বিশ্ব
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানায় ৩০ বছরের সবচেয়ে ভয়াবহ বন্যা, নিহত ৫
যুক্তরাষ্ট্রের ইন্ডিয়ানা অঙ্গরাজ্যে ভয়াবহ বন্যায় অন্তত পাঁচজন নিহত হয়েছেন। গত ৩০ বছরের মধ্যে সবচেয়ে ভয়াবহ এ বন্যায় স্থানীয় সময় শনিবারও ব্যাপক বৃষ্টিপাত অব্যাহত রয়েছে।
বৃষ্টির মধ্যেই উদ্ধারকর্মীরা নৌকা ব্যবহার করে পানিবন্দি মানুষকে উদ্ধার করছেন বলে দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে।
খবরে বলা হয়, অঙ্গরাজ্যের রাজধানী ইন্ডিয়ানাপোলিসের মেয়র জো হগসেট এবং অন্যান্য কর্মকর্তারা বন্যাপ্রবণ এলাকার বাসিন্দাদের সম্ভাব্য উচ্ছেদের সতর্কতা মেনে নিরাপদ স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন।
ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার বিভাগের উপপ্রধান জেরি মার্টিন বলেন, ‘ছয় ইঞ্চি পানি যেকোনো গাড়িকে অচল করে দিতে পারে। আট ইঞ্চি পানি গাড়িগুলো সড়ক থেকে ভাসিয়ে নিতে পারে। এমনকি তিন ইঞ্চি পানিও একজন মানুষকে ফেলে দিতে পারে। বন্যার পানি অত্যন্ত বিপজ্জনক।’
নগরীর গণপূর্ত বিভাগের পরিচালক টড উইলসন বলেন, ‘পানির উচ্চতা এখনও বাড়ছে। সারা দিনই এটি বাড়তে থাকবে।’
অঙ্গরাজ্যের আরও পূর্বে ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে গেল শুক্রবার শেরিফের কার্যালয়ের কর্মকর্তারা ৫৮ বছর বয়সী এক নারীর মরদেহ উদ্ধার করেন। ধারণা করা হচ্ছে, বন্যার পানির মধ্য দিয়ে গাড়ি চালিয়ে যাওয়ার চেষ্টা করার সময় তার মৃত্যু হয়।
এছাড়া নদীতে ঝাঁপ দেওয়ার পর বুধবার থেকে নিখোঁজ থাকা এক কিশোরের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে। এর আগে সপ্তাহের শুরুতে জেনিংস কাউন্টিতে একটি গাছের নিচে চাপা পড়ে চার বছর বয়সী এক শিশু নিহত হয়।
এদিকে, মধ্য ইন্ডিয়ানার উত্তর-পূর্ব হেনড্রিকস কাউন্টি ও উত্তর মারিয়ন কাউন্টিতে আকস্মিক বন্যার সতর্কতা জারি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, প্রায় ৩০ বছরের মধ্যে এমন ভয়াবহ বন্যা আর দেখা যায়নি। জাতীয় আবহাওয়া দপ্তর জানিয়েছে, কিছু এলাকায় দুই দিনে ২৮ সেন্টিমিটারের বেশি বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে।
অ্যান্ডারসন ও নোবলসভিল এলাকায় হোয়াইট নদীর পানি ৭ দশমিক ৩২ মিটার ছাড়িয়ে গেছে, যা ১৯১৩ সালে রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে।
অভূতপূর্ব এ বন্যায় উদ্ধারকারী সংস্থাগুলোর সক্ষমতার ওপর ব্যাপক চাপ তৈরি হয়েছে। কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ঐতিহাসিকভাবে বন্যার ঝুঁকি ছিল না এমন এলাকাতেও এবার পানি ঢুকেছে।
ইন্ডিয়ানার রিপাবলিকান গভর্নর মাইক ব্রাউন শনিবার নিশ্চিত করেছেন, বন্যা মোকাবিলা ও পরবর্তী পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সহায়তার জন্য তার করা ফেডারেল সম্পদের অনুরোধ অনুমোদনের বিষয়ে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প সম্মতি দিয়েছেন।
অন্যদিকে, উত্তর ইন্ডিয়ানাপোলিসের কিছু এলাকা থেকে অন্তত ৪০০ মানুষ নিজ উদ্যোগে নিরাপদ স্থানে সরে গেছেন। গভর্নরের কার্যালয় জানিয়েছে, ডেলাওয়্যার কাউন্টিতে ৩৫০ জনের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে। টিপটন কাউন্টির একটি প্রবীণদের ভ্রাম্যমাণ আবাসনও খালি করা হচ্ছে। ফায়েত কাউন্টিতে উদ্ধার ও বাসিন্দাদের খোঁজ নেওয়ার কার্যক্রম চলছে।
ইন্ডিয়ানাপোলিস ফায়ার বিভাগের মুখপাত্র রিটা রেইথ জানান, শনিবার বিকেল পর্যন্ত ৯৫ জন মানুষ ও ৪৫টি পোষা প্রাণীকে উদ্ধার করা হয়েছে। দিনভর জরুরি সেবার জন্য শত শত ফোনকল পেয়েছেন উদ্ধারকর্মীরা।
শনিবার বিকেল পর্যন্ত উত্তর ইন্ডিয়ানা পাবলিক সার্ভিস কোম্পানির তথ্য অনুযায়ী, অঙ্গরাজ্যে দেড় লাখের বেশি মানুষ বিদ্যুৎবিচ্ছিন্ন অবস্থায় ছিলেন।
৭২ দিন আগে
হাঙ্গেরিতে বাস দুর্ঘটনায় ১২ জন নিহত
হাঙ্গেরিতে মহাসড়ক থেকে ছিটকে খাদে পড়ে একটি যাত্রীবাহী বাস উল্টে ১২ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আরও অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) দিবাগত রাত ১টার দিকে রাজধানী বুদাপেস্ট থেকে প্রায় ১৪০ কিলোমিটার পূর্বে মেজোকেরেস্তেশ শহরের কাছে এম-৩ মোটরওয়ের পূর্বমুখী লেনে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
বাসটিতে পোল্যান্ডের একদল পর্যটক ছিলেন বলে জানিয়েছে হাঙ্গেরি পুলিশ।
এ বিষয়ে পুলিশের পক্ষ থেকে দেওয়া এক বিবৃতিতে জানানো হয়েছে, চালক ঘুমিয়ে পড়ায় দুর্ঘটনাটি ঘটেছে বলে প্রাথমিকভাবে ধারণা করা হচ্ছে। দুর্ঘটনার পর চালককে হেফাজতে নেওয়া হয়েছে।
হাঙ্গেরির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থা কর্তৃপক্ষের পরিচালক এক বিবৃতিতে জানিয়েছেন, দুর্ঘটনার সময় বাসটিতে ৫৭ জন যাত্রী ও দুইজন চালক ছিলেন। বাসটি উল্টে যাওয়ার পর কয়েকজন যাত্রী সেটির নিচে আটকা পড়েন।
এদিকে, পোল্যান্ডের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র মাসিয়েই ভেভিওর পোলিশ সংবাদ সংস্থা পিএপিকে জানান, বাসযাত্রীদের সবাই পোল্যান্ডের নাগরিক ছিলেন।
এ ঘটনার পর পোল্যান্ডের রেৎসেসৎভ শহরের আঞ্চলিক সরকার এক ফেসবুক পোস্টে জানায়, দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলীয় পডকারপাকি অঞ্চলের বাসিন্দারা বসনিয়া-হার্জেগোভিনায় তীর্থযাত্রা শেষে দেশে ফিরছিলেন। পথিমধ্যে তাদের বাসটি দুর্ঘটনার কবলে পড়ে।
হাঙ্গেরির প্রধানমন্ত্রী পিতার ম্যদিয়ার এক ফেসবুক বিবৃতিতে জানান, দুর্ঘটনায় অন্তত ১০ জন গুরুতর আহত হয়েছেন। তিনি নিহতদের পরিবারের প্রতি সমবেদনা জানান এবং ঘটনাস্থলে ছুটে যাওয়া উদ্ধারকর্মীদের ধন্যবাদ জানান।
পোল্যান্ডের প্রেসিডেন্ট কারোল নাভরোকি এ দুর্ঘটনায় গভীর শোক প্রকাশ করেছেন। এক্সে দেওয়া এক পোস্টে তিনি বলেন, ‘আমি নিহতদের পরিবার ও স্বজনদের সঙ্গে গভীর সমবেদনা জানাচ্ছি।’
৭২ দিন আগে
জাপানে ছয় দশকের রেকর্ড বৃষ্টি ও বন্যায় নিহত ৯
জাপানের পূর্বাঞ্চলে টানা ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় অন্তত নয়জন নিহত হয়েছেন। নজিরবিহীন বৃষ্টিতে সহস্রাধিক বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে এবং সড়ক ও রেল যোগাযোগে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটেছে।
রবিবার (১৬ আগস্ট) দেশটির সরকারি সম্প্রচারমাধ্যম এনএইচকে জানিয়েছে, গেল বৃহস্পতিবার রাত থেকে শুরু হওয়া মুষলধারে বৃষ্টিতে বিভিন্ন এলাকায় ভূমিধসের সতর্কতা জারি করা হয় এবং বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যাহত হয়।
চিবা প্রদেশে প্রথমবারের মতো সর্বোচ্চ মাত্রার ভারী বৃষ্টির সতর্কতা জারি করা হয়। সেখানকার একটি আবহাওয়া পর্যবেক্ষণকেন্দ্রে ২৪ ঘণ্টায় ৩০০ মিলিমিটার (প্রায় ১২ ইঞ্চি) বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এটি ওই এলাকায় ছয় দশকের মধ্যে আগস্ট মাসের সর্বোচ্চ বৃষ্টিপাত।
জাপানের ভূমি মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, শুক্রবার সকাল নাগাদ চিবা শহরে আগস্ট মাসে সাধারণত যে পরিমাণ বৃষ্টিপাত হয়, তার তিন গুণেরও বেশি বৃষ্টি হয়েছে।
এনএইচকের নিজস্ব হিসাব অনুযায়ী, আজ রবিবার সকাল পর্যন্ত বৃষ্টিতে নয়জনের মৃত্যু হয়েছে।
চিবা প্রদেশের দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা দপ্তরের শনিবার সন্ধ্যার হিসাব অনুযায়ী, নিহতের সংখ্যা ছিল আটজন। তাদের কয়েকজন পানিতে ডুবে যাওয়া গাড়ির ভেতরে আটকা পড়ে এবং অন্যদের প্লাবিত সড়ক থেকে উদ্ধার করা হয়।
সর্বশেষ হিসাব অনুযায়ী, চিবা অঞ্চলে বৃষ্টির কারণে ৭০টির বেশি বাড়ি আংশিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এক হাজারের বেশি পরিবার জানিয়েছে, তাদের বাড়িঘর প্লাবিত হয়েছে। এর মধ্যে প্রায় ৬০০টি বাড়িতে মেঝের ওপর দিয়ে পানি উঠে গেছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যম জানিয়েছে, প্রায় ১ হাজার ২০০টি গাড়ি এখনও বিভিন্ন সড়কে পরিত্যক্ত অবস্থায় রয়েছে। কর্তৃপক্ষ গাড়িগুলো সরিয়ে নিতে টেনে নিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি জ্যাক ব্যবহার করে সরানোর কাজ করছে।
জাপানের আবহাওয়া সংস্থার এক কর্মকর্তা বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, পরিস্থিতি ‘নজিরবিহীন মাত্রার ভারী বৃষ্টিতে রূপ নিচ্ছে’।
বিজ্ঞানীরা বলছেন, মানবসৃষ্ট জলবায়ু পরিবর্তনের কারণে চরম আবহাওয়ার ঘটনা আরও ঘন ঘন ঘটছে এবং এগুলো দীর্ঘস্থায়ী ও তীব্র হয়ে উঠছে।
৭২ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ৫১, বাস্তুচ্যুত হাজারো মানুষ
ইন্দোনেশিয়ার পূর্বাঞ্চলে ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্প আঘাত হানার একদিন পর আর রবিবার উদ্ধারকারীরা আরও চারটি মরদেহ উদ্ধার করেছেন। এতে ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৫১ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় হাজারো মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছে বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৬ আগস্ট) সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে দেশটির পূর্বাঞ্চলের ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূপৃষ্ঠের ১০ কিলোমিটার গভীরে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে বলে জানায় যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস)।
ভূমিকম্পের পর সুনামির সতর্কতা জারি করা হলে আতঙ্কে বাসিন্দারা নিরাপদ আশ্রয়ের দিকে ছুটে যান। পরে ওই সতর্কতা প্রত্যাহার করা হয়। ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া সংস্থার তথ্য অনুযায়ী, ভূমিকম্পের পর অন্তত ২৩৫টি পরাঘাত (আফটার শক) অনুভূত হয়েছে।
রবিবার উদ্ধারকারীরা ফ্লোরেসের ছয়টি এলাকায় ভূমিকম্পের ফলে সৃষ্ট ভূমিধসে ধসে পড়া স্থাপনা ও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের সন্ধানে অভিযান চালান। ভূমিকম্পের কারণে ভূমিধসে বিচ্ছিন্ন ও দুর্গম হয়ে পড়া সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত তিনটি অঞ্চল—মাংগারাই, পূর্ব মাংগারাই ও নাগেকেওকে বিশেষ গুরুত্ব দেওয়া হচ্ছে।
মাউমেরে শহরভিত্তিক সিক্কা অঞ্চলের অনুসন্ধান ও উদ্ধার অফিসের প্রধান ফাতুর রহমান বলেন, ‘আমরা বেশিরভাগ ভূমিধসের ধ্বংসাবশেষ সরিয়ে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়া গ্রামগুলোর সড়ক আবার খুলে দিয়েছি। তবে যোগাযোগব্যবস্থায় বিঘ্ন ও বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্নতা উদ্ধার তৎপরতায় এখনও বাধা সৃষ্টি করছে।’
দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধার সংস্থা জানিয়েছে, ভূমিকম্পে ১০১ জন আহত হয়েছেন। ৯০০টির বেশি বাড়ি ধ্বংস হয়েছে এবং আরও ৪৫০টি ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এতে প্রায় ৫ হাজার মানুষকে অস্থায়ী আশ্রয়কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
৭৩ দিন আগে
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ৯
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও দুই নারী রয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে দক্ষিণ লেবাননের আনসার গ্রামের প্রান্তে একটি বাড়িতে এই হামলা চালানো হয়।
২০ জুন ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটি অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানায়, হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের সন্ধানে কাজ করেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় সাতজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। এর আগে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তিনজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল।
গত ২৬ জুন ইসরায়েল ও লেবানন সরকার একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি’ ঘোষণা করে। এতে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিনিময়ে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতে একটি শান্তিচুক্তির পথ তৈরির বিষয়টিও এতে রয়েছে। ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার প্রায় ৮০ বছর পরও দেশ দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।
তবে ইরানের মদদপুষ্ট হিজবুল্লাহ সরাসরি আলোচনায় যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং ওই চুক্তির অংশীদারও ছিল না।
এদিকে, শনিবার ভোরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলী তাহের পাহাড়েও তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। পাহাড়টি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাবাতিয়েহ এবং শহরটির দিকে যাওয়া প্রধান সড়কগুলোর ওপর অবস্থিত।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ওই এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে আসছে। এলাকাটি লিতানি নদীর উত্তরে অবস্থিত। নদীটি দীর্ঘদিন ধরে লেবাননে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের মধ্যে একটি কার্যত সীমারেখা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এর দক্ষিণের বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
৭৪ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ৩৮
ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে আজ শনিবার ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। এতে বহু ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এনদে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। মূল ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতা জারি করে উপকূলীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় উপকূলীয় জনপদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না পাওয়ায় পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো জানান, উদ্ধারকারীরা অন্তত ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নিহতদের বেশির ভাগই সিক্কা, মাংগারাই ও পূর্ব মাংগারাইয়ের তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা। মাংগারাইয়ের রেওক গ্রামে ভূমিধসে চাপা পড়ে থাকা ১৬ জনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, ভূমিকম্পে আহত অন্তত ১৩ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
৭৪ দিন আগে
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৬৫, নিখোঁজ ৪ হাজারের বেশি
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে সময় যত যাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমে আসছে।
স্থানীয় সময় সোমবার ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহরে ভবন ধসে পড়ে, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু মানুষ হতাহত হন। এ ঘটনায় বুধবার পর্যন্ত অন্তত ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলারদো দে লা এসপ্রিয়েইয়ার সরকারকে একদিকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে গৃহহীন হয়ে পড়া হাজারো মানুষের আশয়, খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সহায়তা পৌঁছে দিতে নাগরিক সমাজও কাজ করছে।
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েইয়া জানান, সোমবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি হিসেবে এতে প্রায় ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে বেসামরিকভাবে পরিচালিত ডাটাবেসের হিসেবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা সংখ্যা ৪ হাজার ১০০ এর বেশি। সব মিলিয়ে এ ভূমিকম্পে ২৫ হাজার ৮০০টির বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
কলম্বিয়ার রাজধানীতে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘নিখোঁজদের উদ্ধারের জন্য আমারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’
এদিকে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কালি, পেরেইরা, মানিসালেস ও কিবদো শহরে উদ্ধারকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজছেন।
উদ্ধার ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষকে জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে আটকে থাকা মানুষদের কাছে খাবার ও পানি পৌঁছে দিতে পারলে এই সময়ের পরও তাদের জীবিত উদ্ধারের সুযোগ থাকে।
বুধবার বিকেলে কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের সাংবাদিকদের বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও জীবিত মানুষের উপস্থিতির আলামত পাওয়া যাচ্ছে। তাদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ‘এখনও জীবিত মানুষদের উদ্ধারের জন্য পরবর্তী ২০ ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ।’
৭৫ দিন আগে
জিম্বাবুয়েতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ফেরি ডুবে ৪৪ প্রাণহানি
জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি ডুবে অন্তত ৪৪ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে আজ বুধবার বিকেলে দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ খবর জানা গেছে।
টিকিট বিক্রির তথ্যের সূত্র দিয়ে দেশটির সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) জানিয়েছে, ফেরিটিতে ৯০ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা থাকলেও দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু ছিলেন। এছাড়া বেশকিছু শিশুও ফেরিটিতে ছিল।
দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসিকে ফেরিটির এক ক্রু সদস্য জানান, মঙ্গলবার বড় ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটি উল্টে যাওয়ার সময় এতে মোট ১৫৩ জন মানুষ ছিলেন।
ফেরিতে থাকা এক যাত্রী জানান, কারিবা শহরের তীর থেকে দ্বীপ ও মাছ ধরার ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে।
দুর্ঘটনার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান আজও অব্যাহত রয়েছে। এ কাজে একটি বিশেষায়িত পানির নিচে অনুসন্ধানকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সিপিইউ।
আজ সকালে সিপিইউ জানিয়েছিল, দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বিকেলে জিম্বাবুয়ের পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাত্র ৩২ মিনিটের ব্যবধানে দুটি পোস্টে মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে। প্রথম পোস্টে মৃতের সংখ্যা ৩৮ জন জানানো হয়। পরে আরেক পোস্টে জানানো হয়, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
কারিবা হ্রদ আয়তন ও ধারণক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট হ্রদ। জিম্বাবুয়ের উত্তর সীমান্ত বরাবর জাম্বিয়ার সঙ্গে প্রায় ১৫০ মাইলজুড়ে বিস্তৃত এই হ্রদটি ১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে জাম্বেজি নদীতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়।
হ্রদটি তৈরির সময় প্রায় ৫৭ হাজার মানুষকে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কারিবা বাঁধ থেকে জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়া উভয় দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করা হয়।
৭৬ দিন আগে
কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৮১, নিখোঁজ ১৯৫
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২ হাজার ৫৯৫ জন। সরকারি হিসাবে ভূমিকম্পের পর এখনও অন্তত ১৯৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার।
শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির সরকার ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এ সময়সীমা দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উদ্ধারকারীরা জীবিতদের সন্ধানে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
এই দুর্যোগ কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলারদো দে লা এসপ্রিয়েইয়া সরকারকে বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। দেশটিতে ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় দেশটির নাগরিক সমাজও একযোগে কাজ করছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েইয়া জানান, ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে অন্তত ১৮১ জন নিহত এবং আরও ২ হাজার ৫৯৫ জন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, এখনও অন্তত ১৯৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে বেসামরিকভাবে পরিচালিত বিভিন্ন ডেটাবেসের হিসেবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার।
এদিকে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কালি, পেরেইরা, মানিসালেস ও কিবদো শহরে রাতভর ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খুঁজে বের করে উদ্ধারের সম্ভাবনাও তত কঠিন হয়ে পড়ছে।
ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে আটকে পড়াদের কাছে খাবার ও পানি পৌঁছানোর সুযোগ করা গেলে এই সময়সীমা আরও বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতেও ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধারের কিছু ঘটনায় উদ্ধারকারীরা এখনও আশা রাখছেন। একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকারীরা কংক্রিটের দেওয়ালের সরু ফাঁক দিয়ে একটি শিশুকে বের করে আনেন। শিশুটির পুরো শরীর ধুলোয় ঢাকা ছিল। আরেক স্থানে ধ্বংসস্তূপ আটকে পড়া এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করে স্ট্রেচারে তুলতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা।
৭৭ দিন আগে
কঙ্গোয় ইবোলা মহামারিতে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়াল
কঙ্গোয় ইবোলা মহামারিতে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ইবোলায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৮১ জন এবং মারা গেছেন ২ হাজার ১১ জন।
দুর্বল সড়ক যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অর্থ পরিশোধ নিয়ে কর্মবিরতির কারণে দেশটির দুর্গম এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রকাশিত দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোয় ইবোলায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৮১ জনে। এর মধ্যে মারা গেছেন ২ হাজার ১১ জন। বর্তমানে সেখানে ৭০৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি ও আইসোলেশনে রয়েছেন।
কঙ্গোতে গত ১৫ মে থেকে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এরপর তিন মাসের মধ্যেই এমন ভয়াবহর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইবোলা প্রাদুর্ভাব শুরুর পর প্রথম ৯ সপ্তাহে ১ হাজার মানুষ মারা যান। পরে মাত্র ৩ সপ্তাহেই ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই স্বাস্থ্য সংকট ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি ক্রমশ স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
কঙ্গোতে চলমান এই ইবোলা প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে আফ্রিকার ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবে রূপ নিয়েছে। এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। ওই সময় ২৮ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।
এ ব্যাপারে সহায়তা সংস্থাগুলোর কর্মীরা বলছেন, ইবোলা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও এর প্রাদুর্ভাব ঠেকানো যাচ্ছে না। রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটির আক্রান্ত ৫টি প্রদেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাড়ানো হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
এদিকে, ইবোলা প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে দেশটির বহু স্বাস্থ্যকর্মীর পারিশ্রমিক না পাওয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘট করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের পর্যবেক্ষণে থাকা সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষেরও তালিকা করেছেন। তবে নতুন করে যারা ইবোলা আক্রান্তদের বেশিরভাগই এই তালিকায় ছিলেন না। তবুও তারা ইবোলা আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ, সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে না এসেও মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে বোঝা যায়, রোগটির প্রাদুর্ভাব স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চরে গেছে।
আগের বেশিরভাগ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি আলাদা। কারণ এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল ‘বান্দিবুগিও ভাইরাস’। এ ভাইরাসের অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই।
তবে এরই মধ্যে সাম্প্রতিক ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশে এ রোগের টিকা ও চিকিৎসা নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে ।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সম্ভবত ফেব্রুয়ারিতে এবারের ইবোলার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ কঙ্গোর কর্তৃপক্ষ এটি শনাক্ত করার অনেক আগেই দেশটির সবচেয়ে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটিতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছিল।
ডব্লিউএইচও আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু আক্রান্ত রোগীকে ভুলভাবে ম্যালেরিয়া ও টাইফয়েডে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া রোগটির শুরুর দিকে ইবোলার আরও প্রচলিত ধরন শনাক্তের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছিল।
ডব্লিউএইচওর আফ্রিকার আঞ্চলিক পরিচালক ডা. মোহামেদ ইয়াকুব জানাবি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা ভাইরাসটি ঠেকাতে এর পেছনে ছুটছি, কিন্তু ভাইরাসটি আমাদের চেয়ে দ্রুত ছুটছে।’
১৯৭৬ সালে কঙ্গোতে ইবোলা নদীর কাছাকাছি এলাকায় প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। মধ্য আফ্রিকার এই দেশে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। এবারের প্রাদুর্ভাব দেশটিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব।
৭৭ দিন আগে