এশিয়া
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়াকে ‘বাণিজ্যযুদ্ধ’ নিয়ে সতর্ক করলেন আনোয়ার ইব্রাহিম
বৈশ্বিক বাণিজ্য এখন ‘অস্ত্র’ হিসেবে ব্যবহার হচ্ছে বলে মন্তব্য করেছেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী আনোয়ার ইব্রাহিম। এ কারণে দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার দেশগুলোকে ‘বাণিজ্যযুদ্ধে’ না জড়িয়ে পড়ার বিষয়ে সতর্ক করেছেন তিনি।
স্থানীয় সময় বুধবার (৯ জুলাই) আসিয়ান জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে তিনি এই সতর্কতার আহ্বান জানান।
যুক্তরাষ্ট্রের আরোপিত শুল্কের কারণে আসিয়ানভুক্ত দেশগুলো বর্তমানে উদ্বিগ্নতার মধ্যে রয়েছে। এরই মধ্যে এই সতর্কতা দিলেন মালয়েশিয়ার প্রধানমন্ত্রী।
দক্ষিণ-পূর্ব এশিয়ার ১০টি দেশের আঞ্চলিক জোট হচ্ছে আসিয়ান। বিশ্বের সবচেয়ে বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতির দেশগুলোর বেশ কয়েকটি এই জোটের সদস্য বলে মনে করা হয়। তবে জোটের ১০টির মধ্যে আটটি দেশই পড়েছে ডোনাল্ড ট্রাম্পের শুল্কের মুখে, যা আগামী ১ আগস্ট থেকে কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে।
জোটের পররাষ্ট্রমন্ত্রীদের বার্ষিক সম্মেলনের উদ্বোধনী বক্তব্যে আনোয়ার বলেন, বিশ্ব এখন এমন এক যুগে প্রবেশ করেছে, যেখানে নীতিকে অস্থির করে তুলছে ক্ষমতা। একসময় যে বিষয়গুলো প্রবৃদ্ধির জন্য ব্যবহৃত হতো, এখন তা চাপ সৃষ্টি, একঘরে করা ও নিয়ন্ত্রণের হাতিয়ারে পরিণত হয়েছে।
এ সময় যুক্তরাষ্ট্রের নাম সরাসরি উল্লেখ না করলেও চলমান বাণিজ্য হুমকি মোকাবিলায় আসিয়ানভুক্ত দেশগুলোকে একসঙ্গে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।
জোটভুক্ত দেশগুলোকে পারস্পরিক বাণিজ্য বাড়ানো, আঞ্চলিক সংহতি জোরদার এবং বাইরের শক্তির ওপর নির্ভরতা কমানোর ওপর গুরুত্বারোপ করে আনোয়ার ইব্রাহিম বলেন, ‘আমাদের সংহতি কেবল ঘোষণার মধ্যে সীমিত থাকলে চলবে না। এই বাণিজ্য হুমকি কোনো ক্ষণস্থায়ী ঝড় নয়। এটি আমাদের সময়ের নতুন বাস্তবতা।’
চলতি বছরের এপ্রিলে প্রথম এই শুল্ক আরোপের ঘোষণা দিয়েছিলেন ট্রাম্প। অবশ্য সমঝোতার সুযোগ দিতে সে সময় ৯০ দিনের জন্য শুল্ক স্থগিত করা হয়। এরপর সোমবার (৭ জুলাই) ও বুধবার (৯ জুলাই) নতুন করে ২০ থেকে ৪০ শতাংশ হারে, কোনো দেশের ওপর আবার ৫০ শতাংশ পর্যন্ত শুল্ক আরোপের ঘোষণা দেন ট্রাম্প। কোনো সমঝোতায় না এলে ১ আগস্ট থেকে এই হারে শুল্ক কার্যকর হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে, কোনো দেশ পাল্টা পদক্ষেপ নিলে তার বিরুদ্ধে আরও শুল্ক বাড়ানোর হুমকিও দিয়েছেন তিনি।
প্রথমবারে শুল্ক আরোপের পর কেবল ভিয়েতনামই একটি চুক্তির মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্রের শুল্ক হার ৪৬ শতাংশ থেকে কমিয়ে ২০ শতাংশে নামাতে পেরেছে।
যুক্তরাষ্ট্রের ঘোষিত তালিকা অনুযায়ী, ব্রাজিলের ওপর সর্বোচ্চ ৫০ শতাংশ, থাইল্যান্ড ও কম্বোডিয়ার ওপর ৩৬ শতাংশ, ইন্দোনেশিয়ার ওপর ৩২ শতাংশ, মালয়েশিয়া ও ব্রুনাইয়ের ওপর ২৫ শতাংশ, ফিলিপাইনের ওপর ২০ শতাংশ, আর লাওস ও যুদ্ধবিধ্বস্ত মিয়ানমারের ওপর ৪০ শতাংশ শুল্ক আরোপ হতে পারে। বাংলাদেশের ওপরও শুল্কের এই খড়্গ নেমে এসেছে ৩৫ শতাংশ হারে।
আসিয়ানভুক্ত অনেক দেশ এরই মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে দ্বিপক্ষীয় আলোচনা শুরু করেছে। তবে সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা জানিয়েছেন, চলতি বছরের শেষ দিকে আসিয়ান-যুক্তরাষ্ট্র শীর্ষ সম্মেলন আয়োজনের পরিকল্পনা রয়েছে, যেখানে তারা যৌথ অবস্থান তৈরির চেষ্টা করবে।
২৯৯ দিন আগে
ভিসা নীতিতে বড় পরিবর্তন চীনের, মিলতে শুরু করেছে সুফল
পর্যটক টানতে ভিসা নীতি শিথিল করেছে চীন। ৭৪টি দেশের নাগরিকদের বিনা ভিসায় ভ্রমণের সুযোগ দিয়েছে দেশটি। এর ফলে ধীরে ধীরে আবারও বিদেশি পর্যটকদের আনাগোনা বাড়ছে চীনে।
নতুন নীতি অনুযায়ী, ৭৪টি দেশের নাগরিকরা চীনে প্রবেশের পর টানা ৩০ দিন পর্যন্ত ভিসা ছাড়াই অবস্থান করতে পারছেন যা আগের নিয়মের তুলনায় অনেক বড় পরিবর্তন।
ইউরোপ, এশিয়া, লাতিন আমেরিকা ও মধ্যপ্রাচ্যের মোট ৭৪টি দেশকে এ পর্যন্ত ৩০ দিনের ভিসা ছাড় দিয়েছে চীন। চলতি মাসের ১৬ জুলাই এই তালিকায় আজারবাইজান যুক্ত হলে মোট দেশের সংখ্যা দাঁড়াবে ৭৫টিতে।
মূলত পর্যটন, অর্থনীতি ও আন্তর্জাতিক ভাবমূর্তি বা ‘সফট পাওয়ার’ বাড়াতে ধারাবাহিকভাবে ভিসা-মুক্ত প্রবেশাধিকার বাড়াচ্ছে চীন।
দেশটির জাতীয় অভিবাসন প্রশাসনের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৪ সালে ২ কোটির বেশি বিদেশি পর্যটক ভিসা ছাড়াই চীনে প্রবেশ করেছেন, যা মোট বিদেশি পর্যটকের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এবং আগের বছরের তুলনায় দ্বিগুণের বেশি।
ভিসা ছাড়াই চীন ভ্রমণ করা অস্ট্রিয়ায় বসবাসকারী জর্জিয়ার নাগরিক জর্জি শাভাদজে বেইজিংয়ের বিখ্যাত ‘টেম্পল অব হেভেন’ ঘোরার সময় বলেন, ‘ভিসা আবেদন ও প্রক্রিয়া নিয়ে যে ঝামেলা, তাতে চীনের এই সিদ্ধান্ত ভ্রমণপিপাসুদের অনেক সুবিধা দেবে।’
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্র-চীনের বাণিজ্য চুক্তি চূড়ান্ত: ট্রাম্প
তারপরও চীনে বিদেশি পর্যটকের সংখ্যা তুলনামূলক কম, দেশটির বেশিরভাগ পর্যটনকেন্দ্রই এখনও দেশীয় পর্যটকে ঠাসা। তা সত্ত্বেও গ্রীষ্মের ছুটিতে বিদেশি পর্যটকের বড় ঢল নামতে পারে বলে আশা করছে পর্যটন ব্যবসা সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠান ও ট্যুর গাইডরা।
দীর্ঘ ২০ বছরের অভিজ্ঞতাসম্পন্ন ইংরেজিভাষী গাইড গাও জুন বলেন, ‘আমি পর্যটক সামলাতে হিমশিম খাচ্ছি। সবটা আমি একা সামলাতে পারছি না।’
জুন জানান, চাহিদা সামলাতে তিনি এখন নতুন একটি ব্যবসা শুরু করেছেন, যেখানে ইংরেজিভাষী ট্যুর গাইড তৈরির প্রশিক্ষণ দেওয়া হচ্ছে।
কঠোর কোভিড-১৯ বিধিনিষেধ তুলে নেওয়ার পর ২০২৩ সালের শুরুতে চীন বিদেশি পর্যটকদের জন্য সীমান্ত খুলে দেয়। তবে ওই বছর মাত্র ১ কোটি ৩৮ লাখ পর্যটক চীন সফর করেন, যা মহামারি শুরু হওয়ার আগের বছর, অর্থাৎ ২০১৯ সালের তুলনায় অনেক কম।
২০২৩ সালের ডিসেম্বর থেকে ফ্রান্স, জার্মানি, ইতালি, নেদারল্যান্ডস, স্পেন ও মালয়েশিয়ার নাগরিকদের জন্য ভিসা-মুক্ত প্রবেশের অনুমতি দেয় চীন। এরপর থেকে ইউরোপের প্রায় সব দেশকেই এই সুবিধার আওতায় আনা হয়েছে।
গত মাসে লাতিন আমেরিকার পাঁচটি দেশ এবং উজবেকিস্তান এই সুবিধা পায়, এরপর যুক্ত হয় মধ্যপ্রাচ্যের আরও চারটি দেশ। তবে এই সুবিধা দেওয়া দেশগুলোর প্রায় দুই-তৃতীয়াংশের জন্যই এটি এক বছরের জন্য পরীক্ষামূলকভাবে চালু করা হয়েছে।
নরওয়ের পর্যটক ওইস্টেইন স্পরসেইম জানান, নতুন নিয়মে তার পরিবারকে আর চীনের পর্যটন ভিসার জন্য ওসলোতে অবস্থিত চীনা দূতাবাসে দুইবার যেতে হবে না। তিনি বলেন, ‘ওরা দূতাবাস খুব কমই খোলে। তাই আগের নিয়মে ভিসা পাওয়া খুব কঠিন ছিল।’
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে বিষাক্ত ছত্রাক পাচারের অভিযোগে চীনা বিজ্ঞানীর বিরুদ্ধে মামলা
‘ওয়াইল্ডচায়না’ নামের বিলাসবহুল পর্যটন সংস্থার ব্যবস্থাপনা পরিচালক জেনি ঝাও বলেন, ‘নতুন ভিসা নীতির সুবিধা আমাদের জন্য শতভাগ ইতিবাচক।’ মহামারির আগের তুলনায় বর্তমানে তাদের ব্যবসা অন্তত ৫০ শতাংশ বেড়েছে বলেও জানান তিনি।
ঝাও আরও বলেন, এখন পর্যন্ত পর্যটন ক্ষেত্রে যুক্তরাষ্ট্রই তাদের সবচেয়ে বড় বাজার, যা বর্তমানে তাদের মোট ব্যবসার প্রায় ৩০ শতাংশ। তবে ইউরোপীয় পর্যটকদের সংখ্যাও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে। ২০১৯ সালের আগে যা ৫ শতাংশের নিচে ছিল, এখন তা ১৫ থেকে ২০ শতাংশে উন্নীত হয়েছে। ভিসা নীতির চলমান এই সুবিধা যেন স্থায়ী হয়—এমনটাই আশা করছেন তিনি।
অনলাইন ট্রাভেল এজেন্সি ‘ট্রিপ ডটকম’ জানিয়েছে, মুক্ত ভিসা নীতির কারণে চীনে পর্যটন ব্যাপকভাবে বেড়েছে। এ বছরের প্রথম তিন মাসে আগের বছরের একই সময়ের তুলনায় চীনগামী বিমান, হোটেলসহ অন্যান্য বুকিং প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। তাদের তথ্য অনুযায়ী, এসব পর্যটকের ৭৫ শতাংশই ভিসা-মুক্ত সুবিধা দেওয়া দেশগুলোর।
তবে, লক্ষণীয় বিষয় হলো, চীনের সঙ্গে তুলনামূলক ঘনিষ্ঠ সম্পর্ক থাকলেও আফ্রিকার কোনো বড় দেশ এখনও এই সুবিধার আওতায় আসেনি।
১০ দিনের ‘ট্রানজিট’ সুযোগ
ভিসা-মুক্ত তালিকায় না থাকা দেশের নাগরিকদের জন্য বিকল্প পথও চালু করেছে বেইজিং। ওইসব দেশের দেশের নাগরিক যদি ভিন্ন কোনো দেশে যাওয়ার পথে চীন হয়ে ট্রানজিট করেন। যদিও ৫৫টি দেশের জন্য এই ট্রানজিট নীতি চালু রয়েছে, কিন্তু এদের অধিকাংশই ৩০ দিনের ভিসা-মুক্ত তালিকায় রয়েছে।
তবে এই সীমিত সুযোগটি কার্যত যে ১০টি দেশের জন্য সেগুলো হলো— চেক প্রজাতন্ত্র, লিথুনিয়া, সুইডেন, রাশিয়া, যুক্তরাজ্য, ইউক্রেন, ইন্দোনেশিয়া, কানাডা, যুক্তরাষ্ট্র ও মেক্সিকো। ইউরোপের ধনী দেশগুলোর মধ্যে যুক্তরাজ্যকে বাদ দিলে শুধু সুইডেনই ৩০ দিনের তালিকায় স্থান পায়নি।
সুইডেনের সঙ্গে চীনের সম্পর্কে টানাপড়েনের পেছনে ২০২০ সালে সুইডিশ বই বিক্রেতা গুই মিনহাইকে ১০ বছরের কারাদণ্ড দেওয়া বড় কারণ বলে মনে করেন বিশেষজ্ঞরা।
২০১৫ সালে থাইল্যান্ডে সমুদ্রতীরবর্তী বাড়ি থেকে গুই নিখোঁজ হন। পরে চীনের মূল ভূখণ্ডে পুলিশের হেফাজতে দেখা যায় তাকে।
২৯৯ দিন আগে
পোষা সিংহ দেওয়াল টপকে রাস্তায়, পাকিস্তানে আহত ৩
পাকিস্তানের লাহোরে খাঁচা থেকে বেরিয়ে দেওয়াল টপকে এক নারী ও দুটি শিশুর ওপর ঝাঁপিয়ে পড়েছে একটি পোষা সিংহ। পরে সেটির মালিককে গ্রেপ্তার করা হয়েছে। পাঁচ ও সাত বছর বয়সী শিশু দুটিসহ আক্রান্ত ওই নারীকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।
সিএনএনের খবরে বলা হয়, গত বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) জোহান শহরের একটি গ্রামের খামারবাড়ি থেকে সিংহটি পালিয়ে যায়। এরপর একটি গলির মোড়ে ওই নারী ও শিশুদের আক্রমণ করে।
শহরের নিরাপত্তা ক্যামেরার ভিডিও ফুটেজে দেখা গেছে, লাফ দিয়ে একটি কংক্রিটের দেওয়াল পার হচ্ছে সিংহটি। এরপর পেছন থেকে এক নারীর ওপর আক্রমণ করে মাটিতে ফেলে দিয়েছে সেটি। তখন ওই খামারবাড়ি থেকে এক ব্যক্তিকে লাঠি হাতে দৌড়ে বেরিয়ে আসতে দেখা যায়।
তিনি সিংহটির কবল থেকে ওই নারীকে রক্ষা করেন। লোকটির তাড়া খেয়ে ছুটে সামনের সড়কে গিয়ে শিশুদুটির ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ে সেটি।
সিংহের আক্রমণে শিশুরা মুখমণ্ডল ও বাহুতে আঘাত পেয়েছে বলে এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েট প্রেস (এপি)। তারা বর্তমানে স্থিতিশীল অবস্থায় আছে বলে খবরে বলা হয়েছে।
এদিকে, সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে একটি ভিডিও শেয়ার করে লাহোর পুলিশ জানিয়েছে, খামারবাড়িতে একটি উন্মুক্ত খাঁচা থেকে সিংহটি পালিয়ে যায়। পরে এটিকে ধরে নিয়ে আসেন এর মালিক। বন্য প্রাণীটিকে একটি গাড়িতে তুলে অন্য একটি জেলায় পালিয়ে যান তিনি।
লাহোর পুলিশ অপারেশনসের উপ-মহাপরিদর্শক মোহাম্মদ ফয়সাল কামরান বলেন, এ ঘটনায় শুক্রবার সকালে তিনজনকে আটক করা হয়েছে। সিংহটিকেও ধরে এনে বন্যপ্রাণী সংরক্ষণ কর্তৃপক্ষের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে।
স্থানীয় সংবাদমাধ্যমের খবরে বলা হয়েছে, সিংহ পোষার বৈধ অনুমোদন ছিল না ওই ব্যক্তির। পাকিস্তানের বন্যপ্রাণী আইন অনুসারে তার বিচার করা হবে। এতে তার সাত বছরের কারাদণ্ড কিংবা সাড়ে সতেরো হাজার ডলার পর্যন্ত জরিমানা হতে পারে।
পাঞ্জাবের বন্যপ্রাণী ও পার্ক বিভাগের প্রধান রেঞ্জার সৈয়দ কামরান বুখারি বলেন, ‘আটক তিনজনকেই কঠিন সাজার মুখোমুখি হতে হবে। এভাবে বন্যপ্রাণী আটকে রাখা সম্পূর্ণভাবে অবৈধ।’
পাকিস্তানে বন্যপ্রাণী পোষা মর্যাদার প্রতীক হিসেবে বিবেচনা করা হয়। দেশটিতে বন্যপ্রাণী পোষা অস্বাভাবিক কোনো ঘটনা নয়, তবে তার জন্য অনুমোদন নিতে হয়। আর সিংহের মতো বড় কোনো বন্যপ্রাণী পুষতে হলে তা শহরের বাইরে করতে হবে বলে নিয়ম রয়েছে।
আরও পড়ুন: মেছো বিড়ালসহ বিপন্ন বন্যপ্রাণী রক্ষায় সচেতনতা বাড়াতে বিশেষ ভ্যান
৩০১ দিন আগে
আফগানিস্তানের তালেবান সরকারকে প্রথম দেশ হিসেবে স্বীকৃতি রাশিয়ার
২০২১ সালের আগস্টে আফগানিস্তানের ক্ষমতাগ্রহণ করা তালেবান সরকারকে বিশ্বের প্রথম দেশ হিসেবে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে রাশিয়া।
বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) এক বিবৃতিতে রুশ পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় এ তথ্য নিশ্চিত করেছে।
বিবৃতিতে মস্কো জানায়, তারা তালেবান নিযুক্ত নতুন আফগান রাষ্ট্রদূত গুল হাসান হাসানের পরিচয়পত্র গ্রহণ করেছে।
এতে আরও বলা হয়, `আমরা বিশ্বাস করি, ইসলামিক এমিরেট অব আফগানিস্তানের সরকারকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দেওয়ার এই পদক্ষেপ দুইদেশের গঠনমূলক সহযোগিতা বৃদ্ধির প্রক্রিয়াকে ত্বরান্বিত করবে।’
আফগানিস্তানের পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয় রাশিয়ার সিদ্ধান্তকে একটি ঐতিহাসিক পদক্ষেপ হিসেবে সঙ্গায়িত করেছে।
সামাজিক মাধ্যম এক্সে সিদ্ধান্তটিকে স্বাগত জানিয়ে কাবুলে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি ঝিরনভের সঙ্গে বৈঠকের ভিডিও পোস্ট করেন আফগান পররাষ্ট্রমন্ত্রী আমির খান মুত্তাকী। ওই ভিডিওতে তিনি বলেন, ‘এই সাহসী সিদ্ধান্তটি অন্য দেশগুলোর জন্য অনন্য উদাহরণ হয়ে থাকবে।
এর আগে, চলতি বছর রাশিয়ার সুপ্রিম কোর্ট তালেবানকে ‘সন্ত্রাসী সংগঠন’র তালিকা থেকে বাদ দেয়।
২০২১ সালে আফাগানিস্থান থেকে মার্কিন ও ন্যাটো জোটের সেনা প্রতাহ্যারের পর তালেবান সরকার ক্ষমতা গ্রহণ করে। তখন থেকেই গোষ্ঠিটি আন্তর্জাতিক স্বীকৃতির দাবি করে আসছে। আফগান সরকার বেশ কিছু দেশের সঙ্গে উচ্চ পর্যায়ের বৈঠক করেছে। চীন ও সংযুক্ত আরব আমিরাতের সঙ্গে কূটনৈতিক সম্পর্ক স্থাপন করলেও এবারই প্রথম কোনো দেশ ইসলামী গোষ্ঠীটিকে আনুষ্ঠানিক স্বীকৃতি দিয়েছে।
রাশিয়ার রাষ্ট্রীয় টেলিভিশন চ্যানেল ওয়ানে সম্প্রচারিত এক বক্তব্যে আফগানিস্তানে নিযুক্ত রুশ রাষ্ট্রদূত দিমিত্রি ঝিরনভ জানিয়েছেন, তালেবান সরকারকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বীকৃতি দেওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিন। এ বিষয়ে তিনি পররাষ্ট্রমন্ত্রী সের্গেই ল্যাভরভের পরামর্শ গ্রহণ করেন।
রাষ্ট্রদূত ঝিরনভ বলেন, ‘আফগানিস্তানের সঙ্গে পূর্ণাঙ্গ দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক বিকাশে সচেষ্ট রাশিয়া।’
আরও পড়ুন: গাজার জনাকীর্ণ ক্যাফেতে ইসরায়েলের ৫০০ পাউন্ডের বোমা হামলা
যুক্তরাষ্ট্রের অবস্থান
তবে, পশ্চিমা সরকার ও মানবাধিকার সংস্থাগুলো তালেবান সরকারের কঠোর সমালোচনা অব্যাহত রেখেছে। তাদের অভিযোগ, তালেবান সরকার নারীদের স্বাধীনতা খর্ব করছে। তালেবান সরকার ২০২১ সালে ক্ষমতা দখলের দেওয়া প্রতিশ্রুতি ভঙ্গ করে নারীদের চাকরি ও বিভিন্ন স্থানে যাতায়াতে নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে এবং ষষ্ঠ শ্রেণির ওপরে নারীদের শিক্ষাগ্রহণ করতে দেওয়া হচ্ছে না বলে অভিযোগ পশ্চিমা গোষ্ঠীগুলোর। অন্যদিকে, যুক্তরাষ্ট্র তালেবান সরকারের শীর্ষ নেতাদের ওপর কঠোর নিষেধাজ্ঞা জারি রেখেছে। একইসঙ্গে আফগানিস্তানের কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ৯ বিলিয়ন ডলারের সম্পদ অবরুদ্ধ করে রেখেছে।
তবে, এর মধ্যেও বিশ্বের বিভিন্ন দেশের সঙ্গে বাণিজ্য চালিয়ে গেছে আফগানিস্তান। ২০২৩ সালে একটি চীনা তেল কোম্পানির সঙ্গে তেল উত্তোলনের চুক্তি সই করে তারা। এর আগে, রাশিয়া ২০২২ সালে আফগানিস্তানের সঙ্গে চুক্তিতে সই করে। ওই চুক্তি অনুযায়ী, আফগানিস্তানকে তেল, গ্যাস এবং গম সরবরাহে রাজি হয় তারা।
এদিকে, সিএনএনের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়, যুক্তরাষ্ট্রের স্বীকৃতি আদায়ের প্রচেষ্টা অব্যাহত রেখেছে তালেবান সরকার। চলতি বছরের শুরুর দিকে প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প দ্বিতীয় মেয়াদে দায়িত্ব নেওয়ার পর থেকে এই প্রচেষ্টা আরও জোরদার হয়েছে বলে জানা গেছে।
চলতি বছরের মার্চে আফগানিস্তান দুই মার্কিন নাগরিককে মুক্তি দেয়। একই সময়ে তিন তালেবান নেতা, যাদের যুক্তরাষ্ট্র ঘোষিত মাথার মূল্য কোটি ডলার—তাদের বিরুদ্ধে সেই পুরস্কারও তুলে নেয় মার্কিন সরকার।
সংশ্লিষ্টদের বরাতে সিএনএন জানিয়েছে, তালেবান নেতৃত্ব যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে বৈঠকে নানা প্রস্তাব দিয়েছে। এর মধ্যে রয়েছে যুক্তরাষ্ট্রে দূতাবাসের মতো অফিস খোলার প্রস্তাবও। তবে, যুক্তরাষ্ট্র এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত কোনো সিদ্ধান্ত জানায়নি।
সূত্র: বিভিন্ন সংবাদ সংস্থা
৩০৫ দিন আগে
জাপানি দ্বীপপুঞ্জে দুই সপ্তাহে ৯ শতাধিক ভূমিকম্প
জাপানের দক্ষিণাঞ্চলের একটি বিচ্ছিন্ন দ্বীপপুঞ্জে গেল দুই সপ্তাহে ৯ শতাধিক ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। এখন সামনে কী ঘটতে যাচ্ছে, সেই আতঙ্কে সেখানকার নাগরিকদের ঘুম পর্যন্ত হারাম হয়ে গেছে। যদিও এসব ভূকম্পে বড় ধরনের কোনো ক্ষয়ক্ষতির খবর আসেনি।
ব্রিটিশ দৈনিক গার্ডিয়ান এমন খবর দিয়েছে। ভূমিকম্পের এই প্রবণতা কখন থামবে, তা বলতে পারছে না জাপানের আবহাওয়া অধিদপ্তর।
বুধবার (৩ জুলাই) এক সংবাদ সম্মেলনে সংস্থাটির ভূমিকম্প ও সুনামি পর্যবেক্ষণ বিভাগের পরিচালক আয়াতাকা এবিতা বলেন, ‘গেল ২১ জুন থেকে তোকারা দ্বীপপুঞ্জের সমুদ্রে ভূকম্পনীয় তৎপরতা খুবই সক্রিয়।’
দক্ষিণাঞ্চলীয় কিয়ুশু দ্বীপে পাঁচ দশমিক পাঁচ মাত্রার একটি ভূমিকম্প হওয়ার পরই তিনি এই সংবাদ সম্মেলন ডাকেন। এই ভূকম্পবিশারদ বলেন, ‘আজ ৪টা পর্যন্ত ভূমিকম্পের সংখ্যা ৯ শতাধিক ছাড়িয়ে গেছে।’
আরও পড়ুন: নিউইয়র্কের মেয়র নির্বাচন: মুসলমানদের মধ্যে আশা জাগাচ্ছেন মামদানি
অঞ্চলটিতে আরও বড় ধরনের ভূমিকম্প আঘাত হানতে পারে শঙ্কায় বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ে যাওয়ার প্রস্তুতি নেওয়া উচিত বলেও তিনি মন্তব্য করেন।
জাপানি সংবাদমাধ্যম দ্য মেইনিচি শিম্পুন জানিয়েছে, মঙ্গলবার পর্যন্ত আগের ১০ দিনে অঞ্চলটিতে ৭৪০টি ভূমিকম্প নথিভুক্ত করা হয়েছে। সাত মাত্রার ভূমিকম্পের তীব্রতার স্কেলে এক বা তার চেয়ে বেশি মাত্রার ছিল এগুলো। জাপানে ভূমিকম্পের কাঁপুনির মাত্রা বোঝাতে এই স্কেল ব্যবহার করা হয়, যেখানে সাত হচ্ছে সবচেয়ে শক্তিশালী মাত্রা।
পাঁচ মাত্রার ভূমিকম্প হলে মানুষকে সতর্ক করার জন্য সেটি যথেষ্ট বলে বিবেচনা করা হয়। কারণ, এই মাত্রার ভূমিকম্পে মানুষের মধ্যে আতঙ্ক ছড়াতে পারে, টাল সামলাতে অবলম্বন হিসেবে কিছু একটা ধরে রাখতে বাধ্য হতে হয়।
নিজেদের ওয়েবসাইটে তোকারা গ্রাম জানিয়েছে, ভূমিকম্পের ভয়ে লোকজন ঘুমাতে না পেরে ক্লান্ত হয়ে পড়ছেন।
‘মনে হচ্ছে, গ্রামটি সবসময় কাঁপছে। যে কারণে ঘুমাতে গেলে আতঙ্ক তৈরি হয়,’ বললেন একজন বাসিন্দা। কখন এই ভূমিকম্প শেষ হবে, তা স্পষ্ট না বলে মন্তব্য করেন আরেক বাসিন্দা। তিনি বলেন, ‘সন্তানদের নিরাপদ জায়গায় সরিয়ে নিতে হবে কিনা; সেটা নিয়ে আমাদের ভাবতে হবে।’
সরকারি উপাত্ত থেকে জানা যায়, ২৩ জুন একদিনেই ১৮৩টি ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। ২৬ জুন এই সংখ্যাটি ছিল ১৫; ২৭ জুন ১৬। কিন্তু পরেরদিন থেকে আবার বাড়তে থাকে ভূকম্পের সংখ্যা। ২৮ জুন ৩৪টি ভূমিকম্প হয়েছে, ২৯ জুন ৯৮টি। আর ৩০ জুন ৬২টি ভূমিকম্প হয়েছে।
এরআগে ২০২৩ সালে তোকারা অঞ্চলে একই ধরনের ভূকম্পনীয় প্রবণতা দেখা গেছে। তখন ৩৪৬টি ভূমিকম্প নথিভুক্ত করা হয়েছে।
বিচ্ছিন্ন তোকারা দ্বীপপুঞ্জের সাতটিতে মানুষ বাস করেন। এসব দ্বীপে সবমিলিয়ে ৭০০ বাসিন্দা রয়েছেন। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, তোকারা দ্বীপপুঞ্জের আশপাশের অঞ্চলের ভূতাত্ত্বিক গঠন অস্বাভাবিক হওয়ায় সাগরতলের নিচে গিয়ে চাপ জমা পড়ে সহজভাবে, পরে তা ভূমিকম্পের আকারে বেরিয়ে আসে।
বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ভূকম্পনপ্রবণ দেশগুলোর একটি হচ্ছে জাপান।
আরও পড়ুন: যুক্তরাষ্ট্রে জন্মসূত্রে নাগরিকত্বে আদেশ কার্যকর হচ্ছে
প্রশান্ত মহাসাগরীয় ‘রিং অফ ফায়ারের’ পশ্চিম প্রান্ত বরাবর চারটি বড় টেকটোনিক প্লেটের সংযোগস্থলে অবস্থিত জাপান। সাড়ে ১২ কোটি জনসংখ্যার দেশটির বাসিন্দারা বছরে দেড় হাজারের বেশি ভূকম্পের মুখে পড়েন। যা বিশ্বের মোট ভূমিকম্পের আঠারো শতাংশ।
তবে এগুলোর বেশিরভাগই মৃদু হওয়ায় অবস্থান ও ভূমিকম্পের গভীরতার ওপর ভিত্তি করে ক্ষয়ক্ষতি ঘটে।
৩০৬ দিন আগে
বরখাস্ত হওয়া থাইপ্রধানমন্ত্রী পেলেন সংস্কৃতি মন্ত্রীর দায়িত্ব
থাইল্যান্ডের নতুন মন্ত্রিসভার সদস্য হিসেবে শপথ নিয়েছেন দেশটির বরখাস্ত হওয়া প্রধানমন্ত্রী পেতাংতার্ন সিনাওয়াত্রা। এতে দেশটির মন্ত্রিসভার বৈঠকে অংশ নেওয়ার সুযোগ তৈরি হয়েছে তার জন্য। যদিও নিজের অসদাচরণ নিয়ে সাংবিধানিক আদালতের পর্যালোচনার অপেক্ষায় রয়েছেন দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটির এই রাজনীতিবিদ।
স্থানীয় সময় বৃহস্পতিবার (৩ জুলাই) ব্যাংককে তেরো সদস্যের থাইল্যান্ডের নতুন মন্ত্রিসভার শপথ হয়েছে। গেল মঙ্গলবার প্রধানমন্ত্রীর পদ থেকে বরখাস্ত করা হয়েছে থাইল্যান্ডের সিনাওয়াত্রা পরিবারের এই সদস্যকে। একইদিন নতুন মন্ত্রিসভার অনুমোদন দিয়েছেন থাই রাজা। এতে পেতাংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে সংস্কৃতি বিষয়কমন্ত্রী হিসেবে দেখা গেছে।
শপথ অনুষ্ঠানে মন্ত্রিসভার অন্য সদস্যদের সঙ্গে যখন সরকারি ভবনে আসেন পেতাংতার্ন, তখন তাকে খুব হাসিখুশি অবস্থায় দেখা গেছে। এ সময়ে সাংবাদিকদের কোনো প্রশ্ন নেননি তিনি। নতুন মন্ত্রিসভার নেতৃত্ব দেন ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী সুরিয়া জুংরুংগ্রেয়াংকিত।
পেতাংতার্ন সিনাওয়াত্রার কাছ থেকে প্রধানমন্ত্রীত্বের কর্তৃত্ব কেড়ে নেওয়ার কয়েক ঘণ্টা আগে মন্ত্রিসভায় এই রদবদল হয়েছে। সম্প্রতি থাইল্যান্ডের রক্ষণশীল ভুমজাথাই পার্টি ক্ষমতাসীন জোট থেকে বেরিয়ে গেছে। এখন ক্ষমতা ধরে রাখতে ছোট ছোট দলগুলোর কাছ থেকে সমর্থন আদায়ে মরিয়া ক্ষমতাসীন জোট।আরও পড়ুন: ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় থাইপ্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত
দেশটিতে নতুন করে রাজনৈতিক অস্থিরতার কারণে আসন্ন বাজেটসহ গুরুত্বপূর্ণ আইন প্রণয়নে সরকারের দক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তৈরি হয়েছে। সেনাবাহিনীর অভ্যুত্থানে ক্ষমতাচ্যুত হয়েছিলেন পেতাংতার্নের বাবা থাকসিন সিনাওয়াত্রা।
গেল মাসে কম্বোডিয়ার সাবেক নেতা হুন সেনের সঙ্গে পেতাংতার্নের ফোনালাপের পর সাম্প্রতিক রাজনৈতিক এই অস্থিতিশীলতা তৈরি হয়েছে। এতে তারা দুই দেশের মধ্যকার বিতর্কিত সীমান্ত নিয়ে আলোচনা করেন। ওই ফোনকল ফাঁস হওয়ার পরে পেতাংতার্নের বিরুদ্ধে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে, তার জনপ্রিয়তায়ও ধস নেমেছে।
ব্যাংককভিত্তিক অর্থনীতিবিদ টিম লিলাহাফান বলেন, ‘ফেউ থাই পার্টির নেতৃত্বাধীন জোটের ঐক্য নিয়ে সন্দেহ রয়েছে। আসছে দিনগুলোতে রাজনৈতিক অস্থিরতা বাড়তে পারে। এরসঙ্গে যোগ হয়েছে থাই-কম্বোডিয়ার মধ্যকার সীমান্ত উত্তেজনা। এতে সামরিক বাহিনী ক্ষমতা নিয়ে নিতে পারে বলেও উদ্বেগ তৈরি হয়েছে।’
পেতাংতার্ন সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে অভিযোগের জবাব দিতে ১ জুলাই থেকে ১৫ দিনের সময় দেওয়া হয়েছে। বৃহস্পতিবার দিন শেষে বিশেষ মন্ত্রিসভার বৈঠকে সভাপতিত্ব করতে পারেন ভারপ্রাপ্ত প্রধানমন্ত্রী সুরিয়া জুংরুংগ্রেয়াংকিত।
৩০৬ দিন আগে
ইন্দোনেশিয়ায় বালির কাছে ফেরিডুবি, নিহত ৪, বহু নিখোঁজ
ইন্দোনেশিয়ার জনপ্রিয় পর্যটন দ্বীপ বালির কাছে একটি ফেরিডুবির ঘটনায় অন্তত চারজন নিহত হয়েছেন। এ ছাড়া আরও অন্তত ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন বলে জানা গেছে।
স্থানীয় সময় বুধবার (২ জুলাই) গভীর রাতে পূর্ব জাভার কেতাপাং বন্দর ছাড়ার প্রায় আধঘণ্টা পর ‘কেএমপি তুনু প্রতমা জয়া’ নামের ফেরিটি ডুবে যায়। ফেরিটি ৫০ কিলোমিটার দূরের বালির গিলিমানুক বন্দরের উদ্দেশে যাত্রা করেছিল বলে জানিয়েছে জাতীয় উদ্ধারকারী সংস্থা।
সুরাবায়া সার্চ অ্যান্ড রেসকিউ এজেন্সি জানিয়েছে, এই ঘটনায় এখন পর্যন্ত চারজন নিহত হয়েছে এবং ২৩ জনকে জীবিত উদ্ধার করা হয়েছে। এ ছাড়া আরও অন্তত ৩৮ জন নিখোঁজ রয়েছেন, যাদের খোঁজে আজ (বৃহস্পতিবার) সকাল থেকে ফের উত্তাল সমুদ্রে অভিযান চালাচ্ছে উদ্ধারকারীরা।
ফেরিটিতে ৫৩ জন যাত্রী, ১২ জন ক্রু এবং ২২টি যানবাহন ছিল বলে জানানো হয়েছে।
বানিউয়াঙ্গি পুলিশের প্রধান রামা সামতামা পুত্র বলেন, উত্তাল ঢেউয়ের মধ্যে দীর্ঘ সময় ভেসে থাকার পর অনেককে অচেতন অবস্থায় উদ্ধার করা হয়।
তিনি বলেন, নিখোঁজদের সন্ধানে এখন পর্যন্ত দুটি টাগবোট ও দুটি ইনফ্ল্যাটেবল বোটসহ মোট ৯টি নৌযান অংশ নিয়েছে। প্রায় ২ মিটার (সাড়ে ৬ ফুট) উচ্চতার ঢেউয়ের মধ্যে রাতভর উদ্ধার কাজ চালিয়েছে দলটি।
১৭ হাজারের বেশি দ্বীপ নিয়ে গঠিত ইন্দোনেশিয়া। দেশটিতে ফেরি যোগাযোগের জনপ্রিয় মাধ্যম হলেও প্রায়ই সেখানে নিরাপত্তা বিধিনিষেধ মানা হয় না। এর ফলে নৌ-দুর্ঘটনাও ঘটে হরহামেশা।
৩০৬ দিন আগে
ফোনালাপ ফাঁসের ঘটনায় থাইপ্রধানমন্ত্রী বরখাস্ত
থাইল্যান্ডের প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে বরখাস্ত করেছেন দেশটির সাংবিধানিক আদালত। একটি ফোনকল ফাঁস হওয়াকে কেন্দ্র করে নৈতিক স্খলনের অভিযোগের মুখে এবার তাকে প্রধানমন্ত্রীর দায়িত্ব থেকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
মঙ্গলবার (১ জুলাই) দেশটির সাংবিধানিক আদালত জানিয়েছে, পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রাকে বরখাস্তের আহ্বান জানিয়ে ৩৬ সিনেটরের আবেদন বিবেচনা করা হয়েছে। এতে তার বিরুদ্ধে অসততা ও সংবিধান লঙ্ঘনের মাধ্যমে নৈতিক অবনমনের অভিযোগ আনা হয়েছে।-খবর দ্য গার্ডিয়ানের
ব্যাংককে সরকারি বাসভবনে সাংবাদিকদের পেতংতার্ন বলেন, ‘তিনি আদালতের রায় মেনে নিয়েছেন। তবে দেশের ভালোর জন্য কিছু করার আকাঙ্ক্ষা তার মধ্যে সবসময় রয়েছে।’
এ সময়ে ক্ষুব্ধ থাই নাগরিকদের কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করেন তিনি। কম্বোডিয়ার সাবেক প্রভাবশালী নেতা হুন সেনের সঙ্গে তার একটি ফোনালাপ ফাঁস হয়ে যাওয়ার পর ব্যাপক চাপে পড়েন থাইল্যান্ডের এই প্রধানমন্ত্রী। ওই আলাপে দুই দেশের মধ্যকার সীমান্ত নিয়ে আলোচনা করা হয়েছে।
ফোনালাপে হুন সেনকে ‘চাচা’ বলে সম্বোধন করে পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রা বলেন, ‘যদি তার (হুন সেন) কিছু প্রয়োজন হয়, তাহলে তিনি সেটার ব্যবস্থা করে দেবেন।’ এ সময়ে থাই সামরিক বাহিনীর জ্যেষ্ঠ কর্মকর্তারদের নিয়েও সমালোচনামূলক মন্তব্য করতে শোনা গেছে তাকে।
এই ফোনালাপের ঘটনা ফাঁস হওয়ার পর পেতংতার্ন সিনাওয়াত্রার বিরুদ্ধে থাইল্যান্ডে ব্যাপক ক্ষোভ তৈরি হয়েছে। তার বিরুদ্ধে দেশের সঙ্গে বিশ্বাসঘাতকতা করে কম্বোডিয়ার কাছে অতিমাত্রায় নতি স্বীকার করার অভিযোগ তুলেছেন সমালোচকরা।
চার দশকেরও বেশি সময় ধরে কম্বোডিয়া শাসন করেছেন হুন সেন। দক্ষিণপূর্ব এশিয়ার দেশটিতে এখনো তার যথেষ্ট প্রভাব রয়েছে। তিনি পেতংতার্নের পরিবারের পুরোনো বন্ধু, যদিও সাম্প্রতিক সপ্তাহগুলোতে এই সম্পর্কে তিক্ততা এসেছে বলে দাবি করা হয়েছে।
প্রধানমন্ত্রীত্ব থেকে বরখাস্ত হওয়ার ঘটনা সিনাওয়াত্রা পরিবারের এই বংশধরের জন্য একটি বড় ধাক্কা হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। চলতি মাসে তার জোটের একটি অংশ সরকার থেকে সরে গেলেও স্বল্প-ব্যবধানের সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় টিকে ছিলেন তিনি। পার্লামেন্টে তার বিরুদ্ধে অনাস্থা প্রস্তাব আনার কথাও ভাবা হচ্ছিল।
তার পদত্যাগের দাবিতে শনিবার রাজধানী ব্যাংককে ১০ হাজার মানুষ বিক্ষোভ করেন। এক জনমত জরিপে দেখা গেছে, মার্চে যেখানে তার জনপ্রিয়তা ছিল ৩০ দশমিক ৯ শতাংশ, বর্তমানে সেটা পড়তে পড়তে ৯ শতাংশে এসে নেমেছে।
পেতংতার্নের ধনকুবের বাবা থাকসিন সিনাওয়াত্রাও আইনি ঝামেলার মধ্যে রয়েছে। দেশটির সাবেক এই প্রধানমন্ত্রীর বিরুদ্ধে লেস ম্যাজেস্টি (রাজকীয় মর্যাদার হানি) আইন লঙ্ঘনের অভিযোগ রয়েছে। এই আইন অনুসারে, কেউ থাই রাজপরিবারের সমালোচনা করলে তার ১৫ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।
২০১৫ সালে দক্ষিণ কোরিয়ার একটি সংবাদমাধ্যমকে সাক্ষাৎকার দেওয়ার পর তার বিরুদ্ধে এই অভিযোগ আনা হয়েছে।
গেল দুই দশক ধরে থাই রাজনীতিতে প্রভাব বিস্তার করে আসছেন সিনাওয়াত্রা পরিবার ও তাদের বিরোধী রাজপরিবারপন্থি রক্ষণশীল সামরিক প্রতিষ্ঠানগুলো।
দুইবার প্রধানমন্ত্রী নির্বাচিত হয়েছিলেন থাকসিন সিনাওয়াত্রা। কিন্তু এক অভ্যুত্থানে ২০০৬ সালে তিনি ক্ষমতাচ্যুত হন। তার বোন ইয়াংলাক সিনাওয়াত্রাও ২০১৪ সালে একটি অভ্যুত্থানের পর আদালতের রায়ে ক্ষমতা ছেড়েছেন।
৩০৮ দিন আগে
জাপানে ৯ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে ‘টুইটার কিলার’র মৃত্যুদণ্ড কার্যকর
জাপানে ৯ নারীকে ধর্ষণের পর হত্যার দায়ে বহুল আলোচিত ‘টুইটার কিলার’ নামে পরিচিতি পাওয়া সিরিয়াল খুনির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে। ২০১৭ সালে টুইটারে পরিচয় হওয়া অল্পবয়ষ্ক নারীদের হত্যার ঘটনাগুলো ঘটান দণ্ড পাওয়া ওই ব্যক্তি। ২০২২ সালে দেশটিতে পুনরায় সর্বোচ্চ শাস্তি হিসেবে মৃত্যুদণ্ড চালুর পর প্রথম কার্যকরের ঘটনা এটি।
ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে জানা যায়, ৩৩ বছর বয়সী ওই ব্যক্তির নাম তাকাহিরো শিরাইশি। তিনি, মূলত টুইটারের মাধ্যমে হতাশাগ্রস্ত ও আত্মহত্যাপ্রবণ তরুণীদের ফাঁদে ফেলতেন। পরে নিজ বাসায় ডেকে নিয়ে গিয়ে তাদের শ্বাসরোধ করে হত্যা করতেন। এরপর তাদের মৃতদেহ টুকরো টুকরো করতেন এই ব্যক্তি। তার শিকারদের বেশিরভাগই ১৫ থেকে ২৬ বছর বয়সী নারী।
২০২০ সালের ডিসেম্বরে এই বহুল আলোচিত মামলার রায় ঘোষণার সময় আদালত কক্ষে প্রবেশের জন্য শত শত মানুষ ভিড় করেন। আদালত তাকাহিরো শিরাইশির মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দেন। সম্প্রতি তার মৃত্যদণ্ড কার্যকর হয়। জানা যায়, ২০১৭ সালের অক্টোবর মাসে পুলিশ নিখোঁজ এক তরুণীর সন্ধানে টোকিওর নিকটস্থ জামা শহরের তার অ্যাপার্টমেন্টে গেলে নৃশংস এ হত্যাকাণ্ডগুলো সামনে আসতে থাকে। পুলিশ ওই ফ্ল্যাট থেকে ৯টি মৃতদেহের টুকরো অংশ কুলার ও টুলবক্সে সংরক্ষিত অবস্থায় উদ্ধার করে। যা স্থানীয় গণমাধ্যমে ‘হরর হাউজ বা ভৌতিক বাড়ি’ নামে পরিচিতি পায়।
ঘটনাটি উদঘাটনের পরই এটি জাপানের গণ্ডি পেরিয়ে বিশ্বজুড়ে তীব্র আলোড়ন সৃষ্টি করেছিল।
যেভাবে ভয়ংকর ফাঁদে ফেলতেন তরুণীদের
সিরিয়াল খুনি শিরাইশির টুইটারে প্রোফাইলে লেখা ছিল, ‘কষ্টে থাকা ব্যক্তিদের সাহায্য করতে চাই। প্রয়োজনে সরাসরি মেসেজ দিন।’ এই ছদ্মবেশে তিনি আত্মহত্যায় ইচ্ছুক ব্যক্তিদের সঙ্গে যোগাযোগ করতেন। এমনকি, কখনও কখনও তিনি নিজেও ওই ব্যক্তিদের সঙ্গে আত্মহত্যা করবেন বলে তাদের ফাঁদে ফেলতেন।
আরও পড়ুন: থাইল্যান্ডে গাঁজা কিনতে লাগবে প্রেসক্রিপসন!
পরে শিরাইশি আদালতে ওই ৯জন হতাশাগ্রস্ত ব্যক্তিকে হত্যার অভিযোগ স্বীকার করেন। যদিও তার আইনজীবীরা দাবি করেন, ভিকটিমরা নিজের ইচ্ছায় মৃত্যুবরণ করতে চেয়েছিলেন। তাই এটি ‘সম্মতির সঙ্গে হত্যা’ হিসেবে বিবেচিত হওয়া উচিত। তারা শিরাইশির মানসিক অবস্থা মূল্যায়নেরও দাবি জানান।
তবে নিজেই আইনজীবীদের সেই যুক্তি নাকচ করে শিরাইশি বলেছিলেন, ‘ভিকটিমদের কেউই তাকে সম্মতি দেননি। তিনি ইচ্ছাকৃতভাবে তাদের হত্যা করেছেন।’
এ ঘটনা সেইসময় জাপান জুড়ে ব্যাপক আতঙ্ক তৈরি করেছিল। এ ঘটনার প্রতিক্রিয়ায় নীতিমালা সংশোধন করতে বাধ্য হয়েছিল টুইটার (বর্তমানে এক্স) কর্তৃপক্ষ।
এ বিষয়ে জাপানের আইনমন্ত্রী কেইসুকে সুজুকি জানান, ‘তাকাহিরো শিরাইশির মৃত্যুদণ্ড কার্যকর করা হয়েছে।’ বার্তা সংস্থা এএফপিকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি বলেন, ‘শিরাইশি নিছক নিজের যৌন এবং আর্থিক আকাঙ্ক্ষা পূরণের জন্য এইসব বর্বর হত্যাকাণ্ড ঘটিয়েছিল।’
৩১২ দিন আগে
থাইল্যান্ডে গাঁজা কিনতে লাগবে প্রেসক্রিপসন!
থাইল্যান্ডে আবারও গাঁজার ওপর কড়াকড়ি আরোপ করা হচ্ছে। এখন থেকে, দেশটিতে গাঁজা কিনতে প্রয়োজন হবে প্রেসক্রিপসন বা ডাক্তারি ব্যবস্থাপত্র।
এশিয়ার প্রথম দেশ হিসেবে ২০২২ সালে গাঁজা বৈধ করে আলোড়নের সৃষ্টি করেছিল থাইল্যান্ড। এতে দেশটির পর্যটন ও কৃষি খাতে নতুন দিগন্ত খুলে যায়। তবে শিশুদের মধ্যে আসক্তি ও অনিয়ন্ত্রণ কেনাবেচা নিয়ে সমালোচনার মুখে পড়ে দেশটি।
বার্তা সংস্থা অ্যাসোসিয়েটেড প্রেসের (এপি) খবর অনুযায়ী, গাঁজা নিয়ন্ত্রণে আবারও কঠোর হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে থাইল্যান্ড সরকার।
গত মঙ্গলবার (২৪ জুন) দেশটির স্বাস্থ্যমন্ত্রী সোমসাক থেপসুয়েতিন এক আদেশের মাধ্যমে সব দোকানে প্রেসক্রিপশন ছাড়া গাঁজা বিক্রি নিষিদ্ধ করেন। এ ছাড়া, গাঁজা ফুলকে ‘নিয়ন্ত্রিত ভেষজ’ হিসেবে পুনরায় শ্রেণিকরণের প্রস্তাব দেন তিনি।
বুধবার (২৫ জুন) দেশটির মাদক নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের মহাসচিব ফানুরাত লুকবুন জানান, তার সংস্থা এরই মধ্যে নতুন নিয়ম বাস্তবায়নের কাজ শুরু করেছে। তবে, কবে নাগাদ এই নির্দেশনা কার্যকর হবে, সে বিষয়ে স্পষ্ট করে কিছু বলেননি তিনি।
সবশেষ নির্বাচনের আগে ক্ষমতাসীন ফেউ থাই পার্টি গাঁজাকে আবারও অপরাধ হিসেবে ঘোষণার প্রতিশ্রুতি দিলেও জোটসঙ্গী ভুমজাইথাই পার্টির বাধার মুখে তা সম্ভব হয়নি।
ভুমজাইথাই পার্টি দেশটিতে গাঁজা বৈধ করেছিল। সম্প্রতি প্রধানমন্ত্রী পেতংতার্ন শিনাওয়াত্রা ও কম্বোডিয়ান নেতা হুন সেনের ফোনালাপ ফাঁস হওয়ার পর তারা সরকার ত্যাগ করতেন। এতে ক্ষমতাসীন দলটির জন্য গাঁজার ওপর কড়াকড়ি আরোপ আরও সহজ হয়েছে।
মঙ্গলবার সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে স্বাস্থ্যমন্ত্রী সোমসাক জানান, তিনি ভবিষ্যতে গাঁজাকে পুনরায় মাদক হিসেবে তালিকাভুক্ত করতে চান।
গত মাসে দেশটির সরকারি প্রতিবেদনে দেখা যায়, বৈধকরণের পর থাইল্যান্ড থেকে পর্যটকদের মাধ্যমে গাঁজা পাচার উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।
থাইল্যান্ডের মাদক নিয়ন্ত্রণ বোর্ডের এক গবেষণায় দেখা গেছে, গাঁজা বৈধ হওয়ার পর দেশটিতে এর আসক্তির হার বেড়ে গেছে। ফলে সরকারও বিষয়টিকে গুরুত্ব দিয়ে নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগ নিচ্ছে।
সরকারি মুখপাত্র জিরায়ু হউংসাব এক বিবৃতিতে জানান, ‘দেশব্যাপী অসংখ্য দোকানে গাঁজা বিক্রি করা হয়। এর ফলে শিশুসহ সাধারণ মানুষের এটি আরও সহজলভ্য হয়েছে। অথচ সরকারের উদ্দেশ্য ছিল মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান।’
এদিকে, সরকারি সিদ্ধান্তের খবরে তার বিরোধিতা করে আন্দোলনে নেমেছে গাঁজা বৈধকরণের পক্ষের লোকজন। তাদের দাবি, নতুন নিষেধাজ্ঞাটি রাজনৈতিক উদ্দেশ্যপ্রণোদিত।
আগামী মাসে দেশটির স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের সামনে বিক্ষোভেরও ডাক দিয়েছেন আন্দোলনকারীরা। এমনকি, গাঁজা সেবন ও বিক্রয়কে পুনরায় অপরাধ হিসেবে গণ্য করার পদক্ষেপের বিরুদ্ধে রুখে দাঁড়ানোর ঘোষণা দিয়েছেন গাঁজাপ্রেমীরা।
৩১২ দিন আগে