জীবনধারা
খেজুরের রকমফের: জেনে নিন ১০ প্রকার খেজুরের পুষ্টি, স্বাস্থ্যগুণ ও দাম
পবিত্র রমজান মাস আসার সঙ্গে সঙ্গে যে ফলটির চাহিদা সর্বাধিক বৃদ্ধি পায় তা হলো খেজুর। বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মুসলমানদের মতো বাংলাদেশিদের কাছেও এটি ইফতার শুরুর একটি ঐতিহ্যবাহী উপায়। জাতভেদে প্রতিটিরই রয়েছে অনন্য স্বাদ। এছাড়া অধিকাংশ খেজুরেরই রং, পুষ্টি ও স্বাস্থ্যগুণ প্রায় কাছাকাছি। রোজা ছাড়া প্রতিদিনের জলখাবার বা ভারী খাবারের সঙ্গেও খেজুর দারুণ একটি সংযোজন। এই ফলটি নিয়েই আজকে স্বাস্থ্য বিচিত্রা। চলুন, দেশের বাজারে চলমান বিশ্ব নন্দিত ১০টি খেজুরের জাত, উৎস, পুষ্টি, স্বাস্থ্যগুণ ও বাজার দর সম্বন্ধে জেনে নেওয়া যাক।
বর্তমান বাজারের জনপ্রিয় ১০টি খেজুর
.
আজওয়া
মাঝারি ডিম্বাকৃতি কুঁচকুঁচে কালো বর্ণের আজওয়া খেজুর উৎপন্ন হয় সৌদি আরবের মদিনায়। সম্পূর্ণ চর্বিহীন এই ফল প্রাকৃতিক চিনির শর্করা উপাদানসহ প্রোটিনে ভরপুর। এতে আরও আছে ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন ও পটাসিয়াম। খনিজ পুষ্টিগুলো হাড়ের গঠনকে মজবুত করে। পেশীর ফাংশন ও হৃদযন্ত্রে সামগ্রিক সুস্থতার বিকাশ ঘটায়। আর ফাইবার হজমশক্তি ত্বরান্বিত করে পরিপাকতন্ত্র স্বাভাবিক রাখে।
আরও পড়ুন: বন্য খেজুর থেকে ভিনেগার উৎপাদন বাকৃবি গবেষকের
মানের ভিত্তিতে খুচরা কাঁচা বাজারে আজওয়ার দাম কেজি প্রতি ৬৪০-৮০০ টাকা। কোনো কোনো বাজারে এগুলো ১ হাজার ২০০ থেকে ২ হাজার টাকা বিক্রি হয়।
মেডজুল
বৃহদাকৃতি ও সুমিষ্ট স্বাদের জন্য বিশ্বব্যাপি স্বীকৃত মেডজুল। এই খেজুর উৎপন্ন হয় মরক্কোর তাফিলাল্ত অঞ্চলে। এগুলো ফিনিক্স ড্যাক্টাইলিফেরা প্রজাতির উদ্ভিদ থেকে চাষ করা হয়। বর্তমানে এগুলো মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র, ইস্রায়েল ও মধ্যপ্রাচ্যের বেশ কয়েকটি দেশে ব্যাপকভাবে চাষ করা হয়।
শরীরের পর্যাপ্ত ক্যালরির জন্য মাত্র দুটি মেডজুলই যথেষ্ট। এর কার্বহাইড্রেটের বিশাল অংশ হচ্ছে অর্গানিক শর্করা, যা দেহে প্রয়োজনীয় শক্তির ধারক ও বাহক হিসেবে কাজ করে। মেডজুলে বিদ্যমান পুষ্টিকর ফাইবার ও প্রোটিন হজমের কার্যকারিতা বৃদ্ধি করে। এতে আরও আছে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ও আয়রনের মতো খনিজ পদার্থ।
এই উচ্চ অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট সম্পন্ন উপাদানগুলো অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের বিরুদ্ধে লড়াই করতে সাহায্য করে। ফাইবার সামগ্রী রক্তে শর্করার মাত্রা বজায় রাখে ও ওজন ঠিক রাখার ক্ষেত্রে উপযোগী ভূমিকা পালন করে। আকার ও বাজারের পৌঁছানোর পূর্বে প্রক্রিয়াকরণের উপর ভিত্তি করে এই খেজুরের দামে যথেষ্ট তারতম্য হয়। এই পরিধি নিম্নে ৯২০-৯৬০ টাকা থেকে শুরু করে সর্বোচ্চ ১০০০- ১৮০০ টাকা হয়ে থাকে।
আরও পড়ুন: খেজুর আমদানিতে আগাম কর প্রত্যাহার
মারিয়াম
প্রাথমিকভাবে ইরানে চাষকৃত এই খেজুর মাঝারি থেকে বড় আকারের হয়ে থাকে। ফিনিক্স ড্যাক্টাইলিফেরা প্রজাতি ভুক্ত গাছ থেকে উৎপন্ন এই খেজুর মুখে দেওয়ার সঙ্গে সঙ্গে গলে যায়। প্রাকৃতিক শর্করার আধার এই ফল মানবদেহে শক্তি যোগানের একটি মূল্যবান উৎস।
পুষ্টি উপাদান হিসেবে হজম-সহায়ক ফাইবারের উপস্থিতি হজমে সহায়তা করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ অংশ নেয়। পাশাপাশি বিদ্যমান পটাসিয়াম, ক্যালসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রনের মতো খনিজ উপাদানগুলো রক্তনালীগুলোকে শিথিল রাখে ও হাড়কে শক্তিশালী করে। বিভিন্ন স্থানীয় বাজারভেদে বর্তমানে মারিয়াম খেজুরের দাম ৫০০ টাকা থেকে ১ হাজার টাকা পর্যন্ত রাখা হচ্ছে।
খুরমা খেজুর
দক্ষিণ এশিয়ার বিভিন্ন দেশের পাশাপাশি খুরমা খেজুরের উৎপাদনকারী অঞ্চলগুলোর মধ্যে দক্ষিণপূর্ব এশিয়ারও ব্যাপক পরিচিতি রয়েছে। বাংলাদেশে খেজুরের এই জাতকে সাধারণত শুকনো খেজুর বলা হয়। বাজারজাত করার পূর্বে কড়া রোদে শুকানো হয় বিধায় এগুলো খাওয়ার জন্য উপযোগী গঠন ও মিষ্টি স্বাদ পায়।
শুকনো খেজুর কার্বোহাইড্রেট ও প্রাকৃতিক ফাইবারে সমৃদ্ধ, যা দেহে শক্তি যোগায় ও হজম এবং অন্ত্রের সুস্বাস্থ্য বজায় রাখে। পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম ও আয়রনের মতো গুরুত্বপূর্ণ খনিজের উপস্থিতি থাকায় এগুলো হৃদরোগ, পেশীর নড়াচড়া ও রক্তে অক্সিজেন পরিবহনে অবদান রাখে। এ ছাড়াও এতে রয়েছে পরিশোধিত চিনি সমৃদ্ধ জৈব শর্করা, যা অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট বৈশিষ্ট্যের অধিকারি। সুতরাং নিত্য আহারে এই ফল রাখা মানে শরীরের অক্সিডেটিভ স্ট্রেস থেকে মুক্তি পাওয়া। দেশের নানা স্থানের কাঁচা বাজারগুলোতে এগুলোর দাম প্রতি কেজিতে ৩০০ থেকে ৮০০ টাকা। তবে প্রিমিয়াম জাতের মূল্য ১ হাজার ২০০ থেকে ১ হাজার ৩০০ টাকাও ছাড়িয়ে যায়।
আরও পড়ুন: চুয়াডাঙ্গায় রস সংগ্রহে খেজুর গাছ প্রস্তুত করতে ব্যস্ত গাছিরা
সুক্কারি
ক্যারামেল ও মধুর মিশ্রণযুক্ত স্বাদ ও সোনালী বর্ণযুক্ত সৌদি আরবের সুক্কারি সারা বিশ্বব্যাপি জনপ্রিয়। অধিকাংশ নরম খেজুরগুলোর মতো এটিও মুখে দিতেই ব্যতিক্রমি স্বাদে পুরো মুখ ভরে যায়। পুষ্টিগত দিক থেকে সুক্কারি দ্রুত শক্তিবর্ধক অর্গানিক শর্করায় ভরপুর। এতে থাকা ফাইবারগুলো পরিপাক সচল রেখে হজমের সুস্বাস্থ্যে অবদান রাখে।
খনিজ উপাদানগুলোর মধ্যে পটাসিয়ামের আধিক্য বেশি, যা রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রের কার্যকারিতার বিকাশ ঘটায়। এগুলোর অ্যান্টিঅক্সিডেন্ট উপাদান শরীরকে প্রদাহ থেকে রক্ষা করে। মান ও জাতের ভিন্নতার উপর নির্ভর করে সুক্কারির প্রতি কেজির দাম ২৫০ থেকে ৬৩০ টাকার মধ্যে ওঠানামা করে।
মাবরুম
সৌদি আরবে চাষকৃত মাবরুম খেজুর বেশ লম্বাকৃতি ও লালচে-বাদামী রঙের হয়। এর আবরণটি বেশ দৃঢ় হয় ও অন্যান্য খেজুর থেকে এর মিষ্টতা কিছুটা কম। চিনি কম থাকলে মাবরুম হজম-সহায়ক ফাইবারে সমৃদ্ধ, যা পরিপাকতন্ত্রের যাবতীয় সমস্যা নিরসণে অংশ নেয়।
ফলটি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি ৬ ও আয়রন সরবরাহ করে থাকে। পুষ্টি উপাদানগুলোর পরিমিত সমন্বয় হৃদরোগ, রক্ত, পেশী ও মস্তিষ্ক-জনিত স্বাস্থ্যঝুঁকিগুলো দূর করে। প্রতি কেজি ৪০০-৪৫০ টাকা। তবে সৌদিতে বাছাইকৃতগুলোর মূল্য ১২০০ টাকা পর্যন্ত রাখা হয়।
আরও পড়ুন: খেজুরের মূল্য নির্ধারণ করে দিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়
কালমি
সৌদি আরবের মদিনায় উৎপন্ন হওয়া এই খেজুরের আরেক নাম সাফাভি। আকারে মাঝারি থেকে লম্বা, রঙ কালো। বাহ্যিক আবরণ হাল্কা আর্দ্র ও নরম। এটি দ্রুত শক্তিবর্ধকের জন্য অপরিশোধিত শর্করা ও স্বাস্থ্যকর অন্ত্রের বিকাশে উপযোগী ফাইবারের যোগান দেয়।
খনিজ পদার্থের এই ভান্ডারে রয়েছে পটাসিয়াম, আয়রন ও ম্যাগনেসিয়ামের পরিমিত সমন্বয়। এগুলো রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ, হৃদপিণ্ডের সুস্বাস্থ্য, পেশীর সচলতা, স্নায়ুর কার্যকারিতা ও হিমোগ্লোবিনের সঞ্চালনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। কালমির বর্তমান বাজারের দর কেজি প্রতি ৮০০ থেকে ১ হাজার টাকার মধ্যে।
আম্বার
ফিনিক্স ড্যাক্টাইলিফেরা গাছ ও মদিনায় উৎপন্ন খেজুরের এই জাতকে ‘আনবারা’ নামেও ডাকা হয়। মোটা খেজুরগুলোর গঠন একটু ব্যতিক্রম আকৃতির ও রঙে গাঢ় বাদামীর সঙ্গে থাকে কালচে আভার মিশ্রণ। আম্বারের প্রধান পুষ্টিগুনগুলোর মধ্যে রয়েছে— অপরিশধিত শর্করা ও ফাইবার, আয়রন, পটাসিয়াম এবং ম্যাগনেসিয়াম।
তাই প্রতিদিনের খাদ্যতালিকায় আম্বার খেজুর রাখা মানে হজম, রক্তচাপ, পেশী ও হাড়ের সমুন্নত কার্যকারিতা বজায় রাখা। স্থানীয় বাজারে প্রাপ্যতা ও চাহিদার উপর ভিত্তি করে এগুলোর প্রতি কেজির মূল্য ৭০০-১৬০০ টাকা পর্যন্ত ওঠানামা করে।
আরও পড়ুন: নিপাহ ভাইরাস সতর্কতা: কাঁচা খেজুরের রস খাওয়ার ঝুঁকি
জাহেদী
হালকা সোনালী-বাদামী রঙের ও ডিম্বাকৃতির মাঝারি আকারের এই খেজুরের উৎপত্তিস্থল ইরাক। বাইরের বাদামের গন্ধ বিশিষ্ট আবরণটি আধা-শুষ্ক ও দৃঢ় এবং স্বাদ হাল্কা মিষ্টি।
জাহেদী খেজুর শরীরের জন্য প্রয়োজনীয় হজমকারী ফাইবার, কার্বোহাইড্রেট, শর্করা, পটাসিয়াম ও সোডিয়াম সরবরাহ করে। এতে রয়েছে ম্যাগনেসিয়াম, ভিটামিন বি৬, আয়রন, ফ্ল্যাভোনয়েড ও অ্যামিনো অ্যাসিড। এগুলো সক্রিয়ভাবে পরিপাক ক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে, রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণ করে এবং রক্ত প্রবাহে অক্সিজেন পরিবহন বাড়ায়। বাজার প্রতি কেজির মূল্য ন্যূনতম ২২০-২৫০ টাকা।
দাব্বাস
একদম ছোট থেকে মাঝারি গড়নের গাঢ় বাদামী রঙের দাব্বাস খেজুর চাষের প্রধান অঞ্চল সংযুক্ত আরব আমিরাত। প্রায় সব ধরণের খেজুরের মতো এটিও সংগৃহীত হয় ফিনিক্স ড্যাক্টাইলিফেরা উদ্ভিদ থেকে।
এই ফলে আছে ফাইবার, ক্যালসিয়াম, আয়রন, পটাসিয়াম ও সেলেনিয়াম। পুষ্টি উপাদানগুলো সামগ্রিক ভাবে হজম, হৃদযন্ত্রের ক্রিয়া ও রক্তে অক্সিজেন পরিবহনে কার্যকরি অবদান রাখে। এই খেজুরের অ্যান্টি-ডিহাইড্রেশন, সোডিয়াম ও পটাসিয়ামের ভারসাম্য বজায় রাখার বৈশিষ্ট্যও রয়েছে। এগুলোর মূল্য সাধারণত প্রতি কেজিতে কমপক্ষে ৪০০ থেকে সর্বোচ্চ ৭০০ টাকা।
আরও পড়ুন: গ্রামে নগরায়নের ছোঁয়া, খুলনায় মিলছে না খেজুরের রস
শেষাংশ
বিশ্বের নানা অঞ্চল থেকে উৎসরিত অনন্য স্বাদের এই ১০ রকম খেজুর রমজানে রোজাদারদের স্বাস্থ্যের সামগ্রিক উন্নতিতে অবদান রাখে। তন্মধ্যে কালো বর্ণের আজওয়া অ্যান্টিঅক্সিডেন্টে ভরপুর। আকারে বড় ও সুমিষ্ট খেজুর হিসেবে স্বীকৃত মেডজুল ও আম্বার, অন্যদিকে নমনীয়তার দিক থেকে মারিয়াম খেজুর প্রসিদ্ধ।
দাব্বাসের ভেতরটাও একই রকম কোমল। দক্ষিণ এশিয়ার প্রসিদ্ধ খাবার খুরমা খেজুর, আর সুক্কারির জনপ্রিয়তা তার ক্যারামেল-সদৃশ স্বাদের জন্য। দীর্ঘক্ষণ মুখে রেখে সুঘ্রাণ সৃষ্টির জন্য মাবরুম বেশ উপযোগী। জাহেদীতে রয়েছে হালকা বাদামের স্বাদ, আর অন্যান্য খেজুরের তুলনায় অত্যধিক খনিজ উপদান মিলবে কালমি বা সাফাভিতে। সব মিলিয়ে রোজাকালীন আহার থেকে দীর্ঘ বিরতিতে এই খেজুরগুলো হতে পারে দেহের শক্তি সঞ্চয়ের উৎকৃষ্ট মাধ্যম।
আরও পড়ুন: বাসা-বাড়ির রান্নায় সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ কমাবেন যেভাবে
৪২৮ দিন আগে
ঠান্ডা না গরম পানি পান করবেন?
পানি মানবদেহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। পর্যাপ্ত পানি পান করার অনেক উপকারিতা রয়েছে। তবে পানির তাপমাত্রা আপনার শরীরকে বিভিন্নভাবে প্রভাবিত করতে পারে। এটি নির্দিষ্ট করে বলা কঠিন যে গরম বা ঠান্ডা পানি কোনটি আপনার স্বাস্থ্যের জন্য পান করা বেশি উপকারী। এটি আপনার ব্যক্তিগত পছন্দ, পরিস্থিতি এবং স্বাস্থ্যের ওপর নির্ভর করে।
গরম পানি পান করার উপকারিতা
ওয়ার্ল্ড জার্নাল অব ফার্মাসিউটিক্যাল রিসার্চ অনুযায়ী, ২০২০ সালের একটি গবেষণার ফলাফলে দেখা গেছে গরম পানি কাশি (৭১ শতাংশ), শ্বাসকষ্ট (৭১ শতাংশ) এবং স্থূলতা (৫৭ শতাংশ) কমাতে সহায়ক। উষ্ণ পানি পানের কয়েকটি মূল উপকারিতা নিম্নরূপ:
হজমে সহায়তা করে
গরম পানি খাবার ভেঙে হজম প্রক্রিয়াকে সহজ করতে পারে। এটি হজম এনজাইমগুলোকে সক্রিয় করে, যার ফলে খাবার ভালোভাবে পরিপাক হয়। খাবারের আগে গরম পানি পান করা হজমে সহায়ক হতে পারে।
তবে খুব বেশি গরম পানি পান করা উচিত নয়, কারণ এটি জিহ্বা, তালু এবং খাদ্যনালীর ক্ষতি করতে পারে। দীর্ঘমেয়াদে অতিরিক্ত গরম পানীয় গ্রহণ খাদ্যনালীর ক্যানসারের ঝুঁকি বাড়াতে পারে।
আরো পড়ুন: ভিমরুলের কামড় কতটা ভয়ংকর? সাবধানতা ও করণীয়
নাক ও বুকে জমে থাকা কফ দূর করে
যদি নাক বা বুকে কফ জমে থাকে—তাহলে গরম পানি তা শিথিল করতে সহায়তা করতে পারে। এটি গলা ব্যথা উপশম করতে পারে এবং শ্বাসনালী পরিষ্কার করতে সহায়ক।
রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে
গরম পানি রক্তনালী প্রসারিত করে, যা অক্সিজেন সরবরাহ বাড়ায় এবং শরীর থেকে টক্সিন বের করতে সাহায্য করে। এটি হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতিতেও সহায়ক।
৪৩২ দিন আগে
রাতে বাসে বা গণপরিবহনে নিরাপদে ভ্রমণে কিছু সতর্কতা
সন্ধ্যার পর নিকটস্থ বা দূরপাল্লার গন্তব্যে যাতায়াতের জন্য আপনি বাস বা গণপরিবহন ব্যবহার করেন? রাতে বাস বা গণপরিবহনে ভ্রমণের সময় নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে কিছু সতর্কতা অবলম্বন করা উচিত।
সান্ধ্য বা নৈশ ভ্রমণে যানবাহনে করণীয়-বর্জনীয়
.
পরিকল্পিতভাবে ভ্রমণ করুন
পরিকল্পিতভাবে ভ্রমণ করলে যাত্রা আরামদায়ক ও নিরাপদ হয়। যদি বাস বা ট্রেনের টিকিট বুকিং করার সুযোগ থাকে, তাহলে মাঝামাঝি আসন নিন। রাতের বেলায় ভ্রমণের ক্ষেত্রে জানালার পাশে বা বাসের খুব পেছনের আসন এড়িয়ে চলাই ভালো।
যদি সম্ভব হয়, পরিচিত কাউকে আপনার যাত্রার তথ্য (গন্তব্য, সম্ভাব্য পৌঁছানোর সময়) জানিয়ে রাখুন।
আরো পড়ুন: বাসা-বাড়িতে ডাকাতি প্রতিরোধে করণীয়
নির্ভরযোগ্য যানবাহন ব্যবহার করুন
নির্দিষ্ট গন্তব্যে যাওয়ার জন্য নির্ভরযোগ্য বাস বা যানবাহন বেছে নিন। সরকারি বা স্বীকৃত পরিবহন সংস্থার যানবাহন ব্যবহার করুন। বাস বা গাড়ির রুট ও সময়সূচি সম্পর্কে আগেই জেনে নিন।
অ্যাপ-ভিত্তিক রাইড শেয়ারিং পরিষেবা (যেমন Uber, Pathao) ব্যবহার করলে গাড়ির তথ্য যাচাই করুন।
নিজের অবস্থান গোপন রাখুন
বর্তমান যুগে অনেকেই নিজের দৈনন্দিন কার্যকলাপ এবং ব্যক্তিগত তথ্য সোশ্যাল মিডিয়াতে প্রকাশ করে থাকেন। যারা সন্ধ্যার পর বা রাতে ভ্রমণ করেন তাদের জন্য এটি ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। অপরিচিতদের সঙ্গে ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করবেন না। যদি সম্ভব হয়, যাত্রাপথের লাইভ লোকেশন পরিবার বা বন্ধুকে শেয়ার করুন।
আরো পড়ুন: রমজানে রোজা রাখার প্রস্তুতি: দেহ ও মনকে সুস্থ রাখতে করণীয়
সতর্ক থাকুন ও চারপাশ পর্যবেক্ষণ করুন
অপরিচিত বা সন্দেহজনক ব্যক্তির সঙ্গে অতিরিক্ত কথা বলা বা ব্যক্তিগত তথ্য শেয়ার করা এড়িয়ে চলুন। ব্যস্ত থাকলেও মোবাইলে পুরোপুরি মনোযোগ দেবেন না, চারপাশের পরিস্থিতি লক্ষ্য রাখুন। সন্দেহজনক কিছু দেখলে বা অনুভব করলে বাসচালক বা সহযাত্রীদের জানান।
ভিড় এড়িয়ে চলুন
খুব বেশি ভিড় থাকলে বা সন্দেহজনক পরিস্থিতি দেখলে সেই যানবাহনে না ওঠাই ভালো। গুরুত্বপূর্ণ জিনিসপত্র যেমন মানিব্যাগ, ফোন বা ব্যাগ নিজের কাছেই রাখুন।
আত্মরক্ষায় প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে রাখুন
প্রয়োজনে আত্মরক্ষার জন্য ছোটখাটো সরঞ্জাম (যেমন: পেপার স্প্রে, হুইসল, ফোল্ডিং মেটাল সেফটি রড, ইত্যাদি ) সঙ্গে রাখতে পারেন। ফোনের ব্যাটারি ও মোবাইল ডাটা চালু রাখুন, যাতে প্রয়োজনে সাহায্য চাইতে পারেন।
আরো পড়ুন: পবিত্র ওমরাতে যাওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি ও কিছু সাবধানতা
জরুরি নম্বর সংরক্ষণ করুন
স্থানীয় পুলিশ, বাস সার্ভিস হেল্পলাইন ও পরিচিতজনের নম্বর সহজেই পাওয়া যায় এমন জায়গায় রাখুন। বিপদের সময় ৯৯৯ (বাংলাদেশের জরুরি সেবা) তে কল করুন।
যাত্রা পথে অপরিচিত ব্যক্তির দেয়া কিছু খাবেন না
যাত্রাকালে অনেক যাত্রী পার্শ্ববর্তী যাত্রীকে ভদ্রতার খাতিরে বা বন্ধুসুলভভাবে খাদ্য-পানীয় গ্রহণে অনুরোধ করেন। যাত্রীর ছদ্মবেশে অনেক সময় মলম পার্টির লোকেরা খাবারে বিষাক্ত কেমিকাল মিশিয়ে দেয়। এই খাবার গ্রহণের পর যাত্রীরা অচেতন হয়ে পড়লে তারা সর্বস্ব লুটে নেয়। এধরণের পরিস্থিতিতে ঝুঁকি এড়াতে অপরিচিত ব্যক্তির দেয়া কিছু না খাওয়া নিরাপদ।
ভ্রমণের সময় ভারসাম্য বজায় রাখুন
যদি বাস বা যানবাহন চলন্ত অবস্থায় থাকে, তবে হঠাৎ উঠে দাঁড়ানো বা নড়াচড়া করা এড়িয়ে চলুন। হাতল বা সাপোর্ট ধরে রাখুন যাতে হঠাৎ ব্রেক করলে পড়ে না যান। সম্ভব হলে হেলপারকে আপনার গন্তব্যস্থল আগেই জানিয়ে রাখুন, যাতে গাড়ি উক্তস্থানে পৌঁছালে আপনাকে ডেকে নিতে পারে।
আরো পড়ুন: তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে: জানুন কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ
মোবাইল ফোন নিরাপদে রাখুন
অনেকেই বাসে বা গণপরিবহনে যাত্রাকালে মোবাইল ফোন বের করে সোশ্যাল মিডিয়া স্ক্রলিং করেন। এ ধরনের অভ্যাস ছিনতাইয়ের ঝুঁকি বাড়িয়ে দিতে পারে। বিশেষ করে জানালার পাশে বসলে খুব জরুরি প্রয়োজন ছাড়া মোবাইল ফোন বের না করে নিরাপদ। সম্ভব হলে, যাত্রা শেষ না হওয়া পর্যন্ত ফোন বের না করে, নিরাপদে পকেটে বা ব্যাগে রাখুন।
উপসংহার
ব্যক্তিগত বা জরুরি প্রয়োজনে কিংবা পেশাগত কারণে অনেকেই সন্ধ্যার পরে বা রাতের দিকে গণ পরিবহনে যাতায়াত করেন । উপরোল্লিখিত বিষয়গুলোতে সতর্কতা অবলম্বন করলেই রাতের ভ্রমণকে আরও নিরাপদ করা সম্ভব।
আরো পড়ুন: মরণঘাতী ড্রাগ ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ থেকে বাঁচতে করণীয়
৪৩৫ দিন আগে
মরণঘাতী ড্রাগ ‘ডেভিলস ব্রেথ’ বা ‘শয়তানের নিঃশ্বাস’ থেকে বাঁচতে করণীয়
রাস্তাঘাটে সংঘটিত অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের গুরুতর দিক হচ্ছে রাসায়নিক বস্তুর অপব্যবহার। সাম্প্রতিক সময়ে সবচেয়ে মারাত্মক ড্রাগ হলো ডেভিলস ব্রেথ বা শয়তানের নিঃশ্বাস। এর ভয়াবহ প্রভাবে ভুক্তভোগীরা কোনো রকম প্রতিরোধ ছাড়াই দুর্বৃত্তদের সহজ শিকারে পরিণত হয়। বিশ্বজুড়ে ক্রমবর্ধমান এই বিপদ থেকে দূরে থাকার জন্য প্রয়োজন সর্বস্তরে জনসচেতনতা। চলুন, ডেভিলস ব্রেথ বা শয়তানের নিঃশ্বাস আসলে কি ধরনের ড্রাগ ও কিভাবে এর থেকে নিরাপদ থাকা যায়- তা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
ডেভিলস ব্রেথ বা শয়তানের নিঃশ্বাস কী
নাইটশেড গোত্রভুক্ত উদ্ভিদ (যেমন রাজঘণ্টা, ধুতুরা)-এর পাতা থেকে ট্রোপেন অ্যালকালয়েড নামক এক ধরনের শক্তিশালী জৈব যৌগ পাওয়া যায়। কথিত আছে প্রাকৃতিকভাবে উৎসরিত এই নির্যাসটি মানুষকে জোম্বি বা জিন্দালাশে পরিণত করে। আর তাই উদ্ভিদবিজ্ঞানে স্কোপোলামিন নামে অভিহিত এই রাসায়নিক বস্তুটি বিশ্বজুড়ে পরিচিতি পেয়েছে শয়তানের নিঃশ্বাস বা ডেভিলস ব্রেথ নামে।
তবে এমন অদ্ভূত নামের জন্য দায়ী এর অ্যান্টিকোলিনার্জিক বৈশিষ্ট্য। এর ফলে মস্তিষ্কের নিউরনগুলোর পারস্পরিক বার্তা আদান-প্রদানের মাঝে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি হয়। তাই এটি অতি অল্প মাত্রায় মোশন সিকনেস এবং অত্যধিক বমির চিকিৎসায় ঔষধ হিসেবে ব্যবহার করা হয়। তবে পরিমিত মাত্রায় আরোগ্য দানকারী এই ঔষধই অনিয়ন্ত্রিত মাত্রায় বিষ হয়ে ওঠে। এর নেতিবাচক প্রভাবের মধ্যে রয়েছে মস্তিষ্ক বিভ্রম, হ্যালুসিনেশন এবং ঝাপসা দৃষ্টি। এমনকি এর মাত্রাতিরিক্ত সেবনে চরম পর্যায়ে শ্বাসকষ্ট, হার্ট-অ্যাটাক ও মৃত্যু পর্যন্ত হতে পারে।
আরো পড়ুন: অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়
স্কোপোলামিনের ব্যাপক অসদ্ব্যবহার দেখা যায় নানা ধরনের অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে। খাবার, পানীয় বা শ্বাস-প্রশ্বাসের মাধ্যমে এটি শরীরে প্রবেশ করার সঙ্গে সঙ্গে আক্রান্ত ব্যক্তির হ্যালুসিনেশন শুরু হয়। এ সময় মস্তিষ্ক বিভ্রমের কারণে তাৎক্ষণিকভাবে ভুক্তভোগীর স্বাধীন ইচ্ছা শক্তির বিলুপ্তি ঘটে। যখন বিভ্রান্তি কেটে যায় তখন অধিকাংশ ক্ষেত্রে ব্যক্তি কিছুই মনে করতে পারেন না। গন্ধ ও স্বাদ কোনোটাই না থাকায় এই রাসায়নিক পদার্থটি তাৎক্ষণিকভাবে শনাক্ত করারও উপায় থাকে না।
আর এই সামগ্রিক কারণে চোর ও ছিনতাইকারীদের ভয়ানক অস্ত্রে পরিণত হয়েছে স্কোপোলামিন। দুষ্কৃতিকারী খাবারে মিশিয়ে অথবা মুখের উপর এর গুঁড়ো ফুঁ দিয়ে জনসাধারণকে আক্রান্ত করে। এছাড়া অনেকে অপরিচিতদের সাহায্য আবেদনে তাদের বাড়িয়ে ধরা কাগজ চোখের কাছে নিয়ে পড়তে যেয়েও ধরাশায়ী হন। এরপর তাকে যা করতে বলা হয় সে কোনো ধরনের দ্বিধা না করে তা অনুসরণ করে। ফলশ্রুতিতে ঘটনাটি আশেপাশের লোকেদের মনেও কোনো সন্দেহের উদ্রেক করে না। এভাবে কোনোরকম বল প্রয়োগ ছাড়াই অসহায় ব্যক্তিটির সর্বস্ব লুটে নেওয়া হয়।
ডেভিলস ব্রেথ বা শয়তানের নিঃশ্বাস থেকে বাঁচার ১০টি উপায়
.
অপরিচিতদের দেওয়া খাবার বা পানীয় গ্রহণ না করা
বিভিন্ন গণপরিবহন, যাত্রী ছাউনী, পার্ক, রেস্তোরা ও আবাসিক হোটেল এ ধরনের ঘটনা ঘটে থাকে। এগুলোতে পরিবেশিত কোনো একটি খাবারে মেশানো থাকতে পারে ভয়াবহ স্কোপোলামিন। এসব জায়গা বাদেও যেকোনো অযাচিত খাবারের সুযোগ ভদ্রতার সঙ্গে ফিরিয়ে দেওয়া শ্রেয়। এমনকি অস্বাস্থ্যকর ফেরীওয়ালাদের খাবারও এড়িয়ে চলা উচিত। কেননা সেই বিক্রেতা যেকোনো দুষ্কৃতি চক্রের অন্তর্ভুক্ত নয়, তার কোনো নিশ্চয়তা নেই।
আরো পড়ুন: এসির বাতাসে শিশুকে নিরাপদ রাখবেন যেভাবে
খাবার বা পানীয় উন্মুক্ত না রাখা
কোথাও খেতে বসে মাঝে কিছুক্ষণের জন্য কোথাও যাওয়ার সময় খাবার উন্মুক্ত অবস্থায় রাখা উচিত নয়। আশেপাশেই কোথাও ঘাপটি মেরে থাকা কোনো দুর্বৃত্তের জন্য এটি হতে পারে সুবর্ণ সুযোগ। ফিরে এসে হয়ত খাবার সেই আগের স্থানেই পাওয়া যাবে, কিন্তু তা আগের মতো বিশুদ্ধ নাও থাকতে পারে। তাই একা হলে নিজের কেনা বা সঙ্গে করে বহন করা খাবারটি সর্বদা সঙ্গেই রাখতে হবে। সঙ্গী থাকলে তখন কোথাও যেতে হলে খাবার তার দায়িত্বে রেখে যাওয়া যেতে পারে। অবশ্য পরিস্কার-পরিচ্ছন্নতার দিক থেকে ভাবলেও তা ঢেকে রেখে যাওয়াটাই উত্তম।
অপরিচিতদের বাড়িয়ে ধরা কাগজ গ্রহণের ব্যাপারে সাবধান
অনেক প্রতারক চক্র আইডি কার্ড, প্রেসক্রিপশন, এমনকি সাদা কাগজে লেখা ঠিকানা জানতে চেয়ে সাহায্য প্রার্থনা করে। তখন সাহায্য করতে উদ্যত হওয়া ব্যক্তিটি কাগজটি চোখের কাছাকাছি নিতেই ঘটে বিপত্তি। নিঃশ্বাসের সঙ্গে স্নায়ুতন্ত্রে পৌঁছে যায় বিপজ্জনক মাত্রার ডেভিলস ব্রেথ। তাই নিজের নিরাপত্তাকে অগ্রাধিকার দিয়ে এ ধরনের অনুরোধগুলো এড়িয়ে চলতে হবে। নতুনবা একবার এই বিষক্রিয়া শুরু হয়ে গেলে আশপাশ থেকেও কোনো সাহায্য প্রাপ্তির অবকাশ থাকবে না।
ফুল বিক্রেতাদের ফুলের সুবাস নেওয়া থেকে বিরত থাকা
নিজস্ব কোনো গন্ধ না থাকায় ডেভিলস ব্রেথ অন্যান্য ফুলের সঙ্গে মিশিয়েও শিকারের উপর প্রয়োগ করা যায়। যানজট অথবা পার্কের মতো জায়গাগুলোতে প্রায়ই ফুল বিক্রেতাদের আনাগোণা দেখা যায়। এদের থেকে ফুল কেনার সঙ্গে সঙ্গে তার সুবাস নেওয়া ঠিক নয়। বরং এ ধরনের স্থানগুলোতে এদের এড়িয়ে চলাই উত্তম। বিষয়টি ফুটপাত বা ভ্রাম্যমাণ আতর বা পারফিউম বিক্রেতাদের ক্ষেত্রেও প্রযোজ্য।
আরো পড়ুন: ভিমরুলের কামড় কতটা ভয়ংকর? সাবধানতা ও করণীয়
পথে-ঘাটে চলতে ফিরতে সর্বদা মাস্ক পরিধান করা
করোনা মহামারির সময়ের মতো সার্বক্ষণিক মাস্ক পড়ে চলা কার্যকরী একটি সুরক্ষা পদ্ধতি। পোর্টেবল এয়ার পিউরিফায়ার মাস্ক বায়ুবাহিত যেকোনো টক্সিনের বিরুদ্ধে সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে পারে। এই মাস্কগুলোতে থাকা ফিল্টার বাতাসকে পরিশোধিত করে সুস্থ শ্বাস-প্রশ্বাসে সহায়তা করে।
সবসময় সঙ্গে পকেট স্যানিটাইজার রাখা
একই সঙ্গে একটি পকেট স্যানিটাইজার সঙ্গে রাখাটাও অনেক অনাকাঙ্ক্ষিত বিপত্তির মোকাবেলা করতে পারে। কোভিড-১৯ চলাকালীন সবার মধ্যেই ঘন ঘন হাত স্যানিটাইজের অভ্যাসটি চালু হয়ে গিয়েছিল। বর্তমানে স্কোপোলামিন সংক্রান্ত দুর্ঘটনা প্রতিরোধের ক্ষেত্রেও এই অভ্যাসটির পুনরাবৃত্তি প্রয়োজন।
কোনো কিছু স্পর্শ করার পর হাত স্যানিটাইজ না করে অন্যান্য কাজ করা যাবে না। যাদের মধ্যে ঘন ঘন নাকে-মুখে হাত দেওয়ার প্রবণতা রয়েছে তাদের জন্য এই সতর্কতা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এমনকি অতি গরমের সময় অতিরিক্ত ঘাম মুছার জন্যও মুখমন্ডলে স্পর্শ করার দরকার পড়ে। এ পরিস্থিতিতে একটি পকেট স্যানিটাইজার হতে পারে স্বাস্থ্য সুরক্ষা কবজ।
আরো পড়ুন: বাইপোলার ডিসঅর্ডার: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার
টাকা লেনদেনের পর হাত স্যানিটাইজ করা
দৈনন্দিন কাজে ঘন ঘন হাত বদল হওয়ার জন্য টাকা-পয়সা হতে পারে স্কোপোলামিন পরিবহনের সহজ মাধ্যম। তাই লেনদেনের পর সর্বদা হাত ভালভাবে স্যানিটাইজ করে নিতে হবে। বিশেষত জনাকীর্ণ এলাকায় এই সচেতনতা অবলম্বন জরুরি। যাদের মধ্যে জিহ্বে আঙ্গুল দিয়ে টাকা গোণা বা বইয়ের পাতা উল্টানোর প্রবণতা রয়েছে তাদের ডেভিলস ব্রেথে আক্রান্ত হওয়ার আশঙ্কা সর্বাধিক। তাই যেকোনো মূল্যে ঘন ঘন মুখমন্ডল স্পর্শ করার অভ্যাস পরিত্যাগ করা অত্যাবশ্যক।
ব্যক্তিগত জিনিসপত্র অপরিচিতদের নাগালের বাইরে রাখা
কেবল অপরিচিতদের দেওয়া জিনিস গ্রহণ করা থেকে বিরত থাকলেই হবে না। সেই সাথে খেয়াল রাখতে হবে নিজের জিনিসপত্রও যেন তাদের নাগালের বাইরে থাকে। নিজের কেনা খাবারের সাথে সাথে ব্যাগ, মানিব্যাগ, ও মোবাইল ফোনসহ প্রতিটি জিনিস সযত্নে রাখতে হবে। কোনোভাবেই নিজের নাগালের বাইরে রাখা যাবে না। অন্যথায় এ জাতীয় ছোট ছোট জিনিসপত্রে ক্ষতিকর পদার্থ মেশানোর জন্য কয়েক সেকেন্ডই যথেষ্ট।
বিভিন্ন জায়গা সরবরাহকৃত স্প্রে জাতীয় পণ্য ব্যবহারে সাবধানতা
বিভিন্ন পর্যটনকেন্দ্রের আবাসিক হোটেলগুলোতে মশা নিরোধক বা এয়ার ফ্রেশনারে সরবরাহ করা হয়। বিশেষ করে মানহীন হোটেলগুলোতে থাকার ক্ষেত্রে এ জাতীয় স্প্রেগুলো ব্যবহারে সতর্ক হতে হবে। ট্যাক্সিতে ওঠার পর গাড়ির দুর্গন্ধ দূর করার জন্য ড্রাইভার এয়ার ফ্রেশনার বের করতে পারে। এর বদলে গাড়ির জানালা খুলে বাতাস চলাচলের পথ তৈরি করে দিতে হবে। এই অতিরিক্ত সাবধানতা ক্ষতিকর বিষক্রিয়ায় আক্রান্ত হওয়ার ঝুঁকি অনেকাংশে কমাতে পারে।
আরো পড়ুন: রমজানে রোজা রাখার প্রস্তুতি: দেহ ও মনকে সুস্থ রাখতে করণীয়
অ্যাপ-ভিত্তিক পরিবহন সেবাতে অগ্রাধিকার দেওয়া
যাতায়াতে অ্যাপভিত্তিক রাইডগুলোতে আগে থেকেই ড্রাইভারের নাম, ছবি এবং গাড়ির বিশদ বৃত্তান্ত দেখে নেওয়া যায়। পরবর্তীতে সঠিক গাড়িটি যাচাইয়ের জন্য প্লেট নাম্বার মিলিয়ে নেওয়ারও সুযোগ থাকে। এছাড়া অত্যধিক গণপরিবহনের অত্যধিক ভিড়ে ক্ষতিকর স্পর্শের সম্ভাবনা এখানে নেই।
তবে অ্যাপে ড্রাইভার সম্পর্কে যাবতীয় তথ্য ইতিবাচক হওয়ার পরও দুর্ঘটনা ঘটার আশঙ্কা থাকে। সেজন্য সর্বদা সজাগ থাকতে হবে। এ জন্য গাড়িতে ওঠার আগেই পরিচিতিদের সাথে রিয়েল-টাইম লোকেশন শেয়ার করে রাখতে হবে। একা হলে ড্রাইভারের পাশের সিটে না বসে পেছনের সিটে বসতে হবে।
পরিশিষ্ট
ডেভিলস ব্রেথ বা শয়তানের নিঃশ্বাস মূলত স্কোপোলামাইন নামক একটি রাসায়নিক বস্তু। এটি প্রয়োগের মাধ্যমে মস্তিষ্ক বিভ্রম ঘটিয়ে ভুক্তভোগীর সর্বস্ব লুটে নেয় দুর্বৃত্তরা। এ ধরণের অপরাধমূলক ঘটনা থেকে নিরাপদ থাকার জন্য নিজের চারপাশের প্রতিটি বিষয় সম্পর্কে সচেতনতা বাড়াতে হবে। এর জন্য রাস্তাঘাটে চলাচলে অপরিচিতদের দেওয়া খাদ্য, পানীয়, কাগজ গ্রহণ না করা এবং ব্যক্তিগত জিনিসপত্র সযত্নে নিজ দায়িত্বে রাখা অপরিহার্য। যাতায়াতের পুরোটা সময় মাস্ক পরিধান, সঙ্গে পকেট স্যানিটাইজার রাখা জরুরি। উপরন্তু, রাইড-শেয়ার অ্যাপ ব্যবহার ও আবাসিক হোটেলে স্প্রে ব্যবহার এড়িয়ে চলা এই সমস্যা প্রতিরোধের ক্ষেত্রে সহায়ক হতে পারে।
আরো পড়ুন: তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে: জানুন কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ
৪৩৬ দিন আগে
তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের প্রবণতা বেড়ে যাচ্ছে: জানুন কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ
স্ট্রোক এমন এক ভয়াবহ স্বাস্থ্য জটিলতা যেখানে মস্তিষ্কে রক্ত সরবরাহ বন্ধ হয়ে যায়। কেবল বার্ধক্য পীড়িতদের মধ্যেই নয়, তরুণদের মধ্যেও রয়েছে স্ট্রোকের ঝুঁকি। আর এই প্রবণতা আশঙ্কাজনক হারে বাড়ছে। ক্রমবর্ধমান এই স্বাস্থ্য সংকট নিয়েই আজকের স্বাস্থ্য-বিষয়ক নিবন্ধ। কোন কোন বিষয়গুলো এর জন্য দায়ী, কিভাবে তা শনাক্ত করবেন, এ থেকে বাঁচার উপায়ই বা কি- চলুন তা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
তরুণদের মাঝে স্ট্রোকের প্রবণতা বৃদ্ধির কারণ
তৈলাক্ত বা ভাজা খাবারের প্রতি আসক্তি
সময়ের সঙ্গে সঙ্গে বহুগুণে বেড়েছে ভাজা-পোড়া খাবারের বিচিত্রতা। ফুটপাত থেকে শুরু করে অভিজাত রেস্তোরাঁ পর্যন্ত সর্বত্র রীতিমত উৎসবমুখর আয়োজনে চলে নিত্য-নতুন পরিবেশনা। আর সেগুলোতেই হামলে পড়েন তরুণরা। এদের মধ্যে যাদের একটু বেশি ভোজনপ্রীতি রয়েছে, তারা কোনোরকম বাছ-বিচারের তোয়াক্কা করেন না। ফলে দেখা দিচ্ছে স্থূলতা, উচ্চ রক্তচাপ ও উচ্চ কোলেস্টেরল- যার প্রতিটিই স্ট্রোকের ঝুঁকি সৃষ্টি করে।
এই মুখরোচক খাবারগুলোতে থাকে ট্রান্স ফ্যাট, পরিশোধিত শর্করা এবং অত্যধিক সোডিয়াম। এই উপাদানগুলো ধমনীতে প্লাক তৈরি করে রক্তের প্রবাহে ব্যাঘাত ঘটায়। কোনো নিয়ন্ত্রণ ব্যতীত এই ভোজ অভ্যাসে পরিণত হলে তা প্রদাহ এবং অক্সিডেটিভ স্ট্রেসের কারণ হয়। এর ফলে রক্তনালীগুলো সঙ্কুচিত হয় ও চরম পর্যায়ে পুরো নালীই ক্ষতিগ্রস্ত হয়; পরিণতিতে স্ট্রোক হয়।
আরো পড়ুন: রমজানে রোজা রাখার প্রস্তুতি: দেহ ও মনকে সুস্থ রাখতে করণীয়
শরীরের দীর্ঘস্থায়ী অচলাবস্থা
প্রযুক্তির ক্রমবিকাশের সঙ্গে সঙ্গে কমে গেছে কায়িক শ্রমের কাজ। এর বদলে জায়গা করে নিয়েছে মানসিক শ্রমযুক্ত কাজ। ঘণ্টার পর ঘণ্টা অতিবাহিত হচ্ছে কম্পিউটারের সামনে বসে। এখানে দীর্ঘ সময় যাবত শরীরের পেশীগুলোর ন্যূনতম নড়াচড়া হয় না।
একই সঙ্গে সোশ্যাল মিডিয়া কেন্দ্রিক জীবনব্যবস্থা বিশাল তরুণ সমাজকে ঠেলে দিয়েছে অতিরিক্ত স্ক্রিন টাইমের দিকে। ফলে সবচেয়ে কর্মক্ষম শ্রেণিটির দিনের একটা বড় সময় কেটে যাচ্ছে বসে বা শুয়ে থাকা।
এই অচলাবস্থা হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যকে দুর্বল করে তোলে। শারীরিক ক্রিয়াকলাপের অভাব রক্ত সঞ্চালনের দক্ষতা হ্রাস করে, যার ফলে মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ হয় না। আর এরই কারণে শরীরের ওজন বৃদ্ধি, উচ্চ রক্তচাপ এবং ডায়াবেটিসের মতো রোগের উপক্রম হয়। এগুলো সবই স্ট্রোকের দিকে পরিচালিত করে। নিষ্ক্রিয় পেশীগুলো রক্তে শর্করা এবং কোলেস্টেরলকে কার্যকরভাবে নিয়ন্ত্রণ করতে ব্যর্থ হয়। এর ফলে রক্তের ধমনীতে ক্লট তৈরি হয়ে স্ট্রোকের ঘটনা ঘটে।
আরো পড়ুন: বাইপোলার ডিসঅর্ডার: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিকার
ধূমপান এবং উদ্দীপক পানীয় গ্রহণ
তামাক ব্যবহারে ধমনীকে শক্ত করে দেয়, যার ফলে বাড়ে রক্তের চাপ ও ক্ষতিগ্রস্ত হয় রক্তনালী। নিকোটিন এবং কার্বন মনোক্সাইড মস্তিষ্কে অক্সিজেন সরবরাহ কমায়, যা ক্লট গঠনের অন্যতম প্রধান কারণ। উপরন্তু, উচ্চ ক্যাফেইন বা উদ্দীপক পানীয় হৃৎপিণ্ডের নিয়মিত ছন্দে ব্যাঘাত ঘটায় এবং রক্তচাপ বাড়িয়ে দেয়। এই পদার্থগুলোর অত্যধিক সেবন স্নায়ুতন্ত্রকে উদ্দীপিত করে। এতে দীর্ঘমেয়াদে রক্তনালী ধ্বংস হয়, যা স্ট্রোকের পূর্ব লক্ষণ।
দুশ্চিন্তা ও মানসিক অসুস্থতা
বিগত দশকে শারীরিক সমস্যাগুলোর পাশাপাশি অধিক গুরুত্বপূর্ণ হয়ে উঠেছে মানসিক জটিলতাগুলো। অস্থিরতা, দুশ্চিন্তা, হতাশা ও নিরাশার নেতিবাচক প্রভাবের শিকার হওয়া জনগোষ্ঠির একটা বিশাল অংশ তরুণ সম্প্রদায়।
দীর্ঘমেয়াদী মানসিক চাপ কর্টিসলের মাত্রা বাড়িয়ে রক্তচাপ ও প্রদাহ বৃদ্ধিতে অংশ নেয়, যেগুলো স্ট্রোকের দিকে নিয়ে যায়। উদ্বেগ এবং বিষণ্নতা অধিকাংশ ক্ষেত্রে ধূমপান, অস্বাস্থ্যকর খাবার এবং ক্ষতিকারক পদার্থ সেবনের সঙ্গে জড়িত। উপরন্তু, রক্ত সঞ্চালনে চাপের তারতম্য ক্ষণস্থায়ী স্ট্রোকের সূত্রপাত ঘটায় যেটি ইস্কেমিক অ্যাটাক নামে পরিচিত। এর আরেক নাম মিনি-স্ট্রোক, যা সাধারণত বড় কোনও স্ট্রোকের আগে হয়ে থাকে।
আরো পড়ুন: অ্যাজমা, শ্বাসকষ্ট বা হাঁপানি রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধের উপায়
স্ট্রোকের যে লক্ষণগুলো তরুণদের মধ্যে দেখা যায়
আকস্মিক দুর্বলতা
স্ট্রোকের সবচেয়ে বড় লক্ষণগুলোর একটি হচ্ছে হঠাৎ দুর্বলতা বা অসাড়তা। এটি সাধারণত শরীরের যে কোনও একপাশ অসাড় হওয়া থেকে শুরু হয়। শরীরের আভ্যন্তরীণ বিভিন্ন ক্রিয়াকলাপের নেপথ্যে থাকে মূলত মস্তিষ্কের একটি নির্দিষ্ট অঞ্চল। সেখানে রক্ত প্রবাহ না গেলেই এই সমস্যার সৃষ্টি হয়। এ অবস্থায় পর্যুদস্ত ব্যক্তিরা তাদের এক হাত বা পা তুলতে বেশ ভারী অনুভব করে। কারও ক্ষেত্রে তাদের মুখের একপাশ ঝুলে যায়। কোনও ক্ষেত্রে এই দুর্বলতা কয়েক মিনিট স্থায়ী হতে পারে, আবার কারও ক্ষেত্রে দীর্ঘস্থায়ী হয়।
কথা বলার সময় শব্দ উচ্চারণে প্রতিবন্ধকতা
মস্তিষ্কের একটি অংশ রয়েছে যেটি কথা বলার সময় মুখের স্বাভাবিক পেশী সঞ্চালন অব্যাহত রাখতে সাহায্য করে। স্ট্রোকের ফলে অধিকাংশ ক্ষেত্রে মস্তিষ্কের এই অঞ্চলটি ক্ষতিগ্রস্ত হয়। ফলে কথা বলার সময় সুসংগত বাক্য গঠনে অসুবিধা হয়। কিছু ব্যক্তি অ্যাফেসিয়া অনুভব করতে পারে। এটি এমন এক অবস্থা যেখানে সঠিক শব্দটি স্মরণে আসে না বা কথাগুলো অসংলগ্ন হয়। কেউ কেউ ডিসার্থ্রিয়ায় ভুগেন। এর ফলে মুখ এবং জিহ্বার পেশী দুর্বল হয়ে যায় বিধায় উচ্চারণ সমস্যা দেখা দেয় এবং শব্দগুলো অস্পষ্ট শোনায়। এই উপসর্গগুলো হঠাৎ ঘটতে পারে এবং পরবর্তীতে এর তীব্রতা ওঠানামা করতে পারে।
আরো পড়ুন: রক্তের গ্রুপ: কে কাকে রক্ত দিতে পারবে?
দৃষ্টিশক্তির ব্যাঘাত
মস্তিষ্কের ভিজ্যুয়াল প্রসেসিং এলাকাটি মানুষের দৃষ্টিশক্তি নিয়ন্ত্রণ করে। এখানে রক্ত প্রবাহে প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টির ফলে দৃষ্টিশক্তিতে অসঙ্গতি দেখা দেয়। আক্রান্ত ব্যক্তিরা এক বা উভয় চোখে অস্পষ্ট দেখে, কেউ কেউ সম্পূর্ণ দৃষ্টিশক্তি হারাতে পারে। সাধারণ লক্ষণের মধ্যে আরও রয়েছে ডিপ্লোপিয়া বা ডাবল ভিশন, যার ফলে ব্যক্তি যে কোনও জিনিস দুটো দেখতে পায়। এক চোখে অস্থায়ী অন্ধত্ব অ্যামাউরোসিস ফুগাক্স নামে পরিচিত। এটি আসন্ন স্ট্রোকের জন্য একটি সতর্ক সংকেত।
গুরুতর মাথাব্যথা
তীব্র মাথাব্যথা মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের পূর্বাভাস হতে পারে যার কারণে হেমোরেজিক স্ট্রোকের উপক্রম হয়ে থাকে। সাধারণ মাথাব্যথার সঙ্গে এর পার্থক্য হলো এটি আকস্মিকভাবে বাড়তে থাকে। এর সঙ্গে যুক্ত হয় বমি বমি ভাব, বমি; এমনকি ব্যক্তি অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন। ব্যক্তি শরীরের ভারসাম্য বজায় রাখতে পারবেন না। কোনো কিছু না ধরে হাঁটা বা দাড়িয়ে থাকা তার জন্য বেশ কঠিন হয়ে উঠবে।
সাধারণ বোধের অবনতি এবং স্মৃতিভ্রম
মূল সমস্যাটা যখন মস্তিষ্ক কেন্দ্রিক, তখন বোধগম্যতা ও স্মৃতিশক্তির বিলোপ ঘটাটা স্বাভাবিক। এর শুরুটা হয় আকস্মিকভাবে কোনো কিছু ভুলে যাওয়া থেকে। ব্যক্তি সুনির্দিষ্টভাবে কোনো কিছুর প্রতি মনোযোগ দিতে পারেন না। কি কি বিষয়ে কথা বলা হচ্ছে তার মধ্যে সামঞ্জস্যতা বিধান করা এদের জন্য কঠিন হয়ে ওঠে। কেউ কেউ পরিচিত লোকেদের পরিপূর্ণভাবে চেনার জন্য বেশ সময় নিয়ে ফেলেন। এদের অনেকেই পারিপার্শ্বিক অবস্থা বুঝে প্রাসঙ্গিক প্রতিক্রিয়া দেখাতে ব্যর্থ হন। অধিকাংশ ক্ষেত্রেই এরা হতবাক বা নির্লিপ্ত হয়ে যান।
আরো পড়ুন: মুখের দুর্গন্ধ দূর করার ঘরোয়া উপায়
কারা সবচেয়ে বেশি ঝুঁকিতে আছেন
তরুণদের মধ্যে যারা নিয়মিত ধূমপান ও উদ্দীপক পানীয় গ্রহণ করেন এবং দীর্ঘস্থায়ী মানসিক চাপে রয়েছেন তাদের স্ট্রোকের ঝুঁকি সর্বাধিক। এছাড়াও অতিরিক্ত স্থূলতা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্যাভাস এবং দীর্ঘ সময় বসে থাকা সামগ্রিকভাবে স্ট্রোকের আশঙ্কা বাড়ায়।
উপরন্তু, পরিবারে পূর্বে কারও উচ্চ রক্তচাপ বা রক্ত জমাট বাঁধার ব্যাধি থাকলে তারাও এই ঝুঁকির আওতায় পড়েন।
তরুণদের স্ট্রোক প্রতিরোধে করণীয়
সুষম খাদ্যাভ্যাস গঠন
নিয়মিত শারীরিক ক্রিয়াকলাপের সঙ্গে সামঞ্জস্যতা রেখে একটি পুষ্টিকর খাদ্য তালিকা তৈরি করা উচিত। বিভিন্ন ধরনের বীজ জাতীয় খাবার, ফলমূল, শাকসবজি এবং চর্বিহীন প্রোটিন কোলেস্টেরল গঠন প্রতিরোধ করে ধমনী সুদৃঢ় রাখতে সাহায্য করে। মাছ এবং বাদামে পাওয়া ওমেগা-৩ ফ্যাটি অ্যাসিড হৃদযন্ত্রে ক্রিয়া স্বাভাবিক রাখে। অপরদিকে, ফাইবার সমৃদ্ধ খাবার রক্তে শর্করার মাত্রা নিয়ন্ত্রণে সহায়তা করে। সম্মিলিতভাবে এই খাবারগুলো স্ট্রোকের বিরুদ্ধে শরীরকে রীতিমত দূর্গ বানিয়ে তুলতে পারে।
আরো পড়ুন: থ্যালাসেমিয়া রোগের কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ
নিয়মিত শরীর চর্চা
সুষম খাবার গ্রহণ এবং উপযুক্ত শরীর চর্চা উভয়েরই যুগপৎভাবে চলতে হবে। নিয়মিত ব্যায়াম রক্ত সঞ্চালন উন্নত করে রক্তচাপ হ্রাস করে এবং স্থূলতা প্রতিরোধ করে। দ্রুত হাঁটা, জগিং এবং সাইকেল চালানোর মতো অ্যারোবিক ব্যায়াম হৃৎপিণ্ডের কার্যক্ষমতা বাড়ায়। একই সঙ্গে ধমনীর স্থিতিস্থাপকতা বৃদ্ধি পায়, যা ধমনীকে শক্ত হয়ে যাওয়া থেকে দূরে রাখে। শরীর চর্চা বিপাকীয় স্বাস্থ্যকে সমুন্নত রেখে কোলেস্টেরলের মাত্রা কমাতে সাহায্য করে। এছাড়াও শারীরিক অনুশীলন প্রদাহ কমায়, যা রক্তে ক্লট তৈরির প্রধান প্রভাবক।
ক্ষতিকর অভ্যাস এড়িয়ে চলা
স্ট্রোক প্রতিরোধের জন্য তামাক, অ্যালকোহল ও অন্যান্য মাদক থেকে দূরে থাকা অত্যাবশ্যক। এমনকি সাধারণ ওষুধের মাত্রাতিরিক্ত সেবনও রক্তনালীকে ক্ষতিগ্রস্ত করতে পারে।
দীর্ঘদিনের অভ্যাস বদলানোর জন্য বিশেষজ্ঞ পরামর্শদাতার সরণাপন্ন হওয়া উচিত। এক্ষেত্রে আক্রান্ত ব্যক্তির পরিবার ও আশেপাশে থাকা আত্মীয় স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবদের সক্রিয় ভূমিকা পালন করতে হবে। পাশাপাশি ব্যক্তিরও পরম সদিচ্ছা ও প্রচেষ্টা থাকা জরুরি। তাৎক্ষণিক ভাবে পরিত্যাগের সুযোগ না থাকলেও প্রতিদিন একটু একটু করে চেষ্টা করার পরিবেশ তৈরি করতে হবে। অন্যান্য ইতিবাচক কায়িক শ্রমযুক্ত কাজের মধ্য দিয়ে মনকে সার্বক্ষণিক ব্যতিব্যস্ত করে রাখতে হবে। একই সঙ্গে অবসরগুলো প্রিয় জনদের আন্তরিক আড্ডায় ভরিয়ে তুলতে হবে।
আরো পড়ুন: সার্কেডিয়ান রিদম বা দেহ ঘড়ি নিয়ন্ত্রণ পদ্ধতি
স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস গড়ে তোলা
স্ট্রোকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ার জন্য স্বাস্থ্যকর ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। রাত জেগে কাজ করে দিনে ঘুমানো মোটেই উৎপাদনশীলতার সহায়ক নয়। বরং তা দীর্ঘমেয়াদে স্বাস্থ্য বিনষ্টের পটভূমি তৈরি করে। রাতে ঘুমানোর ক্ষেত্রেও দেরি করা অনুচিত। কারণ এর ধারাবাহিকতায় এক সময় পুরো রাত অনিদ্রায় কেটে যায়। এর জন্য বিশেষ করে ডিজিটাল ডিভাইসগুলোতে স্ক্রিন টাইম কমিয়ে আনা আবশ্যক। কেননা স্মার্টফোনে অতিবাহিত সময়ের বিস্তৃতি গভীর রাত ছাড়িয়ে যায়। এই কারণে স্মার্টফোন ব্যবহারকারিদের সিংহভাগ তরুণ সমাজকে প্রায় অনিদ্রায় ভুগতে দেখা যায়।
এই সমস্যার নিরসণকল্পে যত দ্রুত সম্ভব ঘুমিয়ে পড়ে ভোরে সূর্যের আলো ফোটার আগেই উঠে যাওয়া উত্তম। এটি মুক্ত বাতাসে শারীরিক অনুশীলনের জন্য শ্রেষ্ঠ সময়। ঘুমাতে যাওয়া এবং জেগে ওঠার সময়টিও প্রতিটি একই ভাবে অনুসরণ করতে হবে। ঘুমের ভিন্ন রুটিন মন-মেজাজের উপর ক্ষতিকর প্রভাব ফেলে, যা পরিণতিতে স্বাস্থ্যহানির অবতারণা ঘটায়।
ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটানো
হৃদযন্ত্রের স্বাভাবিক ফাংশনের জন্য খাওয়া, ঘুম, ও ব্যায়ামের পাশাপাশি মানসিক চাপমুক্তিও দরকারি। দুশ্চিন্তাগ্রস্ত ও বদমেজাজ সম্পন্ন ব্যক্তিদের রক্তচাপ বৃদ্ধির আশঙ্কা বেশি থাকে। এর বিপরীতে ধ্যান, গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম এবং নিয়মিত শরীর চর্চা মানসিক ভারসাম্যের ক্ষেত্র তৈরি করে।
আরো পড়ুন: অটিজম কী? অটিজম সচেতনতা ও সহমর্মিতা কেন জরুরি?
এর সঙ্গে মোক্ষম হাতিয়ার হিসেবে যুক্ত হতে পারে যে কোনও কাজ-কর্মে ইতিবাচকতা এবং স্বল্পতুষ্টি। এই দৃষ্টিভঙ্গি উদ্বেগ, বিষণ্নতা বা মানসিক আঘাতকে লাঘব করার শক্তি দেয়। নিত্য-নৈমিত্তিক ঘটনাগুলোর প্রতিক্রিয়া কিভাবে করা হচ্ছে তার উপর নির্ভর করে পরিচালিত হয় একজন ব্যক্তির জীবন-ব্যবস্থা। ভালো-মন্দ নির্বিশেষে প্রতিটি ঘটনায় ইতিবাচক ও গঠনমূলক সাড়া প্রদানের মাধ্যমে সুস্থ মনের বিকাশ ঘটানো সম্ভব।
শেষাংশ
তরুণদের মধ্যে স্ট্রোকের ক্রমবর্ধমান ঘটনার নেপথ্যে রয়েছে অনিয়ন্ত্রিত জীবন-যাপন এবং মানসিক অসুস্থতা। কায়িক শ্রম না করা ও ক্ষতিকর খাদ্যাভ্যাস এই প্রবণতাকে ত্বরান্বিত করে। এর ফলে আকস্মিক দূর্বলতা, উচ্চারণগত অস্বাভাবিকতা, দৃষ্টি, বোধ ও স্মৃতি শক্তির অবনতির মতো উপসর্গ দেখা দেয়। রুটিন মাফিক সুষম আহার, ঘুম ও শরীর চর্চার মাধ্যমে একটি স্বাস্থ্যকর জীবনধারণ পদ্ধতি বাঁচাতে পারে এই মরণঘাতী স্বাস্থ্য জটিলতা থেকে। পাশাপাশি মনের সুস্থতার লক্ষ্যে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গির বিকাশ ঘটানোও জরুরি। এই পদক্ষেপগুলোর দৌলতে দীর্ঘমেয়াদে স্ট্রোকের বিরুদ্ধে প্রতিরোধ গড়ে তোলা সম্ভব।
আরো পড়ুন: মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ: কারণ, লক্ষণ ও প্রতিরোধ
৪৪০ দিন আগে
পবিত্র ওমরাতে যাওয়ার পূর্বপ্রস্তুতি ও কিছু সাবধানতা
ওমরা বিশ্ব জুড়ে ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য গভীর তাৎপর্য বহন করে। এই ইবাদতের জন্য বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে মুসলমানরা কিবলা কাবা ঘরের উদ্দেশ্যে যাত্রা করেন। হজ্জ পালনের জন্য মূলত একটি নির্দিষ্ট মৌসুম থাকে। সেখানে সামষ্টিক কার্যক্রম একই হলেও ওমরার জন্য তেমন কোনো মৌসুমের বাধ্যবাধকতা নেই। তাই মুসলিমরা বছরের যেকোনো সময়েই ওমরা করতে পবিত্র শহর মক্কার পথে যাত্রা করতে পারেন। পদ্ধতিগত দিক থেকে এই ইবাদত যথেষ্ট পরিশ্রমের কাজ, যেখানে দরকার পড়ে দৈহিক ও মানসিক সুস্থতার। চলুন, সৌদিআরবে পবিত্র ওমরা পালনের লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণের জন্য করণীয়গুলো জেনে নেওয়া যাক।
ওমরায় যাওয়ার জন্য স্বাস্থ্যগত পূর্বপ্রস্তুতি কেন জরুরি
মক্কা শহরের সাফা ও মারওয়া নামক দুটি পাহাড়ে পায়ে হেঁটে সাতবার উঠা-নামা করা সাঈ নামে পরিচিত। এটি ওমরার সবচেয়ে শ্রমসাধ্য কাজ। এরপর ওমরার কঠিন কাজটি হচ্ছে কাবা শরীফকে ঘিরে সাতবার প্রদক্ষিণ করা, যাকে তাওয়াফ বলা হয়। এই দুই ক্রিয়াকলাপের জন্য শরীর ও মন উভয় ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহনশীলতার প্রয়োজন হয়। যারা কায়িক শ্রমে অভ্যস্ত নন এবং বার্ধক্যপীড়িতদের জন্য এই কাজগুলো চরম ঝুঁকিপূর্ণ হয়ে ওঠে।
তাই যৌবন বা বার্ধক্যে জীবনের যে সময়েই ওমরার পরিকল্পনা করা হোক না কেন, তার জন্য যথাযথ পূর্বপ্রস্তুতি গ্রহণ করা উচিত। এর ফলে আগে থেকে শরীর গঠনের প্রয়াস পাওয়া যায়। স্বাস্থ্যগত কোনো জটিলতা থাকলে তার জন্য জরুরি পদক্ষেপ গ্রহণ করা যায়। এছাড়া ওমরার পূর্বপ্রস্তুতি ইবাদতের প্রতি আন্তরিকতা এবং মনোনিবেশ বৃদ্ধির মাধ্যমে মানসিক স্বাস্থ্যকেও সমুন্নত করে।
আরো পড়ুন: রমজানে রোজা রাখার প্রস্তুতি: দেহ ও মনকে সুস্থ রাখতে করণীয়
ওমরাতে যাওয়ার আগে শারীরিক ও মানসিক প্রস্তুতি
.
স্বাস্থ্যের প্রতি যত্ন
প্রথমেই নজর দিতে হবে শরীরের দিকে। কেননা অদম্য স্পৃহা থাকার পরেও অনাকাঙ্ক্ষিত স্বাস্থ্য জটিলতা তীর্থযাত্রার প্রধান অন্তরায় হতে পারে। তাওয়াফ এবং সাঈর মতো কঠোর পরিশ্রমের কাজগুলোর জন্য রোগহীন সুগঠিত দেহের কোনো বিকল্প নেই। এই লক্ষ্যে ফ্লাইটের নির্ধারিত সময়ের অনেক আগে থেকেই প্রতিদিন হাঁটাহাঁটি এবং হালকা ব্যায়ামের অভ্যাস করতে হবে। এতে পায়ের পেশী শক্তিশালী হয় এবং হৃদযন্ত্রের স্বাস্থ্যের উন্নতি ঘটে। একই সঙ্গে পরিবর্তন আনতে হবে নিয়মিত খাদ্যভ্যাসে। প্রতিদিনের খাদ্যতালিকাকে পরিপূর্ণ রাখতে হবে পুষ্টিকর খাবার দিয়ে। দিনে পানি পান করতে হবে কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস। চিনি, ক্যাফেইন, স্যাকারিন যুক্ত জুস, অতিরিক্ত ফ্যাটযুক্ত খাবার এড়িয়ে চলতে হবে। পাশাপাশি ঘুমের ব্যাপারেও যত্নবান হওয়া উচিত। প্রতিদিন রাতে দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া ও ফজর নামাজের সময় ঘুম থেকে ওঠার রুটিন দৃঢ়ভাবে অনুসরণ করা জরুরি। রাতের ঘুম দুপুর, সন্ধ্যা বা দিনের অন্যান্য সময়ে প্রতিস্থাপন করা যাবে না।
স্বাস্থ্য পরীক্ষা
বাংলাদেশ ও সৌদি আরবের আবহাওয়ায় যথেষ্ট তারতম্য রয়েছে। দীর্ঘ ভ্রমণের ক্লান্তির পাশাপাশি এই বিষয়টিও শরীরের উপর প্রভাব ফেলে। সেই আবহাওয়া সহ্য করার মতো শরীরের ন্যূনতম সক্ষমতা রয়েছে কিনা, তা নিশ্চিত হতে স্বাস্থ্য পরীক্ষা করা অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। বিশেষ করে ডায়াবেটিস বা উচ্চ রক্তচাপের রোগীদের বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের পরামর্শ নিতে হবে। দীর্ঘ ভ্রমণের জন্য শারীরিক অবস্থা সহনীয় মাত্রায় রয়েছে কিনা—তা যাচাই করতে হবে।
আন্তর্জাতিক ভ্রমণের ক্ষেত্রে প্রায়ই মেনিনজাইটিস কিংবা মৌসুমী ফ্লুসহ নানা ভ্যাকসিনেশনের প্রয়োজন হয়। পরীক্ষা-নীরিক্ষার প্রতিটি প্রক্রিয়া সতর্কতার সঙ্গে সম্পন্ন করা জরুরি।
মানসিক প্রস্তুতি
ওমরা যেহেতু একটি সমষ্টিগত কার্যক্রম তাই প্রচুর জনসমাগম এবং দীর্ঘ সময় অপেক্ষার বিষয়গুলো খুবই স্বাভাবিক। এগুলোর সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য দরকার হয় ধৈর্য্য, মানসিক সহনশীলতা এবং দুশ্চিন্তাহীনতা। এর জন্য ফ্লাইটের অনেক আগে থেকেই মন নিয়ন্ত্রণের জন্য কিছু অনুশীলন পদ্ধতির শরণাপন্ন হতে হবে।
দৈনন্দিন যেকোনো কাজে অতিরিক্ত মানসিক চাপের মধ্যে সংযম বজায় রাখা সবথেকে অপরিহার্য বিষয়। অপেক্ষার সময়গুলো অপ্রয়োজনীয়, হতাশাজনক এবং বিভ্রান্তিকর কাজ করে বিনষ্ট করা যাবে না। পরিবার, আত্মীয় ও বন্ধু-বান্ধবদের সঙ্গে সুন্দর সময় কাটানো মনকে পরম প্রশান্তি দেবে। সুষম খাদ্যাভ্যাস, স্বাস্থ্যকর ঘুম এবং হালকা ব্যায়াম দেহের পাশাপাশি মননশীলতা বিকাশের ক্ষেত্রেও সহায়ক।
ওমরার পদ্ধতি ও প্রয়োজনীয় দোয়া শিক্ষা
সহসা এই ইবাদতের সুযোগ হয়ে ওঠে না। সঙ্গত কারণেই ওমরার নিয়মগুলোতে প্রতিদিনের আদায় করা নামাজের মতো অভ্যস্ত থাকা যায় না। তাই পূর্বপ্রস্তুতি নেওয়ার সময় অবধারিতভাবে ওমরার সঠিক প্রক্রিয়া জেনে নিতে হবে।
শুরু থেকে শেষ ওমরার প্রতিটি কার্যকলাপের ইতিহাস এবং তাৎপর্য সম্পর্কে জ্ঞানার্জনের সময় আত্মিক উন্নয়ন ঘটে। এর ফলে ইবাদতের প্রতি আন্তরিকতা ও মনোনিবেশ আরও বেড়ে যায়। একই সঙ্গে প্রাসঙ্গিক দোয়াগুলো শিখে তা প্রতিনিয়ত আওড়ানো যেতে পারে। অনুশীলনের সুবিধার্তে মোবাইলে রাখা যেতে পারে দোয়া শিখনের বিভিন্ন অ্যাপ। এগুলোর মধ্যে ‘দোয়া অ্যান্ড যিকির (হিসনুল মুসলিম)’ এবং ‘মুসলিম বাংলা কুরআন হাদীস দুআ’ বেশ সহায়ক দুটি অ্যাপ।
আরো পড়ুন: পবিত্র রমজান মাসে প্রয়োজনীয় ১০টি মোবাইল অ্যাপস
পবিত্র ওমরার জন্য সৌদিআরবে রওনা হওয়ার পূর্বে করণীয়
.
প্রয়োজনীয় জিনিসপত্র সঙ্গে নেওয়া
চূড়ান্তভাবে রওনা হওয়ার আগে ব্যাগ গোছানোর জন্য প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোর তালিকা করে নেওয়া জরুরি। বেশ সময় নিয়ে এই তালিকা করা হলে গুরুত্বপূর্ণ বিষয়গুলো নজর এড়িয়ে যাবে না। পাসপোর্ট, ভিসা ও হোটেল বুকিংয়ের মতো ভ্রমণ নথিগুলো সবার আগে রাখতে হবে। এরপরেই অগ্রাধিকার পাবে ইহরাম পোশাক, নামাজের ম্যাট, আরামদায়ক জুতা এবং ঔষধপত্র। ঔষধ নির্বাচনের ক্ষেত্রে বিশেষজ্ঞ ডাক্তারের সঙ্গে পরামর্শ করে নেওয়া উচিত। এগুলোর সঙ্গে স্থান পাবে বিশুদ্ধ পানির বোতল, টিস্যু এবং ব্যান্ড-এইডস। জরুরি অবস্থায় দ্রুত ব্যবহারের জন্য পুরো ভ্রমণে ছোট্ট একটি ব্যাগ সার্বক্ষণিক সঙ্গে রাখা যেতে পারে।
গুরুত্বপূর্ণ নথিপত্রের ডিজিটাল কপি রাখা
হজযাত্রীদের ভিসা, পাসপোর্ট, ফ্লাইট টিকিট ও হোটেল রিজার্ভেশনসহ যাবতীয় নথিপত্র স্ক্যান করে অনলাইনে সংরক্ষণ করে রাখা যায়। এতে করে যেকোনো জায়গায় যেকোনো সময় ইন্টারনেটের মাধ্যমে এগুলো ব্যবহার করা যাবে। অনলাইনে সংরক্ষণের জন্য গুগল ড্রাইভ বা ড্রপবক্সের মতো বিভিন্ন ধরণের ক্লাউড স্টোরেজ পরিষেবা রয়েছে। এটি আকস্মিক কোনো কাগজপত্র হারানোর ক্ষেত্রে একটি কার্যকর বিকল্প।
জরুরি যোগাযোগ নাম্বারগুলো সংগ্রহে রাখা
দীর্ঘ যাত্রায় নানা ধরণের জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় স্থানীয় কিছু ফোন নাম্বার অনেক উপকারে আসে। বিশেষ করে পুলিশ, অ্যাম্বুলেন্স পরিষেবা এবং দূতাবাস বা কন্স্যুলেটের নাম্বারগুলো খুবই প্রয়োজনীয়। এছাড়াও কাছের হাসপাতালের ফোন নাম্বারও সংগ্রহে রাখা উচিত। স্মার্টফোনে রাখার পাশাপাশি অফলাইনেও ব্যবহারের জন্য নাম্বারগুলো একটি ছোট নোটবুকে লিখে রাখতে হবে।
লাগেজে লেবেল দেওয়া
প্রতি বছর ওমরার অনেকগুলো গ্রুপ সৌদি আরব অভিমুখী হওয়ায় কাস্টমসসহ বিভিন্ন জায়গায় লাগেজ অদল-বদলের ঘটনা ঘটে। তাই রওনা হওয়ার পূর্বে লাগেজে ভালোভাবে লেবেল সংযুক্ত করা অপরিহার্য। একটি টেকসই ট্যাগের মধ্যে তীর্থযাত্রীদের পুরো নাম, হোটেলের ঠিকানা এবং বর্তমানে সঙ্গে বহনকৃত একটি যোগাযোগ নাম্বার থাকবে।
রঙিন ফিতা বা স্টিকারের মতো টোটেমগুলো ব্যবহার করা যেতে পারে। এতে করে ভিড়ের মধ্যে অনেকগুলো একই রকম ব্যাগের মধ্যে নিজের ব্যাগটিকে আলাদা করে চেনা যাবে। এছাড়া স্যুটকেসের ভিতরে প্রয়োজনীয় নথিগুলোর এক সেট অনুলিপি রাখলে সেগুলো পরবর্তীতে শনাক্তকরণের ক্ষেত্রে বেশ উপযোগী হয়।
আরো পড়ুন: সেহরি ও ইফতারে খেতে পারেন যেসব স্বাস্থ্যকর দেশি ফল
সৌদিআরবে পবিত্র ওমরাকালীন সতর্কতা
.
পরিশ্রমের ক্ষেত্রে পরিমিতি বজায় রাখা
আগে থেকে ইবাদতের জন্য মনস্থির করা থাকলে ওমরাকালীন পরিশ্রম অনেকটাই সহজ হয়ে যায়। কিন্তু এরপরেও ওমরার সময় নিজের সহনশীলতার মাত্রা ছাড়িয়ে যাওয়া উচিত নয়। প্রতিটি প্রক্রিয়ায় নিজের সক্ষমতা অনুযায়ী ছোট ছোট বিশ্রাম নেওয়া উচিত। একটানা না হেঁটে মাঝে মধ্যে কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে শ্বাস-প্রশ্বাস স্বাভাবিক করে নিতে হবে। বিশেষ করে বয়স্ক এবং দীর্ঘস্থায়ী স্বাস্থ্য জটিলতায় থাকা ব্যক্তিদের এই পদ্ধতি অবলম্বন করা উচিত।
মূল্যবান জিনিসপত্রের ব্যাপারে সাবধানতা
হজযাত্রীদের টাকা, পাসপোর্ট এবং মোবাইল ফোন রাখার জন্য নিরাপদ মানিবেল্ট বা লুকানো পাউচ ব্যবহার করা উচিত। নগদ টাকা এবং ব্যয়বহুল সামগ্রী যথাসম্ভব চোখের আড়ালে রাখা উচিত। হোটেলের ভেতরে ও আশেপাশে, স্থানীয় মার্কেট থেকে কেনাকাটার সময়েও এই সতর্কতা আবশ্যক।
অনেক সময় নিজের অসাবধানতার কারণেও সঙ্গে বহন করে চলা জিনিসপত্র পড়ে যায়। তাই শুধুমাত্র নিতান্তই দরকারি জিনিস ছাড়া সবকিছু হোটেলে নিরাপদে রাখা উচিত।
যতটা সম্ভব মাত্রাতিরিক্ত ভিড় এড়িয়ে চলা
অপ্রয়োজনীয় যানজট এড়াতে হজযাত্রীদের নির্ধারিত নামাজ ও তাওয়াফ এলাকার মধ্যে থাকা উচিত। চলাফেরার সময় হুট করে কোথাও কিছুক্ষণের জন্য দাঁড়িয়ে গেলেই সেখানে অনাকাঙ্ক্ষিত জটলার সৃষ্টি হয়ে যায়। এর মধ্যে প্রায় ক্ষেত্রে দুর্ঘটনাজনিত ধাক্কার ঝুঁকি থাকে। তাই এই জায়গাগুলোতে নিরবচ্ছিন্নভাবে চলাফেরা বজায় রাখতে হবে। এর জন্য আশেপাশের গতিবিধি সম্পর্কেও সর্বদা সতর্ক থাকা জরুরি।
গ্রুপের সান্নিধ্যে থাকা ও নির্দেশনা অনুসরণ
যেকোনো অপরিচিত পরিবেশে যে গ্রুপ বা সঙ্গীর সঙ্গে ভ্রমণ করা হয়েছে তাদের সান্নিধ্যে থাকাটা অত্যাবশ্যক। বিষয়টি ওমরার ক্ষেত্রেও সমানভাবে প্রযোজ্য। বিশ্বের নানা প্রান্ত থেকে এখানে বিপুল সংখ্যক তীর্থযাত্রীদের সমাগম হওয়ায় আকস্মিক বিচ্ছিন্নতার ঝুঁকি থাকে। এই সমস্যা সমাধানে গ্রুপের প্রধান একটি সাধারণ মিটিং পয়েন্ট নির্ধারণ করে দিয়ে থাকেন। এই নির্দেশনা অনুসরণ করা ঝামেলাবিহীন ওমরার অভিজ্ঞতারই নামান্তর। এর মধ্যেও যেকোনো সন্দেহ তৈরি হলে মোবাইল কলের মাধ্যমে সংযোগ রাখতে হবে।
আরো পড়ুন: যেসব কারণে রোজা রাখা ডায়েট করা থেকে বেশি উপকারী
শেষাংশ
যথাযথ ধর্মীয় ভাবগাম্ভীর্যের সঙ্গে ওমরা পালনের জন্য দেহ ও মনকে প্রস্তুত রাখা অপরিহার্য। কেননা এখানে একই সঙ্গে দৈহিক ও মানসিক উভয় ক্ষেত্রে যথেষ্ট সহনশীলতার পরীক্ষা দিতে হয়। শরীর ঠিক রাখার জন্য মনোযোগ দিতে হবে স্বাস্থ্যকর খাদ্যাভ্যাস, ঘুম ও স্বাস্থ্য পরীক্ষা করার দিকে। অপরদিকে ওমরার আচার-অনুষ্ঠান ও দোয়া শেখা প্রাথমিকভাবে মানসিক প্রস্তুতি দেবে। উপরন্তু, যাত্রার পূর্বে প্রয়োজনীয় নথি, ওষুধপত্র, ও যোগাযোগ নাম্বার সংগ্রহ, এবং লাগেজ লেবেলিংয়ের প্রতি সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। পরিশেষে, সফলভাবে ওমরা পালনের জন্য অতিরিক্ত পরিশ্রম ও ভিড় এড়িয়ে চলা, হারিয়ে যাওয়ার ক্ষেত্রে সতর্কতা এবং গ্রুপের সান্নিধ্যে থাকাকে গুরুত্ব দেওয়া আবশ্যক।
৪৪১ দিন আগে
রমজানে রোজা রাখার প্রস্তুতি: দেহ ও মনকে সুস্থ রাখতে করণীয়
পবিত্র রমজান মাস ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের জন্য সংযম ও শৃঙ্খলা অনুশীলনের এক পরম সুযোগ। ইবাদত-বন্দেগীর পাশাপাশি এই আধ্যাত্মিক পরিশুদ্ধি দৈহিক ও মানসিক সুস্বাস্থ্যের ক্ষেত্র তৈরি করে। ভোর থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত একটানা পানাহার থেকে বিরত থাকা স্বাভাবিক জীবন ধারণে এক উল্লেখযোগ্য পরিবর্তন নিয়ে আসে। আর এই পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়ার জন্য শরীর ও মন দুটোকেই আগে থেকে প্রস্তুত করা উচিত। চলুন, রমজানে রোজা রাখার প্রস্তুতির প্রয়োজনীয়তা কী এবং এর বাস্তবায়নের জন্য কী ধরণের কর্মপন্থা অবলম্বন করতে হবে- তা বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
রমজানে মাসব্যাপী রোজা রাখতে স্বাস্থ্যগত পূর্বপ্রস্তুতি কেন জরুরি
পুরো এক মাস টানা রোজা রাখার ক্ষেত্রে সবচেয়ে বড় প্রতিবন্ধকতা হলো স্বাস্থ্যগত জটিলতা। সব রকম পানাহার থেকে বিরত থাকার পরেও পর্যাপ্ত শক্তির মাত্রা বজায় রাখার জন্য শরীরকে প্রস্তুত করা দরকার। খাওয়া এবং ঘুমের ধরণে আকস্মিক পরিবর্তনের ফলে ক্লান্তি, পানিশূন্যতা এবং হজমের সমস্যা হতে পারে। বিশেষ করে মাসের প্রথম রোজাগুলোতে এরকম অবস্থা সৃষ্টি হওয়াটা স্বাভাবিক।
তাই রমজানের আগেই খাদ্যাভ্যাসে ধীরে ধীরে পরিবর্তন আনা হলে এই ধাক্কা সামলানো সহজ হয়ে ওঠে। এই প্রস্তুতি শরীরে শক্তির ভারসাম্য এবং মনোনিবেশে সহায়তা করে, যা রমজানের ধর্মীয় মাহাত্ম্য বজায় রাখার জন্যও অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
প্রতিদিন নির্দিষ্ট সময়ে ঘুম, পুষ্টি সমৃদ্ধ খাবার খাওয়া রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে আরও বাড়িয়ে দেয়। এর ফলে শরীর দীর্ঘ সময় আহার থেকে বিরত থাকার সময়কে মোকাবিলা করার জন্য প্রয়োজনীয় সহনশীলতা অর্জন করে। এই সঙ্গতিপূর্ণতা কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ব্যতীত রমজান পরবর্তী তিন বেলা আহারের জীবনে ফিরে যাওয়ার ক্ষেত্রেও সহায়ক।
পবিত্র রমজানে এক মাস রোজা রাখার পূর্বে শারীরিক প্রস্তুতি
.
প্রতি বেলার আহারে সময়ানুবর্তিতা
প্রস্তুতিপর্বটা শুরু করতে হবে রমজানের কয়েক সপ্তাহ আগে থেকে ধীরে ধীরে খাদ্যাভাসে পরিবর্তন আনার মাধ্যমে। আসন্ন রোজার সময়সূচির সঙ্গে শরীরকে মানিয়ে নিতে ভারী খাবারের পরিবর্তে নিয়মিত বিরতিতে হাল্কা খাবার গ্রহণ করা যায়। সারা দিনের জন্য ডিনারের উপর নির্ভরশীলতা কমানো উচিত। কেননা এই অভ্যাস হজমকে ব্যাহত করে এবং রোজার সময় অস্বস্তি সৃষ্টি করে।
আরও পড়ুন: ভিমরুলের কামড় কতটা ভয়ংকর? সাবধানতা ও করণীয়
পুষ্টিসমৃদ্ধ খাবারের প্রতি অধিক মনোযোগী হতে হবে। বীজ জাতীয় খাবার, ফল এবং চর্বিহীন প্রোটিন দীর্ঘ সময় ধরে শরীরে শক্তি সঞ্চয় করে রাখতে সাহায্য করে। অপরদিকে চিনি ও অস্বাস্থ্যকর চর্বিযুক্ত প্রক্রিয়াজাত খাবার শরীরের দুর্বলতার কারণ হয়। এই নতুন খাদ্যাভ্যাস ভোর রাতে খেয়ে সারা দিন রোজা রাখার জন্য শরীরকে ভারসাম্যপূর্ণভাবে তৈরি করে।
সব সময় হাইড্রেটেড থাকা
সমগ্র মাসব্যাপী রোজা মানে প্রতিদিন এক বিপুল পরিসরের সময় শরীরের অভ্যন্তর ভাগ শুষ্ক থাকা। এ অবস্থায় শরীরের প্রয়োজনীয় শক্তির যোগানের জন্য আগে থেকেই নিয়মিত পানি খাওয়া অত্যন্ত জরুরি। শরীরের পর্যাপ্ত হাইড্রেশনের জন্য প্রতিদিন কমপক্ষে ৮ থেকে ১০ গ্লাস পানি পান করার প্রয়োজন। নারকেলের পানি, তাজা ফলের রস এবং তরমুজের মতো পানিসমৃদ্ধ ফলগুলো হাইড্রেশনের জন্য সহায়ক। এভাবে শরীরের প্রয়োজনীয় পানির চাহিদা পূরণ করলে রোজার সময় ক্লান্তি, মাথাব্যথা এবং অন্যান্য ডিহাইড্রেশন-সংক্রান্ত লক্ষণগুলো থেকে মুক্ত থাকা যাবে।
স্বাস্থ্যকর ঘুমের অভ্যাস
দীর্ঘ মেয়াদে শরীরকে সুস্থ ও সতেজ রাখতে স্বাস্থ্যকর ঘুমের কোনো বিকল্প নেই। সেহরি ও ইফতারের সময়গুলোর সঙ্গে সামঞ্জস্য করার জন্য আগে থেকেই ঘুমের সময়সূচিতে পরিবর্তন আনতে হবে। যারা রাতে খুব তাড়াতাড়ি শুয়ে পড়েন, তাদের জন্য এই পরিবর্তন আনা অনেকটাই সহজ ব্যাপার।
ঘুমের অনিয়ম শরীরের রোগ প্রতিরোধ ক্ষমতাকে দুর্বল করে এবং হজমে ব্যাঘাত ঘটায়। এতে করে দেহের সামগ্রিক শক্তির উপর নেতিবাচক প্রভাব পড়ে। ফলশ্রুতিতে রোজা রাখার মুহূর্তগুলো ক্রমেই জটিল থেকে জটিলতর হয়ে ওঠে।
অন্যদিকে, রাতে দ্রুত ঘুমাতে যাওয়া এবং ভোরের কিছুক্ষণ আগে ঘুম থেকে ওঠার অভ্যাস করা হলে রমজানের রুটিনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হয়। ঘুমের এই অনুশীলন কেবল শরীরের জন্যই নয়, মনের স্বাস্থ্যের জন্যও উপযোগী।
আহারে ধীরে ধীরে ক্যাফেইন এবং চিনির পরিমাণ কমানো
রোজার প্রথম দিনগুলোতে আকস্মিকভাবে ক্যাফেইন ও চিনি গ্রহণ থেকে বিরত থাকা মাথাব্যথা, বিরক্তি এবং ক্লান্তির কারণ হতে পারে। এই উপসর্গগুলো এড়াতে রমজান মাসের আগে থেকে ধীরে ধীরে এ ধরণের খাদ্য উপাদানগুলো পরিহার করা উচিত।
কফি, এনার্জি ড্রিংক্স এবং চিনিযুক্ত স্ন্যাকসের বদলে ভেষজ চা এবং তাজা ফল খাওয়া শুরু করা যেতে পারে। চিনি ও ক্যাফেইনের এই ক্রমান্বয়ে হ্রাস শরীরকে আকস্মিক ধাক্কা থেকে রক্ষা করবে। এছাড়া পরিশোধিত চিনি গ্রহণ কমিয়ে দেওয়া রক্তে শর্করার মাত্রাকে স্থিতিশীল করে ও ক্ষুধা হ্রাস করে। এটি সারা দিন ধরে শক্তি ধরে রাখার জন্য যথেষ্ট কার্যকর।
এক মাস রোজা পালনের পূর্বে মানসিক প্রস্তুতি
.
প্রাত্যহিক জীবনকে একটি নিয়মের মধ্যে নিয়ে আসা
পুরো রমজান মাস জুড়ে রোজা রাখা সম্পূর্ণ একটি নতুন জীবন ধারণের সমতূল্য। তাই নতুন নিয়মের সঙ্গে খাপ খাওয়ানোর জন্য যথাযথ মানসিক প্রস্তুতি অপরিহার্য। রমজানের প্রথম দিন থেকে তাৎক্ষণিকভাবে সবকিছু বদলে ফেলার পরিবর্তে আগে থেকে ধীরে ধীরে পবির্তন আনা উচিত।
আরও পড়ুন: ক্যান্সারের নতুন অ্যান্টিবডি চিকিৎসা টিউমার প্রতিরোধ ক্ষমতা বাড়ায়: গবেষণা
ইবাদত-বন্দেগী থেকে শুরু করে ঘুম ও খাওয়া-দাওয়া প্রতিটি কাজের জন্য নতুন রুটিনে অভ্যস্ত হওয়া শুরু করতে হবে। ধৈর্য্য ধারণের উপর অধিক মনোনিবেশ করা জরুরি। এর সঙ্গে ইতিবাচক দৃষ্টিভঙ্গি যুক্ত করা হলে তা মানসিক চাপ কমানোর জন্য সহায়ক হবে।
অপ্রয়োজনীয় কাজ এবং বিভ্রান্তি থেকে দূরে থাকতে হবে। এর পরিবর্তে ইবাদতের পাশাপাশি সৃজনশীল কাজের প্রতি মনোনিবেশ করতে হবে।
সহনশীলতার অনুশীলন
রোজার দিনগুলোতে মানসিক উন্নতির পাশাপাশি শারীরিক সুস্থতার সবচেয়ে প্রয়োজনীয় দক্ষতা হলো সহনশীলতা বা ধৈর্য্য। ধর্মীয় দৃষ্টিকোণ থেকেও রোজা পালনে ধৈর্য্যের অপরিসীম গুরুত্ব রয়েছে। এর সঙ্গে মানসিক নিয়ন্ত্রণের অনুশীলন ওতপ্রোতভাবে জড়িত।
গভীর শ্বাস-প্রশ্বাসের ব্যায়াম বা হাল্কা ধ্যান দিয়ে এই অনুশীলন শুরু করা যেতে পারে। এই ক্রিয়াকলাপ কঠিন মুহূর্তগুলো অতিক্রম করতে সাহায্য করবে। একজন সহনশীল ব্যক্তি তার চিন্তাগুলোকে সুসংগঠিত করতে পারেন, যা তার উদ্বেগ কমাতে এবং মনকে শান্ত করতে কাজে লাগে।
একই সঙ্গে নিজের সময়টাও কাটাতে হবে সমমনা লোকদের সঙ্গে। ধর্মীয় বিষয়ে সৃজনশীল আলোচনা পরস্পরের মধ্যে রোজা রাখার উদ্দীপনা সৃষ্টি করে। মসজিদে গিয়ে সবার সঙ্গে একত্রে নামাজ পড়া এবং গরীব-মিসকিনদের সাহায্য করা মানসিক জীর্ণতা দূর করার মোক্ষম উপায়। এতে মানসিক শক্তির বিকাশ ঘটে, যা ক্ষুধা বা ক্লান্তির মতো কঠিন মুহূর্তগুলো মোকাবিলা করার উৎকৃষ্ট হাতিয়ার।
আরও পড়ুন: ডেঙ্গু: প্রাণে বাঁচলেও নীরবে শারীরিক জটিলতায় ভুগছেন নারীরা
কুরআন তেলাওয়াতের প্রয়োজনীয় অ্যাপস ব্যবহার
বর্তমান সময়ের সমগ্র জীবন যখন প্রযুক্তিতে নিমজ্জিত, তখন সেই প্রযুক্তিকে ব্যবহার করা যেতে পারে ইবাদতের কাজে। এখন কুরআন পড়া ও শিক্ষার জন্য পর্যাপ্ত পরিমাণে মোবাইল অ্যাপ্স রয়েছে। এগুলো ঘরে ও বাইরে যেকোনো স্থানে চলতে ফিরতে কুরআন পাঠ বা দোয়ার মধ্যে থাকার জন্য যথেষ্ট উপযোগী।
‘তার্তিল’, ‘দ্বীন’, ‘মুসলিম বাংলা’, এবং আল কুরআন (তাফসির অ্যান্ড বাই ওয়ার্ড)-এর মতো অ্যাপগুলোতে সাবলীলভাবে কুরআন পড়া এবং শোনা যায়। এগুলোতে রয়েছে ভয়েস-কমান্ড, বুকমার্ক, এবং সঠিক উচ্চারণ যাচাইয়ের ফিচার। এছাড়াও এগুলোর শাব্দিক অনুবাদ ও তাফসিরের সুবিধাগুলো কুরআন গভীরভাবে বোঝার জন্যও উপযোগী।
স্মার্টফোনে অতিক্রান্ত সময় নিয়ন্ত্রণ
ইবাদতের প্রতি মনোনিবেশ এবং সহনশীলতা বিনষ্টকরণের একটি প্রধান কারণ হচ্ছে স্মার্টফোনে অতিরিক্ত সময় দেওয়া। প্রয়োজনীয় কাজের পাশাপাশি সোশ্যাল মিডিয়া এবং বিনোদনমূলক অ্যাপগুলোতে দিনের একটা বিরাট অংশ অতিবাহিত হয়। এতে উৎপাদন ও সৃজনশীল কাজের প্রতি নিরুৎসাহ সৃষ্টি হয়। সেখানে রমজান মাসে এই কার্যকলাপ ধর্মীয় কার্যক্রমের প্রতি উদাসিন করে তোলে। ফলশ্রুতিতে নষ্ট হয় রোজা পালনের ভাবমূর্তি। তাই স্ক্রিন টাইম নিয়ন্ত্রণ করে গরীব-মিসকিনদের সাহায্য, কুরআন পড়া ও তাফসির আলোচনা এবং নামাজ পড়ার প্রতি অগ্রাধিকার দেওয়া উচিত। উপরন্তু, স্মার্টফোনের নীল আলো ঘুমের জন্যও ক্ষতিকর, যা গভীর রাত পর্যন্ত জেগে থাকার দিকে ধাবিত করে। ফলে সেহরি ও ফজরের নামাজ বাদ পড়ে যায় এবং পরবর্তীতে সারাদিন পানাহার থেকে বিরতি থাকার অভিজ্ঞতা অস্বস্তিকর হয়ে ওঠে।
পরিশিষ্ট
কোনো রকম প্রতিবন্ধকতা ছাড়া সঠিক ভাবগাম্ভীর্য মেনে রমজানের রোজা পালনের জন্য শারীরিক ও মানসিক পূর্বপ্রস্তুতি অপরিহার্য। নিত্যদিনের আহার ও ঘুমে রুটিন মেনে চলা এবং সার্বক্ষণিক হাইড্রেটেড থাকা শরীরকে যেকোনো দুর্বলতা কাটিয়ে উঠতে সাহায্য করতে পারে। অপরদিকে, নিয়মতান্ত্রিক জীবনধারণ এবং সহনশীলতার চর্চা মননশীলতা বিকাশে সহায়ক হবে। এই পদ্ধতিতে ত্বরান্বিত করতে পারে কুরআন তেলাওয়াতের অ্যাপ ব্যবহার এবং স্মার্টফোন ব্যবহারে পরিমিতিবোধ। সার্বিকভাবে এই পদক্ষেপগুলোর যথাযথ অনুসরণের সম্ভব সুস্থ দেহ ও মন নিয়ে পুরো রোজার মাসটি অতিবাহিত করা।
আরও পড়ুন: শীতে ওজন বেড়ে যাচ্ছে? জেনে নিন কারণ ও সমাধান
৪৪৩ দিন আগে
বাউল সম্রাট শাহ আব্দুল করিমের জন্মদিন আজ
অসংখ্য জনপ্রিয় বাউল গান ও গণসংগীতের রচয়িতা বাউল শাহ আব্দুল করিমের জন্মদিন আজ। ১৯১৬ সালের ১৫ ফেব্রুয়ারি তিনি সুনামগঞ্জ জেলার দিরাই উপজেলার ধল-আশ্রম গ্রামে জন্মগ্রহণ করেন। তার বাবা ইব্রাহিম আলী ও মা নাইওরজান।
দারিদ্র ও জীবন সংগ্রামের মাঝে বড় হওয়া বাউল শাহ আবদুল করিমের সঙ্গীত সাধনার শুরু ছেলেবেলা থেকেই। শৈশব থেকেই একতারা ছিল তার নিত্যসঙ্গী। জীবন কেটেছে সাদাসিধে ভাবে। বাউল ও আধ্যাত্মিক গানের তালিম নেন— কমর উদ্দিন, সাধক রসিদ উদ্দিন, শাহ ইব্রাহিম মোস্তান বকসের কাছ থেকে। কিংবদন্তিতুল্য এই বাউল স্বশরীরে আমাদের মাঝে না থাকলেও তার গান ও সুরধারা কোটি কোটি তরুণসহ সকল স্তরের মানুষের মন ছুঁয়ে যায়।
কিংবদন্তিতুল্য এই শিল্পী ২০০৯ সালের ১২ সেপ্টেম্বর ৯৩ বছর বয়সে মারা যান। মৃত্যুর পর সর্বস্তরের বিশেষ করে সাধারণের কাছে আরও বেশি জনপ্রিয় হয়ে ওঠেন বাউল শাহ আব্দুল করিম
শাহ আবদুল করিম বাংলার লোকজ সঙ্গীতের ধারাকে অশ্বস্থ করেছেন অনায়াসে। ভাটি অঞ্চলের সুখদুঃখ তুলে এনেছেন গানে। নারী-পুরুষের মনের কথা ছোট ছোট বাক্যে প্রকাশ করেছেন আকর্ষণীয় সুরে। ভাটি অঞ্চলের মানুষের জীবনের সুখ প্রেম-ভালোবাসার পাশাপাশি তার গান কথা বলে সকল অন্যায়, অবিচার, কুসংস্কার আর সাম্প্রদায়িকতার বিরুদ্ধে।
তিনি তার গানের অনুপ্রেরণা পেয়েছেন প্রখ্যাত বাউল সম্রাট ফকির লালন শাহ, পুঞ্জু শাহ এবং দুদ্দু শাহের দর্শন থেকে। জীবিকা নির্বাহ করেছেন কৃষিকাজ করে। কিন্তু কোনো কিছু তাকে গান সৃষ্টি করা থেকে বিরত রাখতে পারেনি। অসংখ্য গণজাগরণের গানের রচয়িতা বাউল শাহ আব্দুল করিম অত্যন্ত সহজ-সরল জীবন যাপন করতেন।
গানে-গানে অর্ধ শতাব্দীরও বেশী সময় লড়াই করেছেন ধর্মান্ধদের বিরুদ্ধে। এজন্য মৌলবাদীদের নানা লাঞ্চনারও শিকার হয়েছিলেন তিনি। ব্রিটিশবিরোধী আন্দোলন, কাগমারী সম্মেলন, ভাষার আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধ, স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলনে মানুষকে প্রেরণা যোগায় শাহ আবদুল করিমের গান।
শাহ আবদুল করিম লিখেছেন ও সুর দিয়েছেন ১৬শর বেশি গান। যেগুলো সাতটি বইয়ে গ্রন্থিত আছে। বাংলা একাডেমীর উদ্যোগে তার ১০টি গান ইংরেজীতে অনূদিত হয়েছে।
আরও পড়ুন: বর্ণিল আয়োজনে ঢাবিতে বসন্ত বরণ
কিশোর বয়স থেকে গান লিখলেও কয়েক বছর আগেও এসব গান শুধুমাত্র ভাটি অঞ্চলের মানুষের কাছেই জনপ্রিয় ছিল। তার মৃত্যুর কয়েক বছর আগে বেশ কয়েকজন শিল্পী বাউল শাহ আব্দুল করিমের গানগুলো নতুন করে গেয়ে ব্যাপক জনপ্রিয়তা অর্জন করলে তিনি দেশব্যাপী পরিচিতি লাভ করেন। পেয়েছেন একুশে পদক।
শাকুর মজিদ তাকে নিয়ে নির্মাণ করেছেন ভাটির পুরুষ নামে একটি প্রামাণ্য চিত্র। এখনও সুবচন নাট্য সংসদ করিমকে নিয়ে শাকুর মজিদের লেখা ‘মহাজনের নাও’ নাটকের প্রদর্শনী করে জনপ্রিয়তা লাভ করেছে। এছাড়াও ২০১৭ শাহ আবদুল করিমের জীবনভিত্তিক প্রথম উপন্যাস লিখেন সাইমন জাকারিয়া। নাম কূলহারা কলঙ্কিনী।
বাউল সম্রাট আব্দুল করিমের গানের মধ্যে দিয়ে তাকে খুঁজতে প্রতিদিন ভক্ত ও স্বজনরা গানের আসর বসান। তার গান গেয়ে তার প্রতি শ্রদ্ধা আর গানের মধ্যে তাকে বাঁচিয়ে রাখতেই সবার মাঝে তার গান ছড়িয়ে দিতে চান ভক্ত আশেকানরা। একইসঙ্গে তার সুরধারাকে বিকৃতভাবে না গাওয়ার দাবিও তুলেছেন বাউলরা।
বন্দে মায়া লাগাইছে, পিরিতি শিখাইছে/আগে কি সুন্দর দিন কাটাইতাম, গাড়ি চলে না/আমি কূলহারা কলঙ্কিনী/কেমনে ভুলিবো আমি বাঁচি না তারে ছাড়া কোন মেস্তরি নাও বানাইছে/কেন পিরিতি বাড়াইলারে বন্ধু/বসন্ত বাতাসে সইগো/আইলায় না আইলায় নারে বন্ধু/মহাজনে বানাইয়াছে ময়ুরপংখী নাও/আমি বাংলা মায়ের ছেলেসহ অসংখ্য জনপ্রিয় গানের স্রষ্টা শাহ আব্দুল করিম না থাকলেও গানে আর সুরে তিনি আমাদের মাঝে রয়েছেন, অনন্তকাল থাকবেন।
একটি সাক্ষাৎকারে শাহ আবদুল করিম গাড়ি চলে না গানটি প্রসঙ্গে বলেছিলেন, বন্ধুর বাড়ি এ আত্মায়। গাড়িতে চড়ে আত্মশুদ্ধির সন্ধানে ছুটি। কিন্তু পাই না। রিপু থামিয়ে দেয়। একদিন হয়তো এই গাড়ি পুরোদমে থেমে যাবে। প্রকৃত মালিকের কাছে ধরা দেবে। এই করিমকে তখন মানুষ খুঁজে পাবে শুধুই গানে আর সুরে।
৪৪৪ দিন আগে
বর্ণিল আয়োজনে ঢাবিতে বসন্ত বরণ
অন্যান্য দিনের মতো সকাল হলেও আজকের সকালটি অনন্য। শীতের জড়তা শেষে আজ বসন্তের প্রথম দিন। তার ওপর পয়লা ফাল্গুনে ভালোবাসা দিবস হওয়ায় দিনটি নানাভাবে উদযাপন করছে দেশের মানুষ।
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের (ঢাবি) চারুকলা অনুষদের বকুলতলায় আজ শুক্রবার (১৪ ফেব্রুয়ারি) ভোরে বর্ণিল আয়োজনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় ‘বসন্ত উৎসব ১৪৩১’। ফাগুনের প্রথম দিন সকালে বিভিন্ন অনুষ্ঠানের মাধ্যমে চলে এই আয়োজন।
জুলাই অভ্যুত্থান আমার দ্রোহ-ভালোবাসার গানের ব্যানারে ঢাবির কলাভবনে সমগীত আয়োজিত ‘সমগীত বসন্ত উৎসব ১৪৩১’ দিয়ে শুরু হয় বসন্তের গান ও নৃত্য পরিবেশন। এ সময় লোকগীতির পাশাপাশি, পাহাড়ি জনগোষ্ঠীর সংগীতও পরিবেশন করেন শিল্পীরা।
শুরুতে পাঠশালার নৃত্যশিল্পীরা নাচ পরিবেশন করেন। একই সঙ্গে পাহাড়ি ও চা বাগানের থিমের সুর থেকে নেওয়া গানে অংশ নেন সমগীতের শিল্পীরা।
উপস্থিত দর্শনার্থীরা ইউএনবিকে বলেন, সকালে উঠেই এখানে চলে এসেছি বসন্ত উৎসব দেখতে। এরপর বইমেলায় যাব। বসন্তের প্রথম দিনটি সারা দিন উপভোগ করব।
উৎসবে আসা একজন বলেন, ‘বসন্ত আমাদের প্রাণের উৎসব। একই দিনে ফাগুনের প্রথম দিন ও ভালোবাসা দিবস হওয়ায় দিনটি আরও বেশি উপভোগ করছি।’
৪৪৫ দিন আগে
শবে বরাত: মুখরোচক ৫ হালুয়ার রেসিপি
শবে বরাতের জন্য বিশেষ কিছু মুখরোচক মিষ্টান্ন তৈরি করতে চান? হালুয়া একটি সুস্বাদু ও ভিন্নধর্মী মিষ্টান্ন, যা বাসায় সহজেই তৈরি করা যায়। এটি খেতে নরম, মুচমুচে ও সুগন্ধযুক্ত হয়। নিচে ৫টি সুস্বাদু হালুয়ার রেসিপি দেওয়া হলো, যা এই পবিত্র রাতে মিষ্টিমুখ করার জন্য অতুলনীয়!
ডিমের হালুয়া রেসিপি
উপকরণ:
ডিম – ৪টি
চিনি – ১/২ কাপ (স্বাদ অনুযায়ী কম-বেশি করা যাবে)
দুধ – ১/২ কাপ
ঘি – ২ টেবিল চামচ
গুঁড়া দুধ – ২ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)
এলাচ গুঁড়া – ১/২ চা চামচ
কিশমিশ – ২ টেবিল চামচ
কাজু বাদাম – ২ টেবিল চামচ (কুঁচি করা)
পেস্তা বাদাম – ১ টেবিল চামচ (সাজানোর জন্য)
প্রস্তুত প্রণালী:
একটি পাত্রে ডিমগুলো ভালোভাবে ফেটিয়ে নিন। এর মধ্যে চিনি, দুধ ও গুঁড়া দুধ দিয়ে আবার ভালোভাবে মিশিয়ে নিন।
এখন একটি প্যানে ঘি গরম করে দিন। এতে ফেটানো ডিমের মিশ্রণ ঢেলে দিন এবং হালকা আঁচে রান্না করুন। কিছুক্ষণ পর ডিম শক্ত হয়ে গেলে কাঠের চামচ দিয়ে ভেঙে নেড়ে নিন, যাতে ছোট ছোট দানা তৈরি হয়।
মিশ্রণটি যখন শুকিয়ে আসবে, তখন এতে এলাচ গুঁড়া, কিশমিশ, কাজু বাদাম দিন। ভালোভাবে নেড়ে আরও ৫ মিনিট রান্না করুন, যতক্ষণ না হালুয়া মসৃণ ও মাখনের মতো হয়ে আসে।
চাইলে এক চিমটি জাফরান বা কেওড়া জল যোগ করলে সুন্দর সুগন্ধ আসবে। মিষ্টি বেশি পছন্দ হলে চিনি পরিমাণমতো বাড়িয়ে নিতে পারেন। এটি গরম বা ঠান্ডা, দুইভাবেই দারুণ লাগে!
অতঃপর নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন অথবা ঠান্ডা করে পেস্তা বাদাম ছড়িয়ে পরিবেশন করুন।
আরও পড়ুন: বাসা-বাড়ির রান্নায় সিলিন্ডার গ্যাসের খরচ কমাবেন যেভাবে
গাজরের হালুয়া রেসিপি
উপকরণ:
গাজর (কুঁচি করা) – ১ কেজি
তরল দুধ – ১ লিটার
চিনি – ১ কাপ (স্বাদ অনুযায়ী কম-বেশি করা যাবে)
ঘি – ৪ টেবিল চামচ
কনডেন্সড মিল্ক – ১/২ কাপ (ঐচ্ছিক, স্বাদ বাড়ানোর জন্য)
এলাচ গুঁড়া – ১/২ চা চামচ
কিশমিশ – ২ টেবিল চামচ
কাঠবাদাম ও কাজু – ২ টেবিল চামচ (কুঁচি করা)
গাজর তৈরি করার পদ্ধতি:
গাজর ভালো করে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে কুচি করে নিন।
এখন একটি ভারী তলার প্যানে দুধ দিয়ে গাজর সিদ্ধ করুন। চুলার আঁচ মাঝারি রাখুন এবং মাঝে মাঝে নাড়তে থাকুন, যাতে নিচে লেগে না যায়।
গাজর যখন নরম হয়ে যাবে এবং দুধ প্রায় শুকিয়ে আসবে, তখন চিনি ও কনডেন্সড মিল্ক দিয়ে ভালোভাবে নেড়ে দিন। এই পর্যায়ে হালুয়ার রঙ গাঢ় লালচে হয়ে আসবে।
এবার ঘি ঢেলে দিন এবং ভালো করে নাড়তে থাকুন। এলাচ গুঁড়া, কিশমিশ, কাঠবাদাম ও কাজু মিশিয়ে দিন। ৫-৭ মিনিট ভালোভাবে নাড়ুন, যতক্ষণ না হালুয়া ঘন হয়ে আসে এবং ঘি ছাড়তে শুরু করে।
যদি বেশি ক্রিমি স্বাদ চান, তাহলে কনডেন্সড মিল্ক ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে একটু জাফরান বা কেওড়া জল দিতে পারেন, এতে সুগন্ধ আরও বাড়বে। নামিয়ে গরম গরম পরিবেশন করুন, অথবা ঠান্ডা করে ফ্রিজে রেখে পরে উপভোগ করুন!
বুটের হালুয়া রেসিপি
উপকরণ:
বুটের ডাল – ১ কাপ (৩-৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে নেওয়া)
চিনি – ১ কাপ (স্বাদ অনুযায়ী কম-বেশি করা যাবে)
ঘি – ১/২ কাপ
দুধ – ১/২ কাপ
কনডেন্সড মিল্ক – ২ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)
এলাচ গুঁড়া – ১/২ চা চামচ
কিসমিস – ২ টেবিল চামচ
কাজু ও কাঠবাদাম – ২ টেবিল চামচ (কুঁচি করা)
বুটের হালুয়া প্রস্তুত প্রণালী:
৩-৪ ঘণ্টা ভিজিয়ে রাখা বুটের ডাল ভালো করে ধুয়ে নরম করে সেদ্ধ করুন। পানি ঝরিয়ে সেদ্ধ ডাল ব্লেন্ড করে মসৃণ পেস্ট তৈরি করুন।
অতঃপর কড়াইতে ঘি গরম করে তাতে বুটের ডালের পেস্ট ঢেলে দিন। মাঝারি আঁচে ক্রমাগত নেড়ে নেড়ে ডাল ভালোভাবে ভাজতে থাকুন। ডালের রঙ হালকা সোনালি হয়ে আসলে এতে দুধ ও চিনি দিন এবং ভালোভাবে মিশিয়ে নেড়েচেড়ে দিন।
মিশ্রণটি ঘন হয়ে আসলে কনডেন্সড মিল্ক ও এলাচ গুঁড়া দিন। তারপর বাদাম ও কিশমিশ দিয়ে ভালোভাবে নাড়িয়ে আরও ৫-৭ মিনিট রান্না করুন। যখন ঘি ছাড়তে শুরু করবে এবং হালুয়া নরম ও মসৃণ হবে, তখন নামিয়ে নিন।
হালুয়ার স্বাদ বাড়াতে চাইলে ১ টেবিল চামচ কেওড়া জল যোগ করতে পারেন। বাদাম ও কিশমিশ ছাড়াও পেস্তা বাদাম কুচি দিয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করা যায়। মিষ্টি বেশি বা কম করতে চাইলে চিনি স্বাদ অনুযায়ী বাড়িয়ে বা কমিয়ে নিন।
এখন গরম গরম অথবা ঠান্ডা করে পরিবেশন করুন সুস্বাদু বুটের হালুয়া!
আরও পড়ুন: মিয়াজাকি বা সূর্যডিম আম কেন এত দামি
পেঁপের হালুয়া রেসিপি
উপকরণ:
কাঁচা পেঁপে – ১টি (মাঝারি সাইজের, খোসা ছাড়িয়ে কুঁচি করা)
চিনি – ১/২ কাপ (স্বাদ অনুযায়ী কম-বেশি করা যাবে)
দুধ – ১/২ কাপ
ঘি – ৪ টেবিল চামচ
গুঁড়া দুধ – ২ টেবিল চামচ (ঐচ্ছিক)
এলাচ গুঁড়া – ১/২ চা চামচ
কিশমিশ – ২ টেবিল চামচ
কাজু ও বাদাম কুচি – ২ টেবিল চামচ
কেওড়া জল – ১ চা চামচ (ঐচ্ছিক)
পেঁপের হালুয়া প্রস্তুত প্রণালী:
কাঁচা পেঁপে ধুয়ে খোসা ছাড়িয়ে ছোট ছোট কুচি করুন। কড়াইতে পানি দিয়ে ১০-১৫ মিনিট সেদ্ধ করুন, যাতে পেঁপে নরম হয়ে যায়। পানি ঝরিয়ে সেদ্ধ পেঁপে ভালোভাবে চটকে নিন।
অতঃপর কড়াইতে ঘি গরম করে এতে চটকে রাখা পেঁপে ঢেলে দিন। মাঝারি আঁচে ক্রমাগত নেড়ে নেড়ে ভাজতে থাকুন। ৮-১০ মিনিট পর দুধ ও গুঁড়া দুধ দিন এবং ভালোভাবে মেশান।
যখন পেঁপে ভালোভাবে মিশে যাবে, তখন চিনি ও এলাচ গুঁড়া যোগ করুন। মিশ্রণটি ঘন হয়ে এলে কিশমিশ ও বাদাম দিন। চাইলে এই সময় ১ চা চামচ কেওড়া জল যোগ করতে পারেন সুগন্ধ বাড়ানোর জন্য।
মিষ্টি বেশি চাইলে চিনি পরিমাণমতো বাড়িয়ে নিন। ঘন ও মজাদার স্বাদের জন্য কনডেন্সড মিল্ক ব্যবহার করতে পারেন। চাইলে শুকনো নারকেল কুচি দিয়েও সুগন্ধ ও স্বাদ বাড়ানো যায়।
যখন হালুয়া ঘন হয়ে ঘি ছাড়তে শুরু করবে, তখন নামিয়ে পরিবেশন করুন। চাইলে ওপর থেকে কিছু বাদাম কুচি ও কিশমিশ ছড়িয়ে সাজিয়ে পরিবেশন করুন।
আরও পড়ুন: স্মরণশক্তি বাড়ানোর জন্য যেসব খাবার উপকারী
সুজির হালুয়া রেসিপি
উপকরণ:
সুজি – ১ কাপ
চিনি – ১/২ কাপ (স্বাদ অনুযায়ী কম-বেশি করা যাবে)
পানি – ২ কাপ (দুধ ব্যবহার করলে স্বাদ আরও ভালো হবে)
ঘি – ৪ টেবিল চামচ
কিশমিশ – ২ টেবিল চামচ
কাজু ও বাদাম কুচি – ২ টেবিল চামচ
এলাচ গুঁড়া – ১/২ চা চামচ
সুজির হালুয়া প্রস্তুত প্রণালী:
একটি প্যানে ২ টেবিল চামচ ঘি গরম করুন। এতে সুজি দিয়ে মাঝারি আঁচে নাড়তে থাকুন, যতক্ষণ না এটি হালকা বাদামি হয়ে যায় এবং সুন্দর ঘ্রাণ আসে।
এখন অন্য একটি পাত্রে পানি ও চিনি একসঙ্গে গরম করে নিন। চাইলে এতে ১/২ চা চামচ এলাচ গুঁড়া দিয়ে সুগন্ধ বাড়াতে পারেন। সিরা ফুটে উঠলে নামিয়ে রাখুন।
অতঃপর ভাজা সুজির মধ্যে ধীরে ধীরে গরম সিরা ঢেলে নেড়ে দিন। অল্প আঁচে রান্না করুন এবং ক্রমাগত নেড়ে দিন, যাতে কোনো দানা না থাকে।
যখন হালুয়া ঘন হয়ে আসবে, তখন এতে বাদাম, কিসমিস ও বাকি ঘি দিয়ে দিন। আরও কিছুক্ষণ নাড়াচাড়া করুন যতক্ষণ না হালুয়া মসৃণ ও মাখনের মতো হয়ে আসে।
দুধ দিয়ে বানালে হালুয়ার স্বাদ আরও মজাদার হবে। বেশি ঘন ও মজাদার স্বাদের জন্য এক চা চামচ কেওড়া জল যোগ করা যায়। চিনি কম বা বেশি করতে পারেন স্বাদ অনুযায়ী।
গরম গরম সুজির হালুয়া পরিবেশন করুন, অথবা ঠান্ডা করে খেতে পারেন! চাইলে ওপর থেকে কিছু বাদাম ও কিসমিস ছড়িয়ে দিতে পারেন।
উপসংহার
পবিত্র শবেবরাতে সিয়াম সাধনার পাশাপাশি মুখরোচক এই পাঁচটি হালুয়া আপনার ও পরিবারের সদস্যদের দিতে পারে প্রশান্ত। কিন্তু যাদের ডায়াবেটিস বা অন্য রোগ রয়েছে তারা উপকরণগুলো কিছুটা বদলে নিতে পারেন।
আরও পড়ুন: অফিসে কাজের ফাঁকে হালকা ক্ষুধা মেটাতে পুষ্টিকর শুকনো খাবার
৪৪৬ দিন আগে