বিশ্ব
যুক্তরাষ্ট্রের বিরুদ্ধে ‘বেপরোয়া সামরিক অভিযানের’ অভিযোগ ইরানের
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি অভিযোগ করেছেন যে, যখনই কোনো কূটনৈতিক সমাধানের সুযোগ আসে, যুক্তরাষ্ট্র তখনই একটি ‘বেপরোয়া সামরিক অভিযানের’ পথ বেছে নেয়।
এক্সে দেওয়া এক পোস্টে আরাঘচি বলেছেন, ইরানিরা ‘কখনোই কোনো চাপের কাছে মাথা নত করবে না’।
এমন সময়ে তিনি এই মন্তব্য করলেন, যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইরান উভয় পক্ষই হামলার জন্য একে অপরকে দোষারোপ করেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র আরও কয়েকটি ইরানি জাহাজে হামলা চালিয়েছে।
তবে এসব সংঘর্ষের মধ্যেও যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, যুদ্ধবিরতি এখনও বহাল রয়েছে। এই যুদ্ধবিরতির লক্ষ্য হলো ফেব্রুয়ারিতে যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল যে যুদ্ধ শুরু করেছিল, তা বন্ধে আলোচনার পথ তৈরি করা।
মার্কিন পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও জানান, ইরানের পক্ষ থেকে যুক্তরাষ্ট্রের প্রস্তাবের জবাব দেওয়ার কথা রয়েছে। ইতালি সফরকালে তিনি বলেন, ‘আমি সত্যিই আশা করি, এটি একটি গুরুতর প্রস্তাব হবে।’
ইরান বর্তমানে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ ধরে রেখেছে এবং যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার জবাব হিসেবে মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের মিত্র দেশগুলোর বিভিন্ন স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ তেল ও তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) এই গুরুত্বপূর্ণ জলপথ দিয়ে পরিবাহিত হয়। প্রণালিটি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় বিশ্ববাজারে জ্বালানির দাম ব্যাপক বেড়ে গেছে।
চলতি সপ্তাহের শুরুতে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প প্রায় দুই হাজার জাহাজকে মুক্ত করতে একটি সামরিক অভিযান শুরু করলেও পরে তা স্থগিত করা হয়। ফেব্রুয়ারি থেকে এসব জাহাজ ওই এলাকায় আটকে রয়েছে।
এছাড়া, তেহরানকে মার্কিন শর্ত মেনে নিতে চাপ দিতে ইরানের বন্দরগুলোতে নৌ অবরোধ বজায় রেখেছে যুক্তরাষ্ট্র। এই পদক্ষেপে ক্ষুব্ধ প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে ইরান।
শুক্রবার (৮ মে) মার্কিন সেন্ট্রাল কমান্ড (সেন্টকম) জানায়, ওমান উপসাগরে ইরানের একটি বন্দরে ঢোকার চেষ্টা করা ইরানি পতাকাবাহী খালি দুটি তেলবাহী ট্যাংকার অচল করে দিয়েছে মার্কিন বাহিনী। তাদের ভাষ্য অনুযায়ী, জাহাজ দুটি চলমান মার্কিন অবরোধ লঙ্ঘন করছিল।
বিবৃতিতে আরও বলা হয়, মার্কিন বাহিনী ‘নির্ভুল অস্ত্র’ ব্যবহার করে ট্যাংকার দুটির ধোঁয়ার চিমনিতে আঘাত হানে, যাতে সেগুলো ইরানে প্রবেশ করতে না পারে।
সেন্টকমের তথ্য অনুসারে, মার্কিন বাহিনী বর্তমানে ৭০টিরও বেশি ট্যাংকারকে ইরানের বন্দরগুলোতে প্রবেশ বা সেখান থেকে বের হতে বাধা দিচ্ছে।
পরে শুক্রবার যুক্তরাষ্ট্র জানায়, আগামী সপ্তাহে ইসরায়েল-লেবানন বৈঠকের নতুন দফা আয়োজন করতে তারা প্রস্তুত রয়েছে। এর লক্ষ্য লেবাননে ইরান-সমর্থিত হিজবুল্লাহ এবং ইসরায়েলি বাহিনীর মধ্যে চলমান সংঘর্ষ বন্ধ করা।
মার্কিন পররাষ্ট্র দপ্তরের এক মুখপাত্র জানান, আগামী ১৪ ও ১৫ মে অনুষ্ঠিতব্য ‘নিবিড়’ আলোচনার উদ্দেশ্য হবে ‘ইসরায়েলের জন্য স্থায়ী নিরাপত্তা এবং লেবাননের জন্য সার্বভৌমত্ব ও পুনর্গঠন নিশ্চিত করা।’
যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল বলছে, যেকোনো শান্তিচুক্তির জন্য হিজবুল্লাহকে পুরোপুরি নিরস্ত্র হতে হবে। তবে শিয়া সশস্ত্র গোষ্ঠীটি এই আলোচনা প্রত্যাখ্যান করেছে। গত মাসে ওয়াশিংটনে ইসরায়েল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূতদের মধ্যে আলোচনা শুরু হয়েছিল। একটি নাজুক যুদ্ধবিরতি হলেও তা বারবার লঙ্ঘিত হয়েছে ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর সংঘর্ষে।
এদিকে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স শুক্রবার ওয়াশিংটনে কাতারের প্রধানমন্ত্রী শেখ মোহাম্মদ বিন আবদুর রহমান আল থানির সঙ্গে বৈঠক করেন। বৈঠকে যুক্তরাষ্ট্র ও ইরানের মধ্যে মধ্যস্থতায় পাকিস্তানের ভূমিকা নিয়ে আলোচনা হয়।
কাতারের প্রধানমন্ত্রীর আহ্বান, সব পক্ষ যেন আলোচনায় অংশ নিয়ে ‘সংকটের মূল কারণ’সমাধান এবং ‘স্থায়ী শান্তি’প্রতিষ্ঠায় কাজ করে।
ইরানের লক্ষ্যবস্তুতে যুক্তরাষ্ট্রের সর্বশেষ হামলার আগে বৃহস্পতিবার হরমুজ প্রণালিতে উভয় পক্ষের মধ্যে পাল্টাপাল্টি সংঘর্ষ হয়, যার জন্য দুই দেশই একে অপরকে দায়ী করেছে।
সেন্টকম অভিযোগ করে, ইরান তাদের তিনটি যুদ্ধজাহাজ লক্ষ্য করে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও ছোট নৌযান ব্যবহার করে হামলা চালিয়েছে। তাদের ভাষায়, এটি ছিল ‘উসকানিবিহীন হামলা’।
পাশাপাশি, ইরানের সর্বোচ্চ সামরিক কমান্ড দাবি করেছে, যুক্তরাষ্ট্র হরমুজ প্রণালির দিকে অগ্রসরমান একটি ইরানি তেলবাহী জাহাজ ও আরেকটি জাহাজকে লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে এবং উপকূলীয় কয়েকটি এলাকায় বিমান হামলা করেছে।
হরমোজগান প্রদেশের মিনাব উপকূলের কাছে হামলার শিকার হওয়া একটি মালবাহী জাহাজে আগুন ধরে যায় বলে জানান দক্ষিণাঞ্চলীয় ওই প্রদেশের কর্মকর্তা মোহাম্মদ রাদমেহর।
ইরানের রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা মেহরকে তিনি বলেন, ‘আহত ১০ নাবিককে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে এবং অন্য নাবিকদের ভাগ্যে কী ঘটেছে তা জানতে স্থানীয় এবং উদ্ধারকারী দল কাজ করছে।’
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ট্রাম্প রাতে ট্রুথ সোশ্যালে এক পোস্টে দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্র একাধিক ছোট নৌযান, ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন ধ্বংস করেছে এবং এতে ‘ইরানি হামলাকারীদের ব্যাপক ক্ষতি’ হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, ‘আজ যেমন আমরা তাদের আবারও গুঁড়িয়ে দিয়েছি, ভবিষ্যতেও যদি তারা দ্রুত চুক্তিতে স্বাক্ষর না করে, তাহলে আরও কঠোর ও আরও সহিংসভাবে তাদের ওপর আঘাত হানা হবে।’
৪১ দিন আগে
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ফের যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, ২ ‘মাদক কারবারি’ নিহত
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পাচারকারী সন্দেহে আরও একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলা। এ ঘটনায় ২ জন নিহত হয়েছেন। পাশাপাশি একজনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের সাউদার্ন কমান্ডের পোস্ট করা একটি ভিডিওতে দেখা যায়, সাগরের বুকে নৌকাসদৃশ একটি কালো বস্তুতে ভয়াবহ বিস্ফোরণ ঘটছে এবং সেখান থেকে আগুনের কুণ্ডলী আকাশে ছড়িয়ে পড়ছে।
সাউদার্ন কমান্ড জানিয়েছে, হামলার পরপরই জীবিত ব্যক্তিকে উদ্ধারে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কার্যক্রম চালাতে মার্কিন কোস্ট গার্ডকে জানানো হয়।
এর আগে, গত বুধবার হোয়াইট হাউস থেকে ঘোষণা করা হয়েছিল, প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প একটি নতুন সন্ত্রাসবিরোধী কৌশল অনুমোদন করেছেন। এই কৌশলের আওতায় পশ্চিম গোলার্ধ থেকে মাদক কার্টেল বা অপরাধী চক্র নির্মূল করাকে প্রশাসনের সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার হিসেবে নির্ধারণ করা হয়েছে।
গত সেপ্টেম্বর থেকে লাতিন আমেরিকার জলসীমা, বিশেষ করে পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগর এবং ক্যারিবীয় সাগরে কথিত মাদক পাচারকারী নৌযানের বিরুদ্ধে অভিযান শুরু করে ট্রাম্প প্রশাসন। এই ধারাবাহিক অভিযানে এ পর্যন্ত অন্তত ১৯৩ জন প্রাণ হারিয়েছেন। তবে ধ্বংস করা এসব নৌকায় আসলেও কোনো মাদক ছিল কি না, সে বিষয়ে সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো সুনির্দিষ্ট তথ্য বা প্রমাণ দেওয়া হয়নি। গত কয়েক সপ্তাহে এ ধরনের হামলার পরিমাণ আরও বেড়েছে।
একই সঙ্গে ট্রাম্প ওই অঞ্চলের নেতাদের প্রতি আহ্বান জানিয়েছেন যেন তারা অপরাধী চক্রগুলো দমনে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করেন। তিনি মাদক পাচারকারী এবং আন্তঃদেশীয় গোষ্ঠীগুলোকে জাতীয় নিরাপত্তার জন্য ‘অগ্রহণযোগ্য হুমকি’ হিসেবে বর্ণনা করে তাদের বিরুদ্ধে সামরিক ব্যবস্থা নেওয়ার ওপর জোর দিয়েছেন।
এদিকে, কোনো বিচারিক প্রক্রিয়া ছাড়াই সাগরে এভাবে নৌকা লক্ষ্য করে হামলা চালানোর আইনি বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন মানবাধিকার কর্মী ও সমালোচকরা।
৪১ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় বাস-তেলবাহী ট্যাঙ্কার সংঘর্ষে নিহত অন্তত ১৬
ইন্দোনেশিয়ার সুমাত্রা দ্বীপে একটি যাত্রীবাহী বাসের সঙ্গে তেলবাহী ট্যাঙ্কার ট্রাকের সংঘর্ষে অন্তত ১৬ জন নিহত হয়েছেন। এ দুর্ঘটনায় আরও অন্তত চারজন আহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় বুধবার (৬ মে) দুপুরে দক্ষিণ সুমাত্রা প্রদেশের নর্থ মুসি রাওয়াস জেলার ট্রান্স-সুমাত্রা মহাসড়কে এ দুর্ঘটনা ঘটে।
এ ব্যাপারে মুগোনো নামে স্থানীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার এক কর্মকর্তা জানান, অন্তত ২০ আরোহী নিয়ে চলা আন্তঃনগর বাসটি দক্ষিণ সুমাত্রার লুবুকলিংগাউ শহর থেকে জাম্বি শহরের দিকে যাচ্ছিল। এ সময় বিপরীত দিক থেকে আসা একটি তেলবাহী ট্যাঙ্কারের সঙ্গে বাসটির সংঘর্ষ হয়।
প্রাথমিক তদন্তে দেখা গেছে, সংঘর্ষের আগে বাসটি থেকে আগুনের স্ফুলিঙ্গ বের হচ্ছিল। এতে চালক বড় ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে বাসটিকে সড়কের ডান পাশে নেওয়ার চেষ্টা করেন। তবে বিপরীত দিক থেকে দ্রুতগতিতে আসা ট্যাঙ্কারটির সঙ্গে সরাসরি সংঘর্ষ এড়ানোর সময় পাননি তিনি।
মুগোনো বলেন, ‘সংঘর্ষের তীব্রতায় বাসটিতে আগুন ধরে যায় এবং মুহূর্তের মধ্যেই তা গোটা বাসে ছড়িয়ে পড়ে। আগুনে দুটি যানবাহনই আগুনে পুড়ে গেছে। এ সময় অনেক যাত্রী ভেতরে আটকা পড়েন।’
নিহতদের মধ্যে বাসচালক, ১৩ জন যাত্রী এবং ট্যাঙ্কারের চালক ও তার সহকারী রয়েছেন। তারা সবাই অগ্নিদগ্ধ হয়ে মারা গেছেন।
দুর্ঘটনার পর বাসের চার যাত্রীকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। তাদের মধ্যে তিনজন গুরুতর দগ্ধ হয়েছেন এবং একজন সামান্য আহত হয়েছেন। আহতদের স্থানীয় একটি স্বাস্থ্যকেন্দ্রে ভর্তি করা হয়েছে।
কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, যাত্রীদের তালিকা এখনও যাচাই করা হচ্ছে। ফলে হতাহতের প্রকৃত সংখ্যা নিশ্চিত করতে তথ্য সংগ্রহ অব্যাহত রয়েছে।
দেশটির জাতীয় অনুসন্ধান ও উদ্ধারকারী সংস্থার প্রকাশিত ছবি ও ভিডিওতে দেখা যায়, দুর্ঘটনাস্থল থেকে ঘন কালো ধোঁয়া ও আগুনের শিখা উঠছে। সড়কে বাস ও ট্যাঙ্কারের পুড়ে যাওয়া ধ্বংসাবশেষ ছড়িয়ে রয়েছে। আর দমকলকর্মীরা আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করছেন।
উদ্ধারকর্মী, দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা ও ট্রাফিক পুলিশ সদস্যরা ঘটনাস্থল থেকে মরদেহ উদ্ধার এবং ধ্বংসাবশেষ সরানোর কাজ চালান। কয়েকজন যাত্রী যানবাহনের ভেতরে আটকা পড়ে থাকায় উদ্ধারকাজ জটিল হয়ে পড়ে। এ সময় বেশ কিছুক্ষণ মহাসড়কে যান চলাচল ব্যাহত হয়।
আজ (বৃহস্পতিবার) নর্থ মুসি রাওয়াস ট্রাফিক পুলিশের প্রধান মুহাম্মদ করিম জানান, লুবুকলিংগাউয়ের সিতি আইশাহ হাসপাতালে ১৬টি মরদেহ শনাক্তের জন্য রাখা হয়েছে।
তিনি বলেন, দক্ষিণ সুমাত্রা পুলিশের ডিজাস্টার ভিকটিম আইডেন্টিফিকেশন (ডিভিআই) দল এখন পর্যন্ত পাঁচজনের পরিচয় নিশ্চিত করেছে। তাদের মধ্যে বাসচালক, বাসের দুই কর্মী, ট্যাঙ্কারচালক এবং একজন যাত্রী রয়েছেন। বাকি ১১ জনের পরিচয় শনাক্তের কাজ চলছে।
সব মরদেহই মারাত্মকভাবে পুড়ে গেছে, ফলে পরিচয় শনাক্ত করা কঠিন হয়ে পড়েছে বলে জানিয়েছেন এ কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, মরদেহগুলো ময়নাতদন্তের জন্য প্রাদেশিক রাজধানী পালেমবাংয়ের ভায়ানগকারা পুলিশ হাসপাতালে নেওয়া হচ্ছে।
এদিকে, পুলিশ আগের প্রাথমিক তথ্য থেকে সরে এসে বলেছে, বাসটি সড়কের একটি গর্ত এড়াতে গিয়ে বিপরীত লেনে চলে গিয়েছিল। এতে সংঘর্ষ ও অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটে।
নিম্নমানের নিরাপত্তা ব্যবস্থা ও দুর্বল অবকাঠামোর কারণে ইন্দোনেশিয়ায় প্রায়ই সড়ক দুর্ঘটনা ঘটে।
গত সপ্তাহেও রাজধানী জাকার্তার বাইরে একটি স্টেশনের কাছে বিকল হয়ে লাইনে দাঁড়িয়ে থাকা একটি ট্যাক্সিকে ধাক্কা দেওয়ার পর দূরপাল্লার একটি ট্রেনের সঙ্গে একটি কমিউটার ট্রেনের সংঘর্ষে হয়। ওই ঘটনায় নারী যাত্রীদের জন্য নির্ধারিত বগিতে থাকা অন্তত ১৫ নারী যাত্রী নিহত হন।
৪৩ দিন আগে
ইরানের একটি শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে ৮ জন নিহত
ইরানের রাজধানীর কাছে একটি শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডে ৮ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৪০ জন।
মঙ্গলবার (৫ মে) তেহরান প্রদেশের আন্দিশেহ শহরের আরঘাভান শপিং সেন্টারে অগ্নিকাণ্ডের সূত্রপাত হয় বলে আজ (বুধবার) দেশটির জরুরি সেবা বিভাগ নিশ্চিত করেছে।
দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন আইআরআইবি জানিয়েছে, আগুন লাগার কারণ এখনও স্পষ্ট নয়। ঘটনাটি তদন্ত করছে কর্তৃপক্ষ।
টেলিভিশনে প্রকাশিত ফুটেজে দেখা গেছে, দমকলকর্মীরা আগুন নেভানোর চেষ্টা করছেন এবং বহুতল ভবনটি থেকে ঘন কালো ধোঁয়া বের হচ্ছে।
তবে ঘটনাটির সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র-ইরান যুদ্ধের সঙ্গে সংশ্লিষ্টতার কোনো ইঙ্গিত পাওয়া যায়নি।
৪৪ দিন আগে
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে ফের নৌযানে মার্কিন বাহিনীর হামলা, নিহত ৩
পূর্ব প্রশান্ত মহাসাগরে মাদক পরিবহনের সন্দেহে ফের একটি নৌযানে হামলা চালিয়েছে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক বাহিনী। এ ঘটনায় ৩ জন নিহত হয়েছেন।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) এ ঘটনা ঘটে। এর এক দিন আগে ক্যারিবীয় সাগরে আরেকটি সন্দেহভাজন মাদকবাহী নৌকায় হামলা চালিয়ে ২ জনকে হত্যা করে মার্কিন বাহিনী।
সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারী নৌযান ধ্বংসে গত সেপ্টেম্বরের শুরু থেকে লাতিন আমেরিকার জলসীমায় ট্রাম্প প্রশাসনের অভিযান অব্যাহত রয়েছে। এতে এখনও পর্যন্ত অন্তত ১৯১ জন নিহত হয়েছেন।
ইরান যুদ্ধ চলমান থাকা সত্ত্বেও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এসব হামলা আবারও বেড়েছে, যা দেখায় যে পশ্চিম গোলার্ধে কথিত ‘মাদক সন্ত্রাস’ প্রশাসনের আক্রমণাত্মক পদক্ষেপের পরও থেমে নেই। তবে নৌযানে মাদক ছিল কি না, সে বিষয়ে এখনও কোনো প্রমাণ দেয়নি মার্কিন সামরিক বাহিনী।
তবে মঙ্গলবার (৫ মে) এ হামলা নিয়ে ইউএস সাউদার্ন কমান্ড আবারও উল্লেখ করে, পরিচিত পাচার রুটে থাকা সন্দেহভাজন মাদক পাচারকারীদের লক্ষ্য করে অভিযান চালানো হয়েছে। তারা এক্সে একটি ভিডিও-ও প্রকাশ করেছে, যেখানে দেখা যায়, একটি নৌযান চলার সময় হঠাৎ বড় বিস্ফোরণ হয়।
মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প বলেছেন, লাতিন আমেরিকার সন্ত্রাসী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে যুক্তরাষ্ট্র ‘সশস্ত্র সংঘাতে’ রয়েছে। যুক্তরাষ্ট্রে মাদকের প্রবাহ ও অতিরিক্ত মাত্রায় মৃত্যুর ঘটনা ঠেকাতে এসব হামলা প্রয়োজনীয়।
এদিকে, এসব নৌযান হামলার সামগ্রিক বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সমালোচকরা।
৪৪ দিন আগে
হরমুজ প্রণালিতে ইরানি নৌকায় যুক্তরাষ্ট্রের হামলা, নিহত ৫
হরমুজ প্রণালিতে যাত্রীবাহী নৌকায় মার্কিন সামরিক বাহিনীর হামলায় পাঁচজন বেসামরিক নাগরিক নিহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে ইরান। তেহরানের অভিযোগ, যুক্তরাষ্ট্র যে নৌযানগুলোকে ইসলামিক রেভল্যুশনারি গার্ড কর্পসের (আইআরজিসি) বলে দাবি করছে, সেগুলো আসলে যাত্রীবাহী নৌকা ছিল।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) ইরানের করা এই দাবি যুক্তরাষ্ট্রের অ্যাডমিরাল ব্র্যাড কুপারের বক্তব্যের সঙ্গে সরাসরি বিরোধ তৈরি করেছে। ব্র্যাড কুপার বলেছিলেন, হরমুজ প্রণালিতে আটকে পড়া জাহাজগুলোকে নিরাপদে বের করে আনার সময় তাদের মিশনে বাধা দেয় আইআরজিসির ৬টি নৌযান। সেন্ট্রাল কমান্ডের বাহিনী ওই নৌযানগুলোকে ডুবিয়ে দিয়েছে।
পরে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প প্রজেক্ট ফ্রিডম অভিযানে ৭টি নৌকায় তারা হামলা চালিয়েছেন বলে উল্লেখ করেন।
গত ৮ এপ্রিল ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে যুদ্ধবিরতি হয়। প্রজেক্ট ফ্রিডম নামে পরিচালিত মার্কিন অভিযান নাজুক এই যুদ্ধবিরতিকে নড়বড়ে করে দিয়েছে। এ অভিযানের ফলে নতুন করে যুদ্ধ শুরুর আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।
ইরানের রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম আইআরআইবি এক সামরিক কমান্ডারের বরাত দিয়ে জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্র আইআরজিসির নৌযানে হামলা করেছে, এমন দাবি তোলার পর তেহরান তদন্ত শুরু করে।
তদন্তে দেখা গেছে, মার্কিন হামলায় আইআরজিসির কোনো নৌযান ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। বরং স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) দুটি যাত্রীবাহী ছোট নৌকা ওমান উপকূলের খাসাব থেকে ইরানের উপকূলে যাচ্ছিল। পথে মার্কিন বাহিনী নৌকা দুটিতে হামলা চালায়।
ওই সামরিক কমান্ডার বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় নৌকাগুলো ঘটনাস্থলে ধ্বংস হয়ে যায়। এ সময় নৌকায় থাকা ৫ জন বেসামরিক যাত্রী নিহত হন।
তিনি দাবি করেন, ‘এই অপরাধের জন্য যুক্তরাষ্ট্রকে জবাবদিহির আওতায় আনতে হবে।’
ইরানের এই অভিযোগের পর তাৎক্ষণিকভাবে মার্কিন সামরিক বাহিনীর পক্ষ থেকে কোনো মন্তব্য পাওয়া যায়নি।
ট্রাম্প হরমুজ প্রণালি পুনরায় চালু করার চেষ্টা করছেন। এরই মধ্যে হরমুজ প্রণালিতে ইরানের যাত্রীবাহী নৌকায় এমন সহিংসতার ঘটনা ঘটল। এর আগে গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইরানের ওপর যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলার পর থেকে তেহরান এই জলপথ অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
এদিকে, ইরান এখন কঠোরভাবে হরমুজ প্রণালির নিয়ন্ত্রণ বজায় রাখাছে। এছাড়া যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের হামলায় হরমুজ প্রণালির যেসব ক্ষয়ক্ষতি হয়েছে, সেই ক্ষতি পূরণ করতে ট্রানজিট ফি আদায়ের বিষয়ে অনড় অবস্থানে রয়েছে তেহরান।
সোমবার ইরানের সামরিক বাহিনী বিভিন্ন দেশের বাণিজ্যিক জাহাজগুলোকে সতর্ক করে জানায়, অনুমতি ছাড়া এই জলপথ পার হওয়ার চেষ্টা করলে তারা নিরাপত্তা ঝুঁকির মধ্যে পড়বে। আরও জানানো হয়, মার্কিন বাহিনী যদি এই জলপথের কাছে আসে বা প্রবেশ করে, তাহলে তাদের ওপর হামলা চালানো হবে।
চলমান উত্তেজনার মধ্যে সংযুক্ত আরব আমিরাত অভিযোগ করেছে, তাদের একটি তেলবাহী জাহাজ হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করার চেষ্টা করেছিল। ইরান জাহাজটির ওপর ড্রোন হামলা চালিয়েছে। এ ছাড়াও ইরানি সামরিক বাহিনী সংযুক্ত আরব আমিরাত ভূখণ্ডে ১৫টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ও ৪টি ড্রোন নিক্ষেপ করেছে।
সংযুক্ত আরব আমিরাত কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, ইরানের এসব হামলায় পূর্বাঞ্চলে অবস্থিত আমিরাত ফুজাইরাহর একটি বড় তেল শোধনাগারে অগ্নিকাণ্ড ঘটে। ওই ঘটনায় তিন ভারতীয় নাগরিক আহত হন।
এদিকে, হরমুজ প্রণালিতে অবস্থান করা দক্ষিণ কোরিয়ার জাহাজ এইচএমএম নামুও ইরানের হামলার শিকার হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির কর্তৃপক্ষ। তারা জানায়, একটি বিস্ফোরণে জাহাজটির ইঞ্জিনকক্ষে আগুন লেগে গিয়েছিল।
অপরদিকে, মার্কিন সামরিক বাহিনী জানিয়েছে, সোমবার যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী দুটি জাহাজ নৌবাহিনীর গাইডেড মিসাইল ডেসট্রয়ারের সহায়তায় সফলভাবে হরমুজ প্রণালি অতিক্রম করেছে।
তবে আইআরজিসি যুক্তরাষ্ট্রের এই দাবি ‘ভিত্তিহীন ও সম্পূর্ণ মিথ্যা’ বলে তা প্রত্যাখ্যান করেছে।
বৈশ্বিক শিপিং কোম্পানি মার্স্ক জানিয়েছে, যুক্তরাষ্ট্রের পতাকাবাহী অ্যালায়েন্স ফেয়ারফ্যাক্স সোমবার মার্কিন সামরিক বাহিনীর সহায়তায় উপসাগর ছেড়ে হরমুজ প্রণালি দিয়ে বেরিয়ে গেছে।
ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাঘচি এক্সে দেওয়া পোস্টে বলেন, সোমবার হরমুজে ইরানের যাত্রীবাহী নৌকায় হামলার ঘটনা স্পষ্ট করে দিয়েছে, চলমান রাজনৈতিক সংকটের কোনো সামরিক সমাধান নেই।
তিনি আরও জানান, পাকিস্তানের মধ্যস্থতায় যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শান্তি আলোচনা এগোচ্ছে। এ কারণে যুক্তরাষ্ট্রকে অশুভ শক্তির প্ররোচনায় আবারও সংকটে জড়িয়ে না পড়ার আহ্বান জানান তিনি।
তিনি আরও বলেন, সংযুক্ত আরব আমিরাতেরও ইরানের বিষয়ে সতর্ক থাকা উচিত। যুক্তরাষ্ট্রের প্রজেক্ট ফ্রিডম আসলে প্রজেক্ট ডেডলক।
এদিকে ট্রাম্প আবারও ইরানের বিরুদ্ধে হুমকি দিয়েছেন।
ফক্স নিউজকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প বলেন, ‘প্রজেক্ট ফ্রিডম পরিচালনাকারী মার্কিন জাহাজে হামলা হলে ইরানকে পৃথিবীর মানচিত্র থেকেই মুছে ফেলা হবে।’
তিনি আরও বলেন, আগের চেয়ে এখন আমাদের কাছে অনেক বেশি উন্নত অস্ত্র ও গোলাবারুদ রয়েছে। বিশ্বজুড়ে আমাদের ঘাটি আছে। এসব ঘাটিতে বিশ্বের সেরা সামরিক সরঞ্জাম রয়েছে। প্রয়োজন হলে আমরা সেগুলো ইরানের বিরুদ্ধে ব্যবহার করব।
৪৫ দিন আগে
কলম্বিয়ায় কয়লা খনিতে বিস্ফোরণ: ভেতরে আটকে ১২ শ্রমিক
গ্যাস জমে বিস্ফোরণের কারণে কলম্বিয়ার মধ্যাঞ্চলের একটি কয়লা খনিতে অন্তত ১২ জন শ্রমিক আটকা পড়েছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) রাতে এ ঘটনা ঘটে বলে জানান দেশটির কর্মকর্তারা।
ঘটনার পর উদ্ধারকর্মী ও অ্যাম্বুলেন্স দ্রুত ঘটনাস্থলে পৌঁছে আটকে পড়া শ্রমিকদের উদ্ধারে কাজ শুরু করেছে।
কলম্বিয়ার কুন্দিনামার্কা প্রদেশের গভর্নর হোর্হে এমিলিও রেই সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্স-এ জানান, গতকাল (সোমবার) বিকেলে বিস্ফোরণের সময় খনির ভেতরে ১৫ জন শ্রমিক ছিলেন। তবে তাদের মধ্যে তিনজন ‘নিজ প্রচেষ্টায়’ বের হয়ে আসতে সক্ষম হন। তাদের একজনকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে।
ওই কয়লা খনিটি কলম্বিয়ার সুতাতাউসা এলাকায় অবস্থিত। দেশটির রাজধানী বোগোতা থেকে প্রায় ৪৬ মাইল দূরে এবং সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ৮ হাজার ২০০ ফুট উঁচুতে এর অবস্থান।
কলম্বিয়ার মধ্যাঞ্চলে খনি দুর্ঘটনা নতুন কিছু নয়। প্রায়ই ঘটে থাকে এ ধরনের দুর্ঘটনা।
২০২৩ সালে সুতাতাউসার আরেকটি কয়লা খনিতে বিস্ফোরণে ১১ জন শ্রমিক নিহত হয়েছিলেন। এছাড়া ২০২০ সালে কুন্দিনামার্কা প্রদেশের আরেক পৌর এলাকা কুকুনুবাতে একটি খনি দুর্ঘটনায় ১১ জন শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছিল।
৪৫ দিন আগে
চীনে আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণ, নিহত ২৬
চীনের একটি মধ্যাঞ্চলীয় প্রদেশে অবস্থিত আতশবাজি কারখানায় বিস্ফোরণের ঘটনায় অন্তত ২৬ জন নিহত হয়েছেন। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন আরও অন্তত ৬১ জন।
চীনের সরকারি বার্তা সংস্থা সিনহুয়া স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (৫ মে) জানায়, গতকাল (সোমবার) বিকেলে দেশটির হুনান প্রদেশের চাংশা শহরের একটি আতশবাজি কারখানায় এ বিস্ফোরণ ঘটেছে।
রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম চায়না ডেইলি জানিয়েছে, কারখানাটি হুয়াশেং ফায়ারওয়ার্কস ম্যানুফ্যাকচারিং অ্যান্ড ডিসপ্লে কোম্পানি পরিচালনা করত। এটি মূলত চাংশা অধ্যুষিত কাউন্টি-স্তরের শহর লিউইয়াংয়ে অবস্থিত। কারখানাটি আতশবাজি উৎপাদনের জন্য সুপরিচিত।
চাংশার মেয়র চেন বোঝাং জানান, ঘটনাস্থলে অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজ প্রায় শেষ হয়েছে, তবে হতাহতের সংখ্যা যাচাই এবং নিহতদের পরিচয় শনাক্ত করার কাজ এখনও চলমান।
রাষ্ট্রীয় সম্প্রচারমাধ্যম চায়না সেন্ট্রাল টেলিভিশনে (সিসিটিভি) আজ (মঙ্গলবার) প্রকাশিত আকাশচিত্রে দেখা যায়, ঘটনাস্থলের কিছু অংশ থেকে এখনও সাদা ধোঁয়া উঠছে। অনেক স্থাপনা ধসে পড়েছে এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
সিনহুয়া নিউজ এজেন্সির প্রতিবেদনে বলা হয়, প্রায় ৫০০ জন উদ্ধারকর্মী ঘটনাস্থলে মোতায়েন করা হয় এবং বিস্ফোরণস্থলের কাছে থাকা দুটি কালো বারুদের গুদাম থেকে উচ্চ ঝুঁকির কারণে আশপাশের বাসিন্দাদের সরিয়ে নেওয়া হয়। কর্তৃপক্ষ এই বিস্ফোরণের কারণ অনুসন্ধান করছে এবং পুলিশ ওই কোম্পানির দায়িত্বপ্রাপ্ত ব্যক্তিকে আটক করেছেন বলে জানিয়েছে সিনহুয়া।
চীনের প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং নিখোঁজ ব্যক্তিদের খুঁজে বের করা এবং আহতদের উদ্ধার করতে ‘সর্বাত্মক প্রচেষ্টা’ চালানোর আহ্বান জানিয়েছেন। তিনি দ্রুত ঘটনার কারণ তদন্ত এবং দায়ীদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেওয়ার নির্দেশ দেন বলে প্রতিবেদনে উল্লেখ করা হয়। পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ শিল্পখাতে ঝুঁকি নিরূপণ ও নিয়ন্ত্রণ জোরদার এবং জননিরাপত্তা ব্যবস্থাপনা শক্তিশালী করার নির্দেশও দেন তিনি।
উদ্ধার কার্যক্রম চলাকালে নতুন দুর্ঘটনা এড়াতে উদ্ধারকর্মীরা পানি ছিটানো ও আর্দ্রতা বৃদ্ধি করার মতো ব্যবস্থা গ্রহণ করেন, যাতে সম্ভাব্য ঝুঁকি কমানো যায়। অনুসন্ধান ও উদ্ধার কাজে সহায়তার জন্য তিনটি রোবটও মোতায়েন করেন তারা।
লিউইয়াংয়ের আতশবাজি উৎপাদনের দীর্ঘ ইতিহাস রয়েছে। গিনেস ওয়ার্ল্ড রেকর্ডস জানায়, চীনা ফায়ারক্র্যাকার নামে প্রথম নথিভুক্ত আতশবাজি লিউইয়াংয়ের কাছে বসবাসকারী এক সন্ন্যাসী লি তিয়ান তৈরি করেছিলেন। এই সন্ন্যাসী চীনের তাং রাজবংশের (প্রায় ৬১৮ থেকে ৯০৭ খ্রিস্টাব্দ) সময়ে বাস করতেন। তিনি একদিন লক্ষ করেন, ফাঁপা বাঁশের ভেতরে গানপাউডার ভরে দিলে জোরে বিস্ফোরণ ঘটে। এরপর তিনি এগুলো একসঙ্গে বেঁধে ঐতিহ্যবাহী নববর্ষের আতশবাজি তৈরি করেন। এই আতশবাজিগুলো অশুভ আত্মা তাড়ানোর জন্য ব্যবহৃত হতো বলে গিনেস জানায়।
এর আগে, গত ফেব্রুয়ারি মাসে চন্দ্র নববর্ষ উপলক্ষে চীনে আতশবাজির দোকানে দুটি প্রাণঘাতী বিস্ফোরণের ঘটনা ঘটেছিল।
৪৫ দিন আগে
ফিলিপাইনে মেয়ন আগ্নেয়গিরিতে লাভা উদগীরণ, ঘরবাড়ি ছেড়েছে ৩ শতাধিক পরিবার
ফিলিপাইনে গত সপ্তাহের শেষে মেয়ন আগ্নেয়গিরিতে ফের লাভা উদগীরণ শুরু হয়েছে। এ ঘটনায় আশপাশের ৩ শতাধিক পরিবারকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নিয়েছে দেশটির দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ।
স্থানীয় সময় সোমবার (৪ মে) আগ্নেয়গিরির ঢালে জমে থাকা লাভার স্তর ধসে পড়ায় বিপুল পরিমাণ ছাই আশপাশের এলাকায় ছড়িয়ে পড়তে শুরু করে।
ফিলিপাইন আগ্নেয়গিরি ও ভূমিকম্পবিদ্যা প্রতিষ্ঠানের পরিচারক তেরেসিতো বাকোলকল জানান, মেয়ন আগ্নেয়গিরিতে এখন পর্যন্ত কোনো বিস্ফোরণ ঘটেনি। তবে জানুয়ারি থেকে কয়েকবার অগ্ন্যুৎপাত ঘটেছে। স্থানীয় সময় শনিবার (২ মে) সন্ধ্যার আগে আগ্নেয়গিরির দক্ষিণ-পশ্চিম ঢালে জমে থাকা বিপুল লাভা হঠাৎ ধসে পড়ে। এর ফলে গরম পাথর, ছাই ও গ্যাসের প্রবল ধারা নিচে নামতে থাকে।
এ ঘটনায় এখন পর্যন্ত কোনো হতাহতের খবর পাওয়া যায়নি। তবে অগ্ন্যুৎপাতে সৃষ্ট ঘন ছাই তিনটি শহরের ৮৭টি গ্রামের ওপর ছড়িয়ে পড়ে। এতে ওইসব এলাকার মানুষেরা হঠাৎ বিপাকে পড়েন। ছাইয়ের কারণে দৃষ্টিসীমা কমে যাওয়ায় সড়কে যান চলাচলও ধীর হয়ে যায়।
মেয়ন আগ্নেয়গিরির পাদদেশের কাছে অবস্থিত কামালিগ শহরের মেয়র ক্যালয় বালদো বলেন, ‘ছাই পড়ার পর পরিস্থিতি এতটাই খারাপ হয়ে গিয়েছিল যে মহাসড়কে কোনো কিছু দেখা যাচ্ছিল না।’
তিনি আরও বলেন, ‘অগ্ন্যুৎপাতের ঘটনায় ওইসব এলাকার বাসিন্দারা আতঙ্কিত হয়ে পড়েছিলেন। তাদের শান্ত থাকার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।’
ক্যালয় বালদো জানান, ছাই ছড়িয়ে পড়ার কারণে কামালিগ শহরে সবজির খামার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। দম বন্ধ করা গ্যাসে চারটি মহিষ ও একটি গরু মারা গেছে।
কামালিগ শহরটি আলবাই প্রদেশের অন্তর্ভুক্ত ৮ হাজার জনসংখ্যার একটি শহর। ইতোমধ্যে এখানে পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কাজ শুরু হয়েছে।
তেরেসিতো বাকোলকল বলেন, ‘এখন পরিস্থিতি শান্ত আছে। তবে মেয়নে অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকি এখনও রয়ে গেছে।’
উল্লেখ্য, মেয়ন আগ্নেয়গিরি সমুদ্রপৃষ্ঠ থেকে ২ হাজার ৪৬২ মিটার (৮ হাজার ৭৭ ফুট) উচ্চতায় অবস্থিত। নিখুঁত শঙ্কু আকৃতির হওয়ায় আগ্নেয়গিরিটি ফিলিপাইনের অন্যতম জনপ্রিয় পর্যটন আকর্ষণ। তবে দেশটির ২৪টি সক্রিয় আগ্নেয়গিরির মধ্যে এটি অগ্ন্যুৎপাতে সবচেয়ে বেশি সক্রিয়। তাই এই আগ্নেয়গিরি থেকে অগ্ন্যুৎপাতের ঝুঁকিও বেশি।
আগ্নেয়গিরিটি থেকে জানুয়ারিতে ধারাবাহিক অগ্ন্যুৎপাত, বড় আকারের পাথর গড়িয়ে পড়া এবং প্রাণঘাতী পাইরোক্লাস্টিক প্রবাহ দেখা গেছে।
৪৬ দিন আগে
হামাসকে নিরস্ত্রীকরণে গাজায় ফের যুদ্ধ শুরুর হুমকি ইসরায়েলের
গাজায় খান ইউনিস ও দেইর আল বালাহর ধ্বংসস্তুপে পরিণত হওয়া এলাকাগুলোতে ইসরায়েলি ড্রোনের গর্জন এবং বিস্ফোরণের শব্দ প্রতিদিনই মনে দেয়, ইসরায়েল-ফিলিস্তিন যুদ্ধ কখনো থামবে না।
আল জাজিরার খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েল ও হামাসের মধ্যে গত অক্টোবর থেকে যুদ্ধবিরতি কার্যকর থাকলেও ফিলিস্তিনের পরিবারগুলো এখনও ধ্বংসস্তূপ থেকে তাদের স্বজনদের মরদেহ উদ্ধার করছে। ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, চলমান যুদ্ধবিরতির মধ্যেও অক্টোবর থেকে এখন পর্যন্ত ৮২৮ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
এদিকে, নতুন করে আবারও সামরিক অভিযান শুরু হতে পারে—এমন আশঙ্কয় আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন গাজার বাসিন্দারা। কারণ, হামাসকে আত্মসমর্পণে বাধ্য করতে যুদ্ধবিরতি চুক্তি বাতিলের হুমকি দিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েল।
স্থানীয় সময় রবিবার (৩ মে) জেরুজালেমে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু নিরাপত্তা মন্ত্রিষভার বৈঠক হঠাৎ কর বাতিল করেন। তার পরিবর্তে তিনি যুদ্ধের বিষয়ে ছোট পরিসরে আলোচনা করেছেন।
একই সময়ে যুদ্ধ পুনরায় শুরুর জন্য চাপ বাড়িয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। দেশটির সামরিক বাহিনীর এক জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তা ইসরায়েলি গণমাধ্যম চ্যানেল ১৫-কে জানান, হামাস অস্ত্র সমর্পণ করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সাম্প্রতিক যুদ্ধবিরতির মধ্যে নিরাপত্তা তদারকি ও চুক্তি বাস্তবায়নের দায়িত্বে থাকা বহুজাতিক সংস্থা ইন্টারন্যাশনাল স্ট্যাবিলাইজেশন ফোর্সও ব্যর্থ হয়েছে। এসব কারণে নতুন করে যুদ্ধ তাদের জন্য অনিবার্য হয়ে উঠেছে।
এদিকে, ইসরায়েলের আর্মি রেডিও জানিয়েছে, ভূমিতে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। যুদ্ধবিরতির আওতায় নির্ধারিত ইয়েলো লাইন ধীরে ধীরে পশ্চিম দিকে সরিয়ে নিয়ে গিয়ে গাজার ৫৯ শতাংশ এলাকা নিজেদের নিয়ন্ত্রণে নিয়েছে ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী। একইসঙ্গে চলমান যুদ্ধবিরতি মধ্যেও তারা দখল আরও স্থায়ী করছে। ইসরায়েলি বাহিনী লেবানন সীমান্ত থেকে অতিরিক্ত সেনা এনে গাজা ও পশ্চিম তীরে মোতায়েন করছে বলে খবরে বলা হয়েছে।
রাজনৈতিক আত্মসমর্পণের ফাঁদ
কায়রোতে হামাস-ইসরায়েল যুদ্ধের মধ্যস্থতাকারীরা ফিলিস্তিনি সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোর ওপর নতুন একটি কাঠামো মেনে নেওয়ার জন্য তীব্র চাপ দিচ্ছেন। এই পরিকল্পনাটি এগিয়ে নিচ্ছেন যুক্তরাষ্ট্রসমর্থিত বোর্ড অব পিসের উচ্চ পর্যায়ের প্রতিনিধি নিকোলাই ম্লাদেনভ।
এ বিষয়ে হামাসের রাজনৈতিক ব্যুরোর সদস্য আবদুল জব্বার সাঈদ ফিলিস্তিনি গণমাধ্যম আল্ট্রা প্যালেস্টাইনকে জানান, ম্লাদেনভ এমন একটি কাঠামো চাপিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করছেন, যেখানে ২৮১ দিনের মধ্যে ৫টি ধাপে হামাসকে পুরোপুরি নিরস্ত্র হতে হবে।
এই কাঠামো যুক্তরাষ্ট্রের প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ২০ দফা পরিকল্পনা ওপর ভিত্তি করে তৈরি করা হয়েছে। কাঠামোতে ফিলিস্তিনে মানবিক সহায়তা, উপত্যকার পুনর্গঠন এবং গাজার সীমান্ত ক্রসিং খুলে দেওয়ার সঙ্গে সরাসরি ফিলিস্তিনি গোষ্ঠীগুলোর অস্ত্র সমর্পণকে শর্ত হিসেবে ধরা হয়েছে।
এ বিষয়ে বিশ্লেষক ও ফিলিস্তিনি কর্মকর্তারা আল জাজিরাকে বলেন, এই পরিকল্পনার মূল লক্ষ্য হলো সশস্ত্র গোষ্ঠীগুলোকে সম্পূর্ণ আত্মসমর্পণে বাধ্য করা।
বিশ্লেষকদের মতে, গাজা পরিচালনার জন্য গঠিত নতুন টেকনোক্র্যাটিক সংস্থা ন্যাশনাল কমিটি ফর দ্য অ্যাডমিনিস্ট্রেশন অব গাজাকে (এনজিএসি) ইসরায়েলি দখলদার বাহিনী তাদের নিরাপত্তা সহযোগী হিসেবে ব্যবহার করছে।
আবদুল জব্বার সাঈদ আরও জানান, হামাস, ফিলিস্তিনি ইসলামিক জিহাদ এবং পপুলার ফ্রন্ট ফর দ্য লিবারেশন অব প্যালেস্টাইনসহ সব ফিলিস্তিনি গোষ্ঠী একযোগে এই নিরস্ত্রীকরণের শর্ত প্রত্যাখ্যান করেছে।
এর বদলে তারা ইসরায়েলকে যুদ্ধবিরতির প্রথম ধাপ পুরোপুরি বাস্তবায়নের দাবি জানিয়েছে। তাদের অভিযোগ, বর্তমানে যুদ্ধবিরতির মধ্যে প্রতিদিন ফিলিস্তিনে ৬০০টি ত্রাণবাহী ট্রাক প্রবেশ করার চুক্তি থাকলেও ইসরায়েল ট্রাক প্রবেশেও বারবার বাধা দিয়েছে।
ফিলিস্তিনের নিরাপত্তার প্রশ্ন
গাজার রাজনৈতিক বিশ্লেষক উইসাম আফিফা আল জাজিরাকে বলেন, হামাস কূটনৈতিক চাপ সামাল দিতে নিরাপত্তার বিষয়টিকে তাদের রাজনৈতিক অধিকার বলে মনে করে।
তিনি জানান, প্রতিরোধ আন্দোলন করা গোষ্ঠীগুলো মনে করে, তাদের নিরস্ত্র করা হলে স্বাধীন ফিলিস্তিনি রাষ্ট্র প্রতিষ্ঠা এবং ইসরায়েলি দখলদারত্বের অবসান কখনোই সম্ভব হবে না।
তিনি আরও বলেন, যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল রাজনৈতিক সমাধানে না এসে ফিলিস্তিনের অস্ত্রের বিষয়টিকে সামনে আনছে। অর্থাৎ, ফিলিস্তিনের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের কোনো নিশ্চয়তা না দিয়ে মানবিক সহায়তাকে শর্ত দেখিয়ে চাপ প্রয়োগ করছেন তারা।
কৌশলগত ধোঁয়াশা তৈরির চেষ্টা
বিশ্লেষকদের মতে, গাজায় যুদ্ধ ফের শুরুর এই আলোচনা করে ইসরায়েল তাদের কৌশলগত কিছু ব্যর্থতা আড়াল করার চেষ্টা করছে।
ইসরায়েলবিষয়ক বিশেষজ্ঞ মামুন আবু আমের আল জাজিরাকে বলেন, এসব হুমকি মূলত একটি ধোঁয়াশা তৈরির কৌশল। হুমকির মাধ্যমে মধ্যস্থতাকারীদের ওপর চাপ সৃষ্টি করে অক্টোবরের নির্বাচনের আগে নেতানিয়াহু তার রাজনৈতিক অবস্থান শক্তিশালী করার চেষ্টা করছেন।
তিনি জানান, যুক্তরাষ্ট্র এখন গাজায় যুদ্ধ থামিয়ে একটা স্থিতিশীল পরিস্থিতি তৈরি করতে চাইছে। এখন গাজায় আবার যুদ্ধ আবার শুরু হলে যুক্তরাষ্ট্রের নেওয়া শান্তি উদ্যোগ ভেঙে পড়বে। আর ইরানকে মোকাবিলা করতে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে সম্পর্ক বজায় রাখা নেতানিয়াহুর জন্য গুরুত্বপূর্ণ।
আবার একাধিক দেশে সংঘাতে জড়িয়ে ইসরায়েলি সেনাবাহিনীও চাপের মধ্যে রয়েছে। ইসরায়েলি সাবেক সামরিক বাহিনীর প্রধান ইসরায়েল জিভের বক্তব্য উল্লেখ করে আবু আমের বলেন, ২০২৬ সালে ইসরায়েলি সেনাদের গড়ে বছরে ৮০ দিন দায়িত্ব পালন করতে হচ্ছে। এ ফলে তাদের সেনাবাহিনীর ওপর বড় চাপ তৈরি হয়েছে।
তিনি আরও বলেন, দক্ষিণ লেবাননের সংকট ইসরায়েলের জন্য এখনও ক্ষত হয়ে আছে। এই অবস্থায় গাজায় নতুন যুদ্ধ শুরু হলে তা ইসরায়েলি সেনাবাহিনীর জন্য বড় কৌশলগত ব্যর্থতা ডেকে আনতে পারে।
অন্যদিকে, গাজায় আটকে থাকা সাধারণ ফিলিস্তিনিদের জন্য এই ভূরাজনৈতিক টানাপোড়েন কোনো স্বস্তি বয়ে আনছে না। স্থানীয় সময় শনিবার (২ মে) প্রকাশিত ফিলিস্তিনের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, যুদ্ধ শুরুর পর থেকে এখন পর্যন্ত অন্তত ৭২ হাজার ৬০৮ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছেন।
সর্বশেষ রবিবার বিকেলে ইসরায়েলি হামলায় আরও ৩ ফিলিস্তিনি নিহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে। ফলে গাজার মানুষ এখন একদিকে দীর্ঘস্থায়ী ইসরায়েলি দখলদারত্ব, অন্যদিকে নতুন আরেকটি ভয়াবহ যুদ্ধের আশঙ্কার মধ্যে দিন পার করছেন।
৪৬ দিন আগে