বিশ্ব
নেপালে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা, নিহত ৮০০ ছাড়িয়েছে
নেপাল ও তিব্বতে বুধবারের ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা ৮০০ ছাড়িয়েছে। এই দুর্যোগে তিন হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন। এর মধ্যেই নেপালের ভোতেকোশি নদীতে পানির স্তর আবার বাড়তে থাকায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় দুর্গত জেলাগুলোর বাসিন্দাদের সতর্ক অবস্থায় থাকতে বলেছে কর্তৃপক্ষ।
রবিবার (৩০ আগস্ট) সকালে স্থানীয় বাসিন্দাদের মোবাইল ফোনে বন্যার সতর্কবার্তা পাঠানো হয়।
নেপালের জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষের প্রধান নির্বাহী ধর্ম রাজ উপ্রেতি জানান, উজানে পানির প্রবাহ বেড়েছে বলে চীনা কর্তৃপক্ষ নেপালকে অবহিত করেছে। এরপর সর্বশেষ নতুন করে বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়।
তবে বন্যাকবলিত এলাকার বাসিন্দারা বলছেন, বুধবারের বিপর্যয়ের পর থেকে বারবার পাওয়া সতর্কবার্তায় তারা আতঙ্কের মধ্যে আছেন।
স্থানীয় বাসিন্দা গোবিন্দ শ্রেষ্ঠা বলেন, ‘কখনো বলা হচ্ছে বন্যা আসছে, তখন আবার রাতেও উঁচু জায়গায় দৌড়ে যেতে হচ্ছে। আমার ৭২ বছর বয়সী বাবা ও ৭০ বছর বয়সী মা আছেন। আমাকে তাদের বহন করতে হয়। আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।’
ভয়াবহ ওই আকস্মিক বন্যার পঞ্চম দিনেও উদ্ধার তৎপরতা অব্যাহত রয়েছে। সেই সঙ্গে রাজধানী কাঠমান্ডুর সঙ্গে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোর সংযোগকারী গুরুত্বপূর্ণ মহাসড়কগুলো পরিষ্কারের কাজ চালিয়ে যাচ্ছে উদ্ধারকারী দল।
নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, রবিবার দেশটিতে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৭৮৮ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৫০২ জন।
৫৮ দিন আগে
আট মাস পর মধ্যপ্রাচ্য থেকে ফিরে যাচ্ছে মার্কিন রণতরী আব্রাহাম লিংকন
মধ্যপ্রাচ্যে ইরানের বিরুদ্ধে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানে অংশ নেওয়ার পর যুক্তরাষ্ট্রের বিমানবাহী রণতরী ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন অবশেষে নিজ দেশে ফিরে যাচ্ছে। প্রায় আট মাস মধ্যপ্রাচ্যের সমূদ্রে অবস্থানের পর রণতরীটি ইতোমধ্যে সিঙ্গাপুর প্রণালি অতিক্রম করেছে।
ইন্দোনেশিয়ার বাতাম দ্বীপে অবস্থানরত অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) সাংবাদিকরা স্থানীয় সময় রবিবার রাত ১টার কিছু পর সিঙ্গাপুরের কাছাকাছি জলসীমায় যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর অন্যতম বৃহৎ এই রণতরীটি দেখতে পান।
দীর্ঘ এই মোতায়েনকালে লিংকন মোট ২৬৬ দিন বেশি সমুদ্রে অবস্থান করেছে। এর মধ্যে ২০০ দিনের বেশি সময় কোনো বন্দরে না থেমে সমুদ্রে কাটিয়েছে রণতারীটি, যা আধুনিক যুগে রেকর্ড হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে।
যুক্তরাষ্ট্রের নৌবাহিনীর ভারপ্রাপ্ত সচিব হাং কাও চলতি মাসের শুরুতে জানান, ইউএসএস আব্রাহাম লিংকন মোট ২৬৬ দিন মোতায়েন ছিল, যার মধ্যে ২০০ দিন ছিল যুদ্ধাঞ্চলে। এ সময় এর স্ট্রাইক গ্রুপ ১০ হাজারের বেশি অভিযান পরিচালনা করে এবং প্রায় ১৫ লাখ পাউন্ড গোলাবারুদ নিক্ষেপ করে।
মধ্যপ্রাচ্যে উত্তেজনা বাড়ার মধ্যে চলতি বছরের ২৬ জানুয়ারি ইউএসএস অ্যাব্রাহাম লিঙ্কন দক্ষিণ চীন সাগর থেকে আরব সাগর ও ভারত মহাসাগর-সংলগ্ন এলাকায় পৌঁছায় এবং অপারেশনাল উপস্থিতি শুরু করে।
তবে দীর্ঘ এই মোতায়েন এবং জাহাজে বিরাজমান পরিস্থিতি নিয়ে নানা প্রশ্ন ও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে। সম্প্রতি রণতরীটিতে থাকা প্রায় ৫ হাজার নাবিক ও মেরিন সদস্যের মনোবল কমে যাওয়া, মানসিক স্বাস্থ্য নিয়ে উদ্বেগ এবং খাবার ও ব্যক্তিগত পরিচ্ছন্নতার সামগ্রীর সাময়িক ঘাটতির খবর প্রকাশিত হয়।
৫৯ দিন আগে
নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা: নিহত বেড়ে ৬৭৬, নিখোঁজ প্রায় ৩ হাজার
নেপাল ও চীনের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৭৬ জনে দাঁড়িয়েছে। একই সঙ্গে নিখোঁজ রয়েছেন প্রায় ৩ হাজার মানুষ।
গেল বুধবারের ভয়াবহ বন্যার চার দিন পর আজ শনিবারও নেপাল ও চীনের তিব্বত অঞ্চলের দুর্গত এলাকায় উদ্ধার অভিযান চলছে। ধ্বংসস্তূপ ও কাদায় চাপা পড়া বিভিন্ন এলাকা থেকে জীবিতদের উদ্ধারের চেষ্টা করছেন উদ্ধারকারীরা।
সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬৬৯ জনে দাঁড়িয়েছে এবং নিখোঁজ রয়েছেন ২ হাজার ৪২৬ জন। দেশটিতে এ পর্যন্ত ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে বলে জানিয়েছে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ।
অন্যদিকে, চীনের তিব্বত অঞ্চলে সাতজন নিহত এবং ৫৫৪ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম। দুই অঞ্চলে মিলিয়ে নিহতের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৬৭৬ এবং নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৩ হাজারে।
প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে নেপালের সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত জেলাগুলোর অন্যতম নুয়াকোটে শনিবার (২৯ আগস্ট) সকাল থেকে আকাশপথে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়। তবে দুপুরের আগে আবহাওয়া কিছুটা অনুকূলে আসার পর আবারও হেলিকপ্টারের মাধ্যমে উদ্ধার অভিযান শুরু হয়।
নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানান, কিছু হেলিকপ্টারে পোশাক, ইনস্ট্যান্ট নুডলস, বিস্কুট ও চালসহ ত্রাণসামগ্রী দুর্গত এলাকায় পাঠানো হয়। অন্য হেলিকপ্টারগুলো বন্যাকবলিত এলাকা থেকে উদ্ধার হওয়া মানুষদের নিয়ে ফিরে আসে।
৫৯ দিন আগে
ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলে রুশ হামলায় নিহত বেড়ে ৩৭
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে বুচা জেলায় রাতভর রাশিয়ার হামলায় নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৩৭ জনে দাঁড়িয়েছে।
শনিবার (২৯ আগস্ট) স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
কিয়েভের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানান, হামলায় অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর একটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যা কয়েকটি বাড়ি ও একটি রেস্তোরাঁয় ছড়িয়ে পড়ে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, মিলা গ্রামের একটি গুদামে হামলা চালানো হলে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে।
ঘটনাস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত না জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, সরকারি অবহেলার অভিযোগে এ ঘটনায় ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নিয়মকানুন রয়েছে—বাড়িঘর বা অন্যান্য আবাসিক এলাকার কাছে গোলাবারুদ সংরক্ষণ করা যাবে না।’
জেলেনস্কি জানান, হামলায় বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিচর্যা কেন্দ্র এবং আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৩৭০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার-উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
ইউক্রেনের প্রধানমন্ত্রী সেরহি কোরেৎস্কিও হামলার শিকার গুদামটি সম্পর্কে কোনো তথ্য দেননি। তবে তিনি চলতি মাসের শুরুতে কিয়েভের উপকণ্ঠ ভিশনেভেতে একটি গোলাবারুদের গুদামে হামলার প্রসঙ্গ উল্লেখ করেন। ওই হামলায় ২২ জন নিহত হন এবং বিস্ফোরণ ও অগ্নিকাণ্ডে আশপাশের বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়।
তিনি বলেন, ‘দুর্ভাগ্যজনকভাবে আমরা ইতোমধ্যে দেখতে পাচ্ছি, ভিশনেভের ভয়াবহ ট্র্যাজেডি কোনো শিক্ষা হয়ে ওঠেনি। পূর্ণমাত্রার আগ্রাসনের পঞ্চম বছরে এসে একই ভুল করা অপরাধমূলক অবহেলা। এ ঘটনায় দোষী প্রত্যেককে কঠোর শাস্তির মুখোমুখি করতে হবে যাতে ভবিষ্যতে এমন পরিস্থিতির পুনরাবৃত্তি না ঘটে।’
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় এক বিবৃতিতে দাবি করেছে, মিলা গ্রামের ওই গুদামে দূরপাল্লার ড্রোনের যন্ত্রাংশ ও উৎক্ষেপণ বুস্টার রাখা ছিল।
রুশ মন্ত্রণালয় আরও দাবি করেছে, তারা মাইকোলাইভ ও ইজমাইলের বন্দর, একটি লজিস্টিক কেন্দ্র এবং কিয়েভ অঞ্চলে ইউক্রেনের ‘ফ্লেমিঙ্গো’ ক্রুজ ক্ষেপণাস্ত্রের যন্ত্রাংশ সংরক্ষণের গুদামে হামলা চালিয়েছে।
কিয়েভে টানা বিমান হামলা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। এতে ইউক্রেনের রাজধানীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
এদিকে, শনিবার ইউক্রেনের দক্ষিণাঞ্চলীয় খেরসন অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় দুইজন নিহত এবং আরও ২৭ জন আহত হয়েছেন বলে স্থানীয় এক কর্মকর্তা জানিয়েছেন।
খেরসন আঞ্চলিক প্রশাসনের প্রধান ওলেক্সান্দর প্রকুদিন বলেন, হামলায় বাড়িঘর ও অ্যাপার্টমেন্ট ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আহতদের মধ্যে একটি শিশুও রয়েছে।
এর আগে, চলতি সপ্তাহে প্রকুদিন বলেন, রাশিয়া এ অঞ্চলের গুরুত্বপূর্ণ অবকাঠামোতে হামলা জোরদার করেছে। খেরসন অঞ্চলের প্রায় ৭০ শতাংশ বর্তমানে রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
সম্ভাব্য দীর্ঘস্থায়ী বিদ্যুৎ ও তাপ সরবরাহ সংকটের আশঙ্কায় তিনি অঞ্চলটির কয়েক হাজার বাসিন্দাকে নিরাপদ এলাকায় সরে যাওয়ারও আহ্বান জানান।
৫৯ দিন আগে
জিম্বাবুয়েতে গির্জার সদস্যদের বহনকারী মিনিবাসের দুর্ঘটনায় নিহত ২৭
জিম্বাবুয়েতে গির্জার সদস্যদের বহনকারী একটি মিনিবাসের সঙ্গে পণ্যবাহী ট্রাকের সংঘর্ষে ২৭ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শুক্রবার (২৮ আগস্ট) রাতে দেশটির চিভু শহরের কাছে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
আজ শনিবার পুলিশের মুখপাত্র পল নিয়াথি জানান, সাদা পোশাক পরার কারণে পরিচিত একটি জনপ্রিয় স্থানীয় আফ্রিকান খ্রিস্টান সম্প্রদায়ের সদস্যরা একটি সম্মেলনে যোগ দিতে যাচ্ছিলেন। পথে একটি মহাসড়কে মিনিবাসটির সঙ্গে ট্রাকটির সংঘর্ষ হয়।
তিনি বলেন, রাজধানী হারারে থেকে ১৩২ কিলোমিটার দক্ষিণে চিভু শহরের কাছে ট্রাকটি একটি গাড়িকে ওভারটেক করার সময় মিনিবাসটির সঙ্গে হয়।
দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসি নিউজ প্রাদেশিক সরকারের এক মন্ত্রীর বরাত দিয়ে জানায়, দুর্ঘটনাস্থলেই ২৩ জন নিহত হন। পরে স্থানীয় একটি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আরও কয়েকজন মারা যান।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রকাশিত দুর্ঘটনাকবলিত যানবাহনের ছবিতে দেখা যায়, সংঘর্ষের পর মিনিবাসটিতে আগুন ধরে সেটি প্রায় সম্পূর্ণ পুড়ে যায়।
পুলিশ কর্মকর্তা নিয়াথি জানান, দুটি যানবাহনেই কতজন যাত্রী ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে নির্দিষ্ট করে জানা যায়নি।
জিম্বাবুয়েতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই বাস, মিনিবাস ও অনিয়ন্ত্রিত সেডান ট্যাক্সির দুর্ঘটনা প্রায়ই ঘটে থাকে। বেপরোয়া গাড়ি চালনা এবং সড়কের বেহাল অবস্থা এসব দুর্ঘটনার অন্যতম কারণ বলে মনে করা হয়।
কর্তৃপক্ষের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে সড়ক দুর্ঘটনার ৯৪ শতাংশই মানুষের ভুলের কারণে ঘটে।
জাতিসংঘের আফ্রিকার জন্য অর্থনৈতিক কমিশনের (ইউএনইসিএ) তথ্য অনুযায়ী, আফ্রিকায় সড়ক দুর্ঘটনায় বছরে প্রায় তিন লাখ মানুষ নিহত হন যা বিশ্বব্যাপী সড়ক দুর্ঘটনায় মোট মৃত্যুর প্রায় এক-চতুর্থাংশ। অথচ ১৫০ কোটি জনসংখ্যার মহাদেশ আফ্রিকায় বিশ্বের মোট যানবাহনের মাত্র ৩ শতাংশের মতো রয়েছে।
৬০ দিন আগে
ইউক্রেনের কিয়েভ অঞ্চলে রাশিয়ার হামলায় নিহত ২৭
ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের কাছে বুচা জেলায় রাশিয়ার হামলায় অন্তত ২৭ জন নিহত হয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) স্থানীয় কর্মকর্তারা এ তথ্য জানিয়েছেন।
কিয়েভের আঞ্চলিক সামরিক প্রশাসনের প্রধান তিমুর তাকাচেঙ্কো জানান, হামলায় অন্তত ৫০টি আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। হামলার পর একটি বড় ধরনের অগ্নিকাণ্ডের সৃষ্টি হয়, যা কয়েকটি বাড়ি ও একটি রেস্তোরাঁয় ছড়িয়ে পড়ে।
ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি এক বিবৃতিতে জানান, মিলা গ্রামের একটি গুদামে হামলা চালানো হলে সেখানে বিস্ফোরণ ঘটে।
ঘটনাস্থল সম্পর্কে বিস্তারিত না জানিয়ে জেলেনস্কি বলেন, সরকারি অবহেলার অভিযোগে এ ঘটনায় ফৌজদারি কার্যক্রম শুরু হয়েছে। তিনি বলেন, ‘নিয়মকানুন রয়েছে—বাড়িঘর বা অন্যান্য আবাসিক এলাকার কাছে গোলাবারুদ সংরক্ষণ করা যাবে না।’
জেলেনস্কি জানান, হামলায় বয়স্ক ও প্রতিবন্ধী ব্যক্তিদের জন্য একটি পরিচর্যা কেন্দ্র এবং আবাসিক ভবন ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
তিনি বলেন, ইতোমধ্যে ৩৭০ জনের বেশি মানুষকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে এবং উদ্ধার-উচ্ছেদ কার্যক্রম অব্যাহত রয়েছে।
কিয়েভে রাশিয়ার একটানা বিমান হামলা তৃতীয় দিনে গড়িয়েছে। এতে ইউক্রেনের রাজধানীর অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড ব্যাহত হওয়ার পাশাপাশি সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রাও মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে।
প্রতিবেশী দেশটিতে রাশিয়ার পূর্ণমাত্রার আগ্রাসন শুরুর সাড়ে চার বছরেরও বেশি সময় পরও কিয়েভে হামলা অব্যাহত রয়েছে।
৬০ দিন আগে
নেপাল-চীন সীমান্তে বন্যা: নিহত বেড়ে ৬৩৩, নিখোঁজ ২৯৮০
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী এলাকায় আকস্মিক বন্যায় নিখোঁজ হাজারো মানুষের সন্ধানে উদ্ধার অভিযান আজ চতুর্থ দিনে গড়িয়েছে। ভয়াবহ এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে নেপালে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৬২৬ জনে দাঁড়িয়েছে। এছাড়া নিখোঁজ ব্যক্তিদের সংখ্যাও বেড়ে ২ হাজার ৪২৬ জন হয়েছে।
এছাড়া চীনের অংশে হতাহত ও জীবিতদের বিষয়ে তুলনামূলকভাবে কম তথ্য পাওয়া গেলেও শুক্রবার পর্যন্ত সেখানে নিহতের সংখ্যা বেড়ে সাতজনে দাঁড়িয়েছে। দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, দেশটির অংশে ৫৫৪ জন এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
শনিবার (২৯ আগস্ট) নেপালের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থা জানায়, এখন পর্যন্ত দেশটিতে ৩ হাজার ৭০০ জনের বেশি মানুষকে উদ্ধার করা হয়েছে। বুধবারের ভয়াবহ বন্যার পর থেকে উদ্ধারকর্মী ও সামরিক সদস্যরা দিনরাত উদ্ধার অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন।
তবে প্রতিকূল আবহাওয়ার কারণে শনিবার আকাশপথে উদ্ধার অভিযান ব্যাহত হয়েছে। নেপাল সেনাবাহিনীর মুখপাত্র ব্রিগেডিয়ার জেনারেল রাজা রাম বাসনেত জানান, আবহাওয়ার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত হেলিকপ্টার দিয়ে উদ্ধার অভিযান স্থগিত রাখা হয়েছে।
নেপালের রাসুয়া জেলার আপার ত্রিশুলি-১ জলবিদ্যুৎ প্রকল্প এলাকা এবং চীনের তিব্বত অংশে ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত গিরং সীমান্ত ক্রসিংসহ কয়েকটি স্থানে অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান চলছে।
বাসনেত বলেন, জলবিদ্যুৎ প্রকল্পের নির্মাণস্থলে ঘন কাদায় ভরা একটি সুড়ঙ্গে ১০০ জনের বেশি মানুষ আটকা পড়েছেন বলে ধারণা করছে কর্তৃপক্ষ। উদ্ধারকর্মীরা ঝুড়ি ও দড়ির সাহায্যে কয়েকজনের কাছে পৌঁছাতে সক্ষম হয়েছেন।
তবে চার থেকে পাঁচ ফুট গভীর কাদা এবং হেলিকপ্টার অবতরণের জন্য সীমিত জায়গা থাকায় উদ্ধারকাজ কঠিন হয়ে পড়েছে। সম্ভাব্য নতুন বন্যার সতর্কতার কারণে উদ্ধারকারী দলগুলোকে কিছু সময়ের জন্য নিরাপদ স্থানে সরিয়েও নিতে হয়েছে।
বুধবারের প্রাথমিক বন্যার পর হিমালয়ের উঁচু এলাকায় হিমবাহ ধসের ফলে একটি নতুন হ্রদ সৃষ্টি হয়। হ্রদটি উপচে পড়তে শুরু করায় নতুন করে বন্যার আশঙ্কায় উদ্ধারকর্মীরা সতর্ক অবস্থায় রয়েছেন।
তবে চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয়ের পর্যবেক্ষণ তথ্যের বরাত দিয়ে দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, শুক্রবার রাত পর্যন্ত হ্রদটির আয়তন কমে এসেছে। বৃহস্পতিবার সকালে সর্বোচ্চ অবস্থানে পৌঁছানোর পর পানির স্তর প্রায় ১০ মিটার বা ৩২ ফুট নেমেছে।
এদিকে, নেপালের রাজধানী কাঠমান্ডু থেকে ত্রাণবাহী ট্রাকগুলোকে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার দিকে যেতে দেখা গেছে।
নেপালের বন্যাকবলিত জেলাগুলোর একটি নুয়াকোটে শনিবার নিখোঁজ স্বজনদের খবরের অপেক্ষায় উদ্বিগ্ন রয়েছেন বহু মানুষ। একটি ত্রাণকেন্দ্রে সামরিক সদস্যরা নিখোঁজ ব্যক্তিদের নামসংবলিত কাগজ দেওয়ালে টাঙিয়ে দেন। স্বজনরা সেগুলো ঘিরে প্রিয়জনদের নাম খুঁজতে থাকেন। অনেকে তালিকার ছবি তোলেন এবং নাম খুঁজতে গিয়ে কান্নায় ভেঙে পড়েন।
চীনের সঙ্গে নেপালের সীমান্তবর্তী গিরং বন্দরেও অনুসন্ধান অভিযান চলছে। রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যমের ভিডিওতে দেখা গেছে, উদ্ধারকর্মীরা হেঁটে ও ভেলায় করে সেখানে পৌঁছাচ্ছেন। ড্রোনের সাহায্যেও কিছু উদ্ধারকর্মীকে এলাকায় নামানো হয়েছে। ধ্বংসস্তূপের মধ্যে তারা জীবিতদের সন্ধানে ডাকাডাকি করছেন।
বন্যার সময় ওই সীমান্ত চেকপোস্টের ভবনটিতে কতজন মানুষ ছিলেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানা যায়নি।
নিখোঁজদের মধ্যে শত শত বিদেশি নাগরিক রয়েছেন। তারা সেখানে কাজ, ট্রেকিং অথবা একটি পবিত্র কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে অবস্থান করছিলেন।
৬০ দিন আগে
নেপাল-চীন সীমান্তে ভয়াবহ বন্যা: নিহত বেড়ে ৫৪৩, নতুন হ্রদ থেকে ফের বন্যার আশঙ্কা
নেপাল-চীন সীমান্তবর্তী হিমালয় অঞ্চলে ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় নেপালে মৃতের সংখ্যা বেড়ে ৫৩৮ জনে দাঁড়িয়েছে। তিব্বতে এখন পর্যন্ত ৫ জনের মৃত্যুর তথ্য জানিয়েছে চীন। দুই দেশের এ দুর্যোগে দেড় হাজারের বেশি মানুষ এখনও নিখোঁজ রয়েছেন।
শুক্রবার (২৮ আগস্ট) নেপালে বন্যা পরিস্থিতি সম্পর্কে হালনাগাদ তথ্যে দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাস ও ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ জানায় যে বন্যায় এ পর্যন্ত নিহতের সংখ্যা ৫৩৮। তবে দেশটির পুলিশ জানায়, এর সংখ্যা ৫৪৭ জন।
এর আগে, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত ৩৯০ জনের মরদেহ উদ্ধার করা হয়েছিল।
এর মধ্যেই বন্যার উজানে নতুন তৈরি হওয়া ও উপচে পড়া একটি হ্রদ থেকে আবারও ভয়াবহ বন্যা দেখা দেওয়ার আশঙ্কায় নতুন করে সতর্কতা জারি করেছে দুই দেশের কর্তৃপক্ষ।
বুধবারের ওই ভয়াবহ দুর্যোগে ধ্বংসস্তূপ ও কাদার নিচে চাপা পড়া মরদেহ উদ্ধারে আজ শুক্রবারও অভিযান চালিয়ে যাচ্ছেন উদ্ধারকারীরা।
নতুন হ্রদ থেকে ফের বন্যার শঙ্কা
বুধবারের দুর্যোগের পর উজানে তৈরি হওয়া একটি হ্রদ থেকে নতুন করে বন্যার আশঙ্কা দেখা দেওয়ায় নেপাল ও চীনের কর্তৃপক্ষ সতর্কতা জারি করেছে। হ্রদটি ইতোমধ্যে উপচে পড়ছে বলে জানিয়ে সম্ভাব্য ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দাদের নিরাপদ স্থানে সরে যেতে বলা হয়েছে।
চীনের পানিসম্পদ মন্ত্রণালয় বৃহস্পতিবার জানায়, হ্রদটিতে বর্তমানে প্রায় ২০ লাখ ঘনমিটার পানি রয়েছে। আগামী তিন দিনে আরও প্রায় ৩০ লাখ ঘনমিটার পানি এতে জমা হতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
চীনের রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন সিসিটিভি শুক্রবার সকালে জানিয়েছে, নেপাল সীমান্তের গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথ গিরং বন্দরের প্রায় ১০ কিলোমিটার দূরে হ্রদটির প্রাকৃতিক বাঁধ অবস্থিত। কাদা ও বন্যার পানিতে গিরং বন্দরটি ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিসিটিভির তথ্যমতে, হ্রদটি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৯৫০ মিটার উচ্চতায় অবস্থিত, যা গিরং বন্দরের চেয়ে প্রায় ১ হাজার মিটার উঁচুতে।
সম্ভাব্য নতুন বন্যার ঝুঁকি বিবেচনায় নেপাল সেনাবাহিনী ভোতেকোশি নদীর পরিস্থিতি পরিদর্শনে সীমান্ত এলাকায় একটি দল পাঠিয়েছে।
৬১ দিন আগে
নেপালের বন্যায় ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক নিখোঁজ
তিব্বতে হিমবাহ ধসে চীন ও নেপালের সীমান্তবর্তী এলাকায় ভয়াবহ আকস্মিক বন্যায় আজ বৃহস্পতিবার পর্যন্ত অন্তত ২৭৩ জন নিহত এবং ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি মানুষ নিখোঁজ হয়েছেন। নিখোঁজদের মধ্যে ৩০টির বেশি দেশের নাগরিক রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) স্থানীয় সময় সকাল ৮টা ৩৭ মিনিটে ওই এলাকায় কম্পন শনাক্ত হওয়ার তিন মিনিট পর, সকাল ৮টা ৪০ মিনিটে ভোতেকোশি নদীতে আকস্মিক বন্যা শুরু হয়। কয়েক মিনিটের মধ্যে প্রবল পানি, কাদা, পাথর ও ধ্বংসাবশেষ নদী উপত্যকার জনবসতি, সড়ক, সেতু, সরকারি-বেসরকারি স্থাপনা এবং জলবিদ্যুৎ অবকাঠামোর ওপর দিয়ে প্রবাহিত হয়।
রাসুয়ার টিমুরে, স্যাফ্রুবেশি ও রাসুওয়াগাধি এবং নুওয়াকোটের বেত্রাবতী, ত্রিশূলী ও দেবীঘাট এলাকা সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
বন্যায় নিখোঁজ অনেকেই ট্রেকিং কিংবা হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের পবিত্র তীর্থস্থান কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রার জন্য ওই এলাকায় ছিলেন।
নেপাল পুলিশের হিসাবে দেশটিতে অন্তত ২৭০ জন নিহত এবং ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের প্রতিবেদনে জাতীয় জরুরি কার্যক্রম কেন্দ্রের বরাত দিয়ে বলা হয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ১১৩ জন নেপালি পর্যটক, সেনাবাহিনী ও পুলিশের ৮৫ জন সদস্য এবং রাসুয়া জেলার ১৬১ জন বাসিন্দা রয়েছেন। এছাড়া নুয়াকোট জেলার একজন বাসিন্দাও নিখোঁজ রয়েছেন।
আজ বৃহস্পতিবার পরে দেশটির পর্যটন বোর্ড জানায়, দেশটিতে ৫১৭ জন বিদেশি নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
চীনের রাষ্ট্রীয় সংবাদমাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, তিব্বতের গিরং কাউন্টিতে অন্তত তিনজন নিহত এবং ৫৫৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন। দেশটির রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি জানিয়েছে, নিখোঁজদের মধ্যে ২৬০ জন বিদেশি নাগরিক। এ ছাড়া নেপালের অংশে প্রায় ১০০ জন চীনা নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে চীনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়।
নেপাল পর্যটন বোর্ডের হিসাবে, নিখোঁজদের মধ্যে সবচেয়ে বেশি ভারতীয় নাগরিক—১৭৯ জন। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, তাদের অধিকাংশই তিব্বতের পবিত্র তীর্থস্থান কৈলাস পর্বতে তীর্থযাত্রার উদ্দেশ্যে সেখানে গিয়েছিলেন। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্রের ৬৫ জন, মালয়েশিয়ার ৫১ জন, ইউক্রেনের ৫৩ জন, অস্ট্রেলিয়ার ৩৫ জন, যুক্তরাজ্যের ৩৩ জন এবং কানাডার ২৫ জন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন।
ইউক্রেনের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, নিখোঁজ হিসেবে বিবেচিত ৫৩ জন ইউক্রেনীয় নাগরিকের মধ্যে ৪৬ জন পর্যটক রয়েছেন এবং নেপালি কর্তৃপক্ষ তাদের সঙ্গে যোগাযোগ হারিয়েছে। দক্ষিণ কোরিয়া সরকারের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, নেপালে একটি জলবিদ্যুৎকেন্দ্র নির্মাণে কাজ করা দেশটির নয়জন নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন।
এ ছাড়াও সিঙ্গাপুরের আটজন, জার্মানির আটজন পর্যটক, রাশিয়ার আটজন, দক্ষিণ আফ্রিকার ছয়জন, লাটভিয়ার ছয়জন এবং নিউজিল্যান্ডের পাঁচজন নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে নেপালের পর্যটন বোর্ড।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমে পাঁচজন জাপানি নাগরিক নিখোঁজ হওয়ার খবর প্রকাশের পর উদ্বেগ জানিয়েছেন জাপানের প্রধানমন্ত্রী সানায়ে তাকাইচি।
এছাড়া চারজন ফরাসি, তিনজন বেলজিয়ান এবং তিনজন স্প্যানিশ নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন। পাশাপাশি ইতালি, কাজাখস্তান, পর্তুগাল, আয়ারল্যান্ড ও নেদারল্যান্ডসের দুজন করে নাগরিক নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পর্যটন বোর্ড।
সেই সঙ্গে বেলারুশ, ফিনল্যান্ড, হাঙ্গেরি, ইসরায়েল, লিথুয়ানিয়া, ফিলিপাইন, বুলগেরিয়া, সুইজারল্যান্ড, সার্বিয়া ও সুইডেনের একজন করে নাগরিকও নিখোঁজ রয়েছেন বলে বোর্ড জানিয়েছে।
৬২ দিন আগে
নেপালে ভয়াবহ বন্যা-ভূমিধসে নিহত বেড়ে ৩৫৩
হিমবাহ ধসে কারণে সৃষ্ট ভয়াবহ আকস্মিক বন্যা ও কাদার স্রোতে নেপাল-চীন সীমান্তের বিভিন্ন এলাকায় নিহত বেড়ে ৩৫৩ জনে দাঁড়িয়েছে। এই প্রাকৃতিক দুর্যোগে আরও ১ হাজার ৩০০ জনের বেশি নিখোঁজ রয়েছেন।
বুধবার (২৬ আগস্ট) হিমবাহ ধসের পর সৃষ্ট প্রবল পানি ও কাদার স্রোত কয়েকটি জনপদে আঘাত হানে। এতে নেপালের পাশাপাশি তিব্বতেও ব্যাপক ক্ষয়ক্ষতি হয়।
নেপাল পুলিশের কেন্দ্রীয় মুখপাত্র আবি নারায়ণ কাফলে জানিয়েছেন, বৃহস্পতিবার পর্যন্ত বন্যায় ৩৫৩ জনের মৃত্যুর খবর নিশ্চিত করা হয়েছে। এছাড়া আরও অন্তত ৮২৬ জন নিখোঁজ রয়েছেন। সেই সঙ্গে তিব্বতে আরও তিনজন নিহত হয়েছেন এবং সেখানে নিখোঁজ রয়েছেন অন্তত ৫৫৮ জন।
ড্রোনের মাধ্যমে ধারণ করা ভিডিওতে নেপালের ধ্বংসযজ্ঞের ব্যাপকতা উঠে আসে। বিভিন্ন ভিডিওতে দেখা যায়, প্রাণ বাঁচাতে পালানোর সময় বন্যার পানির স্রোতে মানুষ ভেসে যাচ্ছে এবং ভবন ও সেতু ধসে পড়ছে।
নুয়াকোট জেলার সোলি গ্রামের প্রায় ২৫টি বাড়ি নিয়ে গঠিত জনপদটি প্রায় পুরোপুরি নিশ্চিহ্ন হয়ে গেছে বলে জানিয়েছেন কাঠমান্ডুভিত্তিক সাংবাদিক নিরাজন পৌডিয়াল। তার বাবা-মা ও স্বজনরা ওই গ্রামে থাকেন। পরিবারের খোঁজ নিতে আজ বৃহস্পতিবার তিনি সেখানে গেছেন।
পৌডিয়াল বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তাদের কোনো খবর নেই। আশঙ্কা করছি, আর কোনো খবর পাওয়া যাবে না।’
বৈশ্বিক উষ্ণায়নে হুমকিতে হিমালয় অঞ্চলের জনপদ
ভারত, নেপালসহ দক্ষিণ এশিয়ার কয়েকটি দেশজুড়ে বিস্তৃত হিমালয় পর্বতমালায় বিশ্বের অনেক উঁচু শৃঙ্গ ও হিমবাহ রয়েছে। পর্বতমালার খাড়া ঢাল ও নিচের সবুজ উপত্যকাগুলো বন্যা, ভূমিধস ও চরম আবহাওয়ার জন্য বিশেষভাবে ঝুঁকিপূর্ণ।
মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে বৈশ্বিক উষ্ণায়ন বাড়ায় হিমবাহ গলে যাওয়ার ঘটনাও বেড়েছে। কাঠমান্ডুর গবেষকেরা চলতি বছরের শুরুতে দেখতে পান, হিন্দুকুশ-হিমালয় অঞ্চলের হিমবাহগুলো দ্রুত গলছে এবং ২০০০ সালের পর থেকে বরফ গলার হার দ্বিগুণ হয়েছে।
৬২ দিন আগে