বিশ্ব
ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে পুতিনকে সময় বেঁধে দিলেন ট্রাম্প
ইউক্রেনে যুদ্ধ বন্ধে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনকে দেওয়া ৫০ দিনের সময়সীমা কমিয়ে ১০ থেকে ১২ দিন নির্ধারণ করেছেন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তা না-হলে রাশিয়ার ওপর কড়া শুল্কারোপের ঘোষণা দিয়েছেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে এ কথা জানান ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘অপেক্ষা করার কোনো মানে নেই। আমরা কোনো অগ্রগতি দেখছি না।’
এর আগে ১৪ জুলাই ট্রাম্প বলেছিলেন, সেপ্টেম্বরের শুরু পর্যন্ত শান্তিচুক্তি না হলে তিনি রাশিয়ার ওপর কড়া শুল্কারোপ করবেন। তবে এখন সেই সময়সীমা কমিয়ে ১০–১২ দিন নির্ধারণ করেছেন তিনি।
এই পরিকল্পনার মধ্যে রয়েছে সম্ভাব্য নিষেধাজ্ঞা এবং রাশিয়ার বাণিজ্যিক অংশীদারদের লক্ষ্য করে মাধ্যমিক শুল্কারোপের বিষয়টি। এ সম্পর্কিত আনুষ্ঠানিক ঘোষণা সোমবার অথবা মঙ্গলবার (২৯ জুলাই) দেওয়া হবে বলেও জানান ট্রাম্প। এ বিষয়ে রাশিয়ার পক্ষ থেকে তাৎক্ষণিক কোনো প্রতিক্রিয়া পাওয়া যায়নি।
যুদ্ধ বন্ধের আহ্বান জানালেও ইউক্রেনে অব্যাহত হামলা চালানোর জন্য পুতিনের সমালোচনা করেন ট্রাম্প। পুতিনের প্রতি হতাশা প্রকাশ করে তিনি বলেন, ‘আমি বলেছি, বিষয়টি এভাবে করা উচিত নয়।’
আরও পড়ুন: ইউক্রেনের সঙ্গে ফের আলোচনায় বসতে চায় রাশিয়া
পুতিনের সঙ্গে বৈঠকে বসার বিষয়ে প্রশ্ন করা হলে ট্রাম্প জানান, তিনি এখন আর সেই বিষয়ে আগ্রহী নন। তবে ক্রেমলিনের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নেওয়া নিয়ে কিছুটা দ্বিধাও প্রকাশ করেন ট্রাম্প। তিনি বলেন, ‘আমি রাশিয়ার জনগণকে ভালোবাসি। আমি তাদের সঙ্গে এটা করতে চাই না।’
এদিকে পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি পুতিনের বিরুদ্ধে আরও কঠোর অবস্থান নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ইউক্রেন। রাশিয়াকে দেওয়া সময়সীমার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্টের দপ্তরের প্রধান আন্দ্রেই ইয়ারমার্ক।
টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘পুতিন কেবল শক্তির ভাষা বোঝেন। সেটিই এখন স্পষ্ট ও জোরালোভাবে তাকে জানিয়ে দেওয়া হয়েছে।’
ইউক্রেনের বিমান বাহিনী জানিয়েছে, রাতভর রাশিয়া ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ৩০০টির বেশি ড্রোন, চারটি ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র এবং তিনটি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করেছে। ট্রাম্পের যুদ্ধ বন্ধের চাপ সত্ত্বেও রাশিয়ার হামলা অব্যাহত রয়েছে।
২৮০ দিন আগে
নিউইয়র্কে অফিস ভবনে গুলিতে বাংলাদেশি অভিবাসীসহ নিহত ৪
যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কে একটি বহুতল অফিস ভবনে এক বন্দুকধারীর হামলায় এক বাংলাদেশি অভিবাসীসহ চারজন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও একজন আহত হয়েছেন। এরপর হামলাকারী নিজেও আত্মহত্যা করেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে নিউইয়র্কের ৩৪৫ পার্ক অ্যাভিনিউ নামের একটি বাণিজ্যিক অফিস ভবনে এ ঘটনা ঘটেছে। স্থানীয় পুলিশ কমিশনার জেসিকা টিশ এমন তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
ঘটনার পর এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি জানান, বন্দুকধারীর হামলায় পাঁচজন গুলিবিদ্ধ হয়েছেন। এর মধ্যে ৪ জন নিহত হয়েছেন। আরেকজন চিকিৎসাধীন রয়েছেন।
তিনি আরও জানান, নিহতদের মধ্যে রয়েছেন ৩৬ বছর বয়সী পুলিশ কর্মকর্তা দিদারুল ইসলাম। তিনি বাংলাদেশি অভিবাসী এবং নিউ ইয়র্ক সিটি পুলিশ বিভাগে তিন বছর ছয় মাস কর্মরত ছিলেন।
পুলিশ জানিয়েছে, বন্দুকধারীর নাম শেন তামুরা, তিনি লাস ভেগাসের বাসিন্দা ছিলেন। হামলার পরপরই তিনি আত্মহত্যা করেন। তার মানসিক স্বাস্থ্য-সংক্রান্ত ইতিহাস রয়েছে। তবে ঠিক কী কারণে শেন এই ঘটনা ঘটিয়েছেন, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি বলে জানান জেসিকা।
আরও পড়ুন: ইরানে আদালতে সশস্ত্র হামলায় নিহত ৯, আহত ২২
নিউ ইয়র্ক সিটির মেয়র এরিক অ্যাডামস জানিয়েছেন, হামলায় চারজন নিহত হয়েছেন, একজন গুরুতর আহত হয়ে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। তাছাড়া ঘটনাস্থল থেকে পালাতে গিয়ে আরও চারজন সামান্য আহত হয়েছেন।
ওই এলাকার একটি নজরদারি ক্যামেরায় অস্ত্র হাতে সানগ্লাস পরা একজন ব্যক্তিকে হেঁটে যেতে দেখা যায়, যাকে সন্দেহভাজন হামলাকারী হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে।
অন্য একটি পর্যবেক্ষণ ক্যামেরায় দেখা যায়, এক ব্যক্তি একটি ডাবল পার্ক করা বিএমডব্লিউ গাড়ি থেকে নেমে এম৪ রাইফেল হাতে ভবনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছেন।
পুলিশ কমিশনার জেসিকা জানান, তিনি ভবনে প্রবেশের সঙ্গে সঙ্গেই পুলিশ কর্মকর্তার ওপর গুলি চালান এবং এরপর এক নারীকে গুলি করেন। পরে লবির ভেতর এলোপাতাড়ি গুলি ছুড়তে থাকেন ওই বন্দুকধারী।
এরপর তিনি লিফটের দিকে এগিয়ে যান এবং নিরাপত্তা ডেস্কের পেছনে লুকিয়ে থাকা এক নিরাপত্তারক্ষীকে গুলি করেন। একই সঙ্গে লবিতে থাকা আরও একজনকে গুলি করেন বলে জানান কমিশনার।
পরে লিফটে করে ৩৩ তলায় একটি রিয়েল এস্টেট ব্যবস্থাপনা প্রতিষ্ঠানে যান এবং সেখানে একজনকে গুলি করে হত্যা করেন। এরপর তিনি আত্মহত্যা করেন।
আরও পড়ুন: রাশিয়ায় ৫০ বছর পুরোনো বিমান বিধ্বস্তে সব আরোহী নিহত
সংবাদ সম্মেলনে পুলিশ কমিশনার বলেন, সন্দেহভাজন ব্যক্তির গাড়ি থেকে একটি এম৪ রাইফেল ও গুলিভর্তি ম্যাগাজিনসহ একটি রিভলবার উদ্ধার করা হয়েছে।
প্রত্যক্ষদর্শী জেসিকা চেন জানান, তিনি দ্বিতীয় তলায় একটি প্রেজেন্টেশন দেখছিলেন, তখন প্রথম তলা থেকে একাধিক গুলির শব্দ শুনতে পান। পরে তারা একটি সম্মেলনকক্ষে আশ্রয় নেন এবং দরজার সামনে টেবিল ঠেলে ব্যারিকেড তৈরি করেন।
জেসিকা চেন বলেন, ‘আমরা সত্যিই খুব, খুব ভয় পেয়েছিলাম।’
২৮০ দিন আগে
অবশেষে নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া
সীমান্ত নিয়ে বিরোধের জেরে চলমান সংঘর্ষের পর নিঃশর্ত যুদ্ধবিরতিতে সম্মত হয়েছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া। বিষয়টি জানিয়েছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়োর ইব্রাহিম। সংঘর্ষের পাঁচদিন পর অবশেষে সমাধানে এসেছে প্রতিবেশী দেশদুটি।
স্থানীয় সময় সোমবার (২৮ জুলাই) মালয়েশিয়ার প্রশাসনিক রাজধানী পুত্রজায়ায় অনুষ্ঠিত এক বৈঠকে এ সিদ্ধান্ত হয়েছে বলে জানানো হয়েছে।
গত বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সকালে প্রতিবেশী দেশদুটির ছয়টি সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলি ও রকেট হামলার মধ্য দিয়ে এই সহিংসতা শুরু হয়। সংঘর্ষে এ পর্যন্ত ৩৫ জন নিহত এবং ২ লাখ ৬০ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।
সংঘর্ষের পাঁচ দিন পর যুক্তরাষ্টের চলমান চাপের কারণে সোমবার পুত্রজায়ায় ওই বৈঠকের আয়োজন করা হয়। বৈঠকে মালয়েশিয়ায় নিযুক্ত চীন ও যুক্তরাষ্ট্রের রাষ্ট্রদূতরাও উপস্থিত ছিলেন। সেখানে যুদ্ধ থামাতে সম্মত হন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন মানেত ও থাইল্যান্ডের সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও বর্তমান অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী ফুমথম ওয়েচায়াচাই।
এর আগে, শনিবার (২৬ জুলাই) নিজস্ব সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প জানান, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সরকারপ্রধানকে তিনি বলেছেন যে সংঘাত না থামালে তাদের সঙ্গে বাণিজ্যচুক্তি নিয়ে আলোচনায় এগোবে না ওয়াশিংটন। এরপর দুই দেশই যুদ্ধবিরতিতে রাজি হয়েছে বলে দাবি করেন ট্রাম্প।
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষের নেপথ্যে কী?
সোমবারের বৈঠকের পর মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘উভয় পক্ষই খোলামেলা আলোচনার পর স্বাভাবিক অবস্থায় ফেরার জন্য পদক্ষেপ নেওয়ার বিষয়ে একটি অভিন্ন বোঝাপড়ায় পৌঁছেছে।’ উত্তেজনা প্রশমন এবং শান্তি ও নিরাপত্তা পুনর্প্রতিষ্ঠার পথে এটি গুরুত্বপূর্ণ প্রথম ধাপ বলেও মন্তব্য করেন তিনি।
আনোয়ার ইব্রাহিম জানান, মালয়েশিয়া, কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ডের পররাষ্ট্র ও প্রতিরক্ষামন্ত্রীদের যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন ও পর্যবেক্ষণের জন্য একটি বিস্তারিত কার্যপদ্ধতি প্রণয়নের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে, যাতে স্থায়ী শান্তি নিশ্চিত করা যায়।
এ সময় দ্বিপক্ষীয় সম্পর্ক শিগগিরই স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরবে বলে আশা প্রকাশ করেন কম্বোডিয়ার প্রধানমন্ত্রী হুন। তিনি বলেন, ‘থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার মধ্যে আস্থা, বিশ্বাস ও সহযোগিতা পুনর্গঠনের এখনই সময়।’
এ ছাড়া এই সিদ্ধান্ত শান্তিপূর্ণ সমাধানের জন্য থাইল্যান্ডের আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন বলে মন্তব্য করেছেন ফুমথম।
এদিকে, যুক্তরাষ্ট্রের সরাসরি চাপের কারণেই এই যুদ্ধবিরতি হওয়ায় সোমবার এক্সে ট্রাম্প লিখেছেন, ‘থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া যুদ্ধবিরতি ও শান্তি স্বাপনে সম্মত হয়েছে। আমি শান্তির প্রেসিডেন্ট হয়ে গর্বিত।’
যুদ্ধবিরতির সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়েছেন বৈঠক আয়োজনের সঙ্গে যুক্ত মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও-ও। তিনি বলেন, তৎক্ষণাৎ সংঘর্ষ বন্ধে তিনি ও প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রতিশ্রুতিবদ্ধ। কম্বোডিয়া ও থাইল্যান্ড সরকার এই সংঘাত অবসানের জন্য তাদের অঙ্গীকার পূর্ণভাবে রক্ষা করবে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।
এরপর হোয়াইট হাউসের প্রেস সচিব ক্যারোলাইন লেভিট যুদ্ধবিরতির খবর এক্সে পোস্ট করে লেখেন, ‘এই শান্তিচুক্তি বাস্তবায়ন করেছেন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প। তাকে শান্তিতে নোবেল পুরস্কার দিন!’
আরও পড়ুন: মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি সই করতে যুক্তরাজ্য সফরে যাচ্ছেন মোদি
থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বহু দশক ধরেই বিরোধপূর্ণ। এর আগে চলতি বছরের মে মাসে ছোট একটি সীমান্ত এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
সে সময় এক কম্বোডিয়ান সেনা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। শুরুতে দুপক্ষই দাবি করে যে তারা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছে। এ নিয়ে তখন উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণে কয়েকজন থাই সেনা আহত হওয়ার পর এই সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
পরে দুই দেশ উত্তেজনা হ্রাসে একমত হয়। তবে সীমান্তে কড়াকড়ি, নিষেধাজ্ঞা ও বাকযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
২৮০ দিন আগে
ত্রাণ প্রবেশে সীমিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ফিলিস্তিনিরা
গত কয়েক সপ্তাহে অনাহারে বহু ফিলিস্তিনির মৃত্যুর পর অবশেষে গাজা উপত্যকায় বাইরে থেকে খাদ্য সহায়তা প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল। এই খাদ্য সহায়তা পৌঁছানোর জন্য প্রতিদিন সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত অভিযান বন্ধ রাখার ঘোষণা দিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। তবে এই সীমিত যুদ্ধবিরতি নিয়ে উদ্বিগ্ন ফিলিস্তিনিরা।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৭ জুলাই) থেকে আকাশ ও স্থলপথে বিভিন্ন আন্তর্জাতিক গোষ্ঠী ও পক্ষ থেকে গাজায় ত্রাণ ঢুকতে শুরু করে।
এর আগে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানায়, গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবনতি মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবে তিনটি এলাকার চলমান অভিযানে ‘কৌশলগত বিরতি’ ঘোষণা করা হবে। রবিবার থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মুওয়াসি, দেইর আল-বালাহ ও গাজা শহরে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে। তবে অন্যান্য এলাকায় অভিযান অব্যাহত থাকবে।
দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ইসরায়েলের কঠোর অবরোধের কারণেই গাজার এই খাদ্যসংকট তৈরি হয়েছে বলে অভিযোগ করেছে জাতিসংঘ। তবে ইচ্ছাকৃতভাবে দুর্ভিক্ষ সৃষ্টির অভিযোগ ‘ভিত্তিহীন’ বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
আরও পড়ুন: অনাহারে ১২৭ প্রাণহানির পর গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি ইসরায়েলের
রবিবার রাতে বিমান থেকে ফেলার একটি ভিডিও প্রকাশ করে ইসরায়েল। এতে দেখা যায়, আটা, চিনি ও টিনজাত দ্রব্য ফেলা হচ্ছে। এছাড়া, জর্ডান ও সংযুক্ত আরব আমিরাতও রবিবার দুপুরে ত্রাণবাহী বিমান থেকে সহায়তা ফেলেছে।
ইসরায়েল আরও জানিয়েছে, জাতিসংঘ যেন খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ করতে পারে সে জন্য মানবিক করিডর চালু করা হবে এবং একটি পানি পরিশোধন কেন্দ্র চালু করে পানি সরবরাহ নিশ্চিত করা হবে।
তবে গাজার বাসিন্দারা এই ত্রাণবিরতিকে সন্দেহের চোখে দেখেছেন। অনেকেই নানা ধরনের উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।
কারণ, রবিবার যুদ্ধবিরতির পরপরই গাজার একটি ভবনে ইসরায়েলি বিমান হামলায় এক নারী ও তার চার সন্তান নিহত হন। এছাড়াও, মধ্য গাজার আল-আকসা ও আল-আওদা হাসপাতালের স্বাস্থ্য কর্মকর্তারা জানান, ত্রাণের অপেক্ষায় থাকা মানুষের ওপর ইসরায়েলি গুলিতে অন্তত ১৭ জন নিহত হয়েছেন।
গাজার গণিত শিক্ষক ও সাত সন্তানের বাবা ইয়াদ আল-বান্না বলেন, ‘মানবিক করিডর খোলা হলেও মজুদ সংকট এত গভীর, এটি এক বা দুই সপ্তাহ চললেও তেমন পরিবর্তন আসবে না। দুর্ভিক্ষ সব সীমা ছাড়িয়ে গেছে।’
তিনি আরও জানান, রবিবার বাজারে আটা ছাড়া অন্য কোনো পণ্যের সরবরাহ বা দামে তেমন পরিবর্তন দেখা যায়নি; আটার দাম রাতারাতি প্রায় ২০ শতাংশ কমেছে।
আল-নাসের হাসপাতালে কর্মরত এক চিকিৎসক জানান, অপুষ্ট শিশুদের জন্য প্রয়োজনীয় কোনো চিকিৎসা সহায়তা এখনো হাসপাতাল পর্যন্ত পৌঁছেনি।
এছাড়া, আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ নিয়েও অনেকে সমালোচনা করেছেন। উত্তর গাজার এক শিক্ষাবিদ হিকমাত আল-মাসরি বলেন, ‘আকাশপথে ত্রাণ সরবরাহ পদ্ধতিটি ফিলিস্তিনি জনগণের জন্য অপমানজনক। যুদ্ধের শুরুতে এই ব্যবস্থা বহু বেসামরিক নাগরিকের প্রাণ কেড়ে নিয়েছিল।’
আরও পড়ুন: ইরানে আদালতে সশস্ত্র হামলায় নিহত ৯, আহত ২২
রবিবারও আকাশ থেকে ফেলা ত্রাণের প্যাকেটের আঘাতে ১০ জন আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তা প্রধান টম ফ্লেচার জানান, রবিবার গাজায় কিছু ক্ষেত্রে চলাচলের ওপর আরোপিত নিষেধাজ্ঞা শিথিল করেছে ইসরায়েল। এক সপ্তাহের জন্য সহায়তা বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটি।তিনি বলেন, ‘এটা কিছুটা অগ্রগতি, তবে দুর্ভিক্ষ ও স্বাস্থ্য সংকট রোধে বিশাল পরিমাণ ত্রাণ প্রয়োজন।’
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্যমতে, এখন পর্যন্ত গাজায় অনাহারে অন্তত ১৩৩ জনের মৃত্যু হয়েছে, যাদের মধ্যে অর্ধেকের বেশি শিশু। তবে গাজায় দুর্ভিক্ষ চলছে—এমন অভিযোগ অস্বীকার করেছে ইসরায়েল। তাদের অভিযোগ, জাতিসংঘ যথাযথভাবে সহায়তা বিতরণ করতে ব্যর্থ।
তবে জাতিসংঘ বলেছে, তারা গাজায় ত্রাণ পাঠানোর জন্য যে অনুরোধগুলো করেছে, তার বেশিরভাগই ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী বাতিল করেছে। অক্সফামের অধিকৃত ফিলিস্তিনি ভূখণ্ড বিষয়ক প্রধান বুশরা খালিদি বলেন, ‘এখন যা প্রয়োজন, তা হলো গাজার সব সীমান্ত অবিলম্বে খুলে দিয়ে পূর্ণ, নিরবচ্ছিন্ন ও নিরাপদ সহায়তা প্রবেশ নিশ্চিত করা এবং একটি স্থায়ী যুদ্ধবিরতি। এর কম কিছু হলে তা কেবল একটি কৌশলগত চাল হিসেবেই বিবেচিত হবে।’
এদিকে, স্কটল্যান্ড সফরে থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, ইসরায়েলকে গাজা পরিস্থিতি নিয়ে সিদ্ধান্ত নিতে হবে।
তিনি আরও জানান, গত সপ্তাহে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি ও বন্দিমুক্তির আলোচনা থেকে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্র সরে দাঁড়িয়েছে। এরপর কী ঘটবে, তা তিনি জানেন না।
২৮১ দিন আগে
ঔপনিবেশিক শোষণের অর্থে পরিচালিত হয় এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়: তদন্ত প্রতিবেদন
বর্ণবাদী বিজ্ঞান তত্ত্ব তৈরিতে বিতর্কিত ও বড় ধরনের ভূমিকা রেখেছে ব্রিটেনের অন্যতম প্রাচীন ও মর্যাদাপূর্ণ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান এডিনবার্গ বিশ্ববিদ্যালয়। পাশাপাশি দাসপ্রথা ও ঔপনিবেশিক শাসন থেকে বিপুল অর্থ অনুদান পেয়েছিল এই প্রতিষ্ঠানটি। এমনকি, এখনও বিশ্ববিদ্যালয়টি এসব অনুদানের অর্থে পরিচালিত হচ্ছে।
সম্প্রতি, এক ঐতিহাসিক তদন্ত প্রতিবেদনে এমন চাঞ্চল্যকর তথ্য উঠে এসেছে।
ব্রিটিশ দৈনিক দ্য গার্ডিয়ানের খবরে অনুযায়ী, আফ্রিকান দাস, ব্রিটিশ সাম্রাজ্যবাদী শাসন এবং বর্ণবাদী শোষণের সঙ্গে যুক্ত দাতাদের কাছ থেকে বিশ্ববিদ্যালয় বিশাল অঙ্কের অনুদান পেয়েছিল। যা বর্তমান মূল্যে কমপক্ষে ৩০ মিলিয়ন পাউন্ডের সমান।
এমনকি বিশ্ববিদ্যালয়টির অন্যতম প্রধান দুটি ভবন — ওল্ড কলেজ ও পুরোনো মেডিকেল স্কুল এই অনুদানের টাকায় নির্মিত হয়েছে। এসব অনুদান বর্তমানে প্রায় ৩০ মিলিয়ন পাউন্ড সমমূল্যের, যা মজুরির বৃদ্ধির হারে হিসাব করলে ২০২ মিলিয়ন পাউন্ড এবং অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির হারে হিসাব করলে ৮৪৫ মিলিয়ন পাউন্ডের সমান।
তদন্ত প্রতিবেদন অনুযায়ী, ১৬ শতকে প্রতিষ্ঠিত এই প্রাচীন বিশ্ববিদ্যালয়টি এখনও এমন অনুদান গ্রহণ করে আসছে, যার বর্তমান মূল্য প্রায় ৯.৪ মিলিয়ন পাউন্ড। এই অর্থ এসেছে দাসপ্রথা, ঔপনিবেশিক দখল ও ‘ছদ্মবিজ্ঞান’-এর সঙ্গে জড়িত দাতাদের কাছ থেকে। এই অর্থ দিয়ে আজও বিভিন্ন লেকচার, সেমিনার, পুরস্কার ও ফেলোশিপ পরিচালিত হচ্ছে।
১৮ ও ১৯ শতকে এডিনবার্গ হয়ে উঠেছিল শ্বেতাঙ্গ শ্রেষ্ঠত্ববাদে বিশ্বাসী অধ্যাপকদের আশ্রয়স্থল। এসব শিক্ষকরা ভুয়া ‘জাতিগত বিজ্ঞান’ (রেসিয়াল স্যুডো-সায়েন্স) তৈরি করতেন। এসব তত্ত্বের ভিত্তিতে আফ্রিকানদের জাতিগতভাবে সবচেয়ে নিচু শ্রেণির মানুষে পরিণত করা হয়েছিল।
বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রিন্সিপাল ও তদন্তের প্রধান উদ্যোক্তা স্যার পিটার ম্যাথিসন বলেন, ‘তদন্তের ফলাফলগুলো মেনে নেওয়া কঠিন হলেও এডিনবার্গ একটি ‘সুনির্দিষ্ট স্মৃতি’ নিয়ে চলতে পারে না।’
বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তিনি দুঃখ প্রকাশ করে বলেন, ‘শোষণমূলক ব্যবস্থা ও চিন্তাধারায় যারা ভুক্তভোগী, তাদের প্রতি আমরা আন্তরিকভাবে দুঃখ প্রকাশ করছি।’
আরও পড়ুন: নিউইয়র্ক টাইমসের বিরুদ্ধে ‘গাজা গণহত্যায় সহযোগিতা’র অভিযোগ
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়েছে— বিশ্ববিদ্যালয়ের অন্তত ১৫টি তহবিল গড়ে উঠেছে আফ্রিকান দাসপ্রথা-সংক্রান্ত উৎস থেকে এবং আরও ১২টি তহবিল ভারত, সিঙ্গাপুর ও দক্ষিণ আফ্রিকায় ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনের সঙ্গে যুক্ত দাতাদের অর্থে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।
এর মধ্যে ১০টি তহবিল এখনও সক্রিয়, যেগুলোর বর্তমান মূল্য ৯.৪ মিলিয়ন পাউন্ড। ১৮০০ সাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগ্রহে থাকা প্রায় ৩০০টি খুলি মস্তিষ্কবিদরা (ফ্রেনোলজিস্ট) দাস ও ঔপনিবেশিত দেশগুলোর জনগণের কাছ থেকে সংগ্রহ করেছিলেন।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, বিশ্ববিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়টির এক শতাংশেরও কম শিক্ষক-কর্মচারী এবং মাত্র ২ শতাংশ শিক্ষার্থী কৃষ্ণাঙ্গ, যা যুক্তরাজ্যের মোট জনসংখ্যায় কৃষ্ণাঙ্গদের আনুপাতিক হার (৪ শতাংশ) থেকে অনেক কম।
২৮১ দিন আগে
অনাহারে ১২৭ প্রাণহানির পর গাজায় ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি ইসরায়েলের
অনাহারে একের পর এক ফিলিস্তিনি মৃত্যুবরণ করায় আন্তর্জাতিক চাপের পরিপ্রেক্ষিতে অবশেষে গাজায় বিভিন্ন মানবাধিকার সংস্থার ত্রাণ প্রবেশের অনুমতি দিয়েছে ইসরায়েল। ইতোমধ্যে মিসর থেকে ত্রাণের ট্রাকগুলো গাজার থেকে যাত্রা শুরু করেছে বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ব আল কাহেরা নিউজ টিভি।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৬ জুলাই) গাজায় ত্রাণ প্রবেশের জন্য পুনরায় মানবিক করিডর চালুসহ আকাশ থেকে ত্রাণ ফেলার (এয়ারড্রপ) কার্যক্রম শুরু করার কথা জানিয়েছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী।
গাজায় চলমান দুর্ভিক্ষ পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে এই সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজায় মানবিক পরিস্থিতির অবনতি মোকাবিলায় নেওয়া পদক্ষেপের অংশ হিসেবে তিনটি এলাকার চলমান অভিযানে ‘কৌশলগত বিরতি’ ঘোষণা করা হবে। রবিবার থেকে পরবর্তী ঘোষণা না দেওয়া পর্যন্ত প্রতিদিন স্থানীয় সময় সকাল ১০টা থেকে রাত ৮টা পর্যন্ত মুওয়াসি, দেইর আল-বালাহ ও গাজা শহরে সামরিক কার্যক্রম বন্ধ থাকবে।
যদিও বর্তমানে এসব এলাকায় সক্রিয়ভাবে অভিযান চালাচ্ছে না বলে জানিয়েছেন তারা। তবে গত কয়েক সপ্তাহে এসব এলাকায় লড়াই ও হামলা হয়েছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, গাজায় ত্রাণ সংস্থাগুলোকে খাদ্য ও অন্যান্য সহায়তা পৌঁছাতে সহায়তার জন্য নিরাপদ রুটও নির্ধারণ করবে তারা।
রবিবার (২৭ জুলাই) আল কাহেরা টিভির সংবাদদাতা জানিয়েছেন, মিসর ও গাজার মধ্যবর্তী রাফাহ সীমান্ত থেকে দক্ষিণ গাজার কারাম আবু সালেম (কেরেম শালোম) ক্রসিংয়ের উদ্দেশে বেশ কয়েকটি ট্রাকে করে শত শত টন ত্রাণসামগ্রী পাঠানো হয়েছে।
এর পাশাপাশি ইসরায়েলি সেনাবাহিনী ‘বিতর্কিত’ এয়ারড্রপও শুরু করেছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে সিএনএন।
আরও পড়ুন: ‘গাজায় বোমার চেয়ে বিধ্বংসী হয়ে উঠেছে ক্ষুধা’
এদিকে, মিডল ইস্ট আইয়ের খবরে বলা হয়েছে, আন্তর্জাতিক ত্রাণ সংস্থাগুলোর সহযোগিতায় পরিচালিত এয়ারড্রপে সাতটি প্যালেটে ময়দা, চিনি এবং টিনজাত খাদ্যদ্রব্যের মতো সামগ্রী থাকবে, যেগুলো বিদেশি অংশীদাররা সরবরাহ করবে।
তবে মানবিক সংস্থাগুলোর মতে, এই ধরনের এয়ারড্রপ মূলত প্রতীকী পদক্ষেপ এবং এটি কোনোভাবে স্থলপথে ত্রাণ সরবরাহের বিকল্প হতে পারে না।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী আরও জানিয়েছে, তারা গাজায় একটি পানি পরিশোধন প্ল্যান্ট সম্প্রসারণে সহায়তা করবে এবং সেটিকে ইসরায়েলি বিদ্যুৎ সংযোগে যুক্ত করবে, যদিও গত ২১ মাসের অব্যাহত অভিযানে গাজার অধিকাংশ পানি ও বিদ্যুৎ অবকাঠামো ধ্বংস করেছে ইসরায়েল।
এরই মধ্যে গাজার দিকে ত্রাণবাহী জাহাজ নিয়ে আসার পথে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফ্রান্সের ইউরোপীয় পার্লামেন্ট সদস্য ও গাজামুখী হানদালা মিশনের সদস্য এমা ফোরো জানিয়েছেন, ইসরায়েলি বাহিনী তাদের জাহাজের কাছে চলে এসেছে।
তিনি আরও জানান, নিজেদের মোবাইল ফোন তারা সাগরে ছুঁড়ে ফেলার পরিকল্পনা করছেন।
এদিকে, গাজায় পুনরায় ত্রাণ প্রবেশ করতে দেওয়ার সিদ্ধান্তের তীব্র নিন্দা জানিয়েছেন কট্টরটন্থি নেতা ও ইসরায়েলে জাতীয় নিরাপত্তামন্ত্রী ইতামার বেন গাভির।
আরও পড়ুন: খাবার নিতে গিয়ে নিহত আরও ৯৩ ফিলিস্তিনি, ‘বর্বরতা’ বন্ধের আহ্বান পোপের
সিএনএননের খবরে অনুযায়ী, গাজায় এই ত্রাণ প্রবেশ করতে দেওয়াকে ‘হামাসের কাছে আত্মসমর্পণ বলে মন্তব্য করেছেন তিনি।
গত মার্চে গাজায় জাতিসংঘসহ অন্যান্য আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থার ত্রাণ প্রবেশ নিষিদ্ধ করে ইসরায়েলে। এতে প্রায় ২০ লাখ গাজাবাসী চরম খাদ্যসংকটে পড়েন। বিভিন্ন বিশেষজ্ঞরা অনেকদিন ধরেই দুর্ভিক্ষের আশঙ্কা জানিয়ে আসছিলেন। পাশাপাশি অবরোধ পুরোপুরি প্রত্যাহার করে এবং মানবিক সহায়তার জন্য অবাধ প্রবেশাধিকার দিতে ত্রাণ সংস্থাগুলো এবং জাতিসংঘের কর্মকর্তারা ইসরায়েলের প্রতি আহ্বান জানিয়ে আসছিলেন।
তবে হামাসের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার অভিযোগে জাতিসংঘ বা অন্য কোনো মানবাধিকার সংস্থার ত্রাণ এত দিন ঢুকতে দেয়নি ইসরায়েল। মাঝে যুক্তরাষ্ট্রের সমর্থনে চলতি বছরের মে থেকে গাজা হিউম্যানেটিরিয়ান ফাউন্ডেশন চালু করে তারা। তবে এই সংস্থাটির দেওয়া ত্রাণ ছিল গাজাবাসীর জন্য খুবই অপ্রতুল। ফলে উপত্যকাটিতে ছড়িয়ে পড়ে ভয়াবহ দুর্ভিক্ষ।
দুর্ভিক্ষে এখন পর্যন্ত ১২৭ জনের মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছে মিডল ইস্ট আই। এর মধ্যে অন্তত ৮৫টি শিশু বলে জানিয়েছে সংবাদমাধ্যমটি। গত ২৪ ঘণ্টার মধ্যেই দুই শিশুসহ পাঁচ ফিলিস্তিনির অনাহারে মৃত্যু হয়েছে বলে জানিয়েছেন আল-শিফা হাসপাতালের পরিচালক।
২৮২ দিন আগে
ইরানে আদালতে সশস্ত্র হামলায় নিহত ৯, আহত ২২
পাকিস্তান ও আফগানিস্তান সীমান্তবর্তী ইরানের সিস্তান ও বেলুচিস্তান প্রদেশের একটি আদালতে সশস্ত্র হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। এতে আহত হয়েছেন অন্তত আরও ২২ জন।
শনিবার (২৬ জুলাই) প্রদেশের রাজধানী জাহেদানে এই ঘটনাটি ঘটে। এই হামলার দায় স্বীকার করেছে সুন্নি সশস্ত্র গোষ্ঠী জাইশ আল-আদল বালুচ।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম ইরনার তথ্যনুযায়ী, নিহতদের মধ্যে তিনজন হামলাকারী, একজন শিশু, ৬০ বছর বয়সী এক বৃদ্ধা এবং তিনজন নিরাপত্তারক্ষী ও সেনা রয়েছে। বাকি একজনের পরিচয় নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
প্রদেশের ডেপুটি পুলিশ কমান্ডার আলিরেজা দালিরি বলেন, হামলাকারীরা দর্শনার্থীর ছদ্মবেশে ভবনে প্রবেশ করে।
প্রাদেশিক বিচার বিভাগের প্রধান জানান, হামলাকারীরা বিস্ফোরকভর্তি ভেস্ট ও গ্রেনেড বহন করছিল। তারা আদালতের বিচারকদের কক্ষ লক্ষ্য করে হামলা চালায়। তবে বিস্ফোরকগুলো তারা বিস্ফোরণ ঘটিয়েছে কিনা—তা নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
হামলার পর জাইশ আল-আদল এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, তারা বিচার বিভাগ ও নিরাপত্তা বাহিনীর অন্তত ৩০ সদস্যকে হত্যা করেছে। বলেছে, বালুচ নাগরিকদের মৃত্যুদণ্ড ও ঘরবাড়ি ধ্বংসের আদেশ দেওয়া বিচারক ও আদালত কর্মীদের লক্ষ্য করেই এই অভিযান চালানো হয়েছে।
পড়ুন: থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষের নেপথ্যে কী?
গোষ্ঠীটি হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেছে, ‘বিচার বিভাগের সব কর্মচারী ও বিচারকরা মনে রাখবেন, বেলুচিস্তান আর তাদের জন্য নিরাপদ থাকবে না। প্রতিশোধ না নেওয়া পর্যন্ত মৃত্যু তাদের ছায়ার মতো অনুসরণ করবে।’
বালুচ মানবাধিকার সংস্থা হালভশ প্রত্যক্ষদর্শীদের উদ্ধৃত করে জানিয়েছে, হামলায় একাধিক বিচার বিভাগীয় কর্মকর্তা ও নিরাপত্তা সদস্য নিহত বা আহত হয়েছেন।
সিস্তান-বেলুচিস্তান প্রদেশটি আফগানিস্তান ও পাকিস্তান সীমান্তবর্তী এবং ইরানের সংখ্যালঘু সুন্নি মুসলিম বালুচ জনগোষ্ঠীর আবাসস্থল। অঞ্চলটি দীর্ঘদিন ধরে নিরাপত্তা বাহিনী ও সুন্নি বিদ্রোহী ও বিচ্ছিন্নতাবাদীদের মধ্যে সংঘর্ষের কেন্দ্রস্থল।
দীর্ঘদিন ধরে তেহরানের অভিযোগ, এসব গোষ্ঠীর কিছু বিদেশি শক্তির সঙ্গে সম্পর্ক এবং চোরাচালান ও বিদ্রোহে সম্পৃক্ত। প্রদেশটি ইরানের অন্যতম অনুন্নত অঞ্চল। বেলুচরা সাধারণত সুন্নি মুসলমান, যেখানে ইরানের সংখ্যাগরিষ্ঠ জনগণ শিয়া।
সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা
২৮৩ দিন আগে
থাইল্যান্ড-কম্বোডিয়া সীমান্ত সংঘর্ষের নেপথ্যে কী?
দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে আবারও সংঘর্ষে জড়িয়েছে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়া।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) স্থানীয় সময় সকালে প্রতিবেশি দেশদুটির ছয়টি সীমান্ত এলাকায় গোলাগুলি ও রকেট হামলার মধ্য দিয়ে এই সহিংসতা শুরু হয়।
গতকাল শুক্রবারও সীমান্তবর্তী চারটি প্রদেশের কাছে একাধিক স্থানে সংঘর্ষ হয়েছে বলে জানিয়েছে থাই সেনাবাহিনী। কম্বোডিয়ার ওপর থাইল্যান্ড বিমান হামলা চালিয়েছে বলেও জানানো হয়েছে।
এই সংঘর্ষে এখন পর্যন্ত থাইল্যান্ডে অন্তত ১৪ জন এবং কম্বোডিয়ায় একজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ। চলমান এই সংঘাতের কারণে সীমান্তবর্তী এলাকা থেকে হাজার হাজার মানুষ নিরাপত্তার জন্য বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়ে গেছেন।
এ নিয়ে চলতি বছর দ্বিতীয়বারের মতো সংঘর্ষে জড়াল দক্ষিণ এশিয়ার এই দুই দেশ। এর আগে মে মাসে গুলিবিদ্ধ হয়ে এক কম্বোডিয়ান সেনা নিহত হওয়ার পর দুই দেশের মধ্যে সামরিক উত্তেজনা শুরু হয়েছিল।
প্রতিবেশি এই দুই দেশের সংঘাতের নেপথ্যে কী আছে, চলুন তা জেনে নেওয়া যাক।
সবশেষ উত্তেজনার সূত্রপাত যেভাবে
চলতি বছরের মে মাসে ছোট একটি সীমান্ত এলাকার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার সেনাবাহিনীর মধ্যে গোলাগুলির মধ্য দিয়ে সংঘাতের সূত্রপাত হয়।
সে সময় এক কম্বোডিয়ান সেনা গুলিবিদ্ধ হয়ে নিহত হন। দুই পক্ষই দাবি করে যে তারা আত্মরক্ষার্থে গুলি চালিয়েছে। এ নিয়ে তখন উত্তেজনা তৈরি হয়। এরপর একটি স্থলমাইন বিস্ফোরণে কয়েকজন থাই সেনা আহত হওয়ার পর এই সামরিক উত্তেজনা আরও বেড়ে যায়।
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডে গাঁজা কিনতে লাগবে প্রেসক্রিপসন!
পরে দুই দেশ উত্তেজনা হ্রাসে একমত হয়। তবে সীমান্তে কড়াকড়ি, নিষেধাজ্ঞা ও বাকযুদ্ধ পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তোলে।
এরপর কম্বোডিয়া সীমান্তে কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করে থাইল্যান্ড। এর ফলে শুধু শিক্ষার্থী, চিকিৎসাপ্রার্থী ও জরুরি প্রয়োজন ছাড়া অন্য কোনো মানুষ দেশটিতে যাতায়াত করতে পারছিল না। এরপর বৃহস্পতিবার পুরো সীমান্তই বন্ধ করে দেয় থাইল্যান্ড।
জবাবে থাই চলচ্চিত্র ও টেলিভিশন নিষিদ্ধ করে কম্বোডিয়া। এ ছাড়াও থাইল্যান্ড থেকে জ্বালানি, গ্যাস, ফলমূল ও সবজি আমদানিও বন্ধ করে দিয়েছে তারা। এমনকি প্রতিবেশি দেশটির সঙ্গে কিছু আন্তর্জাতিক ইন্টারনেট সংযোগ ও বিদ্যুৎ সরবারহও স্থগিত করেছে নমপেন।
দীর্ঘদিনের সীমান্ত বিরোধ
থাইল্যান্ড ও কাম্বোডিয়ার ৮০০ কিলোমিটার দীর্ঘ সীমান্ত বহু দশক ধরেই বিরোধপূর্ণ। এ বিরোধের মূল উৎস ১৯০৭ সালে ফরাসি উপনিবেশিক শাসনামলে আঁকা একটি মানচিত্র।
কম্বোডিয়াকে থাইল্যান্ড থেকে আলাদা করতে ওই মানচিত্র তৈরি করা হয়েছিল। ওই মানচিত্র ধরে কিছু এলাকা নিজেদের বলে দাবি করে কম্বোডিয়া। তবে মানচিত্রটি প্রত্যাখ্যান করেছে থাইল্যান্ড।
এর মধ্যে সবচেয়ে বেশি বিরোধ রয়েছে প্রায় এক হাজার বছরের পুরোনো প্রেয়া ভিহেয়ার মন্দির নিয়ে। ১৯৬২ সালে কম্বোডিয়াকে এই মন্দির এলাকার মালিকানা দেয় আন্তর্জাতিক বিচার আদালত। যার ফরে দেশদুটির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক খারাপ হয়ে পড়ে।
এরপর ২০১১ সালে নতুন করে সংঘর্ষ বাঁধে, যেখানে ২০ জনের মতো নিহত হন এবং বহু মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়। এরপর কম্বোডিয়া আবার বিচার আদালতের দ্বারস্থ হয় এবং ২০১৩ সালে আদালত আবারও তাদের পক্ষে রায় দেয়।
বর্তমানে কম্বোডিয়া আবার আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের দ্বারস্থ হয়েছে। তবে আদালতের এখতিয়ার মানতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে থাইল্যান্ড।
আরও পড়ুন: সাইবার অপরাধ: ১০ হাজার শ্রমিককে থাইল্যান্ড পাঠাচ্ছে কারেন বিদ্রোহীরা
থাই রাজনীতিতে তোলপাড়
এদিকে, উভয় দেশের জাতীয়তাবাদী মনোভাব দুই দেশের বর্তমান পরিস্থিতিকে আরও উত্তপ্ত করে তুলেছে।
এরই মধ্যে সীমান্ত বিরোধ নিয়ে এক কম্বোডিয়ান শীর্ষ নেতার সঙ্গে ফাঁস হওয়া ফোনালাপের পর থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে গত ১ জুলাই তার পদ থেকে সাময়িক বরখাস্ত করা হয়।
জুন মাসে ফাঁস হওয়া ওই ফোন কলে কম্বোডিয়ার সাবেক প্রধানমন্ত্রী হুন সেনকে ‘চাচা’ বলে সম্বোধন করেন সিনাওয়াত্রা এবং থাইল্যান্ডের সামরিক নেতৃত্বের সমালোচনা করেন। সমালোচকরা এসব মন্তব্যকে জাতীয় সার্বভৌমত্বের প্রতি অসম্মান হিসেবে অভিহিত করেছেন।
হুন সেন পেতংতার্নের বাবার দীর্ঘদিনের বন্ধু ছিলেন। তবে সীমান্ত বিরোধকে কেন্দ্র করে তাদের সম্পর্ক বিচ্ছিন্ন হয়ে যায়।
সম্প্রতি ফাঁস হওয়া ফোনালাপ থাইল্যান্ডজুড়ে ব্যাপক ক্ষোভ ও প্রতিবাদের জন্ম দেয়। এরপর পেতংতার্নকে সরিয়ে সাবেক প্রতিরক্ষামন্ত্রী ফুমথম ওয়েচায়াচাইকে অন্তর্বর্তীকালীন প্রধানমন্ত্রী হিসেবে নিয়োগ দেওয়া হয়।
২৮৩ দিন আগে
রাশিয়ায় ৫০ বছর পুরোনো বিমান বিধ্বস্তে সব আরোহী নিহত
রাশিয়ায় ক্রু ও যাত্রীসহ ৪৮ আরোহীকে নিয়ে এএন-২৪ নামের ৫০ বছর পুরোনো বিমান বিধ্বস্তের ঘটনায় সব আরোহীর মৃত্যু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) দেশটির আমুর অঞ্চলের গভর্নর ভাসিলি অরলভ এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, বিমানে থাকা ৪৮ জন আরোহীর সবাই নিহত হয়েছেন। তিনি ঘটনাটিকে একটি ‘ভয়াবহ ট্র্যাজেডি’ হিসেবে উল্লেখ করে আমুর অঞ্চলে তিন দিনের শোক ঘোষণা করেছেন।
দেশটির স্থানীয় জরুরি পরিষেবা মন্ত্রণালয় তথ্যনুযায়ী, গতকাল (বৃহস্পতিবার) দেশটির দূর প্রাচ্যে বিমানটি বিধ্বস্ত হয়। বিমানে ৬ শিশুসহ ৪২ যাত্রী ও ৬ জন বিমান ক্র ছিলেন।
দুর্ঘটনার পর গভর্নরের দপ্তর থেকে ৪৯ জন আরোহীর থাকার কথা বলা হলেও পরে সেটি সংশোধন করে ৪৮ করা হয়। তবে সংখ্যাগত ভিন্নতার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানানো হয়নি।
মন্ত্রণালয় জানায়, দূর প্রাচ্যের তিন্দা শহরের উদ্দেশে রওনা হওয়া বিমানটি রাডারের সঙ্গে যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হওয়ার পর এর ধ্বংসাবশেষ একটি পাহাড়ি জায়গায় খুঁজে পাওয়া যায়। দুর্ঘটনার কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি। তবে রাশিয়ার ইন্টারফ্যাক্স বার্তা সংস্থা জানিয়েছে, বিধ্বস্তের সময় ওই এলাকায় খারাপ আবহাওয়া বিরাজ করছিল।
প্রায় ৫০ বছরের পুরোনো সোভিয়েত আমলের বিমানটি খাবারোভস্ক থেকে যাত্রা শুরু করে ব্লাগোভেশচেনস্কে পৌঁছে পরে তিন্দার দিকে যাচ্ছিল। রুশ রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমে প্রচারিত ছবিতে দেখা যায়, বিমানের ধ্বংসাবশেষ ঘন জঙ্গলের মধ্যে ছড়িয়ে পড়ে আছে এবং সেখান থেকে ধোঁয়ার কুণ্ডলী উঠছিল।
দূরপ্রাচ্যের পরিবহন প্রসিকিউটরের অফিস জানিয়েছে, দুর্ঘটনাস্থলটি তিন্দা থেকে ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) দক্ষিণে অবস্থিত। একটি অনলাইন বিবৃতিতে অফিসটি জানিয়েছে, বিমানটি অবতরণের জন্য দুইবার চেষ্টা করে। দ্বিতীয়বার অবতরণের চেষ্টার পর এটি রাডার থেকে হারিয়ে যায়।
পড়ুন: ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স: মাখোঁ
স্থানীয় জরুরি সেবা বিষয়কমন্ত্রী বলেন, সাইবেরিয়াভিত্তিক আনগারা নামের একটি এয়ারলাইন্স বিমানটি পরিচালনা করতো। বিমানটির নাম এএন-২৪।
‘উড়ন্ত ট্রাক্টর’ নামে পরিচিত এএন-২৪ বিমানগুলোকে রাশিয়ায় দীর্ঘদিন ধরে নির্ভরযোগ্য হিসেবে বিবেচনা করা হলেও পশ্চিমা নিষেধাজ্ঞার কারণে এসব পুরোনো বিমানের রক্ষণাবেক্ষণ ও খুচরা যন্ত্রাংশ সংগ্রহ ক্রমেই কঠিন হয়ে পড়ছে।
নতুন লাদোগা বিমানের ব্যাপক উৎপাদন ২০২৭ সালের আগে শুরু হবে না বলে জানা গেছে। এই অবস্থায় রাশিয়ার গ্রামীণ ও দুর্গম অঞ্চলে পরিবহনের জন্য এখনও পুরোনো ‘উড়ন্ত ট্রাক্টর’-এর ওপরই নির্ভর করতে হচ্ছে।
বিমানের বয়স ৫০!
রাশিয়ানপ্লেইনস নামের একটি সংস্থা জানিয়েছে, আনগারা এয়ারলাইন্স মূলত রাশিয়ার পূর্বাঞ্চল ও সাইবেরিয়ার দুর্গম এলাকায় ফ্লাইট পরিচালনা করে। তারা বর্তমানে ১০টি এএন-২৪ বিমান পরিচালনা করে, যেগুলো ১৯৭২ থেকে ১৯৭৬ সালের মধ্যে তৈরি।
সোভিয়েত আমলে মোট ১ হাজার ৩৪০টি এএন-২৪ তৈরি হয়। রাশিয়ানপ্লেইনসের বিশ্লেষণ অনুযায়ী, এর মধ্যে ৮৮টি দুর্ঘটনায় ধ্বংস হয়েছে, ৬৫টি গুরুতর ঘটনার শিকার হয়েছে যাত্রী হতাহতের ঘটনা ছাড়াই এবং বর্তমানে মাত্র ৭৫টি বিমান চালু রয়েছে। বিমানগুলোর বয়স বহুদিন ধরেই উদ্বেগের বিষয়। ২০১১ সালে সাইবেরিয়ায় এক এএন-২৪ বিমান দুর্ঘটনায় সাতজন নিহত হলে তৎকালীন প্রেসিডেন্ট দিমিত্রি মেদভেদেভ এই বিমানগুলো গ্রাউন্ড (পরিচালনা বন্ধ) করার প্রস্তাব দিয়েছিলেন।বর্তমান পরিস্থিতি এই বিমানের পরিচালনা ও ভবিষ্যত নিয়ে প্রশ্ন উঠেছে।
সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা
২৮৪ দিন আগে
ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে ফ্রান্স: মাখোঁ
আগামী সেপ্টেম্বরে ফ্রান্স ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেবে বলে জানিয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট এমানুয়েল মাখোঁ। খাবারের অভাবে গাজায় একের পর এক মৃত্যুর মধ্যে এই সাহসী কূটনৈতিক পদক্ষেপ নিলেন তিনি। তবে তার এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়েছে ইসরায়েল।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২৪ জুলাই) সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে দেওয়া এক পোস্টে ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দেওয়ার ঘোষণা দেন মাখোঁ। আগামী সেপ্টেম্বর মাসে জাতিসংঘ সাধারণ অধিবেশনে এই সিদ্ধান্ত আনুষ্ঠানিকভাবে ঘোষণা করার কথাও জানান তিনি।
পোস্টে মাখোঁ লেখেন, ‘এ মুহূর্তে সবচেয়ে জরুরি হলো গাজায় যুদ্ধের অবসান ও সাধারণ মানুষের জীবন রক্ষা করা।’
২০২৩ সালে হামাস ইসরায়েলে হামলা করার পর প্রথম দিকে তেল আবিবকে সমর্থন করেছিলেন ফ্রান্সের প্রেসিডেন্ট। তবে গাজা উপত্যকায় ইসরায়েলের অব্যাহত অভিযানের কারণে ক্রমাগত উদ্বেগ প্রকাশ করে আসছিলেন তিনি। অবিলম্বে যুদ্ধ বন্ধেরও আহ্বান জানিয়ে আসছেন মাখোঁ।
এক্স পোস্টে তিনি আরও লেখেন, ‘শান্তি সম্ভব, মধ্যপ্রাচ্যে ন্যায়সঙ্গত ও স্থায়ী শান্তির জন্য ঐতিহাসিক প্রতিশ্রুতির প্রতি সততার দিক থেকে আমি সিদ্ধান্ত নিয়েছি যে ফ্রান্স ফিলিস্তিন রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেবে।’
আরও পড়ুন: ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্র হিসেবে স্বীকৃতি দিতে ব্রিটেনের প্রতি লন্ডনের মেয়রের আহ্বান
সম্প্রতি হামাস সদিচ্ছা দেখাচ্ছে না— এই অজুহাতে কাতারে চলমান গাজা যুদ্ধবিরতির আলোচনা সংক্ষিপ্ত করেছে যুক্তরাষ্ট্র। এর পরপরই এই ঘোষণা দেন ফরাসি প্রেসিডেন্ট।
এদিকে, মাখোঁর এই পদক্ষেপের তীব্র নিন্দা জানিয়ে এক বিবৃতিতে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহ বলেন, ফ্রান্সের এই পদক্ষেপ সন্ত্রাসকে পুরস্কৃত করবে। তাছাড়া গাজা যেমন একটি ইরানি দোসরে পরিণত হয়েছিল, তেমনি আরেকটি দোসর তৈরির ঝুঁকি তৈরি করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘এই পরিস্থিতিতে ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র হবে ইসরায়েলকে ধ্বংস করার জন্য একটি লঞ্চ প্যাড। এর পাশে শান্তিতে বসবাস করার সুযোগ থাকবে না।’
তবে ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষ মাখোঁর এই সিদ্ধান্তকে সাধুবাদ জানিয়েছে। ফিলিস্তিনের প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আব্বাস ফ্রান্সের প্রেসিডেন্টের প্রতি ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানিয়েছেন।
মাখোঁর ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় মাহমুদ আব্বাসের ডেপুটি হুসেইন আল-শেখ বলেছেন, ‘(মাখোঁর) এই অবস্থান আন্তর্জাতিক আইনের প্রতি ফ্রান্সের প্রতিশ্রুতি এবং ফিলিস্তিনি জনগণের আত্মনিয়ন্ত্রণের অধিকার এবং স্বাধীন রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার প্রতি সমর্থনকে প্রতিফলিত করে।’
অন্যদিকে, এক্সে দেওয়া এক পোস্টে মাখোঁর সিদ্ধান্তকে জোরালোভাবে প্রত্যাখান করেছেন যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও।
তিনি বলেন, ‘অবিবেচনাপ্রসূত নেওয়া এই সিদ্ধান্ত কেবল হামাসের প্রচারকে শক্তিশালী করবে। পাশাপাশি শান্তি প্রক্রিয়াকে পিছিয়ে দেবে। শুধু তাই নয়, এটি ৭ অক্টোবরের নিহতদের প্রতি চরম অবমাননা।’
বর্তমানে, জাতিসংঘের ১৯৩টি সদস্য রাষ্ট্রের মধ্যে ১৪০টিরও বেশি দেশ ফিলিস্তিনকে রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দিয়েছে, যার মধ্যে ইউরোপের কয়েকটি দেশও রয়েছে। কিন্তু ইসরায়েলের প্রধান সমর্থক, যুক্তরাষ্ট্র ও যুক্তরাজ্যসহ তার মিত্ররা ফিলিস্তিনি রাষ্ট্রকে স্বীকৃতি দেয়নি।
এরই মধ্যে, আগামী সপ্তাহে ফ্রান্স ও সৌদি আরব জাতিসংঘে যৌথভাবে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধান নিয়ে একটি সম্মেলনের আয়োজন করতে যাচ্ছে।
আরও পড়ুন: মার্কিন উপদেষ্টাকে গাজার ক্ষুধার্ত শিশুদের ছবি দেখালেন তিউনিসিয়ার প্রেসিডেন্ট
এর আগে, গত মাসে দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পক্ষে একটি বৃহত্তর উদ্যোগের পক্ষে জোর দিয়েছিলেন মাখোঁ, তবে ইসরায়েলকেও স্বীকৃতি ও আত্মরক্ষার অধিকার সমানভাবে গুরুত্ব দেওয়া হবে বলে মন্তব্য করেছিলেন তিনি।
এ ছাড়াও গাজার চলমান পরিস্থিতিতে কীভাবে ক্ষুধার্ত মানুষের কাছে খাদ্য পৌঁছানো যায় এবং যুদ্ধ থামানো যায়, তা নিয়ে আলোচনা করতে শুক্রবার (২৫ জুলাই) ব্রিটেন ও জার্মানির নেতাদের সঙ্গে বৈঠক করার কথা রয়েছে মাখোঁর।
ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী কিয়ার স্টারমার তাকে সমর্থন করে বলেন, ‘রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি ফিলিস্তিনি জনগণের অবিচ্ছেদ্য অধিকার। একটি যুদ্ধবিরতি ও ফিলিস্তিন রাষ্ট্রের স্বীকৃতি দ্বি-রাষ্ট্রভিত্তিক সমাধানের পথে এগিয়ে নিয়ে যাবে। এটি ফিলিস্তিনি ও ইসরায়েলিদের জন্য শান্তি ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘গাজায় যে দুর্ভোগ ও অনাহার চলছে, তা বর্ণনাতীত এবং কোনোভাবেই সমর্থনযোগ্য নয়।’
২৮৪ দিন আগে