বিশ্ব
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় নিহত ৯
দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ৯ জন নিহত হয়েছেন। নিহতদের মধ্যে তিন শিশু ও দুই নারী রয়েছেন।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) ভোরে দক্ষিণ লেবাননের আনসার গ্রামের প্রান্তে একটি বাড়িতে এই হামলা চালানো হয়।
২০ জুন ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যে যুদ্ধবিরতি কার্যকর হওয়ার পর এটি অন্যতম প্রাণঘাতী হামলা।
রাষ্ট্রীয় বার্তা সংস্থা ন্যাশনাল নিউজ এজেন্সি (এনএনএ) জানায়, হামলার পর উদ্ধারকর্মীরা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়াদের সন্ধানে কাজ করেন।
লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, হামলায় সাতজন নিহত এবং দুজন আহত হয়েছেন। এর আগে রাষ্ট্রীয় গণমাধ্যম তিনজন আহত হওয়ার কথা জানিয়েছিল।
গত ২৬ জুন ইসরায়েল ও লেবানন সরকার একটি ‘ফ্রেমওয়ার্ক চুক্তি’ ঘোষণা করে। এতে হিজবুল্লাহকে নিরস্ত্র করার বিনিময়ে দক্ষিণ লেবানন থেকে ইসরায়েলি বাহিনী প্রত্যাহারের পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়। পাশাপাশি দুই দেশের মধ্যে ভবিষ্যতে একটি শান্তিচুক্তির পথ তৈরির বিষয়টিও এতে রয়েছে। ইসরায়েল প্রতিষ্ঠার প্রায় ৮০ বছর পরও দেশ দুটি আনুষ্ঠানিকভাবে যুদ্ধাবস্থায় রয়েছে।
তবে ইরানের মদদপুষ্ট হিজবুল্লাহ সরাসরি আলোচনায় যেতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে এবং ওই চুক্তির অংশীদারও ছিল না।
এদিকে, শনিবার ভোরে কৌশলগতভাবে গুরুত্বপূর্ণ আলী তাহের পাহাড়েও তীব্র বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল। পাহাড়টি দক্ষিণাঞ্চলীয় শহর নাবাতিয়েহ এবং শহরটির দিকে যাওয়া প্রধান সড়কগুলোর ওপর অবস্থিত।
যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও ইসরায়েলি সামরিক বাহিনী ওই এলাকায় প্রায় প্রতিদিনই হামলা চালিয়ে আসছে। এলাকাটি লিতানি নদীর উত্তরে অবস্থিত। নদীটি দীর্ঘদিন ধরে লেবাননে দক্ষিণ ও উত্তরাঞ্চলের মধ্যে একটি কার্যত সীমারেখা হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে। এর দক্ষিণের বিস্তীর্ণ এলাকা বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।
১২ ঘণ্টা আগে
ইন্দোনেশিয়ায় ৭.৭ মাত্রার ভূমিকম্প, নিহত অন্তত ৩৮
ইন্দোনেশিয়ার উপকূলে আজ শনিবার ৭.৭ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ৩৮ জন নিহত হয়েছেন। এতে বহু ভবন ও বাড়িঘর ধসে পড়েছে। ভূমিকম্পের পর ওই অঞ্চলে ব্যাপক আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। এই দুর্যোগের কবলে পড়ে আহত হয়েছেন আরও বহু মানুষ।
স্থানীয় সময় শনিবার (১৫ আগস্ট) সকাল ৫টা ৫৮ মিনিটে ইন্দোনেশিয়ার ফ্লোরেস অঞ্চলে ভূমিকম্পটি আঘাত হানে।
যুক্তরাষ্ট্রের ভূতাত্ত্বিক জরিপ সংস্থা (ইউএসজিএস) জানায়, ভূমিকম্পটির গভীরতা ছিল ১০ কিলোমিটার। এর উৎপত্তিস্থল ছিল পূর্ব নুসা তেংগারা প্রদেশের এনদে শহর থেকে ৬৮ কিলোমিটার উত্তর-উত্তর-পশ্চিমে। মূল ভূমিকম্পের পর বেশ কয়েকটি পরাঘাত অনুভূত হয়।
ভূমিকম্পের পর স্থানীয় কর্তৃপক্ষ সুনামি সতর্কতা জারি করে উপকূলীয় বাসিন্দাদের নিরাপদ উঁচু স্থানে সরে যাওয়ার আহ্বান জানায়। তবে সমুদ্রপৃষ্ঠের উচ্চতায় উপকূলীয় জনপদের জন্য হুমকি সৃষ্টি করতে পারে—এমন উল্লেখযোগ্য কোনো পরিবর্তন না পাওয়ায় পরে সতর্কতা প্রত্যাহার করে ইন্দোনেশিয়ার আবহাওয়া, জলবায়ু ও ভূ-পদার্থবিজ্ঞান সংস্থা।
দেশটির জাতীয় দুর্যোগ ব্যবস্থাপনা সংস্থার প্রধান সুহারিয়ান্তো জানান, উদ্ধারকারীরা অন্তত ৩৮ জনের মরদেহ উদ্ধার করেছেন। নিহতদের বেশির ভাগই সিক্কা, মাংগারাই ও পূর্ব মাংগারাইয়ের তিনটি ক্ষতিগ্রস্ত এলাকার বাসিন্দা। মাংগারাইয়ের রেওক গ্রামে ভূমিধসে চাপা পড়ে থাকা ১৬ জনের মরদেহও উদ্ধার করা হয়েছে।
তিনি জানান, ভূমিকম্পে আহত অন্তত ১৩ জনকে স্থানীয় হাসপাতালে নেওয়া হয়েছে। তাদের মধ্যে দুজনের অবস্থা গুরুতর।
১৩ ঘণ্টা আগে
কলম্বিয়ায় ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ২৬৫, নিখোঁজ ৪ হাজারের বেশি
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পের পর ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম জোরদার করা হয়েছে। তবে সময় যত যাচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষকে জীবিত উদ্ধারের সম্ভাবনা ততই কমে আসছে।
স্থানীয় সময় সোমবার ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের কয়েকটি শহরে ভবন ধসে পড়ে, সড়ক ক্ষতিগ্রস্ত হয় এবং বহু মানুষ হতাহত হন। এ ঘটনায় বুধবার পর্যন্ত অন্তত ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। নিখোঁজ রয়েছেন আরও কয়েক হাজার মানুষ।
এই পরিস্থিতিতে নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলারদো দে লা এসপ্রিয়েইয়ার সরকারকে একদিকে দ্রুত উদ্ধার ও ত্রাণ কার্যক্রম পরিচালনা করতে হচ্ছে, অন্যদিকে গৃহহীন হয়ে পড়া হাজারো মানুষের আশয়, খাবার ও প্রয়োজনীয় সহায়তা নিশ্চিত করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে সবচেয়ে ক্ষতিগ্রস্ত এলাকাগুলোতে সহায়তা পৌঁছে দিতে নাগরিক সমাজও কাজ করছে।
স্থানীয় সময় বুধবার সন্ধ্যায় প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েইয়া জানান, সোমবার দেশটির পশ্চিমাঞ্চলে আঘাত হানা ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে অন্তত ২৬৫ জন নিহত হয়েছেন। তিনি বলেন, সরকারি হিসেবে এতে প্রায় ৫০০ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানানো হয়েছে। তবে বেসামরিকভাবে পরিচালিত ডাটাবেসের হিসেবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা সংখ্যা ৪ হাজার ১০০ এর বেশি। সব মিলিয়ে এ ভূমিকম্পে ২৫ হাজার ৮০০টির বেশি পরিবার ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানান তিনি।
কলম্বিয়ার রাজধানীতে সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে প্রেসিডেন্ট বলেন, ‘নিখোঁজদের উদ্ধারের জন্য আমারা সর্বাত্মক প্রচেষ্টা চালাচ্ছি।’
এদিকে, সময় দ্রুত ফুরিয়ে আসায় সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কালি, পেরেইরা, মানিসালেস ও কিবদো শহরে উদ্ধারকর্মীরা সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে ধ্বংসস্তূপ সরিয়ে জীবিতদের খুঁজছেন।
উদ্ধার ও ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকে থাকা মানুষকে জীবিত উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে আটকে থাকা মানুষদের কাছে খাবার ও পানি পৌঁছে দিতে পারলে এই সময়ের পরও তাদের জীবিত উদ্ধারের সুযোগ থাকে।
বুধবার বিকেলে কালির মেয়র আলেহান্দ্রো এদের সাংবাদিকদের বলেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনও জীবিত মানুষের উপস্থিতির আলামত পাওয়া যাচ্ছে। তাদের উদ্ধারে উদ্ধারকর্মীরা দ্রুত কাজ করছেন।
তিনি বলেন, ‘এখনও জীবিত মানুষদের উদ্ধারের জন্য পরবর্তী ২০ ঘণ্টা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এই মুহূর্তে প্রতিটি মিনিটই গুরুত্বপূর্ণ।’
২ দিন আগে
জিম্বাবুয়েতে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই ফেরি ডুবে ৪৪ প্রাণহানি
জিম্বাবুয়ের কারিবা হ্রদে অতিরিক্ত যাত্রীবোঝাই একটি ফেরি ডুবে অন্তত ৪৪ জন নিহত হয়েছেন।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) এ দুর্ঘটনা ঘটে বলে আজ বুধবার বিকেলে দেশটির পুলিশ এ তথ্য জানিয়েছে। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম দ্য গার্ডিয়ানের এক প্রতিবেদন থেকে এ খবর জানা গেছে।
টিকিট বিক্রির তথ্যের সূত্র দিয়ে দেশটির সিভিল প্রোটেকশন ইউনিট (সিপিইউ) জানিয়েছে, ফেরিটিতে ৯০ জন যাত্রী বহনের সক্ষমতা থাকলেও দুর্ঘটনার সময় এতে ১১৪ জন প্রাপ্তবয়স্ক যাত্রী ও পাঁচজন ক্রু ছিলেন। এছাড়া বেশকিছু শিশুও ফেরিটিতে ছিল।
দেশটির জাতীয় সম্প্রচারমাধ্যম জেডবিসিকে ফেরিটির এক ক্রু সদস্য জানান, মঙ্গলবার বড় ঢেউয়ের আঘাতে ফেরিটি উল্টে যাওয়ার সময় এতে মোট ১৫৩ জন মানুষ ছিলেন।
ফেরিতে থাকা এক যাত্রী জানান, কারিবা শহরের তীর থেকে দ্বীপ ও মাছ ধরার ক্যাম্পের উদ্দেশে রওনা হওয়ার প্রায় ৩০ মিনিট পর ফেরিটিতে পানি ঢুকতে শুরু করে।
দুর্ঘটনার পর অনুসন্ধান ও উদ্ধার অভিযান আজও অব্যাহত রয়েছে। এ কাজে একটি বিশেষায়িত পানির নিচে অনুসন্ধানকারী দল ঘটনাস্থলে পাঠানো হয়েছে বলে জানিয়েছে সিপিইউ।
আজ সকালে সিপিইউ জানিয়েছিল, দুর্ঘটনায় ১৫ জনের মৃত্যু হয়েছে এবং আরও ২৭ জন নিখোঁজ রয়েছেন। বিকেলে জিম্বাবুয়ের পুলিশ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে মাত্র ৩২ মিনিটের ব্যবধানে দুটি পোস্টে মৃতের সংখ্যা হালনাগাদ করে। প্রথম পোস্টে মৃতের সংখ্যা ৩৮ জন জানানো হয়। পরে আরেক পোস্টে জানানো হয়, নিহতের সংখ্যা বেড়ে ৪৪ জনে দাঁড়িয়েছে।
কারিবা হ্রদ আয়তন ও ধারণক্ষমতার দিক থেকে বিশ্বের বৃহত্তম মানবসৃষ্ট হ্রদ। জিম্বাবুয়ের উত্তর সীমান্ত বরাবর জাম্বিয়ার সঙ্গে প্রায় ১৫০ মাইলজুড়ে বিস্তৃত এই হ্রদটি ১৯৫০-এর দশকে ব্রিটিশ ঔপনিবেশিক শাসনামলে জাম্বেজি নদীতে বাঁধ নির্মাণের মাধ্যমে সৃষ্টি করা হয়।
হ্রদটি তৈরির সময় প্রায় ৫৭ হাজার মানুষকে তাদের বসতভিটা থেকে উচ্ছেদ করা হয়েছিল। কারিবা বাঁধ থেকে জিম্বাবুয়ে ও জাম্বিয়া উভয় দেশের মোট বিদ্যুতের অন্তত এক-তৃতীয়াংশ সরবরাহ করা হয়।
৩ দিন আগে
কলম্বিয়ার ভূমিকম্পে নিহত বেড়ে ১৮১, নিখোঁজ ১৯৫
কলম্বিয়ায় শক্তিশালী ভূমিকম্পে নিহতের সংখ্যা বেড়ে ১৮১ জনে দাঁড়িয়েছে। এ ঘটনায় আহত হয়েছেন ২ হাজার ৫৯৫ জন। সরকারি হিসাবে ভূমিকম্পের পর এখনও অন্তত ১৯৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে বেসরকারি হিসাব অনুযায়ী, নিখোঁজের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার।
শক্তিশালী এ ভূমিকম্পের পর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের খুঁজে বের করা কঠিন হয়ে পড়েছে। দেশটির সরকার ধ্বংসস্তূপে আটকে পড়া জীবিতদের উদ্ধারে ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টার সময়সীমা নির্ধারণ করে দিয়েছিল। এ সময়সীমা দ্রুত ফুরিয়ে আসায় উদ্ধারকারীরা জীবিতদের সন্ধানে সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে তল্লাশি চালাচ্ছেন।
এই দুর্যোগ কলম্বিয়ার নতুন প্রেসিডেন্ট আবেলারদো দে লা এসপ্রিয়েইয়া সরকারকে বড় ধরনের পরীক্ষার মুখে ফেলেছে। দেশটিতে ভূমিকম্পের পর পরিস্থিতি সামাল দিতে সরকার হিমশিম খাচ্ছে। ভূমিকম্পে ক্ষতিগ্রস্তদের সহযোগিতায় দেশটির নাগরিক সমাজও একযোগে কাজ করছে।
স্থানীয় সময় মঙ্গলবার (১২ আগস্ট) প্রেসিডেন্ট দে লা এসপ্রিয়েইয়া জানান, ৭ দশমিক ৪ মাত্রার ভূমিকম্পে দেশের পশ্চিমাঞ্চলে অন্তত ১৮১ জন নিহত এবং আরও ২ হাজার ৫৯৫ জন আহত হয়েছেন। তিনি বলেন, এখনও অন্তত ১৯৫ জন নিখোঁজ রয়েছেন। তবে বেসামরিকভাবে পরিচালিত বিভিন্ন ডেটাবেসের হিসেবে নিখোঁজ মানুষের সংখ্যা প্রায় ৪ হাজার।
এদিকে, ভূমিকম্পে সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত কালি, পেরেইরা, মানিসালেস ও কিবদো শহরে রাতভর ধ্বংসস্তূপে তল্লাশি চালিয়েছেন উদ্ধারকারীরা। সময় যত গড়াচ্ছে, ধ্বংসস্তূপের নিচে জীবিতদের খুঁজে বের করে উদ্ধারের সম্ভাবনাও তত কঠিন হয়ে পড়ছে।
ত্রাণ সংস্থাগুলোর মতে, ভূমিকম্পের পর প্রথম ৪৮ থেকে ৭২ ঘণ্টা ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিতদের উদ্ধারের জন্য সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সময়। তবে আটকে পড়াদের কাছে খাবার ও পানি পৌঁছানোর সুযোগ করা গেলে এই সময়সীমা আরও বাড়তে পারে।
এই পরিস্থিতেও ভবনগুলোর ধ্বংসস্তূপ থেকে জীবিত উদ্ধারের কিছু ঘটনায় উদ্ধারকারীরা এখনও আশা রাখছেন। একটি ভবনের ধ্বংসস্তূপ থেকে উদ্ধারকারীরা কংক্রিটের দেওয়ালের সরু ফাঁক দিয়ে একটি শিশুকে বের করে আনেন। শিশুটির পুরো শরীর ধুলোয় ঢাকা ছিল। আরেক স্থানে ধ্বংসস্তূপ আটকে পড়া এক নারীকে জীবিত উদ্ধার করে স্ট্রেচারে তুলতে সক্ষম হন উদ্ধারকারীরা।
৩ দিন আগে
কঙ্গোয় ইবোলা মহামারিতে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়াল
কঙ্গোয় ইবোলা মহামারিতে নিহতের সংখ্যা ২ হাজার ছাড়িয়েছে। দেশটিতে ইবোলার প্রাদুর্ভাব দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। সর্বশেষ সরকারি তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে ইবোলায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা ৪ হাজার ৩৮১ জন এবং মারা গেছেন ২ হাজার ১১ জন।
দুর্বল সড়ক যোগাযোগ ও স্বাস্থ্যকর্মীদের অর্থ পরিশোধ নিয়ে কর্মবিরতির কারণে দেশটির দুর্গম এলাকায় দ্রুত চিকিৎসা সহায়তা পৌঁছাতে হিমশিম খাচ্ছে স্বাস্থ্য কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) প্রকাশিত দেশটির সরকারি তথ্য অনুযায়ী, কঙ্গোয় ইবোলায় নিশ্চিত আক্রান্তের সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪ হাজার ৩৮১ জনে। এর মধ্যে মারা গেছেন ২ হাজার ১১ জন। বর্তমানে সেখানে ৭০৪ জন রোগী হাসপাতালে ভর্তি ও আইসোলেশনে রয়েছেন।
কঙ্গোতে গত ১৫ মে থেকে ইবোলা প্রাদুর্ভাব ঘোষণা করা হয়। এরপর তিন মাসের মধ্যেই এমন ভয়াবহর পরিস্থিতি তৈরি হয়েছে। ইবোলা প্রাদুর্ভাব শুরুর পর প্রথম ৯ সপ্তাহে ১ হাজার মানুষ মারা যান। পরে মাত্র ৩ সপ্তাহেই ১ হাজার মানুষের মৃত্যু হয়েছে। এই স্বাস্থ্য সংকট ব্যাপক হারে ছড়িয়ে পড়ছে। এটি ক্রমশ স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।
কঙ্গোতে চলমান এই ইবোলা প্রাদুর্ভাব ইতোমধ্যে আফ্রিকার ইতিহাসে দ্বিতীয় বৃহত্তম ইবোলা প্রাদুর্ভাবে রূপ নিয়েছে। এর আগে ২০১৪ থেকে ২০১৬ সাল পর্যন্ত পশ্চিম আফ্রিকায় ইবোলার সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছিল। ওই সময় ২৮ হাজারের বেশি মানুষ আক্রান্ত এবং ১১ হাজারের বেশি মানুষ মারা যান।
এ ব্যাপারে সহায়তা সংস্থাগুলোর কর্মীরা বলছেন, ইবোলা মোকাবিলায় কার্যকর পদক্ষেপ নিয়েও এর প্রাদুর্ভাব ঠেকানো যাচ্ছে না। রোগটি দ্রুত ছড়িয়ে পড়ছে। দেশটির আক্রান্ত ৫টি প্রদেশজুড়ে স্বাস্থ্যসেবা কার্যক্রম বাড়ানো হলেও পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনা যাচ্ছে না।
এদিকে, ইবোলা প্রাদুর্ভাব শুরুর পর থেকে দেশটির বহু স্বাস্থ্যকর্মীর পারিশ্রমিক না পাওয়ার প্রতিবাদে ধর্মঘট করেছেন। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (ডব্লিউএইচও) জানিয়েছে, স্বাস্থ্যকর্মীরা তাদের পর্যবেক্ষণে থাকা সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে আসা মানুষেরও তালিকা করেছেন। তবে নতুন করে যারা ইবোলা আক্রান্তদের বেশিরভাগই এই তালিকায় ছিলেন না। তবুও তারা ইবোলা আক্রান্ত হয়েছেন। অর্থাৎ, সংক্রমিত ব্যক্তিদের সংস্পর্শে না এসেও মানুষ ইবোলায় আক্রান্ত হচ্ছেন। এতে বোঝা যায়, রোগটির প্রাদুর্ভাব স্বাস্থ্যকর্মীদের নিয়ন্ত্রণের বাইরে চরে গেছে।
আগের বেশিরভাগ ইবোলা প্রাদুর্ভাবের তুলনায় এবারের পরিস্থিতি আলাদা। কারণ এবারের প্রাদুর্ভাবের জন্য দায়ী বিরল ‘বান্দিবুগিও ভাইরাস’। এ ভাইরাসের অনুমোদিত কোনো টিকা বা চিকিৎসা নেই।
তবে এরই মধ্যে সাম্প্রতিক ইবোলা প্রাদুর্ভাবের কেন্দ্রস্থল ইতুরি প্রদেশে এ রোগের টিকা ও চিকিৎসা নিয়ে ক্লিনিক্যাল ট্রায়াল শুরু হয়েছে ।
ডব্লিউএইচও জানিয়েছে, সম্ভবত ফেব্রুয়ারিতে এবারের ইবোলার প্রাদুর্ভাব শুরু হয়েছিল। অর্থাৎ কঙ্গোর কর্তৃপক্ষ এটি শনাক্ত করার অনেক আগেই দেশটির সবচেয়ে দুর্গম ও ঝুঁকিপূর্ণ এলাকাগুলোর একটিতে ভাইরাসটি ছড়িয়ে পড়েছিল।
ডব্লিউএইচও আরও জানিয়েছে, প্রাথমিক পর্যায়ের কিছু আক্রান্ত রোগীকে ভুলভাবে ম্যালেরিয়া ও টাইফয়েডে আক্রান্ত হিসেবে শনাক্ত করা হয়েছিল। এছাড়া রোগটির শুরুর দিকে ইবোলার আরও প্রচলিত ধরন শনাক্তের জন্য পরীক্ষা করা হচ্ছিল।
ডব্লিউএইচওর আফ্রিকার আঞ্চলিক পরিচালক ডা. মোহামেদ ইয়াকুব জানাবি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেন, ‘আমরা ভাইরাসটি ঠেকাতে এর পেছনে ছুটছি, কিন্তু ভাইরাসটি আমাদের চেয়ে দ্রুত ছুটছে।’
১৯৭৬ সালে কঙ্গোতে ইবোলা নদীর কাছাকাছি এলাকায় প্রথম এই ভাইরাস শনাক্ত হয়েছিল। মধ্য আফ্রিকার এই দেশে এটি ইবোলার ১৭তম প্রাদুর্ভাব। এবারের প্রাদুর্ভাব দেশটিতে এখন পর্যন্ত সবচেয়ে বড় প্রাদুর্ভাব।
৪ দিন আগে
ইউক্রেনে হামলায় উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করছে মস্কো, অভিযোগ জেলেনস্কির
ইউক্রেনের বিভিন্ন শহরে ক্ষেপণাস্ত্র, ড্রোন ও গ্লাইড বোমা দিয়ে হামলা চালিয়েছে রাশিয়া। এতে অন্তত ৯ জন বেসামরিক মানুষ নিহত হয়েছেন বলে মঙ্গলবার কর্মকর্তারা জানিয়েছেন।
একই সময়ে ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি মস্কোর বিরুদ্ধে উত্তর কোরিয়ার ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহারের অভিযোগ করেছেন। তিনি বলেছেন, চার বছরের বেশি সময় ধরে চলা ইউক্রেন যুদ্ধে মস্কো উত্তর কোরিয়া থেকে নতুন করে সামরিক সহায়তা পাচ্ছে।
জেলেনস্কি বলেন, দক্ষিণ-পূর্ব ইউক্রেনের জাপোরিঝঝিয়া শহরে রাতভর হামলায় রুশ বাহিনী উত্তর কোরিয়ার সরবরাহ করা ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র ব্যবহার করেছে। স্থানীয় কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, ওই হামলায় ছয়জন নিহত ও ১৯ জন আহত হয়েছেন।
এছাড়া মধ্যাঞ্চলীয় দিনিপ্রোপেত্রোভস্ক অঞ্চলে রাশিয়ার ড্রোন ও গোলাবর্ষণে ১৫ বছর বয়সী এক কিশোরসহ আরও তিনজন নিহত হয়েছেন বলে স্থানীয় কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে।
স্থানীয় সময় সোমবার (১০ আগস্ট) রাতে জেলেনস্কি বলেন, রাশিয়া পিয়ংইয়ংয়ের কাছ থেকে আরও ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র পেয়েছে এবং আরও উত্তর কোরীয় সেনা মোতায়েনের প্রস্তুতি নিচ্ছে।
দুই বছরের বেশি সময় আগে রাশিয়ার প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন ও উত্তর কোরিয়ার নেতা কিম জং উন একটি কৌশলগত অংশীদারত্ব চুক্তিতে সই করেন। চুক্তিতে দুই দেশের যেকোনো একটি দেশ আগ্রাসনের শিকার হলে পারস্পরিক সহায়তার প্রতিশ্রুতি রয়েছে।
ইউক্রেনে পুতিনের আগ্রাসনকে সমর্থন করতে কিম হাজার হাজার সেনা এবং বিপুল পরিমাণ অস্ত্র সরবরাহ করেছেন। বিশেষজ্ঞের কারও কারও মতে, মস্কোর সঙ্গে এই সহযোগিতার ফলে উত্তর কোরিয়ার সামরিক সক্ষমতা বাড়ছে। জেলেনস্কি সতর্ক করে বলেছেন, যুদ্ধক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা উত্তর কোরিয়াকে এ অঞ্চলের অন্যান্য দেশের জন্য আরও বড় হুমকি হয়ে উঠতে সহায়তা করবে।
ইউক্রেনের দাবি, রাশিয়া ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়াচ্ছে। কিয়েভের কাছে এসব ক্ষেপণাস্ত্র ঠেকাতে সক্ষম প্যাট্রিয়ট আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতিকে কাজে লাগাতেই মস্কো এ উদ্যোগ নিয়েছে বলে দাবি ইউক্রেনের। দেশটি আরও বলছে, পূর্ব ও দক্ষিণ ইউক্রেনজুড়ে ১ হাজার ২৫০ কিলোমিটার (৭৭৫ মাইল) দীর্ঘ সম্মুখসারিতে নতুন করে অভিযান চালাতে রাশিয়া সেনা নিয়োগ বাড়ানোর প্রস্তুতি নিচ্ছে।
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জেলেনস্কি বলেন, ‘ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্রের উৎপাদন বাড়ানো, উত্তর কোরিয়ার সরঞ্জাম আনা, সেনা সমাবেশের প্রস্তুতির মতো রাশিয়ার প্রতিটি পদক্ষেপই দেখাচ্ছে যে মস্কো শান্তির জন্য নয়, বরং উত্তেজনা বাড়ানোর জন্য প্রস্তুতি নিচ্ছে।’
যুদ্ধ বন্ধে যুক্তরাষ্ট্রের নেতৃত্বাধীন কূটনৈতিক প্রচেষ্টাও কার্যত ব্যর্থ হয়েছে। সমঝোতার দিকে অগ্রগতির অভাবে ওয়াশিংটন হতাশ হয়ে পড়েছে এবং ইরান যুদ্ধের দিকে তাদের মনোযোগ সরে গেছে।
ওয়াশিংটনভিত্তিক গবেষণা প্রতিষ্ঠান ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব ওয়ার সোমবার রাতে এক বিশ্লেষণে বলেছে, ‘পুতিন যতক্ষণ মনে করবেন যে তার পূর্ণাঙ্গ লক্ষ্য অর্জনের জন্য একটি কার্যকর সামরিক পথ রয়েছে, ততক্ষণ ক্রেমলিন গুরুতর আলোচনায় প্রবেশ করবে না বা তার দাবিতে বড় কোনো ছাড় দেবে না।’
সংস্থাটি আরও বলেছে, ইউক্রেনের প্যাট্রিয়ট ক্ষেপণাস্ত্রের ঘাটতি রাশিয়াকে ইউক্রেনের ব্যাপক ক্ষতি করার সুযোগ করে দিচ্ছে। এর ফলে অর্থবহ আলোচনা পিছিয়ে যেতে এবং যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হতে পারে।
কিয়েভের শিশু হাসপাতালে হামলা
রাতভর ইউক্রেনের রাজধানী কিয়েভের বিভিন্ন এলাকাতেও হামলা চালিয়েছে রুশ বাহিনী বলে জানিয়েছেন কর্মকর্তারা। একটি হামলায় একটি শিশু হাসপাতালের চত্বরে দুটি গর্ত তৈরি হয় এবং জানালার কাচ ভেঙে যায় বলে জানিয়েছে রাষ্ট্রীয় জরুরি সেবা বিভাগ। তবে শিশু ও চিকিৎসাকর্মীরা বোমা আশ্রয়কেন্দ্রে থাকায় কেউ আহত হয়নি।
রাজধানীর অন্য একটি এলাকায় রুশ হামলায় একটি গুদামে আগুন ধরে যায়। জরুরি বিভাগের কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, আগুন প্রায় ১ হাজার ২০০ বর্গমিটার (প্রায় ১৩ হাজার বর্গফুট) এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।
রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, তাদের বাহিনী রাতভর কিয়েভ ও জাপোরিঝঝিয়ার ‘সামরিক শিল্প স্থাপনা এবং পরিবহন ও সরবরাহ কেন্দ্রগুলোতে’ স্থলভিত্তিক নির্ভুল অস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে।
আজ (মঙ্গলবার) এক বিবৃতিতে মন্ত্রণালয়টি জানায়, কিয়েভে ড্রোন সংরক্ষণ করা হচ্ছিল এমন বেসামরিক গুদাম এবং জাপোরিঝঝিয়া শহরের একটি ধাতু কারখানায় হামলা চালানো হয়েছে।
ইউক্রেনের বিমানবাহিনী জানিয়েছে, রাশিয়া জাপোরিঝঝিয়া ও কিয়েভে জিরকন অ্যান্টি-শিপ ক্ষেপণাস্ত্র ও ইস্কান্দার ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে দেশটির বিভিন্ন এলাকায় বিভিন্ন ধরনের ১২০টি দূরপাল্লার হামলা চালানোর ড্রোন ব্যবহার করা হয়েছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম ই-কমার্স প্রতিষ্ঠানে আবারও হামলা
অন্যদিকে, রাশিয়ার প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয় জানিয়েছে, রাতভর তাদের আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা রাশিয়ার ১৪টি অঞ্চল ও অধিকৃত ক্রিমিয়ার আকাশে প্রায় ৪০০টি ইউক্রেনীয় ড্রোন ভূপাতিত করেছে।
রাশিয়ার বৃহত্তম অনলাইন খুচরা বিক্রেতা প্রতিষ্ঠান ওয়াইল্ডবেরিজ জানিয়েছে, ইউক্রেন সীমান্তবর্তী ভোরোনেজ অঞ্চলে তাদের সরবরাহকেন্দ্রগুলো হামলার শিকার হয়ে আগুন ধরে যায়। তবে পরে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনা হয়েছে। প্রতিষ্ঠানটি জানিয়েছে, সেখানে সংরক্ষিত পণ্য ‘বেশিরভাগই অক্ষত’ রয়েছে।
ইউক্রেন এর আগে একাধিকবার ওয়াইল্ডবেরিজের গুদামে হামলা চালিয়েছে। একই সঙ্গে রাশিয়ার তেল স্থাপনাগুলোতেও হামলা চালিয়ে আসছে দেশটি। কিয়েভের দাবি, পুতিনকে যুদ্ধ অবসানে আলোচনায় বসতে বাধ্য করার কৌশলের অংশ হিসেবে এসব হামলা চালানো হচ্ছে।
ইউক্রেনের জেনারেল স্টাফ জানিয়েছে, রাতভর তাদের বাহিনী রাশিয়ার ওরেনবুর্গ অঞ্চলের ওরস্কনেফতেওরগসিনতেজ তেল শোধনাগারে হামলা চালিয়েছে। ইউক্রেন সীমান্ত থেকে প্রায় ১ হাজার ৫০০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত শোধনাগারটিতে হামলার পর আগুন ধরে যায়।
শোধনাগারটির বছরে প্রায় ৪ কোটি ৪০ লাখ ব্যারেল অপরিশোধিত তেল পরিশোধনের সক্ষমতা রয়েছে। সেখানে গ্যাসোলিন, ডিজেল ও উড়োজাহাজের জ্বালানিসহ বিভিন্ন ধরনের পেট্রোলিয়ামজাত পণ্য উৎপাদন করা হয়। হামলায় ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ নিরূপণ করা হচ্ছে বলে জানিয়েছে ইউক্রেনের সামরিক বাহিনী।
৪ দিন আগে
সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদের মৃত্যুদণ্ড
মানবতাবিরোধী অপরাধ ও যুদ্ধাপরাধের দায়ে সিরিয়ার সাবেক প্রেসিডেন্ট বাশার আল-আসাদ ও তার ছোট ভাই মাহের আল-আসাদকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে দেশটির একটি আদালত।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দামেস্কের চতুর্থ ফৌজদারি আদালত দেশটিতে ১৪ বছর ধরে চলা সংঘাতে এসব অপরাধের জন্য তাদের মৃত্যুদণ্ড দেন। ওই সংঘাতে দেশটিতে প্রায় ৫ লাখ মানুষ নিহত হয়েছেন।
আসাদ পরিবারের পাঁচ দশকের শাসনের অবসানের ২০ মাস পর আজকের এ রায়ই বাশার আল-আসাদ বা তার ঘনিষ্ঠ মহলের কোনো সদস্যের বিরুদ্ধে প্রথম সাজা। আদালতের এই বিচার কার্যক্রম সরাসরি সম্প্রচার করে দেশটির রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন।
রায়ে বিচারক ফাখারেদ্দিন আল-আরিয়ান বলেন, ‘বাশার আল-আসাদ যুদ্ধাপরাধ ও মানবতাবিরোধী অপরাধ সংঘটনের জন্য রাষ্ট্রীয় সংস্থাগুলোকে ব্যবহার করেছেন।’
একই মামলায় আসাদের মামাতো ভাই আতেফ নাজিবকেও মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছে। দারা প্রদেশে দমন-পীড়নের তদারকির দায়ে তাকে দোষী সাব্যস্ত করা হয়। ওই দমন-পীড়নই পরবর্তী সময়ে দেশটিতে বিদ্রোহ এবং গৃহযুদ্ধের সূচনা করেছিল।
টেলিভিশনে সম্প্রচারিত ভিডিওতে কঠোর নিরাপত্তার মধ্যে নাজিবকে কারাবন্দিদের পোশাক পরে একটি খাঁচার ভেতরে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখা যায়। এ সময় বিচারক তার সাজা পড়ে শোনান। রায় শুনতে দামেস্কের কেন্দ্রস্থলে আদালত ভবনের বাইরে বিপুলসংখ্যক মানুষ জড়ো হন।
৪ দিন আগে
যুগান্তকারী ভোটে মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করল লেবানন
মৃত্যুদণ্ড বিলোপ করেছে লেবানন। আরব বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে মৃত্যুদণ্ডের পরিবর্তে যাবজ্জীবন কারাদণ্ড ও কঠোর শ্রমের শাস্তি চালু করল দেশটি।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) পার্লামেন্টে অনুষ্ঠিত ঐতিহাসিক ভোটের মাধ্যমে এই আইনটি বিলোপ করে দেশটি।
লেবাননের ১২৮ সদস্যের পার্লামেন্টের সংখ্যাগরিষ্ঠ সদস্যরা মৃত্যুদণ্ড বিলোপের পক্ষে ভোট দেন। তবে হিজবুল্লাহর সংসদীয় ব্লক এর বিরোধিতা করে।
পার্লামেন্টে উপস্থিত দেশটির বিচারমন্ত্রী আদেল নাসার এ সিদ্ধান্তকে লেবাননের জন্য ‘ঐতিহাসিক পদক্ষেপ’ বলে অভিহিত করেছেন।
মৃত্যুদণ্ডের ওপর স্থগিতাদেশকে আনুষ্ঠানিক রূপ দেওয়া কিংবা সম্পূর্ণভাবে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের আহ্বান জানিয়ে আসা মানবাধিকার সংগঠনগুলোও এই পদক্ষেপকে স্বাগত জানিয়েছে।
এই পদক্ষেপের প্রতিক্রিয়ায় হিউম্যান রাইটস ওয়াচের লেবাননবিষয়ক গবেষক রামজি কাইস বলেন, ‘লেবানন এমন একটি নিষ্ঠুর শাস্তি থেকে চূড়ান্তভাবে সরে আসছে, যা কখনোই দেওয়া উচিত নয়।’
তিনি বলেন, ‘মৃত্যুদণ্ড তার নিষ্ঠুরতা ও চূড়ান্ততার দিক থেকে অনন্য এবং এতে স্বেচ্ছাচারিতা, পক্ষপাত ও ভুলের ঝুঁকি থেকেই যায়।’
তবে কঠোর শ্রমের শাস্তি কীভাবে কার্যকর করা হবে, তা এখনও স্পষ্ট নয়। কয়েকজন আইনপ্রণেতা বলেছেন, নতুন শাস্তির শর্তগুলো এখনও পরিষ্কার নয়।
লেবাননের আইনে আদালতের রায় ও বিধিবিধানে ‘কঠোর শ্রমের’ শাস্তির উল্লেখ রয়েছে। তবে সাম্প্রতিক বছরগুলোতে দেশটির আর্থিক সংকট, সম্পদের ঘাটতি এবং অতিরিক্ত বন্দিতে ঠাঁসা কারাগারগুলোর সক্ষমতার সীমাবদ্ধতার কারণে এই শাস্তিও খুব কমই কার্যকর করা হয়েছে।
লেবাননে মৃত্যুদণ্ড বিলোপের সিদ্ধান্ত এমন এক সময়ে এল, যখন পার্লামেন্টে একটি বিতর্কিত সাধারণ ক্ষমা আইন নিয়ে আলোচনা চলছে। ১৯৯০ সালে দেশটির ১৫ বছরের গৃহযুদ্ধের অবসানের পর এটিই হবে সবচেয়ে বড় সাধারণ ক্ষমার উদ্যোগ। প্রস্তাবিত আইনের আওতায় কিছু দণ্ড কমানো, এমনকি দণ্ডিত জঙ্গি ও মাদক কারবারিদের মুক্তিও দেওয়া হতে পারে। তবে কিছু ক্ষেত্রে ব্যতিক্রম রাখা হয়েছে।
ইসলামপন্থি জঙ্গিগোষ্ঠীগুলোর হামলা ও হত্যাকাণ্ডে নিহত লেবাননের সেনা ও নিরাপত্তাকর্মীদের পরিবারের সদস্যরা আইনটির বিরুদ্ধে বারবার বিক্ষোভ করেছেন। তাদের কেউ কেউ বলেছেন, তারা তাদের স্বজনদের হত্যাকারীদের মৃত্যুদণ্ড দেখতে চেয়েছিলেন, কম মেয়াদের কারাদণ্ড নয়।
ঐতিহাসিক এই ভোটের বিষয়ে হিজবুল্লাহ তাৎক্ষণিকভাবে কোনো মন্তব্য করেনি। লেবাননের বিভিন্ন ধর্মীয় প্রতিষ্ঠানও কোনো প্রতিক্রিয়া জানায়নি। এসব প্রতিষ্ঠানের কিছু নিজস্ব বিচারব্যবস্থায় মৃত্যুদণ্ডকে বৈধ বলে বিবেচনা করা হয়।
ভূমধ্যসাগরীয় অঞ্চলের ছোট্ট এই দেশটি অবশ্য ২০০৪ সালের জানুয়ারি থেকে মৃত্যুদণ্ড কার্যকরের ওপর অনানুষ্ঠানিক স্থগিতাদেশ দিয়ে রেখেছিল। তবে এরপরও দেশটির আদালতগুলোতে বেশ কিছু মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেওয়া হয়েছে। পরে অবশ্য সেগুলো স্থগিত অথবা কমিয়ে দেওয়া হয়।
৪ দিন আগে
দক্ষিণ আফ্রিকায় পরিত্যক্ত খনিতে ১৪ অবৈধ খনি শ্রমিকের মৃত্যু
দক্ষিণ আফ্রিকার একটি পরিত্যক্ত খনিতে অন্তত ১৪ জন অবৈধ খনি শ্রমিকের মৃত্যু হয়েছে। এ ঘটনায় আরও বহু মানুষ আহত হয়েছেন বলে জানিয়েছে পুলিশ।
মঙ্গলবার (১১ আগস্ট) দক্ষিণ আফ্রিকার পুলিশ সার্ভিস (এসএপিএস) জানিয়েছে, জোহানেসবার্গ থেকে প্রায় ১৩০ কিলোমিটার (৮০ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে রাস্টেনবার্গ শহরের কাছে একটি খনিতে ওই শ্রমিকদের মৃত অবস্থায় পাওয়া যায়।
তবে তাদের মৃত্যুর পরিস্থিতি সম্পর্কে জাতীয় পুলিশ সার্ভিস বিস্তারিত কিছু জানায়নি। তারা জানিয়েছে, প্রাদেশিক পুলিশ কমিশনার ঘটনাস্থলের উদ্দেশে রওনা হয়েছেন।
দক্ষিণ আফ্রিকায় খনি কোম্পানিগুলো ব্যবহার না করা সোনা ও প্লাটিনামের খনিতে অবৈধভাবে কাজ করেন হাজার হাজার ক্ষুদ্র খনি শ্রমিক। এসব অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিক খনির ভেতরে গিয়ে অবশিষ্ট খনিজের সন্ধান করেন এবং তা বিক্রি করেন। তারা প্রায়ই যথাযথ নিরাপত্তা সরঞ্জাম ছাড়াই কাজ করেন এবং কখনো কখনো কয়েক সপ্তাহ ভূগর্ভে অবস্থান করেন।
দক্ষিণ আফ্রিকার প্লাটিনাম খনিশিল্পের অন্যতম প্রধান কেন্দ্র রাস্টেনবার্গ। দেশটিতে বিশ্বের সবচেয়ে বেশি প্লাটিনাম মজুত রয়েছে।
কর্তৃপক্ষের মতে, দক্ষিণ আফ্রিকায় অনানুষ্ঠানিক খনন একটি গভীর সমস্যা এবং এর সঙ্গে অপরাধী চক্রগুলোর সম্পৃক্ততা রয়েছে। অনানুষ্ঠানিক খনি শ্রমিকরা ‘জামা জামা’ নামে পরিচিত, যার অর্থ দাঁড়ায় ‘ঝুঁকি গ্রহণকারী’। তারা প্রায়ই দলবদ্ধভাবে কাজ করেন এবং প্রতিদ্বন্দ্বী গোষ্ঠীগুলোর সঙ্গে সহিংস সংঘর্ষে জড়ান।
অবৈধ খনন নিয়ে দক্ষিণ আফ্রকার সর্বশেষ বড় দুর্ঘটনা ঘটে ২০২৪ সালের শেষ দিকে। সে সময় একটি সোনার খনিতে শত শত খনি শ্রমিক ভূগর্ভে আটকা পড়েন। পুলিশ ওই খনিটি ঘিরে রাখার পর উদ্ধার অভিযান নিয়ে কয়েক মাস অচলাবস্থা চলে। কর্তৃপক্ষের মতে, ওই ঘটনায় ভূগর্ভে ৮০ জনের বেশি খনি শ্রমিক মারা যান।
সংগঠিত অপরাধ দমনে দক্ষিণ আফ্রিকার প্রেসিডেন্ট সিরিল রামাফোসা চলতি বছরের শুরুতে এক বছরের একটি অভিযানে রাস্তায় সেনা মোতায়েনের মতো পদক্ষেপ নেন। অবৈধ খননও ওই অভিযানের অন্যতম লক্ষ্য।
৪ দিন আগে