জীবনধারা
নতুন বছরে সঞ্চয় বাড়ানোর কয়েকটি উপায়
বিগত বছরগুলোর ধারাবাহিকতায় ২০২৫ সালেও জনজীবনের ওপর সবচেয়ে বড় চাপ হিসেবে রয়েছে মুদ্রাস্ফীতির ক্রমবর্ধমান নিষ্পেষণ। জীবনযাত্রার ব্যয়ের ঊর্ধ্বগতি আর্থিক স্থিতিশীলতাকে ক্রমশঃ হুমকিতে ফেলছে। মৌলিক চাহিদা মেটাতেই যেখানে ঋণ গ্রহণের বাধ্যবাধকতা, সেখানে সঞ্চয়ের প্রসঙ্গটি প্রশ্নবিদ্ধ থেকে যায়। আবার সঞ্চয় ব্যতীত জীবন আরও অবনতির দিকে ধাবিত হয়।
তবে অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝেও চরম সংকট মোকাবিলায় মোক্ষম হাতিয়ার হতে পারে অর্থের সুষ্ঠু ব্যবস্থাপনা। চলুন, আত্মবিশ্বাস ও দূরদর্শিতার সঙ্গে সঞ্চয় বৃদ্ধির কয়েকটি প্রয়োজনীয় উপায় জেনে নেওয়া যাক।
সঞ্চয় বৃদ্ধির ৫টি কার্যকর কৌশল
জীবনের দৈনন্দিন লেনদেনে নিম্নোক্ত পাঁচটি পদ্ধতি অবলম্বনের মধ্য দিয়ে দীর্ঘমেয়াদী সঞ্চয়ের নির্ভরযোগ্য সুযোগ সৃষ্টি করা যেতে পারে-
সামঞ্জস্যপূর্ণ বাজেট তৈরি
প্রত্যেকটি ছোট ছোট বিষয়কে বিবেচনায় রেখে একটি বিশদ বাজেট পরিকল্পনা গড়ে দিতে পারে আর্থিক ব্যবস্থাপনার মূল ভিত্তি। এখানে আয়ের উৎসের বিপরীতে ব্যয়ের শ্রেণি বিভাজন হওয়ার কারণে সম্ভাব্য খরচের খাতগুলো স্পষ্টভাবে দৃষ্টিগোচর হয়।
আরো পড়ুন: ই-রিটার্ন: অনলাইনে আয়কর রিটার্ন দাখিল করবেন যেভাবে
বাজেটে সঞ্চয়ের জন্য জায়গা রাখার কৌশল হচ্ছে শুধুমাত্র অতি প্রয়োজনীয় ব্যয়ের খাতগুলোকে আমলে নেওয়া। সেই সঙ্গে অনাকাঙ্ক্ষিত খরচগুলো চিহ্নিত করে রাখা উচিত, যেন সেগুলো থেকে দূরে থাকা যায়।
আকস্মিক জটিলতাগুলোর জন্য আগে থেকেই বিকল্প রাস্তা বের করে রাখা জরুরি। বর্তমান অর্থনৈতিক অস্থিরতার মাঝে এমন সময় আসা খুবই স্বাভাবিক যখন সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী এগোবে না। এই বিষয়গুলোকে ছোট ছোট অংশে বিভক্ত করে সেগুলোর প্রতিটির জন্য একটি বিকল্প নিরাপদ পন্থা বের করে রাখতে হবে। এর জন্যও কিছু জরুরি তহবিল রাখা বাঞ্ছনীয়।
স্প্রেডশিটযুক্ত (এক্সেল) মোবাইল বা কম্পিউটার অ্যাপ্লিকেশনের মাধ্যমে এই পদক্ষেপটি সহজেই নেওয়া যায়। এই সফ্টওয়্যার ব্যবহারের সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো, এগুলো রিয়েল-টাইম ট্র্যাকিং প্রযুক্তি সম্পন্ন, অর্থাৎ তাৎক্ষণিক নিজের তৈরি করা বাজেটের ওপর চোখ বুলিয়ে নেওয়া যায়। ফলে শুধু পরিকল্পনাই নয়, সে অনুযায়ী অ্যাকশন প্ল্যানগুলো ঠিকমতো বাস্তবায়িত হচ্ছে কিনা, সেদিকেও খেয়াল রাখা সম্ভব হয়। প্রতিটি ব্যয়ের খাতের জন্য মাসিক আয়ের যে শতাংশ বরাদ্দ ছিল, সেই সীমা অতিক্রম করছে কিনা তা নজরে আসে।
আরো পড়ুন: বাংলাদেশ সরকারের ট্রেজারি বন্ডে বিনিয়োগ করার পদ্ধতি
পুনরাবৃত্তিমূলক খরচ কমানো
প্রয়োজনীয়তার মাত্রার নিরিখে প্রতি মাসের জন্য অবধারিত খরচগুলোর শ্রেণিবিন্যাস করা উচিত। এগুলোর মধ্যে কিছু থাকে যেগুলো কোনোভাবেই বাদ দেওয়া যাবে না, যেমন: বাড়িভাড়া, বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিল। আবার এর মধ্যে বিদ্যুৎ, গ্যাস ও পানির বিলও প্রযোজ্য ক্ষেত্রে ব্যবহার কমিয়ে নিয়ন্ত্রণ করা যায়। এছাড়া নবায়নযোগ্য শক্তির উৎস এবং এনার্জি সেভিং যন্ত্রাদি ব্যবহারের মাধ্যমেও খরচ অনেকটা কমে আসে।
পুনরাবৃত্তিমূলক খরচের কিছু খাত রয়েছে যেগুলো মূলত জীবনধারণের সঙ্গে সম্পৃক্ত। যেমন ক্যাবল টিভি ও ইন্টারনেট বিল, ফোন বিল, ওটিটি সাবস্ক্রিপশন এবং জিমের সদস্যতা। সময় ও পরিস্থিতি অনুযায়ী এগুলোর মধ্যে এক বা একাধিক পরিষেবা বাদ দিয়ে খরচ নিয়ন্ত্রণে রাখা যায়।
বিশেষ করে আজকাল ইন্টারনেটের মাধ্যমে দেশি-বিদেশি বিভিন্ন চ্যানেলের অনুষ্ঠান দেখা যায়। সেক্ষেত্রে ক্যাবল টিভি ও ওটিটি বিলের পুরোটাই বাদ দেওয়া যায়। ইন্টারনেটের সঙ্গে সংযুক্ত যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্যবহার করা হলে ফোনের বিলের ওপর থেকেও চাপ কমে যাবে।
আরো পড়ুন: বন্ডে বিনিয়োগের আগে যেসব বিষয়ে খেয়াল রাখা জরুরি
তাছাড়া নিতান্তই বাদ দেওয়া সম্ভব না হলে ব্যবহারের মাত্রা কমিয়ে বা দর কষাকষির মাধ্যমে কম খরচের পরিষেবা নেওয়া যেতে পারে।
কৌশলগত বিনিয়োগ
বিনিয়োগ আসলে সঞ্চয়ের কোনো প্রত্যক্ষ উপায় নয়। কিন্তু এই বিচক্ষণ কার্যক্রমটির পথ ধরে আসে সঞ্চয়ের সুযোগ। সঞ্চয়পত্র বা সরকারি বন্ডের মতো তুলনামূলক কম ঝুঁকিপূর্ণ খাতগুলোতে বিনিয়োগ করা হলে সঙ্গতিপূর্ণ রিটার্ন দীর্ঘমেয়াদে স্থিতিশীলতা আনে।
ঝুঁকি বেশি থাকা খাতগুলোর মধ্যে স্টক ও মিউচুয়াল ফান্ড বা এক্সচেঞ্জ-ট্রেডেড ফান্ড দিয়ে সর্তকতার সঙ্গে বিনিয়োগ পোর্টফোলিও গড়া যেতে পারে। এগুলো সামগ্রিকভাবে মুদ্রাস্ফীতিকে টেক্কা দিতে সহায়তা করে।
আরো পড়ুন: ইউএস ডলার ইনভেস্টমেন্ট বন্ডে প্রবাসী বাংলাদেশিরা যেভাবে বিনিয়োগ করবেন
চলতি বছরের শেষ দিকে বাংলাদেশের মুদ্রাস্ফীতি দাঁড়িয়েছে ১১ দশমিক ৩৮ শতাংশে। মোটা দাগে বলতে গেলে, এ বছরের শুরু থেকে সঞ্চিত ১০০ টাকা নতুন বছরে গিয়ে হয়ে যাবে ৮৮ টাকা। ফলে ১০০ টাকা দামের কোনোকিছু কিনতে গেলে তার সঙ্গে আরও ১২ টাকা যুক্ত করতে হবে। তাই কমপক্ষে ১৩ শতাংশ রিটার্ন দেওয়া কোনো খাতে বিনিয়োগ করা হলে প্রাপ্ত মুনাফা থেকে লেনদেনের পরও ১ টাকা সঞ্চয় হিসেবে থেকে যাবে।
এভাবে সুচিন্তিত বিনিয়োগ পরোক্ষভাবে সঞ্চয়ের ক্ষেত্র তৈরি করে। এছাড়া সরকারি খাতে বিনিয়োগের মাধ্যমে কর রেয়াতের সুবিধাটিও অর্থ সঞ্চয়ের একটি কার্যকর মাধ্যম।
ডিসকাউন্ট ও ফ্রি অফারে গুরুত্বারোপ
দৈনন্দিন কেনাকাটার সময় মূল্যহ্রাস ও ফ্রি সামগ্রীগুলোতে অগ্রাধিকার দেওয়া টাকা বাঁচানোর সবচেয়ে পুরনো ও সহজ উপায়। ব্র্যান্ড, সাধারণ, খুচরা ও পাইকারি-নির্বিশেষে প্রতিটি বিপণী বছরজুড়ে নানা উপলক্ষে ডিসকাউন্ট, ক্যাশব্যাক বা রিডিমযোগ্য পয়েন্টের ব্যবস্থা রাখে। বর্তমানে ডিজিটাল মার্কেটিংয়ের দৌলতে এগুলো আরও সহজলভ্য হয়ে উঠেছে।
আরো পড়ুন: পুরনো স্বর্ণ বিক্রির সময় যে কারণে দাম কেটে রাখা হয়
ই-কমার্স প্ল্যাটফর্ম থাকার কারণে যাতায়াত খরচ বাঁচিয়ে ঘরে বসেই হ্রাসকৃত মূল্যে কেনাকাটা করা যাচ্ছে। জনপ্রিয় পেমেন্ট গেটওয়েগুলো ব্যবহারেও থাকে মূল্যছাড়ের অফার।
এছাড়া সিজনাল সেলস ও স্টক ক্লিয়ারেন্স ইভেন্টগুলোর প্রতিও নজর রাখা উচিত। সাশ্রয়ী মূল্যে পছন্দের জিনিসটি কেনার জন্য এটি সবচেয়ে আদর্শ উপায়।
সর্বদা সাশ্রয়ী বিকল্প পন্থা অবলম্বন
সবচেয়ে প্রয়োজনীয় পণ্যটির দাম সহনীয় যতক্ষণ না সহনীয় পর্যায়ে নেমে আসে, ততক্ষণ অপেক্ষা করা উচিৎ। বিশেষ করে সাধারণ মুদিপণ্যের ব্যাপারে এই পদক্ষেপ নিতে হবে। দাম না কমলে তা পরিহার করতে হবে। মৌসুমি সবজি ও ফলমূলের ক্ষেত্রে এই বিষয়টি বিশেষভাবে বিবেচনা করা উচিৎ।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রের মেয়াদ শেষে নগদায়ন বা পুনরায় চালু করার উপায়
যাতায়াতের যানবাহন ব্যবহারের ক্ষেত্রে দর কষাকষি করা উচিত। বর্তমানে উন্নত যোগাযোগব্যবস্থা সর্বত্র বিদ্যমান। এই সুবিধা কাজে লাগিয়ে যতটা সম্ভব কম যাতায়াত করে প্রাত্যহিক কর্ম সম্পাদনের চেষ্টা করা উচিত। একটি ছোট ফোন কল বা হোয়াটসঅ্যাপ-মেসেঞ্জারের মাধ্যমে এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ কাজ করা সম্ভব, যার জন্য আগে সশরীরে দেখা করার কোনো বিকল্প ছিল না।
এই কার্যক্রমগুলো প্রতিদিনের যাতায়াত খরচকে অল্প অল্প করে কমিয়ে দেয়। অথচ সপ্তাহ ও মাসের হিসাবে এগুলোই খরচের বোঝাও ওপর বিরাট চাপ সৃষ্টি করে।
এই পন্থাগুলো মূলত জীবনধারণ পরিবর্তনের দিকে ইঙ্গিত করে। পরিমিত বাজেট অনুযায়ী জীবন পরিচালনা করে সঞ্চয়ের অভ্যাসের জন্য মনকে প্রস্তুত করাও জরুরি।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রে যেভাবে বিনিয়োগ করবেন
২০২৫ সাল আসতে আর বেশি দেরি নেই। প্রত্যেকের আর্থিক জীবনপ্রবাহেও পড়বে নতুন বছরের প্রভাব। তাই এখন থেকেই ব্যয়ের বাজেট প্রণয়ন ও সঞ্চয় বৃদ্ধির বিষয়টিতে গুরুত্ব দেওয়া উচিৎ।
শেষাংশ
সঞ্চয় বৃদ্ধির উল্লিখিত কৌশলগুলোকে সমন্বয় করা মূলত আর্থিক স্থিতিশীলতারই নামান্তর। বাজেট প্রাথমকিভাবে আর্থিক স্বচ্ছতার ভিত্তি স্থাপন করে। পুনরাবৃত্তিমূলক খরচগুলো কমানো গেলে তা দিন শেষে অতিরিক্ত সঞ্চয়ের জন্যই জায়গা তৈরি করে।
এছাড়া, মুদ্রাস্ফীতির সঙ্গে পাল্লা দেওয়ার সবচেয়ে বড় পদক্ষেপ হলো কৌশলগত বিনিয়োগ। ডিসকাউন্ট, ফ্রি অফারের পাশাপাশি যেকোনো কাজে সাশ্রয়ী বিকল্প পন্থা অবলম্বন অনাকাঙ্ক্ষিত চ্যালেঞ্জের বিরুদ্ধে ঢাল হিসেবে কাজ করে।
আরো পড়ুন: সঞ্চয়পত্রের সঙ্গে সংযুক্ত ব্যাংক পরিবর্তন করে অন্য ব্যাংকে স্থানান্তরের উপায়
সার্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে এই পদ্ধতিগুলো বাজেটবান্ধব জীবনধারণের প্রতি তাগিদ দেয় যেখানে থাকবে না ঋণের দুশ্চিন্তা ও অপ্রাপ্তির বিড়ম্বনা।
৫৩৮ দিন আগে
আসছে বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ: ঢাকার আশেপাশে কোথায় ঘুরতে যাবেন?
শুরু হয়ে গেছে উৎসবের মৌসুম। একই সঙ্গে বড়দিন, বছরান্ত, ইংরেজি নববর্ষ এবং শীতকাল। ফানুশ ওড়ানো ও ঘন কুয়াশায় মুখ দিয়ে ধোয়া বের হওয়ার অভিজ্ঞতাকে প্রাণভরে উপভোগ করতে ভ্রমণপ্রিয় মনটা চঞ্চল হয়ে ওঠে। সেই সঙ্গে হিড়িক পড়ে যায় মুখরোচক ভোজের মধ্য দিয়ে পরিবার বা বন্ধু-বান্ধব নিয়ে বড়দিন ও নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর। আর এই উদযাপন যদি করা যায় নির্মল প্রকৃতির সান্নিধ্যে, তাহলে আনন্দটা বেড়ে যায় দ্বিগুণ। ঢাকার সন্নিকটে তেমনি কিছু দর্শনীয় স্থান ও রিসোর্ট নিয়েই আজকের ভ্রমণকড়চা। চলুন, ঢাকার কাছেই বড়দিন ও ইংরেজি নববর্ষ উদযাপনের দারুণ কয়েকটি জায়গার ব্যাপারে জেনে নেওয়া যাক।
বড়দিন ও নতুন বছরের ছুটিতে ঢাকার কাছেই কিছু অবকাশ যাপনের স্থান
.
জল কাচারি রিসোর্ট
কেরাণীগঞ্জ উপজেলার হযরতপুরের এই রিসোর্টের মূল আকর্ষণ হলো ধলেশ্বরী নদীর মন ভোলানো দৃশ্য। লাল-সাদা টিনকাঠের প্রানেশ্বরী কটেজ ও দৃষ্টিনন্দন ২টি সানরুম থেকে দৃষ্টি জুড়ে ধারণ করা যায় নদীকে। আর গাঙচিল প্ল্যাটফর্মটি তো একদম নদীর ওপরেই ভাসমান। এখানে বসে মাটির চুলায় রান্না করা দেশীয় খাবার খাওয়ার সময় চোখে পড়ে ওপাড়ের নির্মল সবুজ প্রকৃতি। চাইলে নৌকায় ভেসে আরও কাছ থেকে উপভোগ করা যায় নদীর অনিন্দ্য সৌন্দর্য্যকে।
মোহাম্মদপুর থেকে কলাতিয়া রোড ধরে ঢালিকান্দির দিকে এই রিসোর্টটিতে পৌঁছাতে সময় লাগবে ১ ঘণ্টা।
আরো পড়ুন: বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণ: ঘুরে আসুন দ্বিতীয় সাজেক
কটেজ হাউস
সাভারের এই সুদৃশ্য অতিথিশালাটি মূলত প্রায় ২ বিঘা জমির একটি অত্যাধুনিক ভিলা। রাজধানী থেকে ১ ঘণ্টার দূরত্বের এই অবকাশ যাপনকেন্দ্রে রয়েছে ১ হাজার ৩০০ বর্গফুটের সুইমিং পুল। থাকার জন্য রয়েছে শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত ২টি প্রশস্ত রুম। আছে বারবিকিউ, উন্মুক্ত ডাইনিং, এবং ব্যাডমিন্টন খেলার সুবিধা। সবুজ লন, বাগান ও এর মাঝে দোলনা আভিজাত্যের পাশাপাশি দিয়েছে শৈল্পিক পরশ।
সাভারের বাজার রোডে উঠে সামনে এগোলে বাড্ডা ভাটপাড়া রোডের ৯৩ বি প্লটটিই কটেজ হাউস।
৫৪৭ দিন আগে
বিশ্ব ভ্রমণে নাজমুনের ১৭৮ দেশ ভ্রমণের রেকর্ড
প্রথম বাংলাদেশি হিসেবে ১৭৮টি দেশ ভ্রমণের রেকর্ড গড়েছেন নাজমুন নাহার। ১৭৮তম দেশ হিসেবে পাপুয়া নিউগিনি ভ্রমণের মাধ্যমে এ রেকর্ড গড়েন তিনি। এছাড়া বিশ্বের প্রথম মুসলিম নারী হিসেবেও ১৭৮টি দেশ ভ্রমণের এ কীর্তি এখন তার দখলে।
পাপুয়া নিউগিনির উপপ্রধানমন্ত্রী জন রোসো এক বিশেষ সাক্ষাতে নাজমুন নাহারকে বিশ্ব ভ্রমণের এই বিরল রেকর্ড অর্জনের জন্য অভিনন্দন জানিয়েছেন।
এছাড়া নাজমুন ১৭৭তম দেশ হিসেবে ভ্রমণ করেছেন সলোমান আইল্যান্ড। সলোমান আইল্যান্ডের জনপ্রিয় তাভুলী নিউজে বিখ্যাত সাংবাদিক জর্জিনা কেকেয়ার লেখা ফিচারে উঠে আসে নাজমুন নাহারের গৌরবময় বিশ্ব ভ্রমণের সংগ্রাম ও সাফল্যের কথা।
নাজমুন নাহার এভাবে বিশ্ব দরবারে বাংলাদেশের লাল সবুজের পতাকা তুলে ধরছেন এবং বিশ্ব শান্তির বার্তা ছড়িয়ে দিচ্ছেন মানুষের মাঝে। নাজমুন তার ভ্রমণের সময় বিশ্ব শান্তি, ঐক্য এবং পরিবেশ রক্ষার বার্তা পৌঁছে দিয়েছেন মানুষের মাঝে।
এই অভিযাত্রায় গত তিন মাস তিনি ভ্রমণ করেছেন ওশেনিয়া মহাদেশের ফিজি, টোঙ্গা, ভানুয়াতু, সলোমন আইল্যান্ড ও পাপুয়া নিউগিনি।
নাজমুন বলেন, ওশেনিয়ার সামুদ্রিক এসব দেশ ভ্রমণ অনেক চ্যালেঞ্জিং ছিল, তবে ভূস্বর্গের অপরূপ রহস্যময় প্রাকৃতিক সৌন্দর্য আবিষ্কার করেছি সেখানে।
তার বিশ্ব ভ্রমণের মাঝে তিনি বহুবার মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছেন, তবুও তিনি দুর্গম পথ পেরিয়ে গিয়েছেন তার স্বপ্ন পূরণের লক্ষ্যে।
ছোটবেলা থেকে তার স্বপ্ন, সাহস, অধ্যবসায় ও অদম্য ইচ্ছাশক্তি তাকে পৌঁছে দিয়েছে এক অনন্য উচ্চতায়। তার বিশ্ব ভ্রমণের প্রবল ইচ্ছে শক্তির কাছে কোনো কিছুই বাধা হয়ে দাঁড়াতে পারেনি।
২০০০ সালে ইন্ডিয়া ইন্টারন্যাশনাল অ্যাডভেঞ্চার প্রোগ্রামে অংশগ্রহণের মাধ্যমে প্রথম বিশ্ব ভ্রমণ শুরু হয় নাজমুন নাহারের। সেই থেকে এখন পর্যন্ত বিশ্ব ভ্রমণ চলছে এবং তিনি ভ্রমণ করবেন বিশ্বের অবশিষ্ট দেশগুলো।
নাজমুন ২০১৮ সালের ১ জুন ১০০তম দেশ ভ্রমণের মাইলফলক সৃষ্টি করেন জাম্বিয়া ও জিম্বাবুয়ের সীমান্তের ভিক্টোরিয়া জলপ্রপাতের উপর। ৬ অক্টোবর ২০২১ সালে ১৫০ তম দেশ হিসেবে "সাওটোমে অ্যান্ড প্রিন্সিপ" ভ্রমণের মাধ্যমে ঐতিহাসিক মাইলফলক সৃষ্টি করেন। এরপর ১৫ সেপ্টেম্বর ২০২৪ সালে ১৭৫ দেশ ভ্রমণের আরেকটি মাইলফলক স্পর্শ করেন।
ছোট্টবেলা থেকে নানা প্রতিকূলতার মাঝেও অদম্য স্বপ্ন আর চেষ্টা তাকে নিয়ে গেছে এতদূর। নাজমুন বেশিরভাগ দেশ ভ্রমণ করেছেন একাকী সড়কপথে।
২০০৬ সালে শিক্ষাবৃত্তি নিয়ে পাড়ি জমান সুইডেনে এবং সেখান থেকে উচ্চতর ডিগ্রি লাভ করেন। নাজমুন তার অসাধারণ অভিযাত্রার মাঝে যেমন পৃথিবীকে দেখেছেন, তেমনি তিনি সব শিশু ও তরুণদের অনুপ্রাণিত করেছেন সীমাবদ্ধতা অতিক্রম করে বড় করে স্বপ্ন দেখার।
পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের বড় বড় গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছে নাজমুন নাহারের বিশ্ব ভ্রমণের অভিযাত্রা। বিশ্বের বিভিন্ন দেশের প্রধানমন্ত্রী ও বড় বড় ব্যক্তিত্বরা তাকে সম্মাননা ও সংবর্ধনা দিয়েছে। পৃথিবী ভ্রমণের সময় তিনি বিশ্বের বিভিন্ন স্কুল-কলেজ বিশ্ববিদ্যালয় থেকে আমন্ত্রিত অতিথি হিসেবে উৎসাহব্যঞ্জক বক্তব্য দিয়েছেন।
যুক্তরাষ্ট্রের পিস টর্চ বিয়ারার অ্যাওয়ার্ড পেয়েছেন নাজমুন নাহার। এছাড়াও তার অর্জনের ঝুলিতে যুক্ত হয়েছে ৫৫টির মতো পুরস্কার ও সম্মাননা।
বাংলাদেশের লক্ষ্মীপুরে জন্ম নিয়েছেন এই কৃতি নারী। বিশ্ব ভ্রমণের জন্য নাজমুন নাহারের জীবনের সবচেয়ে বড় উৎসাহের প্রতীক হলেন বাবা, দাদা ও বই।
তার দাদা আহমদ উল্লাহ একজন ইসলামিক স্কলার ছিলেন। ১৯২৬ থেকে ১৯৩১ সাল পর্যন্ত আরব ভূখণ্ডের অনেক দেশ ভ্রমণ করেছেন ঘোড়ায় চড়ে, পায়ে হেঁটে ও জাহাজে করে। তিনি তার মাকে নিয়েও ভ্রমণ করেছেন পৃথিবীর ১৪টি দেশ।
নাজমুন নাহার লাল–সবুজের পতাকাবাহী তারকা। বিশ্বভ্রমণের ইতিহাসে দেশে দেশে বাংলাদেশের মানচিত্র স্থান পাচ্ছে নাজমুন নাহারের হাত ধরে।
নারীদের বাধা ডিঙিয়ে প্রজন্ম থেকে প্রজন্মে আলোর পথ দেখিয়েছেন বেগম রোকেয়া, প্রীতিলতার মতো নক্ষত্ররা। নাজমুন আগামী প্রজন্মের জন্য এমন পথ সৃষ্টি করেছেন, যা শিশু-তরুণসহ সব মানুষকে উৎসাহিত করবে যুগে যুগে।
৫৫৭ দিন আগে
প্রাচীন জৈন্তারাজ্যের প্রত্নতত্ত্বের নান্দনিক স্থাপনা
মোহাম্মদ মহসীন, সিলেট, ৭ ডিসেম্বর (ইউএনবি)- সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলার ২০০ বছরের পুরোনো জৈন্তা রাজ্যের স্থাপনার ধ্বংসাবশেষগুলো ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বিভিন্ন স্থানে। মোঘল আমলে বৃহত্তর জৈন্তার জনপদ ছিল মোঘল শাসনামলের বাইরে। সেই সময়টায় জৈন্তাপুর ছিল স্বাধীন জৈন্তা রাজ্য, যার স্মৃতিগুলো এখনও পরিচয় বহন করে বর্তমান প্রজন্মের কাছে।
জৈন্তা রাজ্যের শাসনামলের সমাপ্তির পরও এখনও কিছু স্মৃতি চিহ্ন রয়ে গেছে সিলেটের জৈন্তাপুর উপজেলা সদরের বিভিন্ন পরতে পরতে। কালের বিবর্তনে অনেক স্থাপনা ধ্বংস কিংবা মানুষের দখলে চলে গেলেও যে কয়টা স্থাপনা বা পুরাকীর্তি রয়েছে তাও দীর্ঘ সময় ধরে জরাজীর্ণ অবস্থায় পড়ে ছিল।
তার মধ্যে অন্যতম জৈন্তেশ্বরী ইরাদেবী রাজবাড়ীর একটা বিশাল অংশ গত বছর বাংলাদেশ প্রত্নতাত্ত্বিক অধিদপ্তর সংরক্ষণের জন্য পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন করে স্থাপত্যশৈলীকে দৃশ্যমান করা হয়েছে। বর্তমানে ইরাদেবী রাজবাড়ীর বটতলার বিশাল অংশটি দর্শনার্থীদের আকর্ষণের কেন্দ্র বিন্দুতে পরিণত হয়েছে।
৫৫৯ দিন আগে
শীতকালে নিরাপদে মোটরসাইকেল চালকদের প্রয়োজনীয় সেফটি গিয়ার ও পোশাক
শীতকালে প্রতিকুল আবহাওয়ার কারণে মোটরসাইকেল চালকরা নানা চ্যালেঞ্জের সম্মুখীন হন। কুয়াশায় চারপাশ অন্ধকার এবং শিশির পড়ে রাস্তা পিচ্ছিল হয়ে যাওয়াটা মারাত্মক ঝুঁকি সৃষ্টি করে। তাই ঠান্ডা বাতাস, অন্ধকারাচ্ছন্নতা ও অপ্রত্যাশিত বৃষ্টি থেকে নিরাপত্তার জন্য রাইডারদের উপযুক্ত পোশাক পড়া জরুরি। এগুলো শরীরের জন্য অনেকটা প্রতিরক্ষামূলক বর্মের মতো কাজ করে। তবে এর সর্বোচ্চ সুবিধা পেতে কেনার সময় এর গুণগত মান যাচাই করে নেওয়া উচিত। এই প্রয়োজনীয় পোশাক ও আনুষঙ্গিক নিরাপত্তা সামগ্রী নিয়েই আজকের নিবন্ধ। চলুন, শীতকালীন বাইক চালনাকে উপভোগ্য এবং নিরাপদ করতে উপকারি পরিধেয় সম্বন্ধে বিশদ জেনে নেওয়া যাক।
শীতকালে নিরাপদ বাইক রাইডিং-এ ১০টি দরকারি গিয়ার ও পোশাক
.
থার্মাল বেস লেয়ার
এই স্কিন-টাইট পোশাকগুলো শরীরে তাপ ধরে রাখার পাশাপাশি আর্দ্রতা দূর করতেও সক্ষম। ফলে এগুলো পড়ে বাইক চালানোর পুরো সময়টা জুড়ে চালক উষ্ণ এবং শুষ্ক থাকে। টি-শার্ট ও প্যান্টগুলোর মূল উপকরণ হিসেবে থাকে মেরিনো উল বা পলিয়েস্টার; কখনও বা দুটোরই সংমিশ্রণ ঘটানো হয়। এতে করে লেয়ারগুলো ত্বকের সঙ্গে খুব সহজভাবে ফিট করে।
ময়েশ্চার-দূরীকরণ বৈশিষ্ট্যের কারণে আকস্মিক ঘেমে যাওয়ার অস্বস্তির আশঙ্কা থাকে না। তাছাড়া উপাদানগত দিক থেকে শুষ্ক হওয়ায় এটি প্রচণ্ড ঠান্ডাজনিত আঘাতের প্রতিরোধক হিসেবে কাজ করে। বাইক চালকের শরীরের ভারসাম্যপূর্ণ উষ্ণতা এবং শুষ্কতা বজায় রাখতে এই থার্মাল বেস লেয়ার প্রথম প্রতিরক্ষা পদক্ষেপ।
বাজারে টাইট টি-শার্টগুলো সাধারণত ৩৫০ থেকে ৩৮০ টাকায় পাওয়া যায়। তবে উচ্চ মানের পলিয়েস্টারের বেস লেয়ার পেতে হলে ৪ থেকে ৮ হাজার টাকা খরচ করতে হবে।
আরো পড়ুন: বারিধারার ১০০ ফিট মাদানী এভিনিউ: যেভাবে যাবেন, যা দেখবেন
মোটরবাইক জ্যাকেট
বাইক চলমান অবস্থায় অগ্রহায়ণের হাল্কা শীতেও শরীরে কাঁপুনি ধরে যাওয়ার যোগাড় হয়। এ থেকে রক্ষা করতে পারে হিটেড রাইডিং জ্যাকেটগুলো। নমনীয়তার পাশাপাশি তাপ সুরক্ষা প্রদান এগুলোর বিশেষ বৈশিষ্ট্য। এগুলোর ভেতরে সাধারণত ডাউন বা সিন্থেটিক নিরোধকের মতো তাপীয় আস্তরণ থাকে, যেগুলোর মূল কাজ হচ্ছে শরীরে তাপ ধরে রাখা।
উপরন্তু, বায়ুরোধী এবং জল-প্রতিরোধী উপকরণগুলো ঠান্ডা বাতাস এবং বৃষ্টিতে নির্ভরযোগ্য ঢাল হিসেবে কাজ করে।
এই বাইক জ্যাকেটগুলো সাধারণত ৭০০ থেকে শুরু করে ৩ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। তবে ব্র্যান্ডের গুলোর দাম শুরু হয় ৮ থেকে ১২ হাজার টাকা থেকে।
জলরোধী রাইডিং প্যান্ট
ভেজা পরিবেশ, কুয়াশা, এমনকি ঘর্মাক্ত কলেবর অবস্থার জন্য যথেষ্ট উপযোগী এই প্যান্টগুলো। যেকোনো পরিস্থিতিতে সব ধরনের স্যাঁতসেঁতে ও আর্দ্রতা ভাব দূর করাই এই পরিধেয়ের প্রধান বৈশিষ্ট্য।
অধিকাংশ রাইডিং প্যান্ট বানানো হয় ভেড়ার লোম বা অন্যান্য তাপ অন্তরক উপকরণ দিয়ে। রেখাযুক্ত প্যান্টগুলো ঠান্ডা থেকে সুরক্ষার এক অতিরিক্ত স্তর যোগ করে। অনেক ক্ষেত্রে এগুলোতে বায়ুপ্রবাহ এবং তাপমাত্রা নিয়ন্ত্রণের জন্য থাকে ভেন্ট। তদুপরি, এদের টেকসই ফ্যাব্রিক দীর্ঘমেয়াদী স্থায়িত্ব নিশ্চিত করে।
আরো পড়ুন: ঢাকার পূর্বাচল ৩০০ ফিট সড়ক: কীভাবে যাবেন, কী দেখবেন
বাজারে এগুলোর দাম ন্যূনতম ২ থেকে ৬ হাজার টাকা। ব্র্যান্ডেরগুলোতে খরচ পড়বে ৫ থেকে ১৩ হাজার টাকা।
মোটা গ্লাভ্স
মোটরসাইকেলকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে চালককে অত্যন্ত দক্ষতার সঙ্গে কাজে লাগাতে হয় তার হাত দুটোকে। তাই হিমবাহতে কোনোভাবেই যেন হাত অসাড় বা জড়সড় হয়ে না যায় সেই দিকে খেয়াল রাখা আবশ্যক। নতুবা একটু বেখেয়ালে ভয়াবহ কোনো বিপদ ঘটতে পারে।
এই ঝুঁকি থেকে দূরে থাকতেই প্রয়োজন মান সম্পন্ন এক জোড়া গ্লাভ্স। এগুলোর অতিরিক্ত প্যাডিং এবং নিরোধক বৈশিষ্ট্য কনকনে ঠান্ডায়ও হাতকে গরম রাখে। চামড়া বা একাধিক উপকরণের মিশ্রণে তৈরি সংকর কৃত্রিম কাপড় গ্লাভের স্থায়িত্ব এবং বায়ুরোধী ক্ষমতার জন্য দায়ী। কিছু সংস্করণ দীর্ঘক্ষণ যাবৎ শৈত্যপ্রবাহতেও হাতকে বাইকের গ্রিপের উপর সক্রিয় রাখে। একই সঙ্গে হ্যান্ডেলবার থেকে হাতের তালুর পিছলে যাওয়াও প্রতিরোধ করে।
নিদেনপক্ষে ৫০০ থেকে ১ হাজার ১০০ টাকার মধ্যে পাওয়া গ্লাভগুলো দিয়ে যথেষ্ট কাজ চালানো যায়। তবে অতিরিক্ত সুরক্ষিত এবং অত্যাধুনিক ফিচারযুক্ত সংস্করণগুলোর দাম শুরু হয় ১ হাজার ৫০০ টাকা থেকে।
আরো পড়ুন: মোটর বাইক রাইডারদের নিরাপত্তার জন্য সেফটি গিয়ার
তাপ সঞ্চালক গ্রিপ্স এবং সিট কভার
দীর্ঘ যাত্রার সময় মোটরসাইকেলকে সঠিক অবস্থানে রাখার জন্য অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ দুটি অংশ হচ্ছে গ্রিপ এবং সিট। নিয়ন্ত্রণের মধ্যে রেখে বাইককে সঙ্গতিপূর্ণ গতিতে চালানোর জন্য চালকের আরামে বসে গ্রিপে স্বাধীনভাবে হাত রাখাটা জরুরি। শীতের মৌসুমে প্রায় ক্ষেত্রে এই অবস্থানটি সঠিক রাখা বেশ কঠিন হয়ে পড়ে। এক্ষেত্রে তাপ সঞ্চালনকারি গ্রিপ অসাড়তা কাটিয়ে হাতের স্বাভাবিক তাপমাত্রা বজায় রাখতে সহায়ক হয়। বর্তমানে উচ্চ মানের গ্রিপে সাধারণত তাপ কমবেশি করার সুবিধা পাওয়া যায়।
অপরদিকে, শক্ত পৃষ্ঠের পরিবর্তে তাপ প্রদানকারী নমনীয় সিট কভার শীতলতার বদলে আরামদায়ক উষ্ণতা প্রদান করে। এই প্রয়োজনীয় তাপের কারণে চালনার পুরোটা সময় জুড়ে মোটরসাইকেল কেবল নিয়ন্ত্রণেই থাকে না বরং ঠান্ডার চিন্তা বাদ দিয়ে চালক সামনের রাস্তার দিকে ফোকাস দিতে পারেন।
গ্রিপগুলোর দাম সাধারণত ২ থেকে ৩ হাজার টাকার মধ্যে হয়ে থাকে। রাবারেরগুলো অবশ্য ৫০০ থেকে ১ হাজারের মধ্যেই পাওয়া যায়। আর সিট কভারের জন্য খরচ করতে হবে ১ হাজার থেকে ৩ হাজার টাকা।
কুয়াশারোধী ভিসার সহ ফুল-ফেস হেলমেট
যেকোনো মৌসুমেই মোটরসাইকেল চালানো সময় নিরাপত্তাজনিত সবচেয়ে বড় অনুষঙ্গ হচ্ছে হেলমেট। শীতের ক্ষেত্রে এর তাৎপর্য আরও বহুগুনে বেড়ে যায়। মাথা, ঘাড়সহ পুরো মুখমন্ডল আবৃত রাখার পরেও দৃষ্টির সুবিধার্তে আরও একধাপ এগিয়ে যোগ করতে হবে অ্যান্টি ফগ ভিসার। এই স্বচ্ছ দৃষ্টি বন্ধনীর মাধ্যমে ঠান্ডা বাতাস ও ঘন কুয়াশার ভেতরেও সামনের সড়ক পরিস্কারভাবে দেখতে পারা যায়।
আরও পড়ুন: শীতের মৌসুমে বাইক রাইড করার প্রয়োজনীয় টিপস
সাধারণ গ্লাসগুলো প্রায় শিশিরে ভিজে সামনের পথ ঝাপসা করে দেয়, যা মারাত্মক বিপদের কারণ হতে পারে। সেখানে কুয়াশারোধী ভিসারসহ হেলমেট সর্বাঙ্গীনভাবে গোটা মুখমন্ডলকে সুরক্ষা দেয়। শৈত্যপ্রবাহের জন্য প্রতিবন্ধকতা সৃষ্টি করলেও এই আবরণ ভেতরে ভারসাম্যপূর্ণ বায়ুচলাচল অব্যাহত রাখে। ফলে দীর্ঘক্ষণ ধরে বদ্ধ থাকার কারণে মাথা, মুখ এবং ঘাড় ঘামে ভিজে যায় না।
সাধারণ ১ থেকে ৩ হাজার ৫০০ টাকাতে মোটামুটি ভালো মানের হেলমেট কেনা যায়। তবে ব্রেথ গার্ড এবং চিবুক ডিফ্লেক্টরসহ ভালো মানের ভিসার নিতে হলে ৮ থেকে ১০ হাজারের উপরে খরচ হতে পারে।
মাংকি টুপি বা বালাক্লাভা
শীতের প্রকোপ থেকে ঘাড় ও মুখের উন্মুক্ত অঞ্চলগুলোকে মুক্ত রাখার জন্য একটি চমৎকার উপায় হচ্ছে বালাক্লাভা। ঘাড় থেকে শুরু করে (চোখ বাদে) নাক-মুখ ও মাথা আবৃত করা এই টুপি বরফ ঠান্ডা বাতাসের বিপরীতে প্রয়োজনীয় তাপের যোগান দেয়।
জ্যাকেটের কলারের সঙ্গে এর প্রান্তদেশ মসৃণভাবে ফিট হয়ে যায় বিধায় জ্যাকেটের ভেতরে বাতাস প্রবেশ করতে পারে না। থার্মাল বেস লেয়ারের মতো এতেও আছে আর্দ্রতা-দূরীকরণ বৈশিষ্ট্য। তাই চলমান মোটরসাইকেলে থাকা অবস্থায় সারাক্ষণ পড়ে থাকলেও ঘাম জমে ওঠার ঝামেলা নেই।
আরো পড়ুন: পুষ্টিগুণ অটুট রেখে শীতকালীন সবজি খাওয়ার সঠিক উপায়
দেশ জুড়ে জনপ্রিয় এই মাংকিটুপির মূল্য গড়ে ৩৫০ থেকে ৭৫০ টাকা।
সহজে দৃষ্টিগোচর হয় এমন পরিধেয়
মাঘ মাসের দিকে ঘন কুয়াশার দিনগুলোতে অনেক সড়কে কাছাকাছি গাড়ির অবয়বকে স্পষ্টভাবে বোঝা সম্ভব হয় না। তাছাড়া আন্তঃজেলা মহাসড়কগুলোতে বড় বড় গাড়ির অবস্থান বোঝা গেলেও পাশ কাটানোর সময় দূরত্ব বোঝা মুশকিল হয়ে পড়ে। আর এই কারণেই সড়ক দূর্ঘটনার সৃষ্টি হয়।
এমন ঝুঁকিপূর্ণ পরিস্থিতি এড়াতে মোটরসাইকেল আরোহীরা রিফ্লেক্টিভ ভেস্ট বা উজ্জ্বল হলুদ বা কমলার মতো ফ্লুরোসেন্ট রঙের জ্যাকেট পড়তে পারেন। এই পরিধেয়গুলোতে থাকে একাধিক রিফ্লেক্টিভ স্ট্রিপ বা প্যানেল, যেগুলোর কারণে খারাপ আবহাওয়া এমনকি রাতেও যে কেউ নিকট দূরত্ব থেকে চালককে শনাক্ত করতে পারেন। ওজনে বেশ হাল্কা হওয়ায় অন্যান্য পোশাকের উপরেই পড়া যেতে পারে এই বিশেষ আবরণটি।
এ ধরনের পোশাকের মূল্য গড়পড়তায় ৭০০ থেকে ১ হাজার ৮০০ টাকা।
তাপধারক রেখাযুক্ত জলরোধী বুট
দীর্ঘ যাত্রায় মোটরসাইকেল চালনায় হাতের পাশাপাশি পা-এরও রয়েছে সমান গুরুত্ব। তাই অতিরিক্ত ঠান্ডায় পা যেন অসাড় হয়ে অকেজো হয়ে না পড়ে সেদিকে সতর্ক দৃষ্টি রাখতে হবে। এক্ষেত্রে তাপধারক রেখাযুক্ত জলরোধী লম্বা বুট যথেষ্ট উপকারি। উপাদানগত দিক থেকে এগুলো প্রতিকূল আবহাওয়ার বিরুদ্ধে সক্রিয় থাকার জন্য উপযোগী। শিলা বৃষ্টির শিলা, শিশির বা অন্যান্য ধুলাবালি এই বুটের মধ্যে প্রবেশ করতে পারে না।
আরো পড়ুন: রয়্যাল এনফিল্ড-৩৫০: বাংলাদেশের প্রথম ৩৫০ সিসি মোটরবাইক
তাপধারক রেখা অংশের প্রধান উপকরণ হলো ভেড়ার লোম, যা পায়ের জন্য পরিমিত উষ্ণতা সঞ্চিত রাখে। এগুলোর মধ্যে কিছু কিছু সংস্করণে নন-স্লিপ সোল থাকে, যা বরফ বা ভেজা পৃষ্ঠে ট্র্যাকশন দেয়। ফলে পিচ্ছিল রাস্তায় বাইক থেকে নামতে গিয়ে পড়ে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে না।
উচ্চ মানের বুটগুলোর দাম ৬ থেকে শুরু করে ১২ হাজার টাকারও বেশি হয়ে থাকে। তবে কিছু রেইন বুট রাইডিংয়ের জন্য উপযোগী, যেগুলোর ৮০০ থেকে ২ হাজার টাকায় পাওয়া যেতে পারে।
অত্যাধুনিক নিরাপত্তা গ্যাজেট
রাইডিং অভিজ্ঞতায় নিরাপত্তার নতুন মাত্রা এবং আত্মবিশ্বাস যোগ করতে প্রয়োজন উন্নত নিরাপত্তা গ্যাজেট। যেমন টায়ার প্রেশার মনিটর সাইকেলের চাকার টায়ারের চাপ সর্বোচ্চ মাত্রা ছাড়িয়ে যাচ্ছে কিনা তা নিশ্চিত করতে কাজে লাগে। আধুনিক বেশ কিছু বাইকে এই মনিটরিং ব্যবস্থা দেখা যায়।
আরও একটি উদ্ভাবনী গ্যাজেট হচ্ছে হিটেড ভিসার সিস্টেম, যেটি হেলমেট ভিসারের কুয়াশা এবং জমাট বাঁধা প্রতিরোধ করে।
আরো পড়ুন: সেকেন্ডহ্যান্ড মোটরসাইকেল কেনার আগে যে বিষয়গুলো খেয়াল রাখা জরুরি
জিপিএস ডিভাইসগুলো প্রতিকূল পরিবেশে অপরিচিত জায়গায় পথ চিনে চলতে সহায়তা করে। এই ডিভাইসগুলোর সবচেয়ে বড় সুবিধা হলো এগুলো তাৎক্ষণিকভাবে সামনের কোনো স্থানের আবহাওয়া কেমন রয়েছে তা আগে থেকে জানান দেয়।
এখানে মোটামুটি ভালো মানের প্রেসার মনিটরের জন্য বাজেট রাখতে হবে ৮০০ টাকার মতো। ফগ লাইটের দাম ২৫০ থেকে ৫৫০ টাকা এবং জিপিএস ট্র্যাকার পাওয়া যেতে পারে ১ হাজার ৫০০ থেকে ৪ হাজার টাকায়।
শেষাংশ
শীতে মোটরসাইকেল চালনার ঝুঁকিগুলো মোকাবিলায় এই পরিধেয় ও সেফটি গিয়ারগুলো সংগ্রহের প্রতি গুরুত্ব দেওয়া উচিত। থার্মাল বেস লেয়ার, ইনসুলেটেড জ্যাকেট, ওয়াটারপ্রুফ রাইডিং প্যান্ট, হিটেড গ্রিপ্স এবং বালাক্লাভা সম্মিলিতভাবে তীব্র ঠান্ডা থেকে সুরক্ষা প্রদান করে। উপরন্তু, গ্লাভ্স, অ্যান্টি-ফগ ভিসারসহ ফুল-ফেস হেলমেট, হাই-ভিজিবিলিটি গিয়ার এবং জলরোধী বুটের মতো সামগ্রীগুলো প্রতিকূল আবহাওয়ায় বাইক নিয়ন্ত্রণে সাহায্য করে। সর্বপরি, এগুলোর সঙ্গে অত্যাধুনিক নিরাপত্তা গ্যাজেটের সমন্বয় সার্বিক নিরাপত্তায় যুক্ত করতে পারে অনন্য মাত্রা।
আরো পড়ুন: রয়্যাল এনফিল্ড ৩৫০ সিসির নতুন চারটি মোটরবাইক মডেলের আকর্ষণীয় সব ফিচার
৫৬৩ দিন আগে
ফিলিপাইনের ভিগান ভ্রমণ গাইড : ঘুরে আসুন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
অনন্য প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের পাশাপাশি গোটা বিশ্বে এশিয়ার দেশগুলোর ঐতিহ্য এবং সংস্কৃতিরও রয়েছে ব্যাপক সমাদর। তারমধ্যে সবচেয়ে ব্যতিক্রমী সংস্কৃতির ভূখণ্ডগুলোর মধ্যে অন্যতম হচ্ছে ফিলিপাইন। জাঁকজমক শহর থেকে শান্ত দ্বীপ পর্যন্ত বিচিত্রতার সঙ্গে এখানে এমন এক ভিন্নতা রয়েছে, যার সঙ্গে এশিয়ার অন্যান্য দেশগুলোর কদাচিৎ সাদৃশ্য মেলে। পশ্চিম ফিলিপাইন সাগরের কোলঘেঁসে দেশের বৃহত্তম দ্বীপ লুজোনের পশ্চিম উপকূলে অবস্থিত ভিগান ঠিক তেমনি একটি শহর। প্রায় ৩ শতাব্দি পূর্ব স্প্যানিশ শিল্পকলা ও ঔপনিবেশিক স্থাপত্য এখনও বহাল তবিয়তে রয়েছে এই দ্বীপ নগরীতে। চলুন, ফিলিপাইন্সের সাগর পাড়ের ছবির মতো শহর ভিগানের সেরা পর্যটন আকর্ষণগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জেনে নিই।
ভিগান শহরের বিশেষত্ব
ফিলিপাইনের ইলোকোস সুর প্রদেশের এই রাজধানী দেশের অবশিষ্ট স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক শহরগুলোর মধ্যে একটি, যার পুরোনো অবকাঠামোগুলোর বেশিরভাগই অক্ষত আছে। এর পায়ে হাঁটা পথ থেকে শুরু করে প্রায় প্রতিটি স্থাপনায় স্পষ্ট চোখে পড়ে স্প্যানিশ ঔপনিবেশিক যুগের অনন্য স্থাপত্যশৈলী। ইউনেস্কো প্রথমে নগরীটিকে তাদের বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান হিসেবে ঘোষণা করে। পরবর্তীতে এটি ইউনেস্কো বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী শহর হিসেবেও স্বীকৃতি পায়। ২০১৫ সালের মে মাসে ভিগানকে নিউ ৭ ওয়ান্ডার সিটিগুলোর মধ্যে তালিকাভুক্ত করা হয়েছিল।
ভিগান শহরের জনপ্রিয় কয়েকটি দর্শনীয় স্থান
.
কালি ক্রিসলগো
স্প্যানিশ শৈলীর চিহ্নগুলো সবচেয়ে বেশি দেখা যায় ভিগানের মেস্টিজোতে, যার প্রাণকেন্দ্র এই কালি ক্রিসলগো। এখানকার বাড়িগুলো মূলত ১৭ শতকের ফিলিপিনো-চীনা ব্যবসায়ীদের পরিবারের। সারিবদ্ধ মুচির এই রাস্তাগুলোর ওপর দিয়েই বিপণী হতো সেই সময়কার বিখ্যাত অ্যাবেল কাপড়, সোনা ও তামাকের।
আরো পড়ুন: দার্জিলিংয়ের টংলু ও সান্দাকফু যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ঘরগুলোর ছাদের লাল টাইলস, অত্যধিক মোটা দেয়াল, বৃহদাকৃতির দরজা, সিঁড়ির ধাপ, উঁচু সিলিং এবং জানালা পর্যন্ত স্লাইডিং ক্যাপিজ শেল ছবি তোলার দারুণ ব্যাকগ্রাউন্ড দেয়। শতাব্দীর পর শতাব্দী ধরে এগুলো টিকে রয়েছে শত শত প্রাকৃতিক ও মনুষ্যসৃষ্ট দুর্যোগের ভেতর দিয়ে। যে অংশগুলো ভেঙে গেছে তা অবিলম্বে মেরামত করে নিয়েছে বসবাসরত পরিবারগুলো। কেবল পূর্বসূরীদের ভিটে-বাড়ি বলেই নয়, বিগুয়েনরা (ভিগানের স্থানীয়দের জাতিগত নাম) বেশ শৈল্পিক দৃষ্টিভঙ্গির।
কিছু কিছু স্থাপনা পরিণত হয়েছে দোকান, জাদুঘর, সরাইখানা ও রেস্তোরাঁয়। অথচ এগুলোর গ্রিল এবং কাঠের সুক্ষ্ম কারুকাজ এখনও দর্শনার্থীদের মনে করিয়ে দেয় ৩ শতাব্দির আগের সময়ের কথা।
সন্ধ্যা নামার সঙ্গে সঙ্গে সৃষ্টি হয় সেই ১৮ শতকের প্রদীপ জ্বালানো রাস্তার আলো-আধারী পরিবেশ যা পর্যটকদের আরও বিমোহিত করে তোলে।
প্লাজা সালসেডো
ভিগানের একদম কেন্দ্রে অবস্থিত এই প্লাজা ও এর আশপাশ শহরের সবচেয়ে আকর্ষণীয় ট্যুরিস্ট স্পট।
মধ্যযুগীয় স্প্যানিশ ঘরানায় বানানো প্লাজা সালসেডোকে ঘিরে রয়েছে টাউন হল, শপিং সেন্টার, গির্জা এবং ফুড কোর্ট।
আরো পড়ুন: নেপালের অন্নপূর্ণা ট্রেকিংয়ে যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
প্লাজার ঠিক কেন্দ্রে রয়েছে একটি কৃত্রিম ফোয়ারা। প্রতিদিন সন্ধ্যা ৭টা ৩০ মিনিটের জন্য চালু করা হয় এই শো। সপ্তাহান্তে এটি শুরু হয় রাত সাড়ে ৮টায়।
৫৬৪ দিন আগে
মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুর ভ্রমণ: দর্শনীয় স্থান,শপিংমল ও জনপ্রিয় খাবার
শিল্প ও অবকাঠামোগত সৌন্দর্যের দিক থেকে এশিয়ার শীর্ষস্থানীয় দেশগুলোর একটি হলো মালয়েশিয়া। দেশটির বিখ্যাত ল্যান্ডস্কেপগুলোর অধিকাংশই অবস্থান করছে রাজধানী কুয়ালালামপুরে। সীমান্তজুড়ে তিতিওয়াংসা পর্বতমালা এবং মালাক্কা প্রণালী দ্বারা পরিবেষ্টিত এই দেশের বৃহত্তম নগরীটি একটি বিশেষ স্থানের অধিকারী। এখানকার প্রতিটি স্থাপনায় আভিজাত্য ও সৃজনশীলতার এক মনোমুগ্ধকর মেলবন্ধন রয়েছে। দিনের আলো নিভে গেলেও শহরের জনাকীর্ণ রাস্তাগুলো আলোকসজ্জায় ভরিয়ে রাখে গোটা কুয়ালালামপুরকে। চলুন, এই কুয়ালালামপুর শহরের বিশ্বখ্যাত স্থাপনা, শপিং সেন্টার এবং ঐতিহ্যবাহী খাবারগুলো সম্পর্কে আরও বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
মালয়েশিয়ার রাজধানী কুয়ালালামপুরের জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান
.
পেট্রোনাস টাওয়ার্স
১ হাজার ৪৮৩ ফুট উচ্চতার ৮৮-তলা এই দালান জোড়ার আরেক নাম পেট্রোনাস টুইন টাওয়ার। পরস্পরের সঙ্গে যুক্ত দালান দুটি আলাদাভাবে বিশ্বের সর্বোচ্চ স্থাপনার তালিকা থেকে অনেক আগেই নেমে গেছে। তবে দুটোকে একসঙ্গে বিবেচনা করা হলে এটি এখনও বিশ্বের সবচেয়ে উচু টুইন টাওয়ার হিসেবে রয়ে গেছে।
এর ৪১ ও ৪২তম তলায় দুটি টাওয়ারকে যুক্ত করেছে একটি ডাবল ডেকার স্কাইব্রিজ যা বিশ্বের সর্বোচ্চ দোতলা সেতুর রেকর্ড ধারণ করে আছে।
আরো পড়ুন: থাইল্যান্ডের কোহ সামুই দ্বীপ ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
৮৬তম তলায় রয়েছে অবজারভেশন ডেক যেখান থেকে শহরের প্যানোরামিক দৃশ্যে চোখে পড়ে আরও অনেক পর্যটন স্থান। এমনকি লিফ্ট করে উপরে ওঠা ও নামার সময়টা এক দারুণ রোমাঞ্চকর অনুভূতির সঞ্চার করে।
কেএলসিসি পার্ক
স্থাপনার নামসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে কুয়ালালামপুরকে উপস্থাপনের নিমিত্তে সংক্ষেপে কেএল ব্যবহার করা হয়। সে অনুসারে কেএলসিসি বলতে বোঝানো হয় কুয়ালালামপুর সিটি সেন্টার।
টুইন টাওয়ারের ধাতব অবয়বে সবুজায়নের অলঙ্করণ দিতেই এর ঠিক নিচে রয়েছে কেএলসিসি পার্ক। এর প্রধান আকর্ষণ ১০ হাজার বর্গ মিটারের লেক সিম্ফনি যেখানে রয়েছে বেশ কিছু কৃত্রিম ফোরায়া। সবচেয়ে উচু ফোয়ারাটির উচ্চতা ২৮০ মিটার। লেকের বাইরে পার্কের স্থলভাগগুলোর বিভিন্ন অংশেও দেওয়া হয়েছে সঙ্গীতের তালে তালে ফোয়ারা-সজ্জা। জগিংয়ের জন্য রয়েছে বিশেষ ধরনের রাবারজাত উপাদানের তৈরি ১ দশমিক ৩ কিলোমিটার দীর্ঘ ফুটপাত। পার্কের পশ্চিম দিকে রয়েছে পাবলিক পুলসহ শিশুদের জন্য একটি খেলার মাঠ।
আরো পড়ুন: মালয়েশিয়ার ল্যাংকাউই দ্বীপ ভ্রমণ: দর্শনীয় স্থান, যাওয়ার উপায় এবং যাবতীয় খরচ
কুয়ালালামপুর টাওয়ার (কেএল টাওয়ার)
৩৬০ ডিগ্রি কোণ করে চারপাশের কুয়ালালামপুরকে দেখতে হলে আরহণ করতে হবে শহরের এই সর্বোচ্চ ভিউ পয়েন্টে। পৃথিবীর সর্বোচ্চ টাওয়ারগুলোর মধ্যে সপ্তম অবস্থানে থাকা এই দালানে লিফ্ট দিয়ে পর্যবেক্ষণ ডেক পর্যন্ত উঠতে ৫৪ সেকেন্ড সময় নেয়। আর নেমে আসতে সময় লাগে ৫২ সেকেন্ড। কেএল টাওয়ারের অন্যান্য আকর্ষণগুলোর মধ্যে রয়েছে ঘূর্ণায়মান রেস্তোরাঁ এবং কালচারাল ভিলেজ। আর স্কাই বক্সের গ্লাস কিউবের ভেতরে দাড়িয়ে নিচের শহর দেখার দৃশ্যটি রীতিমতো রোমহর্ষক।
কুয়ালালামপুর বার্ড পার্ক (কেএল বার্ড পার্ক)
২০ দশমিক ৯একর প্রশস্ত এই পাবলিক এভিয়ারিটি বিশ্বের বৃহত্তম বার্ড পার্কগুলোর মধ্যে অন্যতম। এই পার্ক ভ্রমণে একসঙ্গে আরও তিনটি দর্শনীয় স্থান ঘুরে দেখা যায়।
সেগুলো হচ্ছে- পের্ডানা বোটানিক্যাল গার্ডেন, কেএল বাটারফ্লাই পার্ক এবং রয়্যাল মালয়েশিয়ান পুলিশ মিউজিয়াম।
আরো পড়ুন: ইন্দোনেশিয়ার বাটাম দ্বীপ ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
বার্ড পার্ক ২০০ টিরও বেশি প্রজাতির ৩ হাজারেরও বেশি পাখির আশ্রয়স্থল। এগুলোর প্রায় ৯০ শতাংশই স্থানীয় পাখি। বাকি ১০ শতাংশ আনা হয়েছে অস্ট্রেলিয়া,চীন,হল্যান্ড,ইন্দোনেশিয়া,নিউ গিনি, তানজানিয়া এবং থাইল্যান্ডের থেকে।
অ্যাকোরিয়া কেএলসিসি
শহরের প্রাণকেন্দ্রে কেএল কনভেনশন সেন্টারের ঠিক নীচেই অবস্থিত এই বিশাল অ্যাকোয়ারিয়ামটি। পানির নিচে ৩০০ ফুট গভীরতার টানেলসহ ৬০ হাজার বর্গফুট বিস্তৃত জায়গাটি রীতিমত বলা যায় সামুদ্রিক সাফারি পার্ক। দেশি-বিদেশি সব মিলিয়ে এখানে ২৫০টিরও বেশি প্রজাতির স্থল ও জলচর প্রাণী রয়েছে। যাদের সংখ্যা ৫ হাজারেরও বেশি। দর্শনার্থীদের অ্যাকোরিয়া যাত্রা শুরু হয় কুয়াশায় ঢাকা উচ্চ ভূমিতে। তারপর রেইনফরেস্ট এবং ম্যানগ্রোভ হয়ে ক্রমশ এগিয়ে চলে। অতঃপর নদীর মধ্য দিয়ে গিয়ে যাত্রা শেষ হয় প্রবাল প্রাচীরের গভীর নীল সমুদ্রে।
আরো পড়ুন: থাইল্যান্ডের গোল্ডেন ট্রায়াঙ্গেলের চিয়াং মাই ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
৫৬৮ দিন আগে
ঢাকায় লোকবাদ্যযন্ত্র প্রদর্শনী শুরু
‘নিরাময়ের ঐক্যতান’ শিরোনামে এ অঞ্চলের ঐতিহ্যবাহী ও উদ্ভাবনী বাদ্যযন্ত্র নিয়ে প্রদর্শনীর আয়োজন করেছেন সংগীতশিল্পী মোহাম্মদ জাকির হোসেন।
সোমবার আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার লা গ্যালারিতে ব্যতিক্রমী এ প্রদর্শনীর উদ্বোধন করা হয়েছে।
অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন সংগীতশিল্পী শফি মণ্ডল।
উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন আলিয়ঁস ফ্রঁসেজ দ্য ঢাকার পরিচালক ফ্রাঁসোয়া গ্রোসজিয়ান।
জাকির হোসেন ১৯৯৪ সালে গাইবান্ধায় জন্মগ্রহণ করেন। ২০১৬ থেকে ২০২২ সাল পর্যন্ত কলকাতায় সংগীত অধ্যয়ন করেছেন। ভারতীয় শাস্ত্রীয়, বাংলা লোক, রবীন্দ্রসংগীত, আধুনিকসহ সংগীতের বিভিন্ন ধরন নিয়ে পড়ালেখা করেছেন তিনি। বাংলাদেশে ফিরে এসে তিনি মানবতাবাদ ও নিরাময়ের উপর সংগীতের প্রভাব নিয়ে গবেষণা করেন।
বাংলাদেশের ঝুঁকিপূর্ণ অঞ্চলে শিল্প ও সংস্কৃতি লালনের পাশাপাশি ঐতিহ্যবাহী ও নিরীক্ষাধর্মী সংগীত সংরক্ষণ ও বিকাশের চেষ্টায় ২০১৮ সালে 'অবকল্প' নামে একটি সংগঠন প্রতিষ্ঠা করেন জাকির।
এ আয়োজনে নিরীক্ষাধর্মী দেশীয় বাদ্যযন্ত্র প্রদর্শনের পাশাপাশি থাকবে সেমিনার, কর্মশালা ও বাংলা লোকসংগীত পরিবেশনা। প্রদর্শনীটি পরিচালনা করছেন লুসি তৃপ্তি গোমেস।
সবার জন্য উন্মুক্ত এ প্রদর্শনী চলবে শুক্রবার (২৯ নভেম্বর )পর্যন্ত। প্রতিদিন বিকেল ৩টা থেকে রাত ৯টা পর্যন্ত চলবে।
৫৭০ দিন আগে
কক্সবাজার ইনানী সমুদ্রসৈকত ভ্রমণ: ঘুরে আসুন প্রবাল পাথুরে সৈকতে
বিশ্ব পর্যটনের বিস্তৃত পরিমণ্ডলে এক টুকরো বাংলাদেশ কক্সবাজার সমুদ্রসৈকত পৃথিবীর দীর্ঘতম অবিচ্ছিন্ন সমুদ্রসৈকত হিসেবে কক্সবাজারের সমুদ্রসৈকত বিশ্বজুড়ে পরিচিত। এটি শুধু বাংলাদেশ নয় বরং পৃথিবীর অসংখ্য সমুদ্র প্রেমীদের প্রিয় গন্তব্যস্থল। শুধু বঙ্গোপসাগরের প্যানোরামাকে চোখে ধারণ করেই কাটিয়ে দেওয়া যায় পুরো একটি বিকেল। এমন প্রশান্ত দৃশ্যকল্পের সবটুকুই দৃষ্টিগোচর হয় ইনানী সৈকতে। কক্সবাজারের দীর্ঘ সৈকতেরই এই অংশ দর্শনার্থীদের দেয় প্রকৃতির সঙ্গে একান্তে কিছু সময় কাটানোর অভাবনীয় সুযোগ। চলুন, বঙ্গোপসাগরের উপকূলবর্তী জনপ্রিয় দর্শনীয় স্থান কক্সবাজার ইনানী বীচে ভ্রমণ সংক্রান্ত যাবতীয় বিষয় সবিস্তারে জেনে নেওয়া যাক।
ইনানী সমুদ্রসৈকতের অবস্থান
বাংলাদেশের দক্ষিণ-পূর্ব উপকূলের জেলা কক্সবাজারের অন্তর্গত উখিয়া উপজেলায় অবস্থিত সৈকত ইনানী। কক্সবাজার সদর থেকে প্রায় ২৭ কিলোমিটার দক্ষিণের এই প্রবাল সৈকতটিতে পৌঁছাতে হিমছড়ি ছাড়িয়ে আরও ১৫ কিলোমিটার যেতে হবে।
১৮ কিলোমিটার দীর্ঘ এই সৈকতের আরও একটি নাম পাথুরে সৈকত। বিংশ শতকের একদম শেষ দিকে ধীরে ধীরে এটি পর্যটকদের নজরে আসতে শুরু করে।
আরো পড়ুন: কক্সবাজার থেকে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ভ্রমণ গাইড
ঢাকা থেকে কক্সবাজার ইনানী সমুদ্রসৈকত যাওয়ার উপায়
বাসযাত্রার ক্ষেত্রে সরাসরি কক্সবাজারের বাস পাওয়া যাবে ঢাকার গাবতলী, কল্যাণপুর,যাত্রাবাড়ী,ফকিরাপুল অথবা কলাবাগান থেকে। বাস কোম্পানি এবং ধরণ (এসি/নন-এসি) ভেদে প্রতি জনের জন্য ভাড়া পড়তে পারে ৯০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। এভাবে কক্সবাজার যেতে সময় লাগতে পারে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা।
যারা ট্রেনে যেতে ইচ্ছুক তাদের বিমানবন্দর বা কমলাপুর রেলস্টেশন থেকে কক্সবাজারের ট্রেন ধরতে হবে। বিভিন্ন ধরনের সিটে যাত্রীপ্রতি ভাড়া পড়বে ন্যূনতম ৬৯৫ থেকে সর্বোচ্চ ২ হাজার ৩৮০ টাকা। রেলপথে কক্সবাজার পর্যন্ত যেতে প্রায় ৯ ঘণ্টা সময় লাগবে।
এছাড়া কক্সবাজারের সরাসরি বিমানও রয়েছে, যেগুলো গন্তব্যে পৌঁছাতে সময় নেয় মাত্র ১ ঘণ্টা।
কক্সবাজার থেকে ইনানী যেতে হয় মেরিন ড্রাইভ সড়ক দিয়ে। এর জন্য চাঁদের গাড়ি, ছাদ খোলা জিপ, ট্যুরিস্ট জিপ ও মাইক্রোবাসের মতো বিভিন্ন ধরনের স্থানীয় পরিবহন রয়েছে। এগুলো সবই সুগন্ধা পয়েন্টে ভিড় করে থাকে। ১০ থেকে ১২ জনের বড় গ্রুপ হলে ইনানী যাওয়ার জন্য পুরো একটি চান্দের গাড়ি রিজার্ভ নেওয়া যেতে পারে। এক্ষেত্রে খরচ হতে পারে ১ হাজার ৫০০ থেকে ২ হাজার টাকা পর্যন্ত। একটানা ভ্রমণে ইনানী বিচ পর্যন্ত যেয়ে ৫ থেকে ৬ ঘণ্টার মধ্যে ঘুরে আসা সম্ভব।
আরো পড়ুন: থাইল্যান্ডের কোহ সামুই দ্বীপ ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
এছাড়া রয়েছে অ্যাকোয়াহলিক ট্যুরিস্ট ক্যারাভান নামে ছাদ খোলা ডাবল ডেকার বাস। শুধু মেরিন ড্রাইভে যাতায়াতের উদ্দেশ্যে বানানো এই পরিবহনে করে বেশ আরামদায়কভাবে ইনানী পর্যন্ত যাওয়া যায়।
ইনানী সৈকতের প্রধান পর্যটন আকর্ষণ
৮০ কিলোমিটারের মেরিন ড্রাইভ সড়কে সর্বাধিক সুন্দর দর্শনীয় স্থান হচ্ছে ইনানী বিচ। এখানকার বিশেষত্ব হচ্ছে ভাটার সময় সৈকত জুড়ে প্রবাল পাথর এবং শান্ত সাগর। জোয়ারের সময় এই পাথরগুলো পানিতে তলিয়ে যায়। পাথরগুলোর সর্বাঙ্গ জুড়ে থাকে ধারালো ঝিনুক আর শামুক।
এখানকার শান্ত পরিবেশে সূর্যাস্ত ও সূর্যোদয়ের দৃশ্য দেখার অভিজ্ঞতা আর কোনো সৈকতে পাওয়া যায় না। এছাড়াও দর্শনার্থীদের বিনোদনের জন্য এখানে নানান ধরনের ব্যবস্থা রয়েছে।
আরো পড়ুন: বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণ: ঘুরে আসুন দ্বিতীয় সাজেক
সেগুলোর মধ্যে একটি হচ্ছে বালুকাময় তীর ধরে ঘোড়ায় চড়া সঙ্গে দক্ষ গাইড থাকায় নতুন বা অভিজ্ঞ যেকোনো রাইডারের জন্যই এই অভিজ্ঞতা বেশ উপভোগ্য হয়ে ওঠে।
এর থেকে আনন্দটা আরও একধাপ বেড়ে যায় জেট স্কিইং-এর সময়। কেননা এখানে যুক্ত হয় বঙ্গোপসাগরে ছুটে বেড়ানোর দুঃসাহস আর রোমাঞ্চের উত্তেজনা। সাধারণত স্কিইং করার সময় জেটে রাইডারের সঙ্গে একজন দক্ষ প্রশিক্ষক থাকেন। তবে দর্শনার্থীদের যারা অভিজ্ঞ তারা একা একাও স্কিইং করতে পারেন।
ইনানী পর্যন্ত যাওয়ার সময়টাও বেশ চিত্তাকর্ষক। কেননা যাত্রাপথে একে একে পেরিয়ে যায় হিমছড়ি পাহাড়,পথের ধারে সাম্পান নৌকা আর নারিকেল বা ঝাউ গাছের ফাঁক দিয়ে দীর্ঘতম উপকূলরেখার দৃশ্য।
ইনানী সৈকত ভ্রমণের সেরা সময়
নভেম্বর থেকে মার্চ পর্যন্ত আকাশ পরিষ্কার এবং রৌদ্রোজ্জ্বল থাকায় এই মৌসুম ইনানী ঘুরতে যাওয়ার জন্য উৎকৃষ্ট সময়। ভারি বৃষ্টিপাত বা ঝড়ের আশঙ্কা না থাকায় রৌদ্র ও সমুদ্রস্নান এবং জেট স্কিইংয়ের জন্য এই আবহাওয়াটি সবচেয়ে উপযুক্ত।
আরো পড়ুন: ভিয়েতনামের হা লং বে দ্বীপপুঞ্জ ভ্রমণ: ঘুরে আসুন ইউনেস্কোর বিশ্ব ঐতিহ্যবাহী স্থান
এই অনুকূল আবহাওয়ার জন্য বিশেষত ডিসেম্বর ও জানুয়ারিতে পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড় থাকে। অবকাশ যাপনের বিভিন্ন সেবা বিশেষ করে হোটেল ভাড়া থাকে সবচেয়ে বেশি।
তাই বাজেট ভ্রমণপিপাসুরা আরামদায়ক উষ্ণতার পাশাপাশি কম খরচে ভ্রমণ করতে বেছে নিতে পারেন নভেম্বরের শেষ বা মার্চের প্রথম দিকটা।
এখানে খেয়াল রাখতে হবে যে, বিকেলের দিকে জোয়ারের কারণে পিক টাইমেও মানুষের ভিড় হাল্কা থাকে।
অপরদিকে, প্রবাল দেখার জন্য ভাটা পর্যন্ত অপেক্ষার বিষয় আছে। তাই ইনানী ভ্রমণের জন্য নিদেনপক্ষে একটি দিন থাকার পরিকল্পনা নিয়ে আসা উচিত। এতে ভোরে সূর্যোদয় আর সন্ধ্যায় সূর্যাস্ত দেখারও সুযোগ থাকে।
আরো পড়ুন: থাইল্যান্ডের পাতায়া ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও যাবতীয় খরচ
৫৭০ দিন আগে
কক্সবাজার থেকে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়ক ভ্রমণ গাইড
বাংলাদেশ পর্যটন শিল্পের সঙ্গে প্রতিধ্বনির মতোই ধ্বনিত হয় কক্সবাজারে অবস্থিত পৃথিবীর দীর্ঘতম সমুদ্রসৈকতের কথা। বঙ্গোপসাগরের ফেনীল জলরাশিকে দৃষ্টি সীমায় রেখে এই সৈকত ধরে টেকনাফ পর্যন্ত রচনা করা যায় এক অতুলনীয় ভ্রমণের উপাখ্যান। বালুকাবেলার শুভ্রতার সঙ্গে সারি বেঁধে দাঁড়ানো ঝাউ গাছের গাড় সবুজ; এরই মাঝে হঠাৎ একঝাঁক দুধ রঙা পাখি যেন প্রকৃতির এক অদ্ভূত খেয়াল। এমন প্রাকৃতিক নৈসর্গকে প্রাণভরে উপভোগের জন্য এখন পর্যটকদের আকর্ষণের কেন্দ্রবিন্দুতে রয়েছে সদ্য নির্মিত মেরিন ড্রাইভ। অপার সম্ভাবনাময় সড়কটি উপকূল ভ্রমণকে এক অপূর্ব মাত্রা দিয়েছে। চলুন, কক্সবাজার থেকে টেকনাফ মেরিন ড্রাইভ সড়কপথটি দিয়ে সৈকত ভ্রমণের বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক।
মেরিন ড্রাইভ সড়কের অবস্থান
বিখ্যাত কক্সবাজার সমুদ্র সৈকতের পাশ দিয়ে টেকনাফ পর্যন্ত বিস্তৃত ৮০ কিলোমিটার দীর্ঘ সড়কটিই মেরিন ড্রাইভ। এর শুরু হয়েছে কক্সবাজারের কলাতলী মোড়ে আর শেষ হয়েছে টেকনাফের শাপলা চত্বরের জিরো পয়েন্টে।
মেরিন ড্রাইভের নির্মাণ ও তাৎপর্য
বাংলাদেশ সড়ক ও জনপথ বিভাগের অধীনে এই দৃষ্টি নন্দন সড়কটির নির্মাণ কাজ সম্পন্ন করে বাংলাদেশ সেনাবাহিনী। ২০১৭ সালের ৬ মে সড়কটির আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন হয়। ২০১৮-এর ২৬ জুন বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটন মন্ত্রণালয় সড়কটিকে সংরক্ষিত পর্যটন অঞ্চল হিসেবে ঘোষণা করে। শুধু পর্যটনই নয়, এই সড়ক নির্মাণের মধ্য দিয়ে দেশের কর্মসংস্থান বৃদ্ধি,পরিবহন খাতে উন্নতি এবং সামগ্রিকভাবে অর্থনৈতিক উন্নয়নের একটি মঞ্চ স্থাপিত হয়েছে।
আরো পড়ুন: থাইল্যান্ডের কোহ সামুই দ্বীপ ভ্রমণ: যাওয়ার উপায় ও আনুষঙ্গিক খরচ
ঢাকা থেকে কক্সবাজারের মেরিন ড্রাইভ যাওয়ার উপায়
এই সড়ক পরিদর্শনের জন্য প্রথমে সরাসরি কক্সবাজার চলে আসতে হবে। ঢাকার ফকিরাপুল, কলাবাগান, কল্যাণপুর, গাবতলী ও যাত্রাবাড়ী থেকে কক্সবাজারের নিয়মতি বাস রয়েছে। শ্রেণি ভেদে এগুলোর টিকিট মূল্য জনপ্রতি ৯০০ থেকে ২ হাজার ৫০০ টাকা। বাস যোগে কক্সবাজার আসতে ১০ থেকে ১২ ঘণ্টা পর্যন্ত সময় লাগে।
ট্রেনে আসার ক্ষেত্রে কমলাপুর কিংবা বিমানবন্দর রেলওয়ে স্টেশন থেকে সরাসরি কক্সবাজারের ট্রেন রয়েছে। সিটের ধরনভেদে যাত্রীপ্রতি ভাড়া পড়ে ৬৯৫ থেকে ২ হাজার ৩৮০ টাকা। আর কক্সবাজার পৌঁছতে সময় নেয় প্রায় ৯ ঘণ্টা।
আরও দ্রুততম সময়ে যাওয়ার জন্য রয়েছে সরাসরি কক্সবাজার ফ্লাইট ব্যবস্থা। প্লেন যাত্রার মাধ্যমে সর্বোচ্চ ১ ঘণ্টার মধ্যে গন্তব্যে পৌঁছা যায়।
কক্সবাজার পৌঁছার পর মেরিন ড্রাইভে যাওয়ার চাঁদের গাড়ি, ট্যুরিস্ট জিপ, ছাদ খোলা জিপও মাইক্রোবাস পাওয়া যাবে সুগন্ধা পয়েন্ট থেকে। পর্যটন মৌসুমের ওপর ভিত্তি করে এই পরিবহনগুলোর ভাড়া কম-বেশি হয়ে থাকে। বিশেষত অফ সিজনে চান্দের গাড়ি ভাড়া ৬ হাজার টাকা, সেখানে পিক টাইমগুলোতে পড়বে প্রায় ৭ হাজার টাকা। খোলা জিপ বা চান্দের গাড়িগুলোতে ১০ থেকে ১২ জন পর্যন্ত এক সঙ্গে যাওয়া যায়।
আরো পড়ুন: বান্দরবানের মিরিঞ্জা ভ্যালি ভ্রমণ: ঘুরে আসুন দ্বিতীয় সাজেক
পুরো মেরিন ড্রাইভ ঘুরে আসতে সময় লাগে প্রায় ৫ ঘণ্টা। সময় সংকুলান না হলে পুরোটা না ঘুরে হিমছড়ি বা ইনানী বিচ পর্যন্ত যেয়ে ফিরে আসা যেতে পারে।
৫৭১ দিন আগে