বিশ্ব
ইরানের সঙ্গে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়াল যুক্তরাষ্ট্র
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্থানীয় সময় মঙ্গলবার জানিয়েছেন, ইরানের সঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ অনির্দিষ্টকালের জন্য বৃদ্ধি করছে যুক্তরাষ্ট্র। নতুন দফার শান্তি আলোচনা স্থগিত থাকা অবস্থায় এবং পূর্বনির্ধারিত মেয়াদ শেষ হওয়ার মাত্র একদিন আগে তিনি এই ঘোষণা দেন। এ পদক্ষেপের ফলে যুদ্ধ পুনরায় শুরু হওয়ার যে আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল, তা আপাতত প্রশমিত হয়েছে।
দ্বিতীয় দফার এই আলোচনার আয়োজন করার পরিকল্পনা করেছিল পাকিস্তান। কিন্তু তেহরান আলোচনা পুনরায় শুরু করার প্রচেষ্টায় সাড়া না দেওয়ায় মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্সের পরিকল্পিত ইসলামাবাদ সফর স্থগিত করে হোয়াইট হাউজ।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির বিষয়ে ট্রাম্পের এই ঘোষণায় ইরান এখনও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। তবে উভয় দেশই এর আগে সতর্ক করেছিল যে, কোনো চুক্তিতে পৌঁছাতে না পারলে তারা পুনরায় লড়াই শুরু করতে প্রস্তুত।
উভয় দেশকে আলোচনায় বসাতে মরিয়া পাকিস্তান
নাম প্রকাশ না করার শর্তে দুজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, পাকিস্তান সরকারের শীর্ষ পর্যায়ের নেতারা, বিশেষ করে প্রধানমন্ত্রী শাহবাজ শরিফ উভয় পক্ষকে দ্বিতীয় দফার যুদ্ধবিরতি আলোচনায় রাজি করাতে নিবিড়ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন।
পরবর্তীতে শাহবাজ শরিফ পাকিস্তানের অনুরোধ সদয়ভাবে গ্রহণ করার জন্য ট্রাম্পকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বৃদ্ধির ফলে চলমান কূটনৈতিক প্রচেষ্টাগুলো এগিয়ে নেওয়া সম্ভব হবে।
ইরানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র ইসমাইল বাঘাই ইরানের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশনকে জানিয়েছেন যে, আরও আলোচনায় বসবেন কি না সে বিষয়ে এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত হয়নি। তিনি এর কারণ হিসেবে যুক্তরাষ্ট্রের ‘অগ্রহণযোগ্য কর্মকাণ্ডের’ কথা উল্লেখ করেন, যা মূলত ইরানি বন্দরগুলোর ওপর মার্কিন নৌ-অবরোধকেই ইঙ্গিত করে।
যুদ্ধবিরতির মেয়াদ বাড়ানোর ঘোষণা দিয়ে নিজের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ট্রুথ সোশ্যালে দেওয়া এক পোস্টে ট্রাম্প বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের এই অবরোধ অব্যাহত থাকবে।
নাম প্রকাশ না করার শর্তে একজন মার্কিন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জেডি ভ্যান্স পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদ সফর আপাতত স্থগিত করায় ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং জামাতা জারেড কুশনার মঙ্গলবার বিকেলে ওয়াশিংটনে পরবর্তী পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনার জন্য পৌঁছাবেন বলে আশা করা হচ্ছে।
ওই কর্মকর্তা আরও বলেছেন, তেহরানের সঙ্গে আলোচনার বিষয়ে ট্রাম্প যেকোনো সময় তার সিদ্ধান্ত পরিবর্তন করতে পারেন। তবে ভবিষ্যতে কী ঘটবে সে বিষয়ে কোনো পূর্বাভাস দিতে তিনি অস্বীকৃতি জানান। তিনি বলেন, পুনরায় বিমান হামলা শুরু করা ছাড়াও ট্রাম্পের হাতে আরও বিকল্প ব্যবস্থা রয়েছে।
এখনও অনড় উভয় পক্ষ
এদিকে, যুদ্ধবিরতি বাড়ানোর ঘোষণার আগে ট্রাম্প সতর্ক করেছিলেন যে, বুধবারের মধ্যে কোনো সমঝোতা না হলে প্রচুর বোমা বর্ষণ শুরু হবে। অন্যদিকে, ইরানের প্রধান আলোচক বলেছিলেন যে, তেহরানের কাছে রণক্ষেত্রের নতুন কিছু তুরুপের তাস রয়েছে যা এখনও প্রকাশ করা হয়নি।
ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) একজন ঊর্ধ্বতন কমান্ডার হুমকি দিয়েছেন যে, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধ শুরু হলে তিনি এই অঞ্চলের তেল শিল্প ধ্বংস করে দেবেন। জেনারেল মজিদ মৌসাভি একটি ইরানি নিউজ সাইটকে বলেন, যদি দক্ষিণের প্রতিবেশীরা শত্রুকে ইরানের ওপর হামলা চালাতে তাদের স্থাপনা ব্যবহারের অনুমতি দেয়, তবে মধ্যপ্রাচ্যে তেল উৎপাদনকে তাদের বিদায় জানাতে হবে।
আলোচনার কেন্দ্রে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ
জাতিসংঘে নিযুক্ত তেহরানের দূত মঙ্গলবার বলেছেন যে, যুক্তরাষ্ট্র ইরানের বন্দরগুলোর ওপর থেকে অবরোধ তুলে নিতে প্রস্তুত বলে তেহরান কিছু সংকেত পেয়েছে।
রাষ্ট্রদূত আমির সাইদ ইরাভানি জানান, অবরোধের অবসানই ইরানের শান্তি আলোচনায় ফেরার প্রধান শর্ত। তিনি বলেন, যখন এটি ঘটবে, আমি মনে করি তখনই পরবর্তী আলোচনা অনুষ্ঠিত হবে।
যুদ্ধের পূর্বে বিশ্বের ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস হরমুজ প্রণালি দিয়ে পরিবাহিত হতো। কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ এ প্রণালিটির ওপর ইরানের নিয়ন্ত্রণ শিথিল করতে তেহরানের ওপর চাপ সৃষ্টির লক্ষ্যে যুক্তরাষ্ট্র এই অবরোধ আরোপ করেছিল।
এই প্রণালিতে ইরানের কঠোর অবস্থানের কারণে তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ড অনুযায়ী অপরিশোধিত তেলের দাম মঙ্গলবার ব্যারেল প্রতি প্রায় ৯৫ ডলারে লেনদেন হয়েছে, যা গত ২৮ ফেব্রুয়ারি (ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের ইরান আক্রমণের দিন) থেকে ৩০ শতাংশেরও বেশি।
যুদ্ধ শুরুর আগে হরমুজ প্রণালি আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচলের জন্য সম্পূর্ণ উন্মুক্ত ছিল। ট্রাম্প দাবি করেছেন যে, জাহাজগুলোকে আবারও কোনো বাধা ছাড়াই চলাচলের অনুমতি দিতে হবে।
গত সপ্তাহের শেষের দিকে ইরান জানিয়েছিল যে তারা ওয়াশিংটনের কাছ থেকে নতুন প্রস্তাব পেয়েছে, তবে তারা এটিও জানিয়েছিল যে দুই পক্ষের মধ্যে এখনও বড় ধরনের দূরত্ব রয়েছে গেছে।
ইরানের পারমাণবিক সমৃদ্ধকরণ কর্মসূচি, তাদের আঞ্চলিক প্রক্সি গোষ্ঠীসমূহ এবং হরমুজ প্রণালি নিয়ন্ত্রণের মতো ইস্যুগুলো নিয়ে সমঝোতা না হওয়ায় গত দফার আলোচনা ব্যর্থ হয়েছিল।
নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত তেলবাহী ট্যাঙ্কারে মার্কিন বাহিনীর আরোহণ
মঙ্গলবার যুক্তরাষ্ট্র জানিয়েছে যে, এশিয়ায় ইরানি অপরিশোধিত তেল পাচারের অভিযোগে নিষেধাজ্ঞাপ্রাপ্ত একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারে তল্লাশি চালিয়েছে মার্কিন বাহিনী। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে এক পোস্টে পেন্টাগন জানিয়েছে যে, মার্কিন বাহিনী কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা ছাড়াই ‘এম/টি টিফানি’ নামক জাহাজে আরোহণ করেছে।
দেশটির সামরিক বাহিনী জাহাজটিতে ঠিক কোথায় তল্লাশি চালানো হয়েছে তা জানায়নি, তবে জাহাজ ট্র্যাকিং ডেটা অনুযায়ী মঙ্গলবার টিফানি শ্রীলঙ্কা ও ইন্দোনেশিয়ার মধ্যবর্তী ভারত মহাসাগরে অবস্থান করছিল। পেন্টাগনের বিবৃতিতে আরও বলা হয় যে, আন্তর্জাতিক জলসীমা নিষেধাজ্ঞাভুক্ত জাহাজের জন্য কোনো নিরাপদ আশ্রয় নয়।
এর আগে, গত রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ইরানি কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করেছিল, যা ছিল অবরোধ চলাকালীন প্রথম কোনো জাহাজ আটকের ঘটনা। তেহরানের যৌথ সামরিক কমান্ড এই সশস্ত্র অভিযানকে জলদস্যুতা এবং যুদ্ধবিরতির লঙ্ঘন বলে অভিহিত করেছে।
আলোচনা নিয়ে আশাবাদী পাকিস্তান
পাকিস্তানি কর্মকর্তারা আশাবাদ ব্যক্ত করেছেন যে, ইরানও আলোচনার জন্য একটি প্রতিনিধি দল পাঠাবে। এর আগে, ১১ ও ১২ এপ্রিল প্রথম দফার আলোচনা কোনো চুক্তি ছাড়াই শেষ হয়েছিল।
পাকিস্তান জানিয়েছে, পররাষ্ট্রমন্ত্রী ইসহাক দার মঙ্গলবার ইসলামাবাদে যুক্তরাষ্ট্র ও চীনের শীর্ষ কূটনীতিকদের সঙ্গে আলাদাভাবে বৈঠক করেছেন। উল্লেখ্য, চীন ইরানের অন্যতম প্রধান বাণিজ্যিক অংশীদার।
এদিকে, পুরো ইসলামাবাদজুড়ে নিরাপত্তা জোরদার করা হয়েছে। কর্তৃপক্ষ বিমানবন্দরে যাওয়ার পথে হাজার হাজার নিরাপত্তাকর্মী মোতায়েন করেছে এবং টহল বৃদ্ধি করেছে।
জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসের মুখপাত্র স্টিফেন ডুজারিক জানিয়েছেন, মহাসচিব এই যুদ্ধবিরতি বৃদ্ধিকে উত্তেজনা প্রশমনে একটি গুরুত্বপূর্ণ পদক্ষেপ হিসেবে দেখছেন, যা ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে কূটনীতি এবং আস্থা তৈরির একটি প্রয়োজনীয় সুযোগ সৃষ্টি করবে।
ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে আলোচনা পুনরায় শুরু হবে
লেবাননে ইরান সমর্থিত সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহ এক বিবৃতিতে জানিয়েছে যে, গত শুক্রবার থেকে কার্যকর হওয়া ১০ দিনের যুদ্ধবিরতির পর তারা প্রথমবারের মতো ইসরায়েলি বাহিনীর ওপর রকেট ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। তারা একে ইসরায়েল কর্তৃক প্রকাশ্য ও নথিবদ্ধ যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের প্রতিক্রিয়া হিসেবে অভিহিত করেছে।
তাদের দাবি অনুযায়ী, ইসরায়েলি বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের বেসামরিক নাগরিকদের ওপর হামলা এবং তাদের ঘরবাড়ি ও গ্রাম ধ্বংস করেছে।
ইসরায়েলি সেনাবাহিনী জানিয়েছে যে, তারা হিজবুল্লাহর রকেট লঞ্চারে পাল্টা হামলা চালিয়েছে। ইসরায়েলি কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তারা দক্ষিণ লেবাননে একটি ‘বাফার জোন’ বা নিরাপদ অঞ্চল বজায় রাখতে চান—যেখানে অনেকগুলো গ্রামের বাসিন্দাদের এখনও ফিরে আসার অনুমতি দেওয়া হয়নি।
ইসরায়েলি, লেবাননি এবং মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে জানানো হয়েছে যে, আগামী বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের মধ্যে ঐতিহাসিক কূটনৈতিক আলোচনা পুনরায় শুরু হতে যাচ্ছে। পর্দার আড়ালের এই আলোচনার গুরুত্ব বিবেচনায় তারা নাম প্রকাশ না করার শর্তে এসব তথ্য দিয়েছেন।
গত সপ্তাহে কয়েক দশকের মধ্যে প্রথমবারের মতো ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতরা সরাসরি কূটনৈতিক বৈঠকে মিলিত হয়েছিলেন। ইসরায়েল বলছে, এই আলোচনার লক্ষ্য হলো হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্রীকরণ এবং লেবাননের সঙ্গে একটি শান্তি চুক্তিতে পৌঁছানো।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল কর্তৃক ইরানে যৌথ হামলা চালানোর দুই দিন পর ইসরায়েল ও ইরান সমর্থিত হিজবুল্লাহর মধ্যে লড়াই শুরু হয়। লেবাননে এই লড়াইয়ে এ পর্যন্ত ২ হাজার ২৯০ জনেরও বেশি মানুষ নিহত হয়েছেন।
কর্তৃপক্ষের দেওয়া তথ্যমতে, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে ইরানে অন্তত ৩ হাজার ৩৭৫ জন নিহত হয়েছেন। এছাড়া ইসরায়েলে ২৩ জন এবং উপসাগরীয় আরব দেশগুলোতে এক ১০ জনেরও বেশি মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই অঞ্চলে দায়িত্ব পালনকালে ১৫ জন ইসরায়েলি সৈন্য এবং ১৩ জন মার্কিন সেনা সদস্য প্রাণ হারিয়েছেন।
১৩ দিন আগে
ইরান যুদ্ধে ব্যয় করা মার্কিন অর্থে প্রাণ বাঁচত ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের: জাতিসংঘ
জাতিসংঘের মানবিক সহায়তাবিষয়ক সংস্থার (ওসিএইচএ) প্রধান টম ফ্লেচার বলেছেন, ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের বিরুদ্ধে তার ‘বেপরোয়া’ যুদ্ধে প্রতি সপ্তাহে যে ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করছেন, তা দিয়ে ৮ কোটি ৭০ লাখেরও বেশি মানুষের প্রাণ বাঁচানো সম্ভব ছিল।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ এপ্রিল) লন্ডনের চ্যাথাম হাউসে দেওয়া এক বক্তৃতায় সাবেক ব্রিটিশ কূটনীতিক ও একাধিক প্রধানমন্ত্রীর পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক উপদেষ্টা ফ্লেচার এ কথা বলেন।
ফ্লেচারের বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে বলা হয়, ‘ইরানকে বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেওয়ার’ হুমকির মতো সহিংস ভাষার স্বাভাবিকীকরণ অত্যন্ত বিপজ্জনক। কারণ এটি প্রতিটি ‘সম্ভাব্য স্বৈরাচারীকে’ একই ধরনের হুমকি এবং কৌশল ব্যবহারে উৎসাহিত করে।
এ সময় ব্রিটিশ রাজনীতিবিদদেরও সমালোচনা করেছেন তিনি। ফ্লেচারের অভিযোগ, ব্রিটিশ রাজনীতিবিদরা গত ১০ বছরেরও বেশি সময় ধরে নিজেদের মধ্যে কাদা ছোঁড়াছুড়িতে লিপ্ত যা যুক্তরাজ্যকে একটি ‘রক্ষণাত্মক অবস্থানে’ ফেলে দিয়েছে।
তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের বৈদেশিক সাহায্য খাতে কাটছাঁট এতটাই ভয়াবহ ছিল যে, এখন বিভিন্ন সম্মেলনে যখন যুক্তরাজ্য এই বিষয়ে নিজেদের ‘নেতৃস্থানীয়’ বলে দাবি করে, তখন উপস্থিতরা মুচকি হাসে।
মানবিক বিষয় ও জরুরি ত্রাণবিষয়ক আন্ডার-সেক্রেটারি-জেনারেল এবং ওসিএইচএর প্রধান ফ্লেচার বর্তমানে মানবিক সহায়তা তহবিলের চরম সংকটের সঙ্গে লড়াই করছেন। তিনি একে ‘বিপর্যয়কর’ হিসেবে বর্ণনা করেছেন, কারণ তার বাজেট ৫০ শতাংশ কমানো হয়েছে।
তিনি জানান, এটি কেবল যুক্তরাষ্ট্রের কারণে নয়, বরং আদর্শগত কারণ এবং প্রতিরক্ষা বাজেটের চাহিদার সংমিশ্রণে আন্তর্জাতিকভাবে বৈদেশিক সাহায্যে যে কাটছাঁট করা হয়েছে, তারই ফল।
ফ্লেচার বলেন, ইরানের যুদ্ধের প্রভাব বিশ্বজুড়ে অনুভূত হচ্ছে। খাদ্য ও জ্বালানি মুদ্রাস্ফীতি ২০ শতাংশের কাছাকাছি পৌঁছানোর পূর্বাভাস দিয়ে তিনি বলেন, সাব-সাহারা আফ্রিকা এবং পূর্ব আফ্রিকায় আমরা আগামী কয়েক বছর এর প্রভাব অনুভব করব, যা আরও বহু মানুষকে দারিদ্র্যের দিকে ঠেলে দেবে।
ফ্লেচার বলেন, এই যুদ্ধের প্রতিটি দিনের জন্য ২০০ কোটি ডলার ব্যয় করা হচ্ছে। অথচ ৮ কোটি ৭০ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচানোর জন্য আমার তৈরি করা ‘অত্যন্ত অগ্রাধিকারমূলক পরিকল্পনা’র পুরো লক্ষ্যমাত্রা হলো ২ হাজার ৩০০ কোটি ডলার। এই বেপরোয়া যুদ্ধের দুই সপ্তাহের কম সময়ের খরচ দিয়ে আমরা সেই অর্থায়ন করতে পারতাম। কিন্তু এখন আমরা তা পারছি না।
তিনি আরও বলেন, হঠাৎ করেই এই ধারণাটি স্বাভাবিক হয়ে গেছে যে ‘আমরা সবকিছু উড়িয়ে দেব, আমরা তোমাদের বোমা মেরে প্রস্তর যুগে পাঠিয়ে দেব, তোমাদের সভ্যতা ধ্বংস করে দেব’। এই ধরনের ভাষার স্বাভাবিকীকরণকে বিপজ্জনক বলে উল্লেখ করেন তিনি।
তিনি বলেন, এটি বিশ্বের অন্যান্য স্বৈরাচারী হতে চাওয়া ব্যক্তি, যারা আন্তর্জাতিক আইন সম্পূর্ণ লঙ্ঘন করে বেসামরিক অবকাঠামো এবং বেসামরিক নাগরিকদের লক্ষ্যবস্তু বানায়, তাদের এই ধরনের ভাষা এবং কৌশল ব্যবহার করতে আরও সুযোগ করে দেয়।
ট্রাম্প প্রশাসনের সঙ্গে জাতিসংঘের সম্পর্ককে একটি ‘চরম অনিশ্চয়তা বা রোলারকোস্টার রাইড’ হিসেবে বর্ণনা করেন ফ্লেচার। তবে তিনি বলেন, ‘মার্কিন প্রেসিডেন্টের টিমকে এটি বোঝাতে কিছুটা সফল হয়েছি যে জাতিসংঘ কেবল একদল অযোগ্য, অকেজো ও ক্লান্ত আমলাদের আস্তানা নয়।’
যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের সমালোচনা করে ওসিএইচএর প্রধান বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনা এবং আবাসন ব্যবসা পরিচালনার মধ্যে পার্থক্য রয়েছে। আমি ট্রাম্প প্রশাসনে যাদের সঙ্গে কাজ করছি, তাদের বেশিরভাগই আবাসন ব্যবসা থেকে আসা। বিশ্বের প্রতি তাদের দৃষ্টিভঙ্গি ভিন্ন।
রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ব্যক্তিরা সব কাজ শেষ করার পর প্রক্রিয়ার শেষে করমর্দন করে। কিন্তু আবাসন ব্যবসার সঙ্গে যুক্তরা আগে করমর্দন করে দেখে যে ‘আমি কি এই ব্যক্তিকে বিশ্বাস করতে পারি?’ এবং তারপর বলে ‘চলুন চুক্তি করি’... এটি ব্যক্তিগত সম্পর্কের ওপর অনেক বেশি গুরুত্ব দেয়। তারা প্রতিষ্ঠানের প্রতি কম আগ্রহী, তাই জাতিসংঘের পতাকা নিয়ে প্রবেশ করলে তা আপনাকে খুব একটা সাহায্য করবে না।
তিনি আরও বলেন, রাষ্ট্র পরিচালনার সঙ্গে আমরা যারা যুক্ত, তারা নিশ্চয়তা, স্থিতিশীলতা এবং প্রক্রিয়া পছন্দ করি। আমাদের প্রোটোকল, মানচিত্র এবং পতাকার দিকে তাকালেই তা বোঝা যায়। আমরা শৃঙ্খলা পছন্দ করি, কিন্তু ট্রাম্প প্রশাসনের ধারণা, বিশৃঙ্খলা বেশি কার্যকর। তারা মনে করে অনিশ্চয়তা, প্রতিপক্ষ ও বন্ধুকে অপ্রস্তুত করে দেওয়ার মাধ্যমে তারা বেশি ফলাফল পান। আমরা দেখব শেষ পর্যন্ত কী হয়।
ফ্লেচার বলেন, ট্রাম্প যদি ১৪টি যুদ্ধ শেষ করেন, তবে তাকে এর জন্য নোবেল শান্তি পুরস্কার দেওয়া হোক; তবে কেবল কথা না বলে কাজগুলো আসলে শেষ করা প্রয়োজন।
তিনি আরও জানান, গর্ভপাত বা ট্রান্সজেন্ডার অধিকারের মতো বিষয়গুলোতে যদি নতুন কোনো শর্ত জুড়ে দেওয়া হয়, তবে মার্কিন সহায়তা গ্রহণ করবেন কি না—এই সিদ্ধান্ত নিতে গিয়ে তিনি রাতে ঘুমাতে পর্যন্ত পারছেন না।
তিনি বলেন, প্রশ্ন হলো, সেই শর্ত মেনে আমরা কি সেই টাকা নেব, এটা জেনেও যে তা লাখ লাখ মানুষের প্রাণ বাঁচাবে? নাকি নেব না? শর্ত মেনে নেওয়ার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।
ফ্লেচারের দাবি, যুদ্ধোত্তর আন্তর্জাতিক কাঠামোটি ক্রমাগত আক্রমণের শিকার হচ্ছে এবং জাতিসংঘের নিরাপত্তা পরিষদ সম্পূর্ণরূপে মেরুকৃত। তার ভাষ্য, আমরা এখন একটি লেনদেনমূলক ভূ-রাজনৈতিক মুহূর্তে রয়েছি যেখানে সদস্য দেশগুলো নিরাপত্তা পরিষদকে এমন একটি যন্ত্র হিসেবে দেখে না যার মাধ্যমে তাদের বিশ্ব শান্তির জন্য কাজ করা উচিত।
বাজেট কাটছাঁটের ফলে এর প্রভাব বিশাল হবে মন্তব্য করে তিনি বলেন, আমি যদি কোনো সংস্থা বা এজেন্সির প্রধান হতাম এবং আমার ৫০ বিলিয়ন ডলারের সংস্থাটি যদি এই বছর ২০ বিলিয়ন ডলারে নেমে আসত, তবে সম্ভবত এতক্ষণে আমি বরখাস্ত হতাম।
আমার পরিসংখ্যানগুলো সুখকর নয়। একদিকে অর্থ কমে আসছে, অন্যদিকে প্রয়োজন বেড়ে বাড়ছে। এটি মূলত ব্যর্থতার একটি ধরন, তাই আমাদের ভিন্ন কিছু করতে হবে।
যদিও তিনি স্বীকার করেছেন যে মার্কিন কাটছাঁট অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে কঠিন ছিল (কারণ অতীতে তারা তহবিলের ৪০ শতাংশ থেকে ৪৫ শতাংশ সরবরাহ করত), তবে পুরো ইউরোপজুড়েই এ সাহায্য কমছে।
বিগত সময়ে মোট জাতীয় আয়ের শূন্য দশমিক ৭ শতাংশ বৈদেশিক সাহায্যে ব্যয় করার বিষয়ে যুক্তরাজ্যের যে প্রতিশ্রুতি ছিল, সে প্রসঙ্গে তিনি বলেন, যুক্তরাজ্যের জন্য কয়েক দশক ধরে এ ব্যয় করার বিষয়টি ছিল একটি পবিত্র দলীয় প্রতিশ্রুতি যা গত কয়েক বছরে ধুলোয় মিশে গেছে।
তিনি বলেন, এই কাটছাঁট যুক্তরাজ্যের সামগ্রিক বাজেটের তুলনায় খুবই সামান্য, কিন্তু এর ফলে অসামঞ্জস্যপূর্ণভাবে মানুষের প্রাণহানি ঘটবে। কারণ যুক্তরাজ্যের এই সিদ্ধান্ত অন্যান্য দেশকেও একই অজুহাত দেওয়ার সুযোগ করে দেয়।
যুক্তরাজ্য প্রসঙ্গে তিনি আরও বলেন, যুক্তরাজ্য এখন নিজেদের মধ্যে বিবাদে লিপ্ত এবং গত ১০ বছর ধরে এটিই চলছে। একপর্যায়ে তাদের এই রক্ষণাত্মক অবস্থা থেকে বেরিয়ে আসতে হবে।
তিনি উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেন যে, ২০১৬ সাল থেকে যুক্তরাজ্যের প্রকৃত সম্পদ যেমন: ত্রাণকার্যে নেতৃত্ব, বিবিসি, সৃজনশীল শিল্প, প্রভাব বিস্তারের ক্ষমতা এবং সামরিক শক্তির মতো জায়গাগুলো ধ্বংস করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে।
তিনি আরও বলেন, যেখানে আমাদের বিনয়ী হওয়া উচিত, সেখানে আমরা অতিরিক্ত আত্মবিশ্বাসী এবং যেখানে আমাদের আত্মবিশ্বাসী হওয়া উচিত, সেখানে আমরা অতিরিক্ত বিনয়ী হওয়ার প্রবণতা দেখাই। তবে এই মুহূর্তে শান্তভাবে দক্ষতা দেখানোই শ্রেয় বলে মন্তব্য করেন তিনি।
মানবতাকর্মীদের সুরক্ষার বিষয়ে তিনি বলেন, গত তিন বছরে ১ হাজার জনেরও বেশি কর্মী নিহত হয়েছেন যাদের মধ্যে অনেকেই ড্রোন হামলার শিকার।
ফ্লোচার বলেন, আমরা হচ্ছি জরুরি সেবা সংস্থা, আমরা ফায়ার ইঞ্জিন বা অ্যাম্বুলেন্সকর্মীর মতো যারা বেঁচে যাওয়া মানুষদের সাহায্য করতে যাই। কিন্তু কেন জানি এটি এখন এমনই গ্রহণযোগ্য হয়ে গেছে যে আমাদের বিপুল সংখ্যায় হত্যা করা হচ্ছে। আবার যারা আমাদের হত্যা করছে, তাদের কোনো জবাবদিহিতাও নেই।
নিরাপত্তা পরিষদের এক সদস্যকে উদ্দেশ্য করে তিনি বলেন, আমাদের কেবল সাধারণ কোনো বিবৃতি দেবেন না যে ‘মানবিক কর্মীদের সুরক্ষা দেওয়া উচিত’, বরং ফোন তুলুন। যারা আমাদের মারছে, তাদের নাম ধরে ডাকুন; যারা এই কাজ করছে, তাদের অস্ত্র দেওয়া বন্ধ করুন।
১৪ দিন আগে
প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে জাপান
জাপানে যুদ্ধবিমানসহ প্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানির ওপর থেকে নিষেধাজ্ঞা তুলে নিয়েছে প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচির মন্ত্রিসভা। এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হলে দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধ-পরবর্তী শান্তিবাদী নীতি থেকে সরে যাবে দেশটি।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) এক্স পোস্টে এই পরিবর্তনের ঘোষণা দেন তাকাইচি। তবে জাপান কোন কোন অস্ত্র বিদেশে বিক্রি করবে, সেটা তিনি নির্দিষ্ট করে বলেননি।
এ বিষয়ে জাপানি সংবাদপত্রগুলো জানিয়েছে, এই অস্ত্রগুলোর মধ্যে রয়েছে যুদ্ধবিমান, ক্ষেপণাস্ত্র ও যুদ্ধজাহাজ।
পোস্টে তাকাইচি বলেন, ‘এই সংশোধনের মাধ্যমে নীতিগতভাবে সব ধরনের প্রতিরক্ষা সরঞ্জামই রপ্তানি করা যাবে। তবে গ্রাহক দেশগুলোকে অবশ্যই জাতিসংঘ সনদের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এগুলো ব্যবহারের প্রতিশ্রুতি দিতে হবে।’
তিনি আরও বলেন, ‘ক্রমবর্ধমান বিশ্বের এই অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে নিজস্ব শান্তি ও নিরাপত্তা একা নিশ্চিত করতে পারা বিশ্বের সব দেশের জন্যই চ্যালেঞ্জ।’
জাপানের চুনিচি পত্রিকার প্রতিবেদন অনুযায়ী, এই পরিবর্তনের ফলে অন্তত ১৭টি দেশ জাপানে তৈরি অস্ত্র কিনতে পারবে। তবে আরও কিছু দেশ এই দ্বিপাক্ষিক চুক্তিতে যুক্ত হলে তালিকা বাড়তে পারে।
আসাহি পত্রিকা জানায়, ১৯৬৭ সালে প্রণীত এবং ১৯৭৬ সালে কার্যকর করা চুক্তি অনুযায়ী জাপান কেবল নজরদারি ও মাইন অপসারণে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামের মতো অপ্রাণঘাতী অস্ত্র রপ্তানি করতে পারে।
পত্রিকাটি আরও জানায়, বর্তমানে যুদ্ধ চলছে এমন দেশগুলোতে অস্ত্র রপ্তানি সীমিত থাকবে। তবে ‘বিশেষ পরিস্থিতিতে’ জাপানের জাতীয় নিরাপত্তার স্বার্থ বিবেচনায় ব্যতিক্রম করা যেতে পারে।
চুনিচি পত্রিকা জাপানের প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের সূত্র উল্লেখ করে জানায়, জাপানের তৈরি অস্ত্র কিনতে আগ্রহী দেশগুলোর মধ্যে রয়েছে অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড, ফিলিপাইন ও ইন্দোনেশিয়া, যারা সম্প্রতি যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে একটি বড় প্রতিরক্ষা চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।
জাপান ও অস্ট্রেলিয়ার মধ্যে ৭০০ কোটি ডলারের একটি চুক্তি স্বাক্ষর হওয়ার পরপরই টোকিওর এই নীতিগত পরিবর্তন এল।
১৪ দিন আগে
বিটিএসের পৃষ্ঠপোষক কে-পপ মোগলকে খুঁজছে দ. কোরিয়ার পুলিশ
বিনিয়োগ জালিয়াতির অভিযোগে বিখ্যাত কোরিয়ান কে-পপ সংগীত ব্যান্ড বিটিএসের পৃষ্ঠপোষক সংগীত মোগল ব্যাং সি-হিউককে গ্রেপ্তারে অভিযান শুরু করেছে দক্ষিণ কোরিয়ার পুলিশ। জালিয়াতির মাধ্যমে তিনি ১০০ মিলিয়ন ডলারের বেশি অবৈধ অর্থ উর্পাজন করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
ব্যাং সি-হিউক স্বনামধন্য মিউজিক কোম্পানি হাইবের (HYBE) প্রতিষ্ঠাতা ও চেয়ারম্যান। গত বছরের নভেম্বর থেকেই তার বিরুদ্ধে দুর্নীতির তদন্ত চলছে। সরকারপক্ষের আইনজীবীর কাছে তার বিরুদ্ধে গ্রেপ্তারি পরোয়ানা জারির অনুরোধ করেছে সিউল মেট্রোপলিটন পুলিশ এজেন্সি।
ব্যাং হিউকের আইনজীবী দলের কাছে এ বিষয়ে জানতে চেয়েছিল অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস। তবে ওই অভিযোগের বিষয়ে কোনো জবাব না দিয়ে এক বিবৃতিতে দুঃখ প্রকাশ করেছে তারা। বিবৃতিতে বলা হয়েছে, দীর্ঘ সময় ধরে তদন্তে ‘সম্পূর্ণ সহযোগিতা’ করা সত্ত্বেও পুলিশ তাকে গ্রেপ্তারের চেষ্টা করছে।
বিবৃতিতে তারা আরও বলেন, ‘আমরা সব আইনি প্রক্রিয়ায় সহযোগিতা চালিয়ে যাব এবং আমাদের অবস্থান পরিষ্কারভাবে ব্যাখ্যা করতে সর্বোচ্চ চেষ্টা করব।’
কোরিয়ান এই সংঙ্গীত মোগলের বিরুদ্ধে অভিযোগ, তিনি ২০১৯ সালে বিনিয়োগকারীদের বিভ্রান্ত করে বলেছিলেন আপাতত তার কোম্পানির শেয়ারবাজারে তালিকাভুক্ত হওয়ার কোনো পরিকল্পনা নেই। এর ফলে অন্যান্য বিনিয়োগকারীরা তার কথায় প্ররোচিত হয়ে হাইবের প্রাথমিক গণপ্রস্তাব (আইপিও) নিয়ে অগ্রসর হওয়ার আগেই তাদের শেয়ার একটি প্রাইভেট ইক্যুইটি ফান্ডের কাছে বিক্রি করা হয়।
পুলিশের ধারণা, ওই ফান্ড মূলত একটি গোপন চুক্তির যেখানে আইপিও-পরবর্তী শেয়ার বিক্রির লাভের ৩০ শতাংশ দেওয়ার কথা ছিল, সেখানে তাকে প্রায় ২০০ বিলিয়ন ওন (১৩৬ মিলিয়ন ডলার) প্রদান করা হয়েছে।
২০০৫ সালে বিগ হিট এন্টারটেইনমেন্ট হিসেবে হাইব প্রতিষ্ঠা করা হয়। এই কোম্পানির প্রতিষ্ঠাতা ব্যাং সি-হিউক পপ সংগীত শিল্পের অন্যতম প্রভাবশালী ব্যক্তি হিসেবে পরিচিত। বিটিএস ছাড়াও তিনি সেভেনটিন, লে সেরাফিম এবং কাটসেয়ের মতো জনপ্রিয় শিল্পীদের তত্ত্বাবধান করেন।
গত মাসে সিউলে অনুষ্ঠিত বিনামূল্যের একটি ক্যামব্যাক কনসার্টে বিটিএস হাজার হাজার আন্তর্জাতিক ভক্তের সামনে পারফর্ম করে। এছাড়া তারা দক্ষিণ কোরিয়ার গয়াং শহর এবং টোকিওতেও একাধিক কনসার্ট করেছে। চলতি মাসের শেষ দিকে ফ্লোরিডার ট্যাম্পায় একটি কনসার্টের মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রে তাদের ইভেন্ট সিরিজ শুরু করার কথা রয়েছে। তবে বর্তমানের এই আইনি জটিলতায় হাইবে একটি বড় জনসংযোগ সংকট তৈরি হয়েছে।
১৪ দিন আগে
গাজা পুনর্গঠনে এক দশকে ৭১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ প্রয়োজন: প্রতিবেদন
ইসরায়েলি আগ্রাসনে বিধ্বস্ত গাজার পুনরুদ্ধার ও পুনর্গঠনের জন্য আগামী ১০ বছরে ৭১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ প্রয়োজন হবে বলে একটি নতুন প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।
সোমবার (২০ এপ্রিল) প্রকাশিত গাজা র্যাপিড ড্যামেজ অ্যান্ড নিডস অ্যাসেসমেন্টের (আরডিএনএ) চূড়ান্ত প্রতিবেদনে এসব কথা বলা হয়।
চূড়ান্ত এই প্রতিবেদনে ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘ জানিয়েছে, এই সংঘাত গাজায় মানব উন্নয়নে ‘ভয়াবহ প্রভাব’ ফেলেছে এবং সেখানে খুব শিগগিরই প্রচুর পরিমাণ অর্থ সহায়তার প্রয়োজন।
প্রতিবেদনের বরাত দিয়ে আল জাজিরা জানিয়েছে, গাজা পুনর্গঠনের প্রথম ১৮ মাসেই জরুরি পরিষেবা পুনরুদ্ধার, গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামো পুনর্নির্মাণ এবং অর্থনীতি পুনরুদ্ধার করতে ২৬ দশমিক ৩ বিলিয়ন ডলার প্রয়োজন হবে।
প্রতিবেদনটির পৃষ্ঠপোষক ইউরোপীয় ইউনিয়ন ও জাতিসংঘের যৌথ বিবৃতিতে বলা হয়েছে, গাজার ভৌত অবকাঠামোগত ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ প্রায় ৩৫ দশমিক ২ বিলিয়ন ডলার এবং অর্থনৈতিক ও সামাজিক ক্ষতি হয়েছে প্রায় ২২ দশমিক ৭ বিলিয়ন ডলার।
গাজায় অক্টোবর মাসে একটি দুর্বল ‘যুদ্ধবিরতি’ কার্যকর হয়েছিল। তবে চুক্তি লঙ্ঘন করে বারবার হামলা চালাচ্ছে ইসরায়েল।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ইসরায়েলি হামলায় উপত্যকার ৭২ হাজারের বেশি মানুষ নিহত হয়েছে।
গাজার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানায়, শুধু যুদ্ধবিরতির পর থেকেই নিহত হয়েছেন ৭৭৭ জন। এর মধ্যে চলতি বছরের এপ্রিলের শুরু থেকে এখন পর্যন্ত ৩২ জন নিহত হয়েছেন।
নিহতদের মধ্যে আল জাজিরার সাংবাদিক মোহাম্মদ উইশাহও রয়েছেন। তিনি ৮ এপ্রিল গাজা সিটির পশ্চিমে একটি ড্রোন হামলায় নিহত হন।
গাজার সরকারি গণমাধ্যম অফিস জানায়, ইসরায়েল ‘যুদ্ধবিরতি’ লঙ্ঘন করে মোট ২ হাজার ৪০০টি অপকর্মের ঘটনা ঘটিয়েছে। এর মধ্যে হত্যাকাণ্ড, গ্রেপ্তার, অবরোধসহ নানান ধরনের অপরাধ কর্মকাণ্ড অন্তর্ভুক্ত।
ধ্বংসস্তূপে চাপা পড়া জনপদ
জাতিসংঘ জানায়, ইসরায়েলি বোমাবর্ষণে যুদ্ধবিধস্ত গাজায় ৬১ মিলিয়ন টনের বেশি ধ্বংসস্তূপ তৈরি হয়েছে, যার ফলে অনেক জনপদ ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়েছে। আরডিএনএ-এর তথ্য অনুযায়ী, ৩ লাখ ৭১ হাজার ৮৮৮টি আবাসিক ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ৫০ শতাংশের বেশি হাসপাতাল অকার্যকরসহ প্রায় সব স্কুল ধ্বংস বা ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
প্রতিবেদন অনুযায়ী, গাজার অর্থনীতি ৮৪ শতাংশ ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং ১৯ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে।
প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়, সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত খাতগুলোর মধ্যে রয়েছে আবাসন, স্বাস্থ্য, শিক্ষা, বাণিজ্য ও কৃষি। এই সংঘাত গাজার মানব উন্নয়নকে ৭৭ বছর পিছিয়ে দিয়েছে।
জাতিসংঘ ও ইউরোপীয় ইউনিয়ন উভয়ই ফিলিস্তিনি কর্তৃপক্ষের কাছে শাসন হস্তান্তরকে সমর্থন করে এমন দেশের প্রতি গাজা পুনর্গঠনের আহ্বান জানিয়েছে।
১৪ দিন আগে
ইরান আলোচনায় বসলে মার্কিনিদের নেতৃত্ব দেবেন জেডি ভ্যান্স
ইরানের সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্রের চলমান যুদ্ধবিরতির মেয়াদ ঘনিয়ে আসছে। এ প্রেক্ষাপটে ইসলামাবাদে তেহরান পুনরায় আলোচনায় বসতে রাজি হলে মঙ্গলবার একটি মার্কিন কূটনৈতিক প্রতিনিধিদল পাকিস্তানে যাওয়ার কথা রয়েছে। এ দলের প্রধান হিসেবে থাকবেন মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স।
মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্টের সঙ্গে ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উইটকফ এবং প্রেসিডেন্টের জামাতা জারেড কুশনারও পাকিস্তান যাবেন।
এদিকে, ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসুদ পেজেশকিয়ান বলেছেন, যুক্তরাষ্ট্রের প্রতি এখনও একটি গভীর অবিশ্বাস রয়ে গেছে। তেহরান মার্কিন কর্মকর্তাদের অগঠনমূলক এবং পরস্পরবিরোধী সংকেত নিয়ে উদ্বিগ্ন এবং তারা মনে করছে, এটি তাদের আত্মসমর্পণে বাধ্য করার একটি প্রচেষ্টা। তিনি বলেন, ইরানিরা শক্তির কাছে নতি স্বীকার করে না।
তবে একজন জ্যেষ্ঠ ইরানি কর্মকর্তার বরাত দিয়ে দ্য গার্ডিয়ান জানিয়েছে, তেহরান আলোচনায় অংশগ্রহণের বিষয়টি ইতিবাচকভাবে পর্যালোচনা করছে। খবর পাওয়া গেছে যে, ভ্যান্স উপস্থিত থাকলে ইরানের প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে আবারও সংসদ স্পিকার মোহাম্মদ বাঘের গালিবাফ থাকতে পারেন।
গালিবাফ পরে বলেন, হুমকির মুখে থাকা অবস্থায় ইরান যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কোনো আলোচনা অংশ নেবে না। মঙ্গলবার ভোরে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমরা রণক্ষেত্রে নতুন কার্ড (তুরুপের তাস) উন্মোচনের প্রস্তুতি নিয়েছি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে তার অভিযোগ, ট্রাম্প তার নিজস্ব কল্পনায় এই আলোচনার টেবিলকে আত্মসমর্পণের টেবিলে পরিণত করতে চাইছেন অথবা নতুন করে যুদ্ধংদেহী মনোভাবকে সঠিক প্রমাণ করতে চাইছেন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে মার্কিন নৌ-অবরোধ অবসানের আহ্বান জানিয়েছে তেহরান। অন্যদিকে, ট্রাম্প তার সেই পুরনো দাবির পুনরাবৃত্তি করেছেন যে ইরানকে কখনোই পারমাণবিক অস্ত্র তৈরি করতে দেওয়া হবে না এবং এমনকি ইরানি নেতাদের সঙ্গে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করার ইচ্ছাও প্রকাশ করেছেন তিনি।
এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট নিউইয়র্ক পোস্টকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ভ্যান্স এবং তার দল এখনই রওনা হচ্ছে এবং সেদিন সন্ধ্যায় তারা ইসলামাবাদ পৌঁছাবে—এমন কথা বলে পরিস্থিতি কিছুটা বিভ্রান্তিকর করে তুলেছিলেন। অবশ্য পরে মার্কিন কর্মকর্তারা জানান, যদিও সোমবার ভ্যান্সের রওনা হওয়া নিয়ে আলোচনা হয়েছিল, তবে আলোচনা শুরু হওয়ার বিষয়টি নিশ্চিত হলে ভাইস প্রেসিডেন্ট আসলে মঙ্গলবার সকালে রওনা হবেন।
ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে মার্কিন ও ইসরায়েলি বোমা হামলার মাধ্যমে শুরু হওয়া যুদ্ধ অবসানের লক্ষ্যে উচ্চ পর্যায়ের এই দ্বিতীয় দফা আলোচনা আগামীকাল (বুধবার) অনুষ্ঠিত হতে পারে। তবে এই আলোচনার প্রেক্ষাপটে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর হুমকিও রয়েছে।
ট্রাম্প বলেছেন, তিনি এখন মনে করেন, ইরানের সঙ্গে দুই সপ্তাহের যুদ্ধবিরতি ওয়াশিংটন সময় বুধবার সন্ধ্যায় শেষ হবে। ইসলামাবাদে গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকটি করার সুযোগ দিতে তিনি বিরতির সময় আরও ২৪ ঘণ্টা বাড়িয়েছেন।
ব্লুমবার্গকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, এটি আরও বাড়ানোর সম্ভাবনা খুবই কম। তিনি ইঙ্গিত দেন যে এর পরেই পুনরায় বোমা হামলা শুরু হতে পারে। তবে তিনি এও বলেছেন, আমি তাড়াহুড়ো করে কোনো খারাপ চুক্তি করব না। আমাদের হাতে যথেষ্ট সময় আছে।
চলতি মাসের শুরুর দিকে ইরানের সঙ্গে ২১ ঘণ্টা ধরে চলা ব্যর্থ আলোচনায় মার্কিন প্রতিনিধিদলের নেতৃত্বে ছিলেন ভ্যান্স। তবে ইরান ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ বন্ধ করতে এবং তাদের ৪৪০ কেজি উচ্চমাত্রার সমৃদ্ধ ইউরেনিয়াম যুক্তরাষ্ট্রের কাছে হস্তান্তর করার দাবিতে রাজি হয়নি বলে আলোচনা ভেস্তে যায়।
ইরানিরা জানিয়েছিল, যুক্তরাষ্ট্রের ওপর বিশ্বাসের ঘাটতি রয়ে গেছে এবং তারা এই নিশ্চয়তা চেয়েছিল যে চূড়ান্ত চুক্তিতে পৌঁছালে তাদের ওপর আর হামলা করা হবে না। যদিও পাঁচ সপ্তাহের যৌথ মার্কিন-ইসরায়েলি অভিযানে ইরানে ব্যাপক বোমা হামলা চালানো হয়েছে, তবে তেহরানের নেতৃত্ব বিশ্বাস করে না যে তারা পরাজিত হয়েছে।
এদিকে, পাকিস্তান রবিবার থেকেই সম্ভাব্য আলোচনার প্রস্তুতি নিচ্ছে; দেশটির রাজধানীতে কঠোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা গ্রহণ এবং গণপরিবহন চলাচল স্থগিত করেছে। ইসলামাবাদের বিদ্যুৎ বোর্ডও প্রতিশ্রুতি দিয়েছে যে আলোচনা চলাকালীন শহরে লোডশেডিং বন্ধ রাখা হবে।
ইরান ও যুক্তরাষ্ট্র কর্তৃক হরমুজ প্রণালি দ্বিমুখীভাবে বন্ধ রাখার ফলে সৃষ্ট তেল ও গ্যাস সংকটের কারণে পাকিস্তানের শহরগুলোতে দিনে ৬ থেকে ৭ ঘণ্টা বিদ্যুৎ বিভ্রাট এখন সাধারণ বিষয়ে পরিণত হয়েছে।
কৌশলগত এই জলপথ অতিক্রমকারী বাণিজ্যিক জাহাজের ওপর টোল আদায়ের ইরানের সিদ্ধান্তের প্রতিক্রিয়ায় ট্রাম্প ইরানি বন্দরগুলোর ওপর অবরোধ আরোপ করেছিলেন। গত রবিবার মার্কিন সামরিক বাহিনী একটি ইরানি পতাকাবাহী কন্টেইনার জাহাজ জব্দ করে, যা শান্তি আলোচনা পুনরায় শুরু হওয়ার পথে উত্তেজনা বাড়াতে পারে বলে উদ্বেগ তৈরি করেছে।
মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড জানিয়েছে, তুসকা নামক জাহাজটির ক্রুরা ছয় ঘণ্টা ধরে দেওয়া সতর্কবার্তা উপেক্ষা করার পর সেটিকে জব্দ করা হয়। একটি মার্কিন ডেস্ট্রয়ার থেকে গোলাবর্ষণ করে জাহাজের ইঞ্জিন বিকল করে দেওয়া হয় এবং এরপর হেলিকপ্টার থেকে দড়ি বেয়ে ইউএসএস ত্রিপোলির মেরিন সেনারা জাহাজটি নিয়ন্ত্রণে নেয়।
ইরান শুক্রবার সাময়িকভাবে তাদের অবরোধ তুলে নিয়েছিল। তবে যুক্তরাষ্ট্র পাল্টা অবরোধ প্রত্যাহার না করায় শনিবার তারা পুনরায় তা কার্যকর করে। শনিবার ওই অঞ্চলে একটি ট্যাঙ্কারে ইরানের বিপ্লবী গার্ড বাহিনী হামলা চালায় এবং দ্বিতীয় একটি কন্টেইনার জাহাজে অজ্ঞাত ক্ষেপণাস্ত্র আঘাত হানে।
হরমুজ প্রণালিতে বাণিজ্যিক জাহাজ চলাচল আবারও প্রায় স্থবির হয়ে পড়েছে। শনিবারে ১৮টি জাহাজ চলাচল করলেও সোমবারে মাত্র তিনটি ট্যাঙ্কার প্রণালি পার হয়েছে। সোমবার অপরিশোধিত তেলের দাম ৫ ডলার বেড়ে ৯৫ ডলার ছাড়িয়েছে, যা ওই অঞ্চলে নতুন করে তৈরি হওয়া বিপদেরই প্রতিফলন।
মার্কিন পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ইসরায়েল ও লেবানন বৃহস্পতিবার ওয়াশিংটনে রাষ্ট্রদূত পর্যায়ে দ্বিতীয় দফা আলোচনায় বসার কথা রয়েছে। গত সপ্তাহে ১০ দিনের যুদ্ধবিরতি ঘোষণার পর এটিই দেশ দুটির মধ্যে প্রথম আলোচনা হবে।
এদিকে, ইসরায়েল দক্ষিণ লেবাননের বাসিন্দাদের সীমান্ত-সংলগ্ন একটি অঞ্চল থেকে দূরে থাকতে বলেছে এবং লিটানি নদী এলাকার কাছাকাছি না যেতে হুঁশিয়ারি দিয়েছে। যুদ্ধবিরতি চলাকালীন ওই এলাকায় নিজেদের সামরিক নিয়ন্ত্রণ আরও সুসংহত করার চেষ্টা করছে দেশটি। সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে দেশটির সামরিক বাহিনীর পোস্ট করা একটি মানচিত্রে সীমান্তের ৫ থেকে ১০ কিলোমিটার এলাকার ভেতরে থাকা ২১টি গ্রামের ওপর দিয়ে একটি লাল রেখা টেনে দেওয়া হয়েছে।
১৪ দিন আগে
মালয়েশিয়ায় ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ড, ১ হাজার বাড়ি ভস্মীভূত
মালয়েশিয়ার একটি উপকূলীয় অঞ্চলে ভয়াবহ অগ্নিকাণ্ডে প্রায় ১ হাজার বাড়িঘর ভস্মীভূত হয়েছে। এই ঘটনায় ৯ হাজারের বেশি মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ এপ্রিল) ভোরে বোর্নিও দ্বীপের সান্দাকান জেলায় এই অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয়। এরপর কাঠের তৈরি সারিবদ্ধ ঘরগুলোতে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে বলে জানিয়েছে দেশটির দমকল ও জরুরি উদ্ধার বিভাগ।
কর্মকর্তারা বলেন, প্রচণ্ড বাতাস এবং ঘরগুলোর পাশাপাশি অবস্থানের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়াও যাতায়াতের পথ দুর্গম হওয়ায় ক্ষতিগ্রস্ত এলাকায় দ্রুত পৌঁছে আগুন নিয়ন্ত্রণ করা জরুরি সেবাকর্মীদের জন্য কঠিন হয়ে পড়ে।
অগ্নিকাণ্ডে এখন পর্যন্ত কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া না গেলেও হাজার হাজার বাসিন্দা ঘরছাড়া হয়ে অস্থায়ী আশ্রয়ে যেতে বাধ্য হয়েছে।
১৫ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় ১০ হাজার কর্মী প্রশিক্ষণের উদ্যোগ
শ্রীলঙ্কায় নির্মাণ খাতে শ্রমিক সংকট মোকাবিলায় দেশটির সেনাবাহিনীর মাধ্যমে ১০ হাজার নির্মাণ শ্রমিককে প্রশিক্ষণ দেওয়ার একটি কর্মসূচি শুরু করেছে সেখানকার সরকার। দেশীয় জনশক্তি তৈরির মাধ্যমে এই খাতে স্থিতিশীল কর্মসংস্থান নিশ্চিত করার উদ্দেশ্যেই এই উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (২০ এপ্রিল) দেশটির গৃহায়ণ, নির্মাণ ও পানি পরিষেবা মন্ত্রণালয় এ তথ্য জানিয়েছে।
সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের মতে, শ্রীলঙ্কায় নির্মাণ শিল্পে বর্তমানে প্রায় ৭ হাজার ৫০০টি শূন্য পদ রয়েছে। এ সংকট মোকাবিলায় শ্রীলঙ্কা সরকার প্রথমদিকে বিদেশি শ্রমিক নিয়োগের বিষয়টি ভেবেছিল। পরে দেশীয় কর্মী তৈরি করেই এই চাহিদা পূরণের সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।
এই উদ্যোগকে সফল করতে নির্মাণ কোম্পানিগুলোর সঙ্গে সরকারের আলোচনা চলছে, যাতে নির্মাণ খাতের প্রয়োজনের সঙ্গে এই প্রশিক্ষণ কার্যক্রম সামঞ্জস্যপূর্ণ হয়। পাশাপাশি, কর্তৃপক্ষ নির্মাণ শ্রমিক পেশাকে একটি স্বীকৃত পেশা হিসেবে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়ার জন্যও কাজ করছে।
এই কর্মসূচি মূলত সেইসব তরুণ-তরুণীদের জন্য যারা তাদের অ্যাডভান্সড লেভেল পরীক্ষা সম্পন্ন করেছে, কিন্তু এখনও উচ্চশিক্ষা বা কোনো চাকরিতে যুক্ত হননি। কর্মসূচিতে তরুণ-তরুণীদের অন্তর্ভুক্ত করার জন্য প্রচার অভিযান চালাচ্ছে দেশটির সরকার। প্রশিক্ষণের জন্য উপযুক্ত প্রার্থী শনাক্ত করতে বাছাই প্রক্রিয়াও চলছে।
কর্তৃপক্ষ মনে করছে, কর্মসংস্থানের অনিশ্চয়তার জন্য নির্মাণ খাতে আসতে মানুষ নিরুৎসাহিত হচ্ছে। এই খাতে সাধারণত প্রকল্পভিত্তিক কাজ হওয়ায় শ্রমিকদের মাঝেমধ্যেই বেকার বসে থাকতে হয়। তবে নতুন এই উদ্যোগের মাধ্যমে শ্রমিকদের নিয়মিত বেতন ও মানসম্মত কর্মপরিবেশ নিশ্চিত করে নির্মণ খাতে আরও স্থিতিশীল কর্মসংস্থান তৈরি করা সম্ভব হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
উল্লেখ্য, অতীতেও শ্রীলঙ্কায় নির্মাণ খাতে তীব্র শ্রমিক সংকট দেখা গেছে। তবে সাইক্লোন দিতওয়াহের পর পুনর্গঠন কার্যক্রমে বড় পরিসরে আবাসন প্রকল্প গ্রহণ করা হয়। ফলে তখন শ্রমিকের চাহিদা হঠাৎ বেড়ে যায়।
১৫ দিন আগে
জাপানে শক্তিশালী ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, সুনামির সতর্কতা জারি
জাপানের উত্তর উপকূলের কাছে ৭.৭ মাত্রার একটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এরপর ওই অঞ্চলে সুনামির সতর্কতা জারি করেছে দেশটির আবহাওয়া সংস্থা।
সোমবার (২০ এপ্রিল) স্থানীয় সময় বিকেল প্রায় ৪টা ৫৩ মিনিটে জাপানের উত্তরাঞ্চলের সানরিকু উপকূলের কাছে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
জাপান আবহাওয়া সংস্থা জানায়, রিখটার স্কেলে ভূমিকম্পটি মাত্রা ছিল ৭.৭। সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার গভীরে এটি আঘাত হানে।
সুনামির বিষয়ে সতর্ক করে জাপানের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, অল্প সময়ের মধ্যেই ওই এলাকায় সর্বোচ্চ ৩ মিটার (১০ ফুট) উচ্চতার সুনামি আঘাত হানতে পারে।
এর আগে জাপানে ২০১১ সালের ১১ মার্চ ৯.০ মাত্রার একটি ভূমিকম্প ও এর ফলে সৃষ্ট সুনামিতে ২২ হাজারের বেশি মানুষের প্রাণ হারান। ওই দুর্যোগে প্রায় পাঁচ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়।
সুনামিতে ক্ষতিগ্রস্ত ফুকুশিমা দাইইচি পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্র থেকে নির্গত বিকিরণের কারণে ফুকুশিমা এলাকা থেকে প্রায় ১ লাখ ৬০ হাজার মানুষ ঘরবাড়ি ছেড়ে পালিয়ে যায়। বিকিরণ নিয়ে উদ্বিগ্নতায় প্রায় ২৬ হাজার মানুষ সেখানে আর ফিরে আসেননি। এসব মানুষ নিজের এলাকা ছেড়ে এখন অন্যত্র স্থায়ীভাবে বসবাস শুরু করেছেন।
১৫ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রে বাবার হাতে ৭ সন্তানসহ ৮ শিশু খুন
যুক্তরাষ্ট্রের লুইজিয়ানায় নিজের ৭ সন্তানসহ মোট আটটি শিশুকে হত্যা করেছেন এক ব্যক্তি।
স্থানীয় সময় রবিবার (১৯ এপ্রিল) সকালে ডাউনটাউন শ্রিভপোর্টের দক্ষিণে একটি এলাকার দুটি বাড়িতে হামলা চালিয়ে তিনি এ ঘটনা ঘটান বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
ঘাতক ব্যক্তির নাম শামার এলকিন্স (৩১)। তিনি লুইজিয়ানার শ্রিভপোর্ট এলাকার বাসিন্দা।
পুলিশ জানান, সব শিশু একই বাড়িতে নিহত হয়েছে এবং তাদের বয়স ছিল ৩ থেকে ১১ বছরের মধ্যে। এসব শিশুদের মধ্যে ৩ জন ছেলে ও ৫ জন মেয়ে ছিল। এই হামলা শ্রিভপোর্ট এলাকায় সাম্প্রতিক বছরগুলোর মধ্যে দেশের সবচেয়ে প্রাণঘাতী হামলার মধ্যে অন্যতম। এ ঘটনায় স্তব্ধ হয়ে গেছে গোটা এলাকা।
শ্রিভপোর্ট পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র ক্রিস বর্ডেলন জানান, দুই নারীকে গুলিবিদ্ধ অবস্থায় পাওয়া গেছে এবং তাদের অবস্থা আশঙ্কাজনক। এর মধ্যে একজন আততায়ী এলকিন্সের স্ত্রী।
তিনি আরও জানান, প্রায় সঙ্গে সঙ্গে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছে হামলাকারী এলকিন্সকে ধাওয়া দেয়। এ সময় পুলিশের গুলিতে তিনি নিহত হন।
তবে কী কারণে এই সহিংসতা ঘটেছে, তা এখনও জানা না গেলেও বর্ডেলন বলেন, এটি যে ‘সম্পূর্ণরূপে পারিবারিক’ ঘটনা, সে বিষয়ে তদন্তকারীরা নিশ্চিত।
শ্রিভপোর্ট পুলিশের প্রধান ওয়েন স্মিথ বলেন, এই ঘটনায় আমি বাকরুদ্ধ। কী বলব বুঝতে পারছি না। এমন একটি ঘটনাও যে ঘটতে পারে, তা আমি কল্পনাও করতে পারি না।
বর্ডেলন বলেন, এলকিন্সকে পুলিশ আগে থেকেই চিনত। অস্ত্র-সংক্রান্ত মামলায় ২০১৯ সালে তাকে একবার গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। তবে কোনো পারিবারিক সহিংসতার ঘটনা সম্পর্কে তারা ওয়াকিবহাল ছিলেন না।
পুলিশ জানায়, গতকাল (রবিবার) সকালে সূর্য ওঠার আগেই এই অর্তকিত হামলা শুরু হয়। প্রথমে তিনি একটি বাড়িতে ঢুকে এক নারীকে গুলি করেন। এ ঘটনার পরপরই আরেকটি বাড়িতে গিয়ে তিনি একসঙ্গে ৮টি শিশুকে গুলি করে হত্যা করেন। বাড়ির ভেতর থেকে ৭ শিশু এবং বাড়ির ছাদ থেকে আরও একটি শিশুর মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে, হত্যাকাণ্ডের পর তিনি পালিয়ে বাঁচার চেষ্টা করছিলেন।
শ্রিভপোর্ট পুলিশ বিভাগের মুখপাত্র বর্ডেলন জানান, আরেকটি শিশু ছাদ থেকে লাফ দিয়ে প্রাণে বেঁচে গেছে। তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
লুইজিয়ানা অঙ্গরাজ্যের মুখপাত্র ট্যামি ফেল্পস জানান, কয়েকটি শিশু পেছনের দরজা দিয়ে পালানোর চেষ্টা করেছিল। তিনি বলেন, ‘ঘটনাস্থলে গিয়ে পুলিশ ও প্রত্যক্ষদর্শীরা যে দৃশ্য দেখেছেন, তা আমি কল্পনাও করতে পারি না।’
স্ত্রীর সঙ্গে বিচ্ছেদের পথে ছিলেন এলকিন্স
আহত নারীদের মধ্যে একজনের চাচাতো বোন ক্রিস্টাল ব্রাউন জানান, শামার এলকিন্স ও তার স্ত্রী বিচ্ছেদের পথে ছিলেন এবং আজ (সোমবার) তাদের আদালতে যাওয়ার কথা ছিল। বিচ্ছেদ নিয়ে তাদের মধ্যে তর্ক-বিতর্ক চলছিল।
তিনি বলেন, ‘এলকিন্স তার সন্তানদের হত্যা করেছে এবং স্ত্রীকে আহত করেছে।’
তিনি আরও জানান, এলকিন্সের তার স্ত্রীর সঙ্গে চারটি সন্তান এবং কাছাকাছি বসবাসকারী আরেক নারীর সঙ্গে আরও তিনটি সন্তান ছিল।
শিশুদের সম্পর্কে ব্রাউন বলেন, ‘শিশুরা সবাই খুব হাসিখুশি, প্রাণোচ্ছল এবং মিষ্টি স্বভাবের ছিল।’
ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী প্রতিবেশী যা জানালেন
ঘটনাস্থল থেকে দুই বাড়ি দূরে বসবাস করা লিজা ডেমিং জানান, দুটি গুলির শব্দ শোনার পরপরই তার বাড়ির সিসি ক্যামেরায় এলকিন্সকে দৌড়ে পালাতে দেখা যায়। পরে বাড়িতে গিয়ে ছাদে একটি শিশুর মরদেহ ঢাকা অবস্থায় দেখতে পান তিনি।
তিনি বলেন, ‘দেখলাম যে তিনি বাড়ি থেকে দৌড়ে বেরিয়ে দ্রুত গাড়িতে উঠে চলে যাচ্ছেন।’
নিকটবর্তী সেন্ট গ্যাব্রিয়েল কমিউনিটি ব্যাপ্টিস্ট চার্চের পাদ্রি মার্টি টি জনসন সিনিয়র জানান, ওই বাড়িটি পরিবারটিকে ভাড়া দিয়েছিলেন তারই এক কর্মচারী। তবে, তিনি নিজে তাদের সঙ্গে সরাসরি কোনো যোগাযোগ রাখেননি।
প্যারিশের জেলা অ্যাটর্নির দপ্তর এক বিবৃতিতে জানায়, একটি পারিবারিক বিরোধ অপূরণীয় ক্ষতির মধ্যে দিয়ে শেষ হলো।
শোকে স্তব্ধ শ্রিভপোর্ট
অ্যাসোসিয়েটেড প্রেস, ইউএসএ টুডে এবং নর্থইস্টার্ন ইউনিভার্সিটির যৌথ তথ্য অনুযায়ী, রবিবারে প্রাণঘাতী ঘটনাটি ২০২৪ সালের জানুয়ারিতে শিকাগোর একটি উপশহরে আটজন নিহত হওয়ার ঘটনার পর যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে প্রাণঘাতী ঘটনা।
ঘটনার পর সংবাদ সম্মেলনে স্থানীয় প্রশাসনের কর্মকর্তাদের অত্যন্ত গম্ভীর অবস্থায় দেখা যায়। তারা ওই এলাকার মানুষের কাছে ধৈর্য ও প্রার্থনা কামনা করেন।
শহরের মেয়র টম আর্সেনো বলেন, ‘এটি একটি মর্মান্তিক পরিস্থিতি; সম্ভবত আমাদের দেখা সবচেয়ে ভয়াবহ ঘটনা। এটি ছিল দুঃস্বপ্নময় একটি সকাল।’
ঘটনার কয়েক ঘণ্টা পর শোকাহত মানুষজন ৭৯তম স্ট্রিটের ওই একতলা বাড়িটির সামনে জড়ো হয়ে পুষ্প অর্পণ করেন। সন্ধ্যায় নিকটবর্তী এক প্রার্থনা অনুষ্ঠানে মোমবাতি জ্বালিয়ে নিহতদের স্মরণ করে এলাকাবাসী।
তাদের মধ্যে একজন বলেন, ‘এই ঘটনা সন্তানদের আরও কাছে টেনে নিতে, জড়িয়ে ধরতে এবং আপনি তাদের কতটা ভালোবাসেন, তা বলতে আপনাকে বাধ্য করবে।’
১৫ দিন আগে