বিশ্ব
সুদানে ছয় মাসে ৩ শতাধিক শিশু হতাহত: ইউনিসেফ
সুদানের চলমান যুদ্ধে গত ছয় মাসে ৩ শতাধিক শিশু নিহত বা আহত হয়েছে, যার বেশিরভাগই ড্রোন হামলার শিকার বলে জানিয়েছে জাতিসংঘের শিশু বিষয়ক সংস্থা ইউনিসেফ।
২০২৩ সালের এপ্রিল থেকে সুদানের সেনাবাহিনী ও আধাসামরিক বাহিনী র্যাপিড সাপোর্ট ফোর্সেসের (আরএসএফ) মধ্যে যুদ্ধ চলছে।
ইউনিসেফ জানায়, বর্তমানে করদোফান, দারফুর ও ব্লু নাইল অঙ্গরাজ্যগুলোতে সংঘাত সবচেয়ে তীব্র। এসব এলাকায় মোট হতাহতের প্রায় ৬০ শতাংশ ঘটছে ড্রোন হামলার কারণে।
উত্তর করদোফানের কৌশলগত শহর এল-ওবেইদের নিয়ন্ত্রণ নিয়ে সেনাবাহিনী ও আরএসএফের লড়াইয়ের মধ্যে সম্ভাব্য নৃশংসতা নিয়ে জাতিসংঘ, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্যসহ বিভিন্ন দেশ উদ্বেগ প্রকাশ করেছে।
সোমবার (৬ জুলাই) জেনেভায় জাতিসংঘ-সমর্থিত মানবাধিকার পরিষদ পাঁচটি ইউরোপীয় দেশের উত্থাপিত একটি প্রস্তাব ভোট ছাড়াই অনুমোদন করে। এতে এল-ওবেইদ এবং আশপাশের এলাকায় আরএসএফ ও তাদের মিত্রদের সহিংসতা বৃদ্ধির নিন্দা জানানো হয়।
প্রস্তাবে সুদান থেকে পালিয়ে আসা শরণার্থীদের আশ্রয় দেওয়া দেশগুলোকে আরও বেশি সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানানো হয়। একই সঙ্গে যুদ্ধে ‘সব ধরনের বহিরাগত হস্তক্ষেপের’ নিন্দা জানানো হয়।
সংঘাতে সুদানে এ পর্যন্ত অন্তত ৫৯ হাজার মানুষ নিহত, প্রায় এক কোটি ৩০ লাখ মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে। দেশটির বহু এলাকা দুর্ভিক্ষের মুখে পড়েছে। বর্তমানে দেশটিতে তিন কোটির বেশি মানুষের মানবিক সহায়তা প্রয়োজন।
ড্রোন হামলা ও গোলাবর্ষণে স্কুল, বাজার, জ্বালানি সংরক্ষণাগার এবং পানি সরবরাহকেন্দ্রসহ বিভিন্ন বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে পাঁচ লাখের বেশি মানুষ ঝুঁকির মধ্যে রয়েছে। অনেক এলাকায় এক বছরেরও বেশি সময় ধরে বেসামরিক মানুষ প্রায় অবরুদ্ধ অবস্থায় জীবনযাপন করছে।
সুদানে ইউনিসেফের প্রতিনিধি শেলডন ইয়েট বলেন, ‘শিশুরা অবিরাম সহিংসতা, বাস্তুচ্যুতি ও বঞ্চনার এক নির্মম চক্রের মধ্যে আটকে পড়েছে।’
এমন পরিস্থিতিতে সংঘাতের সব পক্ষের প্রতি বেসামরিক মানুষ ও বেসামরিক অবকাঠামো সুরক্ষিত রাখা, নিরাপদ, দ্রুত ও বাধাহীন মানবিক সহায়তা পৌঁছানোর সুযোগ নিশ্চিত করা এবং শিশুদের ক্ষতি থেকে রক্ষায় সম্ভাব্য সব ধরনের ব্যবস্থা নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে জাতিসংঘ।
২৮ দিন আগে
ইউক্রেনে ফের রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা, নিহত অন্তত ১৮
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ১৮ জন নিহত এবং ৬০ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৬ জুলাই) ভোরে এ হামলা চালানো হয়।
এই হামলার কয়েক ঘণ্টা আগেই অবশ্য রাজধানীতে রাশিয়ার আরেকটি বড় ধরনের হামলা হতে পারে সতর্ক করেছিলেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি।
স্থানীয় কর্মকর্তারা জানান, এ হামলায় কিয়েভের একাধিক আবাসিক বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপে জীবিত কাউকে খুঁজে পেতে অভিযান চালাচ্ছেন উদ্ধারকর্মীরা।
কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো এক টেলিগ্রাম পোস্টে বলেন, রাশিয়া আবাসিক ভবনগুলোতে হামলা চালিয়েছে। এসব ভবনে মানুষ নিশ্চিন্তে ঘুমাত। এখানে তারা স্বাভাবিক জীবনযাপন করত।
তিনি জানান, পোদিলস্কি জেলায় একটি আবাসিক ভবনের একটি অংশ ধসে পড়েছে। এছাড়া দারনিৎসিয়া জেলায় কয়েকটি বহুতল ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। সেখানে ধ্বংসস্তূপের নিচে মানুষ আটকে পড়ে থাকতে পারেন বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
দেশটির কর্তৃপক্ষ জানায়, এ হামলায় ব্যালিস্টিক ও ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের পাশাপাশি ড্রোনও ব্যবহার করা হয়েছে। দফায় দফায় বিস্ফোরণের শব্দে পুরো কিয়েভ শহর কেঁপে উঠেছিল। এ সময় নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে অনেক মানুষ মেট্রো স্টেশনগুলোতে আশ্রয় নেন।
গত সপ্তাহে কিয়েভে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় অন্তত ৩১ জন নিহত হয়েছে। তার কয়েক দিনের পরেই আবারও সোমবার এই হামলা করল রাশিয়া।
গত রবিবার গভীর রাতে টেলিগ্রামে দেওয়া এক পোস্টে জেলেনস্কি পশ্চিমা মিত্রদের প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা আরও শক্তিশালী করার আহ্বান জানান। বিশেষ করে ইউক্রেনে আরও বেশি প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ক্ষেপণাস্ত্র সরবরাহের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। পোস্টে তিনি উল্লেখ করেন, ইউক্রেনের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র পর্যাপ্ত পরিমাণে না থাকলে রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র হামলা প্রতিহত করা কঠিন হবে। এতে রাশিয়া আরও হামলা চালাতে উৎসাহিত হবে। এর ফলে চার বছর ধরে চলা এই যুদ্ধ আরও দীর্ঘায়িত হবে।
২৮ দিন আগে
শ্রীলঙ্কায় কারাগারে ভয়াবহ সংঘর্ষ, নিহত অন্তত ২৫
শ্রীলঙ্কার রাজধানী কলম্বোর উপকণ্ঠে একটি কারাগারের ভেতরে ভয়াবহ সংঘর্ষে হয়েছে। এ ঘটনায় অন্তত ২৫ জন নিহত এবং শতাধিক ব্যক্তি আহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে বন্দি ও কারারক্ষী উভয়ই রয়েছেন।
রবিবার (৫ জুলাই) কলম্বো থেকে প্রায় ৩৫ কিলোমিটার উত্তরে নেগোম্বোর কারাগারে সংঘর্ষের সূত্রপাত হয়, যা আজ সোমবারও অব্যাহত রয়েছে বলে স্থানীয় গণমাধ্যম ও পুলিশের প্রকাশিত তথ্য থেকে জানা গেছে।
কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে স্থানীয় টেলিভিশন চ্যানেল হিরু জানিয়েছে, সংঘর্ষে ২৫ জন নিহত হয়েছেন এবং ১০০ জনের বেশি আহত হয়েছেন।
পুলিশের মুখপাত্র চন্দনা হেরাথ কারাগারের ভেতরে সংঘর্ষ এবং হতাহতের ঘটনা নিশ্চিত করলেও এ বিষয়ে বিস্তারিত মন্তব্য করতে রাজি হননি। তবে সংঘর্ষের কারণ তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
এলাকার প্রধান সরকারি হাসপাতালের এক কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, কারাগারের সংঘর্ষে আহত শতাধিক ব্যক্তিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে। তবে আহতদের আঘাতের ধরন সম্পর্কে তিনিও কোনো তথ্য দেননি।
শ্রীলঙ্কার কারাগারগুলো দীর্ঘদিন ধরে তীব্র ধারণক্ষমতা সংকটে ভুগছে। দেশটির কারা ব্যবস্থার মোট ধারণক্ষমতা ১০ হাজার হলেও বর্তমানে সেখানে ৩৯ হাজারের বেশি বন্দি রয়েছেন।
২৮ দিন আগে
অস্ট্রেলিয়ার কুইন্সল্যান্ডে সৈকতে ভেসে এল রহস্যময় বস্তু
অস্ট্রেলিয়ার উত্তর কুইন্সল্যান্ডের সৈকতে রহস্যজনকভাবে ভেসে এসেছে ৬টি বড় আকৃতির গোলাকার বস্তু। প্রাথমিকভাবে এগুলোকে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ বা ‘স্পেস বল’ বলে ধারণা করছেন বিশেষজ্ঞরা।
বিশেষজ্ঞদের আশঙ্কা, এগুলো রকেটের জ্বালানি ব্যবস্থার অংশ হতে পারে এবং এর ভেতরে অত্যন্ত বিষাক্ত রকেট জ্বালানি অবশিষ্টাংশ থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।
তবে এ নিয়ে স্থানীয় জনগণের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই বলে জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ।
অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সি স্থানীয় সময় রবিবার (৫ জুলাই) জানিয়েছে, রহস্যময় এসব বস্তু কোথা থেকে এসেছে, তা শনাক্তে তারা কাজ করছে। এর আগে পুলিশ জানিয়েছিল, বস্তুগুলোতে বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ থাকতে পারে বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।
বিভিন্ন সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত ছবিতে দেখা গেছে, টাউনসভিলের ফরেস্ট বিচ এলাকায় সৈকতে ভেসে আসা বস্তুগুলো দেখতে বড় আকৃতির ধাতব গোলকের মতো।
রবিবার কুইন্সল্যান্ড ফায়ার ডিপার্টমেন্ট জানিয়েছে, সৈকত থেকে মোট ৬টি বস্তু উদ্ধার করা হয়েছে। এর মধ্যে ৫টি নিরাপদে ড্রামের মধ্যে সংরক্ষণ করা হয়েছে। আর ষষ্ঠ বস্তুটিকে নিরাপদে রাখার কাজ চলছে।
অন্যদিকে, ঘটনাটি নিয়ে স্থানীয়দের মধ্যে কৌতূহলেরও কমতি নেই। ‘ফরেস্ট বিচ টেকঅ্যাওয়ে’ নামে একটি স্থানীয় খাবারের দোকান ‘স্পেস জাঙ্ক স্ন্যাক বক্স’ নামে নতুন একটি খাবার বিক্রি শুরু করেছে। দোকানের সামনে থাকা একটি বোর্ডে মজার ছলে লেখা হয়েছে, ‘এই খাবার সৈকতে ভেসে আসা রহস্যময় বস্তু না, তাই নিশ্চিন্তে চিনে খেতে পারবেন।’
এদিকে, পুলিশ জানিয়েছে, সৈকতে রহস্যময় এসব বস্তু নিয়ে স্থানীয় জনগণের জন্য কোনো ধরনের ঝুঁকি নেই। এ বিষয়ে পুলিশও কোনো তদন্ত করছে না।
ফায়ার ডিপার্টমেন্ট এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, আগামী কয়েক দিনে উত্তর কুইন্সল্যান্ডে এমন আরও ধ্বংসাবশেষ ভেসে আসতে পারে। তবে এতে সেখানের জনসাধারণের জন্য কোনো ঝুঁকি নেই। তারপরও স্থানীয়দের অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির পরামর্শ ও তথ্য অনুসরণ করা উচিত।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়েছে, উদ্ধার হওয়া বস্তুগুলোর প্রকৃতি ও উৎস এখনও নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পুলিশ এবং ন্যাশনাল ইমার্জেন্সি ম্যানেজমেন্ট এজেন্সির সঙ্গে কাজ করা অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির একজন মুখপাত্র জানিয়েছেন, বস্তুগুলোকে প্রাথমিকভাবে মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ বলেই মনে করা হচ্ছে।
অস্ট্রেলিয়ান স্পেস এজেন্সির এক বিবৃতিতে বলা হয়েছে, সংস্থাটি উত্তর কুইন্সল্যান্ডের ফরেস্ট বিচে পাওয়া সন্দেহভাজন মহাকাশের ধ্বংসাবশেষের বিষয়ে স্থানীয় কর্তৃপক্ষকে সহায়তা করছে। একই সঙ্গে তারা এসব বস্তুর প্রকৃতি ও উৎস শনাক্তে কাজ করছে।
এ বিষয়ে ফ্লিন্ডার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের মহাকাশ প্রত্নতত্ত্ববিদ এবং মহাকাশের আবর্জনা বিষয়ক বিশেষজ্ঞ সহযোগী অধ্যাপক অ্যালিস গোরম্যান সংবাদমাধ্যমে প্রকাশিত একটি ভিডিও পর্যালোচনা বলেন, ‘বস্তুগুলোতে আগুনে পোড়া বা দগ্ধ হওয়ার কোনো চিহ্ন দেখা যাচ্ছে না।’
তিনি বলেন, ‘এতে ধারণা করা যায়, এগুলো কোনো রকেট উৎক্ষেপণের প্রথম বা দ্বিতীয় ধাপের অংশ হতে পারে, যা পৃথিবীতে ফিরে এসেছে। রকেটের বাকি অংশ পেলোড বহন করে মহাকাশে চলে গেছে।
তিনি আরও বলেন, ‘বস্তুগুলো রকেটের জ্বালানি ব্যবস্থার অংশের সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ বলে মনে হচ্ছে। এগুলো টাইটানিয়াম সংকর ধাতু দিয়ে তৈরি চাপযুক্ত জ্বালানি সংরক্ষণ পাত্র, যার গলনাঙ্ক অত্যন্ত বেশি।’
তিনি বলেন, ‘এ ধরনের বস্তুকে আসলে ‘স্পেস বল’ বলা হয় এবং উৎক্ষেপণের বহু বছর পরও এগুলো খুঁজে পাওয়া যায়। সম্ভবত এর আগে এ ধরনের বস্তু সমুদ্রপৃষ্ঠে পড়ে থাকার দৃশ্য কেউ দেখেনি।’
তবে গোরম্যান সংশয় প্রকাশ করে বলেন, ‘বস্তুগুলো মহাকাশ শিল্পের অংশ নাও হতে পারে। এগুলো সামুদ্রিক কোনো উৎস থেকেও আসতে পারে।’
তবে তিনি জানান, ‘যদি এগুলো সত্যিই ‘স্পেস বল’ হয়, তাহলে এর ভেতরে অত্যন্ত বিষাক্ত রকেট জ্বালানি হাইড্রাজিনের কিছু অবশিষ্টাংশ থাকতে পারে।
তিনি ধারণা করে বলেন, ‘এগুলো রাশিয়ার ফ্রেগাট রকেটের অংশও হতে পারে। কারণ ওইসব রকেটের জ্বালানিতেও একই ধরনের চাপযুক্ত জ্বালানি পাত্র ব্যবহার করা হয়।’
গোরম্যান বলেন, ‘১৯৮০ এর দশকের মার্কিন বিজ্ঞানভিত্তিক কৌতুক চলচ্চিত্র ‘স্পেসবলস’এর সঙ্গে এই বস্তুগুলোর কোনো সম্পর্ক নেই। ‘স্পেস বল’ হলো মহাকাশে রকেট নিক্ষেপের পর সবচেয়ে বেশি পাওয়া ধ্বংসাবশেষগুলোর একটি। এর আগেও বিশ্বের বিভিন্ন স্থানে এগুলো পাওয়া গেছে।’
তিনি আরও উল্লেখ করেন, বর্তমানে পৃথিবীর কক্ষপথে সচল উপগ্রহ, অচল যন্ত্রাংশ ও রকেট উৎক্ষেপণের পরিত্যক্ত র ৩০ হাজারেরও বেশি মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ ঘুরে বেড়াচ্ছে।
তিনি বলেন, ‘মহাকাশের আবর্জনা বেশিরভাগ সময় সমুদ্রের ওপর দিয়েই পৃথিবীতে ফিরে আসে। তবে অস্ট্রেলিয়া বিশাল স্থলভাগ হওয়ায় এখানে প্রায়ই মহাকাশের ধ্বংসাবশেষ পাওয়া যায়।’
তিনি আরও বলেন, ‘সাম্প্রতিক বছরগুলোতে মহাকাশে উৎক্ষেপণের সংখ্যা দ্রুত বেড়ে যাওয়ায় উপজাত হিসেবে মহাকাশের আবর্জনার সমস্যাও বাড়ছে।’
তিনি বলেন, ‘গত পাঁচ বছরে মহাকাশে যে পরিমাণ উৎক্ষেপণ হয়েছে, তা মানব ইতিহাসের আগের সব উৎক্ষেপণের মোট সংখ্যার চেয়েও বেশি। ফলে এখন আগের তুলনায় অনেক বেশি ধ্বংসাবশেষ পৃথিবীর বায়ুমণ্ডলে ফিরে আসছে।’
২৯ দিন আগে
ইরানের শীর্ষ কর্মকর্তাদের অংশগ্রহণে খামেনির জানাজা অনুষ্ঠিত
ইরানের প্রয়াত সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির জানাজায় দেশটির শীর্ষ রাজনৈতিক নেনতারা এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির ভাইয়েরা প্রকাশ্যে অংশ নিয়েছেন। জানাজা অনুষ্ঠানে যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পকে হত্যার আহ্বান জানিয়ে স্লোগান দেওয়া হয়েছে, যা দুই দেশের চলমান উত্তেজনাকে আরও বাড়িয়ে তুলেছে।
খামেনির শেষকৃত্যের আনুষ্ঠানিকতা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ইরান-যুক্তরাষ্ট্রের আলোচনা স্থগিত রাখা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে রাজধানী তেহরানে লাখো মানুষের উপস্থিতিতে ইরানের শীর্ষ রাজনৈতিক নেতাদের প্রকাশ্যে দেখা যাবে—এটি শুরুতে কেউ কল্পনাও করতে পারেনি। কারণ, যুদ্ধের শুরুতেই গত ২৮ ফেব্রুয়ারি চালানো বিমান হামলায় ৮৬ বছর বয়সী খামেনি, তার পরিবারের সদস্য এবং আরও কয়েকজন কর্মকর্তা নিহত হন। এর আগে যুদ্ধ চলাকালে যেসব নেতাদের প্রকাশ্যে দেখা গিয়েছেল, তাদের লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল।
তবে ইরানের নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনি এখনও প্রকাশ্যে আসেননি। ধারণা করা হচ্ছে, যে বিমান হামলায় তার বাবাকে হত্যা করা হেয়েছিল, একই বিমান হামলায় তিনিও আহত হয়েছিলেন। তারপর থেকেই তিনি আত্মগোপনে রয়েছেন। ইসরায়েল তাকেও হত্যারও হুমকি দিয়েছে।
এসবের মধ্যেই তিনি ধর্মতান্ত্রিক রাষ্ট্রের নেতৃত্ব দিচ্ছেন। পাশাপাশি তার নেতৃত্বাধীন শীর্ষ কর্মকর্তারা যুদ্ধের স্থায়ী অবসান ও হরমুজ প্রণালিতে জাহাজ চলাচল নিয়ে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আলোচনা চালিয়ে যাচ্ছেন। কারণ হরমুজ প্রণালিতে ইরানের পদক্ষেপ বৈশ্বিক জ্বালানি সরবরাহে বড় ধরনের প্রভাব ফেলতে পারে।
জানাজায় অংশ নেওয়া ৪২ বছর বয়সী নার্স জিবা নাদেরি জানান, দেশের বিষয়ে মোজতবা খামেনি যা নির্দেশ দেবেন, ইরানের সেটিই অনুসরণ করতে হবে। তিনি বলেন, ‘আমি প্রতিশোধের আহ্বান শুনেছি। কিন্তু আমাদের করণীয় কী, তা আমাদের নেতাই ঠিক করে দেবেন। আমরা তার নির্দেশ মেনে চলতে বাধ্য।’
জানাজায় দোয়া ও প্রতিশোধের আহ্বান
তেহরানের গ্র্যান্ড মোসাল্লায় ৯৭ বছর বয়সী শিয়া আলেম আয়াতুল্লাহ জাফর সোবহানি প্রয়াত খামেনি এবং তার পরিবারের নিহত সদস্যদের জানাজার নামাজে ইমামতি করেন।
সেখানে উপস্থিত ছিলেন খামেনির ছেলে মাসউদ, মেইসাম ও মোস্তাফা। তাদের সবাইকে যুদ্ধ শুরুর পর এই প্রথম প্রকাশ্যে দেখা গেছে। এছাড়া, ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ডের প্রধান জেনারেল আহমদ বাহিদিকেও জনতার মধ্যে দেখা যায়।
যুদ্ধ শুরুর পর বৃহস্পতিবার প্রথমবারের মতো তার ছবি গণমাধ্যমে প্রকাশ পেয়েছে। অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিকরা তাকে কালো বেসবল ক্যাপ পরে সাধারণ পোশাকধারী নিরাপত্তাকর্মীদের সঙ্গে দেখতে পান।
এছাড়া ইরানের প্রেসিডেন্ট মাসউদ পেজেশকিয়ান, পার্লামেন্টের স্পিকার মোহাম্মদ বাকের কালিবাফ এবং রেভল্যুশনারি গার্ডের কুদস ফোর্সের প্রধান ইসমাইল কানিও অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন।
শীর্ষ নেতাদের উপস্থিতির মধ্যেই গ্র্যান্ড মোসাল্লাজুড়ে টাঙানো পোস্টার ও দেয়াললেখায় ট্রাম্প ও ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুকে হত্যার আহ্বান জানানো হয়।
জানাজার অনুষ্ঠান শুরুর আগে সঞ্চালনার দায়িত্বে থাকা কবি মোহাম্মদ রাসুলি জনতার মধ্যে স্লোগান তোলেন, ‘আমেরিকার মৃত্যু হোক’ ও ‘ইসরায়েলের মৃত্যু হোক’।
অনুষ্ঠানে বক্তব্য দিতে গিয়ে রাসুলি ট্রাম্পকে উদ্দেশ্য করে বলেন, ‘পৃথিবীর সবচেয়ে জঘন্য মানুষটি এখনও কেন বেঁচে আছে?’ এ কথা শুনে উপস্থিত জনতা উল্লাসে ফেটে পড়ে। এরপর রাসুলি যখন বলেন, ‘পৃথিবী এখন আর ট্রাম্পের জন্য নিরাপদ জায়গা নয়’, তখন জনতা আরও উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে। খামেনির জানাজার এই আয়োজনেই ইরানে প্রথমবারের মতো প্রকাশ্যে কেউ ট্রাম্পের প্রণনাশ নিয়ে সরাসরি হুমকি দিল।
২৯ দিন আগে
ইরানে খামেনির শেষকৃত্য অনুষ্ঠান শুরু
ইরানের সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির দাফনকে কেন্দ্র করে আজ শনিবার থেকে কয়েক দিনের রাষ্ট্রীয় শোক কর্মসূচি শুরু হয়েছে। জাতীয় পতাকায় মোড়ানো খামেনির কফিনের প্রতি শেষ শ্রদ্ধা জানাতে রাজধানী তেহরানে শত শত হাজার মানুষ জড়ো হয়েছে। শোকাহত জনতা বুক চাপড়ে শোক প্রকাশের পাশাপাশি ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে প্রতিশোধের স্লোগান দিচ্ছে।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরান যুদ্ধের শুরুর দিকে এক বিমান হামলায় নিহত হন ৮৬ বছর বয়সী খামেনি। তার মৃত্যু ইরানের ইসলামি শাসনব্যবস্থা এবং নতুন সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ মোজতবা খামেনির নেতৃত্বকে আরও সুসংহত করার সুযোগ এনে দিতে পারে বলে বিশ্লেষকদের ধারণা।
এমন সময়ে এই শোকানুষ্ঠান শুরু হলো, যখন যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে যুদ্ধের স্থায়ী অবসান নিয়ে আলোচনা চালিয়ে যেতে ইরান হরমুজ প্রণালির ওপর নিজের প্রভাবকে কৌশলগতভাবে ব্যবহার করার চেষ্টা করছে। একই সঙ্গে ইসরায়েল আবারও হামলা চালাতে পারে—এমন আশঙ্কাও পুরোপুরি কাটেনি।
অনুষ্ঠানস্থল থেকে ইরানের প্রধান আলোচক কাজেম গারিবাবাদি ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্যকে সতর্ক করে বলেন, হরমুজ প্রণালিতে যৌথ টহলের সম্ভাবনা নিয়ে তাদের মন্তব্য উত্তেজনা আরও বাড়াতে পারে।
৩০ দিন আগে
কিয়েভে রাতভর রাশিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় নিহত অন্তত ১৩
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভে আবারও বড় ধরনের হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এ হামলায় অন্তত ১৩ জন নিহত এবং ৮৬ জন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) ভোর পর্যন্ত চলা এ হামলার পর উদ্ধার অভিযান এখনও অব্যাহত রয়েছে। তবে নিহতের সংখ্যা আরও বাড়তে পারে বলে আশঙ্কা করছেন দেশটির সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা।
একই সঙ্গে দেশটির সরকার মিত্র দেশগুলোর প্রতি ইউক্রেনের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা আরও শক্তিশালী করতে দ্রুত সহায়তা দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে।
ব্যালিস্টিক, ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন দিয়ে চালানো এ হামলায় শহরের বিভিন্ন ভবন ও বেসামরিক অবকাঠামো ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার প্রথম সতর্কবার্তা জারির পর ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এবং অন্যান্য কর্তৃপক্ষের আহ্বানে সেখানের বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য মেট্রো স্টেশনে চলে যান।
কিয়েভের মেয়র ভিটালি ক্লিচকো জানান, হামলায় কিয়েভে ১৩ জন নিহত ও ৮৬ জন আহত হয়েছেন। কিয়েভের সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তকাচেঙ্কো জানান, এ ঘটনায় শহরের অন্তত ৩০টি স্থানে ক্ষয়ক্ষতির তথ্য পাওয়া গেছে, যার বেশিরভাগই আবাসিক ভবন ও অন্যান্য বেসামরিক স্থাপনা।
এদিকে, স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ইহর ক্লিমেঙ্কো জানান, শহরজুড়ে অন্তত ২০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। ইউক্রেনের জরুরি সেবা বিভাগ জানায়, হামলার পর পরিস্থিতি মোকাবিলায় প্রায় ৫০০ জন কর্মী এবং ১০০টি বিশেষায়িত যান মোতায়েন করা হয়েছে। এর মধ্যে একটি হেলিকপ্টারও রয়েছে।
৩২ দিন আগে
সামুদ্রিক মাছের টেকসই ব্যবস্থাপনায় সহযোগিতা জোরদারে মালদ্বীপে সার্কের আঞ্চলিক বৈঠক
মালদ্বীপের রাজধানী মালেতে দুই দিনব্যাপী সার্কের আঞ্চলিক পরামর্শ সভা শুরু হয়েছে। এশিয়ার বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক (মেরিন ফিন ফিশ) মাছের টেকসই ব্যবস্থাপনা এবং এ খাতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার লক্ষ্যে এ সভার আয়োজন করা হয়েছে।
বুধবার (১ জুলাই) শুরু হওয়া এ সভায় সার্কভুক্ত দেশগুলোর নীতিনির্ধারক, জ্যেষ্ঠ মৎস্য কর্মকর্তা, গবেষক এবং উন্নয়ন সহযোগী প্রতিষ্ঠানের প্রতিনিধিরা অংশ নিচ্ছেন। সভার আয়োজন করেছে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টার, মালদ্বীপের মৎস্য, কৃষি ও মহাসাগরীয় সম্পদ মন্ত্রণালয় এবং বাংলাদেশের উন্নয়ন সংস্থা ‘সুশীলন’।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মালদ্বীপের মৎস্য, কৃষি ও মহাসাগরীয় সম্পদ মন্ত্রণালয়ের প্রতিমন্ত্রী মোহাম্মদ মুথথালিব।
তিনি বলেন, ‘খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং জলবায়ু পরিবর্তনের প্রভাব মোকাবিলায় মৎস্য খাতের ভূমিকা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। এ জন্য টেকসই সম্পদ ব্যবস্থাপনা ও আঞ্চলিক সহযোগিতার বিকল্প নেই।’
অনুষ্ঠানে ‘দক্ষিণ এশিয়ায় সামুদ্রিক পাখনাযুক্ত মাছ: বর্তমান ব্যবস্থাপনা পরিস্থিতি ও সহযোগিতার সম্ভাবনা’ শীর্ষক মূল প্রবন্ধ উপস্থাপন করেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন মৎস্যবিজ্ঞানী ও বাংলাদেশ মেরিটাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক ড. মো. আব্দুল ওহাব।
তিনি বলেন, অতিরিক্ত আহরণ, অবৈধ, প্রতিবেদনবিহীন ও অনিয়ন্ত্রিত মৎস্য আহরণ, জলবায়ু পরিবর্তন এবং সামুদ্রিক আবাসস্থলের অবক্ষয় দক্ষিণ এশিয়ার মৎস্যসম্পদের জন্য বড় সমস্যা। এসব সমস্যা মোকাবিলায় সমন্বিত আঞ্চলিক উদ্যোগ একান্ত জরুরি।
সভায় নেপালে অবস্থিত সার্ক সচিবালয়ের পরিচালক (এআরডি ও এসডিএফ) তানভীর আহমেদ তরফদার বলেন, ‘টেকসই মৎস্য ব্যবস্থাপনা, যৌথ গবেষণা, সামুদ্রিক খাদ্য প্রক্রিয়াজাতকরণ ও মূল্য সংযোজন এবং মৎস্য খাতে নারীদের অংশগ্রহণ বাড়াতে সার্ক দেশগুলোর সম্মিলিত উদ্যোগ আরও জোরদার করা প্রয়োজন।’
সভার উদ্বোধনী বক্তব্যে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের পরিচালক ড. মো. হারুনূর রশীদ বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পাখনাযুক্ত মাছের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও কার্যকর ও শক্তিশালী করতে হবে। এক্ষেত্রে সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের ব্যবস্থাপনায় বিশেষায়িত সামুদ্রিক ব্যবস্থাপনা প্ল্যাটফর্ম গঠন করে আঞ্চলিক মৎস্য ব্যবস্থাপনা এখন সময়ের দাবি।’
সুশীলনের প্রধান নির্বাহী মোস্তফা নুরুজ্জামান বলেন, ‘সামুদ্রিক পাখনাযুক্ত মাছ দক্ষিণ এশিয়ার খাদ্য নিরাপত্তা, উপকূলীয় জনগোষ্ঠীর জীবিকা এবং আঞ্চলিক অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ অবদান রাখছে। তাই এ সম্পদের সংরক্ষণ ও টেকসই ব্যবহারে সমন্বিত উদ্যোগ অপরিহার্য।’
এ সময় অনুষ্ঠানের সমন্বয়কারী এবং ঢাকায় অবস্থিত সার্ক এগ্রিকালচার সেন্টারের জ্যেষ্ঠ প্রোগ্রাম স্পেশালিস্ট (মৎস্য) ড. মো. শরীফুল ইসলাম সভার উদ্দেশ্য ও কর্মসূচি তুলে ধরেন।
তিনি বলেন, ‘বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ সামুদ্রিক পাখনাযুক্ত মাছের টেকসই ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করতে সার্ক সদস্যরাষ্ট্রগুলোর মধ্যে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়, নীতিনির্ধারণী সংলাপ এবং যৌথ গবেষণা ও উন্নয়নের অগ্রাধিকার ক্ষেত্র চিহ্নিত করার মাধ্যমে আঞ্চলিক সহযোগিতা আরও জোরদার করাই এই পরামর্শ সভার মূল লক্ষ্য।’
দুই দিনব্যাপী এ পরামর্শ সভায় সামুদ্রিক মৎস্যসম্পদের টেকসই ব্যবস্থাপনা, বৈজ্ঞানিক গবেষণা, নীতি সমন্বয়, তথ্য ও অভিজ্ঞতা বিনিময় এবং সার্কভুক্ত দেশগুলোর মধ্যে সহযোগিতা বৃদ্ধির বিভিন্ন দিক নিয়ে আলোচনা করা হবে।
৩৩ দিন আগে
ভূমিকম্পের ৬ দিন পর ভেনেজুয়েলায় ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত শিশু উদ্ধার
ভেনেজুয়েলায় গত সপ্তাহে আঘাত হানা জোড়া ভূমিকম্পের ছয় দিন পর ধ্বংসস্তূপের নিচ থেকে একটি শিশুকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। উদ্ধার অভিযানের ষষ্ঠ দিনে একমাত্র এই শিশুটিকেই জীবিত উদ্ধার করা সম্ভব হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৩০ জুন) ভোরে শিশুটিকে উদ্ধার করা হয়। তার নাম ক্লিবার মোরান।
ভূমিকম্পের পর এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৪৩ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছে। এছাড়া আহত হয়েছেন ১০ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ।
তবে বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রকৃত মৃতের সংখ্যা এর চেয়ে অনেক বেশি হতে পারে। কারণ প্রতিদিনই ধ্বংসস্তূপ থেকে নতুন নতুন মরদেহ উদ্ধার করা হচ্ছে। এ ঘটনার পর অতিরিক্ত মরদেহর চাপ সামলাতে হিমশিম খাচ্ছে মর্গগুলো।
ভেনেজুয়েলার ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডেন্ট দেলসি রদ্রিগেজ টেলিগ্রামে দেওয়া এক বার্তায় জানান, উদ্ধারকারীরা লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের লস কোরালেস গার্ডেন-১ ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে ক্লিবার মোরানকে উদ্ধার করেন। শিশুটির বয়স ৩ বছর বলে উল্লেখ করেছেন তিনি। তবে, জাতীয় পরিষদের প্রেসিডেন্ট হোর্হে রদ্রিগেজ বলেছেন, শিশুটির বয়স ২ বছর।
উদ্ধার হওয়ার পর মোরানকে চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছেন ভারপ্রাপ্ত প্রেসিডন্ট।
গত বুধবার এক মিনিটেরও কম সময়ের ব্যবধানে ভেনেজুয়েলায় ৭ দশমিক ২ এবং ৭ দশমিক ৫ মাত্রার দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানে। এতে সেখানে অসংখ্য ভবন ধসে পড়ে। এর ফলে হাজার হাজার মানুষ ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েন।
হোর্হে রদ্রিগেজ টেলিভিশনে সম্প্রচারিত এক ব্রিফিংয়ে বলেন, ‘ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও মানুষকে জীবিত পাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। আজ ভোরে ধ্বংসস্তূপ থেকে দুই বছর বয়সী এক শিশুকে উদ্ধার করা হয়েছে। বর্তমানে সে কারাকাসের একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে চিকিৎসাধীন রয়েছে।’
এদিকে, মঙ্গলবার ভেনেজুয়েলার এই ভূমিকম্পের পর জাতিসংঘের শিশু সংস্থা ইউনিসেফের একটি দল ৪৭ টন সহায়তাসামগ্রী নিয়ে ভেনেজুয়েলায় পৌঁছেছে। এ বিষয়ে জাতিসংঘের মুখপাত্র স্তেফান দুজারিক জানান, এসব সরঞ্জাম সংকটে থাকা শিশু ও পরিবারগুলোর সহায়তায় ব্যবহার করা হবে।
তিনি আরও জানান, জরুরি চিকিৎসাসেবার জন্য ভেনেজুয়েলায় স্বাস্থ্য কিট পাঠানো হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে নিরাপদ প্রসব, নবজাতকের পরিচর্যা, রোগ প্রতিরোধ এবং চিকিৎসাসামগ্রী।
এদিকে, ভূমিকম্প থেকে বেঁচে যাওয়া মানুষের মধ্যে মানবিক সংকট ক্রমেই তীব্র হচ্ছে। জাতিসংঘের বিভিন্ন সংস্থা উদ্বেগ প্রকাশ করে বলেছে, বাস্তুচ্যুত হাজার হাজার মানুষ কয়েক দিন ধরে খোলা আকাশের নিচে আশ্রয় নিয়েছে। অস্বাস্থ্যকর ও অতিরিক্ত ভিড়পূর্ণ আশ্রয়কেন্দ্রে অবস্থান করায় তাদের স্বাস্থ্যঝুঁকি বাড়ছে।
মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসার হিসাব অনুযায়ী, ভূমিকম্পে প্রায় ৫৯ হাজার ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এ ঘটনায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের সংখ্যা কয়েক লাখে পৌঁছাতে পারে।
ইউনিসেফ মঙ্গলবার জানিয়েছে, দেশটিতে বর্তমানে ছয় লাখ ৮০ হাজার শিশু মানবিক সহায়তার প্রয়োজনের মধ্যে রয়েছে।
৩৩ দিন আগে
ভূমিকম্পে নিহত ২ হাজার ছুঁই ছুঁই, কী ঘটছে ভেনেজুয়েলায়
ভয়াবহ ভূমিকম্পের ছয় দিন পরও লা গুয়াইরার সমুদ্রতীরবর্তী একটি ধসে পড়া ভবনের সামনে অপেক্ষা করছেন অ্যাঞ্জেলিকা মুন্দ্রাইন। ধ্বংসস্তূপের নিচে চাপা পড়ে আছেন তার ছেলে, ভাতিজি ও ভাতিজা। তাদের মরদেহ উদ্ধারে প্রয়োজন একটি টেলিস্কোপিক ক্রেন, কিন্তু সেটি এখনও সেখানে পৌঁছেনি। কংক্রিটের বিশাল স্ল্যাব ও লোহার মোচড়ানো কাঠামো সরিয়ে তাদের মরদেহ উদ্ধারের জন্য ভারী যন্ত্রপাতির অপেক্ষায় দিন গুনছেন এই সন্তানহারা মা।
শুধু অ্যাঞ্জেলিকা নন, ভূমিকম্প থেকে বেঁচে যাওয়া ভেনেজুয়েলার উত্তরাঞ্চলীয় লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্যের অসংখ্য মানুষের মনে এখন একই প্রশ্ন—এই উদ্ধারকাজের দায়িত্বে আসলে কে?
গত ২৪ জুন ৭ দশমিক ২ ও ৭ দশমিক ৫ মাত্রার পরপর দুটি শক্তিশালী ভূমিকম্পে দেশটির লা গুয়াইরা অঙ্গরাজ্য, রাজধানী কারাকাস এবং আশপাশের বিস্তীর্ণ এলাকায় বহু বহুতল ভবন, হোটেল, রেস্তোরাঁ, ফার্মেসি ও দোকানপাট ধসে পড়ে। এই দুর্যোগে সরকারি হিসাবে এখন পর্যন্ত ১ হাজার ৯৪৩ জন নিহত এবং ১০ হাজার ৫০০ জনের বেশি মানুষ আহত হয়েছেন। এছাড়া হাজারো মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
তবে ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষদের উদ্ধারে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে কাজ করার কথা থাকলেও ভেনেজুয়াজুড়ে দেখা দিয়েছে চরম বিশৃঙ্খলা। উদ্ধার তৎপরতায় ধীরগতি, সমন্বয়হীনতা এবং প্রয়োজনীয় ভারী যন্ত্রপাতির অভাবে ক্ষোভে ফুঁসছেন দুর্গতরা। তাদের অভিযোগ, সবচেয়ে প্রয়োজনের মুহূর্তে সরকার কার্যত ব্যর্থ হয়েছে।
মঙ্গলবার ভবনটির সামনে থেকে মুন্দ্রাইন বলেন, ‘আমাদের পরিত্যাগ করা হয়েছে। আমরা চরম অসহায় বোধ করছি। আমরা যা দেখেছি, তা হলো সংগঠনের অভাব, সহমর্মিতার অভাব—সবকিছুরই অভাব।’
৩৩ দিন আগে