আজকের খবর - 30-06-2026
মামলা করতে বাধা নেই বলেই ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে: স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী
বিগত ১০-১৫ বছরের তুলনায় দেশে খুন, ডাকাতিসহ সার্বিক অপরাধ কমলেও মামলা করতে কোনো সামাজিক বা রাজনৈতিক বাধা না থাকায় এখন ধর্ষণের পরিসংখ্যান বেশি দেখাচ্ছে বলে জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ডেপুটি স্পিকার কায়সার কামালের সভাপতিত্বে জাতীয় সংসদের অধিবেশনে স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বাজেট বরাদ্দ এবং এর ওপর আনা ছাঁটাই প্রস্তাবের আলোচনায় তিনি এসব কথা বলেন।
এর আগে স্বতন্ত্র সংসদ সদস্য রুমিন ফারহানা ছাঁটাই প্রস্তাব নিয়ে বক্তব্য দেন। তিনি গণমাধ্যমের খবর উদ্ধৃত করে গত এপ্রিল ও মার্চ মাসের আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির পরিসংখ্যান তুলে ধরেন।
রুমিন ফারহানা বলেন, ‘পুরো বাজেটের সবটাই যদি স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীকে দেওয়া হয় বা এই মন্ত্রণালয়ে বরাদ্দ দেওয়া হয়, তারপরও কতটুকু উন্নয়ন হবে, তা আমরা জানি না। তারপরও স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী যখন বক্তব্য দেন সারা দেশ মুগ্ধ হয়ে শোনে। আমি একজন আইনের শিক্ষার্থী, আমিও উনার ডিবেট মুগ্ধ হয়ে শুনি। কিন্তু উনার এই মুগ্ধতা যদি উনি উনার মন্ত্রণালয়ে ছড়িয়ে দিতে পারতেন এবং তার মন্ত্রণালয়ের কাজের মাধ্যমে, তাহলে এটি ছাঁটাই করার... প্রস্তাব আমি রাখতাম না।’
জবাবে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ বলেন, এর আগেও তিনি সংসদে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নতির বিষয়টি ডেটাসহ তুলে ধরেছেন। খুনের চিত্র, ধর্ষণের চিত্র, নারী ও শিশু নির্যাতনের চিত্র, ডাকাতির সংখ্যা মাসওয়ারী দিয়েছিলেন।
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘বর্তমান সরকার দায়িত্বে আসার পর থেকে এই পর্যন্ত সমস্ত ডেটায় আমরা ঐতিহাসিকভাবে এগিয়ে আছি, উন্নত আছি।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘ধর্ষণের কেস রেকর্ডের ক্ষেত্রে আমরা একটু বেশি ধর্ষণের চিত্র পেয়েছি। তার একটা কারণ আছে, আগে ধর্ষণের শিকার ব্যক্তিরা রেকর্ড করতে থানায় যেতেন না বা যেতে পারতেন না, সামাজিক বা রাজনৈতিক বিভিন্ন হস্তক্ষেপের কারণে। এখন থানায় গেলেই অথবা অনলাইনে জিডিসহ অন্যান্য কিছু দায়ের করতে পারেন। এফআইআর দাখিল করতে পারেন। এখানে কোনো ইন্টারফেয়ারেন্স নেই। যার কারণে সংখ্যাটা একটু বেড়েছে।’
স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, তবে সুখের কথা হলো, ধর্ষণ যেখানেই হোক, শিশু হোক, নারী হোক, যে অবস্থাতে তাৎক্ষণিকভাবে পুলিশ বিভাগ গ্রেপ্তারসহ চার্জশিট প্রদানের জন্য এবং মামলায় সহযোগিতা করার জন্য সাক্ষী উপস্থাপনসহ ট্রায়েলের সমস্ত ক্ষেত্রে একটা বৈপ্লবিক পরিবর্তন দেখা গেছে।
তিনি বলেন, পল্লবী শিশু হত্যার বিচার হয়েছে ১৫ থেকে ১৭ দিনের মধ্যে। এটা বাংলাদেশের রেকর্ড। তনু হত্যার আসামিদের ডিএনএ প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে গ্রেপ্তার করা সক্ষম। বাকিগুলোও হবে।’
সালাহউদ্দিন আহমদ আরও বলেন, পুলিশ দলীয় পরিচয় দেখে কাউকে গ্রেপ্তার করে না; অপরাধীকে অপরাধী হিসেবেই চিহ্নিত করে। বিরোধী দলের কোনো নেতা-কর্মী অপরাধে জড়িত থাকলে সংশ্লিষ্ট রাজনৈতিক দলও দ্রুত সাংগঠনিক ব্যবস্থা নিচ্ছে, যা তিনি ইতিবাচক হিসেবে উল্লেখ করেন।
তিনি বলেন, আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি উন্নয়নে কোনো রাজনৈতিক পরিচয়কে আমরা কখনও প্রাধান্য দেব না। দেশের শান্তি, উন্নয়ন, অগ্রগতি ও স্থিতিশীলতার জন্য আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতি ভালো থাকা দরকার।
মন্ত্রী বলেন, গ্রাম পুলিশ থেকে শুরু করে আইজিপি পর্যন্ত সবাই কাজ করে। কিন্তু জনগণের প্রত্যক্ষ সহযোগিতা ছাড়া কোনো দেশে আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির উন্নয়ন হয় না। এ সময় সামাজিক সচেতনতা বাড়াতে রাজনৈতিক দলগুলোকেও ভূমিকা রাখার আহ্বান জানান তিনি।
মাদক ও জুয়া নিয়ন্ত্রণে সরকারের উদ্যোগ তুলে ধরে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী জানান, মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ অধিদপ্তরকে স্বয়ংসম্পূর্ণ বিভাগ হিসেবে গড়ে তোলা হচ্ছে। সেখানে ডগ স্কোয়াড, অস্ত্র ও আধুনিক প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করা হবে। পাশাপাশি দেশের প্রতিটি জেলায় মাদক পরীক্ষাগার স্থাপনের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। তিনি আরও বলেন, অনলাইন ও অফলাইন জুয়া এবং সাইবার স্পেসে সংঘটিত অপরাধ মোকাবিলায় আধুনিক প্রযুক্তি ও দক্ষ জনবল গড়ে তোলা হচ্ছে। ১৮৬৭ সালের পুরোনো জুয়া আইনের পরিবর্তে আধুনিক বাস্তবতার সঙ্গে সামঞ্জস্যপূর্ণ আইন প্রয়োগের মাধ্যমে জুয়া ও বেটিং নিয়ন্ত্রণ করা হবে বলেও জানান তিনি।
২ ঘণ্টা আগে
জুলাই-আগস্ট গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উপলক্ষে ছাত্রদলের মাসব্যাপী কর্মসূচি
ছাত্র-জনতার জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) ছাত্রদলের দপ্তর সম্পাদক (সহ-সভাপতি পদমর্যাদা) মো. জাহাঙ্গীর আলমের পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে দলটি এ তথ্য জানায়।
আজ (মঙ্গলবার) রাত ১১টা থেকে এ কর্মসূচির সূচনা হবে বলে বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়েছে।
বিজ্ঞপ্তিতে উল্লেখ করা হয়, জুলাই-আগস্টের ঐতিহাসিক গণঅভ্যুত্থান স্মরণ, শহিদ ও আহতদের প্রতি সম্মান ও শ্রদ্ধা প্রদর্শন, ঐতিহাসিক স্মৃতি সংরক্ষণ, সকল অংশীজনদের অবদানের স্বীকৃতি ও ফ্যাসিবাদবিরোধী জাতীয় ঐক্য প্রতিষ্ঠা, দুঃশাসনের বিরুদ্ধে ছাত্র-জনতার দীর্ঘ ধারাবাহিক লড়াইয়ের বীরোচিত বিজয়ের দ্বিতীয় বর্ষপূর্তি উদযাপনে বাংলাদেশ জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল মাসব্যাপী কর্মসূচি ঘোষণা করেছে।
বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, কর্মসূচির প্রথম ধাপে আগামী ১ জুলাই প্রথম প্রহরে জাতীয় শহিদ মিনারে জুলাই-আগস্টের গণঅভ্যুত্থানের শহিদদের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে ‘আলোয় আলোয় স্মৃতি সমুজ্জ্বল’ শিরোনামে জাতীয় সংগীত পরিবেশন ও মোমবাতি প্রজ্বালন কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হবে।
অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন প্রধানমন্ত্রীর রাজনৈতিক উপদেষ্টা ও বিএনপির জ্যেষ্ঠ যুগ্ম মহাসচিব অ্যাডভোকেট রুহুল কবির রিজভী। বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকবেন জাতীয় সংসদের হুইপ এবং বিএনপির কেন্দ্রীয় নির্বাহী কমিটির ছাত্রবিষয়ক সম্পাদক আলহাজ্ব রকিবুল ইসলাম বকুল।
৩ ঘণ্টা আগে
গাইবান্ধায় একই স্থানে বিএনপি-জামায়াতের সমাবেশের ডাক, ১৪৪ ধারা জারি
গাইবান্ধার পলাশবাড়ী উপজেলায় চৌমাথায় জামায়াত-বিএনপির সমাবেশ আহ্বান করায় উত্তেজনা ও সংঘর্ষের আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। সংঘর্ষের আশঙ্কায় ও আইন শৃঙ্খলা পরিস্থিতি স্বাভাবিক রাখতে পলাশবাড়ীতে স্থানীয় প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করেছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) পলাশবাড়ি উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা ও নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শেখ জাবের আহমেদ স্বাক্ষরিত এক গণবিজ্ঞপ্তিতে এ আদেশ জারি করা হয়।
আদেশে বলা হয়েছে, উপজেলার বরিশাল ইউনিয়নকে কেন্দ্র করে বিএনপি ও জামায়াতে ইসলামী দুই রাজনৈতিক দলের পরস্পরবিরোধী অবস্থান নিয়ে চৌমাথা মোড়ে সমাবেশ আহ্বান করে। এ কারণে পলাশবাড়ী চৌমাথা এলাকায় আইনশৃঙ্খলা পরিস্থিতির মারাত্মক অবনতির আশঙ্কায় জননিরাপত্তা নিশ্চিত করতে আজ (মঙ্গলবার) বিকেল ৪টা থেকে রাত ১১টা পর্যন্ত পলাশবাড়ী চৌমাথা থেকে চারদিকে ৫০০ মিটার এলাকায় ১৪৪ ধারা জারি করা হলো।
এ সময় পাঁচ বা ততোধিক ব্যক্তির সমাবেশ, মিছিল, স্লোগান, শব্দবর্ধক যন্ত্রের ব্যবহার এবং লাঠি, অস্ত্র বা আগ্নেয়াস্ত্র বহন নিষিদ্ধ ঘোষণা করা হয়েছে। তবে যানবাহন চলাচল স্বাভাবিক থাকবে বলে প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) রাত ৯টার দিকে উপজেলার জুনদাহ বাজারে একটি চায়ের দোকানে বসে থাকা অবস্থায় উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুস ছামাদ, পৌর স্বেচ্ছাসেবক দলের সদস্য সচিব শামিম রেজা এবং স্বেচ্ছাসেবক দল নেতা মিলনের ওপর অতর্কিত হামলার অভিযোগ ওঠে। এ ঘটনায় উভয়পক্ষের মোট চারজন আহত হন। আহতদের মধ্যে দুজনকে উন্নত চিকিৎসার জন্য রংপুর মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে পাঠানো হয়।
এ ঘটনার পর এলাকায় উত্তেজনা ছড়িয়ে পড়লে সম্ভাব্য সংঘর্ষ ও অপ্রীতিকর পরিস্থিতি এড়াতে উপজেলা প্রশাসন ১৪৪ ধারা জারি করে। প্রশাসনের পক্ষ থেকে সবাইকে আইন মেনে চলার এবং শান্তি-শৃঙ্খলা বজায় রাখার আহ্বান জানানো হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
নারায়ণগঞ্জ আদালতে হত্যা মামলার আসামিকে সংঘবদ্ধ পিটুনি
নারায়ণগঞ্জের ফতুল্লায় আদালত চত্বরে হত্যা মামলার এক আসামিকে পুলিশের সামনেই মাটিতে ফেলে মারধর করেছে বিক্ষুদ্ধ জনতা।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুরে নারায়ণগঞ্জ আদালতে এ ঘটনা ঘটে।
প্রত্যক্ষদর্শী আইনজীবীরা জানান, আজ (মঙ্গলবার) চাঁনমারী এলাকার ক্যাবল টিভি ব্যবসায়ী মো. নাছির উদ্দিন হত্যা মামলার আসামি শরীফকে রিমান্ড শুনানির জন্য আদালতে ওঠানো হয়। এ সময় তাকে কোর্ট হাজত থেকে আদালতে নেওয়ার পথে নিহত মো. নাছির উদ্দিনের এলাকার মানুষজন পুলিশের সামনেই হামলা করার চেষ্টা করে। একপর্যায়ে আসামি শরীফ আদালতের দরজার সামনে পড়ে যায়। আর এতেই বিক্ষুদ্ধ জনতা শরীফকে মাটিতে ফেলে ব্যাপক মারধর করে।
পরে আরও পুলিশ ও অন্যান্য আইনজীবীরা এগিয়ে এসে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ করেন। এরপর আদালত তার বিরুদ্ধে ৫ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন।
বাদী পক্ষের আইনজীবী অ্যাডভোকেট মো. সালাউদ্দিন ভূঁইয়া সবুজ বলেন, এ হত্যা মামলার আসামি অনেক বড় অপরাধী। এলাকাবাসী তার ওপর অনেক ক্ষুদ্ধ। তাই তাকে সরাসরি দেখে বিক্ষুদ্ধরা নিজেদের ঠিক রাখতে না পেরে এ ঘটনা ঘটিয়েছেন। তবে আমরা আইনজীবীরা ও পুলিশ বিক্ষুদ্ধ জনতাকে বুঝিয়ে পরিস্থিতি শান্ত করেছি।
আদালত পুলিশ পরিদর্শক মো. আব্দুস সামাদ বলেন, হত্যা মামলার আসামিকে আদালতে নেওয়ার পথে একটি পক্ষ হামলা করার চেষ্টা করেছিল। আমরা পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণ রেখেছি।
গত ১৪ মে চাঁনমারী মাউড়াপট্টি এলাকার ফ্রেন্ডস ক্যাবল অফিসে মো. নাছির উদ্দিনকে ছুরিকাঘাতে হত্যা করা হয়। এ হত্যার ঘটনায় ফতুল্লা থানায় শরীফকে প্রধান আসামি করে মামলা হয়েছে।
৩ ঘণ্টা আগে
ইয়াবাসহ যুবক আটক, আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের জার্সি ইস্যুতে বরিশালে তোলপাড়
আর্জেন্টিনার জার্সি পরা এক যুবককে ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটকের পর ছবিতে এআই টুল ব্যবহার করে তাকে ব্রাজিল সমর্থক বানানোর অভিযোগ উঠেছে বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া উইংয়ের বিরুদ্ধে। মাদক ব্যবসায়ীকে এআই দিয়ে ব্রাজিলের জার্সি পরানো ছবি প্রকাশ করেছে তাদের মিডিয়া সেলে।
এ ঘটনায় ব্রাজিল সমর্থকদের মধ্যে ক্ষোভের সৃষ্টি হয়েছে। পরে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নির্দেশে মাদক কারবারিকে ফের আর্জেন্টিনার জার্সি পরিয়ে পুনরায় তা প্রকাশ করা হয়েছে।
বিষয়টি দুষ্টমির ছলে করে ফেলেছেন বলে স্বীকার করেছেন বরিশাল মেট্রোপলিটন পুলিশের মিডিয়া সেলের উপপরিদর্শক তানজিল আহমেদ।
এর আগে, সোমবার (২৯ জুন) বিকেল পৌনে ৫টার দিকে নগরীর পলাশপুর কলোনিতে অভিযান চালিয়ে ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেটসহ আটক করা হয় মাদক কারবারি রাসেল হাওলাদারকে (৩৫)।
রাসেল পলাশপুরের মোহাম্মদপুর এলাকার বাসিন্দা।
কাউনিয়া থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) সনজিত চন্দ্র নাথ জানান, গোপন সংবাদের ভিত্তিতে গতকাল (সোমবার) বিকেলে মোহাম্মদপুর কলোনিতে অভিযান পরিচালনা করেন তারা। এ সময় ওই এলাকার মামুন মিয়ার ঘের-সংলগ্ন এলাকার চিহ্নিত মাদক কারবারি রাসেল হাওলাদারকে আটক করা হয়। পরে তল্লাশি করে তার কাছ থেকে ৮০০ পিস ইয়াবা ট্যাবলেট উদ্ধার করা হয়েছে।
তবে পুলিশের অভিযান টের পেয়ে পালিয়ে যান মূল মাদক কারবারি আঁখি (৩২)। তিনি দক্ষিণ পলাশপুর এলাকার বাসিন্দা। তার বিরুদ্ধে থানায় একাধিক মামলা রয়েছে বলে জানান এই পুলিশ কর্মকর্তা।
তিনি আরও জানান, এই ঘটনায় পুলিশ বাদী হয়ে বরিশাল মেট্রোপলিটনের কাউনিয়া থানায় মাদকদ্রব্য নিয়ন্ত্রণ আইনে মামলা করে। মামলায় আটক এবং পলাতক নারীকে আসামি করা হয়েছে।
এদিকে, মাদক কারবারি রাসেলকে গ্রেপ্তারের সময় তার গায়ে আর্জেন্টিনার জার্সি ছিল। থানা পুলিশ জার্সি উল্টিয়ে তোলা ছবি বিএমপির মিডিয়া সেলে সরবরাহ করে। মিডিয়া উইংয়ের উপপরিদর্শক তানজিল এআই টুল ব্যবহার করে মাদক কারবারিকে ব্রাজিলের জার্সি পরিয়ে দেন। এমনকি গণমাধ্যমে পাঠানো ই-মেইলে জানানো হয়, ব্রাজিল সমর্থক ইয়াবাসহ আটক হয়েছে। মিডিয়া উইংয়ের সেই ছবি সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে পড়ে।
বিষয়টি নিয়ে গণমাধ্যমের পক্ষ থেকে নগর পুলিশ কমিশনার আশিক সাঈদকে জানানো হলে পুনরায় সংশোধিত তথ্য প্রকাশ করে মিডিয়া উইং। পাশপাশি এ বিষয়ে অভিযুক্ত পুলিশ সদস্যদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা গ্রহণের কথাও জানান তিনি।
এ বিষয়ে বিএমপির মিডিয়া উইংয়ের উপপরিদর্শক তানজিল আমহেদ বলেন, ‘বিষয়টি ইয়ার্কির ছলে ভুলবশত হয়ে গেছে। এজন্য আমি দুঃখ প্রকাশ করছি।’
৩ ঘণ্টা আগে
মুদ্রানীতি ও বাজেটের মধ্যে সমন্বয়হীনতার অভিযোগ ডিসিসিআই’র, নীতি সুদহার বহালে গভীর উদ্বেগ
বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি ৫ শতাংশে নেমে এলেও বাংলাদেশ ব্যাংক নীতি সুদহার ১০ শতাংশে অপরিবর্তিত রাখায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। একই সঙ্গে সদ্যঘোষিত প্রবৃদ্ধিমুখী জাতীয় বাজেট ও সংকোচনমুখী মুদ্রানীতির মধ্যে সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্য রয়েছে উল্লেখ করে রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে কার্যকর সমন্বয়ের আহ্বান জানিয়েছে ব্যবসায়ীদের এ সংগঠন।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) এক প্রতিক্রিয়ায় ডিসিসিআই জানায়, টানা চার বছর ধরে সংকোচনমুখী মুদ্রানীতি অনুসরণ করা হলেও মূল্যস্ফীতি কাঙ্ক্ষিতভাবে নিয়ন্ত্রণে আসেনি। বরং মে মাসে তা বেড়ে ৯ দশমিক ৪২ শতাংশে পৌঁছেছে, যা দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোচ্চ।
সংগঠনটি বলেছে, সদ্য অনুমোদিত ৯ লাখ ৩৮ হাজার কোটি টাকার জাতীয় বাজেটে ব্যবসা সম্প্রসারণ, বিনিয়োগ বৃদ্ধি এবং শিল্পায়ন ত্বরান্বিত করতে বিভিন্ন কর ও শুল্ক-সুবিধা দেওয়া হয়েছে। কিন্তু মুদ্রানীতিতে সেই প্রবৃদ্ধিমুখী দৃষ্টিভঙ্গির প্রতিফলন নেই, যা রাজস্বনীতি ও মুদ্রানীতির মধ্যে একটি সুস্পষ্ট অসামঞ্জস্যের ইঙ্গিত দেয়। উচ্চ নীতি সুদহার বহাল থাকায় ঋণের ব্যয় কমানোর সুযোগও সীমিত হয়ে পড়েছে।
ব্যবসায়িক কর্মকাণ্ডে গতি ফিরিয়ে আনতে বাংলাদেশ ব্যাংক ঘোষিত ৬০ হাজার কোটি টাকার প্রণোদনা তহবিলকে স্বাগত জানিয়েছে ডিসিসিআই। তবে অতীতের অভিজ্ঞতা থেকে শিক্ষা নিয়ে এ তহবিলের সুষ্ঠু, স্বচ্ছ ও কার্যকর বাস্তবায়ন নিশ্চিত করার ওপর জোর দিয়েছে সংগঠনটি।
ডিসিসিআইর মতে, ইতোমধ্যে ক্ষতিগ্রস্ত এবং টিকে থাকার সংগ্রামে থাকা কুটির, ক্ষুদ্র, ছোট ও মাঝারি উদ্যোক্তা (সিএমএসএমই), রপ্তানিমুখী শিল্প এবং অন্যান্য উৎপাদনমুখী উদ্যোক্তাদের সহজ শর্তে, কম ডকুমেন্টেশন এবং দ্রুত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এ তহবিলের আওতায় আনতে হবে।
সংগঠনটি আরও বলেছে, ইতোমধ্যে বন্ধ হয়ে যাওয়া শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরুজ্জীবিত করা যেমন প্রয়োজন, তেমনি ধ্বংসের ঝুঁকিতে থাকা শিল্প ও ব্যবসাপ্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার ভিত্তিতে সহায়তা দেওয়া আরও জরুরি। তাই ক্ষতিগ্রস্ত প্রকৃত উদ্যোক্তাদের কাছে দ্রুত ও কার্যকরভাবে এ প্রণোদনা পৌঁছে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে ঢাকা চেম্বার।
এছাড়া সরকারের ব্যাংকঋণের ওপর ক্রমবর্ধমান নির্ভরশীলতাকেও গভীর উদ্বেগের বিষয় হিসেবে উল্লেখ করেছে ডিসিসিআই। সংগঠনটি বলেছে, সরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধি প্রায় ২৬ শতাংশে পৌঁছেছে, যা নির্ধারিত লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় উল্লেখযোগ্যভাবে বেশি। এর ফলে ব্যাংক খাতের সীমিত তারল্যের বড় একটি অংশ সরকারি খাতে ব্যবহৃত হচ্ছে, ফলে বেসরকারি খাতের জন্য পর্যাপ্ত ঋণপ্রবাহ নিশ্চিত করা কঠিন হয়ে পড়ছে। অথচ ২০২৬ সালের ডিসেম্বরের মধ্যে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৬ দশমিক ৮ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।
ডিসিসিআই মনে করে, জাতীয় বাজেটে ঘোষিত রাজস্ব প্রণোদনা যতই আকর্ষণীয় হোক না কেন, পর্যাপ্ত ও সাশ্রয়ী অর্থায়নের সুযোগ নিশ্চিত না হলে সেসব উদ্যোগের কাঙ্ক্ষিত সুফল অর্জন সম্ভব হবে না। তাই বিদ্যমান অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং বেসরকারি খাতনির্ভর টেকসই অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধি নিশ্চিত করতে মুদ্রানীতি ও রাজস্বনীতির মধ্যে আরও কার্যকর সমন্বয় এবং নীতিগত সামঞ্জস্য প্রতিষ্ঠা অত্যন্ত জরুরি।
৩ ঘণ্টা আগে
পদ্মা সেতুতে চার বছরে টোল আদায় ৩৪২৯ কোটি, ২৫১৬ কোটি টাকা ঋণ পরিশোধ
উদ্বোধনের পর থেকে চলতি বছরের ২৯ জুন পর্যন্ত পদ্মা সেতু দিয়ে ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল বাবদ আদায় হয়েছে ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা। আদায় হওয়া টোল থেকে সরকারের ঋণের ১৬টি কিস্তিতে ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে বলে জানিয়েছে বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।
বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বাংলাদেশ সরকারের নিজস্ব অর্থায়নে ৩০ হাজার ৭৭০ কোটি ১৪ লাখ টাকা ব্যয়ে নির্মিত পদ্মা সেতু ২০২২ সালের ২৫ জুন উদ্বোধনের পরদিন থেকে যান চলাচলের জন্য উন্মুক্ত করা হয়। এরপর থেকে সেতুটি দেশের অর্থনীতি ও যোগাযোগ ব্যবস্থায় গুরুত্বপূর্ণ অবদান রেখে চলেছে।
এতে বলা হয়, ২৯ জুন পর্যন্ত সেতু দিয়ে মোট ২ কোটি ৬৮ লাখ ৬২ হাজার ৮০৮টি যানবাহন পারাপার হয়েছে। এ সময়ে টোল বাবদ মোট ৩ হাজার ৪২৯ কোটি ৪৫ লাখ ২৫ হাজার ৫৫০ টাকা রাজস্ব আদায় হয়েছে। একই সময়ে আদায় করা টোল থেকে সরকারের কাছে ঋণের ১৬টি কিস্তিতে মোট ২ হাজার ৫১৬ কোটি ৬৮ লাখ ৮৪ হাজার টাকা পরিশোধ করা হয়েছে। বর্তমানে কোনো কিস্তি বকেয়া নেই।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, পদ্মা সেতু নির্মাণের জন্য বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ ও অর্থ বিভাগের মধ্যে সম্পাদিত চুক্তি অনুযায়ী ১ শতাংশ সুদে ৩৫ বছরের মধ্যে মোট ৩৬ হাজার কোটি টাকা পরিশোধ করতে হবে। বছরে চার কিস্তি হিসেবে মোট ১৪০ কিস্তিতে এ অর্থ পরিশোধের বাধ্যবাধকতা রয়েছে।
এছাড়া টোল থেকে ভ্যাট বাবদ এখন পর্যন্ত ৪৩৬ কোটি ৭ লাখ ৭৪ হাজার ২২১ টাকা সরকারি কোষাগারে জমা দেওয়া হয়েছে।
সেতু বিভাগের সচিব ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষের নির্বাহী পরিচালক মোহাম্মদ আবদুর রউফ বলেন, ‘২০০২ থেকে ২০০৫ সালের মধ্যে পদ্মা সেতু নির্মাণের সম্ভাব্যতা সমীক্ষা সম্পন্ন হয়। ওই সময়ের সমীক্ষা, নকশা ও মাওয়া-জাজিরা অ্যালাইনমেন্ট অনুমোদনের ফলে পরবর্তী সময়ে প্রকল্প বাস্তবায়নের পথ সহজ হয়।’
তিনি বলেন, ‘বর্তমানে পদ্মা সেতুর রক্ষণাবেক্ষণ ও পরিচালনা আন্তর্জাতিক মান বজায় রেখে পরিচালিত হচ্ছে। পাশাপাশি আধুনিক, স্বয়ংক্রিয় ও ডিজিটাল যোগাযোগ ব্যবস্থা গড়ে তোলার কাজও এগিয়ে চলছে।’ আর্থিক শৃঙ্খলা বজায় রেখে নির্ধারিত সময়ের মধ্যেই সরকারের সব ঋণ পরিশোধ করা সম্ভব হবে বলেও তিনি আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আরও বলা হয়, দেশের যোগাযোগ অবকাঠামোর উন্নয়ন এবং উন্নত বাংলাদেশ গড়ার লক্ষ্যে ইউনিফায়েড ন্যাশনাল ইটিসি (ইউএনইএফ) ফ্রেমওয়ার্কসহ বিভিন্ন জনবান্ধব কর্মসূচি বাস্তবায়নে সেতু বিভাগ ও বাংলাদেশ সেতু কর্তৃপক্ষ কাজ করে যাচ্ছে।
৩ ঘণ্টা আগে
চাঁপাইনবাবগঞ্জে পদ্মায় গোসল করতে নেমে দুই কিশোর নিখোঁজ
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর উপজেলায় পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে পানিতে ডুবে দুই কিশোর নিখোঁজ হয়েছে।
মঙ্গলবার (৩০ জুন) দুপুর সাড়ে ১২টার দিকে উপজেলার আলীনগর ঘাট এলাকায় এ ঘটনা ঘটে।
নিখোঁজ দুই কিশোর হলেন— সদর উপজেলার সুন্দরপুর এলাকার আলমাসের ছেলে রাসেল (১৫) এবং একই এলাকার জেমের ছেলে রিফাত (১৬)। তারা দুজনই এসএসসি পরীক্ষার্থী ছিলেন।
স্থানীয়রা জানান, আজ (মঙ্গলবার) দুপুরে তারা কয়েকজন বন্ধু মিলে পদ্মা নদীতে গোসল করতে নামে। একপর্যায়ে রাসেল ও রিফাত নদীর পানিতে তলিয়ে যায়। বিষয়টি দেখতে পেয়ে স্থানীয়রা তাৎক্ষণিকভাবে তাদের উদ্ধারের চেষ্টা শুরু করেন এবং ফায়ার সার্ভিসে খবর দেন।
চাঁপাইনবাবগঞ্জ সদর মডেল থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) একরামুল হোসাইন বলেন, পদ্মা নদীতে গোসল করতে নেমে দুই কিশোর নিখোঁজ হয়েছে। তাদের উদ্ধারে স্থানীয়দের পাশাপাশি ফায়ার সার্ভিসের সদস্যরা কাজ করছেন।
৩ ঘণ্টা আগে
আর্থিক জালিয়াতির দায়ে যুক্তরাষ্ট্রে চীনা ধনকুবেরের ৩০ বছরের কারাদণ্ড
যুক্তরাষ্ট্রে ব্যাপক আর্থিক জালিয়াতির দায়ে স্বেচ্ছানির্বাসিত চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সমালোচক গুও ওয়েংগুইকে ৩০ বছরের কারাদণ্ড দিয়েছেন যুক্তরাষ্ট্রের একটি ফেডারেল আদালত। আদালতের তথ্যমতে, তিনি গণতন্ত্রপন্থি আন্দোলনের সমর্থকদের বিশ্বাসকে কাজে লাগিয়ে ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পের মাধ্যমে শত শত মিলিয়ন ডলার আত্মসাৎ করেছেন।
স্থানীয় সময় সোমবার (৩০ জুন) ম্যানহাটনের একটি আদালতকক্ষে বিচারক আনালিসা টরেস এ রায় ঘোষণা করেন।
আনালিসা টরেস বলেন, চীনে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠার স্বপ্ন নিয়ে যেসব মানুষ গুওকে সমর্থন করে পাশে দাঁড়িয়েছিলেন, তিনি তাদেরই শিকার বানিয়েছেন। তাদের কাছ থেকে অর্থ সংগ্রহ করে সেই অর্থে তিনি বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন।
এদিকে, রায় ঘোষণার আগে গুও কারাগারে নিজের সঙ্গে হওয়া আচরণের প্রতিবাদ করেছেন। সে সময় তিনি জানান, সোমবার ভোরে তাকে হাসপাতালে নেওয়া হয়েছিল। এ সময় প্রসিকিউশনের দাবি প্রত্যাখ্যান করে তিনি বলেন, আদালতে তাকে অসুস্থতার ভান করা ব্যক্তি হিসেবে তুলে ধরা হয়েছে। তাকে আদালতে নিয়ে আসার সময় তিনি বারবার বমি করেছেন বলেও উল্লেখ করেন।
আদালতে গুওর বিরুদ্ধে হওয়া ফৌজদারি মামলার বিষয়ে তিনি আত্মপক্ষ সমর্থন করেন। এ সময় চীনা কমিউনিস্ট পার্টির প্রসঙ্গ টেনে তিনি বলেন, ‘আমি যুক্তরাষ্ট্রে এসেছি চীনা কমিউনিস্ট পার্টিকে (সিসিপি) ধ্বংস করার জন্য।’
গুওর সাজা ঘোষণার সময় বিচারক টরেস ভুক্তভোগীদের পাঠানো কয়েকটি চিঠির অংশ পড়ে শোনান। চিঠিতে ভুক্তভোগীরা লিখেছেন, গুওর প্রতারণায় তারা আজীবনের সঞ্চয় হারিয়েছেন। এতে তারা চরম মানসিক চাপ ও লজ্জার মধ্যে পড়েছেন। ভুল বিনিয়োগের কারণে তাদের সঙ্গে পরিবারেও অশান্তি সৃষ্টি হয়েছে।
বিচারক টরেস বলেন, গুও নিজের কর্মকাণ্ডের কোনো দায় স্বীকার করেননি। বরং তিনি দাবি করছেন, তার কারণে কেউ ক্ষতিগ্রস্ত হয়নি। তিনি আরও বলেন, এর আগে যারা গুওর বিরুদ্ধে কথা বলার সাহস দেখিয়েছেন, গুও তাদের ভয়ভীতি ও হুমকি প্রদর্শন করেছেন।
এছাড়া রায়ে আদালত গুওর ৮৮৯ মিলিয়ন ডলার বাজেয়াপ্ত এবং ক্ষতিপূরণ হিসেবে তা ভুক্তভোগীদের মধ্যে বণ্টনের নির্দেশ দিয়েছেন।
উল্লেখ্য, তিন বছর আগে গুও যুক্তরাষ্ট্রের রক্ষণশীল রাজনৈতিক কৌশলবিদ স্টিভ ব্যাননের ঘনিষ্ঠ সহযোগী হয়ে ওঠেন। ২০২০ সালে তারা যৌথভাবে চীনা সরকারকে উৎখাতের একটি উদ্যোগের ঘোষণা দিয়েছিলেন। সে সময় গুও নিউইয়র্কের সেন্ট্রাল পার্ক-সংলগ্ন একটি বিলাসবহুল অ্যাপার্টমেন্টে বসবাস করতেন। তিনি প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের ফ্লোরিডার মার-আ-লাগো গলফ ক্লাবেরও সদস্য ছিলেন।
প্রসিকিউটররা আদালতে গুওর জন্য অন্তত ৩০ বছরের কারাদণ্ড চেয়েছেন। তাদের দাবি, ২০১৮ থেকে ২০২৩ সালের মধ্যে গুওর অভূতপূর্ব প্রতারণা শত শত মানুষের জীবন ধ্বংস করেন দিয়েছে। এতে অসংখ্য ভুক্তভোগী ও তাদের পরিবার আর্থিক, মানসিক ও মনস্তাত্ত্বিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা বলেন, প্রতারণার মাধ্যমে অর্জিত অর্থ দিয়ে গুও বিলাসবহুল জীবনযাপন করেছেন। তার সম্পদের মধ্যে ছিল প্রাসাদসম বাড়ি, ইয়ট, রেসিং কার, দামি পোশাক এবং বিলাসবহুল আসবাবপত্র।
সাত সপ্তাহ ধরে চলা এ বিচার কার্যক্রম শেষে ১২টি ফৌজদারি অভিযোগের মধ্যে ৯টিতে গুও দোষী সাব্যস্ত হয়েছেন। প্রসিকিউটরদের মতে, বিচারে প্রমাণিত হয়েছে যে গুও হাজার হাজার বিনিয়োগকারীকে ভুয়া বিনিয়োগ প্রকল্পে অর্থ লগ্নি করতে প্রতারণার আশ্রয় নিয়েছিলেন। আর সেই অর্থ দিয়েই তিনি নিজের বিলাসবহুল জীবন চালিয়ে গেছেন।
আদালতে দাখিল করা এক আবেদনে গুওর আইনজীবীরা দাবি করেন, গুও চীনা কমিউনিস্ট পার্টির সুপরিকল্পিত ষড়যন্ত্রের শিকার হয়েছেন। এমনকি তারা গুওর প্রাণনাশের হুমকির মতো তৎপরতা চালিয়েছে। চীনা কমিউনিস্ট পার্টি যুক্তরাষ্ট্রের ব্যবসায়ী ও রাজনৈতিক প্রভাবশালী ব্যক্তিদের ব্যবহার করে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
সাজা ঘোষণার আগে দাখিল করা নথিতে তার আইনজীবীরা আরও বলেন, গুওর দীর্ঘ কারাদণ্ড হলে তা চীনের অপপ্রচারকে শক্তিশালী করবে। এ রায় চীনা ভিন্নমতাবলম্বীদের স্বাভাবিক জীবন থেকে সরিয়ে দেওয়ার প্রক্রিয়াকে বৈধতা দেবে। এছাড়া একই ধরনের মামলায় অন্য আসামিরা যেখানে দুই থেকে চার বছরের কারাদণ্ড পেয়েছেন, সেখানে গুওর ক্ষেত্রে এত দীর্ঘ সাজা অযৌক্তিক বলেও তারা উল্লেখ করেন।
আসামিপক্ষের আইনজীবীরা আরও জানান, আদালতের প্রবেশন কর্মকর্তা বিচারককে লিখিতভাবে জানিয়েছেন, চীনে নির্যাতনের কারণে গুওর শরীরে ক্ষতচিহ্ন ও বিকৃতি রয়েছে। ১৯৯৩ থেকে ২০২২ সালের মধ্যে এসব আঘাতের চিকিৎসা ও পুনর্গঠনের জন্য তার একাধিক অস্ত্রোপচারও হয়েছে।
আইনজীবীদের দাবি, গুওর পরিবারের মালিকানাধীন প্রতিষ্ঠান চীনের বৃহত্তম সিকিউরিটিজ কোম্পানির সবচেয়ে বড় শেয়ারহোল্ডার ছিল। সেখান থেকেই তিনি বিপুল সম্পদ অর্জন করেছেন। তবে চীনের সরকারি কর্মকর্তাদের দুর্নীতির তথ্য প্রকাশ করার পর থেকে তিনি সরকারের লক্ষ্যবস্তুতে পরিণত হন। পরে তিনি বাধ্য হয়ে হংকং ও লন্ডন হয়ে ২০১৭ সালে নিউইয়র্কে চলে যান।
এছাড়া চীনা কর্তৃপক্ষ তার বিরুদ্ধে ধর্ষণ, অপহরণ, ঘুষসহ বিভিন্ন অপরাধের অভিযোগ এনেছিল। তবে আদালতে গুও দাবি করেন, এসব অভিযোগ সম্পূর্ণ মিথ্যা।
প্রসিকিউটরদের অভিযোগ, গুও তার নিয়ন্ত্রিত বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য শত শত মানুষকে রাজি করিয়েছিলেন। তাদের কাছ থেকে তিনি ১ বিলিয়ন ডলারের বেশি অর্থ সংগ্রহ করেছেন। এসব প্রতিষ্ঠানের মধ্যে ছিল তার গণমাধ্যম কোম্পানি জিটিভি মিডিয়া গ্রুপ ইনকরপোরেশন, হিমালয়া ফার্ম অ্যালায়েন্স এবং হিমালয়া এক্সচেঞ্জ।
সাজা ঘোষণার আগে আদালতে দাখিল করা নথিতে প্রসিকিউটররা আরও অভিযোগ করেন, যুক্তরাষ্ট্রের তুলনামূলক শিথিল আশ্রয় আইনের সুযোগ নিয়ে গুও দেশটিতে নিজের অবস্থান শক্তিশালী করেছিলেন। প্রসিকিউটরদের দাবি, নিজের এসব অপরাধের জন্য গুও একেবারেই অনুতপ্ত নন।
৪ ঘণ্টা আগে
বগুড়ায় কুকুর নির্যাতনের অভিযোগে ব্যবসায়ীর বিরুদ্ধে মামলা
বগুড়া শহরের কানছগাড়ী এলাকায় একটি কুকুরকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে গুরুতর জখম করার অভিযোগে মো. স্বপন নামে এক ব্যক্তির বিরুদ্ধে মামলা করা হয়েছে।
সোমবার (২৯ জুন) বাংলাদেশ অ্যানিমেল ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশন (বাওয়া) বগুড়া শাখার আহ্বায়ক সদস্য মো. এমরান হোসেন বাদী হয়ে সদর থানায় মামলাটি করেন।
মামলায় অভিযুক্ত মো. স্বপন কানছগাড়ী পুকুরপাড় এলাকার বাসিন্দা। তিনি পেশায় ফার্নিচার ব্যবসায়ী।
এজাহারে উল্লেখ করা হয়, আজ (সোমবার) দুপুরে মোবাইল ফোনে খবর পেয়ে মো. এমরান হোসেন কানছগাড়ী এলাকার ইন্ডিপেন্ডেন্ট হাসপাতালের পশ্চিম পাশের একটি গলিতে যান। সেখানে একটি সাদা-কালো রঙের কুকুরকে গুরুতর আহত অবস্থায় ড্রেনে পড়ে থাকতে দেখা যায়। পরে স্থানীয় দুই ব্যক্তি এসএম সাদিকুল ইসলাম ও রাফিদ ইয়াসাদের সহযোগিতায় কুকুরটিকে উদ্ধার করে চিকিৎসার জন্য জলেশ্বরীতলার একটি পশু চিকিৎসাকেন্দ্রে নেওয়া হয়।
এমরান হোসেন বলেন, খবর পেয়ে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের কর্মকর্তাসহ জেলা প্রাণিসম্পদ বিভাগের একটি সমন্বিত চিকিৎসক দল কুকুরটিকে চিকিৎসা দেয়। চিকিৎসার পর প্রাণীটি কিছুটা সুস্থ হয়ে ওঠে।
এজাহারে আরও অভিযোগ করা হয়, ঘটনাস্থলে খোঁজ নিয়ে জানা যায়, অভিযুক্ত স্বপন ধারালো কোনো বস্তু দিয়ে কুকুরটিকে আঘাত করে গুরুতর জখম করেছেন। আহত প্রাণীটির চিকিৎসা নিয়ে ব্যস্ত থাকায় এবং সংগঠনের নেতাদের সঙ্গে পরামর্শ করে থানায় অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়েছে বলেও এজাহারে উল্লেখ করেছেন বাদী।
এ বিষয়ে অভিযোগটি গ্রহণ করে আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে বলে বগুড়া সদর থানার পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে।
৪ ঘণ্টা আগে