরোপের কথা বলেছিলেন। তবে উপসাগরীয় মিত্র দেশগুলোর অনুরোধের পর অবরোধ পুনর্বহালের কয়েক ঘণ্টা আগেই তিনি সেই পরিকল্পনা বাতিল করেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের পাল্টাপাল্টি হামলা
অবরোধ পুনর্বহালের সঙ্গে সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রে ইরানে নতুন করে ব্যাপক হামলা চালায়। মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, সাত ঘণ্টাব্যাপী অভিযানে তারা বহু লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
বুধবার ইরানের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র হোসেইন কেরমানপুর হামলায় হতাহতের তথ্য প্রকাশ করেন। তবে কতজন নিহত হয়েছেন, তা তিনি উল্লেখ করেননি। তিনি জানান, এবারের হামলায় আগের যেকোনো সময়ের তুলনায় আহতের সংখ্যা অনেক বেশি।
ইরান কর্তৃপক্ষ তাৎক্ষণিকভাবে হামলার বিস্তারিত ব্যাখ্যা দেয়নি। তবে স্থানীয় প্রাথমিক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ওমান উপসাগর-সংলগ্ন ইরানের দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশে বড় ধরনের হামলা হয়েছে।
অন্যদিকে, বুধবার ভোরে ইরানের সম্ভাব্য ক্ষেপণাস্ত্র হামলার আশঙ্কায় বাহরাইন ও কুয়েতে সতর্কবার্তা জারি করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের প্রতিবেশী দেশগুলোকে প্রায় প্রতিদিনই এমন সতর্কতা দিতে হচ্ছে, যা যুদ্ধবিরতির পরিস্থিতিকে আরও নাজুক করে তুলেছে।
ইরান জানিয়েছে, তারা বাহরাইন, কুয়েত ও জর্ডানের লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে। জর্ডান জানিয়েছে, তারা ইরানের ছোড়া তিনটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে।
সেন্টকম প্রধান মার্কিন নৌবাহিনীর অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপার এক বিবৃতিতে বলেন, ‘ইরান প্রতিবেশী উপসাগরীয় আরব দেশগুলোর দিকে বহু ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ছুড়েছে। নিরীহ মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলে দেওয়া ইরানের অযৌক্তিক আগ্রাসনের জবাবে যুক্তরাষ্ট্রের বাহিনী প্রয়োজনীয় সামরিক পদক্ষেপ নিচ্ছে।’
বর্তমানে আরব সাগরে যুক্তরাষ্ট্রের অন্তত ১৯টি যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন রয়েছে। এর মধ্যে দুটি বিমানবাহী রণতরী ও এক হাজারের বেশি নৌসেনা বহনকারী একটি জাহাজ রয়েছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে শত শত সামরিক বিমান অভিযান পরিচালনা করছে বলে জানিয়েছে সেন্টকম।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করার পর থেকেই ইরান হরমুজ প্রণালিতে হামলা করে জাহাজ চলাচলে বাধা দিয়ে আসছে। এর ফলে বিশ্বব্যাপী তেল, সারসহ বিভিন্ন পণ্যের দাম দ্রুত বেড়ে যায়।
সম্প্রতি ইরান ওমানের কাছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক তত্ত্বাবধানে থাকা একটি বিকল্প নৌপথে চলাচলকারী জাহাজে হামলা চালায়। ওই নৌপথটি ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে। এ ঘটনাই সাম্প্রতিক সংঘাতের সূত্রপাত ঘটিয়েছে।
যুক্তরাষ্ট্র বলেছে, প্রয়োজনে তারা শক্তি প্রয়োগ করে প্রণালিটি আবারও সচল করবে। তবে বিশেষজ্ঞদের মতে, তা করতে হলে আরও বড় নৌবহর, এমনকি কয়েক দশ হাজার স্থলসেনার প্রয়োজন হতে পারে।
এদিকে, জাতিসংঘে ইরানের রাষ্ট্রদূত আমির সাঈদ ইরাভানি যুক্তরাষ্ট্রের চলমান হামলার কঠোর সমালোচনা করেছেন। রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা আইআরএনএর বরাত দিয়ে জাতিসংঘের মহাসচিবকে লেখা চিঠিতে তিনি জানান, ‘যুক্তরাষ্ট্রই আগ্রাসনকারী, তারা কোনোভাবেই ভুক্তভোগী নয়।’
হরমুজে ফি বাতিলের বদলে উপসাগরীয় বিনিয়োগের প্রস্তাব
মঙ্গলবার ট্রাম্প জানান, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের নেতারা তাকে ফোন করে হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচলে ফি আরোপ না করার অনুরোধ জানিয়েছেন। এর পরিবর্তে তারা যুক্তরাষ্ট্রে বড় অঙ্কের বিনিয়োগের প্রস্তাব দিয়েছেন।
ওভাল অফিসে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যের নেতারা বলেছেন, তারা জাহাজ চলাচলে ফি আরোপের বদলে যুক্তরাষ্ট্রে শত শত কোটি ডলার বিনিয়োগ করতে চান।’
তিনি আরও বলেন, ‘আমি সেই প্রস্তাবই বেশি পছন্দ করি। কারণ আমার মনে হয়, প্রণালি দিয়ে চলাচলের জন্য কারও কাছ থেকে ফি নেওয়া উচিত না।’
হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের ওপর ফি আরোপের পরিকল্পনা যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সাংঘর্ষিক ছিল। কারণ, যুক্তরাষ্ট্র সব সময়ই এ প্রণালি সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পক্ষে অবস্থান নিয়েছে।
মঙ্গলবার রাতে ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প জানান, আগামী দুই দিনের মধ্যে ইরানের বিরুদ্ধে আরও হামলা চালানো হবে। আলোচনা এগোতে না পারলে আগামী সপ্তাহে দেশটির সেতু ও বিদ্যুৎকেন্দ্রও হামলার লক্ষ্যবস্তু হতে পারে। এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্র একটি সেতুতে হামলা চালিয়েছে।
তিনি ইরানকে সতর্ক করে বলেন, ‘আমাদের সঙ্গে চুক্তি করুন, না হলে আপনাদের আর কিছুই অবশিষ্ট থাকবে না।’
১৯ দিন আগে
ব্যাংককের মিউজিক বারে অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ৩০
থাইল্যান্ডের রাজধানী ব্যাংককের একটি মিউজিক বারে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩০ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। আগুন লাগার কারণ এবং বারটি নিরাপত্তাবিধি মেনে পরিচালিত হচ্ছিল কি না, তা খতিয়ে দেখছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
ব্যাংকক মেট্রোপলিটন অ্যাডমিনিস্ট্রেশনের এক বিবৃতিতে বলা হয়, এ ঘটনায় ৭০ জনের বেশি আহত হয়েছেন। তাদের মধ্যে ২৪ জন এখনও আশঙ্কাজনক অবস্থায় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
গত রবিবার গভীর রাতে থাই রাজধানীর উত্তরাঞ্চলে অবস্থিত ‘রং বিয়ার না লাডফ্রাও’ বারে আগুন লাগে। ১৭ বছরের মধ্যে এটিই ব্যাংককের সবচেয়ে প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড। আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে দমকলকর্মীদের প্রায় আধঘণ্টা সময় লাগে।
থাই ভাষায় ব্রুয়ারি বা বিয়ার হল নামে পরিচিত এই বারটিতে একসঙ্গে সর্বোচ্চ ৬০০ জনের বসার ব্যবস্থা রয়েছে। তবে আগুন লাগার সময় সেখানে ঠিক কতজন উপস্থিত ছিলেন, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ জানিয়েছে বারটিতে আগুন লাগার কারণ এবং বারটি নিরাপত্তাবিধি মেনে পরিচালিত হচ্ছিল কি না, তা তদন্ত করা হচ্ছে। নিহতদের বেশিরভাগের মরদেহ জানালাবিহীন বাথরুমে পাওয়া গেছে। পুলিশের ধারণা, আগুন থেকে বাঁচতে তারা সেখানে আশ্রয় নিয়েছিলেন।
২০ দিন আগে
দুই আইএস সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করল ইরান
ইসলামিক রিপাবলিকের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের দায়ে দোষী সাব্যস্ত ইসলামিক স্টেট (আইএস) গোষ্ঠীর দুই সদস্যের মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করেছে ইরান।
মঙ্গলবার (১৪ জুলাই) দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
প্রতিবেদনে মৃত্যুদণ্ড কার্যকর হওয়া দুই ব্যক্তির নাম মোহিয়েদ্দিন আবদুল্লাহি ও হোসেইন পালানি বলে উল্লেখ করা হয়েছে। এতে বলা হয়, ইরাক ও সিরিয়ায় আইএসের আঞ্চলিক পরাজয়ের পর গড়ে ওঠা একটি আইএস সেলের সদস্য ছিলেন তারা। ওই সেলটি ইরানের ভেতরে হামলার পরিকল্পনা করেছিল বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, পরিকল্পনা বাস্তবায়নের আগেই ইরাক সীমান্তসংলগ্ন বামো পার্বত্য এলাকায় সেলটির আস্তানার সন্ধান পায় ইরানের নিরাপত্তা বাহিনী। পরে সেখানে পরিচালিত অভিযানে কয়েকজন জঙ্গি নিহত এবং অন্যদের গ্রেপ্তার করা হয়।
অভিযানে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের (আইআরজিসি) তিন সদস্যও নিহত হন। এ সময় অস্ত্র, গোলাবারুদ ও অন্যান্য সরঞ্জাম জব্দ করা হয় বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
ইরানের বিরুদ্ধে সশস্ত্র বিদ্রোহের অভিযোগে দুই ব্যক্তিকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। পরে দেশটির সুপ্রিম কোর্ট তাদের মৃত্যুদণ্ড বহাল রাখলে ফাঁসির মাধ্যমে সেই দণ্ড কার্যকর করা হয়। তবে মৃত্যুদণ্ড কোথায় কার্যকর করা হয়েছে, সে বিষয়ে বিচার বিভাগ কোনো তথ্য জানায়নি।
২০ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা ট্রাম্পের, মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে পাল্টাপাল্টি হামলা
ইরানের বিরুদ্ধে নতুন করে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ পুনর্বহালের ঘোষণা দিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এর কয়েক ঘণ্টা পরই দেশটির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্র। ফলে মধ্যপ্রাচ্যে সংঘাত আরও বিস্তৃত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। পাশাপাশি বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহ নিয়ে উদ্বেগ বাড়ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের হামলার জবাবে বাহরাইন, জর্ডান এবং হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে ইরান। এসব ঘটনায় একজন নাবিক নিহত ও ৮ জন আহত হয়েছে। ইরানের হামলার পর পাল্টা হামলার হুমকি দিয়েছে সংযুক্ত আরব আমিরাত।
বর্তমানে বিশ্বের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ নৌপথ হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে টানাপোড়েন চলছে। এর মধ্যেই উপসাগরীয় দেশগুলোতে পাল্টাপাল্টি হামলা ঘটেই চলেছে।
এদিকে, এই হামলার জেরে বিশ্ববাজারে তেলের দামও বেড়েছে। মঙ্গলবার আন্তর্জাতিক বাজারে অপরিশোধিত তেলের দাম বেড়ে এক মাসের মধ্যে সর্বোচ্চ ৮৪ ডলারের বেশি হয়েছে। যদিও যুদ্ধের সবচেয়ে তীব্র সময়ে দাম প্রায় ১২০ ডলারে পৌঁছেছিল, তবুও এ মূল্যবৃদ্ধির কারণে বিশ্বজুড়ে বিভিন্ন খাতে ব্যয় বাড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
পাশাপাশি ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধ বন্ধে হওয়া অন্তর্বর্তীকালীন চুক্তির ভিত্তিতে কার্যকর থাকা যুদ্ধবিরতিও আরও দুর্বল হয়ে পড়েছে। ৬০ দিনের ওই চুক্তির প্রায় অর্ধেক সময় পার হলেও এখন পর্যন্ত চূড়ান্ত সমঝোতায় পৌঁছানো সম্ভব হয়নি। ওই সমঝোতায় ইরানের বিতর্কিত পারমাণবিক কর্মসূচিসহ আরও কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে আলোচনা হওয়ার কথা ছিল।
হরমুজ প্রণালিতে টোল আদায় নিয়ে ট্রাম্পের নতুন সিদ্ধান্ত
যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, তারা আবু মুসা, বান্দার আব্বাস, বুশেহর, চাবাহার, জাস্ক এবং কোনারাক এলাকার আশপাশে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় ইরানের উপকূলীয় প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ঘাঁটি এবং সামুদ্রিক সক্ষমতাকে লক্ষ্যবস্তু করা হয়েছে।
ইরানও এসব এলাকায় হামলার বিষয় স্বীকার করেছে। তবে তারা তাৎক্ষণিকভাবে হতাহত বা ক্ষয়ক্ষতির কোনো তথ্য প্রকাশ করেনি।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী এক বিবৃতিতে জানায়, এই হামলাগুলো ইরানি বাহিনীর ওপর বড় ধরনের চাপ সৃষ্টি করবে। এর ফলে হরমুজ প্রণালিতে বেসামরিক মানুষ ও বাণিজ্যিক জাহাজে ইরানের হামলা চালানোর সক্ষমতা কমে যাবে।
সামরিক বাহিনীর ঘোষণার কিছুক্ষণ পর ট্রাম্প সাংবাদিকদের বলেন, ‘এটি যুক্তরাষ্ট্রের আরেকটি বড় হামলা। আমরা তাদের ওপর খুব কঠোরভাবে আঘাত হানছি। এই অভিযান চলতে থাকবে। এরপর কী হয়, সেটা দেখা যাবে। আমরা তাদের সব ধরনের আক্রমণাত্মক সক্ষমতা ধ্বংস করে দিচ্ছি এবং প্রণালির নিয়ন্ত্রণ আমাদের হাতে নিচ্ছি। আমরা সেখানে আবারও অবরোধ কার্যকর করছি।’
ট্রাম্প আরও জানান, হরমুজ প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজ থেকে অর্থ নেওয়ার বিষয়ে তিনি নতুন সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। তবে এর আগে তিনি বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালি ব্যবহারকারী জাহাজ থেকে কোনো অর্থ নেওয়া হবে না।
তিনি বলেন, ‘আমরা বিশ্বের অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি অঞ্চলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করছি। এতে আমাদের অর্থ ব্যয় হচ্ছে। তাই এই অঞ্চলে নিরাপত্তা দেওয়ার বিনিময়ে আমাদের অর্থ দিতে হবে।’
বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই অবস্থান যুক্তরাষ্ট্রের দীর্ঘদিনের নীতির সঙ্গে সম্পূর্ণভাবে সাংঘর্ষিক। এতদিন যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালিকে সবার জন্য উন্মুক্ত রাখার পক্ষে ছিল এবং সেখানে কোনো ধরনের টোল বা ফি আরোপের বিরোধিতা করে এসেছে। ২৮ ফেব্রুয়ারি যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে হামলা চালানোর আগ পর্যন্তও সেই নীতি বহাল ছিল।
বিশেষজ্ঞদের মতে, যুক্তরাষ্ট্র বা ইরান যে পক্ষই হোক, প্রণালি দিয়ে চলাচলকারী জাহাজের কাছ থেকে অর্থ আদায়ের চেষ্টায় আন্তর্জাতিকভাবে স্বীকৃত অবাধ নৌচলাচলের নীতির লঙ্ঘন হবে। এতে ওই অঞ্চলে উত্তেজনা আরও বাড়বে এবং মধ্যপ্রাচ্যের বাইরে বৈশ্বিক অর্থনীতিতেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব পড়বে।
উল্লেখ্য, বারবারি যুদ্ধ এবং ১৮১২ সালের যুদ্ধের সময় থেকেই যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনী আন্তর্জাতিক সমুদ্রপথে অবাধ নৌচলাচলের পক্ষে অবস্থান নিয়ে আসছে।
মধ্যপ্রাচ্যজুড়ে আবারও হামলা শুরু
এদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, মঙ্গলবার ভোরে ইরান হরমুজ প্রণালিতে দুটি তেলবাহী জাহাজে হামলা চালিয়েছে। এতে একজন নাবিক নিহত এবং ৮ জন আহত হয়েছেন।
দেশটির মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইরান ‘মোম্বাসা’ ও ‘আল বাহিয়াহ’ নামের দুটি ট্যাঙ্কার লক্ষ্য করে দুটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ছোড়ে। হামলার পর দুটি জাহাজেই আগুন ধরে যায়। তবে পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস (আইআরজিসি) এই হামলার দায় স্বীকার করেছে। এক বিবৃতিতে তারা দাবি করেছে, হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ দুটি একটি মাইন পাতা এলাকা দিয়ে যাচ্ছিল। এরপর তাদের লক্ষ্যবস্তু করে অচল করে দেওয়া হয়েছে। জাহাজ দুটিকে বারবার সতর্ক করার পরও নির্দেশনা উপেক্ষা করছিল।
অন্যদিকে, সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিহত নাবিক একজন ভারতীয় নাগরিক। এছাড়া আহতদের মধ্যে ছয়জন ভারতীয় ও দুজন ইউক্রেনের নাগরিক রয়েছেন।
মন্ত্রণালয় আরও জানায়, সংযুক্ত আরব আমিরাতের নিজেদের ভূখণ্ড ও জণগণের সুরক্ষায় প্রয়োজনীয় সব ব্যবস্থা নেওয়ার পূর্ণ অধিকার রয়েছে।
এর আগেও ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার আগে একই ধরনের ভাষা ব্যবহার করেছিল আমিরাত। মঙ্গলবার সকালে দুবাইয়ের আকাশে যুদ্ধবিমানের শব্দও শোনা গেছে।
এদিকে, আবুধাবিতে যুক্তরাষ্ট্রের দূতাবাস ও দুবাইয়ে যুক্তরাষ্ট্রের কনস্যুলেট এক সতর্কবার্তায় জানিয়েছে, আঞ্চলিক নিরাপত্তা পরিস্থিতির কারণে বুধবার পর্যন্ত সব ধরনের কনস্যুলার অ্যাপয়েন্টমেন্ট বাতিল করা হয়েছে।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সাম্প্রতিক বিমান হামলার জবাবে মঙ্গলবার ভোরে বাহরাইনেও নতুন করে হামলা চালিয়েছে ইরান।
হামলার সময় বাহরাইনে তিন দফা ক্ষেপণাস্ত্র সতর্কসংকেত বাজানো হয় এবং সাধারণ মানুষকে নিরাপদ আশ্রয়ে যেতে বলা হয়। তবে এ হামলায় কোনো ক্ষয়ক্ষতি বা হতাহতের তথ্য পাওয়া যায়নি।
অন্যদিকে, জর্ডানের সামরিক বাহিনীর বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা পেত্রা জানিয়েছে, তারা ইরান থেকে ছোড়া চারটি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে। জর্ডানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ঘাঁটি রয়েছে এবং সাম্প্রতিক দিনগুলোতে দেশটি ইরানের হামলারও শিকার হয়েছে।
ট্রাম্পের দাবি, পরীক্ষায় ব্যর্থ হয়েছে ইরান
সোমবার রক্ষণশীল রেডিও উপস্থাপক হিউ হিউইটকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, গত মাসে হওয়া চুক্তি ইরানকে পরীক্ষা করার জন্য তৈরি করা হয়েছিল।
তিনি বলেন, ‘আপনি যখন প্রতারকদের সঙ্গে কাজ করেন, তখন চুক্তির তেমন কোনো মূল্য থাকে না। তবে তারা সেই পরীক্ষায় উত্তীর্ণ হতে পারেনি।’
অন্যদিকে, ইরান দাবি করেছে, অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি অনুযায়ী হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ন্ত্রণ ও প্রয়োজন হলে ফি আদায়ের অধিকার তাদের রয়েছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র এই দাবির বিরোধিতা করছে।
ইরানের অভিযোগ, জাতিসংঘের আন্তর্জাতিক সামুদ্রিক সংস্থা (আইএমও) ও যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী ওমান উপকূল ঘেঁষে এমন একটি বিকল্প নৌপথ চালুর চেষ্টা করেছে, যা ইরানের নিয়ন্ত্রণের বাইরে থাকবে।
তাদের দাবি, যুক্তরাষ্ট্র অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তি লঙ্ঘন করছে। তাই ইরান ওই বিকল্প নৌপথ ব্যবহারকারী জাহাজগুলোতে হামলা চালাচ্ছে। এর জবাবে যুক্তরাষ্ট্র ইরানের ওপর হামলা চালিয়েছে। এরপর ইরানও যুক্তরাষ্ট্র-সমর্থিত আরব দেশগুলোর ওপর হামলা শুরু করে।
সাম্প্রতিক এসব পাল্টাপাল্টি হামলা অন্তর্বর্তীকালীন শান্তিচুক্তির ভবিষ্যৎ নিয়ে নতুন করে অনিশ্চয়তা তৈরি করেছে। ওই চুক্তির অংশ হিসেবে এপ্রিলের মাঝামাঝি সময়ে যুক্তরাষ্ট্র যে অবরোধ তুলে নিয়েছিল, তা আবারও পুনর্বহালের সিদ্ধান্ত নিয়েছে। একই চুক্তিতে হরমুজ প্রণালি পুরোপুরি খুলে দেওয়ার কথাও উল্লেখ ছিল।
ট্রাম্প সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে লিখেছেন, ‘আমরা আবারও ইরানের বিরুদ্ধে অবরোধ পুনর্বহাল করছি। অন্য সব দেশ হরমুজ প্রণালি ন্যায্য ও উন্মুক্তভাবে ব্যবহার করতে পারবে।’
তিনি আরও বলেন, মধ্যপ্রাচ্যে নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে যে ব্যয় হবে, তার খরচ ওঠাতে যুক্তরাষ্ট্র পণ্যবাহী জাহাজের কার্গোর মূল্যের ২০ শতাংশ পরিমাণ অর্থ টোল পাবে।
যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, দুবাইয়ের স্থানীয় সময় বুধবার মধ্যরাত থেকে ইরানের বন্দরগুলোর বিরুদ্ধে অবরোধ আবারও কার্যকর করা হবে।
২০ দিন আগে
চীনে ঝড়ে প্রাণহানি বেড়ে ৩৯, ধেয়ে আসছে টাইফুন ‘বাভি’
দক্ষিণ চীনে ক্রান্তীয় ঝড় ‘মেসাক’-এর প্রভাবে টানা বৃষ্টি ও ভয়াবহ বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৯ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় এখনও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
বন্যার পানি ধীরে ধীরে কমতে শুরু করেছে। তবে এর মধ্যেই ‘বাভি’ নামে আরেকটি টাইফুন আঘাত হানার পূর্বাভাস দিয়েছে দেশটির আবহাওয়া কর্তৃপক্ষ। নতুন ঝড়ের আঙ্কায় তাইওয়ান ও চীনের পূর্ব উপকূলে সতর্কতা ও প্রস্তুতি জোরদার করা হয়েছে।
নানিং শহরের ভাইস মেয়র ডিং ওয়েই এক সংবাদ সম্মেলনে জানান, এই ঝড়ে নানিংয়ের পূর্বাঞ্চলের একটি এলাকায় বাঁধ ভেঙে সবচেয়ে বেশি প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। সেখানে ২৬ জন মারা গেছেন। তিনি বলেন, গুয়াংসি অঞ্চলে এখনও ৯ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
এর আগে মৃতের সংখ্যা ৬ জন ছিল বলে জানিয়েছিল দক্ষিণ চীনের কর্তৃপক্ষ।
মেসাকের প্রভাবে গত শনিবার থেকে গুয়াংসিতে রেকর্ড পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়েছে। এতে একাধিক জলাধারের বাঁধ ভেঙে যায়। বাঁধ ভেঙে যাওয়ার পর সেখান থেকে নেমে আসা প্রবল পানির তোড়ে বিভিন্ন শহর ও জনপদ প্লাবিত হয়েছে। বহু মানুষ কয়েক দিন ধরে নিজেদের বাড়ি ও বিভিন্ন ভবনে আটকা পড়ে ছিলেন।
২৫ দিন আগে
ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে বড় অস্ত্রচুক্তি উন্মোচন করবে ন্যাটো
প্রতিরক্ষা ব্যয় বাড়ানো নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের সমালোচনার জবাবে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিতে যাচ্ছে ন্যাটো। এ লক্ষ্যে জোটটি শত শত কোটি ডলারের নতুন অস্ত্রচুক্তি ও সামরিক প্রকল্প ঘোষণা করবে। এর মাধ্যমে ন্যাটো ট্রাম্পকে দেখাতে চায়, সংগঠনটির সদস্য দেশগুলো শুধু প্রতিশ্রুতি দিচ্ছে না, বাস্তবেও নিজেদের সামরিক সক্ষমতা বাড়াচ্ছে। একই সঙ্গে ইউরোপের প্রতিরক্ষা ব্যয় বৃদ্ধি ও ন্যাটোর নজরদারি সক্ষমতা শক্তিশালী করা এবারের সম্মেলনে গুরুত্ব পাবে।
সম্মেলনে ‘বিগ রিভিল’ নামের অনুষ্ঠানে ন্যাটোর কয়েকজন নেতার প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে নতুন একাধিক চুক্তি ঘোষণা করার কথা রয়েছে। তবে এসব চুক্তির বেশিরভাগই যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিরক্ষা কোম্পানিগুলোর সঙ্গে হবে।
ট্রাম্প এর আগে ন্যাটোকে ‘কাগুজে বাঘ’ বলে আখ্যা দিয়েছিলেন। তার দাবি ছিল, যুক্তরাষ্ট্রের অস্ত্র ও নেতৃত্ব ছাড়া ন্যাটো কার্যকরভাবে চলতে পারবে না।
এদিকে, সম্মেলনের আগের দিন ন্যাটো মহাসচিব মার্ক রুটে সাংবাদিকদের জানান, ‘আমরা কয়েক দশক বিলিয়ন ডলারের নতুন চুক্তি ঘোষণা করব, যা ন্যাটোভুক্ত দেশগুলোতে প্রতিরোধ ও আত্মরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় সামরিক সরঞ্জাম সরবরাহ করবে।’
এর কয়েক সপ্তাহ আগে ন্যাটোতে প্রতিরক্ষা ব্যয় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা করেছিলেন রুটে। সে সময় তিনি ‘দ্য ট্রাম্প ট্রিলিয়ন’ শিরোনামের একটি চার্ট উপস্থাপন করেন। সেখানে দেখানো হয়, ২০১৭ সাল থেকে ইউরোপীয় মিত্র দেশগুলো ও কানাডা প্রতিরক্ষা খাতে মোট ১ দশমিক ২ ট্রিলিয়ন ডলার ব্যয় করেছে।
তবে তাতেও সন্তুষ্ট হননি ট্রাম্প। সে সময় ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সামরিক অভিযানে ন্যাটোর কয়েকটি সদস্য দেশ অংশ না নেওয়ায় তিনি হতাশা প্রকাশ করেছিলেন। ট্রাম্প বলেছিলেন, ‘তাদের অর্থ আমাদের দরকার নেই। আমাদের কিছুই দরকার নেই। আমি শুধু বিশ্বস্ততা চাই।’
নতুন নজরদারি বিমানবহর কেনার পরিকল্পনা
ন্যাটোর চুড়ান্ত চুক্তিগুলোর মধ্যে অন্যতম হলো, তাদের পুরোনো নজরদারি বিমান বদলে নতুন বিমান কেনার পরিকল্পনা। এসব চুক্তির বেশিরভাগই সম্মেলনের আগেই প্রস্তুত করা হয়েছে। এছাড়া কিছু চুক্তিতে ইতোমধ্যে সইও হয়েছে।
ন্যাটো একটি জোট হিসেবে নিজস্ব কোনো অস্ত্রের মালিক নয়। অস্ত্রগুলো ৩২টি সদস্য রাষ্ট্রের মালিকানাধীন। তবে সংগঠনটির প্রায় ৫০ বছর পুরোনো এডব্লিউএসি নজরদারি বিমান ও কিছু আধুনিক নজরদারি ড্রোন রয়েছে।
এছাড়া ইউরোপীয় ইউনিয়নের প্রতিরক্ষা ঋণ কর্মসূচির মাধ্যমে কয়েকটি প্রকল্পের অর্থায়ন হবে। এই কর্মসূচির আওতায় পুঁজিবাজার থেকে সর্বোচ্চ ১৭০ বিলিয়ন ডলার সংগ্রহ করে স্বল্প সুদে ঋণ দেওয়া হবে।
রুটে জানান, ‘আমাদের নিশ্চিত করতে হবে, অর্থনৈতিক শক্তিকে আমরা সামরিক সক্ষমতায় রূপ দিতে পারছি। প্রতিরক্ষা পরিকল্পনা, ড্রোন, ক্ষেপণাস্ত্র ও প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা—সব ক্ষেত্রেই এই অর্থ কার্যকরভাবে ব্যবহার করতে হবে।’
সম্মেলনটি তুরস্কের আঙ্কারায় প্রেসিডেন্ট রিসেপ তাইয়্যেপ এরদোয়ানের বিশাল প্রাসাদ কমপ্লেক্সে অনুষ্ঠিত হচ্ছে। এদিকে, ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, তিনি সেখানে তুর্কি প্রেসিডেন্টের জন্য কিছু ‘উপহার’ নিয়ে যেতে পারেন।
তুরস্কের কাছে যুদ্ধবিমান বিক্রির বিরোধিতা নেতানিয়াহুর
অন্যদিকে, সোমবার ‘ফক্স অ্যান্ড ফ্রেন্ডস’ অনুষ্ঠানে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু যুক্তরাষ্ট্রকে তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ যুদ্ধবিমান বিক্রি না করার আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি বলেন, এরদোয়ান ইসরায়েলকে ধ্বংস করতে চান।
তুরস্ক ও ইসরায়েলের সম্পর্ক দীর্ঘদিন ধরেই তিক্ত। ২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর হামাসের হামলার পর গাজায় শুরু হওয়া যুদ্ধ নিয়ে এরদোয়ান প্রায়ই ইসরায়েলের বিরুদ্ধে গণহত্যার অভিযোগ তুলে আসছেন।
এর আগে ২০১৯ সালে রাশিয়ার তৈরি এস-৪০০ ক্ষেপণাস্ত্র প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা কেনার পর তুরস্ককে এফ-৩৫ কর্মসূচি থেকে বাদ দেওয়া হয়েছিল। তবে ট্রাম্পের সঙ্গে এরদোয়ানের ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক রয়েছে। ন্যাটো সম্মেলনের তার আঙ্কারা সফরের আগেই ট্রাম্প ইঙ্গিত দিয়েছেন, খুব শিগগিরই তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি শুরু হতে পারে।
নেতানিয়াহু বলেন, ‘তুরস্কের কাছে এফ-৩৫ বিক্রি হলে মধ্যপ্রাচ্যে শক্তির ভারসাম্য নষ্ট হবে। সেই ভারসাম্য মূলত মধ্যপ্রাচ্যের আকাশসীমায় ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ক্ষমতার ওপর নির্ভর করে।’
এদিকে, ইসরায়েলি বিমানবাহিনী শত শত মার্কিন যুদ্ধবিমানের ওপর নির্ভরশীল। এর মধ্যে রয়েছে এফ-৩৫, এফ-১৬ এবং এফ-১৫।
২৭ দিন আগে
বেলুচিস্তানে পুলিশ পোস্টে জঙ্গি হামলা, ৯ পুলিশ সদস্য নিহত
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় বেলুচিস্তান প্রদেশে একটি পুলিশ পোস্টে রাতভর জঙ্গিদের হামলায় অন্তত ৯ পুলিশ সদস্য নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও কয়েকজন পুলিশ সদস্য আহত হয়েছেন। হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর পাল্টা অভিযানে ১৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জুলাই) দিবাগত রাতে বেলুচিস্তানের জিয়ারাত জেলার একটি প্রত্যন্ত এলাকায় একটি পুলিশ পোস্টে জঙ্গিদের একটি দল হামলা চালায়। এতে নিরাপত্তা বাহিনী ও হামলাকারীদের মধ্যে তীব্র গোলাগুলি হয়।
পুলিশ নিশ্চিত করেছে যে হামলাটি জিয়ারাত জেলার একটি দুর্গম এলাকায় ঘটেছে। তবে এ বিষয়ে তারা আর কোনো বিস্তারিত তথ্য প্রকাশ করেনি।
এদিকে, বেলুচিস্তান সরকারের মুখপাত্র শাহিদ রিন্দ জানিয়েছেন, হামলার সময় জঙ্গিরা ৮ পুলিশ সদস্যকে অপহরণ করে। পরে নিরাপত্তা বাহিনী তাদের সবাইকে উদ্ধার করতে পেরেছে।
তিনি জানান, এ হামলার পর নিরাপত্তা বাহিনীর পরিচালিত ক্লিয়ারেন্স অভিযানে ১৫ জঙ্গি নিহত হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, জঙ্গিদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা তথ্যভিত্তিক অভিযান অব্যাহত থাকবে। নিরাপত্তা বাহিনীর ওপর এ ধরনের যেকোনো হামলার কঠোর জবাব দেওয়া হবে।
তাৎক্ষণিকভাবে এ হামলার দায় কোনো গোষ্ঠী স্বীকার করেনি। তবে এর পেছনে নিষিদ্ধ ঘোষিত বেলুচ লিবারেশন আর্মির (বিএলএ) সংশ্লিষ্টতা থাকতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে।
গত সপ্তাহের শেষে পাকিস্তানের উপকূলীয় শহর জিওয়ানির একটি নিরাপত্তা চোকিতে আত্মঘাতী হামলার দায় স্বীকার করেছিল বিএলএ। তবে পাকিস্তান সরকার এখনো সেই দাবি নিশ্চিত বা অস্বীকার করেনি।
তবে দেশটির কর্তৃপক্ষ স্বীকার করেছে, গত সপ্তাহের শেষে কোয়েটা শহরের উপকণ্ঠে সশস্ত্র গোষ্ঠী বেসামরিক মানুষের ওপর হামলা চালিয়েছিল। এরপর থেকে স্থানীয় গ্রামবাসীরা কোয়েটার কাছে অবস্থান কর্মসূচি পালন করছেন। তারা তাদের জীবন রক্ষায় নিরাপত্তা জোরদার এবং ভবিষ্যতে এ ধরনের হামলা ঠেকাতে কার্যকর ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানাচ্ছেন।
এদিকে, পাকিস্তানের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী মহসিন নকভি সর্বশেষ এ হামলার জন্য ভারতের সমর্থনপুষ্ট জঙ্গিদের দায়ী করেছেন। তবে তিনি এ অভিযোগের পক্ষে কোনো প্রমাণ উপস্থাপন করেননি। অন্যদিকে, ভারত বরাবরই বেলুচিস্তানের বিচ্ছিন্নতাবাদী গোষ্ঠী বা পাকিস্তানি তালেবানকে সমর্থন দেওয়ার এ অভিযোগকে অস্বীকার করে আসছে।
একই বক্তব্যে নিহত পুলিশ সদস্যদের প্রতি শ্রদ্ধা জানান মহসিন নকভি। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানিয়ে বলেন, ‘এ ধরনের হামলা পাকিস্তানে শান্তি প্রতিষ্ঠার প্রচেষ্টাকে নস্যাৎ করতে পারবে না।’
এদিকে, পাকিস্তানি তালেবান গোষ্ঠী, যারা তেহরিক-ই-তালেবান পাকিস্তান (টিটিপি) নামে পরিচিত, তারাও বেলুচিস্তানে শক্ত অবস্থান বজায় রেখেছে। জঙ্গি সংগঠনটি এর আগেও ওই এলাকায় একাধিক হামলা চালিয়েছে।
আয়তনে সবচেয়ে বড় হলেও পাকিস্তানে সবচেয়ে কম জনবহুল প্রদেশ হলো বেলুচিস্তান। দীর্ঘদিন ধরেই এই প্রদেশটি বিচ্ছিন্নতাবাদী বিদ্রোহ এবং পাকিস্তানি তালেবানের হামলার কেন্দ্রস্থলে পরিণত হয়েছে।
২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র বিএলএকে বিদেশি সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে ঘোষণা করে। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে সংগঠনটি বেলুচিস্তানজুড়ে নিরাপত্তা বাহিনী ও বেসামরিক মানুষের ওপর বহু হামলা চালিয়েছে।
২৭ দিন আগে