বিশ্ব
যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিনিধিদল না আসলেও মধ্যস্থতা এগিয়ে যাচ্ছে: ইসলামাবাদ
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প তার প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করেছেন। তবে পাকিস্তানের নেতারা রবিবার জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার চেষ্টা করছেন তারা।
মধ্যস্থতা প্রচেষ্টার সঙ্গে জড়িত একজন কর্মকর্তা বলেছেন, পাকিস্তান নেতৃত্বাধীন মধ্যস্থতাকারীরা যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যকার উল্লেখযোগ্য ব্যবধান ঘোচাতে কাজ করছেন।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে নতুন দফা আলোচনা শুরুর আগে নিজেদের বন্দরের ওপর থেকে মার্কিন অবরোধ তুলে নেওয়ার দাবিতে তেহরান এখনও অটল রয়েছে বলে জানিয়েছেন এক কর্মকর্তা।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি তার শীর্ষ দূত স্টিভ উইটকফ ও জ্যারেড কুশনারকে এই সপ্তাহে ইরানের সঙ্গে আলোচনার জন্য পাকিস্তানে না যাওয়ার নির্দেশ দিয়েছেন।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি বলেছেন, ‘ওরা যদি কথা বলতে চায়, তাহলে শুধু ফোন করলেই হবে!’
ইরানের আইএসএনএ এবং তাসনিম সংবাদ সংস্থার তথ্যমতে, দেশটির রাষ্ট্রপতি মাসুদ পেজেশকিয়ান শনিবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোনে বলেছেন যে, নতুন দফা আলোচনার সুযোগ করে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রথমে অবরোধসহ কার্যনির্বাহী বাধাগুলো দূর করা।
যুক্তরাষ্ট্র তেহরানের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করার পাশাপাশি হরমুজ প্রণালিতেও অচলাবস্থা বিরাজ করছে। এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথটি দিয়ে সাধারণত বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল পরিবহন করা হয় এবং ইরান এই জরুরি জলপথে চলাচল সীমিত করে রেখেছে।
সোমবার ভোরে মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, অবরোধ চলাকালে তারা এ পর্যন্ত ৩৮টি জাহাজ ফিরিয়ে দিয়েছে।
পাকিস্তানে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান আলোচনা ব্যর্থ হওয়ায় বেড়েছে তেলের দাম
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে সম্ভাব্য যুদ্ধবিরতি নিয়ে আলোচনা আবারও থমকে যাওয়ায় রবিবার বাজার খোলার সঙ্গে সঙ্গে তেলের দাম বেড়ে যায়।
মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে উৎপাদিত হালকা অপরিশোধিত তেল ওয়েস্ট টেক্সাস ইন্টারমিডিয়েট রবিবার ব্যারেলপ্রতি ৯৬ দশমিক ৫০ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল, যা শুক্রবার বাজার বন্ধ হওয়ার পর থেকে ২ শতাংশ বেশি। এই দাম ইরান যুদ্ধ শুরুর আগের দামের চেয়ে ৪৪ শতাংশ বেশি ছিল।
ব্রেন্ট ক্রুড (অপরিশোধিত তেল) রবিবার ব্যারেলপ্রতি ১০৭ দশমিক ৭৫ ডলারে বিক্রি হচ্ছিল, যা শুক্রবারের তুলনায় প্রায় ৩ শতাংশ এবং যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ৪৮ শতাংশ বেশি। যুদ্ধ শুরুর সময় তেলের দাম ছিল ব্যারেলপ্রতি ৭২ ডলার।
রাশিয়ার উদ্দেশে রওনা হয়েছেন ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি ইসলামাবাদে একটি সংক্ষিপ্ত সফর করেছেন। এর মাত্র একদিন আগেই তিনি শহরটি ছেড়ে গিয়েছিলেন, যার ফলে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিতীয় দফার আলোচনার সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন দেখা দিয়েছিল।
ইসলামাবাদে সর্বশেষ এই তিন ঘণ্টার সফরের আগে তিনি হরমুজ প্রণালির অপর প্রান্তে অবস্থিত ওমানে গিয়েছিলেন। এরপর রবিবার গভীর রাতে তিনি রাশিয়ার উদ্দেশ্যে রওনা হন।
যুক্তরাষ্ট্র দ্বিতীয় দফার আলোচনার জন্য পাকিস্তানে কোনো প্রতিনিধি পাঠায়নি, তবে পাকিস্তান মধ্যস্থতা অব্যাহত রেখেছে। দেশটির দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন যে, পরোক্ষ আলোচনা এখনও চলছে।
আরাঘচির এবারের অনাড়ম্বর সফরটি তার আগের সফরের তুলনায় একেবারেই ভিন্ন ছিল। আগের সফরে তিনি পাকিস্তানের সামরিক ও রাজনৈতিক নেতাদের সঙ্গে সাক্ষাৎ করেছিলেন এবং ওই অঞ্চলে সংঘাত নিরসনে তেহরানের প্রস্তাবগুলো তুলে ধরেছিলেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের কর্মকর্তারা ফোনে কথা বলতে পারেন: ট্রাম্প
ফক্স নিউজ চ্যানেলে রবিবার দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, প্রতিনিধিদলকে ১৭ ঘণ্টার দীর্ঘ ফ্লাইটে পাঠানোর চেয়ে তিনি এই সিদ্ধান্তই (ফোনে কথা বলা) নিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘সব তুরুপের তাস আমাদের হাতে। তারা যদি কথা বলতে চায়, তবে তারা আমাদের কাছে আসতে পারে অথবা আমাদের কল করতে পারে।’
শনিবার তেহরানের শীর্ষ কূটনীতিক পাকিস্তান ত্যাগ করার পর আলোচনা ভেস্তে গেছে বলে মনে হচ্ছিল। এর পরপরই ট্রাম্প জানান যে, তিনি প্রতিনিধিদের ইসলামাবাদ সফর না করার নির্দেশ দিয়েছেন।
ন্যাটো সম্পর্কে জানতে চাওয়া হলে ট্রাম্প বলেন যে, তিনি এই সামরিক জোটের ওপর খুবই হতাশ। ইরান কার্যকরভাবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার পর সদস্য দেশগুলো তার সহায়তার আহ্বানে সাড়া না দেওয়ায় তিনি ইঙ্গিত দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র এই জোট ত্যাগের বিষয়টি বিবেচনা করতে পারে।
ট্রাম্প বলেন, ‘আমরা বহু বছর ধরে তাদের সেবা দিয়ে আসছি, ট্রিলিয়ন ট্রিলিয়ন ডলার খরচ করছি; অথচ যখন আমাদের সাহায্যের প্রয়োজন হলো তখন তাদের পাওয়া যায়নি। তাই আমাদের বিষয়টি মনে রাখতে হবে।’
এদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনীর সেন্ট্রাল কমান্ড সোমবার ভোরে জানিয়েছে যে, ইরানের ওপর চলমান অবরোধের সময় তারা এ পর্যন্ত ৩৮টি জাহাজকে ঘুরিয়ে দিয়েছে।
দক্ষিণ লেবাননে হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েলের হামলা
ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, তারা দক্ষিণ লেবাননে কামান ও বিমান হামলা চালিয়েছে।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও সাম্প্রতিক দিনগুলোতে লড়াই তীব্র হওয়ায়, তারা তথাকথিত ‘ফরওয়ার্ড ডিফেন্স লাইন’-এর উত্তরে হিজবুল্লাহ এবং রকেট লঞ্চার ও অস্ত্রাগারসহ বিভিন্ন অস্ত্রাগারকে লক্ষ্যবস্তু করেছে।
লেবাননে ইসরায়েলি হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ২৫০৯
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় রবিবার প্রকাশিত পরিসংখ্যানে জানিয়েছে যে, গত ২ মার্চ শুরু হওয়া সর্বশেষ ইসরায়েল-হিজবুল্লাহ যুদ্ধে ৭ হাজার ৭৫৫ জন আহত হয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল হিজবুল্লাহর প্রধান পৃষ্ঠপোষক ইরানকে আক্রমণ করার দুই দিন পর হিজবুল্লাহ উত্তর ইসরায়েলে রকেট হামলা চালালে যুদ্ধ শুরু হয়।
ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে ১০ দিনের একটি যুদ্ধবিরতি ১৭ এপ্রিল কার্যকর হয়েছিল। বৃহস্পতিবার এই যুদ্ধবিরতি আরও তিন সপ্তাহের জন্য বাড়ানো হয়েছে।
রবিবার ইরান-সমর্থিত গোষ্ঠীটি ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর যুদ্ধবিরতি সংক্রান্ত মন্তব্যের নিন্দা জানিয়েছে, যেখানে তিনি বলেছিলেন যে হিজবুল্লাহর কর্মকাণ্ড ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যেকার যুদ্ধবিরতিকে হুমকির মুখে ফেলছে।
হিজবুল্লাহ বলেছে, ইসরায়েলের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জবাবে তাদের এই হামলা ‘একটি বৈধ জবাব।’
বাহিনীটি লেবাননের কর্তৃপক্ষেরও সমালোচনা করে বলেছে, ‘তারা নিজেদের এক বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে ফেলেছে যখন তারা এমন একটি জবরদখলকারী ও অবৈধ সত্তার প্রতিনিধিদের পাশে লজ্জাজনকভাবে ছবি তোলার সিদ্ধান্ত নিয়েছে, যে সত্তা লেবাননের ভূমি ও সার্বভৌমত্ব লঙ্ঘন করে এবং তার জনগণকে হত্যা অব্যাহত রেখেছে।’
শান্তি প্রচেষ্টা নিয়ে ফোনে কথা বলেছেন ইরান ও কাতারের শীর্ষ কূটনীতিকরা
ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ শেষ করার জন্য তার দেশের সর্বশেষ উদ্যোগ ও কূটনৈতিক প্রচেষ্টা সম্পর্কে কাতারের শীর্ষ কূটনীতিককে অবহিত করেছেন।
পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি রবিবার কাতারের শীর্ষ কূটনীতিক শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুল রহমান আল থানির সঙ্গে ফোনে কথা বলেছেন।
শান্তি প্রচেষ্টাকে সমর্থন করার জন্য কূটনৈতিক সমন্বয়ের গুরুত্ব দুই মন্ত্রী পুনর্ব্যক্ত করেছেন বলে আরাঘচি তার টেলিগ্রাম চ্যানেলে লিখেছেন।
কাতার ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীর সঙ্গে কথা বলেছেন মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টা নিয়ে মিসরের পররাষ্ট্রমন্ত্রী বদর আবদেলাত্তি কাতার ও ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের সঙ্গে আলোচনা করেছেন।
মন্ত্রীদের সঙ্গে পৃথক পৃথক আলোচনায় যুদ্ধবিরতি অব্যাহত রাখা এবং এর মাধ্যমে যুদ্ধের অবসান নিশ্চিত করার জন্য কূটনৈতিক পথের গুরুত্বের ওপর জোর দিয়েছেন আবদেলাত্তি।
যুক্তরাষ্ট্র-ইরান পরোক্ষ আলোচনা এগোচ্ছে, বলছেন বিশ্লেষকরা
পাকিস্তানের স্বাধীন রাজনৈতিক বিশ্লেষক সৈয়দ মোহাম্মদ আলী বলেছেন, এই সপ্তাহে শুরু হতে যাওয়া আলোচনায় ট্রাম্পের দূত না পাঠানোর সিদ্ধান্ত সত্ত্বেও যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে পরোক্ষ আলোচনা অগ্রসর হচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘ইসলামাবাদ আলোচনার দ্বিতীয় দফার বিলম্বকে যুদ্ধবিরতি আলোচনা ও শান্তি প্রচেষ্টার ক্ষেত্রে কোনো প্রতিবন্ধকতা হিসেবে দেখা উচিত নয়, তা সঠিক পথেই রয়েছে।
ওয়াশিংটন ও তেহরানের মধ্যে চলমান উত্তেজনা রাতারাতি প্রশমিত করা সম্ভব নয় এবং আলোচনা প্রক্রিয়ার জন্য উভয় পক্ষের প্রজ্ঞা ও ধৈর্য প্রয়োজন বলেও তিনি মন্তব্য করেছেন।
মোহাম্মদ আলী বলেন, ‘এটি একটি সংবেদনশীল ও জটিল প্রক্রিয়া এবং এতে উত্থান-পতন থাকবে, যা এ ধরনের বিষয়ে স্বাভাবিক। তবে ভালো দিকটি হলো, যুদ্ধবিরতি কার্যকর রয়েছে এবং উভয় পক্ষই এমনভাবে সংঘাতের অবসান ঘটাতে আগ্রহী, যাতে নিজ দেশে এর কোনো নেতিবাচক প্রভাব না পড়ে।
পাকিস্তানের মধ্যস্থতার প্রচেষ্টা এগিয়ে যাচ্ছে
রবিবার দুজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তানের শীর্ষ রাজনৈতিক ও সামরিক নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতা অব্যাহত রেখেছে এবং দুই পক্ষের মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা সত্ত্বেও পরোক্ষ যুদ্ধবিরতি আলোচনা এখনও চলছে।
ওমানে একটি সংক্ষিপ্ত সফর শেষে ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি পরপর দুই দিনের মধ্যে দ্বিতীয়বারের মতো রবিবার সন্ধ্যায় পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
শনিবার আরাঘচি ইসলামাবাদে ছিলেন এবং পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ, সেনাপ্রধান ফিল্ড মার্শাল আসিম মুনির, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার এবং অন্যান্য ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের কাছে আঞ্চলিক সংঘাতের অবসানের বিষয়ে তেহরানের অবস্থান তুলে ধরেন তিনি।
আলোচনার জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে অবরোধ তুলে নিতে বলেছেন ইরানের প্রেসিডেন্ট
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ানের বরাতে দেশটির গণমাধ্যমগুলো জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র তাদের বন্দরগুলোতে অবরোধ আরোপ করে রাখলে তার দেশ কোনো আলোচনায় বসবে না।
আইএসএনএ এবং তাসনিম সংবাদ সংস্থা জানিয়েছে, পেজেশকিয়ান শনিবার রাতে পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফকে ফোনে বলেছেন যে, নতুন দফা আলোচনার সুযোগ করে দিতে হলে যুক্তরাষ্ট্রের উচিত প্রথমে অবরোধসহ কার্যনির্বাহী বাধাগুলো দূর করা।
পাকিস্তানি প্রধানমন্ত্রী এই ফোনকলটিকে একটি আন্তরিক ও গঠনমূলক আলোচনা হিসেবে বর্ণনা করেছেন।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি শনিবার পাকিস্তানি সামরিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের সঙ্গে বৈঠকের পর দেশটির রাজধানী ইসলামাবাদে তার একদিনের সফর শেষ করেছেন।
ট্রাম্প তার দূতদের ইসলামাবাদ সফর বাতিল করার পর, আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টায় এই সফর কোনো অগ্রগতি আনতে পারেনি।
৮ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের চাপের মুখে জোরপূর্বক আলোচনায় যাবে না ইরান: পেজেশকিয়ান
ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের হুমকির মুখে তেহরান কোনো জোরপূর্বক আলোচনায় অংশ নেবে না। ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচার মাধ্যম আইআরআইবি এ তথ্য জানিয়েছে।
পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রী শেহবাজ শরিফের সঙ্গে এক ফোনালাপে পেজেশকিয়ান বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের পদক্ষেপ চলমান আলোচনার প্রতি তাদের আস্থাকে ক্ষুণ্ন করছে। তাদের এসব কর্মকাণ্ড আলোচনার পথকে আরও জটিল করে তুলছে।
তিনি বলেন, ওয়াশিংটনের শত্রুতামূলক পদক্ষেপ ও চলমান চাপ বন্ধ না হলে ইরানের পদক্ষেপ কঠিন থেকে কঠিনতর হতে থাকবে।
তিনি আরও বলেন, সমস্যার সমাধানে পৌঁছাতে হলে যুক্তরাষ্ট্রকে আগে প্রতিবন্ধকতাগুলো দূর করতে হবে। সমাধানে আাসতে হলে ইরানের বন্দরগামী ও ইরানের বন্দর থেকে আসা জাহাজের ওপর যুক্তরাষ্ট্রর আরোপিত অবরোধগুলো প্রত্যাহার করতে হবে।
অন্যদিকে, পাকিস্তানের প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, শেহবাজ শরিফ পেজেশকিয়ানকে আশ্বস্ত করেছেন যে আঞ্চলিক শান্তি ও নিরাপত্তা প্রতিষ্ঠায় ইসলামাবাদ আন্তরিক এবং তারা সৎ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাবে।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে শেহবাজ শরিফ জানিয়েছেন, যুদ্ধ বন্ধের লক্ষ্যে আলোচনার জন্য ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির নেতৃত্বে একটি উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধি দল ইসলামাবাদে পাঠানোর সিদ্ধান্তকে তিনি স্বাগত জানিয়েছেন।
এদিকে, ইরানের প্রতিনিধিদলটি স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) ইসলামাবাদ ত্যাগ করে পরবর্তী আঞ্চলিক আলোচনা করতে ওমানের মাসকাটে পৌঁছেছে।
অপরদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের জামাতা জ্যারেড কুশনারের শনিবার ইসলামাবাদ সফরের কথা থাকলেও শেষ মুহূর্তে ট্রাম্প সেই সফর বাতিল করেন।
৯ দিন আগে
১৭০০ বছরের পুরোনো ভারতীয় জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক যন্ত্র নিলামে উঠছে
এক হাজার ৭০০ বছরের পুরোনো ভারতীয় রাজপরিবারের সংগ্রহে থাকা এক অসাধারণ পিতলের অ্যাস্ট্রোল্যাব নিলামে তোলা হবে। এটি মূলত হাতে বহনযোগ্য জ্যোতির্বৈজ্ঞানিক ‘কম্পিউটার’।
বিরল এই যন্ত্রটি আগামী ২৯ এপ্রিল লন্ডনের আর্ন্তজাতিক নিলাম প্রতিষ্ঠান সোথবিতে নিলামে তোলা হবে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বিবিসি।
সোথবির ইসলামিক ও ভারতীয় শিল্পকলা বিভাগের প্রধান বেনেডিক্ট কার্টার বিবিসিকে বলেছেন, বস্তুটি ‘সম্ভবত এ যাবৎকালে সবচেয়ে বড় এবং এটি এর আগে কখনো প্রদর্শিত হয়নি’।
জানা যায়, এটি মূলত জয়পুরের মহারাজা দ্বিতীয় সওয়াই মান সিংয়ের রাজকীয় সংগ্রহে ছিল। তার মৃত্যুর পর এটি তার স্ত্রী তৎকালীন অন্যতম সুন্দরী রমনী মহারানী গায়ত্রী দেবীর কাছে হস্তান্তরিত হয়। এরপর তার জীবদ্দশায় এটি একটি ব্যক্তিগত সংগ্রহে চলে যায়।
অ্যাস্ট্রোল্যাব হলো বহুস্তরবিশিষ্ট ধাতব ডিস্ক জাতীয় একটি যন্ত্র। অতীতে এটি সময় নির্ধারণ, নক্ষত্রের অবস্থান নির্ণয়, মক্কার দিক নির্ধারণ এবং আকাশের গতিবিধি বোঝার কাজে ব্যবহৃত হতো।
অক্সফোর্ড সেন্টার ফর হিস্ট্রি অব সায়েন্স, মেডিসিন অ্যান্ড টেকনোলজির ডক্টর ফেডেরিকা জিগান্তে বলেন, এগুলো মূলত একটি ত্রিমাত্রিক মহাবিশ্বের দ্বিমাত্রিক উপস্থাপনা। আমি এগুলোকে আধুনিক স্মার্টফোনের সঙ্গে তুলনা করি, কারণ এগুলো দিয়ে অনেক কিছু করা যায়।
তিনি আরও জানান, অ্যাস্ট্রোল্যাব ব্যবহার করে সূর্যোদয়-সূর্যাস্তের সময়, ভবনের উচ্চতা, কূপের গভীরতা ও দূরত্ব নির্ণয় করা যেত। এমনকি জ্যোতিষশাস্ত্র অনুযায়ী ভবিষ্যৎ অনুমান করতেও এটি ব্যবহৃত হতো।
অ্যাস্ট্রোল্যাবের উদ্ভব প্রাচীন গ্রিসে খ্রিস্টপূর্ব দ্বিতীয় শতকে এবং অষ্টম শতকে এটি ইসলামি বিশ্বে ছড়িয়ে পড়ে। পরবর্তীতে ইরাক, ইরান, উত্তর আফ্রিকা এবং স্পেনের উৎপাদনকারী হিসেবে স্বীকৃতি পায়।
বিশেষ এই যন্ত্রটি সপ্তদশ শতাব্দীর গোড়ার দিকে বর্তমান পাকিস্তানের লাহোরে তৈরি হয়েছিল। কাইম মুহাম্মদ এবং মুহাম্মদ মুকিম নামক দুই ভাই আগা আফজাল নামক একজন অভিজাত মুঘল ব্যক্তির জন্য যন্ত্রটি তৈরি করেছিলেন। ওই ব্যক্তি তখন লাহোর প্রশাসনের দায়িত্বে ছিলেন এবং উচ্চপদে সম্রাট জাহাঙ্গীর ও শাহজাহানের অধীনে কাজ করতেন।
এই যন্ত্রটির ওজন প্রায় ৮ কেজি ২০০ গ্রাম, ব্যাস প্রায় ৩০ সেন্টিমিটার এবং উচ্চতা প্রায় ৪৬ সেন্টিমিটার। সাধারণ অ্যাস্ট্রোল্যাবের তুলনায় এটি প্রায় চার গুণ বড়।
এতে পারস্য ভাষার পাশাপাশি দেবনাগরী লিপিতে সংস্কৃত ভাষায় নক্ষত্রের নাম খোদাই করা রয়েছে, যা এর সাংস্কৃতিক বৈচিত্র্যতাকে তুলে ধরে।
অ্যাস্ট্রোল্যাবটিতে ৯৪টি শহরের নাম, তাদের দ্রাঘিমা-অক্ষাংশসহ এবং ৩৮টি নক্ষত্র নির্দেশক রয়েছে। এছাড়া এতে অত্যন্ত সূক্ষ্মভাবে ভাগ করা ডিগ্রি চিহ্নসহ পাঁচটি নির্ভুল প্লেট রয়েছে।
বিশেষজ্ঞদের মতে, এই যন্ত্রটি শুধু বড় ও সুন্দরই নয়, অত্যন্ত নির্ভুলও, যা দিয়ে মহাজাগতিক বস্তুর উচ্চতার সঠিক কোণ নির্ধারণ করা যায়।
সোথবি জানিয়েছে, এর উৎকৃষ্ট অবস্থা ও রাজকীয় ইতিহাসের কারণে জাদুঘর ও সংগ্রাহকদের মধ্যে এটি ব্যাপক আগ্রহ সৃষ্টি করবে। এর সম্ভাব্য মূল্য ধরা হয়েছে ১৫ থেকে ২৫ লাখ পাউন্ড।
এই বিরল বস্তুটি ২০১৪ সালে ১০ লাখ পাউন্ডে বিক্রি হয়েছিল। বর্তমানে এই যন্ত্রটি সুলতান দ্বিতীয় বায়েজিদের দখলে রয়েছে।
অ্যাস্ট্রোল্যাবটি ২৪ থেকে ২৯ এপ্রিল পর্যন্ত লন্ডনের সোথেবির গ্যালারিতে প্রদর্শিত হবে।
৯ দিন আগে
কলম্বিয়ার বাসে বিস্ফোরণে ১৩ জন নিহত, আহত ৩৮
কলম্বিয়ার রাজধানী বোগোতা থেকে ছেড়ে আসা একটি বাসে বিস্ফোরণে অন্তত ১৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৩৮ জন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) কাজিবিও পৌরসভায় প্যান-আমেরিকান মহাসড়কে চলন্ত বাসটিতে বিস্ফোরণ হয় বলে জানিয়েছেন কাউকা অঞ্চলের গভর্নর অক্তাভিও গুজমান।
এ ঘটনাকে ‘সন্ত্রাসী হামলা’ হিসেবে আখ্যা দিয়েছেন দেশটির সেনাপ্রধান। মাদক পাচারকে ঘিরে ওই অঞ্চলে চলমান সহিংসতার জের ধরে এই হামলা ঘটেছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
কাউকা স্বাস্থ্য বিভাগের সচিব ক্যারোলিনা কামার্গো জানান, আহতদের মধ্যে ৫টি শিশু রয়েছে।
কলম্বিয়ার সশস্ত্র বাহিনীর কমান্ডার জেনারেল হুগো লোপেস এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, এটি একটি ‘সন্ত্রাসী হামলা’এবং এর জন্য ‘ইভান মর্দিস্কো’ নামের এক শীর্ষ সন্ত্রাসীর নেটওয়ার্ক এবং
‘হাইমে মার্তিনেস’ নামের এক গোষ্ঠীকে দায়ী করা হচ্ছে। এই গোষ্ঠীগুলো এখনও ওই অঞ্চলে সক্রিয় এবং এরা বিলুপ্ত ফার্ক বিদ্রোহী সংগঠনের ভিন্নমতাবলম্বী একটি অংশ।
এই দল এবং ব্যক্তিদের মধ্যে কেউই ২০১৬ সালে সরকারের সঙ্গে স্বাক্ষরিত শান্তিচুক্তি মেনে চলে না বলে অভিযোগ রয়েছে।
কলম্বিয়ার প্রেসিডেন্ট গুস্তাভো পেত্রো এই হামলার নিন্দা জানিয়ে বলেন, ‘যারা এই হামলা চালিয়ে অসংখ্য সাধারণ মানুষকে হত্যা করেছে, তারা সন্ত্রাসী, ফ্যাসিস্ট এবং মাদক ব্যবসায়ী।’
৯ দিন আগে
সাংবাদিকদের সঙ্গে ট্রাম্পের নৈশভোজে গুলি: গ্রেপ্তার ব্যক্তি শিক্ষক ও প্রোগ্রামার
হোয়াইট হাউসে সাংবাদিকদের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের নৈশভোজ চলাকালে গুলির ঘটনায় গ্রেপ্তার হওয়া ব্যক্তিকে ঘিরে বিভিন্ন তথ্য সামনে এসেছে। তার লিংকডইনের পোস্ট থেকে জানা যায়, তিনি পেশায় শিক্ষক এবং ভিডিও গেম ডেভেলপার।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপ্রিল) তাকে গ্রেপ্তার করে যুক্তরাষ্ট্রের আইনশৃঙ্খলাবাহিনী। গ্রেপ্তার ব্যক্তির নাম কোল টমাস অ্যালেন (৩১)। তিনি ক্যালিফোর্নিয়ার টরেন্সের বাসিন্দা।
গ্রেপ্তার ওই ব্যক্তি ২০২৫ সালের মে মাসে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম লিংকডইনে তার প্রোফাইল ছবি প্রকাশ করেছিলেন। ছবিটিকে তাকে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জনের সময় ক্যাপ ও গাউন পরা অবস্থায় দেখা যায়। ওই প্রোফাইল ছবির সঙ্গে শনিবার রাতে ট্রাম্পের পোস্ট করা হোয়াইট হাউসে হামলাকারীকে গ্রেপ্তারের সময় তোলা ছবির ব্যক্তির চেহারার মিল পাওয়া গেছে।
অ্যালেন ক্যালিফোর্নিয়া স্টেট ইউনিভার্সিটি ডোমিঙ্গেজ হিলস থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে স্নাতকোত্তর ডিগ্রি অর্জন করেন। এর আগে ২০১৭ সালে তিনি ক্যালিফোর্নিয়া ইনস্টিটিউট অব টেকনোলজি থেকে মেকানিক্যাল ইঞ্জিনিয়ারিংয়ে স্নাতক সম্পন্ন করেন। ছাত্রজীবনে তিনি একটি খ্রিস্টান ছাত্র সংগঠন এবং ক্যাম্পাসের একটি সশস্ত্র গ্রুপের সঙ্গে যুক্ত ছিলেন।
তার সম্পর্কে বিশ্ববিদ্যালয়ের কম্পিউটার সায়েন্সের অধ্যাপক বিন তাং জানান, অ্যালেন তার কয়েকটি ক্লাসে অংশগ্রহণ করেছিলেন। তিনি বলেন, ‘সে খুবই ভালো ছাত্র ছিল। সব সময় সামনের সারিতে বসত, মনোযোগ দিয়ে ক্লাস করত এবং প্রায়ই ইমেইলে পড়াশোনার বিষয়ে প্রশ্ন করত।
তিনি আরও বলেন, ‘ছেলেটি শান্ত স্বভাবের, ভদ্র এবং ভালো মানুষ ছিলেন। এই খবর দেখে আমি ভীষণ অবাক হয়েছি।’
কলেজ জীবনের শেষ বছরে লস অ্যাঞ্জেলেসের একটি স্থানীয় টেলিভিশন অ্যালেনের একটি সাক্ষাৎকার প্রচার করেছিল। সেখানে বয়স্কদের সাহায্যকারী নতুন প্রযুক্তিবিষয়ক একটি প্রতিবেদনের অংশ হিসেবে তার সাক্ষাৎকার নেওয়া হয়েছিল। তিনি হুইলচেয়ারের জন্য নতুন ধরনের জরুরি ব্রেকের একটি প্রোটোটাইপ তৈরি করেছিলেন। তার এই উদ্ভাবন প্রতিবেদনে অন্তর্ভুক্ত ছিল।
এছাড়া, ফেডারেল ক্যাম্পেইন তহবিলের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে কমলা হ্যারিসের প্রেসিডেন্ট নির্বাচনি প্রচারে ডেমোক্র্যাটিক পার্টির একটি রাজনৈতিক কমিটিতে অ্যালেন ২৫ ডলার অনুদান দিয়েছিলেন।
অ্যালেনের অনলাইন বৃত্তান্ত থেকে জানা যায়, তিনি গত ছয় বছর ধরে সি২ এডুকেশন নামের একটি প্রতিষ্ঠানে কাজ করছিলেন। প্রতিষ্ঠানটি কলেজে ভর্তি-সংক্রান্ত পরামর্শ ও পরীক্ষার প্রস্তুতি সেবা দিয়ে থাকে। ২০২৪ সালে প্রতিষ্ঠানটির একটি পোস্টে তাকে ‘মাসসেরা শিক্ষক’ হিসেবে উল্লেখ করা হয়। তবে স্থানীয় সময় শনিবার রাতে এ বিষয়ে জানতে চাইলে প্রতিষ্ঠানটি তাৎক্ষণিকভাবে কোনো সাড়া দেয়নি।
এ ছাড়াও, লিংকডইনের একটি পোস্টে অ্যালেন উল্লেখ করেন, তিনি স্টিম প্ল্যাটফর্মের জন্য আণবিক রসায়নভিত্তিক একটি ভিডিও গেম তৈরি করেছেন। আরেকটি পোস্টে তিনি জানান, তিনি মহাকাশকে প্রেক্ষাপট করে একটি নতুন ‘টপ-ডাউন শুটার’ কমব্যাট গেম তৈরির কাজ করছেন।
৯ দিন আগে
রাশিয়ার হামলায় ইউক্রেনে নিহত ৫, আহত ৪০ জনের বেশি
ইউক্রেনের দিনিপ্রো শহরে রাশিয়ার ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ৫ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ এপিল) এ ঘটনা ঘটে বলে জানায় স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলের প্রধান ওলেক্সান্দর হাঞ্ঝা জানান, রাতভর চালানো ওই হামলার পর একটি বাড়ির ধ্বংসস্তূপ থেকে ৪ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি বলেন, ‘রাশিয়ার হামলার পর দিনিপ্রোতে ১১ জন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন।’
হাঞ্ঝা টেলিগ্রামে লিখেছেন, ‘রাশিয়ানরা প্রায় সারা রাত দিনিপ্রোসহ বিভিন্ন শহর ও বসতিতে হামলা চালিয়েছে। এসব হামলায় শহরের বিভিন্ন স্থানে আগুন লাগে এবং একাধিক অ্যাপার্টমেন্ট ভবন, ব্যবসা প্রতিষ্ঠান ও একটি ব্যক্তিগত বাড়ি আংশিকভাবে ধ্বংস হয়। দেশটির দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলে ওডেসা অঞ্চলেও রাতভর ড্রোন হামলায় দুইজন আহত হন।’
ওডেসা অঞ্চলের প্রধান ওলেহ কিপার জানান, ওই অঞ্চলের দক্ষিণে আবাসিক ভবন, বন্দর অবকাঠামো এবং গাড়ি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
শনিবার বিকেলে দিনিপ্রোতে রাশিয়ার পৃথক হামলায় আরও একজন নিহত হয়েছেন বলে হাঞ্ঝা জানিয়েছেন। আগের রাতের হামলার শিকার হওয়া একই আবাসিক এলাকায় এই হামলা চালানো হয়। তিনি জানান, এ ঘটনায় মোট ৪৬ জন আহত হয়েছেন।
অন্যদিকে, স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, রাশিয়ার সীমান্তবর্তী বেলগোরোদ অঞ্চলে ড্রোন হামলায় এক নারী নিহত এবং এক ব্যক্তি গুরুতর আহত হয়েছেন।
এদিকে, রোমানিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় শনিবার জানায়, ইউক্রেন সীমান্তের কাছে দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় শহর গালাতিতে একটি আবাসিক এলাকায় ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া গেছে। তবে এতে কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি।
এর আগেও একাধিকবার রোমানিয়ার ভূখণ্ডে ড্রোনের ধ্বংসাবশেষ পাওয়ার কথা নিশ্চিত করা হয়েছে।
রাতভর এই হামলার আগে শুক্রবার (২৪ এপিল) রাশিয়া ও ইউক্রেন ১৯৩ জন করে যুদ্ধবন্দি বিনিময় করে।
মাসের পর মাস ধরে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় চলা আলোচনায় তেমন অগ্রগতি না হলেও কয়েকটি ইতিবাচক দিকের মধ্যে একটি ছিল বন্দি বিনিময়। তবে পাঁচ বছর ধরে চলা রাশিয়ার ইউক্রেন আগ্রাসন বন্ধে কোনো গুরুত্বপূর্ণ সমাধান এখনও আসেনি।
১০ দিন আগে
ইরান সরাসরি আলোচনা নাকচ করলেও ইসলামাবাদে প্রতিনিধি পাঠাচ্ছেন ট্রাম্প
তেহরানের সঙ্গে শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু করার জন্য মার্কিন প্রতিনিধিরা শনিবার পাকিস্তানে যাবেন। তবে ইরানের শীর্ষ কূটনীতিক ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পর মার্কিন প্রতিনিধিদের সঙ্গে সরাসরি আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন।
চুক্তি সম্পাদনের এই সর্বশেষ প্রচেষ্টা এমন এক সময়ে শুরু হচ্ছে যখন একটি অনির্দিষ্টকালের যুদ্ধবিরতি অধিকাংশ লড়াই থামিয়ে রেখেছে। তবে হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার ফলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সরবরাহ বিঘ্নিত হওয়ায় এর অর্থনৈতিক ক্ষয়ক্ষতি বেড়েই চলেছে।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানকে আলোচনার টেবিলে ফেরাতে পাকিস্তানের তৎপরতা
চলতি সপ্তাহে কূটনৈতিক তৎপরতার জন্য ইসলামাবাদের অতিরিক্ত সময়ের অনুরোধ রক্ষা করে ইরানের সঙ্গে অনির্দিষ্টকালের জন্য যুদ্ধবিরতি ঘোষণা করেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এরপর থেকে পাকিস্তান উভয় পক্ষকে আলোচনার টেবিলে ফেরানোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।
হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানিয়েছে, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচির সঙ্গে বৈঠকের জন্য স্টিভ উইটকফ এবং জ্যারেড কুশনারকে পাঠাবেন। কিন্তু আরাঘচি ইসলামাবাদে পৌঁছানোর পরপরই তার মন্ত্রণালয় জানায় যে, যেকোনো আলোচনা হবে ‘পরোক্ষ’, যেখানে পাকিস্তানি কর্মকর্তারা দুই পক্ষের মধ্যে বার্তা আদান-প্রদান করবেন।
এর আগে, গত ২৭ ফেব্রুয়ারি তেহরানের পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে জেনেভায় আরাঘচি এবং ট্রাম্পের এই দুই প্রতিনিধির মধ্যে কয়েক ঘণ্টা ধরে পরোক্ষ আলোচনা হয়েছিল। কিন্তু কোনো চুক্তি ছাড়াই তা শেষ হয়। এর পরদিনই ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বিরুদ্ধে যুদ্ধ শুরু করে।
হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি ক্যারোলিন লেভিট ফক্স নিউজকে বলেছেন, উইটকফ ও কুশনারকে পাকিস্তানে পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট যাতে তারা ইরানিদের কথা শুনতে পারেন।
লেভিট বলেন, আমরা গত কয়েক দিনে ইরানের কাছ থেকে কিছু অগ্রগতি লক্ষ করেছি। তবে মার্কিন কর্মকর্তারা ঠিক কী শুনছেন, সে বিষয়ে তিনি কোনো বিস্তারিত তথ্য দেননি।
‘জোনস অ্যাক্ট’ মওকুফের মেয়াদ ৯০ দিন বাড়ালেন ট্রাম্প
এদিকে, হোয়াইট হাউস শুক্রবার জানিয়েছে, ট্রাম্প ‘জোনস অ্যাক্ট’ মওকুফের মেয়াদ আরও ৯০ দিন বাড়িয়েছেন। এর ফলে অ-মার্কিন জাহাজগুলোর জন্য তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস পরিবহন করা সহজ হবে।
হরমুজ প্রণালি কার্যত বন্ধ হয়ে যাওয়ার পর জ্বালানির দাম স্থিতিশীল করতে এবং যুক্তরাষ্ট্রে তেল-গ্যাস সরবরাহ সহজ করতে তিনি গত মার্চ মাসে প্রথম ৬০ দিনের জন্য এই আইন মওকুফ করেছিলেন। উল্লেখ্য, যুদ্ধোত্তর সময়ে বিশ্বের এক-পঞ্চমাংশ তেল এই কৌশলগত জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হতো।
এই প্রণালির ওপর নিজেদের নিয়ন্ত্রণ বজায় রেখেছে তেহরান। চলতি সপ্তাহের শুরুতে তিনটি জাহাজে হামলা চালিয়েছে তারা। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ অব্যাহত রেখেছে। সামরিক বাহিনীকে মাইন স্থাপন করতে পারে এমন ছোট নৌকাগুলো দেখামাত্র গুলি করার নির্দেশ দিয়েছেন ট্রাম্প।
এই খবরে আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অপরিশোধিত তেলের দাম কিছুটা কমেছে। ব্যারেল প্রতি ১০৩ থেকে ১০৭ ডলারের মধ্যে ওঠানামা করছে, যা এখনও ২৮ ফেব্রুয়ারির (যুদ্ধ শুরুর দিন) তুলনায় প্রায় ৫০ শতাংশ বেশি। হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচলের এই সংকট এখন বিশ্বের অর্ধেক পথ দূরের পানামা খালসহ বৈশ্বিক সামুদ্রিক বাণিজ্যে প্রভাব ফেলছে।
১০ দিন আগে
রাতে আরাঘচির নেতৃত্বে পাকিস্তানে যেতে পারে ইরানের প্রতিনিধিদল
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি একটি প্রতিনিধিদল নিয়ে আজ শুক্রবার রাতে পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাতে পারেন। যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে চলমান সংকট নিরসনের লক্ষ্যে সরাসরি আলোচনা পুনরায় শুরুর ক্ষেত্রে এই সফর একটি গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
ইসলামাবাদের ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তারা এই এ তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল জাজিরা এক প্রতিবেদনে জানায়, আরাঘচি ও পাকিস্তানি নেতৃত্বের মধ্যে শুক্রবার একাধিকবার টেলিফোনে আলোচনার পরই এই সফরের সিদ্ধান্ত আসে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা ইরনা জানিয়েছে, এই সফরটি মূলত দ্বিপাক্ষিক— অর্থাৎ আরাঘচি পাকিস্তানের কর্মকর্তাদের সঙ্গে আলোচনা করবেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সরাসরি কোনো বৈঠকে অংশ নেবেন না। সফর শেষে তিনি মস্কো ও মাস্কাটও সফর করবেন বলে জানানো হয়েছে।
তবে একজন পাকিস্তানি কর্মকর্তা জানিয়েছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে একটি বড় অগ্রগতির সম্ভাবনা এখনও বিদ্যমান। সাম্প্রতিক সময়ে হরমুজ প্রণালিকে ঘিরে চরম উত্তেজনা ও পাল্টাপাল্টি হুমকির মধ্যেই এই সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে।
সপ্তাহের শুরুতে ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের নেতৃত্বে একটি মার্কিন প্রতিনিধিদলের ইসলামাবাদে আলোচনায় অংশ নেওয়ার কথা ছিল। তবে তেহরান তাদের বন্দরগুলোর ওপর নৌ অবরোধের কারণে আলোচনায় ফিরতে অস্বীকৃতি জানায়। গত ১১ এপ্রিল ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের প্রথম দফা আলোচনা অমীমাংসিতভাবে শেষ হওয়ার দুই দিন পর ১৩ এপ্রিল যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই নৌ অবরোধের ঘোষণা দেন।
এরপর থেকে পরবর্তী আলোচনার ভবিষ্যৎ অনিশ্চিত হয়ে পড়ে। ইরান স্পষ্ট জানিয়ে দেয়, যুক্তরাষ্ট্র অবরোধ প্রত্যাহার না করলে তারা আলোচনায় ফিরবে না। অন্যদিকে, ট্রাম্প প্রশাসন অবরোধ প্রত্যাহারে অনড় অবস্থান বজায় রাখে। এমনকি ইরান হরমুজ প্রণালি পুনরায় খুলে দেওয়ার ঘোষণা দিলেও ওয়াশিংটন তার অবস্থান পরিবর্তন করেনি।
এই অচলাবস্থার মধ্যেই গত কয়েক দিনে হরমুজ প্রণালিতে উত্তেজনা আরও তীব্র হয়। সেখানে যুক্তরাষ্ট্র একটি ইরানি পতাকাবাহী জাহাজ জব্দ করে। এর জবাবে ইরান দুটি জাহাজ আটক করে এবং তৃতীয় একটি জাহাজে গুলি চালায়।
ফলে সপ্তাহের মাঝামাঝি সময় পর্যন্ত যুক্তরাষ্ট্র-ইরানের দ্বিতীয় দফা আলোচনা আদৌ হবে কি না—তা নিয়ে ব্যাপক অনিশ্চয়তা তৈরি হয়।
১১ দিন আগে
ধুমপান নিষিদ্ধে যুক্তরাজ্যে বিল পাস
ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে সিগারেট বা ধুমপানের আসক্তি থেকে দূরে রাখতে সম্প্রতি যুক্তরাজ্যের পার্লামেন্টে একটি বিল পাস হয়েছে। এ ঘটনায় স্বস্তির নিঃশ্বাস ফেলছে দেশটির সচেতন নাগরিকরা।
মঙ্গলবার (২১ এপিল) হাউস অব লর্ডসে আইনটি চূড়ান্ত অনুমোদন পায়।
দীর্ঘদিন ধরে এই আইনের পক্ষে প্রচারণা চালানো সংস্থা অ্যাকশন অন স্মোকিং অ্যান্ড হেলথের প্রধান নির্বাহী হ্যাজেল চিজম্যান বলেন, ধূমপান নিশ্চিতভাবে মানুষের ভয়াবহ ক্ষতি করে। আইনটি হলে টোব্যাকো অ্যান্ড ভ্যাপস বিলের আওতায় ২০০৮ সালের ৩১ ডিসেম্বরের পর জন্ম নেওয়া শিশুদের জন্য সারা জীবনের জন্য সিগারেট কেনা নিষিদ্ধ করা হবে।
আইনটি কার্যকর হওয়ার আগে রাজা তৃতীয় চার্লসের অনুমোদনের প্রয়োজন হবে, যা একটি আনুষ্ঠানিকতা মাত্র। এই আইনটি সরকারকে তামাক, ভ্যাপিং ও নিকোটিনজাত পণ্য নিয়ন্ত্রণ করার ক্ষমতা দেবে, যার মধ্যে ফ্লেভার ও প্যাকেজিংও অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুক্তরাজ্যে বর্তমানে ১৮ বছরের কম বয়সীদের কাছে সিগারেট, তামাকজাত পণ্য বা ভ্যাপ বিক্রি করা অবৈধ। তবে নতুন নিয়মে প্রতি বছর সিগারেট কেনার ন্যূনতম বয়স বাড়তে থাকবে, ফলে আজকের অধিকাংশ তরুণ-তরুণী সারা জীবনই এই নিষেধাজ্ঞার মুখোমুখি হবে।
বিল পাসের মধ্যে দিয়ে যুক্তরাজ্য বিশ্বের সবচেয়ে কঠোর ধূমপানবিরোধী ব্যবস্থাগুলোর একটি গ্রহণ করল। এই আইনটি অনেকটা ২০২২ সালে নিউজিল্যান্ডের আইনপ্রণেতাদের পাস করা আইনের মতো, যদিও পরে নতুন সরকার সেটি বাতিল করে দিয়েছিল।
১৯৭০-এর দশক থেকে এখন পর্যন্ত ব্রিটেনে ধূমপায়ীর সংখ্যা দুই-তৃতীয়াংশ কমেছে। তবে সরকারি হিসাব অনুযায়ী, সেখানে এখনও প্রায় ৬৪ লাখ মানুষ ধুমপান করে। এটি যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যার প্রায় ১৩ শতাংশ।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ধূমপানের কারণে দেশটিতে প্রতি বছর প্রায় ৮০ হাজার মানুষের মৃত্যু হয় । এটি মৃত্যু, অক্ষমতা ও স্বাস্থ্যহানির এক নম্বর কারণ যেটা প্রতিরোধযোগ্য।
স্বাস্থ্যমন্ত্রী ওয়েস স্ট্রিটিং বলেছেন, ‘যুক্তরাজ্যের শিশুরা হবে প্রথম ধূমপানমুক্ত প্রজন্মের অংশ, যারা আজীবনের এই আসক্তি ও ক্ষতি থেকে সুরক্ষিত থাকবে।’
১২ দিন আগে
পাইলটরা ছবি তুলতে গিয়েই সংঘর্ষ হয়েছিল সেই দুই যুদ্ধবিমানের
২০২১ সালে দক্ষিণ কোরিয়ায় মাঝ আকাশে দুটি যুদ্ধবিমানের সংঘর্ষ হয়। ওই ঘটনার পাঁচ বছর পর অবশেষে দুর্ঘটনার কারণ সামনে এসেছে। তদন্ত প্রতিবেদন বলছে, বিমানের পাইলটরা ছবি তোলা ও ভিডিও করতে ব্যস্ত হয়ে পড়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটে।
দুর্ঘটনার কারণ উদঘাটনে যে তদন্ত কমিটি করা হয়েছিল, দীর্ঘদিন পর বুধবার (২২ এপ্রিল) তারা এক প্রতিবেদনে তা প্রকাশ করেছে।
তদন্ত প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, বিমানদুটি একটি ফ্লাইট মিশনে থাকাকালে ওই দুর্ঘটনাটি ঘটে। দুর্ঘটনায় পাইলটরা কোনো আঘাত না পেলেও বিমানদুটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, যা মেরামত করতে দেশটির সামরিক বাহিনীর খরচ হয়েছে ৮৮০ মিলিয়ন ওন।
ওই ঘটনার পর সামরিক বাহিনী ছেড়ে দেওয়া এক পাইলটকে ৮৮ মিলিয়ন ওন জরিমানা করা হয়।
ওই পাইলট মূলত তার শেষ ফ্লাইট স্মরণীয় করে রাখতেই কিছু ছবি তুলতে চেয়েছিলেন। প্রতিবেদন অনুযায়ী, ফ্লাইটের আগে দেওয়া ব্রিফিংয়ে তার এই ইচ্ছার কথাও জানিয়েছিলেন তিনি।
অডিট বোর্ড জানায়, গুরুত্বপূর্ণ ফ্লাইট থেকে ছবি তোলা তখন পাইলটদের মধ্যে ‘ব্যাপকভাবে প্রচলিত’ ছিল। ঘটনার আগমূহুর্তে অভিযুক্ত পাইলট উইংম্যান বিমানটি চালাচ্ছিলেন এবং মিশনের সময় লিড বিমানের অনুসরণ করছিলেন। এরপর বেসে ফেরার সময় তিনি তার ব্যক্তিগত মোবাইল ফোন ব্যবহার করে ছবি তুলতে শুরু করেন। বিষয়টি লক্ষ করে লিড বিমানের পাইলট তার সঙ্গী আরেক পাইলটকে উইংম্যান বিমানের ভিডিও ধারণ করতে বলেন। এরপর উইংম্যান হঠাৎ করে তার জেট বিমানটি আরও উঁচুতে নিয়ে যান এবং ক্যামেরায় ভালোভাবে ধরার জন্য সেটিকে উল্টে দেন। এর ফলে দুটি বিমান খুব কাছাকাছি চলে আসে।
সংঘর্ষ এড়াতে সে সময় লিড বিমানটি দ্রুত নিচে নামার চেষ্টা করে, কিন্তু শেষ পর্যন্ত বিমানদুটির সংঘর্ষ হয়। এ ঘটনায় লিড বিমানের বাঁ দিকের ডানা এবং উইংম্যানের বিমানের লেজের স্ট্যাবিলাইজার ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
ওই ঘটনার পর দক্ষিণ কোরিয়ার বিমানবাহিনী পাইলট উইংম্যানকে সাময়িক বরখাস্ত করে। বরখাস্ত হওয়ার পর সামরিক বাহিনী ছেড়ে একটি বাণিজ্যিক এয়ারলাইনে কাজ শুরু করেন তিনি।
পরবর্তীতে, মেরামতের পুরো খরচ আদায় করতে বিমান বাহিনী উইংম্যানকে ৮৮০ মিলিয়ন ওন জরিমানা করতে চায়। তবে পাইলট যখন এই জরিমানার বিরুদ্ধে আপিল করেন, তখন বিষয়টি নিয়ে তদন্ত শুরু হয়।
তদন্ত চলাকালে উইংম্যান স্বীকার করেন যে তার এই কৌশলী চালনার কারণেই সংঘর্ষ হয়েছিল। তবে তিনি যুক্তি দেন যে লিড বিমানের পাইলটও এ বিষয়ে ‘নীরব সম্মতি’ দিয়েছিলেন, কারণ ভিডিও ধারণের বিষয়টি তিনি দেখেছিলেন।
শেষ পর্যন্ত তদন্ত কমিটি থেকে সিদ্ধান্ত হয় যে উইংম্যানকে বিমানবাহিনী যে জরিমানা করতে চেয়েছিল, তার এক-দশমাংশ পরিশোধ করতে হবে। পাশাপাশি পাইলটদের ব্যক্তিগতভাবে ক্যামেরা ব্যবহারের বিষয়ে যথাযথ নিয়ম না থাকায় বিমান বাহিনীরও এ ঘটনায় কিছু দায় রয়েছে।
এ ঘটনায় জড়িত অন্যদের বিরুদ্ধে কোনো ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছিল কি না, তা প্রকাশিত তদন্ত প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়নি।
১৩ দিন আগে