বিনোদন
আসছে নিশো-তমা জুটির নতুন সিনেমা ‘অসিয়ত’
ব্লকবাস্টার চলচ্চিত্র সুড়ঙ্গের জনপ্রিয়তার ধারাবাহিকতায় বড় পর্দায় ফের জুটি বাঁধতে চলেছেন আফরান নিশো ও তমা মির্জা। আগের মত এবারও চলচ্চিত্রের শিরোনাম এক শব্দের ও চিত্তাকর্ষক। নতুন এ সিনেমার নাম ‘অসিয়ত’। এখন পর্যন্ত আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা না এলেও তুমুল হইচই শুরু হয়ে গেছে নেটিজেনদের মধ্যে। চলুন, চলচ্চিত্রটির নির্মাণ, মুক্তির দিনক্ষণ ও সম্ভাবনা নিয়ে বিশদ জেনে নেওয়া যাক।
চলচ্চিত্র ‘অসিয়ত’ বৃত্তান্ত
সিনেমাটির নির্দেশনায় থাকবেন ‘তুফান’ খ্যাত নির্মাতা রায়হান রাফী। বর্তমানে তার ‘তুফান’ সিনেমাটি বাংলাদেশ ও ভারতসহ বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রেক্ষাগৃহগুলো দাপিয়ে বেড়াচ্ছে। ‘সুড়ঙ্গ’ ও ‘তুফান’ চলচ্চিত্রটির মতো ‘অসিয়ত’ চলচ্চিত্রটির সঙ্গেও জুড়ে আছে ভারতের চলচ্চিত্র প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান এসভিএফ (শ্রী ভেঙ্কটেশ ফিল্মস) এবং বাংলাদেশের আলফা-আইয়ের নাম। চলচ্চিত্র দুইটির প্রযোজনায় ছিল আলফা-আই, আর পরিবেশক হিসেবে ভূমিকা পালন করেছিল এসভিএফ। তবে ‘অসিয়ত’ চলচ্চিত্রটির প্রযোজনায় থাকছে স্টুডিও দুইটির সমন্বয়ে প্রতিষ্ঠিত বাংলাদেশি কোম্পানি এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেড।
আরও পড়ুন: মেহজাবীন অভিনীত ভিকি জাহেদের ‘তিথিডোর’ নিয়ে কেন এত আলোচনা
পরিকল্পনা অনুযায়ী সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে চলতি বছরেই আগামী সেপ্টেম্বর থেকে শুরু হতে যাচ্ছে সিনেমার শুটিং। নিশো-তমা জুটি বাদে অভিনয়ে আর কারা থাকছেন এবং গল্পের পটভূমিই বা কি- সে ব্যাপারে এখনও কিছু প্রকাশ করা হয়নি। তবে সিনেমাটির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা আসতে খুব বেশি অপেক্ষা করতে হবে না দর্শকদের।
‘অসিয়ত’ কবে মুক্তি পাবে
২০২৫ সালের ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে যাবতীয় পরিকল্পনা চলছে চলচ্চিত্র নির্মাণের। ২০২৩ সালের ঈদুল আযহায় ‘সুড়ঙ্গ’ মুক্তি পেয়েছিল জনপ্রিয় ওটিট (ওভার-দ্যা-টপ) প্ল্যাটফর্ম চরকিতে। একইভাবে ‘অসিয়ত’ চলচ্চিত্রটির সঙ্গেও দেশের শীর্ষস্থানীয় একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মের সম্পৃক্ত হওয়ার কথা চলছে। শিগগিরই এক জমকালো আয়োজনের মাধ্যমে এই সম্পৃক্ততাসহ মুক্তির স্পষ্ট দিনক্ষণ নিয়ে দর্শকদের সামনে হাজির হবে ‘অসিয়ত’ টিম।
নিশোর বিচক্ষণ প্রত্যাবর্তন
‘সুড়ঙ্গ’ চলচ্চিত্রটির পর থেকে গত এক বছর একেবারেই ক্যামেরার সামনে দেখা যায়নি আফরান নিশোকে। ফলে এই বিস্তর সময়টাতে অপেক্ষায় থাকা অনুরাগীদের মধ্যে তাকে নিয়ে চলেছে হাজারো জল্পনা-কল্পনা। কিন্তু এ সময়টাতে ছোট পর্দার সুপ্রতিষ্ঠিত এই অভিনেতা প্রস্তুতি নিয়েছেন বড় পর্দার জন্য। এখন তার সমস্ত ধ্যান-জ্ঞান চলচ্চিত্রে অভিনয়কে ঘিরে। তবে ভাল গল্প পেলে ওটিটিতেও তাকে দেখা যাবে। সব মিলিয়ে তিনি চেয়েছিলেন সিনেমার মাধ্যমেই দর্শকদের সামনে হাজির হতে। আর তাই এই দীর্ঘ বিরতি।
আরও পড়ুন: আসছে তাহসান-মিথিলার ওয়েব সিরিজ ‘বাজি’
নিশোর মতে ভালো কিছু কাজের জন্য উপযুক্ত সময়ের প্রয়োজন। তাই আড়ালে থাকা মানে কাজ থেকে দূরে থাকা নয়। বরং এতে কাজের প্রতি আরও বেশি নিবেদিত হওয়া যায়, যার নিরিখে বৃদ্ধি পায় কাজের গুণগত মান। ফলশ্রুতিতে, সৃষ্টি হয় নতুন কাজ দেখার আগ্রহ এবং সেই সঙ্গে নিশ্চয়তা থাকে ভক্তদের প্রত্যাশাকে পূরণ করার।
সমূহ সম্ভাবনার সূচনালগ্নে ‘অসিয়ত’
বাংলাদেশের নাটক ও চলচ্চিত্র অঙ্গনে বিগত ২০ বছর ধরে একটি স্বনামধন্য নাম হয়ে উঠেছে আলফা-আই স্টুডিওজ লিমিটেড। অন্যদিকে, ওপার বাংলার প্রযোজনা সংস্থা এসভিএফের রয়েছে দীর্ঘ ২৮ বছর চলচ্চিত্র নিয়ে কাজের অভিজ্ঞতা। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে এ দুইটি প্রতিষ্ঠান যখনই একসঙ্গে হয়েছে তখনই অবতারণা ঘটেছে দারুণ নির্মাণশৈলীর। মূলত এর অঙ্কুরেই প্রাণ প্রতিষ্ঠা পেয়েছে এসভিএফ আলফা-আই এন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের। এই যৌথ উদ্যোগ ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রির জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক, তারই প্রথম দৃষ্টান্ত হিসেবে নির্মাণ হতে চলেছে ‘অসিয়ত’।
শেষাংশ
রায়হান রাফীর পরিচালনায় নিশো-তমা জুটির সিনেমা ‘অসিয়ত’ নিশো ভক্তদের জন্য দারুণ একটি চমক হতে যাচ্ছে। চলচ্চিত্র প্রযোজনার দিক থেকে ভারত ও বাংলাদেশি স্টুডিওগুলোর যৌথ অবস্থান একদমই নতুন নয়। তবে সিনেমাকে কেন্দ্র করে সম্পূর্ণ নতুন একটি প্রতিষ্ঠান তৈরি চিত্রজগতে এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। তাছাড়া সিনেমা বানানো ও পরিবেশনে আলফা-আই এবং এসভিএফ প্রত্যেকেই সফল। সেই সুবাদে এই অংশীদারিত্ব বিশ্ব মানের চলচ্চিত্র নির্মাণের প্রতিশ্রুতি রাখছে। এই প্রতিশ্রুতি বাংলাদেশি ছবির জন্য বিশ্ব দরবারে মর্যাদাবান স্থানে অধিষ্ঠিত হওয়ার সম্ভাবনা বাড়াতে সহায়ক ভূমিকা রাখতে পারে।
আরও পড়ুন: দীর্ঘ বিরতির পর ‘নীল জোছনা’ নিয়ে বড় পর্দায় ফিরছেন শাওন
শাকিব খানের 'তুফান' চলচ্চিত্রের চমকপ্রদ কিছু তথ্য
৬৬৭ দিন আগে
ফারুকীর ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান’ আসছে বঙ্গ-তে
মোস্তফা সরয়ার ফারুকীর প্রথম ওয়েব সিরিজ ‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান’ এবার আসছে জনপ্রিয় ডিজিটাল প্ল্যাটফর্ম বঙ্গ-তে। সম্প্রতি বঙ্গ’র ফেসবুক পেজ থেকে একটি ফার্স্ট লুক পোস্টারের মাধ্যমে এই ঘোষণা দেওয়া হয়।
এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে, বাংলাদেশের এক সাধারণ মেয়ে দেশের কর্মজীবী নারীদের কণ্ঠস্বর হয়ে উঠার গল্প নিয়ে এই সিরিজটি ২০২১ সালে ভারতের একটি ওটিটি প্ল্যাটফর্মে মুক্তি পায়। এরপরে এই প্রথমবারের মতো বাংলাদেশে মুক্তি পাচ্ছে ওয়েব সিরিজটি।
‘লেডিস অ্যান্ড জেন্টেলম্যান’ প্রযোজনা করেছেন অভিনেত্রী নুসরাত ইমরোজ তিশা। এটি তার প্রথম প্রযোজিত কোনো ওয়েব সিরিজ, এর আগে তিনি প্রযোজনা করেছেন ফারুকীর প্রথম আন্তর্জাতিক সিনেমা ‘নো ল্যান্ডস ম্যান’।
সিরিজে মূল চরিত্রে অভিনয় করেছেন তাসনিয়া ফারিণ। এছাড়া অভিনয় করেছেন মামুনুর রশীদ, আফজাল হোসেন, জয়ন্ত চট্টোপাধ্যায়, হাসান মাসুদ, সাবেরী আলম, পার্থ বড়ুয়া, মুকিত জাকারিয়া, ইরেশ যাকের, মারিয়া নূর, মোস্তফা মনোয়ার, শরাফ আহমেদ জীবন ও চঞ্চল চৌধুরী প্রমুখ।
১১ই জুলাই থেকে সিরিজটি দেখা যাবে বঙ্গ অ্যাপ ও ওয়েবসাইটে।
আরও পড়ুন: ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভে মুক্তি পাচ্ছে ফারুকীর 'শনিবার বিকেল'
৬৬৮ দিন আগে
দীর্ঘ বিরতির পর ‘নীল জোছনা’ নিয়ে বড় পর্দায় ফিরছেন শাওন
২০০৮ সালে মুক্তি পেয়েছিল বাংলাদেশের কিংবদন্তি ঔপন্যাসিক ও চলচ্চিত্রকার হুমায়ুন আহমেদের ‘আমার আছে জল’ সিনেমা। সেখানে ‘নিশাদ’ চরিত্রে অভিনয় করেছিলেন অভিনেত্রী মেহের আফরোজ শাওন। তারপর থেকে গান ও নাটকের মাধ্যমে বেশ কিছুবার দর্শকদের সামনে এলেও বড় পর্দা থেকে তিনি নিজেকে গুটিয়ে রেখেছিলেন। অবশেষে ১৭ বছরের দীর্ঘ বিরতি ভেঙে ‘নীল জোছনা’ শিরোনামের চলচ্চিত্র দিয়ে পূর্ণদৈর্ঘ্য পর্দায় ফিরছেন শাওন।
কেমন হতে যাচ্ছে সিনেমার গল্প, আর এই নির্মাণে শাওনের সঙ্গী হচ্ছেন কারা- চলুন জেনে নেয়া যাক।
বিনোদন জগতে শাওনের পদচারণা
বিনোদন জগতে শাওনের শুরুটা ছিল ১৯৮৯ সালে ইবনে মিজান পরিচালিত চলচ্চিত্র ‘আলাল দুলাল’-এ শিশু শিল্পী হিসেবে অভিনয়ের মাধ্যমে। সেখানে তিনি অভিনয় করেছিলেন তৎকালীন খ্যাতিমান নায়িকা সুচরিতার ছোটবেলার চরিত্রে। তবে তিনি আলোচনায় আসেন শিশু শিল্পীদের জাতীয় সাংস্কৃতিক প্রতিভা অন্বেষণ প্রতিযোগিতা ‘নতুন কুঁড়ি’তে বিজয়ী হওয়ার পর। তার নামের সঙ্গে একাধারে জুড়ে ছিল নৃত্যশিল্পী, সঙ্গীতশিল্পী ও অভিনয়শিল্পী।
আরো পড়ুন: ইতালির ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কৃত হলো 'ময়না'
ছোটপর্দায় শাওনের অভিষেক হয় ১৯৯৬ সালের ধারাবাহিক নাটক ‘নক্ষত্রের রাত’-এর মাধ্যমে। ধারাবাহিকটি নির্মাণ করেছিলেন প্রথিতযশা নাট্যকার হুমায়ুন আহমেদ। ১৯৯৯ সালে তার কালজয়ী ধারাবাহিক ‘আজ রবিবার’-এ শাওনের ‘তিতলি’ চরিত্রটি আজও স্মরণীয় হয়ে আছে। এরপর থেকে হুমায়ুন আহমেদের নাট্যদলের নিয়মিত একজন হয়ে যান শাওন। সে বছরই রম্য নাটক ‘সমুদ্র বিলাস প্রাইভেট লিমিটেড’-এ মিতু চরিত্রে অভিনয় করেন তিনি।
শুধু নাটকেই নয়, প্রখ্যাত নির্মাতার চলচ্চিত্রগুলোতেও সমান বিচরণ ছিল এই মেধাবী তারকার। ২০০০ সালে ‘শ্রাবণ মেঘের দিন’ সিনেমায় প্রধান নায়িকা ‘কুসুম’-এর ভূমিকায় দেখা যায় শাওনকে। এরপর থেকে ‘দুই দুয়ারী’ (২০০১)-তে ‘তরু’, ‘চন্দ্রকথা’ (২০০৩)-য় ‘চন্দ্র’, এবং ‘শ্যামল ছায়া’ (২০০৪) সিনেমার ‘আশালতা’ চরিত্রগুলো দর্শক ও সমালোচক মহলে বেশ সমাদৃত হয়।
২০০৪ সালের দর্শকনন্দিত ধারাবাহিক নাটক ‘উড়ে যায় বকপক্ষী’তে তিনি ‘পুষ্প’ চরিত্রে অভিনয় করেন।
হুমায়ুন আহমেদের নির্দেশনায় শাওনের সর্বশেষ চলচ্চিত্র ছিল ২০০৮ সালের ‘আমার আছে জল’, আর সর্বশেষ নাটক ছিল ২০১১ সালের ‘স্বর্ণকলস’।
আরো পড়ুন: কিরণ রাওয়ের ‘লাপাতা লেডিস’ নিয়ে যে কারণে এত আলোচনা
২০১২ সালে হুমায়ুন আহমেদের মৃত্যুর পর থেকে তার বেশ কিছু রচনা পরিচালনা করেন শাওন।
এগুলোর মধ্যে রয়েছে- ২০১১ সালের নাটক ‘স্বপ্ন ও স্বপ্নভঙ্গ’, ২০১৪ সালের ‘বিভ্রম’, এবং ২০১৬ সালের চলচ্চিত্র ‘কৃষ্ণপক্ষ’। ‘কৃষ্ণপক্ষ’ সিনেমায় ‘যদি মন কাঁদে তুমি চলে এসো’ শিরোনামের গানে কণ্ঠ দেওয়ার সুবাদে তিনি শ্রেষ্ঠ কণ্ঠশিল্পী হিসেবে জাতীয় পুরস্কার অর্জন করেন।
‘নীল জোছনা’ সিনেমার কথকতা
সিনেমার গল্প
চলচ্চিত্রটির চিত্রনাট্য নির্মিত হয়েছে মোশতাক আহমেদের ‘নীল জোছনার জীবন’ উপন্যাস অবলম্বনে, যেটি মুলত একটি প্যারাসাইকোলজি বিষয়ক কাহিনী নিয়ে রচিত।
গল্পের কেন্দ্রীয় চরিত্র লায়লা, যে অতীত ও ভবিষ্যত দেখতে পারে। আর এই বিষয়টি আতঙ্কিত করে তুলেছে তার স্বামী আমিনকে। কেননা সে জানতে পেরেছে খুব শিগগিরই লায়লার ফাঁসি হতে যাচ্ছে, আর কথাটি বলেছে স্বয়ং লায়লা নিজে। আমিন কিছুতেই বুঝে উঠতে পারে না, কেন তার স্ত্রীর ফাঁসি হবে; সে তো কোনো অপরাধ করেনি!
আরো পড়ুন: ঈদুল আজহা ২০২৪ এর বাংলাদেশি সিনেমা
চরম উদ্বিগ্নতার মুহুর্তে তারা শরণাপন্ন হয় মনস্তাত্ত্বিক ড. তরফদারের। গভীর পর্যবেক্ষণে তিনি খেয়াল করেন যে, লায়লা প্রায়ই একটি গান গুনগুন করে। আর এই গানের উৎসটি ডাক্তারকে সন্ধান দেয় এক অদ্ভূত বিমূর্ত জীবনের, যার নাম নীল জোছনা।
লায়লার অতিপ্রাকৃত ক্ষমতার পেছনে এই নীল জোছনাই দায়ী। আবার এই নীল জোছনাই তাকে ফাঁসির দিকে ধাবিত করছে।
ডাক্তার টের পান, লায়লার জীবন প্রবাহ পৃথিবীর আর দশটা মানুষের মত স্বাভাবিক নয়। এরপরও তিনি আপ্রাণ চেষ্টা চালাতে থাকেন মেয়েটির ভয়াবহ পরিণতির গতিপথ পাল্টানোর জন্য।
আরো পড়ুন: ঈদুল আজহা ২০২৪ এর কিছু চমকপ্রদ বাংলা নাটক
চলচ্চিত্রের নির্মাণ ও কলাকুশলি
৬ বছর আগে ২০১৮ সালের শেষ দিকে সরকারি অনুদানে চলচ্চিত্রটির নির্মাণ কাজ শুরু হয় ফাখরুল আরেফিন খানের পরিচালনায়। মহামারী করোনাসহ নানা কারণে শুটিংয়ের কাজ বারবার পিছিয়ে যায়। অতঃপর চলতি বছরের মে মাস থেকে সফলভাবে সিনেমাটির শুটিং চলছে।
‘ভুবন মাঝি’, ‘গণ্ডি’ এবং ‘জেকে ১৯৭১’-এর পর ফাখরুল আরেফিন খানের চতুর্থ সিনেমা ‘নীল জোছনা’। এর আগে ’৭১-এর মুক্তিযুদ্ধের ওপর নির্মিত প্রামাণ্যচিত্র ‘আল বদর’ (২০১১)-এর জন্য তিনি জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কার লাভ করেন।
চলচ্চিত্রে শাওনকে দেখা যাবে শহুরে এক নারীর চরিত্রে। সিনেমার আলাদা চমক হিসেবে থাকছেন পশ্চিমবঙ্গের অভিনেত্রী পাওলি দাম। এছাড়া অন্যান্য অভিনয়শিল্পীরা হলেন- ইন্তেখাব দিনার, তারিক আনাম খান, এস এম নাঈম ও পার্থ বড়ুয়া।
আরো পড়ুন: আসছে তাহসান-মিথিলার ওয়েব সিরিজ ‘বাজি’
ছবির ক্যামেরাম্যানের দায়িত্ব পালন করছেন রানা দাশগুপ্ত। সাকি ব্যানার্জির সংগীত পরিচালনায় ছবিতে গান থাকবে মোট তিনটি। এগুলোর মধ্যে মৌলিক গান দুটি, যেগুলোর গীতিকার লয়দীপ ও মাহমুদ শাওন।
পরিশেষ
মনস্তাত্ত্বিক গল্পের চলচ্চিত্র দিয়ে শাওনের প্রত্যাবর্তন হুমায়ুন-ভক্তদের জন্য নতুন করে থ্রিলার নির্ভর কাজ দেখার ইন্ধন যোগাচ্ছে। ২১ শতকের প্রথম দশকে বিনোদন জগতের বিভিন্ন অঙ্গনে প্রতিষ্ঠা পাওয়ার মাধ্যমে ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রিতে নিজের একটি আলাদা জায়গা তৈরি করেছিলেন শাওন। তবে ‘নীল জোছনা’র মাধ্যমে সেই জনপ্রিয়তার পুনরুত্থান ঘটবে কি না, তা জানার জন্য অপেক্ষা করতে হবে চলচ্চিত্রটির মুক্তির দিন পর্যন্ত।
তবে ফাখরুল আরেফিন খানের বিগত ভিন্ন ধারার কাজের সুবাদে বাংলাদেশি সিনেমা জগতে নতুন কিছু সংযোজনের সম্ভাবনা তৈরি করছে চলচ্চিত্রটি।
মেহজাবীন অভিনীত ভিকি জাহেদের ‘তিথিডোর’ নিয়ে কেন এত আলোচনা
৬৭০ দিন আগে
মেহজাবীন অভিনীত ভিকি জাহেদের ‘তিথিডোর’ নিয়ে কেন এত আলোচনা
ঈদুল আজহা ২০২৪-এর চতুর্থ দিন ২০ জুন চ্যানেল আই প্রাইম ইউটিউব চ্যানেলে মুক্তি পায় ‘তিথিডোর’। টেলিফিল্মটি ছিল রোমান্টিক-কমেডি নির্ভর ঈদ আয়োজনের একটি ভিন্ন পরিবেশনা। ভিকি জাহেদের নির্দেশনায় নাম ভূমিকায় দেখা গেছে ছোট পর্দার জনপ্রিয় অভিনেত্রী মেহজাবীন চৌধুরীকে। তার সাবলীল অভিনয়ে টেলিফিল্মের সংবেদনশীল গল্প স্পর্শ করেছে দর্শকদের মন। মুক্তির পর থেকে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটছে গোটা সামাজিক মাধ্যম জুড়ে। চলুন, এই হৈচৈ-এর নেপথ্যের কারণটি জেনে নেওয়া যাক-
‘তিথিডোর’ নাট্য বৃত্তান্ত
চিরাচরিত নাট্যশৈলীর বাইরে গিয়ে ভিন্ন ধারার নাটক নির্মাণে বর্তমান সময়ে সবচেয়ে সুপরিচিত নাম ভিকি জাহেদ। তারই পরিচালনায় টেলিফিল্মটির শ্রেষ্ঠাংশে ছিলেন মেহজাবীন চৌধুরী, আবুল হায়াত, প্রান্তর দস্তিদার, আশা মজিদ রোজী, শামীমা নাজনীন এবং শিশু শিল্পী দিবা সাজ্জাদ।
গল্প ও চিত্রনাট্য লিখেছেন জাহান সুলতানা। এছাড়া টেলিফিল্মের অন্যান্য কারিগরি দায়িত্বে নিয়োজিত ছিল ভিকির পুরনো টিম। তাদের মধ্যে চিত্রগ্রহণে ছিলেন বিদ্রোহী দীপন এবং সম্পাদনা, ভিএফএক্স, রঙ ও আবহ সঙ্গীত বিন্যাসে কাজ করেছেন অর্ণব হাসনাত।
আরও পড়ুন: ইতালির ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কৃত হলো 'ময়না'
তিথিডোর: একজন নারীর জীবনের টানাপোড়েনের গল্প
সামাজিক নানা টানাপোড়েনের মাঝে নিশাত নামের ৩০ বছর বয়সী এক তরুণীর জীবনের মানে খুঁজে পাওয়ার গল্প তিথিডোর। শুরুটা হয় মুষলধারে পড়ন্ত বৃষ্টি দেখার সময় চায়ে সেই বৃষ্টির পানি মিশিয়ে তাতে চুমুক দেওয়া দিয়ে। এমন ভালো লাগা রোমান্টিক দৃশ্য ক্রমশ এগিয়ে ক্লাইমেক্সে উপনীত হয় চরম হতাশায়।
নিজের সর্বস্ব দিয়ে ভালোবাসার মানুষটিকে অন্য সম্পর্কে জড়াতে দেখে নিশাতের পুরো পৃথিবীটা ধ্বংস হতে শুরু করে। বয়স বেড়ে যাওয়ার কারণে বিয়ে সংক্রান্ত বিড়ম্বনায় পরিবারের কাছেও ঠাঁই মেলে না তার। অন্যদিকে বিয়ের মিথ্যে নাটক সাজিয়ে দীর্ঘ দিন ধরে সে একা একটা বাসা ভাড়া নিয়ে থাকছে। ধীরে ধীরে বেঁচে থাকার স্পৃহা হারিয়ে ফেলতে থাকে নিশাত।
ঠিক এমন সময়েই আকস্মিকভাবে আবির্ভাব ঘটে এক দেবশিশু- দিবার। নিশাত যে বিল্ডিংয়ে থাকে সে বিল্ডিংয়ে নতুন এসেছে। সব সময় হাসিখুশি থাকা মেয়েটি দেখা হলেই নিশাতের মন খারাপের কারণ জানতে চায়। সে জানায় তার মা বলেছে, মন খারাপ থাকলে জীবনের সব সুন্দর জিনিসগুলোর লিস্ট করতে।
আরও পড়ুন: 'প্রিয় মালতী' হতে যাচ্ছে মেহজাবীন চৌধুরীর প্রথম সিনেমা
নিশাত যখন চূড়ান্তভাবে নিজের জীবনকে শেষ করে দিতে উদ্যত হয়, তখনি সে জানতে পারে দিবা মরণব্যাধি লিউকেমিয়ায় আক্রান্ত। হাসপাতালে দিবাকে দেখতে গেলে শিশুটি তাকে বলে, এখন সে আর সেই লিস্ট করতে পারছে না। লিস্টে আরও সুন্দর জিনিস যোগ করতে তার নিশাতের সাহায্য দরকার। এই অনুরোধ রেখে এক সময় চলে মারা যায় শিশুটি। কিন্তু নিশাতকে দিয়ে যায় বেঁচে থাকার অমূল্য নির্যাস।
এই নির্যাসে এক চিমটি টনিক যোগ করে দেয় শামসুর রহমান নামের ৮০ বছরের বৃদ্ধ। তার ভাষায়- ‘প্রতিটা বয়সেরই একটা আলাদা সৌন্দর্য আছে।’
তার সঙ্গে কথোপকথনে নিশাত বুঝতে পারে জীবন শুধুমাত্র কিছু নির্দিষ্ট পাওয়ার মাঝে সীমাবদ্ধ নয়। জীবনটা অনেক বৈচিত্র্যময় এবং অনেক সুন্দর সুন্দর জিনিসে ভরপুর। আর এই প্রত্যেকটি সৌন্দর্যের মূল্য রয়েছে। এই উপলব্ধির পর সব দুঃখ ভুলে নিশাত আনন্দের খোঁজার মাঝে দিন যাপনের সিদ্ধান্ত নেয়।
আরও পড়ুন: আসছে তাহসান-মিথিলার ওয়েব সিরিজ ‘বাজি’
দর্শকদের প্রতিক্রিয়ার চিত্রপট
টেলিফিল্মটির পেছনে ভিকি জাহেদের নির্মাণশৈলী এবং মেহজাবীনের অভিনয়ের ভূয়সী প্রশংসায় মুখর দেশের নেটিজেন পাড়া। সাম্প্রতিক সময়ের অভিনেত্রীর অধিকাংশ কাজগুলোর মতো এটিও ছিল গতানুগতিক ধারা বহির্ভূত।
চরিত্রের প্রয়োজনে বিষাদের প্রতিটি দৃষ্টিকোণ ফুটে উঠেছে মেহজাবীনের অভিনয়ে। নারীপ্রধান টেলিফিল্মটির পুরোটাতেই মিশে ছিল নারীত্বের বিষণ্নতার আবহ। বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গনে এরকম কাজের নজির খুব একটা দেখা যায় না। এমনি অনবদ্য পরিবেশনাকে সাদরে গ্রহণ করেছেন নাট্যপ্রেমীরা। বিশেষ করে নারী দর্শকরা নিশাতের মাঝে অবিকল খুঁজে পেয়েছেন নিজেদের।
অধিকাংশ ক্ষেত্রেই দুঃখ-ভারাক্রান্ত বিষয়গুলো অগোচরেই থেকে যায়। মুখে হাসি রেখেও অনেক নারীই দিনের পর দিন বিষণ্নতাকে নীরবে বয়ে বেড়ান। এই টেলিফিল্মটি সেই সব নিঃশব্দ কান্নাকে যেন এক নিমেষে উগড়ে দেয়ার ইন্ধন জুগিয়েছে। সামাজিক মাধ্যম জুড়ে তারই বহিঃপ্রকাশ ঘটেছে নারী দর্শকদের মন্তব্যে।
আরও পড়ুন: ঈদুল আজহা ২০২৪ এ মুক্তির অপেক্ষায় কিছু চমকপ্রদ বাংলা নাটক
শারীরিক যন্ত্রণা নিয়ে অনেক আলাপ-আলোচনা হলেও মানসিক স্বাস্থ্যের জটিলতাগুলো বরাবরই এড়িয়ে যাওয়া হয়। কিন্তু মনোকষ্ট যত ঘনীভূত হয়, ততই তা শরীরের ওপর প্রভাব ফেলতে শুরু করে। তাছাড়া আত্মহত্যার প্রবণতাও বর্তমান সমাজের একটি ভয়াবহ সমস্যা। এর নিরসনকল্পে অবিলম্বে হতাশার রসদগুলো আলোচনার মঞ্চে নিয়ে আসা জরুরি। ‘তিথিডোর’ যেন তারই এক মাইলফলক নাটকীয় মোড়কে।
সেই ধারাবাহিকতায় মেহজাবীন নিজেও একজন নারী অভিনেত্রী হিসেবে দায়বদ্ধতার জায়গা থেকেই এই কাজটি করেছেন। এ ধরনের গল্প যত মানব সম্মুখে আসবে তত এ নিয়ে কথা হবে। আর গঠনমূলক আলোচনার মাধ্যমে এই সমস্যাগুলো সমাধানের মুখ দেখবে।
আর তাই জীবনযুদ্ধে জর্জরিত অনেক নারী দর্শক নিজেদের অনুপ্রেরণার কথা অকপটে স্বীকার করেছেন। বিশেষত সম্পর্কের জটিলতায় জর্জরিত মধ্যবয়স্ক নারীরা ব্যক্ত করেছেন সামাজিক মর্যাদা হারানোর কথা। একদিকে শরীরে বয়সের ছাপের সঙ্গে বাড়তে থাকা মানুষের কটু কথা, অন্যদিকে মধ্যবিত্ত পরিবারের মেয়েদের স্বনির্ভরশীলতা নিয়ে বিতর্ক।
আরও পড়ুন: কিরণ রাওয়ের ‘লাপাতা লেডিস’ নিয়ে যে কারণে এত আলোচনা
এই সূত্রে দর্শকদের মন্তব্যে আরও উঠে এসেছে মেয়ে সন্তানের প্রতি মা-বাবাদের বৈষম্যের কথা। তথাকথিত সামাজিক নিয়মের তাড়নায় এই একুশ শতকেও একটি মানব সত্ত্বা হিসেবে নারীদের রীতিমত যুদ্ধ করতে হয়। এমনকি ভালোবাসার মানুষটির কাছ থেকেও মেলে না কাঙ্ক্ষিত আচরণ।
প্রতিটি জীবনমুখী উপাদানের পরিবেশনার পর সুন্দর সমাপ্তিটা শুধু ভালো লাগাই দেয়নি, উৎসাহ জুগিয়েছে সঠিক সিদ্ধান্ত গ্রহণের। মূলত এই বার্তাই পূর্ণতা দেয় একটি নাটকের। টেলিফিল্মটিকে বিশাল সেই অর্জনে ভূষিত করে একজন দর্শক ঐতিহাসিক শ্লোকের বেষ্টনীতে তার মন্তব্য আওড়েছেন এভাবে, ‘দুনিয়ায় মর্যাদা নিয়ে বেঁচে থাকাটাই আসল।’
শেষাংশ
সব মিলিয়ে ‘তিথিডোর’ ভিকি জাহেদের আরও একটি অনবদ্য নির্মাণ, যা আরও গভীরতা দিয়েছে মেহজাবীন চৌধুরীর বৈচিত্র্যপূর্ণ অভিনয় নৈপুণ্যে। আর এই নির্মাতা-অভিনেত্রীর জুটির ভূমিকায় প্রাণ পেয়েছে হাজারও নারীর হৃদয় নিঙড়ানো আর্তনাদের গল্প। নানা দৃষ্টিকোণ থেকে একজন আশাহত নারীর নিঃশব্দ দিনাতিপাতের কেবল অকাট্য পরিবেশনাই নয়, টেলিফিল্মটির সফলতা ছিল একটি ইতিবাচক সমাধানে পৌঁছানো। আর তাই দর্শকরা নিজের জীবনের সঙ্গে শুধু মিলই খুঁজে পাননি, সেই সাথে দীর্ঘদিন ধরে বিভ্রান্ত হয়ে ঘুরে ফিরে খুঁজে পেয়েছেন সঠিক পথটি।
আরও পড়ুন: ঈদুল আজহা ২০২৪ এ বাংলাদেশি যেসব সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায়
৬৭৩ দিন আগে
ইতালির ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে পুরস্কৃত হলো 'ময়না'
ইতালির গালফ অব নেপলস ইন্ডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে স্পেশাল মেনশন ফিচার ফিল্ম অ্যাওয়ার্ড জিতেছে মঞ্জুরুল ইসলাম মেঘ পরিচালিত চলচ্চিত্র 'ময়না'।
গত ১১ থেকে ১৪ জুন নেপলসে উৎসবটির দশম আসর অনুষ্ঠিত হয়।
বাংলাদেশের চলচ্চিত্র আন্তর্জাতিকভাবে নিজের জায়গা করে নেওয়ায় সন্তোষ প্রকাশ করেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক।
আরও পড়ুন: মিনি ফিল্ম ফেস্টিভেলের মাধ্যমে মানবাধিকার সপ্তাহ পালন ডাচ দূতাবাসের
এই স্বীকৃতির সঙ্গে যে নিজের পরবর্তী প্রকল্পগুলোর মাধ্যমে সবার প্রত্যাশা ছাড়িয়ে যাওয়ার দায়িত্ব বেড়ে গিয়েছে তা স্বীকার করেন তিনি।
তিনি বলেন, 'ময়না' চলচ্চিত্রটি বড় পরিসরে দর্শকদের মন জয় করার জন্য তৈরি করা হয়েছে। আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবের বাইরেও এর আবেদন আমাদের দেশের দর্শকদের কাছে প্রশংসিত হবে বলে আমি দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
ছবিটির প্রযোজক আলিম উল্লাহ খোকন জানান, 'ময়না' বাংলাদেশ চলচ্চিত্র সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পেয়েছে এবং আগামী সেপ্টেম্বরে স্থানীয় প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার কথা রয়েছে।
সেপ্টেম্বরে স্থানীয়ভাবে মুক্তির আগে চলচ্চিত্রটি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে প্রদর্শিত হবে বলে জানান তিনি।
'ময়না' এর আগে লন্ডনে অনুষ্ঠিত ২৫তম ইএমএমএ'স বিবিসি ফেস্টিভ্যাল অব মাল্টিকালচারাল ২০২৩-এ সেরা চলচ্চিত্র প্রযোজনার পুরস্কার পেয়েছিল এবং আসন্ন আগস্টে কোরিয়ায় অনুষ্ঠিতব্য ২১তম আপোরিয়া ইন্টারন্যাশনাল ভিলেজ ফিল্ম ফেস্টিভ্যালে প্রদর্শিত হওয়ার কথা রয়েছে।
আলীম উল্লাহ খোকনের গল্প অবলম্বনে ছবিটির চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন চলচ্চিত্রটির পরিচালক মেঘ।
চলচ্চিত্রটিতে অভিনয় করেছেন রাজ রিপা, কায়েস আরজু, আমান রেজা, আফফান মিতুল, জিলানী, মোমেনা চৌধুরী, নাদের চৌধুরী, সুব্রত, সূচনা, খলিলুর রহমান কাদরী, শিশির ও শিশুশিল্পী জান্নাতুল ভোর।
আরও পড়ুন: ইতালির গালফ অব নেপলস ইনডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভালের দশম অধিবেশনে মনোনীত ‘ময়না’
বাংলাদেশ ফিল্ম আর্কাইভ-যুক্তরাষ্ট্রের গেটি ইমেজের মধ্যে সমঝোতা স্মারক সই
৬৮৩ দিন আগে
আসছে তাহসান-মিথিলার ওয়েব সিরিজ ‘বাজি’
স্বতঃস্ফূর্ত অভিনয়শৈলীর দৌলতে বর্তমান এপার ও ওপার বাংলার শোবিজ অঙ্গনে একটি সুপরিচিত মুখ রাফিয়াথ রশিদ মিথিলা। বিনোদন জগতের বিভিন্ন বিভাগে নিজের সমৃদ্ধ ছাপ রেখে বর্তমানে তিনি একজন সুপ্রতিষ্ঠিত অভিনেত্রী। অপরদিকে বাংলাদেশের সঙ্গীতাঙ্গনে জনপ্রিয় একটি নাম তাহসান রহমান খান। স্বতন্ত্র অভিনয় ধারায় নিজের একটি স্বাধীন ক্ষেত্র তৈরি করেছেন রোমান্টিক ঘরানার নাট্যজগতে। নিজেদের এই প্রতিভাগুলোর দারুণ মেলবন্ধনে ছোট পর্দার ভেতরে ও বাইরে সমান জনপ্রিয় জুটিতে পরিণত হয়েছিলেন তাহসান-মিথিলা। তবে বিবাহ বিচ্ছেদের পর থেকে তাদেরকে আর একসঙ্গে দেখা যায়নি। অবশেষে ‘বাজি’ ওয়েব সিরিজের মাধ্যমে দীর্ঘ বিরতির পর আবার একত্রিত হয়েছেন এই প্রাক্তন তারকা দম্পতি। চলুন, সদ্য নির্মিত এই ওয়েব সিরিজটির ব্যাপারে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
‘বাজি’ নির্মাণের অভিনয়শিল্পী ও কলাকুশলী
তাহসান-মিথিলা জুটির ছাড়াও ধারাবাহিকটিতে অভিনয় করেছেন মনোজ প্রামাণিক, নাজিয়া হক অর্ষা, তাসনুভা তিশা, মিম মানতাশা, পার্থ শেখ, শাহাদাত হোসেন এবং আবরার আতহারসহ আরও অনেকে।
ওয়েব কন্টেন্টটি পরিচালনার মধ্য দিয়ে ওটিটি (ওভার-দ্য-টপ) প্ল্যাটফর্ম চরকির সঙ্গে প্রথমবারের মতো কাজ করলেন নব নির্মাতা আরিফুর রহমান। এর আগে তিনি নির্দেশনা দিয়েছিলেন ‘স্কুটি’ নামের একটি ওয়েব সিরিজে। তাছাড়া তার হাতে চরকির আরও একটি কাজ রয়েছে ‘জুঁই’ নামে, যেটি মুলত ‘চরকি মিনিস্ট্রি অফ লাভ’ এর একটি ওয়েব ফিল্ম।
‘বাজি’র কাহিনী ও চিত্রনাট্য লিখেছেন ভারতের আদিত্য সেন গুপ্ত এবং বাংলাদেশের হাসানাত।
আরও পড়ুন: ঈদুল আজহা ২০২৪ এ মুক্তির অপেক্ষায় কিছু চমকপ্রদ বাংলা নাটক
‘বাজি’ ওয়েব সিরিজের গল্প
৭ পর্বের এই সিরিজের গল্পের পটভূমিতে রয়েছে ক্রিকেট ম্যাচের উপর বাজি ধরা। এই বাজি সংক্রান্ত নানা সমস্যা বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করে খেলার সঙ্গে জড়িত থাকা মানুষগুলোর জীবনকে। এই আবহ নিয়ে সাসপেন্স ও থ্রিলারের সন্নিবেশে দারুণ এক নাটকীয় পরিবেশন হতে যাচ্ছে ‘বাজি’। এর মাধ্যমে দর্শকদের সামনে উঠে আসবে ক্রিকেটের নানা অজানা গল্প। সেই সঙ্গে এটিই হতে যাচ্ছে ক্রিকেট নিয়ে বাংলাদেশের প্রথম ওয়েব সিরিজ।
‘বাজি’তে মিথিলা ও তাহসানের ভূমিকা
ওটিটি মাধ্যমে মিথিলা ইতোমধ্যে বেশ সুনাম কুড়িয়েছেন। ‘একাত্তর’, ‘মন্টু পাইলট ২’, এমনকি চরকির ‘মাইশেলফ অ্যালেন স্বপন’-এ বিচিত্র রূপে হাজির হয়েছেন এই মেধাবী অভিনেত্রী। এবার ‘বাজি’তে তিনি আবির্ভূত হবেন একজন ক্রীড়া সাংবাদিক হিসেবে।
অন্যদিকে টিভি নাটকে আনাগোনাটা বেশি থাকলেও প্রথমবারের মতো ওটিটিতে অভিষেক ঘটছে তাহসানের। এর মাধ্যমে আড়াই বছরের বিরতির পর তাহসান অভিনয়ে ফিরছেন। এখানে তাকে দেখা যাবে একজন ক্রিকেটারের ভূমিকায়।
আরও পড়ুন: ঈদুল আজহা ২০২৪ এ বাংলাদেশি যেসব সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায়
চরিত্রটি ফুটিয়ে তুলতে বেশ পরিশ্রম করতে হয়েছে এই সঙ্গীতশিল্পীকে। ফ্লাড লাইটের আলোয় আলোকিত মাঠে কোন রূপ স্টান্ট ডাবল না নিয়ে নিজেই খেলেছেন ক্রিকেট। একটা ছক্কা হাকাতেই খেলেছেন ২০টা বল।
মিথিলা-তাহসানের জুটি নিয়ে বেশ হাইপ থাকলেও ৭ পর্বের এই সিরিজে শুধুমাত্র একটি দৃশ্যে তাদেরকে একসঙ্গে দেখা যাবে।
৬৮৯ দিন আগে
ঈদুল আজহা ২০২৪ এ মুক্তির অপেক্ষায় কিছু চমকপ্রদ বাংলা নাটক
বিশেষ দিবসগুলোর মতো ঈদের মৌসুমে বাংলাদেশের নাট্যাঙ্গন তার সেরা আকর্ষণগুলো মেলে ধরে। স্বভাবতই এই আয়োজনে অভিজ্ঞতা পাওয়া যায় শ্রেষ্ঠ নাট্য নির্মাণ ও অভিনয়শৈলীর। এদিকে টিভি চ্যানেলগুলোর পাশাপাশি প্রডাকশন হাউসগুলোর ইউটিউব চ্যানেলগুলোও মেতে উঠে নির্মল বিনোদনের উৎসবে। আর তারই আগমনী বার্তায় নাট্যপ্রেমীদের উন্মাদনা বাড়তে থাকে প্রিয় তারকাদের দেখার জন্য। এছাড়া প্রতিবারের মতো এবারও ঈদুল আজহা ২০২৪ এ থাকছে দারুণ কিছু নাটক। চলুন, সেগুলোর মধ্য থেকে সবচেয়ে বেশি আলোচিত নাটকগুলো এক নজরে দেখে নেওয়া যাক।
এবারের কুরবানী ঈদে যে নাটকগুলো দর্শকপ্রিয়তা পাওয়ার অপেক্ষায়
মাস্তান
ছোট পর্দার জনপ্রিয় তারকা মুশফিক আর ফারহান ও তানিয়া বৃষ্টিকে নিয়ে রুবেল আনুশ নির্মাণ করেছেন ‘মাস্তান’।
নাটকের কাহিনি, চিত্রনাট্য ও সংলাপে রয়েছেন আব্রাহাম তামিম।
এখানে ‘মাস্তান’ মূলত একটি গরুর নাম। মূল গল্প হলো- এই গৃহপালিত প্রাণীকে নিয়ে হলেও এখানে আছে প্রেম ও বিরহ।
মুশফিক-বৃষ্টি জুটির ছাড়াও নাটকের শ্রেষ্ঠাংশে রয়েছেন মনিরা মিঠু ও সমু চৌধুরী। প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান সিএমভির ব্যানারে নাটকটি প্রযোজনা করেছেন এসকে সাহেদ আলী পাপ্পু।
আরও পড়ুন: ঈদুল আজহা ২০২৪ এ বাংলাদেশি যেসব সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায়
মাকড়সা
এই নাটকের মধ্য দিয়ে প্রথমবারের মতো ছোট পর্দায় জুটি হলেন সাবিলা নূর ও শ্যামল মাওলা। পরস্পরের প্রতি খুবই যত্নশীল এক দম্পতির গল্প দিয়েই ঘটে কাহিনির সূত্রপাত। কিন্তু অদ্ভূতভাবে একটি সুখবরের উপর ভিত্তি করে তাদের জীবন এক ভয়াবহ মোড় নেয়।
রেবেকা সুলতানা কেয়ার গল্প ও চিত্রনাট্যে নাটকটি পরিচালনা করেছেন উদীয়মান নাট্য নির্মাতা রাগিব রায়হান পিয়াল।
রাত বাকি
সাবিলা নূরের আরও একটি নাটক এবার ভক্তদের হৈচৈয়ের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে। সেটা হচ্ছে মুরসালিন শুভর ‘রাত বাকি’।
এখানে সাবিলার বিপরীতে দেখা যাবে এইচবিও অরিজিনাল সিরিজ ‘ইনভিজিবল স্টোরিস’- খ্যাত অভিনেতা সুদীপ বিশ্বাস দ্বীপকে।
আরও পড়ুন: কারিনা-টাবু ও কৃতির ক্রু: তিন প্রজন্মের তিন নায়িকার রম্য সিনেমা
ভেতরে বাহিরে
স্বনামধন্য নাট্য নির্দেশক মিজানুর রহমান আরিয়ানের ত্রিভুজ প্রেমের গল্প ‘ভেতরে বাহিরে’। প্রধান চরিত্রে দেখা যাবে জোভান আহমেদ, তানজিম সাইয়ারা তটিনী ও জুনায়েদ বোগদাদী।
নতুন হলেও খুব কম সময়ের মধ্যে জনপ্রিয়তা পেয়েছেন তটিনী ও জুনায়েদ। তাই প্রতিষ্ঠিত অভিনেতা জোভানের সঙ্গে এই দুই উদীয়মান তারকার মিথস্ক্রিয়া দেখতে মুখিয়ে আছেন নাট্যপ্রেমীরা।
নূর
মুশফিক আর ফারহান অভিনীত এই নাটকের বিশেষত্ব হচ্ছে ম্যাক্স নামের একটি পোষা কুকুর। এই ম্যাক্সকে নিয়েই নাটকটির গল্প। পোষ্য প্রাণীর প্রতি ভালোবাসার পাশাপাশি এখানে দেখা যাবে আন্ডারওয়ার্ল্ডের কিছু নির্মম বাস্তবতা। অবয়ব সিদ্দিকীর চিত্রনাট্যে নাটকটি পরিচালনা করেছেন তৌফিকুল ইসলাম।
মুশফিকের প্রধান সহশিল্পী হিসেবে থাকছেন অর্চিতা স্পর্শিয়া। সিএমভির ব্যানারে নির্মিত নাটকটি প্রচার হবে প্রতিষ্ঠানটির ইউটিউব চ্যানেলে।
আরও পড়ুন: অর্থ আত্মসাতের অভিযোগ: অপূর্বর পাশে সহকর্মীরা
৬৯৬ দিন আগে
ঈদুল আজহা ২০২৪ এ বাংলাদেশি যেসব সিনেমা মুক্তির অপেক্ষায়
গত ঈদের রেকর্ড বজায় রেখে আসন্ন ঈদুল আজহাতেও মুক্তির মিছিলে শামিল হয়েছে বেশ কিছু বাংলাদেশি চলচ্চিত্র। বিগ বাজেটের ব্যবসানির্ভর সিনেমা থেকে শুরু করে নতুন কাজও রয়েছে এই তালিকায়। ঈদের উৎসব মুখরতা নতুন ছবি দেখার আনন্দকে বাড়িয়ে দেয় দ্বিগুণ। আর এই উদ্দেশ্যেই ঈদকে কেন্দ্র করে পুঞ্জীভূত হতে থাকে বড় পর্দার আয়োজন। চলুন, এবারের ঈদুল আজহায় মুক্তির অপেক্ষায় থাকা ঢালিউড সিনেমাগুলো সম্পর্কে জেনে নেওয়া যাক।
২০২৪ ঈদুল আজহায় মুক্তি পাচ্ছে যেসব বাংলাদেশি চলচ্চিত্র
তুফান
ঢালিউড সুপারস্টার শাকিব খান অভিনীত এই অ্যাকশন চলচ্চিত্রটির পরিচালনায় রয়েছেন ‘পোড়ামন ২’ ও ‘দহন’ খ্যাত নির্মাতা রায়হান রাফী। প্রযোজনায় রয়েছে ভারতের এসভিএফ এবং বাংলাদেশের চরকি এবং আলফা আই। শাকিব ছাড়াও ‘তুফানে’ দেখা যাবে দুই বাংলার সাড়া জাগানো সব অভিনয়শিল্পীদের। তারা হলেন চঞ্চল চৌধুরী, ফজলুর রহমান বাবু, মিমি চক্রবর্তী, যীশু সেনগুপ্ত, মাসুমা রহমান নাবিলা এবং মিশা সওদাগর।
গত ২৮ মে শাকিব খানের সিনেমা ক্যারিয়ারের ২৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে মুক্তি দেওয়া হয় ছবিটির প্রথম গান ‘লাগে উরা ধুরা’। প্রীতম হাসানের সুর, সংগীতায়োজন ও গায়কীতে গানটি সামাজিক মাধ্যম জুড়ে বেশ সাড়া ফেলে।
আরও পড়ুন: শাকিব খানের 'তুফান' চলচ্চিত্রের চমকপ্রদ কিছু তথ্য
ময়ূরাক্ষী
২০১৯ সালে ‘নোলক’ এর পর থেকে প্রায় ৪ বছরের বিরতির পর ‘ময়ূরাক্ষীর’ মাধ্যমে আবারও প্রেক্ষাগৃহে ফিরছেন চিত্রনায়িকা ববি। প্রেম ও প্রতারণা কেন্দ্রিক গল্পের আবর্তে ছবিটি নির্মিত হয়েছে গোলাম রাব্বানীর গল্প, চিত্রনাট্য ও সংলাপে। রাশিদ পলাশ পরিচালিত ছবিটির প্রধান চরিত্রে ববির সঙ্গে জুটি হিসেবে আছেন সুদীপ বিশ্বাস দ্বীপ। এছাড়া অন্যান্যদের মধ্যে রয়েছেন সাদিয়া মাহি, সমু চৌধুরী, সুমিত সেনগুপ্ত, দীপক সুমন এবং ফারজানা ছবি।
ছবির সংগীত পরিচালনা ও গায়কীতে ছিলেন জাহিদ নিরব। তার সহ-কণ্ঠশিল্পী হিসেবে আরও ছিলেন পুর্ণতা, মুহিন খান ও তরসা। আজ ইন্টারন্যাশনালের অধীনে চলচ্চিত্রটির প্রযোজনায় ছিলেন চৌধুরী নিজাম নিশো।
আরও পড়ুন: ইতালির গালফ অব নেপলস ইনডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভালের দশম অধিবেশনে মনোনীত ‘ময়না’
রঙবাজার
এবারের ঈদে পরিচালক রাশিদ পলাশের আরও একটি ছবি মুক্তির মিছিলে রয়েছে, যার নাম রঙবাজার। তামজিদ অতুলের গল্পে সিনেমাটির চিত্রনাট্য ও সংলাপ গড়েছেন গোলাম রাব্বানী।
৯০ দশকের শেষের দিকে যৌনকর্মীদের আবাসস্থল উচ্ছেদ নিয়ে একটি ঘটনা দেশজুড়ে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দুতে পরিণত হয়। এর উপর ভিত্তি করেই রচিত হয়েছে লাইভ টেকনোলজি প্রযোজিত সিনেমাটির গল্প।
‘রঙবাজার’ এর অভিনয়শিল্পীরা হলেন, মৌসুমী হামিদ, শম্পা রেজা, নাজনীন চুমকি, তানজিকা আমিন, শাজাহান সম্রাট, লুৎফুর রহমান জর্জ, জান্নাতুল ফেরদৌস পিয়া, বড়দা মিঠু, মাসুম রেজয়ান, কনিকা এবং কানিজ।
আরও পড়ুন: কিরণ রাওয়ের ‘লাপাতা লেডিস’ নিয়ে যে কারণে এত আলোচনা
নীলচক্র
গত রোজার ঈদে গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘কাজলরেখা’ এর মাধ্যমে চলচ্চিত্রে অভিষেক ঘটে মন্দিরা চক্রবর্তীর। সিনেমাটির নাম ভূমিকায় তার অভিনয় ব্যাপক নজর কাড়ে দর্শক ও সমালোচকদের। ‘কাজলরেখার’ রেশ কাটতে না কাটতেই মন্দিরা কুরবানীর ঈদে হাজির হচ্ছেন ‘নীলচক্রে’। এবার তিনি জুটিবদ্ধ হবেন জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত নায়ক আরিফিন শুভর সঙ্গে। সম্প্রতি প্রকাশিত সিনেমার ফার্স্ট লুক ইতোমধ্যে দর্শকদের নিকট বেশ প্রশংসিত হয়েছে।
ফিল্ম ফায়োস প্রোডাকশনের প্রযোজনায় সিনেমাটির পরিচালনায় রয়েছেন মিঠু খান। তিনি নাজিম উদ দৌলার সঙ্গে যৌথভাবে ছবিটির কাহিনী বিন্যাস ও চিত্রনাট্যও লিখেছেন।
শুভ-মন্দিরা জুটি ছাড়া এখানে আরও দেখা যাবে ফজলুর রহমান বাবু, শাহেদ আলী, দীপান্বিতা মার্টিন, মনির আহমেদ শাকিল এবং টাইগার রবিকে।
আরও পড়ুন: 'প্রিয় মালতী' হতে যাচ্ছে মেহজাবীন চৌধুরীর প্রথম সিনেমা
৭০০ দিন আগে
ইতালির গালফ অব নেপলস ইনডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভালের দশম অধিবেশনে মনোনীত ‘ময়না’
ইতালির গালফ অব নেপলস ইনডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভালের দশম অধিবেশনে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতা বিভাগে মনোনীত হয়েছে বাংলাদেশের মনজুরুল ইসলাম মেঘ পরিচালিত ‘ময়না’ (I want to be Mother)।
জাজ মাল্টিমিডিয়ার ব্যানারে আলিম উল্যাহ খোকনের কাহিনি ও প্রয়োজনায় ময়না সিনেমার চিত্রনাট্য, সংলাপ রচনা ও পরিচালনা করেছেন মনজুরুল ইসলাম মেঘ।
আরও পড়ুন: বেটিয়া ফিল্ম ফেস্টিভালের জুরি হলেন মনজুরুল ইসলাম
ইউরোপের অন্যতম মর্যাদাপূর্ণ এই আসন্ন উৎসবের অফিসিয়াল ওয়েবসাইটে প্রকাশিত পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতার তালিকায় স্থান করে নিয়েছে- মরক্কোর জিহানে এল বাহার পরিচালিত ‘ট্রিপল এ’, বাংলাদেশের মনজুরুল ইসলাম মেঘ পরিচালিত ‘আই ওয়ান্ট টু বি মাদার (ময়না)’, ইতালির স্টেফানো উসারডি পরিচালিত ‘উইদ্যাউট এজ’, আন্দ্রেয়া বিফুলকো পরিচালিত ‘করসা আবুসিভা’, ব্র্যান্ডো ইমপ্রোটা পরিচালিত ‘লা পারফেজিওন’, যুক্তরাষ্ট্রের চাইসেন বিচাম পরিচালিত ‘হোয়াট উই ফাইন্ড অন দ্য রোড’, জুলিয়া হ্যালপেরিন, জেসন কর্টলুন্ড পরিচালিত ‘ক্রুকডফিঙ্গার’, কানাডার টেলর ওলসন পরিচালিত ‘লুক এট মি’, মেক্সিকোর মাউরো মাউদ পরিচালিত ‘উনা ললাবে হাচিয়ে ইল পাসাদু’ এবং স্পেনের কার্লোস অ্যাসিতুনো পরিচালিত ‘সেপ্টেম্বর’।
‘ময়না' সিনেমায় অভিনয় করেছেন রাজ রিপা, কায়েস আরজু, আমান রেজা, আফ্ফান মিতুল, জিলানী, সুব্রত, মোমেনা চৌধুরী, নাদের চৌধুরী, খলিলুর রহামান কাদরী, সূচনা সিকদার, আনোয়ার, সীমান্ত, স্মৃতি রানী দেবী, তাহমিনা মোনা, মন্টু, সোহেল, সাব্বির, শিশু শিল্পী জান্নাতুল ভোর, বিশেষ চরিত্রে আপন ও শিশির সরদার।
বাংলাদেশের গ্রামীণ প্রান্তিক পর্যায়ের মধ্যবিত্ত পরিবারের উচ্চভিলাসী একটি মেয়ের বেড়ে উঠা এবং সাংসারিক জীবনের কঠিন বাস্তবতায়, শহরের সংগ্রামী দিনগুলো ফুটে উঠেছে ময়না চলচ্চিত্রে।
পরিচালক মনজুরুল ইসলাম মেঘ বলেন, ‘ইউরোপের একটি উৎসবে বাংলাদেশের সিনেমা মনোনীত হওয়া মানেই আমাদের কাছে পুরস্কার পাওয়ার আনন্দের থেকে বেশি।
গালফ অব নেপলস ইনডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল ইতালির অত্যন্ত মর্যাদাপূর্ণ চলচ্চিত্র উৎসব। এই উৎসবের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র প্রতিযোগিতায় স্থান পেয়েছে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা, স্পেন, ইতালি, মেক্সিকো, মরক্কো ও বাংলাদেশের সিনেমা। এশিয়ার একমাত্র চলচ্চিত্র হিসেবে লড়বে ময়না, এটি বাংলা চলচ্চিত্রের জয়।
আরও পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার কিরাম আর্টস ফেস্টিভালে বাংলাদেশের পূজা
পরিচালক আরও বলেন, “আমাদের ‘ময়না’ সিনেমা দক্ষিণ কোরিয়ার ২১তম ‘আপোরিয়া আন্তর্জাতিক ভিলেজ চলচ্চিত্র উৎসব ২০২৪ এ মনোনীত হয়েছে। এর আগে লন্ডনের ২৫তম ইএমএমএএস বিবিসি ফেস্টিভ্যাল অব মাল্টিকালচারাল ২০২৩ এ ‘ময়না’ সেরা ফিল্ম প্রডাকশন পুরস্কার পেয়েছে। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের মর্যাদাবান উৎসবগুলোতেই ময়না স্থান করে নিচ্ছে।’
তিনি আরও বলেন, ‘সামনে আরও ভালো কাজ করার অনুপ্রেরণা পাচ্ছি, এই অর্জন আমার টিমকে দিতে চাই।’
মেঘ জানান, দক্ষিণ কোরিয়ায় ময়না সিনেমার প্রিমিয়ারের পাশাপাশি ১৫ দিনের একটি আন্তর্জাতিক ফিল্ম ওয়ার্কশপে অংশ নেবে ময়না। বিভিন্ন দেশের প্রথিতযশা ১৬ জন পরিচালকের সঙ্গে যৌথ কর্মশালা পরিচালনা করবেন এবং চলচ্চিত্রের ওপর আলোচনা করবেন তিনি।
দক্ষিণ কোরিয়ায় অনুষ্ঠিত অপোরিয়াকে সিনেমার অলিম্পিক বলা হয়। বিগত ২০ বছর ধরে আয়োজন হলেও এই প্রথম বাংলাদেশি চলচ্চিত্র ময়না মনোনয়নের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশ অংশগ্রহণের সুযোগ পেল।
এদিকে, প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান জাজ মাল্টিমিডিয়া সূত্র জানায়, আগামী সেপ্টেম্বরে ‘ময়না’ বাংলাদেশের সিনেমা হলে মুক্তি পাবে।
'ময়না' সিনেমার প্রযোজক আলিম উল্যাহ খোকন বলেন, “ময়নার আন্তর্জাতিক সাফল্যে আমরা মুগ্ধ। জাজ মাল্টিমিডিয়া থেকে আমরা অনেক ভালো ও ব্যবসা সফল সিনেমা নির্মাণ করেছি এবং তা অব্যাহত। আমরা যেমন নায়ক-নায়িকা তৈরি করেছি, তেমনি নতুন পরিচালকও তৈরি করেছি। আমাদের ‘ময়না’ বিভিন্ন দেশের উৎসবে প্রশংসিত হচ্ছে, আশা করছি বাংলাদেশেও ময়না ব্যবসা সফল ও প্রশংসিত হবে।”
গালফ অব নেপলস ইনডিপেন্ডেন্ট ফিল্ম ফেস্টিভাল অনুষ্ঠিত হবে ইতালির নেপল উপসাগরের সৈকতে আগামী ১১-১৪ জুন পর্যন্ত।
আরও পড়ুন: খাজানায় চলছে ওপার বাংলার ফুড ফেস্টিভাল
৭২১ দিন আগে
কিরণ রাওয়ের ‘লাপাতা লেডিস’ নিয়ে যে কারণে এত আলোচনা
২৬ এপ্রিল বিশ্ব নন্দিত ওটিটি (ওভার-দ্য-টপ) প্ল্যাটফর্ম নেটফ্লিক্সে প্রিমিয়ার হলো কিরণ রাওয়ের ‘লাপাতা লেডিস’ চলচ্চিত্র। এর আগে ১ মার্চ প্রেক্ষাগৃহে মুক্তি পাওয়ার পর থেকেই শোরগোল শুরু হয়ে গেছে হিন্দি ভাষার ছবিটি নিয়ে। প্রথম সারির কোনো অভিনয়শিল্পী না থাকলেও সিনেমাটির ভূয়সী প্রশংসা করেছেন স্বনামধন্য বলিউড তারকারা। মিডিয়াপাড়াজুড়ে এই চলচ্চিত্রটি নিয়ে কেন এত আলোচনা, চলুন তা জেনে নেওয়া যাক।
‘লাপাতা লেডিস’ চলচ্চিত্রের কলাকুশলী
পরিচালক কিরণ রাওয়ের শুরুটা ছিল ২০১০ সালে রোমান্টিক সিনেমা ‘ধোবি ঘাট’ দিয়ে। দীর্ঘ ১৪ বছর পর দ্বিতীয় চলচ্চিত্র হিসেবে এবার তিনি ফিরলেন স্যাটায়ার নিয়ে।
প্রযোজনা কমিটিতে তার সঙ্গে রয়েছেন জ্যোতি দেশপান্ডে এবং প্রাক্তন স্বামী বলিউডের তারকা অভিনেতা আমির খান। বিপ্লব গোস্বামীর গল্প নিয়ে চলচ্চিত্রের জন্য চিত্রনাট্য ও সংলাপ নির্মাণ করেছেন স্নেহা দেশাই।
সিনেমার অভিনয়শিল্পীরা হলেন নিতানশি গোয়েল, প্রতিভা রান্তা, স্পর্শ শ্রীবাস্তাব, ছায়া কদম, অভয় ডুবে, রবি কিষাণ, দুর্গেশ কুমার, এবং গীতা আগারওয়াল।
আরও পড়ুন: 'প্রিয় মালতী' হতে যাচ্ছে মেহজাবীন চৌধুরীর প্রথম সিনেমা
ছবিটির সংগীত আয়োজন করেছেন রাম সম্পাথ এবং গানের কথায় ছিলেন দিব্যনিধি শর্মা, প্রশান্ত পান্ডে এবং স্বানন্দ কিরকিরে। সিনেমাটোগ্রাফিতে ছিলেন বিকাশ নওলাখা এবং সম্পাদনায় জাবীন মার্চেন্ট।
ছবিটি সর্বপ্রথম ২০২৩ সালের ৮ সেপ্টেম্বর টিআইএফএফ (টরন্টো ইন্টারন্যাশনাল ফিল্ম ফেস্টিভ্যাল) এ প্রদর্শিত হয়েছিল।
৭৩১ দিন আগে