বিশ্ব
পাকিস্তানে যাত্রীবাহী ট্রেনে আত্মঘাতী বোমা হামলা, নিহত অন্তত ২৩
পাকিস্তানের দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলীয় শহর কোয়েটায় একটি যাত্রীবাহী ট্রেনে আত্মঘাতী বোমা হামলার ঘটনায় কমপক্ষে ২৩ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ৭০ জনের বেশি মানুষ।
রবিবার (২৪ মে) এ বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটে।
অনলাইনে শেয়ার করা ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, বিস্ফোরণের তীব্রতায় ট্রেনের দুটি বগি উল্টে গিয়ে আগুন ধরে যায় এবং আকাশে ঘন কালো ধোঁয়া ছড়িয়ে পড়ে।
প্রত্যক্ষদর্শী ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়া ছবিতে দেখা গেছে, নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন থাকা একটি এলাকায় এ হামলা হয়েছে। হামলায় বেশ কয়েকটি ভবন ব্যাপকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে এবং রাস্তায় পার্ক করা বেশকিছু যানবাহন গুঁড়িয়ে গেছে।
স্থানীয় হাসপাতালের চিকিৎসকরা জানিয়েছেন, বহু মানুষ গুরুতর আহত অবস্থায় হাসপাতালে ভর্তি আছেন, যাদের মধ্যে অন্তত ২০ জনের অবস্থা আশঙ্কাজনক। তিনজন নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক নিরাপত্তা কর্মকর্তা জানিয়েছেন, হামলার পর মরদেহগুলো হাসপাতালে নিয়ে যাওয়া হয়েছে।
২৬ দিন আগে
ফিলিপাইনে নির্মাণাধীন ৯ তলা ভবন ধস, বহু শ্রমিক নিখোঁজ
ফিলিপাইনের রাজধানী ম্যানিলার উত্তরের একটি শহরে নির্মাণাধীন ৯ তলা একটি ভবন ধসে পড়েছে। এ ঘটনায় ২২ জন শ্রমিক বের হয়ে আসতে সক্ষম হলেও আরও অনেকে নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
স্থানীয় সময় রবিবার (২৪ মে) ভোরে ঝড়বৃষ্টির সময় ম্যানিলার উত্তরে পাম্পাঙ্গা প্রদেশের অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে ভবনটি ধসে পড়ে।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে পড়াদের উদ্ধারে শতাধিক পুলিশ সদস্য ও সরকারি কর্মী অভিযান চালাচ্ছেন বলে জানিয়েছেন পুলিশের ব্রিগেডিয়ার জেনারেল জেস মেনডেজ।
ঘটনাস্থল থেকে মেনডেজ জানান, তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মৃত্যুর খবর পাওয়া যায়নি। তবে ভবন থেকে বের হয়ে আসা ২২ শ্রমিকের মধ্যে কয়েকজন আহত হয়েছেন। ধসে পড়া ভবনের নিচে ঠিক কতজন শ্রমিক আটকা পড়েছেন, তা তাৎক্ষণিকভাবে জানাতে পারেননি তিনি।
তবে অ্যাঞ্জেলেস সিটির তথ্য দপ্তরের প্রধান জে পেলায়ো বলেন, অন্তত ৩০ জন শ্রমিক এখনও ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়ে থাকতে পারেন। এক নির্মাণ তদারককারীর বরাত দিয়ে তিনি এ তথ্য জানিয়েছেন, যিনি ভবনটি ধসে পড়ার সময় দ্রুত বের হয়ে আসতে সক্ষম হন।
অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে একসময় যুক্তরাষ্ট্রের মূল ভূখণ্ডের বাইরে সবচেয়ে বড় মার্কিন বিমানঘাঁটিগুলোর একটি ছিল। নব্বইয়ের দশকের শুরুতে সেটি বন্ধ হয়ে যায়। পরে ওই এলাকা এবং আশপাশের শহরগুলো উত্তর ফিলিপাইনের প্রধান অঞ্চল লুজনে বিনোদন ও বাণিজ্যিক কেন্দ্র হিসেবে গড়ে ওঠে।
বর্তমানে ক্লার্ক ফ্রিপোর্ট জোন নামে পরিচিত এই সাবেক মার্কিন বিমানঘাঁটি অ্যাঞ্জেলেস সিটিতে অবস্থিত। ম্যানিলা থেকে প্রায় ৮০ কিলোমিটার উত্তরে এর অবস্থান।
২৬ দিন আগে
ক্যালিফোর্নিয়ায় রাসায়নিক ট্যাংক ছিদ্র: ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
যুক্তরাষ্ট্রের দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার একটি রাসায়নিক ট্যাংকে বিস্ফোরণের আশঙ্কায় জরুরি অবস্থা ঘোষণা করে দেশটির সরকার। ট্যাংকটিতে ছিদ্র হয়ে প্লাস্টিকের যন্ত্রাংশ তৈরিতে ব্যবহৃত একটি বিপজ্জনক রাসায়নিক পদার্থ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা সৃষ্টি হয়েছে। এই অবস্থায় ওই এলাকার প্রায় ৪০ হাজার মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (২২ মে) স্থানীয় অগ্নিনির্বাপণ কর্তৃপক্ষ জানায়, অরেঞ্জ কাউন্টির গার্ডেন গ্রোভ শহরে অবস্থিত একটি অ্যারোস্পেস প্লাস্টিক কারখানায় একটি স্টোরেজ ট্যাংক অতিরিক্ত গরম হয়ে যায় এবং বাতাসে বাষ্প ছাড়তে শুরু করে। ট্যাংকটিতে ৬ থেকে ৭ হাজার গ্যালন ‘মিথাইল মেথাক্রিলেট’ নামক রাসায়নিক পদার্থ ছিল।
জিকেএন অ্যারোস্পেস নামের ওই কারখানাটি মূলত বাণিজ্যিক ও সামরিক বিমানের যন্ত্রাংশ তৈরি করে থাকে।
অরেঞ্জ কাউন্টি দমকল বাহিনীর প্রধান ক্রেগ কোভে শুক্রবার (২২ মে) জানান, ছিদ্র হওয়ার কারণে যেকোনো সময় ট্যাংকটি ফেটে যেতে পারে। এর ফলে রাসায়নিক মাটিতে ছড়িয়ে পড়তে পারে, অথবা এটি বিস্ফোরিতও হতে পারে।
তিনি বলেন, ‘এই ট্যাংকটি একসময় ফেটে যাবেই, তবে কখন হবে, তা আমরা জানি না। এটি কখন বা কীভাবে ঠেকানো যাবে, তা বের করতে আমরা সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।’
তবে একই দিনে (শুক্রবার) একটি আপডেটে কোভে জানান, কর্তৃপক্ষ ট্যাংকের তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সক্ষম হয়েছে, যা সমস্যা সমাধানের জন্য কিছুটা সময় দিচ্ছে।
গার্ডেন গ্রোভের বাসিন্দাদের বাড়ি ছেড়ে যেতে নির্দেশ দেওয়া হয়। সারা রাত ধরে ছিদ্র বন্ধের চেষ্টায় ব্যর্থ হওয়ার পর অরেঞ্জ কাউন্টি শহরের আরও ৫টি জায়গার বাসিন্দাদেরও সরে যাওয়ার আদেশ জারি করা হয়। জায়গাগুলো যথাক্রমে, সাইপ্রেস, স্ট্যান্টন, অ্যানাহেইম, বুয়েনা পার্ক এবং ওয়েস্টমিনস্টার।
তবে এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
গার্ডেন গ্রোভ লস অ্যাঞ্জেলেসের কেন্দ্র থেকে প্রায় ৬১ কিলোমিটার দক্ষিণে এবং ডিজনিল্যান্ডের দুটি থিম পার্ক থেকে দেড় কিলোমিটারেরও কম দূরত্বে ওই কারখানাটির অবস্থান। তবে ডিজনিল্যান্ড থেকে বাসিন্দাদের সরে যাওয়ার নির্দেশনা এখনও জারি করেনি কর্তৃপক্ষ।
ড্যানি ফামন জানান, শুক্রবার সকাল ৭টার দিকে তার রুমমেট দরজায় ধাক্কা দিয়ে তাকে তাৎক্ষণিকভাবে বের হয়ে যেতে বলেন। ফাম আগের রাতে একটি ভিয়েতনামি রেস্তোরাঁয় অনেক রাত পর্যন্ত কাজ করেছিলেন। বাসায় ফিরে তার খবরটি জানা হয়েছিল না।
তিনি বলেন, ‘এটা আমার কাছে অনেক আঘাতের মতো ছিল। আমি জানতাম না যে এটা কতটা গুরুতর হবে। এরকম কিছু যে ঘটতে পারে তা আমি কখনো ভাবিনি।’
তিনি কয়েক মিনিটের মধ্যে শুধু তার মানিব্যাগ আর পাসপোর্ট নিয়ে বের হয়ে পড়েন এবং পাশের একটি শহরে এক বন্ধুর রেস্তোরাঁয় আশ্রয় নেন। শুক্রবার বিকেল পর্যন্ত তিনি জানতেন না যে রাতে কোথায় থাকবেন। সম্ভবত কয়েকদিন তার এক কাপড়েই থাকতে হবে বলে দুশ্চিন্তায় ছিলেন তিনি।
কাউন্টির স্বাস্থ্য কর্মকর্তা ডা. রেজিনা চিনসিও-কোয়ং জানান, রাসায়নিক পদার্থটি গরম হলে এমন বাষ্প নির্গত হয় যা মানুষের স্বাস্থ্যের জন্য ক্ষতিকর। এটি শ্বাসকষ্ট, চোখে জ্বালা ও চুলকানি, বমি বমি ভাব এবং মাথাব্যথার কারণ হতে পারে।
ক্রেগ কোভে জানান, কর্মীরা প্রথমে দুটি ক্ষতিগ্রস্ত ট্যাংকের মধ্যে একটিকে সারাতে সক্ষম হয়েছিলেন। তবে শুক্রবার সকালে জানা যায়, অন্য ট্যাংকটির অবস্থা আরও খারাপ।
রাসায়নিক পদার্থ যাতে নর্দমায় বা কাছাকাছি কোনো খাল বা সমুদ্রের পানিতে মিশতে না পারে, সেজন্য বালির থলে দিয়ে অস্থায়ী বাঁধ নির্মাণ করা হয়েছে।
জিকেএন অ্যারোস্পেস জানিয়েছে, বিশেষজ্ঞ হ্যাজার্ডাস ম্যাটেরিয়াল দল পরিস্থিতি মূল্যায়ন করছে।
প্রতিষ্ঠানটির একজন মুখপাত্র ইমেইলে জানান, ‘এই মুহূর্তে কোনো আহতের খবর নেই। আমাদের কর্মী, উদ্ধারকর্মী এবং আশেপাশের সমাজের নিরাপত্তাই আমাদের প্রধান লক্ষ্য। আরও তথ্য নিশ্চিত হলে আমরা আপডেট জানাব।’
২৭ দিন আগে
চীনে কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহত বেড়ে ৯০
চীনের উত্তরাঞ্চলীয় শানসি প্রদেশে একটি কয়লাখনিতে গ্যাস বিস্ফোরণে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৯০-এ দাঁড়িয়েছে। এ দুর্ঘটনায় আরও বহু শ্রমিক খনির নিচে আটকা পড়েছেন।
শুক্রবার (২৩ মে) স্থানীয় সময় সন্ধ্যায় দেশটির চাংশি শহরের লিউশেনইউ কয়লাখনিতে এ দুর্ঘটনা ঘটে। বিস্ফোরণের সময় খনির নিচে ২৪৭ জন শ্রমিক আটকা পড়েন বলে জানিয়েছে দেশটির রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা সিনহুয়া।
আজ (শনিবার) ভোরে প্রথমে আটজন নিহত এবং ৩৮ জন আটকা পড়ার তথ্য জানিয়েছিল সিনহুয়া। পরে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৮২ জনে দাঁড়িয়েছে বলে জানানো হয়। এরপর এই সংখ্যা ৯০-এ উন্নীত হয়েছে বলে জানিয়েছে বার্তা সংস্থাটি।
বিস্ফোরণের কারণ তদন্ত করা হচ্ছে এবং উদ্ধার অভিযান অব্যাহত রয়েছে বলে প্রতিবেদনে বলা হয়েছে।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজদের উদ্ধারে সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালানোর নির্দেশ দিয়েছেন। একইসঙ্গে দুর্ঘটনার কারণ তদন্ত করে দায়ীদের জবাবদিহির আওতায় আনার আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
শানসি প্রদেশ চীনের প্রধান কয়লা উৎপাদনকারী অঞ্চল হিসেবে পরিচিত। আয়তনে গ্রিসের চেয়েও বড় এ প্রদেশে প্রায় ৩ কোটি ৪০ লাখ মানুষের বসবাস। গত বছর প্রদেশটির কয়েক লাখ খনি শ্রমিক প্রায় ১৩০ কোটি টন কয়লা উত্তোলন করেছেন, যা চীনের মোট উৎপাদনের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ।
২৭ দিন আগে
যুক্তরাষ্ট্রের বিরোধিতা উপেক্ষা করে জলবায়ু সংকটবিষয়ক আইসিজে মতামতের পক্ষে জাতিসংঘের প্রস্তাব গৃহীত
জলবায়ু পরিবর্তন মোকাবেলায় রাষ্ট্রগুলোর আইনি বাধ্যবাধকতা রয়েছে—আন্তর্জাতিক বিচার আদালতের (আইসিজে) এমন উপদেষ্টা মতামতকে সমর্থন জানিয়ে ১৪১-৮ ভোটে একটি প্রস্তাব গ্রহণ করেছে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদ। বিশ্বের সবচেয়ে বড় ঐতিহাসিক কার্বন নিঃসরণকারী যুক্তরাষ্ট্র এ প্রস্তাবের বিরোধিতাকারী দেশগুলোর মধ্যে ছিল।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, প্রশান্ত মহাসাগরীয় দ্বীপরাষ্ট্র ভানুয়াতুর উত্থাপিত প্রস্তাবটি আইসিজের জুলাই ২০২৫-এর উপদেষ্টা মতামতকে সমর্থন করে। ওই মতামতে বলা হয়, জীবাশ্ম জ্বালানির ব্যবহার কমানো এবং বৈশ্বিক উষ্ণায়ন মোকাবেলায় রাষ্ট্রগুলোর বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
স্থানীয় সময় বুধবার অনুষ্ঠিত ভোটাভুটিতে ২৮টি দেশ অংশ নেয়নি। যুক্তরাষ্ট্র ছাড়াও সৌদি আরব, রাশিয়া, ইসরায়েল, ইরান, ইয়েমেন, লাইবেরিয়া ও বেলারুশ প্রস্তাবটির বিরোধিতা করে। অন্যদিকে অস্ট্রেলিয়া, জার্মানি, ফ্রান্স ও যুক্তরাজ্য প্রস্তাবের পক্ষে ভোট দেয়। কপ৩১ জলবায়ু সম্মেলনের আয়োজক তুরস্ক, ভারত এবং তেল উৎপাদনকারী কাতার ও নাইজেরিয়া ভোটদানে বিরত থাকে।
জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস ভোটের পর এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, ‘জলবায়ু পরিবর্তনে আইসিজের উপদেষ্টা মতামত সংক্রান্ত সাধারণ পরিষদের প্রস্তাব গ্রহণকে আমি স্বাগত জানাই। এটি আন্তর্জাতিক আইন, জলবায়ু ন্যায়বিচার, বিজ্ঞান এবং জনগণকে ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট থেকে রক্ষার রাষ্ট্রীয় দায়িত্বের একটি শক্তিশালী স্বীকৃতি বলা যায়।’
তিনি আরও বলেন, সরকারগুলো নাগরিকদের ‘ক্রমবর্ধমান জলবায়ু সংকট’ থেকে রক্ষার দায়বদ্ধতার স্বীকৃতি দিয়েছে।
যদিও আইসিজের এ মতামত আইনগতভাবে বাধ্যতামূলক নয়, তবু এটি ইতোমধ্যে বিশ্বজুড়ে জলবায়ুবিষয়ক মামলায় ব্যবহার হচ্ছে এবং বিভিন্ন আদালতের বিচারকরা রায়ে এর উল্লেখ শুরু করেছেন। তবে কূটনৈতিক পর্যায়ে এটি জটিলতা তৈরি করেছে। বেলেমে গত বছরের ইউএনএফসিসিসি জলবায়ু আলোচনায় বিষয়টি গুরুত্ব পায়নি; সৌদি আরব চূড়ান্ত নথিতে এর অন্তর্ভুক্তিকে ‘লাল, লাল রেখা’ হিসেবে উল্লেখ করেছিল।
ট্রাম্প প্রশাসন যুক্তরাষ্ট্রকে প্যারিস জলবায়ু চুক্তিসহ বেশ কয়েকটি পরিবেশবিষয়ক চুক্তি থেকে সরিয়ে নেওয়ার পাশাপাশি জীবাশ্ম জ্বালানি উৎপাদন বাড়ানোর নীতি অনুসরণ করেছে।
জাতিসংঘে মার্কিন উপরাষ্ট্রদূত ট্যামি ব্রুস বলেন, ‘প্রস্তাবটিতে জীবাশ্ম জ্বালানি সংক্রান্ত অনুপযুক্ত রাজনৈতিক দাবি রয়েছে।’
২৯ দিন আগে
ইরানে আহমাদিনেজাদকে ক্ষমতায় আনতে চেয়েছিল যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েল!
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ইরানের সরকার উৎখাতের প্রচেষ্টা নিয়ে নতুন বিতর্ক তৈরি হয়েছে। নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট মাহমুদ আহমাদিনেজাদকে আবার ক্ষমতায় বসাতে চেয়েছিল ইসরায়েল। তবে বিশ্লেষকদের অনেকেই এই তথ্যকে অবাস্তব বলে মনে করছেন।
২০০৫ থেকে ২০১৩ সাল পর্যন্ত ইরানের প্রেসিডেন্ট ছিলেন মাহমুদ আহমাদিনেজাদ। ওই সময়ে তিনি ইসরায়েলবিরোধী কঠোর বক্তব্যের কারণে ব্যাপক আলোচনায় ছিলেন। তবে পরে তিনি সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন। এরপর থেকে তিনি সরকারের সমালোচনা শুরু করেন। সে সময় তিনি নিজেকে সাধারণ ও দরিদ্র মানুষের পক্ষে থাকা নেতা হিসেবে উপস্থাপন করেছিলেন।
নিউইয়র্ক টাইমসের এক প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে, আহমাদিনেজাদকে গৃহবন্দি থেকে পালাতে সহায়তা করেছিল যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল। এমনকি তাকে তার তেহরানের বাড়ি থেকে বের করে আনতে বাড়িটির কাছের একটি নিরাপত্তা ভবনে হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েল। তবে পরে আহমাদিনেজাদ এই পুরো পরিকল্পনা নিয়ে অস্বস্তিতে পড়ে যান।
এদিকে, নিউইয়র্ক টাইমসের এ প্রতিবেদনকে বিশ্লেষকদের অনেকেই বিশ্বাসযোগ্য মনে করছেন না। অনেকের মতে, এটি আহমাদিনেজাদের সমর্থকদের ছড়ানো প্রচারণা। আবার কেউ কেউ বলছেন, এটি ইসরায়েলি গোয়েন্দাদের বিভ্রান্তিমূলক তথ্য।
এই ঘটনাকে কেন্দ্র করে বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানের সরকারের বিরুদ্ধে জনঅসন্তোষ তৈরির পরিকল্পনা করেছিল। এ ছাড়াও তারা বিমান হামলার মাধ্যমে ইরান সরকারকে দুর্বল করে দিয়ে সরকার পতন ঘটাতে চেয়েছিল।
দ্য গার্ডিয়ানের খবরে বলা হয়েছে, জ্বালানি তেলের দাম বাড়ায় যুক্তরাষ্ট্রে ক্ষোভের মুখে রয়েছেন দেশটির প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। তাই তিনি চলমান ইরান সংঘাত থেকে কিছুটা সরে আসার চেষ্টা করছেন। পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্র-ইসরায়েলের দেওয়া শর্ত মানতে তেহরানের ওপর চাপ অব্যাহত রেখেছন তিনি। এ কারণে প্রয়োজনে ইরানে আবার হামলার বিষয়টিও বিবেচনা করছেন তিনি।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) ট্রাম্প জানান, উপসাগরীয় কয়েকটি দেশের নেতাদের অনুরোধে তিনি ইরানে নতুন হামলার সিদ্ধান্ত আপাতত স্থগিত করেছেন। তবে পরদিন মঙ্গলবার (১৯ মে) ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর সঙ্গে তার দীর্ঘ ফোনালাপ হয়। ফোনালাপে আবার তারা সম্ভাব্য নতুন সামরিক পদক্ষেপ নিয়ে আলোচনা করেছেন।
ইসরায়েলকে হামলা থেকে বিরত রাখা সম্ভব কিনা, এমন প্রশ্নের জবাবে গতকাল (বুধবার) সাংবাদিকদের ট্রাম্প বলেন, ‘আমি যা চাই, নেতানিয়াহু তা-ই করবেন। আমার কাছে তিনি দারুণ একজন মানুষ।’
অন্যদিকে, ইরানের বন্দরগুলোর ওপর পাল্টা অবরোধ আরোপ করেছে যুক্তরাষ্ট্র। ইরানের তেল রপ্তানি বন্ধ করতেই এ অবরোধ দেওয়া হয়েছে। কারণ, চীনই এখন ইরানের রপ্তানি করা তেলের সবচেয়ে বড় ক্রেতা এবং বৈদেশিক আয়ের প্রধান উৎস।
ট্রাম্প বলেন, তিনি হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ খুলে দিতে চান, তবে এ নিয়ে তার কোনো চাপ নেই। তিনি বলেন, আমি হরমুজ নিয়ে কোনো তাড়াহুড়ার মধ্যে নেই। আমি চাই এই সংঘাতে প্রাণহানি না হোক।
আবার, তেহরান মনে করছে, হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকায় পশ্চিমা দেশগুলোর অর্থনীতিতে প্রভাব পড়েছে। এ কারণে এখন যুক্তরাষ্ট্রের ইউরেনিয়াম সমৃদ্ধকরণ-সংক্রান্ত দাবি মানতে রাজি নয় ইরান। ইরান চায়, পারমাণবিক কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা পরে করে আগে হরমুজ প্রণালিতে অবরোধ তুলে নিক যুক্তরাষ্ট্র।
ইরানের ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পস জানিয়েছে, ট্রাম্প যদি ইরানে আবার হামলা শুরু করে, তাহলে তারা এই যুদ্ধ পুরো মধ্যপ্রাচ্যে ছড়িয়ে দেবে।
নিউইয়র্ক টাইমসের এই প্রতিবেদন নিয়ে ইরানি গণমাধ্যমগুলোও সন্দেহ প্রকাশ করেছে। ইরানি গণমাধ্যমগুলো বলছে, সাবেক প্রেসিডেন্ট আহমাদিনেজাদ কখনোই গৃহবন্দি ছিলেন না।
গত ২৮ ফেব্রুয়ারি তেহরানে ইসরায়েলের হামলার সময় ইরানি গণমাধ্যমে খবর এসেছিল, আহমাদিনেজাদ তার বাড়িতে হামলায় নিহত হয়েছেন।
পরে অবশ্য জানা যায়, উত্তর-পূর্ব তেহরানের নারমাক এলাকায় আহমাদিনেজাদের বাড়ির বাইরে একটি নিরাপত্তা চৌকিতে হামলা করেছিল ইসরায়েল। পরে স্যাটেলাইট ছবিতেও সেই হামলার সত্যতা নিশ্চিত হয়। তখন ধারণা করা হচ্ছিল, সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার সুযোগ নিয়ে আহমাদিনেজাদ ক্ষমতায় ফেরার চেষ্টা করতে পারেন।
ওই বিমান হামলার পরের কয়েক দিনে ইরানের সরকারি সংবাদ সংস্থাগুলো জানিয়েছিল, হামলায় তিনি সামান্য আহত হয়েছেন। তবে এ ঘটনায় তার দেহরক্ষী নিহত হয়েছেন।
আহমাদিনেজাদ ক্ষমতায় আসলে তিনি নেতানিয়াহুর ভালো মিত্র হতে পারতেন না। কারণ, তিনি তার তীব ইসরায়েলবিরোধী অবস্থানের জন্য পরিচিত ছিলেন।
ইরানে হামলার শুরুতেই মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প স্পষ্ট করে বলেছিলেন, তিনি ইরানে ভেনেজুয়েলার মতো একটি মডেল অনুসরণ করতে চান। ভেনেজুয়েলায় যুক্তরাষ্ট্রের সেনারা দেশটির নেতা নিকোলাস মাদুরোকে আটক করলেও সেখানে কারাকাসের সরকার পুরোপুরি অক্ষত রেখেছিল যুক্তরাষ্ট্র। বর্তমানে মাদুরোর ঘনিষ্ঠ সহযোগী ডেলসি রদ্রিগেজ ওয়াশিংটনের সঙ্গে অনেকটাই সমন্বয় করে কাজ করছেন। তবে ইরানে আহমাদিনেজাদ ও সরকারের মধ্যে দীর্ঘদিনের টানাপোড়েন রয়েছে, তাই সেখানে এমন সমঝোতার সম্ভাবনা কম।
এর আগে, ২০১১ সালে সর্বোচ্চ নেতা আয়াতুল্লাহ আলী খামেনির সঙ্গে বিরোধে জড়িয়ে পড়েন আহমাদিনেজাদ। এরপর থেকে আহমাদিনেজাদের রাজনৈতিক প্রভাব উল্লেখযোগ্যভাবে কমে যায়। পরে ২০১২ সালে আহমাদিনেজাদের প্রতিদ্বন্দ্বী আলি লারিজানি পার্লামেন্টের স্পিকার নির্বাচিত হন। মূলত মন্ত্রী নিয়োগ ও অর্থনৈতিক নীতি এসব বিষয় নিয়ে আহমাদিনেজাদতাদের সঙ্গে অন্য নেতাদের তীব্র বিরোধ তৈরি হয়েছিল।
২০১৮ সালে আহমাদিনেজাদ তার উত্তরসূরি হাসান রুহানির সরকারের সমালোচনা করার পর গ্রেপ্তার হন। ওই সময় তিনি বলেছিলেন, ‘রাষ্ট্রীয় নেতারা জনগণের সমস্যা ও উদ্বেগ থেকে নিজেদের বিচ্ছিন্ন রেখেছেন। সমাজের বাস্তবতা সম্পর্কে তারা কিছুই জানেন না।’
এসব কারণে পরবর্তীতে আহমাদিনেজাদকে ইরানের রাষ্ট্রপতি নির্বাচনে অংশ নিতে বাধা দেওয়া হয়, যার মধ্যে ২০২৪ সালের নির্বাচনও ছিল। পরে তিনি ধীরে ধীরে রাজনৈতিকভাবে অনেকটাই নীরব হয়ে যান। এরপর ২০২৫ সালে ইরানে ইসরায়েলি হামলার বিষয়ে তিনি খুব সীমিত পরিসরে সমালোচনা করেন।
উল্লেখযোগ্য বিষয় হলো, পরে আহমাদিনেজাদের অবস্থান পরিবর্তনের ইঙ্গিত পাওয়া গিয়েছিল। গত বছর জুনে তিনি ইসরায়েলপন্থি দেশ হাঙ্গেরি সফরে গিয়ে একটি বক্তব্য দিয়েছিলেন। রাষ্ট্রপতির পদ ছাড়ার পর অল্প কয়েকবার বিদেশ সফরে গিয়েছেন তিনি। তার হাঙ্গেরি সফর ছিল এই কয়েকটি সফরের মধ্যে একটি। তবে, এই সফরটি ইরান সরকারের অনুমোদন নিয়েই হয়েছিল।
২৯ দিন আগে
হামাসকে নিরস্ত্র করতে নিরাপত্তা পরিষদের হস্তক্ষেপ চাইবে বোর্ড অব পিস
হামাসকে নিরস্ত্র করতে চাপ প্রয়োগের জন্য জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদকে আহ্বান জানাবে যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় গঠিত ‘বোর্ড অব পিস’।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (২০ মে) অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের হাতে আসা এক প্রতিবেদনে এ তথ্য জানা গেছে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস অস্ত্র সমর্পণ ও গাজায় বেসামরিক প্রশাসনের কাছে ক্ষমতা হস্তান্তরে রাজি নয়। এ কারণে যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হচ্ছে না।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের উদ্যোগে গঠিত আন্তর্জাতিক সংস্থা বোর্ড অব পিস গাজায় হামাস ও ইসরায়েলের মধ্যে চলমান নাজুক যুদ্ধবিরতি পর্যবেক্ষণ করছে। আগামীকাল (বৃহস্পতিবার) জাতিসংঘ নিরাপত্তা পরিষদের বৈঠকে চলমান মধ্যপ্রাচ্য পরিস্থিতিতে নিয়ে সংস্থাটির এই প্রতিবেদন নিয়ে আলোচনা করা হবে।
প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, এই পর্যায়ে যুদ্ধবিরতির বাস্তবায়নের প্রধান বাধাগুলো হলো হামাসের নিরস্ত্রীকরণে রাজি না হওয়া, গাজায় তাদের নিয়ন্ত্রণ ছাড়তে অনীহা এবং গাজাকে বেসামরিক প্রশাসনে রূপান্তরের সুযোগ না দেওয়া। এসব কারণেই সেখানে যুদ্ধবিরতির পূর্ণ বাস্তবায়ন ব্যাহত হচ্ছে।
তবে হামাস এক বিবৃতিতে এই প্রতিবেদনটি প্রত্যাখ্যান করেছে। তারা জানিয়েছে, এতে ‘ভুল তথ্য’ দেওয়া হয়েছে।
প্রতিবেদনটির সঙ্গে পরিচিত এক কূটনীতিক এর সত্যতা নিশ্চিত করেছেন। তবে প্রতিবেদনটি এখনও প্রকাশ না হওয়ায় নাম প্রকাশ না করার শর্তে তিনি কথা বলেছেন।
ট্রাম্পের ২০ দফা যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার আওতকায় হামাসকে অস্ত্র সমর্পণসহ তাদের সুড়ঙ্গ নেটওয়ার্ক ধ্বংসের আহ্বান জানানো হয়েছে। একইসঙ্গে এ পরিকল্পনায় গাজা থেকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহার, নতুন ফিলিস্তিনি সরকার গঠন, আন্তর্জাতিক নিরাপত্তা বাহিনী মোতায়েন এবং দীর্ঘ যুদ্ধের পর বিধ্বস্ত গাজার পুনর্গঠনের বিষয়গুলো অন্তর্ভুক্ত রয়েছে।
যুদ্ধবিরতি স্থবির হয়ে আছে
গত সপ্তাহে বোর্ড অব পিসের প্রধান ও সাবেক জাতিসংঘ মধ্যপ্রাচ্য দূত নিকোলাই ম্লাদেনভ জানান, অক্টোবর থেকে কার্যকর হওয়া গাজা যুদ্ধবিরতি বাস্তবায়ন করা সম্ভব হয়নি। তিনি বলেছেন, হামাসকে নিরস্ত্র করতে গিয়ে পুরো যুদ্ধবিরতির অগ্রগতি থেমে গেছে।
নিরাপত্তা পরিষদে জমা দেওয়া বোর্ডের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, হামাস তাদের অস্ত্র জমা না দিলে গাজা পুনর্গঠন শুরু করা সম্ভব নয়।
প্রতিবেদনে আরও বলা হয়, ট্রাম্পের যুদ্ধবিরতি পরিকল্পনার পূর্ণ বাস্তবায়নের জন্য কিছু চুক্তি সম্পন্ন হবে। এতে হামাস ও গাজার অন্যান্য সশস্ত্র গোষ্ঠীর সম্পূর্ণ নিরস্ত্রীকরণ অন্তর্ভুক্ত থাকবে।
২০২৩ সালের ৭ অক্টোবর ইসরায়েলে হামলার নেতৃত্ব দেওয়া হামাস অভিযোগ করেছে, যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপে ইসরায়েল তাদের প্রতিশ্রুতি পূরণ করেনি। একইসঙ্গে হামাস নিজেদের নিরস্ত্রীকরণের বিষয়টিকে ইসরায়েলি সেনা প্রত্যাহারের সঙ্গে শর্ত হিসেবে ধরেছে।
অন্যদিকে, যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর থেকে ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বিস্তীর্ণ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে। বর্তমানে ভূখণ্ডটির প্রায় ৬০ শতাংশ ইসরায়েলের দখলে রয়েছে।
বোর্ড অব পিসের নতুন প্রতিবেদনে নিরাপত্তা পরিষদকে বলা হয়েছে, গাজায় সশস্ত্র বাহিনীর অস্ত্র অপসারণ করা হলে যুদ্ধের সমাপ্তি হবে। পাশাপাশি অস্ত্র হস্তান্তর সম্পন্ন হলে গাজা পুনর্গঠন শুরু হবে। এর ফলে নির্ধারিত সময়ের মধ্যে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহার করা হবে। ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠার পথ তৈরির জন্য সশস্ত্র বাহিনীগুলোকে নিরস্ত্রীকরণ অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
হামাসের দবি, যুদ্ধবিরতি ভেস্তে দিতেই এ প্রতিবেদন
এদিকে, হামাস জানিয়েছে, প্রতিবেদনটি ভুল তথ্য দিয়ে সাজানো হয়েছে। ইসরায়েলি দখলদার সরকারকে গাজায় যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের দায় অব্যাহতি দিতেই প্রতিবেদনটি প্রস্তুত করা হয়েছে।
তাদের দাবি, যুদ্ধবিরতি চুক্তির আওতায় ইসরায়েল কোনো প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন করেনি। ইসরায়েলি বাহিনী গাজার বাস্তুচ্যুত মানুষের জন্য আশ্রয় তৈরিতে প্রয়োজনীয় সরঞ্জাম ও উপকরণ প্রবেশে বাধা দিয়েছিল। এই বিষয়গুলো প্রতিবেদনে উপেক্ষা করা হয়েছে।
হামাস এক বিবৃতিতে জানায়, নিরস্ত্রীকরণ বিষয়টি নিয়ে করা পরিস্থিতি ঘোলাটে করা হচ্ছে। যুদ্ধবিরতির চুক্তিকে ভেস্তে দিতেই এমন অযৌক্তিক শর্তকে বার বার সামনে আনছেন তারা।
এছাড়া নিরাপত্তা পরিষদ ও নিকোলাই ম্লাদেনভের প্রতি আহ্বান জানিয়ে হামাস বলেছে, ইসরায়েলকে আগে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপের প্রতিশ্রুতিগুলো বাস্তবায়ন করতে হবে। গাজায় ফিলিস্তিনি জনগণের বিরুদ্ধে প্রতিদিনের আগ্রাসন বন্ধ করতে হবে।
যুদ্ধবিরতি চুক্তি বারবার লঙ্ঘনের অভিযোগ
হামাস বিবৃতিতে জানিয়েছে, গাজায় প্রতিদিনই যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করা হচ্ছে। এতে বেসামরিক মানুষের মৃত্যু হচ্ছে। তারা আতঙ্কের মধ্যে বসবাস করে আসছে। এছাড়া, গাজার মানুষের কাছে আন্তর্জাতিক সহায়তা পৌঁছাতে বাধা সৃষ্টি করা হচ্ছ্। এ বিষয়গুলোকে খাটো করে দেখার সুযোগ নেই।
যুদ্ধবিরতির মধ্যেই ইসরায়েলি বাহিনী গাজায় এখনও বিমান হামলা চালিয়ে যাচ্ছে। বর্তমানে তারা যুদ্ধবিরতি চুক্তিতে নির্ধারিত এলাকার চেয়েও বেশি অঞ্চল দখল করে নিয়েছে। অন্যদিকে, গাজার প্রায় ২০ লাখ মানুষ চরম মানবিক সংকটে দিন কাটাচ্ছে। অধিকাংশ মানুষই এখানে তাবু টাঙিয়ে বসবাস করছে।
গত সপ্তাহে নিকোলাই ম্লাদেনভ জানান, তার দপ্তর প্রতিদিন উভয় পক্ষের যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের ঘটনা মোকাবিলা করছে। তবে এক্ষেত্রে তিনি নিরস্ত্রীকরণ বিষয়টিকেই কোনো সমাধান বের না হওয়ার কারণ হিসেবে উল্লেখ করেছেন।
তিনি বলেন, হামাস অস্ত্র ত্যাগের বিষয়ে কোনো আলোচনায় আসতে রাজি না। এ কারণেই গাজায় অন্যান্য বিষয়ে অগ্রগতি আটকে আছে।
৩০ দিন আগে
চীনে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ১২ জন নিহত
চীনে চলতি সপ্তাহে প্রবল বৃষ্টি ও বন্যায় বিভিন্ন অংশে আঘাত হেনেছে। এ ঘটনায় ১২ জন নিহত হয়েছেন এবং হাজার হাজার মানুষকে সরিয়ে নিতে বাধ্য করা হয়েছে বলে দেশটির রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম জানিয়েছে।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম সিসিটিভি বুধবার (২০ মে) জানিয়েছে, মধ্য চীনের হুনান প্রদেশের শিমেন কাউন্টিতে প্রবল বৃষ্টির পর ৫ জন নিহত এবং ১১ জন নিখোঁজ হয়েছেন। উদ্ধার অভিযান চলছে।
এদিকে, চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া জানিয়েছে, মঙ্গলবার সন্ধ্যার মধ্যে ১৯ হাজারেরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়া হয়েছে।
সিনহুয়া আরও জানায়, সোমবার (১৮ মে) সকাল ৭টায় শেষ হওয়া ২৪ ঘণ্টায় কাউন্টিটিতে মোট ৩৩৯ মিলিমিটার বৃষ্টিপাত রেকর্ড করা হয়েছে। এর মধ্যে কেবল একটি শহরেই মাত্র কয়েক ঘণ্টায় ২৪০ মিলিমিটার বৃষ্টি হয়েছে যা ঐতিহাসিক রেকর্ড ভেঙে দিয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
পার্শ্ববর্তী হুবেই প্রদেশে কিছু রাস্তা নদীতে পরিণত হয়েছে এবং উদ্ধারকারীদের আটকে পড়া বাসিন্দাদের সাহায্য করতে ফোলানো নৌকা ব্যবহার করতে হয়েছে। সিনহুয়া জানিয়েছে, কিছু বাড়ি পানিতে ডুবে গেছে বা ধসে পড়েছে। গতকাল (মঙ্গলবার) সকাল পর্যন্ত তিনজন নিহত এবং আরও চারজন নিখোঁজ রয়েছেন বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
সিসিটিভি মঙ্গলবার আরও জানিয়েছে, দক্ষিণ-পশ্চিম চীনের গুইঝোউ প্রদেশে ভারী বৃষ্টি ও বন্যায় ৪ জন নিহত এবং আরও ৫ জন নিখোঁজ হয়েছেন। কিছু এলাকায় বাড়িঘর প্লাবিত, রাস্তাঘাট ক্ষতিগ্রস্ত এবং যোগাযোগ বিচ্ছিন্ন হয়েছে বলে সংস্থাটি জানিয়েছে।
সংস্থাটি আরও বলে, একটি এলাকায় ৩ হাজার ৭০০-এরও বেশি মানুষকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
চীনে বন্যাজনিত হতাহতের ঘটনা নিয়মিত ঘটে থাকে। গত জুলাইয়ে বৃষ্টি ও বন্যায় বেইজিংয়ে শ’খানেক মানুষ নিহত হয়েছিলেন।
৩০ দিন আগে
ক্যালিফোর্নিয়ায় দাবানল, ১৭ হাজারের বেশি মানুষকে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ
দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ায় একটি দাবানল শহরতলির দিকে অগ্রসর হওয়ায় সেখানকার বাড়িঘরসহ জনজীবন হুমকির সম্মুখীন হয়েছে। এ দুর্যোগের কারণে ১৭ হাজারেরও বেশি মানুষকে নিরাপদে সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ দিয়েছে স্থানীয় প্রশাসন।
স্থানীয় সময় সোমবার (১৮ মে) বায়ুচালিত স্যান্ডি ফায়ার লস অ্যাঞ্জেলেস থেকে প্রায় ৩০ মাইল উত্তর-পশ্চিমে সিমি ভ্যালির উপরের পাহাড়ে দাবানল ছড়িয়ে পড়েছে বলে জানানো হয়।
ভেন্টুরা কাউন্টি ফায়ার ডিপার্টমেন্টের তথ্য অনুযায়ী, মঙ্গলবার (২০ মে) সকালের মধ্যে এটি দুই বর্গমাইলেরও (৫ বর্গকিলোমিটার) বেশি শুকনো ঝোপঝাড় পুড়িয়ে ফেলেছে এবং কমপক্ষে একটি বাড়ি ধ্বংস করেছে।
বিভাগের মুখপাত্র অ্যান্ড্রু ডাউড জানান, আগুন প্রথমে ঘণ্টায় ৩০ মাইল (৪৮ কিলোমিটার) ছাড়িয়ে যাওয়া দমকা হাওয়ায় ছড়িয়ে পড়েছিল, কিন্তু রাতভর বাতাস শান্ত হওয়ায় দমকলকর্মীরা সহায়তা পেয়েছেন।
উড বলেন, ‘আবহাওয়ার উন্নত পরিস্থিতিতে আমরা এই আগুনের বিরুদ্ধে অনেক অগ্রগতি করেছি। বাতাস আবার বাড়ার আগেই আরও অগ্রগতি করার আশা করছে দলগুলো।’
আগুন ৫ শতাংশ নিয়ন্ত্রণে এসেছে। কী কারণে আগুন লাগল, তা তদন্ত করে দেখা হচ্ছে বলে জানান তিনি।
এদিকে, ১ লাখ ২৫ হাজারেরও বেশি জনসংখ্যার শহর সিমি ভ্যালির বেশ কয়েকটি পাড়া থেকে মানুষজন সরিয়ে নেওয়ার নির্দেশ ও সতর্কতা এখনও বহাল রয়েছে। বিমান থেকে পানি ফেলার মধ্যে শহরটি ধোঁয়ায় ঢেকে গেছে।
অন্যদিকে, দমকলকর্মীরা দক্ষিণ ক্যালিফোর্নিয়ার উপকূলের সান্তা রোজা দ্বীপে ২৩ বর্গমাইল বিস্তৃত একটি দাবানলের সঙ্গে লড়াই করছেন। সেখানকার আগুনে একটি কেবিন ও একটি সরঞ্জাম শেড ধ্বংস হয়েছে এবং ১১ জন ন্যাশনাল পার্ক সার্ভিস কর্মীকে সরিয়ে নিতে হয়েছে।
মঙ্গলবার সকাল পর্যন্তও আগুন নিয়ন্ত্রণে আসেনি বলে জানিয়েছে কর্তৃপক্ষ।
৩০ দিন আগে
ইরান যুদ্ধের জের: আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে ভাবমূর্তি ক্ষুণ্নের শঙ্কায় আরব আমিরাত
সহিংসতা ও অস্থিরতায় ভরা মধ্যপ্রাচ্যে একটি দীর্ঘ সময়জুড়ে আরব আমিরাত নিজেদের ‘আন্তর্জাতিক ব্যবসায়ের একটি নিরাপদ আশ্রয়’ হিসেবে প্রচার করে আসছে। তবে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের যৌথ হামলায় শুরু হওয়া যুদ্ধের জেরে ইরানের চক্ষূশূল হওয়ায় ধীরে ধীরে মুখ থুবড়ে পড়ছে দেশটির অর্থনীতি।
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের ঘনিষ্ঠ মিত্র আরব আমিরাত যুদ্ধ চলাকালে অন্যান্য যেকোনো দেশের তুলনায় সব থেকে বেশি ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলার শিকার হয়েছে। এই হামলা এবং হরমুজ প্রণালিতে ইরানের কঠোর নিয়ন্ত্রণ আমিরাতের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস রপ্তানি অর্ধেকেরও বেশি কমিয়ে দিয়েছে। শুধু তাই নয়, পর্যটন ও সম্মেলন খাতও ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পারস্য উপসাগরের ওপারে অবস্থিত ইরানের ঠিক বিপরীত দেশ আরব আমিরাত নিজেদের শক্তিশালী ও অবিচল দেখানোর চেষ্টা করলেও দেশটির অর্থনৈতিক মন্দা ধীরে ধীরে প্রকাশ পাচ্ছে। সম্প্রতি তারা হরমুজের ওপর নির্ভরতা কমাতে বিকল্প পাইপলাইন নির্মাণের পরিকল্পনা করছে। এ ছাড়াও দীর্ঘমেয়াদে জ্বালানি উৎপাদন বাড়াতে তারা ওপেক তেল কার্টেল থেকে সরে এসেছে। অবশ্য যুদ্ধ শুরু হওয়ার আগে থেকেই তারা এই পরিকল্পনা করেছিল।
প্রথম থেকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল প্রত্যক্ষভাবে ইরানের সঙ্গে যুদ্ধ করছে। তবে আস্তে আস্তে এর সঙ্গে গভীরভাবে জড়িয়ে পড়ছে আরব আমিরাত। বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয় যখন যুদ্ধবিরতি থাকা সত্ত্বেও স্থানীয় সময় রবিবার (১৭ মে) আরব আমিরাতের বারাকাহ পারমাণবিক বিদ্যুৎকেন্দ্রে ইরান ড্রোন হামলা করে।
তবে এই প্রতিকূল অবস্থা ও সংকটের মধ্যেও দেশটির অর্থনীতি টিকে আছে। চলমান এই সংকট এখনও কর্মসংস্থান হ্রাস বা বৈদেশিক বাণিজ্যের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলোতে বেশি প্রভাব ফেলতে পারেনি। একটি বিশাল পরিমাণে নগদ উদ্বৃত্তের সঞ্চয় দেশটিকে এই সম্ভাব্য মন্দা থেকে অনেকটা বাঁচিয়ে রেখেছে।
তবে এই সংকট যত দীর্ঘ হবে, ততই আমিরাতের স্বাভাবিক কার্যক্রম ব্যাহত হবে। ধীরে ধীরে আর্ন্তজাতিক অঙ্গনে দেশটি তার গ্রহণযোগ্যতা হারিয়ে ফেলবে।
বর্তমানে আরব আমিরাতের কর্মকর্তারা ইরানের বিরুদ্ধে ক্রমবর্ধমানভাবে জলদস্যুতা এবং এমনকি সন্ত্রাসবাদের অভিযোগ তুলছেন এবং সামরিক পদক্ষেপ নেওয়ার হুমকি দিচ্ছেন।
রবিবার (১৭ মে) রাতে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, ‘কোনো পরিস্থিতিতেই আমিরাত নিরাপত্তা ও সার্বভৌমত্বের প্রতি কোনো প্রকার হুমকি সহ্য করবে না। যেকোনো হুমকি, অভিযোগ বা শত্রুতার জবাব দিতে এটি তার পূর্ণ, সার্বভৌম, বৈধ, কূটনৈতিক ও সামরিক অধিকারের প্রয়োগ করবে আমিরাত।
আমিরাতের শাসক পরিবারও আরও আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করার পরিকল্পনা করছে।
সম্প্রতি ঘটে যাওয়া বারাকাহ হামলায় আমিরাত কীভাবে প্রতিক্রিয়া জানাবে তা এখনও স্পষ্ট নয়। তবে এই হামলায় আবুধাবির সুদূর পশ্চিমের মরুভূমিতে অবস্থিত পারমাণবিক কেন্দ্রটিতে তেজস্ক্রিয়তা নির্গমন হয়নি এবং এর কার্যক্রমও অব্যাহত রয়েছে বলে জানা গেছে।
আমিরাত মূলত সাতটি স্বৈরতান্ত্রিকভাবে শাসিত শেখ শাসনের একটি ফেডারেশন, যার মধ্যে রয়েছে দুবাই ও আবুধাবি। দেশটির শীর্ষ শাসক সংস্থা হলো ফেডারেল সুপ্রিম কাউন্সিল, যা সাতটি আমিরাতের বংশানুক্রমিক শাসকদের নিয়ে গঠিত। তবে সিদ্ধান্ত গ্রহণে আবুধাবির শেখ মোহাম্মদ বিন জায়েদ আল নাহিয়ান ও তার পরিবারের আধিপত্য বেশি।
বিশ্লেষকরা বলছেন, শাসক পরিবারটি গত কয়েক দশক ধরে আক্রমণাত্মক পররাষ্ট্রনীতি পরিচালনা করছে, যার মধ্যে রয়েছে ইরান-সমর্থিত হুথি বিদ্রোহীদের বিরুদ্ধে ইয়েমেন যুদ্ধে অংশগ্রহণ। আমিরাত ২০১৩ সালে মিসরের প্রেসিডেন্ট আবদেল ফাত্তাহ আল-সিসিকে ক্ষমতায় আনতে সহায়তা করেছিল। সঙ্গে সঙ্গে সুদান ও লিবিয়ার গৃহযুদ্ধে বিভিন্ন পক্ষে অস্ত্র পাঠানোর অভিযোগও রয়েছে দেশটির বিরুদ্ধে। তবে তারা এই অভিযোগগুলো সম্পূর্ণ অস্বীকার করেছে।
প্রকাশ্যে খুব কম কথা বলা শেখ মোহাম্মদ মার্চ মাসে একটি হাসপাতালে ইরানি হামলায় আহতদের দেখতে গিয়ে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যমে যুদ্ধ নিয়ে একটি সংক্ষিপ্ত মন্তব্য করেছিলেন।
তিনি সতর্ক করে বলেছিলেন, ‘আমিরাত আকর্ষণীয়, আমিরাত সুন্দর, আমিরাত একটি আদর্শ। কিন্তু আমি তাদের বলব, আমিরাতের চেহারা দেখে বিভ্রান্ত হবেন না। আমিরাতের চামড়া কিন্তু অত্যন্ত মোটা এবং মাংস তিতা। আমাদের ঘায়েল করা অত সহজ নয়।’
অর্থনৈতিক সতর্কতার লক্ষণ
হরমুজ প্রণালি বন্ধ হয়ে যাওয়া আমিরাতের অপরিশোধিত তেল ও প্রাকৃতিক গ্যাস বিক্রির ক্ষমতাকে বাধাগ্রস্ত করেছে, যদিও কয়েকটি ট্যাংকার ওই নৌপথ দিয়ে বের হতে সক্ষম হয়েছে। প্রণালির বাইরে ওমান উপসাগরে অবস্থিত তেল টার্মিনালসহ ফুজাইরাহ শহরে একটি পাইপলাইনের মাধ্যমে প্রতিদিন প্রায় ১৮ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল রপ্তানি করা যাচ্ছে। আমিরাত সেই সক্ষমতা দ্বিগুণ করতে দ্বিতীয় পাইপলাইন দ্রুত নির্মাণ করার চেষ্টা করছে।
তবে ইরান যুদ্ধের জেরে আমিরাতের পর্যটন ও সম্মেলন বাজার কঠিন আঘাতের মুখে পড়েছে। এটি দেশটির মোট অর্থনৈতিক উৎপাদনের ১২ শতাংশেরও বেশি বলে ধারণা করা হয়ে থাকে।
কাতারভিত্তিক যোগাযোগ প্রতিষ্ঠান নর্থবোর্ন অ্যাডভাইজরির তথ্য অনুযায়ী, যারা যুদ্ধের প্রভাব পর্যবেক্ষণ করছে, ২৮ ফেব্রুয়ারি যুদ্ধ শুরুর পর থেকে আমিরাতে ৭০টিরও বেশি নির্ধারিত অনুষ্ঠান স্থগিত, বাতিল বা অন্যভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আমিরাত সরকার অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রে সাধারণ নিষেধাজ্ঞা জারি করেনি, তবে আয়োজকরা সম্ভবত ‘বীমা প্রত্যাহার ও দায়বদ্ধতার ঝুঁকির’ কারণে পরিকল্পনাগুলো পরিবর্তন করেছেন।
দুবাইয়ে আন্তর্জাতিক ভ্রমণের বিষয়ে গত ৪ মে বিশ্বের সবচেয়ে ব্যস্ত বিমানসংস্থা এমিরেটস ঘোষণা করে যে তাদের প্রায় সম্পূর্ণ ফ্লাইট সূচি পুনরায় চালু হয়েছে। কিন্তু সেই একই দিন ইরান একাধিক ড্রোন ও ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। এ ঘটনার পর মোবাইল ফোনে সতর্কবার্তা পাঠানো হয় যা আমিরাতে অবস্থানরত দেশে ফিরতে আগ্রহী ব্যবসায়ী সমাজে হাহাকার সৃষ্টি করে।
বিমানবন্দরটি এখন তার জেট জ্বালানি ট্যাংকের চারপাশে একটি প্রতিরক্ষামূলক আবরণ তৈরি করছে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তবে এ বিষয়ে সেখানকার কর্মকর্তারা আলোচনা করতে রাজি হননি।
দখলের হার প্রায় ২০ শতাংশে নেমে আসায় দুবাইয়ের আইকনিক বুর্জ আল আরবসহ একাধিক হোটেলের সংস্কার বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। বিশ্লেষক সংস্থা মুডিজ অ্যানালিটিক্স অনুমান করছে, এই হার জুন প্রান্তিকে ১০ শতাংশে নামবে, যা যুদ্ধের আগে ছিল ৮০ শতাংশ।
মুডিজ সতর্ক করেছে যে, দখলের হার সম্ভবত ২০২৬ সালের বাকি সময় আরও নিম্নমুখী থাকবে, কারণ যুদ্ধ থামলেও পর্যটকরা ভ্রমণে দ্বিধাগ্রস্ত থাকবেন।
সোমবার (১৮ মে) প্রকাশিত ইন্টারন্যাশনাল ফাইন্যান্স ইনস্টিটিউটের একটি বিশ্লেষণে বলা হয়েছে, দুবাইয়ের উন্মুক্ততা এটিকে ভ্রমণ, লজিস্টিক্স ও আস্থার ধাক্কায় ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার ঝুঁকিতে ফেলে, তবে আবুধাবির ব্যালেন্স শিট ও জ্বালানি সম্পদ ফেডারেশনকে আঘাত সামলে নেওয়ার সক্ষমতাও দেয়।
কয়েন-চালিত যুদ্ধবিমানের শিল্পকর্ম
দুবাই বিশেষভাবে দেখানোর চেষ্টা করছে যে দেশটি এখনও সক্রিয়। গত সপ্তাহের শেষে দুবাই তার বার্ষিক আর্ট দুবাই শোয়ের একটি সংক্ষিপ্ত সংস্করণ আয়োজন করেছে। সেখানে একটি শিল্পকর্ম ছিল। শিল্পকর্মটি একটি কয়েন-চালিত কালো যুদ্ধবিমান। এটি একটি কালো নাইকি টেনিস জুতা দিয়ে ঢাকা ছিল।
স্পেনের শিল্পী সুলিমান লোপেস একটি ধাতু-সমৃদ্ধ গ্রহাণুর মালিকানা দাবির ধারণাকে কেন্দ্র করে একটি শিল্পকর্ম নিয়ে এসেছিলেন, যেটি নাসার একটি মিশনের লক্ষ্যকে ইঙ্গিত দেয়। দেশ ও কোম্পানিগুলো কীভাবে তেল ও অন্যান্য পণ্য আহরণ করে, শিল্পকর্মটি তার প্রতিফলন ঘটায়।
তবে চলমান এই যুদ্ধাবস্থা লোপেসকে তার শিল্পকর্ম নিয়ে দুবাইয়ে যোগ দেওয়ার বিষয়টি কঠিন করে তুলেছিল। এই শিল্পী বলেন, ‘তবে আমি বললাম, আমাকে সর্বোচ্চ চেষ্টা করতে হবে, কারণ আমি সত্যিই বিশ্বাস করি যে এই অঞ্চলে বিষয়টি নিয়ে কথা বলার জন্য এটিই উপযুক্ত জায়গা।’
বৈরুতের শিল্পী আলফ্রেড তারাজি উল্লেখ করেন, তার দাদা-দাদি দুটি বিশ্বযুদ্ধ পার করেছেন। তিনি বলেন, ‘বিশ্বযুদ্ধেও জীবন থেমে থাকে না। আমরা সহিংসতার বিরুদ্ধে সংস্কৃতি দিয়েই লড়াই করব।’
৩০ দিন আগে