বিশ্ব
যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেও গাজায় ৩৮ ফিলিস্তিনি নিহত
ফিলিস্তিনি প্রতিরোধ আন্দোলন হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেও গাজায় ইসরায়েলি আগ্রাসন চলমান রয়েছে। শুক্রবার (৬ জুলাই) গাজার স্থানীয় স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ইসরায়েলি আগ্রাসনে অন্তত ৩৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি বিষয়ে আলোচনা করতে শিগগিরই হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু। এই পরিস্থিতিতে এসব হামলা চালিয়েছে ইসরায়েলের প্রতিরক্ষা বাহিনী (আইডিএফ)।
গাজার শিফা হাসপাতালের পরিচালক মোহাম্মদ আবু সেলমিয়া জানান, শহরের দুটি বাড়িতে ইসরায়েলি বিমান হামলায় ২০ জন নিহত ও ২৫ জন আহত হয়েছেন। অন্যদিকে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলের মুওয়াসি এলাকায় বিমান হামলায় আরও ১৮ জন নিহত হয়েছেন।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী এসব নির্দিষ্ট হামলা নিয়ে কোনো মন্তব্য না করলেও জানিয়েছে, গত ২৪ ঘণ্টায় তারা গাজাজুড়ে মোট ১৩০টি লক্ষ্যবস্তুতে হামলা চালিয়েছে।
তাদের দাবি, হামাসের নিয়ন্ত্রণ কেন্দ্র, অস্ত্র ভাণ্ডার, রকেট লাঞ্চার ও অন্যান্য সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করে এসব হামলা চালানো হয়েছে। এতে বেশ কয়েকজন হামাস যোদ্ধা নিহত হয়েছেন বলে দাবি করেছে ইসরায়েল।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর থেকে ইসরায়েলের হামলায় এখন পর্যন্ত গাজায় ৫৭ হাজারের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত করেছে, যাদের অর্ধেকই নারী ও শিশু বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
আরও পড়ুন: টেক্সাসে বন্যায় নিহত বেড়ে অর্ধশত, ২৭ কিশোরীসহ নিখোঁজ বহু
যুদ্ধবিরতি আলোচনায় অগ্রগতি
গাজায় ক্রমবর্ধমান হতাহতের মধ্যে যুদ্ধবিরতির প্রচেষ্টা জোরালো হচ্ছে। ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় জানিয়েছে, রবিবার (৭ জুলাই) কাতারে প্রতিনিধিদল পাঠাবে তারা। সেখানে হামাসের সঙ্গে যুদ্ধবিরতি নিয়ে পরোক্ষ আলোচনা হওয়ার কথা রয়েছে।
তবে, এর মধ্যেই ইসরায়েলি প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু দাবি করেছেন, চুক্তিতে হামাসের পরিবর্তনের প্রস্তাবগুলো মোটেও গ্রহণযোগ্য নয়।
কাতারে আলোচনা শুরুর আগেই সোমবার ট্রাম্পের সঙ্গে বৈঠকে বসবেন নেতানিয়াহু। এর আগেই কোনো চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে কি না, তা এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
এদিকে, হামাস জানিয়েছে, প্রাথমিক যুদ্ধবিরতির পর পুরোপুরি যুদ্ধ বন্ধ ও গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা সরে যাওয়ার নিশ্চয়তা ছাড়া চুক্তি স্বাক্ষরিত হবে না।
আরও পড়ুন: সংঘাতের পর প্রথমবার প্রকাশ্যে খামেনি
এর আগের আলোচনাগুলো যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে হামাস ও ইসরায়েলের মতবিরোধে ভেস্তে গেয়েছিল। নেতানিয়াহু যুদ্ধের প্রথম থেকেই বলে আসছে, ‘হামাসকে সম্পূর্ণ ধ্বংস না করে যুদ্ধ থামানো হবে না।’
৩০৩ দিন আগে
টেক্সাসে বন্যায় নিহত বেড়ে অর্ধশত, ২৭ কিশোরীসহ নিখোঁজ বহু
যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত ১৫টি শিশুসহ নিহতের সংখ্যা ৫১ ছাড়িয়েছে। স্থানীয় গোয়াডালুপ নদীর উচ্চপ্রবাহের কারণে এসব মৃত্যুর ঘটনা ঘটেছে। এখনও ২৭ কিশোরীসহ বহু মানুষের সন্ধান মেলেনি। নিখোঁজদের উদ্ধারে তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বেচ্ছাসেবী সংগঠনগুলো।
ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান ও এসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবরে এসব তথ্য জানা যায়। স্থানীয়রা জানান, নদীর পানি ৪৫ মিনিটের মধ্যে ২৬ ফুট বেড়ে গিয়ে মৃত্যু ও বিপর্যয়ের মুখে পড়েন তারা। মাত্র কয়েক ঘণ্টার বৃষ্টিতে বহু ঘরবাড়ি, গাড়ি ভেসে গেছে।
শুক্রবার (৪ জুলাই) ভোরে টেক্সাসের কেরি কাউন্টিতে প্রচণ্ড বৃষ্টিপাতে নদীর পানি বিপজ্জনকভাবে বেড়ে গেছে। এতে ওই এলাকায় ৪৩ জনের মৃত্যু হয়। এ ছাড়া, এর আশপাশের বিভিন্ন জেলায় আরও অন্তত ৮ জনের প্রাণহানির খবর পাওয়া যায়। যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউ) কেরি কাউন্টির বিভিন্ন এলাকায় জরুরি অবস্থা জারি রেখেছে।
গার্ডিয়ান জানায়, গোয়াডালুপ নদীর তীরে ক্যাম্প মিস্টিক নামের খ্রিস্টান মেয়েদের গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্পে ৭৫০টির বেশি শিশু অবস্থান করছিল। ওই ক্যাম্পের ২৭ কিশোরি এখনও নিখোঁজ রয়েছে।
স্থানীয় প্রশাসনের জানিয়েছে, বন্যার প্রবল ঢলে ভেসে যাওয়াদের উদ্ধারে হেলিকপ্টার ও ড্রোনের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান চলছে। এখন পর্যন্ত ৮৫০ জনকে উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে। মৃতদের মধ্যে ১২ জন প্রাপ্তবয়স্ক ও ৫টি শিশুর পরিচয় এখনও নিশ্চিত করা যায়নি।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ‘ইতিবাচক’ সাড়া দেওয়ার দাবি হামাসের
টেক্সাস রাজ্যের জরুরি বিভাগের প্রধান নিম কিড বলেন, ‘প্রতিটি নিখোঁজ ব্যক্তিকে জীবিত উদ্ধারের তৎপরতা চলছে।’
এদিকে, টেক্সাসের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ড্যান প্যাট্রিক বলেন, ‘নিখোঁজদের কেউ কেউ গাছের ডালে আশ্রয় নিয়েছেন। অনেকেই যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় আছেন। আমরা তাদের জীবিত উদ্ধারের জন্য কার্যক্রম চালাচ্ছি।’
নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধারে কাজ করছে বেশ কয়েকটি হেলিকপ্টার, কয়েকশত উদ্ধারকারী দল ও দেশটির সেনাসদস্যরা। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে পরিবারগুলো নিখোঁজ স্বজনদের ছবি দিয়ে সাহায্য চাচ্ছেন।
এদিকে, এত ব্যাপক প্রাণহানি ও ক্ষয়ক্ষতির জন্য অনেকেই ট্রাম্প প্রশাসনকে দোষারোপ করছেন। দ্বিতীয় মেয়াদে ক্ষমতায় আসার পর ট্রাম্প প্রশাসন আবহাওয়া বিভাগসহ বিভিন্ন সংস্থায় বাজেট ও কর্মী সংখ্যা ব্যাপক কমিয়েছে।
অনেকের অভিযোগ, এর কারণেই পূর্বাভাস ব্যবস্থা দুর্বল হয়ে সঠিক সময়ে মানুষের কাছে সকর্তবার্তা দিতে ব্যর্থ হয়েছে। তবে, স্থানীয় কর্মকর্তারা অভিযোগ করে জানান, তারা এমন ভয়াবহ বন্যার পূর্বাভাস পাননি।
তবে এই অভিযোগ উড়িয়ে স্থানীয় আবহাওয়া বিভাগের কর্মকর্তা অ্যাভেরি তোমাসকো দাবি করেন, ‘বিপর্যয়ের ১২ ঘণ্টা আগেই কেরি কাউন্টিতে বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল।’
দেশটির জাতীয় আবহাওয়া পরিষেবা (এনডব্লিউ) বলছে, শুক্রবার রাতেই অন্তত ৩০ হাজার মানুষের জন্য বন্যা সতর্কতা জারি করা হয়েছিল। তবে, স্থানীয়রা জানান, রাতের আঁধারে পরিস্থিতি এত দ্রুত খারাপের দিকে যাবে, সেটি অনেকেই বুঝে উঠতে পারেননি।
আরও পড়ুন: টিকটক কিনতে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন ট্রাম্প
উদ্ধার অভিযান চলতে থাকলেও নিখোঁজ শিশুদের ভাগ্য নিয়ে দুশ্চিন্তা বাড়ছে পরিবারগুলোর। ট্রাম্প প্রশাসনের পক্ষ থেকে বলা হয়েছে, ‘আমরা রাষ্ট্রীয় ও স্থানীয় কর্মকর্তাদের সঙ্গে কাজ করছি। বন্যাদুর্গতদের পরিবারের প্রতি আমাদের প্রার্থনা ও সমবেদনা রইল।’
টেক্সাসের হিল কান্ট্রি অঞ্চলের অর্থনীতিতে নদী পর্যটনের বড় ভূমিকা রয়েছে। শতবর্ষ পুরনো গ্রীষ্মকালীন ক্যাম্প ও পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু ও পর্যটক বেড়াতে আসেন।
৩০৩ দিন আগে
সংঘাতের পর প্রথমবার প্রকাশ্যে খামেনি
ইসরায়েলের সঙ্গে সংঘাত শুরুর পর প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে এসেছেন ইরানের সর্বোচ্চ ধর্মীয় নেতা আয়াতুল্লাহ আলি খামেনি। পবিত্র আশুরার শুভেচ্ছা জানাতে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে প্রচারিত একটি ফুটেজে তাকে দেখা গেছে।
স্থানীয় সময় শনিবার (৫ জুলাই) রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে আশুরার আগের দিন একটি অনুষ্ঠানে মসজিদে উপাসনাকারীদের শুভেচ্ছা জানাতে দেখা যায় খামেনিকে। ব্রিটিশ গণমাধ্যমে বিবিসির খবরে এ তথ্য জানানো হয়েছে।
এর আগে, গত ১৩ জুন ইসরায়েলের হামলায় ইরানের শীর্ষ সামরিক ব্যক্তিত্ব ও পরমাণু বিজ্ঞানীদের নিহতের খবর ঘোষণার একটি রেকর্ড করা ভিডিওতে তাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল।
গত ১২ জুন ইরানের পারমাণবিক ও সামরিক স্থাপনাগুলোর ওপর আকস্মিক হামলা চালায় ইসরায়েল। এরপর ইসরায়েলে পাল্টা বিমান হামলা চালায় ইরান। শুরু হয়ে যায় মধ্যপ্রাচ্যের এই দুই পরাশক্তির যুদ্ধ।
ইসরায়েলের সঙ্গে ইরানের ওই ১২ দিনের যুদ্ধ চলাকালে খামেনি টেলিভিশনে তিনটি ভিডিও বার্তায় উপস্থিত হয়েছিলেন। এরপর ছড়ায় তার বাঙ্কারে লুকিয়ে থাকার গুঞ্জন।
শনিবার ইরানি গণমাধ্যমে খামেনির এই উপস্থিতি ছিল প্রধান খবর। এমনকি টেলিভিশনে তার সমর্থকদের তাকে দেখে উচ্ছ্বাস প্রকাশের দৃশ্যও প্রচার করা হয়।
ফুটেজে খামেনিকে আরেক ধর্মীয় নেতা মাহমুদ কারিমির দিকে ঘুরে তার সঙ্গে ‘ও ইরান’ নামক দেশপ্রেমমূলক সঙ্গীতটি গাইতে দেখা যায়। এই গানটি ইসরায়েলের সঙ্গে সাম্প্রতিক সংঘাতের সময় বিশেষভাবে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন জানায়, এই ভিডিওটি তেহরানের ইমাম খোমেনি মসজিদে ধারণ করা হয়েছে। মসজিদটি ইসলামি প্রজাতন্ত্রের প্রতিষ্ঠাতা ইমাম খোমেনির নামে নামকরণ করা।
তার এই প্রকাশ্য উপস্থিতির পর নিজেদের প্রতিক্রিয়ার ভিডিও পাঠাতে ইরানের জনগণকে আহ্বান জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
শিয়া মুসলিম-প্রধান দেশটির জন্য শোকের মাস মুহাররম চলাকালে খামেনির এই উপস্থিতি প্রকাশ্যে এলো। এই উৎসবটি সাধারণত সর্বোচ্চ নেতার উপস্থিতিতে পালন করা হয়।
আশুরা মুহাররম মাসের ১০ম দিনে পালিত হয়। এদিন শিয়া মুসলমানরা মহানবী হজরত মুহাম্মদের (সা.) দৌহিত্র ইমাম হুসাইনের শাহাদাত স্মরণ করেন।
এর আগে, গত ২৬ জুন রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনে প্রচারিত আগের রেকর্ড করা বক্তব্যে খামেনি বলেছিলেন, ইরান ইসরায়েলের কাছে আত্মসমর্পণ করবে না। তার আগে ইরানকে নিঃশর্ত আত্মসমর্পনের আহ্বান জানান মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।
তার আগে গত ২২ জুন ইরানের তিনটি পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানোর মাধ্যমে ইসরায়েল-ইরান সংঘাতে সরাসরি যুক্ত হয় যুক্তরাষ্ট্র।
যুক্তরাষ্ট্র ইরানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালিয়ে যুদ্ধে যুক্ত হয়। এ অভিযানে ১২৫টি মার্কিন সামরিক বিমান অংশ নেয় এবং ইরানের ফোরদো, নাতাঞ্জ ও ইসফাহানের পারমাণবিক স্থাপনায় হামলা চালানো হয়।
ইরানের বিচার বিভাগ জানিয়েছে, ১২ দিনের এই যুদ্ধকালে নয় শতাধিক মানুষ নিহত হয়েছেন।
আরও পড়ুন: আদর্শ নাকি নমনীয়তা, কোন পথে যাবেন খামেনি
৩০৩ দিন আগে
খাবারের অভাবে হাড্ডি-চর্মসার হয়ে গেছে গাজার শিশুরা: চিকিৎসক
গাজা উপত্যকা, মধ্যপ্রাচ্যের এমন এক টুকরো ভূমি যেখানে জন্মই যেন হয়ে উঠেছে আজন্ম পাপ। শিশুরা তো পৃথিবীতে আসে প্রকৃতির নিয়মে। তার জন্মে পরিবারে নেমে আসে খুশির ছটা। কিন্তু গাজায় একটি শিশু জন্মালে প্রথমেই তার বাবা-মাকে চিন্তা করতে হয়— এই শিশুটিকে কী খাওয়াব? কখন যেন বোমার আঘাতে মারা যায় শিশুটি—সেই দুশ্চিন্তায় তটস্থ হয়ে থাকে তাদের মন।
টানা যুদ্ধে গাজার প্রাণহানি তো বিশ্ববাসীর চোখ তো এড়ায়নি। তবে আগ্রাসনের নতুন কৌশল হিসেবে ইসরায়েল যখন গাজায় খাবারসহ মানবিক সহায়তা বন্ধ করে দেয়, তখন বিশেষজ্ঞরা বারবার যে দুর্ভিক্ষের বিষয়ে সতর্ক করেছিলেন, আজ তা বাস্তব। শুধু তা-ই নয়, গাজার ত্রাণ বিতরণ কার্যক্রম নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়ে খাবারকে মানুষ মারার কৌশল হিসেবে বাস্তবায়নের চেষ্টা করছে ইসরায়েলি বাহিনী।
এর এসবের মধ্যে সবচেয়ে করুণ দশায় রয়েছে একেকটি নতুন প্রাণ। সেখানকার শিশুদের অবস্থার ভয়বহতা বর্ণনা করতে গিয়ে এক ডাক্তার বলেন, ‘ওরা শুধু চামড়া ও হাড্ডিসার হয়ে গেছে।’
বর্তমানেও উপত্যকায় মানবিক সহায়তার প্রবেশ সীমিত করে রেখেছে ইসরায়েল। ফলে খাদ্যের মারাত্মক ঘাটতির কারণে শত শত শিশু মৃত্যুঝুঁকিতে রয়েছে বলে সতর্ক করেছেন গাজার চিকিৎসকরা।
খান ইউনিসের নাসের হাসপাতালের শিশু বিভাগের প্রধান ডা. আহমদ আল-ফাররা দ্য গার্ডিয়ানকে বলেন, তার ওয়ার্ডে মাত্র সপ্তাহখানেকের শিশুখাদ্য অবশিষ্ট আছে। ইতোমধ্যেই প্রি-ম্যাচিউর (অকালে জন্মানো) শিশুদের জন্য নির্দিষ্ট করা বিশেষ ফর্মুলা (খাবার) শেষ হয়ে গেছে। এ কারণে নবজাতকদের জন্য বাধ্য হয়ে সাধারণ শিশুখাদ্যই ব্যবহার করছেন তারা।
তিনি বলেন, ‘কী ভয়াবহ পরিস্থিতি তা বর্ণনা করার ভাষা আমার নেই। এই মুহূর্তে আমাদের হাতে প্রায় এক সপ্তাহের মতো ফর্মুলা (শিশুখাদ্য) আছে। কিন্তু হাসপাতালে ভর্তি শিশুদের বাইরেও অনেক শিশু আছে, যাদের জন্য কোনো দুধই নেই। ভয়াবহ ব্যাপার চলছে এখানে।’
আরও পড়ুন: ত্রাণকেন্দ্র থেকে ক্যাফে, কোথাও নেই ফিলিস্তিনিদের প্রাণের নিরাপত্তা
ইসরায়েল ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডে প্রায় সম্পূর্ণভাবে সহায়তা বন্ধ করে রাখায় গাজায় শিশুখাদ্যের মজুদ ক্রমেই কমছে। যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল সমর্থিত বিতর্কিত বেসরকারি প্রতিষ্ঠান গাজা হিউম্যানেটেরিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচএফ) সীমিত পরিসরে খাদ্য সহায়তা দিলেও তাতে শিশুখাদ্য থাকে না বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা।
পাঁচ সন্তানের জননী ২৭ বছর বয়সী হানাআ আল-তাওয়িল বর্তমানে নুসেইরাত শরণার্থী শিবিরে বাস করছেন। এই নারী জানান, তিনি নিজেই পর্যাপ্ত খাবার পান না। তাই নিজের সন্তানের জন্য বুকের দুধও তৈরি হচ্ছে না। ১৩ মাস বয়সী সন্তানের জন্য তাই শিশুখাদ্য খুঁজতে খুঁজতে হয়রান হয়ে যাচ্ছেন এই মা।
হানাআ বলেন, ‘ছেলের জন্মের পর থেকেই দুধের সমস্যা শুরু হয়। আমার অপুষ্টি ও শারীরিক দুর্বলতার কারণে জন্মের পর থেকেই আমি ওকে ঠিকমতো স্তন্যদান করতে পারিনি।’
অপুষ্টির কারণে তার ছেলের বিকাশ পিছিয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন চিকিৎসকরা। তিনি নিজেও লক্ষ করেছেন, তার অন্য সন্তানরা এই বয়সে হাঁটতে ও কথা বলতে শুরু করলেও এই শিশুটি তা করতে পারছে না।
একরাশ হতাশা ও কষ্ট নিয়ে হানাআ বলেন, ‘যখন সে ঘুমায়, পাশে এক টুকরো রুটি রেখে দিই। কারণ প্রায়ই সে রাতে জেগে উঠে খাবারের জন্য কাঁদে। সারাক্ষণ অসহনীয় দুঃখ ও আশঙ্কা আমার মাথার মধ্যে ঘুরপাক খায়। ভাবি—আমার সন্তানরা ক্ষুধা-তৃষ্ণায় শেষ পর্যন্ত মারা যাবে না তো!’
গাজার স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ২০২৩ সালের অক্টোবরে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত কমপক্ষে ৬৬ ফিলিস্তিনি শিশু অনাহারে মারা গেছে।
আরও পড়ুন: যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ‘ইতিবাচক’ সাড়া দেওয়ার দাবি হামাসের
ইসরায়েল গাজায় বেসামরিক জনগণের বিরুদ্ধে ক্ষুধাকে যুদ্ধের হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার করছে বলে অভিযোগ করেছে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার সংস্থা অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল। এটি ফিলিস্তিনিদের ওপর গণহত্যা চালানোর একটি কৌশল বলে দাবি করেছে সংস্থাটি।
গাজায় মানবিক সহায়তা সমন্বয়ের দায়িত্বপ্রাপ্ত ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ কগাটের দাবি, তারা গাজায় শিশুখাদ্য, ফর্মুলা ইত্যাদি প্রবেশে কোনো বাধা দিচ্ছে না। সংস্থাটি জানিয়েছে, সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে ১ হাজার ৪০০ টনের বেশি শিশুখাদ্য গাজায় পাঠানো হয়েছে।
তাদের অভিযোগ, চিকিৎসকরা গাজায় প্রবেশের সময় তাদের ব্যক্তিগত ব্যাগে শিশুখাদ্যের কৌটা ভরে নিয়ে যাচ্ছেন। ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এক মার্কিন চিকিৎসকের ব্যাগ থেকে একবার ১০টি শিশুখাদ্যের কৌটা জব্দ করে বলেও জানায় সংস্থাটি।
এক ফিলিস্তিনি-জার্মান চক্ষু বিশেষজ্ঞ ডা. ডায়ানা নাজ্জাল, যিনি মার্কিন চিকিৎসকের ব্যাগ এমনভাবে গুছিয়ে দিতে সাহায্য করেছিলেন যাতে তা ইসরায়েলি সীমান্ত কর্তৃপক্ষের কাছে গ্রহণযোগ্য হয়। তিনি বলেন, ‘শেষ পর্যন্ত তারা সব কৌটা জব্দ করল, যেগুলো অকালে জন্মানো শিশুদের জন্য বিশেষ ফর্মুলা ছিল। শিশুখাদ্য দিয়ে ইসরায়েলের নিরাপত্তার কী ক্ষতি হতে পারে?’
নাজ্জাল আরও জানান, অনেক চিকিৎসক ও স্বাস্থ্যকর্মী গাজায় প্রবেশের সময় ওষুধের বদলে প্রোটিন বার ও বাদামজাতীয় উচ্চ-ক্যালরির খাবারে তাদের ব্যাগ ভরছেন।
ইসরায়েলের এই আগ্রাসনের কারণে গাজায় ক্ষুধা সংকট তীব্র হওয়ায় শিশুখাদ্যের প্রয়োজনীয়তা আরও বেড়েছে। প্রায় ৫ লাখ মানুষ চরম ক্ষুধার্ত অবস্থায় আছেন, বাকি জনগণও রয়েছেন তীব্র খাদ্য নিরাপত্তাহীনতার মধ্যে। যেসব মায়েরা নিজেরাই তীব্র অপুষ্টিতে ভুগছেন অথবা মারা গেছেন, তারা শিশুকে স্তন্যপান করতে পারছেন না। এই কারণে ফর্মুলার প্রয়োজন আরও বেড়েছে।
এদিকে, বাজারে সামান্য যে ফর্মুলার সরবরাহ আছে, তার দাম আাকশছোঁয়া। এক কৌটা ফর্মুলা কিনতে প্রায় ৫০ ডলার লাগছে—যা স্বাভাবিকের চেয়ে দশগুণ বেশি।
খান ইউনিসে আশ্রয় নেওয়া ২৫ বছর বয়সী তিন সন্তানের জননী নূরহান বারাকাত বলেন, ‘আমি এক মাসের মতো স্বাভাবিকভাবে স্তন্যদান করতে পেরেছিলাম, কিন্তু খাবারের অভাবে আর তা চালিয়ে যেতে পারিনি।’
বুকভরা কষ্ট নিয়ে তিনি বলেন, ‘আমি জানি, স্তন্যদান মা-সন্তানের বন্ধন মজবুত করে, কিন্তু আমি আর কী করতে পারি?’
৩০৩ দিন আগে
টিকটক কিনতে আলোচনায় বসতে যাচ্ছেন ট্রাম্প
সামাজিকমাধ্যম টিকটকের মালিকানা পেতে চলতি সপ্তাহেই চীনের সঙ্গে আলোচনায় বসবেন যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। এমনকি চুক্তি অনেকটাই এগিয়েছে বলে দাবি তার।
শুক্রবার (৪ জুলাই) মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে ওঠার আগে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘সোমবার বা মঙ্গলবার সম্ভবত প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং বা তার কোনো প্রতিনিধির সঙ্গে সঙ্গে এ বিষয়ে কথা বলবো। তবে, আমাদের চুক্তি অনেকটাই চূড়ান্ত।-খবর দ্য গার্ডিয়ানের
তিনি জানান, এ বিষয়ে আলোচনা করতে তিনি নিজে চীন সফর করতে পারেন কিংবা শি জিনপিং যুক্তরাষ্ট্রে আসতে পারেন। গত মাসে দুই নেতা পরস্পরকে নিজ নিজ দেশে সফরের আমন্ত্রণ জানিয়েছিলেন।
গত মাসে, ট্রাম্প টিকটকের মূল প্রতিষ্ঠান চীনভিত্তিক বাইটড্যান্সকে যুক্তরাষ্ট্রে থাকা সম্পদগুলো বিক্রির জন্য তিনি ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সময় দিয়েছেন। শুক্রবার ট্রাম্প বলেন, যুক্তরাষ্ট্রকে এ চুক্তির জন্য চীনের সম্মতি নিতে হবে।
চুক্তি নিয়ে বেইজিংয়ের ওপর কতটা আস্থা রয়েছে—এমন প্রশ্নে ট্রাম্প বলেন, ‘আমি খুব একটা আত্মবিশ্বাসী নই, তবে মনে করি হবে। প্রেসিডেন্ট শি এবং আমার সম্পর্ক খুবই ভালো। এ চুক্তি চীনের জন্যও ভালো, আমাদের জন্যও ভালো।’
গত জুনে ট্রাম্প তৃতীয় দফায় নির্বাহী আদেশ দিয়ে টিকটকের ওপর নিষেধাজ্ঞা কার্যকরের সময় বাড়ান। এর ফলে বাইটড্যান্সের হাতে আরও ৯০ দিন সময় আছে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের সম্পদ বিক্রি করার জন্য, অন্যথায় টিকটক মার্কিন বাজারে নিষিদ্ধ হবে।
আরও পড়ুন: আটকের পর যুক্তরাষ্ট্র ছাড়লেন বিশ্বের সবচেয়ে জনপ্রিয় টিকটকার
চলতি বসন্তে টিকটকের যুক্তরাষ্ট্র শাখাকে একটি নতুন মার্কিন প্রতিষ্ঠানে রূপান্তর করার আলোচনা চলছিল। সেখানে নিয়ন্ত্রণ ও মালিকানা মার্কিন বিনিয়োগকারীদের হাতে থাকার কথা ছিল। তবে, ট্রাম্প চীনা পণ্যের ওপর উচ্চ শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিলে বেইজিং এ পরিকল্পনায় আপত্তি জানায় এবং আলোচনা স্থগিত হয়ে যায়।
ট্রাম্প প্রেসিডেন্ট হিসেবে দায়িত্ব নেওয়ার তিন দিন পর সুপ্রিম কোর্ট টিকটক নিষেধাজ্ঞা বহাল রাখার রায় দিলে তিনি প্রথম নির্বাহী আদেশে সময়সীমা বাড়ান। দ্বিতীয় নির্বাহী আদেশ আসে এপ্রিল মাসে। তখন বিক্রি বা নিষেধাজ্ঞার সময়সীমা ছিল ১৯ জুন। এখন তা বাড়িয়ে সেপ্টেম্বর ১৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত করা হয়েছে।
৩০৪ দিন আগে
মুষলধারে বৃষ্টিতে টেক্সাসে বন্যা, অন্তত ২৪ জনের প্রাণহানি
মুষলধারে বৃষ্টিতে যুক্তরাষ্ট্রের টেক্সাসের গোয়াডালুপ নদীর আকস্মিক বন্যায় অন্তত ২৪ জন নিহত হয়েছেন। পানির উচ্চপ্রবাহে আটকেপড়া কয়েক ডজন বাসিন্দাকে উদ্ধারে হন্তদন্ত হয়ে চেষ্টা করছেন উদ্ধারকর্মীরা। কেউ কেউ এখনো নিখোঁজ রয়েছেন।
স্থানীয় কর্মকর্তাদের বরাতে ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এমন খবর দিয়েছে। বৃষ্টির পানিতে ফুলে-ফেঁপে ওঠা গোয়াডালুপ নদীর তীরে খ্রিস্টান মেয়েদের গ্রীষ্মকালীন শিবির থেকে ২৩ থেকে ২৫ জনের হদিস মেলেনি।
মাত্র কয়েক ঘণ্টার ভারী বৃষ্টিতে মৃত্যু ও বিপর্যয়ের মুখে পড়ে অঞ্চলটির বাসিন্দারা। তাদের ভাষ্যে, ‘কয়েক মাসের বৃষ্টি যেন কয়েক ঘণ্টায় নেমে এসেছে।’ এতে নদীর তীরবর্তী অঞ্চলের বাসিন্দা ও শিশুদের গ্রীষ্মকালীন শিবিরগুলো আক্রান্ত হয়েছে।
দ্রুতপ্রবাহিত পানির সঙ্গে পাল্লা দিয়ে নৌকা ও হেলিকপ্টার ব্যবহার করে উদ্ধার কার্যক্রম চালানো হচ্ছে।
স্থানীয় কেরি কাউন্টি এলাকার বিভিন্ন অংশে বন্যার কারণে জরুরি অবস্থা ঘোষণা করেছে যুক্তরাষ্ট্রের জাতীয় আবহাওয়া সংস্থা। এই কাউন্টির শেরিফ ল্যারি লেইথা বলেন, এই ‘ধ্বংসাত্মক’ বন্যায় এখন পর্যন্ত ২৪ জনের প্রাণহানি ঘটেছে।
এরআগে স্থানীয় সময় শুক্রবার বিকালে এক সংবাদ সম্মেলনে টেক্সাসের লেফটেন্যান্ট গভর্নর ড্যান প্যাট্রিক বলেন, ‘খ্রিস্টান মেয়েদের বেসরকারি একটি গ্রীষ্মকালীন শিবিরের ২৩ জনের হদিস মেলেনি। ক্যাম্প মিস্টিক নামের শিবিরটিতে তখন সাড়ে ৭০০ মেয়ে ছিল।’
আরও পড়ুন: ইসরায়েলি হামলায় ইরানের হাসপাতালগুলোতে ‘রক্তবন্যা’
ওই এলাকা থেকে নিরাপদ দূরত্বে অবস্থান করতে সবার প্রতি আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, ‘নিখোঁজদের অনুসন্ধানে উদ্ধার অভিযানে কয়েকশ জরুরি কর্মী কাজ করছেন ও ১৪টি হেলিকপ্টার ব্যবহার করা হচ্ছে। এখন পর্যন্ত ছয় কিংবা ১০টি মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে কয়েকজন বয়স্ক ও কয়েকটি শিশু রয়েছে। তাদের পরিচয় নির্ধারণ করা সম্ভব হয়নি।’
টেক্সাসের এই বন্যা পরিস্থিতি নিয়ে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প অবগত আছেন জানিয়ে ড্যান প্যাট্রিক বলেন, ‘বন্যার্তদের জন্য যা কিছু করার দরকার তা তিনি (ট্রাম্প) করতে বলেছেন।’
উদ্ধার অভিযানে কয়েকশত সেনা সদস্যও অংশ নিয়েছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। পাঁচ থেকে দশ ইঞ্চির সমপরিমাণ বৃষ্টি হওয়ার পর অঞ্চলটি প্লাবিত হয়েছে। এ সময়ে কের ও কেন্ডাল কাউন্টি বরাবর ধীর গতির ঝড়ও বয়ে গেছে।
এদিকে সামাজিকমাধ্যমে নিখোঁজদের ছবি পোস্ট তাদের খোঁজ চাচ্ছেন অভিভাবকরা। বন্যাপ্রবণ হিল কাউন্টি অঞ্চলে শতবছর ধরে গ্রীষ্মকালীন শিবির স্থাপন করা হয়। দ্য লোন স্টার স্টেইট থেকে প্রতিবছর হাজার হাজার শিশু এসব শিবিরে অংশ নেয়।
৩০৪ দিন আগে
যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ‘ইতিবাচক’ সাড়া দেওয়ার দাবি হামাসের
ইসরায়েলের সঙ্গে সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি প্রস্তাবে ইতিবাচক সাড়া দেওয়ার কথা জানিয়েছে ফিলিস্তিনের স্বাধীনতাকামী সংগঠন হামাস। তবে, যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাস্তবায়নে আরও আলোচনার প্রয়োজন বলে দাবি করেছে তারা। শুক্রবার (৪ জুলাই) এক বিবৃতিতে হামাস এ তথ্য জানিয়েছে।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের প্রস্তাবিত ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনায় সম্মতি দিয়েছে কি না, হামাসের সর্বশেষ বিবৃতি থেকে তা স্পষ্ট নয়। যুদ্ধবিরতি চুক্তি নিশ্চিত করতে জোর চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন ট্রাম্প। এ বিষয়ে আলোচনা করতে আগামী সপ্তাহে হোয়াইট হাউসে যাচ্ছেন ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু।
তবে, হামাস বেশ কিছুদিন ধরে বলে আসছে, ২১ মাস ধরে চলা গাজা যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধের নিশ্চয়তা ছাড়া সাময়িক যুদ্ধবিরতিতে যেতে রাজি নয় তারা।
আরও পড়ুন: গাজার জনাকীর্ণ ক্যাফেতে ইসরায়েলের ৫০০ পাউন্ডের বোমা হামলা
যুদ্ধ বন্ধে চেষ্টা চলছে
গত মঙ্গলবার (১ জুলাই) এক বিবৃতিতে ট্রাম্প দাবি করেন, ‘ইসরায়েল ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে সম্মতি দিয়েছে। এই সময়ের মধ্যে যুদ্ধ পুরোপুরি বন্ধ করতে যুক্তরাষ্ট্র সব পক্ষের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাবে।’
তিনি হামাসকে দ্রুত সমঝোতায় আসার আহ্বান জানান। অন্যথায়, পরিস্থিতি আরও ভয়ঙ্কর হবে বলে হুঁশিয়ারি ট্রাম্পের। এরপর, গতকাল (শুক্রবার) রাতে হামাস এক বিবৃতি দেয়, তারা মিসর ও কাতারের মধ্যস্থতায় যুদ্ধবিরতি আলোচনায় ‘ইতিবাচক সাড়া’ দিয়েছে।
গোষ্ঠিটি আরও জানায়, যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নের কাঠামো নিয়ে আলোচনায় বসতে প্রস্তুত তারা। তবে, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানানো হয়নি।
এ বিষয়ে হামাসের এক কর্মকর্তা বলেছেন, আলোচনা সফল হলে আগামী সপ্তাহের মধ্যেই যুদ্ধবিরতি শুরু হতে পারে। তবে কতজন ফিলিস্তিনি বন্দির বিনিময়ে ইসরায়েলি জিম্মিদের মুক্ত করা হবে এবং যুদ্ধবিরতির সময় গাজায় কী পরিমাণ ত্রাণ প্রবেশ করবে, তা ঠিক করতে আলোচনা দরকার।
তিনি বলেন, হামাস জাতিসংঘসহ আন্তর্জাতিক সংস্থার মাধ্যমে গাজায় ত্রাণের পরিমাণ বাড়ানোর দাবি করেছে।
ওই কর্মকর্তা আরও জানান, যুদ্ধবিরতি শুরু হলে একই সঙ্গে স্থায়ী যুদ্ধবিরতি এবং গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের ব্যাপারে আলোচনাও শুরু হবে। এ জন্য যুদ্ধবিরতির সময়সীমার ‘বেশি সময়’ প্রয়োজন হলেও ট্রাম্প তা বাড়ানোর নিশ্চয়তা দিয়েছেন।
তবে যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষ থেকে এ বিষয়ে আনুষ্ঠানিক কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
এর আগের আলোচনাগুলো যুদ্ধের সমাপ্তি নিয়ে হামাস ও ইসরায়েলের মতবিরোধে ভেস্তে গেয়েছিল। নেতানিয়াহু যুদ্ধের প্রথম থেকেই বলে আসছে, ‘হামাসকে সম্পূর্ণ ধ্বংস না করে যুদ্ধ থামানো হবে না।’
আরও পড়ুন: গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল: দাবি ট্রাম্পের
এদিকে, বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) রাতে মার্কিন প্রেসিডেন্টকে বহনকারী এয়ারফোর্স ওয়ান বিমানে সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবে হামাস ইতিবাচক মনোভাব’ দেখিয়েছে, এটি খুবই ভালো বিষয়। আগামী ২৪ ঘণ্টার মধ্যে সব স্পষ্ট হয়ে যাবে।
তিনি জানান, আগামী সপ্তাহের মধ্যেই গাজায় যুদ্ধবিরতি নিয়ে একটি চুক্তি হতে পারে।
১৮ ফিলিস্তিনি নিহত
যুদ্ধবিরতি আলোচনার মধ্যেও ইসরায়েলি আগ্রাসন থামেনি। দোহাভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার তথ্যমতে, শুক্রবার মধ্যরাত থেকে এখন পর্যন্ত ইসরায়েলি হামলায় অন্তত ১৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এর আগে, শুক্রবার সকালে ইসরায়েলি বিমান হামলায় গাজায় অন্তত ১৫ ফিলিস্তিনি নিহত হন। এদিকে, ইসরায়েলের বিরুদ্ধে ‘ক্ষুধাস্ত্র’ ব্যবহারের অভিযোগ উঠেছে।
ত্রাণকেন্দ্রগুলোতে অপেক্ষারত ক্ষুধার্ত ও যুদ্ধপীড়িত বেসামরিক ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালাচ্ছে ইসরায়েলি বাহিনী। স্থানীয় হাসপাতালগুলোর বরাতে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস (এপি) জানিয়েছে, শুক্রবার সারাদিনে ত্রাণ নিতে গিয়ে অন্তত ২০ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন।
জাতিসংঘ মানবাধিকার সংস্থা জানিয়েছে, গত এক মাসে গাজায় ত্রাণ সংগ্রহ করতে গিয়ে অন্তত ৬১৩ ফিলিস্তিনি প্রাণ হারিয়েছেন। তাদের বেশিরভাগ নিহত হয়েছেন ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রগুলোর আশেপাশে।
আন্তর্জাতিক চাপের মুখে গত ২৬ মে থেকে ইসরায়েলের সমর্থনে যুক্তরাষ্ট্র নিয়ন্ত্রিত গাজা হিউম্যানিটারিয়ান ফাউন্ডেশন (জিএইচটি) নামে নতুন ত্রাণ বিতরণ কাঠামো চালু হয়েছে।
আরও পড়ুন: নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচন: মুসলমানদের মধ্যে আশা জাগাচ্ছেন মামদানি
বিতর্কিত এই ত্রাণ বিতরণ কেন্দ্রের সাবেক এক নিরাপত্তা কর্মী বিবিসিকে বলেছেন, ‘আমি দেখেছি যে আমার সহকর্মীরা একাধিকবার নিরস্ত্র ও ক্ষুধার্ত ফিলিস্তিনিদের ওপর গুলি চালিয়েছে। এমনকি মেশিনগানের ব্যবহারও করতে দেখেছি। অথচ, তারা কোনো ধরনের হুমকি ছিলেন না।’
তিনি জানান, ‘একবার একটি নিরাপত্তা টাওয়ার থেকে একজন নিরাপত্তাকর্মী কয়েকজন নারী, শিশু ও বৃদ্ধ মানুষের ওপর মেশিনগান দিয়ে গুলি চালায়। যার কারণ তারা কেন্দ্র থেকে ফেরার সময় ধীরগতিতে হাঁটছিলেন!’
৩০৪ দিন আগে
রোমে গ্যাস স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণ, আহত অন্তত ২৯
ইতালির রাজধানী রোমের একটি গ্যাস স্টেশনে ভয়াবহ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছে। এতে, অন্তত ২৯ জন আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।
মার্কিন দৈনিক দ্য নিউ ইয়র্ক টাইমসের খবর অনুযায়ী, শুক্রবার (৪ জুলাই) শহরের পূর্বাঞ্চলের ওই গ্যাস স্টেশনে রাখা জ্বালানির ট্যাংক বিস্ফোরিত হয়।
এদিকে, বার্তা সংস্থা রয়টার্স জানিয়েছে, বিস্ফোরণে ১০ পুলিশ কর্মকর্তা এবং একজন অগ্নিনির্বাপক কর্মীসহ কমপক্ষে ২৭ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয়রা জানান, পুরো রোম শহর জুড়ে বিস্ফোরণের শব্দ শোনা যায়।
রোম পুলিশ জানায়, রোমের স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ১৫ মিনিটের দিকে এই বিস্ফোরণ ঘটে। ওই স্টেশনে তরলীকৃত পেট্রোলিয়াম গ্যাস (এলপিজি) বিক্রি করা হতো।
আরও পড়ুন: আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি রাশিয়ার
বিস্ফোরণের পরের মুহূর্তে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ভিডিও ফুটেজে দেখা যায়, বিস্ফোরণের প্রচণ্ডতায় দেয়ালের প্লাস্টার ছিটকে শত শত গজ দূর পর্যন্ত গিয়ে পড়েছে। আরেকটি ভিডিওতে পাশের একটি ভবনের বাসিন্দা জানালার কাচ ভেঙে পড়ার দৃশ্য এবং একটি দরজার ফ্রেম আলগা হয়ে যাওয়ার ঘটনা তুলে ধরেন।
ইতালির ফায়ার সার্ভিসের মুখপাত্র লুকা কারি বলেন, বিস্ফোরণের আগে সেখানে আরেকটি ট্রাক দুর্ঘটনার শিকার হয়। ওই ঘটনার পরই ফায়ার সার্ভিস কর্মী ও পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থলে উপস্থিত ছিলেন। ঠিক তখনই বিস্ফোরণটি ঘটে।
তিনি আরও জানান, ‘ঠিক কী কারণে বিস্ফোরণ হয়েছে—তা এখনও জানা যায়নি। তবে বিস্ফোরণের পর স্টেশনের পেছনের একটি পার্কিং লটে আগুন ধরে যায়। সেখানে জব্দ করা গাড়ি রাখা ছিল।
ইতালির প্রধানমন্ত্রী জর্জিয়া মেলোনি ও রোমের মেয়র রবার্তো গুয়ালতিরি জানান, তারা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করছেন।
প্রধানমন্ত্রী মেলোনি আহতদের প্রতি সমবেদনা জানান এবং দুর্গত এলাকা নিরাপদ করতে কাজ করা উদ্ধারকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
৩০৫ দিন আগে
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি রাশিয়ার
২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতাগ্রহণ করা তালেবান সরকারকে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে মস্কো জানায়, তারা তালেবান নিযুক্ত নতুন আফগান রাষ্ট্রদূত গুল হাসান হাসানের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছে।
এতে আরও বলা হয়, `আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামিক এমিরেট অব আফগানিস্তানের সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার এই পদক্ষেপ দুইদেশের গঠনমূলক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।’
আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাশিয়ার সিদ্ধান্তকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে সঙ্গায়িত করেছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়ে কাবুলে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি ঝিরনভের সঙ্গে বৈঠকের ভিডিও পোস্ট করেন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী। ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এই সাহসী সিদ্ধান্তটি অন্য দেশগুলোর জন্য অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এর আগে, চলতি বছর রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট তালেবানকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’র তালিকা থেকে বাদ দেয়।
২০২১ সালে আফাগানিস্থান থেকে মার্কিন ও ন্যাটো জোটের সেনা প্রতাহ্যারের পর তালেবান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। তখন থেকেই গোষ্ঠিটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি করে আসছে। আফগান সরকার বেশ কিছু দেশের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছে। চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করলেও এবারই প্রথম কোনো দেশ ইসলামী গোষ্ঠীটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ানে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে আফগানিস্তানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি ঝিরনভ জানিয়েছেন, তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ বিষয়ে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের পরামর্শ গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রদূত ঝিরনভ বলেন, ‘আফগানিস্তানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিকাশে সচেষ্ট রাশিয়া।’
আরও পড়ুন: গাজার জনাকীর্ণ ক্যাফেতে ইসরায়েলের ৫০০ পাউন্ডের বোমা হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
তবে, পশ্চিমা সরকার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো তালেবান সরকারের কঠোর সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে। তাদের অভিযোগ, তালেবান সরকার নারীদের স্বাধীনতা খর্ব করছে। তালেবান সরকার ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নারীদের চাকরি ও বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ওপরে নারীদের শিক্ষাগ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পশ্চিমা গোষ্ঠীগুলোর। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তালেবান সরকারের শীর্ষ নেতাদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। একইসঙ্গে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
তবে, এর মধ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে গেছে আফগানিস্তান। ২০২৩ সালে একটি চীনা তেল কোম্পানির সঙ্গে তেল উত্তোলনের চুক্তি সই করে তারা। এর আগে, রাশিয়া ২০২২ সালে আফগানিস্তানের সঙ্গে চুক্তিতে সই করে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, আফগানিস্তানকে তেল, গ্যাস এবং গম সরবরাহে রাজি হয় তারা।
এদিকে, সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে তালেবান সরকার। চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে বলে জানা গেছে।
চলতি বছরের মার্চে আফগানিস্তান দুই মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেয়। একই সময়ে তিন তালেবান নেতা, যাদের যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত মাথার মূল্য কোটি ডলার—তাদের বিরুদ্ধে সেই পুরস্কারও তুলে নেয় মার্কিন সরকার।
সংশ্লিষ্টদের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, তালেবান নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে নানা প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে দূতাবাসের মতো অফিস খোলার প্রস্তাবও। তবে, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা
৩০৫ দিন আগে
গাজায় ইসরায়েলি হামলায় আরও ৯৪ ফিলিস্তিনি নিহত
গাজায় ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর গুলি ও বিমান হামলায় অন্তত ৯৪ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন। এদের মধ্যে অন্তত ৪৫ জন জরুরি মানবিক সহায়তা পাওয়ার আশায় অপেক্ষমাণ ছিলেন।
নিহতের এই সংখ্যা বুধবার রাত ও বৃহস্পতিবার মিলিয়ে গণনা করা হয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার হাসপাতাল ও স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়।
রাতের বেলা দক্ষিণ গাজায় একটি তাঁবু শিবিরে আশ্রয় নেওয়া বাস্তুচ্যুতদের ওপর হামলা চালানো হলে বহু পরিবারের সদস্য নিহত হয়। এতে একটি পরিবারেরই ১৩ জন নিহত হওয়ার খবর জানা গেছে, যাদের মধ্যে ১২ বছরের কম বয়সী ছয় শিশুও ছিল।
ওই ঘটনার পর সরেজমিনে নিহত সন্তান ও নাতি-নাতনিদের লাশের পাশে বসে বিলাপ করতে দেখা যায় ইন্তেসার আবু আসসি নামের এক নারীকে। বিলাপ করতে করতে তিনি বলছিলেন, ‘আমার সন্তান, আমার সন্তান... আমার প্রিয়জন।’
খান ইউনিস শহরের নাসের হাসপাতালের মর্গের মেঝেতে চাদরে মোড়ানো এক শিশুকন্যার কপালে চুমু খেতে দেখা যায় আরেক নারীকে।
গাজা মধ্যাঞ্চলে আল-আকসা শহিদ হাসপাতালের মর্গে ছয় বছর বয়সী বোনের লাশের পাশে বসে ছিল তার ছোট ভাই। স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় একটি খাবারের দোকানের পাশে হামলায় তার পরিবারের আরও একজনসহ মোট আটজন নিহত হন।
অন্যদিকে, গাজা সিটিতে বাস্তুচ্যুতদের আশ্রয় দেওয়া একটি স্কুলে চালানো আরেকটি হামলায় অন্তত ১৫ জন নিহত হন।
এই সব হামলার পাশাপাশি প্রায় প্রতিদিনই সহায়তা নিতে গিয়ে ইসরায়েলি বাহিনীর গুলিতে আরও বহু ফিলিস্তিনি নিহত হচ্ছেন।
গাজা মানবাধিকার সংস্থা (জিএইচএফ) পরিচালিত খাদ্য বিতরণকেন্দ্রে যাওয়ার সময় পথে গুলিতে পাঁচজন নিহত হন।
বার্তা অ্যাসোসিয়েট প্রেসের (এপি) সাংবাদিকদের তথ্য অনুসারে, এই সংস্থাটি (জিএইচএফ) একটি নতুন ও গোপনীয় মার্কিন সংস্থা, যারা ইসরায়েলের সমর্থনে গাজাবাসীর জন্য খাদ্য সরবরাহ করছে।
আরও পড়ুন: গাজায় ৬০ দিনের যুদ্ধবিরতিতে রাজি ইসরায়েল: দাবি ট্রাম্পের
এ ছাড়াও জাতিসংঘের ত্রাণ বহনকারী ট্রাকের জন্য অপেক্ষারত অবস্থায় গাজাজুড়ে বিভিন্ন স্থানে আরও ৪০ জন নিহত হন বলে জানিয়েছেন হাসপাতাল কর্মকর্তারা।
প্রত্যক্ষদর্শীদের বরাতে এপি জানিয়েছে, ইসরায়েলি সেনারা প্রায়ই ত্রাণ নিতে জড়ো হওয়া ফিলিস্তিনিদের ওপর নির্বিচারে গুলি চালায়। সেনা নিয়ন্ত্রিত এলাকায় জাতিসংঘের ট্রাক আসার অপেক্ষায় থাকা লোকদের দিকেও গুলি চালানো হয় বলে অভিযোগ রয়েছে।
গত মে মাসে বিতরণকেন্দ্র খোলার পর থেকে এখন পর্যন্ত ৫০০ জনের বেশি ফিলিস্তিনি নিহত এবং শত শত মানুষ আহত হয়েছেন।
বিতরণকেন্দ্রগুলোর দিকে যাওয়ার পথে মোতায়েন থাকা ইসরায়েলি সেনাদের দাবি, তারা কেবল ভিড় নিয়ন্ত্রণের জন্য সতর্কতামূলক গুলি ছোড়ে অথবা যারা তাদের খুব কাছাকাছি আসে তাদের লক্ষ্য করে গুলি চালায়। এসব কেন্দ্রের নিরাপত্তায় সশস্ত্র মার্কিন ঠিকাদাররাও নিয়োজিত রয়েছে জানিয়েছে তারা।
ক্ষুধাকে ‘যুদ্ধের অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েল!
অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল বৃহস্পতিবার এক প্রতিবেদন প্রকাশ করে বলেছে, গাজার সাধারণ নাগরিকদের অনাহারে রাখাকে যুদ্ধের অস্ত্র হিসেবে ব্যবহার করছে ইসরায়েল, যা চলমান গণহত্যারই অংশ।
প্রতিবেদনে বলা হয়, জিএইচএফের বিতরণব্যবস্থা আন্তর্জাতিক উদ্বেগ কমানোর চেষ্টা মাত্র। কারণ নিজেদের নিয়ন্ত্রিত ওই ত্রাণ বিতরণব্যবস্থা ছাড়া জাতিসংঘের পাঠানো ত্রাণ খুবই সীমিত পরিমাণে গাজায় ঢুকতে দিচ্ছে ইসরায়েল।
বিবৃতি অনুসারে, ‘প্রাণঘাতী, অমানবিক ও ব্যর্থ একটি সামরিক সহায়তা কাঠামো বজায় রেখে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ খাদ্যান্বেষণে থাকা নিঃস্ব ফিলিস্তিনিদের মৃত্যু-ফাঁদে ফেলছে।’
অবশ্য অ্যামনেস্টির প্রতিবেদন প্রত্যাখ্যান করে ইসরায়েলের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় বলেছে, এই সংস্থাটি হামাসের সঙ্গে হাত মিলিয়ে তাদের সব ধরনের অপপ্রচার অনুসরণ করছে।
ইসরায়েল চায়, জাতিসংঘের বিদ্যমান মানবিক সহায়তা নেটওয়ার্কের পরিবর্তে জিএইচএফ-ই হোক ফিলিস্তিনিদের জন্য প্রধান ত্রাণ বিতরণকারী সংস্থা।
তাদের দাবি, জাতিসংঘের সহায়তার বড় অংশ হামাস ছিনিয়ে নেয়, যদিও ইসরায়েলের এই অভিযোগ বরাবরই অস্বীকার করে আসছে জাতিসংঘ ও বিভিন্ন সহায়তা সংস্থা।
জিএইচএফ-কে প্রত্যাখ্যান করে সংস্থাগুলো বলছে, এই সংস্থাটি ফিলিস্তিনিদের প্রয়োজনীয় সহায়তা সরবরাহে ব্যর্থ। এটি ফিলিস্তিনিদের বিপন্ন করে ইসরায়েলের লক্ষ্য বাস্তবায়নের হাতিয়ার মাত্র।
আরও পড়ুন: ত্রাণ সহায়তা নিতে গিয়ে হামলার শিকার হচ্ছে গাজাবাসী
চলতি বছর ইসরায়েল আড়াই মাসের বেশি সময় গাজায় খাদ্যসহ সব ধরনের ত্রাণ সরবরাহ বন্ধ রেখেছিল। আগে থেকেই ভুগতে থাকা গাজাবাসীকে আরও বেশি অনাহারের দিকে ঠেলে দিয়েছে এই কর্মকাণ্ড। ইসরায়েলের দাবি, এতে হামাসকে চাপ দিয়ে বন্দিমুক্তির আলোচনায় ছাড় দিতে বাধ্য করা সহজ হবে।
মার্চে অবরোধ কিছুটা শিথিল করে ইসরায়েল। দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় ও গাজায় ত্রাণ সমন্বয়ের দায়িত্বে থাকা প্রতিরক্ষা সংস্থা সিওজিএটি বুধবার জানায়, ১৯ মে থেকে এখন পর্যন্ত ৩ হাজারের বেশি ত্রাণবাহী ট্রাক গাজায় প্রবেশ করেছে।
এই হিসাব অনুযায়ী, দিনে গড়ে মাত্র ২৮টি ট্রাক সেখানে পাঠানো হয়েছে, যেখানে সহায়তাকর্মীরা দিনে কয়েকশ’ ট্রাক প্রয়োজন বলে দাবি করে আসছেন।
তবে নিজেদের কার্যক্রমের সমালোচনা প্রত্যাখ্যান করে জিএইচএফ বলেছে, তারা ৫ কোটি ২০ লাখের বেশি খাবারের সমতুল্য সহায়তা দিয়েছে। প্রতিটি খাবারের প্যাকেটে ডাল, চালসহ নিত্যপ্রয়োজনীয় জিনিস থাকে, যা একজনের ৫০ বেলার খাবারের সমান।
তবে প্রত্যক্ষদর্শীরা জানিয়েছেন, এসব কেন্দ্রে বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি তৈরি হয়। লোকজন হুড়োহুড়ি করে খাবারের বক্স ছিনিয়ে নেয়। কেউ একাধিক নেয়, আবার অনেককেই ফিরতে হয় খালি হাতে। পরে এসব বক্স বাজারেও মেলে। সেখানে থেকে কিনতে গেলে হাঁকা হয় আকাশছোঁয়া দাম।
৩০৫ দিন আগে