বিশ্ব
দুর্যোগে নিহত ১,৩০০ ছাড়িয়েছে, জাতীয় শোক পালন করছে নেপাল
২৬ আগস্টের ভয়াবহ বন্যায় নিহতদের স্মরণে আজ সোমবার নেপালে জাতীয় শোক দিবস পালন করা হচ্ছে। এদিন সরকারি দপ্তরগুলোতে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখা হয় এবং নিহতদের পরিবারের সদস্যরা শোকানুষ্ঠানের আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেন।
বন্যার ত্রয়োদশ দিনে এসে নেপাল ও তিব্বতে মৃতের সংখ্যা ১ হাজার ৩০০ ছাড়িয়েছে। এছাড়া বিদেশিসহ প্রায় ৫ হাজার মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা।
হিন্দুপ্রধান দেশটিতে সাধারণত মৃত্যুর পর ১৩ দিন শোক পালন করা হয়। এ সময়ে নিকটাত্মীয়রা বাড়িতে অবস্থান করেন এবং স্বজন ও পরিচিতরা তাদের সমবেদনা জানাতে যান। ত্রয়োদশ দিনে মৃতের আত্মার শান্তি কামনায় বিভিন্ন ধর্মীয় আচার-অনুষ্ঠান পালন করা হয়।
যেসব পরিবারের সদস্য এখনও নিখোঁজ, তাদের অনেকেই প্রতীকী শেষকৃত্য ও শোকানুষ্ঠান পালন করেছেন। হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ গুরুত্বপূর্ণ শেষকৃত্য। প্রিয়জনের মরদেহ না পেলেও প্রতীকীভাবে এই আনুষ্ঠানিকতা সম্পন্ন করেছে কিছু পরিবার। তাদের কাছে এটি মানসিক ও আধ্যাত্মিক স্বস্তির মাধ্যম হয়ে উঠেছে।
এর আগে, সোমবারকে জাতীয় শোক দিবস ঘোষণা করে নেপাল সরকার এবং সব সরকারি দপ্তরে জাতীয় পতাকা অর্ধনমিত রাখার নির্দেশ দেয়।
৫১ দিন আগে
ডিআর কঙ্গোতে বিয়ের অনুষ্ঠানে আগুন, নিহত অন্তত ২২
ডেমোক্রেটিক রিপাবলিক অব কঙ্গোর রাজধানী কিনশাসায় একটি বিয়ের অনুষ্ঠানে আগুন লেগে অন্তত ২২ জন নিহত এবং কয়েকজন আহত হয়েছে।
আঞ্চলিক মেয়র শনিবার (৫ সেপ্টেম্বর) এ তথ্য নিশ্চিত করে জানান, কিনশাসার উত্তরে লিংওয়ালা পৌরসভায় একটি ভবনে গভীর রাতে আগুনের সূত্রপাত হয়, যা শনিবার ভোর পর্যন্ত জ্বলতে থাকে।
অনুষ্ঠানে উপস্থিত লোকজন আগুন থেকে বাঁচতে সেখানে থেকে বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করলে সরু করিডোরগুলোতে ব্যাপক ভিড় তৈরি হয়। পরে কয়েকজনকে রাস্তার পাশে পড়ে থাকতে দেখা যায়, যাদের কেউ জীবিত, কেউ মৃত ছিল।
কঙ্গোলিজ প্রেস এজেন্সিকে লিংওয়ালার মেয়র নরবার্ট মুশিঙ্গা বলেন, প্রাথমিক হিসাবে নিহতের সংখ্যা ২২। এই সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলেও আশঙ্কা প্রকাশ করেন তিনি।
এদিকে আগুন লাগার সঠিক কারণ এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি। ডিআর কঙ্গোর উপপ্রধানমন্ত্রী ও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জ্যাকমিন শাবানি শনিবার সকালে ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে বলেন, ‘এটি একটি মর্মান্তিক ঘটনা।’
কিনশাসার ঘনবসতিপূর্ণ এলাকায় প্রাণঘাতী অগ্নিকাণ্ড প্রায়ই ঘটে থাকে। এসব এলাকায় নগর উন্নয়নের সঙ্গে অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থার মতো প্রয়োজনীয় সুবিধা গড়ে ওঠেনি। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, শুষ্ক মৌসুমে এ ধরনের অগ্নিকাণ্ড বেশি ঘটে এবং চলতি বছরও বেশ কয়েকটি অগ্নিকাণ্ড ঘটেছে।
৫২ দিন আগে
জলবায়ু পরিবর্তনে উষ্ণ হচ্ছে হিমালয়, বাড়ছে নেপালের মতো দুর্যোগ
অতি সম্প্রতি নেপালের প্রত্যন্ত একটি গ্রামের দিকে পানি, পাথর ও কাদার স্রোত ধেয়ে এলে পেমা তামাং ও তার প্রতিবেশীরা পাহাড়ের উপরের দিকে একটি বৌদ্ধ মন্দিরে আশ্রয় নেন। ২০১৫ সালের ভূমিকম্পের পর গত বছরই মন্দিরটি পুনর্নির্মাণ করা হয়েছিল।
ইতোমধ্যে ভূমিকম্পপ্রবণ হিমালয়ের খাড়া পাহাড়ি অঞ্চলগুলোতে উঁচু পর্বতের হিমবাহ গলে যাওয়ার কারণে ওই অঞ্চলে ঘন ঘন আকস্মিক বন্যা হচ্ছে। এতে নদীর গতিপথ কখনো কখনো ভয়াবহ দ্রুততায় বদলে যাচ্ছে। এক দুর্যোগের পর আরেক দুর্যোগের মধ্যে বাসিন্দাদের পুনর্বাসনের জন্য খুব কম সময়ই মিলছে। ফলে জলবায়ু পরিবর্তনের গতি বাড়তে থাকায় এসব জনগোষ্ঠী টিকে থাকতে পারবে কি না, তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।
মন্দিরটির কথা উল্লেখ করে তামাং অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসকে (এপি) বলেন, ‘ভূমিকম্পে মন্দিরটি ধ্বংস হওয়ার পর মাত্র গত বছরই আমরা এটি পুনর্নির্মাণ করেছি। বন্যার কবল থেকে প্রাণ বাঁচাতে আমরা সেখানেই আশ্রয় নিই।’ কাঠমান্ডুর একটি বৌদ্ধবিহারে তৈরি অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে বসে তিনি এসব বলছিলেন।
নেপাল ও প্রতিবেশী চীনে ২৬ আগস্টের বন্যায় ১ হাজার ২০০-র বেশি মানুষ নিহত হয়েছে এবং হাজারো মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছে। এর মধ্যে শত শত মানুষ জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের টানেলে আটকা পড়েছে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। হিমালয়ের একাধিক নদীতে শিলাস্তর ও হিমবাহের বরফ ধসে পড়ার পর ধ্বংসাবশেষ ও পানি প্রবল বেগে নেমে এলে এই বন্যার সৃষ্টি হয়।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, এই বিপর্যয়ের সঙ্গে বৈশ্বিক উষ্ণায়নের সরাসরি যোগসূত্র স্থাপনের জন্য এখনই উপযুক্ত সময় নয়। তবে তেল, গ্যাস ও কয়লা পোড়ানোর কারণে পৃথিবীর তাপমাত্রা দ্রুত বাড়ছে। এর ফলে এ ধরনের দুর্যোগের আশঙ্কাও বাড়ছে, বিশেষ করে হিমালয় পর্বতমালায়, যেখানে বিশ্বের অন্যান্য অনেক অঞ্চলের তুলনায় তাপমাত্রা উল্লেখযোগ্যভাবে দ্রুত বাড়ছে।
৫৩ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্র-কানাডা থেকে ৮৬ টন সোনা লন্ডনে সরিয়ে নিল নেদারল্যান্ডস
‘ক্রমবর্ধমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতার’ কথা উল্লেখ করে যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডায় রাখা নিজেদের ৮৬ টন সোনা যুক্তরাজ্যের লন্ডনে সরিয়ে নিয়েছে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক। সংকটের সময় দ্রুত সোনা ব্যবহার বা লেনদেন করতে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে ব্যাংকটি।
স্থানীয় সময় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এক বিবৃতিতে নেদারল্যান্ডসের কেন্দ্রীয় ব্যাংক দ্য নেদারল্যান্ডস ব্যাংক (ডিএনবি) এ তথ্য নিশ্চিত করেছে বলে ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম গার্ডিয়ান এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে।
ডিএনবির মতে, নিউইয়র্ক ও অটোয়ার তুলনায় লন্ডনে রাখা সোনা দ্রুত ও সহজে লেনদেন করা যায়। ফলে সংকটের সময় তা দ্রুত কাজে লাগানো সম্ভব।
এ বিষয়ে ডিএনবির প্রেসিডেন্ট ওলাফ স্লেইপেন বলেন, ‘এই পদক্ষেপের মাধ্যমে আমরা আমাদের সোনার মজুত ব্যবহারের সক্ষমতা বাড়িয়েছি। আমরা আশা করি, আমাদের কখনোই এসব সোনা ব্যবহার করার প্রয়োজন হবে না। তবে আমাদের প্রস্তুতি ও সংকট মোকাবিলার সক্ষমতা আরও শক্তিশালী করা প্রয়োজন।’
ডিএনবি আরও জানায়, ২০২৫ সালের শেষ নাগাদ নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুত ছিল ৬১২ দশমিক ৪ টন। ওই সময় এর মূল্য ছিল ৭২ দশমিক ২ বিলিয়ন ইউরো, যা প্রায় ৮৩ দশমিক ৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের সমান।
সোনা সরানোর আগে নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার ৩১ দশমিক ৩ শতাংশ ছিল নিউইয়র্কে। আর ১৯ দশমিক ৭ শতাংশ ছিল কানাডার রাজধানী অটোয়ায়।
৮৬ টন সোনা সরিয়ে নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা—উভয় দেশেই নেদারল্যান্ডসের মোট সোনার মজুতের পরিমাণ কমে ১৮ দশমিক ৫ শতাংশ হয়েছে।
অন্যদিকে লন্ডনে থাকা সোনার পরিমাণ ১৮ দশমিক ১ শতাংশ থেকে বেড়ে ৩২ দশমিক ১ শতাংশ হয়েছে। আর নেদারল্যান্ডসের নিজস্ব ভূখণ্ডে এখনও মোট সোনার ৩০ দশমিক ৮ শতাংশ রয়েছে।
ডিএনবি বলছে, সোনা সরানোর ক্ষেত্রে শুধু শারীরিকভাবে এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় নেওয়া হয়নি। এর পাশাপাশি কিছু সোনা কেনাবেচাও করা হয়েছে।
ব্যাংকটি জানায়, যুক্তরাষ্ট্র ও কানাডা থেকে ২৭ টনের বেশি সোনা সরাসরি নেদারল্যান্ডসের জেইস্টে নেওয়া হয়। পরে একই পরিমাণ সোনা জেইস্ট থেকে লন্ডনে পাঠানো হয়। এতে সোনার বারগুলো গলিয়ে নতুন করে তৈরি করার প্রয়োজন হয়নি।
ডিএনবি বলেছে, ‘কেনাবেচা ও সরাসরি পরিবহনের সমন্বয়ের মাধ্যমে বিপুল পরিমাণ সোনা সরানোর ঝুঁকি ভাগ করে নেওয়া হয়েছে।’
চলতি বছরের মার্চ থেকে আগস্টের মধ্যে পুরো প্রক্রিয়াটি সম্পন্ন করা হয়েছে বলে ব্যাংকটি জানিয়েছে।
ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসভিত্তিক ন্যাশনাল গোল্ড কাউন্টারের প্রেসিডেন্ট লরেন্ট শোয়ার্টজ বলেন, এক দশক ধরে বিভিন্ন দেশের কেন্দ্রীয় ব্যাংক তাদের সোনার মজুত এক জায়গা থেকে অন্য জায়গায় সরিয়ে আসছে। এসব ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রের বর্তমান রাজনৈতিক পরিস্থিতিও কিছু কেন্দ্রীয় ব্যাংককে সোনা রাখার জন্য অন্য জায়গাকে অগ্রাধিকার দিতে উৎসাহিত করতে পারে।
তিনি আরও বলেন, লন্ডনের সোনার বাজার বিশ্বের সবচেয়ে বড় ও তারল্যপূর্ণ বাজারগুলোর একটি। তাই সংকটের সময় সেখানে থাকা সোনা দ্রুত ব্যবহার করা সহজ।
শোয়ার্টজ বলেন, ‘কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলো অন্য ব্যাংকিং প্রতিষ্ঠানগুলোকে আরও সহজে তাদের সোনা ঋণ দিতে পারে।’
সিটে জেস্টিওন প্রাইভেট ব্যাংকের বিশ্লেষক জন প্লাসার্ড বলেন, নেদারল্যান্ডসের এই সিদ্ধান্তের উদ্দেশ্য হলো ‘কোনো সংকট দেখা দিলে সোনার আরও তাৎক্ষণিক ব্যবহার নিশ্চিত করা।’
তিনি আরও বলেন, আপাতত এটি বেশ একক একটি পদক্ষেপ। তবে অন্য কেন্দ্রীয় ব্যাংকগুলোও একইভাবে সোনা সরিয়ে নিলে যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি আস্থায় নেতিবাচক প্রভাব পড়তে পারে বলে সতর্ক করেন তিনি।
চলতি বছরের শুরুতে নিউইয়র্কে থাকা জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংকের সোনার মজুতের নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ তৈরি হয়েছিল। তবে জার্মানির কেন্দ্রীয় ব্যাংক বুন্দেসব্যাংক আপাতত নিউইয়র্ক থেকে তাদের সোনার মজুত সরিয়ে না নেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।
জানুয়ারিতে জার্মানির সরকারি টেলিভিশন চ্যানেল এআরডিকে বুন্দেসব্যাংক জানিয়েছিল, নিউইয়র্ক ফেড তাদের সোনা সংরক্ষণের একটি গুরুত্বপূর্ণ স্থান এবং ভবিষ্যতেও থাকবে।
৫৫ দিন আগে
চীনের হয়ে কাজ করার দায়ে মার্কিন সাংবাদিকের ২ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রের এক সাংবাদিককে দেশটির ভেতরে বিদেশি সরকারের এজেন্ট হিসেবে কাজ করার দায়ে দুই বছরের ফেডারেল কারাদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দেশটির বিচার বিভাগ মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানিয়েছে।
টেক্সাসের বাসিন্দা ৫১ বছর বয়সী থমাস ওয়েয়ার পাউকেন দ্বিতীয় চলতি বছরের শুরুতে দোষ স্বীকার করেন। তার আইনজীবী চার্লস বার্নহ্যাম জানান, পাউকেনের আপিল করার কোনো পরিকল্পনা নেই।
বিচার বিভাগের বিজ্ঞপ্তি অনুযায়ী, পাউকেন আরও ৩৬ মাস নজরদারির অধীনে মুক্ত থাকবেন। তবে এ সময়ে তিনি বিদেশ ভ্রমণ করতে পারবেন না। তাকে ফেব্রুয়ারিতে গ্রেপ্তার করা হয়েছিল।
ওয়াশিংটন ও বেইজিংয়ের মধ্যে উত্তেজনা অব্যাহত থাকার মধ্যে যথাযথভাবে তথ্য প্রকাশ না করে চীনা সরকারের হয়ে কাজ করার অভিযোগে কয়েকজনের বিরুদ্ধে ফেডারেল পর্যায়ে মামলা হয়। তারই ধারাবাহিকতায় সর্বশেষ ঘটনা এটি।
বিচার বিভাগের সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জাতীয় নিরাপত্তাবিষয়ক সহকারী অ্যাটর্নি জেনারেল জন এ আইজেনবার্গ বলেন, চীনের রাষ্ট্রীয় নিরাপত্তা মন্ত্রণালয়ের (এমএসএস) কার্যক্রমে সহায়তা, নিয়োগ ও সম্ভাব্য এজেন্টদের কাছ থেকে সংবেদনশীল তথ্য সংগ্রহের জন্য পাউকেন অর্থের বিনিময়ে নিজের দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করেছেন।
২০১০ সালে চীনে যাওয়ার পর পাউকেন বিভিন্ন চীনা সংবাদ সংস্থায় সাংবাদিক হিসেবে কাজ করেন। এর মধ্যে রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভিও রয়েছে। সর্বশেষ তিনি চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদ সংস্থা সিনহুয়ার একজন সম্পাদক হিসেবে কাজ করছিলেন। ২০২৪ সাল থেকে তিনি এই পদে ছিলেন।
তার আইনজীবী বলেন, পাউকেন তার দায় স্বীকার করেছেন এবং আদালতের সাজাকে সম্মান করেন। তবে সরকার আদালতে স্বীকার করেছে, পাউকেন চীনাদের কোনো গোপনীয় তথ্য দেননি।
আদালতের নথি অনুযায়ী, অন্তত ২০১৯ সাল থেকে ২০২৬ সালের ফেব্রুয়ারি পর্যন্ত পাউকেন এমন কয়েকজনের নির্দেশনায় কাজ করেন, যারা চীনা সরকারের হয়ে কাজ করেন বলে তিনি জানতেন। তাদের মধ্যে একজনের নাম ‘ক্যাথি’, যার সঙ্গে তার ২০১৭ সালে পরিচয় হয় ।
এফবিআইয়ের বিশেষ এজেন্ট টিমোথি জে হিলির ২৭ ফেব্রুয়ারি দাখিল করা ফেডারেল আদালতের হলফনামা অনুযায়ী, ‘ক্যাথি’ তাকে বলেছিলেন, তার তৈরি প্রতিবেদনগুলো চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং পড়তেন।
বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ‘ক্যাথি’র সঙ্গে কাজ করার জন্য পাউকেন অন্তত এক লাখ ডলার পেয়েছেন।
প্রতিবেদন লেখার পাশাপাশি ‘ক্যাথি’ পাউকেনকে গোপনীয় তথ্য সরবরাহ করতে সক্ষম ব্যক্তিদের নিয়োগ করতেও বলেছিলেন। এক ঘটনায় হলফনামায় ‘পারসন ১’ হিসেবে চিহ্নিত এক ব্যক্তির সঙ্গে দেখা করে তাকে একটি স্যামসাং ফোন, একটি কম্পিউটার এবং সিগন্যাল ও টেলিগ্রামের পাসওয়ার্ড দেওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়। পাশাপাশি তাকে নেটডিস্ক ব্যবহারের সুযোগ দেওয়ার কথাও ছিল।
২০২৫ সালের জানুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্রে ফেরার সময় কাস্টমস অ্যান্ড বর্ডার প্রোটেকশনের (সিবিপি) কর্মকর্তারা পাউকেনকে থামান। সিবিপি ও এফবিআই কর্মকর্তাদের জিজ্ঞাসাবাদে পাউকেন বলেন, ট্রাম্প প্রশাসনে চাকরি পাওয়ার চেষ্টা করা ওই ব্যক্তি চীনকে গোপনীয় তথ্য সরবরাহ করবেন—এ বিষয়ে তিনি ‘৮০ শতাংশ নিশ্চিত’ ছিলেন। তবে হলফনামা অনুযায়ী, পাউকেন ওই ব্যক্তিকে তা না করার পরামর্শ দিয়েছিলেন।
হলফনামায় বলা হয়, পাউকেন তদন্তকারীদের আরও জানিয়েছিলেন, বছরের পর বছর ‘ক্যাথি’ সাধারণত যুক্তরাষ্ট্রে তার ভ্রমণের খরচ বহন করতেন এবং প্রায়ই তার স্ত্রীর ব্যাংক হিসাবে অর্থ পাঠাতেন।
চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বুধবার (২ সেপ্টেম্বর) এ রায় নিয়ে মন্তব্যের জন্য করা অনুরোধের তাৎক্ষণিক কোনো জবাব দেয়নি।
চীনের সঙ্গে কাজ করার সময় টেক্সাসের বাসিন্দা পাউকেন তার বাবার অনুরোধে ‘টম ম্যাকগ্রেগর’ ছদ্মনাম ব্যবহার করতেন। তার বাবার নামও থমাস পাউকেন এবং তিনি চীনে ছেলের কাজ থেকে নিজেকে দূরে রাখতে চেয়েছিলেন।
পাউকেন তার আসল নাম থমাস ডব্লিউ পাউকেন দ্বিতীয় নামে দুটি বইও প্রকাশ করেন। এর একটি ২০১৯ সালে যুক্তরাষ্ট্র-চীন সম্পর্ক নিয়ে এবং অন্যটি ২০২৩ সালে চীনের মূল ভূখণ্ডে হংকংয়ের বিপরীতে অবস্থিত শহর শেনঝেন নিয়ে প্রকাশিত হয়।
পাউকেনের বাবা ১৯৯০-এর দশকে টেক্সাস রিপাবলিকান পার্টির সাবেক চেয়ারম্যান ছিলেন এবং এক দশকেরও বেশি আগে গভর্নর পদে নির্বাচন করেছিলেন।
ম্যাকগ্রেগরের নামে ফেসবুকে সর্বশেষ পাবলিক পোস্টে পাউকেন তার স্ত্রী ও সন্তানের সঙ্গে ভ্রমণের ছবি শেয়ার করে লিখেছিলেন, ‘আমি ও আমার পরিবার ওয়াশিংটন ডিসিতে ভ্রমণ উপভোগ করছি।’ ওই মাসের পরেই তাকে গ্রেপ্তার করা হয়।
৫৫ দিন আগে
নেপালে নিখোঁজদের প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করছেন স্বজনরা
নেপালে গত সপ্তাহের ভয়াবহ বন্যায় এখনও যারা নিখোঁজ রয়েছেন, তাদের আর জীবীত উদ্ধারের আশা পরিত্যাগ করেছেন স্বজনররা। এর পরিপ্রেক্ষিতে প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করছেন শোকাস্তব্ধ নেপালবাসী।
নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর একটি নুয়াকোটে নিখোঁজ স্বজনদের মৃত ধরে নিয়ে কয়েকটি পরিবার এ ধরনের প্রতীকী শেষকৃত্য পালন করেছে। হিন্দু ধর্মীয় রীতিতে দাহ গুরুত্বপূর্ণ শেষকৃত্য। স্বজনের মরদেহ না পেলেও এই আনুষ্ঠানিকতা পালন কিছু পরিবারের জন্য আধ্যাত্মিক স্বস্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে।
নুয়াকোটের মুকুন্দ রিজাল জানান, তার কয়েকজন চাচাতো ভাই ও তাদের মেয়েদের এখনও সন্ধান পাওয়া যায়নি। এ কারণে পরিবার তাদের প্রতীকী শেষকৃত্য সম্পন্ন করেছে।
ত্রিশূলী নদীর তীরে এক পুরোহিত নিখোঁজ পরিবারের সদস্যদের প্রতীক হিসেবে খড় দিয়ে তৈরি অবয়ব তৈরি করেন। পরে সেগুলো ছোট ছোট কাঠের স্তূপ দিয়ে ঢেকে আগুন ধরিয়ে দেওয়া হয়। প্রতীকী চিতাগুলোর চারপাশে হিন্দু দেবতাদের উদ্দেশ্যে বিভিন্ন সামগ্রী রাখা হয় এবং স্বজনরা শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতায় অংশ নেন।
নিখোঁজ পর্যটকদের কেউ কেউ যোগাযোগ করেছেন
এদিকে, আগে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত কয়েকজন বিদেশি পর্যটক কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন বলে কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের মুখপাত্র সুনীল শর্মা জানিয়েছেন, আগে নিখোঁজ হিসেবে তালিকাভুক্ত অন্তত আরও পাঁচ পর্যটক সাম্প্রতিক দিনগুলোতে ই-মেইল বা ফোনে কর্তৃপক্ষের সঙ্গে যোগাযোগ করেছেন।
৫৫ দিন আগে
ইরানে বিয়ের অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নিহত ৫, আহত ৬৮
ইরানে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক হামলায় একটি বাড়িতে চলা বিয়ের অনুষ্ঠানে পাঁচজন নিহত এবং অন্তত ৬৮ জন আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে বলে জানিয়েছেন স্থানীয় কর্মকর্তারা।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১ সেপ্টেম্বর) সন্ধ্যায় ইরানের বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলার পর এ হতাহতের ঘটনা ঘটে।
হরমোজগান প্রদেশের ডেপুটি গভর্নর আহমাদ নাফিসি ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানান, দক্ষিণ ইরানের কুহেস্তাক এলাকায় একটি বাড়িতে বিয়ের অনুষ্ঠান চলাকালে যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় পাঁচজন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ৬৮ জন আহত হয়েছেন।
ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র দেশটির দক্ষিণ উপকূলীয় এলাকায় বেসামরিক স্থাপনা এবং একটি বেসামরিক বিমানবন্দরেও হামলা চালিয়েছে।
ইরানের পার্লামেন্টের জাতীয় নিরাপত্তা ও পররাষ্ট্রনীতি কমিটির চেয়ারম্যান ইব্রাহিম আজিজি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে বলেন, ‘কোনো সন্দেহ নেই, এসব অপরাধের শাস্তি হবে।’
তবে যুক্তরাষ্ট্রের সেন্ট্রাল কমান্ডের (সেন্টকম) মুখপাত্র ক্যাপ্টেন টিম হকিন্স বলেন, তারা বেসামরিক হতাহতের খবর সম্পর্কে অবগত। তবে এসব তথ্য ইরানের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম থেকে এসেছে বলে উল্লেখ করেন তিনি।
হকিন্স বলেন, ‘আইআরজিসির মতো যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী কখনো বেসামরিক মানুষকে লক্ষ্যবস্তু করে না।’
হামলার পর স্থানীয় সময় মঙ্গলবার সন্ধ্যায় এক বিবৃতিতে সেন্টকম জানায়, মধ্যপ্রাচ্যে বাণিজ্যিক জাহাজ ও মার্কিন বাহিনীর ওপর হামলার চেষ্টা করায় ইরানের বিরুদ্ধে সর্বশেষ হামলা চালানো হয়েছে।
বিবৃতিতে সেন্টকম আরও জানায়, তারা ইরানের বিমান প্রতিরক্ষাব্যবস্থা, রাডার এবং সামুদ্রিক সম্পদসহ বিভিন্ন সামরিক লক্ষ্যবস্তুতে সর্বশেষ দফার হামলা সম্পন্ন করেছে।
এদিকে, ফক্স নিউজকে দেওয়া এক টেলিফোন সাক্ষাৎকারে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের রাডার স্থাপনায় হামলা চালিয়েছে। তার দাবি, ইরান রাডার ব্যবস্থা পুনর্নির্মাণের চেষ্টা করছিল এবং নির্মাণকাজ প্রায় শেষ হওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্র সেখানে হামলা চালায়।
এর আগে, ট্রাম্প ইরানের ওপর অর্থনৈতিক নিষেধাজ্ঞার মাধ্যমে চাপ বাড়ানোর ইঙ্গিত দিয়েছিলেন। নতুন হামলার জবাবে ইরান পাল্টা হামলা চালালে তাদের ওপর আরও কঠোর ও বড় ধরনের হামলা চালানো হবে বলেও তিনি হুঁশিয়ারি দেন।
মঙ্গলবার রাতে ট্রাম্প বলেন, তিনি ইরানকে আলোচনার টেবিলে আসতে বাধ্য করবেন না।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে তিনি লেখেন, ‘তারা একটি মূল্যহীন চুক্তিতে সই করল কি না, তাতে আমার কিছুই যায় আসে না। হরমুজ প্রণালির ওপর প্রায় পুরোপুরি নিয়ন্ত্রণ এবং তাদের অর্থনীতির সম্পূর্ণ পতনের বর্তমান অবস্থান আমার কাছে অনেক ভালো।’
যুক্তরাষ্ট্রের হামলা শুরুর পর পাল্টা জবাবে ইরানও মধ্যপ্রাচ্যের বিভিন্ন স্থানে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালায়।
ইরান জর্ডানের দিকে ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনের বরাতে দেশটির বিপ্লবী গার্ড বাহিনী দাবি করে, তারা জর্ডানের আকাবা উপসাগরীয় উপকূলে একটি মার্কিন ঘাঁটিকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে।
জর্ডানের সামরিক বাহিনী জানায়, তারা ১০টি ক্ষেপণাস্ত্র ভূপাতিত করেছে এবং বাকি তিনটি জনবসতিহীন এলাকায় পড়েছে। আকাবার আকাশে আসন্ন হামলা প্রতিহত করার সময় বিস্ফোরণের দৃশ্য দেখা গেছে।
এদিকে, কুয়েতের সেনাবাহিনী সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে জানিয়েছে, ‘ইরানের অপরাধমূলক আগ্রাসনের’ পর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষাব্যবস্থা ড্রোন হামলা প্রতিহত করেছে।
ইরান আরও দাবি করেছে, তারা বাহরাইনে অবস্থানরত মার্কিন বাহিনীর ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তবে বাহরাইন কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, সব হামলাই প্রতিহত করা হয়েছে।
ছয় মাসের বেশি সময় ধরে চলা বিচ্ছিন্ন এই যুদ্ধে নতুন করে উত্তেজনা বেড়েছে। গত রবিবারের হামলার মধ্য দিয়ে এক মাসের সামরিক নিষ্ক্রিয়তারও অবসান হয়।
নতুন এই হামলা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে সংঘাতকে আবারও বাড়িয়ে দেওয়ার আশঙ্কা তৈরি করেছে।
৫৬ দিন আগে
কঙ্গোয় ইবোলা আক্রান্ত ৬ হাজার ছাড়িয়েছে, মৃত্যু ৩ হাজার ছুঁই ছুঁই
কঙ্গোয় ইতিহাসের দ্রুততম বিস্তার লাভ করা ইবোলার প্রাদুর্ভাবে আক্রান্তের সংখ্যা ৬ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটির কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত ৬ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত হয়েছেন এবং ২ হাজার ৯১১ জনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩১ আগস্ট) কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ভাইরাসে আক্রান্ত ১ হাজার ৩৬০ জনের বেশি মানুষ সুস্থ হয়ে উঠেছেন, যা একটি ‘উৎসাহব্যঞ্জক’ অগ্রগতি।
পূর্ব কঙ্গোয় অত্যন্ত কঠিন পরিস্থিতির মধ্যে ইবোলার সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ছে। নিরাপত্তাহীনতা, বাস্তুচ্যুতি, স্বাস্থ্যকর্মীদের ধর্মঘট এবং মানুষের ব্যাপক স্থানান্তর পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলেছে। বিশেষ করে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয়কেন্দ্রগুলোতে পরিস্থিতি উদ্বেগজনক, যেখানে বাসিন্দারা আগে থেকেই অত্যন্ত নাজুক অবস্থায় রয়েছেন।
গত সপ্তাহে এ অঞ্চলের আরও দুটি নতুন স্বাস্থ্য এলাকায় ইবোলা ছড়িয়ে পড়েছে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, পরিস্থিতি এখনও নিয়ন্ত্রণের বাইরে রয়েছে এবং এটি ২০১৪-১৬ সালের পশ্চিম আফ্রিকার ইবোলা প্রাদুর্ভাবকেও ছাড়িয়ে যাওয়ার পথে। ওই প্রাদুর্ভাবে ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা গিয়েছিলেন। নিহতদের বেশির ভাগই ছিলেন গিনি, লাইবেরিয়া ও সিয়েরা লিওনের বাসিন্দা।
গেল শনিবার ইতুরি প্রদেশের মামবাসা শহরের উপকণ্ঠে একটি মরদেহ নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার আহ্বানে সাড়া দিতে যাওয়া ইবোলা মোকাবিলায় নিয়োজিত একটি দলের ওপর হামলা হয়। দলের এক প্রতিনিধি এপিকে জানান, মাশেটি হাতে একদল তরুণ মরদেহ দাফনের স্থানটিতে হামলা চালায়। এতে দলটির সদস্যরা পালিয়ে যেতে বাধ্য হন এবং একজন আহত হন।
ইবোলা মোকাবিলা দলের সদস্য ফ্লোরিবার্ট মাজেনে বলেন, ‘মাঠে কাজ করতে এবং জীবন ঝুঁকিতে না ফেলে দায়িত্ব পালনের জন্য আমরা আরও নিরাপত্তা দাবি করছি।’
ইবোলায় মৃত ব্যক্তির মরদেহ অত্যন্ত সংক্রামক হতে পারে। মরদেহ দাফনের প্রস্তুতি নেওয়া এবং জানাজা বা শেষকৃত্যে মানুষের সমাগমের মাধ্যমে ভাইরাসটি আরও ছড়িয়ে পড়তে পারে।
এ কারণে ইবোলা মোকাবিলায় কঙ্গোর কর্তৃপক্ষ যেখানে সম্ভব সন্দেহভাজন আক্রান্তদের মরদেহ দাফনের ঝুঁকিপূর্ণ কাজ নিজেদের ব্যবস্থাপনায় করার নির্দেশ দিয়েছে। তবে এ নিয়ে পরিবার ও স্বজনদের মধ্যে বিক্ষোভের ঘটনাও ঘটছে।
এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বান্দিবুগিও ভাইরাস। এটি ইবোলার একটি বিরল ধরন, যার অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই।
গত সপ্তাহে কঙ্গো স্বাস্থ্যকর্মীসহ সম্মুখসারির কর্মীদের ইরভেবো টিকা দেওয়া শুরু করেছে। এর আগে ইবোলার আরও প্রচলিত ধরন জাইর-এর সৃষ্ট প্রাদুর্ভাব মোকাবিলায় এই টিকা কার্যকর প্রমাণিত হয়েছিল। বান্দিবুগিও ভাইরাসের জন্য অনুমোদিত টিকা উদ্ভাবনে বর্তমানে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল চলছে।
চলতি ইবোলা প্রাদুর্ভাবের আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দেওয়া হয় গত মে মাসের মাঝামাঝি সময়ে। তবে কর্মকর্তারা ধারণা করছেন, এর সংক্রমণ ফেব্রুয়ারি থেকেই ছড়াচ্ছিল। শুরুতে তিনটি এলাকায় সীমাবদ্ধ থাকলেও এখন প্রায় ৬০টি এলাকায় এটি ছড়িয়ে পড়েছে। আক্রান্ত ও মৃত্যুর বেশিরভাগ ঘটনাই নজরদারিতে থাকা সংস্পর্শে আসা ব্যক্তিদের বাইরে এবং বিভিন্ন জনগোষ্ঠীর মধ্যে ঘটছে।
প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে জনসমাগম সীমিত করা, সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখা এবং বিমানবন্দর বন্ধের মতো বিভিন্ন পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। এতে দেশটির ছয়টি প্রদেশে জনজীবন ব্যাহত হয়েছে। এর মধ্যে ইতুরি প্রদেশে বিদ্রোহীদের সহিংসতার কারণে পরিস্থিতি আরও নাজুক।
সরকার কিছু পদক্ষেপ নিয়েছে। এর মধ্যে বিভিন্ন স্থানে স্বাস্থ্য ও স্যানিটেশন সরঞ্জাম স্থাপন করা হয়েছে। তবে বিভিন্ন অধিকারকর্মী সংগঠন বলছে, স্থানীয় জনগণের আস্থা অর্জনে আরও পদক্ষেপ নেওয়া প্রয়োজন।
প্রতিবেশী উগান্ডা গত মাসে নিজেদের ইবোলামুক্ত ঘোষণা করলেও সীমান্ত পেরিয়ে ভাইরাসটির আরও ছড়িয়ে পড়ার ঝুঁকি রয়ে গেছে বলে গত সপ্তাহে জানিয়েছে ডব্লিউএইচও।
৫৭ দিন আগে
নেপাল-তিব্বতে বন্যায় নিহত ১০০০ ছাড়িয়েছে; জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গে এখনও আটকে বহু শ্রমিক
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যায় কাদায় চাপা পড়া জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের সুড়ঙ্গ থেকে শত শত শ্রমিককে উদ্ধারে আজ মঙ্গলবারও জোর তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা। তবে নিখোঁজ স্বজনদের সন্ধানে পরিবারগুলোর উদ্বেগ বাড়তে থাকায় পরিস্থিতি ক্রমেই আরও সংকটাপন্ন হয়ে উঠছে।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে এ পর্যন্ত ৯৮৭ জনের মৃত্যু নিশ্চিত করা হয়েছে। নিখোঁজ রয়েছেন ৩ হাজার ৯১৬ জন, যাদের মধ্যে ৫৮৩ জন বিদেশি। অন্যদিকে, চীনা কর্তৃপক্ষের সর্বশেষ রবিবারের হিসাবে, তিব্বতে ১৬ জনের মৃত্যু এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি।
দুই দেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ১ হাজার ৩ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৪০০-এর বেশি।
নেপালের কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, এ পর্যন্ত অন্তত ১১ হাজার ৮১৪ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে। বন্যা ও ভূমিধসে সড়ক ও সেতু ধ্বংস হয়ে যাওয়ায় বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া জনপদগুলোতে হেলিকপ্টারসহ বিভিন্ন উড়োজাহাজের মাধ্যমে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
এদিকে, নেপালের বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর প্রতিনিধিত্বকারী বেসরকারি খাতের একটি সংগঠন জানিয়েছে, দেশটির রাসুয়া ও নুওয়াকোট জেলায় আকস্মিক বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পে অন্তত ৯০০ শ্রমিকের কোনো সন্ধান পাওয়া যাচ্ছে না।
এসব শ্রমিকের মধ্যে প্রায় ৫০০ জন সুড়ঙ্গে আটকা পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। এক বিশেষজ্ঞের মতে, তাদের কেউ কেউ সুড়ঙ্গের ভেতরে অক্সিজেন পাওয়ার সুযোগ পেয়ে থাকতে পারেন। তবে অন্যরা বলছেন, জীবিত অবস্থায় তাদের উদ্ধারের সম্ভাবনা ক্রমেই কমে আসছে। এর মধ্যেই নেপালের সেনাবাহিনী জানিয়েছে, কাদায় ভরা তিনটি সুড়ঙ্গ থেকে চারজনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে।
গেল বুধবার দুর্যোগ শুরু হওয়ার সময় কয়েকজন শ্রমিক ফোন করে সাহায্য চেয়েছিলেন। পরে সেখান থেকে বের হতে সক্ষম হওয়া কয়েকজন শ্রমিক জানান, তাদের অনেক সহকর্মী তখনও সুড়ঙ্গের ভেতরে ছিলেন। ইন্ডিপেন্ডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন, নেপাল (আইপিপিএএন)-এর সভাপতি মোহন কুমার দাঙ্গি এ তথ্য জানিয়েছেন।
তবে শুরুতে সাহায্য চাওয়ার পর থেকে আটকা পড়া শ্রমিকদের সঙ্গে উদ্ধারকারীদের আর কোনো যোগাযোগ হয়েছে কি না, তা স্পষ্ট নয়।
দুর্যোগের ছয় দিন পর কিছু শ্রমিকের দমবন্ধ হয়ে মারা যাওয়ার আশঙ্কা বাড়ছে বলে জানিয়েছেন দাঙ্গি।
পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণে তৈরি বিশাল সুড়ঙ্গ
পানির প্রবাহ নিয়ন্ত্রণের জন্য নির্মিত বিশাল সুড়ঙ্গগুলোতেই আটকা পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে সবচেয়ে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
অস্ট্রিয়ার গ্রাৎস বিশ্ববিদ্যালয়ের ভূবিজ্ঞানী জ্যাকব স্টেইনার বলেন, এসব সুড়ঙ্গ এতটাই বড় যে এর ভেতর দিয়ে ট্রাক চলাচল করতে পারে। তার ভাষ্য, ভেতরে আটকা পড়া কয়েকজন শ্রমিকের কাছে অক্সিজেন পৌঁছানো সম্ভব হয়েছে বলে তারা জানতে পেরেছেন এবং তাদের উদ্ধারের চেষ্টা চলছে। তবে সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসছে, কারণ শ্রমিকদের খাবার ও পানির প্রয়োজন।
৫৭ দিন আগে
বন্যায় নেপাল-চীনে নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে, নিখোঁজ ৪,৭০০
নেপাল ও চীনে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় মোট নিহতের সংখ্যা ৯০০ ছাড়িয়েছে। দুই দেশে এখনও ৪ হাজার ৭০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন। এরই মধ্যে নেপালের ক্ষতিগ্রস্ত জলবিদ্যুৎ প্রকল্পগুলোর সুড়ঙ্গে আটকে পড়া শত শত শ্রমিককে উদ্ধারে আজ সোমবারও তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
সোমবার (৩১ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানিয়েছে, দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এর মধ্যে ৫৯২ জন বিদেশি নাগরিকসহ ৪ হাজার ২৪৭ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
রবিবার পর্যন্ত চীনা কর্তৃপক্ষ ১৬ জনের মৃত্যুর খবর দিয়েছে এবং ৫৪৬ জন নিখোঁজ থাকার কথা জানিয়েছে। চীনের রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্যমতে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬১ জন বিদেশি, যার মধ্যে শতাধিক নেপালি রয়েছেন।
নেপালের রাসুওয়া ও নুয়াকোট জেলার বন্যাকবলিত ১২টি জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের অন্তত ৯০০ শ্রমিকের খোঁজ পাওয়া যাচ্ছে না বলে জানিয়েছে বিদ্যুৎ কোম্পানিগুলোর একটি বেসরকারি সংগঠন।
নেপালের ইন্ডিপেনডেন্ট পাওয়ার প্রডিউসার্স অ্যাসোসিয়েশন বা আইপিপিএএনের সভাপতি মোহন কুমার দাঙ্গি বলেন, নিখোঁজ ৯০০ শ্রমিকের মধ্যে অন্তত ৫০০ জন সুড়ঙ্গে আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করা হচ্ছে। কয়েকটি বিদেশি দল নেপালি উদ্ধারকারীদের সহায়তা করছে বলেও জানিয়েছেন তিনি।
দাঙ্গি বলেন, গত বুধবার ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগ আঘাত হানার সময় কিছু শ্রমিক যোগাযোগ করতে পেরেছিলেন এবং সাহায্যের জন্য ফোন করেছিলেন। আবার যারা বেঁচে ফিরতে সক্ষম হয়েছেন, তাদের কেউ কেউ কর্তৃপক্ষ ও স্বজনদের জানিয়েছেন যে তাদের অনেক সহকর্মী এখনও সুড়ঙ্গের ভেতরে আটকা রয়েছেন।
৫৮ দিন আগে