বিনোদন
অভিনেতা ও প্রযোজক সাজু মুনতাসিরের বিশেষ দিন
দেশের জনপ্রিয় অভিনেতা সাজু মুনতাসির। এছাড়াও তার অন্যতম পরিচয় একজন প্রযোজক এবং টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টেলিপ্যাব) সাধারণ সম্পাদক।
সাজু মুনতাসির বর্তমানে প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ১৯৫২ ইন্টারটেইনমেন্ট লিমিটেডের সিইও। এ ছাড়াও তার মালিকাধীন আরেকটি প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ডিজিটালিয়ার কাজ নিয়ে ব্যস্ততা চলছে নিয়মিত।
সোমবার (৮ ডিসেম্বর) জনপ্রিয় এই অভিনেতা জন্মদিন। ১৯৭৭ সালে আজকের দিনে পিরোজপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন তিনি। তার বাবা ওবায়দুল কবির এবং মা কানিজ নাজনীন আক্তার।
টেলিভিশন প্রোগ্রাম প্রডিউসারস অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (টেলিপ্যাব) সাধারণ সম্পাদক সাজু মুনতাসির জীবনের বিশেষ দিনটিতে ভাসছেন শুভেচ্ছা ও ভালোবাসায়।
সাজু ইউএনবিকে বলেন, ‘এটা সত্যি দারুণ একটি বিষয় যে প্রতিবছর জন্মদিন এলে কাছের মানুষেরা, সহকর্মীরা শুভেচ্ছা দিয়ে সেটি রঙিন করে রাখেন। এবারেও তার ব্যতিক্রম হয়নি। সবার কাছে আমি দোয়া চাই যেন সততা নিয়ে একজন প্রযোজক নেতা হিসেবে নিজের দায়িত্ব পালন করতে পারি। ভালো ভালো নির্মাণ দিয়ে যেন ইন্ডাস্ট্রি ও দর্শকের চাহিদা মেটাতে পারি।’
তিনি ১৯৯৭ সালে র্যাম্প মডেল হিসেবে তার কর্মজীবন শুরু করেন। ২০০০ থেকে ২০০২ সাল পর্যন্ত তিনি বিভিন্ন টিভিসিতে মডেল হিসেবে অভিনয় করেন। তিনি ২০০২ সালে জনপ্রিয় পরিচালক আহমেদ ইউসুফ সাবের পরিচালিত বাংলা নাটকে অভিনয়ের মাধ্যমে আত্মপ্রকাশ করেন। ২০১৫ সাল পর্যন্ত তিনি প্রায় ১৫০টিরও বেশি নাটকে অভিনয় করেছেন।
সাজু মুনতাসির মিডিয়ার সব অঙ্গনেই নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন। মডেলিং, অভিনয় থেকে শুরু করে প্রযোজক হিসেবেও তিনি সর্বমহলে অত্যন্ত সমাদৃত।
তিনি কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ পেয়েছেন নানা পুরস্কার। তার মধ্যে ট্রাব অ্যাওয়ার্ড, চ্যানেল আই ডিজিটাল মিডিয়া অ্যাওয়ার্ড, সিজেএফবি অ্যাওয়ার্ড অন্যতম। দেশের অন্যতম জনপ্রিয় দুইটি টিভি রিয়েলিটি শো বিনোদন বিচিত্রা ফটোসুন্দরি এবং ফেয়ার অ্যান্ড হ্যান্ডসাম- দ্যা আলটিমেট ম্যান পাওয়ারড বাই বাংলাদেশ নেভীর বিচারক হিসেবেও নিজের অভিজ্ঞতাকে কাজ লাগিয়েছেন তিনি।
৮৪৮ দিন আগে
শিশুদের জন্য বিনোদনমূলক যত বাংলা ইউটিউব কার্টুন চ্যানেল
শুধু বিনোদনের জন্য নয়, শিশুদের ভাষা বিকাশ এবং জ্ঞানভিত্তিক দক্ষতা অর্জনের জন্যও বিশ্বজুড়ে বহুল প্রচলিত একটি অনুষ্ঠান হচ্ছে কার্টুন। দ্বিমাত্রিক এই চলচ্চিত্রকলার ধারা বাংলা ভাষাতেও খুব একটা নতুন নয়। কিন্তু ইউটিউবে বাংলা কার্টুনের পদচারণা সর্বোচ্চ এক দশক আগে। সেই থেকে বাংলা ভাষার পাশাপাশি শিশুদের স্বাভাবিক ক্রমবিকাশের জন্য বিরাট অবদান রেখে চলেছে এই কন্টেন্টগুলো। আজকের নিবন্ধটি তেমনি কিছু শিশুতোষ ইউটিউব কার্টুন চ্যানেল নিয়ে। চলুন দেখে নেওয়া যাক-শীর্ষস্থানীয় ইউটিউব কিডস বাংলা চ্যানেলগুলো।
বাংলা ভাষায় শিশুদের জন্য মজার কিছু ইউটিউব কার্টুন চ্যানেল
ইনফোবেলস বাংলা
সব বয়সের শিশুদের সাংস্কৃতিক ও নৈতিক মূল্যবোধকে উন্নত করার লক্ষ্যে রীতিমতো এক সৃজনশীল দল গঠন করেছেন কুবের নটরাজন এবং তার স্ত্রী জয়লক্ষ্মী কুবের। ইনফোবেলস বাংলা তাদেরই ব্রেইনচাইল্ড।
বাংলার মানুষের মুখে মুখে খ্যাতি পাওয়া ছড়া ও গানগুলোকে আকর্ষণীয়ভাবে প্রকাশের উদ্দেশ্য নিয়ে ভারতের কর্ণাটকভিত্তিক চ্যানেলটি শুরু হয় ২০১৬ সালের ১৩ জুন। সেই থেকে এখন পর্যন্ত পুরো কুবের টিম ভিডিও প্রকাশ করেছে মোট ৪০৬টি। ৭ বছরের অক্লান্ত পরিশ্রমের সুফল স্বরূপ তারা পেয়েছেন ১৭ কোটি ৪০ লাখ গ্রাহকের এক বিশাল পরিবার। সর্বমোট ৮ দশমকি ৮৫ বিলিয়ন ভিউ পাওয়া ভিডিওগুলোর মধ্যে সবচেয়ে বেশি সাড়া মিলেছে লালাজি চরিত্রের গল্পগুলোতে।
বেঙ্গলি ফেয়ারি টেল্স
অনলাইনে কার্টুন গল্পের চিত্তাকর্ষক বিষয়টিকে সবচেয়ে সফলভাবে উপজীব্য করতে পেরেছে সংযুক্ত আরব আমিরাত ভিত্তিক ইউটিউব চ্যানেলটি। ২০১৬ সালের ৬ জুন থেকে বাংলা ভাষাভাষি নেটিজেনদের কাছে স্বনামধন্য একটি নাম বেঙ্গলি ফেয়ারি টেল্স।
আরো পড়ুন: কড়ক সিং: জয়ার প্রথম হিন্দি সিনেমা আসছে ওটিটির পর্দায়
তারা নামকরা সব বিদেশি রূপকথাগুলোর বাংলা ভার্সন নিয়ে তৈরি করেছে ৬৬৬টি ভিডিওর বিশাল এক সংগ্রহশালা। এখানে আছে স্লিপিং বিউটি থেকে শুরু করে আগলি ডাকলিং বা কুৎসিত হাঁসের বাচ্চা, জেলে ও তার স্ত্রী, থাম্বেলিনা, ও সিনডারেলার মতো কল্পকাহিনী।
তাদের মোট গ্রাহক সংখ্যা ৮ কোটি ৬০ লাখ এবং শুরু থেকে এ পর্যন্ত সব ভিডিওতে পাওয়া ভিউ সংখ্যা ৪ দশমিক ২৬ বিলিয়ন।
কিডস টিভি বাংলা-নার্সারি রাইমস
ভারতের কিডস টিভি ২০১৫ সালের ১৬ জুলাই থেকে তাদের বিনোদন প্রচার সেবা প্রসারিত করেছে বাংলা ভাষাভাষিদের জন্যও। বিশ্ব জোড়া প্রতিটি বাবা-মার মুখে নার্সারি রাইমস মানেই এখন কিডস টিভি বাংলা।
তবে শুধু ছড়া আর গান নয়; মজার মজার কিছু বুদ্ধিবৃত্তিক খেলা নিয়ে ৭৭১টি ভিডিওর সমৃদ্ধ এক রিসোর্চ এই চ্যানেল। দীর্ঘ ৮ বছরের স্ট্রীমিং কার্যক্রমে তাদের অর্জন ১৭ লক্ষাধিক গ্রাহক এবং ৭২২ মিলিয়নের বেশি ভিউ।
ইনরেকো চিলড্রেন
চমকপ্রদ কন্টেন্টের মাধ্যমে বাংলার লোক সাহিত্যের গল্প, ধাঁধা, প্রবাদ-প্রবচন ও গানকে অনবদ্যভাবে তুলে এনেছে এই ভারতীয় ইউটিউব চ্যানেলটি। ১৩ লাখ ৬০ হাজার সাবস্ক্রাইবারের বিশাল পরিবারের শুরুটা ছিলো ২০১৪ সালের ২১ মে। তারপর থেকে সুদীর্ঘ ৯ বছরে মোট কন্টেন্ট সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ২০৪টি। এগুলোর সবকটিতেই গানের কথা লিখেছেন সলিল চৌধুরী এবং কন্ঠ দিয়েছেন অন্তরা চৌধুরী।
আরো পড়ুন: ফের আরটিভিতে সিসিমপুর
এ পর্যন্ত ভিডিওগুলো ভিউ পেয়েছে ৬৫৪ মিলিয়নেরও অধিক এবং এখনও মুগ্ধতা ছড়িয়ে চলেছে প্রতিটি শিশুর মাঝে।
কিডিজ টিভি বাংলা
বাংলাতে বাচ্চাদেরকে বর্ণমালা ও রঙ চেনানোসহ বিভিন্ন ধরনের মজার এনিমেশনের অভিজ্ঞতার জন্য দেখতে হবে কিডিজের কন্টেন্টগুলো। ভারতীয় ইউটিউব চ্যানেলটি ২০১৭ সালের ১৭ অক্টোবর থেকে প্রকাশ করে আসছে এমন বিস্ময়কর চিত্রনাট্যগুলো। ১৪৬টি ভিডিওর প্রতিটিতেই বাচ্চাদের জন্য রয়েছে আনন্দ ও চমকের মাধ্যমে যে কোনও কিছু শিখে নেয়ার রসদ।
২ দশমিক ০৩ বিলিয়নের অধিক ভিউ পাওয়া ভিডিওগুলোর মধ্যে সবচেয়ে দর্শকপ্রিয়তা পেয়েছে হাম্পটি রেইলগাড়ি চরিত্রটি। চ্যানেলের মোট গ্রাহক সংখ্যা ৫০ লাখ ৭ হাজার।
চুচুটিভি বাংলা
২০১৯ সালের ১ আগস্ট ভারত থেকে চ্যানেলটি তার কার্যক্রম শুরু করার পর থেকেই এর হাস্যরস ও নির্মল আনন্দ নিয়ে বেশ সাড়া পড়ে যায়। সব বয়সের এমনকি বাড়ন্ত বয়সের শিশুদেরও নজর কেড়ে ফেলে খুব কম সময়ের মধ্যেই। ৭০ লাখ ৯৬ হাজার গ্রাহক এবং ৪ দশমিক ৭৬ বিলিয়ন ভিউ সে কথাই সমস্বরে জানান দিচ্ছে। ৪ বছরে তাদের মোট ভিডিও ৩১৮টি। যেগুলো এখনও সুনামের সঙ্গে চ্যানেলের নাম ধরে রেখেছে।
আরো পড়ুন: সিনেমা ২০২৩: আলাচনায় শুধু ঈদের সিনেমা
৮৪৮ দিন আগে
ভোট দিয়ে উচ্ছ্বসিত তারকারা
দ্বাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণ শুরু হয়েছে রবিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৮টা থেকে। দেশের বিভিন্ন ভোটকেন্দ্রে ভোট দিয়ে উচ্ছ্বাস প্রকাশ করছেন শোবিজ তারকারা।
রাজধানীর ভাসানটেক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে সকাল ৯টা ৪৬ মিনিটে ভোট দেন চিত্রনায়ক ফেরদৌস। ভোট দেওয়ার ছবি তার ফেসবুকে পোস্ট করে ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমি ভোট দিয়েছি। আপনি দিয়েছেন কি?’
রাজধানী ধানমন্ডির গভর্মেন্ট হাইস্কুল ভোটকেন্দ্রে সকাল ১০টা ৩০ মিনিটে ভোট দিয়েছেন অভিনেত্রী ও শিল্পী মেহের আফরোজ শাওন। ভোট দিয়ে কালি দেওয়া আঙুলের ছবি তার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন ‘ভোট দিয়ে আসলাম’।
আরও পড়ুন: ২০২৪ সালের সিনেমায় সম্ভাবনাময় উপস্থিতি
মানিকগঞ্জে নিজের নির্বাচনি এলাকায় সকাল ১০টার দিকে ভোট দিয়েছেন সংগীতশিল্পী ও সংসদ সদস্য মমতাজ। কেন্দ্রে গিয়ে তিনি বিজয় চিহ্ন দেখিয়ে ভোট প্রদানের ছবি তিনি তার ফেসবুকে শেয়ার করেছেন।
গুলশান মডেল হাই স্কুলে ভোট দিয়েছেন গান বাংলা টেলিভিশনের কর্ণধার তাপস ও তার স্ত্রী মুন্নী। তাপস ভোট দেওয়ার ছবি তার ফেসবুকে পোস্ট করে লিখেছেন, ‘জয় বাংলা’।
অভিনেত্রী তারিন জাহান ভোট দিয়ে হাতের অমোচনীয় কালি প্রদর্শন করা ছবি তার ফেসবুকে পোস্ট করেছেন। ক্যাপশনে লিখেছেন, ‘আমি আমার ভোট দিয়েছি, আপনি?’
আরও পড়ুন: সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করব: ফেরদৌস
তরুণ প্রজন্মের দুই অভিনয়শিল্পী সৌম্য ও দিব্য প্রথমবার ভোট দিলেন।
তাদের মা অভিনেত্রী শাহনাজ খুশি তার ফেসবুকে এ তথ্য প্রকাশ করেছেন। দুই ছেলের ছবি পোস্ট করে তিনি লেখেন, ‘প্রথমবার ভোট। যারা ভোট বর্জন করেছে, তারা তরুণদের আবেগ বর্জন করেছে। আমার ভোট, আমার দেশ, ভালোবাসি বাংলাদেশ।’
আরও পড়ুন: আলোড়ন সৃষ্টিকারী সিনেমা ‘টুয়েল্ভ্থ ফেইল’ হাজারও সংগ্রামী তরুণের জীবনের গল্প
৮৪৯ দিন আগে
সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করব: ফেরদৌস
রাজধানীর ভাসানটেক সরকারি মাধ্যমিক বিদ্যালয় কেন্দ্রে ভোট দিয়েছেন চিত্রনায়ক ও ঢাকা-১০ আসনের আওয়ামী লীগের প্রার্থী ফেরদৌস।
ঢাকা-১৭ আসনের ভাসানটেক এলাকার ভোটার হওয়ার তিনি রবিবার (৭ জানুয়ারি) সকাল ৯টা ৪৬ মিনিটে এ কেন্দ্রে ভোট দেন। যদিও তার নির্বাচনি এলাকা ঢাকা-১০।
ভোট দিয়ে গণমাধ্যমে ফেরদৌস বলেন, ‘নৌকার বিজয় হবে ইনশাআল্লাহ। জয়ের ব্যাপারে আমি আশাবাদী। অভিনয়ে যেভাবে শতভাগ দিয়েছি দর্শকদের, সেভাবে সাধারণ মানুষের সঙ্গে মিলেমিশে কাজ করব।’
ফেরদৌসের আসনের ভোটার প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। এই প্রসঙ্গে বলেন, ‘প্রধানমন্ত্রী আমাকে ভোট দিয়েছেন। একজন প্রার্থী হিসেবে এই ভালো লাগা মুখে বলে প্রকাশ করার মতো নয়। আমি ঢাকা-১৭ আসনের ভোটার। নির্বাচনে আসার শুরু থেকে যেভাবে মানুষের ভালোবাসা পেয়েছি আশা করছি ভোটের রায়ে সেটা বজায় থাকবে।’
৮৪৯ দিন আগে
আলোড়ন সৃষ্টিকারী সিনেমা ‘টুয়েল্ভ্থ ফেইল’ হাজারও সংগ্রামী তরুণের জীবনের গল্প
নির্মাণাধীন তেমন একটা প্রতিশ্রুতিশীল না হলেও ২০২৩-এর ২৭ অক্টোবর মুক্তির পর থেকে অভাবনীয় সাড়া পেতে শুরু করে হিন্দি চলচ্চিত্র টুয়েল্ভ্থ ফেইল। বিধু বিনোদ চোপড়া প্রযোজিত, রচিত ও পরিচালিত এই সিনেমার জনপ্রিয়তা সমালোচক ও দর্শকদের নজরে এখন অন্য সব বলিউড চলচ্চিত্র থেকে এগিয়ে।
এ পর্যন্ত বিশ্বব্যাপী সিনেমাটির আয় এর নির্মাণ খরচের তিন গুণেরও বেশি। স্বাধীন চলচ্চিত্র হিসেবে প্রতিযোগিতার জন্য ইতোমধ্যে অস্কারেও দেওয়া হয়েছে বায়োগ্রাফি ফিল্মটি। নতুন মুখ নিয়ে কীভাবে সিনেমাটি এত আলোড়ন সৃষ্টি করল, চলুন, জেনে নেওয়া যাক।
টুয়েল্ভ্থ ফেইল-এর কেন্দ্রীয় চরিত্রগুলো
সত্য কাহিনিনির্ভর ছবিটিতে দর্শকদের ভালোবাসার মধ্যমণি ছিল প্রধান চরিত্র মনজ কুমার শর্মা। যেটিকে অসামান্য দক্ষতায় ফুটিয়ে তুলেছেন উদীয়মান অভিনেতা বিক্রান্ত ম্যাসি। তার মাঝেই তরুণ সিনেমাপ্রেমীরা খুঁজে পেয়েছেন জীবিকা ও স্বপ্নের পেছনে ছোটা একজন সংগ্রামী মনজকে। রাজনৈতিক অস্থিরতা ও সাম্প্রদায়িক বৈষম্যের জাঁতাকলে প্রতিশ্রুতিশীল মেধাবী যুবকদের পিষ্ট হওয়াটা মোটেই নতুন কোনো ঘটনা নয়। বরং আটার মিলে মেশিন ঘরে থেকে পড়াশোনা করার দৃশ্য প্রতিনিধিত্ব করেছে নাম না জানা অনেক কিংবদন্তির।
প্রতিটি ব্যাচেলর জীবনে প্রেরণার মূর্ত প্রতীক হচ্ছে গৌরি ভাইয়া চরিত্রটি, উৎকৃষ্টভাবে যার সুবিচার করেছেন আংশুমান পুষ্কার। পৃথিবীতে উৎসাহ দেওয়া যেসব মানুষ কদাচিৎ মেলে, এই গৌরি ভাইয়া হচ্ছে সেই শ্রেণির। নিজের জীবনে অর্জন বলতে কিছু না থাকলেও কোনো এক বিমূর্ত লক্ষ্যকে বুকে আঁকড়ে ধরে বেঁচে থাকে এরা। শুধু কী তাই, ‘একবার না পারিলে দেখ শতবার’ কালীপ্রসন্ন ঘোষের এই বিখ্যাত লাইনের উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত এই ‘ছা পোষা’ লোকগুলো। পুরো সিনেমার ট্যাগ লাইন হয়ে আছে এই চরিত্রের ‘রিস্টার্ট’ ফিলোসফি, যা বুলি হয়ে বেড়াচ্ছে টুয়েল্ভ্থ ফেইল ভক্তদের মুখে মুখে।
আরো পড়ুন: ধুম ৪-এ শাহরুখ খান: ঘটনা না কি রটনা?
এরপরেই বলতে হয় প্রিতম পান্ডের কথা, যেটি এমন কিছু বন্ধুকে চিত্রায়িত করেছে যারা না থাকলে গল্পটা হয়ত শূন্যতেই রয়ে যেত। প্রতিটি সফলতার পেছনে এরকম কিছু মানুষের ভূমিকা থাকে। যাদের ভাগ্য সঠিক সময়ে সঠিক জায়গায় এনে দেয়। এদের কারণেই ইউপিএসসি(ইউনিয়ন পাবলিক সার্ভিস কমিশন)-এর ইউ-এর মানে না জানা গেঁয়ো ভূতটিও এক সময় আইপিএস(ইন্ডিয়ান পুলিশ সার্ভিস) অফিসারে পরিণত হয়। শুধু এই চরিত্রকে চিত্রায়নই নয়, অনন্ত ভি জোশীর ধারা বিবরণীতে জীবন্ত হয়ে ছিল মুভির প্রতিটি মুহূর্ত।
পুরো চিত্রনাট্যে সযত্নে বোনা নকশার মতো প্রতীয়মান হয়েছে শ্রদ্ধা জোশী চরিত্রটি। বাস্তবের শ্রদ্ধাকে যথাযথ মাধুর্য দিয়ে ফুটিয়ে তুলেছেন মেধা শঙ্কর। প্রধান সহ-শিল্পীর এই ভূমিকাটি তাকে প্রথমবারের মতো লাইমলাইটে আসতে সাহায্য করেছে। চরিত্রটির সবচেয়ে বড় দিক হলো- এটি জীবনের একটি পরস্পরবিরোধী দাবিকে উপযুক্ত উপসংহার দিয়েছে। তা হলো- প্রিয় মানুষগুলো কখনও অভীষ্ট লক্ষ্যে পৌঁছার পথে অন্তরায় নয়। বরং উদ্দীষ্ট পথে এগোতে যেয়ে হোঁচট খেলে তাদের কথা ভেবেই আবার উঠে দাঁড়ানোর শক্তি আসে।
সবশেষে ডিএসপি (ডেপুটি সুপারিন্টেন্ডেন্ট অব পুলিশ) দুষ্মন্ত সিংয়ের কথা না বললেই নয়। প্রিয়াংশু চ্যাটার্জি অভিনীত এই চরিত্রটি সেই সব কারিগরদের কথা বলেছে, যারা অবচেতনে জন্ম দিতে পারে যুগান্তকারী নেতৃত্বের। তার ছোট দুটো শব্দ ‘স্টপ চিটিং’-ই যথেষ্ট ছিল- মনজের মাঝে থাকা সমাজ পাল্টানোর বীজকে মহীরুহে রূপদান করার জন্য।
আরো পড়ুন: ২০২৪ সালে ঢালিউডে মুক্তি পাবে যেসব বাংলা সিনেমা
৮৫০ দিন আগে
২০২৪ সালের সিনেমায় সম্ভাবনাময় উপস্থিতি
বাংলা সিনেমার এক নতুন সম্ভাবনা তৈরি হয় ২০২৩ সালে। যার ধারাবাহিকতায় ২০২৪ আরও আড়ম্বরপূর্ণ হবে ঢালিউড ইন্ডাস্ট্রি। সংশ্লিষ্টদের ধারণা অনেকটা এমনই।
শাকিব খানের ৩ সিনেমা, ওয়েব ফিল্মের দৌরাত্ম্য, বিগ বাজেট নিয়ে সিনেমার ঘোষণা- এসবকিছুই ইন্ডাস্ট্রির সম্ভাবনা আরও বাড়িয়ে দিবে।
কিন্তু সব আলোচনার কেন্দ্র করে যেকজন তারকার নাম উঠে আসে সেগুলো নিতান্ত খুব বেশি এমনটা বলা চলে না।
বাংলা সিনেমায় নতুন মুখের উথান নিয়ে সংকট অনেকদিন ধরেই চলছে। ২০২৩ সালে যে এটি খুব বেশি উতরে গেছে তাও নয়। তবে আশার কথা হচ্ছে- ২০২৪ সালে যাদের নিয়ে সম্ভাবনা তৈরি হয়েছে তারা গত বছর বিভিন্ন সময় আলোচনায় ছিলেন।
এবিএম সুমন
বেশ কয়েক বছর ধরে বড়পর্দায় প্রায় নিয়মিত বলা চলে এবিএম সুমনকে। তবে ২০২৩ সালে ‘এমআর নাইন’ দিয়ে তার ক্যারিয়ারের নতুন টার্নিং পয়েন্ট শুরু হয়। আর এর মধ্যে দিয়ে কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিষেক হলো তার। তাই ২০২৪ তার জন্য আরও বড় চ্যালেঞ্জের বছর। একইসঙ্গে সম্ভাবনাও রয়েছে তাকে ঘিরে।
এরই মধ্যে মুক্তির তালিকায় সম্প্রতি যোগ হয়েছে ওয়েবফিল্ম ‘বুকিং’। মিজানুর রহমান আরিয়ান পরিচালিত এতে সুমন জুটি বেঁধেছেন পরীমণির সঙ্গে। এছাড়াও দীপঙ্কর দীপন পরিচালিত ‘দিগন্তে ফুলের আগুন’ সিনেমায় দেখা যাবে এই নায়ককে।
সৌম্য জ্যোতি
খুব অল্প সময়ে ছোটপর্দায় নজর কেড়েছেন অভিনেতা সৌম্য জ্যোতি। অভিনয়ের মুন্সিয়ানা দিয়ে দর্শকদের মনে তার জায়গা এরই মধ্যে পাকাপোক্ত। ছোটপর্দা বা ওটিটির পাশাপাশি তার ব্যস্ততা এখন বড়পর্দায়।
২০২৩ সালে সেই সম্ভাবনার বীজ তিনি বুনেছেন ‘দুঃসাহসী খোকা’ দিয়ে। এতে তিনি বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেন। যদিও এর আগেই বড়পর্দায় তার অভিষেক হয়। কিন্তু এই সিনেমা দিয়ে প্রথমবার সিনেমার কেন্দ্রীয় চরিত্রে দেখা যায় সৌম্যকে।
২০২৪ এ সৌম্যর দুটি সিনেমার এখন পর্যন্ত মুক্তির তালিকায় রয়েছে। সেগুলো ‘নকশী কাঁথার জমিন’ ও ‘দাওয়াল’। এর মধ্যে আকরাম খান পরিচালিত ‘নকশী কাঁথার জমিন’ সিনেমাটি বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে সুনাম কুড়িয়েছে।
অন্যদিকে পিকলু চৌধুরী পরিচালিত ‘দাওয়াল’ সিনেমাটি মুক্তি পাওয়ার কথা চলতি মাসেই। আর এতেও বঙ্গবন্ধুর চরিত্রে অভিনয় করেছেন সৌম্য।
মন্দিরা চক্রবর্তী
ঢালিউডে নায়িকাদের বর্তমান অবস্থা অতিথি পাখির মতো। দুই-একজন ছাড়া সারা বছর সিনেমা নিয়ে ব্যস্ততা তাদের খানিকটা কম। এর মধ্যে নতুন কয়েকজন নায়িকা এলেও তাদের নিয়ে আলোচনাটা একটি গন্ডিতেই থেকে যায়।
তাদের মধ্যে যে নামগুলো কানে প্রায় আসে তাদের একজন মন্দিরা চক্রবর্তী। গত বছর গিয়াস উদ্দিন সেলিমের ‘কাজলরেখা’র মধ্যে দিয়ে অভিষেক হয় তার। এ বছর সেটি মুক্তি পাবে। তবে এর আগেই আরিফিন শুভর সঙ্গে ‘নীলচক্র’ সিনেমায় চুক্তিবদ্ধ হয়ে নতুন আলোচনায় এলেন তিনি। দুটি সিনেমাই মুক্তি পাবে ২০২৪ সালে। তবে দেখার বিষয় এই সম্ভাবনা তাকে শেষ পর্যন্ত কোথায় নিয়ে যায়।
সাদিয়া নাবিলা
‘ব্ল্যাক ওয়ার’ সিনেমায় নারী পুলিশ কর্মকর্তা ইরা চরিত্রে অভিনয় করে ২০২৩ সালে বেশ সাড়া জাগিয়েছেন সাদিয়া নাবিলা। যদিও বড়পর্দায় তার অভিষেক আরো আগে। তবে অ্যাকশনধর্মী এই সিনেমায় সাবলীল অভিনয়ের মাধ্যমে নিজের মেধা ও মুন্সিয়ানার পরিচয় দিয়েছেন তিনি।
জানা যায়, ২০২৪ সালেও নতুন সিনেমা নিয়ে হাজির হবেন এই নায়িকা। যদিও সেটি এখনও অঘোষিত। তবে ঢালিউডে তার যে জনপ্রিয়তা তৈরি ২০২৪ এ নতুন এক সম্ভাবনা রয়েছে তাকে ঘিরে।
সায়মা স্মৃতি
২০২৩ সালে আরিফুর জামান আরিফ পরিচালিত ‘যন্ত্রণা’ সিনেমা দিয়ে বড়পর্দায় অভিষেক হয় সায়মা স্মৃতির। প্রথম সিনেমা দিয়েই নজর কেড়েছেন তিনি। এরপর ব্যস্ততাটা সিনেমাটি নিয়েই। শুধু তাই নয় ২০২৪ সালে এরইমধ্যে নায়িকার একাধিক সিনেমা রয়েছে মুক্তির অপেক্ষায় সেগুলো হলো ‘জল কিরণ’, ‘জলরং’ এবং ‘সংযোগ’।
৮৫০ দিন আগে
‘তোদের অসভ্যতার শেষ হোক’: ফারুকী
কিছুদিন আগে মুক্তি পেয়েছিল মোস্তফা সরয়ার ফারুকী পরিচালিত ও অভিনীত সিনেমা ‘সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি’। যেখানে দেখা যায় তার স্ত্রীর গর্ভে সন্তান থাকা অবস্থায় ফারুকী বাইরের প্রকট শব্দ নিয়ে কতটা আতঙ্কিত ছিলেন। সিনেমাটা যারা দেখেছেন তারা হয়তো বিষয়টি ভালোভাবেই লক্ষ্য করেছেন।
পর্দার সেই ফারুকীকে এবার বাস্তবেও একই ঘটনা নিয়ে আতঙ্কিত দেখা গেল। আর সেটি প্রকাশ পেল ফেসবুকে একটি স্ট্যাটাসের মধ্য দিয়ে।
সোমবার (১ জানুয়ারি) ফারুকী লিখেছেন, ‘নতুন বছর শুরু করতে হচ্ছে অভিশাপ দিয়ে। ঘুমন্ত সন্তান যখন কেঁপে কেঁপে ওঠে, তখন পিতা কেবল অভিশাপই দিতে পারে। কারো আনন্দের বিনাশ আমি কখনোই চাই না। কিন্তু আজকে বলতে বাধ্য হচ্ছি—তোদের অসভ্যতার শেষ হোক, শেষ হোক, শেষ হোক! সংযুক্তি: এখন বাজে রাত দুইটা।’
আরও পড়ুন: ভারতীয় ওটিটি প্ল্যাটফর্ম সনি লিভে মুক্তি পাচ্ছে ফারুকীর 'শনিবার বিকেল'
তবে একটি পোস্ট করেই শেষ করেননি ফারুকী। পরবর্তী পোস্টে তিনি এই সমস্যার সমাধান নিয়ে লেখেন, ‘উৎসব যেহেতু থাকবে, আবার এই শহরে ছোট শিশু-বয়স্ক মানুষ-রোগী-পশু-পাখিদেরও থাকতে হবে, তাহলে একটা উপায় বের করা যায়? পুরো শহরটাকে যুদ্ধক্ষেত্র না বানায়ে শহরের তিনটা জায়গা নির্দিষ্ট করে দেওয়া যায়? যেখানে উৎসব করার জন্য মানুষ জড়ো হবে। আমাদের এখানে তো আর সিডনি হারবার ব্রিজের মতো কোনো জায়গা নাই। আমাদের সব জায়গাইতো আবাসিক। সেই জন্য জায়গার পাশাপাশি সময়টাও বেঁধে দেওয়া দরকার! উচ্চশব্দ হয় এমন কোনো কিছু করলে এই বেঁধে দেওয়া সময়ের মধ্যে করতে হবে। তাতে করে নির্দিষ্ট করে দেওয়া জায়গাগুলার আশপাশের ভবনের মানুষেরা জানবে কোন সময়টাতে এ রকম শব্দ হতে পারে এবং সেই অনুযায়ী একটা প্রস্তুতি রাখতে পারে।’
তিনি আরও লেখেন, ‘আমরা যখন কোনো ছাদে দাঁড়াই, আমরা কিন্তু সেখান থেকে একটা আস্ত ইট নিয়ে বাইরের দিকে ছুঁড়ে মারি না! কারণ আমরা চিন্তা করি নিচে দিয়ে হেঁটে যাওয়া কারো না কারো মাথায় এটা পড়তে পারে, একটা অ্যাকসিডেন্ট হতে পারে। এই যে আমরা এটা ভাবি, এটাই মানুষের বৈশিষ্ট্য হওয়া উচিত। আমার কোনো কাজে অন্যের ক্ষতি হতে পারে কি না, এটা ভাবা মানুষের বেসিক জিনিস হওয়া উচিত। সবার নতুন বছর আনন্দের হোক, এমনকি যারা কালকে আমার মেয়েকে আতঙ্কের ওপর রাখছিলেন, তাদেরও!’
আরও পড়ুন: সামথিং লাইক অ্যান অটোবায়োগ্রাফি: তিশা-ফারুকীর জীবনের প্রতিচ্ছবি?
৮৫৫ দিন আগে
মঞ্চ নাটকের আড়ম্বরপূর্ণ বছর ২০২৩
সাংস্কৃতিক অঙ্গনের সিনেমা, টিভি নাটক বা সংগীত নিয়ে গণমাধ্যমে যতটা মাতামাতি হয়, মঞ্চ নাটক ঘিরে ততটা নজর থাকে না। এটি অনেক বছরের চিত্র। আর মঞ্চ নাটক দেখার দর্শকের সংখ্যাটাও এখন গুটিকয়েক বলা চলে। নাট্যপাড়ায় এই অবস্থা নিয়ে বহুদিন ধরেই আলাপ চলছে।
এক সময় যারা মঞ্চ নাটক নিয়ে ব্যস্ত থাকতেন তারা এখন টিভি বা সিনেমায় ব্যস্ত। খুবই বাস্তব অভিজ্ঞতা টেনে এমন অনেকেই বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের সাক্ষাৎকারেও কথা বলেন। আর এসবের মূলে যে বিষয়টি উঠে আসে তা হলো-পৃষ্ঠপোষকতার অভাব। কারণ দিন শেষে একজন নাট্যকর্মীরও তো নিজের আর্থিক সঙ্গতিটা দেখতে হয়। তাই মঞ্চকে একমাত্র অবলম্বন হিসেবে নেওয়া যায়নি কখনও।
আজ অবদি ঢাকায় মঞ্চ নাটকের কেন্দ্রে রয়েছে শিল্পকলা একাডেমি অথবা মহিলা সমিতি মিলনায়তন। এর বাইরে স্বাধীনতার ৫০ বছর পরেও নতুন কোনো ভাবনার বাস্তব রূপ দেখা যায়নি এই অঙ্গন ঘিরে।
আরও পড়ুন: বিদেশের মাটিতে মেয়ের সঙ্গে গাইলেন সামিনা চৌধুরী
এসব বিভিন্ন হতাশার মাঝে ২০২৩ সালে যে মঞ্চ পাড়ার খুব একটা খারাপ গিয়েছে তা কিন্তু নয়। শিল্পকলার আঙ্গিনা বেশ রমরমা অবস্থাতেই ছিল বিদায়ী বছরটি। ঠিক যেন তারুণ্য ফিরে এসেছে। আর এরমধ্যেই এ বছর প্রায় ১২০০টি নাটক মঞ্চে উঠেছে। যার মধ্যে নতুনের সংখ্যা ছিল ৩৪টি। আর নতুন দল এসেছে ৫টি।
বিগত কয়েক বছরের সমীকরণের হিসেবে এবার মঞ্চে নতুন আলো এসেছে বলা যায়। ২০২৩ সালে নাট্যাঙ্গনের কয়েকটি বিষয় আলাদা করে আজকের লেখায় তুলে ধরার প্রয়াস মাত্র।
এখন মঞ্চ নিয়ে সংশ্লিষ্টদের ‘গলা শুকানো’ অবস্থা হলেও এমন চিত্র কিন্তু সবসময় ছিল না। আজ নাট্য ব্যক্তিত্ব হিসেবে যারা পরিচিত এবং কিংবদন্তীতুল্য তাদের আলোয় এক সময় আলোকিত ছিল দেশের মঞ্চপাড়া। তাদের কয়েকজনের মধ্যে অন্যতম রামেন্দু মজুমদার, ফেরদৌসী মজুমদার ও আসাদুজ্জামান নূর।
স্বাধীনতা এবং একুশে পদকপ্রাপ্ত বরেণ্য দুজন অভিনয়শিল্পী রামেন্দু মজুমদার ও ফেরদৌসী মজুমদারকে বহু বছর পর মঞ্চে একসঙ্গে দেখা গেল। মহিলা সমিতির মঞ্চে বিশ্ববিখ্যাত নাট্যকার এ আর গার্নির 'লাভ লেটারস' নাটকে পাঠাভিনয় করেছেন তারা। আবদুস সেলিমের বাংলা রূপান্তর করা নাটকটি প্রযোজনা করেছে নাট্যদল থিয়েটার।
আরও পড়ুন: বড়পর্দায় রবীন্দ্রনাথের ‘হৈমন্তী'
অন্যদিকে মঞ্চ নাটকের আরেকজন মহীরুহ আসাদুজ্জামান নূর। নাগরিক নাট্য সম্প্রদায় আয়োজিত ‘আলী যাকের নতুনের উৎসব’ এ বছর রেপার্টরি নাট্যদল হৃৎমঞ্চ মঞ্চে আনে ‘রিমান্ড’। শুভাশিস সিনহার লেখা ও নির্দেশিত এ নাটকের কেন্দ্রীয় চরিত্রে অভিনয় করেছেন সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব আসাদুজ্জামান নূর্।
‘ঢাকা থিয়েটার’ এদেশের মঞ্চপাড়ার স্বর্ণাক্ষরে লিখে থাকার মতো নাম। যার শুরু হয় ১৯৭৩ সালে। নাট্যদলটির প্রথম আহ্বায়ক ছিলেন সেলিম আল দীন, নাসির উদ্দীন ইউসুফ ও ম হামিদ। ২০২৩ সালে তাদের প্রতিষ্ঠার ৫০ বছর উদযাপন করেছে। আর সেটি ছিল বেশ আড়ম্বরপূর্ণ। সুবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে বছরব্যাপী অনুষ্ঠানের আয়োজন করছে ঢাকা থিয়েটার।
এ বছর উৎসবমুখর ছিল নাট্যাঙ্গন। সারাবছর ১২টি উৎসব উদযাপিত হয়েছে। বছরের শুরুতে ‘আলী যাকের নতুনের উৎসব’। এরপর গঙ্গা-যমুনা সাংস্কৃতিক উৎসব, আরণ্যক ও ঢাকা থিয়েটার আয়োজন করে ৫০ বছর পূর্তি উৎসব উল্লেখযোগ্য।
বাংলাদেশ গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশনের মধ্যে বিভিন্ন জটিলতার ঘটনা প্রায় শোনা যায়। যা এবছরে উল্লেখযোগ্য। আর্থিক অনিয়ম, দুর্নীতি, অর্থ আত্মসাৎ ও সাংগঠনিক স্বেচ্ছাচারিতার অভিযোগ এনে কামাল বায়েজীদকে অব্যাহতি দেয় গ্রুপ থিয়েটার ফেডারেশন। এ ঘটনায় ফেডারেশন থেকে অব্যাহতি দেওয়ার প্রতিবাদে নাট্যদল ‘ঢাকা থিয়েটার’ ফেডারেশন থেকে সদস্যপদ প্রত্যাহারের আবেদন জানায়।
আরও পড়ুন: ধুম ৪-এ শাহরুখ খান: ঘটনা না কি রটনা?
৮৫৬ দিন আগে
ধুম ৪-এ শাহরুখ খান: ঘটনা না কি রটনা?
বলিউড ইন্ডাস্ট্রির সবচেয়ে বড় মুভি ফ্র্যাঞ্চাইজিগুলোর মধ্যে জনপ্রিয়তার শীর্ষে থাকা মুভি সিরিজটির নাম ‘ধুম’। এরই নতুন কিস্তি তথা ধুম ৪ নিয়ে বেশ কয়েক বছর ধরেই চলছে হৈচৈ।
প্রধান ভূমিকায় কারা ফিরছেন আর নতুন কারা আসছেন তা নিয়ে হাজারও জল্পনা-কল্পনা ভক্তদের মাঝে। সেগুলোর মধ্যে সম্প্রতি ধুম ৪-এ এসআরকে (শাহরুখ খান) এর অভিনয়ের বিষয়টি বিতর্কের ঝড় তুলেছে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে।
চলুন, খবরটির সত্যতা যাচাই করে নেওয়া যাক।
ধুম: এক সফল ফ্র্যাঞ্চাইজির উপাখ্যান
সহকারী পুলিশ কমিশনার জয় দীক্ষিত এবং তার সহযোগী আলি আকবর ফতেহ খান বিশ্বের সবচেয়ে ধূর্ত চোরকে ধরাশায়ী করতে জড়িয়ে পড়তে থাকে বিপজ্জনক পরিস্থিতিতে। এমনই পটভূমি নিয়ে ধুম চলচ্চিত্রের মাধ্যমে বলিউডের ‘বাডি কপ’ জনরাকে এক নতুন মাত্রায় নিয়ে গেছেন নির্মাতা আদিত্য চোপড়া।
আরও পড়ুন: একইদিনে বাংলাদেশের হলেও ‘ডাঙ্কি’?
বক্স অফিস আয়ের দিক থেকে এটি তৃতীয় বৃহত্তম বলিউড ফিল্ম ফ্র্যাঞ্চাইজি। এখন পর্যন্ত ট্রিলজিটির প্রতিটিতেই খলনায়কের চরিত্রগুলো জনপ্রিয়তায় ছাড়িয়ে গেছে নায়কদেরকে। কখনো ব্যাংক ডাকাতি কখনো বা অমূল্য শিল্পকর্ম চুরি; এমনই অন্ধকার জগতকে জড়িয়ে দেখানো হয়েছে নতুন নতুন গল্প।
সবগুলোতে অভিষেক বচ্চন এবং উদয় চোপড়া যথাক্রমে জয় ও আলি আকবরের ভূমিকায় অপরিবর্তিত ছিলেন। কিন্তু চোরের চরিত্রগুলোতে প্রতিবারই অংশ নিয়েছেন ভিন্ন ভিন্ন খ্যাতিমান তারকারা।
প্রথম ছবিতে জন আব্রাহামের সঙ্গে সহ-খলনায়িকা হিসেবে ছিলেন এশা দেওল। দ্বিতীয়টিতে ছিলেন ঋত্মিক রোশান ও ঐশ্বরিয়া রাই। আর সর্বশেষটাতে ছিলেন শুধু আমির খান।
প্রথম দুই কিস্তির পরিচালক ছিলেন সঞ্জয় গাধবি, যেগুলো মুক্তি পেয়েছিল ২০০৪ ও ২০০৬-এ। তবে সর্বশেষেরটিতে পরিচালনার দায়িত্ব নিয়েছিলেন ধুমের সবগুলো কিস্তির চিত্রনাট্যকার ভিজয় কৃষ্ণ আচার্য। ধুম নিয়ে যশ রাজ ফিল্মসের তৃতীয় প্রজেক্টটি প্রেক্ষাগৃহে এসেছিল ২০১৩ সালে।
আরও পড়ুন: বিনা কর্তনে চলছে ‘অ্যানিমেল’, আটকে আছে ‘কাঠগোলাপ’
৮৫৬ দিন আগে
বড়পর্দায় রবীন্দ্রনাথের ‘হৈমন্তী'
কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ছোটগল্প ‘হৈমন্তী’ অবলম্বনে পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘হৈমন্তীর ইতিকথা’ নির্মাণ করলেন মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেন।
‘হৈমন্তী’ রবীন্দ্রনাথের একটি বিখ্যাত ছোটগল্প। এতে বিধৃত হয়েছে আবহমান কালের বাঙালি সমাজের নীরব নিষ্ঠুর এক কাহিনী। এক গৃহবধুর আত্মবিসর্জনের গল্প।
তবে গল্পের অঙ্গে অঙ্গে রয়েছে প্রাণবন্ত একজুটির রোমাঞ্চ ও ভালোবাসার স্পর্শ। পরিচালক যা চিত্রিত করেছেন সেল্যুলয়েডের পাতায় কাব্যিক চিত্রায়নে।
এই চলচ্চিত্রের নাম ভূমিকা রূপায়ন করেছেন নবাগত চিত্রনায়িকা ঐশিকা ঐশি।
আরও পড়ুন: বিদেশের মাটিতে মেয়ের সঙ্গে গাইলেন সামিনা চৌধুরী
অন্য চরিত্রে অভিনয় করেছেন- সাইফ খান, ঝুনা চৌধুরী, রাশেদা চৌধুরী, খলিলুর রহমান কাদেরী, মির্জা সাখাওয়াৎ হোসেন, মুনা আক্তার, অরূপ কুন্ডু, মো. আব্দুর রাজ্জাক, মোহাম্মদ আবদুল হামিদ, আনিছুর রহমান, সিনথিয়া লিজা ও শিশুশিল্পী সিমন্তিনী চৌধুরীসহ প্রমুখ।
এই চলচ্চিত্রে চিত্রায়ন করা হয়েছে বেশ কয়েকটি রবীন্দ্রসংগীত।
কণ্ঠ দিয়েছেন প্রখ্যাত রবীন্দ্রসংগীত শিল্পী ড. অণিমা রায়, মামুন জাহিদ, শিমু দে ও জয়ন্ত আচার্য্য। সংগীতায়ন করেছেন দীনবন্ধু দাশ।
‘হৈমন্তীর ইতিকথা’ চলচ্চিত্রটির পোস্ট প্রোডাক্টশনের কাজও সমাপ্ত হয়েছে। এখন আয়োজন চলছে সেন্সরের জন্য জমা দেওয়ার প্রক্রিয়া।
আরও পড়ুন: 'প্যারাসাইট' অভিনেতা লি সান-কিউন মারা গেছেন
শেখ মণিকে নিয়ে টেলিছবি ‘বিন্দু থেকে বৃত্তে’
৮৫৮ দিন আগে