বিশ্ব
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১৩২, এখনও নিখোঁজ ১৭৬
ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’র কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৩২ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আরও অন্তত ১৭৬ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।
দক্ষিণ এশীয় এই দ্বীপদেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকেন্দ্র স্থানীয় সময় শনিবার (২৯ নভেম্বর) রাতে জানায়, দুর্যোগকবলিত হয়ে প্রায় ৭৮ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে দেখা যায়, রাতের ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বহু এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা এখনো পৌঁছাতে পারেনি।
গত সপ্তাহ থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক প্লাবিত হয় এবং চা বাগান-প্রধান মধ্যাঞ্চলীয় পার্বত্য জেলাগুলোতে ভূমিধস শুরু হয়। দুর্যোগের কারণে সরকার স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করে; স্থগিত করা হয় বিভিন্ন পরীক্ষা।
২৪৬ দিন আগে
গাজায় নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়াল
ইসরায়েলি হামলায় ফিলিস্তিনিদের নিহতের সংখ্যা ৭০ হাজার ছাড়িয়েছে বলে জানিয়েছে গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। নিহতদের মধ্যে অধিকাংশই নারী ও শিশু।
গত ১০ অক্টোবর সর্বশেষ যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পরও এই সংখ্যা বাড়ছে। ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি ভঙ্গের অভিযোগে হামলা চালিয়ে যাচ্ছে, আর ইতোমধ্যে ধ্বংস্তুপে পরিণত হওয়া গাজা থেকে আরও মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে।
শনিবার (২৯ নভেম্বর) হামাস পরিচালিত গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, ফিলিস্তিনিদের নিহতের সংখ্যা এখন ৭০ হাজার ১০০।
এদিকে, গাজার দক্ষিণাঞ্চলে ইসরায়েলি হামলায় আরও দুই ফিলিস্তিনি শিশু নিহত হয়েছে বলে জানিয়েছে নাসের হাসপাতাল।
ওই হাসপাতালের কর্মীরা জানিয়েছেন, ৮ ও ১১ বছর বয়সী দুই শিশুর মরদেহ সেখানে আনা হয়। স্থানীয় বেনি সুহাইলায় শরণার্থীদের একটি স্কুলের কাছে ইসরায়েলি ড্রোন হামলায় নিহত হয় ওই দুই ভাই।
তবে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর দাবি, ইসরায়েল নিয়ন্ত্রিত এলাকায় প্রবেশ করে ‘সন্দেহজনক কার্যক্রম’ চালাচ্ছিল এবং সৈন্যদের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিল—এমন দুই ব্যক্তিকে তারা হত্যা করেছে। বিবৃতিতে শিশুদের কথা উল্লেখ করা হয়নি। এ ছাড়া দক্ষিণে পৃথক একটি ঘটনায় তারা আরও একজনকে হত্যা করেছে বলেও উল্লেখ করেছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুসারে, ১০ অক্টোবর ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৩৫২ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। তবে নিহত বেসামরিক নাগরিক ও যোদ্ধাদের তালিকা মন্ত্রণালয় আলাদা করে উল্লেখ করে না।
যুদ্ধবিরতি ভঙ্গকারী যোদ্ধারাই তাদের লক্ষ্যবস্তু হচ্ছে বলে দাবি করে আসছে ইসরায়েল। তবে ইসরায়েল ও হামাস উভয় পক্ষই পরস্পরকে যুদ্ধবিরতি চুক্তি লঙ্ঘনের অভিযোগ করে আসছে। শনিবার আবারও ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতি ভঙ্গ বন্ধে চাপ প্রয়োগ করতে মধ্যস্থতাকারীদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে হামাস।
গত ৭ অক্টোবর হামাস যোদ্ধারা ইসরায়েলের দক্ষিণাঞ্চলে হামলা চালিয়ে প্রায় ১ হাজার ২০০ বেসামরিক নাগরিককে হত্যা করে এবং প্রায় ২৫০ জনকে জিম্মি করে গাজায় নিয়ে যাওয়ার পর এই সংঘাত শুরু হয়।
তবে দুই বছরেরও বেশি সময় ধরে চলা এ সংঘাতের মাঝে যুদ্ধবিরতি বা অন্যান্য চুক্তির মাধ্যমে প্রায় সব জিম্মি বা তাদের মরদেহ ইসরায়েলে ফেরত গেলেও এখনো দুই জিম্মির মরদেহ (এক ইসরায়েলি ও এক থাই নাগরিক) ফেরত আসেনি। শনিবার রাতে তাদের ফিরিয়ে আনার দাবিতে আবারও তেল আবিবে বিক্ষোভ করেছে ইসরায়েলিরা।
২৪৬ দিন আগে
ক্যালিফোর্নিয়ায় জন্মদিনের পার্টিতে বন্দুক হামলা, নিহত ৪
যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি শিশুর জন্মদিনের পার্টিতে বন্দুক হামলায় কমপক্ষে চারজন নিহত এবং আরও অন্তত দশজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (২৯ নভেম্বর) সন্ধ্যা ৬টার দিকে ক্যালিফোর্নিয়ার স্টকটনে লুসাইল অ্যাভিনিউয়ের ১৯০০ ব্লকে থরন্টন রোডের কাছে একটি ব্যাংকোয়েট হলে এ ঘটনা ঘটে।
সান জোয়াকিন কাউন্টির শেরিফের কার্যালয় জানায়, ‘এ ঘটনায় তদন্ত চলছে, তবে এখন পর্যন্ত খুবই সামান্য তথ্য সংগ্রহ করা গেছে।
‘প্রাথমিকভাবে মনে হচ্ছে এটি উদ্দেশ্যমূলক হামলা। তদন্ত দল সব ধরনের সম্ভাবনা খতিয়ে দেখছেন। কীভাবে এই মর্মান্তিক ঘটনার সূত্রপাত হলো, গোয়েন্দারা তার অনুসন্ধানে কাজ করছেন।’
নিউইয়র্ক পোস্টের খবরে বলা হয়েছে, ঘটনায় হতাহতদের পরিচয় এখনও প্রকাশ করা হয়নি, তবে তাদের মধ্যে কিশোর থেকে প্রাপ্তবয়স্ক—বিভিন্ন বয়সী মানুষ রয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ। এ ঘটনায় কোনো সন্দেহভাজনের নাম-পরিচয়ও প্রকাশ করা হয়নি।
স্টকটনের ভাইস মেয়র জেসন লি এ ঘটনাকে সান ফ্রানসিসকোর পূর্বে ৯০ মাইল দূরের এই সম্প্রদায়ের জন্য ‘একটি ট্র্যাজেডি’ বলে উল্লেখ করেন।
ফেসবুকে তিনি লিখেছেন, ‘আজ রাতে আমার হৃদয় এমনভাবে ভারী হয়ে আছে, যা ভাষায় প্রকাশ করা কঠিন। একটি শিশুর জন্মদিনের অনুষ্ঠানে বন্দুক হামলার খবর স্টকটনের ভাইস মেয়র হিসেবে এবং এই সম্প্রদায়ে বেড়ে ওঠা একজন মানুষ হিসেবে আমাকে বিধ্বস্ত ও ক্ষুব্ধ করেছে।’
তিনি বলেন, ‘কৈশোরে সহিংসতার ছোঁয়া আমি নিজেও পেয়েছি। আর এখন আমাদের সন্তান, অভিভাবক ও প্রতিবেশীরা একই অভিজ্ঞতার মধ্য দিয়ে যাচ্ছে, বিষয়টি আমাকে গভীরভাবে নাড়া দেয়। স্টকটন আমার ঘর। এরা তো আমাদেরই পরিবার। এটাই আমাদের সম্প্রদায়।’
লি আরও লিখেছেন, ‘আজ রাতে আমি হতাহত পরিবার, ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী শিশু এবং আমাদের শহরের প্রতিটি মানুষের প্রতি আন্তরিক সহমর্মিতা ও প্রার্থনা জানাচ্ছি। ঈশ্বর, দয়া করে আমাদের সম্প্রদায়কে শক্তি দিন। আমরা এর যোগ্য নই এবং এটিকে আমাদের নিয়তি হিসেবে কখনো মেনে নেব না।’
২৪৬ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ১২৩, নিখোঁজ আরও ১৩০
ঘূর্ণিঝড় ‘ডিটওয়া’র কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ বন্যা ও ভূমিধসে শ্রীলঙ্কায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১২৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ছাড়া আরও অন্তত ১৩০ জন এখনো নিখোঁজ রয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির প্রশাসন।
দক্ষিণ এশীয় এই দ্বীপদেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনাকেন্দ্র শনিবার (২৯ নভেম্বর) জানায়, দুর্যোগকবলিত হয়ে প্রায় ৪৪ হাজার মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করছেন। নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে।
শনিবার সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে প্রকাশিত বিভিন্ন পোস্টে দেখা যায়, রাতের ভূমিধসে ক্ষতিগ্রস্ত বহু এলাকায় উদ্ধারকর্মীরা এখনো পৌঁছাতে পারেনি।
গত সপ্তাহ থেকে দুর্যোগপূর্ণ আবহাওয়ার কবলে রয়েছে শ্রীলঙ্কা। বৃহস্পতিবার থেকে পরিস্থিতির আরও অবনতি হয়। মুষলধারে বৃষ্টিপাতের কারণে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়ক প্লাবিত হয় এবং চা বাগান-প্রধান মধ্যাঞ্চলীয় পার্বত্য জেলাগুলোতে ভূমিধস শুরু হয়। দুর্যোগের কারণে সরকার স্কুল ও সরকারি অফিস বন্ধ ঘোষণা করে; স্থগিত করা হয় বিভিন্ন পরীক্ষা।
২৪৭ দিন আগে
জনপরিসরে নামাজসহ ধর্মীয় আচারানুষ্ঠান নিষিদ্ধ হচ্ছে কানাডার কুইবেকে
কানাডার কুইবেক প্রদেশে জনসমক্ষে ধর্মীয় রীতিনীতি পালনে আরও কঠোর অবস্থান নিতে যাচ্ছে প্রাদেশিক সরকার। নতুন এই আইনের সমালোচনা করে অনেকে একে ব্যক্তিগত পরিসরে হস্তক্ষেপ হিসেবে দেখছেন। এই নীতি, বিশেষ করে, মুসলমানদের ধর্ম পালনের ওপর বড় পরিসরে প্রভাব ফেলবে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) ক্ষমতাসীন শাসক জোট অ্যাভেনির কুইবেক জনপরিসরে ধর্ম পালনের বিষয়ে নিষেধাজ্ঞা জারি করে। তাদের উত্থাপিত বিল ৯ অনুসারে, কলেজ ও বিশ্ববিদ্যালয়সহ সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোতে প্রার্থনা নিষিদ্ধ করা হয়েছে। এ ছাড়াও সড়ক ও পার্কের মতো জনসমাগমস্থলও এই নিষিদ্ধ স্থানের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।
এই বিধিনিষেধ অমান্য করলে ১ হাজার ১২৫ কানাডিয়ান ডলার বা প্রায় ৯৮ হাজার ২৮৫ টাকা জরিমানার বিধান রাখা হয়েছে। তবে, পূর্বানুমোদিত স্বল্প দৈর্ঘ্যের জনসমাবেশ এই নিষেধাজ্ঞার আওতায় পড়বে না।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, এর আগে রাজ্য সরকার ২০১৯ সালে বিল ২১ নামে একটি বিল পাস করে, যা সে সময় বিতর্কের জন্ম দেয়। ওই বিলে কর্মক্ষেত্রে সরকারি কর্মচারীদের ধর্মীয় প্রতীক পরিধান নিষিদ্ধ করা হয়। সেই বিধিনিষেধের পরিধি এখন ডে–কেয়ার সেন্টার, কলেজ, বিশ্ববিদ্যালয় ও বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কর্মীদের ওপরও সম্প্রসারিত করতে চায় শাসক দল। নতুন বিলের প্রস্তাব অনুযায়ী, উল্লিখিত প্রতিষ্ঠানসহ কোনো শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে কেউ হিজাব পরে বা মুখ ঢেকে আসতে পারবে না।
কুইবেকের ধর্মনিরপেক্ষতা-বিষয়ক মন্ত্রী জঁ-ফ্রাঁসোয়া রোবের্জ বলেন, নতুন এই বিধানগুলো বিতর্কিত হলেও প্রদেশকে সম্পূর্ণ ধর্মনিরপেক্ষতার দিকে নিয়ে যাওয়ার সর্বশেষ পদক্ষেপ এটি।
উচ্চশিক্ষা প্রতিষ্ঠানে প্রার্থনাকক্ষ বরাদ্দের সমালোচনা করে তিনি বলেন, ‘শিক্ষা প্রতিষ্ঠান মন্দির, গির্জা বা ঐ ধরনের জায়গা নয়।’
গত রবিবার নটর-ডেম ব্যাসিলিকার বাইরে ‘মন্ট্রিয়াল৪প্যালেস্টাইন’ নামের একটি সংগঠন বিক্ষোভের আয়োজন করে। বিক্ষোভ প্রদর্শনের পর সেখানে প্রার্থনা করার পরই মূলত জনসমক্ষে প্রার্থনা নিষিদ্ধের এই সিদ্ধান্তটি আসে।
২৪৭ দিন আগে
হংকংয়ে ভবনের অগ্নিকাণ্ডে নিহত বেড়ে ১২৮, গ্রেপ্তার আরও ৮
হংকংয়ের বহুতল ভবন কমপ্লেক্সে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে সাতটি ভবন পুড়ে যাওয়ার ঘটনায় শুক্রবার বাসায় বাসায় তল্লাশি চালিয়ে আরও বেশ কয়েকটি মরদেহ উদ্ধার করেছে ফায়ার সার্ভিস। এর ফলে অগ্নিকাণ্ডে নিহতের সংখ্যা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২৮ জনে।
এ ঘটনায় আরও ৭৯ জন আহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও প্রায় ২০০ জন। পাশাপাশি দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ভবন সংস্কারকাজে যুক্ত আরও আটজনকে গ্রেপ্তার করেছে পুলিশ।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে এই আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। ভয়াবহ এই আগুন নিয়ন্ত্রণে আনতে এক দিনেরও বেশি সময় লাগে এবং পুরোপুরি নেভাতে সময় প্রায় ৪০ ঘণ্টা লেগে যায়। অগ্নিকাণ্ড শুরুর দুই দিন পরেও দগ্ধ ভবনগুলো থেকে ধোঁয়া বের হতে দেখা যায়।
হংকং ফায়ার সার্ভিসের পরিচালক অ্যান্ডি ইয়ুং বলেন, কমপ্লেক্সের কিছু অগ্নি-সতর্কীকরণ অ্যালার্ম পরীক্ষা করে দেখা গেছে, সেগুলো অকেজো ছিল। তবে ঠিক কতগুলো অ্যালার্ম অকেজো ছিল বা বাকিগুলোও কার্যকর ছিল কিনা, এ বিষয়ে বিস্তারিত জানাননি তিনি।
ইয়ুং বলেন, আগুন লাগার সঙ্গে সঙ্গে তা এক ভবন থেকে আরেকটিতে ছড়িয়ে পড়ে। কারণ, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত স্টাইরোফোমের প্যানেল ও জালে ঢাকা বাঁশের মাচায় (স্ক্যাফোল্ডিং) আগুন লেগে তা দ্রুত চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।
এদিকে, শুক্রবার ৪০ থেকে ৬৩ বছরের মধ্যে সাত জন পুরুষ ও এক নারীকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে হংকংয়ের দুর্নীতি দমন সংস্থা-ইন্ডিপেনডেন্ট কমিশন অ্যাগেইনস্ট করাপশন (আইসিএসি)। গ্রেপ্তারদের মধ্যে রয়েছেন স্ক্যাফোল্ডিংয়ের সাব-কন্ট্রাক্টর, একটি ইঞ্জিনিয়ারিং পরামর্শক প্রতিষ্ঠানের পরিচালক এবং সংস্কার কার্যক্রম তদারকির দায়িত্বে থাকা প্রকল্প ব্যবস্থাপকেরা।
২৪৭ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় বন্যা ও ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৩১
শ্রীলঙ্কায় গত সপ্তাহ থেকে টানা ভারী বর্ষণে সৃষ্ট ভূমিধস ও বন্যায় নিহত বেড়ে ৩১ জনে দাঁড়িয়েছে। দুর্যোগের কারণে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় যাত্রীবাহী ট্রেন চলাচল বন্ধ রয়েছে।
বৃহস্পতিবার (২৭ নভেম্বর) শ্রীলঙ্কার দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানায়, নিহতদের মধ্যে ১৮ জনই রাজধানী কলম্বো থেকে প্রায় ৩০০ কিলোমিটার পূর্বে কেন্দ্রীয় প্রদেশের চা বাগান এলাকা বাদুল্লা ও নুয়ারা ইলিয়ায় ভূমিধসে প্রাণ হারিয়েছেন। ভূমিধসের কারণে এখন পর্যন্ত ওই অঞ্চলে আরও অন্তত ১৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন।
সপ্তাহের শেষ দিকে শুরু হওয়া ভারী বর্ষণে ঘরবাড়ি, কৃষিজমি ও সড়কে বন্যার পানি ঢুকে ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে। অতিরিক্ত বৃষ্টির কারণে অনেক জলাশয় ও নদী প্লাবিত হয়ে সড়ক যোগাযোগ বিঘ্নিত হচ্ছে। প্লাবনের ফলে কিছু প্রাদেশিক সংযোগ সড়ক বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
পাহাড়ি অঞ্চলে ভূমিধসের কারণে পাথর, কাদামাটি ও গাছপালা রেললাইনের ওপর পড়ায় সেখানে ট্রেন চলাচল স্থগিত করা হয়েছে। স্থানীয় টেলিভিশনে দেখা গেছে, শ্রমিকরা লাইনের ওপর জমে থাকা মাটি-পাথরের স্তুপ সরানোর চেষ্টা করছেন। কিছু এলাকায় বন্যার পানিতে রেললাইন তলিয়ে গেছে।
আরও দেখা যায়, নৌবাহিনীর যানবাহনে মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হচ্ছে। কলম্বো থেকে প্রায় ৪১২ কিলোমিটার পূর্বে আম্পারা শহরের কাছে বন্যার স্রোতে একটি গাড়ি ভেসে যাচ্ছে।
দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কেন্দ্র জানায়, গভীর নিম্নচাপজনিত এই বৈরী আবহাওয়ার কারণে প্রায় ৪ হাজার পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
২৪৯ দিন আগে
কারাগারে ইমরান খানের মৃত্যুর গুজব, সরকারের কাছে ব্যাখ্যা চাইল পিটিআই
পাকিস্তানের সাবেক প্রধানমন্ত্রী ও পাকিস্তান তেহরিক-ই-ইনসাফের (পিটিআই) প্রতিষ্ঠাতা ইমরান খানের কারাগারে মৃত্যুর গুজব ছড়িয়ে পড়েছে। এ ঘটনায় সরকারের কাছ থেকে স্পষ্ট ব্যাখ্যা চেয়েছে পিটিআই। পাশাপাশি অবিলম্বে ইমরান খান ও তার পরিবারের মধ্যে সাক্ষাতের ব্যবস্থা নেওয়ারও দাবি জানিয়েছে দলটি।
গত কয়েক সপ্তাহে একাধিকবার ইমরান খানের সঙ্গে তার বোনদের সাক্ষাতের অনুমতি দেয়নি কারা কর্তৃপক্ষ। এই নিয়ে জল্পনা তুঙ্গে উঠেছে।
পাকিস্তানি সংবাদমাধ্যম ডনের খবরে বলা হয়েছে, দেশটির সাবেক এ প্রধানমন্ত্রী কোথায় এবং কেমন আছেন, তা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন তার বোনেরা। এ ছাড়া তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দিতে আদিয়ালা কারাগারের বাইরে অবস্থান কর্মসূচিও পালন করছেন তারা।
এদিকে, বেশ কিছু এক্স অ্যাকাউন্ট (সাবেক টুইটার) থেকে তার মৃত্যুর গুজব ছড়ানো হয়েছে। আজ (বৃহস্পতিবার) সকালে এক্স-এ ‘Where is Imran Khan?’ বা ‘ইমরান খান কোথায়?’ ট্রেন্ড চলছিল।
এ বিষয়ে আজ সকালে এক্স-এ দেওয়া এক বিবৃতিতে পিটিআই জানায়, ইমরান খানের স্বাস্থ্যের বিষয়ে আফগান ও ভারতীয় গণমাধ্যমসহ বিদেশি সোশ্যাল মিডিয়া অ্যাকাউন্ট থেকে ‘নিকৃষ্ট প্রকৃতির গুজব’ ছড়ানো হচ্ছে।
দলটির দাবি, ‘বর্তমান সরকার ও স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয় অবিলম্বে ও পরিষ্কারভাবে এসব গুজব খণ্ডন করে এ বিষয়ে স্পষ্ট ব্যাখ্যা দিক। সেই সঙ্গে ইমরান খানের সঙ্গে তার পরিবারের সদস্যদের সাক্ষাতের তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা করুক।
‘ইমরান খানের স্বাস্থ্য, নিরাপত্তা ও তার বর্তমান অবস্থান সম্পর্কে রাষ্ট্রের পক্ষ থেকে একটি আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দেওয়া উচিত।’
এ ছাড়া, যারা ‘সংবেদনশীল’ এসব গুজব ছড়িয়েছেন, তাদের বিরুদ্ধে তদন্ত করে ‘জাতির সামনে সত্য উপস্থাপন করার’ দাবিও জানানো হয়েছে বিবৃতিতে।
বিবৃতিতে সতর্ক করে পিটিআই আরও বলেছে, ‘জাতি তাদের নেতার (ইমরান খান) অবস্থা নিয়ে কোনো ধরনের অনিশ্চয়তা সহ্য করবে না। ইমরানের নিরাপত্তা, মানবাধিকার ও সাংবিধানিক অধিকার রক্ষা করা সরকারের দায়িত্ব।’
একই সঙ্গে দলটি ‘এসব গুজবের মোকাবিলা এবং সত্য উন্মোচনে সব ধরনের আইনি ও রাজনৈতিক পদক্ষেপ’ নেওয়ারও ঘোষণা দিয়েছে।
এদিকে, আজ দুপুরে পিটিআই নেতা ও পাকিস্তানের সাবেক পররাষ্ট্রমন্ত্রী শাহ মাহমুদ কুরেশির মেয়ে মেহের বানো কুরেশি এক্স-এ লিখেছেন, ইমরান খানের স্বাস্থ্য নিয়ে ছড়ানো গুজব উদ্বেগজনক।
তিনি বলেছেন, ‘খান সাহেবের নিরাপত্তার দায়িত্ব সরকারের এবং জাতির সামনে হালনাগাদ তথ্য প্রকাশের বাধ্যবাধকতাও তাদের রয়েছে। এসব গুজবের সমাপ্তি টানার সবচেয়ে নির্ভরযোগ্য উপায় হচ্ছে তার বোনদের, আইনজীবী ও দলীয় সদস্যদের তার সঙ্গে সাক্ষাতের অনুমতি দেওয়া।’
এর আগে, গতকাল (বুধবার) পাকিস্তানের প্রতিরক্ষামন্ত্রী ও পিএমএল-এন নেতা খাজা আসিফ এক্স-এ ছড়িয়ে পড়া একটি ভিডিওর প্রতিক্রিয়ায় বলেন, সাবেক প্রধানমন্ত্রী নওয়াজ শরীফ কারাগারে থাকাকালীন সুযোগ-সুবিধা দাবি করায় সমালোচনা করেছিলেন ইমরান খান। অথচ, তিনি নিজেই জেলকক্ষে টিভি ব্যবহার করেন। তার খাবারও আসে কারাগারের বাইরে থেকে। সেখানে তার জন্য ব্যায়াম করার যন্ত্রপাতিও রয়েছে।
নিজের কারাভোগের অভিজ্ঞতা তুলে ধরে আসিফ বলেন, ‘আমরা ঠান্ডা মেঝেতে ঘুমাতাম। জেলের রান্না করা খাবারই খেতাম। জানুয়ারি মাসে আমাদের মাত্র দুটি কম্বল দেওয়া হয়। গরম পানি ব্যবহারের কোনো সুযোগ ছিল না।’
এর বিপরীতে ইমরানের জন্য ‘ডবল বেড ও মখমলের বিছানা’ রয়েছে বলে অভিযোগ করেন তিনি। তার দাবি, জেল সুপার নিজেই ইমরানের দেখভাল করেন।
আসিফ আরও বলেন, ‘ইমরান খানের উচিত কারাগারের লাউডস্পিকারে তার নিজের বক্তৃতাগুলো শোনা। তার খোদাকে ভয় করা উচিত।’
২০২৩ সালের আগস্ট থেকে কারাগারে রয়েছেন ইমরান খান। ক্ষমতা হারানোর পর দুর্নীতি থেকে শুরু করে সন্ত্রাসবাদের অভিযোগসহ বিভিন্ন মামলার মুখোমুখি হয়েছেন তিনি। ২০২২ সালের এপ্রিলে অনাস্থা ভোটের মাধ্যমে তাকে ক্ষমতাচ্যুত করা হয়।
২৪৯ দিন আগে
দ্বিতীয় দিনও জ্বলছে হংকংয়ের বহুতল ভবন কমপ্লেক্স, নিহত বেড়ে ৫৫
আগুন লাগার এক দিন পরও হংকংয়ের তাই পো এলাকার বহুতল ওয়াং ফুক কোর্ট ভবন কমপ্লেক্স থেকে ধোঁয়া বের হচ্ছে। স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার দুপুরেও ফায়ার সার্ভিসকর্মীদের আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার চেষ্টায় ব্যস্ত থাকতে দেখা গেছে।
বুধবার (২৬ নভেম্বর) বিকেলে এই আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। অগ্নিকাণ্ডে ইতোমধ্যে ৫৫ জনের মৃত্যুর কথা নিশ্চিত করেছে কর্তৃপক্ষ। এর মধ্যে ফায়ার সার্ভিসের এক কর্মীও আছেন বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। এ ছাড়া আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৭০ জন।
হতাহতের ব্যাপারে আজ (বৃহস্পতিবার) কর্তৃপক্ষ বলেছে, ঘটনাস্থল থেকে ৫১ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া হাসপাতালে নেওয়ার পর আরও চারজনের মৃত্যু হয়েছে।
স্থানীয় সময় বিকেলে ফায়ার সার্ভিসের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, কমপ্লেক্সের আটটি বহুতল ভবনের মধ্যে সাতটিতে আগুন লেগেছিল। ইতোমধ্যে চারটি ভবনের আগুন নেভানো সম্ভব হয়েছে। বাকি তিনটি ভবনের আগুনও নিয়ন্ত্রণে এসেছে। সন্ধ্যার মধ্যে অভিযান শেষ করতে পারবে বলে আশা প্রকাশ করেছে ফায়ার সার্ভিস।
এ ঘটনায় একটি নির্মাণ প্রতিষ্ঠানের পরিচালক ও একজন প্রকৌশল পরামর্শদাতাসহ তিনজনকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। তবে প্রতিষ্ঠানটির নাম এখনও আনুষ্ঠানিকভাবে প্রকাশ করেনি পুলিশ।
এ ব্যাপারে স্থানীয় পুলিশের সিনিয়র সুপারিনটেনডেন্ট আইলিন চুং বলেছেন, ‘আমরা ধারণা করছি, নির্মাণ কোম্পানিটির দায়িত্বশীল ব্যক্তিদের গুরুতর অবহেলার কারণে এই দুর্ঘটনা ঘটেছে।’
ভবন কমপ্লেক্সের সংস্কার কাজের দায়িত্বে থাকা প্রেস্টিজ কনস্ট্রাকশন অ্যান্ড ইঞ্জিনিয়ারিং কোম্পানির কার্যালয়ও আজ (বৃহস্পতিবার) তল্লাশি করেছে পুলিশ। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, সেখানে থেকে নথিপত্রভর্তি বাক্স জব্দ করা হয়েছে। তবে প্রেস্টিজের অফিসে ফোন করা হলেও অ্যাসোসিয়েট প্রেসের সেই ফোনকলে কেউ সাড়া দেয়নি।
কর্তৃপক্ষের ধারণা, বহুতল ভবনগুলোর বাইরের দেওয়ালে এমন কিছু নির্মাণসামগ্রী ব্যবহার করা হয়েছিল, যেগুলোর অগ্নিরোধী মান ছিল না। এ কারণেই আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডের পরও অক্ষত থাকা পাশের একটি ভবনের প্রতিটি তলার লিফট লবির জানালার পাশে স্টাইরোফোম পেয়েছে পুলিশের তদন্ত দল, যা অত্যন্ত দাহ্য পদার্থ। ধারণা করা হচ্ছে, নির্মাণ কোম্পানিই এগুলো লাগিয়েছিল, কিন্তু এসব স্টাইরোফোম ব্যবহারের উদ্দেশ্য এখনও স্পষ্ট নয়। এগুলো নিয়ে আরও তদন্ত করা হবে বলে জানিয়েছেন হংকংয়ের নিরাপত্তা সচিব ক্রিস ট্যাং।
২৪৯ দিন আগে
হংকংয়ে ৭টি বহুতল ভবনে আগুন, নিহত ১৩
হংকং’র নিউ টেরিটরিজের তাই পো এলাকায় একটি আবাসিক কমপ্লেক্সের সাতটি বহুতল ভবনে অগ্নিকাণ্ডে ১৩ জনের মৃত্যু হয়েছে।
ফায়ার সার্ভিস জানিয়েছে, ৯ জন ঘটনাস্থলেই নিহত হন, বাকিরা হাসপাতালে মারা যান। এছাড়া অন্তত ১৫ জন আহত হয়েছেন।
প্রাণ বাঁচাতে প্রায় ৭০০ বাসিন্দাকে অস্থায়ী আশ্রয়ে স্থানান্তর করা হয়েছে।
আগুন কমপ্লেক্সের বাইরের বাঁশ ও নির্মাণ জাল বরাবর দ্রুত ছড়িয়ে পড়েছে।
কমপ্লেক্সে ৮টি আবাসিক ব্লক রয়েছে, প্রায় ২,০০০ অ্যাপার্টমেন্টে প্রায় ৪,৮০০ জন বসবাস করেন।
একটি ভিডিওতে দেখা গেছে একাধিক ভবনে একসাথে আগুন লেগে ধোঁয়া ও শিখা ছড়িয়ে পড়ছে। ফায়ার ক্রু ল্যাডার ট্রাক ব্যবহার করে উপরের দিকে পানি ছিটিয়েছে।
অগ্নিকাণ্ডের সময় একজন ফায়ারফাইটার নিহত হয়েছেন।
অগ্নিনির্বাপনে ১২৮টি ফায়ার ইঞ্জিন ও ৫৭টি অ্যাম্বুলেন্স মোতায়েন করা হয়।
পুলিশ জানিয়েছে, অনেক বাসিন্দা আগুনে আটকা পড়ে ফোন করেন।
স্থানীয় কাউন্সিলের একজন সদস্য জানিয়েছেন, আটকে পড়াদের মধ্যে বেশিরভাগই প্রবীণ।
তাই পো হলো চীনের শেনজেন সীমান্তের নিকটে একটি শহরতলি।
২৫০ দিন আগে