জীবনধারা
ঢামেকে ৬ সন্তানের জন্ম দিলেন এক নারী
ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালে ছয় সন্তানের জন্ম দিয়েছেন প্রিয়া নামের এক প্রসূতি। ওজন কম হওয়ায় তিনটি শিশুকে ঢামেকে এবং অপর তিনটিকে বেসরকারি হাসপাতালের এনআইসিইউতে (নবজাতকের জন্য নিবিড় পরিচর্যা কেন্দ্র বা আইসিইউ) রাখা হয়েছে।
রোববার (১৪ সেপ্টেম্বর) সকাল ৯টার দিকে ঢামেকের ২১২ নম্বর ওয়ার্ডে তিনটি ছেলে ও তিনটি মেয়ে প্রসব করেন ওই নারী।
এ বিষয়ে জানতে চাইলে ঢামেক হাসপাতালের গাইনি বিভাগের এক নম্বর ইউনিটের সহযোগী অধ্যাপক ডা. আবিদা সুলতানা বলেন, ‘গতরাতে আমাদের এখানে প্রিয়া নামের এক গর্ভবতী নারী ভর্তি হন। পরে আজ সকালে তিনি ছয়টি সন্তানের জন্ম দেন।’
‘তবে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় এটি ‘বেবি’ বলা যায় না, এটি আসলে ২৭ সপ্তাহের ইনএবিটেবল অ্যাবরশন।’
তিনি জানান, এর আগে একটি পূর্ণবয়স্ক শিশুর জন্ম দিয়েছিলেন প্রিয়া, কিন্তু সেটি ডেলিভারির সময় মারা যায়। এবার জন্ম নেওয়া ছয় নবজাতকের মধ্যে তিনটির ওজন ৯০০ গ্রামের মতো এবং বাকি তিনটির ওজন প্রায় ৮০০ গ্রাম।
ডা. আবিদা সুলতানা বলেন, ‘শিশুদের মধ্যে তিনটি ঢামেকের এনআইসিইউতে এবং অন্য তিনটি বেসরকারি হাসপাতালের এনআইসিইউতে চিকিৎসাধীন। এখন পর্যন্ত আলহামদুলিল্লাহ সবাই জীবিত আছে, ভালো আছে।’
এই চিকিৎসকের মতে, আমাদের দেশে চিকিৎসকেরা ২৮ সপ্তাহকে ভ্রূণের জীবনোপযোগী বয়স হিসেবে গণ্য করেন। কিন্তু এই নারীর ক্ষেত্রে সেই সময়ের আগেই ডেলিভারি হয়েছে। ফলে শিশুদের প্রাণ-সংকট রয়েছে। তবে ঢামেকের উন্নত এনআইসিইউ সুবিধা থাকায় ভাগ্যে থাকলে তারা বেঁচে যেতেও পারে।
২৩৩ দিন আগে
রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ কেন হয়? জেনে নিন প্রতিরোধের উপায়
বাংলাদেশে রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ঘটনা সাম্প্রতিক বছরগুলোতে কিছুটা বৃদ্ধি পেয়েছে। এই ধরনের দুর্ঘটনা সাধারণত বিদ্যুৎ সংযোগের ক্রুটিপূর্ণতা, কম্প্রেসারের অতিরিক্ত গরম হওয়া, শর্ট সার্কিট, এবং পুরনো বা নিম্নমানের যন্ত্রাংশ ব্যবহারের কারণে ঘটে থাকে।চলুন জেনে নেই ফ্রিজের কম্প্রেসার বিস্ফোরণের কারণ ও প্রতিকার সম্পর্কে আরও বিস্তারিত।
রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসার কি? এটি কিভাবে কাজ করে?
রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসার হচ্ছে ফ্রিজের মূল চালিকা শক্তি, যেটি রেফ্রিজারেন্ট গ্যাসকে চাপ দিয়ে সঞ্চালন করায় এবং ঠান্ডা করার পুরো প্রক্রিয়াটি সচল রাখে।
এই যন্ত্রাংশটি রেফ্রিজারেন্ট গ্যাসকে কম চাপ থেকে উচ্চচাপে রূপান্তরিত করে কনডেনসারে পাঠায়, যেখানে গ্যাস তরলে পরিণত হয়ে তাপ বাইরে ছড়িয়ে দেয়। এরপর সেই তরল গ্যাস ইভ্যাপোরেটরে গিয়ে আবার গ্যাসে পরিণত হয় এবং আশেপাশের তাপ শোষণ করে ফ্রিজের ভেতরের অংশকে ঠান্ডা রাখে।
এই পুরো প্রক্রিয়ায় কম্প্রেসার মোটরের সাহায্যে গ্যাসকে বারবার চাপ দেয় এবং সঞ্চালন ঘটায়, যার ফলে ফ্রিজ ক্রমাগত ঠান্ডা হতে থাকে। মূলত কম্প্রেসার ছাড়া ফ্রিজ কোনোভাবেই কাজ করতে পারে না, কারণ এটি না থাকলে গ্যাসের চাপ পরিবর্তন ও সঞ্চালন বন্ধ হয়ে যাবে, আর ফ্রিজ ঠান্ডা করার ক্ষমতা হারাবে।
আরো পড়ুন: গরম পানির গিজার: জনপ্রিয় ব্র্যান্ড, মডেল, ধরন ও দাম
রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসার বিস্ফোরণের কারণ কি
রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসার বিস্ফোরণের মূল কারণ সাধারণত কয়েকটি বিষয় থেকে হয়ে থাকে।
প্রথমত, বৈদ্যুতিক শর্ট সার্কিট বা তারের সমস্যা হলে অতিরিক্ত কারেন্ট প্রবাহিত হয়ে কম্প্রেসার অতিরিক্ত গরম হয় এবং ভেতরে চাপ (Pressure) বেড়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে।
দ্বিতীয়ত, গ্যাস লিকেজ বা অতিরিক্ত গ্যাস ভরা থাকলে সেটি কম্প্রেসারের ভেতরে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি করে এবং তাপমাত্রা বেশি হয়ে গেলে বিস্ফোরণ হতে পারে। তৃতীয়ত, ভেতরে তেল বা গ্যাসের রাসায়নিক বিক্রিয়া (যেমন অশুদ্ধ রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার) হলে তা দাহ্য অবস্থার সৃষ্টি করে।
এছাড়া কম্প্রেসারের ভেতরে ভেন্টিলেশনের সমস্যা বা কুলিং ফ্যান না চললে অতিরিক্ত তাপ জমে যায়, যা বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ায়।
এ ধরনের দুর্ঘটনা এড়াতে সর্বদা সঠিক ভোল্টেজ ব্যবহার করা, মানসম্মত স্ট্যাবিলাইজার লাগানো, অনুমোদিত টেকনিশিয়ানের মাধ্যমে সার্ভিস করা এবং নকল বা অশুদ্ধ রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার না করা জরুরি।
আরো পড়ুন: ফ্রিজের দুর্গন্ধ দূর করার ঘরোয়া উপায়
রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ প্রতিরোধের উপায়
রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসার বিস্ফোরণ প্রতিরোধের জন্য কিছু বিষয় খুব গুরুত্বের সঙ্গে মেনে চলা প্রয়োজন।
- খেয়াল রাখতে হবে ভোল্টেজ ওঠানামা যেন কম্প্রেসারের ক্ষতি না করে, তাই একটি মানসম্মত ভোল্টেজ স্ট্যাবিলাইজার ব্যবহার করা নিরাপদ। - সবসময় অনুমোদিত ও সঠিক রেফ্রিজারেন্ট ব্যবহার করতে হবে, কারণ নকল বা ভুল ধরনের গ্যাস ভেতরে অস্বাভাবিক চাপ সৃষ্টি করে বিস্ফোরণের ঝুঁকি বাড়ায়। - নিয়মিত সার্ভিস ও রক্ষণাবেক্ষণের মাধ্যমে গ্যাস লিক, বৈদ্যুতিক তার এবং কম্প্রেসারের স্বাস্থ্য পরীক্ষা করানো উচিত, এতে সম্ভাব্য সমস্যা আগেই ধরা যায়। - ফ্রিজের তার বা প্লাগ যেন কখনও ক্ষতিগ্রস্ত বা ঢিলা না থাকে, কারণ সেখান থেকে শর্ট সার্কিট হতে পারে। - কম্প্রেসারের চারপাশে পর্যাপ্ত বাতাস চলাচলের ব্যবস্থা রাখতে হবে, যাতে অতিরিক্ত তাপ জমে না থাকে। - টেকনিশিয়ানদের দিয়ে অতিরিক্ত গ্যাস ভরানো থেকে বিরত থাকতে হবে, কারণ এতে প্রেসার বেড়ে বিস্ফোরণ ঘটতে পারে। - ফ্রিজ সবসময় সমতল স্থানে স্থাপন করতে হবে যাতে কম্প্রেসারের ভেতরে অস্বাভাবিক চাপ তৈরি না হয় - ঘরে অগ্নি-নিরাপত্তার ব্যবস্থা রাখা উচিত। রান্নাঘরে বা ফ্রিজের পাশে ছোট ফায়ার এক্সটিংগুইশার রাখুন, জরুরি সময় কাজে আসবে।
সব মিলিয়ে সঠিক ব্যবহার, নিয়মিত রক্ষণাবেক্ষণ ও নিরাপদ বৈদ্যুতিক সংযোগ নিশ্চিত করলে রেফ্রিজারেটরের কম্প্রেসার বিস্ফোরণের ঝুঁকি সহজেই এড়ানো সম্ভব।
আরো পড়ুন: মোবাইল ফোন বিস্ফোরণ: কারণ ও বাঁচার উপায়
২৫৫ দিন আগে
জন্মাষ্টমীর ইতিহাস ও তাৎপর্য
শুভ জন্মাষ্টমী, ভগবান শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি। ভাদ্র মাসের কৃষ্ণ অষ্টমী তিথিতে মথুরায় কংসের কারাগারে জন্ম নিয়েছিলেন শ্রীকৃষ্ণ। সেই পুণ্য তিথির স্মরণে পালন হয় জন্মাষ্টমী।
সনাতন ধর্ম অনুযায়ী, যখনই পৃথিবীতে অধর্ম বেড়ে গিয়ে ধার্মিক ও সাধারণের জীবন দুর্বিষহ হয়ে ওঠে, তখনই দুষ্টের দমন ও শিষ্টের পালনের মাধ্যমে ধর্মের রক্ষার জন্য ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অবতাররূপে ধরায় নেমে আসেন।
দিনটিতে শ্রীকৃষ্ণের পূজাসহ নানা অনুষ্ঠানের আয়োজন করে থাকেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
শ্রীকৃষ্ণের জন্মকাহিনী সম্পর্কে জানা যায়, দ্বাপর যুগে অত্যাচারী রাজা কংসের নৃশংসতায় অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছিল মথুরাবাসী (ভারতের)। কংসের হাত থেকে নিস্তার পাওয়ার জন্য ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা শুরু করে তারা। ভক্তের ডাকে সাড়া দেন ভগবান।
একদিন আদরের ছোট বোন দেবকী ও তার স্বামী বসুদেবকে নিয়ে রথে চড়ে যাচ্ছিলেন রাজা কংস। এমন সময় দৈববাণী হলো, ‘বোন দেবকীর অষ্টম সন্তানই হবে তোর মৃত্যুর কারণ।’
দৈববাণী শুনে সঙ্গে সঙ্গে বোনকে হত্যা করতে উদ্যত হলেন রাজা কংস, তবে বসুদেব তাকে এই বলে নিবৃত্ত করলেন, ‘আমাদের দুজনকে কারাগারে আটকে রাখুন। আমাদের সন্তান হলে আপনার হাতে তুলে দেওয়া হবে। জন্মের পরই আপনি তাদের হত্যা করে নিজের প্রাণ সংশয় কাটাবেন।’
বসুদেবের যুক্তি কংসের মনঃপুত হলো। তিনি তাদের কারাবন্দি করলেন। তারপর থেকে একে একে ছয়টি সন্তান কংসের হাতে তুলে দেন দেবকি ও বসুদেব, তবে সপ্তম সন্তান হাতে নেওয়ার পরই সে হাসতে হাসতে শূন্যে ভেসে যায়। যাওয়ার সময় সে কংসকে ‘তার মৃত্যু অবধারিত’ বলে হুঁশিয়ারি দিয়ে যায়।
পরে ভাদ্র মাসের শুক্লা পক্ষের অষ্টমী তিথির রাতে অষ্টম সন্তানের জন্ম দেন দেবকি। সে রাত ছিল ঝড়-ঝঞ্চাপূর্ণ। বৈরী আবহাওয়ার কারণে কারাগারের ফটকে কোনো রক্ষী সে সময় পাহারায় ছিল না।
এমন সময় এক দৈববাণীতে সদ্যোজাত ছেলেসন্তানকে নিরাপদে গোকুলে নন্দ-যশোদা দম্পতির কাছে রেখে আসতে বলা হয়। এ সময় কারাগারের দরজাও খুলে যায়। ফলে বসুদেব ঝড়-বৃষ্টি উপেক্ষা করে ছেলেকে নিয়ে গোকুলে যশোদার পাশে রেখে আসেন। আর সঙ্গে নিয়ে আসেন যশোদার সদ্যোজাত মেয়েকে।
পরে গোকুলেই বড় হতে থাকেন শ্রীকৃষ্ণ। পরবর্তী সময়ে দ্বারকার রাজা হয়ে তিনি যুদ্ধে মথুরারাজ কংসকে পরাজিত ও হত্যা করেন।
সেই থেকে শ্রীকৃষ্ণের জন্মতিথি ভাদ্র মাসের শুক্লা অষ্টমীতে জন্মাষ্টমী পালন করে থাকেন সনাতন ধর্মাবলম্বীরা। তারা বিশ্বাস করেন, পাশবিক শক্তি যখন সত্য, সুন্দর ও পবিত্রতাকে গ্রাস করতে উদ্যত হয়, তখনই ধর্ম সংস্থাপনের জন্য ভক্তের প্রার্থনায় সাড়া দিয়ে ঈশ্বর অবতার রূপে পৃথিবীতে আসেন। ষড়গুণ অর্থাৎ শৌর্য, বীর্য, তেজ, জ্ঞান, শ্রী ও বৈরাগ্যসম্পন্ন পূর্ণাবতাররূপে প্রকাশিত হন কৃষ্ণ।
অনন্ত সর্বশক্তিমান সত্তায় শাশ্বত সত্যরূপে শ্রীকৃষ্ণকে বিষ্ণুর সবচেয়ে অপরূপ অবতার বলে মনে করা হয়। সনাতন ধর্মাবলম্বীরা বিশ্বাস করেন জন্মাষ্টমীতে শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায় জগতের সব সুখ লাভ হয়; মঙ্গল হয় পরিবার, দেশ ও সমাজের। তাই তো শুধু মথুরা নয়, শ্রীকৃষ্ণের লীলাক্ষেত্র বৃন্দাবন থেকে শুরু করে সারা বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীরাই তিথিটি ভক্তিভরে পালন করে থাকেন।
তাদের বিশ্বাস, এই দিনটিতে ব্রত পালন করলে মনের ময়লা দূর হয়; সৎগুণের জয় হয় এবং এর ফলস্বরূপ মৃত্যুর পর জীবাত্মার মুক্তি হয়।
শ্রীমদ্ভগবতগীতায় বলা হয়, ‘যে যেভাবে আমায় আরাধনা করে, আমি সেইভাবে তাকে কৃপা করি।’ এ বিশ্বাসেই মহাকাল ও মহাজগৎ ব্যাপ্ত শ্রীকৃষ্ণের আরাধনায় মত্ত বিশ্বের সনাতন ধর্মাবলম্বীরা।
গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন, ‘যদা যদা হি ধর্মস্য গ্লানির্ভবতি ভারত। অভ্যুত্থানম ধর্মস্য তদাত্মানং সৃজাম্যহম্। পরিত্রাণায় সাধুনাং বিনাশায় চ দুস্কৃতাম্। ধর্মসংস্থাপনার্থায় সম্ভবামি যুগে যুগে।’
অর্থাৎ, ধর্মের গ্লানি ও অধর্মের বৃদ্ধির তাৎপর্য হলো ভগবতপ্রেমী, ধর্মাত্মা, সদাচারী, নিরপরাধ মানুষের ওপর নাস্তিক, পাপী, দুরাচার, বলবান ব্যক্তিদের অত্যাচার বৃদ্ধি পাওয়া। মানুষের মধ্যে সদগুণ, সদাচার অত্যন্ত কমে গিয়ে দুর্গুণ-দুরাচার অত্যধিক বৃদ্ধি পায়। আর যখনই এমন পাপাচার শুরু হয় পৃথিবীতে, তখনই শ্রীকৃষ্ণ দুষ্কৃতকারীদের বিনাশ, সাধুর রক্ষা, ধর্ম সংস্থাপনে অবতাররূপে পৃথিবীতে আসেন।
নিজের জন্ম নিয়ে ভগবান শ্রীকৃষ্ণ বলেন, ‘আমার জন্ম-মৃত্যু সাধারণ মানুষের মতো নয়। মানুষ জন্মগ্রহণ করে এবং মারা যায়, কিন্তু আমি জন্মরহিত হয়েও আবির্ভূত হই এবং অবিনশ্বর হয়েও অন্তর্ধান করে থাকি। আবির্ভূত হওয়া এবং অন্তর্হিত হওয়া—দুটিই আমার অলৌকিক লীলা।’
গীতায় ভগবান শ্রীকৃষ্ণ অর্জুনকে বলেন, ‘আমি জন্মহীন, অব্যয় আত্মা, ভূতগণের ঈশ্বর হয়েও নিজ প্রতীকে আশ্রয় করে আত্মমায়ায় জন্মগ্রহণ করি।’
যিনি সর্বাপেক্ষা বৃহৎ, তিনিই ভগবান। বেদে তার পরিচয় ব্রহ্ম। আমাদের ষড় ইন্দ্রীয়, আমাদের ক্ষুদ্র মন, আমাদের সংকীর্ণ বুদ্ধি এসবের বহু ঊর্ধ্বে তিনি। তাকে পাওয়া আমাদের সাধ্যের বাইরে, তবে তাকে পাওয়ার জন্য ভক্তের নিরন্তর আকুলতা সৃষ্টিকর্তার মনেও দোলা না দিয়ে পারে না। এ সমস্যার সমাধান করলেন তিনি নিজেই নিত্য ও অনুগ্রহ শক্তির প্রেরণায়।
গীতার ৭/১০ অধ্যায়ে অর্জুনকে শ্রীকৃষ্ণ বলেন, ‘হে পার্থ, আমাকে সর্বভূতের সনাতন বীজ বলিয়া জানিও। আমি বুদ্ধিমানদিগের বুদ্ধি এবং তেজস্বীগণের তেজস্বরূপ।’
৪/১১ অধ্যায়ে শ্রীকৃষ্ণ বলেন, ‘যে যেভাবে আমায় আরাধনা করে, আমি সেইভাবে তাহাকে কৃপা করি।’
জন্মাষ্টমী উপলক্ষে বাংলাদেশ পূজা উদযাপন পরিষদ, মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ও ইসকনসহ বিভিন্ন সামাজিক সাংস্কৃতিক ও ধর্মীয় সংগঠন ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। বাণী দিয়েছেন অন্তর্বর্তী সরকারের প্রধান উপদেষ্টা অধ্যাপক মুহাম্মদ ইউনূস।
আজ সরকারি ছুটি। বাংলাদেশ বেতার ও টেলিভিশনসহ বেসরকারি স্যাটেলাইট চ্যানেলে সম্প্রচারিত হবে বিশেষ অনুষ্ঠান।
শ্রীকৃষ্ণের শুভ জন্মাষ্টমী উপলক্ষে মহানগর সর্বজনীন পূজা কমিটি ঢাকেশ্বরী জাতীয় মন্দিরে কেন্দ্রীয়ভাবে কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্যে রয়েছে, সকাল ৮টায় দেশ ও জাতির মঙ্গল কামনায় গীতাযজ্ঞ ও বিকেল ৩টায় ঐতিহাসিক জন্মাষ্টমী মিছিল ও রাতে শ্রীকৃষ্ণ পূজা।
বিকেল ৩টায় পলাশীর মোড়ে ঐতিহাসিক কেন্দ্রীয় জন্মাষ্টমী মিছিলের উদ্বোধন হবে। এই ঐতিহাসিক মিছিল আনুষ্ঠানিকভাবে উদ্বোধন করবেন সেনাপ্রধান জেনারেল ওয়াকার-উজ-জামান। এছাড়াও নৌবাহিনী প্রধান এ্যাডমিরাল মোহাম্মদ নাজমুল হাসান, বিমান বাহিনী প্রধান এয়ার চিফ মার্শাল হাসান মাহমুদ খান এবং নবম পদাতিক ডিভিশনের জিওসি মেজর জেনারেল মো. মঈন খান অনুষ্ঠানে উপস্থিত থাকবেন।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানের পর এই ঐতিহাসিক মিছিল প্রতি বছরের মতোই জগন্নাথ হল, শহীদ মিনার, দোয়েল চত্বর, হাইকোর্ট মোড়, বঙ্গবাজার, গোলাপশাহ মাজার হয়ে পুরনো ঢাকার বাহাদুর শাহ পার্কে গিয়ে শেষ হবে।
পবিত্র জন্মাষ্টমী উপলক্ষে দ্বিতীয় দিনের অনুষ্ঠান ১৯ আগস্ট মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় আয়োজিত হবে আলোচনা সভা। আলোচনা সভায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রাথমিক ও গণশিক্ষা মন্ত্রণালয়ের উপদেষ্টা অধ্যাপক ডা. বিধান রঞ্জন রায় পোদ্দার এবং অনুষ্ঠান উদ্বোধন করবেন ঢাকা মহানগর পুলিশের কমিশনার শেখ মো. সাজ্জাত আলী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন হিন্দু ধর্মীয় কল্যাণ ট্রাস্টের ভাইস চেয়ারম্যান তপন মজুমদার। সভাপতিত্ব করবেন মহানগর সার্বজনীন পূজা কমিটির সভাপতি জয়ন্ত কুমার দেব।
আন্তর্জাতিক কৃষ্ণভাবনামৃত সংঘ (ইসকন) এ উপলক্ষে চার দিনব্যাপী (১৪ থেকে ১৭ আগস্ট পর্যন্ত) ব্যাপক কর্মসূচি গ্রহণ করেছে। কর্মসূচির মধ্য রয়েছে শ্রীমদ্ভাগবত পাঠ, ভজন কীর্তন, ভোগ আরতি, মহাপ্রসাদ বিতরণ, আলোচনা সভা, সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও ধর্মীয় নাটক কীর্তন মেলা।
২৬২ দিন আগে
কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী আজ
দেশে-বিদেশে খ্যাতি ছড়ানো কিংবদন্তি চিত্রশিল্পী এস এম সুলতানের ১০১তম জন্মবার্ষিকী আজ। ১৯২৪ সালের ১০ আগস্ট তিনি নড়াইলের মাছিমদিয়া গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। এ বছর নানা আয়োজনে শিল্পীর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপনের পরিকল্পনা করা হয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে আলোচনা সভা, প্রদর্শনী, বই প্রকাশনা ও গবেষণা উদ্যোগ।
শনিবার (৯ আগস্ট) সন্ধ্যায় রাজধানীর ধানমন্ডির বেঙ্গল শিল্পালয়ে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব আয়োজনের কথা জানান এস এম সুলতান জাতীয় ও আন্তর্জাতিক জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন কমিটি।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে ‘দ্য লেগেসি অব আর্টিস্ট সুলতান: ইমাজিনেশন, বিউটি অ্যান্ড দ্য পলিটিক্স অব আপলিফটিং দ্য কমন ম্যান’ শীর্ষক আলোচনা সভার আয়োজন করা হয়।
একুশে পদকপ্রাপ্ত প্রখ্যাত আলোকচিত্রী ও কমিটির সদস্যসচিব নাসির আলী মামুন স্বাগত বক্তব্যে বলেন, গত বছর জুলাইয়ের উত্তাল পরিস্থিতির কারণে শিল্পীর জন্মশতবার্ষিকী উদযাপন করা যায়নি। তাই এ বছর দুই বছরের উদযাপন একসঙ্গে করা হচ্ছে।
বর্ণাঢ্য আয়োজনের মধ্য দিয়ে বরেণ্য শিল্পীর জন্মদিন পালন করা হচ্ছে। বৈচিত্র্যময় আয়োজনের মধ্যে রয়েছে— চিত্রকলা ও আলোকচিত্র প্রদর্শনী, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, কর্মশালা এবং এস এম সুলতান স্মারক বক্তৃতা। তাছাড়া শিল্পীর জীবন, কর্ম ও দর্শন নিয়ে বইও প্রকাশ করা হবে।
২৬৮ দিন আগে
পটেটো চিপস খেয়ে নিজের বিপদ ডেকে আনছেন না তো!
আপনি আলু খেতে ভালোবাসেন? উত্তর যদি ‘হ্যাঁ’ হয়, তাহলে আলুর চিপস বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই দেখলে নিশ্চয়ই আপনার জিভে জল চলে আসার যাওয়ার কথা!
তাহলেই আপনাকেই বলছি। চিপস বা ফ্রেঞ্চ ফ্রাই জাতীয় খাবার মুখে তোলার আগে একটু থামুন।
সম্প্রতি এক গবেষণায় জানা গেছে, আলুর চিপস মানুষের শরীরে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলতে পারে।
অবশ্য এ কারণে আলু খাওয়াই বাদ দিতে হবে, এমন কোনো কিছু নয়। চিপস স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না হলেও আলু সেঁকে, সিদ্ধ করে কিংবা ভর্তা করে খাওয়া যেতে পারে। তাতে স্বাস্থ্যঝুঁকি নেই।
ব্রিটিশ মেডিকেল জার্নালে প্রকাশিত ওই গবেষণা অনুযায়ী, সপ্তাহে তিনবার ফ্রেঞ্চ ফ্রাই খেলে ডায়াবেটিস হওয়ার ঝুঁকি ২০ শতাংশ বাড়ে, আর সপ্তাহে পাঁচবার খেলে এই ঝুঁকি বেড়ে যায় ২৭ শতাংশ পর্যন্ত।
বিশ্বব্যাপী চাল ও গমের পর তৃতীয় সর্বাধিক খাওয়া খাদ্যশস্য হলো আলু।
যুক্তরাজ্যে প্রতি ১০ জন ডায়াবেটিস রোগীর মধ্যে ৯ জনই টাইপ-২ ডায়াবেটিসে আক্রান্ত। এর সঙ্গে দেশটির জীবনযাপনের ধরন, বিশেষ করে খাদ্যাভ্যাস ঘনিষ্ঠভাবে সম্পর্কিত বলে জানিয়েছেন বিশেষজ্ঞরা।
আরও পড়ুন: ধীরেসুস্থে খাবার না খেয়ে বিপদ টানছেন নাতো?
গবেষণায় দেখা গেছে, আলু শরীরের জন্য ক্ষতিকর নয়, তবে আলুকে ভেজে চিপস তৈরি করে তা প্রতিনিয়ত খেলে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকি বেড়ে যায়।
হার্ভার্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ সাইয়েদ মোহাম্মদ মুসাভির নেতৃত্বে পরিচালিত এক আন্তর্জাতিক গবেষকদল আলু খাওয়ার সঙ্গে টাইপ-২ ডায়াবেটিসের ঝুঁকির সম্পর্ক পরীক্ষা করেছেন।
এই গবেষণায় ১৯৮৪ থেকে ২০২১ সালের মধ্যে প্রতি চার বছর অন্তর যুক্তরাষ্ট্রের ২ লাখ ৫ হাজার স্বাস্থ্যকর্মীর পূরণ করা খাদ্যসংক্রান্ত প্রশ্নাবলি বিশ্লেষণ করা হয়েছে।
২৭১ দিন আগে
জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে ঢাবিতে কনসার্ট ও ড্রোন শো
২০২৪ সালের ঐতিহাসিক জুলাই গণঅভ্যুত্থানের বর্ষপূর্তিতে স্মরণীয় করে রাখতে আগামী সোমবার (১৪ জুলাই) ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে কনসার্ট ও ড্রোন শো প্রদর্শিত হবে।
ওই দিন রাত ১২টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের রাজু চত্বরের উপরে প্রদর্শিত হবে ড্রোন শো ‘জুলাই বিষাদসিন্ধু’।
শনিবার (১২ জুলাই) সংস্কৃতি বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের জ্যেষ্ঠ তথ্য অফিসার মাহবুবুর রহমান তুহিন এসব তথ্য নিশ্চিত করেছেন।
দিনটি উপলক্ষে আয়োজিত উইমেন ডে কনসার্টে সংগীত পরিবেশন করবেন শিল্পী সায়ান, এলিটা করিম, পারসা এবং ব্যান্ড এফ মাইনর ও ইলা লালা।
২৯৭ দিন আগে
সাপে কাটলে কী করবেন? কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলা জরুরি?
বৃষ্টি মৌসুমগুলোতে ভারী বর্ষণের তীব্রতা বাড়ার সাথে সাথে দেখা দেয় বন্যা। আর বন্যা মানেই নানা ধরণের কীট-পতঙ্গের পাশাপাশি শুরু হয় সাপের উপদ্রব। এমনকি এই চিত্র কেবল গ্রামেরই নয়, শহরাঞ্চলগুলোরও একই অবস্থা। এছাড়া যারা বর্ষার সময় বনে বা পাহাড়ে ঘুরতে যান তাদেরও প্রায় সময় সাপের কবলে পড়তে হয়। তাছাড়া বিগত বছরগুলোতে দেশ জুড়ে সাপে কাটার ঘটনা আশঙ্কাজনক মাত্রায় রয়েছে। সব থেকে উদ্বেগের ব্যাপার হলো- সঠিক জ্ঞান না থাকার কারণে অনেকেই পরিস্থিতি সামাল দিতে ব্যর্থ হন। তাই চলুন, সাপে কামড়ালে কী করণীয় এবং কোন বিষয়গুলো এড়িয়ে চলতে হবে তা জেনে নেওয়া যাক।
সাপে কাটলে কী করা উচিত
সাপে কাটা ব্যক্তিকে যত দ্রুত সম্ভব হাসপাতালে নেওয়ার ব্যবস্থা করা উচিত। হাসপাতালে যাওয়ার পথে আক্রান্ত ব্যক্তির প্রাণরক্ষার জন্য তাৎক্ষণিকভাবে নিম্নোক্ত পদক্ষেপগুলো নেওয়া উচিত:
- সাপে কামড়ানো ব্যক্তি প্রায় ক্ষেত্রে অতিরিক্ত আতঙ্কিত হয়ে পড়েন। অনেক ক্ষেত্রে এই মানসিক অবস্থা প্রাণঘাতী হতে পারে। তাই আক্রান্ত ব্যক্তির ভয় দূর করে তাকে আশ্বস্ত করতে হবে এবং সাহস দিতে হবে। বিশেষত নির্বিষ সাপের দংশনে মৃত্যু হয় না। আর বাংলাদেশের অধিকাংশ সাপেরই বিষ নেই। বিষধর সাপের সংখ্যা খুবই কম। তাছাড়া এগুলো অধিকাংশ সময় শিকারের শরীরে পর্যাপ্ত বিষ ঢুকিয়ে দিতে ব্যর্থ হয়।
আরো পড়ুন: বর্ষা-বন্যায় বসতবাড়িতে সাপের উপদ্রব মোকাবিলা করবেন যেভাবে
- ব্যক্তির আক্রান্ত অঙ্গকে অবশ্যই স্থির করে রাখতে হবে। খুব বেশি নড়াচড়া করা যাবে না। হাঁটাচলা বা অধিক ঝাঁকুনির সম্মুখীন না করে স্থির ভাবে আধশোয়া অবস্থায় রাখা উত্তম।
- ক্ষতস্থানে একটু চাপ প্রয়োগ করে ব্যান্ডেজ বেধে দিতে হবে। এই প্রাথমিক চিকিৎসাটি প্রেসার ইমোবিলাইজেশন নামে পরিচিত। ব্যান্ডেজের বদলে গামছা, ওড়না বা এ জাতীয় কাপড় ব্যবহার করা যেতে পারে।
- রোগী শ্বাস না নিলে অবিলম্বে তার মুখে শ্বাস দেওয়ার ব্যবস্থা করতে হবে।
- আক্রান্ত স্থান জীবাণুমুক্ত করার জন্য সাবান দিয়ে ধুয়ে ভেজা কাপড় দিয়ে হাল্কা ভাবে মুছে নিতে হবে।পড়নে অলঙ্কার বা ঘড়ি কিংবা তাগা, তাবিজ থাকলে তা খুলে ফেলতে হবে। নতুনবা এগুলো রক্তপ্রবাহে বাধা সৃষ্টি করতে পারে, যা চিকিৎসা প্রক্রিয়ার জন্য ক্ষতিকর।
আরো পড়ুন: মরণঘাতী ড্রাগ ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ থেকে বাঁচতে করণীয়
২৯৯ দিন আগে
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতির অবনতি, বাড়ছে উদ্বেগ
খুলনা বিভাগে ডেঙ্গু পরিস্থিতি অবনতি হচ্ছে উদ্বেগজনক হারে। গত এক সপ্তাহে বিভাগের ১০ জেলায় মশাবাহিত এই রোগে আক্রান্ত হয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন ১১৭ জন। তাদের মধ্যে ৫৭ জন এখনো চিকিৎসাধীন রয়েছেন। অনেক রোগীর শরীরে দেখা দিচ্ছে নতুন উপসর্গও।
আগস্ট থেকে ডিসেম্বর মাস পর্যন্ত ডেঙ্গু সংক্রমণের মৌসুম ধরা হলেও এ বছর জুন-জুলাই মাসেই ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়ছে। প্রতিদিনই হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন নতুন নতুন রোগী।
খুলনা মেডিকেল কলেজ (খুমেক) হাসপাতালে ভর্তি থাকা রোগী তানজিলা আক্তার বলেন, ‘জ্বর হওয়ার পর শরীর কাঁপতে থাকে, তারপর বমি শুরু হয়। ডাক্তাররা বলেছেন, ডেঙ্গু। আগে কখনো এমন হয়নি।’
ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়ে খুমেকে ভর্তি বাগেরহাটের শরণখোলা উপজেলার সোলাইমান মিয়া। সঙ্গে ছিলেন তার বোন। এই নারী বলেন, ‘বড় ভাই খেত-খামারে কাজ করে। হয়তো সেখান থেকে মশার কামড়ে ডেঙ্গু হতে পারে। প্রথমে তাকে শরণখোলা উপজেলা হাসপাতালে নিয়ে গিয়েছিলাম। জ্বর না কমায় পরীক্ষা করে ডেঙ্গু ধরা পড়ে। পরে খুলনায় নিয়ে আসি।’
আরেক রোগীর স্বজন রফিকুল ইসলাম বলেন, ‘হাসপাতালে ডেঙ্গু রোগীদের জন্য আলাদা কোনো ব্যবস্থা নেই। আলাদা ব্যবস্থা না থাকলে সবার জন্যই রিস্ক (ঝুঁকি)।’
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু আক্রান্তের ঊর্ধ্বগতির মধ্যে বরিশালে একজনের মৃত্যু
চিকিৎসকদের ভাষ্য, এবার ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে জ্বরের সঙ্গে ঝাঁকুনি, বমি, ও অতিরিক্ত দুর্বলতার উপসর্গ বেশি দেখা যাচ্ছে।
সম্প্রতি বরগুনায় ভয়াবহ আকারে ছড়িয়েছে ডেঙ্গু। এই জেলায় এমন ডেঙ্গু সংক্রমণের কারণ হিসেবে সূত্র জানিয়েছে, বরগুনায় সংরক্ষিত বৃষ্টির পানি থেকেই ভয়াবহভাবে ছড়িয়েছে এই রোগ।
একই রকমভাবে খুলনা, সাতক্ষীরা ও বাগেরহাটের ৭ উপজেলার কয়েক লাখ মানুষ ড্রাম, ট্যাংক বা অন্যান্য পাত্রে বৃষ্টির পানি সংরক্ষণ করেন। এসব জায়গা সহজেই এডিস মশার প্রজননস্থলে পরিণত হচ্ছে। ফলে খুলনা বিভাগের এসব উপজেলার মানুষও একই রকম ঝুঁকিতে রয়েছে।
এ বিষয়ে খুলনা নাগরিক কমিটির সদস্য সচিব অ্যাডভোকেট বাবুল হাওলাদার বলেন, ‘ডেঙ্গু পরিস্থিতি ভয়াবহ হওয়ার শঙ্কা থাকলেও সিটি করপোরেশনের কার্যকর পদক্ষেপ চোখে পড়ছে না। আগের তুলনায় আরও বেশি মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার করার প্রয়োজন হলেও মনে হচ্ছে আগের থেকে তা কমিয়ে ফেলেছে তারা।’ হাসপাতালগুলোর প্রস্তুতি নিয়েও অসন্তোষ প্রকাশ করেন তিনি।
খুলনা বিশ্ববিদ্যালয়ের বায়োটেকনোলজি অ্যান্ড জেনেটিক ইঞ্জিনিয়ারিং ডিসিপ্লিনের অধ্যাপক ড. কাজী দিদারুল ইসলাম বলেন, ‘এ বছর অন্য সময়ের চেয়ে আগেই ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাবে দেখা গেছে। ডেঙ্গু রোগীদের মধ্যে নতুন লক্ষণও দেখা গেছে। ধারণা করা হচ্ছে, এটি ডেঙ্গু ওয়ান সেরোটাইপ। প্রতিটি সেরোটাইপ নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আলাদা আলাদা ব্যবস্থা নিতে হবে।’
তিনি বলেন, ‘শুধুমাত্র লার্ভিসাইড স্প্রে করে পরিবর্তিত সেরোটাইপের কারণে কিন্তু সেভাবে ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণ সম্ভব নয়! এ রকম পরিস্থিতিতে আমরা বলছি যে, সমন্বিত ডেঙ্গু প্রতিরোধ কার্যক্রম প্রয়োজন এবং সেটি এখনই।’
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের খুলনা বিভাগীয় পরিচালক ডা. মো. মজিবুর রহমান জানান, মশক নিধন কার্যক্রম জোরদার এবং হাসপাতালগুলোকে প্রস্তুত রাখতে প্রতিটি জেলাকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে।
৩০৫ দিন আগে
ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ধরন নারী-পুরুষ ভেদে ভিন্ন: গবেষণা
ক্যানসার বিশ্বব্যাপী এক মরণব্যাধি। সাম্প্রতিক বছরগুলোতে ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্তের হার উল্লেখযোগ্য হারে বেড়েছে। তবে শরীরের কোন অংশে এই ব্যাধি দেখা দেবে, তা নারী ও পুরুষের ক্ষেত্রে ভিন্ন—এমন তথ্য উঠে এসেছে একটি নতুন গবেষণায়। বিশেষজ্ঞদের মতে, সচেতনতা অবলম্বনের মাধ্যমে ত্বকের ক্যানসার প্রতিরোধই সবচেয়ে কার্যকর উপায়।
যুক্তরাজ্যভিত্তিক গবেষণা সংস্থা ক্যানসার রিসার্চ ইউকে (সিআরইউকে) সম্প্রতি এ বিষয়ে একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে। এতে চলতি বছর ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা বাড়তে পারে বলেও প্রতিবেদনে আশঙ্কা প্রকাশ করা হয়েছে। খবর দ্য গার্ডিয়ান।
গবেষণা প্রতিবেদনের তথ্যমতে, প্রতি ১০ জন পুরুষের মধ্যে ৪ জনের পিঠ, বুক ও পেটে মেলানোমা ধরনের ত্বক ক্যানসার দেখা দেয়। বছরে প্রায় ৩ হাজার ৭০০ পুরুষ এই ক্যানসারে আক্রান্ত হন। ত্বকের সবচেয়ে বিপজ্জনক ক্যানসার হলো মেলানোমা।
অন্যদিকে, ৩৫ শতাংশ নারীর কোমর থেকে পা পর্যন্ত অংশে এ ক্যানসার দেখা দেয়। প্রতি বছর প্রায় ৩ হাজার ২০০ নারী এতে আক্রান্ত হন।
গবেষকরা মনে করেন, নারী-পুরুষের আচরণগত পার্থক্যের কারণেই এ ভিন্নতা দেখা দেয়। উদাহরণস্বরূপ, পুরুষরা প্রায়ই রোদে শার্ট ছাড়াই বের হন, আর নারীরা গরমকালে শর্টস বা স্কার্ট পরতে পছন্দ করেন।
আরও পড়ুন: স্তন ক্যান্সার শনাক্তে ভুমিকা রাখতে পারে এআই: গবেষণা
গবেষণায় দেখা গেছে, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মির সংস্পর্শে আসার কারণেই ৮৭ শতাংশ মেলানোমা ক্যানসার হয়। যুক্তরাজ্যে প্রতি বছর গড়ে প্রায় ১৭ হাজার মানুষ এতে আক্রান্ত হন।
‘মেলানোমা’ শব্দের অর্থ ‘কালো টিউমার’। এটি দ্রুত বৃদ্ধি পায় এবং শরীরের যেকোনো অঙ্গে ছড়িয়ে পড়ার ক্ষমতা রাখে।
সিআরইউকের তথ্যানুসারে, গত বছর যুক্তরাজ্যে মেলানোমা আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছায়। ২০০৭–০৯ সাল থেকে ২০১৭–১৯ সালের মধ্যে নতুন রোগীর হার প্রায় এক-চতুর্থাংশ বেড়ে প্রতি লাখে ২১ জন থেকে ২৮ জনে পৌঁছেছে।
৮০ বছরের বেশি বয়সীদের মধ্যে মেলানোমার হার ৫৭ শতাংশ এবং ২৫ থেকে ৪৯ বছর বয়সীদের মধ্যে ৭ শতাংশ বেড়েছে। সিআরইউকের অনুমান, চলতি বছর এ সংখ্যা ২১ হাজার ৩০০ জনে পৌঁছাতে পারে।
সিআরইউকের প্রধান নির্বাহী মিশেল মিচেল বলেন, ‘গবেষণার অগ্রগতির ফলে ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্তদের বেঁচে থাকার হার বাড়ছে। তবে মেলানোমায় আক্রান্তের সংখ্যা, বিশেষ করে পুরুষদের মধ্যে, বাড়ছে—এটা উদ্বেগজনক।’
বিশেষজ্ঞদের পরামর্শ
ত্বকের ক্যানসারে আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি বেড়ে যাওয়ায় উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন বিশেষজ্ঞরা। তাদের মতে, প্রতিরোধই এ ব্যাধি থেকে বাঁচার সর্বোত্তম উপায়।
ত্বকে নতুন কোনো তিল, তিলের আকার বা রঙের পরিবর্তন, অথবা অস্বাভাবিক কোনো দাগ দেখা দিলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের পরামর্শ নেওয়ার আহ্বান জানিয়েছেন মিশেল মিচেল। তিনি বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে রোগ নির্ণয় হলে প্রাণ বাঁচানো সম্ভব।
আরও পড়ুন: অস্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস ক্যান্সারের ঝুঁকি বাড়ায়: অস্ট্রেলিয়ায় গবেষণা
সিআরইউকের স্বাস্থ্যবিষয়ক তথ্য বিভাগের প্রধান ফিয়োনা ওসগুন এ বিষয়ে বেশ কিছু পরামর্শ দিয়েছেন।
তিনি বলেন, ‘আবহাওয়া গরম হলে রোদে সাবধানে থাকতে হবে। প্রতি কয়েক বছর পরপর রোদে পুড়ে গেলেই মেলানোমার ঝুঁকি তিনগুণ বেড়ে যায়। শুধু গরম নয়—রোদেলা যেকোনো দিনেই, এমনকি মেঘলা বা শীতল দিনেও, সূর্যের অতিবেগুনি রশ্মি ত্বকের ক্ষতি করতে পারে।’
তিনি আরও জানান, যুক্তরাজ্যে মার্চ থেকে অক্টোবরের মাঝামাঝি পর্যন্ত অতিবেগুনি রশ্মি ক্ষতিকর মাত্রায় থাকে।
ফিয়োনার পরামর্শ অনুযায়ী, কিছু সহজ পদ্ধতি অনুসরণ করলে ঝুঁকি কমানো সম্ভব। যেমন—বেলা ১১টা থেকে ৩টার মধ্যে ছায়ায় থাকা, সান হ্যাট ও সানগ্লাসসহ এমন পোশাক পরা যাতে ত্বক ঢাকা থাকে, এবং অন্তত এসপিএফ ৩০ ও ৪ বা ৫ তারকা মানের সানস্ক্রিন ব্যবহার করা।
ইংল্যান্ডের জাতীয় স্বাস্থ্য সংস্থার ক্যানসারবিষয়ক পরিচালক অধ্যাপক পিটার জনসন বলেন, ‘ত্বকের ক্যানসারের ক্ষেত্রে প্রতিরোধই সবচেয়ে ভালো উপায়। সূর্যের রশ্মি তীব্র হলে বাইরে যাওয়া এড়িয়ে চলুন এবং সানস্ক্রিন ব্যবহার করুন। কোনো উপসর্গ দেখা দিলে দেরি না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হন। কারণ, প্রাথমিক অবস্থায় রোগ নির্ণয় হলে তা প্রতিরোধযোগ্য।’
৩৪২ দিন আগে
কেমন হওয়া উচিত সকালের শুরুটা?
সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে অনেক কিছুই বর্তমানে বেশ সাড়া ফেলে, সম্প্রতি এক ইনফ্লুয়েন্সারের সকালের রুটিনের একটি ভিডিও ভাইরাল হয়েছে, কয়েক কোটি ভিউ পেয়েছে সেটি।
ভিডিওতে দেখা যায় আস্টন হল নামের ওই ইনফ্লুয়েন্সার ভোর চারটার আগে উঠে দাঁত ব্রাশ করছেন, এরপর তিনি সাঁতার কাটছেন, ধ্যান করছেন, জার্নাল পড়ছেন, কলার খোসা দিয়ে মুখ ঘষছেন, ওয়েট লিফটিং করছেন, বরফের মধ্যে মুখ ডোবেচ্ছন, এমন আরও অনেক কিছু করে শেষমেষ সকাল সাড়ে নয়টায় তিনি নাস্তা করেন।
তার এই রুটিন দেখে নেট দুনিয়ায় আলোচনার ঝড় উঠেছে; কিভাবে দিনের শুরু করা উচিত। যদির আস্টনের মতো ছয়ঘণ্টা ধরে দিনের শুরু করাকে বেশিরভাগের মানুষই বিলাসিতা বলেছেন।
তবে ছয়ঘণ্টা ধরে দিনের শুরু না করলেও সুন্দরভাবে শুরু করাটা আবশ্যক বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা। অনেকেই জানেন না, কিভাবে দিনের শুরু করা উচিত। আসুন, তবে জেনে নেওয়া যাক বিশেষজ্ঞরা কি বলেন।
আরও পড়ুন: শিশুদের পেটের মেদ কমাতে কী করবেন?
কিভাবে একটি সুন্দর দিনের শুরু করা যায়?
ইংল্যান্ডের সাইকোথেরাপিস্ট (মানসিক রোগের চিকিৎসা করেন যিনি) কামাল্যান কর বলেন, ‘দিনের শুরু ভালোভাবে করতে ডজনখানেক কাজ করার দরকার নেই। তবে সুস্থ, স্বাভাবিক ও গঠনমূলক একটি দিন অতিবাহিত করার জন্য সকালের কাজগুলো পুনর্মূল্যায়ন করা যেতেই পারে। যে কাজগুলো ব্যক্তির মন উৎফুল্ল রাখতে সহায়তা করে, পাশাপাশি সারাদিনের জন্য শক্তি যোগায়— সেগুলো জানা প্রয়োজন।’
কামাল্যান বলেন, ‘আপনি যদি সকালটি ভালোভাবে শুরু করেন, আপনার সারাদিন ভালো কাটবে, আপনি বেশ গোছালোভাবে আপনার দিনটি অতিবাহিত করতে পারবেন।’
মানুষের কাজকর্ম ঠিক কিভাবে তার জীবনকে প্রভাবিত করে, সেটি নিয়ে কয়েক বছর ধরে গবেষণা করছেন ওকলাহোমা বিশ্ববিদ্যালয়ের মনোবিজ্ঞানের অধ্যাপক শন ম্যাকক্লেইন।
প্রতিদিন সকালে রুটিনমাফিক একই ধরনের কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। শন বলেন, মানুষ যদি প্রতিদিন সকালে একই ধরনের কাজ করেন, তাহলে তার আলাদাকরে চিন্তা করতে হয় না। এতে অন্যসময়ে চিন্তাভাবনা করার জন্য মস্তিস্কে শক্তি সঞ্চিত হয়। সকালে রুটিন মাফিক কাজ করা এক ধরনের মনস্তাত্ত্বিক শর্টকার্ট।তিনি বলেন, মানুষের মস্তিস্ক সাধারণত অগুরুত্বপূর্ণ বিষয় নিয়ে তেমন চিন্তাভাবনা করতে পছন্দ করে না। চিন্তা-ভাবনার ক্ষেত্রে মানুষকে কৃপণ বলেছেন তিনি।
আরও পড়ুন: ধীরেসুস্থে খাবার না খেয়ে বিপদ টানছেন নাতো?
শনের গবেষণার তথ্যমতে, যেসব মানুষ কোনোরকম বিঘ্ন ছাড়া দিনের শুরুটা ভালোভাবে করেন, তারা কর্মক্ষেত্রে ভালো করেন, তারা শান্ত মেজাজে নিজেদের কাজগুলো করতে পারেন। অন্যদিকে যারা বিশৃঙ্খলভাবে দিনের শুরু করেন, তারা সারাদিন মানসিক ক্লান্তিতে ভোগেন।তিনি বলেন, সকালের রুটিনে কোনো বিঘ্ন ঘটলেই সারাদিন এলোমেলো হয়ে যায়।
একবার তার মেয়ের একটি প্রোগ্রামের কথা ভুলে অন্য কাজ করছিলেন বলেও জানান এই গবেষক।
সকালের রুটিনে কোন বিষয়গুলো থাকা ভালো?
শন বলেন, ‘প্রতিটি মানুষেরই কিছু না কিছু রুটিন থাকে। তবে খুব কম মানুষই সেটি ভেবেচিন্তে ঠিক করেন, বেশিরভাগ ক্ষেত্রেই কাজ করতে করতে সেটিই রুটিন হয়ে গেছে— বিষয়টি এমন।’
ঠিক কোন কাজগুলো সকালে করা ভালো এটি নির্দিষ্টভাবে বলা কঠিন বলে মনে করেন তিনি। কারণ একজনের জন্য যেটি কার্যকর সেটি আরেকজনের জন্য না-ও হতে পারে। তবে কিছু কাজ সবার ক্ষেত্রেই ক্ষতিকর।
কামাল্যান কর বলেন, সকালে তাড়াহুড়ো করে গোসল করা, খাওয়া কিংবা বাসা থেকে বের হওয়া এগুলো খারাপ জিনিস। এর ফলে মানুষের শরীর থেকে অতিরিক্ত কর্টিসোল হরমোন নিঃসরণ হয়। এই হরমোনটি মানুষের সার্কাডিয়ান রিদমের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
সার্কাডিয়ান রিদম হলো দিনভর একটি মানুষের শরীর কিভাবে কাজ করবে, তা পরিচালনার জন্য একটি ঘড়ির মতো ব্যবস্থা। যেখানে মানুষের ঘুমিয়ে পড়া, জেগে ওঠা, শরীরের তাপমাত্রা থেকে শুরু করে মানসিক অবস্থা, সব ধরনের ক্ষুধা সবই নিয়ন্ত্রিত হয়।
কামাল্যান বলেন, এই সার্কাডিয়ান রিদমের কারণেই মানুষ সকালে জেগে ওঠে। তবে অতিমাত্রায় কর্টিসোল নিঃসৃত হলে সেটি মানুষের মধ্যে উদ্বিগ্নতা ও অস্বস্তির সৃষ্টি করে।
খালি পেটে কফি খেলে শরীরের যে ক্ষতি হয়, এক্ষেত্রেও ঠিক সেরকম বলে জানান তিনি।
সকালে যেসব মানুষের এমন তাড়াহুড়ো হয়ে থাকে, তাদের এলার্ম ৩০ মিনিটি আগে দেওয়ার পরামর্শ দিয়েছেন কামাল্যান। তবে এলার্ম দিয়ে আরেকটু ঘুমানোর জন্য ‘স্নুজ বাটন’ চাপতে নিষেধ করেছেন তিনি। এতে বরং মানুষ সারাদিন তন্দ্রাচ্ছন্ন থাকেন বলে জানান তিনি।
আরও পড়ুন: কতটুকু ঘুম দরকার সুস্থ মানুষের?
সকালে উঠে এমন অন্তত দুই বা তিনটি কাজ করার পরামর্শ দিয়েছেন কামাল্যান যেটি ব্যক্তির মন ভালো করতে সহায়ক হয়। উদাহরণস্বরুপ তিনি বিছানা গোছানোর কথা বলেছেন। কারণ অগোছালো পরিবেশ মানুষের মধ্যে উদ্বেগ সৃষ্টি করে, আর সকালে প্রথম যে কাজটা করা হয় সেটি ভালো অনুভব করার জন্য ডোপামিন হরমোন নিঃসৃত করে।
এরপর এক গ্লাস পানি পানের পরামর্শ দিয়েছেন তিনি। রাতভর ঘুমশেষে শরীর কিছুটা শুষ্ক (ডিহাইড্রেট) হয়ে যায়, তাই পানি প্রয়োজন। পাশাপাশি নাস্তা না করা পর্যন্ত কফি জাতীয় কিছু না খাওয়ার জন্য বলেছেন কামাল্যান।
এছাড়া ঘুম থেকে ওঠার পর প্রাকৃতিক আলোতে কিছুটা হাঁটার পরামর্শ দেন তিনি। এমনকি মেঘলা আবহাওয়া হলেও এই হাঁটা সার্কাডিয়ান রিদমের জন্য ফলপ্রসূ বলে জানান এই চিকিৎসক।
কামাল্যান বলেন, সারাদিন ভালোভাবে চলার জন্য, ‘ঠিকঠাকভাবে নিজের কাজ করার জন্য এই অভ্যাসগুলো অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।’
৩৭৭ দিন আগে